ঢাবি ছাত্র হাফিজুরের মৃত্যু তদন্ত করতে গিয়ে পাওয়া গেল এলএসডি মাদক

দেশে এলএসডি জব্দের ঘটনা এটাই প্রথম বলে জানিয়েছে ডিবি।ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর একটি বাসা থেকে এলএসডি নামক (লাইসার্জিক অ্যাসিড ডাইথ্যালামাইড) মাদক জব্দ করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের রমনা বিভাগ। ডিবি বলছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হাফিজুর রহমানের মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে তাঁরা এই মাদকের সন্ধান পেয়েছেন। দেশে এলএসডি জব্দের ঘটনা এটাই প্রথম বলে জানিয়েছে ডিবি।

এলএসডি বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গতকাল বুধবার রাতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন ছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি। তাঁরা হলেন, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএর ছাত্র লুপল ও তুর্জ এবং ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির ছাত্র আদিব। ডিবি পুলিশের নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক দায়িত্বশীল একটি সূত্র প্রথম আলোকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এ নিয়ে আজ বেলা দুইটার দিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার সংবাদ সম্মেলন করবেন।

ডিবির ওই সূত্র প্রথম আলোকে বলেছে, ফেসবুকে ‘আপনার আব্বা’ নামে একটি গ্রুপের মাধ্যমে ওই মাদকের ক্রেতা সংগ্রহ করা হয়। গ্রুপে সদস্যসংখ্যা এক হাজারের বেশি। গ্রেপ্তার লুপল গ্রুপটি পরিচালনা করেন। লুপল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর ছাত্র ছিলেন। ড্রপআউট হওয়ার পর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।

ডিবি বলছে, সুইডেন থেকে এলএসডি মাদক আমদানি করা হয়। অনলাইনভিত্তিক অর্থ লেনদেন (পেমেন্ট) ব্যবস্থা পেপ্যালের মাধ্যমে টাকার লেনদেন হয়। এই তিনজনের কাছ থেকে ২০০টি এলএসডি জব্দ করা হয়েছে। প্রতিটি তিন হাজার টাকা মূল্যে তাঁরা বিক্রি করেন।

ডিবি সূত্র বলছে, গত ১৫ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য বিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের ছাত্র হাফিজুর রহমানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল এলাকায় তাঁর তিন বন্ধু এলএসডি সেবন করান। এর প্রতিক্রিয়া শুরু হলে তিনি শুধুমাত্র একটি শর্টস পরে সেখান থেকে বেরিয়ে যান। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে এক ডাব বিক্রেতার ভ্যানে রাখা দা নিয়ে তিনি নিজের গলায় আঘাত করেন। সুরতহাল প্রতিবেদন অনুযায়ী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় রাত ৯ টা ৪০ মিনিটে অজ্ঞাতনামা হিসেবে তাঁর মৃত্যু হয়। এর আটদিন পর ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে হাফিজুরের ভাই তাঁর লাশ শনাক্ত করেন।

হাফিজের মৃত্যু, তাঁর চিকিত্সা এবং অজ্ঞাতনামা হিসেবে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে তাঁর লাশ আট দিন পড়ে থাকার ঘটনার তদন্ত দাবি করে আসছেন তাঁর সহপাঠীরা।

ডিবি পুলিশের দাবি, যে তিন বন্ধু হাফিজুর রহমানকে এলএসডি সেবন করিয়েছেন তাঁরা পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তিনজনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।

যুক্তরাষ্ট্রের অনলাইন ফার্মাসিউটিক্যাল এনসাইক্লোপিডিয়া ড্রাগস ডটকমের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, লাইসারজিক অ্যাসিড থেকে তৈরি করা হয় এলএসডি। এই অ্যাসিড বিভিন্ন দানাদার শস্যে থাকা এরগোট ছত্রাকে পাওয়া যায়। ১৯৩৮ সালে বিভিন্ন উপাদানের মিশ্রণে প্রথম এলএসডি তৈরি হয়। এটি এতই শক্তিশালী যে এর ডোজগুলো সাধারণত মাইক্রোগ্রাম হিসেবে নেওয়া হয়। এটি উত্তেজক, আনন্দদায়ক। মনের ওপরও এর প্রভাব রয়েছে। কখনো কখনো এর প্রভাবে ভীতিকর অনুভূতি তৈরি হয়। এমনটা ঘটলে একে ‘ব্যাড ট্রিপ’ বলা হয়।

নানাভাবে এলএসডি বাজারজাত করা হয়। যেমন: ব্লটার পেপার বা নকশা করা বিশেষ কাগজে এলএসডি মেশানো হয়। এভাবেই এলএসডি বেশি সহজলভ্য। এ ছাড়া ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল আকারে, তরল বা কিউব আকারে পাওয়া যায়।

সূত্রঃ প্রথম আলো

লেবার ছাড়াই কাগজে কলমে হাজিরা দেখিয়ে চলছে জালালপুর ইউনিয়নের কর্মসৃজন প্রকল্প

প্রান্তিক শ্রমজীবি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কর্মসৃজন কর্মসূচী প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দকৃত লক্ষ লক্ষ টাকা হরিলুট হচ্ছে।

শাহজাদপুর উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নে। জালালপুর ইউনিয়নে ২৪৭ জন লেবার বরাদ্দ থাকলেও তা কেবল কাগজে কলমেই সীমাবদ্ধ। মাঠে নামে মাত্র কয়েকজন লেবার থাকলেও কাগজে কলমে দেখানো হচ্ছে শতভাগ হাজিরা। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এবং মেম্বারদের যোগসাজশেই দূর্ণীতির এমন মহোৎসব চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অপরদিকে প্রকল্প চলমান এলাকায় প্রকল্পের তথ্য সংবলিত সাইনবোর্ড থাকার কথা থাকলেও ইউনিয়নের কোথাও প্রকল্পের কোন সাইনবোর্ড লক্ষ্য করা যায়নি। ভূয়া নামের তালিকা করে প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করতেই সাইনবোর্ড সরবরাহ করা হয়নি বলে অভিযোগ অনেকের।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কর্মহীন শ্রমজীবিদের জন্য কাজের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে ৪০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচী প্রকল্প চালু করেছে সরকার। মাঠে কাজ না থাকায় কর্মহীন প্রান্তিক শ্রমজীবি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নের মত জালালপুর ইউনিয়নেও ৪০ দিনের জন্য কর্মসৃজন কর্মসূচি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। এতে সপ্তাহে পাঁচদিন সরকারী ভাবে গৃহীত বিভিন্ন প্রকল্পে মাটি কাটার কথা।

রবিবার (২৩মে) জালালপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইউনিয়নে ২৪৭ জন লেবারের বিপরীতে কাজ করছেন ১নং ওয়ার্ডে ২৬ জন, ৪নং ওয়ার্ডে মাত্র ১৫ জন শ্রমিক। অর্থাৎ ২৪৭ জন শ্রমিক কাজ করার থাকলেও সরজমিনে পাওয়া যায় মাত্র ৪১ জন শ্রমিক। বাকি ২০৬ জন শ্রমিক কোথায় কাজ করছে তার কোন খবর জানেন না ইউপি চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ ও প্রকল্পের পিআইসি।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন দফতর ম্যানেজ করে ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করতেই এভাবে খাতা কলমে শতভাগ শ্রমিক উপস্থিতি দেখিয়ে বাস্তবে নামমাত্র শ্রমিক দিয়ে কাজ করাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে জালালপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হাজী সুলতান মাহমুদকে মুঠোফোনে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, প্রকল্পের কোথায় কত লেবার বরাদ্দ তার কোন খবরই জানেন না তিনি।

অপরদিকে শাহজাদপুর প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আপনারা যা ইচ্ছা তাই লেখেন।

এ ব্যাপারে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মোঃ শামসুজ্জোহা বলেন, যেখানে যে কয়জন শ্রমিক কাজ করছেন সেই তালিকামতই বিল প্রদান করা হবে। সরকারি প্রকল্পে কোন অনিয়ম দূর্নীতি প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।

কর্মসৃজন কর্মসূচী প্রকল্পের ৩৭ দিনের মধ্যে ১০ দিন গায়েব


অনিয়মের মধ্য দিয়ে চলছে পোরজনা ইউনিয়নের কর্মসৃজন কর্মসূচী প্রকল্পের কাজ

শাহজাদপুর উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসৃজন কর্মসূচী প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের ৫৯৩ জন শ্রমিক কাজ করার কথা অথচ কাজ করছেন ৩২০ জন শ্রমিক এদিকে ইউপি চেয়ারম্যানের দাবী ৪৮০ জন শ্রমিকই কাজ করছেন। সরেজমিনে শ্রমিদের সাথে কথা বলে জানা যায় তারা এই ৪০ দিনের জন্য কর্মসৃজন কর্মসূচি প্রকল্পে কাজ করছে ২৭ দিন যাবৎ কিন্তু ইউপি সচিব মোঃ আব্দুল আলীম বলছে কাগজ কলমে কাজ হয়েছে ৩৭ দিন।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে এই অনিয়মের সঙ্গে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত দেখভাল কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতা রয়েছে বলে ।

প্রকল্প এলাকায় প্রকল্পের তথ্য সংশ্লিষ্ট সাইনবোর্ড থাকার কথা থাকলেও ইউনিয়নের কোথাও প্রকল্পের কোন সাইনবোর্ড লক্ষ্য করা যায়নি। প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করতেই সেই সাইনবোর্ড সরবরাহ করা হয়নি বলে অভিযোগ অনেকের।

রবিবার (২৩মে) পোরজনা ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জামিরতা গ্রামে শ্রমিক কাজ করছেন ৬৬ জন, বাচড়া গ্রামে শ্রমিক কাজ করছেন ৮৬ জন ও জিগারবাড়ীয়া গ্রামে শ্রমিক কাজ করছেন ৬০ জন, বড় মহারাজপুর গ্রামে শ্রমিক কাজ করছেন ৩৬ জন, ছোট মহারাজপুর গ্রামে শ্রমিক কাজ করছেন ৩৮ জন ও পোরজনা গ্রামে শ্রমিক কাজ করছে ৩৪ জন। ৫৯৩ জন শ্রমিক কাজ করার থাকলেও সরেজমিনে পাওয়া যায় ৩২০ জন শ্রমিক বাদবাকি ২৬৯ জন শ্রমিক কোথায় কাজ করছে তার কোন সদুত্তর ইউপি চেয়ারম্যান ও প্রকল্পের পিআইসি কেউ দিতে পারেনি।

বিভিন্ন বিশ্বস্ত সূত্রের ম্যাধমে জানা যায়, বিভিন্ন দপ্তর ম্যানেজ করে ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করতেই এভাবে খাতা কলমে শতভাগ শ্রমিক উপস্থিতি দেখিয়ে বাস্তবে কম শ্রমিক দিয়ে কাজ করাচ্ছেন।

প্রকল্পে অনিয়ম ও শ্রমিকের উপস্থিতি কমের কথা বললে ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আনোয়ার হোসেন (বাবু) বলেন, ৩২০ জন শ্রমিকের বেশি কাজ করার কথা। কতজন কাজ করার কথা এমন প্রশ্ন করলে ইউপি চেয়ারম্যান বলেন ৪৮০ জন। বাদবাকি ১১৩ জন শ্রমিক কোথায় কাজ করে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন শাহজাদপুর প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জানেন। ৩৭ দিন কর্মদিবস হলেও শ্রমিক বলছে ২৭ দিন ধরে কাজ করছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোন উত্তর না দিয়ে উঠে যান।

এ ব্যাপারে শাহজাদপুর প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি প্রশ্নের উত্তর দেননি।

এ ব্যাপারে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মোঃ শামসুজ্জোহা বলেন, যদি শ্রমিক কম থাকে তাহলে শ্রমিক হিসাব করে এবং যদি কোন ইউনিয়ন ১০ দিন কাজ না করাই তাহলে ১০ দিনের কম বিল দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, কোন রকম অনিয়ম দূর্নীতি প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। কোন অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সচেতন মহলের দাবি, সরকার যে উদ্দেশ্যে এই প্রকল্প হাতে নিয়েছে, সেটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না হলে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নসহ ছোটবড় দুর্নীতি দিনদিন বেড়েই চলেছে। এই কাজের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল।

হাবিবুল্লাহনগর ইউনিয়নে কর্মসৃজন কর্মসূচী প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

শাহজাদপুর উপজেলার হাবিবুল্লাহ নগর ইউনিয়নের কর্মসৃজন কর্মসূচী প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়নের ৩১১ জন শ্রমিক কাজ করার কথা অথচ কাজ করছেন ১৩২ জন শ্রমিক।

প্রকল্প এলাকায় প্রকল্পের তথ্য সংশ্লিষ্ট সাইনবোর্ড থাকার কথা থাকলেও ইউনিয়নের কোথাও প্রকল্পের কোন সাইনবোর্ড লক্ষ্য করা যায়নি। প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করতেই সেই সাইনবোর্ড সরবরাহ করা হয়নি বলে অভিযোগ অনেকের।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কর্মহীন শ্রমজীবিদের জন্য কাজের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে ৪০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচী প্রকল্প চালু করেছে সরকার। মাঠে কাজ না থাকায় কর্মহীন প্রান্তিক শ্রমজীবি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নের মত হাবিবুল্লাহনগর ইউনিয়নেও ৪০ দিনের জন্য কর্মসৃজন কর্মসূচি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। এতে সপ্তাহে পাঁচদিন সরকারী ভাবে গৃহীত বিভিন্ন প্রকল্পে মাটি কাটার কথা। প্রতিদিন কাজের বিনিময়ে প্রত্যেক শ্রমিক ২০০ টাকা করে পারিশ্রমিক পাবে।

শনিবার (২২মে) হাবিবুল্লাহনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রতনকান্দি দক্ষিনপাড়া ৩নং ওয়াডে শ্রমিক কাজ করছেন ২৮ জন, নারুয়া ৭নং ওয়ার্ডে শ্রমিক কাজ করছেন ৪৭ জন ও ডায়া ৫নং ওয়ার্ডে শ্রমিক কাজ করছেন ৫৭ জন। ৩১১ জন শ্রমিক কাজ করার থাকলেও সরজমিনে পাওয়া যায় ১৩২ জন শ্রমিক বাদবাকি ১৭৯ জন শ্রমিক কোথায় কাজ করছে তার কোন সদত্তর ইউপি চেয়ারম্যান ও প্রকল্পের পিআইসি কেউ দিতে পারে নি।

বিভিন্ন বিশ্বস্ত সূত্রের ম্যাধমে জানা যায়, বিভিন্ন দফতর ম্যানেজ করে ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করতেই এভাবে খাতা কলমে শতভাগ শ্রমিক উপস্থিতি দেখিয়ে বাস্তবে কম শ্রমিক দিয়ে কাজ করাচ্ছেন।

প্রকল্পে শ্রমিকের উপস্থিতি কমের কথা স্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মিজানুর রহমান (বাচ্চু) বলেন, এখন ধান কাটার সময় তাই শ্রমিক সংকট, আর এত কম টাকায় শ্রমিক পাওয়া যায় না।

এ ব্যাপারে শাহজাদপুর প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে এ বিষয়ে মোবাইলে বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান।

এ ব্যাপারে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মোঃ শামসুজ্জোহা বলেন, তদন্ত করে কোন অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সরকারি প্রকল্পে কোন অনিয়ম দূর্নীতি প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।

শাহজাদপুরে ফ্রী ফায়ার গেম খেলাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে শতাধিক আহত

শাহজাদপুরে ফ্রী ফায়ার গেম খেলাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে শতাধিক আহত

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে গতকাল মঙ্গলবার (১৮ মে) মোবাইলে ফ্রী ফায়ার গেম খেলাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। আহতরা উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

জানা যায়, উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের পূর্ব চর-কৈজুরী গ্রামের স্থানীয় লতিফ মোল্লার ছেলে সুজন ও আব্দুল কাদেরের ছেলে আসাদুল মোবাইলে ফ্রী ফায়ার গেম খেলার সময় ঝগড়ায় লিপ্ত হয়। এরই জের ধরে ইভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। মঙ্গলবার (১৮মে) আপোষ বৈঠকের সময় গোপালপুর গ্রামের বর্তমান ইউপি সদস্য চুন্ন্ ুমেম্বার ও প্রতিপক্ষ সাবেক ইউপি সদস্য গফুর শেখ এর সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। এসময় গোপালপুর, পূর্ব চর-কৈজুরী ও অজ্ঞাতা একটি জায়গায় দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের প্রায় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে।

সংবাদ পেয়ে শাহজাদপুর থানার বিপুল সংখ্যাক পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন, শাহজাদপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসিবুল হোসেন, থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিদ মাহমুদ খান, পরিদর্শক (তদন্ত) আনিছুর রহমান ও পরিদর্শক (অপারেশন এন্ড কমিউনিটি পুলিশিং) আব্দুল মজিদ।

এই বিষয়ে কৈজুরী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য চুন্নু  শাহজাদপুর সংবাদ ডটকমকে জানান, গত শনিবার প্রতিপক্ষ আব্দুল কাদের সঙ্গীয় বানিনী নিয়ে আমার ভাতিজা সুজনের উপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করে। হামলার ঘটনায় সুজনের পিতা লতিফ মোল্লা বাদী হয়ে শাহজাদপুর থানায় আব্দুল কাদের শেখ কে প্রধান আসামী করে কয়েকজনের নামে মামলা করে। এরই ফলে কাদের মোল্লার লোকজন আমাদের সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও ২০/৩০ জনকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে আমাদের লোকজন আত্মরক্ষার্থে প্রতিরোধ করে।

অত্র ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য গফুর শেখ জানান, চুন্নু মেম্বার একজন সন্ত্রাসী প্রকৃতির মানুষ। সে দীর্ঘদিন যাবৎ এই এলাকাটা সন্ত্রাসের জনপথ করে রেখেছে। দুইজন কিশোরের ঝগড়াকে কেন্দ্র করে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে চুন্নু ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী আমাদের সমর্থকদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় এবং বাড়িঘর ভাংচুর করে। তাদের হামলায় আমাদের প্রায় ৫০/৬০ আহত হয়েছে।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিদ মাহমুদ খান শাহজাদপুর সংবাদ ডটকম এর প্রতিবেদককে জানান, মোবাইল গেম খেলাকে কেন্দ্র করে ইতিপূর্বে উভয়পক্ষের মাঝে বিবাদের সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষই আপোষ মিমাংসার লক্ষ্যে বৈঠক করার সময় উভয় পক্ষই সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। খবর পেয়ে দ্রুত অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনা হয়।

শাহজাদপুরে নারীর সঙ্গে ‘আপত্তিকর’ অবস্থায় আটক, শালিসে জুতো পেটা

শাহজাদপুরে নারীর সঙ্গে ‘আপত্তিকর’ অবস্থায় আটক, শালিসে জুতো পেটা

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে বাচামারা গ্রামে মঙ্গলবার (১৮মে) রাতে আপত্তিকর অবস্থায় নারী ও পুরুষকে আটক করা হয়। পরে গ্রাম্য শালিসে আটককৃত পুরুষ আক্কেল আলী কে ২০ বার জুতো পেটা করে বিষয়টি মিমাংসা করা হয়।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৮মে) রাত আনুমানিক সারে আটটায় উপজেলার বাঁচামারা উত্তরপাড়া গ্রামে মৃত ভোলনের স্ত্রী চার সন্তানের জননী (৪৫) ও যুগ্নীদহ গ্রামের ৫ সন্তানের জনক আক্কেল আলী (৪৫) কে প্রতিবেশীরা আপত্তিকর অবস্থায় আটক করে। পরে স্থানীয় একটি চাউলের চাতালে রাত সারে ১০টায় শালিস বৈঠকের মাধ্যমে আটককৃত আক্কেল আলীকে ২০ বার জুতো পেটা করে বিষয়টি মিমাংসা করা হয়।

প্রতিবেশী জনৈক মফিজ নামের একজন শাহজাদপুর সংবাদ ডটকমকে জানান, আক্কেল আলী মাঝে মধ্যেই মৃত ভোলনের বাড়িতে তার স্ত্রীর কাছে যাতায়াত করতো। বিষটি আমাদের কাছে অস্বাভাবিক লাগতো, মঙ্গলবার আমি বাজার থেকে বাড়িতে আসার পর আমার স্ত্রী ও আরো কয়েকজন জানায় আক্কেল আলী এখন ঐ নারীর ঘরে অবস্থান করছে। আমি উকি দিলে তাদের আচরণ দেখে সন্দেজনক মনে হয়, পরে আক্কেল আলী নিজের পরনের জামাকাপড় খুলে ফেলে এবং ঘরের আলো নিভিয়ে দেয়। ঘটনার পরে ঘর থেকে বের হলে তাকে আটক করা হলে সে তার কৃত কর্মের জন্য ক্ষমা চায়।

আটককৃত আক্কেল আলী শাহজাদপুর সংবাদ ডটকমকে জানান, আমি ভোলনের স্ত্রীর কাছে তার মেয়ের বিয়ের কথা বলার জন্য এসেছিলাম। ফেরার পথে লোকজন আমাকে আটক করে। আরো জানা যায়, উক্ত শালিস বৈঠকে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কেউ উপস্থিত ছিলেন না।

স্থানীয় ইউপি সদস্য বাবলু শেখ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এই বিষয়টি আমি জানিনা এবং কেউ আমাকে জানায়নি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল হক মন্ত্রী জানান, এই বিষয়ে আমাকে কেউ জানায়নি। এই বিষয়ে এভাবে কেউ শালিস করতে পারেনা।

এই শালিসে উপস্থিত থেকে শালিস পরিচালনাকারী নরিনা ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান টেক্কা জানান, গ্রামের প্রধানদের সিদ্ধান্তেই এই ধরনের রায় এসেছে। এ ধরনের শালিস পরিচালনার আগে স্থানীয় ইউপি সদস্য, চেয়ারম্যান ও প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করেছেন কিনা এই প্রশ্ন করা হলে টেক্কা জানান, আপনাদের যা লেখা আপনারা লিখতে পারেন।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন এন্ড কমিউনিটি পুলিশিং) আব্দুল মজিদ জানান, এ ধরনের বিষয়ে শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিচার করার কোন সুযোগ নেই। এই বিষয়ে আমাদের কেউ জানায়নি, আটকৃতদের থানায় হস্তান্তর করা উচিত ছিল। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।

বেলকুচিতে প্রেমিকের ছুরিকাঘাতে কিশোরী নিহত

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে প্রেমিক সঞ্জয় সরকারের (১৮) ছুরিকাঘাতে পূজা সরকার (১৫) নামের এক কিশোরী নিহত হয়েছেন। ঘটনার পর থেকেই সঞ্জয় পলাতক রয়েছেন।

আজ সোমবার (৩ মে) সকাল সাড়ে ৯টায় উপজেলার শোলাকুড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত পূজা সরকার একই গ্রামের পবিত্র সরকারের মেয়ে। তিনি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন।

বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা বলেন, সঞ্জয় সরকারের সঙ্গে পূজার দীর্ঘদিন থেকে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কয়েকদিন ধরে তাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি চলছিল। এদিকে অন্যত্র বিয়ের ব্যাপারে পূজার বাবা সিদ্ধান্ত নেন। এতে সঞ্জয় ক্ষিপ্ত হন।

সোমবার সকালে পূজা বাড়ির উঠানে কাজ করছিল, এমন সময় পেছন থেকে ধারালো ছুরি দিয়ে তাকে আঘাত করেন সঞ্জয়। এসময় তার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে আসেন। তবে হাসপাতালে নেয়ার আগেই পূজা মারা যান।

এসময় সঞ্জয়ও ওই ছুরি দিয়ে নিজেকে আঘাত করে আহত হন। লোকজন আসলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

ওসি আরও বলেন, সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নেয়া হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হবে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা পবিত্র সরকার বাদী হয়ে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

৭ দিনের রিমান্ডে মামুনুল হক

রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানা এলাকায় নাশকতার অভিযোগে করা মামলায় হেফাজত নেতা মামুনুল হকের সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার সকালে মামুনুলকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। এদিন ২০২০ সালের মোহাম্মদপুর থানার একটি নাশকতার মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

অপরদিকে মামুনুলের আইনজীবী তার রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেছেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম দেবদাস চন্দ্র অধিকারী তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে রোববার রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া মাদরাসা থেকে মামুনুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ডিসি তেজগাঁও জানান, মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলা রয়েছে।

এছাড়া সাম্প্রতিক মোদিবিরোধী আন্দোলনের সময়ও সহিংসতা করায় একাধিক মামলায় মামুনুল হকের নাম রয়েছে। প্রথমে তাকে পুরনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে। পরে একে একে সব মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

মন্দিরে তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টা, পুরোহিত গ্রেফতার

সিলেটের গোলাপগঞ্জের বাঘায় মন্দিরে তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে এক পুরোহিতকে গ্রেফতার করেছে গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ। বুধবার (১৪ এপ্রিল) রাতে উপজেেলার বাঘা কালাকোনা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৫এপ্রিল) বিকেলে এতথ্য জানান গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)।

অসহায় পরিবারের ওই তরুণী ধর্মীয় শিক্ষা লাভের জন্য পুরোহিতের কাছে গেলে তার ধর্ষণচেষ্টা করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাঘা ইউনিয়নের কালাকোনা গ্রামে শ্রী শ্রী গিরিধারী জিও মন্দিরের পুরোহিত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন টাঙ্গাইলের দেলদোহার থানার সিলিমপুর গ্রামের কালু চৌহানের ছেলে প্রাণ গবিন্দ দাস বাবাজি ওরফে ফরেস্ট চৌহান (৪৬)। ধর্মীয় শিক্ষা লাভের জন্য ওই পুরোহিতের কাছে প্রায়ই যাওয়া আসা করতেন এলাকার তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন বয়সী হিন্দু ধর্মের অনুসারীরা। মন্দিরের পার্শ্ববর্তী বাড়ির ওই তরুণী অন্যান্য সময়ের মতো গত ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টায় ধর্মীয় শিক্ষা লাভের জন্য গেলে মন্দিরের পুরোহিত গবিন্দ দাস তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। পরে তরুণীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন।

পরে পুরোহিত গবিন্দ দাস বাবাজি ওরফে ফরেস্ট চৌহানকে এলাকাবাসী ধরে গণধোলাই দিলে তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন। এসময় পুরোহিতের সহযোগী দিপংকর দেব তপন পালিয়ে যান। বিষয়টি গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাঘা ইউনিয়ন তথা বিভিন্ন এলাকায় তোলপাড় হচ্ছে।

এ ঘটনায় গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হারুনূর রশীদ চৌধুরী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গোবিন্দ নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অপরজনকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

Source: jagonews24.com

শাহজাদপুরে গলায় ফাঁস নিয়ে নববধুর আত্মহত্যা

ছবিঃ প্রতীকী

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে গলায় ওড়না পেচিয়ে ফাঁস নিয়ে সারমিন খাতুন (১৪) নামের বাল্যবিয়ের শিকার এক নববধুর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। শারমিন খাতুন রতনকান্দি উত্তরপাড়া গ্রামের ভ্যান চালক সানোয়ার ফকিরের মেয়ে।

জানা যায়, শাহজাদপুর উপজেলার রতনকান্দি উত্তর পাড়ার ভ্যান চালক সানোয়ার ফকিরের মেয়ে ও একই গ্রামের মো: রাকিবুল ইসলামের স্ত্রী শারমিন খাতুন বুধবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে বাবার বাড়ির শয়ন কক্ষের তীরের সাথে গলায় ওড়না পেছিয়ে আত্মহত্যা করে।

পরিবারের সদস্যরা ঘরের দরজা খুলে শারমিন খাতুনের দেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়, তাদের আর্তচিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তার নিথর দেহ নামায়। পরে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা নিরিক্ষা শেষে শারমিনকে মৃত ঘোষনা করেন।

প্রতিবেশীরা জানায়, ৮ম শ্রেণীর নিয়মিত ছাত্রী মোছা: সারমিন খাতুনের তারই চাচাতো ভাই প্রাইভেটকার চালক মো: রাকিবুল ইসলামের সাথে দুই মাস পূর্বে বিয়ে হয়। নাবালিকা মেয়ের বিয়ে হওয়ার ফলে মেয়েটি বেশী আবেগ প্রবন ছিল।

নিহত শারমিন খাতুনের পিতা সানোয়ার ফকির জানান, মেয়ে ও জামাই আমাদের বাড়িতেই ছিল। মেয়েকে শশুরবাড়ি পাঠানোর বিষয়ে আমাদের গ্রামে কিছু উপঢৌকন দেওয়ার রীতি রয়েছে। আমি সামান্য ভ্যানচালক তাই উপঢৌকন দিতে ব্যার্থ হই। এজন্যই হয়তো আমার মেয়ে অভিমান করে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে।

পরে খবর পেয়ে বুধবার বিকেলে শাহজাদপুর থানার উপ-পরিদর্শক আসাদুজ্জামানের নেতৃ্ত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পরে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিদ মাহমুদ খান ও ওসি (অপারেশন এন্ড কমিউনিটি পুলিশিং) আব্দুল মজিদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিদ মাহমুদ খান জানান, আমরা খবর পেয়েই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। শাহজাদপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসিবুল হোসেনের নির্দেশে নিহত গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। বৃহস্পতিবার সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।