তাড়াশে আগুনে পুড়ে গেল চা দোকান

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে আগুন লেগে পুড়ে গেল জহুরুল ইসলাম নামের এক চা ব্যবসায়ীর দোকান ঘর। এতে ওই ব্যবসায়ীর মালামালসহ প্রায় লক্ষাধিক টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

সোমবার (২৪মে) বিকাল ৫টার দিকে উপজেলার মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়নের নাদোসৈয়দপুর বাজারে এ আগুনের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, বিকালে নাদোসৈয়দপুর বাজারের জহুরুল ইসলামের চা দোকানে হঠাৎ করে আগুনের সুত্রপাত হয়। এ সময় প্রতিবেশিরা এসে ঘন্টাব্যাপি চেষ্টা করে আগুন নিভিয়ে ফেলেন। এতে তার দোকানের মালামালসহ প্রায় লক্ষাধিক টাকা ক্ষতি হয়েছে।

এ ব্যাপারে মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রভাষক এম আতিকুল ইসলাম বুলবুল জানান, কিভাবে আগুনের সুত্রপাত সেটা কেউ বলতে পারছেন না। তবে এলাকায় ঘটনার অনেক আগে থেকেই বিদ্যুৎ বন্ধ ছিল। অন্য কোনভাবে হয়তো আগুন লাগে। এতে ওই ব্যবসায়ীর প্রায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।

তাড়াশে অপহরণের পাঁচদিন পর কিশোরী উদ্ধার

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে অপহরণের পাঁচদিন পর অপহৃত কিশোরীকে উদ্ধার করেছে র‌্যাব-১২ এর সদস্যরা। এ সময় দুই অপহরণ করার অভিযোগে দুইজনকে আটক করা হয়।

সোমবার (১৭ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে র‌্যাব-১২।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তারা জানায়, গত বুধবার (১২ মে) রাতে নিজ বাড়ি থেকে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার কুন্দুইল গ্রামের ১২ বছর বয়সী এক কিশোরীকে একই উপজেলার ঈশ্বরপুর গ্রামের কাফি ফকিরের ছেলে জনি তার বন্ধুদের সহযোগিতায় অপহরণ করে।

এ বিষয়ে পরদিন অপহৃতের বাবা তাড়াশ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা ও অপহৃতের পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অপহরণের পাঁচদিন পর সোমবার ভোর রাতে ঐ উপজেলার ঈশ্বরপুর গ্রামে জনির বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অপহৃতকে উদ্ধার করে র‌্যাব। এসময় অপহরণকারী জনি ও তার এক বন্ধুকেও আটক করা হয়। তাদের তাড়াশ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

তাড়াশে পৃথক দুর্ঘটনায় নিহত ২

সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কের তাড়াশ থানাধীন মহিষলুটি বাজার ও ৯নং ব্রিজ এলাকায় মোট দুটি পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক আব্দুল্লাহেল বাকী ও ৯নং ব্রিজ এলাকা থেকে হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

দুর্ঘটনায় মহিষলুটিতে নিহত ব্যক্তির নাম পরিচয় পাওয়া গেলেও আরেকজনের নাম পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি। সংবাদপত্রের গাড়িতে থাকা নিহত ব্যাক্তির নাম শাহিন হাসান (৪৪)। তিনি জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার পাগলা মধ্যপাড়া গ্রামের সলিমুদ্দিনের ছেলে ও একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করতেন বলে জানা গেছে।

উপ-পরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম জানান, ভোর ৫টার দিকে একটি ট্রাক ও জননী কুরিয়ার সার্ভিসের একটি কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে জননী পরিবহনের একজন মারা যান ও কয়েকজন আহত হন। তবে মৃতের নাম পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি।

হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক আব্দুল্লাহেল বাকী জানান, ভোর সোয়া ৫টার দিকে হাটিকুমরুল থেকে রাজশাহীগামী সংবাদপত্র পরিবহনের একটি গাড়ি এখানে পত্রিকা নামিয়ে রওনা দিতেই পেছন থেকে একটি পাথর বোঝাই ট্রাক ধাক্কা দিলে সামনে থাকা ডালের একটি ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে দুমড়ে মুচড়ে যায়। এসময় সংবাদপত্রের গাড়িতে থাকা একজন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি ঘটনাস্থলেই মারা যান ও একজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা।

মহিষলুটি এলাকার স্থানীয় ব্যাবসায়ী গোপাল চন্দ্র ঘোষ বলেন, মৃতদেহ এখনও এখানেই আছে এবং রাস্তা জুড়ে ডাল ও পাথর খোয়া পড়ে আছে।

সিরাজগঞ্জ ২৫০শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এখনও এ বিষয়ে কিছু জানি না। তবে খোঁজ নিয়ে দেখবো।’

তাড়াশে প্রতিপক্ষের হামলায় ছাত্রলীগের সম্পাদকসহ আহত ৮, আটক ৩

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে অপর গ্রুপের হামলায় উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শামিম আহম্মেদসহ আটজন আহত হয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যায় মহল্লায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হামলা হয়। এ হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে রাতে তিনজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো: শামিম আহম্মেদ আকাশ, ছাত্রলীগ নেতা সৌরভ, রাসেল, সালমান, আকাশ. সাগর ও শুভ।

আহতদের প্রথমে তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ও উন্নত চিকিৎসার জন্য এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হামলার জড়িত থাকার অভিযোগে আব্দুল হাই, পলাশ ও আলভী নামে তিনজনকে রাতে আটক করেছে পুলিশ। তাদেরকে রোববার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর কথা জানিয়েছে থানা পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা রোববার সকালে জানায়, মহল্লায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একই এলাকার মো: আব্দুল হাই, আলভি, ফকরুল, শামীম, পলাশ, মিন্টু, সাদ্দাম ও টনিসহ অন্যরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিতভাবে তাড়াশ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহম্মেদ আকাশের ওপর হামলা চালায়। এ সময় উপস্থিত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তাকে রক্ষা করতে গেলে তাদের ওপরও হামলা করা হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনার পর তাড়াশ পৌরশহরে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

জানা গেছে, ছাত্রলীগ নেতা শামীমের বড় ভাই সোহেল রানা রাতে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

জানতে চাইলে তাড়াশ থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফজলে আশিক জানান, তিনজনকে আটক করা হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

তাড়াশে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ মামলা, গৃহশিক্ষক গ্রেফতার

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী (আদিবাসী) এক কলেজছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে গৃহশিক্ষক আবু সাইদ মোল্লাকে (৩৮) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৯ মার্চ) রাতে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতাল থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ধর্ষণের পর গণপিটুনির শিকার হয়ে আহত আবু সাইদ পুলিশি প্রহরায় ওই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তিনি তাড়াশ উপজেলা তালম ইউনিয়নের গুল্টা গ্রামের মৃত জাফর মোল্লার ছেলে।

তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফজলে আশিক বাংলানিউজকে বলেন, ধর্ষণের অভিযোগ এনে কলেজছাত্রীর বাবা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। ধর্ষণের অভিযোগে গৃহশিক্ষক আবু সাইদকে মারধর করায় আহত হয়ে তিনি সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখান থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ হেফাজতে ভর্তি রাখা হয়েছে। এছাড়া ভিকটিমের মেডিক্যাল পরীক্ষা করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) রাত ৯টার দিকে মেয়েকে বাড়িতে রেখে তার বাবা-মা নিজেদের দোকানে চা বিক্রি করছিলেন। এ সুযোগে গৃহশিক্ষক আবু সাইদ মোল্লা কলেজছাত্রীকে পড়াতে আসেন এবং তাকে একা পেয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে ভিকটিমের চিৎকারে এলাকাবাসী ছুটে এসে তাকে আটক করে মারধর করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় শুক্রবার (১৯ মার্চ) কলেজছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

করোনামুক্ত হলেন গরীবের ডাক্তার বিউটি পারভীন

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে গরীবের ডাক্তার বলে খ্যাত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার বিউটি পারভীন করোনা হতে মুক্ত হয়েছেন। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে নিজেই করোনায় আক্রান্ত হন।

তাড়াশ হাসপাতাল সুত্রে জানা যায় গত (৬ইআগষ্ট) বিউটি পারভীনের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে সিরাজগঞ্জ পিসিআর ল্যাবে পাঠালে (৮আগষ্ট) করোনা পজেটিভ রিপোর্ট আসে সেই থেকে তাড়াশ হাসপাতালে আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন ।বিউটি পারভীন তাড়াশ হাসপাতালে ১৪ দিন আইসোলেশনে চিকিৎসারত থাকা অবস্থায় গত ২০-০৮-২০২০ইং তারিখে আবার নমুনা সংগ্রহ করে সিরাজগঞ্জ মুনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পি সিআর ল্যাবে পাঠালে আজ ২৩-৮-২০২০ইং তারিখে তার শরীরে করোনা নেগিটিভ পাওয়া যায়।

তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার বিউটি পারভীন। শুধু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নয়, করোনার ঝুঁকি উপেক্ষা করে সকাল থেকে গভীর রাতে মানুষের বাড়ি বাড়ি বাড়ি গিয়ে চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন।

মহামারী করোনায় সময় সামান্য সময়ের জন্য নিজের কাজ কে অবহেলা করেননি । নিজ দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি গরীর দুঃখী অসহায় মানুষের সেবা করেছেন ।
এ বিষয়ে তাড়াশের সুশীল সমাজের প্রতিনিধি প্রবীন ও সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাক রাজু জানান বিউটি পারভীন তাড়াশ উপজেলার অসহায় দুঃস্থ্য মানুষের চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকেন।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল বিউটি পারভীন বলেন আমি অনেক দিন যাবত করোনায় আক্রান্ত হয়ে আইসোলশনে চিকিৎসারত ছিলাম। আমি আল্লাহর রহমতে আপনাদের দোওয়া ও ভালবাসায় করোনা হতে মুক্ত হয়েছি । আমি আবার দরিদ্র অসহায় শ্রমজীবী, দিনমুজুর মানুষের সেবায় কাজ করতে চাই।

তাড়াশে আ. লীগ নেতার বিরুদ্ধে সরকারি গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ও ১নং ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য মোক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে সরকারি গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, গত শনিবার রাতের আঁধারে সরকারি তাড়াশ-কাটাগাড়ি সড়কের মাধাইনগর ইউনিয়নের সেরাজপুর এলাকার ওয়াশিং মোড় থেকে বৃহৎ চারটি ইউক্যালিপটাস গাছ কেটে নিয়ে যান মোক্তার হোসেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে তাড়াশ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওবায়দুল্লাহ বন বিভাগের লোক পাঠিয়ে গাছগুলো তাড়াশ পৌরসভার ভাদাইস এলাকার কামাল হোসেনের স মিল থেকে জব্দ করেন।

গাছ বহনকারী ভ্যানচালক জহুরুল ইসলাম ও গাছের ক্রেতা দেলোয়ার হোসেন বলেন,মাধাইনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য মোক্তার হোসেন গাছগুলো কেটে চেরাই করার জন্য কামাল হোসেনের করাত কলে পাঠান।

এ বিষয়ে মাধাইনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য মোক্তার হোসেন বলেন,সরকারি রাস্তা থেকে নয়, ওই এলাকার আব্দুস সালাম নামের একজনের রাস্তা সংলগ্ন নিজস্ব জমির একটি গাছ ফার্নিচার বানানোর জন্য আমি চেয়ে নিয়েছি। তিনি আমার কাছে থেকে এর কোন দামও নেননি।

তিনি আরও বলেন, রাতের আঁধারে নয়, ওই দিন বিকেলে গাছগুলো কেটে স মিলে পাঠানো হয়। ভ্যানচালকের যেতে রাত হয়। এ সুযোগে একটি স্বার্থান্বেষী মহল ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ দেয়।

এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওবায়দুল্লাহ বলেন, আপাতত কর্তনকৃত সরকারি রাস্তার গাছগুলো জব্দ করে রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঈদে চলনবিলে দর্শনাথীদের ঢল

প্রতিবছরের মতো বর্ষা মৌসুম ও ঈদকে কেন্দ্র করে করোনার আতঙ্ক উপেক্ষা করেই চলনবিলে দর্শনার্থীদের ঢল নেমেছে।

ঈদুল আজহার ছুটিতে নাটোর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, রাজশাহী এমনকি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার মানুষ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে ছুটে আসছেন এখানে।

ডুবন্ত সড়কে হেঁটে বেড়ানোসহ বিলের পানিতে সাঁতার কাটা ও নৌকা ভ্রমণ করে সময় কাটাতে দেখা গেছে দর্শনার্থীদের।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চলনবিলের মধ্য দিয়ে হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কের সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার ৮ নং, ৯ নং ও ১০ নং ব্রিজ এলাকায় হাজারো লোকের সমাগম। ব্রিজ থেকে দেখা যায়, নৌকায় পাল তুলে ঘুরছে অনেকেই।

বর্ষায় ডুবন্ত রাস্তার ওপর দিয়ে নৌকা চলে যা সত্যিই মনোমুগ্ধকর। তাছাড়া চলনবিল সিংড়ায় পর্যটকদের চাহিদা মেটাতে গড়ে উঠেছে চলনবিল পর্যটন পার্ক। সেখানে শিশুদের জন্য বিভিন্ন রাইড রয়েছে।

চলনবিলে ঘুরতে আসা দর্শনাথী আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘করোনার আতঙ্ক তো রয়েছেই। তারপরে একটু বিনোদনের জন্য পরিবারের সবাইকে নিয়ে চলনবিলে ঘুরতে আসা। এখানে এসে চলনবিলের অপরুপ সৌন্দর্য্য দেখে ভালো লাগছে।’

তাড়াশে পরিকল্পিত ভাবে ফাসানো হয়েছে সাংবাদিককে- সংবাদ সম্মেলনে নির্যাতিত সাংবাদিক

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে পরিকল্পিত ভাবে সাংবাদিককে নারী কেলেংকারির অভিযোগে ফাঁসানো হয়েছে। সোমবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে এ সকল তথ্য তুলে ধরেন তাড়াশ টিএনটি মোড়ে বসবাসকারী, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি, দৈনিক নবচেতনা পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি আলহাজ্ব গোলাম রাব্বানী সুর্য।

তিনি তার ছোট ভাই লিটন খন্দকারের বাসায় সংবাদ সম্মেলন বলেন, আমি আমার মেয়ে ও ছেলেকে লেখাপড়া করার জন্য বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার সদরে ভাড়া বাসায় ৩ বছর যাবত আমার স্ত্রী সহ থাকে। সেখানে আমিও মাঝে মাঝে গিয়ে থাকতাম। কিন্তু দেশের এই মহামারি করোনা ভাইরাস বিদ্যম্যান থাকায় ৩মাস হলে আমার স্ত্রী ও আমার ছেলে মেয়ে তাড়াশ বাসায় অবস্থান করছে। শেরপুরের বাসা ভাড়া দেওয়ার জন্য আমি ৪ জুলাই শনিবার সকালে বাসা থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে শেরপুর যাই।

বাসার মালিককে ভাড়া দিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়ে আসতেই কোয়াটার কিলোমিটার দুরে কিছু যুবক ছেলে আমার মোটর সাইকেল রোধ করে এবং আমাকে একটা ফার্নিচারের দোকান ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে একটা মেয়ে বসিয়ে রেখে ৭ থেকে ৮ যুবক আমাকে বিভিন্ন বিব্রত প্রশ্ন করতে থাকে। আমি প্রশ্ন গুলো করা দেখে এক পর্যায়ে বুঝতে পারি আমি কোন চক্রান্তের মধ্যে পরেছি। এর মধ্যেই তারা বিভিন্ন ফোন রিসিভ করে কথা বলতে থাকে। কথা বলার মধ্যে বুঝতে পারলাম আমার স্ত্রী ও স্ত্রীর বাবা ভাই বোন কথা বলছে।

এভাবে প্রায় ২ ঘন্টা জেরা করে আমাকে তারা বলল আপনি আপনার স্ত্রীর অথবা আপনার শ্বশুরের সাথে কথা বলেন তাহলে আমরা আপনাকে ছেড়ে দিবো। আমি তাদের কথায় রাজি হলাম না। তখন এই ছেলে গুলো অবাক হয়ে বললো ভাই আপনি একজন সম্মানী মানুষ। আমরা বুঝতে পারলাম আপনাদের এটা পারিবারিক কলহ। ছেলে গুলো আমাকে যেতে বলাতে আমি রওয়ানা দিবো এমন সময় থানা থেকে সিভিল পোষাকে এক এসআই ও মহিলা এক পুলিশ এসে আমাকে বললো আপনাকে থানায় যেতে হবে ওসি স্যার ডাকছে। আমি থানায় গিয়ে ওসি সাহেবের সাথে দেখা করলাম আমাকে বললো আপনার নামে অভিযোগ করেছে আপনার স্ত্রী আপনাকে ছাড়া যাবে না।

আবারো চক্রান্তের জালে আবদ্ধ হয়ে থানায় থেকে গেলাম। চলতে থাকে বহু নাটকীয় ঘটনা। যাক আমি আমার লোক দ্বারা বের হওয়ার চেষ্টা করলেও আমার শ্বশুর বিভিন্ন মহলকে ফোন দিয়ে আমাকে কাষ্টরিতে রাখে। ৫ জুলাই রবিবার আমাকে চালান দিলে কোর্টে যাওয়ার ৩০ মিনিটের খালাস পাই।

ইতো মধ্যেই আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে ২/৪টি পত্রিকায় নিউজ করানো হয়েছে। যা আমার কর্ম জীবনের,সামনের রাজনৈতিক জীবনের,আমার সংসার জীবনের মান সম্মান হেয় প্রতিপন্য করার জন্য আমাকে সমাজে ছোট করার জন্য কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখে তাদের বিরুদ্ধে আইনুনাযায়ী ব্যবস্থা গ্রহনের নিমিত্তে আমি আজকের এই সংবাদ সম্মেলন করছি।

চলনবিলে ৪০ হাজার কোরবানীর পশু প্রস্তুত

পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও নাটোর জেলার চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, উল্লাপাড়া, তাড়াশ, সিংড়া, গুরুদাসপুর উপজেলার চলনবিল এলাকায় এবছর কোরবানীর জন্য ৪০ হাজারের অধিক দেশীয় পশু প্রস্তুত করা আছে। তার মধ্যে সিরাজগঞ্জের তাড়াশে দেশীয় পদ্ধতিতে এবছর কোরবানীর জন্য ২৩ হাজার পশু প্রস্তুত করা হয়েছে।

উপজেলায় নিবন্ধিত অনিবন্ধিত খামারে ও পারিবারিকভাবে কোরবানির জন্য এসব পশু মোটা-তাজা করন করা হয়েছে। কিন্ত খামারী ও গরু ও ছাগল পালনকারীরা রয়েছেন নানান শঙ্কায়। এ বছর করোনা মহামারির জন্য তাদের পশুর নায্য দাম পাবেন কিনা তা নিয়ে রয়েছেন হতাশায়।

উপজেলার বিভিন্ন খামারীররা জানান, গত কয়েক বছর ধরে ভারতীয় পশুর উপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশে লালন-পালন করা পশু দিয়ে কোরবানির চাহিদা মিটানো হয়। লাভজনক হওয়ায় অনেকে ঝুঁকেছেন পশু মোটাতাজা করণে। এবার কোরবানি উপলক্ষে অনেকেই ঋণ নিয়ে আবার অনেকেই
নিজের টাকায় পশু মোটাতাজা করেছেন।

তাড়াশ উপজেলা প্রানী সম্পদ অফিস সুত্রে জানা যায়, এ বছর উপজেলাতে মৌসুমি খামার ও পারিবারিকভাবে ছাগল, ভেড়া, গরু ও
মহিষসহ ২৩ হাজার গবাদিপশু কোরবানীর জন্য পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। যার মধ্যে ছাগল ও ভেড়া প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার। নানা জাতের প্রায় ৬,৫০০
গরু মোটাতাজা করণ করা হয়েছে।

তাড়াশ পৌর শহরের খামারী সোহেল রানা বলেন, অনেক দরিদ্র কৃষকরা রয়েছেন। তারা ঈদ মৌসুমে ২/৩টি করে গরু বাড়িতে পালন করে
থাকেন। আবার অনেকেই সারা বছর গরু পালনের পর এখন এসেছে তাদের কাঙ্খিত বিক্রির সময়। কোরবানীর চাহিদা লক্ষ্য করেই চলছে তাদের শেষ মুহূর্তের পরিচর্যা ।

উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের বিলাশপুর গ্রামের কৃষক পাষান আলী জানান, তার পালিত ৫টি স্বপ্নের গরু বিক্রির টাকায় মিটবে পরিবারের চাহিদা। বাড়তি অর্থ দিয়ে আবারো নতুন গরু কেনার লক্ষ্য রয়েছে তার। কিন্ত শঙ্কায় রয়েছেন এবছর করোনা প্রার্দুভাবে গরুর কাঙ্খিত দাম পাবেন কিনা।

উপজেলার তাড়াশ সদর গ্রামের আফাল উদ্দিন বলেন, গ্রামের একেকটি বাড়ি যেন একেকটি খামার। পরিবার প্রধান নারী-পুরুষ মিলে পরিচর্যা করেন গরুগুলো। পরম যত্নে নিজের সন্তানের মতই আদর করা হয়।
এই গরুগুলো যেন তাদের বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা। তাই কোরবানির পশু হাটে নায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হলে তারা এবারও লাভবান হবেন।

তাড়াশ উপজেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ.জে.এম সালাহ উদ্দিন বলেন, তাড়াশ উপজেলা বানিজ্যিক কোন বড় খামার নেই। তবে কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে পারিবারিকভাবে ও ক্ষুদ্র খামার কেন্দ্রিক পশু পালন করেন অনেকেই। আশা করছি এবছরও তারা লাভবান হবে। প্রাণী সম্পদ অফিসের লোকজন সব সময় পশু লালন-পালনকারীদেও পরার্মশ দিয়ে যাচ্ছেন।