শাহজাদপুরে দুইজনের মৃত্যু


সিরাজগঞ্জ জেলায় পৃথক বজ্রপাতে ৫জন নিহত

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর,উল্লাপাড়া ও বেলকুচি উপজেলায় রবিবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে পৃথক বজ্রপাতে ৫ জন নিহত হয়েছে। নিহতরা হলেন,শাহজাদপুর উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের চর আঙ্গারু গ্রামের আমানত মোল্লার ছেলে মো: আব্দুল্লাহ ওরফে জুয়েল রানা (২৬), নরিনা ইউনিয়নের বাতিয়া গ্রামের মৃত জালাল উদ্দিন ভোলার ছেলে আলহাজ আলী বাবুর্চি (৬০), উল্লাপাড়া উপজেলার উধুনিয়া ইউনিয়নের আগদিঘল গ্রামের শাহেদ আলীর ছেলে ফরিদুল ইসলাম (১৬), সলঙ্গা ইউনিয়নের আঙ্গারু গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম (৪৫) ও বেলকুচি উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের চর সমেষপুর গ্রামের লাইলি বেগম(৪৫)।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড সদস্য আবুল কালাম জানান, এ দিন বিকেলে বাড়ির পাশের জমিতে ধান কাটার সময় জুয়েল রানা বজ্রপাতে নিহত হয়।

এ বিষয়ে নরিনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফজলুল হক ও এলাকাবাসি আলতাফ হোসেন জানান, আলহাজ তার স্ত্রীকে সাথে নিয়ে বাড়ির পাশের মাঠে ধান শুকানোর কাজ করছিলেন। এ সময় ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে তারা দৌড়ে বাড়ির কাছে আসলে হঠাৎ বজ্রপাতে আলহাজ বাবুর্চি ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।

এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলার উধুনিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল প্রামানিক জানান, আগদিঘল গ্রামের মাঠে ধান কাটার সময় নবম শ্রেণির ছাত্র ফরিদুল ইসলাম বজ্রপাতে নিহত হয়।

এ বিষয়ে সলঙ্গা থানার ওসি আব্দুল কাদের জিলানী বলেন,উল্লাপাড়া উপজেলার বাঙ্গালা ইউনিয়নের ধরইল বিলে হাঁস পালনের সময় রফিকুল ইসলাম (৪৫) নামের এক রাখাল বজ্রপাতে নিহত হয়। তিনি উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গা ইউনিয়নের আঙ্গারু গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে।

এ বিষয়ে বেলকুচি থানার ওসি গোলাম মোস্তফা জানান, বেলকুচি উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের চর সমেষপুর গ্রামের লাইলি বেগম মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে নিহত হন। এ সব ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বেলকুচিতে অনলাইনে খাবার বিক্রি, চয়নের মাসে আয় ৪০ হাজার টাকা

ভেজালের ছড়াছড়ি যখন চারদিক, তখন স্বাস্থ্যকর খাবার কে না চায়! এ কারণে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার তামাই গ্রামের (টিএফসি) একটি অনলাইন খাবারের দোকান। নিজের তৈরি খাবার নিয়ে পরিচয় তৈরি করার চেষ্টা করছেন তরুণ ব্যবসায়ী জাকিয়া আফরোজ চয়ন।

বাড়িতে খাবার তৈরি করে গ্রামের মেঠো পথে বাবা-মেয়ে ছুটছেন গ্রাহকের বাসায়। অর্ডার করলেই বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছেন বিরিয়ানি, রাইসবোল, পাস্তা, পিৎজা, বার্গার, কাচ্চি, তেহারি, চিকেন ফ্রাই, শর্মা, চাইনিজসহ হরেক রকমের খাবার।

জাকিয়া আফরোজ চয়ন ঢাকার একটি বেসরকারি কলেজ থেকে স্নাতক (সম্মান) শেষ করে স্নাতকোত্তরে ভর্তি হয়েছেন। সেই সময়ই দেশে হানা দেয় করোনা। দীর্ঘ ছুটিতে আটকে যান তিনি। বাবার ওয়ার্কশপ ও বাড়িতে থাকা তাঁতের ব্যবসাটাও করোনার থাবায় বন্ধ হয়ে যায়।

তখন ছুটি নিয়ে বাড়িতে এসে শুরু করেন অনলাইনে খাবারের ব্যবসা। মাত্র আড়াই হাজার টাকা নিয়ে গত ডিসেম্বরে শুরু করেন গ্রাম ভিত্তিক বাহারি খাবারের অনলাইন দোকান। এই উদ্যোগেই আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি চয়নকে। ছোট দুই বোনের সহযোগিতায় স্বপ্ন দেখছেন সফল একজন নারী হওয়ার। বাবা নাসিমুল গণি জুয়েল নিজেই খাবার সরবরাহ করে মেয়েকে উৎসাহ দিচ্ছেন। মাও সহযোগিতা করেন রান্না ও প্যাকেটিংয়ের কাজে।

জেলার বেলকুচি উপজেলার তামাই গ্রামের নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান জাকিয়া আফরোজ চয়ন, জুলিয়া আফরোজ নয়ন ও নুসরাত জেরিন অয়ন। চয়নের উদ্যোগে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ধরনের খাবার এখন অনলাইনে মিলছে উপজেলার তামাই গ্রামে। শহরের নামিদামি সব খাবার খুব স্বল্প দামে গ্রামের মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে গেছেন তিন বোন। মাত্র কয়েক মাস ধরে চলছে তাদের অনলাইন রেস্তোরাঁ। আর এতেই বিক্রি হচ্ছে দিনে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা। যার থেকে আয় থাকছে প্রায় অর্ধাংশ। শুধু তাই নয় এখানে পাওয়া যায় চাহিদা মতো সব খাবার। তবে দুই ঘণ্টা আগে অর্ডার দিলেই বাড়িতে পৌঁছে যাচ্ছে খাবার। খাবারের মান নিয়েও প্রশংসায় ভাসছেন তারা।

জাকিয়া আফরোজ চয়ন বলেন, তিন বোন আর মা-বাবাকে নিয়ে আমাদের সংসার। বোনদের মধ্যে আমি সবার বড়। ঢাকার একটি বেসরকারি কলেজ থেকে স্নাতক (সম্মান) শেষ করে স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার কথা। করোনার কারণে তা হয়ে ওঠেনি। মেজো বোন নয়ন স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষে আর ছোট বোন অয়ন ১০ম শ্রেণিতে পড়ে। গত বছর মার্চে লকডাউনের সময় ঢাকা থেকে গ্রামে এসে দীর্ঘ ছুটিতে আটকে যাই।

তিনি আরও বলেন, বাবার ওয়ার্কশপ ও বাড়িতে থাকা তাঁতের ব্যবসাটাও করোনার থাবায় বন্ধ হয়ে যায়। তাই বাবাকে কীভাবে সহযোগিতা করা যায়, সেই চিন্তায় পড়েন তিন বোন। বড় কোনো পুঁজিও হাতে নেই। করোনার এই সময়ে গ্রামে বসে অলস সময় কাটানো মোটেই ভালো লাগছিল না তাদের। তাই চয়ন প্রথমে অনলাইনে একটি ফেসবুক পেজ খুলে সিরাজগঞ্জের তাঁতকুঞ্জে উৎপাদিত শাড়ি, লুঙ্গি, থ্রি পিস বাজারজাত করতে শুরু করেন। কিন্তু এই ব্যবসায় পুঁজির অভাবে খুব একটা আলোর মুখ দেখছিল না। তখন হঠাৎ চয়নের মাথায় আসে কীভাবে শহরের মতো গ্রামেও একটি অনলাইন রেস্তোরাঁ চালু করা যায়।

গ্রামে খাবারের তেমন ভালো রেস্তোরাঁ নেই, তাই বর্তমান প্রেক্ষাপটে এখানেই একটি অনলাইন রেস্তোরাঁ চালু করলে সাড়া মেলার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাইরে দোকান দিতে তো অনেক অর্থের প্রয়োজন, যা তাদের নেই। তাই ফেসবুক ব্যবহার করে হোম ডেলিভারির চিন্তা করেন। সেই চিন্তা-ভাবনা নিয়ে ২০২০ সালের ৮ ডিসেম্বর শুরু করেন অনলাইনে পোশাক ব্যবসার পাশাপাশি খাবারের ব্যবসা। তামাই ফুড কার্ট-টিএফসি নামে অনলাইন রেস্তোরাঁ। সে থেকে এখন পর্যন্ত আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাদের।

তিনি আরও বলেন, মাত্র আড়াই হাজার টাকা দিয়ে শুরু করেছিলাম। এখন অনেক ভালো অবস্থা। শুধু আমার গ্রাম নয়, দূর-দূরান্ত থেকে অর্ডার আসে। মাত্র পাঁচ মাসে টিএফসি এখন নিজ গ্রামসহ আশপাশের এলাকার সব মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কিন্তু ডেলিভারির ব্যবস্থা না থাকার কারণে দূরের অর্ডারগুলো সরবরাহ করতে পারি না।

বাহারি খাবার রান্নার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার কখনো প্রফেশনালি রান্না শেখা হয়নি। ছোটবেলা থেকে মায়ের রান্না দেখতাম। রান্নার প্রতি ঝোঁক থেকেই রান্না পছন্দ করি৷ সেই রান্না দিয়েই আজ স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি করোনার সময়ে পুরো পরিবারকেও সহযোগিতা করতে পারছি। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে কিছু করার স্বপ্নও লালন করছি।

টিএফসিতে বিরিয়ানি, রাইসবোল, পাস্তা, পিৎজা, বার্গার, কাচ্চি, তেহারি, চিকেন ফ্রাই, শর্মা, চাইনিজ খাবারসহ নানা ধরনের প্রায় ২০টি আইটেমের খাবার অর্ডার অনুযায়ী তৈরি হয়ে থাকে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় পিৎজা, বার্গার, রাইসবোল। পিৎজা বিক্রি হয় ২৫০ থেকে ২৭৫ টাকায়, রাইসবোল ৯৯ টাকায়, বার্গার ৯৯ থেকে ১৫০ টাকায়। এছাড়াও সাধ্যের মধ্যে বিভিন্ন খাবার চাহিদা অনুযায়ী বিক্রি হয়ে থাকে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত প্রায় ১২টা পর্যন্ত খাবারের অর্ডার আসতে থাকে। তবে তুলনামূলক বিকেলে ও প্রতি শুক্রবারে অর্ডার বেশি হয়ে থাকে। জেলার বেশ কিছু গ্রাম ও শহর থেকে খাবারের চাহিদা আসছে। তবে জনবল ও পুঁজি কম হওয়ায় সরবরাহ করা সম্ভব হয় না।

চয়ন বলেন, গ্রামে বসে শুধু একটি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে অনলাইন রেস্তোরাঁ চালিয়ে যে সফল হওয়া যায়, তা আসলে ভাবতেই অবাক লাগে। উদ্যোক্তা হওয়ার পর নিজেকে স্বাধীন মনে হয়। আগের জীবনটা ছিল ধরাবাঁধা নিয়মের মধ্যে। ভেবে ভালো লাগে, আমাদের কারণে আরও কিছু মানুষ নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে। বাবা অর্ডার অনুযায়ী মোটরসাইকেলে যথা সময়ে খাবার সরবরাহ করে থাকেন। দুই বোন ও মা খাবার প্রস্তুত করতে সহায়তা করেন। পাশাপাশি অর্ডার বেশি থাকলে আরও তিন নারী আমার সহায়ক হিসেবে কাজ করেন।

স্থানীয় কয়েকজন প্রতিবেশি বলেন, প্রায় পাঁচ মাস আগে অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের খাবার বিক্রি শুরু করেছেন চয়ন। অনেকেই ভেবেছিল এটা তেমন কিছু হবে না, কিন্তু এখন তারাই তার প্রশংসা করছেন। তবে গ্রামে বসে এতটা অল্প দামে শহরের সব খাবার পেয়ে গ্রামবাসী আনন্দিত।

মেয়ের সাফল্যের বিষয়ে বাবা নাসিমুল গণি বলেন, গ্রাম পর্যায়ে এমন একটি ডিজিটাল উদ্যোগ সফল হতে পারে, প্রথমে আমরা বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। এখন দেখছি, অনলাইনে বিশাল একটি বাজার আছে। যেখানে দেশের অনেক তরুণ উদ্যোক্তা অংশ নিতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, ছোট মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে গিয়ে খাবার যথাসময়ে পৌঁছে দেই। খাবার খেয়ে সবাই প্রশংসা করেন। মেয়ের এমন উদ্যোগে সত্যিই শুরুতে অবাক হয়েছিলাম। এখন এই উদ্যোগেই সংসারে সচ্ছলতা আসছে। স্বপ্ন আছে ভালোমানের একটা রেস্তোরাঁ দেবো।

সূত্রঃ রাইজিংবিডি.কম

বেলকুচিতে ডাক্তার দম্পতির উদ্যোগে বিনামূল্য চিকিৎসা সেবা ও ঔষুধ পেল অসহায় মানুষ !

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার ভাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নের শেলবরিষা সমাজ কল্যাণ সংস্থার ৪র্থ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কেক কেটে বিনামূল্য চিকিৎসা সেবা ও ঔষুধ বিতরনের উদ্বোধন করেন বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোফাখারুল ইসলাম। শেলবরিষা সমাজ কল্যাণ সংস্থা ও নাছরিন-আমীর সেবা কেন্দ্রের আয়োজনে বিনামূল্য চিকিৎসা সেবা ও ঔষুধ বিতরন করা হয়েছে।

১৫ই মে শনিবার সকাল থেকে দিন ব্যাপী বেলকুচি উপজেলার ভাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নের শেলবরিষা গ্রামে প্রতিষ্ঠিত শেলবরিষা সমাজ কল্যাণ সংস্থার কার্যালয়ে এ চিকিৎসা সেবা ও ঔষুধ বিতরন করা হয় ১০০ জন অসহায় হতদরিদ্র রোগীদের মাঝে।

এসময় রোগী দেখেন বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোফাখারুল ইসলাম ও ডাঃ আমিনুর রহমান রনি। ডাঃ মোফাখারুল ইসলাম বলেন ডাঃ কামরুল হাসান যে উদ্যোগ নিয়েছে তা এক কথায় ভালো উদ্যোগ। তার জন্য শুভ কামনা রইলো তিনি যেন সব সময় অসহায় মানুষের পাশে থাকতে পারেন।

এছাড়াও রোগী দেখেন শেলবরিষা সমাজ কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্টাতা পরিচালক ডাঃ এ বিএম কামরুল হাসান। তিনি বলেন আমি শেলবরিষা অজপাড়া গ্রাম থেকে খুব কষ্ট করে লেখাপড়া করে ডাক্তার হয়েছি। আমার বাবা মার স্বপ্ন ছিল আমি যেন ভালো করে পড়ালেখা করে ডাক্তার হয়ে সমাজের অসহায় মানুষদের পাশে থাকতে পারি তার জন্যই আমার বাবা মার নামে ২০১৭ সালের ৩১শে জানুয়ারী শেলবরিষা সমাজ কল্যাণ সংস্থা ও নাছরিন-আমীর সেবা কেন্দ্র প্রতিষ্টা করি। আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আছে শেলবরিষা গ্রামেই হবে অসহায় মানুষদের জন্য হাসপাতাল। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।

শেলবরিষা সমাজ কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ডাঃ এ বিএম কামরুল হাসানের বাবা আমীর হোসেন বলেন আমার জীবনে আর কিছু চাওয়ার নেই আমার শখ আমার ছেলে পূরন করেছে। আমার শখ ছিল আমার ছেলে কামরুল হাসান ভালো করে পড়ালেখা করে ডাক্তার হয়ে শেলবরিষা গ্রামের অসহায় মানুষের পাশে দাড়াবে আমার ছেলে কামরুল হাসান তা চেস্টা করছে। আপনারা সবাই আমার ছেলের জন্য দোয়া করবেন। আমার ছেলে যেন মৃত্যুর আগে পযন্ত আপনাদের সেবা করে যেতে পারে।

বেলকুচিতে প্রেমিকের ছুরিকাঘাতে কিশোরী নিহত

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে প্রেমিক সঞ্জয় সরকারের (১৮) ছুরিকাঘাতে পূজা সরকার (১৫) নামের এক কিশোরী নিহত হয়েছেন। ঘটনার পর থেকেই সঞ্জয় পলাতক রয়েছেন।

আজ সোমবার (৩ মে) সকাল সাড়ে ৯টায় উপজেলার শোলাকুড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত পূজা সরকার একই গ্রামের পবিত্র সরকারের মেয়ে। তিনি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন।

বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা বলেন, সঞ্জয় সরকারের সঙ্গে পূজার দীর্ঘদিন থেকে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কয়েকদিন ধরে তাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি চলছিল। এদিকে অন্যত্র বিয়ের ব্যাপারে পূজার বাবা সিদ্ধান্ত নেন। এতে সঞ্জয় ক্ষিপ্ত হন।

সোমবার সকালে পূজা বাড়ির উঠানে কাজ করছিল, এমন সময় পেছন থেকে ধারালো ছুরি দিয়ে তাকে আঘাত করেন সঞ্জয়। এসময় তার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে আসেন। তবে হাসপাতালে নেয়ার আগেই পূজা মারা যান।

এসময় সঞ্জয়ও ওই ছুরি দিয়ে নিজেকে আঘাত করে আহত হন। লোকজন আসলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

ওসি আরও বলেন, সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নেয়া হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হবে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা পবিত্র সরকার বাদী হয়ে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

বেলকুচিতে দৃষ্টিনন্দন বাহেলা খাতুন জামে মসজিদ

বাহেলা খাতুন জামে মসজিদ

দৃষ্টিনন্দন নির্মাণশৈলী দ্বারা নির্মিত আল-আমান বাহেলা খাতুন জামে মসজিদ। সিরাজগঞ্জ-এনায়েতপুর সড়কের বেলকুচি পৌরসদরে অবস্থিত। মসজিদ ভবনটি যে কেউ প্রথম দেখলেই মনের অনুভূতি হবে, এ যেন সৃষ্টির সঙ্গে স্রষ্টার এক অপূর্ব মেলবন্ধন।

প্রাপ্ততথ্যে জানা যায়, ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মুকুন্দগাতী গ্রামের শিল্পপতি মোহাম্মদ আলী সরকার বেলকুচি পৌরভবনসংলগ্ন দক্ষিণে আড়াই বিঘা জমির ওপর তার ছেলে আল-আমান ও মা বাহেলা খাতুনের নামে ‘আল-আমান বাহেলা খাতুন জামে মসজিদ’ কমপ্লেক্স নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

তিনি নিজস্ব অর্থায়নে ৩০ কোটি টাকার বেশি ব্যয় করে নয়নাভিরাম এ মসজিদটি নির্মাণ করেন। এটি নির্মাণে সময় লেগেছে চার বছর। শুরু থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪৫ শ্রমিক কাজ করেছেন।

তৃতীয় তলায় গম্বুজের সঙ্গে লাগানো ছাড়াও অন্যান্য স্থানে চায়না থেকে আনা বেশ কয়েকটি আলো ঝলমল ঝাড়বাতি লাগানো হয়েছে। দুই পাশে নির্মাণাধীন ১১ তলা সমতুল্য (১১০ ফিট) উচ্চতার মিনার থেকে আজানের ধ্বনি জমিনে ছড়িয়ে পড়ছে।

কারুকাজে মসজিদের বিভিন্ন স্থানকে আকর্ষণীয় করতে নান্দনিক নকশার কাজ করা হয়েছে। বিশেষ করে মসজিদের সম্মুখের উচ্চ দুটি সিঁড়ি এবং ব্যতিক্রমী প্রবেশ পথ ও প্রধান ফটক যে কারও দৃষ্টি কাড়ে।

বেলকুচিতে ঝড়ে ১২২৩ হেক্টর জমির ধানের ক্ষতি

গত রবিবার বিকেলের কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার ধুকরিয়াবেড়া ও দৌলতপুর ইউনিয়নের ১৫ হাজার ১৭৬ জন কৃষকের ১ হাজার ২২৩ হেক্টর জমির ইরি-বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে।

এ ছাড়া এ ঝড়ে ৬৯.৫ হেক্টর জমির সবজি, ১০.৩ হেক্টর জমির পাট ও ২.৫ হেক্টর জমির তিলের ক্ষতি হয়েছে।

এ ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২১ কোটি টাকা বলে বেলকুচি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো হল- দৌলতপুর, ধুকুরিয়াবেড়া, লক্ষিপুর, গোপালপুর, সাতলাঠি, খামার উল্লাপাড়া, গয়নাকান্দি, জালু মেটুয়ানি ও সরাতৈল।

এসব ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার কৃষকেরা সারা বছর এখন কী খেয়ে জীবন ধারণ করবেন সেই চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

এ বিষয়ে বেলকুচি উপজেলার ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আলহাজ আলী ও সড়াতৈল গ্রামের রমজান মাল বলেন, রবিবার বাদ আসরের দিকে আকাশে একখণ্ড মেঘ জমে। তা মুহূর্তে কালো অন্ধকারে পুরো এলাকা ছেয়ে ফেলে। এরপর শুরু হয় দমকা হাওয়া ও শিলাবৃষ্টি। আধঘণ্টাব্যাপী এ ঝড়ে গাছপালা ও বাড়িঘর ভেঙে মাটিতে শুয়ে পড়ে। ঘরের টিন উড়ে গাছের ডালে আটকে পড়ে। এ ছাড়া দমকা ও ঝড়ো বাতাসে উঠতি ইরি-বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়। শিলের আঘাতে ধানের থোড় ভেঙে গেছে।

এ বিষয়ে দৌলতপুর গ্রামের কৃষক হাজী শওকত আলী, ফজলুল হক, মোছা. হালিমা খাতুন, নূরু প্রামাণিক, আবুল কাশেম, নজরুল ইসলাম, ধুকুরিয়াবেড়া গ্রামের নজরুল মোল্লা, জালু মেটুয়ানি গ্রামের তালেব আলী, রতন সরকার বলেন, চোখের সামনে শিলের আঘাতে সব জমির উঠতি ইরি-বোরো ধান নষ্ট হয়ে গেছে। সারা বছর এ ধান দিয়ে আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে জীবিকা-নির্বাহ করি। ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আমরা সারা বছর কি খেয়ে থাকব তা ভেবে পাচ্ছি না। সরকার আমাদের অনুদান ও কৃষি প্রণোদনা না দিলে আমাদের না খেয়ে মরতে হবে।

এ ছাড়া এ ঝড়ে জালু মেটুয়ানি গ্রামের মাস্টার পোল্ট্রি ফিডের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ বিষয়ে এ পোলট্রি ফিটের মালিক আব্দুল আজিজ মাস্টার জানান, তার ফার্মের একটি নতুন শেডের সিমেন্টের টিনের চাল শিলার আঘাতে ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।

এ ছাড়া অপর একটি শেডের টিনের চাল ঝড়ে উড়ে গেছে। ফলে ২০০ মুরগি মারা গেছে। এতে তার ৪/৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

এ বিষয়ে বেলকুচি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কল্যাণ প্রসাদ পাল বলেন, কৃষকদের এ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠিয়েছি। বরাদ্দ পাওয়া গেলে তা কৃষকদের মাঝে দ্রুত বিতরণ করা হবে।

এ ছাড়া শাহজাদপুর উপজেলার খুকনি ইউনিয়নের খুকনি ইসলামপুর, গুপিনাথপুর ও উল্লাপাড়া উপজেলার উধুনিয়া ইউনিয়নের উধুনিয়া, আগরপুর, গজাইল, সলপ ইউনিয়নের ভাঙ্গাবাড়ি, শ্রীপুর ও গবিন্দপুরে এ ঝড়ে ইরি-বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর শোক প্রকাশ


মন্ডল গ্রুপের চেয়ারম্যান সাবেক এমপি আবদুল মজিদ মন্ডল আর নেই

সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবদুল মজিদ মন্ডল (৭২) আর নেই। বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে স্বাসকষ্ট জনিত কারণে ঢাকার উত্তরার বাসা থেকে স্কয়ার হাসপাতালে নেয়ার পথে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি মন্ডল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এনায়েতপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন।

তার বড় ছেলে বর্তমান সংসদ সদস্য আবদুল মমিন মন্ডলের এপিএস তাজ উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, আবদুল মজিদ মন্ডল মৃত্যুকালে স্ত্রী, ২ ছেলে ও ২ মেয়ে সহ আত্মীয়-স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী ও গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আ’লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, জেলা-থানা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ, শাহজাদপুরের এমপি আলহাজ্ব হাসিবুর রহমান স্বপন, এনায়েতপুর প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন মহল।

পারিবার ও রাজনৈতিক সুত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ জেলার এনায়েতপুর থানাধীন রুপনাই গ্রামের মৃত হাজী জহুরুল ইসলামের বড় ছেলে শিল্পোদ্যক্তা আলহাজ্ব আবদুল মজিদ মন্ডল ব্যবসায়ী জগতে এক উজ্জল নক্ষত্র হয়ে দেশের বিখ্যাত গার্মেন্ট শিল্প প্রতিষ্ঠান মন্ডল গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এছাড়া বেশ কয়েকটি শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠা এবং সমাজ হিতৈশী ব্যক্তিত্ব হিসেবে এলাকায় যথেষ্ট সুনাম রয়েছে।

এছাড়া রাজনৈতিক নেতা হিসেবে আবদুল মজিদ মন্ডল তার নির্বাচনী এলাকায় একজন মানবিক সংসদ সদস্য হিসেবে নেতাকর্মীদের অন্তরে জায়গা করে নিয়েছিলেন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নৌকা প্রতীকে বিজয়ী হন। এর আগে তিনি সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মজিদ মন্ডল সরকারী সহায়তার পাশাপাশি হাজী আবদুল মজিদ মন্ডল ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে শীতের সময় কম্বল, বন্যা ও নানা দুর্যোগে আর্থিক, ইফতার ও খাদ্য সামগ্রীসহায়তা করেছেন। নির্লোভ এই শিল্পপতি ও সাবেক সাংসদ এলাকার উন্নয়নে রেখেছেন স্বরণীয় ভুমিকা।

এদিকে আবদুল মজিদ মন্ডলের ইন্তেকালের খবরে তার নির্বাচনী এলাকার সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সহ সর্বস্তরের জনসাধারনে মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শুক্রবার বাদ জুমা রুপনাই ঈদগাহ ময়দানে নামাজে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন সম্পন্ন হবে।

তার বিদেহী আত্মার রুহের মাগফিরাত কামনার পরিবারের পক্ষ থেকে সকলের নিকট দোয়া চেয়েছেন বড় ছেলে বর্তমান সংসদ সদস্য ও মন্ডল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল মমিন মন্ডল।

সিরাজগঞ্জে তিনটিতে আ.লীগ একটিতে বিদ্রোহী প্রার্থী জয়ী

শনিবার ১৬ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জের চারটি পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে তিনটিতে আওয়ামী লীগ ও একটিতে স্বতন্ত্র (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) প্রার্থী বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

শনিবার সকাল থেকে ভোটগ্রহন শুরু হয়ে বিকাল ৪টা পর্য়ন্ত চলে, ভোট গণনা শেষে রাতে স্ব স্ব এলাকার রিটার্নিং কর্মকর্তা বিজয়ী প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন।

সিরাজগঞ্জ সদরে সৈয়দ আব্দুর রউফ মুক্তা, উল্লাপাড়ায় এস. এম নজরুল ইসলাম ও রায়গঞ্জে আব্দুল্লাহ আল পাঠান দ্বিতীয়বারের মতো বিজয়ী হয়েছেন। তারা সবাই নৌকার দলীয় প্রার্থী। শুধুমাত্র বেলকুচিতে প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাজ্জাদুল হক রেজা নির্বাচিত হয়েছেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও জেলা রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত প্রেস নোটিশে মেয়র পদে বেসরকারীভাবে নির্বাচনের সর্বশেষ ফলাফল ঘোষণা করা হয়। মোট ৫৭টি ভোট কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফল থেকে জানা যায়, আওয়ামীলীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীকে সৈয়দ আব্দুর রউফ মুক্তা ৬৮,৩৪৮টি ভোট পেয়ে বেসরকারীভাবে দ্বিতীয়বারের মত মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। অপরদিকে বিএনপি সমর্থিত ধানের শীষ প্রতীকে সাইদুর রহমান বাচ্চু পেয়েছেন ১০,৬৮৯ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী মোবাইল প্রতীকে টি আর এম নূর-ই-আলম হেলাল পেয়েছেন  ১,৪৮৮ ভোট।

উল্লাপাড়ার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, উল্লাপাড়া পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এস. এম নজরুল ইসলাম ২৪ হাজার ৫০৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আজাদ হোসেন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ১৩৩ ভোট।

রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান জানান, রায়গঞ্জ পৌরসভায় বেসরকারি ফলাফলে আওয়ামী লীগের আব্দুল্লাহ আল পাঠান বিজয়ী হয়েছেন। নৌকা প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৮ হাজার ৯২০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম পেয়েছেন ৫৭৫ ভোট।

বেলকুচির নির্বাচন কর্মকর্তা আশরাফুল হক জানান, বেলকুচি পৌরসভায় স্বতন্ত্র প্রার্থী সাজ্জাদুল হক রেজা নারিকেল গাছ প্রতীকে ১৮ হাজার ৩৮৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আশানুর বিশ্বাস নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ১২ হাজার ৭৮৪ ভোট। এছাড়া ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপি প্রার্থী হাজী আলতাফ হোসেন পেয়েছেন ৩ হাজার ৮৪০ ভোট।

উল্লেখ্য, কাজিপুর পৌরসভায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় আব্দুল হান্নান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন।

বেলকুচিতে ট্রাকের ধাক্কায় নিহত ১

সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদ-এনায়েতপুর আঞ্চলিক সড়কে ট্রাকের ধাক্কায় নজরুল ইসলাম (৬০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোরে বেলকুচি উপজেলার সমেশপুর আঞ্চলিক সড়কে হাটতে বের হলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নজরুল ইসলাম সমেশপুর গ্রামের মৃত আজগর আলী সরকারের ছেলে। স্থানীয় ইউপি সদস্য জুয়েল আহম্মেদ স্থানীয়রা জানান,ভোরে সমেশপুর আঞ্চলিক সড়কে মর্নিং ওয়ার্কে গেলে অপর প্রান্ত থেকে আসা একটি মিনি ট্রাক চাপায় সে মারা যায়।

বেলকুচি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম মোস্তফা জানান,খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরন করা হবে। ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে এবং চালক পালাতক রয়েছে।

মাদ্রাসা ছাত্রীকে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা করলেন ইউএনও

সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলার ধুকুরিয়া বেড়া ইউনিয়নের কল্যাণপুর মধ্যপাড়া গ্রামে বাল্যবিবাহ বন্ধ করেন বেলকুচি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আনিসুর রহমান। তিনি দশম শ্রেনীর ছাত্রীকে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা করেন।

রবিবার রাতে কল্যাণপুর মধ্যপাড়া গ্রামে কনের বাড়ীতে সংগীয় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত উপস্থিত হন। তখন কনের বাড়ীতে কল্যাণপুর মধ্যপাড়া গ্রামের দশম শ্রেণীর মাদ্রাসা ছাত্রী (১৫) এর সাথে সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুর উপজেলার রুপনাই গ্রামের তাত শ্রমিক (২৪) এর বিয়ের আয়োজন চলছিল। কনে স্থানীয় মাদ্রাসার দশম শ্রেনীর ছাত্রী। কনে অপ্রাপ্তবয়স্ক। ভ্রাম্যমাণ আদালত বাল্যবিবাহ বন্ধ করে বর ও কনের মামা প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন এবং কনের পিতাকে বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে বুঝালে তিনি তার ভুল বুঝতে পারেন এবং তার মেয়েকে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিবাহ দিবেন না বলে মুচলেকা দেন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বেলকুচি থানার এএসআই মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, পেশকার মোঃ হাফিজ উদ্দিন ও আনসার বাহিনীর সদস্যবৃন্দ।