করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ ক্ষুদ্র ১’শ তাঁতি ও শ্রমিককে অর্থসহায়তা প্রদান করেছেন সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ


করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ ক্ষুদ্র তাঁতী ও শ্রমিকদের পাশে জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ

কোভিট-১৯ মহামারির কারণে দেশের তাঁতশিল্পর কেন্দ্রবিন্দু সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ ক্ষুদ্র ১’শ তাঁতি ও শ্রমিককে অর্থসহায়তা প্রদান করেছেন সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ। বুধবার বিকেলে উপজেলা পরিষদের শহিদ স্মৃতি সম্মেলন কক্ষে এ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মোঃ শামসুজ্জোহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ ক্ষতিগ্রস্থ তাঁতি ও শ্রমিকদের হাতে জনপ্রতি ২ হাজার ৫’শ টাকা করে অর্থসহায়তা প্রদান করেন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রফেসর আজাদ রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস সালাম, পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র আব্দুর রাজ্জাক, থানার অফিসার ইনচার্জ আতাউর রহমান প্রমূখ।

লাখ লাখ গবাদীপশু নিয়ে খামারিরা বিপাকে


করোনা ও বন্যায় শাহজাদপুরের গো-শিল্প সংকটে !

করোনার ক্রান্তিকাল ও বন্যায় গবাদীপশুর রাজধানী খ্যাত শাহজাদপুরের হাজার গো-খামারিরা ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছে। এলাকায় প্রতিদিন উৎপন্ন লাখ লাখ লিটার দুধ ও পালিত গবাদী পশুকে নিয়ে তারা উদ্বেগ-উৎকন্ঠায় পড়েছেন। করোনার প্রকোপে তরল দুধের চাহিদা কমে যাওয়ায় মিল্কভিটাসহ শাহজাদপুরের ১৪টি বেসরকারি ডেইরি প্রজেক্টে দুধ সংগ্রহ কমিয়ে দেয়া হয়েছে। গত কোরবানির ঈদে গো-খামারি, চাষি ও মওসুমি ব্যবসায়ীদের লালিত গবাদীপশুর চাহিদা, বেচাবিক্রি কম হওয়ায় এবং ন্যায্য দাম না পাওয়ায় এলাকার গো-খামারি, চাষি ও ব্যবসায়ীরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়েছেন। অন্যদিকে, বন্যায় কাঁচা ঘাসের তীব্র সংকটে দানাদার গো-খাদ্যের দাম বেড়ে গেছে। এ কারণে শাহজাদপুরের অনেক গো-খামার বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। ফলে শাহজাদপুরের লাখ লাখ গবাদীপশু নিয়ে খামারিরা মহাবিপাকে পড়েছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, বাঘাবাড়ী মিল্কশেড এরিয়ায় দৈনিক প্রায় ৪ লাখ লিটার দুধ উৎপন্ন হয়। এর সিংগভাগই বাঘাবাড়ির মিল্কভিটা কারখানায় ও অবশিষ্টাংশ বিভিন্ন বেসরকারি ডেইরি প্রজেক্টের কুলিং সেন্টারে এবং ঘোষেরা সংগ্রহ করে থাকে। শাহজাদপুরের ভরপুর গো-সম্পদের ওপর নির্ভর করে শাহজাদপুরসহ আশপাশে মিল্কভিটা ছাড়াও প্রাণ, আকিজ, আফতাব, ব্র্যাক ফুড (আড়ং), অ্যামোফ্রেস মিল্ক, আড়ং দুধ (ব্র্যাক), ফার্মফ্রেস, রংপুর ডেইরি, ইছামতি ডেইরি, সেফ মিল্ক কোয়ালিটি, বিক্রমপুরসহ ১৪টি বেসরকারি দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান এ অঞ্চলে আঞ্চলিক ও শাখা দুগ্ধ সংগ্রহ কেন্দ্র স্থাপন করেছে। সম্ভাবনাময় এ শিল্পকে ঘিরে শাহজাদপুর ছাড়াও পাবনা ও সিরাজগঞ্জ অঞ্চলের হাজার হাজার পরিবারের জীবীকার পথ হিসেবে গরু পালন ও দুধের ব্যবসা হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে। গো-শিল্পটি লাভজনক হওয়ায় অঞ্চলে গড়ে ওঠা গো-খামারের সংখ্যা দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। এ অঞ্চল থেকে সংগৃহিত দুধ নানা প্রক্রিয়ায় দুগ্ধজাত খাদ্যসামগ্রী তৈরি করে সারাদেশে সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু করোনার ক্রান্তিকালে তরল দুধের চাহিদা কমে যাওয়ায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দুধ সংগ্রহের পরিমান কমিয়ে দিয়েছেন। মিষ্টি ও চায়ের দোকানিরাও বর্তমানে আগের মতো দুধ কিনছেন না। ফলে উৎপন্ন দুধ নিয়ে খামারিরা বিপাকে পড়েছেন। বন্যার মধ্যে অনেক খামারি নৌকাযোগে গ্রামে গ্রামে ফেরি করে কম দামে দুধ বিক্রি করছে। করোনার প্রাদুর্ভাবের পর থেকে দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠাগুলো দুধ সংগ্রহ কমিয়ে দেয়ায় এ অঞ্চলের দুগ্ধশিল্পে নেমে আসে বিপর্যয়। খামারি জানান, ঈদুল ফিতরের পর দুধের দাম কমতে থাকলেও গো-খাদ্যের দাম উল্টো বেড়ে চলেছে। বন্যায় সেই বর্ধিত দামে ফের নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। ১ হাজার ২৫০ টাকা দামের ৩৭ কেজি ওজনের ভুসির বস্তার দাম ঈদুল ফিতরের পরে বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৪২০ টাকা। ৩০০ টাকা মণের খড়ের দাম হয়েছে ৫০০ টাকা। খৈল, চিটাগুড়সহ সব ধরনের গো-খাদ্যের দামই লাফিয়ে লাফিয়ে বৃদ্ধি পাওয়ায় খামারিরা চোখেমুখে অন্ধকার দেখতে শুরু করেছেন। খামারিরা এ দুঃখ দুর্দশার কথা বলতেও পারছেন না আবার সইতেও পারছেন না।

করোনায় স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. লতিফের মৃত্যু

করোনায় মারা গেলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অল্টারনেটিভ মেডিসিন কেয়ার (এএমসি) পরিচালক ডা. এফ বি এম আবদুল লতিফ।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) দুপুর সোয়া ১২টায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।

আবদুল লতিফ রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের ২২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও ৩৮তম বিসিএস (স্বাস্থ্য ক্যাডার) কর্মকর্তা।

তার মৃত্যুতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা/কর্মচারীরা তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং তার শোক-সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন ও তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেছেন।

সিরাজগঞ্জে করোনায় সাবেক পিপির মৃত্যু

করোনা আক্রান্ত হয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা জজ আদালতের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও রোটারিয়ান রেজাউল করিমের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে শহিদ জিয়াউর রহমান হাসপাতাল (শজিমেক) তিনি মারা যায়। গত এক মাস ধরে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।

রেজাউল করিম গত ৮ জুলাই শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি হয়। জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল কায়েস এ কথা জানিয়েছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুক্রবার (৭ আগস্ট) বাদ জুমা জেলা শহরের মালসাপাড়া কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, জেলা বিএনপির সভাপতি বেগম রুমানা মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চুসহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরাসহ তার আইনজীবী সহকর্মীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

আইনমন্ত্রী আসিসুল হক, স্থানীয় এমপি হাসিবুর রহমান স্বপন ও সাবেক এমপি চয়ন ইসলামের শোক প্রকাশ


বাবার কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত সাবেক আইন সচিব

বৃহস্পতিবার বাদ যোহর শাহজাদপুর সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মাঠে নামাজে যানাজা শেষে পৌর এলাকার শেরখালী কবরস্থানে বাবা পুলিশের সাবেক এআইজি শেখ ফজলুল হকের কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত (পিআরএল) সচিব আবু সালেহ শেখ মোঃ জহিরুল হক (দুলাল)। মরহুমের যানাজার নামাজে অংশ নেন প্রধান বিচারপতির পক্ষ থেকে সিরাজগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ ফজলে খোদা নাজির, সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ বিশ্বাস, শাহজাদপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মাসুদ হোসেন প্রমূখ। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, স্থানীয় এমপি আলহাজ¦ হাসিবুর রহমান স্বপন, সাবেক এমপি চয়ন ইসলাম, শাহজাদপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রফেসর আজাদ রহমান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মোঃ শামসুজ্জোহা, যুবলীগের সাবেক আহবায়ক রাজীব শেখ এবং সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি, শাহজাদপুর উপজেলা আইনজীবী সমিতি, জেলা পুলিশসহ বিভিন্ন সংগঠন।
করোনায় আক্রান্ত হয়ে বুধবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন সাবেক আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মোঃ জহিরুল হক (দুলাল)। (ইন্নালিল্লাহি—রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে ও ভাই-বোনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

যে ভ্যাকসিন আগে আসবে সেটাই ট্রাই করবে বাংলাদেশ

যে ভ্যাকসিন আগে আসবে সেটাই ট্রাই করবে বাংলাদেশ

‘বাংলাদেশ যাতে তাড়াতাড়ি করোনার ভ্যাকসিন পায়, সেই বিষয়ে চেষ্টা করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনসহ যেটা আগে আসে সেটাই ট্রাই করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আব্দুল মান্নান।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে করোনার ভ্যাক্সিন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে একটি সভা শেষে সচিব জানান, ‘সাইনো ভ্যাক’ তাদের ভ্যাকসিনের থার্ড ফেস ট্রায়াল আইসিসিডিডিআরবির মাধ্যমে বাংলাদেশে করতে চায়। তারা এখানকার কর্মরত স্বাস্থ্য কর্মীদের উপর ট্রায়াল করতে চায়। এ বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

এসময় স্বাস্থ্য সচিব জানান, এর বাইরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মর্ডানা, গ্যাভির ভ্যাকসিন বাংলাদেশে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

কসোভোর প্রধানমন্ত্রী করোনা আক্রান্ত

ছবি: ইন্টারনেট

কসোভোর প্রধানমন্ত্রী আবদুল্লাহ হতি করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি আইসোলেশনে আছেন। রোববার (২ আগস্ট) রাতে তিনি নিজের ফেইসবুক অ্যাকাউন্টে লিখেন, আজ আমি কোভিড-১৯ পরীক্ষা করিয়েছি এবং পরীক্ষার ফলাফল পজিটিভ এসেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি ১৪ দিনের সেলফ-আইসোলেশন শুরু করেছেন। এ সময় বাসা থেকে তিনি তার দায়িত্ব পালন করবেন। হতি বলেন, ‘সামান্য কাশি ছাড়া আমার করোনাভাইরাসের আর কোনো উপসর্গ নেই।

জুন মাসের শুরুর দিকে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এএফপি জানায়, বলকানের বাকি অঞ্চলের মতো কসোভোতেও জুন থেকে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এটি ইউরোপের সবচেয়ে দরিদ্র দেশগুলোর অন্যতম। ফলে দেশটির চিকিৎসা ব্যবস্থা খুবই দুর্বল।

প্রায় ১৮ লাখ জনসংখ্যার এ দেশে এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে ২৪৯ জন প্রাণ হারিয়েছে এবং আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৯ হাজার।

করোনা ও বন্যায় ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পে ভয়াবহ বিপর্যয়


শাহজাদপুরে তাঁতী-শ্রমিকদের ঘরে নেই ঈদের আমেজ

করোনা ভাইরাসের ক্রান্তিকালে দেশের তাঁতশিল্পের কেন্দ্রবিন্দু শাহজাদপুরের তাঁতীরা পহেলা বৈশাখ ও ঈদুল ফিতরের বাজারে চরমভাবে মার খেয়েছে। সারা বছরের পুঁজি হারিয়ে ধার-দেনা, ব্যাংক ঋণ ও দাদন নিয়ে কোন মতে ঊদুল আযাহার বাজার ধরার জন্য শাড়ি লুঙ্গি তৈরিতে সাধ্যমতো চেষ্টা করেছে তাঁতীরা। এরই মধ্যে ‘মড়ার উপর খাড়ার ঘা’ হয়ে দেখা দিয়েছে সর্বনাশা চলমান বন্যা। একের পর এক দূর্যোগে সর্বস্বান্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছে তাঁতীদের। শাহজাদপুরে যমুনা নদীর পানি বিপদ সীমার অনেক উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তাঁত কারখানায় বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় তাঁতীদের কারখানায় হ্যান্ডলুম ও পাওয়ারলুমই শুধু নষ্ট হয়নি, ব্যাংক ঋণ ও দাদনের টাকায় কেনা তাঁতের তেঁনার সুতাও নষ্ঠ হয়ে হয়েছে। অনেক তাঁত কারখানায় বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় হাজার হাজার তাঁত কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। বেকার হয়ে পড়েছে লক্ষাধিক তাঁতী ও শ্রমিক। এসব বানভাসি পরিবারে নেই ঈদের আনন্দ ও আমেজ। ফলে সার্বিকভাবে ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পে নেমে এসেছে ভয়াবহ বিপর্যয়!
গতকাল মঙ্গলবার ও বুধবার (২৮ ও ২৯ জুলাই) দুই দিন সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন তাঁতপল্লী পরিদর্শনকালে তাঁতীরা জানায়, প্রতি বছর ঈদ উল আযহাকে ঘিরে এ সময় বাহারি নানা ডিজাইনের কাপড় বুনতে নির্ঘুম সময় পার করত তাঁতী ও শ্রমিকরা। এ সময় খট খট শব্দের মুখরিত ও প্রাঞ্জলিত হয়ে থাকতো। কিন্তু এবছর করোনাভাইরাসের প্রকোপে লকডাঊনের কারণে হাত ছাড়া হয়ে গেছে নববর্ষ ও ঈদুল ফিতরের বাজার। মজুত হয়ে আছে শত শত কোটি টাকার কাপড়। ঈদুল আযহার বাজার ধরার জন্য অনেক কারখানা মালিক ধারদেনা, দাদন ও ব্যাংক ঋণ নিয়ে ফের কারখানা চালু করলেও ভয়াবহ বন্যার কারণে কয়েক হাজার তাঁত কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া, নগরডালা, হাসাকোলা, রতনকান্দি, বেলতৈল, ডায়া, কৈজুরী, জামিরতা, ভাটপাড়া, জগতলা, রুপনাই, জালালপুর, প্রাণনাথপুর, রুপপুর, রুপপুর নতুনপাড়া, উরিরচর, নগরডালা, বাদলবাড়ী, হামলাকোলা, ডায়া নতুনপাড়া, চর পোরজোনা, খুকনীসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে রয়েছে অসংখ্য তাঁতপল্লী। করোনার কারণে পাওয়ার লুম, হস্তচালিত তাঁত, প্রক্রিয়াজাত রং এবং ডিজাইনের সাথে জড়িত প্রায় ৫০ হাজার তাঁত শ্রমিক এমনিতেই বিপর্যস্থ অবস্থায় দিনযাপন করছিলো। বন্যা তাঁদের পথে বসিয়েছে। বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বসতঘরগুলো। পানিতে ডুবে থাকায় তাঁতযন্ত্রগুলো অকেজো হয়ে পড়েছে। এখন তাঁরা জীবন জীবীকা নিয়ে উদ্বেগ-উৎক›ঠায় রয়েছেন। তাঁতঘর, বসতঘর ও অকেজো তাঁত অন্য কোথাও সরিয়ে নেয়া ও মেরামতের দুঃশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। এর সঙ্গে খাবার যোগাড়ের চিন্তা তাদের দুঃশ্চিন্তায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
শাহজাদপুর উপজেলার চরপোরজনা গ্রামের হাতেগোনা ৮-১০টি তাঁত কারখানা ছাড়া প্রায় সবকটি কারখানায় বন্যার পানি ঢুকেছে। কারখানায় হাটু পানির মধ্যে কেউ কেউ শাড়ি তৈরীর বৃথা চেষ্টা করছেন। তবে বন্যা যেভাবে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে তাতে আগামী ২-৩ দিনের মধ্যেই এসব কারখানার টানা ডুবে যাবে বলে তাঁত শ্রমিকেরা শংকা প্রকাশ করেছেন। ওই গ্রামের তাঁত কারখানা মালিক আব্দুল্লাহ বললেন, ‘করোনার জননো এ্যবাই আমাদের কামাই-কাজি বন্ধ হয়্যা গেছিল। শেষ সম্বল দুই হ্যান তাঁত দাদনে টেহা নিয়্যা চালু কইরা বাইচতে চাইচিল্যাম। কিন্তু বইনন্যায় হেই আশাও শেষ ওয়্যা গেলো।’ বেশ কয়েকজন তাঁতী আরও জানায়, গত বছর বাংলা নববর্ষ ও ঈদ উপলক্ষে তৈরি কাপড় বিক্রি করে ঋণ ও ধারদেনা শোধ করেছিলো তাঁতীরা। কিন্তু এবছর ঈদুল-আযহায় ছেলেমেয়েদের নতুন জামাকাপড় কেনা তো দুরের কথা; পেটের ক্ষুধা কিভাবে মিটবে তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছেন তাঁতী ও শ্রমিকেরা। প্রতি বছরের এ সময়ের অতিরিক্ত আয় দিয়েই সংসারের বাড়তি খরচ মেটাতেন তাঁতী ও শ্রমিকেরা। কিন্তু এ বছর সবকিছু ওলট-পালট করে দিয়েছে এই করোনা আর বন্যা।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ স্পেশালাইজ টেক্সটাইল মিলস এন্ড হ্যান্ডলুম ওনার্স এসোসিয়েশনের পরিচালক ও সিরাজগঞ্জ জেলা তাঁত মালিক সমিতির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হায়দার আলী বলেন, ‘ করোনা ভাইরাসের ক্রান্তিকালের মধ্যে ভয়াবহ বন্যায় এলাকার অসংখ্য তাঁতকারখানা বন্ধ থাকায় তাঁতীরা তীব্র পুঁজি সংকটে পড়ে। লকডাউন উঠে গেলেন পুঁজির যোগান দিতে না পারায় শাহজাদপুরের শতকরা ৭০ ভাগ তাঁত পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দেড় লাখ তাঁত মালিক ও শ্রমিকদের জীবনে অন্ধকার নেমে এসেছে। অবিলম্বে তাদের মাঝে সরকারিভাবে পুঁজির যোগান দেয়া না হলে ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পের ভয়াবহ বিপর্যয় কোন ভাবেই রোধ করা সম্ভব হবে না।’

পুঁজির যোগান দিতে না পারায় শতকরা ৭০ ভাগ তাঁত বন্ধ


করোনা ও বন্যায় শাহজাদপুরে লক্ষাধিক তাঁতী ও শ্রমিকের মানবেতর দিনযাপন

করোনা ও বন্যায় দেশের তাঁতশিল্পের কেন্দ্রবিন্দু সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার প্রায় লক্ষাধিক তাঁত মহাজন ও শ্রমিকেরা মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। করোনা ও বন্যা ছাড়াও বৃষ্টিপাতজণিত কারণে পুঁজি সংকটে কারখানায় তাঁতবস্ত্র উৎপাদন বন্ধ, তাঁতবস্ত্র উৎপাদনের সকল কাঁচামাল ও উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি, চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ শাহজাদপুর কাপড়ের হাটে বেঁচাকেনায় চরম মন্দাভাব, বিভিন্ন এনজিও, সুদখেকো সুদ ব্যবসায়ী, সমিতি ও ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের বোঝা বহন, ক্রয়-ক্ষমতা হ্রাস, তাঁতবস্ত্র উৎপাদনের নায্য মজুরি প্রাপ্তিতে বঞ্চিতসহ নানাবিধ কারণে শাহজাদপুর উপজেলার চির অবহেলিত, চির পতিত, চির অপাংক্তেয় প্রায় লক্ষাধিক তাঁত মহাজন ও শ্রমিকের বুক ফাঁটলেও মুখ ফোঁটেনা। এসব তাঁতী ও শমিকের বিচারের বাণী নিরবে নিভৃতে কাঁদছে। দেখার কেউ নেই। নেই পাশে কেউ।
জানা গেছে, শাহজাদপুর উপজেলার পৌর এলাকাসহ ১৩টি ইউনিয়নে প্রায় দেড় লাখ তাঁত রয়েছে। তন্মদ্ধে প্রায় ১ লাখ পাওয়ারলুম ও প্রায় ৫০ হাজার হ্যান্ডলুম ও প্রায় ১ লাখ শ্রমিক রয়েছে। লকডাউন ঘোষিত সময়কালে শাহজাদপুরের সকল তাঁত কারখানা বন্ধ ছিলো। এ দীর্ঘ সময়ে এলাকার তাঁতীরা কোনরূপ তাঁতবস্ত্র উৎপাদন বা উৎপাদিত বস্ত্র হাট বাজারে বিক্রি করতে পারেনি। এ সময় বাধ্য হয়ে তাঁত মালিকেরা অনেকেই পুঁজি ভেঙ্গে ফেলেছেন আবার অনেকেই ঋণপানে জর্জরিত হয়েছেন। লকডাউন তুলে নেয়ার পর তাঁত মালিকেরা তাদের তাঁত কারখানা চালু করার অনুমতি পেলেও পরবর্তীতে পুঁজি না থাকায় তা চালু করা সম্ভব হয়নি। কেউ কেউ ধারদেনা করে তাঁত কারখানায় বস্ত্র উৎপাদনের চেষ্টা করলেও উৎপাদিত তাঁতবস্ত্র হাটে বিক্রি করতে না পেরে পুনরায় তাঁত বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। গত কয়েক মাস ধরে বিরাজমান করোনা ভাইরাসের প্রভাবে তীব্র পুঁজি সংকটে পড়ে এলাকার প্রায় ৬০ ভাগ তাঁত বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে তাঁতী মহাজন। বন্ধ হয়ে যাওয়া তাঁত কারখানার হাজার হাজার তাঁত শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে তারা খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। তার পরেও ‘মরার ওপর খারার ঘা’ এর মতোই চলমান করোনা সংকটের সাথে ভয়াবহ বন্যায় এলাকার অসংখ্য তাঁত কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এসব কারখানার তাঁত শ্রমিকদের জীবনজীবীকার প্রশ্নে তারা চরম অনিশ্চয়তা, উদ্বেগ আর উৎকন্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন।
শাহজাদপুর পৌর এলাকার রূপপুর নতুনপাড়া মহল্লার রাকিব উইভিং ফ্যাক্টরির মালিক হাজী ওমর, আজাদ উইভিং ফ্যাক্টরির মালিক আজাদ জানান,‘লকডাউনের পর থেকে হাজী ওমরের তাঁত কারখানার মোট ১৪টি পাওয়ারলুম ও ৪টি হ্যান্ডলুম এবং তার ভাই আব্দুস সালামের তাঁত কারখানার মোট ১০টি পাওয়ারলুম ও ৪টি হ্যান্ডলুম ও তাঁতী আজাদের আজাদ উইভিং ফ্যাক্টরির ৯টি পাওয়ারলুম ও ৩৭টি হ্যান্ডলুমে তাঁতবস্ত্র উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ থাকে। পরবর্তীতে লকডাউন তুলে নেয়া হলেও পুঁজি না থাকায় এ ৩ কারখানার সবগুলো তাঁতই বন্ধ রয়েছে।’ তারা আরও বলেন,‘শ্রমিকেরা কারখানায় কাজ করতে আসলেও লকডাউনের আগে মজুদকৃত তাঁতবস্ত্র হাটে বিক্রি করতে না পারায় শ্রমিকদের মজুরী দেয়া সম্ভব নয় বলে উৎপাদনে যেতে পারছি ন।’
শাহজাদপুর কাপড়ের হাট তাঁত মালিক সমিতির সভাপতি আলমাছ আনসারী বলেন, ‘দীর্ঘ সময় উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ শাহজাপদুর কাপড়ের হাটে লেনদেন বন্ধ থাকার পর লকডাউন তুলে নেয়ার পরও স্বাভাবিক মাত্রায় ব্যাপারী পাইকার হাটে না আসায় তাঁতীরা তাদের তাঁতবস্ত্র বিক্রি করতে পারছে না। এতে তাঁতীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। ফলে ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প ভয়াবহ বিপর্যয়ে পড়েছে।’
শাহজাদপুর তাঁত শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি তাঁতী ওমর ফারুক ও সাধারন সম্পাদক আল-মাহমুদ জানান, ‘করোনার সাথে বৃষ্টি-বন্যাসহ নানাবিধ প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন উর্ধ্বগতিতে তাঁত শ্রমিকদের জীবনযাত্রার সার্বিক ব্যায় বৃদ্ধি, নায্য মজুরি পাওয়া থেকে বঞ্চিত, ঋনের কিস্তির ঘানি টানাসহ বহুবিধ কারণে শাহজাদপুর উপজেলায় কর্মরত প্রায় ১ লাখ তাঁত শ্রমিকের সিংহভাগই অতিকষ্টে দিনযাপন করছে। ইতিমধ্যেই করোনা ও বন্যার প্রভাবে তীব্র পুঁজি সংকট সৃষ্টি হওয়ায় সিংহভাগ তাঁত কারখানার মালিকেরা চোখে মুখে রীতিমতো সর্ষের ফুল দেখায় তাঁত বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। সইসাথে বেকার তাঁত মহাজন ও শ্রমিকদের সংখ্যাও উদ্বেগজনকহারে বেড়েছে।’
বাংলাদেশ স্পেশালাইজ টেক্সটাইল মিলস এন্ড হ্যান্ডলুম ওনার্স এসোসিয়েশনের পরিচালক ও সিরাজগঞ্জ জেলা তাঁত মালিক সমিতির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হায়দার আলী জানান, ‘অতীতে দেশীয় তাঁতে তৈরি ঢাকাই মসলিন জগৎজোড়া খ্যাতি অর্জন করেছিলো। বৃট্রিশ বোনিয়ারা মসলিন তৈরির পথকে চিরতরে রূদ্ধ করতে তাঁতীদের বৃদ্ধাঙ্গুল কেটে দিয়ে নীল চাষে বাধ্য করে। এরপর থেকে তাঁতশিল্পের গৌরব ও ঐতিহ্য ম্লান হতে থাকে। স্বাধীনতার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পৃষ্ঠপোষকতায় তাঁতশিল্প নতুন করে ঘুড়ে দাঁড়াতে শুরু করে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে তাঁতীদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প বেশ সম্ভাবনাময় শিল্পে উপনীত হয়। সারাদেশে তাঁতবস্ত্রের চাহিদা মিটিয়ে ভারত, ইংল্যাড, ইটালীসহ বর্হিঃবিশে^র বিভিন্ন দেশে তাঁতবস্ত্র রফতানীর মাধ্যমে প্রতি বছর প্রচুর পরিমান বৈদশিক মুদ্রা অর্জিত হতে থাকে। কিন্তু করোনা ভাইরাসের ক্রান্তিকালে ও ভয়াবহ বন্যার প্রভাবে এলাকার অসংখ্য তাঁতকারখানা বন্ধ থাকায় তাঁতীরা তীব্র পুঁজি সংকটে পড়ে। লকডাউন উঠে গেলেন পুঁজির যোগান দিতে না পারায় শাহজাদপুরের শতকরা ৭০ ভাগ তাঁত পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দেড় লাখ তাঁত মালিক ও শ্রমিকদের ভাগ্যাকাশে দেখা দেয় কালো মেঘের ঘণঘটা।’
এ বিষয়ে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড শাহজাদপুর বিসিক শাখার টিএফসি ব্যবস্থাপক মোঃ শরীফ আল মাহমুদ বলেন,‘করোনার প্রভাবে পূঁজি হারানো ২’শ ৭৯ জন প্রান্তিক তাঁতীর আবেদনের প্রেক্ষিতে তাঁতী প্রতি দেড় লাখ থেকে দুই লাখ টাকা ৫% সরল সুদে ৩ বছর মেয়াদে ঋণ প্রদানের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে, লক্ষাধিক প্রান্তিক তাঁতীর মধ্যে মাত্র ২’শ ৭৯ জন প্রান্তিক তাঁতীকে পুঁজির যোগান দেয়া হলে ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পে চলমান সংকট কতটুকু লাঘব হবে, তা নিয়ে এলাকার তাঁত মহাজন ও শ্রমিকেরা সংশয়ে পড়েছে।

বেলকুচিতে এমপি মমিন মন্ডলের করোনা মুক্তির জন্য দোয়া

ছবিঃ ফেসবুক থেকে সংগৃহিত

সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মমিন মন্ডলের করোনা মুক্তির জন্য ফাতিহা পাঠ ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে বেলকুচি উপজেলার সূর্বণসাড়া জামিয়া সিদ্দিকিয়া কওমিয়া হাফিজিয়া কবরস্থান মাদ্রাসার উদ্যোগে এ বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অত্র মাদ্রাসায় মোহতামিম মওলানা আব্দুল হাকিম দোয়া পরিচালনা করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অত্র মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মীর আব্দুস সবুর দিলিপ, মুফতি আব্দুল আলিম, বিশিষ্ঠ্য সমাজসেবক গোলাম আজম মন্ডল, ডাঃ সাইফুল ইসলাম, আবুল কাসেম আকন্দ, বদিউজ্জামান, রহিদুল ইসলাম মন্ডল ও গ্রামের গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ এবং মাদ্রাসার ছাত্রবৃন্দ।

উক্ত দোয়া মাহফিলের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন উন্নয়ন অনুসন্ধান ফাউন্ডেশনের সমন্বয়কারী আব্দুল হাকিম মন্ডল এবং তিনি নিজ উদ্দ্যোগে উপস্থিত শতাধিক মানুষের মাঝে মাস্ক বিতরণ করেন।এবং ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল ইসলাম সরকার সংসদ সদস্য আব্দুল মোমিন মন্ডলের রোগ আরগ্যের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন ।

উল্লেখ্য, এম পি আব্দুল মোমিন মন্ডল গত ২০ শে জুলাই করোনা পজিটিভ হন । তিনি মন্ডল গ্রুপের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক ।বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন ।