ইসি সম্পর্কে ফখরুলের বক্তব্য সম্পূর্ণ অসত্য, বানোয়াট : কাদের

নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যকে ‘আপত্তিকর’ আখ্যা দিয়ে এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে মির্জা ফখরুল ইসলামের দেওয়া বক্তব্য সম্পূর্ণ অসত্য, বানোয়াট, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলক।তিনি বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলামের এ ধরণের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলক বক্তব্য দেশবাসীকে গভীরভাবে হতাশ করেছে। সার্বভৌমত্ব ও সাংবিধানিক নিয়ম-নীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল নেতা এ ধরণের মন্তব্য করতে পারেন না।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদের আরও বলেছেন, বৃহস্পতিবার এক অনলাইন আলোচনায় মির্জা ফখরুল বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আইন সংশোধনের যে উদ্যোগ নিয়েছে, তার উদ্দেশ্য হচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে বারবার ক্ষমতায় আনা। ওয়ান-ইলেভেন থেকে এ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’ তার এমন বক্তব্য সম্পূর্ণ অসত্য, বানোয়াট, ও রাজনৈতিক শিষ্ঠাচার বহির্ভূত।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) থেকে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন সংক্রান্ত বিধানগুলো বের করে এবং এর মৌলিক বিধান অক্ষুণ্ন রেখে বাংলায় আলাদা একটি আইন করতে যাচ্ছে। প্রস্তাবিত আইনটিতে দেখা যায়, ইতোপূর্বে ব্যবহৃত অধিকাংশ ইংরেজি ও বিদেশি শব্দের পরিবর্তে ‘বাংলা শব্দ’ অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ২০২০ সালের মধ্যে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য অন্তর্ভূক্তির যে বিধান আরপিও-এ সন্নিবেশিত রয়েছে, সে বিধানটি কার্যকর করার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য একটি বাস্তবসম্মত সময়সীমা নির্ধারণের জন্যই এই সংশোধনী প্রস্তাব আনা হয়েছে। আওয়ামী লীগ এই বিধান সর্বতোভাবে কার্যকর করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

‘করোনা মহামারিতে বিপর্যস্ত অবস্থায়ও নির্বাচন কমিশন উপনির্বাচন করতে চাইছে’- মির্জা ফখরুলের এমন মন্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, এটি নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব এখতিয়ার। এতে আওয়ামী লীগের কিছু বলার বা করণীয় নেই। তবে নির্বাচন কমিশনের স্টেকহোল্ডার হিসেবে আওয়ামী লীগ জানতে পেরেছে, মূলত সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণেই নির্বাচন কমিশন করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও উপনির্বাচন করতে বাধ্য হচ্ছে।

তিনি বলেন, এসব নির্বাচনী আসনে আওয়ামী লীগের এমপি ছিলেন। আওয়ামী লীগই সেখানে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছিল। নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণেই নির্বাচন করছে, এটি তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। এখানে আওয়ামী লীগের কী-ইবা করণীয় আছে!

কাদের বলেন, সব রাজনৈতিক দলকে বুঝতে হবে, করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও পৃথিবীর অনেক দেশে সাংবিধানিক বাধ্যবাধতার কারণে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ক্রোয়েশিয়ায় নির্বাচন হয়েছে। ফ্রান্সে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয়েছে।

‘ইসি বিগত নির্বাচনগুলোতে আওয়ামী লীগকে সহযোগিতা করেছে, সেনাবাহিনীকে অকার্যকর করেছে’- বিএনপি মহাসচিবের এমন মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, এ কথাগুলো বলে তিনি কী বোঝাতে চাইছেন, তা বোধগম্য নয়। সেনাবাহিনীকে কীভাবে অকার্যকর করা হলো? সেনাবাহিনীর মত রাজনীতির উর্ধ্বে থাকা একটি জাতীয় বাহিনীকে নিয়ে এ ধরণের আপত্তিকর, দূরভিসন্ধিমূলক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য থেকে সবার বিরত থাকা উচিত। এ ধরণের বক্তব্য দিয়ে গর্বিত সেনাবাহিনীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

সেতুমন্ত্রী বলেন, মির্জা ফখরুলের কথায় মনে হচ্ছে, এদেশে ততদিন পর্যন্ত কোনো নির্বাচনই বিএনপির দৃষ্টিতে নিরপেক্ষ বিবেচিত হবে না, যতদিন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন বিএনপিকে নির্বাচনে জেতার কোন গ্যারান্টি না দেবে। মনে হচ্ছে, নির্বাচন কমিশনের কাছে বিএনপি সে ধরণের একটি ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ চাচ্ছে।

‘দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে খালেদা জিয়াকে জেল খাটতে হয়েছে, তারেক রহমানকে বিদেশে নির্বাসিত জীবন যাপন করতে হচ্ছে’- মির্জা ফখরুলের এমন বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়া ফৌজদারি আইনের অধীন দেশের প্রচলিত আদালতের বিচারে প্রথমে অভিযুক্ত ও পরে দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে ছিলেন। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। দেশের আইনি ব্যবস্থায় কেউই আইনের উর্ধ্বে নন। বরং আওয়ামী লীগ সরকার সম্পূর্ণ মানবিক কারণে সরকারের সর্বোচ্চ আইনি ক্ষমতা প্রয়োগ করে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়েছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি তাদের আজীবন কৃতজ্ঞ থাকা উচিত।

ওবায়দুল কাদের বলেন, তারেক রহমানকে আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাসনে পাঠায়নি। এদেশে ‘দুর্নীতির প্রতিভূ’-খ্যাত ফ্রাঙ্কেস্টাইন তারেক জিয়া ওয়ান-ইলেভেন সরকারের কাছে ‘আর কখনও রাজনীতি করবো না’- এ মর্মে মুচলেকা দিয়ে ও তাদের কাছে মাফ চেয়ে জেল থেকে মুক্তি পেয়ে দেশত্যাগ করেছিল। তার এই তথাকথিত নির্বাসনে আওয়ামী লীগ সরকারের কোনো ভূমিকা নেই। তবে তারেক জিয়া একজন দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি, যার কয়েদী হিসেবে জেলে থাকার কথা। সরকার তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে দণ্ড কার্যকর করার জন্য আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

একনজরে সাহারা খাতুন

মারা গেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ২৫ মিনিটে থাইল্যান্ডের বামুনগ্রাড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি।১৯৪৩ সালের ১ মার্চ ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অন্তর্গত ঢাকার কুর্মিটোলায় জন্ম গ্রহণ করেন তিনি।

ইন্টারমেডিয়েট পাশ করার পর তিনি জগন্নাথ কলেজে (বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) বি.এ-তে ভর্ত্তি হন। বি.এ(ফাইনাল) পরীক্ষার সময় অসুস্থ থাকার কারণে এক বিষয় পরীক্ষা দিতে পারেননি। পরে করাচি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজী মাধ্যমে ২য় শ্রেণিতে বি.এ(ডিগ্রি)অর্জন করেন। তারপর সেখান থেকে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন।

সাহারা খাতুন ছাত্র জীবনেই রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৬৯ সনে আওয়ামী লীগের মহিলা শাখা গঠিত হলে তিনি তাতে সক্রিয় অংশ গ্রহণ শুরু করেন।

২০০৮ সনের ২৯ ডিসেম্বরের সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৮ আসন থেকে মনোনয়ন পেয়ে বিপুল ভোটে জয় লাভ করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালে তাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর ২০১২ সালে তিনি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। ২০১৪ সনের ৫ জানুয়ারীতে তিনি পুনরায় পুনরায় ঢাকা-১৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

রাজনৈতিক জীবনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক। এছাড়াও তিনি আন্তর্জাতিক মহিলা আইনজীবী সমিতি ও আন্তর্জাতিক মহিলা জোটের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে একজন আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস করতেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে ২০০৯ সালের সময় বিডিআর বিদ্রোহ শুরু হলে তিনি তৎকালীন বিডিআর’র বিদ্রোহী সৈনিকদের আত্মসমর্পণ করতে উৎসাহীত করেন ও অস্ত্র জমা দিতে বলেন।

১০ দিনেই করোনা জয় করলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। মাত্র দশ দিনে সুস্থ হয়ে আজ শনিবার হাসপাতাল ছেড়েছেন তিনি।

শনিবার এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে (সাবেক এ্যাপোলো) মন্ত্রী ঢাকার নিজ বাসায় ফিরে যান বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী তুহিন। গেলো ১৭ জুন প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তিনি এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা বলেন, চিকিৎসকরা প্রতিনিয়ত স্যারকে চিকিৎসা দিয়েছেন। এর মধ্যে আরও দুইবার করোনা টেস্ট করেছেন, দুইবারই রেজাল্ট নেগেটিভ এসেছে। বর্তমানে স্যারের শরীরে কোনো সমস্যা নেই। তাই আজ দুপুরে ডাক্তাররা তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড় দিয়েছেন। তবে তাকে আরো দেড় সপ্তাহ বাসায় আইসোলেশনে থাকতে হবে বলে জানান তুহিন।

ভুতুড়ে বিলের মাধ্যমে সরকার জনগণের রক্ত চুষে নিচ্ছে: রিজভী

বিদ্যুতের ‘ভুতুড়ে’ বিলের মাধ্যমে সরকার সিরিঞ্জ দিয়ে জনগণের রক্ত টেনে নিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম বছরে একাধিকবার পরিবর্তনের সুযোগ রেখে সংসদে উত্থাপিত সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে শনিবার আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপি মুখপাত্র বলেন, ‘বাড়িতে বাড়িতে বহু লোক আমাদের বলছেন- যেখানে বিদ্যুৎ বিল হওয়ার কথা ১ হাজার থেকে ১১-১২শ’ টাকা। সেখানে ২০ হাজার ২৫ হাজার টাকা বিল আসছে।’

তিনি বলেন, ‘এই ভুতুড়ে বিলের জন্য গণমাধ্যমে অনেক প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। সরকারের এদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই, সরকার এদিকে তাকাচ্ছেন না।’

রিজভী বলেন, ‘তারা নির্লজ্জভাবে গায়ের জোরে আবার বছরে কয়েকবার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করছে। এখন সিরিঞ্জে করে যেমন রক্ত টান দেয়, এই সরকার জনগণের শরীরে সিরিঞ্জ দিয়ে রক্ত টান দিচ্ছে এই বিদ্যুৎ-জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করে।’

সংসদে উত্থাপিত বিলের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের (সরকার) টাকা দরকার। এই টাকা কোথায় যাচ্ছে জানেন? এটাও গতকাল বিভিন্ন পত্রিকায় বেরিয়েছে- ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি সুইস ব্যাংকের জমা আছে। এই টাকা কার? এই টাকা মন্ত্রীদের, এই টাকা আমলাদের, এই টাকা ক্ষমতাসীন দলের লোকদের।’

করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে বিএনপি মুখপাত্র বলেন, ‘মানুষ মরছে, অক্সিজেন সিলিন্ডার নেই, অক্সিমিটার নেই, চিকিৎসা নেই ঢাকার কয়েকটি হাসপাতাল ছাড়া। অনেক কথা হয়তো গণমাধ্যমে আসছে কিন্তু সব আসছে না।’

প্রধানমন্ত্রী ‘সম্রাটের মতো’ দেশ শাসন করছেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘কোনো এক দেশের সম্রাট বলেছিলেন- আই অ্যাম ‘ল, আমিই হলাম আইন। শেখ হাসিনা হলেন সেই সম্রাটের মতো। আমিই আইন, আমি যেটা বলব, সেটাই মানতে হবে। কিসের পার্লামেন্ট। এই নিশিরাতে পার্লামেন্ট জো হুকুমের পার্লামেন্ট।’

নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ‘ফিউচার অব বাংলাদেশ’ এর উদ্যোগে বিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম বৃদ্ধি সংক্রান্ত বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন (সংশোধন)-২০২০সংসদে উত্থাপনের প্রতিবাদে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে মহানগর দক্ষিণের সহসভাপতি নবী উল্লাহ নবী, ফিউচার অব বাংলাদেশের শওকত আজিজ, সাজ্জাদুল হানিফ বক্তব্য রাখেন।

এ সময় সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা কেজি সেলিম, ফয়সাল প্রধান, আহম্মেদ উল্লাহ, জুনায়েদ চৌধুরী, বাবু তানভীর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সূত্রঃ এবিএন

সাহারা খাতুনের শারীরিক অবস্থার অবনতি, ফের আইসিইউতে

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে।  তাকে ফের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করে অক্সিজেন ভেন্টিলেশন দেওয়া হচ্ছে।আজ শুক্রবার (২৬ জুন) সাহারা খাতুনের ব্যক্তিগত সহকারী মুজিবুর রহমান এ কথা জানিয়ে বলেন, সকাল ১১টার দিকে হঠাৎ করেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত হাই ডিফেন্সি ইউনিট (এইচডিইউ) থেকে আইসিইউতে স্থানান্তর করেন। তার হার্টবিট বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো প্রায়। এখন তাকে অক্সিজেন ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে।

সাহারা খাতুনের পরিবার তার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন বলেও জানান মুজিবুর।

শারীরক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় গত সোমবার তাকে আইসিইউ থেকে এইচডিইউতে আনা হয়েছিলো।

৭৭ বছর বয়সী সাহারা খাতুন জ্বর, অ্যালার্জির সমস্যাসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় আক্রান্ত। গত ৩ জুন শ্বাসকষ্ট নিয়ে তিনি ইউনাইডেট হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালের মেডিক‌্যাল কনসালটেন্ট আফসানা আরার তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে।

উল্লেখ্য, সাহারা খাতুন ২০০৮ সাল থেকে টানা তিন মেয়াদে ঢাকা-১৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ২০০৮ সালে মহাজোট ক্ষমতায় এলে প্রথমে তাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী করা হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পালন করেন।

সংসদ থেকে ‘ওয়াকআউট’ হারুনের: স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি

চলতি বাজেট অধিবেশনে অংশ নিয়ে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ থেকে ‘ওয়াকআউট করেছেন বিএনপির সদস্য হারুন-অর-রশীদ।

ওয়াকআউটের আগে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি দেশের করোনা পরিস্থিতিতে ব্যর্থতার দায়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।

মঙ্গলবার বেলা ১টার দিকে হারুন-অর–রশীদকে ১২ মিনিট আলোচনার সুযোগ দেন ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া। শুরুতেই হারুন তার সময় আরও বাড়িয়ে দেওয়ার আরজি জানান স্পিকারের কাছে।

হারুন-অর–রশীদ তার বক্তৃতা শুরু করেন ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ দিয়ে। তখন স্পিকার তাকে থামিয়ে এভাবে শুরু করার কারণ জানতে চান।

তখন বিএনপির এই এমপি বলেন, তিনি এটা বলেছেন, তার কারণ আছে। বক্তব্যের শেষের দিকে তিনি তার ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

এই বিষয়ে ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, ‘এমনভাবে শুরু আমার সাতবারের সংসদ সদস্য জীবনে দেখিনি। আপনাকে (হারুন-অর রশীদ) অবশ্যই এর ব্যাখ্যা দিতে হবে।’

বক্তব্যের একপর্যায়ে হারুন-অর-রশীদ বলেন, ‘স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেছেন, করোনা দু-তিন বছরেও যাবে না। এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ডিজি। তাহলে এই করোনা আমাদের জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ। এটাকে মোকাবিলা করার জন্য জাতীয় ঐক্য দরকার।’

তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্যের জন্য বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছে, তা প্রত্যাহার করতে হবে। এই কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে সরকারদলীয় সাংসদেরা হইচই শুরু করেন।

এ সময় হারুন-অর-রশীদ বলেন, ‘হইচই করে লাভ নেই। চিল্লাচিল্লি করে কোনো লাভ হবে না। জনগণের কাছে বার্তা যাচ্ছে যে আপনারা সত্য তথ্যগুলো তুলে ধরা থেকে বঞ্চিত করছেন।’

এ পর্যায়ে হারুন-অর–রশীদের সময় শেষ হয়ে গেলে মাইক বন্ধ হয়ে যায়। তিনি মাইক ছাড়াই কথা বলতে থাকেন। এ সময় অন্য সদস্যরা হইচই করতে থাকেন।

এ সময় স্পিকার বলেন, ‘হইচইয়ের জন্য আমি নিজে দুঃখ প্রকাশ করছি। তবে আপনি যে দুজন ব্যক্তির নাম উচ্চারণ করেছেন, আমি ডেপুটি স্পিকার হিসেবে তাদের নাম উচ্চারণ করতে পারি না। কারণ দুজনই কনভিক্টেট। পার্লামেন্টে বসে কীভাবে কনভিক্টেডের বিষয়ে কথা বলতে পারি!’

হারুন-অর–রশীদ তার বক্তব্যে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ বলে উল্লেখ করেন। এটাও সংসদের কার্যপ্রণালী থেকে বাদ দেওয়া হবে বলে জানান ডেপুটি স্পিকার।

এরপর হারুন-অর–রশীদের মাইক অন হয়। এ সময় তিনি বলেন, ‘সংসদ নেতার (প্রধানমন্ত্রী) কথায় আপনি আমাকে সময় বাড়িয়ে দিয়েছেন। আমার কথার মধ্যে স্পিকার হয়ে বাধা দিয়েছেন। এটা দুঃখজনক। এ জন্য আমি ওয়াকআউট করছি।’

এ সময় ফজলে রাব্বী মিয়া সরকারদলীয় সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘হারুন-অর-রশীদের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার জন্য আমি যথেষ্ট। আমি আন-পার্লামেন্টারি কিছু হতে দেব না। এটা সরকারি দলের সাংসদ হলেও আমি ইন্টারাপ্ট করব।’

ওয়াকআউটের আগেই দেশের করোনাভাইরাস পরিস্থিতি তুলে ধরে সংসদে থাকা প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে হারুন-অর-রশীদ বলেন, ‘সরকারের লোকজন, বিএমএ বলছে- করোনায় মৃত্যুর দায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের। এই দুঃসময়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কি কোনো কভিড হাসপাতাল ভিজিট করেছেন? ১০ দিন ধরে ফোন করে ও বার্তা দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সাড়া মিলছে না। ব্যর্থতার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সরিয়ে দেন। কমিটমেন্ট আছে, এমন ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেন।’

কারও নাম উল্লেখ না করে বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। এই সংসদে এমন ব্যক্তি এসেছেন, যিনি মাদক পাচারের শীর্ষে। তিনি কীভাবে সংসদে এলেন? তার স্ত্রী কীভাবে সংসদে এলেন? সরকারের আশ্রয়-প্রশ্রয় না থাকলে সংসদে আসতে পারতেন না।

হারুন-অর-রশীদ বলেন, পুলিশের আইজিপি বেনজীর আহমেদ নসিহত দিচ্ছেন। সৎ হতে হবে। ১০ বছর ধরে শীর্ষ পদে আছেন তিনি। গত নির্বাচনে যারা মানুষের আমানত নষ্ট করেছেন, এর জবাবদিহি করতে হবে না? এই পুলিশ দিয়ে সৎ প্রশাসন গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে আ.লীগের শ্রদ্ধা

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে আওয়ামী লীগ।

আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) আওয়ামী লীগের ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী।

স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ কর্মসূচিতে অংশ নেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা।  এসময় মাস্ক হ্যান্ডগ্লাভসসহ স্বাস্থ্যবিধিতে নির্দেশিত উপকরণ ব্যবহার করতে দেখা যায় দলটির নেতাদের।

উল্লেখ্য, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন যাত্রা করা আওয়ামী লীগ ৭১ বছর পূর্ণ করল মঙ্গলবার।

 

আওয়ামী লীগের ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

আজ ২৩ জুন। ১৯৪৯ সালের এই দিনে ঢাকার কেএম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে জন্ম নেয়া দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধসহ সব আন্দোলন-সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়া দলটি এবার পা রাখছে ৭২ বছরে। দীর্ঘ এই পথচলায় এসেছে বাধা-বিপত্তি-দুর্যোগ-দুর্বিপাক।

১৯৪৭ সালে সম্পূর্ণ পৃথক দুটি ভূখণ্ড, স্বতন্ত্র ভাষা ও সংস্কৃতির অঞ্চল নিয়ে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার মাত্র ৪ মাস ২০ দিনের মাথায় ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি তখনকার তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান গঠন করেন সরকারবিরোধী ছাত্র সংগঠন পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ। এরই ধারাবাহিকতায় পরের বছর ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার স্বামীবাগে কেএম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর উদ্যোগে আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে গঠন করা হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ। মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী সভাপতি, টাঙ্গাইলের শামসুল হক সাধারণ সম্পাদক, শেখ মুজিবুর রহমানকে (কারাবন্দি ছিলেন) যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত হয় আওয়ামী (মুসলিম) লীগের প্রথম কমিটি।

১৯৫৫ সালে এই দল ধর্মনিরপেক্ষতাকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে। দলের নামকরণ হয় ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ।’ মুক্তিযুদ্ধের পর ‘পূর্ব পাকিস্তান’ বাদ গিয়ে দলটি ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’ নামে কার্যক্রম শুরু করে। এ দলের মাধ্যমে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে বাংলার জনগণকে বাঙালি জাতীয়তাবাদের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে স্বাধিকার আদায়ের জন্য ঐতিহাসিক ৬ দফা ঘোষণা করেন। সেই ৬ দফা আন্দোলনের পথ বেয়েই ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭০-এর নির্বাচনে বাঙালির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ ও ’৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।

স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর অনেকটা অস্তিত্ব সংকটেই পড়ে আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে আবদুল মালেক উকিল-জোহরা তাজউদ্দীনের দৃঢ়তায় সংকট কাটিয়ে উঠতে শুরু করে দলটি। ১৯৮১ সালে দলের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর দেশে ফিরতে সক্ষম হন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১৯৯৬ সালে তার নেতৃত্বেই ২১ বছর পর সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আবার সরকার গঠন করে দলটি। এরপর টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ।

 

রাত ১২টায় ডাকসু’র পদ ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা গোলাম রাব্বানীর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্ধারিত মেয়াদের অতিরিক্ত এক মিনিটও পদে থাকতে চান না বলে জানিয়েছেন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) গোলাম রাব্বানী।  নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ায় আজ সোমবার মধ্যরাতে নিজের পদ ছেড়ে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।সোমবার বিকালে ফেসবুকে নিজের ভেরিফাইড আইডিতে এক স্ট্যাটাসে ছাত্রলীগের পদচ্যুত সাধারণ সম্পাদক এই ঘোষণা দেন।

ছাত্রলীগের আলোচিত এই নেতা ফেসবুকে লিখেন: ‘ডাকসুর বিষয়ে আমার বক্তব্য একদম স্পষ্ট। নির্ধারিত মেয়াদের অতিরিক্ত এক মিনিটও পদে থাকতে চাই না। আজ রাত ১২.০০ ঘটিকায় পদ ছেড়ে দেব।’

গোলাম রব্বানী লিখেন, ‘বল তখন থাকবে ডাকসুর সম্মানিত সভাপতি, মাননীয় উপাচার্য মহোদয় এর কোর্টে… আমাদের দাবি থাকবে, করোনা দুর্যোগকালীন উদ্ভুত পরিস্থিতিতে যেহেতু আমাদের ৩৬৫ দিনের বৈধ মেয়াদের আগেই অর্থাৎ ১৮ মার্চ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম বন্ধ। তাই আমাদের অসমাপ্ত কাজ, বিশেষ করে, মাস্টার প্লান বাস্তবায়নে সহায়তা এবং ডাকসুর শিক্ষার্থী সহায়তা ফান্ডে আমার ব্যক্তিগত কন্টিনজেন্সি ফান্ডের অর্থসহ ডাকসুর অব্যবহৃত বাজেটের টাকা হস্তান্তরের মাধ্যমে অধিকসংখ্যক শিক্ষার্থীকে মানবিক সহায়তা প্রদান করতে চাই।’

জিএস বলেন, ‘আর অবশ্যই চাই, ডাকসু নির্বাচনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকুক। সেক্ষেত্রে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ামাত্র বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে পরবর্তী নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করতে হবে। ২৮ বছরের অচলায়তন ভেঙে সচল হওয়া ডাকসুকে আর অচল দেখতে চাই না।’

গোলাম রব্বানী লিখেছেন, ‘করোনা দুর্যোগের জন্য যে সাড়ে তিন মাস আমরা কাজ করতে পারিনি, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সে সময়টুকু আমাদের প্রাপ্য, আর সেই সময়ের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরবর্তী নির্বাচনও আয়োজন করে ফেলতে পারবে। তাহলে ডাকসুর গঠনতন্ত্র (৬ এর গ ধারা) মেনেই আমরা নতুন নেতৃত্বের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে পারবো।’

‘এটুকু শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আমাদের যৌক্তিক দাবি। আর সম্মানিত উপাচার্য মহোদয় ডাকসুর কমিটি ভেঙে দিয়েও যদি উক্ত দাবি মেনে নেন, আমার কোনো আপত্তি নেই।’

প্রসঙ্গত, প্রায় ২৮ বছর পর গত বছরের ১১ মার্চ ডাকসু নির্বাচন হয়। এতে ২৫টি পদের ২৩টিই ছাত্রলীগের দখলে যায়। শুধু ভিপি ও সমাজসেবা সম্পাদক পদে জয়ী হন কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্রার্থী নুরুল হক নূর ও আখতার হোসেন।

দুর্দিনে শ্রমিক ছাঁটাই না করার আহ্বান ওবায়দুল কাদেরের

করোনা সংকটের এই দুর্দিনে শ্রমিকদের ছাঁটাই না করার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।তিনি বলেন, শ্রমিকরা সুদিনে মালিকদের মুনাফা এনে দিয়েছে। দেশের এই সংকটকালে ছাঁটাইয়ের মতো অসন্তোষ উদ্রেককারী সিদ্ধান্তের খবর মড়ার উপর খাঁড়ার ঘার মতো অবস্থা হবে।

আজ সোমবার (৮ জুন) সরকারি বাসভবন থেকে অনলাইন ব্রিফিংকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, শুধু ব্যবসা নয়, অসহায় মানুষগুলোর প্রতি সহমর্মী হয়ে ছাঁটাই না করার জন্যও মালিকদের প্রতি অনুরোধ জানাই।

গণপরিবহনে দূরপাল্লায় অভিযোগ না থাকলেও শহর এলাকায় ভাড়া বাড়ানোর কিছু অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, মালিক-শ্রমিকদের পাশাপাশি যাত্রীদেরও এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে।

তিনি সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও যাত্রীদের থেকে বাড়তি ভাড়া না নিতে মালিক-শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঘরে ঘরে সুরক্ষা ও সচেতনতার দুর্গ গড়ে তুলতে হবে। এ সংকট মোকাবিলা করে আমরা চিরচেনা সজীবতায় ফিরে আসবো এবং সংকটের মেঘ অচিরেই কেটে যাবে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায়।

মন্ত্রী সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরতদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, করোনা এবং অন্য রোগীর সেবায় মানবিক হোন। ইতোমধ্যে চিকিৎসা না পেয়ে হাসপাতাল ঘুরে ঘুরে অনেকের মৃত্যুবরণের মতো ঘটনাও ঘটেছে। তাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে মানবিক আচরণ ও সহানুভূতিশীল হতে হবে।

তথ্যসূত্রঃ এবিএন