প্রধানমন্ত্রীর শোক প্রকাশ


মন্ডল গ্রুপের চেয়ারম্যান সাবেক এমপি আবদুল মজিদ মন্ডল আর নেই

সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবদুল মজিদ মন্ডল (৭২) আর নেই। বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে স্বাসকষ্ট জনিত কারণে ঢাকার উত্তরার বাসা থেকে স্কয়ার হাসপাতালে নেয়ার পথে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি মন্ডল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এনায়েতপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন।

তার বড় ছেলে বর্তমান সংসদ সদস্য আবদুল মমিন মন্ডলের এপিএস তাজ উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, আবদুল মজিদ মন্ডল মৃত্যুকালে স্ত্রী, ২ ছেলে ও ২ মেয়ে সহ আত্মীয়-স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী ও গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আ’লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, জেলা-থানা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ, শাহজাদপুরের এমপি আলহাজ্ব হাসিবুর রহমান স্বপন, এনায়েতপুর প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন মহল।

পারিবার ও রাজনৈতিক সুত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ জেলার এনায়েতপুর থানাধীন রুপনাই গ্রামের মৃত হাজী জহুরুল ইসলামের বড় ছেলে শিল্পোদ্যক্তা আলহাজ্ব আবদুল মজিদ মন্ডল ব্যবসায়ী জগতে এক উজ্জল নক্ষত্র হয়ে দেশের বিখ্যাত গার্মেন্ট শিল্প প্রতিষ্ঠান মন্ডল গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এছাড়া বেশ কয়েকটি শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠা এবং সমাজ হিতৈশী ব্যক্তিত্ব হিসেবে এলাকায় যথেষ্ট সুনাম রয়েছে।

এছাড়া রাজনৈতিক নেতা হিসেবে আবদুল মজিদ মন্ডল তার নির্বাচনী এলাকায় একজন মানবিক সংসদ সদস্য হিসেবে নেতাকর্মীদের অন্তরে জায়গা করে নিয়েছিলেন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নৌকা প্রতীকে বিজয়ী হন। এর আগে তিনি সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মজিদ মন্ডল সরকারী সহায়তার পাশাপাশি হাজী আবদুল মজিদ মন্ডল ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে শীতের সময় কম্বল, বন্যা ও নানা দুর্যোগে আর্থিক, ইফতার ও খাদ্য সামগ্রীসহায়তা করেছেন। নির্লোভ এই শিল্পপতি ও সাবেক সাংসদ এলাকার উন্নয়নে রেখেছেন স্বরণীয় ভুমিকা।

এদিকে আবদুল মজিদ মন্ডলের ইন্তেকালের খবরে তার নির্বাচনী এলাকার সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সহ সর্বস্তরের জনসাধারনে মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শুক্রবার বাদ জুমা রুপনাই ঈদগাহ ময়দানে নামাজে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন সম্পন্ন হবে।

তার বিদেহী আত্মার রুহের মাগফিরাত কামনার পরিবারের পক্ষ থেকে সকলের নিকট দোয়া চেয়েছেন বড় ছেলে বর্তমান সংসদ সদস্য ও মন্ডল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল মমিন মন্ডল।

সিরাজগঞ্জে তিনটিতে আ.লীগ একটিতে বিদ্রোহী প্রার্থী জয়ী

শনিবার ১৬ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জের চারটি পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে তিনটিতে আওয়ামী লীগ ও একটিতে স্বতন্ত্র (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) প্রার্থী বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

শনিবার সকাল থেকে ভোটগ্রহন শুরু হয়ে বিকাল ৪টা পর্য়ন্ত চলে, ভোট গণনা শেষে রাতে স্ব স্ব এলাকার রিটার্নিং কর্মকর্তা বিজয়ী প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন।

সিরাজগঞ্জ সদরে সৈয়দ আব্দুর রউফ মুক্তা, উল্লাপাড়ায় এস. এম নজরুল ইসলাম ও রায়গঞ্জে আব্দুল্লাহ আল পাঠান দ্বিতীয়বারের মতো বিজয়ী হয়েছেন। তারা সবাই নৌকার দলীয় প্রার্থী। শুধুমাত্র বেলকুচিতে প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাজ্জাদুল হক রেজা নির্বাচিত হয়েছেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও জেলা রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত প্রেস নোটিশে মেয়র পদে বেসরকারীভাবে নির্বাচনের সর্বশেষ ফলাফল ঘোষণা করা হয়। মোট ৫৭টি ভোট কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফল থেকে জানা যায়, আওয়ামীলীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীকে সৈয়দ আব্দুর রউফ মুক্তা ৬৮,৩৪৮টি ভোট পেয়ে বেসরকারীভাবে দ্বিতীয়বারের মত মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। অপরদিকে বিএনপি সমর্থিত ধানের শীষ প্রতীকে সাইদুর রহমান বাচ্চু পেয়েছেন ১০,৬৮৯ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী মোবাইল প্রতীকে টি আর এম নূর-ই-আলম হেলাল পেয়েছেন  ১,৪৮৮ ভোট।

উল্লাপাড়ার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, উল্লাপাড়া পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এস. এম নজরুল ইসলাম ২৪ হাজার ৫০৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আজাদ হোসেন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ১৩৩ ভোট।

রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান জানান, রায়গঞ্জ পৌরসভায় বেসরকারি ফলাফলে আওয়ামী লীগের আব্দুল্লাহ আল পাঠান বিজয়ী হয়েছেন। নৌকা প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৮ হাজার ৯২০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম পেয়েছেন ৫৭৫ ভোট।

বেলকুচির নির্বাচন কর্মকর্তা আশরাফুল হক জানান, বেলকুচি পৌরসভায় স্বতন্ত্র প্রার্থী সাজ্জাদুল হক রেজা নারিকেল গাছ প্রতীকে ১৮ হাজার ৩৮৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আশানুর বিশ্বাস নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ১২ হাজার ৭৮৪ ভোট। এছাড়া ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপি প্রার্থী হাজী আলতাফ হোসেন পেয়েছেন ৩ হাজার ৮৪০ ভোট।

উল্লেখ্য, কাজিপুর পৌরসভায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় আব্দুল হান্নান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন।

বেলকুচিতে ট্রাকের ধাক্কায় নিহত ১

সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদ-এনায়েতপুর আঞ্চলিক সড়কে ট্রাকের ধাক্কায় নজরুল ইসলাম (৬০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোরে বেলকুচি উপজেলার সমেশপুর আঞ্চলিক সড়কে হাটতে বের হলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নজরুল ইসলাম সমেশপুর গ্রামের মৃত আজগর আলী সরকারের ছেলে। স্থানীয় ইউপি সদস্য জুয়েল আহম্মেদ স্থানীয়রা জানান,ভোরে সমেশপুর আঞ্চলিক সড়কে মর্নিং ওয়ার্কে গেলে অপর প্রান্ত থেকে আসা একটি মিনি ট্রাক চাপায় সে মারা যায়।

বেলকুচি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম মোস্তফা জানান,খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরন করা হবে। ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে এবং চালক পালাতক রয়েছে।

মাদ্রাসা ছাত্রীকে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা করলেন ইউএনও

সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলার ধুকুরিয়া বেড়া ইউনিয়নের কল্যাণপুর মধ্যপাড়া গ্রামে বাল্যবিবাহ বন্ধ করেন বেলকুচি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আনিসুর রহমান। তিনি দশম শ্রেনীর ছাত্রীকে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা করেন।

রবিবার রাতে কল্যাণপুর মধ্যপাড়া গ্রামে কনের বাড়ীতে সংগীয় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত উপস্থিত হন। তখন কনের বাড়ীতে কল্যাণপুর মধ্যপাড়া গ্রামের দশম শ্রেণীর মাদ্রাসা ছাত্রী (১৫) এর সাথে সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুর উপজেলার রুপনাই গ্রামের তাত শ্রমিক (২৪) এর বিয়ের আয়োজন চলছিল। কনে স্থানীয় মাদ্রাসার দশম শ্রেনীর ছাত্রী। কনে অপ্রাপ্তবয়স্ক। ভ্রাম্যমাণ আদালত বাল্যবিবাহ বন্ধ করে বর ও কনের মামা প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন এবং কনের পিতাকে বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে বুঝালে তিনি তার ভুল বুঝতে পারেন এবং তার মেয়েকে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিবাহ দিবেন না বলে মুচলেকা দেন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বেলকুচি থানার এএসআই মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, পেশকার মোঃ হাফিজ উদ্দিন ও আনসার বাহিনীর সদস্যবৃন্দ।

বেলকুচিতে ৮ স্কুলছাত্রীকে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা করলেন ইউএনও

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলায় এক দিনে ৮জন স্কুলছাত্রীকে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা করেছেন বেলকুচি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আনিসুর রহমান।

শুক্রবার দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে এ বাল্যবিবাহগুলো বন্ধ করা হয়।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আনিসুর রহমান জানান, শুক্রবার বিকাল ৪ টার দিকে বেলকুচি পৌরসভার চরচালা এলাকার অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী (১৪), বিকাল ৫ টায় উপজেলার গাড়ামাসী এলাকার সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী (১২), সন্ধ্যা ৬ টায় সূবর্ণসাড়া এলাকায় দশম শ্রেনীর ছাত্রী (১৫), রাত ৮ টায় দৌলতপুর ইউনিয়নের দৌলতপুর পেস্তকপাড়া গ্রামের সালাম মার্কেট এলাকায় দশম শ্রেণীর ছাত্রী (১৪), রাত ৯ টায় চন্দনগাতী দক্ষিণপাড়া এলাকায় ৬ষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্রী (১৩), রাত ৯ টায় চন্দনগাতী দক্ষিণপাড়া এলাকায় একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী (১৭), রাত ১০ টায় ধুকুরিয়া বেড়া ইউনিয়নের কল্যাণপুর গ্রামে সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী (১২) এবং দৌলতপুর ইউনিয়নের দৌলতপুর পেস্তকপাড়া গ্রামের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী (১৫) এর বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়।

তিনি আরো জানান, শুক্রবার দুপুরে হতে গভীর রাত পর্যন্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বাল্যবিবাহগুলো বন্ধ করা হয়। আটটি বাল্যবিবাহের ছয়টিতে কনে অপ্রাপ্তবয়স্ক ও দুইটিতে বর ও কনে উভয়ই অপ্রাপ্তবয়স্ক। বাল্যবিবাহগুলো বন্ধ করে সর্বমোট ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। প্রত্যেক প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বর ও কনের বাবার কাছ থেকে বর ও কনে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিবাহ দিবেন না বলে মুচলেকা নেয়া হয়।

এসময় বাল্যবিবাহগুলো বন্ধে সহযোগিতা করেন বেলকুচি থানার উপপরিদর্শক রবিউল, সহকারী উপপরিদর্শক জহুরুল ইসলাম, এ এসআই মোস্তাফিজ, পেশকার মোঃ হাফিজ উদ্দিন, বেলকুচি থানা পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যবৃন্দ।

উল্লেখ্য যে, বেলকুচি উপজেলার বর্তমান ইউএনও মোঃ আনিসুর রহমান সিরাজগঞ্জ সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে ও ইউএনও বেলকুচি হিসেবে কর্মকালীন সময়ে ইতোপূর্বে আরও তিনবার একদিনে ৭ টি বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

একদিনে ৫স্কুলছাত্রীকে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা করলেন বেলকুচির ইউএনও

সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলায় একই দিনে পাচ স্কুলছাত্রীকে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা করেছেন বেলকুচি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আনিসুর রহমান। শুক্রবার দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে এ বাল্যবিবাহগুলো বন্ধ করা হয়।

প্রথমে বিকাল ৪ টায় সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের সমেশপুর গ্রামে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী (১৩), বিকাল ৫ টায় পৌরসভার সোহাগপুর গোহাটা এলাকায় অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী(১৩), সন্ধ্যা ৬ টায় দৌলতপুর ইউনিয়নের শোলাকুড়া গ্রামে নবম শ্রেনীর ছাত্রী (১৪), রাত ৮ টায় দৌলতপুর ইউনিয়নের ক্ষিদ্রগোপরেখী গ্রামে একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী (১৭) এবং রাত ৯ টায় ধুকুরিয়া বেড়া ইউনিয়নের ধুকুরিয়া বেড়া গ্রামে দশম শ্রেনীর ছাত্রী (১৬) এর বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে হতে গভীর রাত পর্যন্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বাল্যবিবাহ গুলো বন্ধ করা হয়। পাচটি বাল্যবিবাহেই কনের অপ্রাপ্তবয়স্ক।বাল্যবিবাহগুলো বন্ধ করে সর্বমোট ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। প্রত্যেক প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কনের বাবার কাছ থেকে কনে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিবাহ দিবেন না বলে মুচলেকা নেয়া হয়।

বাল্যবিবাহগুলো বন্ধে সহযোগিতা করেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোছাঃ কাশ্মীর সুলতানা, পেশকার মোঃ হাফিজ উদ্দিন, বেলকুচি থানা পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যবৃন্দ।

বেলকুচিতে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত তাঁত শ্রমিকদের অর্থ সহায়তা

জেলার বেলকুচি উপজেলায় কোভিড-১৯ মহামারির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্রতাঁতী ও তাঁত শ্রমিকদের মাঝে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত প্রণোদনার অর্থ প্রদান করা হয়।

বুধবার বেলকুচি উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রণোদনার নগদ অর্থ তুলে দেন সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন- বেলকুচি উপজেলা পরিষদের মো. চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম (সাজেদুল), বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান, বেলকুচি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস. এম. রবিন শীষ, তাঁতবোর্ড বেলকুচি উপজেলার লিয়াজো কর্মকর্তা মোছা. তন্বীসহ অন্যান্য।

উল্লেখ্য কোভিড-১৯ মহামারি ও সাম্প্রতিক বন্যায় সিরাজগঞ্জের তাঁতশিল্পের অন্যতম প্রসিদ্ধ অঞ্চল বেলকুচির তাঁতিরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

বেলকুচিতে বাল্যবিবাহ রুখে দিলেন ইউএনও

সারা বিশ্ব যখন করোনা নিয়ে দিশেহারা, দেশব্যাপী যখন সকল ধরণের সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ঠিক সেই সময়ে সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলার পৌর এলাকার শেরনগর মধ্যপাড়া এলাকায় বাল্যবিবাহ বিবাহের আয়োজন থেমে নেই। এ ঘটনার তথ্য পেয়ে তৎক্ষণাৎ কনের বাড়িতে হাজির হয়ে বাল্যবিবাহের আয়োজন বন্ধ করে দেন বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুর রহমান। এ সময় অষ্টম শ্রেনীতে পড়ুয়া ছাত্রীকে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা করে।

সোমবার (৩ আগষ্ট) বিকালে বেলকুচি পৌরসভার শেরনগর মধ্যপাড়া এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়ে কনের বাড়ীতে উপস্থিত হয়। তখন কনের বাড়ীতে কনে বেলকুচি পৌরসভার শেরনগর মধ্যপাড়া এলাকার অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী এর সাথে রায়গঞ্জ উপজেলার ধামাইরনগর গ্রামের পরিবহন শ্রমিক এর বিয়ের আয়োজন চলছিল। কনে স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেনীর ছাত্রী। বর ও কনে উভয়ই অপ্রাপ্তবয়স্ক।

এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত বাল্যবিবাহ বন্ধ করে বর ও কনের বাবা প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন। বর ও কনের বাবাকে বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে বুঝালে তারা তাদের ভুল বুঝতে পারেন এবং তাদের ছেলে ও মেয়েকে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিবাহ দিবে না বলে মুচলেকা দেন।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস,এম রবিন শীষ, বেলকুচি থানার উপপরিদর্শক মো. রবিউল ইসলাম ও থানা পুলিশের সদস্যবৃন্দ।

এ বিষয়ে বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান জানান, বাল্যবিবাহ একটা সামাজিক ব্যাধি। বেলকুচি উপজেলা প্রশাসন এ বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সঠিক তথ্য প্রদান করলে আমরা দ্রুত সময়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

উল্লেখ, বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান সিরাজগঞ্জ সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) থাকাকালীন ২৫০টি বাল্যবিবাহ বন্ধ করে পুরষ্কৃত হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয় ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তার দায়িত্বশীল পদক্ষেপ সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে।

বেলকুচিতে এমপি মমিন মন্ডলের করোনা মুক্তির জন্য দোয়া

ছবিঃ ফেসবুক থেকে সংগৃহিত

সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মমিন মন্ডলের করোনা মুক্তির জন্য ফাতিহা পাঠ ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে বেলকুচি উপজেলার সূর্বণসাড়া জামিয়া সিদ্দিকিয়া কওমিয়া হাফিজিয়া কবরস্থান মাদ্রাসার উদ্যোগে এ বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অত্র মাদ্রাসায় মোহতামিম মওলানা আব্দুল হাকিম দোয়া পরিচালনা করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অত্র মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মীর আব্দুস সবুর দিলিপ, মুফতি আব্দুল আলিম, বিশিষ্ঠ্য সমাজসেবক গোলাম আজম মন্ডল, ডাঃ সাইফুল ইসলাম, আবুল কাসেম আকন্দ, বদিউজ্জামান, রহিদুল ইসলাম মন্ডল ও গ্রামের গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ এবং মাদ্রাসার ছাত্রবৃন্দ।

উক্ত দোয়া মাহফিলের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন উন্নয়ন অনুসন্ধান ফাউন্ডেশনের সমন্বয়কারী আব্দুল হাকিম মন্ডল এবং তিনি নিজ উদ্দ্যোগে উপস্থিত শতাধিক মানুষের মাঝে মাস্ক বিতরণ করেন।এবং ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল ইসলাম সরকার সংসদ সদস্য আব্দুল মোমিন মন্ডলের রোগ আরগ্যের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন ।

উল্লেখ্য, এম পি আব্দুল মোমিন মন্ডল গত ২০ শে জুলাই করোনা পজিটিভ হন । তিনি মন্ডল গ্রুপের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক ।বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন ।

বেলকুচির হাট-বাজারে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি ও শারীরিক দূরত্ব

অন্যতম জনবহুল অঞ্চল বেলকুচি। ১৬৪.৩১ বর্গ কিলোমিটার আয়তনে জেলার ২য় ক্ষুদ্রতম উপজেলা বেলকুচি। যেখানো প্রায় জনসংখ্যা ৩,৫২,৮৩৫ জন। প্রতি বর্গকিলোমিটারে ২২২১ জন মানুষের বসবাস।

করোনা মহামারিতে এই উপজেলার অবস্থান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আক্রান্তের সংখ্যায় কিছুদিন জেলার ১ম স্থানে থাকলে ও বর্তমানে ১৪৩ জন করোনা পজিটিভ নিয়ে ২য় অবস্থানে আছে।

এই উপজেলাতে আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের বক্তব্য এরকম।

বেলকুচিতে শিক্ষার হার ৪০.৪ শতাংশ। যার ফলে গণসচেতনতার অভাব রয়েছে এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়ার সুবাধে সেভাবে স্বাস্থ্যবিধি ও শারীরিক দূরত্ব মানা হয় না। এইজন্য আক্রান্ত তুলনামূলক বেশি।

বেলকুচির জনপ্রিয় হাট/ বাজার সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায় খুব কম সংখ্যক মানুষের মুখে মাস্ক রয়েছে এবং স্বাস্থ্যবিধি/ শারীরিক দূরত্বের একদম নাজেহাল অবস্থা!

এখন করোনা টেস্টের জন্য যেহেতু ফি নির্ধারিত হয়েছে সেক্ষেত্রে নিম্নআয়ের, দুস্থ, অসহায় মানুষগুলো করোনা পরীক্ষার সুযোগ পাচ্ছে না। তাই ঝুঁকি দিন দিন প্রবল হচ্ছে।

আসন্ন ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় বসবে গবাদি পশুর হাট। সেক্ষেত্রে হাটগুলো সঠিকভাবে নজরদারি না করা গেলে বিপর্যয়ের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

এমন স্পর্শকাতর বিষয়ে নেই উপজেলা প্রশাসনের কার্যকর ব্যবস্থা। হাট কমিটির সতর্কতামূলক কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

এ বিষয়ে বেলকুচির সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মী খন্দকার মোহাম্মদ আলী বলেন, বেলকুচিতে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ। স্বাস্থ্যবিধি/ শারীরিক দূরত্ব জনগণ মানছে না।কোরবানির পশুর হাটের আগেই যদি কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়। তাহলে বেলকুচিবাসীদের কে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হবে।

এই বিষয়ে দায়িত্বশীলদের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সময়ের দাবী।