কামারখন্দে ইয়াবাসহ এক মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল রেল ষ্টেশন পূর্ববাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ কামরুল ইসলাম বাপ্পী (৩৪) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব -১২ সদস্যরা।

সে পাশ্ববর্তী বেলকুচি উপজেলার সুবর্ণসাড়া মধ্যপাড়া গ্রামের অধিবাসী। র‌্যাব -১২’র ভারপ্রাপ্ত কোম্পানী এএসপি মুহাম্মদ মহিউদ্দিন মিরাজ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঈদের আগের দিন বিকেলে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪৬০ পিস ইয়াবাসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ৪ টি মোবাইলসেট, ৬ টি সিমকার্ড ও ৩ হাজার ৩’শ টাকা জব্দ করা হয়। সে দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ ব্যবসায় জড়িত ছিল। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জে ২ ট্রাকের সংঘর্ষে তিন জন নিহত

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিন জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই জন।

বুধবার (১৭ জুন) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার তালুকদার বাজারের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ শহীদ আলম দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, হটিকুমরুলগামী ইট বোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা তুলা বোঝাই একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ইট বোঝাই ট্রাকের দুই শ্রমিকের মৃত্যু এবং আহত হয় আরও তিন জন। আহতদের উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে আরও একজনের মৃত্যু হয়।

কামারখন্দে ঝড়ে গাছচাপায় গ্রামীণ ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু

গাছ চাপায় নিহত হন গ্রামীণ ব্যাংক কর্মকর্তা

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে ঝড়ে গাছচাপায় সিএনজি অটোরিকশা যাত্রী নিহত হয়েছেন। নিহত শরিফুল ইসলাম খান (৩২) কামারখন্দের গ্রামীণ ব্যাংক, চৌবাড়ি শাখার প্রকল্প কর্মকর্তা (পিও)। তিনি উল্লাপাড়ার বড়হর ইউনিয়নের দুর্গপুর তেতুঁলিয়া গ্রামের সাইদুর রহমান খানের ছেলে।

সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) আলী জাহান জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কামারখন্দের জামতৈল বাজার থেকে সিএনজি অটোরিকশায় তিনি চৌবাড়ি কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন।

জামতৈল কৃষি কারিগরি কলেজের সামনে সিএনজি অটোরিকশাটি ঝড়ের কবলে পড়ে। এসময় একটি গাছ পড়ে সিএনজি-অটোরিকশাকে চাপা দিলে গুরুতর আহত হন শরিফুল।

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হাসপাতালে ভর্তি করে। তবে পথেই তিনি মারা যান বলে জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডা. শামীমুল ইসলাম জানান।

কামারখন্দে মোহাম্মদ নাসিমের সুস্থ্যতা কামনায় দোয়া মাহফিল

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, জাতীয় চার নেতার সন্তান মোহাম্মদ নাসিম গুরুতর অসুস্থ, জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। চিকিৎসকরা বলেছেন যে, আগামী ৪৮ ঘন্টা তিনি নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকবেন। আজ সকালে প্রায় ৩ ঘন্টা ব্যাপী তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের জটিল অপারেশন হয়েছে। চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু জানিয়েছেন যে, তার অপারেশন সফল হয়েছে।

এদিকে, আজ শুক্রবার বাদ আছর যুব নেতা আলামিন বাবুর উদ্যোগে কামারখন্দ উপজেলার কাজীপুরা কবরস্থান জামে মসজিদে আলহাজ্ব মোহাম্মদ নাসিম সাহেবের আরোগ্য লাভ ও দীর্ঘায়ূ কামনায় দোয়া খায়ের ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন কাজিপুরা হাফিজিয়া মাদরাসার শিক্ষক আব্দুল মজিদ। উক্ত দোয়া মাহফিলে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিগণ উপস্থিত ছিলেন।

কামারখন্দে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন মা-ছেলে

কামারখন্দে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন মা-ছেলে

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় জামতৈল ইউনিয়নে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়ে উঠেছেন মা-ছেলে। তারা হলেন, উপজেলার হালুকান্দি গ্রামের সেলিনা বেগম (৩৫), ও ছেলে সালমান (৮)। মঙ্গলবার (২জুন) সকাল সাড়ে দশটায় সবশের্ষ পরীক্ষায় নমুনা নেগেটিভ আসে তাদের।

কামারখন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তাদের ছাড়পত্র ও ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।এ সময় উপস্থিত ছিলেন কামারখন্দ উপজেলার চেয়ারম্যান এস.এম.শহিদুল্লাহ সবুজ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফারুক হোসেন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সম্পা রহমানসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কামারখন্দে স্ত্রীর পরকীয়ার বিচার না পেয়ে স্বামীর আত্মহত্যা

সিরাজগঞ্জ: স্ত্রীর পরকীয়া হাতেনাতে ধরার পর বিচার না পেয়ে বিষপান করে আত্মহত্যা করলো সুজাব আলী (৫০) নামে এক তাঁত শ্রমিক।

সোমবার (১৮ মে) দুপুরে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ঝাঐল ইউনিয়নের পাইকশা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুজাব আলী সদর উপজেলার খোকশাবাড়ী ইউনিয়নের গুণেরগাঁতী গ্রামের মৃত হযরত আলীর ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর খামার পাইকোশা গ্রামের দুলাল হোসেনের মেয়েকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন সুজাব আলী। কিন্তু বিয়ের পর থেকে প্রতিবেশী নজরুল ইসলামের সাথে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়ে দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রায় ৯ দিন আগে স্ত্রীকে পরকীয়া প্রেমিক নজরুলের সাথে আপত্তিকর অবস্থায় ধরে ফেলেন সুজাব। এ ঘটনায় ওইদিনই স্থানীয় মুরুব্বিদের হস্তক্ষেপে স্ত্রীকে বাপের বাড়ী পাঠিয়ে দেয়া হয়।

বিষয়টি গোপন রাখতে প্রভাবশালী নজরুল ইসলাম ও তার বড় ভাই শহীদুল ইসলাম সুজাব আলীকে চাপ প্রয়োগ করে আসছিলেন। এ ঘটনার জের ধরে সোমবার (১৮ মে) সকালে দ্বিতীয় পক্ষের শশুর বাড়ীর লোকজন সুজাব আলীকে মারপিট করে। ক্ষোভে দু:খে দুপুরে গোপনে বিষপান করেন তিনি। তাকে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যান তিনি।

সুজাব আলীর উপর চাপ প্রয়োগের বিষয়টি অস্বীকার করে স্থানীয় মাতব্বর শহীদুল ইসলাম বলেন, দুপুরের দিকে আমার কাছে এসে মোবাইল ও নগদ টাকা জমা দেন সুজাব। এরপরই মাটিতে পড়ে যান। আমরা তাকে হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছি। তবে নিজের ভাই নজরুল ইসলামের নামে আরও একটি ধর্ষণ মামলা রয়েছে স্বীকার করে তিনি বলেন, ভাইয়ের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল কুদ্দুস বলেন, সুজাব আলীর বিষপানে আত্মহত্যার বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে কি কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন তা জানা নেই।

সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসাই) জুয়েল আহমেদ জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মরদেহের ডান হাতের কনুইয়ের উপরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুল ইসলাম বলেন, আমরা বিষপানে আত্মহত্যার খবর পেয়েছি। যেহেতু হাসপাতালে মারা গেছেন তাই সদর থানায় একটি ইউডি মামলা হবে। আর পরিবারের পক্ষ থেকে যদি অভিযোগ করা হয়, তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কামারখন্দে মা-ছেলে করোনায় আক্রান্ত

ছবিঃ প্রতীকী

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে মা ও শিশু ছেলে করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়েছে।

আজ শুক্রবার (০৮ মে) বিকেলে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে মা ও ছেলের নমুনা প্রতিবেদন এসেছে। এ নিয়ে জেলায় করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো সাতজনে। তবে এরমধ্যে দুইজন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

কামারখন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফারুক হোসেন জানান, আক্রান্ত মা সেলিনা বেগমের বয়স ৩৫ ও ছেলে সালমানের বয়স ৮ বছর। তারা উপজেলার হালুয়াকান্দি গ্রামের বাসিন্দা।

তিনি বলেন, গত ২৯ এপ্রিল করোনার উপসর্গ নিয়ে ঢাকা থেকে স্বপরিবারে এসেছিলেন সেলিম হোসেন। খবর পেয়ে ৩০ এপ্রিল ওই পরিবারের পাঁচ সদস্যের নমুনা সংগ্রহ করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং তাদের বাড়ি লকডাউন করা হয়। শুক্রবার সেলিমের স্ত্রী সেলিনা ও ছেলে সালমানের রিপোর্টে করোনা পজিটিভ এসেছে। বাকি তিনজনের রিপোর্ট অপেক্ষমান রয়েছে। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মা-ছেলেকে আলাদা ঘরে থেকে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি।

এদিকে এ নিয়ে জেলায় মোট সাতজন করোনায় আক্রান্ত হলো। এর মধ্যে কাজিপুরের বাবা-ছেলে বুধবার সুস্থ হয়ে ফিরেছেন। এছাড়াও বেলকুচির একজন ও উল্লাপাড়ার দুইজন সুস্থ হওয়ার পথে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির।

কামারখন্দে তরুণদের ধানকাঁটা মজুরির টাকায় করোনায় কর্মহীন দরিদ্রদের দেওয়া হবে ঈদ সামগ্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে চলমান লকডাউনে কর্মহীন হয়েপড়া হতদরিদ্রদের মাঝে ঈদ সামগ্রী তুলে দিতে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার রায়দৌলতপুর ইউনিয়নের বাড়াকান্দি গ্রামের ৩০ জন উচ্চশিক্ষার্থী তরুণ যুবক ব্যতিক্রম উদ্যোগ নিয়েছেন। তারা এলাকার বিভিন্ন কৃষকের জমিতে ধানকাটার কামলা দিয়ে যে অর্থ পাচ্ছেন। সেটি জমিয়ে এবারের ঈদে লকডাউনে কর্মহীন হয়েপড়া হতদরিদ্রদের মাঝে ঈদ সামগ্রী তুলে দিবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সবার সাথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতেই তারা এ উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে কথা হয় বাড়াকান্দি গ্রামের একাউন্টিং এ অনার্স ৪র্থ বর্ষের ছাত্র একরামুল হক ও ইঞ্জিনিয়ারিং ২য় বর্ষের ছাত্র রাসেল খান বলেন,আমরা সবাই ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয় ও কলেজে অধ্যায়ন করি। করোনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় আমরা বাড়ি এসে বসে আছি। তাই বেকার বসে সময় নষ্ট না করে করোনায় অসহায় কর্মহীন মানুষের পাশে দাড়াতে এ উদ্যোগ নিয়েছি। নিজেদের হাত খরচের টাকায় প্রথমে ৩৫টি পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী দিয়েছি। এখন ঈদের আনন্দ সবার সাথে ভাগাভাগি করে নিতে কর্মহীন ১২০টি পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর জন্য অনেক টাকার দরকার। যা আমাদের পক্ষে জোগার করা মুশকিল। এদিকে কৃষকের জমির পাকা ধান কাটতে চলছে চরম শ্রমিক সংকট। আমরা কৃষকের এ সমস্যার সমাধানেও উদ্যোগ নিয়েছি। ধানকাঁটা শ্রমিকরা প্রতি ডিসিমেল জমিতে ৫০টাকা নগদ ও ২ বেলা খোরাকি নিয়ে থাকেন। আমরা রোজা থাকি। তাই খোরাকি নিচ্ছিনা। শুধু ৫০টাকা করে মজুরি নিচ্ছি। এতে কৃষকেরও কিছুটা আর্থিক স্বাশ্রয় হচ্ছে। তারা বলেন, এ কাজ করে গত ১৫ দিনে আমাদের প্রায় ১০ হাজার টাকা জমেছে। আরো ২৫ হাজার টাকা লাগবে। এ জন্য আমরা নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আশাকরি ২৫ রোজার মধ্যে আমাদেও এ টার্গেট পূরণ হবে। আমরা কৃষকের জমির পাঁকা ধান কেটে বাড়িতে পৌছে দিচ্ছি। বিনিময়ে পাওয়া মজুরির টাকা দিয়ে ঈদ সামগ্রী কিনে ১২০টি কর্মহীন হতদরিদ্র অসহায় পরিবারের বাড়ি বাড়ি পৌছে দেব। আমাদের এ উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন কৃষকদের ধানকাটার শ্রমিক সংকট দূর হচ্ছে। অপর দিকে অসহায় কর্মহীন পরিবারের মুখে হাঁসি ফুটে উঠছে। তারা আরো বলেন,ইতোমধ্যেই আমরা ২০০ ডিসিমেল জমির পাকা ধান কেটে কৃষকের বাড়িতে পৌছে দিয়েছি। তারা আরো জানান,‘বাড়াকান্দি উত্তরা তরুণ সংঘ’ নামে তাদের একটি সেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন রয়েছে। এ সংগঠনের পক্ষ থেকে তারা গ্রামের বাল্যবিবাহ,ইভটিজিং বন্ধ ও ঝড়েপড়া শিশুদের শিক্ষা ব্যবস্থা সহ নানা ধরণের সামাজিক কাজ করে এলাকায় প্রসংশিত হয়েছেন।
এ ধানকাটা কাজে অংশ নেওয়া যুবকরা হল, একরামুল হক,জাকারিয়া হোসেন মামুন, ইমরান হাসান রবিন,রাসেল খান, মেহেদী হাসান বাপি, সোহাগ খান,ইয়াসিন খান, রাসেল রানা, ইয়াকুব, ইউনুস খান, সৌরভ খান,তালাত মাহমুদ অন্তর,মোহাইমিনুল ইসলাম হৃদয়,সিয়াম আহমেদ,রিয়াজুল ইসলাম,মাকসুদুল ইসলাম, জুলকার নাইম, সাগর খান, মাসুম খান, সায়েম সরকার,শরিফুল ইসলাম, মাজহারুল ইসলাম, আল-আমিন হোসেন রিপন, সোহানুর রহমান সবুজ, সিহাব উদ্দিন, মনিরুল ইসলাম, হৃদয় হোসেন আকাশ,শাহরিয়ার মাহমুদ সবুজ,আনিসুর রহমান,মিঠু,রয়হান,রাকিব,রিয়াজুল, হাসান,নাসির,বাবু,শাহরিয়া প্রমুখ।

কামারখন্দে ১৩৬০ কেজি চাল উদ্ধার, আটক ১

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় র‌্যাব ও পুলিশের পৃথক অভিযানে সরকারি এক হাজার ৩৬০ কেজি চাল উদ্ধার ও সোলায়মান শেখ নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছেন র‌্যাব সদস্যরা। ছবি : এনটিভি

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় র‌্যাব ও পুলিশের পৃথক অভিযানে সরকারি এক হাজার ৩৬০ কেজি চাল উদ্ধার ও সোলায়মান শেখ নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে র‌্যাব সদস্যরা। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাঁকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

আজ সোমবার দুপুরে র‌্যাব ১২-এর কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব ১২-এর মিডিয়া অফিসার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক লেফটেন্যান্ট এম এম এইচ ইমরানের নেতৃত্বে কামারখন্দের ভদ্রাঘাট কাচারীপাড়ার সোলায়মান শেখের বাড়িতে অভিযান চালান র‌্যাব সদস্যরা। এ সময় তাঁর বাড়িতে মজুদ রাখা এক হাজার ১৫০ কেজি চাল উদ্ধার ও সোলায়মান শেখকে আটক করা হয়। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাহাঙ্গীর আলমের আদালতে তাঁকে হাজির করা হয়। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে চাল মজুদ রাখার দায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন ২০১২-এর ৩৯ ধারায় সোলায়মান শেখকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অপরদিকে সহকারী পুলিশ সুপার (কামারখন্দ সার্কেল) শাহিনুর কবীর বলেন, আজ সোমবার দুপুরে কামারখন্দ উপজেলার ঝাঐল ইউনিয়ন পরিষদের পাশে রফিকুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৩০ কেজি ওজনের সাত বস্তা চাল (২১০ কেজি) ও ৫৪টি খালি বস্তা উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী রুবী খাতুন এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তিনি পলাতক রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

সূত্রঃ এনটিভি অনলাইন

কামারখন্দে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারি কর্মস্থলে নেই

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। ছুটিকালীন সময়ে বিভাগ/ জেলা/উপজেলা/ ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মরত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারিকে দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থানের জন্য নির্দেশ দেয় সরকার। কিন্তু তা না মেনে সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারি কর্মস্থলে না থেকে উপজেলার বাহিরে বিভিন্ন উপজেলা ও জেলায় অবস্থান করছেন। এতে করে জরুরি কাজের সময় পাওয়া যাচ্ছে না অধিকাংশ দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার ২৭টি দপ্তরের মধ্যে কর্মস্থলে রয়েছে মাত্র কয়েকটি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারি। এর মধ্যে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, থানা, খাদ্য অধিদপ্তর, সমাজ সেবা কার্যালয়ে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারি কর্মস্থলে উপস্থিত রয়েছেন।

এ ছাড়া উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের উপজেলা প্রকৌশলী ছাড়া সকল কর্মকর্তা-কর্মচারি রয়েছেন তাদের কর্মস্থলের বাহিরে, উপজেলা শিক্ষা অফিসের একজন সহকারি শিক্ষা অফিসার ও একজন অফিস সহকারি ছাড়া কেউ নেই কামারখন্দ উপজেলায়, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার ছাড়া মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও সকল কর্মচারি অবস্থান করছেন সিরাজগঞ্জ শহরে।

পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের পরিবার পরিরকল্পনা কর্মকর্তা এই উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করায় তিনি তার কর্মস্থল সিরাজগঞ্জ শহরে রয়েছেন, এ কার্যালয়ের কয়েকজন ছাড়া সকল কর্মচারি উপজেলার বাহিরে।

পল্লী উন্নয়ন কার্যালয়ে পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা ও চার জন ছাড়া বাকি দুই জন সিরাজগঞ্জ শহরে অবস্থান করছেন। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের কর্মকর্তা মাঝে মধ্যে কর্মস্থলে আসলেও এ দপ্তরের অধিকাংশ কর্মকর্তা কর্মস্থলেই রয়েছেন।

যুব উন্নয়ন দপ্তরে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সরকারি ত্রাণ বিতরণে তিনি তার দায়িত্ব পালন করছেন অন্যান্য কর্মরত সবাই কামারখন্দের বাহিরে অবস্থান করছেন।

সমবায় কর্মকর্তার কার্যালয়ে সমবায় কর্মকর্তা ছাড়া অধিকাংশ কর্মচারি নেই কর্মস্থলে, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকায় তিনি তার আসল কর্মস্থলেই রয়েছেন এ কার্যালয়ের বাকী কর্মচারিরা উপজেলার বাহিরে, সাব-রেজিস্টার সহ তার কার্যালয়ের সকল কর্মচারি রয়েছেন সিরাজগঞ্জ শহরে, উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্রাক্টরসহ কেউ নেই কর্মস্থলে, উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তার (পজীব) কার্যালয়ের উপ প্রকল্প কর্মকর্তা ও কয়েকজন কর্মচারি ছাড়া অন্যান্যরা রয়েছেন বিভিন্ন উপজেলায়।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ সহকারি প্রকৌশল ছাড়া সকল কর্মচারি উপজেলার বাহিরে, নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের নির্বাচন কর্মকর্তা ছাড়া অন্যান্য কর্মচারিরা নেই কর্মস্থলে, বন কর্মকর্তার কার্যালয়, আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তার কার্যালয় ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের কর্মরত সবাই কর্মস্থলের বাহিরে অবস্থান করছেন। এই সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারি সরকারি আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কামারখন্দ উপজেলার বাহিরে অবস্থান করছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারি কামারখন্দ উপজেলায় অবস্থান করছেন।

এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী এসএম সানজীদ আহম্মেদ জানান, আমি ছাড়া আমার অফিসের কর্মরত সবাই কামারখন্দ উপজেলার বাহিরে সিরাজগঞ্জ শহরসহ বিভিন্নস্থানে অবস্থান করছেন।

এ বিষয়ে কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, যে সকল দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারি কর্মস্থলে নেই। তাদের তালিকা তৈরী করে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগে প্রেরণ করার প্রক্রিয়া চলছে।