মহামারির মাঝে পেস্তা বাদাম খেলে মিলবে যত উপকার

ছোট্ট আণুবীক্ষণিক জীব নোভেল করোনা ভাইরাস মহামারিতে রূপ নিয়ে রীতিমতো তাণ্ডব চালাচ্ছে পুরো বিশ্বে। সংক্রমণের এই সময়ে সুস্থ থাকতে পুষ্টিগুণে ভরপুর পেস্তা বাদাম খেতে পারেন নিয়মিত। ১০০ গ্রাম পেস্তা বাদামে ৫৬২ ক্যালোরি ছাড়াও প্রচুর প্রোটিন, আঁশ, মিনারেল এবং ভিটামিন বি থাকে। জেনে নিন নিয়মিত পেস্তা বাদাম খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে-সুস্বাস্থ্য বজায়ে সহায়ক

প্রতিদিন পেস্তা বাদাম খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। এটি কোলেস্টেরল ও ট্রাইগলেসেরিড নিয়ন্ত্রণ করে যা হৃদরোগের আশংকা কমায়। সুগার লেভেলও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। এটি মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায়।

শিশুদের জন্য উপকারী

স্ন্যাকস হিসেবে শিশুদের দিতে পারেন পেস্তা বাদাম। এতে প্রচুর প্রোটিন, পুষ্টি উপাদান লুটেইন, আঁশ ও ফসফরাস থাকে।  মস্তিষ্ক ও চোখের উন্নতির জন্য লুটেইন উপকারী। পেস্তায় স্বাস্থ্যকর ফ্যাট আছে যা শক্তি জোগায়। হৃদযন্ত্র ও রক্তনালী সুস্থ রাখে পেস্তা বাদাম।

এনার্জি বাড়ায়

পেস্তায় থাকা প্রোটিন এনার্জি বাড়াতে সাহায্য করে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে

ফ্রেঞ্চ গবেষকদের মতে প্রতিদিন পেস্তা বাদাম খেলে শরীরের ওজনে কোনও পরিবর্তন হয় না। এমনকি একটু বেশি পরিমাণে পেস্তা খেলেও ওজন বাড়ে না। তাই স্ন্যাকস হিসেবে পেস্তা খেলে ওজন বৃদ্ধির জন্য কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার খাওয়াও বন্ধ হয়।

বিকালের নাস্তায় রাখুন মচমচে ডালপুরি

বিকালের নাস্তায় বানিয়ে ফেলতে পারেন মচমচে ডালপুরি। হাতের কাছে থাকা কিছু উপকরণে খুবই সহজেই এটি বানিয়ে নিতে পারবেন। জেনে নিন মচমচে ডালপুরি তৈরির রেসিপি-উপকরণ

* ময়দা- ২ কাপ
* লবণ- স্বাদ মতো
* তেল- ১ টেবিল চামচ

পুর তৈরির উপকরণ

* মসুরের ডাল- ১ কাপ
* ধনেপাতা- প্রয়োজন মতো
* শুকনা মরিচ- কয়েকটি (টেলে নেওয়া)
* টেলে নেওয়া জিরার গুঁড়া- ১/৪ চা চামচ
* শুকনা মরিচের গুঁড়া- সামান্য

যেভাবে তৈরি করবেন মচমচে ডালপুরি

প্রথমে টেলে নেওয়া শুকনা মরিচ গুঁড়া করে নিন। এরপর অল্প পানি ও লবণ দিয়ে ডাল সেদ্ধ করে নিন। পানি প্রায় শুকিয়ে গেলে জিরার গুঁড়া, মরিচের গুঁড়া ও ধনিয়া পাতা দিয়ে নেড়ে নিন। পানি পুরোপুরি শুকিয়ে গেলে নামিয়ে নিন।

এবার ময়দার সঙ্গে তেল ও পরিমাণ মতো লবণ মিশিয়ে অল্প অল্প পানি দিয়ে ডো তৈরি করুন। ডো একদম নরম করবেন না, খানিকটা শক্ত থাকবে। আধা ঘণ্টার জন্য রেখে দিন তৈরি ডো। এরপর অল্প অংশ ছিঁড়ে আঙুলের সাহায্যে ছড়িয়ে নিন। ১ চামচ ডালের পুর দিয়ে চারপাশ থেকে ডো টেনে সিল করে দিন। চারদিক থেকে বেলবেন না, যেকোনো একদিকে বেলে নিন পুরি। তেল গরম করে ভেজে তুলুন।

ব্যাস, গরম গরম পরিবেশন করুন মচমচে ডালপুরি।

ওজন কমাবে চালকুমড়া

সঠিক খাবার খাওয়া ও নিয়মিত শরীরচর্চা করা- এই দু’টি হলো ওজন কমানোর মূল নিয়ম। এগুলো যেকোনো একটি বাদ দিলে আপনি ওজন কমাতে পারবেন না এবং সঠিক মাপে পৌঁছাতেও ব্যর্থ হবেন।ওজন কমানোর কোনো শর্টকাট উপায় না থাকায় এটি রাতারাতি অর্জন করা যায় না। তবে কিছু ছোট ছোট টিপস এবং কৌশল রয়েছে যা পুরো প্রক্রিয়াটিকে ত্বরান্বিত করতে পারে। এরকম একটি উপায় হলো চালকুমড়ার রস খাওয়া। এটি আপনাকে ওজন কমাতে সাহায্য করবে। এমনটাই প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

চালকুমড়ার স্বাস্থ্য উপকারিতা

চালকুমড়া আমাদের দেশে পরিচিত একটি সবজি। এর স্বাদ হালকা, অনেকটা শসার মতো। এটি নানা রকমের খাবার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এই সবজির কিছু আশ্চর্যজনক ঔষধি গুণও রয়েছে, যার কারণে এটি আয়ুর্বেদিক ওষুধে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

চাল কুমড়া নানা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। এতে পানির পরিমাণ অনেক বেশি। ৯৬ শতাংশ পানি দিয়ে গঠিত এবং এতে ফাইবার বেশি থাকে। প্রতি ১০০ গ্রাম চাল কুমড়ায় রয়েছে খাদ্যশক্তি ১৩ কিলোক্যালরি, আমিষ ০.৪ গ্রাম,শর্করা ৩ গ্রাম, ফাইবার ২.৯ গ্রাম,চর্বি ০.২ গ্রাম,ভিটামিন সি ১০.১ মিলিগ্রাম,পটাশিয়াম ১৫০ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ১১ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ২৬ মিলিগ্রাম।

চালকুমড়া এবং ওজন হ্রাস
ফাইবার এবং বেশিরভাগ অংশ জলীয় হওয়ার কারণে চালকুমড়া আমাদের হজমে উন্নতি করতে এবং কার্যকরভাবে ওজন হ্রাস করতে সহায়তা করতে পারে। এটি দ্রবণীয় ফাইবারের একটি সমৃদ্ধ উৎস, যা হজম প্রক্রিয়া হ্রাস করে এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য পেট ভরিয়ে রাখতে পারে।

কীভাবে খেলে ওজন কমবে
চালকুমড়ার খোসা ছাড়িয়ে ছোট ছোট অংশে কেটে নিন। ভেতেরর বীজগুলো ফেলে দিন। একটি মিক্সার বা ব্লেন্ডারে চালকুমড়ার টুকরোগুলো দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিন। একটি পরিষ্কার সুতির কাপড় বা ছাকনিতে রসটুকু ছেকে নিন।। গন্ধের জন্য আপনি লেবুর রস অথবা ২-৩টি পুদিনা পাতা যোগ করতে পারেন।

কার্যকর ফলের জন্য খালি পেটে প্রতিদিন সকালে এই রস পান করুন।

দেহে প্রশান্তি আনবে আম-কমলার জুস

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতির মাঝেই চলছে ফলের মৌসুম। পুষ্টিকর কমলা বছরজুড়েই পাওয়া যায়। তবে আম বছরের একটি নির্দিষ্ট মৌসুম ছাড়া পাওয়া যায় না। সুমিষ্ট পাকা আম খেতে যেমন মজা তেমনি পুষ্টিগুণেও অনন্য।
গরমে আরাম পেতে অনেকেই আমরা জুস খেয়ে থাকি। যা নিমিষেই আমাদের শরীরকে ঠাণ্ডা করে দেয়। তাই আজ আপনাদের জন্য রইল আম-কমলার তৈরি এমন একটি জুস, যা দেহে প্রশান্তি ও পুষ্টি দুই-ই দেবে। এই দুই ফলের মিশ্রণে তৈরি হবে চমৎকার স্বাদের জুস। দেরি না করে চলুন জেনে নেয়া যাক রেরসিপিটি-আম-কমলার জ্যুস তৈরিতে যা লাগবে

* দুইটি বড় পাকা ও মিষ্টি আম।

* একটি কমলালেবু।

* আধা কাপ ফ্রেশ আনারস।

* এক চা চামচ আদা কুঁচি।

* দুইটি ডাবের পানি।

* এক চিমটি লবণ।

* স্বাদমতো চিনি (ঐচ্ছিক)।

যেভাবে তৈরি করবেন

প্রথমে সকল উপাদান একসাথে ব্লেন্ডারে দিয়ে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। ঘন টেক্সচার এবং না ছেঁকে পান করতে চাইলে লো স্পিডে রেখে ২-৩ মিনিটের জন্য ব্লেন্ড করতে হবে। ছেঁকে নিতে চাইলে ব্লেন্ড শেষে ছাঁকনিতে ছেঁকে নিতে হবে।

ব্যাস, জ্যুস তৈরি হয়ে গেলে বরফকুঁচি দিয়ে পরিবেশন করুন সুস্বাদু এই পানীয়।

ত্বকের আশ্চর্যজনক উপকারিতায় ডালিম

ডালিম বেশিরভাগ মানুষেরই পছন্দের ফল। এটি খেতে যেমন সুস্বাদু এবং এর স্বাস্থ্য উপকারিতাও অনেক। বছরজুড়ে পাওয়া এই ফলটি মানুষের দেহে রোগের ঝুঁকি কমায় এবং হার্টের গুণগত মান উন্নত করে।তবে এর পাশাপাশি ডালিম ত্বকের জন্যও অত্যন্ত উপকারি। এটি ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে এবং বয়সের ছাপ দূর করে। স্বাস্থ্যকর ত্বক পেতে এটি নিয়মিত ব্যবহার করা যেতে পারে। চলুন ত্বকের যত্নে ডালিমের আশ্চর্যজনক ৪টি উপকারিতা ও ব্যবহার সম্পর্কে জেনে নিই।

ত্বকের তৈলাক্ততা দূর করে ডালিমের বীজের তেল

ত্বকের তৈলাক্ততা দূর করতে ডালিমের বীজের তেল অত্যন্ত উপকারি। ফ্ল্যাভোনয়েড এবং পিউনিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ ডালিমের বীজের তেল আপনার ত্বকে গভীরভাবে পুষ্টি জোগায় এবং এটি আপনাকে সর্বদা সতেজ ত্বক দেয়।

ত্বক পরিষ্কারে ডালিমের বীজ

পরিষ্কার ও মসৃণ ত্বক বজায় রাখার জন্য নিয়মিত স্ক্রাব করা প্রয়োজন। আপনি এই কাজটি করতে পারেন ডালিমের বীজ দিয়ে। ডালিমের বীজের স্ক্রাব প্রস্তুত করতে আপনার যা করতে হবে তা হলো- ডালিমের বীজ পিষে এতে কিছুটা গোলাপ জল মিশিয়ে আপনার মুখে লাগান। তারপর ঠাণ্ডা পানিতে আলতো করে ধুয়ে ফেলুন।

ত্বকের টোনার হিসেবে ডালিমের রস

ডালিম প্রাকৃতিক ত্বকের টোনার হিসেবেও ব্যবহার করা যেতে পারে। ক্লিনজার দিয়ে আপনার মুখ ধুয়ে নেয়ার পরে, আপনি কিছু ডালিমের রস অ্যাপল সিডার ভিনেগারের সঙ্গে কিছুটা মিশিয়ে নিতে পারেন। এটি আপনার মুখে লাগান। তবে ডালিমের রস বেশি ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন।

ফেস প্যাকের জন্য ডালিমের রস

ডালিমের রস আপনার ত্বকের জন্য দুর্দান্ত ফেস প্যাক হিসেবেও কাজ করতে পারে। আপনাকে যা করতে হবে তা হলো মুলতানি মাটির সঙ্গে ডালিমের রস ভালোভাবে মেশান। এটি আপনার মুখে লাগান এবং এটি এক ঘন্টার জন্য রেখে দিন। এটি আলতো করে ধুয়ে ফেলুন।

কলা দিয়েই লোভনীয় আইসক্রিম তৈরি করুন বাড়িতেই

এই গরমে সবার প্রিয় একটি খাবার আইসক্রিম। নানা স্বাদের লোভনীয় আইসক্রিম নিমেষেই জুড়ায় প্রাণ। তবে করোনা মহামারির এই সময়ে আইসক্রিম খাওয়ার জন্য বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। ঘরেই তৈরি করতে পারেন সুস্বাদু সব আইসক্রিম। জেনে নিন কলা দিয়ে আইসক্রিম তৈরির সহজ রেসিপি-উপকরণ

* ৫ টি বড় সাইজের কলা (অবশ্যই ভালো পাকা হতে হবে)
* ১/২ কাপ মিল্ক পাউডার বা ১ কাপ গরুর দুধ
* ২ চামচ চিনি।

যেভাবে তৈরি করবেন

প্রথমে কলার খোসা ছাড়িয়ে ছোট ছোট টুকরো করে কাটুন। এবার কলার টুকরোগুলোকে একটি পাত্রে নিয়ে এক থেকে দুই ঘণ্টা ডিপ ফ্রিজে রেখে ভালোভাবে ঠান্ডা করুন।

যদি গরুর দুধ ব্যবহার করতে চান তাহলে দুধের মধ্যে দুই চামচ চিনি মিশিয়ে ভালোভাবে ফুটিয়ে নিন। গুঁড়া দুধ ব্যবহার করলে চিনি মেশানোর দরকার নেই।

এবার ফ্রিজ থেকে কলা বের করে মিক্সার গ্রাইন্ডারের মধ্যে নিন। তার সঙ্গে গুঁড়া দুধ বা গরুর দুধ মিশিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।
গুঁড়া দুধ ব্যবহার করলে সামান্য পানি ব্যবহার করুন। খুব ভালোভাবে মেশাবেন যেন তার মধ্যে দানা দানা ভাব না থাকে।

এবার কলা আর দুধের মিক্সার একটি ঢাকনাওয়ালা পাত্রে নিয়ে ভালোভাবে মুখ আটকে চার-পাঁচ ঘণ্টা ডিপ ফ্রিজে রেখে দিন। ৪-৫ ঘণ্টা পর ফ্রিজ থেকে বের করে ব্যানানা আইসক্রিম পরিবেশন করুন।

ভাপা ডিমের কারি রান্নার সহজ রেসিপি

ডিম তো কতভাবেই খাওয়া হয়। ভাজা, পোচ, সেদ্ধ, ভুনা- এগুলো ডিমের পরিচিত রান্না। সব সময় একইরকম না খেয়ে স্বাদ বদলের জন্য রাঁধতে পারেন ভিন্ন ধরনের কিছু। জেনে নিন তেমনই একটি রেসিপি ভাপা ডিমের কারি-উপকরণ:
৬টি ডিম
৪টি আলু ছোট সাইজের (চৌকো করে কাটা)
১টি টমেটো মাঝারি সাইজের
২টি পেঁয়াজ কুচানো
১ চা চামচ আদা রসুন বাটা
১/২ চা চামচ জিরা গুঁড়া
১/২ চা চামচ ধনে গুঁড়া
১ চা চামচ মরিচ গুঁড়া
১/২ চা চামচ হলুদ গুঁড়া
স্বাদমতো লবণ
পরিমাণমতো তেল
১টি শুকনো মরিচ আস্ত
১/৪ চা চামচ গরম মশলা গুঁড়া।

প্রণালি:
প্রথমে ডিমগুলো ভেঙে নিয়ে তার মধ্যে পরিমাণ মতো লবণ ও সামান্য হলুদ দিয়ে ভালোভাবে ফেটিয়ে নিতে হবে। এরপর একটি টিফিন বক্সে একটু তেল মাখিয়ে নিয়ে তার মধ্যে ডিমের ব্যাটার টা ঢেলে দিয়ে ঢাকনা বন্ধ করে দিতে হবে। চুলায় কড়াই বসিয়ে অল্প পানি দিয়ে তার মধ্যে একটা স্ট্যান্ড বসিয়ে তার ওপর টিফিন বক্সটা বসিয়ে দিয়ে মাঝারি আঁচে ডিম ভাপিয়ে নিতে হবে ১৫ মিনিট মতো। এরপর ঠান্ডা হলে চারপাশে একটা ছুরি দিয়ে ঘুরিয়ে নিয়ে ডিম টা বের করে নিতে হবে। তারপর ছুরি দিয়ে ইচ্ছে মতো আঁকারে কেটে নিতে হবে।

কড়াইয়ে তেল গরম করে ডিমের পিসগুলো একটু ভেজে তুলে রাখতে হবে। আলুগুলোও ভেজে তুলে রাখতে হবে। এবার কড়াইয়ে পরিমাণমতো তেল দিয়ে শুকনো মরিচ ফোড়ন দিয়ে তার মধ্যে পেঁয়াজ কুচি দিয়ে একটু লাল করে ভেজে নিন। এবার টমেটো কুচি, লবণ ও হলুদ দিয়ে একটু নেড়েচেড়ে তার মধ্যে আদা বাটা, রসুন বাটা, জিরা গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া ও ধনে গুঁড়া দিয়ে ভালো ভাবে কষাতে হবে।

মশলা কষানো হয়ে গেলে তার মধ্যে ভেজে রাখা আলু দিয়ে আরও একটু কষিয়ে নিয়ে তার মধ্যে পরিমাণমতো পানি দিয়ে ঢেকে রান্না করতে হবে। আলু সেদ্ধ হয়ে গেলে তার মধ্যে ভেজে রাখা ডিমের পিসগুলো ও গরম মশলা গুঁড়া দিয়ে আর ও পাঁচ মিনিটেও মতো রান্না করতে হবে। ঝোলটা গায়ে গায়ে হয়ে এলে ধনে পাতা কুচি দিয়ে নামিয়ে নিলেই তৈরি ভাপা ডিমের তরকারি।

মৌসুমি ফল খেলে মিলবে যত উপকার

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের এই মহামারির মাঝে চলে এসেছে ফলের ঋতু। এই মৌসুমে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, জামরুল, আনারসসহ আরও নানা ধরনের ফল থাকে বাজারে। এই ভাইরাস আতঙ্কের সময়ে মৌসুমি ফল খেতে পারেন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য। রোগ ঠেকাতে কাজে দেওয়া এসব ফল এখন খুবই সহজলভ্য। তবে বাজার থেকে কিনে এনে সরাসরি খাওয়া যাবে না ফল। কিছুক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রেখে ভালোভাবে পরিষ্কার করে ধুয়ে শুকিয়ে তারপর খাবেন। জেনে নিন কোন ফলের কী গুণ।আম

মৌসুমি ফলের মধ্যে আম হলো প্রধান। কাঁচা আম থেকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি পাওয়া যায়। জ্বর, সর্দি-কাশি এড়াতে কাঁচা আমের জুড়ি নেই। অন্যদিকে স্বাদ ও পুষ্টিগুণের দিক থেকে পাকা আমের তুলনা হয় না। পাকা আমে রয়েছে প্রচুর ক্যারোটিন। এটি যকৃতের জন্য ভীষণ উপকারী।

লিচু

লিচুর রসালো অংশটি তৃষ্ণা মেটাতে সহায়ক। কাশি, পেটে ব্যথা দূর করতেও এর জুড়ি নেই। তবে গ্যাস্ট্রিকের রোগীর এই ফল না খাওয়াটাই ভালো।

জাম

জামের রস ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুবই উপকারী। জামের কচি পাতা বেটে খেলে পেটের অসুখ ভালো হয়।

কাঁঠাল

জাতীয় ফল কাঁঠালে রয়েছে প্রচুর শর্করা, আমিষ ও ভিটামিন এ। কাঁচা কাঁঠাল তরকারি হিসেবে খাওয়া যায়। এছাড়াও কাঁঠালে রয়েছে প্রচুর ভেষজ গুণ।

বাঙ্গি

রসালো ফল বাঙ্গির পুরোটাই জলীয় অংশে ভরপুর। ভিটামিন সি, শর্করা ও সামান্য ক্যারোটিন রয়েছে এই ফলে।

তরমুজ

তরমুজে আছে লাইকোপেন, অ্যামাইনো অ্যাসিড, ভিটামিন, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও পানি। অতিরিক্ত ঘাম এবং তৃষ্ণা দূর করতে তরমুজের রস খুবই কার্যকরী। এই রস খেলে অল্পতেই ক্লান্তি দূর হয়।

আনারস

যারা জ্বরে ভুগছেন তারা নিয়মিত আনারসের রস খেতে পারেন। সুস্বাদু ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল আনারস। সর্দি-কাশিতেও আনারস খেলে উপকার পাওয়া যায়। এছাড়া কৃমি সারাতে আনারস খুবই কার্যকরী।

পেঁপে

পেঁপে প্রায় বারো মাসই পাওয়া যায়। কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে পাকা পেঁপে। কাঁচা পেঁপে ডায়রিয়া ও জন্ডিস সারায়।

কাঁচা জামরুল

রসালো ও হালকা মিষ্টি জামরুল গ্রীষ্মের অন্যতম ফল। এটি ভিটামিন বি২ সমৃদ্ধ ফল। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি খুবই উপকারী।

ঝাল আমসত্ত্ব তৈরির রেসিপি

বাজারে পাওয়া যাচ্ছে কাঁচা আম। নানারকম আচার তৈরির পাশাপাশি তৈরি করতে পারেন মজাদার আমসত্ত্বও। এটি একবার তৈরি করে অনেকদিন ধরে সংরক্ষণ করতে পারবেন। চলুন জেনে নেই ঝাল ঝাল আমসত্ত্ব তৈরির রেসিপি-উপকরণ:
কাঁচা আম আধা কেজি
চিনি ৭৫০ গ্রাম বা স্বাদমতো
লবণ স্বাদমতো
বিট লবণ স্বাদমতো
পাঁচফোড়ন সামান্য
শুকনা মরিচ ঝাল অনুযায়ী।

প্রণালি:
কাঁচা আম টুকরা করে নিয়ে সামান্য পানি দিয়ে সেদ্ধ করতে হবে। সেদ্ধ হয়ে গেলে পরিমাণ মতো চিনি, লবণ, বিটলবণ দিয়ে নেড়েচেড়ে আম একদম গলিয়ে নিতে হবে। পানি শুকিয়ে গেলে নামিয়ে ফেলতে হবে। যদি আমে আঁশ থাকে তাহলে সেদ্ধ করার পর ঠান্ডা করে ব্লেন্ড করে নিতে হবে।

শুকনা মরিচ তেল ছাড়া ভেজে আধা-ভাঙা করে আর পাঁচফোড়ন ভেজে অল্প পরিমাণে আম সেদ্ধর সঙ্গে মিশিয়ে যে পাত্রে আমসত্ত্ব দেওয়া হবে তাতে অল্প সরিষা তেল মেখে আমের মিশ্রণ পাতলা করে ছড়িয়ে রোদে শুকিয়ে নিতে হবে। রোদে দেওয়ার ব্যবস্থা না থাকলে গ্যাসের চুলার নিচে রেখে শুকিয়ে নিতে হবে।

জেনে নিন দুধের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা!

দুধে যে কত পুষ্টিগুণ রয়েছে তা হয়তো আপনি ছোটবেলা থেকেই জানেন। মা কত আদর করেই না দুধ খাওয়াতেন। কিন্তু সময়ে সঙ্গে আপনার দুধ খাওয়ার সেই অভ্যাসটা কী রয়েছে?

ছোট থেকেই দুধের উপকারিতা সম্পর্কে অনেক কথা পড়লেও, বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা অজান্তেই তাকে তালিকার বাইরে পাঠিয়ে দেই৷ কিন্তু জানেন কি দুধ আমাদের কত উপকার করে৷

হাড়ের সুরক্ষা: ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম, প্রোটিন, হাড়কে মজবুত আর শক্তিশালী করতে যা যা প্রয়োজনীয় দুধ আমাদের সেই সব চাহিদাই মেটায়৷ দুধ বা দুধ জাতীয় খাদ্যদ্রব্য শিশুদের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়৷ পরবর্তী সময়ে অনেক রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে৷

সুন্দর দাঁতের জন্য: দুধে ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাসের উপস্থিতি, আমাদের দাঁতের সুরক্ষায় সাহায্য করে৷ দাঁতক্ষয় রোধই শুধু নয়, ক্ষয়ে যাওয়া দাঁতকে আরও ক্ষয় হওয়া থেকে বাঁচাতে দুধের অবদান অনস্বীকার্য৷ তাই চিকিৎসকেরাও দুধ খাওয়ার কথা বলে থাকেন৷

রক্তচাপ: প্রতিদিন ফল-সবজির সঙ্গে পরিমাণ মতো দুধ খেলে তা রক্তচাপের ভারসাম্য ঠিক রাখতে সাহায্য করে৷ বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে যাঁদের, তাঁদের ক্ষেত্রে খুবই উপকারি৷

হৃদরোগ: হাইপারটেনশন এবং ডায়াবেটিস-এর আক্রমণের ভয় অনেকটাই কেটে যায় দুধ বা দুধ জাতীয় খাদ্য খেলে৷

স্থূলতা: মেদ নিয়ে অনেকের কপালেই ভাঁজ৷ কিভাবে মেদ কমবে, তা নিয়ে বইপত্র, ডায়েটিশিয়ান, ইন্টারনেট সব যখন অ্যাপ্লাই করে ফেলেছেন, তখন একবার ট্রাই করতে পারেন দুধ৷ প্রতিদিন যদি দুধ খাওয়ার অভ্যাস করে ফেলেন, তার ফল কিন্তু পাবেন হাতে নাতে৷