হেফাজত আমির আল্লামা আহমদ শফী আর নেই

হেফাজত আমির আল্লামা আহমদ শফী আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি রাজধানীর আজগর আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন।

ইসলামী ঐক্যজোটের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আলতাফ হোসেন  এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এর আগে শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টায় হেফাজত ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর শারীরিক অবস্থা অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকায় আনা হয়েছিল। এরপরই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে থাকা আল্লামা শফীকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে শুক্রবার সন্ধ্যার আগে ঢাকায় এনে আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

উল্লেখ্য, প্রায় শতবর্ষী আল্লামা আহমদ শফী দীর্ঘদিন যাবৎ তিনি বার্ধক্যজনিত দুর্বলতার পাশাপাশি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন।

”প্রত্যেক রোগীরই শ্বাসনালী পুড়ে যাওয়ায় বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়েছে”

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সমন্বয়কারী ডা. সামন্ত লাল সেন জানিয়েছেন, নারায়ণগঞ্জের মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় এখানে ৩৭ জন ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে ২৪ জন মারা গেছেন। আহত বাকি ১৩ জনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। প্রত্যেক রোগীরই শ্বাসনালী পুড়ে যাওয়ায় তাদেরকে বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা প্রত্যেকেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছেন।

রবিবার দুপুরে ডা. সামন্ত লাল সেন আরও বলেন, মসজিদে বিস্ফোরণের পর তারা দ্রুত বের হতে পারেননি। এর ফলে তাদের শ্বাসনালী পুড়ে গেছে। শ্বাসনালী পুড়ে যাওয়ার কারণে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। মারা যাওয়া ২৪ জনের প্রত্যেকের শরীরে ৮০ থেকে ৯৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল।

গত ৪ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম তল্লা এলাকার বায়তুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণে অগ্নিদগ্ধ হন ৩৭ জন মুসল্লি। তাদের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।

তথ্য সুত্রঃ বিডি প্রতিদিন

গ্যাস লাইনের উপর মসজিদ নির্মাণের অনুমতি ছিল কিনা তদন্ত করা হচ্ছে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, গ্যাস লাইনের উপর মসজিদ নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছিল কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এছাড়াও অন্য সব বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। অধিবেশনে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারায়ণগঞ্জের মসজিদে বিস্ফোরণের যে ঘটনা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। ইতোমধ্যে সেখানে বিস্ফোরক তদন্ত দল গেছে, তদন্ত হচ্ছে। কেন এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে তার তদন্ত হবে। মৃতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। যারা আহত হয়েছেন তাদের চিকিৎসার জন্য সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মসজিদটি না কি গ্যাসের লাইনের ওপরে নির্মাণ করা হয়েছে। সাধারণত গ্যাস লাইনের ওপরে কোনো স্থাপনা নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয় না। গ্যাস লাইনের ওপর মসজিদ নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়েছিলো কি না তা খতিয়ে দেখা হবে। সামর্থবানরা অনেক সময় মসজিদে এসি দান করে থাকেন। এই এসির ধারণ ক্যাপাসিটি ছিলো কি না তা দেখা হবে। এছাড়া মসজিদ নির্মাণে ভালোভাবে নকশা করা হয়েছিল কি না প্রত্যেক বিষয় খুঁজে বের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তথ্য সুত্রঃ বিডি প্রতিদিন

করোনায় আক্রান্ত অ্যাটর্নি জেনারেল, হাসপাতালে ভর্তি

বাংলাদেশের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

শুক্রবার তাকে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়েছে। তবে তার শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে। চিকিৎসকরা সার্বক্ষণিক তার খোঁজ রাখছেন বলে জানা গেছে।

বিডি প্রতিদিন

নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণ: মুয়াজ্জিনসহ ১১ জনের মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জে গ্যাসের লিকেজ থেকে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধদের মধ্যে মুয়াজ্জিনসহ ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার সকালে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিটিউটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন।

বর্তমানে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিটিউটে দগ্ধ ২৬ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন আবাসিক চিকিৎসক ডা. পার্থ শঙ্কর পাল।

বিডি প্রতিদিন

সুষ্ঠু হোক আসন্ন পাঁচ উপনির্বাচন

আগামী কয়েক মাসের মধ্যে দেশের জাতীয় সংসদের পাঁচটি শূন্য আসনে অনুষ্ঠিত হবে উপনির্বাচন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী এসব আসনের সংসদ সদস্যদের মৃত্যুতে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে পাঁচ শূন্য আসনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে উপনির্বাচন।

নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে তিনটি আসনে উপনির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে। বাকি দুটি আসনে উপনির্বাচনের তারিখ কিছুদিনের মধ্যে ঘোষণা করা হবে বলে আশা করা যায়। সরকারি দল আওয়ামী লীগ ছাড়াও সংসদে বিরোধী দল জাতীয় পার্টি এবং মাঠের বিরোধী দল বিএনপি ইতোমধ্যে এসব উপনির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে।

আশা করা যায়, নিবন্ধিত অন্য দলগুলোও এসব উপনির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিভিন্ন অনিয়মের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলেও আসন্ন পাঁচটি উপনির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে- এটাই জনগণের প্রত্যাশা।

যে পাঁচটি সংসদীয় আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, সেগুলো হল- পাবনা-৪, ঢাকা-৫, নওগাঁ-৬, সিরাজগঞ্জ-১ ও ঢাকা-১৮। নির্বাচন কমিশন আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর পাবনা-৪ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেছে।

আগামী ১৭ অক্টোবর ঢাকা-৫ ও নওগাঁ-৬ আসনে উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে বন্যার কারণে সিরাজগঞ্জ-১ এবং করোনা মহামারীর কারণে ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচন সংবিধানের সাধারণ নির্দেশনা অনুযায়ী অনুষ্ঠেয় সর্বশেষ তারিখের পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদের ৪ ধারায় বলা হয়েছে, সংসদ ভেঙে যাওয়া ব্যতীত অন্য কোনো কারণে সংসদের কোনো সদস্যপদ শূন্য হলে পদটি শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে ওই শূন্যপদ পূরণ করার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

তবে ওই ধারায় এও বলা হয়েছে- যদি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) মতে কোনো দৈবদুর্বিপাকের কারণে নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে ওই নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব না হয়, তাহলে মেয়াদের শেষ দিনের পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে ওই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাসিম মারা যান ১৩ জুন। নির্বাচন কমিশন মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুর দিন থেকে আসনটি শূন্য ঘোষণা করেছে। সাধারণ নিয়মে ওই আসনে উপনির্বাচন হওয়ার কথা ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে।

বন্যাকে ‘দৈবদুর্বিপাক’ হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচন কমিশন ওই আসনে ১০ সেপ্টেম্বর-পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে অর্থাৎ ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে উপনির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা নেবে। আর ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন মারা যান ৯ জুলাই।

অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের মৃত্যুর তারিখ থেকে নির্বাচন কমিশন ঢাকা-১৮ আসনটি শূন্য ঘোষণা করেছে। সাধারণ নিয়মে ওই আসনে উপনির্বাচন হওয়ার কথা আগামী ৬ অক্টোবরের মধ্যে। করোনা মহামারীকে ‘দৈবদুর্বিপাক’ হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচন কমিশন ওই আসনে ৬ অক্টোবর-পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে অর্থাৎ ২০২১ সালের ৪ জানুয়ারির মধ্যে উপনির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা নেবে।

প্রশ্ন উঠতে পারে, সংবিধানের সাধারণ নির্দেশনা অনুযায়ী বন্যাকবলিত পাবনা-৪ আসন এবং করোনা মহামারী আক্রান্ত ঢাকা-৫ আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হলে সংবিধানের একই নির্দেশনা মেনে সিরাজগঞ্জ-১ এবং ঢাকা-১৮ আসনে উপনির্বাচন হবে না কেন? অনেকে মনে করেন, দৈবদুর্বিপাকের অজুহাতে এ দুটি আসনে উপনির্বাচন পেছানোর অন্য কোনো কারণ আছে এবং তা হতে পারে ওই দুটি আসনে সরকারি দলের মনোনয়ন নিয়ে সমস্যা রয়েছে।

জাতীয় সংসদে বিরোধী দল জাতীয় পার্টি আসন্ন পাঁচ উপনির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। ২৭ আগস্ট দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর দলটির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

তিনি আরও বলেছেন, ‘সাধারণ ভোটাররা যেন নির্বাচনে উৎসাহবোধ করে এমন নির্বাচন চায় জাতীয় পার্টি’ (যুগান্তর, ২৮ আগস্ট)। সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাঠের বিরোধী দল বিএনপি। ২৯ আগস্ট বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এখন যেহেতু সবকিছু স্বাভাবিক করার চেষ্টা হচ্ছে; তাই বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, এর আগে বগুড়া-১ ও যশোর-৬ আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী দিয়েও করোনা মহামারীর কারণ দেখিয়ে নির্বাচন করেনি বিএনপি।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলেছেন, তার দল এমন নির্বাচন চায়- যে নির্বাচনে সাধারণ ভোটাররা উৎসাহবোধ করবেন। তার এ বক্তব্যে গণতন্ত্রে বিশ্বাসী মানুষের মনের কথার প্রতিধ্বনি হয়েছে।

কিন্তু অভিযোগ আছে, ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচন এবং ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচন- এ দুটি নির্বাচনের মধ্যবর্তী সময়ে এবং একাদশ সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে অনুষ্ঠিত সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক হয়নি। নবম সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভ করে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে বিএনপি সরকার প্রবর্তিত নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে।

মূলত তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগের দাবি মেটাতে বিএনপি সরকার নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি প্রবর্তন করে। নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবি আদায়ে ব্যর্থ হয়ে তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট এবং সমমনা ৮টি দল ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় নির্বাচন বর্জন করে।

অংশগ্রহণহীন এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতায় আসে। এতে দেশের গণতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় নির্বাচন বহুদলীয় অংশগ্রহণমূলক হলেও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এ নির্বাচনে অনিয়মের বিষয়টি খোদ সিইসির বক্তব্যেও প্রকাশ পায়।

একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দুই মাস পর ৮ মার্চ রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ (টিওটি) কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সিইসি কেএম নূরুল হুদা বলেন, নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালটে সিল মেরে বাক্সভর্তি বন্ধ করতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) ব্যবহার শুরু করা হবে।

তিনি আরও বলেন, রাতে ব্যালট বাক্স ভর্তির জন্য কারা দায়ী, কাদের কী করা প্রয়োজন, সেই শিক্ষা দেয়ার ক্ষমতা, যোগ্যতা কমিশনের নেই। কী কারণে, কাদের কারণে এগুলো হচ্ছে; কারা দায়ী, তা বলারও কোনো সুযোগ নেই। সিইসির এমন বক্তব্যের মধ্যে শুধু একাদশ সংসদ নির্বাচনে অনিয়মের সত্যতাই প্রকাশ পায়নি, এ অপরাধ দমনে নির্বাচন কমিশনের অসহায়ত্বও ফুটে উঠেছে।

২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ভোটকেন্দ্র দখল, বিএনপি ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সমর্থিত প্রার্থীর এজেন্টদের ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া ইত্যাদি অনিয়মের অভিযোগে বিএনপি ও তার শরিক দলগুলো নির্বাচন প্রত্যাখ্যান ও বর্জন করে।

তারা ছাড়াও নির্বাচন বর্জন করেন জাতীয় সংসদে বিরোধী দল জাতীয় পার্টি সমর্থিত ডিএসসিসির মেয়র পদপ্রার্থী সাইফুদ্দিন মিলনসহ কয়েকটি দলের মেয়র পদপ্রার্থীরা। ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকারব্যবস্থার সর্বনিম্ন স্তর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে শাসক দল আওয়ামী লীগ মনোনীত শতাধিক প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

বিরোধী দল মনোনীত এবং স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধা দেয়া এবং জমা দেয়ার পর তা প্রত্যাহারে বাধ্য করাকে শাসক দল মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাওয়ার জন্য মূলত দায়ী করা হয়।

২০১৬ সালের ডিসেম্বরে আইয়ুব খানের মৌলিক গণতন্ত্রের ধাঁচে অনুষ্ঠিত হয় জেলা পরিষদ নির্বাচন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট এ নির্বাচন বর্জন করে। জেলা পরিষদে আওয়ামী লীগের একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয় এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। এ রকম আরও উদাহরণ রয়েছে।

একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর যে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তা হল ডিএনসিসির মেয়রের শূন্য পদে এবং ডিএনসিসির ১৮টি ও ডিএসসিসির ১৮টি নবগঠিত ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর এবং ১২টি সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে নানাবিধ অনিয়মের প্রতিবাদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট এবং বিএনপির ছায়ায় গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ২০১৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এ নির্বাচন বর্জন করে। এ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হয়নি। ভোটার উপস্থিতির হার ছিল মাত্র ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট বর্জিত ২০১৯ সালের ১০ মার্চ থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত পাঁচ ধাপে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হয়নি। ভোটের হার ৪০ শতাংশের নিচে নেমে আসে। অথচ ২০০৯ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৬৮ দশমিক ৩২ এবং ২০১৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৬০ দশমিক ৯৫ শতাংশ ভোটার ভোট দেন।

চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে ভোট পড়ে ২৫-২৯ শতাংশ। মিডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, সরকারি দল মনোনীত ডিএনসিসির মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম মাত্র ১৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ এবং ডিএসসিসির সরকার দলীয় মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস মাত্র ১৭ দশমিক ৩০ শতাংশ ভোট পেয়ে মেয়র পদে নির্বাচিত হন।

২০২০ সালের ১৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের চট্টগ্রাম-৮ আসনের নির্বাচনে মাত্র ২২ দশমিক ৯৪ শতাংশ ভোট পড়ে। মার্চে অনুষ্ঠিত ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচনে ভোট পড়ে মাত্র ৫ দশমিক ২৮ শতাংশ। সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক না হওয়া এরকম অনেক নির্বাচনের উদাহরণ দেয়া যেতে পারে।

উপরের বর্ণনায় যা বলতে চাওয়া হয়েছে তা হল- নির্বাচনে মাঠের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও তার সহযোগী দলগুলোর নির্বাচন বর্জন, নির্বাচনে অনিয়ম, স্বাধীনভাবে ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে ভোটারদের অধিকার হরণ, সহিংসতা ইত্যাদি কারণে মানুষ নির্বাচনের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছে।

ভোট প্রদানে ভোটকেন্দ্রে আসার আগ্রহ তাদের নেই। আসন্ন পাঁচটি উপনির্বাচনে সাধারণ ভোটাররা যেন ভোটে অংশ নিতে উৎসাহবোধ করে- জাতীয় পার্টির মহাসচিবের এমন প্রত্যাশা কতটা পূরণ হবে, তা সময়ই বলে দেবে। একমাত্র সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সন্ত্রাসমুক্ত নির্বাচনই পারে ভোটারদের নির্বাচনমুখী করতে।

এরকম পরিবেশ সৃষ্টির জন্য দরকার সরকারের সদিচ্ছা এবং নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচন পরিচালনাকারী মাঠ প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষতা। অতীতের গ্লানি মুছে ফেলে আসন্ন পাঁচ উপনির্বাচন সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হবে, এটাই জনগণের প্রত্যাশা।

খালেদার মুক্তির মেয়াদ ৬ মাস বাড়ছে

বিরোধীদল বিএনপির চেয়ারপার্সন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানোর অভিমত দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়।আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশে বাসায় থেকে চিকিৎসা নেয়ার পুরোন শর্তে তার সাজা ছয় মাসের জন্য স্থগিত করার পক্ষে এই মত তারা দিয়েছেন।

খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে আবেদনে স্থায়ীভাবে তার মুক্তি চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু আইন মন্ত্রণালয় স্থায়ী মুক্তির আবেদন বিবেচনা করেনি। এছাড়া বিএনপি নেত্রীকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করানোর বিষয়ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল।

তবে আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার ব্যাপারে পরিষ্কারভাবে তারা এই আবেদনে চান নাই। এছাড়া তারা স্থায়ী মুক্তির আবেদন করেছিলেন। সেখানে আমরা আইনগত দিক থেকে সাজা ছয় মাস স্থগিত করে এই সময় পর্যন্ত তার মুক্ত থাকার মেয়াদ বাড়ানোর মতামত দিয়েছি।’
তিনি বলেছেন, আইন মন্ত্রণালয়ের এই মতামত তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন। এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি পাঠানো হবে। খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৪ শে মার্চ শর্ত সাপেক্ষে সরকারের নির্বাহী আদেশে সাজা স্থগিত করে ছয় মাসের জন্য সরকার খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়েছিল।

খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় দুই বছরের বেশি সময় জেল খাটার পর সেই দিনই মুক্তি পেয়েছিলেন। তিনি এখন যে মুক্ত আছেন সেই মুক্তির মেয়াদ আগামী ২৪শে সেপ্টেম্বর শেষ হতে যাচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে গত ২৫ শে অগাস্ট শামীম ইস্কান্দার পরিবারের পক্ষ থেকে স্থায়ী মুক্তি চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল।

এখন সেই আবেদনের ওপর আইন মন্ত্রণালয় তাদের মতামত পাঠালো। আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন, এটি প্যারোল বা জামিন মুক্তি নয়। ফৌজদারি কার্যবিধিতে সরকারের যে ক্ষমতা রয়েছে সেই ক্ষমতাবলে সাজা স্থগিত করে এই মুক্তির বিষয় এসেছে।

২০০৮ সালে বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়। দশ বছর পর ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে মামলার রায়ে তার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয়। তবে পরে হাইকোর্ট সেই সাজা বাড়িয়ে দশ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

বিডি-প্রতিদিন

আগস্টে ধর্ষণের শিকার ১০৪ জন নারী ও শিশু

করোনার মধ্যেও গত আগস্ট মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১০৪ জন নারী ও শিশু। আর গত এক মাসে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন মোট ২৪৯ জন নারী ও কন্যা শিশু। আজ বুধবার বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের পাঠানো এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

মহিলা পরিষদের লিগ্যাল এইড উপকমিটির কাছে সংরক্ষিত দেশের ১৩ জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ থেকে এই তথ্য সংগ্রহ করে জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

জরিপে দেখা যায়, গত মাসে ধর্ষণের শিকার ১০৪ জনের মধ্যে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৩২ জন যার মধ্যে শিশু রয়েছে ১৪ জন। ৭২ জনের মধ্যে ধর্ষণের শিকার হওয়াদের মধ্যে ৪৯ জন শিশুও রয়েছে। তিনজন শিশুসহ ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে ৫০ জনকে। শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন একজন। তিনজন শিশুসহ ছয়জন যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়।
জরিপে দেখা যায়, গত এক মাসে এসিডদগ্ধের শিকার হয়েছেন চারজন। অগ্নিদগ্ধের শিকার হয়েছেন একজন। অপহরণের শিকার হয়েছে মোট ছয়জন শিশু। পাচারের শিকার হয়েছেন একজন নারী। বিভিন্ন কারণে ৩১ জন নারীকে হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়াও একজন নারীকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।

এক মাসে যৌতুকের কারণে নির্যাতন করা হয়েছে ছয় জনকে যার মধ্যে হত্যা করা হয়েছে দুই জনকে। শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে তিনজন। বিভিন্ন নির্যাতনের কারণে আটজন শিশুসহ আত্মহত্যা করেছে ১৯ জন এবং রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের। বাল্যবিবাহ সংক্রান্ত ঘটনা ঘটেছে চারটি। এ ছাড়াও সাইবার ক্রাইম অপরাধের শিকার হয়েছে দুইজন শিশু।

বিডি-প্রতিদিন

অ্যাডমিরাল র‌্যাংক ব্যাজ পরানো হলো নৌবাহিনী প্রধানকে

ভাইস অ্যাডমিরাল থেকে পদোন্নতি পেয়ে অ্যাডমিরাল র‌্যাংক ব্যাজ পরানো হলো নৌবাহিনী প্রধান এম শাহীন ইকবালকে। বৃহস্পতিবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে নৌবাহিনী প্রধানকে র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত।

নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম শাহীন ইকবাল, এনবিপি, এনইউপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি গত ২৫ জুলাই বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। ১৯৮০ সালের ১ জুন বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগদান করেন এবং  ১৯৮২ সালের ১ ডিসেম্বর এক্সিকিউটিভ শাখায় কমিশন লাভ করেন।

এম শাহীন ইকবাল নৌবাহিনী ফ্রিগেটসহ সকল শ্রেণির জাহাজ ও গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি কমান্ড করেন এবং নৌবাহিনী সদর দপ্তর, আঞ্চলিক কমান্ডার ও বিভিন্ন বহিঃসংস্থার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতা ও সফলতার সাথে পালন করেন।

এছাড়া জাতীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে অ্যাডমিরাল এম শাহীন ইকবাল বিশেষ অবদান রাখেন ও আন্তর্জাতিক মেরিটাইম পরিমণ্ডলে একাধিকবার বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। অ্যাডমিরাল এম শাহীন ইকবাল তার অসামান্য একাডেমিক সাফল্য ও পেশাদারিত্বের জন্য নৌবাহিনীর সর্বোচ্চ পদক (এনবিপি) এবং নৌ উৎকর্ষ পদক (এনইউপি)-তে ভূষিত হন।

বিডি প্রতিদিন

খুব দ্রুত জানা যাবে ইউএনও’র ওপর হামলাকারীর পরিচয়: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। কারা হামলা করেছেন তা খুব দ্রুত জানা যাবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ওয়াহিদা খানমকে আরও ভালো চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টার যোগে আমরা ঢাকা নিয়ে এসেছি। ইতোমধ্যে তাকে ঢাকার নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সে বেশ সিরিয়াস পর্যায়ের রোগী।

উল্লেখ্য বুধবার দিবাগত গভীর রাতে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের সরকারি বাসভবনে সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুতর আহত হন ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলী। ওয়াহিদা খানমকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার (এসপি) মহোদয় এখনো ঘোড়াঘাটের ইউএনওর বাসায় অবস্থান করছেন। আমরা কিছুক্ষণ আগে তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। সেক্ষেত্রে বিষয়টি কী হয়েছে এবং এই দুর্বৃত্তরা কারা, সেই বিষয়ে এসপি সাহেব বললেন, আমরা একটু সময় পেলে খুব দ্রুত দৃর্বৃত্তদের নাম-ঠিকানা বের করতে পারব। আমাদের প্রচেষ্টা আছে, আমরা আশাবাদী খুব দ্রুত এটা করতে পারব।

ফরহাদ হোসেন বলেন, সেখানে (ইউএনওর বাসভবন) সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল। কিন্তু যে দুই দুর্বৃ্ত্তের মুখে মুখোশ ছিল, সেগুলো দেখে পর্যালোচনা চলছে। সেখানে পুলিশের চৌকস একটি টিম কাজ করছে। তারা আশাবাদী যে, খুব দ্রুত আমাদের জানাতে পারবেন-কারা এই ঘটনাটা ঘটিয়েছেন। আমরা অপেক্ষা করছি।

বিডি প্রতিদিন