শাহজাদপুরে এমপি স্বপনের রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে এমপি আলহাজ¦ হাসিবুর রহমান স্বপনের রোগমুক্তি কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে ।  শনিবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু পরিষদ উপজেলা শাখার আয়োজনে পরিষদ কার্যালয়ে এ মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয় । বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি উপাধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম বাবলার সভাপতিত্বে ও সাধারন সম্পাদক প্রভাষক মোঃ জসিম উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রফেসর আজাদ রহমান । বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক পৌর মেয়র মোঃ নজরুল ইসলাম, সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বিনয় পাল, সাবেক অধ্যক্ষ গোলাম সাকলাইন প্রমূখ। এ সময় বঙ্গবন্ধু পরিষদের সহ-সভাপতি লুৎফর রহমান তালুকদার, সাবেক জিএস আরিফুল ইসলাম পলাশ, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক আশিকুল হক দিনার, ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক শেখ মোঃ রাসেল, শাহজাদপুর সংবাদ ডটকমের জনসংযোগ কর্মকর্তা নাছির উদ্দিনসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

দেশে ৫ ধরনের স্বতন্ত্র করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের (সার্স-কোভ-২) সংক্রমণ, মিউটেশনের হার, জিনগত বৈশিষ্ট্য, নন-সিনোনিমাস মিউটেশন এবং জেনোমিক ফাইলোজেনি পর্যবেক্ষণ করে দেশে পাঁচ ধরনের স্বতন্ত্র করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। যা বিশ্বের আর কোথাও পাওয়া যায়নি।

রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) মিলনায়তনে বিসিএসআইআর জিনোমিক রিসার্চ ল্যাবরেটরির কোভিড-১৯ এর জিনোম সিকোয়েন্সিং প্রতিবেদন অবহিতকরণ সভা বিসিএসআইআরের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. আফতাব আলী শেখ এ তথ্য জানান।

এ সময় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমানসহ বিসিএসআইআর জিনোমিক রিসার্চ ল্যাবরেটরির গবেষকরা উপস্থিত ছিলেন।

মো. আফতাব আলী শেখ জানান, করোনা ভাইরাসের (করোনা ভাইরাস ডিজিজ-১৯ সংক্ষেপে কোভিড-১৯) জিনগত বৈচিত্র্য পর্যবেক্ষণ করার জন্য সার্স-কোভ-২ ভাইরাসের সর্বমোট ২৬৩টি জিনোম সিকোয়েন্সিং ও ডাটা বিশ্লেষণ করা হয়। এ নমুনা চলতি বছরের ৭ মে থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত সংগ্রহ করা হয়। নমুনাগুলোর জিনোম সিকোয়েন্সিং করে আন্তর্জাতিক ডাটাবেজ Global Initiative on Sharing All Influenza Data (GISAID) তে প্রকাশ করা হয়।

গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সংগৃহীত নমুনায় শতভাগ ক্ষেত্রে আধিপত্যকারী ভ্যারিয়েন্টের G 414 (স্পাইক রুটিনে ৬১৪তম অবস্থানে অ্যাসপার্টিক গ্লাইসিন হওয়ার কারণ) উপস্থিতি পাওয়া যায়। প্রাপ্ত ২৬৩টি সার্স-কোভ-২ ভাইরাসের মধ্যে ২৪৩টি GR ক্লেড, ১৬টি G ক্লেড এবং ১টি O ক্লেডের অন্তর্ভুক্ত।

এতে আরো উল্লেখ করা হয়, ২৬৩টি সার্স-কোভ-২ জিনোম বিশ্লেষণ করে জানা যায় যে সর্বমোট ৭৩৭টি পয়েন্টে মিউটেশন হয়। যার মধ্যে ৩৫৮টি নন সিনোনিমাস অ্যামিনো এসিড প্রতিস্থাপন ঘটায়। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত ২৬৩টি সার্স-কোভ-২ ভাইরাসের মিউটেশনের হার বার্ষিক ২৪ দশমিক ৬৪ নিউক্লিওটাইড। সারাবিশ্বে নমুনা প্রতি মিউটেশন হার ৭ দশমিক ২৩। যা বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ১২ দশমিক ৬০ লক্ষ্য করা যায়‌। অর্থাৎ অন্য যে কোনো দেশের তুলনায় বাংলাদেশে সার্স-কোভ-২ ভাইরাসটি অনেক দ্রুত গতিতে এর রূপ পরিবর্তন করছে। স্পাইক প্রোটিনের জিনে ১০৩টি নিউক্লিওটাইড নিউটেশনের মধ্যে ৫৩টি নন সিনোনিমাস এমোনিয়া বেশি প্রতিস্থাপন ঘটে, যার মধ্যে পাঁচটি স্বতন্ত্র। যা বিশ্বের আর কোথাও পাওয়া যায়নি। সংগৃহীত নমুনা সময়ের মধ্যে ১০০ ভাগ ক্ষেত্রে চারটি নিউটেশনের পুনরাবৃত্তি লক্ষ্য করা যায়।

বিসিএসআইআররের চেয়ারম্যান বলেন, চলমান বৈশ্বিক কোভিড-১৯ মহামারিতে সারাবিশ্বের বিজ্ঞানীরা সার্স-কোভ-২ ভাইরাসের উৎস, গতি প্রকৃতি ও বিস্তার নির্ণয়ের পাশাপাশি এ ভাইরাসের ওষুধ ও ভ্যাকসিনের ওপর গবেষণা করছেন। সে লক্ষ্যে বাংলাদেশেও সার্স-কোভ-২ ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সিং করার প্রকল্প গ্রহণ করেছিল। জিনোম সিকোয়েন্সিং ল্যাবরেটরি বাংলাদেশের আটটি বিভাগের সর্বমোট ৩০০টি-ভাইরাস পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্সিং করার প্রকল্প গ্রহণ করেন। গবেষণালব্ধ ফল রিসার্চ পেপার আকারে আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হবে। একই সঙ্গে চীন ইউএসএ, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিশ্বের প্রায় ৫০টি কোভিড-১৯ টিকা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানকে এ প্রতিবেদন পাঠানো হয়।

সূত্রঃ বিডিনিউজ২৪ডটকম

২০২১ সালেও দেশের সবাই করোনা টিকা পাবে না

করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) প্রতিরোধে সারা বিশ্ব টিকার দিকে তাকিয়ে আছে। বিশ্বের কয়েকটি দেশ সে টিকার চূড়ান্ত পরীক্ষার মধ্যেই আছে। রাশিয়া এরইমধ্যে একটি করোনা টিকার অনুমোদনও দিয়েছে।

অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও টিকা পাওয়ার অপেক্ষায় আছে। তবে করোনার টিকা বাজারে এলেও বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষকে একসঙ্গে টিকা দেওয়া সম্ভব হবে না। সরকার তা কিনে আনতেও পারবে না। প্রথম ধাপে দেশের পাঁচ শতাংশ মানুষ টিকা পেতে পারে। সে অনুযায়ী ২০২১ সাল শেষ হলেও দেশের সব মানুষ টিকা পাবে না।

বাংলানিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব ডা. মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরী।

বিএমএ মহাসচিব বলেন, কোভিড-১৯ প্রতিরোধে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এ পর্যন্ত ১৪১টি টিকা (ভ্যাকসিন) তৈরির কাজ হচ্ছে। এর মধ্যে ২৫টি টিকা মানুষের ওপর পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হচ্ছে। মাত্র ছয়টি টিকা পরীক্ষামূলক প্রয়োগের তৃতীয় ধাপে আছে। সেগুলোর গবেষণা কবে নাগাদ শেষ হবে বলা যাচ্ছে না। টিকা যদি ডিসেম্বরে বের হয়ে যায়, তা হলেও আমাদের দেশে আসতে আসতে জানুয়ারি কিংবা ফেব্রুয়ারি লেগে যাবে। তাও সবাই প্রথম ধাপে পাবে না।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, আপনি যদি একটি সুড়ঙ্গের মুখে অবস্থান করেন তাহলে এটার শেষ প্রান্ত কোথায় গিয়ে ঠেকেছে সেটা প্রথমেই বলতে পারবেন না। এই সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্তটা সিলেটও হতে পারে, এমনকি ভারতেও হতে পারে। সুড়ঙ্গটা কত লম্বা, সেটা সঠিকভাবে বলা কঠিন। ভ্যাকসিনের ব্যাপারটাও তাই। তারা আগে বলছে, অক্টোবরে এসে যাবে। এখন বলছে ডিসেম্বরে আসবে। কেউ কেউ ভ্যাকসিন ডিসেম্বরেও আনতে পারবেন। তখন আমাদের অবস্থাটা কী হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশে বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৪৫ থেকে ৫০ জনের মৃত্যু হচ্ছে। আমরা যখন পিক টাইমে ছিলাম, তিন মাস আগেও মৃত্যুর সংখ্যা আরও কম ছিল। তাহলে বলতে হয় আমাদের মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। কখন পিক, কোথায় পিক আমরা কিছুই বুঝলাম না। আমরা কোন জায়গায় আছি সে জায়গাটা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কিংবা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে বিজ্ঞানভিত্তিকভাবে বলতে হবে। মিডিয়া এসে সংবাদ সম্মেলন করে ১৬ কোটি মানুষকে জানাতে হবে, সাইন্টিফিকভাবে ডাটা উপস্থাপন করতে হবে এবং সঠিকভাবে বলতে হবে, আমরা কখন পিকে ছিলাম, আমরা এখন কোন অবস্থানে আছি, কিংবা আমরা নিচের দিকে নামছি অথবা আমরা ওপরের দিকে উঠছি।

ডা. মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরী বলেন, বইপত্রে বৈজ্ঞানিকভাবে সেকেন্ড ওয়েভ বলতে কোনো শব্দ নেই। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, আমাদের ঈদের আগে একটা পর্যায়ে ছিল। তখন অনেক মানুষ শহর থেকে গ্রামে গেছেন। ট্রেনে, বাসে চড়েছেন, বাজারে গেছেন, ঈদের কোলাকুলি করেছেন। ঈদের পরে কিংবা পরবর্তী সময়ে এর একটা ইফেক্ট হতে পরে। এটাকে সেকেন্ড ওয়েভ কিংবা থার্ড ওয়েভ বলা যেতে পারে।

তিনি বলেন, বিশ্বের যেসব দেশে করোনার সংক্রমণ কমেছে, তারা ধাপে ধাপে সবকিছু খুলে দিচ্ছে। কিন্তু আমাদের এখানে এখন সবকিছু স্বাভাবিক। আমদের কখন প্রথম ওয়েভ গেল, কখন দ্বিতীয় ওয়েভ আসবে কিছুই বুঝতেছি না।

বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি ও ব্যক্তি পর্যায়ের বিভিন্ন গবেষণা সম্পর্কে মন্তব্য করে বিএমএ মহাসচিব বলেন, এই গবেষণার দিয়ে, এই অল্প সংখ্যক মানুষের ওপর গবেষণা চালিয়ে যদি মনে করে করোনা কমে গেছে, করোনা আটকে ফেলবেন, করোনা চলে গেছে, তাহলে আপনি বোকার স্বর্গে বাস করছেন। করোনাকে এত অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, ৬৪ জেলার ৮ থেকে ১০ লাখ মানুষের তথ্য নিয়ে যদি গবেষণা করা যেত, তাহলে বোঝা যেত বাংলাদেশের সার্বিক অবস্থা। ঢাকা শহরের দুই থেকে চার হাজার মানুষের নমুনা নিয়ে স্টাডি করলে সেটা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ঢাকা জেলার জনসংখ্যা যেখানে দুই কোটি, সেখানে অন্তত দুই লাখ মানুষের নমুনা সংগ্রহ করে স্টাডি করলে প্রকৃত তথ্য উঠে আসত।

সরকারের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার প্রকোপ কমেছে। এ প্রসঙ্গ উল্লেখ করতেই তিনি বলেন, ঢাকা, গত তিন মাসের তথ্য উপস্থাপন করে যদি তারা এ কথা বলতেন, তাহলে মানুষ হয়তো তা বিশ্বাস করতো।

তিনি বলেন, যেখানে উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন দেশ হিমশিম খাচ্ছে। সেখানে আমাদের মন্ত্রী, আমলারা কীভাবে এসব কথা বলেন। দেশে না আছে গবেষণা, না আছে টেস্টিং ফ্যাসিলিটি, না আছে হসপিটাল ফ্যাসিলিটি, না আছে মানুষের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলার ক্ষমতা। তারা একেক জন একেক রকম কথা বলছেন। একজনের কথার সঙ্গে অন্যজনের কথার কোনো মিল নেই। তারা সবাই রাজনীতিবিদদের মতো কথা বলছেন। জাতীয় টেকনিক্যাল কমিটির সদস্যরা যদি সংবাদ সম্মেলন করে কিছু বলতেন, তাহলে কিছু গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হতো। কিন্তু কিছুই হচ্ছে না।

তথ্য সুত্রঃ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

করোনার টিকা পরীক্ষার জোর প্রস্তুতি চলছে

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর চীন থেকে টিকা আনার অনুমতি দিয়েছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশকে (আইসিডিডিআরবি)। আইসিডিডিআরবি করোনার টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ (ট্রায়াল) দ্রুত শুরু করার জন্য জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। পরীক্ষা সফলভাবে শেষ হলে টিকা তৈরির প্রযুক্তি পাবে বাংলাদেশ। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ও আইসিডিডিআরবির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

আইসিডিডিআরবি চীনা কোম্পানি সিনোভ্যাকের টিকার পরীক্ষার সরকারি অনুমতি পায় গত বৃহস্পতিবার। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ওই দিন সচিবালয়ে আনুষ্ঠানিক অনুমতির কথা ঘোষণা করেন। ওই দিন রাতেই ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর চীন থেকে টিকা আমদানির অনুমোদন দেয়।

সাপ্তাহিক ছুটি থাকলেও গত শুক্র ও শনিবার আইসিডিডিআরবির কর্মকর্তারা টিকার কাজে ব্যস্ত ছিলেন বলে একাধিক কর্মকর্তা ও বিজ্ঞানী প্রথম আলোকে জানিয়েছেন। আইসিডিডিআরবি চীন থেকে টিকা আনার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি ও যোগাযোগ শেষ করেছে। এখন টিকা আসার অপেক্ষা। ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে চীন থেকে টিকা আসবে বলে কর্মকর্তারা আশা করছেন।

ঢাকার ৭টি হাসপাতালের ৪ হাজার ২০০ স্বাস্থ্যকর্মীর এই পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা। আইসিডিডিআরবির কর্মকর্তারা এসব হাসপাতাল ইতিমধ্যে ঘুরে দেখেছেন। তবে এসব হাসপাতালে পরীক্ষার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের অনুমতি এখনো আইসিডিডিআরবি পায়নি। কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই সপ্তাহে সেই অনুমতিও পাওয়া যাবে।

আইসিডিডিআরবি সূত্রে জানা গেছে, মাঠপর্যায়ে ২৫০ জন গবেষক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। আজ-কাল নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষে তাঁদের প্রশিক্ষণ শুরু হবে।

আইসিডিডিআরবি চীন থেকে টিকা আনার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি ও যোগাযোগ শেষ করেছে। ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে টিকা আসতে পারে।

প্রশিক্ষিত মাঠ গবেষকেরা স্বাস্থ্যকর্মীদের টিকা দেবেন এবং পরবর্তী কয়েক মাস পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন।

টিকা গবেষণার মুখ্য গবেষক ও আইসিডিডিআরবির জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. কে জামান প্রথম আলোকে বলেন, সুনির্দিষ্ট দিন বলা সম্ভব না হলেও এটুকু বলা যায় যে খুব শিগগির পরীক্ষা শুরু করা হবে।

সূত্রগুলো বলছে, পরীক্ষায় স্বাস্থ্যকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করার কাজ চলবে প্রায় দুই মাস ধরে। এই কাজ শেষ করতে হবে করোনাভাইরাসের সামাজিক সংক্রমণ বজায় থাকা পরিস্থিতিতে। টিকা দেওয়ার পর আরও প্রায় ছয় মাস স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন মাঠ গবেষকেরা।

সিনোভ্যাকের সঙ্গে আইসিডিডিআরবির টিকার পরীক্ষার চুক্তিতে বাংলাদেশ কী সুবিধা পাবে, তার উল্লেখ আছে। চুক্তিতে বলা আছে, টিকার পরীক্ষা সফল হলে সিনোভ্যাক বাংলাদেশকে টিকা তৈরির প্রযুক্তি হস্তান্তর (টেকনোলজি ট্রান্সফার) করবে। সেই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশের কোম্পানি দেশেই টিকা উৎপাদন করতে পারবে। তবে এ রকম কোম্পানি দেশে আছে দুটি। তিন মাস আগে এ বিষয়ে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সঙ্গে ওষুধ কোম্পানি ইনসেপটা ও পপুলারের বৈঠক হয়েছিল।

গত শুক্রবার রাতে পাবলিক হেলথ অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্যদের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলমের বৈঠকে টিকার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকার বিনা মূল্যে ও অল্প মূল্যে টিকা সংগ্রহের জন্য কী কী করছে, তা বৈঠকে আলোচনা হয় বলে সূত্র জানিয়েছে। সরকার সম্ভাব্য সব ধরনের উৎস থেকে টিকা সংগ্রহ ও কেনার চেষ্টা চালাচ্ছে। টিকা সংগ্রহের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ প্রকল্প তৈরির কাজ চলছে।

অন্যদিকে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড (বিপিএল) ও বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেডের (এসআইআই) মধ্যে টিকার বিষয়ে একটি চুক্তি হয়েছে। কোভিড-১৯ টিকার উন্নয়নে এসআইআইয়ে বিনিয়োগ করবে বিপিএল। বেক্সিমকোর পক্ষ থেকে গত পরশু সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বলা হয়, টিকা যখন নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাবে, তখন যেসব দেশ সবার আগে নির্দিষ্ট পরিমাণ টিকা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাবে, তাদের মধ্যে বাংলাদেশকেও অন্তর্ভুক্ত করবে এসআইআই ।

তথ্য সুত্রঃ প্রথম আলো

শাহজাদপুরে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

আজ শুক্রবার (২১ আগস্ট ২০২০) সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পৌরসদরের পারকোলা বাজার সংলগ্ন ইমারত মুন্সী জামে মসজিদের সামনে সালেহা জালাল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে “ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প” অনুষ্ঠিত হয়েছে l

মেডিকেল ক্যাম্পে চারজন এমবিবিএস ডাক্তার বিনামূল্যে গরীব ও অসহায় রোগীদের ফ্রি-চিকিৎসাপত্র ও প্রয়োজনীয় ওষুধ ও মাস্ক বিতরণ করেন l

উক্ত ফ্রি-মেডিকেল ক্যাম্পে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো: শামসুজ্জোহা, মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন হোপ ফাউন্ডেশন ফর উইমেন এন্ড চিলড্রেন অব বাংলাদেশ এর কান্ট্রি ডিরেক্টর কে এম জাহিদুজ্জামান,অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সেনিটারি ইন্সপেক্টর গাজী মো: নাজিম উদ্দিন, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেনিটারি ইন্সপেক্টর শফিউল হাসান লাইফ, রিজেন্ট এয়ারওয়েজ কর্মকর্তা কে এম জাফর উজ্জামান, সহকারী অধ্যাপক এস এম রফিকুল ইসলাম, মাদ্রাসা সুপার মো: শরীফুল ইসলাম, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী মনিরুল গনি চৌধুরী শুভ্র প্রমুখ।

উক্ত মেডিকেল ক্যাম্পের সার্বিক সমন্বয় করেন সালেহা জালাল ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব ও বিশিষ্ট সমাজ সেবক মীর সামিউল ইসলাম সমীর।

টেস্ট না করেই করোনা ইউনিটে ভর্তি, ১৯ ঘণ্টায় বিল ৭১ হাজার!

করোনা উপসর্গ নিয়ে নড়াইল থেকে খুলনায় চিকিৎসার জন্য আসেন নজরুল ইসলাম (৬৫)। নেওয়া হয় বেসরকারি গাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

রোগী দেখে পরীক্ষা না করেই ভর্তি করা হয় করোনা ইউনিটে। আর ১৯ ঘণ্টা অতিবাহিত হতে না হতেই অক্সিজেন দেওয়ার বিল করা হয় ৫৬ হাজার ৪শ ও বেড ভাড়া ১৫ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে ৭১ হাজার ৪শ হাজার টাকা। তবে ডাক্তার বাঁচাতে পারেননি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পরিচালক নজরুল ইসলামকে।

গাজী মেডিক্যালের এমন বিলে চরম ক্ষুব্ধ নড়াইল সদরের বাধাল এলাকার নজরুল ইসলামের পরিবার।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে মৃত নজরুল ইসলামের স্ত্রী লড়াইল সদরের সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নাসরিন আক্তার বাংলানিউজকে বলেন, আমি শতভাগ নিশ্চিত ওনার করোনা হয়নি। আমরা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর ডিউটি ডাক্তার বলেন তারা ধারণা করছেন আমার স্বামী করোনা আক্রান্ত। তখন আমরা তাকে বলি ওনার এক বছর ধরে কাশি ও ফুসফুসে সমস্যা ছিল। উনি করোনা রোগী তা আপনারা কিভাবে বুঝলেন? আগে আমাগদের কেবিন দেন। এরপর টেস্ট করলে যদি করোনা হয় তাহলে আমরা করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি করবো।

কিন্তু ডিউটি ডাক্তার কোনো কথা শুনতে রাজি হন না। তিনি বলেন, এটা আমাদের মালিকের হুকুম তাকে করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি করতে হবে। তখন আমরা অসহায়ের মতো তাদের কথা মেনে করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি করি। এরপর আমাদের জানানো হয় বিভিন্ন টেস্ট ও ওষুধ বাবদ প্রতিদিন ২০ হাজার টাকার মতো বিল হবে। আমি ওখানে ভর্তি করে ভাবলাম এ কোথায় নিয়ে এলাম। এরপর এ-ওষুধ সে-ওষুধ এনে দিতে বলেন। আমার স্বামী আমার কাছে আপেল খেতে চাইলো আমি দিলাম। এরপর ওরা কি ওষুধ দিল। তিনি অক্সিজেন মাস্ক খুলে ফেলে ছটফট করতে থাকেন। পরে মারা যান।

তিনি জানান, হাসপাতাল থেকে একদিনেরও কম সময়ে ৭১ হাজার ৪শ টাকার বিল ধরিয়ে দেয়। পরে কমিয়ে আমাদের কাছ থেকে নেয় ৬৮ হাজার টাকা।

নজরুল ইসলামের ছোট ভাই অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম বাবলু অভিযোগ করে বাংলানিউজকে বলেন, আমার ভাই নজরুল ইসলাম অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ১৫ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় নড়াইল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনার গাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসি। কিন্তু ভাই করোনা আক্রান্ত কিনা তা পরীক্ষা না করেই তাকে করোনা ইউনিটে ভর্তি করা হয়। ওই ইউনিটে কোনো সিনিয়র চিকিৎসক ছিলেন না। সদ্য যোগ দেওয়া জুনিয়র একজন চিকিৎসক রোগী দেখেন।

তিনি জানান, ১৬ আগস্ট দুপুর ১টা ৫০ মিনিটের দিকে তার ভাই মারা যান। মৃত্যুর পর ওষুধ ছাড়া অন্য বিল করা হয় ৭১ হাজার ৪শ টাকা। এর মধ্যে বেড ভাড়া দেখানো হয়েছে ১৫ হাজার টাকা। অথচ যে রুমে তার ভাইকে রাখা হয়েছিল, সেখানে মোট ৮ জন রোগী ছিল। ৮ জন রোগীর রুমে থাকা এক রোগীর বেড ভাড়া ১৫ হাজার টাকা হয় কীভাবে?

অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম বাবলু অভিযোগ করেন, মাত্র ১৯ ঘণ্টা অক্সিজেন দেওয়ার বিল করা হয়েছে ৫৬ হাজার ৪শ টাকা। এছাড়া ওষুধের বিল হয়েছে আলাদাভাবে ২৭ হাজার টাকা, যেটা এর বাইরে আমরা কিনেছি। গাজী মেডিক্যাল চিকিৎসার নামে বাণিজ্য করছে। শেষ পর্যন্ত ভুল চিকিৎসায় আমার ভাই মারাও গেছে।

তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং খুলনা চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক জোবায়ের আহমেদ খান জবা বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তার স্ট্যাটাসের নিচে গাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে অনেকেই মন্তব্য করেছেন।

এ ব্যাপারে খুলনার সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহমেদ বলেন, করোনা পরীক্ষা না করে কোনো রোগীকে করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি করা অন্যায় কাজ। এছাড়া এত অল্প সময়ে অক্সিজেন দেওয়ার জন্য ৫৬ হাজার টাকা বিল করার বিষয়টিও অস্বাভাবিক।

রোগীর স্বজনরা সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রসহ লিখিত অভিযোগ দিলে তারা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন বলে জানান।

এ ব্যাপারে গাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. গাজী মিজানুর রহমান জানান, ওই রোগীকে আনার পর সিটি স্ক্যান করে দেখেন তার ফুসফুসের বেশিরভাগ অংশই ড্যামেজ হয়ে গেছে। সে কারণে দ্রুত তাকে অক্সিজেন দেওয়ার প্রয়োজন হয়। তাকে হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা দিয়ে অক্সিজেন দেওয়া হয়েছে। যে পরিমাণ অক্সিজেন ও ওষুধ দেওয়া হয়েছে তার বিলই করা হয়েছে। কোনো বাড়তি বিল করা হয়নি।

তিনি বলেন, হাসপাতালে সিনিয়র-জুনিয়র সব ধরনের চিকিৎসকই চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। যেহেতু তার শ্বাসকষ্ট ছিল সে কারণে করোনা সন্দেহভাজন রোগী হিসেবেই তাকে ওই ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। রোগীর মৃত্যুর পর শোকে-কষ্টে তার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ করছে, যা সঠিক নয়।

গাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বিরুদ্ধে বিগত দিনেও পাহাড় সমান অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী রোগীদের অভিযোগ, প্রয়োজন না হলেও রোগীকে আইসিইউতে রেখে মোটা অংকের অর্থ আদায়ের প্রমাণ, প্যাথলজি রিপোর্টে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরিবর্তে টেকনিশিয়ানের স্বাক্ষর, মেয়াদোত্তীর্ণ রি-এজেন্টসহ (প্যাথলজি পরীক্ষার কেমিকেল) নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছে।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে ২০১৬ সালের ১২ অক্টোবর র‌্যাব-১ ও র‌্যাব-৬ এর যৌথ অভিযান শেষে ১০ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ডা. গাজী মিজানসহ পাঁচজনকে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তাকে র‌্যাব-৬ এর সদর দফতরে নিয়ে চার ঘণ্টা আটক রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সব অপকর্মের সত্যতা স্বীকার করে লিখিত মুচলেকা দিয়ে কোনো রকমে ছাড়া পান আলোচিত গাজী মিজান।

ফলোআপ : -চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত পৌরবাসী


শাহজাদপুর পৌরসভার ডাঃ লিয়াকতের দ্বৈত চাকরি

সিরাজগঞ্জের প্রথম শ্রেণির শাহজাদপুর পৌরসভার ডাঃ লিয়াকত আলী একসঙ্গে চাকরি করছেন দুই স্থানে। ফলে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন পৌর এলাকার রোগীরা। ডাঃ লিয়াকত আলী পৌরসভায় নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই অফিস ফাঁকি দিয়ে অন্যত্র প্রাকটিস চালিয়ে আসছেন। তিনি শাহজাদপুর পৌরসভায় চাকরি করার পাশাপাশি সিরাজগঞ্জ নর্থ বেঙ্গল মেডিক্যেল কলেজ হাসপাতালেও চাকরি করছেন । সেখানে তিনি ক্লাস নিচ্ছেন । তিনি পৌরসভায় এসেই কিছু রোগী দেখেই পাশর্^বর্তী বেসরকারি বাধন হাসপাতাল এবং রংধনু হাসপাতালে রোগী দেখার জন্য চলে যান। সেখানে তিনি রোগী দেখার ফি বেশি পান বলেই পৌরসভায় রোগী না দেখে প্রাইভেট হাসপাতালে রোগী দেখেন এবং পৌরসভায় আগত রোগীদের সেখানে রেফার্ড করেন বলে অনেকেই মনে করেন। পৌরসভায় তিনি ঠিকমত ডিউটি না করলেও প্রতিমাসে নির্ধারিত ৬২ হাজার টাকা বেতন নিতে কখনও ভুল করেন না।
বিজ্ঞ মহলের মতে, ‘শাহজাদপুর পৌরসভায় চাকরি করেও অফিস টাইমে কিভাবে এতদিন পাশর্^বর্তী ২টি বেসরকারি ক্লিনিকে প্রাকটিস চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সিরাজগঞ্জ নর্থ বেঙ্গল মেডিক্যেল কলেজ হাসপাতালেও শিক্ষকতা করছেন, তা বোধ্যগম্য নয়। বিষয়টি অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তপূর্বক যথাযথ ব্যবস্থাগ্রহণ করা উচিত।’

সপ্তাহে ৩ দিন বাইরে প্রাকটিস করেও পৌরসভার ৬২ হাজার টাকা বেতন নিচ্ছেন


শাহজাদপুর পৌরসভার ডাঃ লিয়াকতের বিরুদ্ধে দায়িত্বে চরম অবহেলার অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের প্রথম শ্রেণির শাহজাদপুর পৌরসভার ডাঃ লিয়াকতের বিরুদ্ধে দায়িত্বে চরম অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। পৌরসভার স্বাক্ষর বহিতে নিয়মিত স্বাক্ষর ক্েরই তিনি খেয়াল খুশি মতো বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়মিত রোগী দেখছেন। ফলে পৌরসভায় চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীরা ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা পর ডাক্তারকে না পেয়ে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে ঘরে ফিরছেন। দেখার কেউ নেই।

জানা গেছে, ডাঃ লিয়াকত আলী শাহজাদপুর পৌরসভায় চিকিৎসক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই চরম অনিয়ম করে আসছেন। মাসের সিংহভাগ দিনেই তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলেও বেতন প্রদানের দিনে যথাসময়েই উপস্থিত হয়ে ৬২ হাজার টাকা বেতন তোলেন। পৌরবিধি মোতাবেক সপ্তাহের ৫ দিন অফিস টাইম সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত রোগীদের সেবা দেয়ার কথা থাকলেও পৌরবিধির প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে সপ্তাহের ২ দিন মাত্র ১ ঘন্টা করে দোর্ন্ডন্ড দাপটের সাথে তিনি অফিস করেন। নিয়মিত তিনি রোগী না দেখলেও স্বাক্ষর বহিতে নিয়মিতই স্বাক্ষর করেন। ডাঃ লিয়াকত স্থানীয় হওয়ায় উর্ধতন কর্তৃপক্ষও তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায়না।
পৌরসভায় চিকিৎসাসেবা নিতে আসা বেশ কয়েকজন রোগী ও পৌরসভার স্টাফ সূত্রে জানা গেছে, পৌর এলাকার রোগীদের জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রদানের লক্ষ্যে গত ২০১৬ সালের ৭ আগষ্টে ডাঃ লিয়াকত আলীকে নিয়োগ দেয়া হয়। কাজে যোগদানের পর থেকেই ডাঃ লিয়াকত পৌরবাসীকে স্বল্প খরচে চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত করে বাড়তি আয়ের আশায় কর্মস্থল ত্যাগ করে প্রায় ৫’শ গজের মধ্যের বেসরকারি বাঁধন হসপিটালে সপ্তাহের রোব, সোম ও মঙ্গলবার সকাল ১০ টা থেকে রাত ১০ টা ও সন্নিকটে থানারঘাট এলাকার নিউ রংধনু হাসপাতাল ডায়াগনস্টিক কনসালটেশন লিঃ এ প্রতি সপ্তাহের সোম ও মঙ্গলবার সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত নিয়মিত রোগী দেখে আসছেন।
শাহজাদপুর পৌরসভার চিকিৎসক হয়ে দায়িত্ব কর্তব্যে চরম অবহেলা করে পৌর এলাকার ২টি বেসরকারি প্রাইভেট ক্লিনিকে ৩ পূর্ণদিবস কিভাবে রোগী দেখেন?- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ডাঃ লিয়াকত আলী বলেন, ‘পৌরসভা ঠিকমতো বেতন না দেয়ায় বাধ্য হয়ে অনত্র ডিউটি করছি।’
এ বিষয়ে শাহজাদপুর পৌরসভার সচিব মোঃ মনসুর আলম বলেন, ‘ডাঃ লিয়াকত আলীর অফিস ফাঁকির বিষয়ে জেনেছি। আমি বাইরের মানুষ, নতুন এসেছি। ডাঃ লিয়াকত আলী স্থানীয় হওয়ায় তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে বিলম্ব হচ্ছে। তার পরেও মেয়রের সাথে কথা বলে ডাঃ লিয়াকত আলীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করার চেষ্টা করবো।’
অপরদিকে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শাহজাদপুর পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র আব্দুর রাজ্জাক মুঠোফোনে জানান, ‘ডাঃ লিয়াকত আলীর এ সংক্রান্ত অভিযোগ পেয়ে তাকে সতর্ক করে দিয়েছি। সেইসাথে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থাগহণের জন্য সচিবকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

১২ অগস্ট আসছে বিশ্বের প্রথম করোনা ভ্যাকসিন

ভ্যাকসিন এলেই মিলবে করোনা থেকে মুক্তি। এমন আশায় বসে আছেন গোটা বিশ্বের মানুষ। এরই মধ্যে সুখবর দিল রাশিয়া। রাশিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দাবি, বিশ্বের প্রথম করোনা ভ্যাকসিন আসছে ১২ অগস্ট। রাশিয়াতেই তৈরি হয়েছে সেই ভ্যাকসিন

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে এই ভ্যাকসিন তৈরি করেছে গামালেয়া রিসার্চ ইনস্টিউট। গতকাল শুক্রবার (৭ আগস্ট) একথা জানিয়েছেন সে দেশের উপস্বাস্থ্যমন্ত্রী ওলেগ গ্রিডনেভ। তিনি বলেন, সাফল্যের সঙ্গে এটি লঞ্চ করা হলে, এটিই হবে বিশ্বের প্রথম করোনা ভ্যাক্সিন।

আপাতত এই ভ্যাকসিনের তৃতীয় বা শেষ পর্যায়ের ট্রায়াল চলছে। মন্ত্রী বলেন, চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও বয়স্ক লোকদের আগে এই ভ্যাক্সিন দেওয়া হবে।
এর আগে জানানো হয়, মস্কোর তরফ থেকে পরিকল্পনা করা হয়েছে যে, অক্টোবরেই ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। ম্যাস ভ্যাকসিনেশন অর্থাৎ বহু মানুষকে একসঙ্গে ভ্যাকসিন দেওয়ার পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। রাশিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মিখাইল মুরাশকো এমনটাই জানিয়েছিলেন।

খবর অনুযায়ী, গামালেয়া ভ্যাকসিন শর্তসাপেক্ষে াগস্টে নথিভুক্ত করা হবে। এর অর্থ হলো ব্যবহারের জন্য অনুমতি দেওয়া হচ্ছে তবে পাশাপাশি তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা-নিরীক্ষা কাজ চলবে। ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল যতদিন না সম্পূর্ণ হচ্ছে ততদিন তা শুধুমাত্র চিকিৎসকরাই সেটা নিয়ন্ত্রণ করবে।

যদিও বিজ্ঞানী এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছে তাড়াহুড়ো করে ভ্যাকসিন বের করার ব্যাপারে। তারা চাইছেন, নিরাপত্তা এবং কার্যক্ষমতার ব্যাপারে নিশ্চিত না হয়ে ব্যবহারের জন্য অনুমোদন করা উচিত নয়।

রাশিয়ান ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (আরডিআইএফ) প্রধান ক্রিমিল দিমিত্রিভ আগেই জানিয়েছিলেন, প্রথম দেশ হিসেবে রাশিয়া তাদের করোনা টিকা বাজারে আনবে। এ ব্যাপারে ক্রিমিল দিমিত্রিভ বলেছিলেন, স্পুতনিকের মহাকাশ যাত্রা দেখে মার্কিনীরা যেমন অবাক হয়েছিল। একই ঘটনা ঘটবে করোনা টিকার ক্ষেত্রেও। বিশ্ববাসী অবাক হয়ে রাশিয়ার সাফল্য দেখবে।

বিডি-প্রতিদিন

দেশে ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৫০, আক্রান্ত ১৯১৮

ফাইল ছবি

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে আরও ১ হাজার ৯১৮ জনের দেহে। এ নিয়ে দেশে মোট শনাক্ত হলেন ২ লাখ ৪৪ হাজার ২০ জন। এছাড়া গেল ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৪৪, নারী ৬ জন। দেশে এখন পর্যন্ত করোনায় মোট ২৫৪৯ জন পুরুষ মারা গেছেন, নারী মারা গেছেন ৬৮৫ জন। মৃতের হার ১ দশমিক ৩৩ শতাংশ। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে কোভিড-১৯ সম্পর্কিত নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

তিনি বলেন, শনাক্তের হার ২৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ। এখন পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৩১ শতাংশ। দেশে মোট করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৪৪ হাজার ২০ জনে। এদিকে আরও ১৯৫৫ সুস্থ হয়েছেন। এ নিয়ে মোট এক লাখ ৩৯ হাজার ২৫৩ জন সুস্থ হলেন। সুস্থতার হার ৫৭ দশমিক ৩১ শতাংশ।

এর একদিন আগে সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে আরও ৪ হাজার ২৪৯ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১ হাজার ৩৫৬ জনের দেহে করোনা শনাক্ত এবং আক্রান্তদের মধ্যে আরও ৩০ জনের মৃত্যুর খবর দেয় স্বাস্থ্য অধিদফতর।

এদিকে পরিসংখ্যানবিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়ের্ল্ডোমিটারসের তথ্যমতে, সোমবার সকাল পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৬ লাখ ৯৭ হাজার ৭০০ জনের এবং আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৮৪ লাখ ৫৬ হাজার ৬৮২ জনের। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ কোটি ১৬ লাখ ৯০ হাজার ৬৭২ জন।

গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হয়। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২১৫টি দেশে ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে কোভিড-১৯।

বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনা ভাইরাসের রোগী শনাক্ত হলেও প্রথম মৃত্যুর খবর আসে ১৮ মার্চ। দিন দিন করোনা রোগী শনাক্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ায় নড়েচড়ে বসে সরকার। ভাইরাসটি যেন ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য ২৬ মার্চ থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হয় সব সরকারি-বেসরকারি অফিস। কয়েক দফা বাড়িয়ে এ ছুটি ৩০ মে পর্যন্ত করা হয়। ছুটি শেষে করোনার বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যেই ৩১ মে থেকে দেশের সরকারি-বেসরকারি অফিস খুলে দেয়া হয়। তবে বন্ধ রাখা হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।