ভোল পাল্টালেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতির স্থায়িত্ব নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদের একটি বক্তব্যের পর সারাদেশে তোলপাড় শুরু হয়েছে। খোদ সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও এ নিয়ে কথা বলেছেন। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, ওবায়দুল কাদের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও এ ব্যাপারে কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের আলোকেই তিনি এ কথা বলেছেন।

তবে ডা. আজাদ দাবি করেছেন, তার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং অনেকে না জেনেই সমালোচনা করছেন। তিনি যা বলেছেন সেটা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নয়, বিশ্ব প্রেক্ষাপটে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে সে কথা বলেছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এসে মহাপরিচালক ডা. আজাদ বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতায় এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, করোনা পরিস্থিতি এক, দুই বা তিন মাসে শেষ হচ্ছে না। এটি দুই থেকে তিন বছর বা তার চেয়েও বেশিদিন স্থায়ী হবে। যদিও সংক্রমণের মাত্রা উচ্চ হারে নাও থাকতে পারে। এ বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্যক উপলব্ধি করেন।’

তার এ বক্তব্যে দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি যখন তুঙ্গে, তখন এ ধরনের বক্তব্য দেশবাসীকে আরও বেশি আতঙ্কিত ও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। এই মুহূর্তে ডা. আজাদ কেন এমন বক্তব্য দিলেন তা নিয়েও আলোচনার ঝড় ওঠে। খোদ সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও এ নিয়ে কথা বলেন। তিনি শুক্রবার (১৯ জুন) গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, সরকার যখন দিনরাত পরিশ্রম করে মানুষের মনোবল চাঙ্গা রাখার নিরলস প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখন স্বাস্থ্য বিভাগের কোনো কোনো কর্মকর্তার করোনার আয়ুষ্কাল নিয়ে অদূরদর্শী ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য জনমনে হতাশা তৈরি করেছে।

একের পর এক অমার্জনীয় ভুল করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

করোনা মোকাবেলার শুরু থেকেই ভুল পথে হাঁটছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে নীতিনির্ধারকরা মনে করেন যে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ড এবং বক্তব্যের কারণেই বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি এই অবস্থায় এসেছে। শুরু থেকেই তাঁরা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে, ভুল পথে হাঁটছে এবং সঙ্কট সমাধানের কোন দিকনির্দেশনা দিতে পারছে না। এইবাস্তবতায় সরকারের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ব্যাপক পরিবর্তনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলেও একটি দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

গতকাল দীর্ঘদিন পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ডা. আবুল কালাম আজাদ মিডিয়া ব্রিফিংয়ে আসেন। ব্রিফিংয়ে এসেই তিনি এক বিভ্রান্তিকর বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন যে, আগামী ২-৩ বছর কিংবা তাঁর থেকেও বেশি সময় আমাদের করোনার সঙ্গে বসবাস করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই বক্তব্যকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দায়িত্বজ্ঞানহীন বলেছেন এবং এটাকে অমার্জনীয় অপরাধ হিসেবেও চিহ্নিত করেছেন। শুধু তাই নয়, এই বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করেছেন সরকারের নীতিনির্ধারক মহল। এর প্রধান কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে যে, বিশ্বের একাধিক দেশে ইতিমধ্যেই করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিনের কাজ চলছে।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ একাধিক মহল থেকে বলা হচ্ছে যে, আগামী কয়েক মাসে মধ্যে, সর্বোচ্চ জানুয়ারির মধ্যেই ভ্যাকসিন আসবে।

সরকারের নীতিনির্ধারকরা বলছেন যে, ভ্যাকসিনের দিকেই এখন সরকারের নজর দেওয়া উচিত।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উচিত বিশ্বের কোথায় ভ্যাকসিন হচ্ছে এবং কিভাবে সেই ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে সেই উদ্যোগ গ্রহণ করা। কারণ প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছেন যে, ভ্যাকসিন আসা পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। কাজেই পৃথিবীতে ভ্যাকসিন আসার পর যেন আমরা পিছিয়ে না পড়ি, দ্রুতই যেন আমরা ভ্যাকসিন পাই সেটাই হলো এখন আমাদের অগ্রাধিকার।

কিন্তু গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ তাঁর দেওয়া বক্তব্যে ভ্যাকসিনের কথাটি না বলে মানুষের মাঝে এক ধরণের আতঙ্ক এবং হতাশা তৈরি করেছে। এটা অমার্জনীয় অপরাধ বলে মনে করছেন সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল ব্যক্তি। প্রধানমন্ত্রী নিজেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বক্তব্যে অসন্তুষ্ট বলে সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

শুধু এবারই প্রথম নয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক করোনা সঙ্কটের শুরু থেকেই  একের পর এক বিভ্রান্তিকর ভুল তথ্য দিচ্ছেন এবং জাতিকে বিভ্রান্ত করছেন বলে জানা গেছে। বাংলাদেশে যখন করোনার সংক্রমণ শুরু হলো তখন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সীমিত পরীক্ষার মাধ্যমে করোনা সংক্রমণকে ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছিলেন বলে অনেকে মনে করেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সেই সময় যদি অনেক বেশি হারে পরীক্ষা হতো তাহলে পরিস্থিতি এত ভয়ঙ্কর হতো না। এরপরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল যে করোনার সংক্রমণ ১ লাখের বেশি হবেনা। এই তথ্যও ছিল বিভ্রান্তিকর এবং এই প্রক্ষেপণের মাঝে কোন দায়িত্বশীলতা ছিলোনা বলেও মনে করেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা।

এরপরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হলো যে, বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে করোনা চিকিৎসা করতে হবে। অন্তত ৫০ শয্যার যেকোন হাসপাতালকে করোনা চিকিৎসা দিতে হবে। এটা করে আরেক দফা ভুল পথে হাঁটল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। প্রত্যেকটি হাসপাতালের জন্য পৃথক কোভিড-নন কোভিড চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে এভাবে ঢালাওভাবে চিকিৎসা করতে দেওয়ার কারণে আরেক ধরণের সমস্যা তৈরি হলো। এছাড়া যখন করোনা শুরু হলো, তখনই করোনা সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসকদের সুরক্ষার কথা বলা হলো।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে যে কেনাকাটা করা হলো সেই কেনাকাটায় অস্বচ্ছতা পাওয়া গেল। এক ‘এন-৯৫’ মাস্ক নিয়েই কেলেঙ্কারি ঘটে গেল, যে কেলেঙ্কারির ঘটনা প্রকাশ করলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নিজেই। শুধু তাই নয়, শুরু থেকেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে দেখে মনে হচ্ছে যে, দায়সারা গোছের কাজ করছেন এবং ভুল পথে হাঁটছেন।

সরকারের একাধিক নীতিনির্ধারক মনে করছেন যে, এই ভুলগুলো অমার্জনীয় এবং এখনই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মধ্যে শুদ্ধি অভিযান না করলে এই ভুলের কারণে জনগণের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হবে।

করোনা আক্রান্ত সাবেক এমপি বদি

করোনায় কাঁপছে দেশ। এই মারণ ভাইরাস যেন কাউকেই ছাড় দিচ্ছে না। চিকৎসক থেকে শুরু করে মন্ত্রী-এমপি সবাই আক্রান্ত হচ্ছেন। আর এবার কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সাবেক সাংসদ আব্দুর রহমান বদি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

আজ শুক্রবার কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজের পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা শেষে তার শরীরে ধরা পড়ে করোনা। বিষয়টি গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন বদির প্রেসসচিব হেলাল উদ্দিন।

তিনি বলেন, পাঁচ-ছয়দিন জ্বরে ভোগার পর বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বদিকে কক্সবাজার ইউনিয়ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আজ করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। পরে সন্ধ্যা পৌনে ৮টার দিকে উন্নত চিকিৎসার ব্যক্তিগত গাড়িতে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন তিনি।

ক্ষণে ক্ষণে কথা বদল করছেন স্বাস্থ্য ডিজি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ গতকাল বৃহস্পতিবার বহুদিন পর ফিরে বললেন, করোনা আরো ২/৩ বছর থাকবে।

এরপর আজ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী যখন এর তীব্র সমালোচনা করলেন। তখন তিনি আবার অনলাইনে এসে বললেন, তার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা হয়েছে। তিনি এভাবে বলেননি। তিনি বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বলেছেন।এরপর তার এই বক্তব্য নিয়েও সমালোচনা হলো। বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার আগের বক্তব্য প্রকাশ করা হলো। তখন তিনি পিছু হটলেন। তার একজন কর্মকর্তাকে দিয়ে তিনি একটি প্রেস ব্রিফ্রিং দিলেন। সেখানে বলা হলো, `স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (ডিজি) বক্তব্যের স্ক্রিপটি তৈরি করতে করতে স্বাস্থ্য বুলেটিনের সময় হয়ে যাওয়ায় তিনি সেটি ভালো করে পরীক্ষা করার সুযোগ পাননি। স্ক্রিপট পাঠ করে অনলাইনে বক্তব্য রাখেন। পরবর্তীতে তিনি বুঝতে পারেন যে, ওই বক্তব্যটিতে অস্পষ্টতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই প্রেস বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রেরিত নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে বিষয়টি স্পষ্ট করে দেওয়া হয়।`

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক একজন দায়িত্ববান কর্মকর্তা। প্রথম কথা হলো তাকে কেন এ ধরণের স্পর্শকাতর বক্তব্য লিখে দিতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর করোনা মোকাবিলার ক্ষেত্রে মূল দায়িত্ব পালন করা প্রতিষ্ঠান। কাজেই তাকেই যদি লিখে দিতে হয়, তা্হলে তিনি কি করেন?

দ্বিতীয়ত, তাড়াহুরা করে তিনি এ ধরণের বক্তব্য দেবেন কেন? কি এমন জরুরি ছিলো যে তার এই বক্তব্য দিতে হবে? তিনি যখন এই বক্তব্যটা পড়লেন তখন তিনি কি বধির ছিলেন, তিনি কি এই কথার মানে বুঝেন না? নাকি তিনি শুধুমাত্র একজন পাঠক। সংবাদ পাঠকের মতো কিছুই জানেন না কি লেখা! যখন পড়েছেন তখন কি এর মর্মবানী উপলব্ধি করতে পারেননি? এবং ২৪ ঘন্টা চলে যাওয়ার পর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক যখন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেন, তখন কেন তার একের পর এক তালগোল পাকানো বক্তব্য দিতে হবে?

এটাই হলো স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিস্থিতি। যেখানে করোনা মোকাবিলায় সবচেয়ে বেশি কাজ করতে হবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে। শয্যা সংখ্যা বাড়ানো, ভ্যাকসিন, বেশি মানুষের টেস্ট, টেস্টের রেজাল্ট কিভাবে দ্রুত দেওয়া যায় সেসব নিয়ে না ভেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আছেন এক ভয়ঙ্কর ব্যাধিতে। একের পর এক বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে এই পরিস্থিতি আরো জটিল করে তুলেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক চিকিৎসক মো. জাহাঙ্গির কবির স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তি বলছে, `গতকাল (বৃহস্পতিবার) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা বিষয়ক নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদের একটি বক্তব্যকে ঘিরে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে মহাপরিচালক গভীরভাবে দুঃখিত।`

প্রেস বিজ্ঞপ্তি বলছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের যে বক্তব্য নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দেয়, সে বিষয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তি আকারে গতকাল স্বাস্থ্য বুলেটিনে বলা হয়েছিল, `বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতায় এবং বিশ্বের স্বাস্থ্য বিজ্ঞানী ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী করোনা পরিস্থিতি সারা বিশ্বে এক, দুই বা তিন মাসেও শেষ হচ্ছে না। একটি সফল টিকা আবিষ্কার এবং পর্যাপ্ত জনগোষ্ঠীর মধ্যে সফল প্রয়োগ না হওয়া পর্যন্ত দেশগুলোতে করোনার অস্তিত্ব থাকবে। ফলে এটি এক বছরের বেশি, এমনকি দুই বা তিন বছর বা এর বেশি সময়ও স্থায়ী হতে পারে। যদিও আমরা মনে করি, সংক্রমণের মাত্রা হ্রাস পাবে।`

অর্থমন্ত্রীর দুই ভাই করোনা আক্রান্ত

এবার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের ছোট ভাই কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম সারওয়ার।

শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন চেয়ারম্যান গোলাম সারওয়ার। এর আগে ১৫ জুন কুমিল্লার লালমাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের বড় ভাই আবদুল হামিদ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

সোমবার (১৫ জুন) রাতে অর্থমন্ত্রীর বড় ভাই আবদুল হামিদের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। তিনি বর্তমানে কুমিল্লা শহরের ঝাউতলার বাড়িতে হোম আইসোলেশনে রয়েছেন। তিনিও সুস্থ আছেন বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে। তবে অর্থমন্ত্রীর দুই ভাইয়ের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসায় পরিবারের আরও কিছু সদস্যের নমুনা পরীক্ষার জন্য দেয়া হয়েছে। ফলাফলের বিষয়ে কারও বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

শনাক্ত লাখ ছাড়ালো: দেখুন কোন জেলায় কত আক্রান্ত 

দেশে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১ লাখ অতিক্রম করলো। করোনার চতুর্থ মাসে এসে দেশে দৈনিক এই ভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্তের সংখ্যা প্রতিদিনই তিন হাজার অতিক্রম করছে। আর গতকাল সেটা ৪ হাজারও পেরিয়ে গেছে।

শুরুতে ঢাকা ও এর আশেপাশের এলাকা ছিল করোনা সংক্রমণের মূল হটস্পট। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সারা দেশে সংক্রমণের জাল ছড়িয়ে দিয়েছে করোনা। এখন দেশের কোনো নির্দিষ্ট এলাকা নয়, বরং সারাদেশই করোনায় আক্রান্ত। সারা দেশের প্রত্যেকটি জেলাই করোনার ভায়াবহ রূপটা দেখতে পাচ্ছে। শ্রমঘন শহর এলাকায় করোনার প্রকোপ বেশি হলেও মফস্বল বা গ্রাম এলাকাগুলোও এই ভাইরাসের ছোবল থেকে রেহাই পাচ্ছে না।

এখানে আইইডিসিআর এর দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী দেখে নিন দেশের (ঢাকা মহানগরী ব্যতীত) কোথায় কত জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন-

ঢাকা বিভাগ

ঢাকা (জেলা)- ২৪৭৯

গাজীপুর- ২৫১১

কিশোরগঞ্জ- ১০৮৩

মাদারীপুর- ৪৬৮

মানিকগঞ্জ- ৪৩০

নারায়ণগঞ্জ- ৪৩৭২

মুন্সিগঞ্জ- ১৬৬১

নরসিংদী- ১১০৯

রাজবাড়ী- ১৪০

ফরিদপুর- ১০২৩

টাঙ্গাইল- ৩৭৯

শরিয়তপুর- ২৯৫

গোপালগঞ্জ- ৪১৪

চট্টগ্রাম বিভাগ

চট্টগ্রাম- ৫৫৮৫

কক্সবাজার- ১৬৮৮

কুমিল্লা- ২২১৭

ব্রাহ্মণবাড়িয়া- ৪০৬

খাগড়াছড়ি- ৯৪

লক্ষ্মীপুর- ৫০৩

বান্দরবান- ১১১

রাঙামাটি- ১১৬

নোয়াখালী- ১৫৮১

ফেনী- ৬০৯

চাঁদপুর- ৫০৮

সিলেট বিভাগ

মৌলভীবাজার- ১৯১

সুনামগঞ্জ- ৪২৭

হবিগঞ্জ- ২৬১

সিলেট- ১৪৯৫

রংপুর বিভাগ

রংপুর- ৭৩১

গাইবান্ধা- ১৮৮

নীলফামারী- ২৭০

লালমনিরহাট- ৬৯

কুড়িগ্রাম- ১১২

দিনাজপুর- ৪৫৮

পঞ্চগড়- ১১৬

ঠাকুরগাঁও- ১৬৯

খুলনা বিভাগ

খুলনা- ৪৯২

যশোর- ২৬৮

বাগেরহাট- ৮৭

নড়াইল- ৮৬

মাগুরা- ৫৫

মেহেরপুর- ৩৪

সাতক্ষীরা- ৮৬

ঝিনাইদহ- ১১৯

কুষ্টিয়া- ২৫৩

চুয়াডাঙ্গা- ১৪৭

ময়মনসিংহ বিভাগ

ময়মনসিংহ- ১০৫৯

জামালপুর- ৪৪০

নেত্রকোনা- ৩৬৬

শেরপুর- ১৯২

বরিশাল বিভাগ

বরগুনা- ১৪৬

ভোলা- ১৫৯

বরিশাল- ১০১২

পটুয়াখালি- ২০৪

পিরোজপুর- ১৩২

ঝালকাঠি- ১০২

রাজশাহী বিভাগ

জয়পুরহাট- ২৩৮

পাবনা- ২৪৭

চাপাইনবাবগঞ্জ- ৮৬

বগুড়া- ১৮২০

নাটোর- ৯৬

নওগাঁ- ২২১

সিরাজগঞ্জ- ২৩৭

রাজশাহী- ১৭৬

একদিনে করোনায় ৩ বিশিষ্ট চিকিৎসকের মৃত্যু

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আজ বুধবার ঢাকা, দিনাজপুর ও চট্টগ্রামে আরও তিন জন চিকিৎসক মারা গেছেন। তাদের একজন ডা. মো. আশরাফুজ্জামান আজ সকাল ৮টার দিকে রাজধানীর উত্তরার বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ডা. মো. আশরাফুজ্জামান গতরাত ১টার দিকে বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকালে তিনি মারা যান। ডা. মো. আশরাফুজ্জামান ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। এ ছাড়াও, তিনি রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক এবং হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের প্রধান ছিলেন। ডা. মো. আশরাফুজ্জামান চার বছর আগে সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেন।

দিনাজপুরের এম আব্দুর রহিম মেডিকেলে কলেজের সাবেক পরিচালক ডা. শাহ আব্দুল আহাদ ৭০ বছর বয়সে আজ সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মারা যান। ডা. শাহ আব্দুল আহাদ বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সাবেক সভাপতি ছিলেন। গত ৮ জুন তার করোনা শনাক্ত হয়। এরপর থেকে তিনি এম আব্দুর রহিম মেডিকেলে কলেজের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ডা. শাহ আব্দুল আহাদের ডায়ারেটিস ও হার্টের সমস্যা ছিল। গতকাল রাতেও তিনি ভালো ছিলেন। তবে আজ ভোর থেকে শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়ে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তিনি মারা যান।

এর আগে, আজ ভোররাত ৪টার দিকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় একই হাসপাতালের সিনিয়র আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. নুরুল হক মারা যান। করোনায় আক্রান্ত ডা. নুরুল হক গত তিনদিন ধরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাকে প্লাজমা থেরাপিও দেওয়া হয়েছিল। গতকাল শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। ডা. নুরুল হক গত ১৯ বছর ধরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। ডা. নুরুল হক চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ৩৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।’

উল্লেখ্য, এই তিন জনকে নিয়ে এ পর্যন্ত দেশে ৩৭ জন চিকিৎসক করোনায় মারা গেছেন। এ ছাড়া, করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন পাঁচ জন চিকিৎসক।

আ.লীগ নেতা অর্থমন্ত্রীর বড় ভাই করোনা আক্রান্ত

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন কুমিল্লার লালমাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হামিদ। তিনি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের বড় ভাই।

সোমবার (১৫ জুন) রাতে আবদুল হামিদের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাত ৮টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অর্থমন্ত্রীর ছোট ভাই কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার চেয়ারম্যান গোলাম সারওয়ার।

চেয়ারম্যান গোলাম সারওয়ার বলেন, সোমবার রাতে করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে আবদুল হামিদের। কুমিল্লা শহরের ঝাউতলার বাড়িতে আইসোলেশনে রয়েছেন তিনি। জ্বর ছাড়া তার শরীরে অন্য কোনো উপসর্গ নেই। তিনি সুস্থ আছেন। তার পরিবারের সবার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। করোনা পরীক্ষার জন্য আমিও নমুনা দিয়েছি। এখনও আমার রিপোর্ট আসেনি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, করোনা সঙ্কটের শুরু থেকে অর্থমন্ত্রীর পক্ষে তার দুই ভাই কুমিল্লা সদর দক্ষিণ ও লালমাই উপজেলায় হতদরিদ্রদের ঘরে ঘরে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন। ত্রাণ বিতরণের সময় অনেকের সংস্পর্শে আসায় হয়তো কোনোভাবে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন আবদুল হামিদ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রোববার (১৪ জুন) চেয়ারম্যান গোলাম সারওয়ারের সরকারি গাড়ির চালক আবদুর রাজ্জাকের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। সোমবার সকালে উপজেলা চেয়ারম্যানসহ তাদের বাড়ির সাত সদস্যের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। রাতেই জানানো হয় আবদুল হামিদের করোনা পজিটিভ। এরপর তাকে হোম আইসোলেশনে রাখা হয়।

করোনা শনাক্তে গণস্বাস্থ্যের কিট কার্যকরী নয় বলে প্রমাণিত

করোনা শনাক্তে গণস্বাস্থের কিট কার্যকরী নয় বলে প্রমাণিত হয়েছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় বিএসএমএমইউ।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র উদ্ভাবিত করোনার অ্যান্টিবডি কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষা প্রতিবেদন সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)। এরপর ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরে কিটের প্রতিবেদন জমা দেওয়া হতে পারে।

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. বিজন কুমার শীলের নেতৃত্বে ড. নিহাদ আদনান, ড. মোহাম্মদ রাঈদ জমিরউদ্দিন ও ড. ফিরোজ আহমেদের সমন্বয়ে বাংলাদেশি বিজ্ঞানীদের একটি দল অ্যান্টিবডি কিট তৈরি করেছেন। তারা একটি অ্যান্টিজেন কিটও তৈরি করেছেন।

গত ৩০ এপ্রিল গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে বিএসএমএমইতে কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষার অনুমতি দেয় ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর। এরপর কিটের পরীক্ষায় বিএসএমএমইউ একটি কমিটি গঠন করে এবং ১২ মে দেওয়া এক চিঠিতে গণস্বাস্থ্যকে পরীক্ষার জন্য কিট দিতে বলে। এরপর ১৩ মে কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষকে ৫০০ পিস অ্যান্টিবডি কিট দেয় গণস্বাস্থ্যকেন্দ্র।

শেখ হাসিনার নির্দেশনা প্রতিপালনে নেতা-কর্মীদের দিক-নির্দেশনা

শেখ হাসিনার নির্দেশনা প্রতিপালনে নেতা-কর্মীদের দিক-নির্দেশনা

গতকাল বিকেলে আওয়ামী লীগ সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক অনির্ধারিত বৈঠকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপন কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নির্দেশনা প্রতিপালন ও বাস্তবায়নের কৌশল নির্ধারণের আলাপ-আলোচনা করেন এবং দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দদের মাননীয় সভাপতির নির্দেশনাটি সম্পর্কে অবহিত করেন।

১লা আষাঢ় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা আগামী ৩ মাসব্যাপী ( আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র) বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনসমূহের প্রত্যেক নেতাকর্মীকে ৩টি করে গাছ লাগানোর নির্দেশনা দিয়েছেন।

এ সময় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর  উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আলহাজ্ব মকবুল হোসেন, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম এমপি, কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য বদরউদ্দিন আহমদ কামরান, ধর্ম মন্ত্রনালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী  শেখ আব্দুল্লাহসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে। একইসাথে সারাদেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী সকলের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করা হয়।

অনির্ধারিত এই সভায় সাম্প্রতিক সময়ে মৃত্যুবরণকারী আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ এবং করোনা আক্রান্ত হয়ে সারাদেশে মৃত সকলের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠানের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

এ সময় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি,  আ. ফ. ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক এস. এম কামাল হোসেন, মির্জা আজম এমপি, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক শ্রী সুজিত রায় নন্দী, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান এবং কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য সাহাবুদ্দিন ফরাজী প্রমুখ।