রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ’র সিনেট সদস্য মনোনীত হলেন ৫ শিক্ষক

সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুরে স্থাপিত রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ’র সিনেট সদস্য মনোনীত হলেন ৫ শিক্ষক। এরা হলেন, রবীন্দ্র অধ্যায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান লায়লা ফেরদৌস হিমেল, ম্যানেজমেন্ট অধ্যায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান শারমিন আক্তার, সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান মো. রওশন আলম, অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক মোঃ নজরুল ইসলাম এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যায়ন বিভাগের শিক্ষক জান্নাতুল মাওয়া মুন। মঙ্গলবার রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ এর রেজিস্টার মোঃ সোহরাব আলী স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত পত্র মনোনীত ওই ৫ শিক্ষক হাতে পেয়ে উপাচার্য ড. বিশ্বজিৎ ঘোষসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন মনোনীত শিক্ষকেরা। রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৮ (১) ঝ ধারা মোতাবেক এ ৫ শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী সিনেট সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে বলে জনসংযোগ কর্মকর্তা শাহ আলী জানিয়েছেন।

সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব, ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে প্রকৃত ব্যবসায়ী ও ভোক্তা সাধারণ


নকল গোলাপী জর্দ্দা উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ বন্ধে শাহজাদপুরে সংবাদ সম্মেলন

শামছুর রহমান শিশির ও মিঠুন বসাক : শাহজাদপুরের মেসার্স তৃপ্তি জর্দ্দা ব্র্যান্ডের গোলাপী জর্দ্দা নকল করে দেশের বিভিন্ন স্থানে অসাধু ব্যবসায়ী কর্তৃক বাজারজাতকরণের প্রতিবাদে শাহজাদপুরে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার দুপুরে উপজেলার গঙ্গাপ্রসাদ এলাকায় অবস্থিত মেসার্স তৃপ্তি জর্দ্দা ফ্যাক্টরি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তৃপ্তি জর্দ্দা ফ্যাক্টরির স্বত্ত্বাধিকারী জাহাঙ্গীর হোসেন শামীম। সংবাদ সম্মেলনে জাহাঙ্গীর হোসেন শামীম সাংবাদিকদের জানান, গত ৬ মাস ধরে ঢাকা ও চট্রগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন স্থানে কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী তৃপ্তি জর্দ্দা ফ্যাক্টরির নিজস্ব ব্র্যন্ডের গোলাপী জর্দ্দার ডিজাইন, ট্রেডমার্ক, নাম ঠিকানা হুবহু নকল করে বাজারজাত করে আসছে। এতে একদিকে যেমন তৃপ্তি জর্দ্দা ব্রান্ডের গোলাপী জর্দ্দার সুনাম বিনষ্ট হবার পাশাপাশি স্বত্তাধিকারী ব্যবসায়ীকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন, অন্যদিকে সরকারও বিপুল পরিমান অর্থ রাজস্ব প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সেইসাথে, আসল গোলাপী জর্দ্দার ভোক্তারাও প্রতারিত হচ্ছেন। তৃপ্তি জর্দ্দা ফ্যাক্টরির স্বত্তাধিকারী জাহাঙ্গীর হোসেন শামীম এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে গত ১৯ অক্টোবর ঢাকার যাত্রাবাড়ি থানায় একটি সাধারন ডায়রী করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে তৃপ্তি জর্দ্দা ব্যান্ডের নকল গোলাপী জর্দ্দা উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ বন্ধে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তৃপ্তি জর্দ্দা ফ্যাক্টরির স্বত্তাধিকারী জাহাঙ্গীর হোসেন শামীম। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে শাহজাদপুরে কর্মরত সকল প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

২টি পিস্তল একটি চাপাতি, বোমা তৈরীর সরঞ্জামাদী ও জিহাদী বই উদ্ধার


শাহজাদপুরে র‌্যাবের অভিযানে জেএমবি’র আঞ্চলিক প্রধান কিরণসহ ৪ জেএমবি সদস্য আটক

শামছুর রহমান শিশির ও মিঠুন বসাক : শুক্রবার সকালে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌরসভার শেরখালী উকিলপাড়া এলাকায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে উপ সহকারী প্রকৌশলী (ফ্যাসিলিটিজ) শামসুল হক রাজার বাড়ি থেকে সিরাজগঞ্জ র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১২) জেএমবির আঞ্চলিক প্রধান (পাবনা-সিরাজগঞ্জ) কিরণসহ জেএমবির চার সক্রিয় সদস্যকে আটক করেছেন। এরা হলেন পাবনা সাথিয়ার নাইমুল ইসলাম , দিনাজপুরের আতিয়ার রহমান, সাতক্ষিরার আমিনুল ইসলাম শান্ত। তাদের আস্তানা থেকে ২টি পিস্তল একটি চাপাতি, বোমা তৈরীর সরঞ্জামাদী ও জিহাদী বই উদ্ধার করা হয়েছে। কিরন একাধিক ছদ্ম নাম ব্যবহার করতেন বলে র‌্যাবের অতিরিক্তি মহা পরিচালক (অপারেশন) কর্ণেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার প্রেস ব্রিফিং এ এ কথা জানান। তিনি আরো জানান, মাদক সন্ত্রাস জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় রাজশাহীর শাহ মখদুম এলাকায় এক জঙ্গি বিরোধী অভিযানে মাহমুদ, জুয়েল ও আশরাফুলকে আটক করা হয়। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে এদিন রাত ২ টার দিকে র‌্যাবের একটি দল শাহজাদপুর উপজেলা সদরের উকিলপাড়া একটি বাড়ি ঘিরে রাখে। জঙ্গিরা র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে ভোরে পিস্তলের গুলি ছোঁড়ে। এ সময় এ অভিযানে শাহজহাদপুর থানা পুলিশ সহযোগিতা করেন।
বৃহস্পতিবার রাত ২টার পর থেকে এই বাড়িটিতে জঙ্গিদের আস্তানা রয়েছে এমন খবরে র‌্যাব-১২ ঘিরে রাখে। শুক্রবার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন র‌্যাব-১২’র কোম্পানি কমান্ডার মিরাজউদ্দিন। সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে র‌্যাবের বোমা ডিসপোজাল ইউনিট ওই আস্তনায় প্রবেশ করলে কিরণ, নাইমুল, আতিয়ার ও আমিনুল ইসলাম শান্ত সহ চারজন জঙ্গি বেড়িয়ে এসে র‌্যাবের হাতে ধরা দেন।
র‌্যাব-১২ এর কোম্পানি কমান্ডার মিরাজউদ্দিন জানান, চলতি মাসের ৫ তারিখে ছাত্র পরিচয়ে ওই বাড়িটি ভাড়া নিয়ে জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল এমন সংবাদের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টা থেকে বাড়িটি ঘিরে রাখা হয়। এরই মধ্যে র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই বাড়ির ভেতর থেকে গুলি ছোঁড়া হয়েছে। তবে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। হ্যান্ড মাইকে র‌্যাবের পক্ষ থেকে জঙ্গিদের আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়। বেলা ১০ টার মধ্যে আত্মসমর্পণের জন্য সময় বেধে দেয়া হয়। এর আগেই সকাল সাড়ে নয়টায় জঙ্গিরা আত্মসমর্পণ করে। এ খবরে সকাল নয়টার দিকে র‌্যাব সদরদপ্তর থেকে হেলিকপ্টারযোগে শাহজাদপুরে আসেন র‌্যাবের অতিরিক্ত মহা পরিচালক (অপারেশন) কর্ণেন তোফায়েল মোস্তফা সরোয়ার। আটককৃত জঙ্গিদের র‌্যাবের সদর দপ্তরে নেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এদেরকে শাহজাদপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই বাড়িটি এখনও ঘিরে রেখেছে র‌্যাব ও পুলিশ। তার আশেপাশে কাউকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে ওই এলাকায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ ছাড়া এলাকার আশপাশ দিয়ে স্থানীয়দের চলাচল করতে দেয়া হচ্ছে না। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বোমা ডিসপোজাল ইউনিট আস্তানাটি তল্লাসি চালাচ্ছেন।

শাহজাদপুরেই হবে ক্যান্সার রোগের চিকিৎসা মর্মে সংবাদ সম্মেলন

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি : শাহজাদপুরেই হবে ক্যান্সার রোগের চিকিৎসা এই মর্মে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে ও আন্তর্জাতিক ক্যান্সার গবেষণা কেন্দ্র (ইকরা) শাহজাদপুর সেন্টার তৈরিতে সবাইকে সার্বিকভাবে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন ডাঃ আমিনুল ইসলাম খান । জানা যায়, ইতিমধ্যেই দুইজন ক্যান্সার রোগীর চিকিৎসা করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আমিনুল ইসলাম খান ।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা হলরুমে এ সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আমিনুল ইসলাম খান বলেন, এখন থেকে শাহজাদপুরেই হবে ক্যান্সারের চিকিৎসা। তিনি বলেন, আমি ইতিমধ্যে শাহজাদপুরে দুইজন ক্যান্সার রোগীর চিকিৎসা করেছি। এখানে ক্যান্সারের চিকিৎসা কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে এবং এখানেই এ ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসা করা হবে। এ সময় তিনি দুইজন রোগীর সাথে পরিচয় করিয়ে দেন ,যাদের তিনি চিকিৎসা করে সুস্থ্য করেছেন। তিনি শাহজাদপুরে ক্যান্সার চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপনের ব্যাপারে সবার সহযোগীতা কামনা করেন। এসময় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রফেসর আজাদ রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মোঃ শামসুজ্জোহা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাঃ নাজনিন মমতাজ ও স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন ।

বিদ্যালয়ে অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে ফি না নেয়ার নির্দেশ

ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শিখনফল মূল্যায়নে অ্যাসাইনমেন্ট নিতে বলা হয়েছে। এ জন্য কোনো ফি আদায় করা যাবে না বলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি)।

রোববার (৮ নভেম্বর) এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে মাউশি।

করোনাভাইরাসের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে প্রায় ৭-৮ মাস। এ অবস্থায় শিক্ষা কার্যক্রমের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট করানোর নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতর।

সে অনুযায়ী, সপ্তাহে একদিন প্রতিষ্ঠান থেকে অ্যাসাইনমেন্টের কাজ সংগ্রহ ও জমা দেবে শিক্ষার্থীরা।

কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, এটিকেই সুযোগ হিসেবে নিয়ে বাড়তি অর্থ আয় করছেন কিছু শিক্ষক। আবার স্কুলে যেতেও বাধ্য করা হচ্ছে কোথাও কোথাও।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অ্যাসাইনমেন্ট চলাকালীন পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত কোনো অর্থ বা ফি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে না নেয়ার বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। প্রতি সপ্তাহে তিনটি বিষয়ের ওপর শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট দিতে হবে। সপ্তাহে একদিন তা গ্রহণ করতে হবে। এ জন্য কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন করা যাবে না।

করোনার কারণে এবার বার্ষিক পরীক্ষা না নিয়েই মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের উপরের শ্রেণিতে তোলা হবে। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ঘাটতি পূরণের জন্য ৩০ কর্মদিবসে শেষ করা যায় এমন একটি সিলেবাস প্রণয়ন করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্য পুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। সিলেবাসের আলোকে শিক্ষার্থীদের প্রতি সপ্তাহে তিনটি করে অ্যাসাইনমেন্ট দেয়া হচ্ছে, যার উত্তর শিক্ষার্থীদের পাঠ্যপুস্তক অনুসরণ করে লিখতে হবে।

মাউশির মহাপরিচালক সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক জানান, শিক্ষার্থীদের শিখনফল মূল্যায়ন করতে যে অ্যাসাইনমেন্ট নেয়া হচ্ছে সেজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি নেয়া যাবে না। আর টিউশন ফি আদায় করা নিয়ে শিগগিরই একটি নির্দেশনা দেয়া হবে বলে জানান মহাপরিচালক।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কীভাবে টিউশন ফি আদায় করবে, সে বিষয়ে শিগগিরই নির্দেশনা দেয়া হবে বলে জানান তিনি।

সূত্র – জাগো নিউজ

সালাম নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য


ঢাবির সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা

মুসলিমদের আসসালামু আলাইকুম এবং আল্লাহ হাফেজ বলার মাধ্যমে জঙ্গিবাদ বিস্তার ঘটাচ্ছে- এমন বক্তব্যের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। রোববার সকালে বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়েরের আবেদন করেন মাসিক আল বাইয়্যিনাত ও দৈনিক আল ইহসানের সম্পাদক মুহম্মদ মাহবুব আলম। বিচারক আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালতে এ মামলাটি দায়ের করা হয়।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ হুজ্জাতুল ইসলাম খান (আলফেসানী) এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মামলার আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলা ও ‘আল্লাহ হাফেজ’ বলাকে গর্হিত, নিন্দনীয়, জঘন্য ব্যাখ্যা করেন অধ্যাপক জিয়াউর রহমান। এসবকে জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত করেন তিনি।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ‘ডিবিসি নিউজ’ টেলিভিশন চ্যানেলের ‘উপসংহার’ নামক টক শো-তে ‘ধর্মের অপব্যাখ্যায় জঙ্গিবাদ’ বিষয়ক আলোচনায় মুসলিমদের শুদ্ধ উচ্চারণে ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলা ও ‘আল্লাহ হাফেজ’ বলাকে গর্হিত, নিন্দনীয়, জঘন্য ব্যাখ্যা করেন অধ্যাপক জিয়াউর রহমান। এসবকে জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত করেন তিনি।

বায়ান্নর ২১ ফেব্রুয়ারি স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে ১৪৪ ধারা ভঙ্গকারী প্রথম ১০ জনের একজন হলেন ডা. আলী


ভাষা সৈনিক ডা. আলী আজমলের ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শাহজাদপুর সংবাদ ডটকম পরিবারের পক্ষ থেকে বিনম্র শ্রদ্ধা

বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের এক লড়াকু সৈনিক ডা. আলী আজমল বুলবুল। মায়ের ভাষার মর্যাদা রক্ষার দাবীতে ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে যাঁরা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে উদ্দীপ্ত হয়ে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করেন, তাঁদের প্রথম দশজনের একজন ডা. আলী আজমল বুলবুল। ১৯২৮ সালের ২৮ শে সেপ্টেম্বর সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলাধীন পাড়কোলা গ্রামে এক সম্ভান্ত পরিবারে জন্মগ্রহন করেন আলী আজমল। তাঁর পিতা মুহম্মদ সোলায়মান এবং মাতা জোবেদা খাতুন। ২০০২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ দিন অচেতন থাকার পর ৩ অক্টোবর তিনি মারা যান। আজ শনিবার ছিল তাঁর ১৮ তম মৃত্যুবার্ষিকী। মহান এই ভাষা সৈনিকের মৃত্যুবার্ষিকীতে শাহজাদপুর সংবাদ ডটকমের প্রধান সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার, প্রকাশক ও ব্যবস্থাপনা সম্পাদক শরীফ সরকার এবং বার্তা সম্পাদক শামছুর রহমান শিশিরসহ শাহজাদপুর সংবাদ ডটকম পরিবারের পক্ষ থেকে বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।
জানা গেছে, পিতার চাকুরী সুত্রে আজমলের লেখাপড়া শুরু হয় রাজশাহীতেই। রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন এবং ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে তিনি ইন্টারমিডিয়েট পাশ করেন। এই উভয় পরীক্ষাতেই তিনি অভিভক্ত বাংলায় কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সম্মিলিত মেধা তালিকায় যথাক্রমে ১৩তম এবং ১১ তম স্থান লাভের অসাধারণ গৌরব অর্জন করেন। অতঃপর ভর্তি পরীক্ষায় মেধাতালিকায় স্থান লাভ করে কোলকাতা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর মাইগ্রেশন সার্টিফিকেট নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে চলে আসেন তিনি। তিনি যেমন ছিলেন মেধাবী, তেমনি নেতৃত্ব দানের ছিল অসাধারণ যোগ্যতা। ভাষা আন্দোলনের সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্র-সংসদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসাবে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদে তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন।
বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রশ্নে ১৯৪৮ সালে ছাত্র সমাজ ছিল বিক্ষুদ্ধ। সে বছর হরতাল চলাকালে ঢাকা সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিং এবং ২ নং গেটে পিকেটিং করার সময় প্রথম পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন আজমল। সেই থেকে ৫২ এর ২১ শে ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত মোট ১১ বার কারাবরণ করেন এবং ১৭ বার পুলিশের তালিকায় মোষ্ট ওয়ান্টেড তালিকায় আসামি হিসাবে নাম ওঠে তাঁর। এসব কারনে কর্তৃপক্ষ তাঁকে মেডিকেল কলেজ থেকে বহিস্কার করেন। ফলে তাঁর আর এম.বি.বি.এস পাশ করা হয়নি।
১৯৫৪ সালে আলী আজমল নিজ গ্রামে ফিরে আসেন। গ্রামে ফিরে এসে তিনি শাহজাদপুর উপজেলা সদরে মণিরামপুরে পিতার ক্রয়কৃত বাড়িতে সর্বসাধারনের চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত হন। আমৃত্যু পর্যন্ত তিনি এই অত্যন্ত সাধারণ একটি টিনের বাড়ীতে একভাবে নামমাত্র ফি গ্রহন করে চিকিৎসার মাধ্যমে হৎদরিদ্রদের চিকিৎসায় নিরত থাকেন। সর্বসাধারণের কাছে তিনি ‘বুলবুল ডাক্তার’ নামেই পরিচিত ছিলেন। চিকিৎসা ক্ষেত্রে তাঁর যে অসাধারণ সাফল্য এবং সুনাম-সুখ্যাতি ছিল তাতে তিনি রীতিমত অর্থ-বিত্তের মালিক হতে পারতেন। কিন্তু চিকিৎসাকে তিনি মানুষের সেবা হিসাবে গ্রহন করেছিলেন, অর্থ উপার্জনের পন্থা হিসাবে নয়। তিনি খুব সহজ সরল জীবন যাপন করতেন।
বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর ১৯৫২ সালে ক্ষতিগ্রস্থ অনেকেই এম.বি.বি.এস ডিগ্রি গ্রহন করেন। কিন্তু ডা. আজমল তাঁর চারপাশের মানুষ এবং রোগীদের ছেড়ে আর কখনোও ডিগ্রি লাভের পেছনে ছোটেন নি।
আজমল সব ধরনের বই এবং পত্রিকার নিষ্ঠাবান পাঠক ছিলেন। তিনি যা কিছু পড়তেন, তার মধ্যে নিমগ্ন হয়ে যেতেন। বাংলা, ইংরেজি, অংক, অর্থনীতি, রাজনীতি এবং সমকালীন বিশ্ব পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান ছিল বিষ্ময়কর। জনাব আজমলের কাছে দেশ ও দেশের মানুষ ছিল নিজের চেয়ে বড়। তাইতো ছাত্র জীবন থেকে শুরু করে আমৃত্যু তিনি দেশের মানুষের অধিকার ও দাবী আদায়ে ছিলেন সোচ্চার। নিজের আরাম-আয়েশ ও স্বার্থ ত্যাগ করে সমাজের মানুষের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করেছেন।
এভাবেই একদিন ডা. আজমল জীবন সায়াহ্নে চলে আসেন। তাঁর জীবনের সমস্ত কাজ কর্মের সাথে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে জড়িয়ে ছিলেন তাঁর স্ত্রী খুরশিদা আজমল পুতুল। সেই স্ত্রীর মৃত্যুতে তিনি অনেকটা চুপচাপ হয়ে যান। ক্রমশ বেশ অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। শ্বাস কষ্টের সাথে অন্যান্য উপসর্গ দেখা দেয়। ২০০২ সালে ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে একটানা ৫ দিন অচেতন থাকার পর ৩ অক্টোবর পরলোক গমন করেন। তাঁর মৃত্যুর পর শাহজাদপুরবাসীর দাবীর প্রেক্ষিতে হযরত মখদুম শাহদৌলা শহীদ ইয়ামেনী (রহ.)’র মসজিদ ও মাজার সংলগ্ন দক্ষিণ পাশের কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।প্রতি বছর ২১ শে ফেব্রুয়ারী যথাযোগ্য মর্যাদায় তাঁর কবরে পুষ্পার্পণসহ তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।
তিন ভাই ছয় বোনের মধ্যে ডা. আলী আজমল ছিলেন সবার বড়। মেঝ ভাই আহম্মদ আলী আজমল এম,কম বিসিআইসি’র অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। ছোট ভাই ব্যাবসায়ী আক্তার আলী আজমল বি,এ পৈত্রিক বাড়ীতেই আছেন। জীবিত তিন বোনের মধ্যে ছোট দুই বোন মাধ্যমিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষিকা। আজমলের একমাত্র ছেলে এডভোকেট কবির আজমল বিপুল বি.এ (অনার্স) এম.এ (ইংরেজি) এবং পুত্রবধূ নাছিমা জামান কলেজের অধ্যাপিকা। বড় মেয়ে ঢাকা শাহীন কলেজের শিক্ষক রওনক আজমল বন্যা বি.এ (অনার্স) এম.এ। তাঁর স্বামী জনাব আবু করিম সাবেক সচিব এবং দেশের একজন প্রতিষ্ঠিত কবি। মেঝ মেয়ে ডা. ফেরদৌসী আজমল মেঘনা এবং তাঁর স্বামী ডা. আব্দুর রহমান স্বাস্থ্য বিভাগের পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ৷

নির্জন কনডেম সেলের বাসিন্দা মিন্নি

বরগুনার আলোচিত শাহনেওয়াজ রিফাত (রিফাত শরীফ) হত্যা মামলায় মিন্নিসহ ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ছয় আসামিকে বরগুনা জেলা কারাগারের কনডেম সেলে রাখা হয়েছে। এই কনডেম সেলে রিফাত হত্যার ছয় আসামি ছাড়া অন্য কোনো বন্দিই নেই বলে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানিয়েছেন বরগুনা জেলা কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক (জেল সুপার) মো. আনোয়ার হোসেন।

তিনি বলেন, এই মুহূর্তে বরগুনার কারাগারে নারী বন্দীদের মধ্যে মিন্নিই নির্জন কনডেম সেলে আছেন। মিন্নি ব্যতীত বরগুনার কারাগারের কনডেম সেলে অন্য কোনো নারী বন্দী নেই। এছাড়া রিফাত হত্যা মামলার অপর পাঁচজন পুরুষ আসামিকেও কনডেম সেলে রাখা হয়েছে। এই পাঁচ পুরুষ বন্দী ব্যতীত বরগুনার কারাগারের কনডেম সেলে আর অন্য কোনো পুরুষ বন্দীও নেই বলে উল্লেখ করেন জেল সুপার।

মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘মিন্নিকে রাখা হয়েছে নারী ওয়ার্ডের কনডেম সেলে। আর পুরুষ বন্দীরা আছেন পুরুষ ওয়ার্ডের কনডেম সেলে।’ তারা কনডেম সেলে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন জানিয়ে এই জেল সুপার আরও বলেন, কারাবিধি অনুযায়ী ছয় বন্দীকেই কনডেম সেলে থালা, বাটি ও কম্বল দেয়া হয়েছে। এছাড়াও প্রতি আসামিকে কারাগারের পক্ষ থেকে দুই সেট পোশাক দেয়া হয়েছে। এ পোশাক তারা পরিধান করবেন।
উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন কারাগারে ৪৯ জন নারী ফাঁসির দণ্ড মাথায় নিয়ে কনডেম সেলের বাসিন্দা। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তদের থাকার এই সেলের সর্বশেষ বাসিন্দা হয়েছেন বরগুনার আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ছয় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। একই সঙ্গে পলাতক একজনসহ বাকি চার আসামি খালাস পেয়েছেন রায়ে।

গতকাল বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামান চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদন্ডের পাশাপাশি ছয় আসামির সবাইকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে আদালত। এ হত্যার ঘটনায় পুলিশ ২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিলেও তার মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিচার চলে এ আদালতে।

১৫ মাস আগে বরগুনা জেলা শহরের কলেজ রোডে প্রকাশ্যে রিফাত শরীফকে তিন যুবকের রামদা দিয়ে কোপানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্তম্ভিত হয়ে যায় গোটা দেশ। দাবি ওঠে আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত ছয় আসামি হলেন- রাকিবুল হাসান ওরফে রিফাত ফরাজী (২৩), আল কাইয়ুম ওরফে রাব্বি আকন (২১), মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত (১৯), রেজোয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয় (২২), মো. হাসান (১৯) এবং রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি (১৯)। এ ছাড়া হত্যাকান্ডে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস পাওয়া চার আসামি হচ্ছেন- মুসা (২২), রাফিউল ইসলাম রাব্বি (২০), সাগর (১৯) ও কামরুল হাসান সায়মুন (২১)।

এর মধ্যে মুসা এখনো পলাতক। গতকাল রাতে খালাস পাওয়া চার আসামির মধ্যে কারাগারে থাকা তিনজন মুক্তি পেয়েছেন। এ মামলার অন্যতম আসামি সাব্বির আহমেদ ওরফে নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় অভিযোগপত্র থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল তাকে। রিফাতের স্ত্রী বরগুনার সরকারি কলেজের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ছাত্রী মিন্নিকে হামলার মুখে স্বামীকে বাঁচানোর প্রাণপণ চেষ্টা করতে দেখা গিয়েছিল ভিডিওতে। তিনি ছিলেন মামলার এজাহারের এক নম্বর সাক্ষী। কিন্তু তদন্তের পর হঠাৎ পুলিশ মামলার অভিযোগপত্রে মিন্নির নাম যুক্ত করে আসামির তালিকায়।

রায়ে আদালত বলেছে, মিন্নিও যে তার স্বামীকে হত্যার ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন, প্রসিকিউশন তা প্রমাণ করতে পেরেছে। রায়ের পর্যবেক্ষণ আদালত বলেছে, ‘রিফাত হত্যা মামলার আসামিদের নির্মম বর্বরতা ও নির্মমতা মধ্যযুগীয় কায়দাকেও হার মানিয়েছে। এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে তাদের অনুসরণ করে অন্য যুবকরাও ধ্বংসের পথে যাবে। এসব আসামি সর্বোচ্চ শাস্তি পাওয়ার যোগ্য।’

রায় ঘোষণার সময় আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ভুবন চন্দ্র হাওলাদার এবং মিন্নির পক্ষে আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম। এছাড়া আসামিপক্ষের অন্য আইনজীবীরাও উপস্থিত ছিলেন। চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে গতকাল ভোর থেকেই বরগুনার আদালত এলাকায় নেওয়া হয় কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা। বাড়ানো হয় পুলিশি টহল। বসানো হয় নিরাপত্তা চৌকি।

সকাল ৮টা ৫২ মিনিটের দিকে বাবার সঙ্গে মোটরসাইকেলে বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আসেন মামলার সাক্ষী থেকে আসামি হওয়া আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। এরপর বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের সময় বরগুনা জেলা কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে মামলার আট আসামিকে বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে নিয়ে আসা হয়। রায় ঘোষণার পর মিন্নিকে কালো রঙের মাইক্রোবাসে করে আদালত থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। দন্ডিত বাকি আসামিদের কারাগারে নেওয়া হয় প্রিজন ভ্যানে।

গত বছর ২৬ জুন সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে কিশোর গ্যাং বন্ড বাহিনী কুপিয়ে গুরুতর জখম করে রিফাত শরীফকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন বিকালেই বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন রিফাত। পরদিন ২৭ জুন রিফাতের বাবা মো. আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও পাঁচ থেকে ছয়জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার ছয় দিন পর ২ জুলাই ভোররাতে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন এ মামলার আলোচিত প্রধান আসামি সাব্বির আহমেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড।

তদন্ত শেষে গত বছর ১ সেপ্টেম্বর বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে প্রাপ্তবয়স্ক এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই ভাগে বিভক্ত করে দুটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ। এর মধ্যে ১০ জন প্রাপ্তবয়স্ক আসামি এবং ১৪ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় অভিযোগপত্রে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় তাকে। পরে চলতি বছর ১ জানুয়ারি বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচার শুরু হয়। ৮ জানুয়ারি থেকে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। ২৫ ফেব্রুয়ারি এ মামলার ৭৬ জন সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের বিরুদ্ধের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন করে আদালত। ১৬ সেপ্টেম্বর উভয় পক্ষের যুক্তি-তর্ক শেষে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির রায় ঘোষণার জন্য ৩০ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়।

বিডি-প্রতিদিন

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ল ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত

দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি আগামী ০৩ অক্টোবর থেকে বাড়িয়ে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত করেছে সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার ছুটি বাড়ানোর এ সিদ্ধান্ত জানায়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়ের জানান, বিশ্বব্যাপী চলমান করোনা মহামারির কারণে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি রয়েছে। চলমান এ ছুটি আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

চলতি বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনারোগী শনাক্তের পর ২৬ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত ৬৬ দিনের সাধারণ ছুটি শেষে ৩১ মে সীমিত পরিসরে অফিস ও ১ জুন থেকে গণপরিবহন খুলে দেওয়া হয়। আর ১৭ মার্চ থেকে সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে সরকার।

মহামারির কারণে কয়েক দফা বাড়িয়ে গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে আগামী ০৩ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ানো হয়েছিল। আর গত ১ এপ্রিল থেকে এইচএসসি পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও করোনার কারণে স্থগিত করা হয়েছে।

বিডি-প্রতিদিন

হেফাজত আমির আল্লামা আহমদ শফী আর নেই

হেফাজত আমির আল্লামা আহমদ শফী আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি রাজধানীর আজগর আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন।

ইসলামী ঐক্যজোটের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আলতাফ হোসেন  এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এর আগে শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টায় হেফাজত ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর শারীরিক অবস্থা অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকায় আনা হয়েছিল। এরপরই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে থাকা আল্লামা শফীকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে শুক্রবার সন্ধ্যার আগে ঢাকায় এনে আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

উল্লেখ্য, প্রায় শতবর্ষী আল্লামা আহমদ শফী দীর্ঘদিন যাবৎ তিনি বার্ধক্যজনিত দুর্বলতার পাশাপাশি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন।