শাহজাদপুরে বস্ত্র ব্যবসায়ীর উপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ

শাহজাদপুর উপজেলা ব্যবসায়ী দোকান মালিক সমিতির সদস্য ও দীপা এন্ড দীপ্ত বস্ত্র বিতানের মালিক তপন ঘোষের উপর গতকাল ১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে তার ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে একদল সন্ত্রাসী হামলা চালায়। এ সময় সন্ত্রাসীদের হামলায় কর্মচারী পলাশ সাহা (২৫), গোপাল দাস (৩০), চিরঞ্জিত (২৫) ও চন্দন আহত হয়। ঘটনার সংবাদ পাওয়া মাত্রই শাহজাদপুর থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ শাহিদ মাহমুদ খান, ওসি (তদন্ত) ফজলে আশিক ও ওসি (অপারেশন) আসলাম হোসেন সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এ সময় দোকানের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ দেখে সন্ত্রাসীদের সনাক্ত করা হয়। তৎক্ষনাৎ থানায় ৮ জনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ দায়েরের সঙ্গে সঙ্গে আসামীদের গ্রেফতারের জন্য থানা পুলিশ ঝটিকা অভিযানে নামে। ঘটনার প্রতিবাদে  সেপ্টেম্বর বুধবার বিকেলে ব্যবসায়ীরা দ্বারিয়াপুর বাজার (আওয়ামীলীগ অফিসের সামনে) দোকান বন্ধ রেখে এক বিক্ষোভ ও মানববন্ধনের আয়োজন করে। মানববন্ধনের খবর পেয়ে থানা পুলিশ উপস্থিত হয়ে আসামীদের দ্রæত গ্রেফতার ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলে ব্যবসায়ীরা মানববন্ধন কর্মসূচি স্থগিত করে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- ব্যবসায়ী দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হাজী মুনছুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক রনি খান শান্ত, সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী আব্দুল মোমিন, ইয়ামিন হোসেন, শফিকুল ইসলাম শফি প্রমুখ। বক্তারা বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হলে পরবর্তীতে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেয়া হবে। এদিকে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন, শাহজাদপুর উপজেলা বনিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রবিন আকন্দ।
এ ব্যাপারে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিদ মাহমুদ খান জানান, ঘটনার সংবাদ জানা মাত্রই আমি সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে আসি এবং তারপর থেকেই ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। অচিরেই আসামী গ্রেফতার হবে এবং তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।

শাহজাদপুরে ভুয়া এনজিও কর্মী আটক

বেড়া থানা পুলিশের সহায়তার শাহজাদপুর থানা পুলিশ পিডিএফ নামক ভুয়া এনজিও’র কর্মী নাজমুল রহমান নাইম (২৫) নামের এক প্রতারককে গ্রেফতার করেছে।  মঙ্গলবার সকালে তার বিরুদ্ধে শাহজাদপুর থানায় একটি মামলা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত নাজমুল রহমান নাইম পাবনা জেলার আমিনপুর থানার টাংবাড়ি এলাকার মতিউর রহমানের ছেলে। এদিন দুপুরে তাকে সিরাজগঞ্জ জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, প্রতারক নাজমুল দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার বাঘাবাড়ী মোল্লাপাড়া মহল্লায় নিজেকে পিডিএফ নামক এনজিওর কর্মী পরিচয় দিয়ে অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে সদস্য ও আমানত সংগ্রহ করে আসছিলো। একপর্যায়ে গত সোমবার সকালে একই মহল্লার ১০ জন মহিলাকে সদস্য বানিয়ে তাদের কাছ থেকে ১৯ হাজার ৫’শ টাকা আমানত সংগ্রহ করে পাশর্^বর্তী উপজেলা বেড়ায় চলে যায়। তার কর্মকান্ডে এলাকাবাসীর সন্দেহ হলে পিছু নিয়ে বেড়া কানাইবাড়ী মোড় এলাকা থেকে তাকে আটক করে গনধোলাই দিয়ে বেড়া থানা পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে বেড়া থানার এসআই রতন কুমার সরকার ওই প্রতারকে আটক করে শাহজাদপুর থানা পুলিশে হস্তান্তর করে। ধৃত ভুয়া এনজিও কর্মী নাজমুলের কাছ থেকে এসময় পুলিশ ভুয়া এনজিও পিডিএফের ১৩টি সঞ্চয় ও পাস বহি ও নগদ ১৯ হাজার ৫’শ টাকা উদ্ধার করে। এ ঘটনায় বাঘাবাড়ী মোল্লাপাড়া মহল্লার মোন্নাফ বাদী হয়ে মঙ্গলবার সকালে শাহজাদপুর থানায় প্রতারণার অভিযোগ এনে একটি মামলা করে।

গ্রাম্য সালিশের ৮ লাখ টাকা এখনও ফেরত পায়নি ভুক্তভোগী আল আমিন


শাহজাদপুরে তথাকথিত হালিম বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ নিরীহ মানুষ

সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার রূপবাটি ইউনিয়নের দুর্গম এক পল্লীর নাম সন্তোষা। শাহজাদপুর পৌর এলাকা থেকে গ্রামটির অবস্থানগত দুরত্ব খুব বেশি না হলেও নাজুক যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে আজও আধুনিক সভ্যতার ছোঁয়া লাগেনি এ গ্রামটিতে। এ সুযোগে হত্যার চেষ্টা, হামলা, ভাংচুর, লুটপাট, বড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, অপহরণসহ একাধিক মামলার আসামি তথাকথিত হালিম বাহিনী’র প্রধান সন্তোষা গ্রামের হযরত আলী মন্ডলের ছেলে রাকিবুল ইসলাম ওরফে হালিম দিনে দিনে সন্তোষা গ্রামকে অপরাধের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করে চলেছে। হালিম বাহিনীর অত্যাচার, নির্যাতন, নিপীড়নে এ গ্রামের অনেকেই অতিষ্ঠ হয়ে পড়লেও প্রাণভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। তারা হালিম বাহিনীর হাত থেকে মুক্তি চায়।
সরেজমিন পরিদর্শনে উপজেলার সন্তোষা গ্রামের ভীত সন্ত্রস্ত্র নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অসংখ্য অসহায় মানুষের অভিযোগ, ‘রূপবাটি ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক তথাকথিত হালিম বাহিনীর রাকিবুল ইসলাম হালিম গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সন্তোষা গ্রামে ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্ট ছিলেন। নির্বাচনের পরে আসন্ন রূপবাটি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ও পরে ইউনিয়ন যুবলীগের স্বঘোষিত সভাপতি প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালালে এলাকায় চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তথাকথিত হালিম বাহিনীর প্রধান হালিম ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা এতে থেকে না থেকে ভিলেজ পলিটিক্সের নামে সন্তোষাসহ পাশর্^বর্তী গ্রামের খেটে খাওয়া অসহায়দের ফাঁসিয়ে জোর করে লাখ লাখ টাকা আদায় করছে। দুর্গম এ পল্লীতে হালিমের নেতৃত্বে সন্তোষা খেয়াঘাট সংলগ্ন স্থানে ও নৌকায় প্রকাশ্যে চলছে মিনি ক্যাসিনো ও জুয়া, উচ্চ সুদের রমরমা ব্যবসা, মাদকের প্রসার, নারী নির্যাতন, বৈদ্যুতিক মিটার ও খেয়াঘাটের ইজারা এনে দেয়ার কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আদায়সহ নানা অপরাধ কর্মকান্ড দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। হালিমের প্রতারণা থেকেও বাদ পড়েনি এলাকার বয়ষ্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতাসহ বিভিন্ন ভাতার কার্ড প্রত্যাশী অসহায় দুস্থ মানুষ। গ্রামের নিরীহ মানুষকে জিম্মি করে মোটা অর্থ আদায়সহ পাশর্^বর্তী গ্রামের সাথে বিবাদ দাঙ্গা-হাঙ্গামা বাঁধিয়ে দিয়ে পুরো সন্তোষা গ্রামবাসীকে তীব্র ঝূঁকির মধ্যে ঠেলে দিয়েছে তথাকথিত এ বাহিনী প্রধান হালিম। এদের অন্যায়, অত্যাচার, জুলুম, নির্যাতন, প্রতারণা ও অপকর্মের বিরুদ্ধে কেউ টু-শব্দ করতে সাহস পায়না। করলেই তার ওপর নেমে আসে এদের নানা জুলুম, অত্যাচার আর নির্যাতন। সম্প্রতি একই ইউনিয়নের চর আন্দারমানিক গ্রামের আল আমিন নামের এক সরকারি চাকরিজীবীকে গ্রাম্য শালিসের মাধ্যমে ফাঁসিয়ে জোর করে ৮ লাখ টাকা আদায় করলে প্রথমবারের মতো হালিম ও তার সহযোগীদের কু-কর্মের বিরুদ্ধে আইজিপি অফিসে লিখিত অভিযোগে মুখ খোলেন আল আমিন নামের ওই চাকরিজীবী। এ খবর জানতে পেরে হালিম বাহিনী বাদী আল আমিনের বড় ভাই মোহাম্মদ আলীকে রাতের আঁধারে বেড়ী বাঁধে ডেকে নিয়ে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে অভিযোগ তুলে নিতে বলেন। অন্যথায় আব্দুর রাজ্জাক ও পেশকার মোল্লার মতো তাকেও এলাকাছাড়া করার ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
আইজিপি অফিসে দাখিলকৃত অভিযোগ সূত্রে প্রকাশ, কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার পদে কর্মরত বাদী মোঃ আল আমিনের ওপর মিথ্যা দোষ চাপিয়ে বে-আইনী ভাবে ৩ দফায় ৮ লাখ টাকা আদায় করে তথাকথিত হালিম বাহিনীর প্রধান রাকিবুল ইসলাম ওরফে হালিম ও তার দলবল। তথাকথিত হালিম বাহিনী কর্তৃক বে-আইনীভাবে আদায় করা ওই ৮ লাখ টাকা ফেরত, ন্যায় বিচার ও পরিবারের সদস্যদের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ভুক্তভোগী আল আমিন অভিযোগটি করলে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শাহজাদপুর সার্কেল) ফাহমিদা হক শেলী’র তত্বাবধানে এসব অভিযোগের বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এখনও ওই ৮ লাখ টাকা ফেরত পায়নি ভুক্তভোগী আল আমিন।
এ বিষয়ে রাকিবুল ইসলাম ওরফে হালিমের মুঠোফোনে জানান, ‘তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগসমূহ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও মিথ্যা। তিনি কাউকে ভয়ভীতি দেখানটি বা কারও ওপর অত্যাচার নির্যাতন করেন নি।’
অপরদিকে, এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শাহজাদপুর সার্কেল) ফাহমিদা হক শেলী বলেন,‘এ বিষয়ে পুলিশী তদন্ত চলছে।

দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী


শাহজাদপুরে জেমির অত্যাচার-নির্যাতনে অতিষ্ঠ নিরীহ মানুষজন

শাহজাদপুর উপজেলার তালগাছী এলাকার মোকছেদ প্রামাণিকের মেয়ে নবীয়া ওরফে জেমি (৩৮)’র অত্যাচার-নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে এলাকার নিরীহ মানুষজন। কথায় কথায় গালিগালাজ, মারপিট, হুমকি, ধামকি, মিথ্যা মামলা দিয়ে পুলিশের ভয় দেখিয়ে এলাকার অনেকেরই কাছ থেকে মোটা টাকা আদায় করাই জেমির কাজ। এমপি, মন্ত্রীসহ উপরমহলের অনেকেরই নাম ভাঙ্গিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে দীর্ঘদিন ধরে নানা অপকর্ম করে আসছে এই জেমি। তার নির্যাতনের তালিকায় বাদ পড়েনি নিজের বোন, আত্মীয় স্বজন, মুক্তিযোদ্ধা, উকিল, জনপ্রতিনিধিসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও নিরীহ জনমানুষ। প্রাণভয়ে তার অত্যাচার নির্যাতনের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। কেউ প্রতিবাদের টু-শব্দ করলেই তার ওপর নেমে আসে জেমির অত্যাচারের খড়গ। সম্প্রতি সোস্যাল মিডিয়ায় একজন জাতীয় সংসদ সদস্যকে জড়িয়ে নানা কটুক্তি ও অশোভন মন্তব্য করায় তেজগাঁও থানায় দায়েরকৃত সাইবার ক্রাইম মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর এলাকার নির্যাতিত অনেকেই জেমির নানা নির্যাতন, কুকর্মের তথ্য ফাঁস করে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছে।
শনিবার সরেজমিন তথ্যানুসন্ধানকালে উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদ, ইউপি সদস্য দুলাল হোসেন, জেমির চাচা মণিরুজ্জামান, সেলিম, আমেনা, আব্দুল মতিন, আব্দুর রশিদ, আব্দুল মান্নান রতন সহ এলাকার নির্যাতিত অনেকেই অভিযোগে জানান, নানা এমপি মন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে নিরীহ মানুষকে ভয় দেখিয়ে বিপুল অর্থ আদায় করাই মূলত জেমির প্রধান কাজ। চাঁদাবাজীর এ কাজে জেমি কখনও নিজে বাদী হয়ে আবার কখনও তার কাজের মেয়েদের বাদী করে মামলা ও পুলিশের ভয় দেখিয়ে নিরীহ মানুষজনকে ফাঁসিয়ে মোটা টাকা আদায় করে হয়েছে বিপুল অর্থবিত্তের মালিক।
বছরের পর বছর এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে সাধারন মানুষদের ফাঁসিয়ে একের পর এক নানা অপরাধ চালিয়ে গেলেও বরাবরই জেমি প্রশাসনের ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকেছে। এতে জনমনে প্রশ্নও জেগেছে, জেমির খুঁটির জোর কোথায়? সেইসাথে নির্যাতিত এলাকাবাসী জেমির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরও দাবী জানিয়েছে।

মায়ের ওপর অভিমানের জের


শাহজাদপুরে ৪র্থ শ্রেণির স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

আল আমিন হোসেন, শাহজাদপুর :  সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের পাথালিয়া পাড়া গ্রামে মায়ের ওপর অভিমান করে অন্তরা খাতুন (১১) নামের এক স্কুলছাত্রী গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
নিহত অন্তরা খাতুন পাথালিয়া পাড়া গ্রামের কাঁচামাল ব্যাবসায়ী মোঃ আমিরুল ইসলামের মেয়ে ও স্থানীয় মাকড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী।
জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের পাথালিয়া পাড়া গ্রামের কাঁচামাল ব্যাবসায়ী মোঃ আমিরুল ইসলামের মেয়ে অন্তরা খাতুন কে বাবার ভাত নিয়ে দোকানে  যেতে বলে তার মা। অন্তরা খাতুন ভাত নিয়ে যেতে গরিমসি করে, এতে অন্তরার মা তাকে গালাগালি করে। অন্তরা অভিমান করে তার চাচার ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। পরে বিকাল পর্যন্ত অন্তরার কোন সারাশব্দ না পেয়ে তার মা জানালা দিয়ে অন্তরার দেহ ঘরের ডাফের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। পরে বাড়ির লোকজন দরজা ভেঙে অন্তরার ঝুলন্ত দেহ নামায়। পরে তাকে অচেতন অবস্থায় স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
পরে খবর পেয়ে রাত আনুমানিক ১১টায় শাহজাদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফজলে আশিকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। আজ বুধবার বাদ ফজর অন্তরার লাশ জানাযা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।
শাহজাদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ ফজলে আশিক জানান, আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হ‌ই। আমরা আরোও জানতে পারি মৃত অন্তরা খাতুন মানসিক অসুস্থ ছিল।

বিলিভ ইউ অর নট ; এলাকায় চাঞ্চল্য


শাহজাদপুরে সম্পত্তির লোভে একই স্বামীকে ৩ বার বিয়ে!

অবিশ্বাস্য হলেও এটাই সত্য যে শাহজাদপুরে অর্থ ও সম্পত্তি আত্মসাতের লক্ষ্যে এক নারী কর্তৃক একই স্বামীকে ৩ বার বিয়ে ও ৩ বার বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রতি বারই বিয়ে ও বিচ্ছেদের সময় প্রচলিত আইন ও ইসলামী শরিয়াহ’কে লঙ্ঘন করার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, শাহজাদপুর পৌর এলাকার রূপপুর নতুনপাড়া মহল্লার মৃত শাহজাহান শেখের মেয়ে সোনা খাতুন তার ১ম স্বামী হারিয়ে বাবার বাড়ি রূপপুরে সন্তানাদী নিয়ে কষ্টে দিনাতিপাত করছিলো। এ কষ্ট লাঘবে কয়েক বছর আগে সোনা খাতুন হাবিবুল্লাহনগর ইউনিয়নের রতনকান্দি গ্রামের আলিমুদ্দিন মোল্লার ছেলে বিবাহিত যুবক আব্দুর রহমানের ১ম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই ৫০ হাজার টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেন। এর কিছুদিন পরই সোনা কর্তৃক দেনমোহরের টাকা নিয়ে তালাকনামা প্রদানের মাধ্যমে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। আরও পরে সোনা তার সাবেক স্বামী আব্দুর রহমানের সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে মোবাইল ফোনে ফুসলিয়ে গত ২০১৭ সালের ৪ ফেব্রæয়ারি ২ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে ২য় বার বিয়ে করে। এ বিয়ের পর আব্দুর রহমানের কাছ থেকে ৩ শতক জমি নিজ নামে লিখে নেয় সোনা। উদ্দেশ্যে হাসিলের হওয়ায় গত ২০১৭ সালের ১৬ এপ্রিল ফের তালাকনামা প্রদানের মাধ্যমে তাদের ২য় বিয়ের বিচ্ছেদ ঘটে। পরে চতুর সোনা জানতে পারে তার সাবেক স্বামী আব্দুর রহমানের আরও সম্পত্তি রয়েছে। সে সম্পত্তিও আত্মসাতের উদ্দেশ্যে নানা ফাঁদ পাততে শুরু করে। যথারীতি আব্দুর রহমান ৩বারের মতো সেই ফাঁদে ফের পা দেয়। এবার রূপপুর নতুন পাড়া মহল্লার আনিছ হুজুর তাদের তওবা পড়িয়ে ফের ৩য় বারের মতো তাদের বিয়ে দেন। চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি তালাকনামা প্রদানের মাধ্যমে তাদের ৩য় বিয়েরও বিচ্ছেদ ঘটে।
দেশে প্রচলিত আইনে তালাকপ্রাপ্ত একই স্বামী স্ত্রীর ২য় বিয়ে করতে চাইলে আদালতের মাধ্যমে তালাকনামা প্রত্যাহার বা ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক হিল্লা বিয়ের পর কিছু নিয়ম কানুন মেনে বিয়ের বিধান থাকলেও আব্দুর রহমান ও সোনার পরপর ৩ বার বিয়ে ও বিচ্ছেদে তার কোনটাই মানা হয়নি। কেবলমাত্র স্বামী আব্দুর রহমানের সম্পত্তি আত্মসাতের লক্ষ্যেই সোনা অনৈতিকভাবে ৩ বার বিয়ের পিড়িতে বসেছেন। এলাকাবাসী চতুর সোনার দৃষ্টাস্তমুলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। এছাড়া, চতুর সোনার বিরুদ্ধে আব্দুর রহমানের ১ম স্ত্রী ও সন্তানদের হুমকি প্রদানেরও অভিযোগ উঠেছে।

জনমনে প্রশ্ন, লম্পট নাজমুলের খুঁটির জোর কোথায় ?


শাহজাদপুরে মেডিকেল এসিষ্ট্যান্ট নাজমুলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টাসহ নারীর শ্লীলতাহানীর অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার খুকনী ইউনিয়নের খোকশাবাড়ী মন্ডলপাড়ার জনতা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টার-২ এর মেডিকেল এসিষ্ট্যান্ট লম্পট নাজমুলের একের পর ধর্ষন চেষ্টাসহ নারীদের শ্লীলতাহানীর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একের পর এক ঘটে যাওয়া এসব ন্যাক্কারজনক ঘটনায় এলাকায় নিন্দার ঝড় বইছে। সবশেষ ওই ক্লিনিকের যুবতী এক আয়াকে জোরপূর্বক ধর্ষন চেষ্টার ঘটনায় এলাকাবাসী ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে। এ ঘটনাও ধামাচাপা দিতে একটি প্রভাবশালী মহল উঠেপড়ে লেগেছে।

এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জনতা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টার-২ এ গত ২০১৮ তাড়াশ উপজেলার মথুরাপুর গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে নাজমুল ইসলামকে মেডিকেল এ্যাসিষ্টেন্ট পদে দায়িত্ব দেয়া হয়। এরপর থেকেই নাজমুল নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে রোগীদের সাথে চিকিৎসাসেবা প্রদানের নামে প্রতারণা চালিয়ে আসছে ও বিভিন্ন সময়ে নারীদের নানাভাবে যৌন হয়রানী করে আসছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, আড়াই বছর আগে জনতা ক্লিনিকে কর্মরত বাক্ষ্মণগ্রামের এক আয়াকে মেডিকেল এসিষ্ট্যান্ট নাজমুল ধর্ষনের চেষ্টা করে। ভুক্তভোগী আয়া এ ঘটনা পরিবারের সদস্যদের জানালে সালিসী বৈঠকে হাত-পা ধরে সেবারের মতো পার পান লম্পট নাজমুল। একই ভাবে বছর খানেক আগে খোকশাবাড়ি গ্রামের জনৈক প্রবাসীর স্ত্রী চিকিৎসাসেবা নিতে আসলে তার শ্লীলতাহানীর চেষ্টা চালায় লম্পট নাজমুল। বিষয়টি ভুক্তভোগীর অভিভাবকেরা জানতে পেরে বিচার চাইলে গ্রাম্য সালিশে মোটা অর্থের বিনিময়ে আবারও ধামাচাপা পড়ে যায় নাজমুলের এ কুকর্ম। সর্বশেষ গত ১৮ আগষ্ট রাতে জনতা ক্লিনিক-২ এর এক আয়াকে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করে নাজমুল। নির্যাতনের শিকার ওই আয়া এর বিচার চাইলে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে মোটা টাকার বিনিময়ে এবারও ন্যাক্কারজনক ওই ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে অনৈতিকভাবে সমঝোতার মাধ্যমে রক্ষা পায় নাজমুল।

এ বিষয়ে হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক ডাঃ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘ভুক্তভোগী আয়া আমার কাছে অভিযোগ করে প্রায়শই নাজমুল তাকে কু-প্রস্তাব দেয়। এতে সাড়া না দেয়ায় নাজমুল তাকে ধর্ষনের চেষ্টা করে। নাজমুলের নানা কু-কর্ম বরাবরই অজ্ঞাত খুঁটির জোরে ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে । তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।’

এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ওই ক্লিনিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম আহমেদ বলেন, ‘মেডিকেল এসিষ্ট্যান্ট নাজমুল কর্তৃক হাসপাতালে কর্মরত ও চিকিৎসাসেবা নিতে নারীদের ধর্ষণ চেষ্টা ও শ্লীলতহানীর অসংখ্য ঘটনায় হাসপাতালের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। লম্পট নাজমুলের নানা অপকর্মের ঘটনা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার আশ^াস দিয়েছেন সিভিল সার্জন।’

এ বিষয়ে এনায়েতপুর থানার ওসি মোল্লা মাসুদ পারভেজ জানান, ‘অভিযোগ পেলে মেডিকেল এসিষ্ট্যান্ট নাজমুলের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

শনিবার দুপুরে মুঠোফোনে এসব বিষয়ে সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডাঃ জাহিদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

মেডিকেল এসিষ্ট্যান্ট নাজমুল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘সাধারন ঘটনা নিয়ে আয়ার সাথে সৃষ্ট মনমালিন্য মিমাংসা করে নেয়া হয়েছে।’

এদিকে, বহু নারী কেলেংকারির হোতা লম্পট নাজমুল একের পর এক নানা অপকর্ম ঘটিয়ে প্রতিবারই বেচে যাওয়ায় জনমনে প্রশ্ন জেগেছে তার খুঁটির জোর কোথায় ? সেইসাথে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন এলাকাবাসী।

মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনুমোদনবিহীন পন্য বিক্রির দায়ে


শাহজাদপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই ব্যবসায়ীর জরিমানা

শনিবার শাহজাদপুর উপজেলার তালগাছি বাজারে মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনুমোদনবিহীন পন্য বিক্রি করার দায়ে দুই ব্যবসায়ীকে ৪ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও সহকারী কশিশনার (ভুমি) মোঃ মাসুদ হোসেন জানান, শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশনায় থানা পুলিশের সহযোগিতায় উপজেলার তালগাছি বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে দুই দোকানে মেয়াদ উত্তীর্ণ বিস্কুট, আইসক্রিম ও অনুমোদনবিহীন যৌন উত্তেজক ড্রিংকস রাখায় দায়ে দুই ব্যবসায়ীকে ৪ হাজার টাকা জরিমানা করে আদায় করা হয়। এ সময় ব্যবসায়ীসহ সর্বসাধারণকে মাস্ক ব্যবহার করার জন্য সতর্ক করা হয়। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।

বিচার দাবী


যৌতুকের দাবীতে গৃহবধুকে শ্বাসরোধে হত্যা

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার খুকনী ইউনিয়নের রুপনাই গ্রামে পারিবারিক কলহের জের ধরে দোলেনা খাতুন (৩৩) নামের এক গৃহবধুকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহত দোলেনা রুপনাই গ্রামের মামুন খানের স্ত্রী এবং খুকনী গ্রামের তাঁত ব্যবসায়ী সুলতান হোসেনের মেয়ে। এনায়েতপুর থানা পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে শনিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে।

নিহতের পরিবার ও পুলিশ জানায়, গত ১৩ বছর আগে উপজেলার রুপনাই গ্রামের কাদের খানের ছেলে যৌতুক লোভী মামুন খানের সাথে খুকনী গ্রামের তাঁত ব্যবসায়ী সুলতান হোসেনের মেয়ে দোলেনার বিয়ে হয়। বর্তমানে তাদের ঘরে ৩ সন্তান রয়েছে। মামুন কাপড়ের ব্যবসা করতো। পরে শ্বশুর বাড়ি থেকে জোর করে টাকা নিয়ে বিদেশে কাজের জন্য গিয়ে মাস খানেক থাকার পর দেশে ফিরে আসে। এরপর মামুন ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে নানা ব্যবসা করে ঋনগ্রস্থ হয়ে পড়ে । এজন্য মামুন টাকা ও গহনার জন্য স্ত্রী দোলেনা খাতুনকে মাঝে-মধ্যেই নির্যাতন করতো ও টাকার জন্য দোলেনার স্বজনদের ওপর চাপসৃষ্টি করতো। গত কোরবানীর ঈদের সময় মামুন ঢাকা থেকে বাড়ি এসে দাবীকৃত টাকা গহনা না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে স্ত্রীর সাথে ঝগড়া করে বাড়ি থেকে চলে যায়। এরপর গৃহবধুর বাড়ির লোকজনে চাপ বহুগুণে বেড়ে যায়। এতেও গয়না টাকা না পেয়ে শুক্রবার বিকেলে দোলেনা খাতুনকে শ^শুরবাড়িতেই পরিকল্পিতভাবে শ^াসরোধে হত্যা করা হয় বলে নিহতের স্বজনেরা অভিযোগ করেন। খবর পেয়ে এনায়েতপুর থানা পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে নিহত দোলেনা খাতুনের বড়ভাই ইব্রাহীম হোসেন জানান, ‘বিয়ের পর থেকে দোলেনার স্বামী মামুনসহ শ^শুরবাড়ির লোকজন টাকা ও গহনার জন্য অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলো। টাকা গহনার জন্যই তাকে শ্বাসরোধে শ্বশুরবাড়ির লোকজন হত্যা করেছে। আমরা এর বিচার চাই।’

অপরদিকে, এ বিষয়ে এনায়েতপুর থানার ওসি মোল্লা মাসুদ পারভেজ জানান, ‘লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট আসার পর প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

শান্তি শৃংখ্যলা বজায় ও নির্মাণ কাজ থেকে বিরত থাকতে দন্ডবিধি ১৫৪ ধারায় নোটিশ


শাহজাদপুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য জায়গা দখল করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ

আদালতে চলমান মামলায় নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও আইন, কানুনকে উপেক্ষা করে প্রতাপের সাথে বাদীপক্ষের সীমানা খুঁটি তুলে জায়গা দখল করে পাকা মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের পোতাজিয়া যুব সংঘের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন বাদী হাজী মোঃ সিরাজুল ইসলাম।
জানা গেছে, শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া মৌজার এসএ ১৭২৭ খতিয়ানের ৪৯৩৭ দাগ ও আরএস ২৪৪৩ খতিয়ানের ৫৮৫৩ দাগের ৩৯ শতক ভূমিসহ ২.৮৪ একর ভূমি শ্রীষ চন্দ্র রায় গংদের স্বত্ব দখলীয় সম্পত্তি হিসেবে এসএ রেকর্ডভুক্ত হয়ে পরে এসএ প্রজাদের মধ্যে আপোষ ছাহাম বন্টন হয়। গত ১৯৭২ সালের ২৬ জুন উক্ত সম্পত্তির মালিক শ্রী নিরেন্দ্র চন্দ্র রায় ৫০১২ নং দলিলমূলে মোজাম্মেল হক ও জুলমত শেখের কাছে বিক্রি করেন। গত ২০১৭ সালের ২০ অক্টোবরে মোজাম্মেল হক ও জেনাত আলীর কাছ থেকে ১০১২৭ নং রেজিষ্ট্রি দলিল মূলে উক্ত সম্পত্তির শোয়া ২৪ শতকসহ অন্যান্য দাগের ২.০৬ একর ও ২০১৯ সালের ২৬ আগষ্ট ৪২৪৮ নং দলিলমূলে আব্দুর রহমানের কাছ থেকে উক্ত সম্পত্তির ১০.৬২৫ শতকসহ ৭১.৩৭৫ শতক ভূমি বাদী মোঃ সিরাজুল ইসলাম ক্রয় করে ২৪৫৫/ওঢ-ও/১৭-১৮ নং নামজারি কেসের মাধ্যমে খাজনা পরিশোধ করে ভোগ দখল করে আসছেন। উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী, বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রবিন আকন্দসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে উক্ত সম্পত্তি মাপজরিপ করে সীমানা নির্ধারণ করে খুঁটি পোঁতা হয়। পোতাজিয়া যুব সংঘের মার্কেটের ভিত্তি স্থাপনের সময় বাদীর উক্ত সম্পত্তির সীমানা খুঁটি তুলে ফেলে ৩/৪ ফুট জায়গা দখলের চেষ্টা করা হলে শাহজাদপুর সিনিয়র সহকারী জজ আদালত, সিরাজগঞ্জ এ দখল ঠেকাতে নিষেধাজ্ঞার আবেদন চেয়ে পোতাজিয়া যুব সংঘের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদককে বিবাদী করে মামলা (অপর প্রকার মোকদ্দমা নং-৯৩/২০২০) করেন জমির মালিক হাজী মোঃ সিরাজুল ইসলাম।
এ বিষয়ে হাজী মোঃ সিরাজুল ইসলাম অভিযোগে বলেন,‘ বিবাদীগংয়ের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালত স্থিতাবস্থা জারি করলেও তা অমান্য করে আমার সম্পত্তির ৩/৪ ফুট পেচিয়ে পাকা মার্কেট নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।’
শাহজাদপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ লিয়াকত আলী বলেন, ‘মাপ জরিপ করে আমাদের উপস্থিতিতে উক্ত সম্পত্তির সীমানা খুঁটি পোঁতা হয়েছিলো। শুনেছি, বেইজ ঢালাইয়ের সময় উক্ত খুঁটি উঠে গেছে।’
শাহজাদপুর উপজেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও বাদীপক্ষের আইনজীবী এ্যাড. আনোয়ার হোসেন জানান,‘বিবাদী পোতাজিয়া যুব সংঘের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের বিরুদ্ধে স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাসকো) জারি করেছেন যা বলবৎ রয়েছে।’
এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আতাউর রহমান বলেন,‘এ সংক্রান্ত বিজ্ঞ আদালতের একটি নির্দেশনা পেয়ে দন্ডবিধি ১৫৪ ধারায় উভয় পক্ষকে নোটিশ প্রদানের মাধ্যমে শান্তি শৃংখ্যলা বজায় রাখতে ও এই মুহুর্তে সেখানে নির্মাণ কাজ বিরত রাখতে বলেছি।’
অপরদিকে, পোতাজিয়া যুব সংঘের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের পক্ষে জনৈক ওয়াজ সাংবাদিকদের জানান, ‘হাজী সিরাজুল ইসলাম ও পোতাজিয়া যুব সংঘের সম্পত্তির দাগই আলাদা। তাদের জায়গা আমরা দখল করিনি, বরং যুব সংঘের জায়গাই তাদের ভিতরে রয়েছে। বাদীর অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’