রবি ঠাকুরের স্মৃতিঘেরা কাচারি বাড়ি

‘তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে/সব গাছ ছাড়িয়ে/উঁকি মারে আকাশে।’ এই কবিতার স্রষ্টা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং কবিতাটির সঙ্গে স্মৃতিবিজড়িত স্থানটি হল শাহজাদপুর। এই শাহজাদপুর ঘেঁষে বয়ে গেছে করতোয়া নদী। করতোয়ার একটা শাখা যুক্ত হয়েছিল বড়াল নদীর সঙ্গে। এই শাখা নদী খোনকারের জোলা কাচারি বাড়ির সামনে দিয়েই বহমান ছিল।

কবিগুরু এই নদী দিয়ে তার বোট ‘চিত্রা’ ও ‘পদ্মা’ দিয়ে যাতায়াত করতেন। সেটি এখন ভরাট। এ নদী দেখেই রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, ‘আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে, বৈশাখ মাসে তার হাঁটুজল থাকে’।

কবিগুরু সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে এসেছেন বহুবার। এখানে তিনি জমিদারি দেখাশোনার পাশাপাশি সাহিত্যে মননোবিশ করেন। এখানে বসেই তিনি কিছু কালজয়ী কবিতা রচনা করেছেন। সেগুলো পরবর্তীতে তাঁর ‘সোনার তরী’ কাব্যগ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সে সময় তিনি কিছু ছোটগল্পও লিখেছিলেন। সেগুলোর মধ্যে জনপ্রিয় ছোটগল্প ‘ছুটি’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

এছাড়া আরও কিছু উল্লেখযোগ্য রচনাবলী হল ‘ইছামতি নদী’, ‘দুই পাখি’, ‘ব্যর্থ যৌবন’, ‘পোস্ট মাস্টার’, ‘ক্ষুধিত পাষাণ’, ‘অতিথি’। এই কাচারি বাড়িতে বিশ্বকবি কিছু গানও রচনা করেছন। এজন্যই বলা হয়ে থাকে- রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সৃজনের সবচেয়ে গুরুত্ববহ সৃষ্টি রচিত হয়েছে এই বঙ্গের সংস্পর্শেই।

আজ তিনি নেই কিন্তু তার পায়ের চিহ্ন রয়ে গেছে কাচারি বাড়িসহ শাহজাদপুরের বিভিন্ন স্থানে। সঙ্গে রয়েছে প্রিয় এই কবির জীবনের নানা স্মৃতি। কাছরি বাড়িতে রক্ষিত অর্ডার বুক থেকে জানা যায়, রবিঠাকুর তার পিতার নির্দেশে জমিদারি দেখাশোনার কাজে ১৮৯০ সালের জানুয়ারি মাসে প্রথম শাহজাদপুর আসেন। ১৮৯৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে তিনি এখানে এসেছেন।

বর্তমানে কবির পরশধন্য এই বাড়িটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। এই ভবন চত্বরে নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছে রবীন্দ্র অডিটোরিয়াম। বর্তমানে কাচারি বাড়িটির উত্তরদিকের প্রধান ফটকের সামনে হাট কর্তৃপক্ষ অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করায় তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের এই কাচারি বাড়ি এখন ইতিহাস হয়ে হাতছানি দেয় সবার কাছে। ছুটে যেতে মন চায় তার পদচারণার ঐ ভূমিতে।

প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের তত্ত্বাবধানে বাড়িটি নতুন করে সাজানো হয় । রোমান ও ইউরোপীয় স্থাপত্য ধারায় নির্মিত হয় দোতলা বিশিষ্ট বাড়ি। এখানে রয়েছে রবীন্দ্রনাথের ব্যবহৃত অনেক জিনিস। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ গড়ে তোলে একটি জাদুঘর। রবি ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত অনেক ছবি রাখা আছে এখানে। কবির পারিবারিক অনেক ছবিসহ আরও রয়েছে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহেরু, শেরে বাংলা ফজলুল হকসহ আরও অনেক মহীয়সী ব্যক্তিদের ছবি।

রয়েছে কবির নোবেল পুরষ্কার পাওয়ার ছবি। জাদুঘরে আরও রয়েছে রবীন্দ্রনাথের পাণ্ডুলিপি, পাণ্ডুলিপির ওপর তাঁর চিত্রাঙ্কন অনুশীলন এবং অনেক চিত্রকর্মের ছবি। তাঁর ব্যবহৃত খাট, সোফা, আলনা, আরাম কেদারা, পালকি, শ্বেত পাথরের বিরাট টেবিল, একজোড়া খড়ম, নলসমেত হুঁকো, ফুলদানি, রান্নাঘরে ব্যবহৃত তৈজসপত্র, কাপ পিরিচ, হট ওয়াটার পট, হট ওয়াটার ট্রে, লণ্ঠন, দ্রব্যসামগ্রী ইত্যাদি এখানে রয়েছে।

বন্ধ হচ্ছে করোনা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিন

ফাইল ছবি

বুধবার থেকে করোনা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিন প্রচারিত হবে না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এখন থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে করোনা সম্পর্কিত সব তথ্য জানিয়ে দেওয়া হবে।

তিনি জানান, কোনো বিষয়ে অস্পষ্টতা থাকলে অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানাসহ আরো একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বলে নিতে পারবেন।

মার্চ থেকে চার মাস ধরে প্রতিদিন দুপুর আড়াইটায় দেশে করোনা পরিস্থিতির বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত নিয়ে নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিন আয়োজন করে আসছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

তবে স্বাস্থ্য বুলেটিন একেবারেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে না জানিয়ে মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, ভবিষ্যতে প্রয়োজন সাপেক্ষে হয় আবারও স্বাস্থ্য বুলেটিন প্রচারিত হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক বলেন, কয়েক মাস ধরে একটানা হেলথ বুলেটিন প্রচার করতে গিয়ে অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। প্রতিদিন আক্রান্ত ও মৃতের খবর পড়তে পড়তে তার ওপর এক ধরনের মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে। সার্বিক বিবেচনায় স্বাস্থ্য বুলেটিন প্রচার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা দেশ রূপান্তরকে বলেন, আগামীকাল তো আসুক। এর মধ্যে কী সিদ্ধান্ত হয় জানতে পারবেন।

শোক দিবসকে উৎসবে রূপ দিচ্ছে রাজাকারের পোষ্যরা

ফাইল ছবি

জাতীয় শোক দিবস ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকীর দিনকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্যরকম মহড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন স্বাধীনতাবিরোধীদের স্বজনরা। রাজাকারের ছেলে-নাতি-স্বজনদের যারা বিভিন্ন উপায়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করে বিগত কয়েক বছরে বিপুল অর্থ-বিত্তের মালিক বনেছেন তারা ১৫ আগস্ট একাধিক গরু জবাই করে ভুরিভোজের আয়োজন করছেন। তাদের কেউ কেউ ইউনিয়ন পর্যায়েও এই ধরনের আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এসব এলাকায় প্রকৃত কিংবা পোড় খাওয়া আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অভিযোগ, রাজাকারের পোষ্যরা নিজেদের নানা অনৈতিক কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখার লক্ষ্যে এবং অজানা উত্স থেকে অর্জিত অর্থের প্রভাব দেখাতেই শোক দিবসকে উত্সবে পরিণত করার অপপ্রস্তুতি নিচ্ছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল রবিবার ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘শোক দিবসে দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করতে গরু জবাইয়ের পারমিশন আমরা দিই। এতে অসুবিধা নেই। তাছাড়া করোনা ও বন্যার কারণে দেশে এবার দুস্থ মানুষ বেশি। তবে দুই-একটি জায়গায় আমি অভিযোগ পেয়েছি, আরো পাচ্ছি। স্বাধীনতাবিরোধী চক্র যদি কোথাও এ ধরনের কার্যকলাপ করে থাকে, তাহলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার, আলবদর, আলশামসের পোষ্যদের কেউ কেউ জার্সি বদল করে গত ১০ বছরে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদ-পদবি বাগিয়ে নিয়েছেন। আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করে নানা উপায়ে ইতিমধ্যে তারা বিপুল অর্থ-বিত্তেরও মালিক হয়েছেন। এলাকায় মাদকের কারবারসহ এমন কোনো অপকর্ম নেই, যা তারা নিয়ন্ত্রণ করছেন না। তাদের নানা অপকর্মের কারণে প্রায়ই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে দল ও সরকারকে। অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে ও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বারবারই তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। অনুপ্রবেশকারীদের তালিকাও রয়েছে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে।

বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হারানোর দিনে জাতীয় শোক দিবসে কোনো কোনো স্থানে রাজাকারের পোষ্যদের একাধিক গরু জবাই দিয়ে উত্সব আয়োজনের প্রস্তুতির ঘটনায় ক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগের স্থানীয় প্রকৃত নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, ৫০ হাজার থেকে শুরু করে দেড়-দুই লাখ টাকায় একেকটি গরু কেনার প্রস্তুতি নিয়েছেন হঠাত্ আওয়ামী লীগ বনে বিপুল অর্থের মালিক হওয়া রাজাকারের স্বজনরা। এই অর্থের উত্স নিয়ে প্রশ্ন তুলে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বলছেন—চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও মাদক ব্যবসাসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্জিত টাকায় গরু জবাই করার মাধ্যমে রাজাকারের পোষ্যরা শোক দিবসের মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছেন।

শোক দিবসকে কেন্দ্র করে কেউ যেন কোনো অন্যায় বা চাঁদাবাজি করতে না পারে, সে ব্যাপারে শোকের মাস শুরুর আগেই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। রংপুর সড়ক জোন, বিআরটিসি ও বিআরটিএর কর্মকর্তাদের সঙ্গে গত ৩১ জুলাই শেষ মুহূর্তের ঈদ প্রস্তুতি বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে ওবায়দুল কাদের এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। সেদিন তিনি বলেছিলেন, ‘শোকের মাস আগস্ট শুরু হচ্ছে। এ শোকের মাসে বঙ্গবন্ধুর নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি করা যাবে না। কেউ চাঁদাবাজি বা অনিয়ম করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

সূত্রঃ ইত্তেফাক

যুক্তরাষ্ট্রে স্কুল খোলার তোড়জোড়, ১৪ দিনেই আক্রান্ত ৯৭ হাজার শিশু

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যে চলছে স্কুল খুলে দেওয়ার তোড়জোড়। তবে সম্প্রতি এক রিপোর্টে উঠে এসেছে ‘ভয়াবহ’ চিত্র। দেশটিতে শুধু গত জুলাইয়ের শেষ দুই সপ্তাহে অন্তত ৯৭ হাজার শিশু প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে শনাক্ত হয়েছে। আমেরিকান একাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্স অ্যান্ড চিল্ডড্রেন্স’স হসপিটাল এ্যাসোসিয়েশনের নতুন এক গবেষণায় এই তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটিতে অন্তত তিন লাখ ৩৮ হাজার শিশু করোনায় শনাক্ত হয় । এতে অর্থ দাঁড়ায় শুধু জুলাইয়ের দুই সপ্তাতেই এক চতুর্থাংশেরও বেশি শিশু করোনায় শনাক্ত হয়েছে।

এই প্রতিবেদনটি এমন সময় প্রকাশিত হলো যখন দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে স্কুল খুলে দেওয়ার তোড়জোড় চলছে।

৪৯ রাজ্যের তথ্য বিশ্লেষণ করে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনায় শনাক্তদের ১০ জনের সাত জনের বেশি জন দেশটির দক্ষিণ ও পশ্চিম রাজ্যের।

করোনায় বেশি শিশু শনাক্তের তালিকায় রয়েছে দেশটির মিসৌরি, ওকলাহোমা, আলাস্কা, নেভাদা, ইদাহো এবং মন্টানা রাজ্যগুলো।

নিউ ইয়র্ক সিটি, নিউ জার্সি এবং দেশটির অন্যান্য উত্তরপূর্বাঞ্চলের রাজ্য গত মার্চ এবং এপ্রিলে করোনার সংক্রমণ চূড়ায় ছিল, তবে সেসময় এসব অঞ্চলে শিশুদের করোনা আক্রান্ত হওয়ার হার ছিল কম।

ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, করোনায় আক্রান্ত হলেও শিশুদের গুরুতরভাবে অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ছিল বিরল। তবে দেশটির রোগ সংক্রমণ ও নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (সিডিসি) এনিয়ে সতর্ক করেছেন।

বিশ্বে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান শীর্ষে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৫০ লাখ ছাড়িয়েছে, মৃত্যু হয়েছে এক লাখ ৬২ হাজার ৯৩৮ জনের। নিউ ইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট, জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি।

সূত্রঃ ইত্তেফাক

শাহজাদপুরে ২ যুবকের লাশ উদ্ধার

আজ (০৮আগষ্ট) শনিবার শাহজাদপুরে পৃথক ২ স্থান থেকে ২ যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে শাহজাদপুর থানা পুলিশ। নিহতরা হলেন, মারুফ হাসান (২৬) ও নূর ইসলাম (৩২)। নিহত মারুফ হাসান টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর থানার বাইশ কাইল এলাকার আব্দুস সাত্তারের ছেলে ও নূর ইসলাম শাহজাদপুর উপজেলার গালা ইউনিয়নের গালা ফিল্ডপাড়া মহল্লার নূর চাঁদের ছেলে বলে জানা গেছে। পৃথক এ ২ ঘটনায় থানায় ২টি ইউডি মামলা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত বুধবার (৫ আগস্ট) টাঙ্গাইলে বনভোজনের নৌকাডুবির ঘটনায় মারুফ হাসান নিখোঁজ হয়। পরে গতকাল শনিবার সকালে তার লাশ উপজেলার সোনাতনী ইউনিয়নের যমুনা নদীতে ভেসে উঠলে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে। পরে পরিবারের লোকজনের কাছে মারুফের লাশ হস্তান্তর করা হয় বলে থানার এসআই মান্নান জানান।

অন্যদিকে, গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার গালা ইউনিয়নের গালা ফিল্ডপাড়া মহল্লার নূর ইসলাম বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে আশংকাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেও তার শারীরীক অবস্থার চরমাবনতি ঘটালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে পাবনা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেয়।

আজ শনিবার সকাল ৮টার দিকে পাবনা সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে। কোন অভিযোগ না থাকায় নিহত নূর ইসলামের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে থানার এসআই শাহজাহান জানান।

সিনহা হত্যা: প্রদীপ, লিয়াকতসহ ৭ পুলিশ বরখাস্ত

সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সাত পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আজ শুক্রবার তাঁদের বরখাস্ত করা হয় বলে জানা গেছে।

বরখাস্ত হওয়া সাত পুলিশ সদস্য হলেন টেকনাফ থানার প্রত্যাহার হওয়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ, সিনহাকে গুলি করা পুলিশের পরিদর্শক লিয়াকত আলী, কনস্টেবল সাফানুর করিম, উপপরিদর্শক নন্দদুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল কামাল হোসেন, আবদুল্লাহ আল মামুন এবং সহকারী উপপরিদর্শক লিটন মিয়া।

পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী পুলিশ মহাপরিদর্শক সোহেল রানা প্রথম আলোকে বলেন, আজ এই সাত পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এই সাত পুলিশ সদস্যের নাম উল্লেখ করে গত বুধবার মামলা করেন সিনহা রাশেদের বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। এই সাত আসামি গতকাল বৃহস্পতিবার কক্সবাজার আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে শারমিন ফেরদৌসের করা হত্যা মামলার তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাবের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তিনজনকে (প্রদীপ কুমার দাশ, লিয়াকত আলী, সাফানুর করিম) সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে র‌্যাব। বাকি চারজনকে (নন্দদুলাল রক্ষিত, কামাল হোসেন, আবদুল্লাহ আল মামুন এবং লিটন মিয়া) জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি পেয়েছে র‌্যাব।

এই মামলার অপর দুই আসামি টুটুল ও মোস্তফাকে পলাতক দেখিয়ে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

কক্সবাজারের টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর পুলিশ তল্লাশিচৌকিতে গত ৩১ জুলাই রাতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান (৩৬)। এ ঘটনার বিচার চেয়ে বুধবার কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন নিহত ব্যক্তির বড় বোন শারমিন। আদালতের বিচারক তামান্না ফারাহ মামলাটি গ্রহণ করেন। তিনি এজাহারটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে সাত দিনের মধ্যে আদালতকে অবহিত করতে টেকনাফ থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। পাশাপাশি মামলাটি তদন্ত করে আদালতকে জানানোর জন্য র‌্যাব-১৫ কক্সবাজার ক্যাম্পের অধিনায়ককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তথ্য সুত্রঃ প্রথম আলো

শাহজাদপুরে যমুনা নদীতে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে নৌকায় ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার: দুর্ঘটনার শঙ্কা

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার যমুনা নদীর অববাহিকার কৈজুরী হাট, মোনাকোষা ঘাট, জামিরতা গুদারাঘাট, বেনুটিয়া ও ভেড়াকোলাঘাট থেকে প্রতিদিন সকাল-বিকাল একাধিক রুটে যমুনাচর, মানিকগঞ্জের আরিচা, গাজীপুরের মনিপুর, নারায়নগঞ্জের ফতুল্লা, টাঙ্গাইলের নাগরপুর, চৌহালী, এবং পাবনার বেড়ায় ইঞ্জিন চালিত অর্ধশত নৌকা ঝুকিপূর্ণ যাত্রী পারাপার করছে।

করোনা সংক্রমন রোধে সামাজিক দুরত্ব বজায় না রেখে গাদাগাদি করে যাত্রী বোঝাই করে নৌকা মালিকরা ঝুকিপূর্ণ পারাপাড় করছে।

সরে জমিনে ঘুরে আজ শুক্রবার সকালে জামিরতা গুদারাঘাট, বেনুটিয়াঘাট, কৈজুরী মোনাকোষাঘাটে হাজার হাজার নারী-পুরুষকে এসব ট্রলারে উঠতে দেখা যায়।

ঈদুল আযহার ছুটি সকল গার্মেন্টস কারখানায় শুক্রবারে শেষ হয়ে যাওয়ায় শনিবার অফিস করতে নৌরুটে নিরাপদে যাওয়ার জন্য যমুনা নদীর এসব ঘাট থেকে শত শত নারী-পুরুষ শ্রমিক ও তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে ট্রলারে ঝুকিপূর্ণ পারাপাড় করছে।

এসময় ঢাকা,গাজীপুর, নারায়নগঞ্জগামী ফিটনেসবিহীন ট্রলার নৌকায় গাদগাদি করে যাত্রীদের নিয়ে প্রমত্তা যমুনা পাড়ি দিতে দেখা যায়।

দীর্ঘদিন ধরে এক শ্রেণীর নৌযান মালিকরা এসব রুটে শত শত যাত্রী নিয়ে উত্তাল যমুনা নদী পাড়ি দিলেও যেন দেখার কেউ নেই। মাঝে মধ্যেই যাত্রী বোঝাই এসব নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের কোন হস্তক্ষেপ দেখা যাচ্ছেনা।

এছাড়াও ট্রলার নৌকা বোঝাই করে, নারী-পুরুষ, শিশুসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী যমুনা চরের চৌহালী, বানতিয়ার ও ভাটদিঘুলিয়ার চরে যাচ্ছে। নৌকায় প্রয়োজনের চেয়ে অধিক যাত্রী তোলায় পানি সমতল করে উত্তাল যমুনা পাড়ি দিলেও কারো মাথা ব্যথা নেই।

স্পর্শকাতর এসব রুটে অল্প খরচে চলাচল করা যায় বিধায় যমুনা পাড়ের অনেক মানুষ রাজধানী গামী মানুষ কৈজুরী-জামিরতা ঘাট থেকে মাত্র ৫০-১০০ টাকায় আরিচা ঘাটে যেতে পারে। ফলে প্রতিদিন এসব ঘাট থেকে মাইক দিয়ে ডেকে ডেকে আরিচা ও চৌহালীগামী ছোট বড় ইঞ্জিন চালিত ট্রলার নৌকা যাতায়াত করছে। বিশেষ করে প্রতিবছর ঈদুল ফিতর ও ঈদূল আযহা’র আগে ও পরে এসব ঘাটে নৌকার সংখ্যা বেড়ে শতাধিক হয়ে যায়। ফলে যমুনাপাড়ের মানুষ ছাড়াও শাহজাদপুরের বিভিন্ন অঞ্চলের শ্রমিকরা এইসব ঘাট দিয়ে ঢাকা মানিকগঞ্জ যাতায়াত করে থাকে। এসব ঘাটের ইজারাদারগণ জানান, নৌকা বোঝাই করে না নিলে তাদের পোষায়না।

জামিরতা গুদারাঘাটের নৌকা মালিক সওবা হোসেন জানান, অন্যান্য সময় এই ঘাটে তার দুটি নৌকা আরিচা রুটে যাতায়াত করে। কিন্তু ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে তার ৬টি নৌকা নারায়নগঞ্জ ও গাজীপুরের মনিপুর আরিচায় যাতায়াত করছে। খরচ না পোষানোর কারণেই অতিরিক্ত যাত্রী নেয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য যমুনা চরের হাট-বাজার গুলির কাচামাল ও গবাদী পশু পাখি এসব রুট দিয়েই আনা নেওয়া করা হয়। তবে এসব রুটে অবৈধ নৌযান ও মাঝি মাল্লাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে যাত্রীদের ঝুঁকিপূর্ণ পাড়াপাড় থামবেনা। ফলে যে কোন মুহুর্তে যমুনা নদীর এসব রুটে নৌ-দূর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। বিপন্ন হতে পারে শত শত মানুষের প্রাণ।

সূত্রঃ দৈনিক সিরাজগঞ্জ

২০১৯ সালে প্রায় ৭৫ হাজার ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করেছে ‘বাঁধন’


বাঁধনের বার্ষিক সাধারণ সভা ও দায়িত্ব হস্তান্তর-২০২০ অনুষ্ঠিত

বাঁধন

স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন বাঁধন ২০১৯ সালে ৭৪ হাজার ৮৪৬ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করেছে। ২০১৮ সালে ছিলো ৬৮ হাজার ১২১ ব্যাগ। এসব রক্ত বিনামূল্যে রোগীদের সরবরাহ করেছে সংগঠনটি। পাশাপাশি প্রায় ১ লাখ ৯৯ হাজার ৯৭৪ জন মানুষকে রক্তের গ্রুপ জানিয়েছে।

রক্তের পাশাপাশি কভিড মহামারি পরিস্থিতিতে বাঁধন দেশের প্রায় ৩৬ টি জেলায় ত্রান সহায়তা পৌঁছে দিয়েছে। এছাড়া দেশের প্রথম সেচ্ছাসেবি সংগঠন হিসেবে প্লাজমা সংগ্রহে নেতৃত্ব দিচ্ছে বাঁধন। ২০২০-২১ সালের জন্য এক বছর মেয়াদী ৩৪ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষনা করা হয়।

শুক্রবার (৭ আগষ্ট) ভার্চুয়াল জুম মিটিং এ বাঁধনের ‘বার্ষিক সাধারণ সভা ও দায়িত্ব হস্তান্তর-২০২০’ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদ। এছাড়া বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. মো. জসিমউদ্দিন খান উপস্থিত ছিলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাঁধনের সভাপতি সনজিত কুমার।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাঁধন কেন্দ্রীয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. জোনাহিদ চকদার এবং আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বাঁধনের কেন্দ্রীয় কোষাধাক্ষ রাজু দাস। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বাঁধন কেন্দ্রীয় পরিষদের উপদেষ্টা ইশতিয়াক উদ্দিন আহমেদ ও বাঁধন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান রকিব আহমেদ।

সভায় জানানো হয়, বাঁধনের সৃস্টির মাধ্যমে সারা বাংলাদেশে স্বেচ্ছায় রক্তদানকে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপান্তর করণের লক্ষ্যে, সহানুভ‚তিশীল সমাজ গঠন এবং মানবতার অংঙ্গীকার নিয়ে ১৯৯৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাত্রা শুরু করে। সারা দেশে ৫৩ টি জেলার ৭৫ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১৩৬ টি ইউনিট, ১২ টি জোন এবং ৭ টি পরিবার হয়ে কাজ করছে। এ পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠান প্রায় ১০ লাখ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করেছে। বিশ হাজারের বেশি বাঁধন কর্মী স্বেচ্ছায় রক্তদান কার্যক্রম ছাড়াও করোনা মোকাবেলায় প্লাজমা দানে মানুষকে উদ্বুদ্ধকরণে নিয়োজিত রয়েছে। কভিড-১৯ এর কারনে সংগঠনের দায়িত্ব হস্তান্তর কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে ৩৪ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটিতে নতুন সভাপতি হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মশিউর রহমান সূর্য এবং সাধরণ সম্পাদক হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জাহিদুল ইসলাম দায়িত্ব পেয়েছেন। এছাড়া কোষাধাক্ষ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মো. রাশিদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মো. নাইমুল হাসান, প্রথম সহ-সভাপতি ও সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের যথাক্রমে রাজুয়ার হোসাইন ও উসমান মিয়া, সহ-সভাপতি হিসেবে স্মৃতি আক্তার, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অর্নব পাল, দপ্তর সম্পাদক হিসেবে সজীব কুমার, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. সমীর হোসেন এবং তথ্য ও শিক্ষা সম্পাদক হিসেবে দিপ্তী পোদ্দার দায়িত্ব পেয়েছেন।

এক দিনের সব নমুনা ‘পজিটিভ’, পরীক্ষা বন্ধ এক সপ্তাহ

ছবি রয়টার্স

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা পরীক্ষায় এক দিনের সব নমুনার প্রতিবেদন ‘পজিটিভ’ এসেছে। এ অবস্থায় সেই ফলাফল আর ঘোষণা করা হয়নি। কর্তৃপক্ষের ধারণা, পিসিআর যন্ত্রের কোথাও কোনো গোলমাল হয়েছে। এটি ঠিক করতে এক সপ্তাহ থেকে পরীক্ষা বন্ধ রাখা হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ জুলাই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর যন্ত্র দিয়ে ৯৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, শতভাগ নমুনাই করোনা ‘পজিটিভ’। এমন অস্বাভাবিক ফলাফল দেখে সেদিনের ফলাফল আর ঘোষণা করা হয়নি। টেকনোলজিস্টরা উপলব্ধি করেন, যন্ত্রের কোথাও কোনো গোলমাল হয়েছে। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা যায়, আসলেই যন্ত্রটিতে ত্রুটি রয়েছে। বিষয়টি ধর পড়ার পর ওই ত্রুটি সারানোর চেষ্টা চলছে। বারবার নমুনা পরীক্ষা করে যাচাই করা হচ্ছে, যন্ত্রটি এখন ঠিকমতো কাজ করছে কি না।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জামিলুর রহমান সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন না। হাসপাতালের উপপরিচালক সাইফুল ফেরদৌস বলেন, যন্ত্রে একটু ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। সেটি ঠিক হয়ে গেছে। আজ-কালের মধ্যে চালু করা যাবে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনার নমুনা পরীক্ষা শুরু হয় গত ১৯ মে থেকে। সেখানকার পিসিআর যন্ত্রটির ১৮৮ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা রয়েছে। এই ল্যাবে পরীক্ষা বন্ধ থাকলেও এখন রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ল্যাবে পরীক্ষা চলছে। সুত্রঃ প্রথম আলো

সিরাজগঞ্জে করোনায় সাবেক পিপির মৃত্যু

করোনা আক্রান্ত হয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা জজ আদালতের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও রোটারিয়ান রেজাউল করিমের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে শহিদ জিয়াউর রহমান হাসপাতাল (শজিমেক) তিনি মারা যায়। গত এক মাস ধরে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।

রেজাউল করিম গত ৮ জুলাই শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি হয়। জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল কায়েস এ কথা জানিয়েছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুক্রবার (৭ আগস্ট) বাদ জুমা জেলা শহরের মালসাপাড়া কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, জেলা বিএনপির সভাপতি বেগম রুমানা মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চুসহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরাসহ তার আইনজীবী সহকর্মীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।