চাল ‘আত্মসাৎ’, সিরাজগঞ্জে ৩ ইউপি সদস্য বরখাস্ত

হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ বয়স্ক ও বিধবা ভাতা এবং ভিজিডির চাল আত্মসাতের অভিযোগে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার তিন ইউপি সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

শুক্রবার এ সংক্রান্ত পত্রের অনুলিপি পেয়েছেন বলে কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ হাসান সিদ্দিকী জানান।

বরখাস্ত তিন ইউপি সদস্য হলেন খাসরাজবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য শহিদুল ইসলাম, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দুলাল হোসেন এবং গান্ধাইল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আলাউদ্দিন জোয়াদ্দার।

কাজিপুরের ইউএনও জাহিদ হাসান সিদ্দিকী বলেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ ইফতেখার আহম্মেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত পত্র ওই তিন ইউপি সদস্যের নামে পাঠানো হয়েছে।

“চিঠিতে সাময়িক বরখাস্ত তিনজন ইউপি সদস্যকে কেন স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হবে না তা জানতে চেয়ে আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, গত ১৮ জুন খাসরাজবাড়ী ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বয়স্ক ও বিধবা ভাতার টাকা অবৈধভাবে উত্তোলনপূর্বক আত্মসাতের অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের বাসিন্দা হযরত আলী। এর আগে ২৮ মে একই ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য দুলাল হোসেনের বিরুদ্ধে ভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেন রফিকুল ইসলাম। এছাড়াও গান্ধাইল ইউপি সদস্য আলাউদ্দিন জোয়াদ্দারের বিরুদ্ধে ভিজিডির তালিকাভুক্তদের চাল না দিয়ে সহযোগীদের সহায়তায় উত্তোলন করে আত্মসাতের লিখিত অভিযোগ করেন গান্ধাইল গ্রামের একাধিক ব্যক্তি।

ইউএনও জানান, স্থানীয়ভাবে তদন্তে এসব অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করে জেলা প্রশাসক বরাবর প্রতিবেদন পাঠানো হয়। জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানোর পর তিন ইউপি সদস্যদের সাময়িক বরখাস্তের চিঠি দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে কাজিপুর উপজেলা সদর প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়

যমুনা বেষ্টিত কাজিপুরের শিক্ষার হার ক্রমান্বয়ে বেড়ে চলেছে। সাধারণ শিক্ষার সাথে কারিগরি ও প্রতিবন্ধীদের শিক্ষার পথ সুগম হওয়ায় চরবিড়া মিলে এখন শিক্ষার শুভযাত্রার ট্রেন সামনের দিকে এগিয়ে চলছে। এই সামনে চলার পথকে আরও বেগবান করতেই প্রতিবন্ধীদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে কাজিপুর উপজেলা সদর প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়।

জন্মসূত্রে আলাদা বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে ইতোপূর্বে তেমন করে কাজিপুরের কেউ ভাবেননি। বিশেষ করে উপজেলা সদরে এরকম একটি বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয়তা কারো চিন্তায় ধরা পড়েনি। অবশেষে কাজিপুরের মাটি ও মানুষের নেতা সদ্য প্রয়াত এমপি মোহাম্মদ নাসিম বিষয়টি আমলে নেন। একদিন সচিবালয়ে একই গাড়িতে যেতে যেতে এ বিষয়ে কথা বলছিলেন কাজিপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র গোলাম মোস্তফা মধু তালুকদারের সাথে। এক পর্যায়ে তিনি জিএম তালুকদারকে উপজেলা সদরে প্রতিবন্ধীদের জন্যে একটি বিদ্যালয় স্থাপনের নির্দেশ দেন।

অবশেষে মোহাম্মদ নাসিমের নির্দেশনা মোতাবেক ২০০৮ সালে আলমপুর চৌরাস্তায় প্রতিষ্ঠিত হয় প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়। নামকরণও মোহাম্মদ নাসিমই করলেন‘ কাজিপুর উপজেলা সদর প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়।’ এমন কথাই জানালেন কাজিপুর উপজেলা সদর প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি গোলাম মোস্তফা তালুকদার ওরফে জিএম তালুকদার। গতকাল ওই বিদ্যালয়ে সরেজমিন গিয়ে কথা হয় তার সাথে।

তিনি জানান, যেসব শিশু জন্মগতভাবেই অদ্ভুত অঙ্গ প্রত্যঙ্গ নিয়ে বেড়ে ওঠে, অস্বাভাবিক আচরণ করে, অন্যসবার সাথে মিশতে পারে না তাদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াতেই এই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।’

আলমপুর পৌরসভাসহ পাশের চালিতাডাঙ্গা, সোনামুখী, গান্ধাইল, মাইজবাড়ি, কাজিপুর সদর ও শুভগাছা ইউনিয়নের প্রতিব›ধী শিশুরা এই বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ পাচ্ছে। কুড়ি শতক জমির ওপর অত্যন্ত মনোরম পরিবেশে বিদ্যালয়টির অবস্থান। কাজিপুর পৌরসভার মধ্যে অবস্থিত বিদ্যালয়টি কাজিপুর-সিরাজগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে অবস্থিত।

বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে (ননএনডিডি ১২ ধরণের প্রতিবন্ধী) শিক্ষার্থী রয়েছে মোট ২৮৭ জন। এদের মধ্যে ছেলে ১৬৯ জন এবং মেয়ে ১১৮ জন। শিক্ষক সংখ্যা ২৬ জন, অফিস স্টাফ রয়েছে ১৪ জন, ভ্যানচালক ৫ জন।
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক নূর নবী জানান, ‘প্রতিদিন আমাদের ভ্যানগাড়ি প্রায় পনের কিলোমিটার দূর থেকে শিক্ষাথী ও তাদের অভিভাবকদের আনা নেয়া করে।’

প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার পদ্ধতি প্রচলিত শিক্ষার চেয়ে আলাদা। এ লক্ষ্যে এখানকার শিক্ষকেরাও ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেন। প্রথম থেকে পঞ্চশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা ব্যবস্থার জন্যে রয়েছে বিশেষ বিনোদন। রয়েছে হারমোনিয়াম, তবলা, সাউন্ডবক্স, ফুটবল, লুডু, কেরামবোর্ড।
প্রতিবন্ধীতায় প্রশিক্ষিত শিক্ষকমন্ডলী অত্যন্ত যতেœর সাথে এসব সহায়ক উপকরণের মাধ্যমে পাঠদান করে থাকেন। শিক্ষার্থীদের বিশেষ খাবার সরবরাহ করা হয়। দূরের শিক্ষার্থীদের আনা নেয়ার জন্যে রয়েছে ছয়টি অটোভ্যান। ছয়টি হুইল চেয়ারও শিক্ষার্থীদের কাজে ব্যবহৃত হয়।

করোনাকালিন সময়ে বিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নেন বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জিএম তালুকদার। এরইমধ্যে তিনি শিক্ষার্থীদের মাঝে অর্থ সহায়তা দিয়েছেন। তাছাড়া সারা বছরের খাতা কলম সব বিনামূল্যে স্কুল থেকে সরবরাহ করা হয়।

পুরো বিদ্যালয় ভবনটি টিনশেড বিল্ডিং। ছয়টি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হয়। শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেয়া হয় দুই শিফটে। রয়েছে বিশেষ কম্পিউটার সুবিধা। শিক্ষার্থী অভিভাবকদের বসার জন্যে রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। আছে তিনটি পাকা টয়লেট, দুইটি টিউবওয়েল।

কাজিপুর উপজেলা সদর প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় এর পরিদর্শন প্রতিবেদন প্রেরণ করেন মোসাঃ উম্মে কুলসুম, উপ-পরিচালক, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, সিরাজগঞ্জ। সহযেগিতার হাত বাড়িয়েছেন রান ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি, ধনবাড়ি টাঙ্গাইল। নিবন্ধনের তারিখ ৫-৮-২০১৮ নবায়নের তারিখ- ৪-৮- ২০২০।

স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার খাতিরে সম্পূর্ণ সরকারি নিময় মেনে প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে যাবতীয় লেনদেন সম্পন্ন হয়। হিসাব নং- ৪২০৭৭০১০১৮০৫৪। বর্তমান স্থিতি দুইলক্ষ ২৬ হাজার একশ টাকা।

প্রতি বছর স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, ১ লা বৈশাখ উপলক্ষ্যে উপজেলা সদরে অনুষ্ঠিত র‌্যালি এবং র‌্যালি পরবর্তী ডিসপ্লেসহ নানা কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করে পুরস্কারও জিতে নেয় এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকদের তত্বাবধানে শিক্ষার্থীরা নানা সময়ে বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানে অংশ নেয়।

সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রি ও কাজিপুরের সদ্য প্রয়াত এমপি মোহাম্মদ নাসিম গত ৫ -৯-২০১৯ তারিখে বিদ্যালয়টি সরেজমিন পরিদর্শন করেন এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাপোকরণ বিতরণ করেন। এরপর কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদ হাসান সিদ্দিকী ও সেইসময়ের উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এলিজা সুলতানা এ বছরের ১ জানুয়ারি বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে পড়ালেখার মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন।

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি গোলাম মোস্তফা তালুকতার ওরফে মধু তালুকদার জানান,‘ যে নেতার কথায় প্রতিষ্ঠানটি গড়া তোলা হয়েছে তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই। তার স্বপ্ন ও সম্মান ধরে রাখতে আমরা সচেষ্ট থাকবো। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত অত্যন্ত সুনামের সাথে চলছে এর পাঠদান কার্যক্রম। এখন দরকার সরকারি সহায়তা। এ লক্ষ্যে যাবতীয় শর্তই পূরণ করা হয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যালয়টি এমপিওভূক্তিকরণের জন্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন রাখছি।’

কাজিপুরে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হাট ইজারাদারদের কঠোর নির্দেশ

করোনা প্রতিরোধে কাজিপুরের হাট ইজারাদারদের সাথে মতবিনিময় করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ হাসান সিদ্দিকী। গতকাল সোমবার দুপুরে ইউএনওর নিজ কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত আলোচনায় অংশ নেন উপজেলায় অবস্থিত হাটের ইজারাদারগণ।

এ সময় ইউএনও উপস্থিত ইজারাদারদের করোনাভাইরাস মোকাবেলায় করণীয় সম্পর্কে সিরাজগঞ্জ প্রশাসক ড. ফারুক আহম্মদের নির্দেশনা পড়ে শোনান।

তিনি বলেন, সম্প্রতি হাট-বাজারে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন, মাস্ক ব্যবহার ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ক্ষেত্রে জনগণের অনীহা দূর করতে ইজারাদারদের বিভিন্ন প্রচারণা চালানোর নির্দেশ দেন।

বিশেষ করে আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে পশুর হাটগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে পালন, পশুর হাটে দৈনন্দিন বর্জ্য পরিস্কার, জীবানুনাশক স্প্রে ব্যবহার, ক্রেতা-বিক্রেতাদের বাধ্যতামূলক মাস্কের ব্যবহার ও সামাজিক দূরত্ব রেখে ক্রয়-বিক্রয় নিশ্চিতকরণের নির্দেশনা মাইকের সাহায্যে প্রচার ও মেনে চলার কঠোর নির্দেশনা মেনে চলার আহবান জানানো হয়।

স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ১

সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলায় দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণের ঘটনায় করা মামলার অন্যতম আসামি মারুফ হোসেনকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার ভোরে গাজীপুরের কোনাবাড়ি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মারুফ হোসেন (৩২) কাজীপুর উপজেলার মেঘাই গ্রামের বাসিন্দা।

কাজীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পঞ্চানন্দ সরকার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাজীপুরের কোনাবাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে মারুফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ মামলার প্রধান আসামি আরিফকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।

জানা গেছে, স্কুলে যাতায়াতকালে ওই কিশোরীকে প্রায়ই উত্যক্ত করত পাইকরতলী গ্রামের আরিফ হোসেন। বিষয়টি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে আরিফের পরিবারকে জানিয়ে সর্তক করে ওই কিশোরীর পরিবার। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১৪ জুন রাতে আরিফ তার বন্ধুদের নিয়ে ওই কিশোরীকে অপহরণের পর ধর্ষণ করে। দুই দিন অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে ধর্ষণের পর ১৬ জুন সন্ধ্যায় বগুড়ার চান্দাইকোনা বাজার এলাকায় ওই কিশোরীকে রেখে পালিয়ে যায় আরিফ ও তার বন্ধুরা। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় ওই স্কুলছাত্রী নিজে বাদী হয়ে গত ১৮ জুন কাজীপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করে। এ মামলার অন্যতম আসামি মারুফকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ।

বাসের ভিতরে রাতভর প্রেমিকাকে ধর্ষণ, মামলা

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার মাইজবাড়ি ইউনিয়নের কুনকুনিয়া গ্রামের এক কিশোরিকে (১৬) প্রেমের ফাঁদে ফেলে ও বিয়ের প্রলোভনে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে রাতভর একটি থেমে থাকা বাসের মধ্যে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত ১৩ জুন গভীর রাতের এ ঘটনায় ১৮ জুন বৃহস্পতিবার বিকেলে ধর্ষিতা নিজেই বাদী হয়ে কাজীপুর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন। এতে প্রেমিক ও ওই বাসের চালককে আসামী করা হয়েছে। আসামীরা হল-কাজিপুর সদর ইউনিয়নের পাইকরতলী গ্রামের নৈশপ্রহরী ফরিদ উদ্দিনের ছেলে প্রেমিক আরিফ হোসেন (২২) ও একই ইউনিয়নের মসলিমপাড়া গ্রামের বুদ্ধুর ছেলে বাসচালক মারুফ হোসেন (২৬)। এ ঘটনার পর থেকে তারা পলাতক রয়েছে।

এ বিষয়ে কাজিপুর থানার ওসি পঞ্চানন্দ দাস ও এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই পান্থ দাস বলেন, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে ধর্ষক আরিফের সাথে ওই কিশোরির প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের প্রলোভনে গত ১৩ জুন গভীর রাতে ওই কিশোরিকে বাড়ি থেকে ডেকে নেয়। এরপর একটি সিএনজি টেম্পু যোগে বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার দূরে একটি দাঁড়িয়ে থাকা বাসের মধ্যে নিয়ে গিয়ে ওই বাসের চালক মারুফের সহযোগীতায় রাতভর তাকে ধর্ষণ করে। এরপর ভোররাতের দিকে তাকে ওই বাস থেকে নামিয়ে নিয়ে মেঘাই বাজারের কাছে একা ফেলে রেখে তারা পালিয়ে যায়। উপায় না দেখে কিশোরিটি বাড়ি ফিরে প্রেমিক আরিফের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে। কিন্তু আরিফ তাকে বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় নিরুপায় হয়ে ১৮ জুন সে থানায় এ ধর্ষণ মামলা দায়ের করে।

তারা আরো জানান, ভিকটিম ওই কিশোরি এখন তার নিজবাড়ি উপজেলার মাইজবাড়ি ইউনিয়নের কুনকুনিয়া গ্রামেই অবস্থান করছে। তার মেডিকেল পরীক্ষার প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যহত রয়েছে। কিন্তু তারা ঘটনার পর থেকে পালিয়ে থাকায় তাদের এখনও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে আশা করছি অচিরেই তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।

মাত্র দশ মাসে কোরআন মুখস্থ ৯ বছরের শিশুর

সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে মাত্র দশ মাসে পবিত্র কোরআন মুখস্থ করে নজির স্থাপন করেছে জান্নাতুল ফিরদাউস নামে ৯ বছরের এক শিশু। যার অর্ধেকের বেশি লকডাউনের মধ্যেই মুখস্থ করে ফেলেছে শিশুটি।

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার চালিতাডাঙ্গা ইউনয়নের শ্যামপুর গ্রামের কামলা পাশার মেয়ে জান্নাতুল বর্তমানে রাজধানীর লালমাটিয়ায় হুইটন ইন্টারন্যাশনাল ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের স্ট্যন্ডার্ড-টু শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। তার বাবা কামাল পাশা একজন গণমাধ্যমকর্মী। তিনি বৈশাখী টেলিভিশনে কর্মরত রয়েছেন। মা রাফিয়াতুল জান্নাত একজন গৃহিনী।

কামাল পাশা জানান, ইংরেজি মিডিয়াম স্কুলে বিনামূল্যে বিদেশি ভাষা শেখানোর সুযোগ রয়েছে। তাই সুযোগটা নিতে মেয়েকে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি আররি ভাষা ও কোরআন শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করি। কঠোর প্রচেষ্টায় মাত্র ১০ মাসে পবিত্র কোরআন মুখস্থ করে ফেলে। জান্নাতুল ভবিষ্যতে আর্কিটেক প্রকৌশলী হতে চায়। পাশাপাশি এদেশের নারীদের কোরআনের হাফেজ হতে সহযোগিতা করার ইচ্ছা তার।

মেইন গেটে তালা দিয়ে বিদ্যালয়ের ভেতরে চলছে ক্লাস

মেইন গেটে তালা দিয়ে বিদ্যালয়ের ভেতরে চলছে ক্লাস

সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে ব্যক্তি মালিকানাধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে ভেতরে চালানো হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম। কোনো প্রকার স্বাস্থ্যবিধি না মেনে এখানে শিশু-কিশোরদের ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। ফলে ভয়াবহ করোনা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে কোমলমতি শিশু-কিশোররা।

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার পরানপুর এলাকায় ‘অন্যরকম বিদ্যানিকেতন’ নামে ব্যক্তি মালিকানাধীন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন কোচিং বাণিজ্য চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রোববার (০৭ জুন) সকালে সরেজমিনে ওই বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির মূল ফটকে তালা ঝোলানো রয়েছে। মূল ফটকের সঙ্গে ছোট গেটটি সামান্য খোলা থাকলেও বিদ্যালয়টির মাঠ ও বহিরাঙ্গন থেকে পাঠদানের কোনো আলামত বোঝা যাচ্ছিল না। সেখানে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর একজন শিক্ষার্থী ছোট গেটটি দিয়ে বেরিয়ে আসে।

তখন ওই শিক্ষার্থী সাংবাদিকদের জানায়, স্কুলের ভেতরে ক্লাস চলছে। এরপর ভেতরে ঢুকে দেখা যায় প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থীকে গোপনে পাঠদান করছেন ওই বিদ্যালয়টির পরিচালক ইয়াছিন আলীসহ আরও দুই শিক্ষক।

পাঠদানের সময় সামাজিক দূরুত্ব তো দূরের কথা গাদাগাদি করে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে বসানো হয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কারও মুখে মাস্কও নেই।

ওই বিদ্যালয়ের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, করোনার শুরু থেকেই এখানে ক্লাস চালানো হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বই স্কুলেই রাখা আছে। এ কারণে ছাত্র-ছাত্রীরা খালি হাতে বিদ্যালয়ে ঢোকে। পাঠদান শেষে আবার খালি হাতেই বের হয়। শিক্ষার্থীদের বেতন পরিশোধের জন্যও জোর তাগাদা দিয়ে যাচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক।

এ সময় কথা হয় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক আশরাফ আলীর সঙ্গে। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, স্কুল বন্ধ রেখে কোনো লাভ নেই। প্রশাসন এখানে কিছুই করতে পারবে না।

বিদ্যালয়টির পরিচালক ইয়াছিন আলী জানান, আমাদের এলাকায় তো কোন করোনা রোগী নেই। শিক্ষার্থীরা এখানে আসলে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও নাই। হাট-বাজার সবকিছুই চলছে, স্কুল বন্ধ রেখে কি লাভ।

কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ হাসান সিদ্দিকী বলেন, বিদ্যালয়টির ব্যাপারে এর আগেও এমন তথ্য পেয়েছিলাম। তখন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিলেন জেএসসি ফরম পূরণ করতে শিক্ষার্থীরা এসেছিল। এখনও যদি সেখানে ক্লাস চলমান থাকে তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে দুইজনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

কাজিপুর

সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে পৃথক দুই স্থান থেকে এক নারী ও যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২৭ মে) সকালে ও দুপুরে কাজিপুর পৌর এলাকার বেরিপোটল এবং সোনামুখী ইউনিয়নের স্থলবাড়ী গ্রাম থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মৃত দুইজন হলেন, বেরিপোটল গ্রামের করিম বক্সের স্ত্রী সামনা বেগম (৬২) ও স্থলবাড়ী গ্রামের শহীদ সরকারের ছেলে শিপন সরকার।

বিকেলে কাজিপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মতিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বুধবার দুপুরে বেরিপোটল গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে সামনা বেগমের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পেটের অসুখে ভুগছিলেন বলে স্বজনেরা দাবি করেছে।

এর আগে বুধবার ভোরে স্থলবাড়ি গ্রামের নিজ ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় শিপন সরকারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি জন্মগতভাবে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে পরিবার ও স্থানীয়রা জানিয়েছে।

এসআই মতিন আরও জানান, দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় দুটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।

করোনাযুদ্ধে সিরাজগঞ্জের প্রথম শহীদ এসআই মজিবুর রহমান

শহীদ এসআই মজিবুর রহমান

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারালেন পুলিশের আরো এক সদস্য। উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মজিবুর রহমান তালুকদার (৫৬) আজ সোমবার সকালে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে মারা যান। মজিবুর স্পেশাল ব্রাঞ্চের (সিটি এসবি) পল্টন জোন-১-এ কর্মরত ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সদর দপ্তরের আইজি মিডিয়া সোহেল রানা।

মজিবুর রহমান তালুকদারের গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার তারাকান্দি গ্রামে। তিনি বগুড়া জেলার শাজাহানপুর থানার সাখপাড়া গ্রামে বসবাস করতেন। তিনি স্ত্রী, দুই পুত্র, এক কন্যাসহ বহু আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।’

করোনাভাইরাস পজিটিভ হওয়ায় গত ১১ মে মো. মজিবুর রহমান তালুকদারকে রাজধানীর ইমপালস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তিনি আজ সোমবার সকাল ৮টা ৫১ মিনিটে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন।

পুলিশের ব্যবস্থাপনায় তাঁর মরদেহ বগুড়া পাঠানো হয়েছে। সেখানে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী মরদেহ দাফন করা হবে।

সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখায় ৯ ফার্মেসি মালিককে জরিমানা

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার সোনামূখী বাজারে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখার দায়ে ৯ ফার্মেসির মালিককে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা অর্থদন্ডাদেশ দিয়েছেন র‌্যাব-১২’র ভ্রাম্যমাণ আদালত।

র‌্যাব-১২ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার সন্ধ্যার দিকে ড্রাগ সুপার শেখ আহসান উল্লাহর নেতৃত্বে র‌্যাব সদস্যরা ওই বাজারে ৯টি ফার্মেসির দোকানে অভিযান চালায়।

এ অভিযানে রেজিস্ট্রার বিহীন ঔষধ ৭০,৪২৩ পিস, সেম্পল ঔষধ ৬২,৩১৩ পিস এবং মেয়াদ উর্ত্তীণ ঔষধ ৪১৬ পিস জব্দ করা হয়।

পরে ফার্মেসি মালিক কোরবান আলী, আব্দুর রহমান, আবুল কালাম আজাদ, শহিদুল আলম, নূরে আলম সিদ্দিক, মাসুদুর রহমান, সেলিম মাহমুদ, জাহাঙ্গীর আলম, মতিউর রহমানকে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, সহকারী পরিচালক মো. আলাউদ্দিন ভূইয়া জনীর আদালতে হাজির করা হলে তাদের বিভিন্ন পরিমাণে উল্লেখিত টাকা জরিমানা করা হয়।