দেশ ও জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানের নামে সড়কের নামকরণের দাবী


‘৭১ এর রণাঙ্গনের বীর যোদ্ধা সূর্য্যকান্ত এফএফ-৫০৮৪; মোদের গোরব মোদের অহংকার!

শামছুর রহমান শিশির : ‘৭১ এ মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকহানাদার বাহিনীকে পরাস্ত করতে নানা রণকৌশল গ্রহণ করতেন মুক্তিবাহিনী । তন্মদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকৃত নামের অন্তরালে ছদ্মনামের বিশেষ ব্যবহার লক্ষনীয় । পাকবাহিনী ও রাজাকারের দল যাতে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ঠিকানা খুঁজে বের করতে না পারে বা মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মীয় স্বজনদের চিহ্নিত করে তাদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন করে মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক অবস্থান জানতে না পারে, সেজন্য অনেক মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকৃত নামের অন্তরালে ছদ্মনামে ডাকা হতো। যেমন, পলাশডাঙ্গা যুব শিবিরের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত আব্দুল লতিফ মির্জাকে ‘স্বপন কুমার’ ছদ্মনামে ডাকা হতো। ছদ্মনামধারী মুক্তিযোদ্ধাদের আসল নামে অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধারাও চিনতেন না। চিনতেন, ডাকতেন তাঁদের ছদ্মনাম ধরেই। ’৭১ এর রণাঙ্গণে ভারত থেকে স্পেশাল গেরিলা  ট্রেনিং নিয়ে যারা দেশে ফিরে জীবন বাজি রেখে অসংখ্য সন্মুখ যুদ্ধে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করে বীরত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছেন তাদেরই অকুতোভয় এক বীর সৈনিকের নাম ‘সূর্য্যকান্ত চক্রবর্তী’ ( ফ্রিডম ফাইটার নং-৫০৮৪)!

সূর্য্যকান্ত চক্রবর্তী (ছদ্মনাম) নিঃখাদ দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে তীক্ষ্ণ মেধা, যোগ্যতা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করে স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে তাঁর নাম লেখাতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁর গৌরবোজ্জ্বল অমর অবদানে দেশ ও জাতি ধন্য হয়েছে। কিন্তু, দেশ স্বাধীনের পরপরই মহান স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যার পর তিনি মনে চরম ক্ষোভ আর বুকভরা ব্যথা নিয়ে দেশ ত্যাগ করে সুইডেনে পারি জমিয়েছিলেন।
সুইডেনে অবস্থানকালে যারাই জানতে পারতেন ‘সূর্য্যকান্ত চক্রবর্তী’র বাড়ি বাংলাদেশে,  তারাই তাঁর কাছে জানতে চাইতেন, ‘তোমরা বিশ্ব প্রতিভা শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করলে কেন ? তিনি তো শুধু বাংলাদেশের সম্পদ ছিলেন না, তিনি ছিলেন বিশ্বের সম্পদ ! নিশ্চই তোমরা বাঙালিরা ভালো লোক নও!’ সুইডিশদের এ ধরনের প্রশ্নের কোন সদুত্তর দিতে পারতেন না ’৭১ এর রণাঙ্গণের সাহসী বীর যোদ্ধা সূর্য্যকান্ত চক্রবর্তী।
দেশ ও জাতির গর্বিত সন্তান সূর্য্যকান্ত চক্রবর্তীর সাথে আলাপকালে উদ্বেগ প্রকাশ করে আক্ষেপের সাথে বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সক্রিয় মুক্তিযোদ্ধাদের শতকরা প্রায় ৮০ ভাগই বর্তমানে আর বেঁচে নেই। অবশিষ্ট ২০ ভাগ হারে যেসব মুক্তিযোদ্ধা এখনও জীবিত রয়েছেন, তারাও বয়সের ভারে নুব্জ  হয়ে পড়েছেন। আগামী ১৫/২০ বছরের মধ্যে হয়তো তারাও  বার্ধক্যজণিত কারণে মারা যাবেন। দেশ স্বাধীনের পর দেশে অপ্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় ওইসব অপ্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সিংহভাগেরই বয়স ছিল ‘আন্ডার এজ’ বা শিশু-কিশোর! মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সরকারিভাবে বিভিন্ন ভাতা ও সুযোগ সুবিধা চালুর পর থেকেই অপ্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা শংকাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে যা মহান মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাথা ইতিহাসকে কলুষিত করে চলেছে।’
বীর যোদ্ধা সূর্য্যকান্ত চক্রবর্তী ছোট বেলা থেকেই ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। ছোট বেলা থেকেই দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি তাঁর ছিলো গভীর মমত্ববোধ। দেশ মাতৃকার প্রতি ভালোবাসা মমত্ববোধ আর বঙ্গবন্ধু’র ৭ই মার্চের ভাষণে উজ্জীবিত হয়ে তিনি আত্মীয় স্বজন, ঘর-বাড়ি, সহায়-সম্বল সবকিছু ফেলে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই স্পেশাল ট্রেনিং নিতে সূর্য্যকান্ত ভারতে চলে যান।  ভারতের বিহার প্রদেশের চাকুলিয়া এলাকায় প্রথম ব্যাচেই তিনি স্পেশাল ট্র্রেনিং নিতে শুরু করেন। সেখানে তিনি নির্দিষ্ট টার্গেটে নিখুতভাবে দুরপাল্লার মর্টারশেল নিক্ষেপের ট্রেনিং সফলতার সাথে করায়াত্ব করেন। তাঁর তীক্ষ্ণ মেধা আর দক্ষতায় অতি অল্প সময়েই তিনি দূরপাল্লার মর্টারশেল নিক্ষেপের ওপর স্পেশাল ট্রেনিং সফলতার সাথে সম্পন্ন করেন। ট্রেনিং শেষ করে দূরপাল্লার মর্টারশেল নিক্ষেপকারী স্পেশালিষ্ট হিসেবে তিনি রণাঙ্গণে যোগ দিয়ে নিজ দক্ষতায় ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
‘সূর্য্যকান্ত চক্রবর্তী’ রণাঙ্গণের ৭ নং সেক্টরের কমান্ডার কর্ণেল গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী বীর বীক্রমের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। সেক্টর কমান্ডারের নির্দেশ মোতাবেক ৭ নং সেক্টরের যেখানেই দূরপাল্লার মর্টারশেল নিক্ষেপের প্রয়োজন হতো, সেখানেই চলে যেতেন সূর্য্যকান্ত । সেখানে গিয়ে নিখুতভাবে টার্গেটকে লক্ষ্য করে দূরপাল্লার মর্টারশেল নিক্ষেপ করতেন। এভাবে পাকহানাদার ও তাদের দোসরদের বিধ্বস্তে বিশেষ অবদান রাখতেন তিনি। ৭ নং সেক্টরে মুুক্তিযোদ্ধাদের সার্বিক অবস্থা তখন বেশ ভালো, এমন সময় ৬ নং সেক্টর থেকে খবর আসলো, পাকহানাদারদের হামলায় ৬ নং সেক্টরের বীর যোদ্ধারা ক্রমেই কোনঠাঁসা হয়ে পড়ছে। ওই সময় ৬নং সেক্টরে প্রয়োজনীয় যুদ্ধাস্ত্র, রসদ ও গোলাবারুদসহ সামরিক সরঞ্জাম থাকলেও দূরপাল্লার মর্টারশেল নিক্ষেপকারী স্পেশালিষ্টের স্বল্পতাসহ কিছু কারণে পাকহানাদার বাহিনীর আক্রমন হামলা ক্রমাগত সফল হচ্ছিল। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছিল মুক্তিবাহিনী। এমতবস্থায় ৭নং সেক্টর কমান্ডারের নির্দেশে সূর্য্যকান্ত চক্রবর্তীকে ৬ নং সেক্টরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে গিয়েও সূর্য্যকান্ত অদম্য মনোবল নিয়ে সাহসীকতার সাথে পাকহানাদারদের লক্ষ্য করে মর্টারশেল নিক্ষেপে অভাবনীয় সাফল্যের পরিচয় দেন। সেক্টর পরিবর্তন করলেও ৬নং সেক্টর কমান্ডারের নির্দেশ মোতাবেক একই রণকৌশলে তিনি শত্রুদের হামলা ও পাল্টা হামলার সমুচিত জবাব দিতে থাকেন। একই সাথে তিনি ৬নং সেক্টরের বেশ কয়েকজন সহযোদ্ধাকে নিখুতভাবে দূরপাল্লার মর্টারশেল নিপেক্ষের কলাকৌশলে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ করে তোলেন। ফলে, অল্প সময়ের ব্যবধানে মুক্তিবাহিনী ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয় ও কোনঠাঁসা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটায় পাকবাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়।
এমতবস্থায়, ‘৭১ এর রণাঙ্গনের বীর যোদ্ধা সূর্য্যকান্ত চক্রবর্তী প্রচুর গোলাবারুদ, রসদ, যুদ্ধাস্ত্র, সামরিক সরঞ্জামসহ শতাধিক সহযোদ্ধাদের নিয়ে রংপুর এলাকা থেকে যমুনার নৌপথ ধরে সিরাজগঞ্জের দিকে রওয়ানা দেন। পথিমধ্যে, পলাশডাঙ্গা যুব শিবিরের প্রতিষ্ঠাতা স্বপন কুমার ওরফে আব্দুল লতিফ মির্জার সাথে তাদের সাক্ষাত হয়। পরে একত্রিত হয়ে তারা এ অঞ্চলের বিভিন্ন পাকবাহিনীর ঘাঁটিতে হামলা চালাতে শুরু করেন। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পাকবাহিনীর ঘাঁটিগুলো একে একে বিধ্বস্ত হতে থাকে ও পাকহানাদারেরা পরাস্ত ও পিছু হটতে বাধ্য হয়। মুক্তিযুদ্ধের প্রায় শেষের দিকে চলনবিলের হান্ডিয়াল নামক স্থানে তাদের সাথে পাকবাহিনীর ভয়াবহ ও লোমহর্ষক এক সন্মুখ যুদ্ধ বেঁধে যায়। বর্ষাকালে সংগঠিত ওই সন্মুখ যুদ্ধের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা সূর্য্যকান্ত চক্রবর্তী আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
হান্ডিয়ালে সংগঠিত সন্মুখ যুদ্ধ’র স্মৃতিচারণে সূর্য্যকান্ত বলেন,’পলাশডাঙ্গা যুব শিবিরের প্রতিষ্ঠাতা স্বপন কুমার ওরফে আব্দুল লতিফ মির্জার বহরে জনৈক এক কোরআনের হাফেজ ছিলেন। স্বপন কুমার ওরফে আব্দুল লতিফ মির্জা সূর্য্যকান্তকে বলেছিলেন যে জনৈক ওই কোরআনের হাফেজ আধ্মাতিক ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। কোরআনের ওই হাফেজ শত্রুদের নিয়ে আগের দিন যে ভবিষ্যতবাণী করতেন, পরদিন তা বাস্তবে ফলে যেতো। একদিন, স্বপন কুমার ও সূর্য্যকান্ত চক্রবর্তীর সম্মিলিত দু’বহরের প্রায় আড়াই’শ মুক্তিযোদ্ধার দল চলনবিলের ভেতর দিয়ে নৌপথে যাচ্ছিলেন। তখন তাদের অবস্থান ছিলো হান্ডিয়াল এলাকায়।
এমন সময় ওই কোরআনের হাফেজ চিৎকার দিয়ে বহরের সকল নৌকা থামাতে বলেছিলেন। এর কারণ জানতে চাইলে হাফেজ সাহেব বলেছিলেন, ‘মুক্তিবাহিনীর পুরো বহরটি তীব্র ঝূঁকির মধ্যে পড়েছে।’ হাফেজের কথামতো থামানো হয়েছিলো পুরো নৌকার বহর। এ সময় মুক্তিযোদ্ধারা নৌকা থেকে বুক পরিমান পানির মধ্যে নেমে কচুরিপানা দিয়ে মাথা ঢেকে অতি গোপনে আশপাশে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারলেন, তাদের পুরো বহরটাই পাকবাহিনী ঘিরে ফেলেছে। মুক্তিবাহিনীর বহরে প্রচুর রসদ, গোলাবারুদ, যুদ্ধস্ত্র থাকলেও পাকবাহিনীর অবস্থান জানতে পেরে মুক্তিযোদ্ধারা দুঃশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় মুক্তিবাহিনী তাদের রণকৌশল পরিবর্তন করে পাকহানকদারদের চোখে ধুলো দিয়ে নৌপথ থেকে স্থলভাগে অবস্থান নিলেন। স্থলভাগে খোঁড়া হলো অসংখ্য বাংকার। তার মধ্যে সশস্ত্র অবস্থান নিলেন মুক্তিবাহিনী। বাংকারে অবস্থানরত মুক্তিবাহিনীর বীর যোদ্ধারা সুযোগ বুঝেই পাকবাহিনীকে লক্ষ্য করে অতর্কিত  হামলা চালালেন। মুক্তিযোদ্ধারা পাকবাহিনীকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন রাইফেল থেকে মুহুঃমুহু গুলিবর্ষণ, দূরপাল্লার মর্টার শেল নিক্ষেপ ও গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটাতে থাকলেন। বেঁধে গেলো ভয়াবহ সন্মুখ যুদ্ধ। পাকবাহিনীও পাল্টা জবাব দিতে ব্যাপক গুলিবর্ষণ করতে থাকলো। ব্যাপক গোলাগুলি, দূরপাল্লার মর্টার শেল নিক্ষেপ, গ্রেনেড ও বোমা বিস্ফোরণের শব্দে চারিদিক প্রকম্পিত হতে থাকলো । নৌপথ ছেড়ে স্থলভাগে অবস্থানের রণকৌশল গ্রহণ করে কিছু বুঝে ওঠার আগেই পাকবাহিনীকে লক্ষ্য করে মুক্তিবাহিনী হামলা চালানোয় অপ্রস্তুত পাকবাহিনী আতংকগ্রস্থ হয়ে এলোমেলোভাবে এদিক ওদিক লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলি ছুঁড়তে লাগলো।
অবশেষে, পলাশডাঙ্গা যুব শিবিরের প্রতিষ্ঠাতা স্বপন কুমার (আব্দুল লতিফ মির্জা) ও সূর্য্যকান্ত চক্রবর্তীর ২ বহরের আড়াই’শ বীর বাঙালি যোদ্ধার দল জীবন বাজী রেখে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করে পাক-হানাদারের পরাস্ত করে বিজয় ছিনিয়ে আনলেন। শেষ হলো হান্ডিয়াল যুদ্ধ।
স্বাধীন বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান, ‘৭১ এর রণাঙ্গনে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের সূর্যসন্তান, আমাদের গর্ব, আমাদের অহংকার বীরমুক্তিযোদ্ধা সূর্য্যকান্ত চক্রবর্তী নামটি মুক্তিযুদ্ধকালীন ছদ্মনাম হলেও তাঁর প্রকৃত নাম গোলজার মিয়া (সুইডেন প্রবাসী)। তিনি সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর পৌর এলাকার রূপপুর পুরাতনপাড়া মহল্লার প্রয়াত নূরুল হকের জ্বৈষ্ঠ্য সন্তান।
‘৭১ এর রণাঙ্গনের এই বীর যোদ্ধার স্মৃতি চির অম্লান রাখতে সম্প্রতি তাঁর নিজ মহল্লার পাঁকা সড়কটি ‘বীরমুক্তিযোদ্ধা গোলজার মিয়া সড়ক’ নামকরণের জোরালো দাবী উঠেছে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে। এ যৌক্তিক দাবী পূরণ করে বীরমুক্তিযোদ্ধা গোলজার মিয়ার মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বগাথা অবদানের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন ও যথাযথ মূল্যায়ণ করবেন সংশ্লিষ্টরা-এমনটাই বিশ্বাস এলাকাবাসীর।

লেখক : সাংবাদিক।

কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোঁধের বিকাশের লক্ষ্যেই 'আলোকবর্তিকা'


শাহজাদপুরে শীতার্তদের পাশে মহান শিক্ষক  সুমনা আক্তার শিমুর ‘মানবতার দেওয়াল’

জহুরুল ইসলাম, শাহজাদপুর ( সিরাজগঞ্জ ) প্রতিনিধি : ভেঙে পড়া সমাজ ব্যাবস্থায় মানুষের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেলেও সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মানুষের সাথে মানুষের দূরত্ব। যান্ত্রিকতার যুগে মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্ক হয়ে উঠেছে কেবল স্বর্থের। একবিংশ শতাব্দীতে আত্মিক সম্পর্ক এখন কল্পনা। মানবিক সংকটের এই কালেও কেউ কেউ মানবতার ছাতা ধরেন অসহায় মানুষদের মাথার উপর। এমনই একজন মানবিক গুণসম্পন্ন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুমনা আক্তার শিমু। কেবল মানবিক দায়িত্ব বোধ থেকেই তৈরী করেছেন মানবতার দেওয়াল! শুধু তাই নয়, নতুন প্রজন্মের মধ্যে সেবাধর্মী মনোভাব তৈরি করে হারিয়ে যাওয়া নৈতিক মূল্যবোধ জাগিয়ে তোলার জন্য চেষ্টা করছেন প্রাণপন। এই বিপর্যস্ত সময়ে আশার আলোর মত গড়ে তুলেছেন ‘আলোকবর্তিকা’ নামে শিক্ষা মূলক সংগঠন। শিশু-কিশোরদের চোখে স্বপ্ন বুনে দিতে, মানবিক গুণাবলি হৃদয়ে রোপন করতেই তিনি গড়ে তুলেছেন সংগঠনটি। আর এই সংগঠনের ব্যানারেই তিনি সৃষ্টি করেছেন ‘মানবতার দেওয়াল’! সমাজের সুবিধা বঞ্চিত অর্থহীন জনমানুষ যেন এখান থেকে তাদের প্রয়োজনীয় কাপড় ও শীতবস্ত্র বিনামূল্যে নিয়ে পরিধান করতে এবং সমাজের বিত্তবানেরা যেন তাদের অপ্রয়োজনীয় পোশাক ও শীতবস্ত্র অসহায়দের জন্য রেখে যায়;  সেই উদ্দেশ্যেই নির্মাণ করা হয়েছে ‘মানবতার দেওয়াল’!  এই প্রচেষ্টা তিনি গত বছর থেকেই চলিয়ে আসছেন বলে জানা যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, গত বছরের মত করে আরও নতুন উদ্যোমে শাহজাদপুর সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মেইন গেটের সামনে দেয়ালের সাথে হ্যাঙ্গারে বিভিন্ন ধরনের পোশাক ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। সেখান থেকে বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী তাদের প্রয়োজনীয় পোশাক নিয়ে ব্যবহার করছে। বিদ্যালয়ের কিছু অভিভাবক ও শিক্ষার্থী ওই দেয়ালে পোশাক রেখে যাচ্ছে। সুবিধাবঞ্চিত ও অভাবগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও পরিধেয় কাপড় সরবরাহের জন্য এই বিদ্যালয়ের শিক্ষক সুমনা আক্তার শিমু এমন উদ্যোগ নিয়েছেন।
এ বিষয়ে ওই বিদ্যালয়ের মহান শিক্ষক ও মানবতার দেয়ালের উদ্যোক্তা সুমনা আক্তার শিমু বলেন, “বিদ্যালয়ের ধনী পরিবারের অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা নতুন ও তাদের অব্যবহৃত পুরাতন স্কুল ড্রেস ও পরিধেয় কাপড় এই দেয়ালে টাঙিয়ে রাখবে। বিদ্যালয়ের যে শিক্ষার্থীদের কাপড় প্রয়োজন ওই দেওয়াল থেকে তারা নিয়ে ব্যবহার করবে। সুবিধা বঞ্চিত ও অভাবগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেস ও পরিধেয় কাপড় যোগান দিতেই এটি চালু করা হয়েছে। এতে করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিক গুণাবলী বিকশিত হবে।”

এটি সবসময়ই চালু থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ আরও জানান, “বর্তমান সময়ে মানুষের সবচেয়ে বড় সংকট মানবিক বিপর্যয়। এ সংকট থেকে উত্তরণের জন্য কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ বিকশিত করাই ‘আলোকবর্তিকার’ প্রধান উদ্দেশ্য। এই সংগঠন শিক্ষার্থীদের  নির্ভিক, ন্যায়নিষ্ঠ, পরপোকারী, উদ্যোমী সচেতন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে অনুপ্রেরণা যোগাবে। নৈতিকতা বিবর্জিত কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। বাধ্যবাধকতা নয়, উৎসাহ আর অনুপ্রেরণার মাধ্যমেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিক গুণাবলীর বিকাশ এবং শিক্ষাগ্রহণ এর প্রতি মনোযোগী করে গড়ে তোলার দিকনির্দেশনা প্রদান করা হবে।সেই সাথে শিক্ষার্থীদের মধ্যে লুকিয়ে থাকা সুপ্ত প্রতিভা গুলো যেন প্রস্ফুটিত হতে পারে সেই সুযোগ করে দিয়ে পরিশুদ্ধ মানুষ গঠণের লক্ষ্যেই সংগঠণটি সৃষ্টি করা হয়েছে।”
এদিকে, সংগঠনটির মহৎ উদ্দেশ্যগুলোকে স্বাগত জানিয়ে এলাকার বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, অভিভাবকবৃন্দ এবং সচেতনমহল সংগঠণটির উত্তরোত্তর প্রসার ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

অর্পিত সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টায় এমপি স্বপনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন

ওকালতনামা ও আম-মোক্তারনামায় জাল স্বাক্ষর করে সরকারি অর্পিত সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা মামলায় সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের সংসদ সদস্য হাসিবুর রহমান স্বপনসহ ২ জনের নামে চার্জ গঠন হয়েছে।

বুধবার দুপুরে শাহজাদপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু খান শাহীন কনকের চৌকি আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে এ চার্জ গঠন করা হয়।

অপর আসামি হলেন শাহজাদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মহরার আবদুর রশিদ।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী শফিকুল ইসলাম বলেন, আসামিদ্বয়ের উপস্থিতিতে এ দিন চার্জ গঠন হয়েছে।

এমপি স্বপনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল হাই বলেন, শাহজাদপুর উপজেলার পৌর শহরের পুকুরপাড় মহল্লার একটি সরকারি অর্পিত সম্পত্তি আত্মসাতের জন্য ওকালতনামা ও আম-মোক্তারনামায় জাল স্বাক্ষর করার অভিযোগ এনে ২০১৮ সালের ২৫ জুলাই সিরাজগঞ্জ অর্পিত সম্পত্তি ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিজ্ঞ বিচারক শাহজাদপুর সিনিয়র সহকারী জজ মো. তোফাজ্জল হোসেন বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় শাহজাদপুর সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক মো. আবদুর রশিদ ও শাহজাদপুর উপজেলার দ্বারিয়াপুর মহল্লার মৃত আতাউর রহমানের ছেলে সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য হাসিবুর রহমান স্বপনকে বিবাদী করা হয়।

তিনি আরও বলেন, আমার মক্কেল সম্পূর্ণ নিরপরাধ। সাক্ষী-প্রমাণের মাধ্যমে তারা অবশ্যই এ মামলা থেকে খালাস পেয়ে যাবেন।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য হাসিবুর রহমান স্বপন বলেন, আমি কোনো অন্যায় বা জাল স্বাক্ষর করিনি। অন্যায়ভাবে আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। আশা করি সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আমি নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে এ মামলা থেকে খালাস পেয়ে যাব।

এদিকে এ চার্জ গঠনকে কেন্দ্র করে শাহজাদপুর চৌকি আদালত চত্বরে কোর্ট পুলিশ ও শাহজাদপুর থানা পুলিশ বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে।

সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য হাসিবুর রহমান স্বপন পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তায় পুলিশের একটি পিকআপে করে আদালত চত্বরে আসেন। এরপর কাজ শেষে তিনি আবার ওই পিকআপে করে আদালত চত্বর ত্যাগ করেন। এ সময় সেখানে শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সব অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র-যুগান্তর.

‘এরপর কি? আমি?’

শাহজাদপুুরে ছাত্র-ছাত্রীরা হাতে লেখা প্ল্যাকার্ড এবং চোখে কালো কাপড় বেধে ধর্ষণ বিরোধী মানববন্ধন ও “ধর্ষকের ফাসি চাই” এই স্লোগান সামনে রেখে র‌্যালি করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আজ মঙ্গলবার (৬অক্টোবর) শাহজাদপুর সরকারি কলেজ থেকে র‌্যালী বের করে শাহজাদপুর উপজেলা পরিষদের সামনে মানববন্ধন করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সাধারণ শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে র‌্যালিটি পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাহজাদপুর সরকারি কলেজে শেষ হয়।

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছাত্রীদের হাতে প্রতিবাদের প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘এরপর কি? আমি?’

মানববন্ধন ও র‌্যালিতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, ধর্ষনের মত জঘন্যতম আর ন্যক্কারজনক একটা অপরাধের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও র‌্যালী করতে হবে এটি জাতির জন্য লজ্জাজনক বিষয়। দেশব্যাপী যেন ধর্ষণের মহোৎসব শুরু হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়াতে একটাই খবর ধর্ষণ আর ধর্ষণ। মিডিয়াতে ভাইরাল হওয়া বিষয় গুলো নিয়েই আমরা যত তোলপাড় করি কিন্তু অগোচরে রয়ে যায় আরো বহু ধর্ষণের ঘটনা। ধর্ষকের শাস্তি যেন মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করে দৃষ্টান্তস্বরূপ তা কার্যকর করা হয়, যাতে ভবিষ্যতে এমন জঘন্যতম অপরাধ করার সাহস কেউ না পায়।

শাহজাদপুর তালগাছী হাটে নিষিদ্ধ কারেন্ট জালের জমজমাট ব্যবসা

প্রশাসনের নাকের ডগায় শাহজাদপুর উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের তালগাছী হাটে নিষিদ্ধ কারেন্ট জালের জমজমাট ব্যবসা চলছে। ফলে এলাকা থেকে দেশীয় প্রজাতির মাছ কারেন্ট জালে ধরা পড়ছে। এতে একদিকে যেমন দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হচ্ছে, অন্যদিকে মাছের প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে।

সয়লাব হয়ে পড়েছে নিষিদ্ধ কারেন্ট জালে তালগাছী হাট। প্রশাসনের নাকের ডগায় আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রকাশে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীরা নিষিদ্ধ কারেন্ট জালের জমজমাট ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। রবিবার(৪সেপ্টেম্বর) সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় উপজেলার তালগাছী হাটের গরু হাটার পাশে কারেন্ট জালের বিশাল পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল এর ফলে উপজেলার খালবিলে নদীনালার ছোট প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হতে চলেছে। কারেন্ট জালে সব ধরনে মাছ বেশী ধরা পড়ায় উপজেলার মৎস্য শিকারীরা এ জাল ক্রয় করছে বলে জানাগেছে। বর্ষার শুরু থেকে এ জাল দিয়ে মাছ ধরা শুরু করে মৎস্য শিকারীরা। এ জাল ব্যবহার করে জেলেরা বিভিন্ন নদী ও খাল-বিলে দেশি প্রজাতির ডিমওয়ালা ও পোনা মাছ নিধন করছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গাফিলতার কারনে পুরপুরি বাস্তবায়ন হচ্ছে না মৎস সম্পদ রক্ষা ও সংরক্ষণ আইন। নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কতিপয় কর্মকর্তা, কর্মচারীর নজদারীর অভাবে অবাধে এই নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল বিক্রি হচ্ছে হাট বাজারে। ফলে বিভিন্ন জলাশয় থেকে বিলুপ্ত হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। ২০০২ সালের সংশোধিত মৎস্য সংরক্ষণ আইনে কারেন্ট জাল উৎপাদন, পরিবহন, রাজারজাতকরণ, সংরক্ষণ ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়। এ আইনটি মানছে না এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীরা। প্রশাসনের নজরদারীর অভাবে নিষিদ্ধ এ কারেন্ট জালের ব্যবসা চলছে বলে অভিযোগ বিজ্ঞমহলের।

এ বিষয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিদ মাহমুদ খান জানান, এ ব্যাপারে সবকিছু জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাথী রানী নিয়োগী বলেন, আপনাদের কাছে থেকে কারেন্ট জালের বিষয়ে জানলাম। উপজেলা মৎস্য অফিস খুব দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহন করবে বলেও জানান উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা।

এ ব্যাপারে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মোঃ শামসুজ্জোহা বলেন করেন্ট জাল বিক্রয় এবং পরিবহন সম্পূর্ণ নিসিদ্ধ। তালগাছী হাটে যে কারেন্ট জাল বিক্রি হচ্ছে তা আমাদের জানা ছিল না, আপনাদের মাধ্যমে জানতে পেলাম। আমরা উপজেলা মৎস অফিসকে সাথে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করবো এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

শাহজাদপুরে বিএনপি’র হয়ে মেয়র পদে নির্বাচনের ঘোষণা দিলেন যুবদল নেতা সজল

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌরসভার শেরখালীতে গতকাল রোববার বিকেলে এলাকাবাসীর সাথে মতবিনিময় করে আগামী পৌর নির্বাচনে বিএনপি’র প্রার্থী হয়ে মেয়র পদে লড়ার ঘোষণা দিলেন, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান সজল।

এসময় আগামী পৌর নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সজল নিজেকে পৌর মেয়র পদে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে বলেন, জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং গণতন্ত্রকে পুনঃউদ্ধার করতে জনসাধারণের সহযোগিতা প্রয়োজন। এজন্য আগামী নির্বাচনে অন্তত শেরখালী দ্বাবাড়িয়া কেন্দ্রে ভোট ডাকাতির সুযোগ দেয়া হবেনা।

জনগণকে সাথে নিয়ে ভোট ডাকাতি প্রতিহত করার ঘোষণা দেন সজল। সেই সাথে তিনি নির্বাচিত হলে পৌরবাসীর উন্নয়নে নিজেকে বিলিয়ে দেয়ার কথা বলেন বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী মোঃ মাহমুদুল হাসান সজল।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আইসিউতে

হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলমকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) আইসিইউতে নেয়া হয়েছে।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, তার শারীরিক অবস্থা বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত ভালোই ছিল। কিন্তু শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে নেয়া হয়।

তিনি আরো জানান, শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে জ্বর শুরু হয়। এ সময় চিকিৎসকরা তাকে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। পরে ওই দিনই অ্যাটর্নি জেনারেল সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি হন। করোনা পজেটিভ ও বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছেন তিনি।

চেক লেনদেনের নতুন নিয়ম

চেকদাতা ও গ্রহীতার মধ্যে লেনদেন সম্পর্কিত কোনো বৈধ চুক্তি প্রমাণ করতে না পারলেও এখন থেকে চেক ডিজঅনার হলেই সাজা হবে না মর্মে রায় দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এ সংক্রান্ত একটি পূর্ণাঙ্গ রায় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ থেকে প্রকাশ হয়েছে।

এ রায়ের ফলে এখন থেকে বাদীকেই প্রমাণ করতে হবে কী চুক্তিমূলে বা বিবেচনায় চেকদাতা চেক ইস্যু করেছিলেন এবং সেই চুক্তিটি ব্যর্থ হয়নি, যার কারণেই বিবাদীর কাছে বাদীর পাওনা বলবৎ রয়েছে।

জানা গেছে, আগে চেক ডিজঅনার হলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চেকদাতার সাজা হতো। চেকমূলে চেকগ্রহীতার টাকা পাওয়ার কোনো কারণ আছে কি না, সেটি দেখার বাধ্যবাধকতা বা দিক নির্দেশনা ছিল না। এখন থেকে চেকগ্রহীতাকে প্রমাণ করতে হবে যে, চেকদাতা ও চেকগ্রহীতার মধ্যে লেনদেন সম্পর্কিত কোনো বৈধ চুক্তি ছিল কি না। সে চুক্তির শর্ত তিনি পূরণ করেছেন কিনা। তাহলেই কেবল চেক ডিজঅনার মামলায় সাজা হবে।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি এ সংক্রান্ত এক আপিল নিষ্পত্তি করে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ রায় দেন। যার পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়।

আপিল বিভাগের এ রায়ের ফলে চেকদাতারা তাদের নির্দোষ প্রমাণের একটা সুযোগ পেল। এছাড়া এ রায়ের ফলে চেক সংক্রান্ত মামলায় বিচার প্রার্থীদের ভোগান্তি ও হয়রানি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শাহজাদপুরসহ সিরাজগঞ্জের ৩ থানার ওসিকে বদলি

সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর ও চৌহালী উপজেলা এবং এনায়েতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে (ওসি)’র বদলি করা হয়েছে।

বদলির আদেশ প্রাপ্ত কর্মকর্তারা হলেন, শাহজাদপুর ওসি মো. আতাউর রহমান, এনায়েতপুরের ওসি মোল্লাহ মাসুদ রানা এবং চৌহালী থানার ওসি রাশেদুল ইসলাম বিশ্বাস।

এরমধ্যে এনায়েতপুর ও শাহজাদপুর থানায় দায়িত্বরত দুই ওসিকে অদল-বদল করা হয়েছে। আর চৌহালীর রাশেদুল ইসলাম বিশ্বাসকে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার হাসিবুল আলম স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাদের ৩ জনকে জেলার ভেতরেই বদলি করা হয়। বুধবার বিকেলে এ আদেশ স্বাক্ষরিত হলেও বৃহস্পতিবার তাদের বদলির বিষয়টি কার্যকর হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করে বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ সুপার হাসিবুল আলম বলেন, ‘যেহেতু তিনজনই দায়িত্বপালন কালে নিজ নিজ কর্মস্থলে কিছুটা সমস্যা তৈরি করেছেন, তাই আপাতত তাদের জেলার মধ্যেই বদলি করা হলো। এ আদেশ পুলিশের প্রতি স্থানীয় জনসাধারণের অবিচল আস্থা তৈরিতে রুটিন বদলি।’

অভিযোগ আছে, সম্প্রতি বাঘাবাড়ি নৌবন্দরের ইজারাদার আব্দুস সালামের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে অনৈতিক প্রভাবে দুষ্ট হয়ে শ্রমিক সাদ্দাম হোসেনকে মারধর করে থানায় ধরে আনেন শাহজাদপুরে ওসি আতাউর রহমান। এর প্রতিবাদে ওসি আতাউর রহমানের অপসারণের দাবিতে উত্তরবঙ্গ ট্যাঙ্ক লরি শ্রমিক নেতারা বাঘাবাড়ি নৌবন্দর ও পাবনা-ঢাকা মহাসড়কে বিক্ষোভ করেন।

অন্যদিকে, গ্রামীণ সংঘাতের বিষয় নিয়ে শাহজাদপুরে গত ৪ মাসে বেশ কিছু সংঘর্ষের ঘটনায় ৫ নিরীহ গ্রামবাসী নিহত হন। ওইসব ঘটনায় একাধিক মামলা হলেও প্রকৃত আসামিরা এখনও অধরা। ওইসব ঘটনায় ওসি আতাউর রহমানের পুলিশিং দক্ষতা নিয়েও বিভিন্ন ফোরামে বার বার আলোচনা হয়।

অপরদিকে, এনায়েতপুর থানার ওসি মোল্লাহ মাসুদ রানার বিরুদ্ধে বিধিভঙ্গ করে করোনাকালীন সময়ে সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ উঠে। বিভাগীয় তদন্ত হলেও করোনা আক্রান্ত হওয়ায় তার শাস্তির বিষয়টি মানবিক ও শিথিল করে দেখা হয়।

এছাড়া, চৌহালীর চরাঞ্চলে অবাধে মাদক কেনাবেচার বিষয়ে সম্প্রতি স্থানীয় এমপির কাছে পুলিশের ঢিলেঢালা অভিযানের বিষয়ে আক্ষেপ করেন স্থানীয়রা। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান নিয়েও স্থানীয় এমপির বিরাগভাজন হন ওসি রাশেদুল ইসলাম বিশ্বাস।

এছাড়া, করোনাকালীন সময়ে নদী ভাঙনের অজুহাতে স্থানীয় দু’ইউপি চেয়ারম্যান সরকারি রাস্তায় সওজের শতাধিক গাছ কাটেন। গাছ চুরির ঘটনায় তদন্তের নামে গড়িমসি ও কালক্ষেপণ করেন ওসি। এসব একাধিক ঘটনায় রাশেদুল ইসলাম বিশ্বাসের দক্ষতা ও যোগ্যতা নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়।

তথ্যসুত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন

১ সেপ্টেম্বর থেকে আগের ভাড়ায় গণপরিবহন: ওবায়দুল কাদের

আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে আগের বাড়ায় গণপরিবহন চলবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তবে এক্ষেত্রে আসনের অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন ও দাঁড়িয়ে যাত্রী নেওয়া যাবে না বলেও জানান তিনি।

শনিবার (২৯ আগস্ট) ঢাকা জোনের বিআরটিএ ও বিআরটিসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় সেতুমন্ত্রী এ কথা জানান।

ওবায়দুল কাদের সংসদ ভবন এলাকায় তার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ সভায় যুক্ত হন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি ও জনস্বার্থ বিবেচনা করে সরকার আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে গণপরিবহন আগের নির্ধারিত বাড়ায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। তবে এক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত সংশ্লিষ্টদের প্রতিপালন করতে হবে। গণপরিবহনের যাত্রী, চালক, সুপারভাইজার, চালকের সহকারী, টিকিট বিক্রয়কারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবশ্যই মাস্ক পরিধান করতে হবে। হাত ধোয়ার জন্য পর্যাপ্ত সাবান পানি অথবা হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। আসন সংখ্যার অতিরিক্ত কোনো যাত্রী পরিবহন করা যাবে না। অর্থাৎ যত সিট তত যাত্রী পরিবহন নীতি কার্যকর হবে। দাঁড়িয়ে যাত্রী পরিবহন করা যাবে না। প্রতিটি ট্রিপের শুরু ও শেষে যানবাহন জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

সেতুমন্ত্রী এসময় নিয়ম ও শর্ত মেনে পরিবহন চালানোর জন্য পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের আহ্বান জানান। পাশাপাশি যাত্রীসাধারণকেও মাস্ক পরিধানসহ নিজের সুরক্ষায় সচেতন থাকার আহ্বান জানান।

ওবায়দুল কাদের নতুন সিদ্ধান্তের বিষয়টি বিজ্ঞপ্তি আকারে জানানোর পাশাপাশি আইন অমান্যকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত কার্যক্রম জোরদার করতে বিআরটিএকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। একইসঙ্গে তিনি হাইওয়ে পুলিশ, জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়টি কঠোরভাবে প্রতিপালনের জন্য অনুরোধ করেন।

তথ্য সুত্রঃ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম