অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আইসিউতে

হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলমকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) আইসিইউতে নেয়া হয়েছে।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, তার শারীরিক অবস্থা বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত ভালোই ছিল। কিন্তু শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে নেয়া হয়।

তিনি আরো জানান, শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে জ্বর শুরু হয়। এ সময় চিকিৎসকরা তাকে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। পরে ওই দিনই অ্যাটর্নি জেনারেল সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি হন। করোনা পজেটিভ ও বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছেন তিনি।

চেক লেনদেনের নতুন নিয়ম

চেকদাতা ও গ্রহীতার মধ্যে লেনদেন সম্পর্কিত কোনো বৈধ চুক্তি প্রমাণ করতে না পারলেও এখন থেকে চেক ডিজঅনার হলেই সাজা হবে না মর্মে রায় দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এ সংক্রান্ত একটি পূর্ণাঙ্গ রায় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ থেকে প্রকাশ হয়েছে।

এ রায়ের ফলে এখন থেকে বাদীকেই প্রমাণ করতে হবে কী চুক্তিমূলে বা বিবেচনায় চেকদাতা চেক ইস্যু করেছিলেন এবং সেই চুক্তিটি ব্যর্থ হয়নি, যার কারণেই বিবাদীর কাছে বাদীর পাওনা বলবৎ রয়েছে।

জানা গেছে, আগে চেক ডিজঅনার হলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চেকদাতার সাজা হতো। চেকমূলে চেকগ্রহীতার টাকা পাওয়ার কোনো কারণ আছে কি না, সেটি দেখার বাধ্যবাধকতা বা দিক নির্দেশনা ছিল না। এখন থেকে চেকগ্রহীতাকে প্রমাণ করতে হবে যে, চেকদাতা ও চেকগ্রহীতার মধ্যে লেনদেন সম্পর্কিত কোনো বৈধ চুক্তি ছিল কি না। সে চুক্তির শর্ত তিনি পূরণ করেছেন কিনা। তাহলেই কেবল চেক ডিজঅনার মামলায় সাজা হবে।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি এ সংক্রান্ত এক আপিল নিষ্পত্তি করে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ রায় দেন। যার পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়।

আপিল বিভাগের এ রায়ের ফলে চেকদাতারা তাদের নির্দোষ প্রমাণের একটা সুযোগ পেল। এছাড়া এ রায়ের ফলে চেক সংক্রান্ত মামলায় বিচার প্রার্থীদের ভোগান্তি ও হয়রানি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী


শাহজাদপুরে জেমির অত্যাচার-নির্যাতনে অতিষ্ঠ নিরীহ মানুষজন

শাহজাদপুর উপজেলার তালগাছী এলাকার মোকছেদ প্রামাণিকের মেয়ে নবীয়া ওরফে জেমি (৩৮)’র অত্যাচার-নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে এলাকার নিরীহ মানুষজন। কথায় কথায় গালিগালাজ, মারপিট, হুমকি, ধামকি, মিথ্যা মামলা দিয়ে পুলিশের ভয় দেখিয়ে এলাকার অনেকেরই কাছ থেকে মোটা টাকা আদায় করাই জেমির কাজ। এমপি, মন্ত্রীসহ উপরমহলের অনেকেরই নাম ভাঙ্গিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে দীর্ঘদিন ধরে নানা অপকর্ম করে আসছে এই জেমি। তার নির্যাতনের তালিকায় বাদ পড়েনি নিজের বোন, আত্মীয় স্বজন, মুক্তিযোদ্ধা, উকিল, জনপ্রতিনিধিসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও নিরীহ জনমানুষ। প্রাণভয়ে তার অত্যাচার নির্যাতনের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। কেউ প্রতিবাদের টু-শব্দ করলেই তার ওপর নেমে আসে জেমির অত্যাচারের খড়গ। সম্প্রতি সোস্যাল মিডিয়ায় একজন জাতীয় সংসদ সদস্যকে জড়িয়ে নানা কটুক্তি ও অশোভন মন্তব্য করায় তেজগাঁও থানায় দায়েরকৃত সাইবার ক্রাইম মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর এলাকার নির্যাতিত অনেকেই জেমির নানা নির্যাতন, কুকর্মের তথ্য ফাঁস করে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছে।
শনিবার সরেজমিন তথ্যানুসন্ধানকালে উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদ, ইউপি সদস্য দুলাল হোসেন, জেমির চাচা মণিরুজ্জামান, সেলিম, আমেনা, আব্দুল মতিন, আব্দুর রশিদ, আব্দুল মান্নান রতন সহ এলাকার নির্যাতিত অনেকেই অভিযোগে জানান, নানা এমপি মন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে নিরীহ মানুষকে ভয় দেখিয়ে বিপুল অর্থ আদায় করাই মূলত জেমির প্রধান কাজ। চাঁদাবাজীর এ কাজে জেমি কখনও নিজে বাদী হয়ে আবার কখনও তার কাজের মেয়েদের বাদী করে মামলা ও পুলিশের ভয় দেখিয়ে নিরীহ মানুষজনকে ফাঁসিয়ে মোটা টাকা আদায় করে হয়েছে বিপুল অর্থবিত্তের মালিক।
বছরের পর বছর এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে সাধারন মানুষদের ফাঁসিয়ে একের পর এক নানা অপরাধ চালিয়ে গেলেও বরাবরই জেমি প্রশাসনের ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকেছে। এতে জনমনে প্রশ্নও জেগেছে, জেমির খুঁটির জোর কোথায়? সেইসাথে নির্যাতিত এলাকাবাসী জেমির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরও দাবী জানিয়েছে।

শাহজাদপুরসহ সিরাজগঞ্জের ৩ থানার ওসিকে বদলি

সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর ও চৌহালী উপজেলা এবং এনায়েতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে (ওসি)’র বদলি করা হয়েছে।

বদলির আদেশ প্রাপ্ত কর্মকর্তারা হলেন, শাহজাদপুর ওসি মো. আতাউর রহমান, এনায়েতপুরের ওসি মোল্লাহ মাসুদ রানা এবং চৌহালী থানার ওসি রাশেদুল ইসলাম বিশ্বাস।

এরমধ্যে এনায়েতপুর ও শাহজাদপুর থানায় দায়িত্বরত দুই ওসিকে অদল-বদল করা হয়েছে। আর চৌহালীর রাশেদুল ইসলাম বিশ্বাসকে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার হাসিবুল আলম স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাদের ৩ জনকে জেলার ভেতরেই বদলি করা হয়। বুধবার বিকেলে এ আদেশ স্বাক্ষরিত হলেও বৃহস্পতিবার তাদের বদলির বিষয়টি কার্যকর হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করে বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ সুপার হাসিবুল আলম বলেন, ‘যেহেতু তিনজনই দায়িত্বপালন কালে নিজ নিজ কর্মস্থলে কিছুটা সমস্যা তৈরি করেছেন, তাই আপাতত তাদের জেলার মধ্যেই বদলি করা হলো। এ আদেশ পুলিশের প্রতি স্থানীয় জনসাধারণের অবিচল আস্থা তৈরিতে রুটিন বদলি।’

অভিযোগ আছে, সম্প্রতি বাঘাবাড়ি নৌবন্দরের ইজারাদার আব্দুস সালামের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে অনৈতিক প্রভাবে দুষ্ট হয়ে শ্রমিক সাদ্দাম হোসেনকে মারধর করে থানায় ধরে আনেন শাহজাদপুরে ওসি আতাউর রহমান। এর প্রতিবাদে ওসি আতাউর রহমানের অপসারণের দাবিতে উত্তরবঙ্গ ট্যাঙ্ক লরি শ্রমিক নেতারা বাঘাবাড়ি নৌবন্দর ও পাবনা-ঢাকা মহাসড়কে বিক্ষোভ করেন।

অন্যদিকে, গ্রামীণ সংঘাতের বিষয় নিয়ে শাহজাদপুরে গত ৪ মাসে বেশ কিছু সংঘর্ষের ঘটনায় ৫ নিরীহ গ্রামবাসী নিহত হন। ওইসব ঘটনায় একাধিক মামলা হলেও প্রকৃত আসামিরা এখনও অধরা। ওইসব ঘটনায় ওসি আতাউর রহমানের পুলিশিং দক্ষতা নিয়েও বিভিন্ন ফোরামে বার বার আলোচনা হয়।

অপরদিকে, এনায়েতপুর থানার ওসি মোল্লাহ মাসুদ রানার বিরুদ্ধে বিধিভঙ্গ করে করোনাকালীন সময়ে সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ উঠে। বিভাগীয় তদন্ত হলেও করোনা আক্রান্ত হওয়ায় তার শাস্তির বিষয়টি মানবিক ও শিথিল করে দেখা হয়।

এছাড়া, চৌহালীর চরাঞ্চলে অবাধে মাদক কেনাবেচার বিষয়ে সম্প্রতি স্থানীয় এমপির কাছে পুলিশের ঢিলেঢালা অভিযানের বিষয়ে আক্ষেপ করেন স্থানীয়রা। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান নিয়েও স্থানীয় এমপির বিরাগভাজন হন ওসি রাশেদুল ইসলাম বিশ্বাস।

এছাড়া, করোনাকালীন সময়ে নদী ভাঙনের অজুহাতে স্থানীয় দু’ইউপি চেয়ারম্যান সরকারি রাস্তায় সওজের শতাধিক গাছ কাটেন। গাছ চুরির ঘটনায় তদন্তের নামে গড়িমসি ও কালক্ষেপণ করেন ওসি। এসব একাধিক ঘটনায় রাশেদুল ইসলাম বিশ্বাসের দক্ষতা ও যোগ্যতা নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়।

তথ্যসুত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন

স্বামীর সব সম্পত্তিতে ভাগ পাবেন হিন্দু বিধবারা : হাইকোর্টের রায়

বাংলাদেশের হিন্দু বিধবারা স্বামীর সব সম্পত্তিতে (অকৃষি-কৃষি) ভাগ পাবেন বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ বুধবার এ সংক্রান্ত একটি মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষে এ রায় দেন হাইকোর্টের বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরীর একক বেঞ্চ।

বিধবারা স্বামীর সব সম্পত্তির ভাগ পাওয়ার অধিকার রাখে না দাবি করে ১৯৯৬ সালে খুলনা কোর্টে মামলা করেন এক নারীর দেবর জ্যোতিন্দ্রনাথ মন্ডল। বিচারিক আদালত ওই মামলার রায়ে বলেন, বিধবারা স্বামীর অ-কৃষি জমিতে অধিকার রাখলেও কৃষি জমির অধিকার রাখেন না।

এরপর সে রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করা হয়। পরে উভয়পক্ষের দীর্ঘ শুনানি এবং বিশেষজ্ঞ আইনজীবীদের মতামত নিয়ে হাইকোর্ট তার রায়ে বললেন, হিন্দু বিধবা নারীরা অ-কৃষি জমির মতো স্বামীর কৃষি জমির মালিক হবেন।
৮৩ বছর ধরে স্বামীর কৃষি জমিতে কোনো প্রাপ্য ছিল না হিন্দু বিধবাদের। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে এই অসঙ্গতি দূর করে রায় দিলেন হাইকোর্ট। বুধবারের এ রায়ের ফলে হিন্দু নারীরা সেই উত্তরাধিকারের স্বীকৃতি পেলেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিডি প্রতিদিন

 

 

মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনুমোদনবিহীন পন্য বিক্রির দায়ে


শাহজাদপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই ব্যবসায়ীর জরিমানা

শনিবার শাহজাদপুর উপজেলার তালগাছি বাজারে মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনুমোদনবিহীন পন্য বিক্রি করার দায়ে দুই ব্যবসায়ীকে ৪ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও সহকারী কশিশনার (ভুমি) মোঃ মাসুদ হোসেন জানান, শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশনায় থানা পুলিশের সহযোগিতায় উপজেলার তালগাছি বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে দুই দোকানে মেয়াদ উত্তীর্ণ বিস্কুট, আইসক্রিম ও অনুমোদনবিহীন যৌন উত্তেজক ড্রিংকস রাখায় দায়ে দুই ব্যবসায়ীকে ৪ হাজার টাকা জরিমানা করে আদায় করা হয়। এ সময় ব্যবসায়ীসহ সর্বসাধারণকে মাস্ক ব্যবহার করার জন্য সতর্ক করা হয়। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।

সাকিবকন্যাকে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য : ব্যবস্থা নেবে পুলিশ

বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের কন্যাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যকারীদের শনাক্তে কাজ করছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন।

সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন বলছে, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এমন মন্তব্যকারীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। ২১ আগস্ট কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সাইবার ক্রাইম এ সংক্রান্ত একটি ঘোষণা দিয়েছে।

সিটিটিসির সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের এডিসি মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের গর্ব সাকিব আল হাসানের পরিবারের শিশু সদস্যকে নিয়ে কিছু বিকৃত মানসিকতার মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্প্রতি কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করছেন, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে।

ইতোমধ্যে এমন মন্তব্যকারীদের আমরা শনাক্ত করেছি। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিষ্টাচার বজায় রাখার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, মিথ্যা তথ্য প্রচার, সম্মানহানির চেষ্টা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিষোদগার বা প্রোপাগান্ডা ছড়ানো অপরাধ। এ ব্যাপারে নজরদারি করছে সিটিটিসির সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের চৌকষ দল।

শান্তি শৃংখ্যলা বজায় ও নির্মাণ কাজ থেকে বিরত থাকতে দন্ডবিধি ১৫৪ ধারায় নোটিশ


শাহজাদপুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য জায়গা দখল করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ

আদালতে চলমান মামলায় নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও আইন, কানুনকে উপেক্ষা করে প্রতাপের সাথে বাদীপক্ষের সীমানা খুঁটি তুলে জায়গা দখল করে পাকা মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের পোতাজিয়া যুব সংঘের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন বাদী হাজী মোঃ সিরাজুল ইসলাম।
জানা গেছে, শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া মৌজার এসএ ১৭২৭ খতিয়ানের ৪৯৩৭ দাগ ও আরএস ২৪৪৩ খতিয়ানের ৫৮৫৩ দাগের ৩৯ শতক ভূমিসহ ২.৮৪ একর ভূমি শ্রীষ চন্দ্র রায় গংদের স্বত্ব দখলীয় সম্পত্তি হিসেবে এসএ রেকর্ডভুক্ত হয়ে পরে এসএ প্রজাদের মধ্যে আপোষ ছাহাম বন্টন হয়। গত ১৯৭২ সালের ২৬ জুন উক্ত সম্পত্তির মালিক শ্রী নিরেন্দ্র চন্দ্র রায় ৫০১২ নং দলিলমূলে মোজাম্মেল হক ও জুলমত শেখের কাছে বিক্রি করেন। গত ২০১৭ সালের ২০ অক্টোবরে মোজাম্মেল হক ও জেনাত আলীর কাছ থেকে ১০১২৭ নং রেজিষ্ট্রি দলিল মূলে উক্ত সম্পত্তির শোয়া ২৪ শতকসহ অন্যান্য দাগের ২.০৬ একর ও ২০১৯ সালের ২৬ আগষ্ট ৪২৪৮ নং দলিলমূলে আব্দুর রহমানের কাছ থেকে উক্ত সম্পত্তির ১০.৬২৫ শতকসহ ৭১.৩৭৫ শতক ভূমি বাদী মোঃ সিরাজুল ইসলাম ক্রয় করে ২৪৫৫/ওঢ-ও/১৭-১৮ নং নামজারি কেসের মাধ্যমে খাজনা পরিশোধ করে ভোগ দখল করে আসছেন। উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী, বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রবিন আকন্দসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে উক্ত সম্পত্তি মাপজরিপ করে সীমানা নির্ধারণ করে খুঁটি পোঁতা হয়। পোতাজিয়া যুব সংঘের মার্কেটের ভিত্তি স্থাপনের সময় বাদীর উক্ত সম্পত্তির সীমানা খুঁটি তুলে ফেলে ৩/৪ ফুট জায়গা দখলের চেষ্টা করা হলে শাহজাদপুর সিনিয়র সহকারী জজ আদালত, সিরাজগঞ্জ এ দখল ঠেকাতে নিষেধাজ্ঞার আবেদন চেয়ে পোতাজিয়া যুব সংঘের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদককে বিবাদী করে মামলা (অপর প্রকার মোকদ্দমা নং-৯৩/২০২০) করেন জমির মালিক হাজী মোঃ সিরাজুল ইসলাম।
এ বিষয়ে হাজী মোঃ সিরাজুল ইসলাম অভিযোগে বলেন,‘ বিবাদীগংয়ের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালত স্থিতাবস্থা জারি করলেও তা অমান্য করে আমার সম্পত্তির ৩/৪ ফুট পেচিয়ে পাকা মার্কেট নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।’
শাহজাদপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ লিয়াকত আলী বলেন, ‘মাপ জরিপ করে আমাদের উপস্থিতিতে উক্ত সম্পত্তির সীমানা খুঁটি পোঁতা হয়েছিলো। শুনেছি, বেইজ ঢালাইয়ের সময় উক্ত খুঁটি উঠে গেছে।’
শাহজাদপুর উপজেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও বাদীপক্ষের আইনজীবী এ্যাড. আনোয়ার হোসেন জানান,‘বিবাদী পোতাজিয়া যুব সংঘের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের বিরুদ্ধে স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাসকো) জারি করেছেন যা বলবৎ রয়েছে।’
এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আতাউর রহমান বলেন,‘এ সংক্রান্ত বিজ্ঞ আদালতের একটি নির্দেশনা পেয়ে দন্ডবিধি ১৫৪ ধারায় উভয় পক্ষকে নোটিশ প্রদানের মাধ্যমে শান্তি শৃংখ্যলা বজায় রাখতে ও এই মুহুর্তে সেখানে নির্মাণ কাজ বিরত রাখতে বলেছি।’
অপরদিকে, পোতাজিয়া যুব সংঘের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের পক্ষে জনৈক ওয়াজ সাংবাদিকদের জানান, ‘হাজী সিরাজুল ইসলাম ও পোতাজিয়া যুব সংঘের সম্পত্তির দাগই আলাদা। তাদের জায়গা আমরা দখল করিনি, বরং যুব সংঘের জায়গাই তাদের ভিতরে রয়েছে। বাদীর অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’

আগামীকাল শাহজাদপুর সরকারি কলেজ জামে মসজিদের মামলার রায়

শাহজাদপুর সরকারি কলেজ জামে মসজিদ

১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর সরকারি কলেজ। শাহজাদপুর সরকারি কলেজের পশ্চিম পাশে একটি মসজিদ আছে যা শাহজাদপুর সরকারি কলেজ মসজিদ নামেই চেনে। তৎকালীন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আঃ মান্নান শাহজাদপুর সরকারি কলেজ জামে মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে ৫০হাজার টাকা অনুদান দেন।

মসজিদের সামনের বড় করে লেখা আছে ‘শাহজাদপুর সরকারি কলেজ জামে মসজিদে’  উক্ত কলেজের ছাত্র শিক্ষক সহ শাহজাদপুরের দ্বারিয়াপুর, মনিরামপুর বাজারের ব্যাবসায়ীসহ আশপাশের মুসল্লিরা নামাজ আদায় করে আসছেন।

মসজিদটি যে জায়গায় নির্মিত হয়েছে পুর্বে তা সরকারি সম্পত্তি ছিলো। শাহজাদপুর সরকারি কলেজ জামে মসজিদ সম্পূর্ণরূপে দ্বারিয়াপুর মৌজার আর এস ১০৬২৮ ও ১০৬২৪ দাগের উপর অবস্থিত। দ্বারিয়াপুর মৌজার ১০৬২৮ দাগের মধ্য হইতে. ২৫ একর ভূমি শাহজাদপুর সরকারি কলেজকে দীর্ঘমেয়াদি লিজ দেয় সরকার।

অপরদিকে শাহজাদপুর মারকাজ মসজিদকে ১২/০৫/২০০৮ ইংতারিখে শাহজাদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রিযুক্ত ৩২৯১/২০০৮ লিজ চুক্তির মাধ্যমে. ৩৩ একর জমি দীর্ঘ মেয়াদী লিজ চুক্তিপত্রের মাধ্যমে জমির লিজ দেয় সরকার। ঐ লিজ চুক্তিপত্র সংশোধন করে ১০৬২৮ দাগে.১৬৫০ একর সহ মোট.০৩৩ একর জমি দাবী করে সিরাজগঞ্জের ২য় যুগ্ন জেলা জজ আদালতে অপর প্রকার ৩৫/২০১০ নং মামলা শাহজাদপুর মার্কাজ মসজিদ এর সভাপতি বাদি হয়ে আদালতে দায়ের করেছিলেন। আদালত শাহজাদপুরে স্থানান্তরের পর মামলার পুনঃনম্বর হয় অপর প্রকার ২২৯/২০১৭ ।

মামলার ১নম্বর বিবাদী করা হয়েছে জেলা প্রশাসক সিরাজগঞ্জকে ২নং বিবাদি করা হয়েছে শাহজাদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষকে।

মামলাটি প্রায় দশবছর চলার চলার পর বাদী-বিবাদীর উভয়পক্ষের সাক্ষী ও যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ায় শাহজাদপুর যুগ্ন দায়রা জজ আদালতের বিচারক ১৯ আগষ্ট বুধবার রায় প্রকাশের জন্য দিন ধার্য করেছে।

শাহজাদপুর কোর্টের এজিপি এ্যাডভোকেট মোঃ আব্দুল আজিজ (জেলহক) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নালিশী সম্পত্তির উপর শাহজাদপুর সরকারি কলেজ জামে মসজিদ থাকায় এটি একটি আলোচিত মামলা। রায় প্রকাশের মাধ্যমে অবসান হবে সকল আলোচনা সমালোচনা।

 

একনজর দেখতে উৎসুক জনতার ভীড়


শাহজাদপুরে ২২ বছর কারাভোগের পর সাবেক ছাত্রনেতা সবুজের মুক্তি

একটি মামলায় দীর্ঘ ২২ বছর কারাভোগের পর রোববার (১৬ আগষ্ট) সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন শাহজাদপুর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারস সম্পাদক, ৯০ এর স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের রাজপথের লড়াকু সৈনিক, শাহজাদপুর রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রিয় মুখ মোঃ আমির হোসেন সবুজ। সাবেক এই ছাত্রনেতা এদিন মুক্তি পেয়ে নিজ জন্মভূমি শাহজাদপুরে এসে পৌছলে তাকে এক নজর দেখার জন্য শতশত জনতা ভীড় জমায়। সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত সাবেক ছাত্রনেতা আমির হোসেন সবুজ বলেন, ‘ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে একটি মিথ্যা মামলায় ২২ বছর আমাকে কারাভোগ করতে হলো। তার পরেও আমার জন্মভূমি শাহজাদপুরের পবিত্র মাটিতে ফিরে আসতে পেরেছি, তাতেই আমার জীবন ধন্য।’ এসময় তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা মাদক হতে দুরে থাকুন, মাদককে পরিহার করুন, সুস্থ্য থাকুন, আপনার পরিবার পরিজনকে ভাল রাখুন, শাহজাদপুর বাসীকে ভাল রাখুন এ প্রত্যাশাই করি।