এনায়েতপুরের বিশিষ্ট সমাজ সেবক শফি হাজী আর নেই

সিরাজগঞ্জের তাঁত শিল্পকে অনন্য উচ্চতায় নিতে ভুমিকা পালনকারী এনায়েতপুর থানার খুকনী গ্রামের বিশিষ্ট তাঁত ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক হাজী শফিকুল ইসলাম শফি (৬৪) বার্ধক্যজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৩ ছেলে ১ মেয়েসহ অসংখ্য আত্বীয়-স্বজন রেখে গেছেন।

শনিবার বাদ আসর খুকনী আটারদাগ জামিয়া হুসাইনিয়া মদীনাতুল উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসা ময়দানে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে পরিবারের পক্ষ থেকে ধর্মপ্রাণ মসুল্লীদের শরিক হবার আহবান জানানো হয়েছে।

শফিকুল ইসলাম শফি মাস খানেক আগে ফুসফুসে সমস্যা নিয়ে খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি হন। এখানে তার দেহে করোনা পজিটিভ আসে। এরপর ঢাকার সমরিতা হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। শনিবার ভোর রাতে হাজী শফি সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

তার মৃত্যুতে সাবেক মন্ত্রী সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ বিশ্বাস, স্থানীয় এমপি হাসিবুর রহমান স্বপন, সামাজিক সংগঠন একুশে ফোরামের সভাপতি আখতুরুজ্জামান তালুকদার সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবি সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা গভীর শোক প্রকাশ করে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, শফি হাজীর মৃত্যু এনায়েতপুর এক দরদী সমাজপতিকে হারালো।

শফি হাজী এক দিকে সামাজিক ভাবে মানুষের পাশে যেমন দাঁড়াতেন। তেমনি ছিলেন শিক্ষানুরাগী। ছিলেন ঐতিহ্যবাহী খুকনী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের দীর্ঘ দিন সভাপতি।

জনমনে প্রশ্ন, লম্পট নাজমুলের খুঁটির জোর কোথায় ?


শাহজাদপুরে মেডিকেল এসিষ্ট্যান্ট নাজমুলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টাসহ নারীর শ্লীলতাহানীর অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার খুকনী ইউনিয়নের খোকশাবাড়ী মন্ডলপাড়ার জনতা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টার-২ এর মেডিকেল এসিষ্ট্যান্ট লম্পট নাজমুলের একের পর ধর্ষন চেষ্টাসহ নারীদের শ্লীলতাহানীর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একের পর এক ঘটে যাওয়া এসব ন্যাক্কারজনক ঘটনায় এলাকায় নিন্দার ঝড় বইছে। সবশেষ ওই ক্লিনিকের যুবতী এক আয়াকে জোরপূর্বক ধর্ষন চেষ্টার ঘটনায় এলাকাবাসী ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে। এ ঘটনাও ধামাচাপা দিতে একটি প্রভাবশালী মহল উঠেপড়ে লেগেছে।

এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জনতা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টার-২ এ গত ২০১৮ তাড়াশ উপজেলার মথুরাপুর গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে নাজমুল ইসলামকে মেডিকেল এ্যাসিষ্টেন্ট পদে দায়িত্ব দেয়া হয়। এরপর থেকেই নাজমুল নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে রোগীদের সাথে চিকিৎসাসেবা প্রদানের নামে প্রতারণা চালিয়ে আসছে ও বিভিন্ন সময়ে নারীদের নানাভাবে যৌন হয়রানী করে আসছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, আড়াই বছর আগে জনতা ক্লিনিকে কর্মরত বাক্ষ্মণগ্রামের এক আয়াকে মেডিকেল এসিষ্ট্যান্ট নাজমুল ধর্ষনের চেষ্টা করে। ভুক্তভোগী আয়া এ ঘটনা পরিবারের সদস্যদের জানালে সালিসী বৈঠকে হাত-পা ধরে সেবারের মতো পার পান লম্পট নাজমুল। একই ভাবে বছর খানেক আগে খোকশাবাড়ি গ্রামের জনৈক প্রবাসীর স্ত্রী চিকিৎসাসেবা নিতে আসলে তার শ্লীলতাহানীর চেষ্টা চালায় লম্পট নাজমুল। বিষয়টি ভুক্তভোগীর অভিভাবকেরা জানতে পেরে বিচার চাইলে গ্রাম্য সালিশে মোটা অর্থের বিনিময়ে আবারও ধামাচাপা পড়ে যায় নাজমুলের এ কুকর্ম। সর্বশেষ গত ১৮ আগষ্ট রাতে জনতা ক্লিনিক-২ এর এক আয়াকে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করে নাজমুল। নির্যাতনের শিকার ওই আয়া এর বিচার চাইলে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে মোটা টাকার বিনিময়ে এবারও ন্যাক্কারজনক ওই ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে অনৈতিকভাবে সমঝোতার মাধ্যমে রক্ষা পায় নাজমুল।

এ বিষয়ে হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক ডাঃ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘ভুক্তভোগী আয়া আমার কাছে অভিযোগ করে প্রায়শই নাজমুল তাকে কু-প্রস্তাব দেয়। এতে সাড়া না দেয়ায় নাজমুল তাকে ধর্ষনের চেষ্টা করে। নাজমুলের নানা কু-কর্ম বরাবরই অজ্ঞাত খুঁটির জোরে ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে । তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।’

এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ওই ক্লিনিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম আহমেদ বলেন, ‘মেডিকেল এসিষ্ট্যান্ট নাজমুল কর্তৃক হাসপাতালে কর্মরত ও চিকিৎসাসেবা নিতে নারীদের ধর্ষণ চেষ্টা ও শ্লীলতহানীর অসংখ্য ঘটনায় হাসপাতালের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। লম্পট নাজমুলের নানা অপকর্মের ঘটনা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার আশ^াস দিয়েছেন সিভিল সার্জন।’

এ বিষয়ে এনায়েতপুর থানার ওসি মোল্লা মাসুদ পারভেজ জানান, ‘অভিযোগ পেলে মেডিকেল এসিষ্ট্যান্ট নাজমুলের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

শনিবার দুপুরে মুঠোফোনে এসব বিষয়ে সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডাঃ জাহিদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

মেডিকেল এসিষ্ট্যান্ট নাজমুল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘সাধারন ঘটনা নিয়ে আয়ার সাথে সৃষ্ট মনমালিন্য মিমাংসা করে নেয়া হয়েছে।’

এদিকে, বহু নারী কেলেংকারির হোতা লম্পট নাজমুল একের পর এক নানা অপকর্ম ঘটিয়ে প্রতিবারই বেচে যাওয়ায় জনমনে প্রশ্ন জেগেছে তার খুঁটির জোর কোথায় ? সেইসাথে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন এলাকাবাসী।

বিচার দাবী


যৌতুকের দাবীতে গৃহবধুকে শ্বাসরোধে হত্যা

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার খুকনী ইউনিয়নের রুপনাই গ্রামে পারিবারিক কলহের জের ধরে দোলেনা খাতুন (৩৩) নামের এক গৃহবধুকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহত দোলেনা রুপনাই গ্রামের মামুন খানের স্ত্রী এবং খুকনী গ্রামের তাঁত ব্যবসায়ী সুলতান হোসেনের মেয়ে। এনায়েতপুর থানা পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে শনিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে।

নিহতের পরিবার ও পুলিশ জানায়, গত ১৩ বছর আগে উপজেলার রুপনাই গ্রামের কাদের খানের ছেলে যৌতুক লোভী মামুন খানের সাথে খুকনী গ্রামের তাঁত ব্যবসায়ী সুলতান হোসেনের মেয়ে দোলেনার বিয়ে হয়। বর্তমানে তাদের ঘরে ৩ সন্তান রয়েছে। মামুন কাপড়ের ব্যবসা করতো। পরে শ্বশুর বাড়ি থেকে জোর করে টাকা নিয়ে বিদেশে কাজের জন্য গিয়ে মাস খানেক থাকার পর দেশে ফিরে আসে। এরপর মামুন ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে নানা ব্যবসা করে ঋনগ্রস্থ হয়ে পড়ে । এজন্য মামুন টাকা ও গহনার জন্য স্ত্রী দোলেনা খাতুনকে মাঝে-মধ্যেই নির্যাতন করতো ও টাকার জন্য দোলেনার স্বজনদের ওপর চাপসৃষ্টি করতো। গত কোরবানীর ঈদের সময় মামুন ঢাকা থেকে বাড়ি এসে দাবীকৃত টাকা গহনা না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে স্ত্রীর সাথে ঝগড়া করে বাড়ি থেকে চলে যায়। এরপর গৃহবধুর বাড়ির লোকজনে চাপ বহুগুণে বেড়ে যায়। এতেও গয়না টাকা না পেয়ে শুক্রবার বিকেলে দোলেনা খাতুনকে শ^শুরবাড়িতেই পরিকল্পিতভাবে শ^াসরোধে হত্যা করা হয় বলে নিহতের স্বজনেরা অভিযোগ করেন। খবর পেয়ে এনায়েতপুর থানা পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে নিহত দোলেনা খাতুনের বড়ভাই ইব্রাহীম হোসেন জানান, ‘বিয়ের পর থেকে দোলেনার স্বামী মামুনসহ শ^শুরবাড়ির লোকজন টাকা ও গহনার জন্য অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলো। টাকা গহনার জন্যই তাকে শ্বাসরোধে শ্বশুরবাড়ির লোকজন হত্যা করেছে। আমরা এর বিচার চাই।’

অপরদিকে, এ বিষয়ে এনায়েতপুর থানার ওসি মোল্লা মাসুদ পারভেজ জানান, ‘লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট আসার পর প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

‘উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাঁড়ে’


শাহজাদপুরে দুস্থদের কার্ড দেয়ার নামে উৎকোচ গ্রহণ ও আত্মসাতের অভিযোগ

শাহজাদপুর উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, স্বামী পরিত্যাক্তা ভাতার কার্ড দেয়ার নামে উৎকোচ গ্রহণ করে আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার এখানেই শেষ নয়, ওই ইউনিয়নের জনৈক নুরুন্নাহার ও সামাদ নামের ২ জন ওই ইউনিয়নের দ্বাদশপট্টি এলাকার ৮/১০ জন দুস্থ্যকে বিভিন্ন ভাতার কার্ড করে দেয়ার কথা বলে জনপ্রতি ৭ হাজার টাকা উৎকোচ নিয়ে ‘উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাঁড়ে’ চাপানোর মতোই নিজেরাই আবার বাদী হয়ে জালালপুর ইউপি চেয়ারম্যান হাজী সুলতান মাহমুদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছে। এ ঘটনায় এলাকায় সমালোচনার ঝড় বইছে।
সরেজমিন পরিদর্শনকালে জালালপুর ইউনিয়নের দ্বাদ্বশপট্টি জেলেপাড়া মহল্লার ভুক্তভোগী বাতাসী খাতুন, লিপি রানী, মর্জিনা বেওয়া, অঞ্জনা ও আছিয়া খাতুন সাংবাদিকদের জানান, ‘৩ বছর আগে ভাতা’র কার্ড করে দেয়ার কথা বলে একই মহল্লার নুরুন্নাহার তাদের কাছ থেকে ৭ হাজার টাকা নিয়েছে। শুনেছি, পরে নুরুন্নাহার সেই টাকাগুলি সামাদকে দিয়েছে। আমরা চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদকে কোন টাকা দেইনি। কার্ড না পেয়ে নুরুন্নাহারের কাছে টাকা ফেরত চাইলে গত মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) নুরুন্নাহার বাদী হয়ে সামাদ ও চেয়ারম্যানকে বিবাদী করে এনায়েতপুর থানায় একটি অভিযোগ করেছে। আমরা নুরুন্নাহারের কাছে টাকা ফেরত চাই।
এ বিষয়ে নুরুন্নাহার বলেন, ‘ভাতার কার্ড করে দেয়ার কথা বলে আমি বাতাসী খাতুন, লিপি রানী, মর্জিনা বেওয়া, অঞ্জনা, আছিয়া খাতুনসহ ৮/১০ জনের কাছ থেকে ৭ হাজার করে টাকা নিয়েছি। সেই টাকাগুলো আমি সামাদের কাছে দিয়েছি। ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরতের জন্য চাপ দেয়ায় আমি বাধ্য হয়ে সামাদ ও চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছি।’ কার্ড দেয়ার নামে ঘুষের টাকা তোলা অপরাধ কি না ?’ সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে নুরুন্নাহার বলেন, ‘এ ঘুষের টাকা তুলে আমি অপরাধ করেছি। আমি নিজ হাতে চেয়ারম্যানকে কোন টাকা দেইনি।’
অপরদিকে আব্দুস ছামাদ বলেন, ‘চেয়ারম্যান টাকা আনতে বললে আমি ওই টাকা এনে চেয়ারম্যানকে দিয়েছি। তাছাড়া আর কিছু জানি না।’
এ বিষয়ে জালালপুর ইউপি চেয়ারমান হাজী সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘ভাতার কার্ড করে দেয়ার নামে জালালপুর ইউপিতে কখনও টাকা নেয়ার নজির নেই। তবে জানতে পারলাম ৩ বছর আগে আমার নাম ভাঙ্গিয়ে নুরুন্নাহার ও সামাদ কার্ড করে দেয়ার কথা বলে দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে মোটা টাকা উৎকোচ গ্রহণ করে আত্মসাৎ করেছে। এ বিষযে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে উৎকোচ গ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে এনায়েতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোল্লা মোঃ মাসুদ পারভেজের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

৯৯৯-এ কল দিয়ে যমুনার চর থেকে উদ্ধার পেল অর্ধশত শিক্ষার্থী

৯৯৯-এ কল দিয়ে উদ্ধার হল যমুনা চরে আটকে পড়া অর্ধশত শিক্ষার্থী। সোমবার রাত ১২টার পর বঙ্গবন্ধু সেতু ও যমুনা নদীতে ঈদ আনন্দ ভ্রমণ করতে আসা এসব শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও আটকে পড়া শিক্ষার্থীরা জানান, সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার কামুটিয়া গ্রামের প্রায় ৫০ জন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী মিলে ইঞ্জিনচালিত একটি শ্যালো নৌকা নিয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু ও যমুনা নদীতে আনন্দ ভ্রমণে রওনা হন। দিনভর নদীতে নির্মল বিনোদনসহ দুপুরের খাবার গ্রহণ ও সেতু দর্শন করেন শিক্ষার্থীরা।

পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে যমুনা নদীর মাঝে আকস্মিকভাবে নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। অনেক চেষ্টা করেও মেশিন চালু না হওয়ায় রাত ১০টার দিকে সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলাধীন এনায়েতপুরের যমুনা চরের ধুলিয়াবাড়ি এলাকায় আটকা পড়েন শিক্ষার্থীরা।

পরে শিক্ষার্থীরা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দিলে পুলিশ রাত ১২টার দিকে চরে গিয়ে আটকে পড়া শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে। এছাড়া পুলিশি নিরাপত্তায় শিক্ষার্থীদের রাতযাপন শেষে মঙ্গলবার সকালে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে নিরাপদে তাদের বাড়ি পৌঁছে দেয়া হয়।

এ ব্যাপারে এনায়েতপুর থানার ওসি মোল্লা মাসুদ পারভেজ জানান, আটকে পড়া শিক্ষার্থীরা জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দিলে জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে তাদের উদ্ধার করা হয়। তবে কারও কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। সকালে নিরাপদে সবাইকে বাড়ি পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সূত্রঃ যুগান্তর

এনায়েতপুরে বন্যার্তদের সাথে বিডিএফ’র ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি

এনায়েতপুরে বন্যার্তদের সাথে বিডিএফ'র ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি

বাংলাদেশ ডক্টরস ফাউন্ডেশন (বিডিএফ) দেশ জুড়ে বন্যা কবলিত মানুষের সাথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নিয়েছে। সেই লক্ষে বন্যা কবলিত নির্দিষ্ট আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে পবিত্র ঈদ উল আযহা উপলক্ষে কোরবানির গোশত বিতরণ করে “টিম বিডিএফ”।

সম্মানিত সদস্যদের অনুদানে দেশের ১৬ জেলায় ১৭ টি গরু এবং ৬ জেলায় ১১টি খাসি জবহ করে গোশত বিতরণ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল ২/৮/২০২০ তারিখে সিরাজগঞ্জ জেলার এনায়েতপুরে একটি গরু জহব করে বন্যার্তদের মাঝে বিতরণ করা হয়।

বাংলাদেশ ডক্টরস ফাউন্ডেশন (বিডিএফ) এর সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার প্রতিনিধি ডাঃ রবিনের নেতৃত্বে এবং বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের ছাত্রদের সহযোগিতায় প্রায় আশিটি পরিবারের মাঝে মাংশ বিতরণ করা হয়।

পুরো আয়োজন জুড়ে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য এডভোকেট মোঃ আব্দুল খালেক। আরো উপস্থিত ছিলেন এনায়েতপুর থানা আওয়ামিলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আলহাজ্ব উদ্দিন এবং এনায়েতপুর থানা আওয়ামিলীগের কার্যকরী সদস্য আব্দুল মন্ডল।

বন্যার্তদের মাঝে গোশত বিতরণের আগে আয়োজকেরা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের আত্নার শান্তি কামনা করেন সাথে স্বজন হারানো পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং দেশবাসীর জন্য দোয়া করেন।

আইজিপির খাদ্য-ঈদসামগ্রী পেল যমুনার চরের বানভাসিরা

আইজিপির খাদ্য-ঈদসামগ্রী পেল যমুনার চরের বানভাসিরা

সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার যমুনা চরের বানভাসি মানুষের মধ্যে পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) পক্ষ থেকে খাদ্য ও ঈদসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার সকালে এনায়েতপুর যমুনা স্পার বাঁধ ও জালালপুরে ট্রলার নিয়ে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে বানভাসিদের হাতে শাড়ি, লুঙ্গি, তেল, চাল, ডাল, সাবান ও আলু তুলে দেন থানার ওসি মোল্লা মাসুদ পারভেজ।

এ সময় ওসি জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে পুলিশ সব সময় থাকবে। এছাড়া ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

সহায়তা বিতরণের সময় এনায়েতপুর থানার এসআই আবদুস ছাত্তার, থানার এসআই আনন্দ কুমার মোহন্ত, চলচ্চিত্র ও নাট্য পরিচালক তাজু কামরুল, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রফিক মোল্লা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এনায়েতপুরে পাউবোর বেতিল বন্যা নিয়ন্ত্রণ স্পারে ফের ধস

স্পারটি প্রায় দেড়শ’ মিটার যমুনাগর্ভে বিলীন হয়েছে

সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে পাউবোর বেতিল বন্যা নিয়ন্ত্রন স্পার-২-এ ফের ধস দেখা দিয়েছে। বুধবার স্পারটির ৮০ মিটার ধসে যমুনা গর্ভে চলে যায়। ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে স্পারে দু’বার ধস দেখা দেয়। গত সোমবার ৭০ মিটার অংশ ধসে পড়ে যমুনায়। পর পর দুবারে প্রায় দেড়শ’ মিটার যমুনাগর্ভে বিলীন হওয়ায় এলাকাবাসী ভাঙন আতঙ্কে পড়েছেন।

প্রথম ধসের পর জিও বস্তায় বালি ভরে সেখানে ফেলছে পাউবো। বস্তা ফেলে ধস ঠেকানোর চেষ্টা করলেও বিগত বছরে স্পারের নিচে পানির তলদেশে মাটি সরে যায়। নিয়মিত ব্যাথেমেট্রিক সার্ভের মাধ্যম্যে কার্যকরী ব্যবস্থা না নেওয়ায় ধস দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা এমন অভিযোগ করলেও পাউবো থেকে ধসের জন্য ঘূর্ণাবর্তকে দায়ী করছে।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি ৮ সে.মি. কমেছে। পানি কমায় ঘূর্ণাবর্ত বেড়ে যাওয়ায় বেতিল স্পারে পর পর দু’বার ধস দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে গ্রাম জেগে ওঠায় মূলত স্পারের কার্যকারিতা নেই। স্রোতে ধাক্কা খেয়ে আঘাত করায় ধসের সৃষ্টি হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে পাশের চ্যানেলটি ভরাটের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে বিশ বছর আগে স্পারটি নির্মাণ করে পাউবো।

এনায়েতপুরে যমুনার তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণের দাবি

সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যমুনা নদীর ভাঙন চলছে। রোববার দুপুরে ঘাটাবাড়ি এলাকায় ভাঙন ঠেকাতে স্থায়ী তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এলাকাবাসীর উদ্যোগে যমুনা নদীর পাড়ে মানববন্ধনে সিরাজগঞ্জ চেম্বার অ্যান্ড কমার্স ইন্ডাস্ট্রির সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন, সমাজসেবক আমজাদ হোসেন, বাবলু হোসেন, নুর আমিন, জয়নাল বেপারী ও আবু সাঈদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় বক্তারা বলেন, যমুনা নদীর পশ্চিম তীরের ঘাটাবাড়ি ও পাকুরতলা এলাকায় ভয়াবহ নদী ভাঙন চলছে। বিশেষ করে নদীতে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের তাণ্ডবে প্রতিদিন বহু ঘরবাড়ি বিলীন হচ্ছে। এখনই জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক জিও ব্যাগ ডাম্পিং করার দাবি জানাই।

উল্লেখ্য, এনায়েতপুর থেকে পাচিল পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ন স্থানে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে। কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম।

এনায়েতপুরে করোনায় প্রবীণ শিক্ষকের মৃত্যু

সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে করোনায় আবদুর রশিদ বিএসসি (৭২) মারা গেছেন। তিনি খুকনী মণ্ডলপাড়া মহল্লার বাসিন্দা ও খুকনী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক।

সোমবার রাতে কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলে ঢাকায় দাফন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হাজী ফিরোজ হাসান অনিক যুগান্তরকে জানান, গত ১১ জুন আবদুল রশিদ বিএসসির করোনা শনাক্ত হয়। পরে তাকে কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবার রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলে ঢাকায় দাফন করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।