৪-৬ সপ্তাহের মধ্যে করোনার টিকা উৎপাদন শুরু হচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রীষ্মের শেষেই ভ্যাকসিন উৎপাদন শুরুর পথে রয়েছে বলে জানা গেছে। সিএনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪-৬ সপ্তাহের মধ্যে উৎপাদন কাজ শুরু করবে তারা। মার্কিন প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সোমবার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

সিএনবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন চারটি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন কর্মসূচিকে অপারেশন র‌্যাপ স্পিড প্রোগ্রামের আওতায় আর্থিক সহায়তা করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে উৎপাদন কারখানার সুবিধা বাড়ানো ও কাঁচামাল সংগ্রহে কোম্পানিগুলোকে সাহায্য করা হচ্ছে। তাদের লক্ষ্য, আগামী বছর নাগাদ ৩০ কোটি ভ্যাকসিন ডোজ তৈরি করা।

সোমবার অনলাইন কনফারেন্স কলে ট্রাম্প প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, ‘কবে নাগাদ ভ্যাকসিনের বিভিন্ন উপাদান উৎপাদন ও প্রস্তুতের কাজ শুরু হবে, সে সম্পর্কে বলতে গেলে বলা যায়, চার থেকে ছয় সপ্তাহ লাগতে পারে। এর মধ্যে ভ্যাকসিন উৎপাদন শুরু হবে। তবে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হবে গ্রীষ্মের শেষে।’

কয়েক মিলিয়ন থেকে ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি অর্থ সাহায্য পাওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে জনসন অ্যান্ড জনসন, মডার্না, অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও নোভাভ্যাক্স।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে রিজেনেরন ফার্মাসিউটিক্যাল নামের একটি কোম্পানির সঙ্গে কোভিড-১৯ থেরাপি উদ্ভাবনের জন্য ৪৫ কোটি ডলারের চুক্তি হয়েছে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এর পরীক্ষামূলক প্রয়োগের ফল পাওয়া যাবে।

ট্রাম্প প্রশাসনের ওই কর্মকর্তা বলেছেন, দ্রুতগতিতে ভ্যাকসিন তৈরির কাজ এগিয়ে চলছে, যা ইতিহাসে আগে কখনো হয়নি। থেরাপি আরও দ্রুত উদ্ভাবন হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও প্রতিষ্ঠানে ভ্যাকসিন তৈরির জন্য তহবিল জোগাবে মার্কিন প্রশাসন।

করোনার তথ্য গোপন করেছে চীন আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, অভিযোগ হংকংয়ের বিজ্ঞানীর

করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে চিন, বার বার এমন অভিযোগে সরব হয়েছে আমেরিকা। তবে বার বারই সেই অভিযোগ অস্বিকার করেছে চীন। তবে এ বার চিনের বিরুদ্ধে করোনার তথ্য গোপনের গুরুতর অভিযোগে সরব হলেন হংকংয়ের এক বিজ্ঞানী।

হংকংয়ের ভাইরাস বিশেষজ্ঞ ডঃ লি মেং ইয়ান চীনা সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, অনেক আগে থেকেই করোনা সম্পর্কে জানত চীনের সরকার। কিন্তু ইচ্ছে করেই তা প্রকাশ্যে আনেনি তারা।

ডঃ লি মেং ইয়ান হংকংয়ের স্কুল অব পাবলিক হেলথ-এর ভাইরোলজি অ্যান্ড ইমিউনোলজি-র বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করতেন। গত ২৮ এপ্রিল হংকং থেকে আমেরিকায় পালিয়ে আসেন তিনি।

তিনি নিজেও এই ভাইরাস নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছিলেন। জানতে পেরে তার গবেষণা পণ্ড করতে প্রথমে সাইবার হামলা, পরে লোক পাঠিয়ে সরাসরি কাজ বন্ধ করার জন্য হুমকি দেওয়া হয় চীনা সরকারের পক্ষ থেকে! বিস্ফোরক দাবি, ডঃ লি মেং ইয়ানের।

ডঃ লি মেং ইয়ান জানান, ৩১ ডিসেম্বর তিনি জানতে পারেন যে, করোনা মানুষের থেকেই ছড়ায়। তার অভিযোগ, শুধু চীনা সরকারই নয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উপদেষ্টা ভাইরাস বিশেষজ্ঞ মালিক পেইরিসও করোনার ভয়াবহতার বিষয়ে আগে থেকেই জানতেন। কিন্তু সব জেনেও মুখ বন্ধ রাখেন তিনিও।

 

আল-জাজিরায় সাক্ষাৎকার দেওয়া বাংলাদেশি রায়হানের ভিসা বাতিল

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরায় সাক্ষাৎকার দেয়া বাংলাদেশি রায়হান কবিরের ভিসা বাতিল করেছে মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন। সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেশটির পুলিশ মহাপরিদর্শক তানশ্রি আবদুল হামিদ বদর।

তিনি জানিয়েছেন, রায়হান কবিরের ওয়ার্ক পারমিট (ভিসা) বাতিল করেছে ইমিগ্রেশন বিভাগ। সুতরাং তাকে তার নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর আগে আত্মসমর্পণ করতে হবে।

মালয়েশিয়ায় বসবাসরত অভিবাসীদের প্রতি দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক চলতি লকডাউনে বৈষম্যমূলক ও বর্ণবাদী আচরণ করা হয়েছে বলে ‘লকড আপ ইন মালয়েশিয়া’স লকডাউন’ শিরোনামে ২৫ মিনিটের একটি ডকুমেন্টারি সম্প্রতি আল-জাজিরা টেলিভিশনে প্রকাশিত হয়। এই প্রতিবেদনটি প্রচারিত হওয়ার পর মালয়েশিয়া সরকার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রতিবেদনকে ‘ভিত্তিহীন ও মিথ্যাচার’ অভিহিত করেছে। এ প্রতিবেদনে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন বাংলাদেশি রায়হান কবির। এর পর থেকেই রায়হানের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়েছে মালয়েশিয়া।

এর আগে রায়হান কবিরের খোঁজ দিতে জনসাধারণের সহায়তা চেয়ে একটি নোটিশ জারি করেছিল দেশটির অভিবাসন বিভাগ। নোটিশে আল-জাজিরা টেলিভিশনকে দেওয়া তার সাক্ষাৎকারের বিষয়ে দেশটির অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর ধারায় তদন্তে সহযোগিতা করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ছাড়া অভিবাসন বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে রায়হান কবিরের ছবি, বয়স, তার পাসপোর্ট নম্বর, দেশের নাম ও বর্তমান কুয়ালালামপুরে অবস্থানের ঠিকানা সংযুক্ত করে তাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি হটলাইন নম্বর চালু করেছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

নোটিশ জারির পর থেকে মালয়েশিয়ায় থাকা প্রবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

 

বিশ্বে ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ২ লাখ ৩৪ হাজারের বেশি করোনা রোগী শনাক্ত

করোনায় গেলো ২৪ ঘণ্টায় ফের রেকর্ড ২ লাখ ৩৪ হাজারের বেশি শনাক্ত দেখলো বিশ্ব। একদিনে প্রাণ গেছে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার মানুষের।এদিন সবচেয়ে বেশি ১,২৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে ব্রাজিলে। লাতিন দেশটিতে মোট প্রাণহানি সাড়ে ৭০ হাজার। এর পরই সবচেয়ে বেশি ১ লাখ ৩৭ হাজারের মতো মৃত্যু দেখে যুক্তরাষ্ট্র, শুক্রবারও মারা গেছেন ৮২৫ জন। একদিনে, রেকর্ড ৭১ হাজার কোভিড নাইটিন রোগী শনাক্ত হলো দেশটিতে।

ভারতে প্রাণ গেছে ৫২১ জনের। দেশটিতে মোট প্রাণহানি ২২ হাজার ছাড়ালো, আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়ালো ৮ লাখ। মাত্র তিনদিনে একলাখ নতুন রোগী শনাক্ত হলো দেশটিতে।

এছাড়া, মেক্সিকোয় আরও ৭৩০ জন মৃত্যুবরণ করলেন করোনাভাইরাসে। সবমিলিয়ে বিশ্বে ৫ লাখ ৬২ হাজারের কাছাকাছি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন; সংক্রমিত এক কোটি ২৬ লাখের বেশি।

 

বিশ্বব্যাপী একদিনে করোনা শনাক্তের সর্বোচ্চ রেকর্ড

বিশ্বজুড়ে একদিনে সর্বোচ্চ দুই লাখ ২২ হাজার ৮২৫ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে মোট শনাক্ত হওয়া রোগী ১ কোটি ২৪ লাখ। এছাড়া নতুন আরো সাড়ে ৫ হাজারসহ মোট মৃত্যু ৫ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি। সুস্থ হয়েছেন প্রায় ৭২ লাখ মানুষ।

ভারতে গত দু’দিন ধরেই দৈনিক ২৫ হাজার করে শনাক্ত হচ্ছে। ২৪ ঘন্টায় শনাক্ত হয়েছে রেকর্ড ২৫ হাজার ৭৯০ জন। ভারতে মোট শনাক্ত প্রায় ৮ লাখ। ২৪ ঘন্টায় নতুন ৪৭৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হলো।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রেও দ্বিতীয় দিনের মতো ৬১ হাজারের বেশি শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে মোট শনাক্ত ৩২ লাখ ছাড়িয়েছে। নতুন করে ৯৬০ জন মোট মৃত্যু এক লাখ ৩৫ হাজারের বেশি। ব্রাজিলেও শনাক্ত হয়েছে ৪২ হাজারের বেশি। এ নিয়ে দেশটিতে মোট শনাক্তের সংখ্যা সাড়ে ১৭ লাখের বেশি। দক্ষিণ আমেরিকায় মোট শনাক্ত ১৭ লাখের বেশি। মোট মৃত্যু এক রাখ ছাড়িয়েছে।

করোনার সংক্রমণ বেড়েছে সাউথ আফ্রিকাতেও। ২৪ ঘন্টায় সাউথ আফ্রিকায় রেকর্ড শনাক্ত হয়েছে ১৩ হাজার ৬৭৪ জন। এ নিয়ে মোট ২ লাখ ৩৮ হাজারের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত। আর মোট মৃত্যু হয়েছে প্রায় চার হাজার।

উইঘুর মুসলিম নির্যাতনে চীনা কর্মকর্তাদের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

উইঘুর মুসলিমদের ওপর নির্যাতন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে চীনের শক্তিশালী পলিটব্যুরোর সদস্যসহ ৪ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলো যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার, এ সিদ্ধান্ত জানান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও।বিবৃতিতে বলা হয়, ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি করায় এসব কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে না।

জানানো হয়, তাদের বিরূদ্ধে উইঘুরদের ওপর কঠোর নজরদারির অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সংখ্যালঘু মুসলিমদের বন্দি করা এবং জোরপূর্বক দীক্ষাদানের মতো রয়েছে গুরুতর অভিযোগ। তালিকায় রয়েছেন পলিটব্যুরোর সদস্য চেন কুয়াংগু। তিনি জিনজিয়াংয়ে কমিউনিস্ট পার্টির সেক্রেটারি। এছাড়া প্রদেশটির আরও ৩ কর্মকর্তাও রয়েছেন তালিকায়।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে ১০ লাখেরও বেশি মুসলিমকে ক্যাম্পে আটকে রেখে নির্যাতন করা হচ্ছে। তবে, বেইজিং বরাবরই অভিযোগটি প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

টিকটক-সহ চিনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করার পথে হাঁটছে আমেরিকা?

ভারতে নিষিদ্ধ হয়েছে টিকটক-সহ ৫৯ টি চিনা অ্যাপ। এবার সেই পথে হেঁটে টিকটক ব্যান করার কথা ভাবছে তাদের মিত্র দেশ আমেরিকা। জল্পনাকে উসকে দিয়ে মার্কিন স্টেট সেক্রেটারি মাইক পম্পেও গত সোমবার জানিয়েছেন, আমেরিকাও টিকটক-সহ চিনা অ্যাপ ব্যান করার কথা ভাবছে।

পম্পেও এ-ও জানিয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ ভাবে বিষয়টি দেখছে।

তথ্য নিরাপত্তার স্বার্থে গত ৩০ জুন টিকটক-সহ ৫৯ টি অ্যাপকে নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার। একদিনের মধ্যে প্লে স্টোর থেকে সরে যায় অ্যাপগুলি। ভারতের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছিল আমেরিকা।

তাহলে কি আমেরিকাও এবার এই পথে? সে নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। তারই মধ্যে টিকটক সংস্থা হংকংয়ে নিজেদের বাজার বন্ধ করেছে। চিনের নতুন জাতীয় নিরাপত্তা আইন এনে হংকংয়ের স্বায়ত্ত শাসনের কোমর ভেঙে দিয়েছে জিনপিং প্রশাসন। নতুন আইন এনে সেন্সর করার পাশাপাশি গ্রাহক তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ চিনা সরকারের বিরুদ্ধে। তাই হংকংয়ে ঝাঁপ টেনেছে টিকটক।

অন্যদিকে ব্রিটেনে হাওয়েই কোম্পানিকে দেওয়া ৪জি পরিষেবার চুক্তি ভাঙার পথে এগিয়েছেন বরিস জনসন। সব মিলিয়ে চাপ বাড়ছে জিনপিংয়ের উপর। সারা বিশ্বে কোণঠাসা হচ্ছে বেজিং।

 

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি চীন : এফবিআই

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি, রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক নীতির ভবিষ্যতের জন্য চীন সবচেয়ে বড় হুমকি বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)।

বিবিসি বলছে, মঙ্গলবার ওয়াশিংটনের হাডসন ইনস্টিটিউটে এফবিআই পরিচালক ক্রিস্টোফার রে একটি বহুমাত্রিক তদন্ত অভিযানের বর্ণনা দিতে গিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন।

তিনি বলেন, এমন কোনো দেশ নেই যে কিনা যুক্তরাষ্ট্র্রের উদ্ভাবন, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক নীতির জন্য হুমকি, কিন্তু চীন রয়েছে। চীন কমিউনিস্ট সরকার কর্তৃক গুপ্তচরবৃত্তি এবং চোরাবৃত্তির ঘটনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যতের জন্য ‘সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী হুমকি’ হয়েছে।

ক্রিস্টোফার রে জানান, চীন বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে। তা কখনো সরকারি কর্মকর্তাকে ব্যবহার করে বা ব্যবসায়ী, শীর্ষ বিজ্ঞানী, উচ্চ পর্যায়ের শিক্ষাবিদের দিয়ে। যারা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ভাবন এবং গোপনীয় তথ্য চুরি করে চীনে পাচার করছে। এ ক্ষেত্রে চীন তাদের বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের হুমকির মাধ্যমে জোরপূর্ব কাজে লাগাচ্ছে।

তিনি বলেন, চীন কমিউনিস্ট সরকার বিদেশে বসবাসরত চীনা নাগরিকদের জোরপূর্বক একাজে ব্যবহার করছে এবং মার্কিন করোনাভাইরাস গবেষণাকে অবজ্ঞা করার চেষ্টায় লিপ্ত তারা।

এফবিআই পরিচালক আশঙ্কা করে বলেন, চীন প্রয়োজনীয় যে কোনো উপায়ে বিশ্বের একমাত্র পরাশক্তি হওয়ার জন্য পুরো রাষ্ট্রীয় প্রচেষ্টায় নিয়ে লিপ্ত হয়েছে।

মঙ্গলবার প্রায় এক ঘণ্টার দীর্ঘ বক্তৃতায় এফবিআই পরিচালক চীনা হস্তক্ষেপের এক নিবিড় চিত্র তুলে ধরেন। সেখানে চীন কীভাবে মার্কিন নীতিকে প্রভাবিত করতে ঘুষ এবং ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে অর্থনৈতিক গুপ্তচরবৃত্তি, তথ্য ও আর্থিক চুরি ও অবৈধ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুদূরপ্রসারী চেষ্টা চালাছে তা বর্ণনা করেন তিনি।

তিনি বলেন, আমরা এখন এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছে গেছি, যেখানে এফবিআই প্রতি ১০ ঘন্টা অন্তর চীন-সম্পর্কিত পাল্টা বিরোধী তদন্ত চালাচ্ছে। বর্তমানে সারাদেশে চলমান প্রায় ৫০০টি সক্রিয় প্রতি গোয়েন্দা তদন্তের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই চীনের সাথে সম্পৃক্ত বলে তিনি জানান।

এফবিআইয়ের পরিচালক এক্ষেত্রে সরাসরি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংর দিকে অভিযোগের তীর নিক্ষেপ করলেন। তার অভিযোগ, চীনা প্রেসিডেন্ট এই আত্মঘাতি কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন।

দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্নায়ু ও বাণিজ্য যুদ্ধ চলছে। করোনাভাইরাসের সময় তা তীব্র উত্তেজনায় রূপ নিয়েছে।

 

জাপানে প্রবল বন্যায় ৫০ জনের প্রাণহানি

জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে প্রবল বন্যায় অন্তত ৫০ জনের প্রাণহানি হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম।

বন্যার কারণে নিখোঁজ রয়েছে আরো বেশ কয়েকজন। কিউশু দ্বীপের কুমামোতো ও কাগোশিমা এলাকা থেকে প্রায় ৮০ হাজার অধিবাসীকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। কুমামোতোয় একটি বৃদ্ধাশ্রমের নার্সিং হোম বন্যার পানিতে ভেসে যায়। মারা যান ১৪ জন।

এদিকে, দেশটিতে কুমা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু বাড়িঘর। কোথাও কোথাও ভূমিধস দেখা গিয়েছে।

দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ১০ হাজারের বেশি বাড়িঘর বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। আর, উদ্ধার কাজে সহায়তায় সেনাবাহিনীর ১০ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

 

ইথিওপিয়ায় সহিংস বিক্ষোভে নিহত ১৬৬

জনপ্রিয় পপ সঙ্গীত তারকা হাকালু হান্দেসা হত্যার বিরুদ্ধে সহিংস বিক্ষোভে উত্তাল ইথিওপিয়া। পুলিশ বলেছে, প্রায় এক সপ্তাহের এই সহিংসতায় অন্তত ১৬৬ জন নিহত হয়েছেন। পুলিশ কর্মকর্তার বরাতে কাতারের সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ১৪৫ জন সাধারণ নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর ১১ সদস্যের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে।শনিবার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফানা ব্রডকাস্টিং করপোরেটের কাছে দেওয়া এক বক্তব্যে ওরোমিয়া অঞ্চলের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার গিরমা গেলাম বলেছেন, ‘হাকালুর মৃত্যুর জেরে এই অঞ্চলের অস্থিরতায় ১৪৫ জন সাধারণ নাগরিক ও ১১ নিরাপত্তারক্ষী তাদের জীবন দিয়েছেন।’রাজধানী আদ্দিস আবাবায় আরও ১০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। গিরমা বলেছেন, আরও ১৬৭ জন ‘গুরুতর আহত’ এবং ১ হাজার ৮৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ইথিওপিয়ার বৃহত্তর ওরোমো আদিবাসী গোষ্ঠীর সদস্য পপ তারকা হাকালু। তার গান দিয়ে সম্প্রতি ওরোমো সংগ্রামের প্রতিনিধিত্ব করে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। সোমবার রাতে আদ্দিস আবাবায় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন তিনি। তাতে আদিবাসী গোষ্ঠীর মধ্যে চরম অস্থিরতা জন্ম নেয় এবং তা দেশের গণতন্ত্রকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

হাকালু হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিরাপত্তা কর্মকর্তা বারবার বলেছেন, বিদ্রোহী সংগঠন ওরোমো লিবারেশন ফ্রন্ট ও বিরোধী দলীয় টাইগ্রে পিপল’স লিবারেশন ফ্রন্ট এর সঙ্গে জড়িত।

গত বৃহস্পতিবার আদ্দিস আবাবার ৬২ মাইল পশ্চিমে নিজের শহর আম্বোতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্য দিয়ে দাফন করা হয় ৩৬ বছরের হাকালুকে।

সূত্রঃ এবিএন