ফেভিপিরার ট্রায়ালে সুস্থ ৯৬% করোনা রোগী: বিকন

করোনায় আক্রান্ত মৃদু ও মাঝারি রোগীর চিকিৎসায় বিকন ফার্মাসিউটিক্যালসের ‘ফ্যাভিপিরাভি’র ওষুধের সংক্ষিপ্ত ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ৯৬ ভাগ রোগীর সেরে ওঠার প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি করেছে কোম্পানিটি।রাজধানীর ৪টি হাসপাতালে করোনা রোগীদের ওপর পরিচালিত পরীক্ষায় দেখা গেছে, মাত্র ১০ দিনের ওষুধ সেবনেই ৯৬ ভাগ রোগী ভালো হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের (বিএমআরসি) অনুমোদনক্রমে বাংলাদেশ মেডিসিন সোসাইটি (বিএসএ) এ ট্রায়াল পরিচালনা করে।

বুধবার রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে সেমিনারে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের এই ফলাফল ঘোষণা করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহাযোগী অধ্যাপক ডা. সৈয়দ গোলাম মগ্নি মওলা।

তিনি এ সময় বাংলাদেশের হাসাপাতালসমূহে করোনা রোগীদের ওপর ফ্যাভিপিরাভির ওষুধের কার্যকারিতা পরীক্ষা শীর্ষক সেমিনারে এ সংক্রান্ত তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন। সেমিনারের আয়োজন করে বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড।

সেমিনারে জানানো হয়, ফ্যাভিপিরাভির হল ওষুধটির জেনেরিক নাম। বিকন ফার্মাসিউটিক্যালসের উৎপাদিত ওষুধের ব্র্যান্ড নাম ‘ফ্যাভিপিরা’। এই ওষুধটি জাপানে ফুজি ফিল্মের সহযোযোগী প্রতিষ্ঠান তোয়ামা কেমিক্যাল কোম্পানি প্রথম উদ্ভাবন করে। তারা ‘অ্যাভিগান’ নামে বাজারজাত করছে।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর চীনের উহানে করোনা রোগীদের ওপর এই ওষুধের প্রথম ট্রায়াল হয়। পরে রাশিয়া এবং ঢাকায় স্বল্প সংখ্যক রোগীর ওপর ওষুধটির ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল হয়। এই দুই দেশের মতো ঢাকা ট্রায়ালে এই ওষুধের অভীন্ন কার্যকারিতা লক্ষ করা গেছে।

তথ্যচিত্রে ডা. সৈয়দ গোলাম মগ্নি মওলা বলেন, করোনায় আক্রান্ত রোগীদের ওপর এই ওষুধ প্রয়োগের চারদিনের মাথায় ৪৮ শতাংশ এবং ১০ দিনের মাথায় ৯৬ শতাংশ রোগী সেরে উঠেছেন এবং আরটিপিসিআর পরীক্ষায় এসব রোগীদের শরীরে ভাইরাস পাওয়া যায়নি। ট্রায়াল চলাকালে প্লাসেবা গ্রুপের (যাদের বিকল্প ওষুধ দেওয়া হয়, বাস্তবে সেগুলোতা ওষুধ নয়) ক্ষেত্রে এই হার ছিল চারদিনে শূন্য শতাংশ এবং ১০ দিনে ৫২ শতাংশ। বিকল্প ওষুধ গ্রহণকারীদের চেয়ে এই ওষুধে রোগীর ফুসফুসের কার্যক্ষমতা তিনগুণ উন্নতি হয়েছে।

সেমিনারে বলা হয়, যারা কোভিড-১৯ পজেটিভ নন বা কোনো লক্ষণ নেই, তারা এই ওষুধ খাবেন না। এই ওষুধটি শুধু তারাই খাবেন যারা আরটিপিসিআর পজেটিভ এবং মৃদু বা মাঝারি আকারে আক্রান্ত। তবে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে এই ওষুধ কার্যকর নয়।

দেশের ৪টি হাসপাতালের ৫০ জন কোভিড রোগীর ওপর এ পরীক্ষা চালানো হয়েছে। ৪টি হাসপাতাল হলো- কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল, মহানগর জেনারেল হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল এবং মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

সেমিনারে আরও বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে ওষুধটি কার্যকর কিনা তা জানতেই বাংলাদেশে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল করা হয়েছে। এর নাম দেয়া হয়েছে ‘ঢাকা ট্রায়াল’। ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর ও বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের নিয়ম মেনেই ডাবল ব্লাইন্ড প্লেসবো কন্ট্রোলড পদ্ধতিতে এই ট্রায়াল পরিচালনা করা হয়েছে।

সেমিনারে উপস্থিত থেকে প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এ বিএম আবদুল্লাহ বলেন, মাত্র ৫০ জনের ওপর পরিচালিত এই স্টাডিকে ফাইনাল বলা যাবে না। ঢাকার বাইরে আরও বড় আকারের ট্রায়াল সম্পন্ন করে তারপর চূড়ান্ত ফলাফল পাওয়া যাবে। তবে পরিস্থিতির বিবেচনায় এই স্বল্প পরিসরে পরিচালিত ট্রায়ালের ওপর ভিত্তি করে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা করা যেতে পারে।

সেমিনারে বক্তব্য রাখেন বিএমআরসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, বিএমসির সভাপতি অধ্যাপক ডা. বিল্লাল আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ডিন অধ্যাপক ড. আব্দুর রহিম প্রমুখ।

তারা বলেছেন, দুঃখজনক হলেও সত্য এখন পর্যন্ত বিশ্বে করোনা চিকিৎসায় সুনির্দিষ্ট কোনো ওষুধ আবিস্কার হয়নি। মারাত্মকভাবে সংক্রমিত রোগীদের জন্য রেমডেসিভির থাকলেও মৃদু ও মাঝারি রোগীদের জন্য কোনো ওষুধ নেই।

ফ্যাভিপিরাভির ওষুধটি ২০১৪ সাল থেকে ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে করোনো রোগীদের ক্ষেত্রে এটির ভালো ফল পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যেই পৃথিবীর ২৮টি দেশে ওষুধটির ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে। এই ওষুধটির কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তবে প্রসূতি মায়েদের ক্ষেত্রে এটি ব্যরহার না করাই ভাল।

এক প্রশ্নের জবাবে বিকন কর্তৃপক্ষ জানায়, করোনারোগীদের চিকিৎসায় ওষুধটির ৪০ থেকে ৫২ ডোজ লাগতে পারে। প্রতি ডোজ ওষুধের দাম ৪শ’ টাকা। সেই হিসাবে রোগীপ্রতি প্রায় ২০ হাজার টাকার ওষুধ প্রয়োজন। তবে এই ওষুধটি কোনো ওষুধের দোকানে বা ফার্মেসিতে পাওয়া যাবে না। তাই চাইলেও এই ওষুধটি কেউ কিনে বাসায় মজুদ করতে পারবে না।

কিট নিয়ে ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর পজিটিভ : গণস্বাস্থ্য

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্ভাবিত কোভিড-১৯ র‌্যাপিড ডট ব্লট কিট নিয়ে ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরে আলোচনা হয়েছে। তারা এ বিষয়ে পজিটিভ বলে জানিয়েছেন গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ও কিট প্রকল্পের সমন্বয়ক ডা. মুহিব উল্লাহ খোন্দকার।আজ রোববার বিকালে ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরে গিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা শেষে বেরিয়ে এসে এ তথ্য জানান তিনি।

এর আগে দুপুর ১২টার দিকে ডা. মুহিব উল্লাহ খোন্দকার ও কিট উন্নয়ন দলের কয়েকজন বিজ্ঞানী ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরে যান। মিটিং শেষে মুহিব উল্লাহ খোন্দকার বলেন, তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। কিট নিয়ে আমরা আশাবাদী। খুব শিগগির আমরা উদ্ভাবিত কিট সরবরাহ করতে পারব বলে আশাবাদী।

এর আগে সকালে মুহিব উল্লাহ জানিয়েছিলেন, আলোচনার জন্য আমরা আবেদন করেছিলাম। তারা অ্যাপয়েন্টমেন্ট শিডিউল দিয়েছেন। অ্যান্টিবডি কিট ফল প্রকাশপরবর্তী বৈঠকের জন্য আমাদের ডাকা হয়েছে।

গণস্বাস্থ্যকে ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরে ডাকার বিষয়টি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দফতরপ্রধান জাহাঙ্গীর আলম মিন্টুও জানিয়েছেন।

রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডা. জাফরুল্লাহর ঘনিষ্ঠ মিন্টু বলেন, ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক রোববার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের আপডেটেড অ্যান্টিবডি কিটের তথ্য-উপাত্ত জানতে কর্মকর্তাদের ডেকেছেন। আজ ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর যদি কিটের অনুমতি দেয় তা হলে গণস্বাস্থ্য ১৫ দিনের মধ্যে ৫০০০ অ্যান্টিবডি কিট তৈরি করবে। গণস্বাস্থ্যের গবেষকরা এরই মধ্যে ঔষধ প্রশাসনের নির্দেশিকা বজায় রাখার জন্য অ্যান্টিবডি কিট আপডেট করেছে বলেও জানান মিন্টু।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহর চৌধুরী কিটের বিষয়ে সরকারি এ প্রতিষ্ঠানটি পুরোপুরি সন্তুষ্ট হবে এবং অনুমতি দেবে বলে আশাবাদী বলে জানান মিন্টু।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘কিট উন্নয়ন দলের প্রধান বিজ্ঞানী বিজন কুমার শিলের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় যে, তারা কিটের সংবেদনশীলতা আরও বৃদ্ধি করেছে। এখন এটি অ্যান্টিবডিটিকে আরও দক্ষতার সঙ্গে শনাক্ত করতে পারে। বিজন শীল আরও বলেছিলেন যে, ডিজিডিএ ৯০ শতাংশ সংবেদনশীলতা এবং ৯৫ শতাংশের সুনির্দিষ্টতা নির্ধারণ করেছে যে, অনুমোদনের জন্য জিকে কিটটি অবশ্যই অর্জন করবে।

ডেঙ্গু আক্রান্ত ২ রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন : স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

এডিশ মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।অধিদপ্তরের নিয়মিত আপডেটে জানানো হয়েছে, শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়নি।

চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৩২৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। এদের মধ্যে ৩২৪ জন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন। বাকি দুজন বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন।

গত বছর দেশে ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে, মশাবাহিত এ রোগে ২০১৯ সালে ১৭৯ জন মারা যান।

ঢাকা মেডিক্যালে খরচের প্রতিবেদন চেয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনা ইউনিটে কর্মরতদের থাকা-খাওয়ার খরচের বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়।

দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যসচিব মোহাম্মদ আবদুল মান্নান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

মোহাম্মদ আবদুল মান্নান আরও জানান,’আমরা লিখিত একটা রিপোর্ট চেয়েছি। একটা ওভারঅল রিপোর্ট তিনি দিবেন। দেয়ার পরই জানা যাবে এখানে অনিয়ম হয়েছে কিনা। কতজন ডাক্তার প্রতিদিন তাদের টেককেয়ার করেছে এবং কোন শ্রেণির ডাক্তার, মেডিক্যাল অফিসার থেকে প্রফেসার পর্যন্ত প্রত্যেকেরই পরিসংখ্যান আমি নিয়েছি।’

বিএসএমএমইউয়ে ৩৪০ শয্যার করোনা ইউনিট চালু শনিবার

মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) ৩৪০ শয্যা বিশিষ্ট করোনা ইউনিট আগামী শনিবার থেকে চালু হচ্ছে।

এরমধ্যে বিএসএমএমইউ-এর কেবিন ব্লকে ২২০ শয্যা এবং শাহবাগে বেতার ভবনে ১২০টি শয্যা থাকবে। বিএসএমএমইউ-এর করোনা ইউনিটে চিকিৎসক-নার্সসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য শয্যা বরাদ্দ থাকবে।

সোমবার (২৯শে জুন) বিএসএমএমইউ-এর মিল্টন অডিটোরিয়ামে আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের ৬০১ কোটি ৭৩ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া।

তিনি বলেন, সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন স্থাপনসহ আইসিইউ সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর কাজে করোনা ইউনিট চালু হতে দেরি হচ্ছে।

বাংলাদেশে প্রথম করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কারের দাবি 

কোভিড-১৯ এর প্রতিষেধক আবিষ্কারের জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে বিভিন্ন দেশ। এর মধ্যে অক্সফোর্ডের সম্ভাব্য ভ্যাকসিন সবচেয়ে এগিয়ে আছে বলে দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু গেল সোমবার (২৯ জুন) চীন দাবি করেছে, তারা একটি সফল ভাইরাস আবিষ্কার করেছে। ভাইরাসটি এক বছরের জন্য দেশটির সেনাবাহিনীর মধ্যে ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে এবার বাংলাদেশেও প্রথম করোনার টিকা (ভ্যাকসিন) আবিষ্কারের দাবি করেছে অন্যতম ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড।

বুধবার (০১ জুলাই) প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, তারা পশুর শরীরে এই ভ্যাকসিনের সফলতা পেয়েছেন। মানবদেহেও এর সফলতা পাওয়া সম্ভব বলে আশা করছেন তারা।

গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের রিসার্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্টের প্রধান ডা. আসিফ মাহমুদ দেশের একটি শীর্ষ দৈনিকের অনলাইনে দেয়া বক্তব্যে দাবি বলেন, ‘আসলে আমরা কাজ শুরু করার পর প্রাথমিকভাবে এটা নিয়ে সফল হয়েছি। এনিমেল মডেলে এটা সফল হয়েছে। এখন আমরা আশা করি মানবদেহেও এটা সফলভাবে কাজ করবে। আমরা বিষয়টি নিয়ে এখন সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কাছে যাব। এরপর তাদের দেওয়া গাইডলাইন অনুযায়ী পরবর্তী ধাপগুলো সম্পন্ন করবো৷’

বিষয়টি নিয়ে গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড একটি বিবৃতিও দিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এনসিবিআই ভাইরাস ডাটাবেজ অনুযায়ী মঙ্গলবার (৩০ জুন) পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী ৫ হাজার ৭৪৩টি সম্পূর্ণ জিনোম সিকোয়েন্স জমা হয়েছে। যার মধ্যে বাংলাদেশ থেকে জমা হয়েছে ৭৬টি। উক্ত সিকোয়েন্স বায়োইনফরম্যাটিক্স টুলের মাধ্যমে পরীক্ষা করে গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড তাদের টিকার টার্গেট নিশ্চিত করে। যা যৌক্তিকভাবে এই ভৌগোলিক অঞ্চলে অধিকতর কার্যকরী হবে বলে আশা করছেন তারা।

প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, উক্ত টার্গেটের সম্পূর্ণ কোডিং সিকোয়েন্স যুক্তরাষ্ট্রের এনসিবিআই ভাইরাস ডাটাবেজে জমা দিয়েছেন যা ইতিমধ্যেই এনসিবিআই কর্তৃক স্বীকৃত ও প্রকাশিত হয়েছে।

টিকা আবিষ্কারের বিষয়ে আরও বলা হয়, গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের গবেষণাগারে আবিষ্কৃত টিকাটির বিশদ বিশ্লেষণের পর ল্যাবরেটরি এনিমেল মডেলে পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করে যথাযথ এন্টিবডি তৈরিতে সন্তোষজনক ফলাফল পেয়েছেন বলে দাবি করছেন তারা।

বিষয়টি নিয়ে গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. হারুনুর রশিদ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘এই টিকাটির সুরক্ষা ও কার্যকারিতা নিরীক্ষার লক্ষ্যে আমরা ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। এই সুরক্ষা ও কার্যকারিতা পরীক্ষায় সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতা একান্তভাবে কামনা করছি।’

টিকা আবিষ্কার নিয়ে বৃহস্পতিবার (২ জুন) দুপুর ১২টায় সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানাবে গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড।

গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের এই ভ্যাকসিনের বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুম) ডা. আয়েশা আক্তার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের এখনো এমন কিছু জানানো হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী তারা বিষয়টি অফিসিয়ালি চিঠি দিয়ে আমাদের জানাবে। এরপর আমরা সেটা দেখব।’

এদিকে, বাংলাদেশে নতুন করে আরও ৩ হাজার ৭৭৫ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট ১ লাখ ৪৯ হাজার ২৫৮ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেল। এছাড়া গেল ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন আরও ৪১ জন। এ নিয়ে দেশে মোট মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৮৮৮ জন।

বুধবার (০১ জুলাই) দুপুরে করোনাভাইরাস নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে এ তথ্য জানান সংস্থাটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

এর আগে মঙ্গলবার (৩০ জুন) জানানো হয়েছিল, দেশে ৩ হাজার ৬৮৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন এবং ৬৪ জনের মৃত্যু হয়।

বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনা ভাইরাসের রোগী শনাক্ত হলেও প্রথম মৃত্যুর খবর আসে ১৮ মার্চ। দিন দিন করোনা রোগী শনাক্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ায় নড়েচড়ে বসে সরকার। ভাইরাসটি যেন ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য ২৬ মার্চ থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হয় সব সরকারি-বেসরকারি অফিস। কয়েক দফা বাড়িয়ে এ ছুটি ৩০ মে পর্যন্ত করা হয়।

ছুটি শেষে করোনার বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যেই ৩১ মে থেকে দেশের সরকারি-বেসরকারি অফিস খুলে দেয়া হয়। তবে বন্ধ রাখা হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

করোনায় আরও ৪১ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৩৭৭৫

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে করোনায় মোট মারা গেছেন ১ হাজার ৮৮৮ জন। একই সময়ে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরও ৩ হাজার ৭৭৫ জন। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ২৫৮ জন।

আজ বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এ তথ্য জানান।

 

করোনা : ওয়ারী লকডাউন করতে ঢাকা দক্ষিণ সিটিকে চিঠি

রাজধানীর ওয়ারীর কয়েকটি এলাকা রেড জোনে লকডাউন বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।আজ সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে এই চিঠি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে পাঠানো হয়েছে।  চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. এমদাদুল হক।

তিনি বলেন, আমরা সাড়ে ৫টার পর আমাদের ৪১ নং ওয়ার্ড ওয়ারীকে লকডাউন করার জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে একটি চিঠি পেয়েছি। যখন চিঠিটা পেয়েছি তখন অফিস বন্ধ হয়ে গেছে। তাই চিঠির বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম আগামীকাল গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ওয়ারীকে লকডাউন করার জন্য আমাদের প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে। আমরা আগেও একটি লকডাউন বিষয়ক সভা করেছি। এই চিঠি পাওয়ার পর দ্বিতীয় সভা ডাকা হতে পারে। আগামীকাল মেয়র মহোদয় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব নাজনীন ওয়ারেস সই করা ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য অধিদফতরের কেন্দ্রীয় কারিগরি গ্রুপের গত ২২ জুন তারিখে অনুষ্ঠিত সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ওয়ারী এলাকার নিম্ন বর্ণিত অংশকে লাল অঞ্চল (রেড জোন) হিসেবে বাস্তবায়নের জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ হতে অনুরোধ করা হয়েছে।

চিঠিতে ওয়ারীর লকডাউন এলাকার আউটার রোডের বর্ণনায় বলা হয়েছে টিপু সুলতান রোড, জাহাঙ্গীর রোড, ঢাকা-সিলেট হাইওয়ে (জয়কালী মন্দির থেকে বালধা গার্ডেন)। আর ইনার রোডের বর্ণনায় বলা হয়েছে লালমিনি রোড, হরে রোড, ওয়ার রোড, রানকিন  রোড ও নওয়াব রোড।
এ অবস্থায় রেড জোন লকডাউন বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) এর সঙ্গে প্রেরণ করা হলো। পাশাপাশি স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রস্তাবনা অনুযায়ী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪১ নং ওয়ার্ডের উল্লেখিত রেড জোন এলাকায় লকডাউন বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ ক্রমে অনুরোধ করা হলো।

প্রসঙ্গত, করোনা মোকাবিলায় বেশি আক্রান্ত এলাকাকে রেড (লাল), অপেক্ষাকৃত কম আক্রান্ত এলাকাকে ইয়োলো (হলুদ) ও একেবারে কম আক্রান্ত বা আক্রান্তমুক্ত এলাকাকে গ্রিন (সবুজ) জোন হিসেবে চিহ্নিত করছে সরকার। রেড জোনকে ১৪ থেকে ২১ দিনের জন্য লকডাউন করা হচ্ছে, সেখানে থাকছে সাধারণ ছুটি।

গত ২১ জুন মধ্যরাতে ১০ জেলার ২৭টি এলাকা ও পরদিন ২২ জুন ৫ জেলার ১২ এলাকাকে রেড জোন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে সেখানে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

সর্বশেষ গত ২৩ জুন দেশের চার জেলার ৭টি এলাকাকে রেড জোন ঘোষণা করা হয়। করোনা আক্রান্ত সবচেয়ে বেশি ঢাকায় থাকলেও সেখানে এখনও রেড জোন ঘোষণা করা হয়নি। তবে পরীক্ষামূলকভাবে রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারকে রেড জোন ঘোষণা করে সেখানে লকডাউন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

বিশ্বে প্রথম করোনার ভ্যাকসিন তৈরি করল চীন

করোনাভাইরাস প্রথম ধরা পড়ে চীনে। এখন পর্যন্ত বিশ্বে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক কোটির বেশি। এতে মারা গেছে ৫ লক্ষাধিক মানুষ।

এই ভাইরাস মোকাবেলায় বিশ্বের শতাধিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা করছে। এর মধ্যে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন এগিয়ে আছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল।

কিন্তু সবাইকে ছাড়িয়ে এবার করোনার ভ্যাকসিনের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে চীন। সোমবার (২৯ জুন) এ খবর দিয়েছে ইয়াহু নিউজ। খবরে বলা হয়েছে, দেশটির সেনাবাহিনীর গবেষণা শাখা এবং স্যানসিনো বায়োলজিকসের (৬১৮৫.এইচকে) তৈরি একটি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন মানব শরীরে প্রয়োগের অনুমতি পেয়েছে।

তবে আপাতত ভ্যাকসিন শুধুমাত্র সেনাবাহিনীর মধ্যে ব্যবহার করা হবে। স্যানসিনো বলেছে, চীনের সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশন গত ২৫ জুন এডি৫-এনকোভ ভ্যাকসিনটি সৈন্যদের দেহে এক বছরের জন্য প্রয়োগের অনুমোদন দিয়েছে। স্যানসিনো বায়োলজিকস এবং একাডেমি অফ মিলিটারির একটি গবেষণা ইনস্টিটিউট যৌথভাবে ভ্যাকসিনটি তৈরি করেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবার স্যানসিনো বায়োলজিকস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভ্যাকসিনটি চীনের বাইরেও পরীক্ষামূলক প্রয়োগ হচ্ছে। ইতিমধ্যে কানাড়ায় পরীক্ষামূলক প্রয়োগের অনুমোদনে দেয়া হয়েছে। তবে চীনের লজিস্টিক সাপোর্ট বিভাগের অনুমোদনের আগে এটি ব্যাপকভাবে সাধারণ মানুষের শরীরে প্রয়োগ করা হবে না।

খবরে বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক কারণে ভ্যাকসিনটি সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য প্রকাশ করা হবে না। এমনকি সেনাবাহিনীর সদস্যদের এই ভ্যাকসিন নেয়া বাধ্যতামূলক কিনা তাও প্রকাশ করা হয়নি।

কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভ্যাকসিনটি প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষায় দারুণভাবে সফল হওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে ভ্যাকসিনটি বাণিজ্যিকভাবে সফল হবে কিনা তা নিশ্চিত করে কিছু বলা হয়নি।

করোনাভাইরাস পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করে পরিপত্র জারি

করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার।আজ সোমবার (২৯ জুন) সরকারি হাসপাতাল ও চিকিৎসা কেন্দ্রে তিন ক্ষেত্রে তিন ধরনের ‘কোভিড-১৯ পরীক্ষা-নিরীক্ষার ইউজার ফি হার নির্ধারণ’ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে পরিপত্র জারি করা হয়।

পরিপত্র অনুযায়ী, বুথ থেকে সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষার ফি ২০০ টাকা, বাসা থেকে সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষার ফি ৫০০ ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর নমুনা পরীক্ষা ফি ২০০ টাকা।

পরিপত্রে বলা হয়, করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) আরটি-পিসিআর টেস্টের মাধ্যমে নির্ণয় করা হয়। বর্তমানে এ পরীক্ষা সরকার বিনামূল্যে প্রদান করছে, ফলে কোনো উপসর্গ ছাড়াই অধিকাংশ মানুষ এ পরীক্ষা করানোর সুযোগ গ্রহণ করছেন।

এমতাবস্থায় কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য অপ্রয়োজনীয় কোভিড টেস্ট পরিহার করতে অর্থ বিভাগের গত ১৫ জুনের সম্মতি অনুযায়ী আরটি-পিসিআর টেস্টের এই ফি/হার নির্ধারণ করা হয়েছে বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিপত্রে আরও বলা হয়, এ বাবদ আদায় করা রাজস্ব সরকারি কোষাগারে জমা করতে হবে। ‘চিকিৎসা সুবিধা বিধিমালা, ১৯৭৪’ এর আওতায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিকিৎসা সংক্রান্ত সব সুযোগ-সুবিধা বহাল থাকবে। মুক্তিযোদ্ধা, দুস্থ ও গরিব রোগীদের চিকিৎসা এবং রোগ নির্ণয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা সংক্রান্ত সরকারি আদেশ বহাল থাকবে।

দেশের সব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিশেষায়িত হাসপাতালের পরিচালক, জেলা/জেনারেল জেলা হাসপাতালের পরিচালক/তত্ত্বাবধায়ক, সব সিভিল সার্জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তাকে পরিপত্রের অনুলিপি দেয়া হয়েছে।