বয়স্ক ভাতার কার্ডের আশায় ৩০ বছর ধরে ঘুরছে ১০৩ বছর বয়সী মনছের আলী

নিজস্ব সংবাদদাতা: শরীরে শক্তি নেই । হাড্ডিসার গোটা শরীর । চলাচলের শক্তিও হারিয়ে ফেলেছে। ছানি পড়া চোখেও কম দেখে। শরীরটা একেবারেই ন্যুয়ে পড়েছে। পেটের দায়ে লাঠিতে ভর দিয়ে বাড়ি বাড়ি ভিক্ষা করে মনছের আলীর। তার বয়স এখন ১০৩। শাহজাদপুর পৌর এলাকার পুকুরপাড় মহল্লার বাসিন্দা সে। এতো বয়সেও তার ভাগ্যে জোটেনি বয়স্ক ভাতার কার্ড। এমন কি ভিজিডির কার্ডও । তাইতো ভিক্ষা করেই তার জীবন চলে।

জানা গেছে শাহজাদপুর পৌর এলাকার পুকুর মহল্লায় অন্যের বাড়িতে একটি ঝুপড়ি ঘরে বাস করে হতদরিদ্র এই মনছের আলী। নিজের কোন মাথা গোজার ঠাই পর্যন্ত নেই। দু বছর আগে তার বৃদ্ধা স্ত্রী রোগে ভূগে মারা গেছে। অসহায় এই বয়বৃদ্ধকে এখন দেখার কেউ নেই। এক সময় তার জায়গা,জমি, ঘর,বাড়ি সহায় সম্পদ সবই ছিল। ভাগ্য দোষে সে এখন নিঃস্ব। কিছুই নেই তার। একটি পুত্রের আশায় একে একে হয়েছে ৬ মেয়ে। তাদের সবারই বিয়ে হয়ে গেছে। তারা নিজেদের সংসার চালাতেই ব্যস্ত। তাদেরও আর্থিক অবস্থা ভালো না। তাই তাদের কেউই এ বয়বৃদ্ধকে ভাত কাপড় ভরণ পোষন করে না। নিয়তির কাছে পরাজিত শতবর্ষী মনছের আলী শাহজাদপুর সংবাদকে জানান, জীবিকার প্রয়েজনে এ বয়সও তাকে ছুটতে হচ্ছে মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষাবৃত্তি করতে। অথচ আমার চেয়ে অর্ধেক বয়সী এ পাড়ার অনেকেই ভিজিডি কার্ড ও নানা ধরনের সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে। অথচ আমি কিছুই পাচ্ছিনা। তিনি শাহজাদপুর সংবাদ প্রতিনিধিকে আরো বলেন, একখানা বয়স্ক ভাতার কার্ডের জন্য ৩০ বছর ধরে মেম্বর-কাউন্সিলরদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি কিন্তু কারোই কোন দয়া হয়নি। তিনি আক্ষেপের সাথে বলেন, আমার আর কত বয়স হলে আমি বয়স্ক ভাতা পাব।

এখানে মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.