সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
‘তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে/সব গাছ ছাড়িয়ে/উঁকি মারে আকাশে।’ এই কবিতার স্রষ্টা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং কবিতাটির সঙ্গে স্মৃতিবিজড়িত স্থানটি হল শাহজাদপুর। এই শাহজাদপুর ঘেঁষে বয়ে গেছে করতোয়া নদী। করতোয়ার একটা শাখা যুক্ত হয়েছিল বড়াল নদীর সঙ্গে। এই শাখা নদী খোনকারের জোলা কাচারি বাড়ির সামনে দিয়েই বহমান ছিল। কবিগুরু এই নদী দিয়ে তার বোট ‘চিত্রা’ ও ‘পদ্মা’ দিয়ে যাতায়াত করতেন। সেটি এখন ভরাট। এ নদী দেখেই রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, ‘আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে, বৈশাখ মাসে তার হাঁটুজল থাকে’। কবিগুরু সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে এসেছেন বহুবার। এখানে তিনি জমিদারি দেখাশোনার পাশাপাশি সাহিত্যে মননোবিশ করেন। এখানে বসেই তিনি কিছু কালজয়ী কবিতা রচনা করেছেন। সেগুলো পরবর্তীতে তাঁর ‘সোনার তরী’ কাব্যগ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সে সময় তিনি কিছু ছোটগল্পও লিখেছিলেন। সেগুলোর মধ্যে জনপ্রিয় ছোটগল্প ‘ছুটি’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এছাড়া আরও কিছু উল্লেখযোগ্য রচনাবলী হল ‘ইছামতি নদী’, ‘দুই পাখি’, ‘ব্যর্থ যৌবন’, ‘পোস্ট মাস্টার’, ‘ক্ষুধিত পাষাণ’, ‘অতিথি’। এই কাচারি বাড়িতে বিশ্বকবি কিছু গানও রচনা করেছন। এজন্যই বলা হয়ে থাকে- রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সৃজনের সবচেয়ে গুরুত্ববহ সৃষ্টি রচিত হয়েছে এই বঙ্গের সংস্পর্শেই। আজ তিনি নেই কিন্তু তার পায়ের চিহ্ন রয়ে গেছে কাচারি বাড়িসহ শাহজাদপুরের বিভিন্ন স্থানে। সঙ্গে রয়েছে প্রিয় এই কবির জীবনের নানা স্মৃতি। কাছরি বাড়িতে রক্ষিত অর্ডার বুক থেকে জানা যায়, রবিঠাকুর তার পিতার নির্দেশে জমিদারি দেখাশোনার কাজে ১৮৯০ সালের জানুয়ারি মাসে প্রথম শাহজাদপুর আসেন। ১৮৯৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে তিনি এখানে এসেছেন। বর্তমানে কবির পরশধন্য এই বাড়িটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। এই ভবন চত্বরে নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছে রবীন্দ্র অডিটোরিয়াম। বর্তমানে কাচারি বাড়িটির উত্তরদিকের প্রধান ফটকের সামনে হাট কর্তৃপক্ষ অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করায় তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের এই কাচারি বাড়ি এখন ইতিহাস হয়ে হাতছানি দেয় সবার কাছে। ছুটে যেতে মন চায় তার পদচারণার ঐ ভূমিতে। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের তত্ত্বাবধানে বাড়িটি নতুন করে সাজানো হয় । রোমান ও ইউরোপীয় স্থাপত্য ধারায় নির্মিত হয় দোতলা বিশিষ্ট বাড়ি। এখানে রয়েছে রবীন্দ্রনাথের ব্যবহৃত অনেক জিনিস। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ গড়ে তোলে একটি জাদুঘর। রবি ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত অনেক ছবি রাখা আছে এখানে। কবির পারিবারিক অনেক ছবিসহ আরও রয়েছে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহেরু, শেরে বাংলা ফজলুল হকসহ আরও অনেক মহীয়সী ব্যক্তিদের ছবি। রয়েছে কবির নোবেল পুরষ্কার পাওয়ার ছবি। জাদুঘরে আরও রয়েছে রবীন্দ্রনাথের পাণ্ডুলিপি, পাণ্ডুলিপির ওপর তাঁর চিত্রাঙ্কন অনুশীলন এবং অনেক চিত্রকর্মের ছবি। তাঁর ব্যবহৃত খাট, সোফা, আলনা, আরাম কেদারা, পালকি, শ্বেত পাথরের বিরাট টেবিল, একজোড়া খড়ম, নলসমেত হুঁকো, ফুলদানি, রান্নাঘরে ব্যবহৃত তৈজসপত্র, কাপ পিরিচ, হট ওয়াটার পট, হট ওয়াটার ট্রে, লণ্ঠন, দ্রব্যসামগ্রী ইত্যাদি এখানে রয়েছে।

সম্পর্কিত সংবাদ

বিগ ডাটা কি এবং কেন! ( What is Big Data and Why? )

ফটোগ্যালারী

বিগ ডাটা কি এবং কেন! ( What is Big Data and Why? )

একটা সময় ছিলো যখন আমরা আমাদের সবকিছুই কাগজে লিখে রাখতাম। কখন খেতে যাবো, কবে মিটিং, কখন শপিং এ যাবো এসব টু ডু লিস্টগ...

শাহজাদপুরে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৩ দিনব্যাপী ১৬৪তম জন্মোৎসব শুরু

দিনের বিশেষ নিউজ

শাহজাদপুরে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৩ দিনব্যাপী ১৬৪তম জন্মোৎসব শুরু

বাংলার সাহিত্যাকাশে ও বিশ্বের জ্ঞান পরিমন্ডলে বহুমুখী প্রতিভাসম্পন্ন নোবেলজয়ী, বিশ্বকবি, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের

মিষ্টান্ননগরী  সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর

শাহজাদপুর

মিষ্টান্ননগরী সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর

শাহজাদপুরে ছোট-বড় অনেক জমিদার ছিল। বিভিন্ন উৎসব-পূজা-পার্বণে তারা প্রজাদের নিমন্ত্রণ করে পেটপুরে মিষ্টি খাওয়াতেন। তারা ব...

বাদুড় করোনার জন্য কতটা দায়ী?

বিশেষ প্রতিবেদন

বাদুড় করোনার জন্য কতটা দায়ী?

বাদুড়ের ব্যাপারে খুবই আগ্রহী ইরোরো তানশি। ওরা এক অসাধারণ সৃষ্টি বলেন তিনি। বাদুড়ের প্রসঙ্গ উঠলে তার চোখমুখ উজ্জ...