শাহজাদপুরে করোনার টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন

দেশব্যাপী কোভিড-১৯ করোনা ভ্যাকসিনের কর্যক্রম শুরুর সাথে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরেও করোনা ভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচির উদ্ধোধন করা হয়।

রবিবার(৭ফেব্রুয়ারি) সকালে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনুষ্ঠানিকভাবে কোভিড-১৯ টিকাদান শুরু হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: আমিনুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, শাহজাদপুর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রফেসর আজাদ রহমান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মোঃ শামসুজ্জোহা, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এলিজা খান, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিদ মাহমুদ খান, মেডিকেল অফিসার নাজনীন মমতাজ প্রমূখ।

এ সময় শাহজাদপুর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রফেসর আজাদ রহমান টিকাদান কার্য়ক্রমের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। শাহজাদপুরে প্রথম টিকা গ্রহণ করেন ডা: আজমল হোসেন।

ডা: আমিনুল ইসলাম উপস্থিত অতিথি ও সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, সারা বাংলাদেশের ন্যায় আমরাও করোনা টিকাদান কার্যক্রম শুরু করেছি। অনলাইন নিবন্ধনের মাধ্যমে ১৯ ক্যাটাকরিতে এ টিকাদান কর্যক্রম চলবে। প্রথম ধাপে শাহজাদপুর উপজেলার জন্য সর্বমোট ১৭৩৯ টি ভায়েল কোভিড-১৯ টিকা এসে পৌছেছে। যা শাহজাদপুরের ১৭৩৯০ জনের শরীরে প্রয়োগ করা হবে।

তিনি আরও জানান, রবিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থাপিত ৩টি বুথের মাধ্যমে ৪৪ জনের শরীরে কোভিড-১৯ টিকা প্রয়োগ হয়েছে। কোভিড-১৯ করোনা ভ্যাকসিনে কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। যারা এই টিকা নিতে আগ্রহী তাদেরকে www.surokkha.gov.bd এই ওয়েব সাইডে নিবন্ধন করার আহবান জানান।

সরকারিভাবে সহজশর্তে ঋণ দেয়ার দাবী


এনায়েতপুরের তাঁতি ও শ্রমিকদের মানবেতর দিনযাপন

করোনাে ক্রান্তিকালে ভালো নেই এনায়েতপুরে থানার অন্তর্গত এনায়েতপুর, খুকনি, শিবপুর, গোপীনাথপুর, রুপসীসহ আশপাশের তাঁতি ও  শ্রমিকেরা।

ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পে মন্দাভাব বিরাজ করায় পুঁজি সংকটসহ বহুমূখী সমস্যায় জর্জরিত হয়ে বর্তমানে মানবেতর জীবন যাপন করছে তারা। তাঁত নির্ভর জেলা সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরের মানুষের প্রধান কর্মই হল তাঁত । অর্থাভাবে তাঁত বন্ধ থাকায় ও অন্য কোন কাজ না জানায় তারা দিনে দিনে কর্মহীন হয়ে পড়েছে। ফলে তাদের সংসার চালানোর কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়েছে। কাজের কোন পথ খোলা না থাকায় তারা রাজধানীর বুকে পাড়ি দিচ্ছে। এতে করে তাঁত শিল্প ধ্বংসের মুখে পড়েছে।

তাঁত মালিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি শাড়ি কাপর তৈরি করতে আগে খরচ হতো ৪০০টাকা সেই শাড়ি বর্তমানে ৫০০/৫৫০ টাকা উৎপাদন খরচ হচ্ছে।খরচ বৃদ্ধি পেলেও ন্যায্য দামে উৎপাদিত বস্ত্র বিক্রি করতে পারছে না তারা। তাছাড়া চাহিদা হ্রাস পাওয়ায় ক্রেতা সংকট পড়েছে তাঁত মালিকরা।  এমতবস্থায় কাপড় উৎপাদন করতে আগ্রহ হারাচ্ছে সাধারণ তাঁত মালিক ও মহাজনেরা।

স্থানীয়  তাঁত শ্রমিক কুরবান সেখ বলেন, ‘তাঁতের কাজ না থাকায় স্বপরিবারে কাজের সন্ধানে নারায়ণগঞ্জ চলে যাচ্ছি। এখানে থাকলে না খেয়ে মরতে হবে। তিনি আরো বলেন আমার মতন অনেক তাঁত শ্রমিক এলাকা ছাড়া হয়েছে।’

এলাকার বেশ কয়েকজন কাপড় ব্যবসায়ী বলেন, বাইরের ক্রেতা না আসার কারণে কাপড় বিক্রি করতে পারছিনা, ফলে মহাজনদের নিকট থেকে কাপড় নিতে পারছিনা, বিক্রি না থাকার ফলে তারা কাপড় উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে।

স্থানীয় তাঁতী মহাজন  আজাহার বলেন, কাপড় বিক্রি করতে না পারলে উৎপাদন করে কি করব। তা ছাড়া সুতার দাম অস্বাভাবিক মাত্রায় বৃদ্ধি পাবার কারণে খরচের মাত্রা বেড়ে গেছে, আমরা এখন কি করবো ভেবে পাচ্ছি না । এমতাবস্থায় তাঁত বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছি।

তাঁতীরা আরও জানান, করোনাকালীন সময়ে দেশের তাঁতসমৃদ্ধ বিভিন্ন এলাকায় প্রান্তিক তাঁতিদের পুঁজি সংকট লাঘবে সরকারিভাবে সহজশর্তে ঋণ দেয়া হলেও অজ্ঞাত কারণে আমাদের তা না দেয়ায় পুঁজি সংকটে পড়ে বর্তমানে আমরা চোখেমুখে সর্ষের ফুল দেখছি।

করোনায় মারা গেলেন শাহজাদপুর সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক কাজল

শাহজাদপুর সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক খন্দকার তাহিরা হাসান কাজল (৫৩) করোনায় আক্রান্ত হয়ে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মারা গেছেন। তিনি রাজবাড়ি জেলার সদর পৌর এলাকার সজ্জনকান্দা মহল্লার প্রফেসর আজাদ হাসানের স্ত্রী ও একই এলাকার এ্যাডভোকেট খন্দকার আবুল বাশারের মেয়ে। মৃত্যুকালে তিনি স্বামী, ২ ছেলে, ১ মেয়ে ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে শাহজাদপুর সরকারি কলেজের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারি ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জানা গেছে, তিনি বেশ কিছুদিন হল ঠান্ডা জনিত রোগে ভুগছিলেন। তার অবস্থার চরম অবনতি হলে তাকে ১ সপ্তাহ আগে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় এ দিন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

শাহজাদপুরে মেয়র প্রার্থী তরু লোদীর কাছে ৫ হাজার মাস্ক হস্তান্তর

আসন্ন ২৮ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌরসভা নির্বাচনের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতিকের মেয়র প্রার্থী মনির আক্তার খান তরু লোদীকে মানব কল্যাণমূলক কাজের অংশ হিসেবে পৌরবাসীর মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য ৫ হাজার মাস্ক অনুদান দিয়েছে বাংলাদেশ তাঁতী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল আলীম মিলন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে শাহজাদপুর পৌর সদরের দ্বারিয়াপুর লোদী পাড়ায় নৌকা প্রতিকের প্রার্থী মনির আক্তার খান তরু লোদীর নির্বাচনী ক্যাম্পে সাংবাদিক রাজিব আহমেদ রাসেল ও সাংবাদিক ফারুক হাসান কাহার আব্দুল আলীম মিলনের পক্ষ থেকে মনির আক্তার খান তরু লোদীর হাতে এসব মাস্ক তুলে দেন।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, আওমীলীগ নেতা কে এম হাবিবুল হক সাব্বির, শাহবাজ খান সানি, দিলদার হোসেন, সুমন লোদী, সীমান্ত লোদী, সাংবাদিক মিলন মাহফুজ প্রমূখ।

আব্দুল আলীম মিলন সাংবাদিকদের জানান, জন‌নেত্রী শেখ হা‌সিনার গ‌তিশীল নেতৃ‌ত্বে যে এক নুতন বাংলা‌দে‌শের স্বপ্ন বাস্তবায়‌নে এগি‌‌য়ে যা‌চ্ছে, তারই ধারাবা‌হিকতা রক্ষায় দলমত নির্বি‌শে‌ষে সবাইকে নৌকায় ‌ভোট দেওয়ার প্রত্যাশা ক‌রেন এবং তি‌নি ম‌নে ক‌রেন নৌকার জয় হ‌বে ইনশাআল্লাহ।

উল্লেখ্য বাংলাদেশ তাঁতী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল আলীম মিলন শাহজাদপুর পৌর সদরের বাড়াবিল মধ্যপাড়া গ্রামের স্কুল শিক্ষক প্রয়াত বেলাল হোসেনের ছেলে।

সন্তোষা দুস্থ কল্যাণ সংস্থা'র মহতী উদ্যোগ


শাহজাদপুরে বিনামূল্যে দুস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র ও মাস্ক বিতরণ

‘হাত বাড়ানোর প্রত্যয়’ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে গতকাল শুক্রবার বিকেলে শাহজাদপুর উপজেলার রূপবাটি ইউনিয়নের দুর্গমাঞ্চল সন্তোষা বাজার সংলগ্ন স্থানে ‘সন্তোষা দুস্থ কল্যাণ সংস্থা নামের একটি জনকল্যাণমূলক সংগঠনের আত্মপ্রকাশকালে দুস্থদের মাঝে বিনামূল্যে শীতবস্ত্র ও এলাকাবাসীর মাঝে মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে সেখানে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সন্তোষা দুস্থ কল্যাণ সংস্থা’র সভাপতি কাওসার আলী, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম খালেক, ত্রাণ সম্পাদক নাঈম হোসেন, অর্থ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম খোকন, উপদেষ্টা আবু হানিফ, আব্দুর রাজ্জাক, তোরাব আলী, আব্দুল করিম প্রমূখ। বক্তব্যে বক্তারা বলেন, ‘এলাকার দুস্থ, অবহেলিত, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, মৌলিক চাহিদা নিশ্চিতকরণ, অধিকার আদায়সহ এলাকাবাসীর ভাগ্যোন্নয়ন ও জনকল্যাণের লক্ষ্য নিয়ে সন্তোষা দুস্থ কল্যাণ সংস্থাটি যাত্রা শুরু করলো।’ এরই অংশ হিসেবে এলাকার ৩৫ জন দুস্থের হাতে বিনামূল্যে শীতবস্ত্র ও ৩’শ ৫০ জনের মাঝে মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে বলে সংগঠনের প্রচার সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সাজু জানিয়েছেন।

নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করার আহবান


শাহজাদপুরে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রাথী তরু লোদী’র মাস্ক বিতরণ

জাহিদ হাসান, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) :
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হালিমুল হক মিরুকে সাথে নিয়ে আসন্ন শাহজাদপুর পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মনির আক্তার খান তরু লোদী পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়কে পথচারীদের মাঝে মাস্ক বিতরণ করেন।  আজ সোমবার সকালে শাহজাদপুর পৌরসভার সামনের সড়ক থেকে মাষ্ক বিতরণের এ কার্যক্রম শুরু করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুল হক সাব্বির, যুবলীগ নেতা সাজ্জাদ হোসেন, রওশন আলম, এস,কে, লিটন , পৌর কাউন্সিলর লিয়াকত হোসেন, আব্দুর রাজ্জাক, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক সাংবাদিক আসলাম আলী প্রমূখ। এ সময় হালিমুল হক মিরু আগামী ২৮ ডিসেম্বর শাহজাদপুর পৌর নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে তরুলোদীকে মেয়র পদে নির্বাচিত করার আহ্বান জানান।

সুকান্ত সেনের অকাল মৃত্যুতে


শাহজাদপুর প্রেস ক্লাবের তিনদিনের শোক ঘোষণা

আবুল কাশেম ও শামছুর রহমান শিশির : আর টিভি’র জেলা স্টাফ রিপোর্টার ও সিরাজগঞ্জ প্রেস ক্লাবের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক বিশিষ্ট সাংবাদিক সুকান্ত সেনের অকাল মৃতুতে আজ শনিবার সকাল ১১ টায় শাহজাদপুর প্রেস ক্লাবে এক শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রেস ক্লাবের সভাপতি বিমল কুন্ডু’র সভাপতিত্বে এবং প্রয়াতের বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। শোকসভায় বক্তব্য রাখেন- ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শফিকুজ্জামান শফি, সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল কাশেম, সহ-সভাপতি আসলাম আলী, যুগ্ন সম্পাদক আলামিন হোসেন, অর্থ সম্পাদক সাগর বসাক, দপ্তর সম্পাদক হাসানুজ্জামান তুহিন, রাজিব রাসেল, রাসেল সরকার, মাসুদ মোশাররফ প্রমুখ। বক্তব্য শেষে প্রেস ক্লাবের সকল সদস্য কালো ব্যাচ ধারণ করেন এবং প্রেস ক্লাব ভবনে কালো পতাকা উত্তোলন সহ তিনদিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। শোকসভায় বক্তারা প্রয়াতের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনাসহ তার শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

করোনায় প্রাণ গেল সাংবাদিক সুকান্ত সেনের

প্রাণঘাতী করোনার কাছে হার মানলেন সাংবাদিক সুকান্ত সেন। আজ শনিবার (৫ নভেম্বর) ভোর ৬ টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

সুকান্ত সেন সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের অর্থ সম্পাদক, দৈনিক মানবকণ্ঠের সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা ও আরটিভির স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।

তাঁর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, করোনা আক্রান্ত হয়ে প্রথমে সিরাজগঞ্জে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন সুকান্ত সেন। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে, আত্মীয়-স্বজনসহ অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।

নির্ভীক এই সাংবাদিক ছিলেন অন্যায়ে সঙ্গে আপসহীন। সুকান্ত সেন সিরাজগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবের অর্থ সম্পাদক, সিরাজগঞ্জ জেলা রেড ক্রিসেন্টের আজীবন সদস্য, সিরাজগঞ্জ জেলা পুজা উদযাপন পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ডক্টরস ডায়গনষ্টিক ক্লিনিক লিঃ’র শাখা ব্যাবস্থাপক, সিরাজগঞ্জ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর নির্বাহী সদস্য, সিরাজগঞ্জ জেলার নাবিক নাট্যগোষ্ঠীর সদস্যসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনে দায়িত্বে ছিলেন।

তাঁর মৃত্যুতে সিরাজগঞ্জের সাংবাদিক সমাজে শোকের ছায়া বিরাজ করছে।

করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ ক্ষুদ্র ১’শ তাঁতি ও শ্রমিককে অর্থসহায়তা প্রদান করেছেন সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ


করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ ক্ষুদ্র তাঁতী ও শ্রমিকদের পাশে জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ

কোভিট-১৯ মহামারির কারণে দেশের তাঁতশিল্পর কেন্দ্রবিন্দু সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ ক্ষুদ্র ১’শ তাঁতি ও শ্রমিককে অর্থসহায়তা প্রদান করেছেন সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ। বুধবার বিকেলে উপজেলা পরিষদের শহিদ স্মৃতি সম্মেলন কক্ষে এ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মোঃ শামসুজ্জোহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ ক্ষতিগ্রস্থ তাঁতি ও শ্রমিকদের হাতে জনপ্রতি ২ হাজার ৫’শ টাকা করে অর্থসহায়তা প্রদান করেন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রফেসর আজাদ রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস সালাম, পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র আব্দুর রাজ্জাক, থানার অফিসার ইনচার্জ আতাউর রহমান প্রমূখ।

লাখ লাখ গবাদীপশু নিয়ে খামারিরা বিপাকে


করোনা ও বন্যায় শাহজাদপুরের গো-শিল্প সংকটে !

করোনার ক্রান্তিকাল ও বন্যায় গবাদীপশুর রাজধানী খ্যাত শাহজাদপুরের হাজার গো-খামারিরা ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছে। এলাকায় প্রতিদিন উৎপন্ন লাখ লাখ লিটার দুধ ও পালিত গবাদী পশুকে নিয়ে তারা উদ্বেগ-উৎকন্ঠায় পড়েছেন। করোনার প্রকোপে তরল দুধের চাহিদা কমে যাওয়ায় মিল্কভিটাসহ শাহজাদপুরের ১৪টি বেসরকারি ডেইরি প্রজেক্টে দুধ সংগ্রহ কমিয়ে দেয়া হয়েছে। গত কোরবানির ঈদে গো-খামারি, চাষি ও মওসুমি ব্যবসায়ীদের লালিত গবাদীপশুর চাহিদা, বেচাবিক্রি কম হওয়ায় এবং ন্যায্য দাম না পাওয়ায় এলাকার গো-খামারি, চাষি ও ব্যবসায়ীরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়েছেন। অন্যদিকে, বন্যায় কাঁচা ঘাসের তীব্র সংকটে দানাদার গো-খাদ্যের দাম বেড়ে গেছে। এ কারণে শাহজাদপুরের অনেক গো-খামার বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। ফলে শাহজাদপুরের লাখ লাখ গবাদীপশু নিয়ে খামারিরা মহাবিপাকে পড়েছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, বাঘাবাড়ী মিল্কশেড এরিয়ায় দৈনিক প্রায় ৪ লাখ লিটার দুধ উৎপন্ন হয়। এর সিংগভাগই বাঘাবাড়ির মিল্কভিটা কারখানায় ও অবশিষ্টাংশ বিভিন্ন বেসরকারি ডেইরি প্রজেক্টের কুলিং সেন্টারে এবং ঘোষেরা সংগ্রহ করে থাকে। শাহজাদপুরের ভরপুর গো-সম্পদের ওপর নির্ভর করে শাহজাদপুরসহ আশপাশে মিল্কভিটা ছাড়াও প্রাণ, আকিজ, আফতাব, ব্র্যাক ফুড (আড়ং), অ্যামোফ্রেস মিল্ক, আড়ং দুধ (ব্র্যাক), ফার্মফ্রেস, রংপুর ডেইরি, ইছামতি ডেইরি, সেফ মিল্ক কোয়ালিটি, বিক্রমপুরসহ ১৪টি বেসরকারি দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান এ অঞ্চলে আঞ্চলিক ও শাখা দুগ্ধ সংগ্রহ কেন্দ্র স্থাপন করেছে। সম্ভাবনাময় এ শিল্পকে ঘিরে শাহজাদপুর ছাড়াও পাবনা ও সিরাজগঞ্জ অঞ্চলের হাজার হাজার পরিবারের জীবীকার পথ হিসেবে গরু পালন ও দুধের ব্যবসা হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে। গো-শিল্পটি লাভজনক হওয়ায় অঞ্চলে গড়ে ওঠা গো-খামারের সংখ্যা দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। এ অঞ্চল থেকে সংগৃহিত দুধ নানা প্রক্রিয়ায় দুগ্ধজাত খাদ্যসামগ্রী তৈরি করে সারাদেশে সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু করোনার ক্রান্তিকালে তরল দুধের চাহিদা কমে যাওয়ায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দুধ সংগ্রহের পরিমান কমিয়ে দিয়েছেন। মিষ্টি ও চায়ের দোকানিরাও বর্তমানে আগের মতো দুধ কিনছেন না। ফলে উৎপন্ন দুধ নিয়ে খামারিরা বিপাকে পড়েছেন। বন্যার মধ্যে অনেক খামারি নৌকাযোগে গ্রামে গ্রামে ফেরি করে কম দামে দুধ বিক্রি করছে। করোনার প্রাদুর্ভাবের পর থেকে দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠাগুলো দুধ সংগ্রহ কমিয়ে দেয়ায় এ অঞ্চলের দুগ্ধশিল্পে নেমে আসে বিপর্যয়। খামারি জানান, ঈদুল ফিতরের পর দুধের দাম কমতে থাকলেও গো-খাদ্যের দাম উল্টো বেড়ে চলেছে। বন্যায় সেই বর্ধিত দামে ফের নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। ১ হাজার ২৫০ টাকা দামের ৩৭ কেজি ওজনের ভুসির বস্তার দাম ঈদুল ফিতরের পরে বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৪২০ টাকা। ৩০০ টাকা মণের খড়ের দাম হয়েছে ৫০০ টাকা। খৈল, চিটাগুড়সহ সব ধরনের গো-খাদ্যের দামই লাফিয়ে লাফিয়ে বৃদ্ধি পাওয়ায় খামারিরা চোখেমুখে অন্ধকার দেখতে শুরু করেছেন। খামারিরা এ দুঃখ দুর্দশার কথা বলতেও পারছেন না আবার সইতেও পারছেন না।