ঢাকায় বাতাসের মানের উন্নতি

দূষিত বাতাসের সাথে লড়াই করা রাজধানী ঢাকার বাতাসের মানের উল্লেখযোগ্য উন্নতি অব্যাহত রয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৮ মিনিটে ৭৩ স্কোর নিয়ে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সে (একিউআই) ১৪তম খারাপ অবস্থানে উঠে এসেছে জনবহুল এ শহর। যা বাতাসের মানকে ‘গ্রহণযোগ্য’ নির্দেশ করে।

একিউআই সূচকে ৫০ এর নিচে স্কোর থাকার অর্থ হলো বাতাসের মান ভালো। স্কোর ৫১ থেকে ১০০ হলে বাতাসের মান গ্রহণযোগ্য বলে ধরে নেয়া হয়। তবে এ অবস্থায় শিশু, বয়স্ক ও যাদের শ্বাসকষ্ট আছে তাদের বাইরে বেশি সময় না থাকার পরামর্শ দেয়া হয়।

পাকিস্তানের লাহোর, চীনের চেংদু এবং ভারতের দিল্লি যথাক্রমে ১৬৮, ১৩৯ এবং ১৩৫ স্কোর নিয়ে তালিকার প্রথম তিনটি স্থান দখল করেছে।

সূচকে ১৫১ থেকে ২০০ এর মধ্যে স্কোর থাকার অর্থ হলো সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে। সংবেদনশীল গোষ্ঠীর স্বাস্থ্যের ওপর আরও বেশি প্রভাব পড়তে পারে।

জনবহুল ঢাকা দীর্ঘদিন ধরেই দূষিত বাতাস নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। মূলত নির্মাণ কাজের নিয়ন্ত্রণহীন ধুলা, যানবাহনের ধোঁয়া, ইটভাটা প্রভৃতি কারণে রাজধানীতে দূষণের মাত্রা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে বর্ষা মৌসুমে দূষণ কিছুটা কমে।

বিশ্বব্যাংক ও পরিবেশ অধিদপ্তরের এক প্রতিবেদনে ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান কারণ হিসেবে এ শহরের চারপাশে অবস্থিত ইটভাটাকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তথ্যসূত্রঃ এবিএন

লকডাউন পিরিয়ডে সূর্য, ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের শঙ্কা

কিছুদিন আগেই জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা দাবি করেন যে, ক্রমশ কমছে সূর্যের তেজ আর উজ্জ্বলতা! এ বার বিজ্ঞানীদের দাবি, সূর্যপৃষ্ঠের উপরে ঘটে চলা ক্রিয়াকলাপ ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। অর্থাৎ, সূর্যেও নাকি ‘লকডাউন পর্ব’ শুরু হয়েছে।জ্যোতির্বিজ্ঞানী ডঃ টনি ফিলিপস জানান, ‘সোলার মিনিমাম’ পর্ব শুরু হয়েছে। সূর্যের শরীরে সৌর কলঙ্কের চিহ্ন ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। একই সঙ্গে সূর্যের চুম্বকীয় ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। ফলে মহাজাগতিক রশ্মি অতিরিক্ত মাত্রায় সৌরজগতে প্রবেশ করছে।

সৌর বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, এমনই এর ‘সোলার মিনিমাম’-এর প্রভাবে ১৮১৫ সালের ১০ এপ্রিলে ইন্দোনেশিয়ার মাউন্ট টাম্বোরাতে হওয়া ভয়ঙ্কর অগ্ন্যুৎপাতে প্রাণ হারিয়েছিলেন ৭১ হাজার মানুষ। এর ঠিক পরের বছরই (১৮১৬ সাল) ‘বিনা গ্রীষ্মের বছর’ দেখেছিল পৃথিবী। সে বছর জুলাই মাসে বিশ্বের বহু জায়গায় বরফ পড়েছিল। এই ঘটনা বিজ্ঞানীদের কাছে ‘ডালটন মিনিমাম’ নামে পরিচিত।

নাসার বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, এই ‘সোলার মিনিমাম’-এর প্রভাবে ১৭৯০ থেকে ১৮৩০ সালের মধ্যে হওয়া ‘ডালটন মিনিমাম’ ফিরে আসতে পারে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানী ডঃ ফিলিপস উদ্বেগের সঙ্গে জানান, এই ‘সোলার মিনিমাম’-এর প্রভাব পড়তে পারে পৃথিবীতেও। খরা, তীব্র শীত, অগ্ন্যুত্পাত বা ভয়ঙ্কর ভূমিকম্পের ঘটনা বেড়ে যেতে পারে পৃথিবীতে। পৃথিবী ফের সম্মুখীন হতে পারে ‘ডালটন মিনিমাম’-এর মতো ভয়ঙ্কর পর্বের।

তথ্যসূত্রঃ এবিএন

ঢাকায় বাতাসের দূষণ কমেছে ৩০ শতাংশ

মাত্র দুই মাসের লকডাউনে বদলে গেছে ঢাকার বাতাস। দূষণের মহানগরে এখন সবুজ আর সতেজ হাওয়া। প্রাণভরে শ্বাস নেয়ার বড় সুযোগ করে দিয়েছে প্রাণঘাতী করোনা। এরই মধ্যে বাতাসের ৩০ শতাংশ দূষণ কমেছে, যা বিশ্বের দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় ৩০-৪০ ধাপ নিচে নামিয়ে এনেছে ঢাকাকে। পরিবেশবিদরা বলছেন, চাইলেই যে দূষণ রোধের ব্যবস্থা করা যায় এটি তারই প্রমাণ।এমন নীল আকাশ ঠিক কতদিন আগে দেখেছে ঢাকাবাসী? এর সঠিক জবাব হয়তো কারো কাছে নেই। মাত্র দুই মাসের লকডাউনে বদলে গেছে অনেক কিছুই। নাভিশ্বাস তোলা গাড়ির কালো ধোয়ার জায়গা করে নিয়েছে মৃদু বাতাস আর নির্মল প্রকৃতি।

২০১৯ সালে বিশ্বের দূষিত শহরের শীর্ষে থাকা ঢাকায় এখন সবুজ সতেজ প্রকৃতি। ফুলে ফুলে ছেয়ে আছে চারপাশ। এ এক অন্যরকম স্নিগ্ধতা। যেখানে নীল আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে প্রাণ ভরে নিঃশ্বাস নিচ্ছে নগরবাসী।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা এয়ার ভিজ্যুয়ালের দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় গত মার্চ ও এপ্রিলে ঢাকার অবস্থান ছিল ৩০ থেকে ৪০ নম্বরে।

করোনা লকডাউনের জেরে দূষণের মাত্রা চোখে পড়ার মতো কমেছে। পরিবেশবিদরা বলছেন, এটি প্রকৃতির বিদ্রোহ। এর থেকে পাঠ নিয়ে দূষণ নিয়ন্ত্রণে এখনই কড়া পদক্ষেপ নিতে না পারলে, মানব সভ্যতা আরও দুর্গতিতে পড়বে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন মুগ্ধতা ধরে রাখতে মেয়াদহীন যানবাহন বন্ধের পাশাপাশি কলকারখানার দূষণ বন্ধেও শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে সরকারকে।

সূত্রঃ এবিএন

তাপমাত্রার তুলনায় যে কারণে গরম বেশি

একদিকে বঙ্গোপসাগর থেকে উপকূলের দিকে ধাবমান ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’-এর কারণে আতঙ্ক, অন্যদিকে তাপদাহে নাভিশ্বাস উঠেছে মানুষের। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বাতাসের জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি, একারণে দৃশ্যমান তাপমাত্রার তুলনায় বেশি তাপ অনুভূত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদফতর।আবহাওয়ার ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়- ঢাকা, মাদারীপুর, রাঙ্গামাটি, নোয়াখালী, রাজশাহী, পাবনা, বরিশাল ও পটুয়াখালী অঞ্চল এবং খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টি না হলে এটি অব্যাহত থাকতে পারে।

জানা যায়, রবিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা যশোরে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া ঢাকায় ৩৬, ময়মনসিংহে ৩৪, চট্টগ্রামে ৩৪ দশমিক ৭, সিলেটে ৩৪ দশমিক ১, রংপুরে ৩৪, রাজশাহীতে ৩৮, খুলনায় ৩৭.৮ এবং বরিশালে ৩৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, একদিকে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাব, অন্যদিকে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি হওয়ার কারণে আর্দ্রতা বেশি। এ কারণে তাপমাত্রার তুলনায় গরম বেশি অনুভূত হচ্ছে। তবে ঝড় যত এগিয়ে আসবে, ততই বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে।

এবিএন/শংকর রায়/জসিম/পিংকি