শেরখালীর উকিলপাড়া


শাহজাদপুরে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযান চলছে

ছবিঃ এম এ হান্নান শেখ

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার উকিলপাড়া এলাকায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে একটি বাড়ি ঘিরে রেখেছে র‍্যাব। বাড়িটি গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার পর থেকে ঘিরে রাখা হয়। র‍্যাব-১২-এর কোম্পানি কমান্ডার মহিউদ্দিন মিরাজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মহিউদ্দিন মিরাজ জানান, ওই বাড়িটি ভাড়া নিয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালানো হচ্ছে—এমন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল দিবাগত রাত থেকে বাড়িটি ঘিরে রেখেছে র‍্যাব। এরই মধ্যে ওই বাড়ির ভেতর থেকে র‍্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

র‍্যাব কর্মকর্তা দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই বাড়িটি ভাড়া নিয়ে ছিল জঙ্গিরা। র‍্যাবের পক্ষ থেকে জঙ্গিদের আত্মসমর্পণ করতে বলা হচ্ছে। তারা যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করে, তাহলে র‍্যাব অভিযান চালাবে।

এদিকে এমন পরিস্থিতিতে ওই এলাকায় জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া এলাকার আশপাশ দিয়ে স্থানীয়দের চলাচল করতে নিষেধ করা হচ্ছে।

শাহজাদপুর জুডিঃম্যাজিষ্ট্রেট আবু খান শাহিন কনকের বিদায় সংবর্ধনা

চলতি মাসের ৮ নভেম্বর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট থেকে যুগ্ন জজ হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আবু খান শাহীন কনক।

পদোন্নতি পাওয়ায় বর্তমান কর্মস্থল শাহজাদপুর চৌকি আদালতে আর থাকছেন না এই বিজ্ঞ ম্যাজিষ্ট্রেট। সবকিছু ঠিক থাকলে পদোন্নতি সুত্রে লালমনিরহাট ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইবুনালে যোগদান করবেন চলতি মাসে।

সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট হিসেবে শাহজাদপুর চৌকি আদালতে আজ রবিবার(১৫ নভেম্বর)শেষবারের মত এজলাস করেছেন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আবু খান শাহিন কনক।

বিদায় উপলক্ষে আজ রোববার দুপুরে স্থানীয় শাহজাদপুর আইনজীবী সমিতি ভবনে ম্যাজিষ্ট্রেট আবু খান শাহীন কনকের এক বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করেন।

এ্যাডঃ মতিয়ার রহমানের সঞ্চালনায় এ্যাডভোকেট মোঃ আব্দুস সাত্তার মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সহকারি জজ কিশোর দত্ত, এ্যাডঃ মোঃ আনোয়ার হোসেন,আঃ হাই, শাহ জালাল মিয়া,আঃ আজিজ জেলহক কেএম রায়হান উদ্দিন, আঃ মালেকসহ অনেকে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্যদানকালে আবু খান শাহিন কনক কর্মরত থাকাবস্থাকালের বিভিন্ন স্মৃতিচারণ ও সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী সমিতি ও আইনজীবী সমিতির সদস্যবৃন্দসহ আদালতের কর্মচারীবৃন্দ।

উল্লেখ্য আবু খান শাহীন কনক ২০১৮ সালের ১৪ অক্টোবর শাহজাদপুর চৌকি আদালতে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগদান করেছিলেন।

শাহজাদপুরে ০২ টি মামলার জব্দকৃত মাদকদ্রব্য ধ্বংস

শাহজাদপুরে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে আদালত। ২ টি মামলার উদ্ধার করা মাদকদ্রব্য আজ মঙ্গলবার(১০ নভেম্বর) সকালে শাহজাদপুর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে বিজ্ঞ সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু খান শাহিন কনক এর উপস্থিতিতে আদালত প্রাঙ্গনে আনুষ্ঠানিকভাবে মাদকদ্রব্যগুলো ধ্বংস করা হয়।

দুটি মামলার ধ্বংসকৃত মাদকদ্রব্যের আলামত ৪০ কেজি গাজা ও আটশত বাহাত্তর (৮৭২) পিচ ইয়াবা সিনিয়ার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

উক্ত মাদক দ্রব্য ধ্বংস কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক আসলাম হোসেন, জিআরও মোঃ রশিদুল ইসলাম, শাহজাদপুর থানার এসআই মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, আঃ মান্নান, মালখানার মুন্সী মোঃ শরিফুল ইসলাম প্রমুখ।####

আদালতের রায়ে খালাস পেলেন এমপি স্বপন

ছবিঃ বিমল কুন্ডু

অর্পিত সম্পত্তির মামলায় ভুয়া আম মোক্তার নামা দাখিলের অভিযোগের মামলায় খালাস পেয়েছেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর ০৬ আসনের সাংসদ আলহাজ্ব হাসিবুর রহমান স্বপন। এ মামলার অপর আসামি দলিল লেখক আঃরশিদকেও খালাস পেয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (০৩ নভেম্বর) মামলার রায় প্রকাশের জন্য দিন ধার্য ছিল এদিন দুপুর বারোটার দিকে শাহজাদপুর জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিচারক আবু খান শাহিন কনক প্রকাশ্যে এজলাসে রায় ঘোষণা করেন।

রায়ের বিষয় নিশ্চিত করে সাংসদ আলহাজ্ব হাসিবুর রহমান স্বপনের আইনজীবী এ্যাডভোকেট আঃ হাই বলেন সাংসদ হাসিবুর রহমান স্বপনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিলো। আদালতে আমরা প্রমান তা করতে সক্ষম হয়েছি। স্বাক্ষী প্রমান নিয়ে আদালত আজকের এ রায় দিয়েছেন। আদালতের রায়কে শ্রদ্ধা জানাই।

উল্লেখ্য ২০১৮ সালের ২৫ জুলাই সিরাজগঞ্জ অর্পিত সম্পত্তি ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক বাদী হয়ে , শাহজাদপুর সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের দলিল লেখক মোঃ আব্দুর রশিদ ও দ্বারিয়াপুর মহল্লার মৃত আতাউর রহমানের পুত্র মোঃ হাসিবুর রহমান স্বপন আসামী করে ভুয়া আম মোক্তারনামা আদালতে দাখিলের অভিযোগে শাহজাদপুর আমলী আদালতে এই মামলা দায়ের করেছিলো। রায়ে মাধ্যমে মামলাটি নিষ্পত্তি হলো।

স্ত্রীর সম্মতি ছাড়া যৌন সম্পর্ককে ‘ধর্ষণ’ গণ্য করতে লিগ্যাল নোটিশ

স্ত্রীর সম্মতি ছাড়া কোনো স্বামী যদি যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে তাহলে সেটাকে ‘বৈবাহিক ধর্ষণ, অর্থাৎ ‘ম্যারিটাল রেপ’ হিসেবে গণ্য করে আইন সংশোধনে সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি লিগ্যাল (আইনি) নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় প্রতিকার চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

রোববার (১ নভেম্বর) রেজিস্ট্রি ডাকযোগে ৭১ টিভির সিনিয়র নিউজরুম এডিটর ওয়াহিদা আফসানার পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. জাহিদ চৌধুরী জনি এই নোটিশ পাঠান।

নোটিশে বৈবাহিক ধর্ষণ, অর্থাৎ ম্যারিটাল রেপকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে আইনের সংশোধনী চাওয়া হয়েছে। আইনজীবী বলেন, স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে আইন সংশোধনের দাবি জানিয়েছি।

লিগ্যাল নোটিশে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ ল কমিশনের চেয়ারম্যান, ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস কমিশন অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান, মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদফতরের ডিজি এবং সমাজসেবা অধিদফতরের ডিজিকে বিবাদী করা হয়েছে।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রচলিত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধির কোথাও নারীর বৈবাহিক জীবনে তার স্বামী কর্তৃক যদি ধর্ষিত হয়, তাহলে ধর্ষণ সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো আইনি পদক্ষেপ ওই নারী নিতে পারেন না। এছাড়া সামাজিকতার প্রেক্ষাপটে কখনো এ বিষয়টা নিয়ে জনসম্মুখে আসতেও পারেন না তিনি।

গবেষণায় তথ্য উঠে এসেছে, এ বছর দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ২৭ জেলাতেই বৈবাহিক ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। জাতিসংঘ হিউম্যান রাইটস কমিশন ১৯৯৩ সালে বৈবাহিক ধর্ষণ, অর্থাৎ ম্যারিটাল রেপকে মানবাধিকার লংঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে। এ পর্যন্ত প্রায় ১৫০টি দেশের বৈবাহিক ধর্ষণকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করে আইন রয়েছে। কিন্তু এই একবিংশ শতাব্দীতে এসেও বাংলাদেশে বৈবাহিক ধর্ষণ সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো আইনি বা শাস্তির কথা উল্লেখ নেই।

দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বৈবাহিক সম্পর্ক নেই এমন কোনো ব্যক্তি ধর্ষণ করলে তার শাস্তির বিধান থাকলেও পারিবারিক নির্যাতনের মাধ্যমে যে নারীরা ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন, তাদের জন্য আইনের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আইন সংশোধন এখন সময়ের দাবি বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

বগুড়ায় সিআইডির হাতে দুলালী হত্যা মামলার পলাতক আসামী গ্রেফতার

সিআইডি বগুড়া জেলার বিশেষ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কাউছার সিকদারের দিক নির্দেশনায় সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ হাসান শামীম ইকবালের তত্বাবধানে সিআইডি’র একটি বিশেষ টিম দির্ঘদিন পলাতক থাকা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের এজাহারনামীয় আসামীকে বৃহস্পতিবার ভোররাতে শিবগঞ্জ থানা এলাকার তার নিজ বসত বাড়ী থেকে গ্রেফতার করেছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি’র পুলিশ পরিদর্শক মোঃ সাইদুল আলম সিআডি’র একটি বিশেষ টিম অভিযান চালিয়ে শিবগঞ্জ থানার মামলা নং ৫২ তারিখ ২৪/১০/২০১৯ খ্রিঃ ধারা ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১ক/৩০ এর প্রধান আসামী মোঃ আইয়ুব আলী ফকির (৩৪) পিতা মৃত জোব্বার ফকির গ্রাম রায়নগর থানা শিবগঞ্জ জেলা বগুড়া-কে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আসামী তার স্ত্রী দুলালী বেগম (২৪)-কে কৌশলে হত্যা করে দির্ঘদিন পলাতক ছিল।
এদিকে, দীর্ঘদিন পরে হলেও দুলালী হ্ত্যা মামলার প্রধান আসামী সিআইডির হাতে ধরা পড়ায় বাদীপক্ষ ও এলাকাবাসী সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

সালাম নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য


ঢাবির সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা

মুসলিমদের আসসালামু আলাইকুম এবং আল্লাহ হাফেজ বলার মাধ্যমে জঙ্গিবাদ বিস্তার ঘটাচ্ছে- এমন বক্তব্যের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। রোববার সকালে বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়েরের আবেদন করেন মাসিক আল বাইয়্যিনাত ও দৈনিক আল ইহসানের সম্পাদক মুহম্মদ মাহবুব আলম। বিচারক আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালতে এ মামলাটি দায়ের করা হয়।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ হুজ্জাতুল ইসলাম খান (আলফেসানী) এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মামলার আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলা ও ‘আল্লাহ হাফেজ’ বলাকে গর্হিত, নিন্দনীয়, জঘন্য ব্যাখ্যা করেন অধ্যাপক জিয়াউর রহমান। এসবকে জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত করেন তিনি।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ‘ডিবিসি নিউজ’ টেলিভিশন চ্যানেলের ‘উপসংহার’ নামক টক শো-তে ‘ধর্মের অপব্যাখ্যায় জঙ্গিবাদ’ বিষয়ক আলোচনায় মুসলিমদের শুদ্ধ উচ্চারণে ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলা ও ‘আল্লাহ হাফেজ’ বলাকে গর্হিত, নিন্দনীয়, জঘন্য ব্যাখ্যা করেন অধ্যাপক জিয়াউর রহমান। এসবকে জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত করেন তিনি।

ধর্ষণ মামলায় প্রথম মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়ে ইতিহাসে টাঙ্গাইল

টাঙ্গাইলে আট বছর আগে এক মাদরাসাছাত্রীকে (১৫) গণধর্ষণের দায়ে পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক খালেদা ইয়াসমিন এ রায় দেন।

রায় ঘোষণাকালে দুইজন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এরা হলেন- মধুপুর উপজেলার চারালজানী গ্রামের বদন চন্দ্র মণি ঋষির ছেলে সঞ্জিত (২৮), একই উপজেলার গোলাবাড়ি গ্রামের শ্রি দিগেন চন্দ্র শীলের ছেলে গোপি চন্দ্র শীল (৩০)। পলাতক আসামিরা হলেন একই এলাকার সুনীল চন্দ্র শীলের ছেলে সাগর চন্দ্র শীল (৩৩), সুনীল মণি ঋষির ছেলে সুজন মণি ঋষি (২৮) ও মণিন্দ্র চন্দ্রের ছেলে রাজন চন্দ্র (২৬)। রাষ্ট্রপক্ষে এই মামলা পরিচালনা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি নাছিমুল আকতার। আর মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান আজাদ মামলার শুরু করে শেষ পর্যন্ত ভিকটিমকে আইনি সহায়তা দেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি নাছিমুল আকতার জানান, ২০১২ সালে দণ্ডিত আসামিদের মধ্যে সাগর চন্দ্র শীলের সঙ্গে মোবাইলে পরিচয় হয় ভূঞাপুর উপজেলার ছাব্বিশা গ্রামের ওই মাদরাসাছাত্রীর। একই বছরের ১৫ জানুয়ারি ওই ছাত্রী সকালে বাড়ি থেকে মাদরাসায় যাওয়ার পথে শালদাইর ব্রিজের কাছে পৌঁছলে সাগর কৌশলে একটি সিএনজিতে তাকে এলেঙ্গা নিয়ে যায়।

সেখান থেকে মধুপুরে চারাল জানী গ্রামে তার বন্ধু রাজনের বাড়িতে উঠে। সেখানে তার চার বন্ধু ছাত্রীকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। সাগর হিন্দু বলে তার প্রস্তাব প্রত্যাখান করে মেয়েটি। এ কারণে ওই রাতে সাগর রাজনের বাড়িতে আটক রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে ১৭ জানুয়ারি রাতে তাকে বংশাই নদীর তীরে নিয়ে সেখানে তারা পাঁচজনে মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করে ফেলে যায়। পরদিন ভোরবেলা স্থানীয়দের সহায়তায় মেয়েটিকে স্বজনরা এসে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ওই ছাত্রী বাদী হয়ে ভুঞাপুর থানায় ১৮ জানুয়ারি দণ্ডিতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ সুজন মণি ঋষিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়।

১৯ জানুয়ারি আসামি সুজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সুজন তার জবানবন্দিতে সাগর, রাজন, সনজিত ও গবি চন্দ্র জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।

পুলিশ তদন্ত শেষে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০১৫ সালের ২৯ অক্টোবর আসামীদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। আজ এ মামলার রায়ে পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড দিলো আদালত।

শাহজাদপুরে ভ্রাম্যমান আদালতে অবৈধ বালু ব্যাবসায়ীদের জরিমানা : বালু ও ড্রেজার নিলামে বিক্রি

শাহজাদপুরে ভ্রাম্যমান আদালতে অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের জরিমানা করা হয়েছে। সেইসাথে অবৈধ ড্রেজার, পাইপ ও অবৈধ বালু নিলামে বিক্রি করা হয়েছে।

জানাগেছে, মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মোঃ শামসুজ্জোহার নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালত উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের চড়াচিথুলিয়া গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ বালু ব্যাবসায়ী সেলিম মন্ডলের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন । এসময় দুটি পাইপ নিলামে ৯ হাজার টাকা বিক্রী করে । এদিন বিকেলে হাবিবুল্লানগর ইউনিয়নের ডায়া গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে ১২৩ টি পাইপ ও একটি আনলোড মেশিন ৪ লক্ষ ২১ হাজার ৫শ টাকায় নিলামে সর্বোচ্চ দরে বিক্রী করেন। এছাড়াও শ্রীফলতলা গ্রামে অবৈধভাবে বালু স্তুপ করে বিক্রী করার দায়ে আঃ হালিম ও জুয়েল নামে দুই ব্যাবসায়ীর প্রত্যেককে ৫০ হাজার করে জরিমানা করেন। বিকেলে হাবিবুল্লাহনগর ইউনিয়নের শ্রীফলতলা গ্রামে অবৈধ বালু অবৈধভাবে স্তুপ করে বিক্রীর দায়ে হাসমত নামে ব্যাবসায়ীর ওই বালু নিলামে সাড়ে তিন লক্ষ টাকায় নিলামে বিক্রী করে ভ্রাম্যমান আদালত ।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আইসিউতে

হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলমকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) আইসিইউতে নেয়া হয়েছে।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, তার শারীরিক অবস্থা বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত ভালোই ছিল। কিন্তু শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে নেয়া হয়।

তিনি আরো জানান, শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে জ্বর শুরু হয়। এ সময় চিকিৎসকরা তাকে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। পরে ওই দিনই অ্যাটর্নি জেনারেল সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি হন। করোনা পজেটিভ ও বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছেন তিনি।