বহু অপকর্মের নায়ক বাবুলের হাত থেকে পরিত্রাণে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা


কে এই বাবুল ?

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) থেকে মোঃ আবুল কাশেম ও শামছুর রহমান শিশির : কে এই বাবুল? শাহজাদপুরের লোকের মুখে মুখে এই প্রশ্ন। র‌্যাব, ডিবি ও পুলিশের কথিত সোর্স পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা, ডাকাতি করা, চুরি, ইভটিজিং, জুয়া খেলা, সুদের কারবার, নারীদের দিয়ে অবৈধ দেহ ব্যবসা করানো, মামলা তদবিরের নামে প্রতারণা করে টাকা আদায়, ইসলামী শরিয়াহ না মেনে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে বহুবিবাহ করা, নিরীহ ব্যক্তিদের নানা কৌশলে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়, তার পালিত যুবতী মেয়েদের দিয়ে কৌশলে এলাকার নিরীহ ব্যক্তিদের ফাঁদে ফেলে তাদের আটক করে মোটা অংকের অর্থ আদায়সহ শাহজাদপুরে বছরের পর বছর সীমাহীন অপকর্ম করে চলেছে এই বাবুল।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের মাদলা গ্রামের নুরুল ইসলাম ওরফে নূরাল ফারাজীর ছেলে এই বাবুল আকতার (৪০)। শুরুতে সে ছিলো শাহজাদপুর কাপড়ের হাটের গাঁইট বহনকারী কুলি শ্রমিক। গাঁইট বহন করা টাকা উপার্জনই ছিলো তার জীবন জীবীকার একমাত্র পথ। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সে এক পর্যায়ে দৌলদিয়া নিষিদ্ধ পল্লীতে যাতায়াত শুরু করে। এ সুবাদে বিভিন্ন যৌনকর্মীদের সাথে তার সখ্যতা গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে ওই সখ্যতার সূত্র ধরে বিভিন্ন যৌনকর্মীদের চুক্তির ভিত্তিতে এলাকায় নিয়ে এসে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে রেখে ও নিজেও বাসা ভাড়া নিয়ে সেখানে দেহব্যবসা করাতো। অসংখ্যবার জুয়া খেলার অপরাধে শাহজাদপুর থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে জেল খেটেছে এই বাবুল। গত ২০১২ সালে বগুড়া-নগরবাড়ি মহাসড়কের বাস ডাকাতি করার অপরাধে গ্রেফতার হয়ে জেলও খেটেছে ওই বাবুল। গত ২০১৪ সালে ইভটিজিংয়ের অপরাধে ভ্রাম্যমান আদালতে বাবুলের জেল হয়। সে সাজাও খেটেছে সে। গত ২০১৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি র‌্যাব-১২ এর সদস্যরা সলঙ্গা এলাকা থেকে বাবুলকে হেরোইন, ইয়াবা, মোটরসাইকেলসহ আটক করে সলঙ্গা থানা পুলিশে সোপর্দ করে। এ ঘটনায় সলঙ্গা থানায় বাবুলের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে নিয়মিত মামলা রুজ্জু হয়। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন পরিচয়ে এই প্রতারক বাবুল এলাকার সাধারণ মানুষকে নানা প্রতারণার ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায় করে থাকে। নিজের হেফাজতে থাকা মাদকদ্রব্য কৌশলে কারও বাড়ি বা দোকানে বা অন্যের হেফাজতে নিজ কৌশলে রেখে এসে পরবর্তীতে তাদেরকে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেয়ার ভয় দেখিয়ে এই বাবুল মোটা টাকা আদায় করেছে-এমন বহু নজির এলাকায় রয়েছে। এলাকাবাসী এই বহুমূখী প্রতারকের হাত থেকে রক্ষা পেতে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

শাহজাদপুরে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আওয়ামীলীগের বর্ণাঢ্য র‍্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আজ সোমবার সকালে ১৬ই ডিসেম্বর ২০১৯ মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের উদ্বোগে এক বিশাল বর্ণাঢ্য র‍্যালী ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।প্রথমে শাহজাদপুর সরকারি কলেজ শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় । পরে সকাল উপজেলার সর্বস্তরের নেতা- কর্মীরা পৌরসদরের দ্বারিয়াপুর হাফিজের গ্যারেজে সমবেত হয়। সেখানে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয় । এ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ হাসিবুর রহমান স্বপন।এ ছারা বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক উপজেলা চেয়ারম্যান প্রফেসর আজাদ রহমান, আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি শফিকুর রহমান শফি, সাঙগঠনিক সম্পাদক শামসুল আলম,, পৌর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আমিরুল ইসলাম শাহু, যুবলীগ নেতা কামরুল হাসান হিরোক, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক মোঃ রাসেল সেখ প্রমূখ।আলোচনা সভা শেষে এক বিশাল বর্ণাঢ্য র‍্যালী বের হয়। র‍্যালীটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে আওয়ামীলীগ অফিসে এসে শেষ হয়।

সলঙ্গায় প্রতিবেশীর ধর্ষণে পঞ্চম শ্রেনির ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় প্রভাবশালী প্রতিবেশীর দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়ে পিতৃহীন পঞ্চম শ্রেণীর এক ছাত্রী (১২) পাচঁ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে। ঘটনাটি থানার চকচৌবিলা গ্রামে ঘটেছে। বিষয়টি প্রকাশের পর থেকে এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এলাকাবাসি সূত্রে জানাযায়,কয়েক বছর আগে ৩টি কন্যা সন্তান রেখে মারা গেছে উল্লেখিত কিশোরীর বাবা। মায়ের শ্রমিকের কাজের আয় দিয়ে চলে তাদের সংসার। স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় পঞ্চম শেনিতে পড়া লেখা করে সে। মাদ্রাসা ক্লাস শেষে বাড়িতে একা থাকতো ওই কিশোরী। এ সুযোগে ৭/৮ মাস আগে পাশের বাড়ির চান আলীর (কেরু) শিক্ষিত লম্পট ছেলে আকরাম হোসেন ওই ছাত্রীকে একাপেয়ে ধর্ষণ করে। বিষয়টি প্রকাশ করতে চাইলে বিয়ের প্রলোভন দেয়া হয়। এর পরেও অনেকবার ধর্ষণ করা হয় ওই কিশোরীকে। ফলে এখন সে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ঘটনাটি প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই পলাতক রয়েছে লম্পট আকরাম হোসেন। নানা ভাবে চাপ দেয়া হচ্ছে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য। কিশোরীর পরিবারকে দেখানো হচ্ছে ভয়ভীতিসহ অর্থের প্রলোভন। গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্যও চাপ দেয়া হচ্ছে। পিতৃ পরিচয়ের দাবীতে সমাজের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছে কিশোরীর পরিবার।
সলঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান সরকার কিশোরীর অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সলঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তাজুল হুদার সাথে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,এ বিষয়ে থানায় কোন অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বগুড়া- নগরবাড়ি মহাসড়কের চোরাগোপ্তা গর্ত যাত্রীদের জন্য মরণফাঁদে পরিণত!

শাহজাদপুর সংবাদ ডটকম, শামছুর রহমান শিশির, বৃহষ্পতিবার, ৯ আগষ্ট ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দ : বগুড়া -নগরবাড়ি মহাসড়কের নেই হার্ড শোল্ডার (বর্ধিত ৩ ফুট রাস্তা)। বৃষ্টিপাতে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে দু’পার্শ্বে সৃষ্টি হয়েছে মরণফাঁদ নামের চোরাগোপ্তা গর্ত! ফলে শাহজাদপুরসহ উত্তরাঞ্চল, পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লাখ লাখ যাত্রীরা প্রতিনিয়ত তীব্র জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই মহাসড়কের ওপর দিয়ে চলাচল করছে । এ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে সড়কের দুইপাশে হার্ড শোল্ডার না থাকায় দ্রতগামী যানবাহনের চালকেরা কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থায় যানবাহনের নিয়ন্ত্রন হারিয়ে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ছেন। জনগুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম এ মহাসড়ক সংস্কার করার সময় ‘হার্ড শোল্ডার’ বাদ রাখা হচ্ছে। জরুরী ভাবে চোরাগোপ্তা গর্তগুলো ভরাট না করায় এ অঞ্চলবাসীর যানমালের ক্ষয়ক্ষতির শংকাও বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, হার্ড শোল্ডার মূলত মহাসড়কের ব্যস্ততার মাত্রার ওপর নীর্ভর করে নির্মাণ করা হয়। মহাসড়কের যে অংশ যত বেশী ব্যস্ত সে অংশের প্রশস্ততাও আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি করা হয়। সার্বিক গুরুত্ব বিবেচনায় বগুড়া -নগরবাড়ি মহাসড়কে হার্ড শোল্ডার নির্মাণ ও মরণফাঁদ নামের চোরাগোপ্তা গর্তগুলি ভরাট অতীব জরুরী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ মহাসড়কের হার্ড শোল্ডার নির্মানের জন্য বার বার প্রস্তাবনা দেওয়া হলেও তা অনুমোদন না হওয়ায় কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না । এভাবে যতবারই হার্ড শোল্ডারের প্রস্তাবনা প্রেরণ করা হয়েছে, ততবারই হার্ড শোল্ডার কেটে বাদ দিয়ে প্রস্তাবনাকৃত প্রকল্প অনুমোদন দেয়ায় তা নির্মাণ সম্ভব হয়নি। বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট গর্তগুলিও ভরাট করা হয়নি। এসব কারণে ওই মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে সড়ক দুর্ঘটনায় মাত্রাও অতীতের তুলনায় বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, রিক্সা ভ্যানসহ ছোটখাটো হালকা যানবাহন চলাচলের জন্য হার্ড শোল্ডারবিহীন ২৪ ফুট প্রশস্ত এ ব্যস্ততম জনগুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে দুটি যানবাহন পাশাপাশি চলাচল ও ওভারটেকিংয়ে দুর্ঘটনার বেশ ঝুঁকি থেকে যায়। ২৪ ফুট প্রশস্ত ওই মহাসড়কের অনেক স্থানেই একপার্শ্বে ৩ ফুট ও অপর পার্শ্বে ৩ ফুট করে রিক্সাভ্যান চলাচলের জন্য অতিরিক্ত যায়গা (হার্ড শোল্ডার) না থাকায় শত শত যাত্রীবাহী ও পন্যবাহী যানবাহন চালক ও লাখ লাখ যাত্রীদের ঝুঁকি নিয়ে এ মহাসড়কে চলাচল করতে হচ্ছে। এছাড়া সংস্কারের অভাবে বগুড়া -নগরবাড়ি মহাসড়কের শাহজাদপুর অংশসহ উত্তরাঞ্চলার বিভিন্ন পয়েন্টে নজিরবিহীন খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এতে যাত্রীদের পোহাতে হচ্ছে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ- প্রতিনিয়ত সন্মুখীন হতে হচ্ছে নানা দুর্গতির। এছাড়া এ মহাসড়কের বিভিন্ন বাসষ্ট্যান্ড ও মিনি বাসষ্ট্যান্ডে এলোমেলোভাবে সেখানে বাস, মিনিবাস, ট্রাক, কাটা মাইক্রো, সিএনজি টেম্পু, অবৈধ ফিটনেস বিহীন নছিমন-করিমন দাঁড় করিয়ে রাখায় এ মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী দ্রুতগামী সব ধরনের যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা প্রতিনিয়ত নানা বিড়ম্বনায় পড়ছেন। এদিকে, ওই মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে হার্ড শোল্ডার না থাকায় অপরাধীদের ধরতে আইন শৃংখ্যলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বেশ বেগ পোহাতে হচ্ছে। দেখার কেউ নেই, নেই জনদুর্ভোগ লাঘবেরও কেউ- এমনটাই ভূক্তভোগী যাত্রীসাধারণের অাক্ষেপ!
বগুড়া- নগরবাড়ি মহাসড়কে চলাচলকারী বেশ কয়েকজন পরিবহন মালিক, যানবাহন চালক ও যাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এ মহাসড়কের ওপর দিয়ে সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, পাবনা, ঢাকাসহ উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের শত শত যাত্রীবাহী ও পন্যবাহী বিভিন্ন ধরনের যানবাহন নিয়মিত চলাচল করছে। এ মহাসড়কের শাহজাদপুরের অন্তর্ভূক্ত বিন্নাদাইর, বাঘাবাড়ী, নুকালী, দিলরুবা বাসষ্ট্যান্ড ও বিসিক বাসষ্ট্যান্ড, পাড়কোলা বাজার,
যুগনীদহ এলাকা, সরিষাকোল বাসষ্ট্যান্ড, গাড়াদহ বাসষ্ট্যান্ড, তালগাছী বাসষ্ট্যান্ড, গাড়াদহ, উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ী, কাঠালতলা, আরএস ষ্টেশন, শ্যামলীপাড়া, শ্রীকোলা, পূর্বদেলুয়া, বোয়ালিয়াসসহ ওই মহাসড়কের সিংহভাগ স্থানেই হার্ড শোল্ডার নেই। অত্যন্ত ব্যস্ততম এ মহাসড়কে চলাচলকারী দুরপাল্লার ভারী যানবাহন ছাড়াও শত শত অবৈধ লছিমন-করিমন, ভটভটি, হিউম্যান হলার, কাটা-মাইক্রো, ব্যাটারি চালিত ইজিবাইকের কোনরূপ বিআরটিএ’র রেজিষ্ট্রেশান,ফিটনেস সার্টিফিকেট, ইনস্যুরেন্স ও ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়াই নিয়মিত চলাচল করছে। ওইসব যানবাহনের সংখ্যা দিনদিন বদ্ধি পাওয়ায় বগুড়া- নগরবাড়ি মহাসড়কের বিভিন্ন ধরনের যাত্রীবাহী ও পন্যবাহী যানবাহন চালনায় ঝুঁকি ও সড়ক দুর্ঘটনার হার বেড়ে চলেছে। এর নেপথ্যের কারণ হিসাবে চালকেরা মহাসড়কে সৃষ্ট মরণফাঁদ নামের সৃষ্ট চোরাগোপ্তা গর্ত ও হার্ড শোল্ডার না থাকাকেই প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বিজ্ঞ মহলের মতে, ‘জনগুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম বগুড়া- নগরবাড়ি মহাসড়কের দু’পার্শ্বের বিভিন্ন পয়েন্টে চলতি বছরের বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট চোরাগোপ্তা গর্ত অবিলম্বে ভরাট, সৃষ্ট খানা-খন্দ জরুরীভাবে ভরাট, হার্ড শোল্ডার নির্মাণ, অসংখ্য ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক সংলগ্ন স্থানে আগাম সতর্কতামূলক দিক নির্দেশনামূলক সাংকেতিক চিহ্ন সম্বলিত সাইনবোর্ড স্থাপন, সর্বোচ্চ গতিবেগের ওপর নিয়মিত নজরদারীর সুব্যবস্থা নিশ্চিত এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ওই মহাসড়কের সাথে সংযুক্ত শত শত পার্শ্ব সড়ক সংযোগস্থলে স্পীডবেকার বা গতিরোধক তৈরি করে দেওয়া হলে একদিকে যেমন মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার হার রেকর্ড পরিমান হৃাস পাবে,অন্যদিকে অতীব জনগুরুত্বপূর্ণ বগুড়া- নগরবাড়ি মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী ঢাকাসহ পূর্বাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল, উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চরের লাখ লাখ লোকের জানমালের ক্ষয়ক্ষতির হার রেকর্ড পরিমানে কমে যাবে। এ অঞ্চলের পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও যাত্রী সাধারনের জীবনের ঝুঁকি রেকর্ডহারে কমিয়ে আনতে এবং অপূরণীয় অনাকাঙ্খিত বিপর্যয় ও ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি উচ্চমাত্রায় হ্রাসে সংশ্লিষ্টদের এখনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ অতীব জরুরী হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

শাহজাদপুরসহ যমুনার তীরবর্তী উত্তরাঞ্চলে তীব্র শীতে বিপর্যস্থ জনজীবন

শামছুর রহমান শিশির/ফারুক হাসান কাহার : যমুনা নদী তীরবর্তী শাহজাদপুর উপজেলার ৪ টি ইউনিয়নসহ এর পার্শ্ববর্তী এলাকার অসহায় উদ্বাস্তুরা শৈতপ্রবাহের তীব্র শীতে অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। শীতবস্ত্রের অভাবে রীতিমতো তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। যমুনা নদীর তীরবর্তী ফাঁকা এলাকাগুলোতে সজোড়ে কনকনে হাওয়া বইতে শুরু করায় শীতের তীব্রতা দুর্যোগ রূপ ধারণ করছে। গত ২/৩ দিন ধরে এ অবস্থা আবারোও শুরু হয়েছে। অর্থাভাবে হাজার হাজার উদ্বাস্তু পরিবারের এসব সদস্যরা খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের ব্যার্থ চেষ্টা চালাচ্ছে। সহায় সম্বলহীন এসব ভাগ্যবিড়ম্বিত এলাকাবাসীর মধ্যে সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তি উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিরতণ অতীব জরুরী হয়ে পড়েছে। শীতে শাহজাদপুরসহ যমুনা তীরবর্তী পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে জনজীবনে বিপর্যয় নেমে এসেছে। ফলে এদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ছন্দপতন ঘটেছে।
গতকাল যমুনা তীরবর্তী জামিরতা, কাশিপুর, জগতলা পরিদর্শন করে ও যমুনা তীরবর্তী পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যমুনা নদী তীরবর্তী শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরী, জামিরতা, জগতলা, কাশিপুরসহ যমুনা নদী তীরের গাবতলী, সারিয়াকান্দি, সরিষাবাড়ী, কাজিপুর, চৌহালী, এনায়েতপুর, বেড়া, মানিকগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার বিস্তৃর্ণ ফাঁকা জায়গায় গত ২/৩ দিন ধরে বেশ জোড়েশোড়েই শৈত্য প্রবাহ বইছে। কনকনে হিমেল হাওয়ায় শীতের তীব্রতা অসহনীয় পর্যায়ে পৌছেছে। শাহজাদপুরের চর কৈজুরী, চরগুদিবাড়ি, চিল্যাপাড়া, লোহিন্দাকান্দী, জামিরতা, জাফরগঞ্জ, হঠাৎপাড়া, পাখিরাজপুর, ভেবিগঞ্জ, কাটাজোলা, পূর্ব চরকৈজুরী, উল্টাডাব, পাথালিয়া পাড়া, কৈজুরী এসব গ্রামের হৎদরিদ্র উদ্বাস্তুরা শীতবস্ত্রের অভাবে অতিকষ্টে দিনাতিপাত করছে। এদের মধ্যে অবিলম্বে জরুরী ভিত্তিতে ব্যপক পরিমাণ শীতবস্ত্র বিতরণ জরুরী হয়ে পড়েছে। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার যমুনা তীরবর্তী এলাকা পরিদর্শনকালে এলাকাবাসী জানায়, গত দুই তিন দিন ধরে মাঝে মধ্যেই অকষ্মাৎ তীব্র শীত আর ঘনকুয়াশায় তদের জনজীবন বিপদগ্রস্থ হয়ে পড়ছে। কয়েকদিন আগেও তুলনামুলকভাবে শীতের তীব্রতা একটু কম ছিল। কিন্তু ২/৩ দিন ধরে যমুনা নদীর তীরবর্তী ফাঁকা এলাকাগুলোতে সজোড়ে প্রবাহিত হচ্ছে শৈত্য প্রবাহ।কনকনে ঠান্ডা হাওয়ায় দরিদ্র জনসাধারনের জনজীবন তেঁতো হয়ে উঠছে। সবচেয়ে বেশী বিপাকে পড়েছেন এলাকার মেহনতী শ্রমজীবী মানুষেরা। তীব্র শীতে তারা স্বাভাবিকভাবে কাজকর্ম করতে না পারায় পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর কালাতিপাত করছে। হৎদরিদ্র পরিবারের শিশু ও বৃদ্ধরা তীব্র শীতে শীতবস্ত্রের অভাবে জুবুথুবু হয়ে পড়েছে। তাঁত ও গবাদী পশু সমৃদ্ধ শাহজাদপুরের যমুনা নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে তাঁতবস্ত্র উৎপাদন বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে। গবাদী পশু লালনপালন ও পরিচর্যায় তাদের সীমাহীন দুর্ভোগ দুর্গতি পোহাতে হচ্ছে। জরুরী ভিত্তিতে এসব অসহায়দের মধ্যে ব্যাপকহারে শীতবস্ত্র বিতরণ অতীব জরুরী হয়ে পড়েছে বলে অভিজ্ঞ মহল জানিয়েছেন। এদিকে, স্থানীয়ভাবে আর্তমানবতার কল্যাণে নিয়োজিত সংগঠন ও ফেসবুক গ্রুপ ‘সার্কেল শাহজাদপুর’ এর পক্ষ থেকে দুস্থদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণের জন্য অর্থ সংগ্রহ চলছে বলে জানা গেছে।

শাহজাদপুর-ঢাকা মহাসড়ক ঝুঁকিপূর্ণ, ঘটছে দুর্ঘটনা বাড়ছে প্রাণহানী

শামছুর রহমান শিশির : শাহজাদপুর-ঢাকা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে দুই পাশে রিক্সা ভ্যান চলাচলের জন্য হার্ড শোল্ডার (বর্ধিত ৩ ফুট রাস্তা) না থাকায় শাহজাদপুরসহ উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লাখ লাখ যাত্রীরা রয়েছেন চরম ঝুঁকিতে । এ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে সড়কের দুইপাশে হার্ড শোল্ডার না থাকায় দ্রুতগামী ঢাকা কোচ অপর একটি যানবাহনকে সাইড দিতে নীচে নামিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে। এ মহাসড়কের অনেক এলাকায় ২৪ প্রশস্ততার বাইরে হার্ড শোল্ডার না থাকায় খানা খন্দের সৃষ্টি হওয়ায় গত এক সপ্তাহে সড়ক দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজন যাত্রী নিহত ও অসংখ্য যাত্রী আহত হয়েছেন।আজ রোববারও ওই মহাসড়কের শাহজাদপুর উপজেলার বিন্নাদাইর সংলগ্ন এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হয়েছেন। শাহজাদপুর-ঢাকা মহাসড়কের বেশীরভাগ এলাকায়ই ‘হার্ড শোল্ডার’ না থাকায় শত শত যানবাহন নিত্যদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। হার্ড শোল্ডারের অভাবে দ্রতগামী যানবাহনের চালকেরা কিংকর্তব্যবিমূঢ় যানবাহনের নিয়ন্ত্রন হারিয়ে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ছেন। শাহজাদপুর-ঢাকা ‘হার্ড শোল্ডার’ বিহীন মহাসড়কে চলাচলকারী শত শত যানবাহন ও লাখ লাখ যাত্রীরা প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। অতীব জনগুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম এ মহাসড়ক সংস্কার করার সময় ‘হার্ড শোল্ডার’ বাদ রাখা হচ্ছে। ফলে আশংকাজনক হারে দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, “হার্ড শোল্ডার মূলত মহাসড়কের ব্যস্ততার মাত্রার ওপর ভিত্তি করে নির্মাণ করা হয়। মহাসড়কের যে স্থানের ব্যস্ততা যত কম সেখানে হার্ড শোল্ডার না হলেও সমস্যার কিছু নেই। মহাসড়কের যে অংশ যত বেশী ব্যস্ত সে অংশের প্রশস্ততাও আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি করা হয়।এ দিক বিবেচনায় শাহজাদপুর-ঢাকা মহাসড়কে হার্ড শোল্ডার নির্মাণ জরুরী হয়ে দাড়িয়েছে। এ মহাসড়কের হার্ড শোল্ডার নির্মানের জন্য বার বার প্রস্তাবনা দেওয়া হলেও তা অনুমোদন না হওয়ায় কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না । এভাবে যতবারই হার্ড শোল্ডারের প্রস্তাবনা প্রেরণ করা হয়েছে,ততবারই হার্ড শোল্ডার কেটে বাদ দিয়ে প্রস্তাবনাকৃত প্রকল্প অনুমোদন করায় উত্তরাঞ্চলসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ এ মহাসড়কে হার্ড শোল্ডার নির্মাণ সম্ভব হচ্ছে না। শাহজাদপুর-ঢাকা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে হার্ড শোল্ডার না থাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দিন দিন আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। জানা গেছে,রিক্সা ভ্যান চলাচলের জন্য হার্ড শোল্ডারবিহীন ২৪ ফুট প্রশস্ত সড়ক মহাসড়কে দুটি যানবাহন পাশাপাশি চলাচলে দুর্ঘটনার অনেক ঝুঁকি থেকে যায়। ২৪ ফুট প্রশস্ত ওই সড়ক মহাসড়কের অনেক স্থানেই একপার্শ্বে ৩ ফুট ও অপর পার্শ্বে ৩ ফুট করে রিক্সাভ্যান চলাচলের জন্য অতিরিক্ত যায়গা (হার্ড শোল্ডার) না থাকায় শত শত যাত্রীবাহী ও পন্যবাহী যানবাহন চালক ও লাখ লাখ যাত্রীদের ঝুঁকি নিয়ে এ মহাসড়কে চলাচল করতে হচ্ছে। এছাড়া শাহজাদপুর-ঢাকা মহাসড়কের হার্ড শোল্ডারবিহীন অসংখ্য বাসষ্ট্যান্ড ও মিনি বাসষ্ট্যান্ডে এলোমেলোভাবে সেখানে বাস,মিনিবাস,ট্রাক,কাটা মাইক্রো,সিএনজি টেম্পু,অবৈধ ফিটনেস বিহীন নছিমন-করিমন দাড় করিয়ে রাখায় এ মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী দ্রুতগামী সব ধরনের যানবাহন প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার কবলে পতিত হচ্ছে।এদিকে, ওই মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে হার্ড শোল্ডার না থাকায় অপরাধীদের ধরতে আইন শৃংখ্যলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বেশ বেগ পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত গতিতে অপরাধীদের ধাওয়া করেও অনেক সময় হার্ড শোল্ডারের অভাবে জীবনের ঝূঁকি নিয়ে আইন শৃংখ্যলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বাধ্য হয়ে কাজ করতে হচ্ছে বলে আজ রোববার রাতে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল হক অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
শাহজাদপুর-ঢাকা মহাসড়কের চলাচলকারী পরিবহন মালিক,যানবাহন চালক ও যাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে,শাহজাদপুর-ঢাকা মহাসড়কের ওপর দিয়ে সিরাজগঞ্জ-পাবনাসহ উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের অসংখ্য যাত্রীবাহী ও পন্যবাহী যানবাহন নিয়মিত চলাচল করছে।এ মহাসড়কের সিরাজগঞ্জ রোড থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিমপাড় পর্যন্ত হার্ড শোল্ডারের অস্তিত্ব পরিলক্ষিত হয়। এছাড়া শাহজাদপুর-ঢাকা মহাসড়কের বিন্নাদাইর, বাঘাবাড়ী,নুকালী,দিলরুবা বাসষ্ট্যান্ড ও বিসিক বাসষ্ট্যান্ড,পাড়কোলা বাজার,
যুগনীদহ এলাকা, সরিষাকোল বাসষ্ট্যান্ড, গাড়াদহ বাসষ্ট্যান্ড,তালগাছী বাসষ্ট্যান্ড,বালসাবাড়ী,কাঠালতলা,উল্লাপাড়া আরএস ষ্টেশন, শ্যামলীপাড়া, শ্রীকোলা, পূর্বদলুয়া,বোয়ালিয়া ও কালিহাতী,এলেঙ্গা,টাঙ্গাইল,করোটিয়া,বাঐখোলা,নাটিয়াপাড়া,পাকুল্লা,মির্জাপুর, পর্যন্ত এলাকার সিংহভাগ স্থানেই হার্ড শোল্ডার পরিলক্ষিত হচ্ছে না। ফলে অত্যন্ত ব্যস্ততম এ মহাসড়কে চলাচলকারী দুরপাল্লার ভারী যানবাহন ছাড়াও শত শত অবৈধ লছিমন-করিমন,ভটভটি,হিউম্যান হলার,কাটা-মাইক্রো,ব্যাটারীচালিত ইজিবাইকের কোনরূপ বিআরটিএ’র রেজিষ্ট্রেশান,ফিটনেস সার্টিফিকেট,ইনস্যুরেন্স ও ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়াই নিয়মিত চলাচল করছে। ওইসব যানবাহনের সংখ্যা দিনদিন বদ্ধি পাওয়ায় শাহজাদপুর-ঢাকা মহাসড়কের সকল যানবাহন চলাচলে মারাত্বকভাবে বিঘ্ন ঘটার পাশাপাশি আশংকাজনক হারে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে চলেছে। এর নেপথ্যের কারণ হিসাবে হার্ড শোল্ডার না থাকাকেই দায়ী করছেন চালকেরা।
বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, শাহজাদপুর-ঢাকা মহাসড়কে হার্ড শোল্ডার বিহীন অসংখ্য ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকের অনেক স্থানেই দিক নির্দেশনামূলক সাংকেতিক চিহ্ন না থাকা,গতিবেগের ওপর নিয়মিত নজরদারীর অভাব এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শাহজাদপুর-ঢাকা মহাসড়কের সাথে সংযুক্ত শত শত পার্শ্ব সড়কগুলোতে স্পীডবেকার বা গতিরোধক তৈরি করে দেওয়া হলে একদিকে যেমন মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার হার রেকর্ড পরিমান হৃাস পাবে,অন্যদিকে এ জনগুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চরের লাখ লাখ লোকের জানমালের ক্ষয়ক্ষতির পরিমান বহুলাংশে কমে যাবে। ফলে অনতিবিলম্বে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় শাহজাদপুর-ঢাকা মহাসড়কের বহুমূখী ওইসব সমস্যাগুলোর আশু সমাধান করতে পারলে উত্তরাঞ্চলসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রী সাধারনের জীবনের ঝুঁকি অনেক কমে যাবে এবং তারা অপূরণীয় ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকেও রেহাই পাবে।

সিরাজগঞ্জে পিতা-পুত্র সহ ৪ জেএমবি সদস্য আটক

সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতাঃ সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার এরানদহ গ্রাম থেকে পিতা ও দুই পুত্রসহ ৪ জেএমবি সদস্য আটক করেছে ডিবি পুলিশ। মঙ্গলবার ভোর রাতে সলঙ্গার এরানদহ গ্রামের জামিয়াতুল কুরআন ক্যাডেট মাদ্রাসায় গোপন বৈঠক করার সময় এদেরকে আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলো, সিরাজগঞ্জ জেলা জেএমবির শায়েখ ও সলঙ্গা থানার নলকা ইউপির এরানদহ বাজার এলাকার মৃত জসিম উদ্দিনের ছেলে জয়নাল আবেদীন (৫৫), তার দুই ছেলে বোরহান উদ্দিন (২৮), ইমরান আলী (২৬) ও কাজিপুর থানার গান্ধাইল দক্ষিন পাড়ার মৃত ইছাহাক উদ্দিনের ছেলে ও জেলা জেএমবির কোষাধ্যক্ষ আবু বকর সিদ্দিক (৪৯)।

সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহমেদ জানান, গোপনে বৈঠক করছে এমন সংবাদ নিশ্চিত হয়ে সিরাজগঞ্জের ডিবি পুলিশ ও সলঙ্গা থানা পুলিশ যৌথভাবে ওই মাদ্রাসায় অভিযান চালায়। এ সময় বেশ কয়েকজন পালিয়ে গেলেও পিতা ও দুইপুত্রসহ ৪ জেএমবি সদস্যকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১০টি তাজা ককটেল, বিপুল পরিমান বোমা তৈরীর উপকরণ ও বেশ কিছু জেহাদী বই উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এরা সকলেই জেএমবির সক্রিয় সদস্য। জেএমবির সদস্য সংগ্রহ, অর্থ সংগ্রহ ও জিহাদী বই বিতরণ সহ সংগঠনের কর্মপন্থা নির্ধারণের জন্য ওই বৈঠকে মিলিত হয়েছিল বলে আটককৃতরা স্বীকার করেছেন। আটকৃকতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর রিমান্ড আবেদন করে আদালতে প্রেরণ করা হবে বলেও এই কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, সিরাজগঞ্জে জঙ্গীবাদ প্রতিরোধে পুলিশের পাশাপাশি কমিউনিটি পলিশিংয়ের মাধ্যমে জনসচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, এই চার জেএমবি সদস্যসহ গত ৩ মাসে গোয়েন্দা পুলিশ সিরাজগঞ্জ সদর, কাজিপুর ও উল্লাপাড়ার বিভিন্ন গ্রাম থেকে ৮জন নারী সদস্যসহ ১৬জন জেএমবি সদস্য আটক করেছে। এদের কাছ থেকে গ্রেনেড তৈরীর সরঞ্জামসহ বিপুল পরিমাণ জেহাদী বই উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও আটককৃত ৮ নারীর মধ্যে চার নারী ছিল আত্মঘাতী স্কোয়াডের সদস্য।

সলঙ্গায় দুই ট্রাকের সংঘর্ষে এক যুবক নিহত

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ আজ রোববার ভোরে হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কের সলঙ্গা থানার দবিরগঞ্জ এলাকায় দুই ট্রাকের সংঘর্ষে এক যুবক নিহত হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছে আরো দুই জন। নিহত যুবকের (২৫) পরিচয় পাওয়া যায়নি।
হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি আব্দুল কাদের জিলানী জানান, ঢাকা থেকে নাটোরগামী একটি ট্রাকের সাথে বিপরতীমুখ অপর একটি ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই নাটোরগামী ট্রাকের যাত্রী এ যুবকটি মারা যায়। নিহত যুবক ট্রাকের হেলপার হতে পারে। দুর্ঘটনার পরেই ট্রাক দুটির চালক পালিয়ে গেছে। লাশ ও ক্ষতিগ্রস্ত ট্রাক দুটি উদ্ধার করে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে।

অসময়ে ভাঙ্গন রোধে সলঙ্গায় স্বেচ্ছাশ্রমে বাধ নির্মাণ

ডেস্ক নিউজঃ সলঙ্গার আমডাঙ্গা বাজার ও উল্লাপাড়া উপজেলার টিয়োরহাটি গ্রাম ফুলজোর নদীর ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। স্থানীয় লোকজন জন প্রতিনিধিদের দ্বারস্থ হয়েছে অনেক বার । জন প্রতিনিধিরা দিয়েছে শুধু প্রতিশ্রুতি। হয়নি কোন কাজের কাজ। বাজার রক্ষা করতে বাড়ায়নি কেউ সহযোগিতার হাত।
এদিকে আমডাঙ্গা বাজার ক্রমেই গ্রাস করতেছিল রাক্ষুসে ফুলজোর নদী। চোখের সামনে চির চেনা বাজার চলে যাবে নদীর গর্ভে একথা ভেবে ঠিক থাকতে পারেনি এলাকাবাসী। আমডাঙ্গা বাজারের পাশে আমডাঙ্গা ও টিয়োরহাটি সহ আশপাশের গ্রামের ২ শতাধিক লোক নিয়ে এক পরামর্শ বৈঠক হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় সেচ্ছাশ্রমে বাজার রক্ষা বাধ নির্মানের। রবিবার ভোরে নারী পুরুষ সহ প্রায় শতাধিক জনতা বাঁশ, কাঠ, ঝুপড়ি ও কোদাল সহ উপস্থিত হয় আমডাঙ্গা বাজারে বাড়ি বাড়ি থেকে বাঁশ, কাঠ, পাট, রশি, বালুর বস্তা নিয়ে হাজির হয় প্রায় শতাধিক সেচ্ছাশ্রমিক। অবশেষে উল্লাপাড়ার ১০ নং বড়হর ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নং ওয়ার্ডের সদস্য শামিম রেজা নবীর নেতৃত্বে স্বেচ্ছাশ্রমে ৪৫ ফুট আস্থায়ী বাধ নির্মান করে পরের দিন সোমাবার ৩৮ ফুট ও মঙ্গলবার ৩০ ফুট মোট তিনটি অস্থায়ী বাধ নির্মান করেন এলাকাবাসী।
বড়হর ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নং ওয়ার্ডের সদস্য শামিম রেজা নবী জানান, বিগত ৪ বছর যাবৎ এলাকাবাসীর সহযোগীতা নিয়ে আমডাঙ্গা বাজার ও টিয়োরহাটি গ্রাম রক্ষার্থে আমরা স্বেচ্ছাশ্রমে অস্থায়ী বাধ নির্মান করে আসছি। আবারো অসময়ে ভাঙ্গন শুরু হওয়ায় এলাকাবাসীদের সাথে নিয়ে অবারো তিনটি অস্থায়ী বাধ নির্মান করছি। অনেক সময়ে জনপ্রতিনিধিদের দ্বারস্থ হয়েছি এমনকি কোন এক সময় আমডাঙ্গা বাজারে এক জনসভায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বর্তমানে স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোহাম্মাদ নাসিম বলেছিলেন আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় গেলে আমডাঙ্গা বাজার রক্ষার জন্য স্থায়ী বাধ নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কিন্তু তিনিও কথা রাখেননি ।
এলাকা বাসীর দাবী আমডাঙ্গা বাজার ও টিয়োর হাটি গ্রামকে টিকে রাখতে এখানে একটি স্থায়ী বাধ নির্মন করতে হবে । উর্ধতন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কমনা করছে এলাকার সাধারণ মানুষ।

সলঙ্গার অদ্বৈত্য আবিষ্কার করেছে বিদ্যুৎ অপচয় নিয়ন্ত্রন ডিভাইস

অনলাইন ডেস্ক: বিদ্যুতের লোডশেডিং হলে বিভিন্ন অফিস,আদালসহ বানিজ্যিক, আবাসিক প্রতিষ্টান গুলো বন্ধ করার সময় অনেকেই বৈদ্যতিক লাইট,ফ্যান,এসি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে ভুলে যান। পর্বতী সময়ে বিদ্যুৎ আসলে তা পূর্নরায় চালু হয়ে যাওয়ায় বিদ্যুতের ব্যাপক অপচয় ঘটে। এতে প্রতিষ্টান গুলোর গুনতে হয় বাড়তি বিল। অপর দিকে বিপর্যয় ঘটে বিদ্যুৎ খাতে।

উল্লেখিত সমস্য সমাধান কল্পে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার দাদপুর গ্রামের মকুল চন্দ্র সরকারের টেলিভিশন মেকার অদ্বৈত্য কুমার সরকার আবিস্কার করেছে বিদ্যুত অপচয় রোধক ডিভাইস। অদ্বৈত্য কুমার সরকার তার আবিস্কৃত বিদ্যুত অপচয় রোধক ডিভাইস এর নাম দিয়েছে অটোমেটিক ষ্ট্যান্ডবাই মুড সুইচ। বৈদ্যুতিক সুইচ বোর্ডে তার এই আবিস্কৃত অটোমেটিক ষ্ট্যান্ডবাই মুড সুইচ প্রতিস্থাপন করলে বিদ্যুৎ পুনরায় সঞ্চালন হলেও অটোমেটিক লাইট,ফ্যান,এসি ইত্যাদি যন্ত্র্যাংশ চালু হবে না।

অদ্বৈত্য কুমার সরকার জানান, তার আবিস্কৃত এই অটোমেটিক ষ্ট্যান্ডবাই মুড সুইচ’র কোন কোম্পানি তৈরী করলে এর দাম পড়বে মাত্র ৭০-৯০টাকা। অবশ্য নিজ হাতে তৈরীর করায় এর খরচ পড়েছে ১৭০-১৮০ টাকা।

কৃষক পরিবারের সন্তান অদ্বৈত্য সরকার। পরিবারের খরচ চালাতে দশম শ্রেনীতে পড়া লেখা অবস্থায় তাকে হাল ধরতে হয় সংসারের।এক পর্যয়ে সে বেছে নেয় টেলিভিশন মেরামতের পেশা। এক দিন তার কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার আগে মুহুর্তে দেখা দেয় বিদ্যুতিক লোডশেডিং। ভুলে কর্মস্থলের লাইট,ফ্যান ও অন্যান্য সুইচ বন্ধ না করেই সে বাড়ি ফেরে। একদিন পড় কর্মস্থলে ফিরে এসে দেখে তার কর্মস্থলে ব্যাপক বিদ্যুৎ অপচয় হয়েছে। এর পর থেকে সে চিন্তা করতে থাকে কিভাবে বিদ্যুৎ অপচয় বন্ধ করা যায়। তার এ চিন্তা থেকেই সে এই বিদ্যুৎ অপচয় নিয়ন্ত্রন ডিভাইস তৈরী করে। সচেতন মহলের দাবী অদ্বৈত্য কুমার সরকারের এই আবিস্কৃত ডিভাইসটি সরকারী ভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে বাজারে ছাড়লে অনেকাংশে বিদ্যুৎ অপচয় কমবে।