করোনামুক্ত হলেন গরীবের ডাক্তার বিউটি পারভীন

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে গরীবের ডাক্তার বলে খ্যাত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার বিউটি পারভীন করোনা হতে মুক্ত হয়েছেন। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে নিজেই করোনায় আক্রান্ত হন।

তাড়াশ হাসপাতাল সুত্রে জানা যায় গত (৬ইআগষ্ট) বিউটি পারভীনের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে সিরাজগঞ্জ পিসিআর ল্যাবে পাঠালে (৮আগষ্ট) করোনা পজেটিভ রিপোর্ট আসে সেই থেকে তাড়াশ হাসপাতালে আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন ।বিউটি পারভীন তাড়াশ হাসপাতালে ১৪ দিন আইসোলেশনে চিকিৎসারত থাকা অবস্থায় গত ২০-০৮-২০২০ইং তারিখে আবার নমুনা সংগ্রহ করে সিরাজগঞ্জ মুনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পি সিআর ল্যাবে পাঠালে আজ ২৩-৮-২০২০ইং তারিখে তার শরীরে করোনা নেগিটিভ পাওয়া যায়।

তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার বিউটি পারভীন। শুধু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নয়, করোনার ঝুঁকি উপেক্ষা করে সকাল থেকে গভীর রাতে মানুষের বাড়ি বাড়ি বাড়ি গিয়ে চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন।

মহামারী করোনায় সময় সামান্য সময়ের জন্য নিজের কাজ কে অবহেলা করেননি । নিজ দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি গরীর দুঃখী অসহায় মানুষের সেবা করেছেন ।
এ বিষয়ে তাড়াশের সুশীল সমাজের প্রতিনিধি প্রবীন ও সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাক রাজু জানান বিউটি পারভীন তাড়াশ উপজেলার অসহায় দুঃস্থ্য মানুষের চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকেন।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল বিউটি পারভীন বলেন আমি অনেক দিন যাবত করোনায় আক্রান্ত হয়ে আইসোলশনে চিকিৎসারত ছিলাম। আমি আল্লাহর রহমতে আপনাদের দোওয়া ও ভালবাসায় করোনা হতে মুক্ত হয়েছি । আমি আবার দরিদ্র অসহায় শ্রমজীবী, দিনমুজুর মানুষের সেবায় কাজ করতে চাই।

তাড়াশে আ. লীগ নেতার বিরুদ্ধে সরকারি গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ও ১নং ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য মোক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে সরকারি গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, গত শনিবার রাতের আঁধারে সরকারি তাড়াশ-কাটাগাড়ি সড়কের মাধাইনগর ইউনিয়নের সেরাজপুর এলাকার ওয়াশিং মোড় থেকে বৃহৎ চারটি ইউক্যালিপটাস গাছ কেটে নিয়ে যান মোক্তার হোসেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে তাড়াশ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওবায়দুল্লাহ বন বিভাগের লোক পাঠিয়ে গাছগুলো তাড়াশ পৌরসভার ভাদাইস এলাকার কামাল হোসেনের স মিল থেকে জব্দ করেন।

গাছ বহনকারী ভ্যানচালক জহুরুল ইসলাম ও গাছের ক্রেতা দেলোয়ার হোসেন বলেন,মাধাইনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য মোক্তার হোসেন গাছগুলো কেটে চেরাই করার জন্য কামাল হোসেনের করাত কলে পাঠান।

এ বিষয়ে মাধাইনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য মোক্তার হোসেন বলেন,সরকারি রাস্তা থেকে নয়, ওই এলাকার আব্দুস সালাম নামের একজনের রাস্তা সংলগ্ন নিজস্ব জমির একটি গাছ ফার্নিচার বানানোর জন্য আমি চেয়ে নিয়েছি। তিনি আমার কাছে থেকে এর কোন দামও নেননি।

তিনি আরও বলেন, রাতের আঁধারে নয়, ওই দিন বিকেলে গাছগুলো কেটে স মিলে পাঠানো হয়। ভ্যানচালকের যেতে রাত হয়। এ সুযোগে একটি স্বার্থান্বেষী মহল ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ দেয়।

এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওবায়দুল্লাহ বলেন, আপাতত কর্তনকৃত সরকারি রাস্তার গাছগুলো জব্দ করে রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঈদে চলনবিলে দর্শনাথীদের ঢল

প্রতিবছরের মতো বর্ষা মৌসুম ও ঈদকে কেন্দ্র করে করোনার আতঙ্ক উপেক্ষা করেই চলনবিলে দর্শনার্থীদের ঢল নেমেছে।

ঈদুল আজহার ছুটিতে নাটোর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, রাজশাহী এমনকি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার মানুষ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে ছুটে আসছেন এখানে।

ডুবন্ত সড়কে হেঁটে বেড়ানোসহ বিলের পানিতে সাঁতার কাটা ও নৌকা ভ্রমণ করে সময় কাটাতে দেখা গেছে দর্শনার্থীদের।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চলনবিলের মধ্য দিয়ে হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কের সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার ৮ নং, ৯ নং ও ১০ নং ব্রিজ এলাকায় হাজারো লোকের সমাগম। ব্রিজ থেকে দেখা যায়, নৌকায় পাল তুলে ঘুরছে অনেকেই।

বর্ষায় ডুবন্ত রাস্তার ওপর দিয়ে নৌকা চলে যা সত্যিই মনোমুগ্ধকর। তাছাড়া চলনবিল সিংড়ায় পর্যটকদের চাহিদা মেটাতে গড়ে উঠেছে চলনবিল পর্যটন পার্ক। সেখানে শিশুদের জন্য বিভিন্ন রাইড রয়েছে।

চলনবিলে ঘুরতে আসা দর্শনাথী আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘করোনার আতঙ্ক তো রয়েছেই। তারপরে একটু বিনোদনের জন্য পরিবারের সবাইকে নিয়ে চলনবিলে ঘুরতে আসা। এখানে এসে চলনবিলের অপরুপ সৌন্দর্য্য দেখে ভালো লাগছে।’

তাড়াশে পরিকল্পিত ভাবে ফাসানো হয়েছে সাংবাদিককে- সংবাদ সম্মেলনে নির্যাতিত সাংবাদিক

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে পরিকল্পিত ভাবে সাংবাদিককে নারী কেলেংকারির অভিযোগে ফাঁসানো হয়েছে। সোমবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে এ সকল তথ্য তুলে ধরেন তাড়াশ টিএনটি মোড়ে বসবাসকারী, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি, দৈনিক নবচেতনা পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি আলহাজ্ব গোলাম রাব্বানী সুর্য।

তিনি তার ছোট ভাই লিটন খন্দকারের বাসায় সংবাদ সম্মেলন বলেন, আমি আমার মেয়ে ও ছেলেকে লেখাপড়া করার জন্য বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার সদরে ভাড়া বাসায় ৩ বছর যাবত আমার স্ত্রী সহ থাকে। সেখানে আমিও মাঝে মাঝে গিয়ে থাকতাম। কিন্তু দেশের এই মহামারি করোনা ভাইরাস বিদ্যম্যান থাকায় ৩মাস হলে আমার স্ত্রী ও আমার ছেলে মেয়ে তাড়াশ বাসায় অবস্থান করছে। শেরপুরের বাসা ভাড়া দেওয়ার জন্য আমি ৪ জুলাই শনিবার সকালে বাসা থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে শেরপুর যাই।

বাসার মালিককে ভাড়া দিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়ে আসতেই কোয়াটার কিলোমিটার দুরে কিছু যুবক ছেলে আমার মোটর সাইকেল রোধ করে এবং আমাকে একটা ফার্নিচারের দোকান ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে একটা মেয়ে বসিয়ে রেখে ৭ থেকে ৮ যুবক আমাকে বিভিন্ন বিব্রত প্রশ্ন করতে থাকে। আমি প্রশ্ন গুলো করা দেখে এক পর্যায়ে বুঝতে পারি আমি কোন চক্রান্তের মধ্যে পরেছি। এর মধ্যেই তারা বিভিন্ন ফোন রিসিভ করে কথা বলতে থাকে। কথা বলার মধ্যে বুঝতে পারলাম আমার স্ত্রী ও স্ত্রীর বাবা ভাই বোন কথা বলছে।

এভাবে প্রায় ২ ঘন্টা জেরা করে আমাকে তারা বলল আপনি আপনার স্ত্রীর অথবা আপনার শ্বশুরের সাথে কথা বলেন তাহলে আমরা আপনাকে ছেড়ে দিবো। আমি তাদের কথায় রাজি হলাম না। তখন এই ছেলে গুলো অবাক হয়ে বললো ভাই আপনি একজন সম্মানী মানুষ। আমরা বুঝতে পারলাম আপনাদের এটা পারিবারিক কলহ। ছেলে গুলো আমাকে যেতে বলাতে আমি রওয়ানা দিবো এমন সময় থানা থেকে সিভিল পোষাকে এক এসআই ও মহিলা এক পুলিশ এসে আমাকে বললো আপনাকে থানায় যেতে হবে ওসি স্যার ডাকছে। আমি থানায় গিয়ে ওসি সাহেবের সাথে দেখা করলাম আমাকে বললো আপনার নামে অভিযোগ করেছে আপনার স্ত্রী আপনাকে ছাড়া যাবে না।

আবারো চক্রান্তের জালে আবদ্ধ হয়ে থানায় থেকে গেলাম। চলতে থাকে বহু নাটকীয় ঘটনা। যাক আমি আমার লোক দ্বারা বের হওয়ার চেষ্টা করলেও আমার শ্বশুর বিভিন্ন মহলকে ফোন দিয়ে আমাকে কাষ্টরিতে রাখে। ৫ জুলাই রবিবার আমাকে চালান দিলে কোর্টে যাওয়ার ৩০ মিনিটের খালাস পাই।

ইতো মধ্যেই আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে ২/৪টি পত্রিকায় নিউজ করানো হয়েছে। যা আমার কর্ম জীবনের,সামনের রাজনৈতিক জীবনের,আমার সংসার জীবনের মান সম্মান হেয় প্রতিপন্য করার জন্য আমাকে সমাজে ছোট করার জন্য কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখে তাদের বিরুদ্ধে আইনুনাযায়ী ব্যবস্থা গ্রহনের নিমিত্তে আমি আজকের এই সংবাদ সম্মেলন করছি।

চলনবিলে ৪০ হাজার কোরবানীর পশু প্রস্তুত

পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও নাটোর জেলার চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, উল্লাপাড়া, তাড়াশ, সিংড়া, গুরুদাসপুর উপজেলার চলনবিল এলাকায় এবছর কোরবানীর জন্য ৪০ হাজারের অধিক দেশীয় পশু প্রস্তুত করা আছে। তার মধ্যে সিরাজগঞ্জের তাড়াশে দেশীয় পদ্ধতিতে এবছর কোরবানীর জন্য ২৩ হাজার পশু প্রস্তুত করা হয়েছে।

উপজেলায় নিবন্ধিত অনিবন্ধিত খামারে ও পারিবারিকভাবে কোরবানির জন্য এসব পশু মোটা-তাজা করন করা হয়েছে। কিন্ত খামারী ও গরু ও ছাগল পালনকারীরা রয়েছেন নানান শঙ্কায়। এ বছর করোনা মহামারির জন্য তাদের পশুর নায্য দাম পাবেন কিনা তা নিয়ে রয়েছেন হতাশায়।

উপজেলার বিভিন্ন খামারীররা জানান, গত কয়েক বছর ধরে ভারতীয় পশুর উপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশে লালন-পালন করা পশু দিয়ে কোরবানির চাহিদা মিটানো হয়। লাভজনক হওয়ায় অনেকে ঝুঁকেছেন পশু মোটাতাজা করণে। এবার কোরবানি উপলক্ষে অনেকেই ঋণ নিয়ে আবার অনেকেই
নিজের টাকায় পশু মোটাতাজা করেছেন।

তাড়াশ উপজেলা প্রানী সম্পদ অফিস সুত্রে জানা যায়, এ বছর উপজেলাতে মৌসুমি খামার ও পারিবারিকভাবে ছাগল, ভেড়া, গরু ও
মহিষসহ ২৩ হাজার গবাদিপশু কোরবানীর জন্য পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। যার মধ্যে ছাগল ও ভেড়া প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার। নানা জাতের প্রায় ৬,৫০০
গরু মোটাতাজা করণ করা হয়েছে।

তাড়াশ পৌর শহরের খামারী সোহেল রানা বলেন, অনেক দরিদ্র কৃষকরা রয়েছেন। তারা ঈদ মৌসুমে ২/৩টি করে গরু বাড়িতে পালন করে
থাকেন। আবার অনেকেই সারা বছর গরু পালনের পর এখন এসেছে তাদের কাঙ্খিত বিক্রির সময়। কোরবানীর চাহিদা লক্ষ্য করেই চলছে তাদের শেষ মুহূর্তের পরিচর্যা ।

উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের বিলাশপুর গ্রামের কৃষক পাষান আলী জানান, তার পালিত ৫টি স্বপ্নের গরু বিক্রির টাকায় মিটবে পরিবারের চাহিদা। বাড়তি অর্থ দিয়ে আবারো নতুন গরু কেনার লক্ষ্য রয়েছে তার। কিন্ত শঙ্কায় রয়েছেন এবছর করোনা প্রার্দুভাবে গরুর কাঙ্খিত দাম পাবেন কিনা।

উপজেলার তাড়াশ সদর গ্রামের আফাল উদ্দিন বলেন, গ্রামের একেকটি বাড়ি যেন একেকটি খামার। পরিবার প্রধান নারী-পুরুষ মিলে পরিচর্যা করেন গরুগুলো। পরম যত্নে নিজের সন্তানের মতই আদর করা হয়।
এই গরুগুলো যেন তাদের বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা। তাই কোরবানির পশু হাটে নায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হলে তারা এবারও লাভবান হবেন।

তাড়াশ উপজেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ.জে.এম সালাহ উদ্দিন বলেন, তাড়াশ উপজেলা বানিজ্যিক কোন বড় খামার নেই। তবে কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে পারিবারিকভাবে ও ক্ষুদ্র খামার কেন্দ্রিক পশু পালন করেন অনেকেই। আশা করছি এবছরও তারা লাভবান হবে। প্রাণী সম্পদ অফিসের লোকজন সব সময় পশু লালন-পালনকারীদেও পরার্মশ দিয়ে যাচ্ছেন।

গ্রেফতার : কন্যা ধর্ষণের দায়ে পিতা, শিশু ধর্ষণের চেষ্টায় বৃদ্ধ

সিরাজগঞ্জে বেলকুচিতে কিশোরী কন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে পিতা মনিরুল ইসলাম (৪৫) ও তাড়াশ উপজেলার এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার মামলায় আমজাদ হোসেন (৫০) নামে এক বৃদ্ধকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাব-১২ সদস্যরা ।

বুধবার (১ জুলাই) রাত ১০ টার দিকে ঢাকার যাত্রাবাড়ি ও সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার মান্নান নগর এলাকায় পৃথক দুটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের দুইজনকে আটক করে র‌্যাব-১২ সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে র‌্যাব ১২ অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্ণেল, পিএসসি, খাইরুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার হরিনাথপুর চর গ্রামের পনের বছর বয়সী কিশোরী কন্যাকে প্রায় এক বছর যাবৎ তার পাষন্ড পিতা মনিরুল বিভিন্ন ভয়ভীতি ও প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে ধর্ষণ করে আসছিল। কিশোরী তার পিতার নির্মম অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে গত ২৭ জুন বেলকুচি থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। তার প্রেক্ষিতে পালাতক আসামী মনিরুলকে আটক করা হয়েছে ।

অপরদিকে গত ৮ মে তাড়াশের মান্নান নগর এলাকায় টাকার প্রলোভন দেখিয়ে এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করে স্থানীয় আমজাদ হোসেন নামে এক ব্যক্তি। পরে শিশুর চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে আমজাদ হোসেন দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদি হয়ে তাড়াশ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করে । তার প্রেক্ষিতে পলাতক আমজাদ হোসেনকে আটক করা হয়েছে।

তাড়াশে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বিনসাড়া গ্রামে ডোবার পানিতে ডুবে রাহাত নামে এক শিশু মারা গেছে। সে ওই গ্রামের আশরাফ আলীর ছেলে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমেছে।

স্বজনেরা জানায়, গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ওই নিষ্পাপ শিশু বাড়ির পাশের একটি ডোবায় সবার অজান্তে পড়ে যায়।

অনেক খোঁজাখুঁজির পর বিকেলে তাকে উদ্ধার করে এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নির্বিচারে চলছে চলনবিলে ডিমওয়ালা মা মাছ নিধন

নির্বিচারে চলনবিলে চলছে নির্বিচারে ডিমওয়ালা মা মাছ নিধনডিমওয়ালা মা মাছ নিধন

চলনবিলে বৃষ্টি ও ঢল গড়া পানি আসার সাথে সাথে শুরু হয়েছে নির্বিচারে ডিমওয়ালা মা মাছ নিধনের মহোৎসব।

জানা গেছে, চলনবিল অধ্যুষিত সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, তাড়াশ,উল্লাপাড়া, পাবনার ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর, ফরিদপুর, নাটোরের গুরুদাসপুর, সিংড়া ও নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় কয়েকদিনের ভারি বর্ষন ও উজান থেকে নেমে পাহাড়ি ঢলে খালবিলে পানিতে ভরে উঠছে। সেই সাথে দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন ডিমওয়ালা মা মাছের দেখা মিলছে বিলের পানিতে। আর এই সব মাছ শিকার করতে জেলেরা হুমরি খেয়ে পড়েছেন। ইতোমধ্যে তারা মাছ শিকারের উপকরণ যেমন- বেড়জাল, খোরা জাল, কারেন্ট জাল, সুতিজালসহ নানা ধরনের উপকরণ দিয়ে দিনরাত মা মাছ নিধন শুরু করছেন।

সরেজমিনে চলবিলে ঘুরে দেখা গেছে, যেখানে পানি এসেছে সেখানেই ডিমওয়ালা মা মাছ ধরার জন্য সবাই হুমরি খেয়ে পড়ছেন। গত এক সপ্তাহে চলনবিলের হাট-বাজারে প্রকাশ্যে ডিমওয়ালা মা মাছ চড়া দামে বিক্রিও করতে দেখা যাচ্ছে।

স্থানীয় জেলে সাইফুল আলম জানান, বছরে ৭-৮ মাস বিলে পানি না থাকায় চলনবিলের জেলেদের মানবতার জীবনযাপন করতে হয়। এ কারণে এখন পরিবার চালাতে তাদেরকে ডিমওয়ালা মাছই শিকার করতে হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা (ভারপ্রাপ্ত) মৎস্য কর্মকর্তা হাসান মাহমুদুল হক জানান, চলনবিল একটি বৃহৎ এলাকা। এখানে সমন্বিতভাবে কাজ করলে পোনা মাছ নিধন বন্ধ সম্ভব। তিনি আরও জানান, তার এলাকায় ডিমওয়ালা মা মাছ নিধন বন্ধ করতে জেলেদেরকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।

করোনাভাইরাস: বিধিনিষেধ অমান্য করে তাড়াশে চলছে গ্রাম্য মেলা

সারাদেশ যখন মহামারি করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত তখন সকল বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় বসেছে গ্রাম্যমেলা।

বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই তাড়াশ উপজেলার তালম গ্রামের মহসীন বাজারে বসতে থাকে মেলায় আগত বিভিন্ন ধরনের দোকান। বেলা ১১টা পর্যন্ত এই প্রতিবেদক অবহিত করার আগে এই বিষয়ে জানা ছিল না স্থানীয় প্রশাসনের।

মেলা ঘুরে দেখা যায়, কোন প্রকার সামাজিক দূরত্ব না মেনেই বসেছে দোকানপাটগুলো। প্রতিটি দোকানের সামনে ক্রেতাদের ভীড়। নেই নূন্যতম সতর্কতা। বড়দের পাশাপাশি মেলায় ভীড় দেখা যায় শিশুদেরও।

প্রতিবছর এই দিনে রীতি অনুযায়ী এই মেলাটি বসে নাটোর জেলার সিংড়া থানার অন্তর্গত বড়গ্রাম পাড়ায়। স্থানীয় লোকজনের বাঁধায় এবার সেখানে এই মেলার আয়োজনে ব্যাঘাত ঘটলে সেটি বসে পাশের তাড়াশ থানার তালম গ্রামে।

এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইফফাত জাহানকে অবহিত করলে তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে জানান।

এর আগে উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনি বলেন, প্রতি বছরই তাড়াশ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে মেলা বসে। কিন্তু এবার করোনা দূর্যোগের কারণে উপজেলায় কোন মেলা বসার অনুমতি দেওয়া হয়নি। সেক্ষেত্রে নির্দেশনা অমান্য করে মেলা বসানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্বাসউজ্জামান ও গ্রামের গণ্যমাণ্যদের অবহিত করা হলে তারাও মেলার আয়োজন কারা করেছে সে বিষয়ে জানেন না বলে জানান।

তথ্যসূত্রঃ চ্যানেল আই অনলাইন

 

তাড়াশে একদিনে তিনজনের অপমৃত্যু

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় একই দিনে তিনটি অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার ভোরে সগুনা ইউনিয়নের নওঁখাদা গ্রামে নারগিস আক্তার (২২) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার তালম ইউনিয়নের দেওঘর গ্রামে মহিষের শিংয়ের আঘাতে কৃষক আব্দুর রহমান নামের একজন নিহত হয়।

এছাড়া ওইদিন রাতে তাড়াশ পৌর এলাকার কোহিত গ্রামে অটোভ্যানে চার্জ দেয়ার সময় বিদ্যুৎপৃষ্টে জেল হক (৩০) নামে একজন ভ্যানচালক নিহত হয়েছেন।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, রাতে উপজেলার সগুনা ইউনিয়নের নওখাদা গ্রামে নারগিস আক্তার (২২) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সগুনা ইউপি চেয়ারম্যান টিএম আব্দুল্লাহেল বাকী। নিহত নারগিস আক্তার উপজেলার মাগুড়াবিনোদ ইউনিয়নের মাগুড়া গ্রামের নুর মোহাম্মদের মেয়ে। এক বছর আগে একই উপজেলার সগুনা ইউনিয়নের নওখাদা গ্রামে নুর ইসলামের ছেলে কাওসারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

নিহতের শাশুড়ি মহেলা খাতুন বলেন, নারগিস আক্তার দুপুরে তার মায়ের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলার সময় তাদের কথা কাটাকাটি হয়। এর পর ঘরের ভিতর ঢুকে দরজা বন্ধ করে আড়ার সঙ্গে দড়ি লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে নাটোর জেলার গুড়দাসপুর হাসপাতালে নিলে সেখানে মারা যায়।

তাড়াশ থানার ওসি মাহবুবুল আলম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অন্যদিকে. তাড়াশ পৌর এলাকার কোহিত গ্রামের গোলাপ মন্ডলের ছেলে জেলহক আলী সারাদিন অটোভ্যান চালিয়ে শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ি ফেরেন। পরে অটোভ্যানে চার্জ দেয়ার জন্য ব্যাটারিতে বৈদ্যুতিক তার লাগাতে গিয়ে শর্ট লেগে মাটিয়ে লুটে পড়ে। এ সময় তাড়াশ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকৎসক রুমান খান তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

ওই দিনই শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার তালম ইউনিয়নের দেওঘর গ্রামে মহিষের শিংয়ের আঘাতে মসলিম উদ্দিনের ছেলে কৃষক আব্দুর রহমান নিহত হয়।

কৃষকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে দেওঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুল মান্নান জানান, কৃষক আব্দুর রহমান শখ করে দুটি মহিষ পালতেছিলেন। তিনি তার মহিষ ঘাষ খাওনোর জন্য মাঠে নিয়ে গেলে হঠাৎ করে মহিষ তার শিং দ্বারা কৃষক আব্দুর রহমানকে বারবার আঘাত করে পেটে ঢুকে দেয়। তাৎক্ষণিক তিনি মাঠেই মারা যান।