ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি ডিউটি ফেলে বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসক! 

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে সম্মুখ যোদ্ধা চিকিৎসকরা। চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে ইতিমধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন দেশের অনেক চিকিৎসক। তারপরও ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসকরা। অধিকাংশ সরকারি চিকিৎসকই নিয়ম মেনে হাসপাতালগুলোতে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

সরকারি হাসপাতালে নামে মাত্র খরচে চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করেছেন সরকার। কিন্তু কিছু চিকিৎসক আছেন, যারা সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা না দিয়ে সরকারি ডিউটির সময় বেসরকারি হাসপাতালে ছুটে বেড়ান। এর সত্যতা পাওয়া গেল ২৫০শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে।

গত তিনদিন সরকারি ডিউটির সময় হাসপাতালের দুতলায় ২১২নং কক্ষে গিয়ে পাওয়া যায়নি নবজাতক ও শিশু রোগ চিকিৎসক আক্তার হোসাইনকে। দুপুর পৌনে একটার দিকে কক্ষে থাকা তার সহযোগী টিপু জানান, ডা. আক্তার হোসেইন শিশু ওয়ার্ড রাউন্ডে গেছেন এক ঘন্টা আগে। সহযোগীর দেওয়া তথ্য মতে হাসপাতালের ৩য় তলায় শিশু ওয়ার্ডে গিয়েও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। ওই ওয়ার্ডের নার্স ও রোগীর স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চিকিৎসক আক্তার হোসেইন বেলা ১১টার দিকে ওয়ার্ড পরিদর্শন করে চলে গেছেন।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে বহিঃবিভাগের দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধেও। হাসপাতালের বহিঃবিভাগের ১০৯/এ কক্ষের দুই অর্থোপেডিক্স চিকিৎসক ডাঃ খান রিয়াজ মামহমুদ জিকো ও ডাঃ মোঃ সোলাইমানের বিরুদ্ধে রোগীদের রয়েছে একাধিক অভিযোগ। একজন দালালের মাধ্যমে রোগী প্রাইভেট ক্লিনিকে পাঠান। অন্যজন নিজের ভিজিটিং কার্ড দিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে পাঠিয়ে দেন৷ একজন দালালের মাধ্যমে সরকারি হাসপাতালের সামনে প্রাইভেট ক্লিনিকে ও অন্যজন কুমারশীল মোড় নিজের প্রাইভেট ক্লিনিকে রোগী পাঠিয়ে থাকেন। তা নিয়ে দুই চিকিৎসকের মধ্যে একাধিকবার কথা-কাটাকাটি হয়েছে।

এর আগে বেলা ১২টার দিকে শিশু চিকিৎসক ডাঃ আক্তার হোসেইনকে সরকারি হাসপাতালে ডিউটি ফেলে হাসপাতালের সামনে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ঢুকতে দেখা যায়। এদিকে রোগীকে ভিজিটিং কার্ড দিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে ব্যবস্থাপনা দিবে বলে ও পরিক্ষা-নিরিক্ষা জন্য দালাল দিয়ে রোগীকে ব্যক্তিগত ক্লিনিকে পাঠায়ে দিচ্ছে ডাঃ মোঃ সোলাইমান। ইতিমধ্যে প্রাইভেট ক্লিনিকে ডাঃ খান রিয়াজ মাহমুদ জিকোর ভুল চিকিৎসার কারনে রোগীর ক্ষতি হয়েছে দাবি জানিয়ে ওই রোগীর অভিভাবক। ওই ব্যক্তি সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে ৩ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।

ডাঃ আখতার হোসেন আধা ঘন্টা পর ওই হাসপাতাল থেকে বেড়িয়ে তিনি কুমারশীল মোড়ে আরও একটি হাসপাতালে ঢুকে রোগী দেখা শুরু করেন। অথচ এই সময় সরকারি হাসপাতালে গিয়ে ২১২নং কক্ষের সামনে চিকিৎসকের জন্য সাধারণ রোগীদের অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।

একই চিত্র দেখা যায় মঙ্গলবার (৭জুন) দুপুরেও। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মুঠোফোনে এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে চিকিৎসক আক্তার হোসেইন বলেন, আমি ওয়ার্ড রাউন্ড দিয়ে এই মাত্র বের হয়েছি। আছি হাসপাতালের আশেপাশেই আছি। আবার হাসপাতালে আসব, আমার একটা কাজ আছে। তিনি বলেন, গতকাল (সোমবার, ৬জুন) একটি সিরিয়াস রোগী ছিল তাই বের হয়েছিলাম। মাঠে আমি একাই আছি। অনেক চিকিৎসক নেই, সদরে ও বাইরে আমিই দেখছি রোগী। এটা অনেকে সাধুবাদ জানিয়েছে। তবে অফিস টাইমে বাইরে যাওয়া উচিৎ না।

২৫০শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক শওকত হোসেন বলেন, আমরা সরকারি অফিস সময়ে চিকিৎসকদের হাসপাতালে বাইরে চিকিৎসা দিতে নিষেধ করেছি। যদি কেউ ডিউটি ফেলে বাইরে রোগী দেখেন, নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরোও বলেন, ডাঃ খান রিয়াজ মাহমুদ জিকো ও ডাঃ মোঃ সোলাইমান এর ব্যাপারটি আমরা দেখবো।

শীতলক্ষ্যায় জাহাজের ধাক্কায় পাথর বোঝাই কার্গো ডুবি, নিহত ১

নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর বন্দর ঘাট এলাকায় এমভি সিটি ৫৪ নামে একটি জাহাজের ধাক্কায় আল কুদ্দুস নামে একটি পাথর বোঝাই কার্গো জাহাজ ডুবে একজন নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুর আড়াইটায় এই দূর্ঘটনা ঘটে। নিহত আবুল কালাম বাদল মাস্টার নামে ওই ব্যক্তি ডুবে যাওয়া বাল্কহেডে ছিলেন।

বাংলাদেশ নৌ-যান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সবুজ শিকদার জানান, ডুবে যাওয়া কার্গো জাহাজটির মাস্টারসহ ৬ জনকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাস্টারকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তবে অন্য ৬ শ্রমিক সুস্থ রয়েছেন। এ ছাড়া আর কেউ নিখোঁজ নেই।

নারায়ণগঞ্জ নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হাকিম জানান, এম ভি সিটি ৫৪ নামে একটি জাহাজের ধাক্কায় আল কুদ্দুস নামে একটি পাথর বোঝাই কার্গো জাহাজ ডুবে গেছে। এতে বাল্কহেডে থাকা চালক বাদল মাস্টার পানিতে নিখোঁজ হন। পরে তাকে উদ্ধার করে সদরের জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানকার ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ দূর্ঘটনায় আর কেউ নিখোঁজ নেই জানিয়ে বাল্কহেড উদ্ধারে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

 

সিরাজগঞ্জে পলাতক দুই আসামি গ্রেফতার

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার মালশিন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত মামলার ২ পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১২ সদস্যরা।

র‌্যাব-১২’র মিডিয়া অফিসার সহকারী পুলিশ সুপার এরশাদুর রহমান এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গোপন সাংবাদের ভিত্তিতে সোমবার সকালে ওই  এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

উল্লেখ্য, উক্ত উপজেলার সেরাজপুর গ্রামে পূর্বশত্রুতার জের ধরে হত্যার উদ্দেশ্য আসামিরা একই এলাকার জেলহকের ছেলে আনিসকে হত্যার উদ্দেশ্য মাথায় জখম করে।

এ ব্যাপারে তার বাবা বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলার এক সপ্তাহের মধ্যে ১নং ও ৪নং পলাতক আসামি জামাই শ্বশুরকে গ্রেফতার করে সংশ্লিষ্ট থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

 

ধামইরহাটে স্বাস্থ্যকর্মীসহ নতুন ১২ জন করোনায় আক্রান্ত

নওগাঁর ধামইরহাটে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুই স্বাস্থ্যকর্মীসহ নতুন ১২ জনের দেহে কোভিড-১৯ পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে।এনিয়ে ধামইরহাট উপজেলায় করোনা রোগী সংখ্যা দাড়ালো ২২  জনে। ইতিপূর্বে স্বাস্থ্য বিভাগের তদারকিতে সুস্থ্য হয়েছেন ০৮ জন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আবু ইসা মো. আরাফাত ইমাম বলেন, নতুন ভাবে ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন নার্স (মিডওয়াইফ) ও মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট এম.টি (ল্যাব) সহ ১২ জনের করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৮ জন পুরুষ ও ৪ জন মহিলা।

পরিসংখ্যানে আগ্রাদ্বিগুন ইউনিয়নে ২ জন, আলমপুরে ২ জন, উমার ইউনিয়নে ৩ জন, পৌরসভায় ১ জন,  ইসবপুর ১ ও জাহানপুর ইউনিয়নে ১ জন আক্রান্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, আক্রান্ত ১২ জনের মধ্যে ১ জন বগুড়ায়, ১ জন ঢাকায় আছেন এবং ১ জন রাজশাহী মিশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন, সবাই মোটামুটি সুস্থ্যই রয়েছেন বলে আর.এমও ডা. আবু ইসা মো. আরাফাত ইমাম বৃহস্পতিবার দুপুরে এসব তথ্য জানান। সারা দেশে কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের মাধ্যমে করোনার শনাক্তের পরিমান অসম্ভব রকম পরিমানে বাড়লেও ধামইরহাট উপজেলায় অনেকেই স্বাস্থ্য বিধি মানছেন না।

এই অবস্থায় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে উল্লেখ করে ধামইরহাট থানার ওসি আবদুল মমিন বলেন, ধামইরহাট থানা পুলিশ সার্বক্ষণিক জনসাধারণকে সচেতন করতে প্রচারাভিযান চালাচ্ছে, গতকাল (বৃহস্পতিবার) বিকেলে উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী, সংসদ সদস্যকে হত্যার হুমকি, গ্রেফতার ১

নোয়াখালীতে ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়রদের বোমা মেরে হত্যার হুমকির অভিযোগে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ১ জনকে গ্রেফতার করেছে।মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে অভিযুক্ত আসামিকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

এর আগে একই দিন দুপুরে এ ঘটনায় ডিবির (এসআই) মোহাম্মদ আশিকুর রহমান বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। গ্রেফতারকৃত জসিম উদ্দিন খন্দকার (৫০) বেগমগঞ্জের দূর্গাপুর এলাকার খন্দকার বাড়ির মৃত আব্দুল মতিনের ছেলে।

জেলা গোয়েন্দা শাখা ডিবির (ওসি) কামরুজ্জামান শিকদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘গ্রেফতারকৃত জসিম তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বোমা মেরে হত্যার হুমকি, কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য, এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়রদের হত্যার হুমকি ও গণভবন উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। পরে বিষয়টি নোয়াখালী পুলিশ সুপার ও জেলা ডিবি পুলিশের নজরে আসলে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।’

সূত্রঃ এবিএন

পাবনায় কোচিং সেন্টার চালানোর অপরাধে শিক্ষককে অর্থদণ্ড

পাবনার বেড়া উপজেলায় করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন ও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোচিং করানোর অপরাধে রবিউল ইসলাম নামের এক শিক্ষককে ছয় হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রোববার উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসিফ আনাম সিদ্দিকী উপজেলার কাজিরহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে কোচিং করানোর সময়ে তাকে হাতেনাতে আটক করে এ দণ্ডাদেশ দেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সুত্রে জানা যায়, বেড়া উপজেলার বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে করোনাকালে সরকারের নিষেধাজ্ঞা ও স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করেই কয়েকজন শিক্ষক কোচিং সেন্টার চালিয়ে যাচ্ছে। এই নিয়ে কয়েকটি প্রত্রিকায় প্রতিবেদনও প্রকাশ হয়। সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার গত (২৪ জুন) উপজেলার চাকলা, হাটুরিয়া-নাকালিয়ার বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় ও কোচিং সেন্টারে অভিযান পরিচালনা করেন।

রোববার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে কাজিরহাট বাসষ্ট্যান্ড সংলগ্ন রবিউল ইসলাম নামের এক শিক্ষকের কোচিং সেন্টারে অভিযান চালানো হয়। এসময় স্বাস্থ্যবিধি না মেনে প্রইভেটের নামে কোচিং বাণিজ্য চালানোর সময় তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শিক্ষক রবিউল ইসলামকে ছয় হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন।

এর আগে সকাল সাতটার সময় কাশিনাথপুরের কয়েকটি শিক্ষকের বাসায় অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতি টের পেয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সটকে পড়ে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসিফ আনাম সিদ্দিকী জানান, সরকারি প্রজ্ঞাপন না মেনে শিক্ষার্থীদের কোচিং করানোর অপরাধে শিক্ষক রবিউল ইসলামকে করোনা সংক্রমণ রোধ নিয়ন্ত্রণ নির্মুল ও প্রতিরোধ আইনে ছয় হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। নীতিমালা লঙ্ঘন করে প্রাইভেট-কোচিং পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে এ অভিযান চলমান থাকবে বলেও তিনি জানান।

 

সাতক্ষীরায় বিজিবি’র অভিযানে সাড়ে ৪ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার

ভারতে পাচারের সময় সাতক্ষীরার কাঁকডাঙ্গা সীমান্ত এলাকা থেকে ৪ কেজি ৫৪০ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা।রবিবার (২৮শে জুন) ভোরে, কেড়াগাছি গফফারের ঘাট এলাকা থেকে এই স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। তবে, এসময় কোন চোরাকারবারীকে আটক করতে পারেনি বিজিবি’র টহল দল।

সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি’র অধিনায়ক মোহাম্মদ গোলাম মহিউদ্দীন খন্দকার ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের জানান, স্বর্ণ চোরাচালান হচ্ছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় বিজিবি’র একটি টহল দল। কাঁকডাঙ্গা বিওপির টহল কমান্ডার হাবিলদার নূর আলমের নেতৃত্বে টহল দলটি বাংলাদেশ অভ্যন্তরে কেড়াগাছি গফফারের ঘাট এলাকা থেকে ২৪টি স্বর্ণের বার পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। যার ওজন ৪ কেজি ৫৪০ গ্রাম।

উদ্ধারকৃত স্বর্ণের বর্তমান বাজারমূল্য দুই কোটি ৬৮ লাখ ৫২ হাজার ৬৮৫ টাকা। এ ব্যাপারে বিজিবি বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

আখাউড়ায় সাংবাদিকের উপর হামলা ও ক্যামেরা ছিনতাইয়ের অভিযোগে আটক ৪

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় সংবাদ সংগ্রহের সময় ৩ সাংবাদিকের উপর হামলা ও ক্যামেরা ছিনতাইয়ের ঘটানায় ৪ জন আসামীকে আটক করেছেন আখাউড়া থানা পুলিশ।

শনিবার ২৭ জুন দিবাগত রাতে উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের মোগড়া গ্রামে পুলিশের একটি দল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাদেরকে আটক করেন।

আটককৃতরা হলেন আখাউড়ার মোগড়া ইউনিয়নের মোগড়া গ্রামের বাকের খন্দকার(৪০),আব্দুল কাদের (৩৫),আবুল কাশেম(৩০)ও জবিউল্লাহ(২০)। এই সময় আবু সায়েদ(৫৫),সুমন মিয়া(৩২),গোলাম মোস্তফা(৫০),নাঈম(১৮),রহিমা খাতুন(২৪) নামে আসামীর পলাতক রয়েছে বলে জানা যায়।

উল্লেখ্য গত ২১ শে মার্চ মোগড়া ইউনিয়নের মোগড়া গ্রামের মৃত আব্দুল ওহাব এর ছেলে শফিকুর রহমান(৫৫) এর বাড়িতে সংবাদ সংগ্রহ করতে যায় এশিয়ান টেলিভিশনের আখাউড়া উপজেলা প্রতিনিধি মোঃ অমিত হাসান আবির, দৈনিক ডোনেট বাংলাদেশের আখাউড়া প্রতিনিধি মোঃজুয়েল মিয়া এবং দৈনিক আমাদের বাংলার আখাউড়া প্রতিনিধি মোঃ ইসমাইল হোসেন।

সংবাদ সংগ্রহের সময় স্থানীয় ভূমিদস্যুরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।হামলার সময় হামলাকারীরা সাংবাদিক আবিরের ক্যামেরা ও তাদের পকেটে থাকা নগদ টাকাসহ মানিব্যাগ জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায়।হামলায় গুরুতর আহত সাংবাদিকদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে।পরবর্তীতে খবর পেয়ে আখাউড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ক্যামেরাটি উদ্ধার করে। উক্ত ঘটনায় সাংবাদিক অমিত হাসান আবির বাদী হয়ে আখাউড়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

ভুক্তভোগী শফিকুর রহমান বলেন,সাংবাদিকদের উপর হামলাকারীরা দাঙ্গাবাজ,উশৃংখল, ভূমিদস্যু ও মাদক ব্যবসায়ী।তারা দীর্ঘদিন যাবৎ ক্ষমতার অপব্যবহার করে আসছে।কাগজে পত্রে আমি জমির বৈধ মালিক হওয়া সত্ত্বেও আমার বসত বাড়ির জায়গা অবৈধভাবে দখল করিয়া রাখিয়াছে।তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে আমি আমার জায়গায় দেয়াল নির্মাণ করতে গেলে তারা আমাদের উপর হামলা করে দেয়াল নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়।সাংবাদিকদের উপর হামলার সময় বিবাদীদের ফিরানোর চেষ্টা করিলে তারা আমার বসত ঘরের দরজা,জানালা, বেড়া, বিভিন্ন গাছপালা ইত্যাদি কুপাইয়া ভাঙচুর করিয়া আনুমানিক ৪০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করে। আমাদের প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেয়।

স্থানীয়রা বলেন,শফিকুর রহমান নীরিহ প্রকৃতির লোক।স্থানীয় প্রভাবশালী আবু সায়েদ ও সুমন মিয়া তাদের দলবল নিয়ে শফিকুর রহমান ও তার পরিবারের উপর দীর্ঘদিন যাবৎ জায়গা দখলসহ অন্যায়ভাবে অত্যাচার করে আসছে।

এ বিষয়ে আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ রসুল আহমেদ নিজামী বলেন,সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় ৪ জন আসামীকে গ্রেফতার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

১ জুলাই থেকে সুন্দরবনে মাছ ধরায় ২ মাসের নিষেধাজ্ঞা

মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সুন্দরবনের সব খালে ১ জুলাই থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে বন বিভাগ। এই দুই মাস বেশিরভাগ মাছের প্রজনন মৌসুম থাকায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বন বিভাগ। এ জন্য ২৪ জুন থেকে সুন্দরবনে প্রবেশের জন্য সব পাশ ও পারমিট দেওয়া বন্ধ রেখেছে বন বিভাগ। এর আগে গেল বছরও এই দুই মাস সুন্দরবনে মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল।পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোহাম্মাদ বেলায়েত হোসেন বলেন, সুন্দরবনে মৎস্য সম্পদ রক্ষায় ইন্টিগ্রেটেড রিসোর্সেস ম্যানেজমেন্ট প্ল্যানস এর (আইআরএমপি) সুপারিশ অনুযায়ী ২০১৯ সালে সুন্দরবন বন বিভাগ একটি চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে। যার অংশ হিসেবে প্রতিবছর ১ জুলাই থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনের (পূর্ব ও পশ্চিম) সব নদী ও খালে মাছ আহরণ বন্ধ থাকবে। এই দুই মাস সুন্দরবনের নদী খালে থাকা বেশির ভাগ মাছের প্রজনন মৌসুম। যার ফলে এ সময় মাছ ধরা বন্ধ থাকলে সুন্দরবনের নদী খালে যেমন মাছ বৃদ্ধি পাবে, তেমনি অন্যান্য প্রাণি, উদ্ভিদসহ সব জীবের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রতিবছর একই সময়ে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে মাছ আহরণ নিষিদ্ধ থাকবে। এ সময়ে চোরা শিকারিরা যাতে মেতে না উঠতে পারে সে জন্য বনে টহল জোরদার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা ২৪ জুন থেকে সুন্দরবনে প্রবেশের জন্য জেলেদের পাশ পারমিট দেওয়া বন্ধ রেখেছি। ২৩ তারিখ পর্যন্ত যাদের পাশ-পারমিট দেওয়া হয়েছে তাদের অবশ্যই ৩০ জুনের মধ্যে ফিরে আসতে হবে। ৩০ জুনের পরে কাউকে বনের ভেতরে পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

করোনা উপসর্গ নিয়ে আরও এক চিকিৎসকের মৃত্যু

সিলেটে করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ডা.গোপাল শঙ্কর দে। শনিবার রাত পৌনে ৯ টার দিকে নগরীর একটি হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। অধ্যাপক ডা.গোপাল শঙ্করের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ পরিচালক ডা.হিমাংশু লাল রায়।জানা যায়, সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মানসিক রোগ বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ডা.গোপাল শঙ্কর দে করোনার উপসর্গ নিয়ে গত ২১ জুন মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ভর্তি হন। প্রথম করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। এরপর দ্বিতীয় দফার আবার পরীক্ষা করানো হয়। তবে দ্বিতীয় পরীক্ষার রিপোর্ট এখনো আসেনি।

মাউন্ট এডোরা হাসপাতালের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, ২১ তারিখ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে অধ্যাপক গোপাল শঙ্কর করোনা পরীক্ষা করান। তাতে রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। এরপর তার উপসর্গ দেখে আমরা হাসপাতাল থেকে আবার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য দেই।তবে এই পরীক্ষার রিপোর্ট এখনো আসেনি।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ জুন পর্যন্ত দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৪৭ জন এবং করোনার উপর্সগ নিয়ে ৬ জন চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে।