একদিনে ৫স্কুলছাত্রীকে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা করলেন বেলকুচির ইউএনও

সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলায় একই দিনে পাচ স্কুলছাত্রীকে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা করেছেন বেলকুচি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আনিসুর রহমান। শুক্রবার দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে এ বাল্যবিবাহগুলো বন্ধ করা হয়।

প্রথমে বিকাল ৪ টায় সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের সমেশপুর গ্রামে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী (১৩), বিকাল ৫ টায় পৌরসভার সোহাগপুর গোহাটা এলাকায় অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী(১৩), সন্ধ্যা ৬ টায় দৌলতপুর ইউনিয়নের শোলাকুড়া গ্রামে নবম শ্রেনীর ছাত্রী (১৪), রাত ৮ টায় দৌলতপুর ইউনিয়নের ক্ষিদ্রগোপরেখী গ্রামে একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী (১৭) এবং রাত ৯ টায় ধুকুরিয়া বেড়া ইউনিয়নের ধুকুরিয়া বেড়া গ্রামে দশম শ্রেনীর ছাত্রী (১৬) এর বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে হতে গভীর রাত পর্যন্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বাল্যবিবাহ গুলো বন্ধ করা হয়। পাচটি বাল্যবিবাহেই কনের অপ্রাপ্তবয়স্ক।বাল্যবিবাহগুলো বন্ধ করে সর্বমোট ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। প্রত্যেক প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কনের বাবার কাছ থেকে কনে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিবাহ দিবেন না বলে মুচলেকা নেয়া হয়।

বাল্যবিবাহগুলো বন্ধে সহযোগিতা করেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোছাঃ কাশ্মীর সুলতানা, পেশকার মোঃ হাফিজ উদ্দিন, বেলকুচি থানা পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যবৃন্দ।

বেলকুচিতে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত তাঁত শ্রমিকদের অর্থ সহায়তা

জেলার বেলকুচি উপজেলায় কোভিড-১৯ মহামারির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্রতাঁতী ও তাঁত শ্রমিকদের মাঝে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত প্রণোদনার অর্থ প্রদান করা হয়।

বুধবার বেলকুচি উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রণোদনার নগদ অর্থ তুলে দেন সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন- বেলকুচি উপজেলা পরিষদের মো. চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম (সাজেদুল), বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান, বেলকুচি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস. এম. রবিন শীষ, তাঁতবোর্ড বেলকুচি উপজেলার লিয়াজো কর্মকর্তা মোছা. তন্বীসহ অন্যান্য।

উল্লেখ্য কোভিড-১৯ মহামারি ও সাম্প্রতিক বন্যায় সিরাজগঞ্জের তাঁতশিল্পের অন্যতম প্রসিদ্ধ অঞ্চল বেলকুচির তাঁতিরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

বেলকুচিতে বাল্যবিবাহ রুখে দিলেন ইউএনও

সারা বিশ্ব যখন করোনা নিয়ে দিশেহারা, দেশব্যাপী যখন সকল ধরণের সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ঠিক সেই সময়ে সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলার পৌর এলাকার শেরনগর মধ্যপাড়া এলাকায় বাল্যবিবাহ বিবাহের আয়োজন থেমে নেই। এ ঘটনার তথ্য পেয়ে তৎক্ষণাৎ কনের বাড়িতে হাজির হয়ে বাল্যবিবাহের আয়োজন বন্ধ করে দেন বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুর রহমান। এ সময় অষ্টম শ্রেনীতে পড়ুয়া ছাত্রীকে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা করে।

সোমবার (৩ আগষ্ট) বিকালে বেলকুচি পৌরসভার শেরনগর মধ্যপাড়া এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়ে কনের বাড়ীতে উপস্থিত হয়। তখন কনের বাড়ীতে কনে বেলকুচি পৌরসভার শেরনগর মধ্যপাড়া এলাকার অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী এর সাথে রায়গঞ্জ উপজেলার ধামাইরনগর গ্রামের পরিবহন শ্রমিক এর বিয়ের আয়োজন চলছিল। কনে স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেনীর ছাত্রী। বর ও কনে উভয়ই অপ্রাপ্তবয়স্ক।

এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত বাল্যবিবাহ বন্ধ করে বর ও কনের বাবা প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন। বর ও কনের বাবাকে বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে বুঝালে তারা তাদের ভুল বুঝতে পারেন এবং তাদের ছেলে ও মেয়েকে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিবাহ দিবে না বলে মুচলেকা দেন।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস,এম রবিন শীষ, বেলকুচি থানার উপপরিদর্শক মো. রবিউল ইসলাম ও থানা পুলিশের সদস্যবৃন্দ।

এ বিষয়ে বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান জানান, বাল্যবিবাহ একটা সামাজিক ব্যাধি। বেলকুচি উপজেলা প্রশাসন এ বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সঠিক তথ্য প্রদান করলে আমরা দ্রুত সময়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

উল্লেখ, বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান সিরাজগঞ্জ সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) থাকাকালীন ২৫০টি বাল্যবিবাহ বন্ধ করে পুরষ্কৃত হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয় ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তার দায়িত্বশীল পদক্ষেপ সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে।

বেলকুচিতে এমপি মমিন মন্ডলের করোনা মুক্তির জন্য দোয়া

ছবিঃ ফেসবুক থেকে সংগৃহিত

সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মমিন মন্ডলের করোনা মুক্তির জন্য ফাতিহা পাঠ ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে বেলকুচি উপজেলার সূর্বণসাড়া জামিয়া সিদ্দিকিয়া কওমিয়া হাফিজিয়া কবরস্থান মাদ্রাসার উদ্যোগে এ বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অত্র মাদ্রাসায় মোহতামিম মওলানা আব্দুল হাকিম দোয়া পরিচালনা করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অত্র মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মীর আব্দুস সবুর দিলিপ, মুফতি আব্দুল আলিম, বিশিষ্ঠ্য সমাজসেবক গোলাম আজম মন্ডল, ডাঃ সাইফুল ইসলাম, আবুল কাসেম আকন্দ, বদিউজ্জামান, রহিদুল ইসলাম মন্ডল ও গ্রামের গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ এবং মাদ্রাসার ছাত্রবৃন্দ।

উক্ত দোয়া মাহফিলের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন উন্নয়ন অনুসন্ধান ফাউন্ডেশনের সমন্বয়কারী আব্দুল হাকিম মন্ডল এবং তিনি নিজ উদ্দ্যোগে উপস্থিত শতাধিক মানুষের মাঝে মাস্ক বিতরণ করেন।এবং ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল ইসলাম সরকার সংসদ সদস্য আব্দুল মোমিন মন্ডলের রোগ আরগ্যের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন ।

উল্লেখ্য, এম পি আব্দুল মোমিন মন্ডল গত ২০ শে জুলাই করোনা পজিটিভ হন । তিনি মন্ডল গ্রুপের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক ।বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন ।

বেলকুচির হাট-বাজারে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি ও শারীরিক দূরত্ব

অন্যতম জনবহুল অঞ্চল বেলকুচি। ১৬৪.৩১ বর্গ কিলোমিটার আয়তনে জেলার ২য় ক্ষুদ্রতম উপজেলা বেলকুচি। যেখানো প্রায় জনসংখ্যা ৩,৫২,৮৩৫ জন। প্রতি বর্গকিলোমিটারে ২২২১ জন মানুষের বসবাস।

করোনা মহামারিতে এই উপজেলার অবস্থান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আক্রান্তের সংখ্যায় কিছুদিন জেলার ১ম স্থানে থাকলে ও বর্তমানে ১৪৩ জন করোনা পজিটিভ নিয়ে ২য় অবস্থানে আছে।

এই উপজেলাতে আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের বক্তব্য এরকম।

বেলকুচিতে শিক্ষার হার ৪০.৪ শতাংশ। যার ফলে গণসচেতনতার অভাব রয়েছে এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়ার সুবাধে সেভাবে স্বাস্থ্যবিধি ও শারীরিক দূরত্ব মানা হয় না। এইজন্য আক্রান্ত তুলনামূলক বেশি।

বেলকুচির জনপ্রিয় হাট/ বাজার সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায় খুব কম সংখ্যক মানুষের মুখে মাস্ক রয়েছে এবং স্বাস্থ্যবিধি/ শারীরিক দূরত্বের একদম নাজেহাল অবস্থা!

এখন করোনা টেস্টের জন্য যেহেতু ফি নির্ধারিত হয়েছে সেক্ষেত্রে নিম্নআয়ের, দুস্থ, অসহায় মানুষগুলো করোনা পরীক্ষার সুযোগ পাচ্ছে না। তাই ঝুঁকি দিন দিন প্রবল হচ্ছে।

আসন্ন ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় বসবে গবাদি পশুর হাট। সেক্ষেত্রে হাটগুলো সঠিকভাবে নজরদারি না করা গেলে বিপর্যয়ের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

এমন স্পর্শকাতর বিষয়ে নেই উপজেলা প্রশাসনের কার্যকর ব্যবস্থা। হাট কমিটির সতর্কতামূলক কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

এ বিষয়ে বেলকুচির সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মী খন্দকার মোহাম্মদ আলী বলেন, বেলকুচিতে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ। স্বাস্থ্যবিধি/ শারীরিক দূরত্ব জনগণ মানছে না।কোরবানির পশুর হাটের আগেই যদি কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়। তাহলে বেলকুচিবাসীদের কে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হবে।

এই বিষয়ে দায়িত্বশীলদের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সময়ের দাবী।

গ্রেফতার : কন্যা ধর্ষণের দায়ে পিতা, শিশু ধর্ষণের চেষ্টায় বৃদ্ধ

সিরাজগঞ্জে বেলকুচিতে কিশোরী কন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে পিতা মনিরুল ইসলাম (৪৫) ও তাড়াশ উপজেলার এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার মামলায় আমজাদ হোসেন (৫০) নামে এক বৃদ্ধকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাব-১২ সদস্যরা ।

বুধবার (১ জুলাই) রাত ১০ টার দিকে ঢাকার যাত্রাবাড়ি ও সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার মান্নান নগর এলাকায় পৃথক দুটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের দুইজনকে আটক করে র‌্যাব-১২ সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে র‌্যাব ১২ অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্ণেল, পিএসসি, খাইরুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার হরিনাথপুর চর গ্রামের পনের বছর বয়সী কিশোরী কন্যাকে প্রায় এক বছর যাবৎ তার পাষন্ড পিতা মনিরুল বিভিন্ন ভয়ভীতি ও প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে ধর্ষণ করে আসছিল। কিশোরী তার পিতার নির্মম অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে গত ২৭ জুন বেলকুচি থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। তার প্রেক্ষিতে পালাতক আসামী মনিরুলকে আটক করা হয়েছে ।

অপরদিকে গত ৮ মে তাড়াশের মান্নান নগর এলাকায় টাকার প্রলোভন দেখিয়ে এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করে স্থানীয় আমজাদ হোসেন নামে এক ব্যক্তি। পরে শিশুর চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে আমজাদ হোসেন দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদি হয়ে তাড়াশ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করে । তার প্রেক্ষিতে পলাতক আমজাদ হোসেনকে আটক করা হয়েছে।

বেলকুচি উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, আওয়ামী লীগের সভাপতির সাথে বিরোধ ও সালিসী বৈঠকে পারিপার্শ্বিক মতানৈক্য এবং জেলা যুবলীগের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী যুবলীগ।

শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. মাঈনুল হোসেন খান নিখিল স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ একটি সুসংগঠিত ও সুশৃঙ্খল সংগঠন। এ সংগঠনে উশৃঙ্খলকারীর কোন ঠাঁই নেই। গত ১৮ জুন সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির সাথে বেলকুচি উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক একটি সালিসী বৈঠকে পারপার্শ্বিক মতানৈক্য কারণে বিবাধে জড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ও অনলাইন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হলে কেন্দ্রীয় যুবলীগের দৃষ্টিগোচর হয়। বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশের নির্দেশে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলর যুবলীগের আহবায়ক কমিটি ২৬ জুন ২০২০ থেকে বিলুপ্ত ঘোষণা দেওয়া হয়।

সিরাজগঞ্জ জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. একরামুল হক জানান, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, জেলা যুবলীগের নির্দেশ অমান্য, করোনা পরিস্থিতির মধ্যে যুবলীগের আয়োজন সমাবেশসহ নানা অভিযোগের কারণে বেলকুচি উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণার জন্য কেন্দ্রীয় কমিটিকে সুপারিশ করা হয়। এরই অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সিদ্ধান্ত মোতাবেক শুক্রবার সন্ধ্যায় আহবায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিতবার (২৫ জুন) দুপুরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যেও সাবেক মন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে হাজার হাজার নেতাকর্মীদের নিয়ে মানববন্ধন ও সমাবেশ করে বেলকুচি উপজেলা যুবলীগ। আর এ সমাবেশের কারণে সমালোচনার মুখে বেলকুচি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ারুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বেলকুচিতে যুবলীগ-ছাত্রলীগের ৫ নেতাকর্মীকে কুপিয়েছে প্রতিপক্ষ

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে অভ্যন্তরীন কোন্দলকে কেন্দ্র করে যুবলীগ-ছাত্রলীগের ৫ নেতাকর্মীকে কুপিয়েছে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা। তাদের সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আজ শুক্রবার দুপুরে বেলকুচি পৌর এলাকায় শেরনগর মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন, পৌর যুবলীগ নেতা শেরনরগ মহল্লার সাহেদুল ইসলাম (৩০), যুবলীগ কর্মী শাহাদত হোসেন (২৩), জাহিদুল ইসলাম (২২), ছাত্রলীগ কর্মী আমিরুল ইসলাম (১৮) ও স্বেচ্ছাসেবকলীগ কর্মী হাসান (২৬)। আহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বেলকুচি উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক সাজ্জাদুল হক রেজার নির্দেশে তার সহযোগীরা এই হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতদের স্বজনেরা জানান, শুক্রবার দুপুরে বেলকুচি পৌর এলাকায় শেরনগর মহল্লার বাসিন্দা যুবলীগ নেতা সাহেদুল ইসলামসহ ওই ৫ নেতাকর্মী স্থানীয় হাই সরকারের মিলের পাশে অবস্থান করছিল। তখন বেলকুচি উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক সাজ্জাদুল হকের সহযোগী জুয়েল, ফরিদুলের নেতৃত্বে ১৫/২০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল তাদের ওপর হামলা চালায়। তখন তাদের পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে অচেতন অবস্থায় ফেলে চলে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে খাজা ইউনুস আলী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসার পর সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। ঘটনার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ।

বেলকুচি পৌর মেয়র বেগম আশানুর বিশ্বাস বলেন, স্থানীয় সাংসদের ছত্রছায়ায় বেলকুচি উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক সাজ্জাদুল হক রেজার একের পর এক চাঁদাবাজি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে পুরো উপজেলাবাসী এখন আতঙ্কিত। প্রতিদিনই শত মানুষ তার সন্ত্রাসীদের দ্বারা হয়রানি হচ্ছে। এর প্রতিবাদ করায় আমাদের ওপর দফায়-দফায় হামলা হয়েছে। সর্বশেষ আমাদের দলীয় ৫ নেতাকর্মীকে কুপিয়েছে এই সন্ত্রাসীরা। দলীয় ও আইন গত ভাবে তাদের কঠোর শান্তি দাবি করছি।

বেলকুচি উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক সাজ্জাদুল হক রেজ এই ঘটনায়া তার সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে বলেন, যে কোন সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটলে বিশ্বাস পরিবার আমাকেই দায়ী করে। আমাদের সাংসদ বলেছেন, কোন অপ্রীতিকর ঘটনার সাথে যেন আমরা জড়িত না হই। তার নির্দেশ মেনেই চলছি। আমি বা আমরা এই হামলার ঘটনার সাথে জড়িত নই।

এদিকে হামলার ঘটনার ব্যাপারে বেলকুচি থানার সদ্য যোগদান করা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি ) বাহাউদ্দিন ফারুকী জানান, ঘটনটি মর্মান্তিক। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে ক্ষতিয়ে দেখছি। দায়ীদের বিরুদ্ধে অবশ্যই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

উল্লেথ্য, গত ৬ জুন বেলকুচি উপজেলার সগুনা চৌরাস্তা মোড়ে একটি সালিস বৈঠককে কেন্দ্র করে দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা আশিকুর রহমান লাজুক বিশ্বাস ও উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক সাজ্জাদুল হক রেজার পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। লাজুক বিশ্বাসের পক্ষের উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক কামাল আহমেদ গুলিবিদ্ধসহ ১৫ জন আহত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে ভাঙচুর করা হয় উভয় পক্ষের বেশ কিছু মোটরসাইকেল। এরপর থেকেই মাঝে-মাঝেই উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে।

করোনার মধ্যে যুবলীগের হাজারও নেতাকর্মীর সমাবেশ, ওসি প্রত্যাহার

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক, অরাজনৈতিক ও সামাজিক সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ হলেও সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে বৃহস্পতিবার হাজারও নেতাকর্মীর সমাবেশ ঘটায় উপজেলা যুবলীগ। উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক সাজ্জাদুল হক রেজার ওপর সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ এনে সাবেক মন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ-সমাবেশের আয়োজন করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, আগাম খবর জেনেও সমাবেশে বাধা দেয়নি পুলিশ বা উপজেলা প্রশাসন। সমালোচনার মুখে বেলকুচি থানার ওসি আনোয়ারুল ইসলামকে রাতেই প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাকে সিরাজগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবারের কর্মসূচিতে যুবলীগ নেতা রেজা নিজেও হাজির ছিলেন। এত মানুষের সমাগমের ফলে করোনা সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয় এলাকায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠেকানো তো দূরে থাক, সমাবেশ সফল করতে বেলকুচি থানা পুলিশের সদস্যরা বিশেষ করে ওসি আনোয়ারুল ইসলাম শুরু থেকেই যুবলীগ নেতাকর্মীদের সহযোগিতা করেছেন।

বৃহস্পতিবারের সমাবেশের বিষয়ে বেলকুচি উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক সাজ্জাদুল হক রেজা জানান, ‘আমরা প্রথমে চালা এলাকায় মানববন্ধন করি। কিন্তু সাধারণ মানুষ আমাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করায় লোকসংখ্যা বেড়ে প্রায় ৫/৬ হাজারে পৌঁছে। পরে পার্টি অফিসের সামনে আমরা সমাবেশ করি।’

বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিকদের জানান এ ধরনের মানববন্ধন ও সমাবেশের বিষয়ে কোনও প্রকার অনুমোদন নেওয়া হয়নি। বরং বেলকুচি থানার ওসিকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য বলা হয়েছে।

জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. একরামুল হক বলেন, ‘করোনা মহামারির মধ্যে সব ধরনের মিছিল সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। সাজ্জাদুল হক রেজা মানববন্ধন ও সমাবেশ করে সংগঠন বিরোধী কার্যক্রম করেছে।’

জেলা যুবলীগের সভাপতি রাশেদ ইউসুফ জুয়েল বলেন, ‘এটা মনে হয় দলীয় কোনও কর্মসূচি ছিল না।’

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস বলেন, ‘সাজ্জাদুল হক রেজা কতিপয় সন্ত্রাসীর মাধ্যমে তাঁত শ্রমিকদের টাকা দিয়ে ভাড়া করে এনে এ ধরনের জমায়েত করেছে। পুলিশ বাধা দেয়নি। এ ধরনের জমায়েতের কারণে বেলকুচি উপজেলা জুড়ে করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।’

এবিষয়ে বক্তব্য নিতে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা পদোন্নতিপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ ও পুলিশ সুপার মো. হাসিবুল আলমের সরকারি মুঠোফোনে শুক্রবার সকালে একাধিকবার কল করেও সাড়া মেলেনি। বেলকুচির নবাগত ওসি মো. বাহাউদ্দিন ফারুকী বলেন, পুলিশ সুপার কার্যালয়ের নির্দেশে ইন্সপেক্টর আনোয়ারুল ইসলামকে বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ এ প্রসঙ্গে শুক্রবার সকালে মোবাইলে বলেন, ‘বেলকুচির ইউএনও বদলি হয়ে গেছেন। কামারখন্দের ইউএনও ভারপ্রাপ্ত হিসেবে থাকলেও বিষয়টি আগে থেকে অবগত ছিলেন না। বেলকুচিতে দলীয় লোকজনের মধ্যে যতই বিভাজন থাকুক না কেন, বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে তাদের এ ধরনের সমাগম করাটা মোটেও উচিত হয়নি।’

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে কয়েক হাজার লোকের সমাবেশ

করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও তা উপেক্ষা করে বৃহস্পতিবার কয়েক হাজার মানুষের উপস্থিতিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলা যুবলীগ। করোনাভাইরাস সংক্রমণে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বেলকুচি উপজেলা সদরে স্বাস্থ্য বিধি না মেনে এমন জনসমাগম আতঙ্কিত এবং ক্ষুব্দ করে তুলেছে এলাকাবাসীকে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বেলকুচি উপজেলার চালা বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় মানববন্ধন শেষে দলীয় কার্যালয়ের সামনে এই সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক সাজ্জাদুল হক রেজার ওপর সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ এনে সাবেক মন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে উপজেলা যুবলীগ। পুলিশী পাহাৱায় বেলকুচি পৌরসভার চালা বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় প্রায় এক ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন শেষে বেলকুচি উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ চলাকালে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা দূরের কথা গাদাগাদি করে অবস্থান করছিল অনেকে। অনেকের মুখে মাস্ক পরতেও দেখা যায়নি।

বেলকুচি উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক সাজ্জাদুল হক রেজা জানান, আমরা প্রথমে চালা এলাকায় মানববন্ধন করি। কিন্তু সাধারণ মানুষ আমাদের সাথে সংহতি প্রকাশ কৱায় লোক সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৫/৬ হাজারে পৌঁছে। পরে পার্টি অফিসের সামনে আমরা সমাবেশ করি।

বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জাহাঙ্গীর আলম জানান এ ধরনের মানববন্ধন ও সমাবেশের বিষয়ে কোনো অনুমোদন নেয়া হয়নি। থানার ওসিকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য বলা হয়েছে।

এ ব্যাপারে বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা( ওসি) আনোয়ারুল ইসলামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মোবাইল ফোনে তাকে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে জেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক মো. একরামুল হক জানান, করোনা মহামারীর মধ্যে সব ধরনের মিছিল সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। সাজ্জাদুল হক রেজা মানববন্ধন সমাবেশ করে সংগঠন বিরোধী কার্যক্রম করেছে।

জেলা যুবলীগের সভাপতি রাশেদ ইউসুফ জুয়েল বলেন, এটা দলীয় কোন প্রোগ্রাম ছিল না। এ কারণে বিষয়টি আমার জানা ছিল না।

জেলা আওয়ামী লীগেৱ সভাপতি সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস বলেন, সাজ্জাদুল হক রেজা কতিপয় সন্ত্রাসীর মাধ্যমে স্থানীয় তাঁত শ্রমিক ও সাধারণ মানুষকে টাকায় ভাড়া করে এই জমায়েত করেছে। এভাবে কয়েক হাজার লোক সমবেত করায় পুরো বেলকুচি উপজেলা জুড়ে করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাসিবুল আলম জানান বেলকুচিতে যুবলীগ মানববন্ধন করেছে। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা যাতে আইনশৃংখলার কোন অবনতি ঘটাতে না পারে সে জন্য পুলিশ পাহারা ছিল।

সুত্রঃ কালের কণ্ঠ