বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
শামছুর রহমান শিশির ও রাজীব রাসেল, বেলকুচির দৌলতপুর থেকে ফিরে : ‘দেখতে ফুটফুটে, চোখ জুড়ানো ১৫ দিনের নিষ্পাপ, নিষ্কলঙ্ক ওই নবজাতক মায়ের কোলে অঘোরে নিশ্চিতে ঘুমাচ্ছে। আর মাদরাসায় ১০ম শ্রেণি পড়য়া হতদরিদ্র পরিবারের সদস্য, নবজাতকের মা (কোচিং শিক্ষক কর্তৃক ধর্ষিত) তার শিশুকে কোলে রেখে শিশুটির দিকে চাতক পাখির মতো অপলক তাকিকে দিনে রাতে অঝোরে কেঁদে চলেছেন এই ভেবে,‘কি হবে শিশুটির পিতৃ পরিচয়?’।  সিরাজগঞ্জ জেলার তাঁতসমৃদ্ধ বেলকুচি উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের বওড়া গ্রামের মৃত মতিয়ার রহমানের ১০ম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে ধর্ষিতা মাতা সুবিচারের দাবীতে সমাজপতিদের দরবারে বার বার ধর্ণা দিলেও কাজের কাজ কিছু হয়নি। এ ঘটনায় বেলকুচি থানায় একটি মামলা দায়ের হলেও পুলিশ এখনও ধর্ষক ওই শিক্ষককে গ্রেফতার করতে পারেনি। খবর পেয়ে পেয়ে পুলিশের উর্ধতন কর্মকতা ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছেন। গতকাল সন্ধ্যায় একান্ত সাক্ষাতকারে ধর্ষিতা (১৬) ও তার ভাই মোতালেব এ প্রতিবেদককে জানান, অভাব অনটনের সংসার তাদের। বাবা মারা গেছেন প্রায় অর্ধযুগ আগে। মা, ৩ ভাই, ২ বোনের সংসার তাদের। ছোট ভাই মনজু পার্শ্ববর্তী আকন্দপাড়া মহল্লাস্থ জনৈক রশিদের পাওয়ারলুম কারখানায় তাঁতশ্রমিকের কাজ করে যা আয় করে তা দিয়ে তাদের খেয়ে না খেয়ে কোনমতে মানবেতর দিনযাপন করতে হয়। তীব্র অভাব অনটনের মধ্যেও ভাইদের ইচ্ছা ছিলো তাদের বোনটি লেখাপড়া শিখে মানুষের মতো মানুষ হবে। এজন্য ছোট বোনকে কোন কাজে না দিয়ে পাশ্ববর্তী কল্যাণপুরের একটি দাখিল মাদরাসায় ভর্তি করে দেয়া হয়। খেয়ে না খেয়ে দিন কাটানো ওই পরিবারের উপার্জনক্ষম ২ ভাই তাদের বোনের লেখাপড়া যেন ভালো হয়, সেজন্য স্থানীয় ইকরা কোচিং সেন্টার নামের একটি কোচিং সেন্টারে প্রাইভেট পড়তে দেন। ওই কোচিংয়েই শিক্ষকতা করতো লম্পট শিক্ষক রাজ্জাক। তাদের আদরের বোনটি দেখতে দেখতে সকল পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়ে বর্তমানে ১০ম শ্রেণিতে পড়ছিলো। চলতি বছরের জানুয়ারীর প্রথম সপ্তাহে লম্পট শিক্ষক রাজ্জাক ভিকটিমকে কোচিং ক্লাস শেষের পর ভালো ফলাফল যেন ভিকটিম করতে পারে, সেজন্য কিছু বই দাগিয়ে ( সাজেশান) দেয়ার কথা বলে নিজ বাড়িতে নিয়ে যায়। ওই সময় শিক্ষকের মা বাড়িতে থাকলেও লম্পট শিক্ষক তার মাকে কৌশলে অদূরে জনৈক নানার বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে ভিকটিমকে বিয়ে করার প্রলোভন দিয়ে দুপুর প্রায় ২ টার দিকে শিক্ষকের শয়ন কক্ষে ছাত্রীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে। কিছুদিন পরই ভিকটিম অতœস্বতা হয়ে পড়ে। বিষটি জানাজানি হলে ভিকটিমের পরিবারের পক্ষ থেকে লম্পট শিক্ষকের পরিবারকে ঘটনাটি অবহিত করা হলেও শিক্ষকের পরিবারের পক্ষ থেকে ‘ঘটনার জন্য অন্য কেউ দায়ী’ এমন দোষারোপ করে ভিকটিমের পরিবারকে বিতাড়িত করা হয়। কূলকিনারা না পেয়ে ভিকটিম কোচিং শিক্ষক আব্বাসের ব্যবহৃত ০১৯২৯-৪৩০১০৮ নম্বর মোবাইল ফোনে অনাগত সন্তানের পিতৃপরিচয়ের দাবী পূরণের জন্য তাকে বিয়ে করার জন্য বার বার অনুরোধ করে। কিন্তু সেই অনুরোধ কেবল অনুরোধ আর আশ্বাসেই থেকে যায়। গত প্রায় ১৫ দিন পূর্বে ধর্ষিতা স্কুলছাত্রী বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সন্তান প্রসব করে। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বেলকুচি থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শামীম জানান,‘আসামী শিক্ষক রাজ্জাক গাঁ ঢাকা দেয়ায় ও মোবাইল ফোন ব্যবহার না করায় তার লোকেশান ট্রেস করা যাচ্ছে না। তাকে গ্রেফতারে সর্বোচ্চ পুলিশী চেষ্টা অব্যহত রয়েছে।’ অন্যদিকে, এলাকাবাসী অবিলম্বে লম্পট ওই ধর্ষক শিক্ষককে গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছে, যাতে ‘বেড়ায় ক্ষেত খায়’-এর মতো ভবিষ্যতে কোন শিক্ষক তার ছাত্রীদের সাথে এমন ন্যাক্কারজনক ও বর্বরোচিত ঘটনা ঘটতে সাহস না পায়। অন্যদিকে, হৎদরিদ্র ধর্ষিতা ও তার পরিবার এ ঘটনার সুবিচারের দাবীতে প্রশাসনের উর্ধতন কর্তৃপক্ষ ও মানবাধিকারকর্মীদের আশু সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

সম্পর্কিত সংবাদ

শাহজাদপুুরে যমুনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধে ধ্বস এলাকায় আতংক

শাহজাদপুুরে যমুনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধে ধ্বস এলাকায় আতংক

এ্যাডঃ জুথীর পক্ষ থেকে শাহজাদপুরে আইনজীবীদের মাঝে  মাস্ক বিতরণ

শাহজাদপুর

এ্যাডঃ জুথীর পক্ষ থেকে শাহজাদপুরে আইনজীবীদের মাঝে মাস্ক বিতরণ

রুলা'র পক্ষ থেকে মাস্ক বিতরন করের এ্যাডভোকেট আহসান হাবিব সোহেল (এপিপি) ও এ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান সবুজ(এপিপি)

শাহজাদপুরে শিক্ষকের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে ছাত্র-ছাত্রীদের বিক্ষোভ  ও মানববন্ধন

অপরাধ

শাহজাদপুরে শিক্ষকের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে ছাত্র-ছাত্রীদের বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় অধ্যক্ষ হাজী এ্যাড. আব্দুল খালেকের ছেলে মোঃ সাজ্জাদ হাসান লিংকন বাদী হয়ে ইউপি চেয়ারম্যান খোকনসহ...

শাহজাদপুরে  বিএনপি নেতার ঈদ উপহার বিতরণ

রাজনীতি

শাহজাদপুরে বিএনপি নেতার ঈদ উপহার বিতরণ

ঈদ উপহারের মধ্যে ছিলো শাড়ি, লুঙ্গি, থ্রিপিছ, পাঞ্জাবি ও ম্যাক্সি

সিরাজগঞ্জের ছেলে ও কিশোরগঞ্জের মেয়ে