সারাদেশে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকায় সিরাজগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। অপরিবর্তিত রয়েছে রয়েছে জামালপুর, টাঙ্গাইল, কুড়িগ্রামের পরিস্থিতি; তবে কিছুটা উন্নতি সুনামগঞ্জ ও লালমনিরহাটে।

পানিবন্দি আছে লাখো মানুষ। বন্যার পানিতে ডুবে জামালপুরে তিনজন, দিনাজপুরে একজন ও কুড়িগ্রামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বেড়েই চলেছে যমুনা নদীর পানি। এতে সিরাজগঞ্জের সদর, কাজিপুর, বেলকুচি, চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের একজন বলেন, ‘ঘরবাড়ি সব তলায় গেছে, গরু-ছাগল নিয়া বিপদে পড়েছি। সবাইকে নিয়ে রাস্তায় এসে পড়ছি। এভাবে আর কতদিন থাকতে হবে আল্লাহ জানে।’

এদিকে জামালপুরেও বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে, পানিবন্দি হয়ে আছেন ৩ লাখেরও বেশি মানুষ। বিভিন্ন সড়কে পানি উঠায় বন্ধ হয়ে গেছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। টাঙ্গাইলে পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলেও ঝুঁকিতে রয়েছে যমুনার পূর্ব তীর রক্ষা বাঁধ। দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি সামান্য কমলেও ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার পানি এখনও বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। অনেকের হাতে কাজ ও ঘরে খাবার না থাকায় অনাহারে দিন পার করছেন।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ আরেক ব্যাক্তি বলেন, ‘পানির মধ্যে পড়ে আছি, বাচ্চা-কাচ্চা নিয়া খুব কষ্ট হচ্ছে। সব জায়গাতেই পানি আমাদের অনেক বিপদ হয়ে গেছে। বিশুদ্ধ পানির অভাব দেখা দিয়েছে।’

অপরদিকে, গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। সুন্দরগঞ্জ, সদর, ফুলছড়ি ও সাঘাটার বিস্তীর্ণ এলাকার বাসভাসীরা খাবার, সুপেয় জলের অভাবসহ নানা সংকটে রয়েছেন।

সুনামগঞ্জে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও আবারো ভারি বৃষ্টিপাতে বড় আকারের বন্যার আশংকা করছেন স্থানীয়রা। হাওড় থেকে পানি না নামায় এখনো পানিবন্দী অন্তত ৩০ হাজার মানুষ।

সিলেটে সুরমা, কুশিয়ারাসহ অন্যান্য নদীর পানি কমতে থাকায় কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চলের পানি নেমে যাচ্ছে।

সূত্রঃ এবিএন

করোনাভাইরাস : তরুণরা যেভাবে অন্যদের ঝুঁকিতে ফেলছে

যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় বলছে, দেশটিতে তরুণ প্রজন্মের আক্রান্ত হওয়ার হার বাড়ছে। সেখানে ফ্লোরিডা, সাউথ ক্যারোলাইনা, জর্জিয়া ও টেক্সাসসহ আরও কিছু অঙ্গরাজ্যে তরুণদের বেশি আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অপেক্ষাকৃত কম বয়সীদের বেশি হারে আক্রান্ত হওয়াকে এখন বিশ্বব্যাপী বিশেষ উদ্বেগের সাথে দেখা হচ্ছে।

তরুণ প্রজন্ম ‘সেকেন্ড ওয়েভ’ অর্থাৎ সংক্রমণ কমে আসার পর আবার ঊর্ধ্বগতিতে সংক্রমণ বৃদ্ধির জন্য দায়ী হতে পারেন কিনা সেই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশেও অপেক্ষাকৃত কম বয়সীরাই করোনাভাইরাসে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।

সরকারি সংস্থা রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট আইইডিসিআর তথ্যমতে, বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে এপর্যন্ত শনাক্ত ব্যক্তির ৫০ শতাংশেরই বয়স ২১ থেকে ৪০ বছর।

তরুণরাই যখন ঝুঁকির কারণ
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিভাগ ৩০ জুন জানিয়েছে এর আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে ৬৪ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃতদের মধ্যে ৪৮ জনেরই বয়স ৫১ থেকে ৮০ বছর। যাদের উপসর্গ গুরুতর হচ্ছে তাদের মধ্যেও বয়স্করাই বেশি রয়েছেন। বিশ্বব্যাপীই এই প্রবণতা রয়েছে।

আইইডিসিআরের ভাইরলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক তাহমিনা শিরিন বলছেন, ‘তরুণরা উদ্বিগ্ন বোধ করছেন না। কারণ তারা দেখছেন যে আক্রান্ত হলেও তাদের উপসর্গগুলো খুব গুরুতর নয়। অনেক সময় তাদের মধ্যে কোনো উপসর্গই দেখা যায় না। তারা দেখছে যে মূলত বয়স্করাই বেশি মারা যাচ্ছেন। তাই করোনাভাইরাসকে তারা হালকাভাবে নিচ্ছেন।’

এর ফল হলো তরুণরা স্বাস্থ্যবিধি মানছেন কম। তারা যে অন্যদের জন্য ঝুঁকির কারণ সে বিষয়ে আলাদা করে কোনো প্রচার না থাকায় সংক্রমণ রোধে নিজেদের দায়িত্বটুকু তারা বুঝতে পারছেন না।

অধ্যাপক তাহমিনা শিরিন বলছেন, ‘রাস্তায় নামলে দেখা যায় অনেক তরুণ গা ঘেঁষাঘেঁষি করে আড্ডা দিচ্ছেন। কারো মুখে হয়ত মাস্ক আছে, কারো নেই, কেউ আবার মাস্ক গলায় ঝুলিয়ে রেখেছেন। তারা বাইরে বের হন বেশি, তাদের মধ্যে রেকলেস হওয়ার প্রবণতাও বেশি। এই তরুণরাই বাড়ি গিয়ে নিজের পরিবার, প্রতিবেশী, আত্মীয়দের সংক্রমিত করছেন। পরিবারে আগে থেকেই কারো হার্ট, কিডনির সমস্যা বা ডায়াবেটিস আছে তাদেরকও বড় ঝুঁকিতে ফেলছেন।’

অধ্যাপক তাহমিনা শিরিন বলছেন, তরুণরা নিজেরা আক্রান্ত হয়ে করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরীক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি করছেন। তাদের কারণেই হয়ত একজন বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিকে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর পরিস্থিতিতে হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। এতে হাসপাতাল ব্যবস্থার ওপরও চাপ পড়ছে।

বাংলাদেশে পরিবারের কাঠামো
বাংলাদেশের পারিবারিক কাঠামোর জন্যও তরুণরা অন্যদের ঝুঁকির কারণ, বলছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক জোবাইদা নাসরিন।

তিনি বলছেন, ‘বাংলাদেশে এখনো পরিবারগুলোতে বাবা-মা, ভাইবোন হয়ত অন্য কোনো আত্মীয় সবাই মিলে একসাথে থাকেন। বাংলাদেশে কয়টি পরিবার সবার জন্য আলাদা রুমের ব্যবস্থা করতে পারে? হয়ত দুই ভাই বা দুই বোন একরুমে থাকে। স্বভাবতই তরুণদের কেউ বাইরে আক্রান্ত হলে সে বাড়িতে অন্যদের সংক্রমিত করবে।’

তিনি আরও বলছেন, ‘তারুণ্যের একটা চরিত্র রয়েছে। তারা বন্ধুদের সাথে সময় কাটাতে পছন্দ করে। হৈ হুল্লোড় তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকায় তারা হয়ত হাঁপিয়ে উঠে বাইরে বেশি বের হচ্ছেন। দিন যত বেশি হচ্ছে, বাংলাদেশ অনেক কিছু শিথিল করছে। তাই সামাজিক বিচ্ছিন্নতাও কিছুটা গুরুত্ব হারিয়েছে।’

তরুণদের ওপর চাপ
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে শনাক্ত ৫০ শতাংশের বয়স ২১ থেকে ৪০ বছর এই তথ্য আর একটি গুরুত্ববহন করে, বলছেন জোবাইদা নাসরিন।

তিনি বলছেন, ‘এই বয়সীরাই মূলত পরিবারের অর্থের যোগান দেয়ার দায়িত্ব পালন করেন বেশি। তাকে চাকরীর জন্য, ব্যবসা বাণিজ্য বা পরিবারের অন্যান্য কাজে বাইরে যেতে হয় বেশি। আর করোনাভাইরাস সংক্রমণে বয়স্কদের অবস্থা বেশি গুরুতর হয় এমন তথ্য জানার পর আমরা কিন্তু আমাদের পরিবারের বয়স্কদের এক অর্থে ঘরে বন্দি করে ফেলেছি। তাদের কাজগুলোও তরুণরা করে দিচ্ছে।’

তরুণদের জন্য নেই আলাদা প্রচারণা
ঢাকার মিরপুরের এক গাড়িচালকের সাথে কথা হচ্ছিল। তার বয়স ২৫ হবে। কয়েকদিন আগে তার হালকা জ্বর ও শরীর ব্যথা হওয়ার পর বিষয়টিকে একেবারেই গুরুত্ব দেননি। পরিবারের সাথে সাধারণ সময়ের মতোই ওঠবস করেছেন।

করোনাভাইরাসের জন্য পরীক্ষা করিয়েছেন কিনা তা জানতে চাইলে তিনি বলছিলেন, ‘বেশি কিছুতো হয়নাই। ওই একটু জ্বর ও শরীর ব্যথা হইছিল। এখন ঠিক হইয়া গেছে।’

আমার বাসার পাশে একটি মুদি দোকানের কর্মচারীকে কোনোদিনই মুখে মাস্ক পড়তে দেখিনি। তাকে জিজ্ঞেস করলে প্রতিবারই বলেছেন, ‘আরে আমাদের কিছু হবে না।’

গত কিছুদিন ধরে জ্বর হলেই চিকিৎসকেরা করোনাভাইরাসের পরীক্ষা করাতে বলছেন। তিনি যদি আক্রান্ত হয়ে থাকেন তা হলে অন্যদের জন্য তারা যে ঝুঁকির কারণ হচ্ছেন আর সে কারণেই যে পরীক্ষা করিয়ে নেয়া ভাল, এই দুই তরুণ সেটির গুরুত্ব বুঝতে পারেননি বলেই মনে হলো।

অন্যদিকে সরকারের স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে অপেক্ষাকৃত কম বয়সীদের এত বেশি সংখ্যায় আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে তারা খুব একটা উদ্বিগ্ন বলে মনে হয়নি।

কম বয়সীদের বেশি আক্রান্ত হওয়ার দৈনিক তথ্য ঠিকই পাওয়া যাচ্ছে, তার কারণও তারা বলছেন। কিন্তু সংক্রমণ রোধে তরুণ প্রজন্মের যে বাড়তি দায়িত্ব সেটি তাদের বোঝাতে আলাদা করে প্রচারণার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক পরিচালক ডা. মো. হাবিবুর রহমান।

তিনি বলছেন, ‘কোভিড ১৯ সম্পর্কে সচেতনতায় আমরা যে প্রচারণা চালাচ্ছি সেখানে তরুণ প্রজন্মকে বোঝানোর জন্য আলাদা কোন প্রচারণা নেই। আমাদের গোটা কর্মসূচি সবাইকে ঘিরে একসাথে। বাচ্চা থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত সবাইকে আমরা মোটিভেট করার চেষ্টা করছি। তবে হ্যাঁ আমি আপনার সাথে একমত। তাদের জন্য আলাদা প্রচারণা হওয়া উচিত।’

 

সীমিত পরিসরে অফিস চালু, রাত ১০টার পর বাইরে যেতে মানা

করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ মোকাবিলায় নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বৃদ্ধি করেছে সরকার। বর্তমান সময়ের মতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে আগামীকাল বুধবার (১ জুলাই) থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত সীমিত পরিসরে অফিস চালু থাকবে, চলবে গণপরিবহনও।তবে নিষেধাজ্ঞাকালীন রাত ১০টার পর থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত বাড়ির বাইরে যাওয়া যাবে না।

৩ আগস্ট পর্যন্ত অফিস, গণপরিবহনসহ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কীভাবে পরিচালিত হবে এবং কোন ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে সেই বিষয়ে নির্দেশনা দিয়ে মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। সেই নির্দেশনায় এ কথা জানানো হয়েছে।

আগের নির্দেশনা অনুযায়ী, রাত ৮টার পর থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত বাড়ির বাইরে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। এখন তা আরও শিথিল করা হলো।

নতুন প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাত ১০টা থেকে সকাল ৫টা পর্যন্ত অতীব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া (প্রয়োজনীয় ক্রয়-বিক্রয়, কর্মস্থলে যাতায়াত, ওষুধ ক্রয়, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন/সৎকার ইত্যাদি) বাসস্থানের বাইরে আসা যাবে না। বাসস্থানের বাইরে মাস্ক পরিধান করা, পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখা ও অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। অন্যথায় নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

লকডাউন নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নতুন নির্দেশনায় বলা হয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রণীত ‘কোভিড -১৯ সংক্রমণ ঝুঁকি জোনভিত্তিক লকডাউন ব্যবস্থা বাস্তবায়ন কৌশল/গাইড’ অনুসরণ করে জোনিং সিস্টেম বাস্তবায়ন করতে হবে।

‘রেড জোন ঘোষণা করে সে এলাকায় কেবল গুরুতর সংক্রমিত পরিসীমাকে লকডাউনের আওতায় আনতে হবে।’

এতে আরও বলা হয়, সেখানে সর্বসাধারণের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি-বিষয়াদির সরবরাহ/প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এ বিষয়ে সুস্পষ্ট অনুমোদন ও নির্দেশনা দেবে। সিটি করপোরেশন এলাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য এলাকায় জেলা প্রশাসন এ সংক্রান্ত কার্যাবলীর সার্বিক সমন্বয় করবে।

২৫ হাজার শ্রমিকের বাধ্যতামূলক ছুটিতে সম্মতি নেতাদের: শ্রম প্রতিমন্ত্রী

২৫ হাজার পাটকল শ্রমিককে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন শ্রমিকরা। সোমবার শ্রম প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন সিবিএ নেতৃবৃন্দ। তবে কবে থেকে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করা হবে, সে বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি বৈঠকে।

শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের পাওনাদি পরিশোধের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবে মন্ত্রণালয়। এর আগে সকালে মিল বন্ধ না করাসহ সব পাওনা পরিশোধের দাবি জানিয়ে আন্দোলন করে পাটকল শ্রমিকরা।

অব্যাহত লোকসানে টালমাটাল। অবশেষে ভার বইতে না পেরে শ্রমিক-কর্মচারীর দীর্ঘ দিনের আশঙ্কা বাস্তবে রূপ নিলো বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর ঘোষণায়। রোববার রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সব পাটকল পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশীপে ছেড়ে দেয়া ও ২৫ হাজার শ্রমিককে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর ঘোষণা দেন তিনি।

তার ঘোষণার পরই আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন শ্রমিক ও সিবিএ নেতারা। সোমবার ঢাকার ডেমরায় পাটকল শ্রমিকরা বিক্ষোভ কর্মসূচি না করলেও ক্ষোভ জানান সরকারের এমন সিদ্ধান্তে। দাবি জানান, বকেয়া সব পাওনা পরিশোধের।

শ্রমিকদের একজন বলেন, ‘আমরা কোনো কিস্তি মানি না। আমাদের এক চেকে টাকা দিবে কারখানা চালু অবস্থায়।’

আরেক শ্রমিক বলেন, ‘আমাদের সংসার যে কীভাবে চলে একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না।’

আরেকজন বলেন, ‘একসাথে ২৫-২৬ মিল বন্ধ করা এ জীবনে দেখিনি। এ সরকার যে উদ্যোগ নিছে এই মহামারির সময় তা বিশাল অন্যায়।’

খুলনায় সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত নিজ নিজ মিলগেটে অবস্থান নেন ৯টি পাটকল শ্রমিক ও তাদের সন্তানরা। পরে মানববন্ধনে, পাটকল বন্ধ না করে লোকসানে জড়িদের খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।

এদিকে দেশব্যাপী শ্রমিকদের বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে রাজধানীর বিজয়নগরে শ্রম ভবনে শ্রম প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন শ্রমিক নেতারা। এক ঘণ্টার বৈঠকের পর সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নেয়ার কথা জানান তারা। আর শ্রম প্রতিমন্ত্রী জানান, পাওনা পরিশোধ ঠিকমতো হচ্ছে কি না তার পর্যবেক্ষণ করবে মন্ত্রণালয়।

বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন, বিজেএমসির আওতাধীন ২৬টি মিলে বর্তমানে ২৫ হাজার স্থায়ী শ্রমিকসহ পাওনা বকেয়া রয়েছে এমন শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ৩৪ হাজার।

করোনাকালে জালিয়াতিতে ১০২ জনপ্রতিনিধি বরখাস্ত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক মোবাইল ব্যাংকিংয়ে নগদ অর্থ সহায়তা কর্মসূচির উপকারভোগীদের তালিকা প্রণয়ন ও ভিজিডি কার্ড প্রদানে জালিয়াতির অভিযোগে আরও দুই ইউপি চেয়ারম্যানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।

এই নিয়ে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে মোট ১০২ জনপ্রতিনিধিকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩২ জন ইউপি চেয়ারম্যান, ৬৪ জন ইউপি সদস্য, একজন জেলা পরিষদ সদস্য, চারজন পৌর কাউন্সিলর ও একজন উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রোববার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. হায়দার আলীর সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রদত্ত মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নগদ অর্থ সহায়তা কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রণয়নে অনিয়মের জন্য গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ১১ নং খোর্দ্দকোমরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আরিফুর রহমান চৌধুরী ও ভিজিডি চাল বিতরণ না করে ভুয়া সই/স্বাক্ষর গ্রহণ, উপকারভোগীদের বিজিডি কার্ড অসৎ উদ্দেশ্যে নিজের কাছে জমা রাখাসহ বিভিন্ন অভিযোগে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার ২ নং আলীপুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাদশা ফয়সালকে  সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

ওই দুই ইউপি চেয়ারম্যানের দ্বারা সংঘটিত অপরাধমূলক কার্যক্রমের জন্য স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন-২০০৯ অনুযায়ী তাদের স্বীয় পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার বিভাগ। পৃথক কারণ-দর্শানোর নোটিশে কেন তাদের চূড়ান্তভাবে অপসারণ করা হবে না তার জবাব চিঠি পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানোর অনুরোধ করা হয়।

সেনজেন ভিসা সুবিধার বাইরে থাকছে বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস মহামারী পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকায় বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বেশীরভাগ দেশকে আপাতত সেনজেন ভিসা সুবিধার বাইরে রাখা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্য কেবল ভারত ও ভুটানের নাগরিকরা আগামী জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ থেকে এ ভিসা সুবিধার আওতায় ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে অবাধ চলাচল করতে পারবেন। একই বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ব্রাজিল ও কাতারসহ বহু দেশকে সেননজেন ভিসা সুবিধার বাইরে রেখেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

বিশ্বে করোনাভাইরাস মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ায় গত মার্চে ইইউ নিজেদের অভ্যন্তরীণ সীমান্ত বন্ধের পাশাপাশি তৃতীয় দেশগুলোর জন্য সেনজেন ভিসা সুবিধা স্থগিত রেখেছিল। পরবর্তী সময়ে ইউরোপীয় কমিশন ১৫ জুন থেকে ইইউ দেশগুলোর অভ্যন্তরীন সীমান্ত খুলে দেয়ার সুপারিশ করে। কমিশন একইসাথে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তৃতীয় দেশগুলোর জন্য ধীরে ধীরে ভিসা সুবিধা উন্মুক্ত করে দেয়ার পরামর্শ দেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ইইউভুক্ত দেশগুলো ইতোমধ্যেই নিজেদের মধ্যে সীমান্ত উন্মুক্ত করে দিয়েছে। এছাড়া জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ থেকে ইইউ’র বাইরে ৫৪টি দেশের জন্য ভিসা সুবিধা আবারো চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ইউরোনিউজের এক খবরে বলা হয়েছে, প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ থাকবে, এমন সুনির্দিষ্ট দেশসমূহের অভিন্ন তালিকা সম্পর্কে ইইউ কর্মকর্তার একমত হতে পারেননি। তবে করোনাপরিস্থিতি ভালভালে সামাল দিতে পেরেছে – এমন দেশগুলোর জন্য ইইউ’র সীমান্ত খুলে দেয়ার ব্যাপারে কর্মকর্তারা একমত হয়েছেন। অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, মিসর, ইন্দোনেশিয়া, জাপানসহ ৫৪টি দেশের জন্য শেনজেন ভিসা উন্মুক্ত করার খসড়া তালিকা সম্পর্কে কর্মকর্তারা ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। পশ্চিমাঞ্চলীয় ছয় বলকান রাষ্ট্র – আলবেনিয়া, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, কসোভো, উত্তর মেসিডোনিয়া, মন্টিনিগরো এবং সার্বিয়া তৃতীয় দেশ হিসাবে আগামী ১ জুলাই থেকে শেনজেন ভিসা সুবিধা পাবে।

এ ব্যাপারে ইউরোপীয় কমিশনের মুখপাত্র এরিখ ম্যানার বলেছেন, কোনো দেশসমূহ থেকে ভ্রমনকারীদের গ্রহণ করা হবে তা নির্ধারনে ইইউর অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বর্তমানে এ সব সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যগত দিকটিকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রীর আমন্ত্রণে নৌ মন্ত্রণালয়ে সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান

বর্তমান মন্ত্রী সাবেক মন্ত্রীকে নিজ দপ্তরে আমন্ত্রণ জানিয়ে অভিজ্ঞতা নিয়েছেন- এমনটা খুব একটা দেখা যায় না। তবে সেই নজিরই গড়লেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।আজ রোববার (২৮ জুন) দুপুরে সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান আসেন সচিবালয়ে নৌ প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরে, তারা অভিজ্ঞতাও বিনিময় করেন বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর আমন্ত্রণে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য আজ রোববার দুপুর একটার দিকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে আসেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান।  সচিবালয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর অফিসকক্ষে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয় বলে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম খান।

করোনা পরিস্থিতিতে দেশের চলমান সার্বিক উন্নয়ন কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়- এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা ও মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন শাজাহান খান।

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সাবেক মন্ত্রী হিসেবে শাজাহান খানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে উনি ওনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন।

এসময় প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবরাউল হাছান মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।

একজন সাবেক মন্ত্রীকে বর্তমান মন্ত্রীর নিজের দফতরে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি প্রসংশনীয় জানিয়ে কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা খুব একটা দেখা যায় না। মাঝে-মধ্যে হয়তো কোনো মিটিংয়ে সাবেক মন্ত্রীদের ডাকা হয়। তবে একান্তই ব্যক্তিগতভাবে আমন্ত্রণের ঘটনা বিরল।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের গত দুই মেয়াদে নৌ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন শাজাহান খান।

ঢাকায় আরও রেড জোন ও ছুটি আসছে

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় ঝুঁকিতে থাকা ঢাকা মহানগরীর কয়েকটি জায়গা ছোট আকারে রেড জোন ঘোষণা করে ছুটির আওতায় আসছে। বুধবার (২৪ জুন) একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমকে এ কথা জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

তিনি বলেন, ঢাকায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ অফিস রয়েছে। এখানে অনেক শিল্প-কারখানা আছে। আবার ম্যানেজমেন্টও ঠিক করতে হচ্ছে। আশা করছি, এখানেও বেশ কয়েকটি জায়গায় ছোট ছোট আকারে রেড জোন ঘোষণা করা হবে। তালিকা পেলেই আমরা ছুটি ঘোষণা করব।

প্রশাসনিক বিষয় হওয়ায় রেড জোনের তালিকা ও ছুটির ঘোষণার আদেশ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে হচ্ছে জানিয়েছে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এর সঙ্গে ইনভলব থাকে, তারা যাচাই-বাছাই করে।

গত ২১ জুন মধ্যরাতে ১০ জেলার ২৭টি এলাকা এবং পরদিন আরো পাঁচ জেলার ১২ এলাকাকে রেড জোন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে সেখানে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সর্বশেষ মঙ্গলবার (২৩ জুন) দেশের আরো জেলার ৭টি এলাকাকে রেড জোন ঘোষণা করা হয়। রাজধানী ঢাকায় করোনার সংক্রমণ বেশি থাকলেও এখনও রেড জোন ঘোষণা করা হয়নি। শুধুমাত্র পূর্ব রাজাবাজার এলাকাকে রেড জোন ঘোষণা করে সেখানে পরীক্ষামূলক লকডাউন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

রেড জোন ঘোষণার প্রক্রিয়া তুলে ধরে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রথমে সিভিল সার্জন তার এলাকা অ্যাসেস করবেন। এরপর জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে আলাপ করবেন। একই সঙ্গে সংসদ সদস্যসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপ করবেন। সিদ্ধান্তে আসার পর তারা স্বাস্থ্য অধিদফতরের অনুমতি চাইবে। স্বাস্থ্য অধিদফতর অনুমতি দিলে তারা আমাদের কাছে আবেদন জানাবে ছুটি ঘোষণার জন্য।

করোনা : আরও ৪ জেলার ৭ এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা

করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) অতি ঝুঁকিতে থাকা দেশের আরও ৪ জেলার ৭ এলাকাকে রেড জোন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে সেখানে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার।জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার কক্সবাজার, মাগুরা, খুলনা ও হবিগঞ্জের ৭টি ‘রেড জোনে’ ২৪ জুন থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে আদেশ জারি করেছে।

ভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণের জন্য স্থানীয় প্রশাসন লাল অঞ্চলে জীবনযাত্রা ‘কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ’ করতে পারবে। অফিস-কারখানা বন্ধ থাকবে, যানবাহন ও সাধারণের চলাচলে থাকবে কড়াকড়ি।

এনিয়ে তিন দফায় ১৯ জেলার ৪৫টি এলাকাকে ‘রেড জোন’ ঘোষণা করে সেখানে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হল।

আদেশে বলা হয়েছে, লাল অঞ্চল ঘোষিত এলাকায় অবস্থিত সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ ও বেসরকারি অফিস, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থায় কর্মরত ও অন্য এলাকায় বসবাসরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও এ ছুটি প্রযোজ্য হবে।

জরুরি পরিষেবা এ সাধারণ ছুটির আওতা বহির্ভূত থাকবে।

দেশজুড়ে দুই মাসের লকডাউনের পর করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে এখন সংক্রমণপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে নানা বিধিনিষেধ আরোপের কৌশল নিয়েছে সরকার।

১০০ বছর পর পর ঘুরে আসে মহামারি

ইতিহাস বলছে ১০০ বছর পরপর ঘুরে আসে মহামারি। এ বছর বিশ্বে দেখা দিল নভেল করোনাভাইরাস(কভিড-১৯) মহামারি। ১৯২০ সালে এসেছিল স্প্যানিশ ফ্লু, ১৮২০ সালে কলেরা আর ১৭২০ সালে প্লেগ। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এসব মহামারি বদলে দিয়েছে সমাজ ও রাজনীতির সমীকরণ।

করোনাভাইরাস ২০২০ সালে বিশ্বে মহামারি ঘটালো। চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়েছে ২১২ দেশ ও অঞ্চলে। আক্রান্ত প্রায় অর্ধ কোটি মানুষ এবং মৃত্যু তিন লাখের বেশি। করোনা আতঙ্কে ঘর থেকে বের হচ্ছে না কেউ। স্কুল, কলেজ, উপাসনালয় বন্ধ। লকডাউনে অচল অর্থনীতির চাকাও।

১০০ বছর আগে ১৯২০ সালে পৃথিবীতে বিপর্যয় নেমে এসেছিল স্প্যানিশ ফ্লুতে। ১৯১৮ থেকে ১৯২০ সাল পর্যন্ত স্থায়ী এই ফ্লুতে আক্রান্ত হয় ৫০ কোটি মানুষ। মারা যায় ৫ কোটি। স্প্যানিস ফ্লু নাম হলেও এর উৎপত্তি স্পেনে ছিলো না। কেবল স্পেন এই ফ্লুর সঠিক তথ্য প্রকাশ করায় কালক্রমে নাম হয় স্প্যানিশ ফ্লু।

১৮২০ সালে বিশ্ব মুখোমুখি হয় মহামারি কলেরার। ১৮০০ সালে প্রাদুর্ভাব শুরু হয়ে চলে ১৮২৪ সাল পর্যন্ত। কিন্তু ২০ সালেই পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নেয়। এশিয়াটিক কলেরা নামে পরিচিত এই অতিমহামারি শুরু হয় কলকাতার ব্রিটিশ সেনাদের মধ্যে। পরে এটি ছড়িয়ে যায় চীন, ইউরোপ, গ্রেট ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রে। সেসময় বিশ্বজুড়ে প্রায় ২৩ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়।

১৭২০ সালের মহামারি প্লেগের আগ্রাসন হয়। দুই বছরে গ্রেট প্লেগ অব মার্সেইতে ১ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। যদিও মধ্যযুগের ইতিহাস গবেষক ফিলিপ ডেইলিভার তার এক নিবন্ধে লিখেছেন, চার বছর মেয়াদি প্লেগ মড়কে ইউরোপের প্রায় ২০ কোটি মানুষ মারা যায়। প্রাচীন পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ানক এ মহামারিই ইউরোপে ‘ডার্ক এজ’ এর সূচনা করেছিল।

এছাড়া বিশ্বে দেখা দেয় আরো বেশ কয়েকটি মহামারি। ১৬৩৩ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্স, ব্রিটেন ও নেদারল্যান্ডসবাসীর মাধ্যমে আমেরিকার ম্যাসাচুসেটসে গুটিবসন্ত ছড়িয়ে পড়ে। ইতিহাসবিদদের মতে, গুটিবসন্তে সে সময় প্রায় ২ কোটি মানুষের মৃত্যু হয়।

১৬৫৫ খ্রিস্টাব্দে ‘দ্য গ্রেট প্লেগ অব লন্ডন’ মহামারিতে লন্ডনের প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ মৃত্যুবরণ করে। ধারণা করা হয়েছিল, কুকুর-বিড়ালের মতো গৃহপালিত পশুপাখির মাধ্যমে এ রোগের বিস্তার হয়। লন্ডনের ৯০ শতাংশ মানুষ অজানা রোগে আক্রান্ত হওয়ায় শহরটি পরিণত হয়েছিলো মৃত্যুপুরীতে।

১৫২০ খ্রিস্টাব্দে ইউরোপিয়ানদের সঙ্গে আসা একজন আফ্রিকান দাসের মাধ্যমে গোটা অ্যাজটেক সাম্রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে গুটিবসন্ত, যা বয়ে আনে ভয়ংকর মহামারি। সমসাময়িক গবেষণামতে, ষোড়শ ও সপ্তদশ শতাব্দীতে ইউরোপিয়ানদের বয়ে আনা জীবাণুর কারণে আমেরিকা মহাদেশে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি মানুষের মৃত্যু হয়।

মহামারির সবচেয়ে ভয়ঙ্কর চিত্র দেখা যায় ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ সালে। এ মহামারি ব্ল্যাক ডেথ নামে কুখ্যাতি পেয়েছিল। প্লেগে আক্রান্ত হয়ে সাত বছরেই মারা গিয়েছিল অন্তত আট কোটি মানুষ। মধ্য এশিয়ার সমভূমিতে এই রোগের জন্ম। এরপর এটি সিল্ক রোড হয়ে ক্রিমিয়ায় পৌঁছায়।

ক্ষুদ্র অণুজীব সৃষ্ট মহামারি শুধু মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়নি, বদলে দিয়েছে সমাজ ও জীবনযাপনের রীতি। অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ও রাজনীতিতে ফেলেছে সুদূরপ্রসারী প্রভাব।