শাহজাদপুরে গৃহবধুর লাশ উদ্ধার

বুধবার (২৯ জুলাই) ভোররাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শাহজাদপুর উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের জোতপাড়া কুলুপাড়া মহল্লা থেকে রহিমা খাতুন (৩৫) নামের এক গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করেছে শাহজাদপুর থানা পুলিশ। নিহত রহিমা খাতুন জোতপাড়া কুলুপাড়া মহল্লার আব্দুল আলীমের স্ত্রী বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় থানায় ইউডি মামলা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার নিমগাছীস্থ রহিমা খাতুনের পিতার বাড়িতে গলায় ফাঁস নিয়ে রহিমা আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে আশংকাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথে সে মারা যায়। এরও পরে নিহতের স্বামী আব্দুল আলীম রহিমার লাশ নিয়ে শাহজাদপুরের নিজ বাড়ি জোতপাড়ায় নিয়ে আসে। রায়গঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার ভোররাতে জোতপাড়া কুলুপাড়া থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে শাহজাদপুর থানা পুলিশ।
এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শাহজাহান বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে রহিমা গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছে। লাশ উদ্ধার করে ময়াতদন্তে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রির্পোট এলে রহিমার মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।’
অপরদিকে, রায়গঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, ‘রায়গঞ্জের নিমগাছীস্থ রহিমার বাড়িতে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে তার স্বামী আলীম আশংকাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে রহিমার লাশ নিয়ে আলীম তার গ্রামের বাড়ি জোতপাড়া চলে গেলে শাহজাদপুর থানা পুলিশের সহযোগীতায় সেখান থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়।

রায়গঞ্জে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যা

ছবিঃ প্রতীকী

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার আন্ডার ভোল্লাবাড়ি গ্রামে যৌতুকের দাবীতে গৃহবধূ শারমিন আক্তারকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সে ওই গ্রামের ওবায়দুলের স্ত্রী। এ ঘটনার পর স্বামীসহ পরিবারের লোকজন পলাতক রয়েছে। রায়গঞ্জ থানার ওসি শহিদুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, উক্ত গ্রামের ওবায়দুলের সাথে দেড় বছর আগে একই এলাকার চান্দাইকোনা গ্রামের সাঈদের মেয়ে শারমিন আক্তারের বিয়ে হয়। এ বিয়ের আগেও ওবায়দুল দুটি বিয়ে করেছিল। তাদেরকেও বিভিন্ন সময় যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন করে তাড়িয়ে দেয়া হয়। ৩য় বিয়ের পর থেকে স্বামী ওবায়দুল ও তার পরিবারের লোকজন নানা অযুহাতে যৌতুকের দাবিতে তাকে নির্যাতন করতে থাকে। স্ত্রী নির্যাতনের বিষয়ে এলাকায় একাধিক সালিশ বৈঠক করা হয়। এরপরেও ওই নিষ্ঠুর স্বামীর হাত থেকে মুক্তি পায়নি শারমিন।

গত বৃহস্পতিবার রাতে স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন তাকে পিটিয়ে ঘাড় মটকিয়ে হত্যা করে গলায় দড়ি দিয়ে ঘরের মেঝেতে ফেলে রাখা হয়।

এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে গতকাল শুক্রবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা হয়েছে।

রায়গঞ্জে ইয়াবাসহ ইউপি সদস্য গ্রেপ্তার

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে মাদক বিরোধী অভিযানে ৪০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ইউপি সদস্য মো. সেলিম রেজা (৪৫) নামের এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১২ সদস্যরা।

সেলিম রেজা রায়গঞ্জ উপজেলার ব্রক্ষ্মগাছা ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের সদস্য ও গোদগাতী পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত নাজিম উদ্দিনের ছেলে।

রবিবার দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করেছে স্পেশাল কোম্পানি র‌্যাব-১২, সিরাজগঞ্জ এর কোম্পানি কমান্ডার এএসপি মো. শফিকুর রহমান।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রায়গঞ্জ থানার গোদগাতী পশ্চিমপাড়া গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাহার নিকট হইতে ৪০০ পিস ইয়াবা ও ২ টি মোবাইলসেট উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে উদ্ধারকৃত আলামত ও গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ থানায় মাদক আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।

রায়গঞ্জের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী আনোয়ার বিচার পাবে তো!

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার পল্লী আবুদিয়া মধ্যপাড়া গ্রামের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী আনোয়ার হোসেনকে মারধরের ঘটনার বিচার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও এখনও বিচার পাননি ভুক্তভোগী। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মধ্য রমজানে ধানগড়া ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত সদস্য আবুদিয়া গ্রামের মোঃ আব্দুল কাদের মেম্বার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধি আনোয়ারকে সামান্য কথা কাটির এক পর্যায়ে বেধরক মারধর করে।

বিষয়টি জানাজানি হলে তৎক্ষনাৎ এলাকাবাসী প্রতিবাদ জানান এবং এর সুষ্ট বিচার দাবীতে সোচ্চার হন। ইতি মধ্যেই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী আনোয়ার হোসেন ও তার পরিবার বাদী হয়ে এর উপযুক্ত বিচার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমুর রহমান এর কাছে একটি দরখাস্ত দাখিল করেছে।

পিতা হাসান আলী বলেন, একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে তিনি একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধীকে মারধর করে শপথ ভঙ্গ করেছেন কিনা সেটা দেখা ও আমার ছেলেকে মারধরের বিচার চেয়ে দরখাস্ত দিলেও আজও কোন বিচার পাচ্ছিনা।

এ ব্যাপারে স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদুল ইসলাম বলেন, আব্দুল কাদের মেম্বার মানুষের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করার নজির আছে এবং তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানীর অভিযোগও আছে তার নামে গ্রামবাসী এর বিচার প্রত্যাশা করে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি দেখার জন্য রায়গঞ্জ অফিসার ইনচার্জ মোঃ শহিদুল ইসলামকে দায়িত্ব দিলে তিনি ঘটনার তদন্ত করার জন্য ঐ গ্রামে প্রতিনিধি পাঠান। ঘটনার তদন্ত হলেও বিষয়টি এখনও কোন সুরাহা হয়নি বলে জানান ভুক্তভোগীর বাবা হাসান আলী।

রায়গঞ্জে নিজের চেষ্টায় বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পেল শিশুটি

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে মেয়েটি। ক্লাসে তার রোল নম্বর ২। পড়ালেখায় মনোযোগী মেয়েটির বাবা বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী। মা আর দুলাভাই স্থানীয় ঘটকের সহায়তায় তার বিয়ে ঠিক করেন। আজ শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে বরযাত্রী আসার কথা। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার শিশুটি প্রধান শিক্ষককে ফোন করে বিষয়টি জানিয়ে তাকে বিয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে বলে। পরে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নির্দেশে এই বিয়ে বন্ধ করা হয়।

প্রধান শিক্ষক বিষয়টি তাঁর ক্লাস্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. তারিকুল ইসলামকে জানান। তিনি বিষয়টি সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) জানান। সেই মোতাবেক ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে বাল্যবিবাহটি বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। চেয়ারম্যান সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সদস্য ও গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে বিয়ে বন্ধের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন। প্রধান শিক্ষক মেয়েটির বাড়িতে গিয়ে তার মা ও অন্যদের বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে জানিয়ে বলেন, মেয়েটির বিয়ে বন্ধ না করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রধান শিক্ষক নাজমা খাতুন দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, করোনাভাইরাসের এই মহাদুর্যোগের সময়েও বাল্যবিবাহের নামে পঞ্চম শ্রেণির একটি মেয়েকে বিপদে ফেলার পাঁয়তারা চলছে‌। মেয়েটি ফোন করে বলে এখন তার বিয়ে করার বয়স হয়নি আর ইচ্ছাও নেই। তাই তিনি যেন যেকোনোভাবেই এ বিয়ের হাত থেকে তাকে রক্ষা করেন।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুবীর কুমার দাশ বেলা দুইটার দিকে প্রথম আলোকে মুঠোফোনে বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীটির বাল্যবিবাহ বন্ধ করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নজরে রয়েছে বলে তিনি জানান।

সিরাজগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২

ফাইল ছবি

সিরাজগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় মসজিদের ইমাম ও ভ্যানচালকসহ দুজন নিহত হয়েছেন। নিহত ভ্যানচালক ইসমাইল হোসেন (৪৫) রায়গঞ্জ উপজেলার পুর্ব আটঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং অপরজন সলঙ্গা থানার চড়িয়া রয়হাটি গ্রামের ইমাম পাষান আলী (৫০)। তিনি কালিকাপুর শাহী জামে মসজিদের ইমাম হিসাবে দায়িত্বে ছিলেন।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, মঙ্গলবার ভোরে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ মহাসড়কের রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনায় দ্রুতগামী একটি ট্রাক একটি অটোভ্যানকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই ভ্যানচালক ইসমাইল হোসেন নিহত হয়। পরে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে।

এ ছাড়া সোমবার রাতে হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কের চড়িয়া এলাকায় দ্রুতগামী একটি ট্রাকচাপায় মসজিদের ইমাম পাষান আলী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। পরে এলাকাবাসী তার লাশ উদ্ধার করে।

চলনবিলাঞ্চলে চারোর কদর বেড়েছে

শামছুর রহমান শিশির : শাহজাদপুরসহ চলনবিলের উল্লাপাড়া, তাড়াশ, রায়গঞ্জ, ভাঙ্গুরা, ফরিদপুর, চাটমোহর, সিংড়া, বড়াইগ্রাম, গুরুদাসপুর, আত্রাই, রাণীনগর, শেরপুর ও নন্দীগ্রাম উপজেলার নদীনালা, খাল-বিল ও জলাশয় থেকে পানি হ্রাসের সাথে সাথে আবহমান গ্রাম বাংলায় প্রচলিত দেশিয় প্রযুক্তিতে তৈরি মাছ ধরার চারোর কদর বেড়েছে। এ অঞ্চলের গ্রামীণ জনপদের হাটবাজারে মাছ ধরার উপকরণ চাঁরো বিক্রির হারও বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। চলনবিলের নিম্ন আয়ের অনেক পরিবার বাড়তি আয়ের উৎস হিসেবে চাঁই তৈরিকে বেছে নিয়েছে।
জানা গেছে, বাঁশ ও তালগাছের কাণ্ডের আঁশ, কান্তি দিয়ে তৈরি চাঁরো বর্ষাকালের শুরুতে ও শেষ দিকে বিভিন্ন জলাশয়ে ছোট মাছ ধরার কাজে বহুল ব্যবহৃত হয়। এ অঞ্চলের অনেক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা বছরের এ মৌসুমে মাছ ধরার বিভিন্ন ধরন ও আকারের চারো তৈরি করে থাকেন। চলনবিলাঞ্চলের একেক এলাকায় চাঁরো একেক নামে পরিচিত। স্থানীয় ভাষায় চারোকে ধন্দি, বানা, খাদন, খালই, বিত্তি ও ভাইর নামে এলাকাবাসী অবিহিত করেন । নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবরিষা, চলনালী, শিধুলি, চরকাদহ, উদবারিয়া, পোয়ালশুড়া, সোনাবাজু, সাবগাড়ী, যোগেন্দ্রনগর; বড়াইগ্রাম উপজেলার মাড়িয়া, শ্রীরামপুর; সিংড়া উপজেলার কালিনগর, বিলদহর, কৃষ্ণনগর, নুরপুর; পাবনার চাটমোহর, ভাঙ্গুরা, ফরিদপুর, হান্ডিয়ালসহ সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া, তাড়াশ, রায়গঞ্জ ও শাহজাদপুরের বিভিন্ন বিলাঞ্চল ও খালে, বগুড়ার শেরপুর, নন্দীগ্রাম, নওগাঁর রানীনগর ও আত্রাই উপজেলার নিম্ন আয়ের বিপুল সংখ্যক মানুষ অনেকে শখের বশে অাবার অনেকে পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে বর্তমানে চাঁরো তৈরি ও বিক্রি করে এবং মাছ ধরে জীবীকা নির্বাহ করে আসছেন । শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতুনী ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা লুৎফর রহমান বলেন, বন্যার পানি নেমে গেলেও চলনবিলাঞ্চলের নীচু এলাকার খাল, বিল, ডোবা, পুকুরসহ জলাশয়ের বদ্ধ পানিতে মাছ ধরতে চারোর বহুল ব্যবহার পরিলক্ষিত হচ্ছে।

রায়গঞ্জে পুকুরে বিষ প্রয়োগে লাখ লাখ টাকার মাছ নিধন

নিজস্ব প্রতিবেদক : পূর্ববিরোধের জেরে সিরাজগঞ্জের নিমগাছি প্রতিভা মৎস্য খামার ও হাচারীতে গ্যাস ট্যাবলেট প্রয়োগ করে লাখ লাখ টাকার মাছ নিধন করার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার রাতের কোন এক সময়ে দুর্বৃত্তরা এ অমানবিক ঘটনা ঘটিয়েছে । প্রতিভা মৎস্য খামার ও হ্যাচারীর মালিক প্রবীন কুমার গুণ লিটন জানান, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার ভুইয়াগাতী বাজারের ব্যবসায়ী রতিন চন্দ্র আচার্য ও বাবলু আকন্দের সাথে তার দ্বন্দ্ব চলে আসছিলো । সম্প্রতি তারা লিটনের বাড়িতে গিয়ে ও মোবাইল ফোনেও তাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। ক্ষতিগ্রস্থ মৎস্য খামারী লিটনের দাবি ঘটনার রাতে পূর্ববিরোধের জের ধরে ওই দু’জন তার মৎস্য খামারে গ্যাস ট্যাবলেট প্রয়োগ করে এ অমানবিক ঘটনা ঘটিয়েছে । অপরদিকে, ওই দুই ব্যবসায়ী এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।  বিষ ফলে রোববার ভোরে পুকুরের সব মাছ মরে ভেসে উঠে। এ ঘটনায় স্থানীয় মৎস্য খামারি ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম ক্ষোভে সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

বন্যা নিয়ন্ত্রিত বাঁধ ভেঙ্গে চলনবিলের নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে: ৩লক্ষাধিক গবাদীপশু নিয়ে বিপাকে খামারীরা

শামছুর রহমান শিশির, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) থেকে : আজ বৃহস্পতিবার সকালে শাহজাদপুর উপজেলার রাউতারা এলাকায় চলনবিল বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙ্গে এ অঞ্চলের শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ, তাড়াশ, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর, চাটমোহর, সিংড়া, বড়াইগ্রাম, গুরুদাসপুর, আত্রাই, রাণীনগর, শেরপুর ও নন্দীগ্রাম উপজেলার নিম্নাঞ্চল বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব অঞ্চলের হাজার হাজার গো-খামারে (বাথান) লালন পালন করা প্রায় ৩ লক্ষাধিক গবাদীপশুকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যেতে গো-খামারীদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ-দুর্গতি পোহাতে হচ্ছে। দেশের দুগ্ধশিল্পের কেন্দ্রবিন্দু ওই অঞ্চলের গো-খামারীরা ওই বিশাল সংখ্যক গবাদীপশুকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যেতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এসব এলাকায় রোপিত উন্নতজাতের গো-খাদ্য ( কাঁচা ঘাস) ইতিমধ্যেই আকষ্মিক বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এ অঞ্চলে গো-খাদ্য কাঁচা ঘাসের তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে। আকষ্মিক বন্যার পানিতে বড়াল নদী তীরবর্তী রাউতারা-নিমাইচড়া চলনবিল বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙ্গে মুহুর্তেই এ অঞ্চলের বিস্তৃত গো-চারণ ভূমির বিশাল এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ফলশ্রুতিতে, চলনবিলের বিস্তৃর্ণ ওই চারণ ভূমিতে লালন-পালনকৃত গবাদী পশু শ্যালো নৌকার মাধ্যমে পরিবহন করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাচ্ছে খামারীরা। কাঁচা ঘাস বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চলনবিল অঞ্চলে গো-খাদ্য ব্যবসায়ীরা গো-খাদ্য খড় নৌকাযোগে বিভিন্ন স্থানের খামারীদের সরবরাহ করছে। বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতি লিমিটেড (মিল্কভিটা) এর সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান, সফল গো-খামারী মোঃ শফিকুর রহমান বলেন, ‘হঠাৎ করেই রাউতারা স্লুইচগেট সংলগ্ন এলাকায় রাউতারা-নিমাইচড়া রিং বাঁধটি ভেঙ্গে যাওয়ায় বাঘাবাড়ী মিল্কশেড এরিয়াসহ চলনবিলাঞ্চলের প্রায় ৩ লক্ষাধিক গবাদীপশু নিয়ে গো-খামারীরা চরম উদ্বেগ আর উৎকন্ঠায় পড়েছে। ইতিমধ্যেই এ অঞ্চলের গো-খামারীরা তাদের গবাদীপশুকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সেইসাথে এ অঞ্চলে অকষ্মাৎ কাঁচা ঘাসের তীব্র সংকট সৃষ্টি হওয়াসহ গো-খাদ্যের তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে।’ এ ব্যাপারে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলীমুন রাজীব জানান,‘রাউতারা বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তবে বালির বস্তা দিয়ে বাঁধের ওই স্থান সংস্কার করায় প্রতি বছরই এ ঘটনা ঘটে। ওইস্থানে ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে বৃহত্তর চলনবিলাঞ্চলবাসী ক্ষয়-ক্ষতির হাত থেকে রেহাই পাবে।’ পোতাজিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী ব্যাপারী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

রায়গঞ্জে কলেজ শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় গতকাল রোববার ফরিদুল ইসলাম নামের এক কলেজশিক্ষককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। পূর্বশত্রুতার জের ধরে গতকাল সকালে উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের আটঘড়িয়া বাজার এলাকায় তাঁকে মারধর করা হয়।
ফরিদুলকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

তিনি রায়গঞ্জ উপজেলা সদর ধানগড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজের সাচিবিকবিদ্যা বিষয়ের প্রভাষক ও পূর্ব আটঘড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। এ ছাড়া তিনি ধানগড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভাপতি।

ফরিদুল ইসলাম বলেন, গতকাল সকাল সাড়ে সাতটার দিকে আটঘড়িয়া বাজারে এলে একই গ্রামের আবদুল মান্নানের ছেলে আবদুল মোমিন, আবদুল মান্নান, মৃত কসিম উদ্দিনের ছেলে আবুল কালাম, আবদুস সালামসহ ১০-১২ জন দেশি বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর আক্রমণ করেন।

এ সময় বাজারের লোকজন এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করে রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। হামলাকারীরা ২০১৪ সাল থেকে তাঁর ক্ষতি করার হুমকি দিচ্ছিলেন। এ বিষয়ে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

ফরিদুলের বাবা এশারত আলী বলেন, সন্ত্রাসীরা হুমকি দেওয়ার পর সত্যি সত্যি তাঁর ছেলেকে মারধর করল।

রায়গঞ্জ উপজেলা সদর ধানগড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা সরকার বলেন, আজ সোমবার অভিযুক্ত লোকদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করা হবে।

এ ব্যাপারে জানতে আবদুল মোমিনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

রায়গঞ্জ থানার ওসি মাহবুবুল আলম বলেন, ফরিদুলের পরিবার বিষয়টি মৌখিকভাব তাঁদের জানিয়েছে। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত লোকদের আটকের চেষ্টা চলছে। সূত্রঃ প্রথম আলো