‘সাকিবকে দেখে মনে হয় আমরা বিশ্ব ক্রিকেট শাসন করব’

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটের যত অর্জন, তার বিশাল এক অংশজুড়ে আছে সাকিব আল হাসানের নাম। সেই সাকিবকে ঘিরে বড় স্বপ্ন দেখেন জাতীয় দলের সতীর্থ মেহেদী হাসান মিরাজ। সাকিবকে আদর্শ মানা মিরাজ মনে করেন, সাকিবের হাত ধরেই বিশ্ব ক্রিকেট শাসন করবে টাইগাররা।

পারফরম্যান্স বিবেচনায় ক্রিকেট বিশ্বে বেশ সমীহ আদায় করে বাংলাদেশ দল। তবে এখনো বৈশ্বিক মঞ্চে বড় কোন শিরোপার স্বাদ না পাওয়াতেই তেমনভাবে আলোচনা হয় না লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের নিয়ে। মিরাজের ভাবনা, সেই আক্ষেপ ঘুচাবেন সাকিবই।

বয়সভিত্তিক দলে পারফর্ম করে উঠে এসেছেন মিরাজ। সাফল্যের দেখা পেয়েছেন জাতীয় দলেও। অনেকেই বলে থাকেন, বাংলাদেশ দলের ভবিষ্যৎ সাকিব হবেন এই ডানহাতি অলরাউন্ডার। তবে এমন তুলনা পছন্দ নয় মিরাজের। বিডিক্রিকটাইমের ঈদ আড্ডায় অতিথি হয়ে এসে এর কারণ জানিয়েছেন তিনি।

যেখানে মিরাজ বলেন, ‘আসলে সাকিব ভাইয়ের সাথে কারও তুলনা হয় না। বাংলাদেশ ক্রিকেটকে সে অনেক কিছু দিয়েছে। সে একজন কিংবদন্তি এবং আমাদের জন্য আদর্শ। তার খেলা দেখেই বড় হয়েছি। তাকে দেখে আমরা অনুপ্রাণিত হই, আমরা মানসিকভাবে শক্তি পাই, মনে হয় আমরা বিশ্ব ক্রিকেট শাসন করব।’

সাকিবকে আদর্শ মানলেও জাতীয় দলের আরেক সতীর্থ মুশফিকুর রহিমের ব্যাটিং ভালো লাগে মিরাজের। এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যানের সাথে ব্যাটিং করতেও উপভোগ করেন তিনি। ছোটবেলায় নিজেও মুশফিকের মত করে ব্যাটিং করতেন বলে মিরাজকে এখন ‘ছোটা মুশফিক’ নামে ডাকে অনেকেই।

মিরাজ বলেন, ‘আমার বাংলাদেশে সবথেকে ভালো লাগে মুশফিক ভাইয়ের ব্যাটিং। অন্যদের থেকে তাকে একটু আলাদা লাগে। মুশফিক ভাইয়ের সাথে একসাথে ব্যাটিং করতে আমি খুব উপভোগ করি। বেশ কিছু ভালো পার্টনারশিপও আছে ভাইয়ের সাথে আমার।’

‘সবাই বলে আমি অনেকটা মুশফিক ভাইয়ের মতো। মুশফিক ভাইয়ের মতই ছোটবেলায় আমি ব্যাটিং করতাম। আমিও দেখেছি তার এভাবে ব্যাটিং করতে। এটা (ছোটা মুশফিক) সবাই বলে, অনেক মজাও করে। তো ওখান থেকেই আসলে এই নামে ডাকে সবাই।’– সাথে যোগ করেন তিনি।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

সূত্রঃ বিডি ক্রিকটাইম

দ্বিতীয় সন্তানের বাবা হলেন আশরাফুল

দ্বিতীয় সন্তানের বাবা হলেন আশরাফুল

করোনাভাইরাস মহামারীর আতঙ্কের ভেতরেও সুখবর আসছে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ঘরে। এবার দ্বিতীয় সন্তানের মুখ দেখলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। আশরাফুল দম্পতির ঘর আলো করে এবার এসেছে পুত্র সন্তান।

শুক্রবার (২৯ মে) পৃথিবীর আলো দেখেছে মোহাম্মদ আশরাফুলের দ্বিতীয় সন্তান। রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করেছে শিশুটি। মা ও ছেলে উভয়েই সুস্থ আছেন। দ্বিতীয় সন্তানের পৃথিবীর আলো দেখার খবরটা নিশ্চিত করেছেন আশরাফুল নিজেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে এই সুসংবাদ জানান তিনি।

পুত্র ও স্ত্রীর সাথে ছবি দিয়ে আশরাফুল লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। দ্বিতীয় সন্তানের বাবা-মা হওয়ার সৌভাগ্য হলো। আমাদের ছেলের জন্য দোয়া করবেন।’

মা ও ছেলে উভয়েই সুস্থ আছেন। তবে এই করোনাভাইরাসের মহামারীর মধ্যে জন্মগ্রহণ করায় বাড়তি সতর্করা অবলম্বন করতে হবে।

আশরাফুলের প্রথম সন্তানটি কন্যা। আশরাফুলের মেয়ের বয়স সাড়ে তিন বছর। ২০১৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর আশরাফুলের ঘর আলো করে এসেছিল তার প্রথম সন্তান। আশরাফুলের মেয়ের নাম আরিবা তাসনিম। তবে সদ্যোজাত ছেলের নাম এখনো জানানো হয়নি।

সম্প্রতি বাংলাদেশের বেশ কয়েক জন ক্রিকেটারের ঘর আলো করে এসেছে তাদের সন্তান। সাকিব আল হাসানের দ্বিতীয় সন্তান মেয়ে, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দ্বিতীয় সন্তান ছেলে, মোহাম্মদ মিঠুনের দ্বিতীয় সন্তান মেয়ে ও এনামুল হক বিজয়ের প্রথম সন্তান মেয়ে হওয়ার সুসংবাদ পাওয়া গিয়েছে গত দুই মাসের মধ্যে।

উল্লেখ্য, সাকিবের প্রথম সন্তানটাও মেয়ে এবং রিয়াদের প্রথম সন্তানও ছেলে এবং মিঠুনের প্রথম সন্তান ছেলে। করোনাভাইরাসের কারণে এখন মাঠের ক্রিকেট বন্ধ থাকায় তারা পরিবারকে সময় দিতে পারছেন। সন্তানের সাথে অধিক সময় কাটাতে পারছেন।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

সূত্রঃ বিডি ক্রিকটাইম

বেফাঁস মন্তব্য করা বিসিবি কর্তাদের একহাত নিলেন মাশরাফি

ফাইল ছবি

দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। বিশ্বকাপে মাশরাফি ও তামিম ইকবালের পারফরম্যান্স এবং ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত ক্রিকেটার মোশাররফ রুবেলকে নিয়ে গণমাধ্যমের সামনে বোর্ডের কয়েকজন কর্মকর্তার প্রকাশ্য নেতিবাচক মন্তব্যে ক্ষোভ ঝেড়েছেন ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ খ্যাত এই ক্রিকেটার।

ওয়ানডে বিশ্বকাপে দলনেতা মাশরাফির পারফরম্যান্স সন্তোষজনক ছিল না। প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি তামিমও। দুজনের পারফরম্যান্স নিয়ে বোর্ডের অনেকে কানাঘুষা করতেন- বিশ্বকাপে বাংলাদেশ খেলেছে ‘সাড়ে ৯’ জন খেলোয়াড় নিয়ে!

সম্প্রতি নট আউট নোমান অনুষ্ঠানে মাশরাফি বলেন, ‘যখন বলা হয় বাংলাদেশ দল সাড়ে ৯ জন বা ১০ জন নিয়ে বিশ্বকাপে খেলেছে… আর এটা যখন মিডিয়ার সামনে বসে বলবে! ফাজলামো করে হোক বা গুরুত্ব দিয়েই হোক, একজন দর্শক এটা বলতে পারে। কিন্তু ক্রিকেটের সর্বোচ্চ মহলের কেউ যখন এটা মিডিয়ার সামনে বলে তখন অবশ্যই কষ্ট লাগবে। কারণ আমি তো বোর্ডের বিরুদ্ধে কোনোদিন একটা কথা বলেনি। বোর্ড আমাকে ডেকে বলতে পারে।’

বিশ্বকাপে নিজের ম্লান পারফরম্যান্স মেনে নিলেও চেষ্টার কোনো কমতি ছিল না বলে খোলাসা করেন মাশরাফি। তিনি জানান, ‘বিশ্বকাপে এমন কোনো প্র্যাকটিস সেশন নেই যে আমি যোগ দেইনি। একদিন দুইজন খেলোয়াড় অনুশীলন করেছে, সেখানে একজন আমি ছিলাম। আমার ভালো খেলতে হবে এই চেষ্টা ছিল। আমি বিন্দুমাত্র ছাড় দেইনি। সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, জানি না কেন হয়নি।’

জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার মোশাররফ হোসেন রুবেল ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হলে তার চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করার জন্য অনুদান দিয়েছিল বিসিবি। এ নিয়েও অসন্তোষ আছে অনেক বোর্ড কর্তার। মাশরাফি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘মোশাররফ রুবেলের ব্রেন টিউমার হয়েছে। আপনি (অনুযোগ করে) মিডিয়ায় বলছেন- কারও কয়দিন পর ক্যান্সার হবে, তাকেও টাকা দিতে হবে… তখন খেলোয়াড় হিসেবে মনে হয়- আমরাও অনেক কিছু বলতে পারি যেগুলো আপনাদের করারই প্রয়োজন নেই, কিন্তু আপনারা করেন। আমরা বলেছি কখনো? রুবেল মৃত্যুপথযাত্রী ছিল। পাপন ভাই বা বোর্ডের সর্বোচ্চ মহল আলোচনা করেই তো তার চিকিৎসার টাকাটা দিয়েছে। আপনার আপত্তি থাকলে পাপন ভাইর সামনেই করতেন, মিডিয়ার সামনে এসে কেন বলছেন? চিন্তা করুন, এটা শুনে রুবেলের পরিবারের কেমন লেগেছে।’

ইউটিউবের এই অনুষ্ঠানে মাশরাফি অকপটে স্বীকার করেন, বোর্ডের শীর্ষপর্যায়ের কর্তাদের এমন আচরণ মেনে নিতে পারেননি তিনি।

মাশরাফি বলেন, ‘সত্যি বলতে, এই বিষয়গুলো আমার খারাপ লেগেছে। আমার পারফরম্যান্সের কারণে আমাকে যেখানেই নামান না কেন, আমি প্রস্তুত আছি। কিন্তু বোর্ডের মানুষ কথা শোনাবে এটার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। তাও আপনাদের মাধ্যমে জেনেছি, আমার সামনে বললেও এক কথা ছিল। মিডিয়াকে বললে এটা সবাইকে বলা হয়ে যায়। তখন মিডিয়াও ভাবে- আমাদের ভেতরে সমন্বয় নেই। প্রশ্ন ওঠে- আমাকে তারা কোন চোখে দেখে আর আমি কোন চোখে দেখি। আমার উনাদের প্রতি শ্রদ্ধা আছে, বিশ্বাস করি বেশিরভাগ মানুষেরই আছে। যাদের ভালো লাগে না তারা অন্যভাবে বিষয়টা দেখতে পারত, যেটা করেনি।’

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

সূত্রঃ বিডি ক্রিকটাইম

১৫ বছর পূর্তিতে মুশফিকের ‘বিশেষ ঘোষণা’

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেড় দশক পার করেছেন মুশফিকুর রহিম। বাংলাদেশের এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান ১৫ বছর পূর্তির দিনে দিয়েছেন ফাউন্ডেশন গড়ার ঘোষণা।

মুশফিক আগেই জানিয়েছিলেন, দেড় দশক পূর্তির দিনে একটি বিশেষ ঘোষণা আসছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) রাত দশটায় ফেসবুক লাইভে

মুশফিক জানান, শীঘ্রই তিনি ফাউন্ডেশন গড়তে চলেছেন। ফাউন্ডেশনের জন্য লোগোও আহ্বান করেছেন তিনি।

মুশফিক বলেন, ‘ঠিক এই দিনে ১৫ বছর আগে লর্ডসের মাঠে প্রথম টেস্ট খেলতে নেমেছিলাম। দেখতে দেখতে ১৫টি বছর কেটে গেল।’সমর্থক, বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে মুশফিক বলেন, ‘এখন এমন একটা সময়, যখন আপনাদের প্রতিদান দেওয়ার অনেক কিছু আছে। সেই প্রতিদান দেওয়ার জন্য কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি। প্রথম পদক্ষেপ আমার স্বপ্নের এমআর১৫ ফাউন্ডেশন গড়ে তোলা। আমি শীঘ্রই এই ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছি।’

মুশফিকের ফাউন্ডেশনের লোগো ডিজাইন করতে পারবেন ভক্তরাই। চূড়ান্ত লোগো বাছাই করবেন মুশফিক। সেরা ৫ ডিজাইনার মুশফিকের সাথে পাঁচ তারকা হোটেলে ডিনারের সুযোগ পাবেন। যার লোগো চূড়ান্ত হবে, তিনি পাবেন মুশফিকের স্বাক্ষরিত জার্সি।

বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে ফাউন্ডেশন আছে মাশরাফি বিন মুর্তজা ও সাকিব আল হাসানের। মাশরাফির ফাউন্ডেশনের নাম নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশন, যা ২০১৭ সালে যাত্রা শুরু করে। দ্য সাকিব আল হাসান ফাউন্ডেশন নামে সাকিবের গড়া ফাউন্ডেশনটি করোনায় সৃষ্ট দুর্যোগপূর্ণ সময়ে কার্যক্রম শুরু করেছে। এছাড়া সম্প্রতি ফাউন্ডেশন গড়ে তোলার ঘোষণা দেন মোহাম্মদ আশরাফুল। সাবেক এই অধিনায়কও ইতোমধ্যে ফাউন্ডেশন গঠনপ্রক্রিয়া শুরু করেছেন।

২০০৫ সালে বাংলাদেশ দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা শুরু করেন মুশফিক। ঐ বছরের ২৬ মে ঐতিহাসিক লর্ডসে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মর্যাদার টেস্ট ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে যাত্রা শুরু করেন মুশফিক। পরের বছর ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেও অভিষেক হয়। ২০০৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে দলে উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান হিসেবে জায়গা পোক্ত করেন তিনি।

জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক এখন পর্যন্ত ৭০টি টেস্ট, ২১৮টি ওয়ানডে ও ৮৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। সদ্য ৩৩ বছর পূর্ণ করা মুশফিক ইতোমধ্যে দেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানের তকমা পেয়েছেন নানা কীর্তি আর রেকর্ড গড়ে।
নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

সূত্রঃ বিডি ক্রিকটাইম

মাশরাফির সমর্থনেই ঘুরে দাঁড়িয়েছেন লিটন

ফাইল ছবিঃ মাশরাফি-লিটন

বাংলাদেশ ক্রিকেটে যে কজন সম্ভাবনাময় তরুণ ক্রিকেটার আছেন, তাদের একজন লিটন দাস। বিভিন্ন সময়েই দলের সিনিয়র ক্রিকেটাররা সুযোগ পেলে লিটনকে প্রশংসায় ভাসান। অথচ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরুর লগ্নে তিক্ত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। সেই সময় ঢাল হিসেবে মাশরাফি বিন মুর্তজাকে পেয়েছেন লিটন।

ক্লাসিক্যাল ব্যাটিংয়ের সাথে সাবলীলভাবে হাত খুলে খেলার ধরণের জন্য ঘরোয়া ক্রিকেটে আলো কাড়েন লিটন। এরপর ২০১৫ সালের মাঝের দিকে বাংলাদেশ দলে অভিষেক। তবে শুরুতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের ধারাটা ঠিক ধরতে পারছিলেন না তিনি।

নিজের খেলা প্রথম ১৭ ওয়ানডেতে সেঞ্চুরিতো দূরের কথা, কোন অর্ধশতকের দেখাও পাননি এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। এর মধ্যে ১০ ম্যাচেই পার করতে পারেননি দুই অঙ্কের কোটা। এমন হতশ্রী পারফরম্যান্সের জন্য দল থেকে বাদও পড়েছিলেন লিটন। তবে সেই সময় তাকে সমর্থন দিয়ে গেছেন টাইগারদের তৎকালীন ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি।

লিটনের প্রতি আস্থা রেখে আবার জাতীয় দলে খেলার সুযোগ করে দিয়েছেন মাশরাফি। এরপর গত বিশ্বকাপ থেকে তো নিজেকে রীতিমত বদলে ফেলেছেন লিটন। শেষ ৯ ম্যাচে লিটনের ব্যাট থেকে এসেছে ৫৭১ রান। তামিম ইকবালের সাথে ভিডিও আড্ডায় এর জন্য মাশরাফির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন লিটন।

এ প্রসঙ্গে লিটন বলেন, ‘মাশরাফি ভাই তো এই বিষয়ে আমাকে যথেষ্ট পরিমাণে সাহায্য করেছেন। উনি সমর্থন না দিলে ঐ সময়ে ১৫টি ম্যাচও হয়তো খেলার সুযোগ হতো না। আমার যে পারফরম্যান্স ছিল, বিশেষ করে ওয়ানডেতে। সেখানে ১৫ ম্যাচ টানা খেলা অনেক বড় বিষয় ছিল। তো উনি ঐদিক দিয়ে আমাকে আসলেই অনেক সমর্থন করেছে।’

সেই দুঃসময়ের স্মৃতিচারণ করেন লিটন, ‘আমি জাতীয় দলে খেলার আগে যেখানেই খেলেছি আমি কিন্তু পারফর্ম করেছি। আমার ৫০ বা ১০০ সবসময়ই ছিল কোথাও না কোথাও। ঐ একটা সময় ছিল যেখানে ২০ টির মতো ম্যাচে আমার কোন ফলাফল ছিল না। আমি আমার মত সাধারণ ক্রিকেটটা খেলতে পারছিলাম না।’

‘ঐ সময়ে প্রতিদিন আমি চিন্তা করতাম যে আমার স্বভাবজাত খেলাটা খেলবো। কিন্তু ওখান থেকে আমি কখনোই ফিরে আসতে পারতাম না। আমি যেতাম, শট খেলতে পছন্দ করতাম বলে শট খেলতাম আর ভুলের জন্য আউট হয়ে যেতাম।’– সাথে যোগ করেন তিনি।

ঘরোয়া আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মধ্যে পার্থক্য ধরার পরেই নিজেকে বদলেছেন লিটন, ‘আমি ভেবেছিলাম ঘরোয়াতে আমি যেভাবে খেলে রান করেছি, আন্তর্জাতিক ম্যাচেও সেভাবে খেলতে পারবো। পরবর্তীতে আমি বুঝতে পেরেছি যে আন্তর্জাতিক ম্যাচে অনেক কিছু নিজেকে করে নিতে হয়।’

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

সূত্রঃ বিডি ক্রিকটাইম