দেশে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা কমলো

করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে মৃত্যু হয়েছে ৩১ জনের। এরমধ্যে ১৭ জন পুরুষ ১৪ নারী। এ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ১২ হাজার ৭৬ জন এবং নতুন করে রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৯০ জন। মোট করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৭ লাখ ৭৮ হাজার ৬৮৭ জন।

বৃহস্পতিবার (১৩ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এর আগে গতকাল বুধবার (১২ মে) সারা দেশে একদিনে করোনাভাইরাস মারা যায় ৪০ জন। ওই দিন রোগী শনাক্ত হয় ১ হাজার ১৪০ জন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম ৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ঠিক ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজন মারা যায়।

দুঃসংবাদ, টাকওয়ালাদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আড়াইগুণ বেশি!

বিশ্বজুড়ে তাণ্ডব চালাচ্ছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। এই ভাইরাসের তাণ্ডবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে গোটা বিশ্ব। বিভিন্ন দেশে ভেঙে পড়েছে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। প্রতিদিন আক্রান্ত হচ্ছে লাখ লাখ মানুষ। মৃত্যুও হচ্ছে হাজার হাজার মানুষের।

এর মধ্যেই এল আরেকটি দুঃসংবাদ। গবেষণায় দেখা গেছে, চুলওয়ালাদের তুলনায় টাক মাথার মানুষের প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আড়াইগুণ বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যাপ্লাইড বায়োলজি ইনকরপোরেশনের এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর ডেইলি মিররের।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গবেষকরা চুলপড়া রোগে আক্রান্ত পুরুষদের সঙ্গে করোনা ইনফেকশনের গভীর সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন। গবেষকরা বলছেন, এন্ড্রোজেনেটিক এলোপেসিয়া নামের একটি জিনের কারণে চুল পড়ে যায়। অন্যদিকে এন্ড্রোজেন হরমোন করোনাভাইরাসের উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যেসব পুরুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন, তাদের অধিকাংশের টাক রয়েছে। ৬৫ জনের ওপর চালানো ওই গবেষণায় আরও দেখা যায়, করোনায় আক্রান্ত এসব টাকওয়ালা পুরুষদের মধ্যে ৭৯ শতাংশের এন্ড্রোজেনেটিক এলোপেসিয়া হরমোন অনেক বেশি সক্রিয়। যা স্বাভাবিক হারের চেয়ে আড়াইগুণ বেশি।

গবেষকদের একজন অ্যান্ডি গোরেন বলেন, গবেষণাটি আমরা এখনও এগিয়ে নিচ্ছি। আশা করছি এর মধ্যে দ্রুতই কোভিড রোগী চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। আমাদের এই গবেষণা প্রবন্ধ ইউরোপিয়ান অ্যাকাডেমি অব ডার্মাটোলজি অ্যান্ড ভেনেরিওলজির সিম্পোজিয়ামে উপস্থাপন করা হবে।

বাতাসে উড়ে কত দূর যেতে পারে করোনাভাইরাস, কতক্ষণের মধ্যে ছড়ায় সংক্রমণ?

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হয় মূলত নাক-মুখ বা চোখের মাধ্যমে। বিভিন্ন স্বাস্থ্যকর্তা ও চিকিৎসকেদের এমনটাই বক্তব্য। সংক্রমিত ব্যক্তির খুব কাছে এলে তার মুখ বা নাক থেকে ছিটে আসা সামান্য কয়েকটা ফোঁটাও ছড়াতে পারে কোভিড সংক্রমণ। ফলে অন্তত দু’মিটার বা ছ’-সাত ফুট দূরে থাকতে হবে কোভিড রোগীর থেকে। না হলে সংক্রমিতের শরীর থেকে ভাইরাস ঢুকে পড়তে পারে অন্যের শরীরেও। তার শরীরেও দেখা দিতে পারে মাথা ব্যথা, জ্বর, কাশির মতো উপসর্গ। অথবা উপসর্গ না থাকলেও সংক্রমিত হতে পারেন কেউ।

করোনা আক্রান্ত কারও হাঁচি, কাশি থেকে বাতাসে ছড়িয়ে পড়তে পারে ভাইরাস। সে কারণেই একে অপরের সঙ্গে মিটার দুয়েক দূরত্ব রেখে চলাফেরা করতে বলা হচ্ছে বারবার। পরতে বলা হচ্ছে মাস্ক। যাতে কারও শ্বাসের মাধ্যমে বাতাসে ভাইরাস ছড়ালেও তা ঢুকতে না পারে অন্যের শরীরে।
তবে দু’মিটার দূরত্ব কেন রাখতে বলা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই। বিশেষ করে যখন অনেকে বলছেন যে করোনাভাইরাস আসলে বায়ু বাহিত? বিজ্ঞানীদের মত, বাতাসে থাকলেও এই ভাইরাস বেশি দূর এগোতে পারে না। সংক্রমিতের শরীর থেকে বেরিয়ে, তার দু’মিটারের মধ্যেই ঘোরাফেরা করে। তার মধ্যেই মধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে নীচে নেমে আসে এই ভাইরাস। আর বাতাসে ঘুরে বেড়াতে পারে না। মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরে দু’-তিন ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকে ভাইরাস। তারপর নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। এই কারণেই কোথাও হাত দিলে বারবার সাবান আর পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে বলা হচ্ছে। স্যানিটাইজার ব্যবহার করতেও বলা হচ্ছে সেজন্য।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, আনন্দবাজার

দেশে করোনার ভারতীয় ধরন শনাক্ত : আইইডিসিআর

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, দেশে করোনাভাইরাসের ভারতীয় ধরন শনাক্ত হয়েছে। যশোরে কোয়ারেন্টাইনে ভারতফেরত ৪ জনের নমুনায় এ ধরন শনাক্ত হয়েছে।

ভারতের করোনার ধরনটির নাম B.1.617। এটি ভারতে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশটির স্বাস্থ্যখাতে তীব্র সঙ্কট তৈরি হয়। দেশটিতে প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

কোভিড: দিনে চার হাজারের বেশি মৃত্যু প্রথম দেখল ভারত

ভারতে প্রথমবারের মতো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একদিনে চার হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার দেশটির সরকারের দেওয়া তথ্যে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ফের ৪ লাখের বেশি কোভিড রোগী শনাক্তের খবরও নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

এ নিয়ে এক সপ্তাহে চতুর্থবার দেশটিতে দৈনিক শনাক্ত ৪ লাখ ছাড়াল।

নতুন ৪ লাখ ১ হাজার নিয়ে ভারতের ভারতে মোট কোভিড শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে হল ৩৭ লাখ ২৩ হাজার ৪৪৬। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হওয়া ৪ হাজার ১৮৭ মৃত্যু যোগ করে দেশটিতে করোনাভাইরাসে প্রাণহানির সংখ্যাও দাঁড়াল ২ লাখ ৩৮ হাজার ২৭০ জনে।

শুক্রবার ভারতের সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, জোরালো পদক্ষেপ নিলে সংক্রমণের তৃতীয় ঢেউ এড়ানো যেতে পারে।

পরবর্তী ঢেউয়ে শিশুদেরই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হতে পারে বলে ধারণা করছেন মহারাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজেশ তোপে। ভারতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শনাক্ত রোগী ও মৃত্যু দেখা পশ্চিমাঞ্চলীয় এ রাজ্যটি এখন শিশুদের জন্য কোভিড কেন্দ্র বানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

শিশুদের জন্য কোভিডের কোনো ভ্যাকসিন ভারতের কাছে নেই।

সংক্রমণের চেইন ভাঙতে গত কয়েকদিনে দেশটির অনেকগুলো রাজ্যকে লকডাউন, কারফিউর মতো বিধিনিষেধ দিতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

তামিল নাড়ু, কর্ণাটক ও মনিপুরও এখন এ তালিকায় যুক্ত হয়েছে।

কর্ণাটকে সোমবার থেকে ২৪ মে পর্যন্ত দুই সপ্তাহের লকডাউন দেওয়া হয়েছে। দুই সপ্তাহের লকডাউন দিয়েছে তামিল নাড়ুও; মনিপুরে কারফিউ দেওয়া হয়েছে ১৭ মে পর্যন্ত।

ভারতে মার্চের প্রথমদিকেও দিনে ২০ হাজারের কম নতুন রোগী পাওয়া যাচ্ছিল; অথচ দ্বিতীয় ঢেউয়ের ঝাপটায় এপ্রিল মাসেই দেশটিতে প্রায় ৬৬ লাখ মানুষের দেহে ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

ভারত জানুয়ারি থেকে দেশজুড়ে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করলেও এখন পর্যন্ত নাগরিকদের মধ্যে মাত্র ১৬ কোটি ৭০ লাখ ডোজ দিতে পেরেছে।

শুক্রবার দেশটিতে ২৩ লাখেরও কম ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

দেশটির অনেকগুলো রাজ্য ভ্যাকসিনের ঘাটতির কথাও জানিয়েছে।

শাহজাদপুরে ২জন সহ সিরাজগঞ্জ জেলায় নতুন ২৪ জনের করোনা শনাক্ত

shahzadpur siarajgonj শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জে নতুন করে ২৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় ২০২০ সালের ১০ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৮ এপ্রিল (মঙ্গলবার) পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩ হাজার ৩৭১ জনে।

সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. রামপদ রায় বুধবার (২৮ এপ্রিল) সকালে জানান, সর্বশেষ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে ১০৩টি নমুনা পরীক্ষা হয়। এতে ২৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়। পরীক্ষার বিবেচনায় আক্রান্তের হার ২৩.৩০ শতাংশ। আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন সদর উপজেলার ১১ জন, উল্লাপাড়ায় ৭ জন, বেলকুচির ৩ জন, শাহজাদপুরের ২ জন ও চৌহালী উপজেলার ১ জন।

সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির গত এক বছরের পরিসংখ্যানে জানান, মোট আক্রান্ত ৩ হাজার ৩৭১ জনের মধ্যে সর্বোচ্চ সদর উপজেলায়। ইতোমধ্যে আক্রান্তদের মধ্যে ২ হাজার ৮৩৭ জন সুস্থ হয়েছেন।

২০২০ সালের ১৯ এপ্রিল সিরাজগঞ্জ জেলায় প্রথম এক বৃদ্ধের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। জেলায় এ পর্যন্ত করোনায় মারা গেছেন ২৫ জন। এর মধ্যে সদরে ১০ জন, শাহজাদপুরে ৫ জন, বেলকুচিতে ৬ জন, রায়গঞ্জে ২ জন, কামারখন্দে উপজেলায় ২ জন রয়েছেন।

আবারো শতক ছাড়িয়ে দেশে করোনায় মৃত্যু ১০১

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ১০১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে ১১ হাজার ৫৩ জনের।

নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ৯২২ জন। সব মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৩২২ জনে।

এর আগে গত ১৬-১৭ এপ্রিল দেশে করোনায় মারা যান ১০১ জন করে। এরপর গত ১৮ এপ্রিল একদিনে দেশে করোনায় মারা যান ১০২ জন। আর গত ১৯ এপ্রিল করোনায় মারা যান ১১২ জন। যা একদিনে দেশে করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যু।
রোববার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা সিটিসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ও বাড়িতে উপসর্গ বিহীন রোগীসহ গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৪ হাজার ৩০১ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৬ লাখ ৫৭ হাজার ৪৫২ জন। সারাদেশে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩৫০টি ল্যাবে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা হয়েছে। এর মধ্যে আরটি-পিসিআর ল্যাব ১২২টি, জিন এক্সপার্ট ৩৪টি, র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন ১৯৪ টি। এসব ল্যাবে ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ২১ হাজার ৪৪৮ টি। আগের নমুনাসহ মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২১ হাজার ৯২২টি। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৫৩ লাখ ৪৫ হাজার ৫০১টি।

এতে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৮ দশমিক ২১ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার এক দশমিক ৪৮ শতাংশ।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ২৪ ঘণ্টায় মৃত ১০১ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৫৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৩ জন, সিলেট বিভাগে ৮ জন, বরিশাল বিভাগে ৭ জন, খুলনা বিভাগে ৫ জন, রংপুর বিভাগে ২ জন। এছাড়া রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জন করে ২ জন রয়েছেন।

এদের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে মারা গেছেন ৬৯ জন, বেসরকারি হাসপাতালে ৩২ জন।

মৃতদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৬০ বছরে ঊর্ধ্বে ৬৫ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১৮ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ১১ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ৩ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ৩ জন, শূন্য থেকে ১০ বছরের নিচে রয়েছেন ১ জন।

এতে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে এসেছেন ৪৬৭ জন ও আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৪৮১ জন। এ পর্যন্ত আইসোলেশনে এসেছেন এক লাখ ২০ হাজার ১৯৬ জন। আইসোলেশন থেকে ছাড়পত্র নিয়েছেন ১ লাখ ৭৫৮ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৯ হাজার ৪৩৮ জন।

এর আগে গত ৭ এপ্রিল দেশে একদিনে করোনা শনাক্ত হয় সাত হাজার ৬২৬ জন। যা দেশে একদিনে করোনা শনাক্তে সর্বোচ্চ রেকর্ড। আর গত ৬ এপ্রিল একদিনে করোনা শনাক্ত হয়েছিল সাত হাজার ২১৩ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনা ভাইরাসের প্রথম রোগী শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। এরপর ধীরে ধীরে আক্রান্তের হার বাড়তে থাকে।

দ্বিতীয় টেস্টেও খালেদা জিয়ার করোনা পজিটিভ

ফাইল ছবি

দ্বিতীয় টেস্টেও করোনা পজিটিভ বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। শনিবার রাত ১২টা ৫০ মিনিটে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দলের প্রধান এফএম সিদ্দিকী।

এর আগে, রাত ১০টা ৫ মিনিটে তারা খালেদা জিয়ার শারীরিক পরীক্ষা ও আজকের করা পরীক্ষাগুলোর রিপোর্ট পর্যালোচনা করতে তার বাসায় যান। দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে তারা খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন।

করোনায় আক্রান্ত খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে এফএম সিদ্দিকী, তিনি ভালো আছেন। তার ফুসফুসেও কোনো জটিলতা নেই।

তিনি আরো বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক সবগুলো পরীক্ষা করা হয়েছে। রিপোর্ট ভালো এসেছে। করোনার দ্বিতীয় সপ্তাহের যে জটিলতা তিনি সেটা কাটিয়ে উঠেছেন। আশা করছি পাঁচ-ছয়দিন পর আবার টেস্ট করলে নেগেটিভ আসবে।

খালেদা জিয়ার আরেক চিকিৎসক ডা. জাহিদ বলেন, খালেদা জিয়াসহ বাসার চারজনের করোনার দ্বিতীয় রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। বাকি পাঁচজনের নেগেটিভ এসেছে।

১১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। সে সময় থেকে গুলশানের বাসায় রয়েছেন তিনি।

করোনায় একদিনে আরও ৯৮ জনের মৃত্যু

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে ১০ হাজার ৭৮১ জনের।

নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৪ হাজার ১৪ জন। সবমিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৩৬ হাজার ৭৪ জনে।
বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

দেশে গত ৮ মার্চ করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত (কোভিড-১৯) প্রথম রোগী শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

শাহজাদপুরে করোনায় আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে করোনায় আক্রান্ত হয়ে একজনের মুত্যুর ঘটনা ঘটেছে। নিহতের নাম আবুল হোসেন (৭৬) তিনি পৌর শহরের মৃত কলিম উদ্দিন আকন্দের ছেলে ও উকিল পাড়ার বাসিন্দা ছিলেন।

শাহাদত হোসেন পাকস্থলীর সমস্যায় অসুস্থ্য হয়ে গত ১৪ এপ্রিল এনায়েতপুরে খাঁজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। গতকাল সোমবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার করোনা রিপোর্ট পজেটিভ আসে। আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় উক্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহাদত হোসেন মৃত্যুবরণ করেন।

বেলা ৩টায় শাহাদত হোসেনের লাশ শাহজাদপুরের শেরখালী উকিল পাড়ায় তার নিজ বাড়িতে আনা হয়। পরবর্তীতে উপজেলার করোনার লাশ দাফন কমিটির মাধ্যমে তার লাশ গোসল করানো হয় এবং মাগরিবের নামাজের পরে তার লাশ জানাযা শেষে শেরখালী কবরস্থানে দাফন করা হয়।

দাফন কমিটির স্বেচ্ছাসেবক সেলিম তালুকদার বলেন, এই বছরের প্রথম শাহজাদপুরে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত মোট ২১ জনের  লাশ দাফন করা হয়েছে।