আনিছ হত্যার জের


শাহজাদপুরে আসামীদের ঘর-বাড়িতে লুটপাটের অভিযোগ

শাহজাদপুর উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের উল্টাডাব গ্রামে দু’গ্রুপের সংঘর্ষ চলাকালে সালাম মেম্বর গ্রুপের সালামের ভাই আনিছুর রহমান আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ায় গোলাম মোস্তফা হাজী গ্রুপের প্রথমে ১৬ জন। পরে আরও ৫৫ জনকে আসামি করে বাহরাম বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। এ

র পর থেকে গোলাম মোস্তফা গ্রুপের লোকজন গ্রেফতার এড়াতে  ঘর-বাড়ী ফেলে গা ঢাকা দেয়। এই সুযোগে বাদী পক্ষের লোকেরা আসামীদের ঘর-বাড়ীতে লুটপাট করেছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই মামলার আসামী হাজী গোলাম মোস্তাফার স্ত্রী সুফিয়া বেগম।

সরেজমিনে ঘুরে উল্টাডাব বাজারে অবস্থিত হাজীর মার্কেট ও বাসভবনে গিয়ে সুফিয়া বেগমের সাথে কথা বললে তিনি  এ প্রতিবেদককে বলেন, সংঘর্ষের পর আনিছের মৃত্যুর পর পর আমাদের ঘর-বাড়ী তালাবদ্ধ করে আমরা চলে যাই। জরুরী কাগজপত্রের জন্য আজ সোমবার সকালে বাসভবনে প্রবেশ করেই বিভিন্ন কক্ষের তালা ভাঙ্গা দেখতে পাই।

তিনি আরও জানান, বাদীর লোকজন বিভিন্ন কক্ষের সাটার, ও তালা ভেঙ্গে টিভি, ফ্রিজ, স্বর্নালঙ্কার, আলমারি, খাট, সোফা, বাড়ীর দলিলপত্র নিয়ে গেছে। সুফিয়া বেগম ও সাংবাদিকদের উপস্থিতি দেখে বাদী পক্ষের গোলাপ প্রামাণিক ও তার ভাতিজা আব্দুল আলিম সুফিয়া বেগমের উপর চরাও হয়। এক পর্যায়ে অশ্লীল ভাষায় গালাগালি ও লাঠি দিয়ে মারতে উদ্যত হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সুফিয়া বেগম ভয়ে নিরাপদে চলে যায়।

এ বিষয়ে বাদীপক্ষের সালাম মেম্বর সাংবাদিকদের জানান, তার ভাইকে হত্যা করেছে, মামলা হয়েছে। বিচারে দোষীদের শাস্তি হবে। এটাকে কেন্দ্র করে লুটপাটের ঘটনা তিনি সমর্থন করেননা। কেউ লুটপাট করলে তার দায় তিনি নেবেননা।

শশুড়বাড়ীর লোকজনের চাপে শিশু চুরির পরিকল্পনা

দাম্পত্য জীবনে কোনো সন্তান না হওয়ায় স্বামী এবং শ্বশুর বাড়ির লোকজনের চাপে দুই শিশু চুরি করেন সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার আলোকদিয়া গ্রামের আলপনা খাতুন।

রোববার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার হাসিবুল আলম।

তিনি বলেন, সাত বছর আগে উল্লাপাড়া উপজেলার সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে সলঙ্গা থানার আলোকদিয়া গ্রামের আলপনা খাতুনের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের কোনো সন্তান না হওয়ায় স্বামী এবং শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে চাপ দেয়। তাদের চাপে শিশু চুরির পরিকল্পনা করেন আলপনা।

পুলিশ সুপার জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি গর্ভবতী হয়েছে বলে শ্বশুর বাড়ি থেকে বাবার বাড়ি যায় এবং শিশু চুরির পরিকল্পা করেন। এজন্য তিনি সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের এক কর্মচারীর সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন।

তারই সহযোগিতায় ২৩ ফেব্রুয়ারি সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতাল থেকে মাহিম নামে এক শিশুকে চুরি করে তার বাবার বাড়ি নিয়ে আসেন। শিশুটি ঠান্ডাজ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে এক পল্লীচিকিৎসকের চিকিৎসা নিলেও মারা যায়। মৃত শিশুটিকে ধানের গোলার মধ্যে লুকিয়ে রেখে আরেকটি শিশু চুরির পরিকল্পনা করেন আলপনা। এরই প্রেক্ষিতে শনিবার বিকেলে সিরাজগঞ্জ রোড এলাকার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল হাসপাতাল থেকে সামিউল নামে একদিনের নবজাতককে চুরি করে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেয়। রাত ১১টায় র‌্যাব ও পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে এক শিশুকে মৃত ও আরেকজনকে জীবিত উদ্ধার করে।

পুলিশ সুপার জানান, এ ঘটনায় পুলিশ আটজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। সোমবার (১ মার্চ) তাদের আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হবে।

শাহজাদপুরে ভাতিজার ফালার আঘাতে চাচার মৃত্যু

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ভাতিজা শফিকুলের ফালার আঘাতে নিহত হয়েছেন চাচা ভূট্টো মোল্লা (৪০)। শনিবার রাতে উপজেলার গালা ইউনিয়নের ফকির পাড়া গ্রামে এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহত ভূট্টো মোল্লা ওই গ্রামের মৃত বনো মোল্লার ছেলে। রবিবার সকালে শাহজাদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ৩ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। আটককৃতরা হলেন, নিহত ভূট্টোর ভাই সিদ্দিক মোল্লা, ভাবি শ্রিমতি বেগম এবং ভাতিজা বৌ আরিফা খাতুন।

নিহতের পরিবার এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পারিবারিক কলহের জের ধরে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে মৃত বনো মোল্লার ছেলে সিদ্দিক মোল্লা এবং ভূট্টো মোল্লার মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে পরিবার অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হলে সিদ্দিক মোল্লার ছেলে শফিকুল ফালা দিয়ে চাচা ভূট্টোকে আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসার জন্য বগুড়া জিয়া মেডিক্যালে নেওয়া হলে তাঁর মৃত্যু হয়।

অপরদিকে মারামারি ঠেকাতে গিয়ে বনো মোল্লার আরেক ছেলে নবীরুল এবং ভূট্টোর স্ত্রী গুরুতর আহত হন। ভাতিজা শফিকুলের ফালার আঘাতে নবীরুলের একটি চোখ উপড়ে গেছে বলে জানা যায়। তাদেরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বগুড়া জিয়া মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় শাহজাদপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) শাহিদ মাহমুদ খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় তিন জনকে আটক করা হয়েছে ।

১২ বছর সন্তান জন্ম নেওয়ার পর হাসপাতাল থেকে চুরি

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় শাখাওয়াত এইস. মেমোরিয়াল হাসাপাতাল থেকে ৭ ঘন্টার একটি নবজাতক চুরির ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারী) বিকাল ৪টার দিকে শাখাওয়াত এইস. মেমোরিয়াল হাসাপাতাল থেকে নবজাতক চুরির ঘটনা ঘটেছে।
তাড়াশ থানার নওগা গ্রামের মাজেদ-সবিতা দম্পতির নবজাতকটি। দীর্ঘ ১২ বছর পরে এটাই তাদের প্রথম সন্তান। কিন্তু পিতা-মাতার বুকে তুলে নেবার আগেই হাড়িয়ে গেলো বুকের ধন।
নবজাতকের নানী বলেন, একজন নারী বললো তার ভাইয়ের ছেলে হয়েছে এই হাসপাতালেই। কিন্তু তাকে কোলে নিতে দিচ্ছেন না। তাই শিশুটিকে কোলে নিতে চাইলে আমি দেই। কিন্তু ভিতরে ডাকছে বলে আমাকে পাঠিয়ে দিয়ে শিশুটিকে নিয়ে পালিয়ে যায়। তাকে তিনি চেনেন না বলেও জানান।
নবজাতকের বাবা মো. আব্দুল মাজেদ বলেন, গতকাল রাত ৩টার দিকে হাসপাতালে এসে আমার স্ত্রীকে ভর্তি করেছি। ১২ বছর পর আমার প্রথম একটি সন্তান হলো।
পূত্র সন্তান হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাকে কোলে পর্যন্ত নিতে পারলাম না। আমার শ্বাশুড়ি ও স্ত্রীর বোনের কাছেই শিশুটি ছিল।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রসূতি সবিতাকে ভর্তি করা হয় গত রাতে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তার একটি পূত্র সন্তান হয়। কিন্তু প্রায় ৭ ঘন্টার মধ্যেই বিকাল ৪টার দিকে শিশুটি চুরি হয়ে যায়।
হাসপাতালের ব্যাবস্থাপক মো. জাকির হোসেন বলেন, শিশু চুরির বিষয়টি শুনে আমি পুলিশকে সিসিটিভি ফুটেজ সরবরাহ করেছি।
তবে এ বিষয়ে তাদের কোনো অবহেলা নেই বলেও জানান তিনি।
সাখাওয়াত এইস. মেমোরিয়াল হাসপাতালের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক ডা. মো. রবিউল ইসলাম বলেন, শিশুটি তার নানির কোলে ছিল। তার কাছ থেকে একজন মহিলা কোলে নিয়ে রাখেন। তারপরে সে সুকৌশলে পালিয়ে যান। আমরা পুলিশকে অবগত করেছি তারা এখন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন। তার হাসপাতালের নিরাপত্তার কিছুটা ভুল থাকতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, তদন্তে যদি আমার স্টাফের কেউ জড়িত থাকে তবে তার বিরুদ্ধেও ব্যাবস্থা নেয়া হবে।
সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাদের জিলানী বলেন, আমরা শুনেছি এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। আমরা শিশুটিকে খুজে বের করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। এ ঘটনায় প্রয়োজনে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যার প্রতিবাদে শাহজাদপুরে মানববন্ধন

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত সংবাদকর্মী বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন শাহজাদপুর প্রেসক্লাবের গণমাধ্যমকর্মীরা।

আজ শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় শাহজদপুর প্রেস ক্লাবের আয়োজনে এ কর্মসূচি পালিত হয়। শাহজাদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি বিমল কুমার কুন্ডুর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন শাহজাদপুর প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাংবাদিক আবুল কাশেম, সহ-সভাপতি এম এ জাফর লিটন,যুগ্ম-সাধারণ সম্পদাক সাংবাদিক মোঃ আল আমিন হোসেন, সাংবাদিক রাসেল সরকার, এসময় সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদকর্মীরা বলেন, সাংবাদিক বোরহান উদ্দিন মুজাক্কির হত্যাকাণ্ডের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও হত্যাকারীরা গ্রেফতার হয়নি। দ্রুত দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চাপরাশিরহাট বাজারে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই সংবাদ কর্মী না ফেরার দেশে চলে যান। এ মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক মুমিদুজ্জামান জাহান, সাগর বসাক, শামসুর রহমান শিশির, জহুরুল ইসলাম, মাসুদ মোশারফ, মিলন মাহফুজ, আমিনুল ইসলাম,এম এ হান্নান, নয়ন আলী, জাহিদ হাসান, মীর্জা হুমায়ন, মিথুন বসাক প্রমুখ।

শাহজাদপুরে জুয়া খেলায় বাধা দেওয়ায় গৃহবধূকে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে রাখলেন পাষণ্ড স্বামী

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে স্বামীকে জুয়া খেলায় বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে পিটিয়ে এবং শ্বাসরোধ করে হত্যার পর তাঁর লাশ আমগাছে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সোমবার বিকেলে উপজেলার নরিনা ইউনিয়নে বাতিয়া পূর্ব পাড়া গ্রাম থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ সিরাজগঞ্জে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হাসপাতালে পাঠানো হবে বলে জানা গেছে ।

এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। নিহত নারীর নাম আয়শা খাতুন (৩০)। তাঁর স্বামীর নাম মোঃ মোস্তফা ঘটনার পর থেকে গা ঢাকা৷ দিয়ে রয়েছেন।

নিহত আয়শা খাতুনের দুই বোনের ভাষ্য মতে, তাঁদের বাড়ি উপজেলার চুলধরী গ্রামে। প্রায় একদশক আগে নরিনা ইউনিয়নের জয়রামপুর গ্রামের শাহজাহানের ছেলে মোস্তফার সঙ্গে তাঁদের বোন আয়শার বিয়ে হয়। বিয়ের পর বোনের সংসারে কোনো ঝামেলা ছিল না। তবে সম্প্রতি মোস্তফা অনলাইনে জুয়া খেলায় আসক্ত হন। এর জেরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাদ দেখা দেয়। জুয়া খেলায় বাধা দেন আয়শা। এতে মোস্তফা ক্ষুদ্ধ হন। এর জন্য রাতে ফরিদাকে মারধর করে শ্বাসরোধে হত্যার পর তাঁর লাশ বাড়ির পেছনে একটি আমগাছে ঝুলিয়ে রাখেন মোস্তফা। মোস্তফা পলাতক থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তাঁর স্বজনরা বলেন, তাঁরা ঘটনার বিষয়ে কিছু জানেন না। শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিদ মাহমুদ খান বলেন, নিহতের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।#

দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকা সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যার প্রতিবাদে চাটখিলে সাংবাদিকদের সমাবেশ

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আ,লীগের দু’গ্রুপ কাদের মির্জা ও বাদলের সংঘর্ষের সময় পেশাগত দ্বায়িত্ব পালনের সময় দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকার জেলার বিশেষ প্রতিনিধি বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিবাদে সমাবেশ করেছে চাটখিল উপজেলার সাংবাদিকরা।

চাটখিল পৌর শহরের প্রধান সড়কে রবিবার ২১শে ফেব্রুয়ারী দুপুরে অনুষ্ঠিত চাটখিল উপজেলা প্রেসক্লাবের ও সাংবাদিক ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত এই সমাবেশে উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক কামরুল কাননের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, প্রেসক্লাব সভাপতি মিজানুর রহমান বাবর, সাংবাদিক ফোরাম সভাপতি আবু তৈয়ব, সাংবাদিক ইয়াছিন চৌধুরী, আনিস আহমেদ হানিফ, জাহাঙ্গীর আলম,স্বপন পাটোয়ারী, নজরুল দেওয়ান, মহি উদ্দিন বাবু প্রমূখ।

উপস্থিত ছিলো সাংবাদিক আলা উদ্দিন, সাইফুল ইসলাম রিয়াদ, মোঃ বেল্লাল হোসেন নাঈম, ফরিদ খানসহ উপজেলা কর্মরত বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকগণ। সমাবেশে বক্তারা সাংবাদিক মুজাক্কিরের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় এনে ফাঁশির দাবী জানান।

উল্লেখ্য,গত শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার চরফকিরা ইউনিয়নের চাপরাশিরহাট তরকারি বাজারের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরর ছোট ভাই আঃকাদের মির্জা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বাদল গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। সাংবাদিক মুজাক্কির সংঘর্ষের সংবাদ সংগ্রহের সময় গলায় ফোরভোলগুলি বিদ্ধ হন।

শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০:৫০ মিনিটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। উপজেলার চরফকিরা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের নোয়াব আলী মাষ্টারের ছেলে।

শাহজাদপুরে ডিবি’র অভিযানে ২২ জুয়াড়ি আটক 

শাহজাদপুরে ডিবি’র অভিযানে ২২ জুয়াড়ি আটক হয়েছে।

জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার বিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিরাজগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)’র এসআই আরিফুল ইসলাম ও এসআই শহীদ আখতার সঙ্গীয় ফোর্সসহ সিরাজগঞ্জের শাহাজদপুর উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের বড় মহারাজপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে জুয়া খেলারত অবস্থায় মোঃ মকবুল (৩৫), মোঃ রেজাউল (৩০) ও মোঃ খোকন ফকির (৩৫) সহ ২২ জন জুয়াড়িকে আটক করে। এ সময় তাদের কাছে থেকে নগদ ১লাখ ১১ হাজার ১’শ ২০ টাকা জব্দ করা হয়।

পরে ডিবি’র এস আই আরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে ধৃত ২২ জনকে আসামী করে শাহজাদপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। বুধবার সকালে তাদের শাহজাদপুর উপজেলা আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে ।

ডিবি’র এ অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছে এলাকাবাসী।

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে এটা হয়ে থাকতে পারে -ওসি শাহিদ মাহমুদ খান


শাহজাদপুরে র‍্যাব ও পুলিশের অভিযানে ৭টি সাদৃশ্য হাতবোমা ও ৩১টি ঢাল উদ্ধার

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে র‍্যাব ও পুলিশের অভিযানে ৭টি সাদৃশ্য হাতবোমাসহ ৩১টি ঢাল উদ্ধার হয়েছে। বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে র‍্যাব-১২’র ডিএডি মোস্তাক আহমেদ ও শাহজাদপুর থানার অফিসার হিসেবে শাহিদ মাহমুদ খান এ অভিযান পরিচালনা করেন।

এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, বুধবার সকালে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের বনগ্রাম দক্ষিণপাড়া মহল্লার মোঃ মজনুর স্ত্রী আঞ্জুয়ারা বেগম বাড়ীর নীচে বেগুন ক্ষেতে বেগুন তুলতে গেলে মাটিতে পোঁতা একটি মাটির পাতিল দেখতে পায়। পাতিলটি তুলে ভাঙ্গার পর ভেতর থেকে লাল টেপ দিয়ে পেচানো ৭টি সাদৃশ্য হাতবোমা দেখতে পান। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসী শাহজাদপুর থানা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিদ মাহমুদ খান সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স ও র‍্যাব-১২’র একটি চৌকস দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ৭টি সাদৃশ্য হাতবোমা উদ্ধার করে। এসময় চর-আঙ্গারু গ্রামে আব্দুর রাজ্জাকের জমি থেকে ফালা ঠেকানো ৩১ টি ঢালও উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিদ মাহমুদ খান জানান, ‘ঘটনাস্থল সংলগ্ন বৃ-আঙ্গারু গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’ পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে অপর একটি পক্ষ এগুলো মাটিতে পুঁতে রাখতে পারে।’

এ ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

কেনো স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না? মর্মে শো'কজ!


শাহজাদপুর প্রেস ক্লাব থেকে রাজীব রাসেলকে সাময়িক বহিষ্কার

মাদক ব্যবসা, অনৈতিক ও অসামাজিক কর্মকান্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার প্রমাণের ভিত্তিতে শাহজাদপুর প্রেস ক্লাবের সদস্য নতুন সময় টিভি’র সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি, সময়ের কন্ঠস্বর, নজর টুয়েন্টি ফোর ডটকম ও দেশের কন্ঠ পত্রিকার শাহজাদপুর প্রতিনিধি মোঃ রাজিব আহমেদ রাসেলকে শাহজাদপুর প্রেস ক্লাবের সদস্যপদ থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

গত ৩১ জানুয়ারি (রোববার) শাহজাদপুর প্রেস ক্লাবের সাধারন সম্পাদক শফিকুজ্জামান শফি স্বাক্ষরিত সাময়িক বহিষ্কারাদেশ পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, “শাহজাদপুর প্রেস ক্লাবের গ্রুপ ম্যাসেঞ্জারে রাজীব আহমেদ রাসেলের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসাসহ নানা অনৈতিক কর্মকান্ড সংক্রান্ত একটি ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ করেন প্রেস ক্লাবের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য জহুরুল ইসলাম। এতে রাজিব আহমেদ রাসেল ও জহুরুল ইসলামের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। পরে জহুরুল ইসলাম প্রেস ক্লাবে বাদী হয়ে রাজিব আহমেদ রাসেলের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসাসহ নানা অনৈতিক কর্মকান্ডের অভিযোগ করেন। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ৩১ ডিসেম্বর শাহজাদপুর প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য শুনানীকালে রাজীব আহমেদ রাসেলের বিরুদ্ধে মাদকের ব্যবসাসহ নানা অনৈতিক কর্মকান্ডের বিষয় উঠে আসে। এসব ঘটনার সত্যতা জানতে সর্বসম্মতিক্রমে প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাংবাদিক আবুল কাশেমকে আহবায়ক করে ৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। দীর্ঘ সময় অনুসন্ধান শেষে উক্ত তদন্ত কমিটি এ সংক্রান্ত একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৮ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সকালে শাহজাদপুর প্রেস ক্লাবের কার্যনির্বাহী পরিষদের সাধারন সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় তদন্ত কমিটির
দাখিলকৃত প্রতিবেদন, একাধিক ভিডিও ক্লিপ, প্রকাশ্যে অপ্রকাশ্যে বিভিন্ন স্বাক্ষীদের সাক্ষ্য প্রমাণ ও রাজিব আহমেদ রাসেলের দাখিলকৃত কাগজপত্র পর্যালোচনার ভিত্তিতে রাজিব আহমেদ রাসেল ও তার স্ত্রী রুমী খাতুন ওরফে প্রিয়া আহম্মেদ পরিচালিত পৌর এলাকার মণিরামপুর বাজারস্থ প্রিয়া বিউটি পার্লারের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ও নানা অসামাজিক কর্মকান্ডের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়। এ কারণেই তাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়।

সাময়িকভাবে বহিষ্কারাদেশ পত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ‘রাজীব আহমেদ রাসেলের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসাসহ নানা অনৈতিক ও অসামাজিক কর্মকান্ডের প্রমাণ পাওয়ায় শাহজাদপুর প্রেস ক্লাবের গঠনতন্ত্রের ৯ অনুচ্ছেদের ধারা ৯ এর (গ) মোতাবেক প্রেস ক্লাবের কার্যনির্বাহী পরিষদের সর্বসম্মতিক্রমে তাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়। পাশাপাশি, ১০ দিনের মধ্যে কেনো তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না? মর্মে লিখিত জবাব দাখিল করতে বলা হয়েছে রাজীব আহমেদ রাসেলকে।