করোনা ভাইরাস: কিস্তিতে বিল পরিশোধের সুবিধা কি সরকার দেবে?

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরুর পর থেকে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির বিল নেয়া বন্ধ থাকায় এখন মানুষজনকে একসাথে তিন চার মাসের বিল দিতে হচ্ছে। অনেকে অভিযোগ করছেন মিটার না দেখে ইচ্ছামতো বিল ধরা হয়েছে।দিন দশেক আগে বিদ্যুৎ, খনিজ ও জ্বালানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, ৩০শে জুনের মধ্যে বকেয়া বিল না দিলে জরিমানা ও সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে। এরপর শিল্পখাতের নেতৃবৃন্দ কিস্তিতে বিল পরিশোধ করার সুবিধা দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

বকেয়া বিল নিয়ে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে

ঢাকার মগবাজারের বাসিন্দা রাজিয়া সুলতানা ও তার পরিবার একটি ভবনের মালিক। সেখানে দশটি ফ্ল্যাট ভাড়া দেয়া রয়েছে। সব ধরনের বিল ভাড়ার টাকার মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত করা।

রাজিয়া সুলতানা বলছেন গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির বিল বাবদ ১০ টি ফ্ল্যাটে সবমিলিয়ে বিল এসেছে ৮০ হাজার টাকার মতো।

কয়েকজন ভাড়াটিয়ার অনুরোধের পর ভাড়া কমিয়েছেন তিনি। নিচতলায় একটি ফ্ল্যাটে তিনমাস ভাড়াই পাননি।

তিনি বলছেন, “একবারে এতগুলো টাকা দেয়া একটা সমস্যা না? সরকার সুবিধা তো দিলোই না উল্টা আরও অসুবিধা করে ফেললো। একসাথে এত বিল সরকারের কারণেই জমল। এখন বলছে ৩০ তারিখের মধ্যে বিল না দিলে লাইন কাটা হবে।”

তিনি বলছেন, বিদ্যুতের ক্ষেত্রে যত বেশি ইউনিট ব্যবহৃত হবে, ইউনিট প্রতি মূল্যও বাড়তে থাকবে। এখনকার নিয়ম অনুযায়ী সর্বনিম্ন ৫০ ইউনিট ব্যবহার করলে ইউনিট প্রতি দাম ৩ টাকা ৫০ পয়সা।

চারশোএক থেকে ৬০০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহার করলে ইউনিট প্রতি দাম হবে ৯ টাকা ৩০ পয়সা। যদি ৬০০ ইউনিটের বেশি ব্যবহৃত হয় তাহলে ১০ টাকা ৭০ পয়সা।

রাজিয়া সুলতানা বলছেন, “মিটার না দেখে উল্টাপাল্টা বিল দিয়ে গেছে। রিডিং না দেখে আমার ইউনিট ব্যবহার বেশি দেখালে বিদ্যুতের বিলও বেশি আসবে। এই সমস্যা নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসে দৌড়াদৌড়ি করলাম। তারা বলছে কিছু করতে পারবে না।”

দেরিতে বিল নেয়া সম্পর্কে এর আগে যা বলা হয়েছে

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে সাধারণ ছুটি শুরুর পর, সরকার ঘোষণা করেছিল যে ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত আবাসিক গ্রাহকদের বিদ্যুৎ ও গ্যাস ব্যবহারের বিলম্বিত বিল পরিশোধে কোনো অতিরিক্ত জরিমানা নেয়া হবে না।

এরপর তাতে জুন মাসও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। গ্রাহকরা সাধারণত বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে থাকেন।

এসব জায়গায় গ্রাহকরা করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হতেন পারেন সেই আশংকা থেকে দেরিতে বিল পরিশোধের এই সুবিধা ঘোষণা করা হয়েছিল।

এই পুরো সময়ে বাসাবাড়িতে বিলের কাগজ দেয়া হয়নি। বিল জমা নেয়াও বন্ধ ছিল।

ঢাকার মোহাম্মদপুরে বোরকা ও গুড়ো মশলা প্রস্তুতকারী দুটো কারখানা এবং একটি শোরুমের মালিক কামরুন নাহার। তিনি বলছেন সাধারণ ছুটি চলাকালীন তার কারখানা ও শোরুম পুরোটাই বন্ধ ছিল।

এরপরও কিভাবে এত বিদ্যুৎ বিল এলো সে নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলছেন, “সবকিছু চলার পরও সবমিলিয়ে আমার সাত আট হাজার টাকা বিল আসে। এর কমও আসে। যেখানে কোন প্রকার ইলেক্ট্রিসিটি ব্যবহারই করা হয়নি, আমার ফ্যাক্টরি বন্ধ ছিল, শোরুমের এসি, লাইট, ফ্যান কিছু চলেনি তারপরও এর থেকে বেশি বিল আসছে। এত বিল কোথা থেকে আসলো?”

যা বলছেন প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ

এরকম অভিযোগ আরও অনেকেই করছেন। একই বিল দুবার পাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ বিলের ক্ষেত্রে অভিযোগ বেশি উঠছে।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই এ মাসের মাঝামাঝি সময়ে বিদ্যুৎ, খনিজ ও জ্বালানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এক প্রেস ব্রিফিং-এ বলেছিলেন ৩০শে জুনের মধ্যে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বকেয়া বিল পরিশোধ না করলে জরিমানা করা হবে এবং সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হবে।

নসরুল হামিদ বিবিসিকে বলেছেন, “এরকম সমস্যা যে হবে তা আগে আমরা বলে রেখেছিলাম। যে আমরা তিন মাস বিল নেবো না। এরপর আপনাকে বিলটা দিতে হবে। তো সেইভাবে যেন আপনারা প্রস্তুত থাকেন।”

“এখন বাসাবাড়ি থেকে বিল দিচ্ছে না, ইন্ডাস্ট্রিগুলোও বিল দিচ্ছে না। যে বিল কালেকশন হয় তা মাসে চার হাজার কোটি টাকা। এর মাত্র দশ শতাংশ কালেকশন হয়েছে। আমি যদি বিল কালেকশন না করি তাহলে যাদের কাছ থেকে আমরা বিদ্যুৎ কিনেছি তাদের পেমেন্ট কিভাবে করবো? পাওয়ার প্ল্যান্টই বন্ধ হয়ে যাবে।”

অন্যদিকে শিল্পখাতের নেতৃবৃন্দ ইতিমধ্যেই ছয় মাসের কিস্তিতে বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল পরিশোধের সুবিধা চেয়েছেন। ছয়মাসের পানির বিল মওকুফের অনুরোধও এসেছে। তবে এব্যাপারে এখনো কোন সিদ্ধান্তের কথা জানায়নি সরকার।

তথ্যসূত্রঃ এবিএন

করোনা : আরও ৫ জেলার ১২ এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা

করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) অতি ঝুঁকিতে থাকা দেশের ৫ জেলার ১২ এলাকাকে রেড জোন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে সেখানে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার।সোমবার (২২ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া,নরসিংদী ও কুষ্টিয়ার ১২টি রেড জোন অঞ্চলে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে আদেশ জারি করেছে।

এর আগে গতকাল মধ্যরাতে চট্টগ্রাম, বগুড়া, চুয়াডাঙ্গা, মৌলভীবাজার, নারায়ণগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, কুমিল্লা, যশোর ও মাদারীপুরের ২৭টি রেড জোন এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে আদেশ জারি হয়।

আদেশে বলা হয়, রেড জোন ঘোষিত এলাকায় বসবাসরত সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ ও বেসরকারি অফিস, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এ ছুটি প্রযোজ্য হবে। এই ছুটির মধ্যে সাপ্তাহিক ছুটি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

এছাড়া রেড জোন ঘোষিত এলাকায় অবস্থিত সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ ও বেসরকারি অফিস, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থায় কর্মরত ও অন্য এলাকায় বসবাসরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও এ ছুটি প্রযোজ্য হবে।

সাধারণ ছুটি চলাকালে এসব এলাকার লোকজনের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এছাড়া জরুরি পরিষেবা এ সাধারণ ছুটির বাইরে থাকবে বলে আদেশে বলা হয়েছে।
আদেশ অনুযায়ী এসব এলাকায় ২১ জুন থেকে বিভিন্ন মেয়াদে সাধারণ ছুটি থাকবে। কোন কোন রেড জোনে কোন ২১ দিন সাধারণ ছুটি থাকবে আদেশে তাও নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।

এবিএন/জনি/জসিম/জেডি

করোনা পরিস্থিতির অবনতি হলে ফের সাধারণ ছুটি

দেশে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে গেলে সরকার ফের সাধারণ ছুটিতে ফিরে যাবে। এ জন্য আগামী ১৫ জুন পর্যন্ত সবকিছু গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কার মধ্যেই টানা ৬৬ দিনের ছুটি শেষে গত ৩১ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন নির্দেশনা মানা সাপেক্ষে সীমিত পরিসরে সরকারি-বেসরকারি অফিস খুলে দেয়া হয়। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বন্ধ থাকা গণপরিবহনও (বাস, লঞ্চ, ট্রেন) চালু হয়।  কিন্তু করোনা পরিস্থিতির উন্নতি নেই।

সরকারের নীতিনির্ধারকরা জানান, এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও শ্রমজীবী, গরিব, খেটে খাওয়া, স্বল্প আয়ের মানুষের জীবিকা এবং দেশের অর্থনীতির কথা বিবেচনা করে সাধারণ ছুটি ও লকডাউন তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে এই পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটলে ও ভয়ঙ্কর পর্যায়ে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে অন্য কোনো উপায় থাকবে না। বাধ্য হয়ে পুনরায় সাধারণ ছুটি ও লকডাউন দেওয়া হবে। সরকারের উচ্চ পর্যায়ে এমন সিদ্ধান্তই রয়েছে।

তারা জানান, এই সময়ে করোনা সংক্রমণের প্রকৃত অবস্থা বোঝার জন্য পরীক্ষা আরও বাড়ানো হবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে বলে ওই নীতিনির্ধারকরা জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারের একজন মন্ত্রী গণমাধ্যমকে বলেন, ১৫ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আগামী এক সপ্তাহ কঠোরভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। সংক্রমণের এই মাত্রা আরও বাড়লে পুনরায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা ও লকডাউন দিয়ে তা কার্যকর করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সংক্রমণ পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যেতে থাকলে ফের ছুটি দেয়া হবে কিনা- জানতে চাইলে আজ বুধবার (৩ জুন) দুপুরে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, আমরা যদি দেখি আমাদের ব্যাপক অবনতি ঘটছে তাহলে তো আমাদের (ছুটিতে যাওয়া ছাড়া) বিকল্প কিছু থাকবে না। আমাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডগুলো চালিয়ে নেয়ার জন্যই এটা খুলে দেয়া হলো।

তিনি বলেন, মানুষ যাতে মাস্ক পরে নিরাপদ দূরত্বে থাকে, আমরা সেটা বলছি। যখন মানুষ এটা করতে ব্যর্থ হবে এবং এটা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে। তখন তো ঘরে থাকা ছাড়া উপায় থাকবে না।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা জানি যে ৮৫ শতাংশ করোনা আক্রান্ত রোগী ঘরে বসেই চিকিৎসা নিতে পারবে। সংক্রমণ যাতে না বাড়ে সেজন্য আমরা ব্যাপকভাবে চেষ্টা করছি। ছোট দেশ বিশাল জনসংখ্যা, ম্যানেজ করা কঠিন হচ্ছে। আমরা পুলিশ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কঠোরতা অবলম্বন করছি ইতোমধ্যে।

মানুষের চলাচল বাড়লে করোনা সংক্রমণ আরও বাড়বে জানিয়ে ফরহাদ হোসেন বলেন, বিভিন্ন স্টেজ আছে, আস্তে আস্তে ছড়াতে ছড়াতে শেষের দিকে হয়তো বেশি ছড়াবে। এর চেয়েও সামনে বাড়বে হয়তো। বেড়ে আবার নামা শুরু করবে।

সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে সরকারি দফতরগুলোকে অফিস করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আমরা ১৫টি দিন দিয়েছি। আজ চতুর্থ দিন যাচ্ছে। প্রথম দিনের চেয়ে আরও কম সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে অফিস করছি। আমাদের ম্যাসেজটা অলরেডি সব জায়গায় পৌঁছে গেছে। অফিস টাইমটাও খুবই ফ্লেক্সিবল। যার যখন কাজ শেষ হবে দ্রুত চলে যাবে। যদি কেউ ২ ঘণ্টায় কাজ শেষ করতে পারে সে চলে যাবে। যদি না এসে বাসায় বসে করতে পারে করে দেবে। কোনো কিছু আটকাবে না। কিন্তু মুভমেন্টটা কম থাকবে।

এদিকে সোমবার (০১ জুন) সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক ভিডিও কনফারেন্সে বলেন, আমাদের অসচেতনতা এবং স্বাস্থ্যবিধি না মানায় পরিস্থিতি যদি আরও অবনতি হয় এবং তা যদি জনস্বার্থের বিপরীতে চলে যায়, তাহলে সরকারকে বাধ্য হয়ে আবারো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

মার্চ মাসের শুরুতে দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী প্রথম ধরা পড়ে। পরিস্থিতি ক্রমে অবনতির দিকে যেতে থাকলে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। এরপর দফায় দফায় ছুটি বাড়তে থাকে। সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী গত ৩০ মে ছুটি শেষ হয়।

দীর্ঘ ছুটির কারণে ইতিমধ্যে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা নেমেছে। কষ্টে পড়েছে নানা শ্রেণি পেশার মানুষ। তাই এখনও করোনা ভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির উন্নতি না থাকলেও জীবিকা ও অর্থনৈতিক কারণে ছুটির পথ থেকে সরে এসেছে সরকার।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে আরও ১১ জোড়া আন্তঃনগর ট্রেন চালু

স্বাস্থ্যবিধি মেনে কম যাত্রী  নিয়ে দ্বিতীয় দফায় বিভিন্ন রুটে আরও ১১ জোড়া আন্তঃনগর যাত্রীবাহী ট্রেন যুক্ত হয়েছে। প্রথম দফায় চালু হওয়া ৮ জোড়া ট্রেনসহ এখন চলাচল করা ট্রেনের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৯ জোড়া।বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) মোহাম্মদ সফিকুর রহমান জানান, এসব ট্রেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে কম যাত্রী নিয়ে চলাচল করবে। নতুন যুক্ত হওয়া ট্রেনগুলোর মধ্যে বুধবার (৩ জুন) যেগুলোর  সপ্তাহিক বন্ধ রয়েছে সেগুলো বৃহস্পতিবার থেকে চলবে। এর মধ্যে ৭ জোড়া ট্রেন ঢাকা থেকে বিভিন্ন জেলায় যাত্রী আনা নেওয়া করবে। বাকি ৪ জোড়া ট্রেন ঢাকার বাইরে চলাচল করবে।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, বুধবার থেকে চালু হওয়া ১১ জোড়া আন্তঃনগর ট্রেন হলো, ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ বাজার রুটে তিস্তা এক্সপ্রেস, ঢাকা-বেনাপোল রুটে বেনাপোল এক্সপ্রেস, ঢাকা-চিলহাটি রুটের নীলসাগর এক্সপ্রেস, ঢাকা-কিশোরগঞ্জ রুটের কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস, ঢাকা-নোয়াখালী রুটের উপকূল এক্সপ্রেস, ঢাকা-কুড়িগ্রাম রুটের কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ও ঢাকা-চাঁদপুর রুটের ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস, খুলনা-চিলহাটি রুটের রূপসা এক্সপ্রেস, খুলনা-রাজশাহী রুটের কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস, রাজশাহী-গোয়ালন্দঘাট রুটের মধুমতি এক্সপ্রেস, চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটের মেঘনা এক্সপ্রেস।

এদিকে গত চারদিনের মতো আজও অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে সব ট্রেন। ট্রেনের অর্ধেক আসন হিসেবে সব টিকিট বিক্রি হচ্ছে অনলাইনে।

এখন পর্যন্ত সিডিউল বিপর্যয়ের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সকাল সাড়ে ৭টায় কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে দেওয়ানগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় তিস্তা এক্সপ্রেস। বেলা ১১টার পর কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ছেড়ে যায় কিশোরগঞ্জের উদ্দেশে।

বর্ধিত বাসভাড়া প্রত্যাখ্যান করে আগের ভাড়া বহালের দাবি

গণপরিবহনের বর্ধিত বাসভাড়া প্রত্যাখ্যান করে পুর্বের ভাড়া বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

রবিবার গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এ দাবি জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সরকার যাত্রী প্রতিনিধি বাদ দিয়ে মালিকদের পাতানো ফাঁদে পা দিয়ে নিয়ে করোনার এই মহাসংকটে থাকা দেশের অসহায় জনগণের উপর একচেটিয়াভাবে বাসের ৬০ শতাংশ বর্ধিত ভাড়া অযৌক্তিকভাবে চাপিয়ে দিচ্ছে।’

এতে যাত্রীস্বার্থ চরমভাবে উপেক্ষিত হবে উল্লেখ করে আরও বলা হয়, ‘ভাড়া নৈরাজ্য ও যাত্রী হয়রানীকে আরও উসকে দেয়া হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের কারণে দেশের সাধারণ জনগণের ভোগান্তি বাড়াবে।’

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সঠিক ব্যয় বিশ্লেষণ না করে, যাত্রীসাধারণকে মালিকদের সাথে দর কষাকষির সুযোগ না দিয়ে, ভুয়া এবং অযৌক্তিক হিসাব দেখিয়ে এভাবে ভাড়া বৃদ্ধি অসহায় জনগণের উপর জুলুমের সামিল। তাই দেশের যাত্রীসাধারণ এই অযৌক্তিক ভাড়া বৃদ্ধি কোনোভাবেই মেনে নেবে না।’

তাই অনতিবিলম্বে বর্ধিত বাসভাড়া প্রত্যাখ্যান করে পুর্বের ভাড়া বহাল রাখার দাবি যাত্রী কল্যাণ সমিতির।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে ১ জুন থেকে সারাদেশে চালু হচ্ছে গণপরিবহন ও লঞ্চ

বাস মালিকদের ভাড়া বাড়ানোর শর্ত

ভাড়া বাড়ানোর শর্তে স্বাস্থ্যবিধি মেনে রোববার থেকে যাত্রীবাহী লঞ্চ ও সোমবার থেকে গণপরিবহন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালিক পক্ষ। শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে বিআরটিএ ও বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাদা বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। তবে ভাড়া পুনঃনির্ধারণের বিষয়ে আগামীকাল সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে। ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাব বলছেন, বাড়তি ভাড়া যাত্রীদের কাছ থেকে নেয়া যৌক্তিক হবে না।করোনা পরিস্থিতির কারণে দুই মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধ গণপরিবহন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন চালানো যাবে- সরকারের এমন সিদ্ধান্তের পর বাস মালিক-শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। বৈঠকে ভিডিও কনফারেন্সর মাধ্যমে যুক্ত হন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

প্রায় দুই ঘণ্টা বৈঠক শেষে সোমবার থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাস চালুর সিদ্ধান্ত হয়। তবে বাস মালিকরা ভাড়া বাড়ানোর শর্ত দিয়েছেন। সে বিষয়ে শনিবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন সচিব।

বৈঠক শেষে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, বাসের স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। এজন্য, বাস চলাচলের সময় অন্তত ৩০ ভাগ সিট খালি, বাস স্ট্যান্ডে হাত ধোওয়ার ব্যবস্থা, শ্রমিকদের টানা ডিউটি না করানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রস্তাব দেয়া হয় বৈঠকে। এর ফলে, ভাড়া পুনর্র্নিধারণ করতে হবে। ভাড়া পুনর্র্নিধারণ কমিটি এ বিষয়ে বৈঠক করে ভাড়া ঠিক করবেন। ভাড়া নিয়ে কোনো ধরনের নৈরাজ্য করা যাবে না।

বৈঠকে, টার্মিনাল থেকে বাস ছাড়ার আগে সবাইকে স্যানিটাইজার ব্যবহার করে জীবাণুমুক্ত হয়ে নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। টিকিট কাটার সময় বজায় রাখতে হবে নিরাপদ দূরত্ব। এসব মনিটরিংয়ে প্রশাসন ও মালিক সমিতি- উভয়ের টিম থাকবে।

পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব আরও বলেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনায় এক জেলা থেকে আরেক জেলা যাত্রী পরিবহনে নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু যে যাত্রী রাজশাহী থেকে ঢাকা আসবেন তার যদি বিভিন্ন জায়গায় পরিবহন বদলানো লাগে সেটা আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হবে। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও নির্ধারিত স্টপেজের বাইরে না থেমে এক জেলা থেকে আরেক জেলায় যাত্রী পরিবহনের প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রেরণ করা হবে বলে।

ভাড়া পুর্ননির্ধারণ করে ১ জুন থেকে সারাদেশে গণপরিবহন চালুর সিদ্ধান্ত

আগামী ১ জুন থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সারাদেশে গণপরিবহন চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার ও বাস মালিক-শ্রমিক নেতারা। বাসের চালক ও হেলপারদের মাস্ক ও গ্লাভস পরতে হবে। একই সাথে মাস্ক ছাড়া গণপরিবহনে চড়তে পারবেন না কোনো যাত্রী। পুনর্র্নিধারণ করা হবে ভাড়া।

শুক্রবার বিকেলে বনানীর সড়ক পরিবহন ভবনে এক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বৈঠকে মালিক শ্রমিক নেতাদের সাথে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যোগ দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বৈঠক শেষে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, বাসের স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। এজন্য, বাস চলাচলের সময় অন্তত ৩০ ভাগ সিট খালি, বাস স্ট্যান্ডে হাত ধোওয়ার ব্যবস্থা, শ্রমিকদের টানা ডিউটি না করানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রস্তাব দেয়া হয় বৈঠকে। এর ফলে, ভাড়া পুনর্র্নিধারণ করতে হবে। ভাড়া পুনর্র্নিধারণ কমিটি এ বিষয়ে বৈঠক করে ভাড়া ঠিক করবেন। ভাড়া নিয়ে কোনো ধরনের নৈরাজ্য করা যাবে না।

বৈঠকে, টার্মিনাল থেকে বাস ছাড়ার আগে সবাইকে স্যানিটাইজার ব্যবহার করে জীবাণুমুক্ত হয়ে নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। টিকিট কাটার সময় বজায় রাখতে হবে নিরাপদ দূরত্ব। এসব মনিটরিংয়ে প্রশাসন ও মালিক সমিতি- উভয়ের টিম থাকবে।

পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব আরও বলেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনায় এক জেলা থেকে আরেক জেলা যাত্রী পরিবহনে নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু যে যাত্রী রাজশাহী থেকে ঢাকা আসবেন তার যদি বিভিন্ন জায়গায় পরিবহন বদলানো লাগে সেটা আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হবে। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও নির্ধারিত স্টপেজের বাইরে না থেমে এক জেলা থেকে আরেক জেলায় যাত্রী পরিবহনের প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রেরণ করা হবে বলে।

এবিএন/মমিন/জসিম

এখনই বাড়ছে না লঞ্চের ভাড়া

সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে আগামী রোববার থেকে লঞ্চ চলাচল শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন লঞ্চ মালিকরা। তবে লঞ্চ ভাড়া এখনই বাড়ছে না। ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য একটি টেকনিক্যাল কমিটি করা হবে। কমিটি পর্যালোচনা করে ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। দশদিন পর আবার এ বিষয়ে বৈঠক হবে বলে জানা গেছে।

বিআইডব্লিউটিএর হেড অফিসে বৃহস্পতিবার বিকালে লঞ্চমালিকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।  বৈঠক শেষে বৈঠকে সভাপতিত্ব করা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক এ তথ্য জানান।

গোলাম সাদেক বলেন, আজকের আলোচনার বিষয় ছিল কীভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ করে যাত্রী পরিবহন করা যায়। বৈঠকে তাদের (মালিকদের) একটা আবেদন ছিল, ভাড়া বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে। যেহেতু সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখলে যাত্রীর পরিমাণ কমে যাবে। তবে বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনার প্রয়োজন আছে। টেকনিক্যাল বিষয় রয়েছে, জনসাধারণের ওপর কোনও চাপ আসে কিনা, সেই বিষয়টিও দেখতে হবে। এজন্যই আমরা আরেকটু দেখে শুনে বিষয়টি নিয়ে আলাদা করে বসবো। তবে আজ ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নিইনি।

সামাজিক দূরত্ব পালন করলে যাত্রীর পরিমাণ কমবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের লঞ্চগুলোর যাত্রী পরিবহনের যে ডিজাইন করা আছে, আমরা যদি সেই পরিমাণ যাত্রী পরিবহন করি তাহলে আমাদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে সমস্যা হবে না। সেই বিষয়টিও উনারা (মালিকরা) আমলে নেবেন। এর পরেও যখন লঞ্চ চালু থাকবে, সেই বিষয়টি আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবো।

পরে সন্ধ্যায় বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে স্বাস্থ্য ও নৌবিধি পালন করে ৩১ মে থেকে যাত্রীবাহী নৌযান চলাচলের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এক্ষেত্রে আগের রেটেই ভাড়া আদায় হবে। আগামী ১০ দিন পরিবহন ব‍্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করে ভাড়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এতে আরও বলা হয়, দেশের সব নদীবন্দরে যাত্রীদের জন্য জীবাণুমুক্ত হওয়ার টানেল স্থাপন ও যাত্রী পরিবহনের আগে থার্মোমিটারের মাধ‍্যমে তাপমাত্রা পরিমাপের ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া যাত্রীদের জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারেরও ব্যবস্থা থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

ভ্যাকসিন আবিষ্কার হলেও বিলীন হবে না করোনা ভাইরাস

করোনা ভাইরাস হয়তো কখনোই বিলীন হবে না। ভ্যাকসিন আবিষ্কার এবং ব্যবহার শুরুর পরেও হয়তো বছরের পর বছর করোনার উপস্থিতি থেকেই যাবে এবং মানুষের মধ্যে এর সংক্রমণ ঘটতে থাকবে।

করোনা নিয়ে এভাবেই সতর্ক করলেন মার্কিন বিশেষজ্ঞরা। এ ক্ষেত্রে তারা হাম, এইচআইভি এবং চিকেনপক্সের উদাহরণ টেনে এনেছেন।

এদিকে করোনা রোগীর চিকিৎসায় বহুল আলোচিত হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ইউরোপের চার দেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও ওষুধটির ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তবুও মঙ্গলবার ভারতে অনুমতি পেল ওষুধটি।

এর আগে চলতি মাসের মাঝামাঝি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, করোনা হয়তো চিরতরে যাবে না। এইচআইভি ভাইরাসের মতো কোভিড-১৯ রোগ সৃষ্টিকারী করোনাভাইরাস স্থানীয় ভাইরাস হয়ে যেতে পারে।

তাই বিশ্বজুড়ে প্রতিটি মানুষকে এই ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকা শিখতে হবে। কবে নাগাদ এই ভাইরাস থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না।

আরও কিছু রোগের মতো করোনাও হয়তো স্থায়ী হয়ে যাবে। বর্তমানে চারটি করোনাভাইরাসের উপস্থিতি বিদ্যমান রয়েছে, যেগুলোর কারণে সাধারণ ঠাণ্ডাজনিত রোগ দেখা দেয়। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন কোভিড-১৯ এই তালিকায় ৫ম ভাইরাস হিসেবে স্থায়ীভাবে থেকে যাবে।

ইমিউনিটি সিস্টেম বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এই ভাইরাসের কার্যকারিতা কমতে শুরু করবে। ফলে আমাদের শরীর এই ভাইরাসের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিবে।

শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের ইপিডেমিওলজিস্ট এবং বিবর্তনমূলক জীববিজ্ঞানী সারাহ কোবেই বলেন, এই ভাইরাস এখানেই থাকবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে আমরা কীভাবে এর সঙ্গেই নিরাপদে থাকতে পারব।

সাম্প্রতিক সময়ে তিনজন বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, করোনার সংক্রমণ রোধে ৬ ফুট দূরত্ব যথেষ্ট নয়। এ ক্ষেত্রেও সংক্রমণের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।

একই সঙ্গে তারা বলছেন, বাতাসের মাধ্যমে ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটার বিষয়টিকে বিশ্বকে গুরুত্বের সঙ্গে নেয়া উচিত। বিজ্ঞানভিত্তিক একটি জার্নালে সাম্প্রতিক সময়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানেই সামাজিক দূরত্ব নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ।

সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, উপসর্গহীন রোগীদের খুঁজে বের করতে প্রতিদিন ব্যাপক হারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন ওই বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, সব পরিস্থিতিতে শুধু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিত গাইডলাইনই যথেষ্ট নয়।

ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাতালি ডিন বলেন, লোকজন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার কথা বলছে। কিন্তু করোনাভাইরাস নিয়ে ভবিষ্যতের জীবন-যাপন কখনোই স্বাভাবিক হবে না।

তিনি আরও বলেন, যেহেতু আমরা ভিন্ন উপায় বের করতে পেরেছি এবং এটা আবিষ্কার করেছি যে কোনটি কাজ করছে। এভাবেই আমরা আমাদের সমাজ এবং জীবন-ব্যবস্থা পুনরায় শুরু করতে যাচ্ছি।

হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ইউরোপে নিষিদ্ধ, ভারতে অনুমতি : করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় বিতর্কিত হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন প্রয়োগ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ইউরোপের চার দেশ।
এগুলো হল যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালি ও বেলজিয়াম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও করোনা চিকিৎসায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

তবুও মঙ্গলবার ভারতে করোনা চিকিৎসায় অনুমতি দেয়া হয়েছে এই ওষুধের। ভারতের শীর্ষ বায়োমেডিক্যাল রিচার্স সংস্থা ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চ (আইসিএমআর) এই অনুমোদন দেয়।

তাদের মতে, ভারতে এই ওষুধটি করোনা রোগীদের ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে এবং ছয় সপ্তাহের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে এটার কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।
সুতরাং এই ওষুধটি চালিয়ে নেয়া যায়। আইসিএমআর’র মহা-পরিচালক বলরাম ভারগাবা বলেন, আমরা হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনকে করোনা এড়ানোর জন্য অনুমোদন দিয়েছি। এটা চলতে পারে। কারণ, এটা সেবনে কোনো ক্ষতি নেই।

হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন সাধারণত ম্যালেরিয়া, বাত বা ত্বকে সংক্রমণ জাতীয় রোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে এই ওষুধ কার্যকরী বলে কেউ কেউ দাবি করলে তা প্রয়োগের অনুমতি দেয় অনেক দেশ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওষুধটিকে ‘যুগান্তকারী’ হিসেবেও উল্লেখ করেন।

১০০ কোটি ভ্যাকসিন তৈরির লক্ষ্য নোভাভ্যাক্সের : যুক্তরাষ্ট্রের একটি কোম্পানি তাদের তৈরি করোনা ভ্যাকসিন মানব শরীরে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করতে যাচ্ছে।

ম্যারিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যভিত্তিক বায়োটেকনোলজি কোম্পানি নোভাভ্যাক্স অন্তত ১৩০ জনের শরীরে ভ্যাকসিনটির পরীক্ষা করতে যাচ্ছে। পরীক্ষা নিরীক্ষার পরবর্তী ধাপগুলোতে সফল হলে এ বছর ১০ কোটি ও সামনের বছর ১০০ কোটি ভ্যাকসিন উৎপাদন করবে নোভাভ্যাক্স।

ঢাকার ফুটপাতে সারি বেঁধে বসে থাকা মানুষগুলো কারা?

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন

ফুটপাতজুড়ে বসে আছেন সারি সারি মানুষ। দেখেই বোঝা যাচ্ছে তারা নিম্নবিত্ত। প্রায় ফাঁকা সড়ক ধরে ছুটে আসা কোনো গাড়ি যদি কোনো কারণে গতি কমায়, তখনই দলে দলে গাড়িটির দিকে ছুটে আসছে মানুষগুলো। আশা কিছু একটা সাহায্য হয়তো জুটবে।লকডাউনের মধ্যে জরুরি প্রয়োজনে ঢাকার যেসব মানুষকে রাস্তায় নেমে আসতে হয়, তাদের হয়তো চোখে পড়ে থাকবে এমন দৃশ্য।

এমন ঘটনাও ঘটতে দেখা যাচ্ছে, হয়তো সত্যিই গাড়িতে করে ত্রাণসামগ্রী নিয়ে এসেছেন কেউ, কিন্তু একেবারেই সামাজিক দূরত্ব না মানা এই মানুষগুলোর ধাক্কাধাক্কি সামাল দিতে না পেরে ত্রাণ বিতরণ বন্ধ রেখেই চলে যেতে হচ্ছে দাতাকে।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর দুই মাস পেরিয়ে গেছে। এর মধ্যে এক মাসেরও বেশি সময় কার্যত অচল ছিল পুরো দেশ। এই সময়ে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের পাশাপাশি এই দৃশ্যটিও আজকাল আকছার চোখে পড়ছে।

এ ধরনের জমায়েত খুব বেশি দেখা যায়, সুপারশপ বা দোকানের সামনে, কিংবা রাস্তার মোড়গুলোতে।

সরেজমিন জাহাঙ্গীর গেট
মিরপুর থেকে গুলশানে অফিস যেতে আমাকে অতিক্রম করতে হয় ঢাকা সেনানিবাসের মূল ফটক, যেটি জাহাঙ্গীর গেট নামে ঢাকাবাসী চেনেন। অনতিদূরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ অফিস এবং স্থাপনা আছে এই এলাকায়। সড়কটি ভিআইপি, অর্থাৎ যন্ত্রচালিত যানবাহনই শুধু চলতে পারবে। রিকশা-ভ্যানের মতো যানবাহন চলবার সুযোগ নেই।

প্রতিদিন অফিস যাওয়ার এবং বাসায় ফেরার পথে আমি দেখি এখানকার ফুটপাতে এমন মানুষের জটলা। যারা বসে আছেন তাদের সবাই নারী। দেখে কাউকেই ভিখিরি বলে মনে হলো না। করোনাভাইরাসের কারণে মাস্কও  পরেছেন বেশিরভাগ। তবে চোখে সাহায্যের আকুতি নজর এড়িয়ে যাওয়ার মতো না। কড়া রোদ উপেক্ষা করে রাস্তার ধারের দেয়াল ঘেঁষে বসে আছেন তারা। কৌতূহল থেকেই সিদ্ধান্ত নেই, গাড়ি থামিয়ে নামব। তাদের সাথে কথা বলব।

তবে আগের অভিজ্ঞতা থেকে জানি, গাড়ি দেখলেই তারা সাহায্য দাতা মনে করে সামাজিক দূরত্বের কথা ভুলে ছুটে আসেন। তাই একটু দূর থেকে নেমে হেঁটেই এগোলাম।

‘কাজ দেন নাইলে খাওন দেন’
কথা হচ্ছিল ফাতেমার সাথে। মধ্যবয়সী নারী। বাড়ি উত্তরাঞ্চলীয় নওগাঁ জেলায়। পেশায় গৃহপরিচারিকা। কে না জানেন, লকডাউন শুরু হতে না হতেই ঢাকায় যারা সবার আগে জীবিকা হারিয়েছেন, তাদের মধ্যে আছেন খণ্ডকালীন গৃহপরিচারিকারা।

জানতে চাই, ফুটপাতে কিসের জন্য অপেক্ষা করছেন ফাতেমা?
জবাব এলো, ‘৫-১০ টাকা দেয়, চাল দেয়, তাই আসছি।’

-ত্রাণ পান নাই, সরকার তো ত্রাণ দিচ্ছে?
ফাতেমা জানালেন, ত্রাণ পাননি তিনি। একজন ভোটার আইডি নিয়ে আসতে বললেও ত্রাণ দেয়নি।

একটু দূরে ওড়না দিয়ে মাথা আর মুখ ঢেকে বসে ছিলেন নাসিমা। নাসিমা তার ছদ্মনাম। নিজের নাম প্রকাশে ঘোরতর আপত্তি এই তরুণীর। তিনিও পেশায় গৃহপরিচারিকা। কথা বলতে গিয়ে কান্নায় জড়িয়ে এলো তার কণ্ঠ। বরিশালের মেয়ে নাসিমার দুই সন্তান, মা আর ছোট ভাই থাকে গ্রামে। ঢাকা থেকেই খরচ পাঠাতে হয় তাদের জন্য। তার পাঠানো টাকায় গ্রামের সংসার আর সন্তানদের পড়াশোনা চলে। এখন নাসিমার কোনো কাজ নেই। বলছিলেন, সাহায্য চাইতে গিয়েও মারধরের শিকার হতে হচ্ছে।

‘আমরা তো কাজ করে খাইতে চাই, ভিক্ষা করতে চাই না। কাজ দেন, নাইলে খাওন দেন। দূরে থাকেন, কিন্তু খাওন দিয়া যান।’

নাসিমাকেও ত্রাণ দেবেন বলে পরিচয়পত্র আর মোবাইল নাম্বার নিয়েছিলেন একজন। কিন্তু সারাদিন অপেক্ষা করেও নাসিমা পাননি সেই কাঙ্ক্ষিত ত্রাণ।

ফুটপাতে অপেক্ষা করে দিনে কত টাকা রোজগার হয়?
ছোট একটি ব্যাগ খুলে দেখান নাসিমা। দুই টাকা আর পাঁচ টাকার দু-তিনটি নোট। নাসিমা বলছিলেন বয়স অল্প বলে কেউ সাহায্য করতে চায়না।

‘আমারে ত্রাণ দেয় না। বলে কাজ করে খেতে। আমরা তো কাজ করতেই চাই। কাজ দেন। আমরা ভিক্ষা করতে চাই না। আপনারা কাজ দেন না, ত্রাণ দেন না, আমাদের কি ক্ষুধা নাই?’

চাকরি করেও যে সংসার চলে না
নাসিমার সাথে যখন কথা বলছিলাম তখন দূর থেকে হেটে আসছিলেন পেয়ারা বেগম। আমাকে নাসিমার সাথে কথা বলতে দেখে নিজেই কথা বলার আগ্রহ দেখালেন। পেয়ারা বেগম জানালেন, ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে রাস্তা ঝাড়ু দেয়ার কাজ করেন তিনি। অস্থায়ী এই চাকরির মাসিক বেতন ১২ হাজার টাকা। বাড়িতে অসুস্থ স্বামী, এক মেয়ে আর দুই ছেলে রয়েছে তার। পেয়ারা বেগম আর বড় ছেলের মিলিত আয়ে সংসার চলতো তাদের।

ধোলাইপাড় এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় ভালোই কাটছিল দিন। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর, ছেলের আয় বন্ধ হয়ে গেছে। একমাত্র আয় এখন পেয়ারা বেগমের মাসিক বেতন। কিন্তু তাতে সংসার চলে না। উপায় না দেখে সাহায্যের আশায় রাস্তায় নেমেছেন তিনি। তবে সেটিও জুটছে না ঠিকমতো।

‘আমি গেলে বলে আপনি তো সরকারি চাকরি করেন, আপনি পাবেন না। কিন্তু আমি বুঝাইতে পারি না যে, আমার সংসার চলে না। কেউ দেয় না, যা হয় তাই খাই। আমাদের কথা শোনার কি আর মানুষ আছে?’

কথা দিয়ে কী পেট ভরে?
নাসিমা বা পেয়ারা বেগম- কথা বলার সময় কেউই কান্না ধরে রাখতে পারেননি। কণ্ঠে কান্নার রেশ না তেমন একটা না থাকলেও চোখ গড়িয়ে ঠিকই নামছিল অশ্রু। জানান দিচ্ছিল, কতটা অনিচ্ছা নিয়ে ত্রাণের খোঁজে নেমেছেন তারা।

তবে, তারা ছাড়াও দেয়ালের ধার ঘেঁষে বসে থাকা আরও অনেকে ছিলেন যারা আমি সাংবাদিক জেনে আমার সাথে কথা বলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছিলেন।

কেউ কেউ বলেই বসলেন, ‘ত্রাণ আনলে দেন। কথা দিয়ে তো আর পেট ভরবে না।’

শুধু জাহাঙ্গীর গেট নয়, রাজধানীর এমন অনেক এলাকায় এখন এ ধরণের জমায়েত সাধারণ ঘটনা। শুধু নারী নয়, পুরুষ, বৃদ্ধ, অল্প বয়স্ক, শিশু-কেউই বাদ পড়েননি ত্রাণের আশায় থাকা এই জমায়েত থেকে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের চেয়েও তাদের কাছে ক্ষুধার তাড়নাটা অনেক বেশি।