শাহজাদপুর কোর্টে ম্যাজিস্ট্রেট না থাকায় তৈরি হচ্ছে মামলার জট

২০১৩ সালে সিরাজজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় শাহজাদপুর সিনিয়র সহকারি জজ আদালত ও সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত পুনঃস্থাপন করে সরকার। কার্যক্রম চালু করে সরকার।পরবর্তীতে ২০১৭ সালে এখানে যুগ্ন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের কার্যক্রম চালু হয়। শাহজাদপুরে যুগ্ন জেলা ও দায়রা জজ আদালত, সিনিয়র সহকারি জজ আদালত ও সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সমন্বয়ে শাহজাদপুর চৌকি আদালত পরিচালিত হয়ে আসছে। শাহজাদপুরে চৌকি আদালত চালু হওয়ায় উপকৃত হচ্ছে এ অঞ্চলের বিচার প্রার্থীরা বিশেষ করে শাহজাদপুরের চরাঞ্চলের জনগন।

কিন্তু শাহজাদপুর চৌকি আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দীর্ঘদিন না থাকায় তৈরি হচ্ছে ফৌজদারী মামলার জট।

শাহজাদপুর চৌকি আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জনাব আবু খান শাহিন কনক পদন্নোতি পেয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেন।শাহজাদপুরে তিনি সর্বশেষ গত বছরের ১৫ নভেম্বরে আদালতের এজলাসে বসেছিলেন। ১৫ নভেম্বরের পর থেকে দীর্ঘদিন যাবতঃ ওই আদালতে কোন বিচারক না থাকায় প্রতিদিন প্রায় ৬০/৭০ টি ফৌজদারী মামলার তারিখ থাকলেও সে অনুযায়ী শুনানী করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে তৈরি হচ্ছে মামলার জট। জানা গেছে, শাহজাদপুরে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে বিচারাধীন রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৭৩ টি মামলা। বর্তমানে সিরাজগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যানিস্ট্রেট মোঃ নজরুল ইসলামের অতিরিক্ত দায়িত্ব দিলেও তিনি তার আদালত ছেড়ে শাহজাদপুরে এসে মামলার শুনানি করা সম্ভব নয় বিধায় মামলার শুনানির জন্য সংশ্লিষ্ট নঠিপত্র বাদি-বিবাদি ও অফিসের কর্মীচারী-কর্মকর্তাদের যেতে হচ্ছে সিরাজগঞ্জের ওই আদালতে। এতে করে নানান বিলম্বনা সৃষ্টি হচ্ছে। নতুন করে মামলার দিনান্তর করা ছাড়া অন্যকোন অগ্রগতি হচ্ছে ফৌজদারী ওই মামলাগুলিতে। নতুন কোন মামলা করার প্রয়োজন হলে বাদী ও আইনজীবীদের যেতে হয় জেলা শহর সিরাজগঞ্জের কোর্টে। এ অবস্থায় স্থানীয় ওই আদালতে কর্মরত আইনজীবি, আইনজীবি সহকারি ও ভূক্তভোগী, বাদী-বিবাদী দ্রততম সময়ের মধ্যে শাহজাদপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারক চেয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সবিনয় অনুরোধ জানায়। এ বিষয়ে শাহজাদপুর আইনজীবি সমিতির সাবেক সভাপতি এ্যাড. আনোয়ার হোসেন ও এ্যাড. মতিয়ার রহমান এই প্রতিবেদককে জানান, সরকার বাহাদুর যেখানে মামলার জট ও ন্যায় বিচার পাওয়ার স্বার্থে দূঃস্থ বা অর্থহীন, অসহায় মানুষদের আর্থিক ও আইনী সুবিধা দিয়ে আসছে। সেখানে এই আদালতে বিচারক দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকলে সরকারের অনুরূপ উচ্চ আকাঙ্খা পূরণ হবে না। তাই আমরা চাই খুব দ্রততম সময়ের মধ্যে একজন নতুন বিচারক এই আদালতে নিয়োজিত হয়ে আবারও প্রাণ ফিরে আসুক শাহজাদপুর চৌকি আদালতে।

শিমুল হত্যার সুবিচার নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতিসহ সংশ্লিষ্টদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা


শাহজাদপুরে সাংবাদিক শিমুল হত্যার ৪র্থ বার্ষিকী উপলক্ষে শোক র‌্যালি ও পথসভা

শাহজাদপুরে সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুল হত্যার ৪র্থ বার্ষিকী উপলক্ষে শোক র‌্যালি ও শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘শিমুলের খুনিদের ফাঁসি চাই, দিতে হবে; শিমুল হত্যার বিচার দ্রæত সম্পন্ন করতে হবে’ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে সমকাল পত্রিকার শাহজাদপুর প্রতিনিধি আব্দুল হাকিম শিমুলের ৪র্থ হত্যা বার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার সকাল ১০ টায় শাহজাদপুর প্রেস ক্লাব চত্বর থেকে একটি শোক র‌্যালি বের করা হয়। শাহজাদপুরের কর্মরত সকল সাংবাদিকবৃন্দের অংশগ্রহণে বের হওয়া শোক র‌্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাহজাদপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত শোক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। শাহজাদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি বিমল কুমার কুন্ডুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শোক পথসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, শাহজাদপুর প্রেস ক্লাবের সাধারন সম্পাদক শফিকুজ্জামান শফি, সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল কাসেম, প্রেস ক্লাব,শাহজাদপুর’র সভাপতি আতাউর রহমান পিন্টু, সাধারন সম্পাদক ওমর ফারুক, সাংবাদিক হাসানুজ্জামান তুহিন, সাংবাদিক আল-আমিন প্রমূখ। বক্তব্যে বক্তারা প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতির কাছে শিমুল হত্যা মামলাটির বিচারকার্য দ্রæত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার জোর দাবী জানান। শোক পথসভা শেষে শোক র‌্যালিটি পুনরায় সেখান থেকে প্রেস ক্লাব চত্বরে এসে শেষ হয়।
এর আগে প্রয়াত সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুলের ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শাহজাদপুর প্রেস ক্লাব আয়োজিত দিনব্যাপী কর্মসূচীর মধ্যে সকালে জাতীয় ও কালো পতাকা উত্তোলন, কালো ব্যাচ ধারণ, সাংবাদিক শিমুলের প্রতিকৃতিতে পুস্পমাল্য অর্পন করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ২০১৭ সালের ২ ফেব্রæয়ারি বিকেলে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই গ্রæপের সংঘর্ষ চলাকালে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুল গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন ও পরদিন ঢাকায় নেয়ার পথে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় শিমুলের স্ত্রী শামছুন্নাহার বাদী হয়ে সাবেক পৌর মেয়র হালিমুল হক মিরুকে প্রধান আসামী করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশীট দাখিল করে। এরপর থেকে নানা আইনী জটিলতার বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে আজও সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুল হত্যার বিচারকার্য শুরু হয়নি।
অবিলম্বে সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুল হত্যার সুবিচার নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতিসহ সংশ্লিষ্টদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নিহতের আত্মীয় স্বজন, সহকর্মীসহ এলাকার সচেতন মহল।

 

রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারের দাবী


পাবনায় গ্রেফতারকৃত আ.লীগ নেতা নজরুল ইসলাম সোহেলের নিঃশর্ত মুক্তির দাবী

গতকাল রোববার সন্ধ্যায় পাবনার জিসিআই স্কুল মাঠ থেকে প্রতিপক্ষের দায়ের করা ষড়যন্ত্রমূলক রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা নজরুল ইসলাম সোহেলকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে আ.লীগ নেতা নজরুল ইসলাম সোহেলের নিঃশর্ত মুক্তির দাবী জানিয়েছে দলীয় নেতাকর্মীসহ এলাকাবাসী।

জানা গেছে, গত ২৮ জানুয়ারি সন্ধ্যায় পাবনার হাসপাতাল রোড শালগাড়ীয়া পিসিডি মোড়ে আওয়ামী লীগের নাজমুল, বকুল, ইছানূর ও লতিফের ওপর হামলা চালিয়ে আহত করার অভিযোগ এনে শালগাড়ীয়া মহল্লার শিবলী সাদিক বাদী হয়ে মোস্তাফিজুর রহমান সুইটকে প্রধান আসামি করে ৪৭ জন নামীয়সহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫/২০ জনের বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করে। উক্ত মামলায় পাবনা জেলা আওয়ামী লীগ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও জেলা ছাত্রলীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ বিএনপি-জামায়াত বিরোধী আন্দেলনের প্রতিবাদী ও বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা নজরুল ইসলাম সোহেলকে আসামী করা হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গতকাল (রোববার) সন্ধ্যায় নজরুল ইসলাম সোহেলকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করে।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে দলীয় নেতাকর্মীসহ জনমনে ক্ষোভের সঞ্চার হয় এবং তাদের পক্ষ থেকে অবিলম্বে গ্রেফতারকৃত আ.লীগ নেতা নজরুল ইসলাম সোহেলের নিঃশর্ত মুক্তির দাবী ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় দায়েরকৃত ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।

নবনির্বাচিত কাউন্সিলর হত্যা ঘটনায় গ্রেফতার ১

 

পৌরসভা নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ পৌরসভার  ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিজয়ী কাউন্সিলর তরিকুল ইসলাম (৪৫) হত্যার ঘটনায় স্বপন ব্যাপারী (৪৫) নামে এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার (১৭ জানুয়ারি) রাতে ব্যাপারীপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

এর আগে শনিবার নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরপরই প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হন তরিকুল ইসলাম। পরদিন রবিবার রাতে নিহতের ছেলে একরামুল হক হৃদয় বাদী হয়ে পরাজিত প্রার্থী ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদত হোসেন বুদ্দিনকে প্রধান আসামি করে ৩২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরো ৪০/৫০ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন। স্বপন ব্যাপারী এই মামলার এজাহারভুক্ত ২৭ নাম্বার আসামি।

নিহত তরিকুল ইসলাম শহরের নতুন ভাঙাবাড়ি মহল্লার আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে। তিনি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৮৫ ভোটে জয়লাভ করেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ভোট গণনায় ৮৫ ভোটে বিজয়ী হন তরিকুল ইসলাম। ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পরপরই পরাজিত প্রার্থী শাহাদত হোসেন বুদ্দিনের সমর্থকদের সঙ্গে বিজয়ী প্রার্থীদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে বিজয়ী কাউন্সিলর তরিকুল গুরুতর আহত হন। শনিবার রাত ৮টার দিকে শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ২ নম্বর পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ তরিকুল ইসলাম জানান, শাহাদত হোসেন বুদ্দিনকে প্রধান আসামি করে ৩২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৪০/৫০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের হয়েছে। এ মামলায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শাহজাদপুরে অবৈধ ইটভাটা গুড়িয়ে দিলো ভ্রাম্যমাণ আদালত

পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না নিয়ে এবং ইট প্রস্তুত ও ভাটা নিয়ন্ত্রণ আইন অমান্য করে ভাটা পরিচালনা করার দায়ে সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুর উপজেলায় দুইটি ইটভাটা গুঁড়িয়ে দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় আরও দুইটি ইটভাটার মালিককে আট লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না পাওয়া পর্যন্ত ভাটা গুলো বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে ওই আদালত।

সোমবার(১১জানুয়ারী) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোজিনা আক্তার ও সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ মঈন উদ্দিন ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযানের সময় উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের গাড়াদহের কথা ব্রিকস ও মকরকোলা এলাকার নাম ব্রিকস ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া এ সময় মাকড়কোলা এলাকার রবিউল ইসলাম পরিচালিত এমএনসি ইটভাটা ও সৈকত ব্রিকস লিমিটেড এর মালিককে পরিবেশ ছাড়পত্র, বসতবাড়ি ও স্কুলের ২০০ মিটারের মধ্যে ইট ভাটা নির্মাণ এর অপরাধে ৪ লক্ষ টাকা করে মোট ৮ লক্ষ জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোজিনা আক্তার বলেন, এসব ইট ভাটায় লাইসন্সে ও পরবিশে অধদিপ্তররে ছাড়পত্র নাই। ভাটাগুলোতে পরবিশেবান্ধব ঝকিঝাক চমিুনী নাই। এছাড়া জ্বালানী কাঠ দিয়ে ইট পুড়িয়ে এসব ইটভাটা পরিবেশের  ক্ষতি করছে।

তিনি আরো বলনে, বসতবাড়ি ও স্কুলের পাশে ভাটা পরিচালনা, ইট পোড়ানোর লাইসেন্স না থাকায় অবৈধ ইটভাটা ধ্বংসে দেশব্যাপী অভিযান চলছে।এর অংশ হিসেবে সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার আজ অভিযান শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে সব অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এসময় শাহজাদপুর ফয়ার সার্ভিসের টিম, র‌্যাব-১২ এবং জেলা পুলিশের ১ টি করে চৌকস দল উপস্থিত ছিলেন।

প্রতারক সিন্ডিকেটের মুল হোতা রহিম সিকদারকে গ্রেফতার কর’ল বগুড়া সিআইডি

সেনাবাহিনীর সৈনিক পদে চাকুরী দেওয়ার কথা বলে বগুড়া গাবতলী থানা এলাকার বাহাদুরপুর গ্রামের সোলায়মান আকন্দের ছেলে মো: রাসেল মিয়া’র কাছ থেকে ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসের বিভিন্ন সময় পর্যায়ক্রমে নগদ এবং বিকাশের মাধ্যমে মোট ৭লক্ষ ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে একটি পেশাদার প্রতারক সিন্ডিকেট ভূয়া নিয়োগপত্র প্রদান করে।

নিয়োগপত্র পেয়ে রাসেল মিয়া বুকভরা আশা নিয়ে ঢাকা সেনানিবাসে যোগদান করতে গিয়ে জানতে পারে তার নিয়োগপত্র সঠিক না। ইতিমধ্যে প্রতারক সিন্ডিকেটের প্রধান রহিম সিকদারসহ অন্যান্য সদস্যরা সকল যোগাযোগ মাধ্যম বিচ্ছিন্ন করে গা ঢাকা দেয়।কোন উপায়ান্তর না পেয়ে ভুক্তভুগি রাসেল মিয়া’র বড় ভাই মো: আমিরুল ইসলাম বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানার মামলা নম্বর ১৭ তারিখ: ৪/১১/২০১৯ খ্রি: ধারা: ৩৪/৩৮৬/৪০৬/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১ পেনাল কোড দায়ের করে। মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় মামলাটির তদন্তভার বগুড়া জেলা গোয়েন্দা শাখার উপর অর্পিত হয়।

বগুড়া জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই মো: ফজলে এলাহী এবং এসআই সাধক চন্দ্র রায় ২ জন আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হলেও প্রতারক চক্রের সিন্ডিকেট প্রধানকে গ্রেফতার বা সুস্পস্ঠ তথ্যাদি উদঘাটন করতে পারে না। এমতাবস্থায় গত ২২ নভেম্বর ২০১৯ খ্রি: বাংলাদেশ পুলিশ সিআইডি মামলাটির তদন্তভার গ্রহন করে তদন্তকারী অফিসার হিসাবে সিআইডি বগুড়া জেলার পুলিশ পরিদর্শক এটিএম শিফাতুল মাজদারকে তদন্তকারী অফিসার হিসাবে নিয়োগ করে। সিআইডি বগুড়া জেলার বিশেষ পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ কাউছার সিকদার এর প্রত্যক্ষ দিক নির্দেশনায় তথ্য প্রযুক্তি ব্যাবহারসহ বিজ্ঞান ভিত্তিক তদন্ত করে গত ২৭ ডিসেম্বর ভোররাত্রে মামলার প্রধান আসামী সিন্ডিকেট প্রধান গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী থানা এলাকার সিতারামপুর গ্রামের মৃত মন্টু সিকদারের ছেলে নাদিম ওরফে রহিম সিকদার (৩৭)-কে ডিএমপি’র হাজারীবাগ থানা এলাকা থেকে মামলার তদন্তকারী অফিসার সিআইডি বগুড়া জেলার পুলিশ পরিদর্শক এটিএম শিফাতুল মাজদার গ্রেফতার করে।

গতকাল ২৮ ডিসেম্বর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্টেট আদালতে গ্রেফতারকৃত নাদিম ওরফে রহিম সিকদার ফৌজদারী কার্যবিধি আইনের ১৬৪ ধারা মোতাবেক মামলার সকল তথ্য প্রকাশ করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। গ্রেফতারকৃত আসামীর হেফাজত থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা, দৈনিক অন্য দিগন্ত পত্রিকার নিজের পরিচয়পত্র, সিআইডি লেখাযুক্ত কালো মানিব্যাগসহ মাহফুজ নামের একজনের পাসপোর্টের ফটোকপি আলামত হিসাবে জব্দ করেছে তদন্তকারী অফিসার। মামলার তদন্তকারী অফিসার জানান প্রতারকচক্রের অন্যান্য সদস্য অচিরেই গ্রেফতার হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

আদালতে দুই শিশুর কান্না দেখে মা’কে জামিন দিলো হাই কোর্ট

দুই শিশুর মা ও বাবা জেলহাজতে আটক আছে আদালতের বারান্দায় কাদছে দুই শিশু এ দৃশ্য বরই বেদনাদায়ক।শিশুদুটিকে দেখাশোনার নিকট কোন আত্বীয় না থাকায় প্রতিবেশির কাছে ছিলো। শিশুদুটির কান্নায় মায়ের জামিন দুরের কথা উল্টো পুলিশ সদস্যকে শোকজ করেছিলেন বিচারক। নানির দায়ের করা মামলায় কারাগারে থাকা বাবা-মায়ের খোঁজে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বারান্দা ঘুরে ঘুরে কাঁদতে থাকা দুই শিশুর মাকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে শিশু দু’টির বাবাকে কেন জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।

বেশসরকারি টেলিভিশনে চ্যানেল২৪ এ প্রচারিত সংবাদ আমলে নিয়ে আজ বুধবার (২৩ ডিসেম্বর) বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
‘আদালতের বারান্দায় দুই শিশুর কান্না, বিচারের বাণী কাঁদল নিভৃতে’ শিরোনামে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত প্রতিবেদন হাইকোর্টের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনিরুজ্জামান আসাদ, শিশির মনির ও কুমার দেবুল দে।
পরে আদালত শুনানি নিয়ে শিশু দুটির মাকে দ্রুত মুক্তির নির্দেশ দেন এবং বাবার জামিনের বিষয়টি বিচারিক আদালতকে বিবেচনা করতে বলে। এছাড়াও জামিনের আদেশটি দ্রুত ই-মেইল ও ফ্যাক্সে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, শিশু দু’টির নানি মোমেনা বেগম পারিবারিক কলহের জেরে নিজের মেয়ে ওয়াসিমা বেগম ও জামাতা তোফায়েলের বিরুদ্ধে চুরি ও মারধরের অভিযোগে বংশাল থানায় মামলা করেন।

ভুয়া ডাক্তারের যাবজ্জীবন ও মৃত্যুদণ্ডের বিধান চেয়ে হাইকোর্টে রিট

ভুয়া ডাক্তারের সাজা যাবজ্জীবন ও মৃত্যুদণ্ডের বিধান চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী মো. জে আর খাঁন রবিন পিটিশনার হয়ে জনস্বার্থে আজ সোমবার এ রিট পিটিশনটি দায়ের করেন।

রিটকারী আইনজীবী রবিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, দেশের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপত্তার লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইন ২০১০ এর ধারা ২৮(৩) ও ২৯(২) সংশোধন করে ভূয়া ডাক্তারের সাজা ৩ বছর ও জরিমানা ১ লক্ষ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা মৃত্যুদণ্ডসহ জরিমানা বৃদ্ধিতে বিবাদীগণের ব্যর্থতাকে কেন বেআইনী ঘোষণা করা হবে না মর্মে রুল জারির আর্জি পেশ করা হয়। একই সাথে কেন দেশের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপত্তার লক্ষ্যে বিবাদীগণকে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইন ২০১০ এর ধারা ২৮(৩) ও ২৯(২) সংশোধন করে ভূয়া ডাক্তারের সাজা ৩ বছর ও জরিমানা ১ লক্ষ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা মৃত্যুদণ্ডসহ জরিমানা বৃদ্ধির জন্য সুপারিশ করা হবে না, সে মর্মেও নির্দেশনা চাওয়া হয়।

রিটে সচিব, আইন ও সংসদীয় বিভাগ, আইন, বিচার ও সংসদীয় মন্ত্রণালয়, সচিব, স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সভাপতি, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল, মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, রেজিষ্ট্রার, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলকে বিবাদী (রেসপনডেন্ট) করা হয়েছে।

এডভোকেট জে আর খাঁন রবিন বলেন, বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫(ক) ও ১৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্বাস্থ্য সেবা ও জনস্বাস্থ্যের কথা উল্লেখ থাকলেও অনুচ্ছেদ ৩১ ও ৩২ অনুযায়ী মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য সেবা একটি মৌলিক অধিকার। মানুষের এই স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ডাক্তারদের ভূমিকা অপরিসীম।

তিনি বলেন, বর্তমানে অনেক ভুয়া ডাক্তার নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে মানুষের সাথে প্রতিনিয়ত প্রতারণা করছে। শুধু তাই নয় দেশের সাধারণ মানুষ এই সকল ভূয়া ডাক্তারদের স্মরণাপন্ন হয়ে প্রতিনিয়ত নানারকম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। এমনকি শারীরিকভাবে স্থায়ী অক্ষমতাসহ অনেকেই মৃত্যুর মুখোমুখি হচ্ছে।

এই আইনজীবী আরও বলেন, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইনের ধারা ২৮(৩) অনুযায়ী যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেকে নিবন্ধনকৃত একজন মেডিক্যাল চিকিৎসক বা ডেন্টাল চিকিৎসক বলে প্রতারণা করেন অথবা প্রতারণামূলকভাবে তার নাম বা পদবীর সঙ্গে নিবন্ধনকৃত মর্মে কোনো শব্দ, বর্ণ বা অভিব্যক্তি ব্যবহার করেন তার মিথ্যা পরিচয় দ্বারা কোনো ব্যক্তি প্রতারিত না হলেও তার জন্য তিনি ৩ বছর কারাদণ্ড অথবা ১ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডের অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে। অন্যদিকে উক্ত আইনের ধারা ২৯ অনুযায়ী কেউ অনুমোদিত মেডিক্যাল কলেজ অথবা প্রতিষ্ঠান হতে এম.বি.বি.এস অথবা বি. ডি.এস ডিগ্রি অর্জন না করে তার নামের পূর্বে ডাক্তার উপাধি ব্যবহার করলেও অনুরূপ সাজার বিধান রয়েছে।

এডভোকেট রবিন আরও বলেন, ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫ (সি) ধারা অনুযায়ী খাদ্য ও ঔষধ তৈরি বা বিক্রির জন্য মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীন কারাদণ্ড অথবা ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডসহ জরিমানার বিধান রয়েছে।

রবিন বলেন, গত ২৯ অক্টোবর বিবাদিগণের বরাবরে একটি নোটিশ প্রেরণ করে উক্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু যথাযথ কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় রিটটি দায়ের করা হয়েছে।

সূত্র- একুশে টেলিভিশন

সিরাজগঞ্জে জজের সামনে আসামীর আত্নহত্যার চেষ্টা

সিরাজগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের এজলাসে আজ সোমবার আসামীর কাঠগড়ায় দাড়িয়ে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করে মোক্তার হোসেন নামের এক আসামী। পরে বিচারকের আদেশে তাকে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মোক্তার হোসেন রায়গঞ্জ উপজেলার মিত্রতেঘরি গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে।
জানা গেছে, স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হাজিরা দিতে এসেছিলেন মোক্তার। মামলার শুনানি চলাকালে এজলাসে দাঁড়িয়ে হঠাৎ করেই বিষপান করেন তিনি।

ওই আদালতের এপিপি অ্যাডভোকেট আনোয়ার পারভেজ লিমন বলেন, ‘আদালতে স্বেচ্ছায় হাজিরা দিতে এসেছিলেন মোক্তার। শুনানি চলাকালে হঠাৎ করে তার হাত থেকে একটি প্লাস্টিকের বোতল পড়ে যায়। বোতল থেকে পানির মতো কীটনাশক মেঝেতে গড়িয়ে পড়ে। আসামি মোক্তারও অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন বিচারক আব্দুল্লাহ আল-মামুন তাকে হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তিনি কীটনাশক পান করেছেন কিনা, সেটা আমাদের চোখে পড়েনি।

শেরখালীর উকিলপাড়া


শাহজাদপুরে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযান চলছে

ছবিঃ এম এ হান্নান শেখ

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার উকিলপাড়া এলাকায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে একটি বাড়ি ঘিরে রেখেছে র‍্যাব। বাড়িটি গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার পর থেকে ঘিরে রাখা হয়। র‍্যাব-১২-এর কোম্পানি কমান্ডার মহিউদ্দিন মিরাজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মহিউদ্দিন মিরাজ জানান, ওই বাড়িটি ভাড়া নিয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালানো হচ্ছে—এমন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল দিবাগত রাত থেকে বাড়িটি ঘিরে রেখেছে র‍্যাব। এরই মধ্যে ওই বাড়ির ভেতর থেকে র‍্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

র‍্যাব কর্মকর্তা দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই বাড়িটি ভাড়া নিয়ে ছিল জঙ্গিরা। র‍্যাবের পক্ষ থেকে জঙ্গিদের আত্মসমর্পণ করতে বলা হচ্ছে। তারা যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করে, তাহলে র‍্যাব অভিযান চালাবে।

এদিকে এমন পরিস্থিতিতে ওই এলাকায় জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া এলাকার আশপাশ দিয়ে স্থানীয়দের চলাচল করতে নিষেধ করা হচ্ছে।