এনায়েতপুরের বিশিষ্ট সমাজ সেবক শফি হাজী আর নেই

সিরাজগঞ্জের তাঁত শিল্পকে অনন্য উচ্চতায় নিতে ভুমিকা পালনকারী এনায়েতপুর থানার খুকনী গ্রামের বিশিষ্ট তাঁত ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক হাজী শফিকুল ইসলাম শফি (৬৪) বার্ধক্যজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৩ ছেলে ১ মেয়েসহ অসংখ্য আত্বীয়-স্বজন রেখে গেছেন।

শনিবার বাদ আসর খুকনী আটারদাগ জামিয়া হুসাইনিয়া মদীনাতুল উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসা ময়দানে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে পরিবারের পক্ষ থেকে ধর্মপ্রাণ মসুল্লীদের শরিক হবার আহবান জানানো হয়েছে।

শফিকুল ইসলাম শফি মাস খানেক আগে ফুসফুসে সমস্যা নিয়ে খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি হন। এখানে তার দেহে করোনা পজিটিভ আসে। এরপর ঢাকার সমরিতা হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। শনিবার ভোর রাতে হাজী শফি সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

তার মৃত্যুতে সাবেক মন্ত্রী সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ বিশ্বাস, স্থানীয় এমপি হাসিবুর রহমান স্বপন, সামাজিক সংগঠন একুশে ফোরামের সভাপতি আখতুরুজ্জামান তালুকদার সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবি সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা গভীর শোক প্রকাশ করে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, শফি হাজীর মৃত্যু এনায়েতপুর এক দরদী সমাজপতিকে হারালো।

শফি হাজী এক দিকে সামাজিক ভাবে মানুষের পাশে যেমন দাঁড়াতেন। তেমনি ছিলেন শিক্ষানুরাগী। ছিলেন ঐতিহ্যবাহী খুকনী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের দীর্ঘ দিন সভাপতি।

চলে গেলেন ভাস্কর মৃণাল হক

দেশের খ্যাতিমান ভাস্কর মৃণাল হক আর নেই। শুক্রবার রাত ২টার দিকে তিনি তার গুলশানের বাসায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬২ বছর।

মৃণাল হকের গ্রাফিক্স ডিজাইনার আলমগীর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মৃণাল হক ডায়াবেটিসসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। শুক্রবার রাতে তার সুগার লেভেল কমে যাওয়ার পাশাপাশি অক্সিজেনের মাত্রাও কমে গিয়েছিল। পরে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ভাস্কর মৃণাল হক ১৯৫৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইন্সটিটিউটে ভর্তি হন। ১৯৮৪ সালে সেখান থেকে তিনি মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।

মৃণাল হক ১৯৯৫ সালে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে এবং সেখানে প্রথম ভাস্কর্যের কাজ শুরু করেন। ২০০২ সালে দেশে ফিরে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। দেশে আসার পর নিজ উদ্যোগে নির্মাণ করেন মতিঝিলের ‘বক’ ভাস্কর্যটি।

২০০৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে নির্মিত গোল্ডেন জুবিলি টাওয়ার তারই শিল্পকর্ম। এ ছাড়া সারা দেশে অনেকগুলো ভাস্কর্যের কাজ করেছেন।

রাজধানীতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ‘রত্নদ্বীপ’,হোটেল শেরাটনের সামনে ‘রাজসিক’,পরীবাগ মোড়ে ‘জননী ও গর্বিত বর্ণমালা’,ইস্কাটনে ‘কোতোয়াল’,সাতরাস্তায় ‘ময়ূর’, এয়ারপোর্ট গোলচত্বরের ভাস্কর্য, নৌ সদর দপ্তরের সামনে ‘অতলান্তিকে বসতি’, সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ের ভাস্কর্য, বঙ্গবাজারে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্যসহ বিভিন্ন শিল্পকর্মের নির্মাতাও তিনি।

ফাইবার গ্লাসের আশ্রয়ে বিশ্ববিখ্যাত কবি, রাষ্ট্রনায়ক থেকে নায়ক-নায়িকা, গায়ক-গায়িকা ও ফুটবলারের প্রতিকৃতি নির্মাণও করেছেন তিনি।

সরকারি মদদেই ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা: প্রধানমন্ত্রী

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সঙ্গে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া, তার ছেলে তারেক জিয়া এবং তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত সরকার সরাসরি জড়িত মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকারের মদদ না থাকলে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ঘটানো সম্ভব হতো না।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় এ কথা জানান তিনি।

বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।

২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, ‘খালেদা জিয়া ক্ষমতা এসে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা ঘটায়। এর সঙ্গে তার ছেলে তারেক রহমান যে জড়িত সেটাও যারা এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত তাদেরই কথায় বেরিয়ে এসেছে—তারা কোথায় মিটিং করেছে, কীভাবে এই ষড়যন্ত্র করেছে। ’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই সন্ত্রাসীদের এক জায়গায় করা, তাদের ট্রেনিং দেওয়া, তাদের আনা, পরবর্তীতে তাদের বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া। তাদের মনে হয়েছিল আমি মারা গেছি। যখন শুনেছে আমি মারা যাইনি তখন তাদের বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়।

ওই হামলাকারীরা তারা যাতে নির্বিঘ্নে ওই এলাকা ত্যাগ করতে পারে সেই সুযোগটা সৃষ্টি করে দেওয়া হয়েছিল। কাজেই সরকারের মদত না থাকলে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা এভাবে হতে পারে না। ’

তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপি সরকার যদি এর সঙ্গে জড়িত নাই থাকবে তাহলে তারা আলামতগুলো কেন নষ্ট করবে? ওই গ্রেনেড হামলার পরেই সিটি করপোরেশনে তখন মেয়র সাদেক হোসেন খোকা তার লোকজন নিয়ে এসে পুরো এলাকা ধুয়ে ফেলে।

আর যে গ্রেনেডটা ওখানে পাওয়া গিয়েছিল—একটা রমনা ভবনের কোণায়, আরেকটা ওই স্পটেই ছিল বিস্ফোরিত হয়নি। আরেকটা বিস্ফোরিত হয়েছে আমি যখন ওখান থেকে চলে আসি গাড়ি নিয়ে ঠিক তার পরেই। সেই গ্রেনেডটা একজন সেনা অফিসার এটিকে আলামত হিসেবে রাখতে চেয়েছিলেন বলে খালেদা জিয়া তাকে চাকরিচ্যুত করেছিল। কোন আলামতই তারা রাখতে চায়নি। তারপর আপনারা জানেন একটা নাটক সৃষ্টি করে। ’

হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে খালেদা জিয়া জড়িত মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘একেকটা ঘটনা ঘটবার আগে খালেদা জিয়া যে বক্তৃতাগুলো দিয়েছে- যখন কোটালীপাড়ায় বোমা পুঁতে রাখা হয়েছিল তার আগে বলেছিল যে, আওয়ামী লীগ ১০০ বছরেও ক্ষমতায় আসতে পারবে না। আবার ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পূর্বে খালেদা জিয়ার বক্তব্য ছিল যে, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী তো দূরের কথা, বিরোধী দলীয় নেতাও কোন দিন হতে পারবে না। ’

‘এই ভবিষ্যৎ বাণী খালেদা জিয়া কীভাবে দিয়েছিল? কারণ তাদের চক্রান্তই ছিল যে, আমাকে তারা হত্যা করে ফেলবে তাহলে তো আমি কিছুই হতে পারব না। এটাই তাদের চক্রান্ত ছিল। প্রতিটি ঘটনার আগে তার বক্তৃতা যদি আপনারা অনুসরণ করেন এই কথাগুলোই বলেছে।

২১ আগস্টের ঘটনা নিয়ে সংসদে তৎকালীন বিরোধী দলকে কোন কথা বলতে দেওয়া হয়নি জানিয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অনেক সংসদ সদস্যই এই গ্রেনেড হামলায় আহত। আমরা যখন এটার ওপর আলোচনা করতে চাইলাম। একটা রেজ্যুলেশন নিতে চাইলাম অপজিশন থেকে। খালেদা জিয়া কিন্তু সেটা হতে দেয়নি। আলোচনা করতে দেয়নি। ’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশে এ রকম একটা ঘটনা ঘটে গেছে, আমি বিরোধী দলের নেতা। আমার ওপর এই রকম গ্রেনেড হামলা। বিরোধী দলে- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মতো একটি দল, যে দল স্বাধীনতা এনে দিয়েছিল। সেই দলের সভায় এই রকম গ্রেনেড হামলা। আর পার্লামেন্টে যিনি সংসদ নেতা, বলে দিল— ওনাকে আবার কে মারবে? তখন তো বলতে হয় আপনিই তো মারবেন। চেষ্টা করেছেন, ব্যর্থ হয়েছেন সেই জন্য আর পারছেন না। এই রকম তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে আমাদের কোন কথা বলতে দেয়নি এই হামলা সর্ম্পকে। ’

‘আমাদের কাউকে মাইক দেয়নি। আলোচনা করতে দেয়নি। এতে কী প্রমাণ হয় তারা যদি সরাসরি জড়িত না থাকত তাহলে কি তারা এতভাবে বাধা দিত। ’

গ্রেনেড হামলায় আহতদের চিকিৎসায় বাধা দেওয়া হয়েছিল জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যখনই গ্রেনেড হামলাটা হলো। সাধারণত একটা সভ্য দেশ হলে কী করতো সাথে সাথে পুলিশসহ অন্যান্য সবাই ছুটে আসতো আহতদের সাহায্য করতে, উদ্ধার করতে, চিকিৎসা করতে। ’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ, সেখানে কোনো রোগী ঢুকতে পারবে না, যেতে পারবে না, চিকিৎসা নিতে পারবে না। ঢাকা মেডিকেল কলেজে বিএনপির কোন ডাক্তার সেখানে উপস্থিত নেই। যাদের ডিউটি ছিল তারাও নেই। কারণ, রোগীদের চিকিৎসা করবে না। আমাদের যারা ডাক্তার তারা সেখানে ছুটে গিয়েছিল তারা সেখানে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ঢাকা শহরে কত হাসপাতাল, কত ক্লিনিক আছে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পর বোধ হয় আমরা জানতে পারি। সমগ্র ঢাকা শহরে নেতা-কর্মীরা যে যেখানে পেরেছে তাকে সেখানে নিয়ে গেছে। ’

আহতদের সাহায্য করতে আসা নেতাকর্মীদের তা করতে দেওয়া হয়নি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা দূরে ছিল তারা যখন ছুটে আসে পুলিশ তাদের টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে, লাঠিপেটা করে দূরে সরিয়ে দিয়েছিল। ’

গ্রেনেড হামলার ভয়াবহতার কথা তুলে ধরে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘এই ধরনের গ্রেনেড হামলা বোধ হয় পৃথিবীতে আর কখনও কোথাও ঘটেনি। সাধারণত রণক্ষেত্রে, যুদ্ধক্ষেত্রে এই ধরনের ঘটনা ঘটে। কিন্তু আমাদের সেই র‌্যালিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং আমাকে হত্যার উদ্দেশ্য নিয়েই এই ঘটনাটা ঘটিয়েছিল। ভাগ্যক্রমে আমি বেঁচে গিয়েছি। কিন্তু সেইদিন আইভী রহমানসহ আমাদের ২২ জন নেতাকর্মী শাহাদাৎবরণ করেছেন। সেই সাথে অনেক নেতাকর্মীরা আহত হয়েছেন, অনেকে আহতে হয়ে পরে মারা গেছেন। ’

মানুষের জন্য কিছু করার জন্যই আল্লাহ বাঁচিয়ে রেখেছেন মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সারা দেশকে তারা একটা সন্ত্রাসের রাজত্ব করেছিল। আমি জানি না আল্লাহ কেন বাঁচিয়ে রেখেছেন। বাংলাদেশের মানুষের জন্য যাতে কিছু করতে পারি সেই জন্যই হয়তো বাঁচিয়ে রেখেছেন। নইলে এ রকম অবস্থা থেকে বেঁচে আসা এটা অত্যন্ত কষ্টকর। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর আগে বহুবার বিভিন্ন হামলার স্বীকার হয়েছি। কিন্তু একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার মতো ভয়াবহ হামলা হতে বেঁচে যাওয়া নিশ্চয়ই আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কিছু কাজ রেখে দিয়েছেন, সেটা সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত হয়তো কাজ করে যেতে পারব। আল্লাহ সেই সুযোগ দেবেন। দেশটাকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলব। ’

সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ প্রান্তে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে আওয়ামী লীগ নেতারা ২১ আগস্টের নিহতের স্মরণে অস্থায়ী সৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

তথ্য সুত্রঃ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

এ বছরের প্রাথমিক সমাপনী না নেওয়ার প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ের

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কেবল চলতি বছরের পঞ্চম শ্রেণি শেষে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা না নেওয়ার প্রস্তাব করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

আজ বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে প্রথম আলোকে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন।

গতকাল মঙ্গলবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেনের সই নেওয়ার পর আজ প্রস্তাবটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়।

মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

যদি এই প্রস্তাব অনুমোদিত হয়, তাহলে এই পরীক্ষার ভিত্তিতে যে বৃত্তি দেওয়া হয়, তা এবার দেওয়া হবে না।

তবে কেন্দ্রীয়ভাবে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা না হলেও সংক্ষিপ্ত পাঠ্যসূচির ভিত্তিতে এ বছর নিজ নিজ বিদ্যালয়ে পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সেই পরিকল্পনার বাস্তবায়নও নির্ভর করছে করোনার সংক্রমণ পরিস্থিতির ওপর।

বিদ্যালয় খুললে স্বাস্থ্যবিধি মেনে তা কীভাবে চলবে, সে বিষয়েও একগুচ্ছ পরিকল্পনা তৈরি করছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

অন্যদিকে, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করলেও অষ্টম শ্রেণি শেষে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষার বিষয়ে এখনো নিজেদের অবস্থান জানাতে পারেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

গত সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেছিলেন, জেএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

তথ্য সুত্রঃ প্রথম আলো

দেশ থেকে করোনা বিদায়ের পথে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, করোনা বাংলাদেশ থেকে বিদায় নেওয়ার পথে। আক্রান্ত বিবেচনায় করোনায় মৃত্যুহার দেশে অনেক কম। ভ্যাকসিন ছাড়াই দেশ এখন স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার পথে।

আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর বিসিপিএস অডিটোরিয়ামে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস-২০২০ পালন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাহিদ মালেক বলেন, ‘আমাদের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্টরা নিরলস কাজ করে গেছেন। এর ফলে, করোনা আজ আমাদের দেশ থেকে বিদায় নেওয়ার পথে। আক্রান্ত বিবেচনায় করোনায় মৃত্যুহার আমাদের দেশে অনেক কম। বলা চলে, ভ্যাকসিন ছাড়াই দেশ এখন স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার পথে। এই স্বাভাবিক অবস্থার কারণেই দেশের অর্থনীতির চাকা আবার সচল হয়েছে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলমের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আবদুল মান্নান, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব আলী নূর, বিএমআরসি’র সভাপতি ও কমিউনিটি ক্লিনিক ট্রাস্টের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, বিএমএ সভাপতি মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক ইহতেশামুল হক চৌধুরী, স্বাচিপের সভাপতি ইকবাল আর্সলান, সাধারণ সম্পাদক এম এ আজিজ প্রমুখ। বিজ্ঞপ্তি

শাহজাদপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় শোক দিবস পালিত

যথাযোগ্য মর্যাদায় সীমিত আকারে নানা কর্মসূচীর মধ্যে দিয়ে আজ শনিবার (১৫আগস্ট) শাহজাদপুরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে উপজেলা আওয়ামীলীগ ও উপজেলা প্রশাসন দিনব্যাপী নানা কর্মসূচীর আয়োজন করে। কর্মসূচীর মধ্যে ছিল, জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতভাবে উত্তোলন, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পূষ্পস্তবক অর্পণ, কালোব্যাচ ধারণ, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল। এদিন সকাল সাড়ে ৬ টায় উপজেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পূষ্পস্তবক অর্পণের মধ্যে দিয়ে দিনের কর্মসূচীর সূচনা করেন উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও স্থানীয় এমপি আলহাজ্ব হাসিবুর রহমান স্বপন।

শনিবার সকালে উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় এমপি আলহাজ্ব হাসিবুর রহমান স্বপন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রফেসর আজাদ রহমান। উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ্ মোঃ শামসুজ্জোহা। এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন থানার অফিসার ইনচার্জ আতাউর রহমান, সহকারি কমিশনার (ভূমি) মাসুদ হোসেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী, উপজেলা প্রকৌশলী আহম্মদ রফিক, কৃষি অফিসার আব্দুস ছালাম, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান মিলন প্রমুখ। দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও যুবলীগ বানভাসি অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন।

এছাড়া জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মন্দির ও আশ্রমে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় এমপি আলহাজ্ব হাসিবুর রহমান স্বপন। এছাড়াও বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও উপজেলা আইনজীবি সমিতি দিবসটি উপলক্ষে নানা কর্মসূচী পালন করে।

জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

জাতীয় শোক দিবস ও ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি। এরপর বঙ্গবন্ধুর প্রতি সম্মান জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ সময় সশস্ত্র বাহিনী একটি চৌকস দল তাকে রাষ্ট্রীয় সালাম জানায়। বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর। পরে ১৫ আগস্টের শহীদদের রুহের মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুল। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বঙ্গবন্ধু ভবনের ভেতরে গিয়ে বেশ কিছুক্ষণ অবস্থান করেন প্রধানমন্ত্রী।

এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধানমন্ডি থেকে বনানী কবরস্থানে যান। সেখানে তার মা বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, ভাই শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেলসহ ১৫ আগস্টের শহীদদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়া জাতীয় শোক দিবসে আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- সূর্য উদয়ের সঙ্গে সঙ্গে বঙ্গবন্ধু ভবন এবং কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে সংগঠনের সব স্তরের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন।

এরপর বাদ জোহর দেশের সব মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল ও সুবিধামতো সময়ে মন্দির, প্যাগোডা, গির্জা, উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। দুপুরে অসচ্ছল, এতিম ও দুস্থ মানুষদের মাঝে খাদ্য বিতরণ করা হবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ তৎকালীন বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি ছাত্রাবস্থায় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে তিনি ছিলেন সংগ্রামী নেতা। শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতির মুক্তি সনদ ৬ দফার প্রণেতা ছিলেন। সত্তরের নির্বাচনে অংশ নিয়ে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগকে এ দেশের গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীকে পরিণত করেন।

পাকিস্তানের সামরিকজান্তার বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তুলে ষাটের দশক থেকে তিনি বাঙালি জাতীয়তাবাদের অগ্রনায়কে পরিণত হন। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে লাখো জনতার উত্তাল সমুদ্রে বঙ্গবন্ধু বজ কণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’

এ ঘোষণায় উদ্দীপ্ত, উজ্জীবিত জাতি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ছিনিয়ে আনে দেশের স্বাধীনতা। বঙ্গবন্ধুর অমর কীর্তি এ স্বাধীন বাংলাদেশ। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতে সংঘটিত হয়েছিল এ কলঙ্কিত অধ্যায়। ৪৫ বছর আগে এ দিনে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করেছিল ক্ষমতালোভী নরপিশাচ কুচক্রী মহল।

২০টি দেশ রাশিয়ার কাছে ভ্যাকসিন চেয়েছে

রাশিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিয়েছে। ১৯৫৭ সালে বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠিয়েছিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন। সেটির নামের সঙ্গে মিল রেখে নতুন ভ্যাকসিনের নামকরণ করা হয়েছে ‘স্পুটনিক-৫’। রাশিয়ার প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ তহবিলের (আরডিআইএফ) প্রধান জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে ২০টি দেশ এ ভ্যাকসিন নিতে চেয়েছে।

মঙ্গলবার আরডিআইএফ প্রধান কিরিল দিমিত্রিয়েভ বলেন, ‘আমরা বহির্বিশ্বে রাশিয়ার গামালেয়া ইনস্টিটিউটের তৈরি ভ্যাকসিনের প্রতি উল্লেখযোগ্য আগ্রহ দেখতে পাচ্ছি। ২০টি দেশ থেকে প্রাথমিকভাবে ১০০ কোটি ডোজের অর্ডার এসেছে।’

তিনি বলেন, ‘বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে আমরা ইতোমধ্যে পাঁচটি দেশে বছরে ৫০ কোটি ডোজ তৈরির ব্যবস্থা নিয়েছি। উৎপাদন আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।’

এ রুশ কর্মকর্তা বলেন, ‘এখন পর্যন্ত লাতিন আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার দেশগুলোই ভ্যাকসিনের প্রতি বেশি আগ্রহ দেখিয়েছে। আমরা ভ্যাকসিন বিক্রির চুক্তি চূড়ান্ত করতে যাচ্ছি।’

রাশিয়া সবার আগে করোনা ভ্যাকসিন অনুমোদন দিলেও সমালোচকদের দাবি, রাজনৈতিক চাপের কারণে রুশ ভ্যাকসিন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অনেক ঝুঁকির বিষয় বাদ দেয়া হয়েছে। রাশিয়াকে বিশ্বের বৈজ্ঞানিক গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে উপস্থাপনে গবেষকদের ওপর দ্রুত ভ্যাকসিন তৈরিতে চাপ ছিল বলে দাবি অনেকের।

রুশ ভ্যাকসিনটির এখনও তৃতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে পাস করা বাকি। দিমিত্রিয়েভ জানিয়েছেন, ‘এ ট্রায়াল বিদেশেই হবে। আমরা ইতোমধ্যে গামালেয়া ভ্যাকসিনের ট্রায়ালের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরবসহ বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছি।’

এর আগে মঙ্গলবার এক সরকারি বৈঠকে করোনা ভ্যাকসিন অনুমোদনের ঘোষণা দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেন, ‘মস্কোর গামালিয়া ইনস্টিটিউটের তৈরি এ ভ্যাকসিন রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সবুজ সংকেত পেয়েছে। শিগগিরই ব্যাপকহারে এর উৎপাদন শুরু হবে।’

এসময় রুশ প্রেসিডেন্ট জানান, তার নিজের মেয়ের শরীরেই এর পরীক্ষা চালানো হয়েছে এবং এতে ভ্যাকসিনটি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।

সূত্র: সিএনএন।

১৬ আগস্ট থেকে বিমান যাত্রীদের ভাড়া বাড়ছে

বিমানবন্দরের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা শক্তিশালী করার জন্য নতুন ফি আরোপ করায় ১৬ আগস্ট থেকে বিমান যাত্রীদের ভাড়া বাড়ছে। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিএএবি) এক নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন আরোপিত ফি’র মধ্যে যাত্রীদের শতকরা ১৫ ভাগ ভ্যাট দিতে হবে।

ওই নোটিশে বলা হয়েছে, সব এয়ারলাইন্স ১৬ই আগস্ট থেকে বর্ধিত এ ফি নেয়া শুরু করবে। সার্কভুক্ত দেশগুলোতে যাওয়া যাত্রীদের প্রতি টিকিটের জন্য উন্নয়ন ফি হিসেবে ৫ ডলার এবং নিরাপত্তা ফি হিসেবে ৬ ডলার করে দিতে হবে। আন্তর্জাতিক গন্তব্যে যাওয়া যাত্রীদের প্রতি টিকিটে ১০ ডলার করে বাড়তি ফি দিতে হবে।

এদিকে অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারীদের প্রতি টিকিটের জন্য উন্নয়ন ফি ১০০ টাকা এবং নিরাপত্তা ফি ৭০ টাকা দিতে হবে।

আরব আমিরাত ভ্রমণকারীদের ভিসার মেয়াদ ১ মাস বাড়াল

করোনাভাইরাসের কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাত দেশটিতে অবস্থানরত বিদেশিদের ভিসার মেয়াদ একমাস বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

দেশটির ফেডারেল অথোরিটি অব আইডেন্টিটি অ্যান্ড সিটিজেনশিপ সোমবার এক ঘোষণায় এসব ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানায়, যা ১১ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে।

ঘোষণায় বলা হয়েছে, মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও এক মাসের মধ্যে কোনো ধরনের জরিমানা ছাড়াই সংযুক্ত আরব আমিরাত ছাড়তে পারবে এসব ভিসাধারী ব্যক্তিগণ।
দেশটির আইন অনুযায়ী, ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও ভ্রমণকারীরা দেশটিতে অবস্থান করলে প্রথম দিন ২০০ দিরহাম জরিমানা করা হয়, এরপর প্রতিদিন ১০০ দিরহাম করে জরিমানা চলতে থাকে।

এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ মার্চের আগে ভ্রমণ ভিসা নিয়ে প্রবেশ করা মানুষজনকে ১৮ আগস্টের মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিল।

উল্লেখ্য, দেশটিতে এ পর্যন্ত ৬২ হাজার ৭০৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৩৫৭ জনের।

বিডি প্রতিদিন