প্রতারক জেমি খাতুন আটকে সিরাজগঞ্জে স্বস্তি

প্রতারনা করে নিজেকে কখনো প্রধানমন্ত্রীর কথিত মেয়ে, কখনো আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বন্ধু, আবার কখনো বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছের মানুষ পরিচয় দিয়ে মানুষকে নানাভাবে হয়রানি ও প্রতারিত করে আসছিলেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার মেয়ে জেমি পারভীন।

দেশের বিশিষ্ট মানুষদের সাথে ছবি উঠে তা ফেসবুকে আপলোড দিয়ে নিজেকে তাদের আপনজন হিসেবে দাবি করত সে। কৌশলে এসব পরিচয় ব্যবহার করে সে অনেক প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জিম্মি করে রেখেছিল। আর ফেসবুকের নিজস্ব ওয়ালে বিভিন্ন মানুষ সম্পর্কে কটূক্তিসহ নানা ধমক-ধামক লেখা থাকতো।

জেমির ইচ্ছেমতো না চললে এলাকার সাধারণ মানুষকে পড়তে হতো নানা ঝামেলায়। তার অপছন্দের লোকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণ, হত্যাচেষ্টা, ও অপহরণের মামলা করা হতো। তারপর এই মামলা মেটাতে অভিযুক্ত এসব লোকদের গুনতে হতো মোটা অংকের টাকা। মাঝে মাঝে তিনি নানা তদবিরের নামে অনেকের কাছ থেকেই নিয়েছেন মোটা অংকের টাকা। সেইসব টাকাতে জেমি ঢাকাসহ উল্লাপাড়া, শাহজাদপুরের গড়ে তুলেছেন অন্তত চারটি বাড়ি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে নিজের তোলা ছবি দেখিয়ে থানার কর্মকর্তাদের তিনি প্রভাবিত করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছেন স্থানীয়দের।কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে নিজে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন এমন ভাবেই নিজেকে জাহির করে তার ফেসবুক ওয়ালে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের নামে নানা কটুক্তি প্রচার করেছেন। কখনো কখনো অপছন্দের লোককে মেরে ফেলার হুমকিও দিয়েছেন তার ফেসবুক ওয়ালে।
ঢাকার তেজগাঁও থানায় করা প্রতারণা মামলায় গত ৬ই সেপ্টেম্বর ঢাকার সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল বিভাগ তাকে গ্রেফতার করার পর তার নিজ এলাকার ভুক্তভোগী অনেকেই এখন মুখ খুলতে শুরু করেছেন ।

তবে তার মা সোনাভান বেগমের দাবি, তার মেয়ে নিরাপরাধ। মিথ্য অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে। স্থানীয় গাাদড়হ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম জানালেন বিগত সময়ে জেমির জন্য বেশ কয়েকটি সালিশ বৈঠক হয়েছে। তবে জেমির অধিকাংশ অভিযোগ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়েছে । থানায় দায়ের করা মামলাগুলো মিথ্যে বলে তিনি জানান।

সিরাজগঞ্জের জেলা পুলিশ সুপার হাসিবুল আলম জানান জেমি পারভীনের বিগত সময়ের রেকর্ড যাচাই-বাছাই চলছে। তবে এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে জেমি পারভীনের আটকের খবরে স্বস্তির মিলেছে শাহজাদপুর এবং উল্লাপাড়া উপজেলার ভুক্তভোগিদের। ইতিমধ্যেই তার বিচারের দাবিতে এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছেন। ভুক্তভোগী এইসব মানুষেরা সঠিক তদন্ত করে তার বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার তালগাছি এলাকার মানুষেরা এখনো জেমি পারভিনকে জানে সন্দেশ ওয়ালার মেয়ে নাবিয়া খাতুন নামে। তার ছোট বেলার সময় কেটেছে তালগাছি স্কুলের সামনে তার বাবার সাথে সন্দেশ বিক্রির করে। মাঝে মাঝে নাবিয়া গান গাইতো। বয়স বাড়ার সাথে সাথে নাবিয়া হয়ে ওঠে জেমি পারভীন।

ইতিমধ্যেই জেমি বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন চার বার। সবশেষ তিনি আস্তানা গাড়েন ঢাকায়। নিজের গাওয়া গান নিয়ে হাজির হন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে। চাতুরতার সাথে সখ্য বাড়ান আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের সাথে। তাদের সাথে ছবি তুলে তা ফেসবুকে আপলোড করে নিজেকে প্রচার করেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের একজন নারী নেত্রী হিসেবে।

বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি ! উল্লাপাড়ায় ১০ ব্যবসায়ীকে জরিমানা

বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রির দায়ে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ১০ ব্যবসায়ীকে মোট ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-১২ সিরাজগঞ্জ ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার ও মিডিয়া অফিসার মো. এরশাদুর রহমান।

অর্থদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন কমল আহম্মেদ, মজনু মিয়া, মো. আলম, মো. শাখাওয়াত, রওশন, মো. মজিবুর, মানিক মিয়া, রিপন সাহা, রাধা রামন ও কামরুল উদ্দিন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উল্লাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাজারে অভিযান চালায় র‌্যাব। অভিযানে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মাসুদ আহম্মেদ অংশ নেন। বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি এবং মজুদ করার দায়ে এ সময় ১০ দোকান মালিককে জরিমানা করা হয়।

এসিল্যান্ডের চমকে বদলে গেছে উল্লাপাড়া ভূমি অফিস

ছবি: নাহিদ হাসান খান, সহকারী কমিশনার (ভূমি), উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) নাহিদ হাসান খান। নিয়োগ পাওয়ার পর উল্লাপাড়া ভূমি অফিসের দায়িত্বে আছেন তিনি। সফল কর্মবীর নাহিদ হাসান খান ভূমি অফিসের সকল আদি প্রথা বিদায় করেছেন। তথ্যপ্রযুক্তি ও যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণের মধ্যদিয়ে তিনি ভূমি অফিসকে সেবাগ্রহীতাদের আস্থার জায়গায় পরিণত করেছেন। সার্বিক বিষয় নিয়ে তিনি বাংলাদেশ টাইমসের প্রধান সম্পাদক তাহজিব হাসানের সাথে কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য সাক্ষাতকারটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

তাহজিব হাসান: সম্প্রতি আপনি কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এখন কেমন আছেন?

নাহিদ হাসান খান: হা, কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে সরকারি কর্মচারী হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। এখন সুস্থ হয়ে উঠেছি। ওই হাসপাতালের ডাক্তার নার্সদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তারা রোগীদের জন্য চমৎকার সার্ভিস দিয়ে থাকেন। আমার সর্বশেষ কোভিড টেস্ট রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে।

তাহজিব হাসান: ভূমি অফিসে সাধারণ মানুষ প্রায়ই হয়রানীর শিকার হয়। এমন অভিযোগ পাওয়া যায়। আপনার অফিসে হয়রানী বন্ধে আপনি কি পদক্ষেপ নিয়েছেন?

নাহিদ হাসান খান: ভূমি অফিসে মানুষের হয়রানি বন্ধে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। আগে নামজারির সময়সীমা এবং নামজারি করতে মোট কত টাকার প্রয়োজন, তা জনগনের জানা ছিল না। আমি এ সংক্রান্ত বিলবোর্ড অফিসের সামনে স্থাপন করেছি। এছাড়া অফিসের সকল কর্মচারীদের কার কি দায়িত্ব ও কে কোন কাজ করেন, এসব তথ্যসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মোবাইল নাম্বারসহ একটি তথ্য তালিকা অফিসের সামনে স্থাপন করেছি। এখন প্রত্যেকটি নামজারি আবেদন ও নিস্পত্তি অনলাইনে করা হয়। যে কারণে দালালদের দৌরাত্ব বন্ধ হয়ে গেছে। সাধারন আবেদনের প্রেক্ষিতে সকল নামজারি আবেদন ২৮ দিনের মধ্যেই নিস্পত্তি করা হচ্ছে।

প্রবাসীদের আবেদন ৯ কার্যদিবসের মধ্যেই করা হচ্ছে। তাছাড়া জনগনের প্রত্যেকটি ফোন কল আমি গুরুত্বসহকারে নিয়ে সমস্যার তাৎক্ষনিক সমাধান করার চেষ্টা করছি। এই করোনার সময়ে যাদের মিসকেসের শুনানি ছিল, ফোন করে তাদেরকে পরবর্তী তারিখ জানিয়ে দেয়া হয়েছে। আমার অধীনস্ত কোন কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। যে কোন মূল্যে জনগণকে যথাযথ সেবা প্রদানে আমরা বদ্ধপরিকর। ‘খ’ তফসিলভুক্ত সম্পত্তি ও করণিক ভুল সমূহের মিসকেসের নিস্পত্তি অত্যন্ত দ্রুততার সাথে করা হচ্ছে। এছাড়া যে কোনো তদন্ত প্রতিবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আমরা দাখিল করছি। আমার অফিসের সকল কর্মচারীকে সেবাপ্রার্থীদের সাথে সুমিষ্ট ও সৌজন্যমূলক আচরণ করার নির্দেশনা প্রদান করেছি। এ বিষয়টি আমি এবং আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও মনিটর করছেন। সুখকর বিষয় হলো যে, উল্লাপাড়া উপজেলা ভূমি অফিস এখন সম্পূর্ণ দালালমুক্ত। এছাড়া ভূমি অফিসে আগত প্রায় সকল সেবাগ্রহীতাদের সাথে আমি নিজে কথা বলি এবং তাদের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করি।

তাহজিব হাসান: ই-মিউটেশন (নামজারী) ব্যবস্থার জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়কে জাতিসংঘ অ্যাওয়ার্ড ২০২০-এ ভূষিত করা হয়েছে। প্রকৃত পক্ষে ই-মিউটেশনের মাধ্যমে জনগণ কতটুকু ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবে বলে আপনি মনে করেন?

নাহিদ হাসান খান: ই-মিউটেশন বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় এক নীরব বিপ্লব এনেছে। ই-মিউটেশনের ফলে এখন প্রত্যেকটি আবেদন অনলাইনে হচ্ছে। দেশ বা বিদেশের যেকোনো স্থান হতে নাগরিকরা নামজারির জন্য আবেদন করতে পারছেন। মজার ব্যাপার হল আবেদনটি সরাসরি এসিল্যান্ডের আইডিতে অনলাইনে চলে আসছে। এর ফলে দালাল বা মধ্যেস্বত্বভোগীদের নাগপাশ মুক্ত হয়েছে ভূমি অফিস। এসএমএস এর মাধ্যমে আবেদনকারীরা পরবর্তী কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হচ্ছেন। আর সে অনুযায়ী তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এজন্য কাউকে জিজ্ঞাসা করতে হচ্ছে না, ফলে ভোগান্তির পরিসমাপ্তি হয়েছে। তাছাড়া আবেদনকারীরা www.land.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে নামজারি অপশনে ক্লিক করে বিভাগ নির্বাচন করে আবেদন আইডি ও মোবাইল নম্বর দিয়ে সার্চ করে নামজারির সর্বশেষ অবস্থা জানতে পারছেন।

এছাড়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অনলাইনে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিচ্ছেন এবং ই-নামজারি কার্যক্রমে এর ব্যত্যয় ঘটানোর সুযোগ নেই কেননা অনলাইন সিস্টেমে তারিখ নির্ধারিত করা থাকে। এই পুরো তথ্যটি এসিল্যান্ড, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার পর্যন্ত মনিটর করতে পারেন। ই-নামজারির আরেকটি বিশেষ সুবিধা হলো সকল খতিয়ান, নথিপত্র সিস্টেমে সংরক্ষিত থেকে যাচ্ছে ফলে নথি গায়েব বা হারিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এক ক্লিকেই জানা যাচ্ছে নথির অবস্থান। যার এক খন্ড জমি আছে, তিনি আবশ্যিকভাবেই ই-নামজারির সুফল ভোগ করবেন। ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নে ই-নামজারির প্রচলন নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

তাহজিব হাসান: গুরুদাসপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) থাকাবস্থায় আপনার কিছু অভজ্ঞিতা বাংলাদেশ টাইমসের পাঠকদের সঙ্গে শেয়ার করবেন কি?

নাহিদ হাসান খান: অবশ্যই শেয়ার করবো। গুরুদাসপুরে থাকাকালীন ওই অফিসে শতভাগ ই-নামজারি চালু হয়, যা এখনো চলমান রয়েছে। প্রত্যেক ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নামজারি আবেদনের নিস্পত্তির সময়সীমা ও খরচ সম্পর্কিত বিলবোর্ড টানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে ফেসবুক গ্রুপেও এ সংক্রান্ত বিষয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়। পাশকৃত নামজারি কেস নম্বরসমূহ ফেসবুক পেজে আপলোড দেয়া হয়েছে এবং এতে জনগনের ব্যাপক সাড়া মিলেছে।

এছাড়া ভূমি সমস্যা সংক্রান্ত বিষয়ে মাইকিং করে গণশুনানির আয়োজন করা হয়েছিল। ওই সময়ে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপে সন্তুষ্ট হয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত সচিব মাকছুদুর রহমান পাটওয়ারী স্যার আমাকে প্রশংসাপত্র প্রেরণ করেন। দায়িত্বপালনকালে গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানুর রহমান ও মো. তমাল হোসেন স্যার সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছেন।

তাহজিব হাসান: ব্যক্তি জীবনে সফলতার পেছনে কার অবদান সবচেয়ে বেশি বলে আপনি মনে করেন?

নাহিদ হাসান খান: আমার বাবার অবদান সবচেয়ে বেশি। তিনি একজন মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। তাঁর সততা, আদর্শ ও জ্ঞান আমাকে ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।

তাহজিব হাসান: চাকরিপ্রত্যাশি (বেকার) যুবকদের নিয়ে আপনাদের কোনো পরিকল্পনা এবং পরামর্শ আছে কি?

নাহিদ হাসান খান: স্বচ্ছল, বেকার তথা সবাইকে নিয়ে আমার একটি পরিকল্পনা আছে। সেটি হলো আমি আমার এলাকায় একটি লাইব্রেরি স্থাপন করতে চাই। লাইব্রেরিটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। সচেতন ও মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষ তৈরিতে লাইব্রেরির ভূমিকা অপরিসীম।

আর চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য আমার পরামর্শ হলো, নিজেকে ভালো করে উপস্থাপন করতে শিখুন। শুদ্ধ বাংলার পাশাপাশি ইংরেজিতে কথা বলার দক্ষতা অর্জন করতে হবে। নিজেকে বিশ্ব নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করতে হবে। মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসতে হবে। যে কোন কঠিন পরিস্থিতিতে অত্যন্ত ধৈর্য, বিচক্ষণতা ও সাহসিকতার পরিচয় দিতে হবে।

একাডেমিক পড়াশুনার পাশাপাশি সাহিত্য, সায়েন্স ফিকশন আনন্দ নিয়ে পড়া উচিত। ভালো ভালো গান, বিতর্ক, বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গের বক্তৃতা শুনা যেতে পারে। এক্ষেত্রে ইন্টারনেটের সহায়তা নেয়া যেতে পারে। প্রতিদিন বাংলা ও ইংরেজি পত্রিকা পড়ার চর্চা চাকরি প্রাপ্তিতে খুবই সহায়ক। সর্বোপরি অন্যথা চিন্তা না করে পরিশ্রম করার পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে হবে।

তাহজিব হাসান: আপনার জীবনের সবচেয়ে আনন্দময় দিন কোনটি?

নাহিদ হাসান খান: আমি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছিলাম, ওই দিনটি আমার সবচেয়ে আনন্দের।

তাহজিব হাসান: আপনার চাকরি জীবনের মজার ঘটনা বলুন?

নাহিদ হাসান খান: একদিন অফিসে ছেড়া গেঞ্জি ও ময়লা লুঙ্গী পরিহিত এক লোক আসলেন। এসে আমাকে বললেন যে তিনি একজন রিকশা চালক। তার একটি নামজারি কেস আছে কিন্তু আবেদন করেছেন মাত্র ১৪ দিন আগে। তবে নামজারিটি তার জরুরী ভিত্তিতে দ্রুত করা প্রয়োজন। নামজারি সম্পন্ন হলে জমি বিক্রি করে ওই ব্যক্তি মেয়ের বিয়ে দেবেন বলে জানান। আমি তাৎক্ষনিকভাবে ওই দিনই উনার নামজারি আবেদনটি নিস্পত্তি করার ব্যবস্থা করি। এ ঘটনার পর তিনি থ হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে থাকেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম তিনি খুশি কিনা? জবাবে তিনি বললেন, তিনি এটা কোনভাবেই বিশ্বাস করতে পারছেন না। আমি বললাম, সকল সেবাগ্রহীতাই আমার কাছে সমান। আর আপনার সেবা করতে পেরে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। সত্যিই সেই দিনটি ছিলো অনেক আনন্দের।

তাহজিব হাসান: মুজিববর্ষ উপলক্ষে আপনাদের গৃহীত পদক্ষেপের মধ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ কথা বলা হয়েছে। প্রকৃত পক্ষে দুর্নীতি বন্ধে আপনার কোনো পরামর্শ আছে?

নাহিদ হাসান খান: মুজিববর্ষকে আমরা দূর্নীতিরোধে বিশেষ সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেছি। স্বচ্ছতা ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে হলে সব ক্ষেত্রে ডিজিটাল সিস্টেম চালু করতে হবে। যেমন, ই- নামজারি (মিউটেশন) সিস্টেম। এটি একটি সফল উদাহরণ। এছাড়া প্রতিটি সেক্টরের মতো ভূমি অফিসের কর্মচারীদের নিয়মিত পদোন্নতির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। সকলের বেতনাদি ইএফটির মাধ্যমে একাউন্টে দেয়া হচ্ছে এটিও একটি ভালো দিক।

দুর্নীতিরোধে প্রশাসনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি জনগনকে সচেতন হতে হবে, যেকোন অনিয়মের প্রতিবাদ করতে হবে। তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। কর্মকর্তা কর্মচারীদের মোটিভেশনের পাশাপাশি সেবা প্রদানের জন্য যথাযথ প্রশিক্ষণ প্রদান পূর্বক তাদের জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে।

তাহজিব হাসান: শত ব্যস্ততার মাঝেও বাংলাদেশ টাইমসকে সময় দেয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

নাহিদ হাসান খান: বাংলাদেশ টাইমসকেও অনেক ধন্যবাদ।

সূত্রঃ বাংলাদেশ টাইমস

উল্লাপাড়ায় ককটেলসহ ৬ জন গ্রেফতার

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার ঝিকরা তুশি তারেক ছাত্রাবাসে অভিযান চালিয়ে ককটেলসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

তারা হলেন, উক্ত উপজেলার বাকুয়া গ্রামের জামায়াত শিবির নেতা আতাউর রহমান (৫৪), ধামাইকান্দি রশিপাড়া গ্রামের মাসুম হাসান (২৫), ঘাটিনা গ্রামের মনিরুল ইসলাম (২০), গয়হাট্ট গ্রামের হাসান (২৮), বজ্রাপুর গ্রামের মনিরুল (৪০) ও সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার দিয়ারধানগড়া মহল্লার রায়হান আলী (৩০)। উল্লাপাড়া মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সেরাজুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঈদের আগের দিন গভীর রাতে ওই ছাত্রবাসে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৭টি ককটেল, বিপুল পরিমাণ জিহাদি বই ও পোস্টার উদ্ধার করা হয়। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা হয়েছে।

উল্লাপাড়ায় গোল্ডেন জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিক ভাবে সংবর্ধনা

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় মোমেনা আলী বিজ্ঞান স্কুলের গোল্ডেন ও জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিক ভাবে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

রবিবার সকালে মোমেনা আলী বিজ্ঞান স্কুলের মিলনায়তনে সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করে এহসাহনুল হক ছন্টুর সভাপতিত্বে ২০২০ সালের এস এসসি পরিক্ষায় গোলন্ডেন ও জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। উল্লাপাড়ার সংসদ সদস্য তানভীর ইমাম এর নিজস্ব উদ্যোগে ৯৩ জন গোলন্ডেন ও ১৯৭ জন জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও পুরষ্কার বিতরন করা হয়েছে।

এ সময় বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান, পৌর মেয়র এস এম নজরুল ইসলাম, উপজেলা আ’লীগের আহবায়ক মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তাফা, উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দীপক কুমাড় দাশ, মোমেনা আলী বিজ্ঞান স্কুলের প্রধান শিক্ষক রকিবুল ইসলাম প্রমূখ।

প্রধান শিক্ষকের বক্তব্যে তিনি উপস্থিত সুধি মন্ডলীকে অবহিত করে জানান এ বছরে আমার স্কুল থেকে ৪৩৬ জন শিক্ষার্থী এস এসসি পরিক্ষায় অংশ গ্রহন করে ৯৩ জন গোলন্ডেন ও ১৯৭ জন জিপিএ ৫ এবং ১৪৬ জন জিপিএ বিভিন্ন পয়েন্ট পেয়ে উত্তির্ন হয়েছে। এ জন্য মোমেনা আলী বিজ্ঞান স্কুল উল্লাপাড়া উপজেলার মধ্যে শ্রেষ্ঠ হিসাবে উপস্থাপন করেছেন মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার।

উল্লাপাড়ায় বিএনপি নেতা হেলাল সরকার গ্রেফতার

রবিবার (২৮) জুন দুপুরে উল্লাপাড়ার পঞ্চক্রোশি ইউনিয়নের রামকান্তপুর বাজার থেকে বিএনপি’র যুগ্ন আহবায়ক হেলাল সরকারককে নাশকতা মামলায় গ্রেফতার করেছে মডেল থানা পুলিশ। সে রামকান্তপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে।

উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক কুমাড় দাশ জানান, নাশকতার মামলায় আদালত থেকে বিএনপি নেতা হেলাল সরকারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি ছিলো। তার পেক্ষিতে তাকে রবিবার দুপুরে রামকান্তপুর বাজার থেকে গ্রেফতার করে জিঙ্গাসা বাদের জন্য থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে।

উল্লাপাড়ায় করোনা এক ব্যক্তির মৃত্যু

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে নুর মোহাম্মদ(৭৪) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তিনি এক সপ্তাহের বেশী সময় ধরে ঢাকার সিএমএইচ এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ শনিবার (২৭জুন) মারা যান (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) ।

নুর মোহাম্মদ উপজেলার বাখুয়া গ্রামের বাসিন্দা। তাকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে দাফন করা হয়েছে বলে উল্লাপাড়া সদর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল সালেক জানান।

এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আনোয়ার হোসেন জানান, শনিবার সিরাজগঞ্জ র‌্যাব-১২ ক্যাম্পের ২ র‌্যাব সদস্যসহ ৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

তারা হলেন, র‌্যাব সদস্য নাসিম শাহ (৩৩), শহিদুল ইসলাম (২৮), ক্যাম্পের র‌্যাব পরিবারের সদস্য গৃহবধূ সুম্পিতা বিশ্বাস (২৮), শিশু রুজরা(৫), রোজিনা(১), সিনাল (৪) ও মুরশিকা(৭)।

তাদেরকে র‌্যাব ক্যাম্পের নিজ নিজ বাসায় আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত উল্লাপাড়া করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ২৯ জনে দাঁড়িয়েছে।

সূত্রঃ ইত্তেফাক

নারীসহ ছাত্রলীগ নেতাকে আটকে পুলিশে দিল স্থানীয়রা

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার দায়ে নারীসহ ছাত্রলীগ নেতাকে হাতেনাতে ধরে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা। বৃহস্পতিবার বিকেলে শাহজাদপুর পৌর এলাকার কান্দাপাড়ায় আলহাজের বাড়ি থেকে তাদের আটক করা হয়। আটক ছাত্রলীগ নেতা ফিরোজ আহম্মেদ উল্লাপাড়ার কয়রা খামারপাড়া গ্রামের সমশের আলী খদ্দিরের ছেলে ও কয়রা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। আটক ওই নারী বাড়ি উল্লাপাড়ায়।

এদিকে স্থানীয়রা জানায়, তাদের আটকের পর রাতভর থানায় নানা শলাপরামর্শ ও বৈঠকের পর অবশেষে এটি অপহরণের মামলায় রূপ নেয়। সেই মামলায় আসামি করা হয়েছে আটক ওই নারীসহ ১২জন। নারী কেলেঙ্কারীর বিপরীতে অপহরণ, ব্লাকমেইল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ দায়েরকৃত মামলার বাদী হন ছাত্রলীগ নেতা ফিরোজ আহম্মেদ। পরে থানা থেকে ছাড়া পেয়ে রাতেই তিনি বাড়ি ফিরে যান। ঘটনাটি নিয়ে উল্লাপাড়া ও শাহজাদপুরে ব্যাপক গুঞ্জণ শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ওসি আতাউর রহমান বলেন, অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার দায়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় চক্র ফিরোজ আহম্মেদকে নারীসহ আটক করে পুলিশে দেয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায় মুক্তিপণ হাতিয়ে নিতে শাহজাদপুর ও উল্লাপাড়ার একটি অপহরণ ও প্রতারক চক্র নারীঘটিত লোভ দেখিয়ে ফিরোজকে আটক করে। আটকের পর নগদ টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে তার কাছে আরো ৪ লাখ দাবি করে। এ ঘটনায় ১২ জনকে আসামি করে ছাত্রলীগ নেতা নিজেই বাদী হয়ে মামলা করেন। এরপর ওই নারীসহ সোহেল, আকাশ, ছোবাহান আলী, আশরাফুল ইসলাম শ্যামল ও কণা পারভীন নামে প্রতারকচক্রের ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। মূলত এটি প্রতারণা ও চাঁদাবাজি।

উল্লাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক গোলাম মোস্তফা শুক্রবার দুপুরে বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। তদন্তপূর্বক ফিরোজের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরর জন্য উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সরোয়ার হোসেনকে বলা হয়েছে।

তথ্যসূত্রঃ দৈনিক সমকাল

উল্লাপাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শ্রমিক নিহত

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় পাথরবোঝাই একটি ট্রাককে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে ইটবোঝাই ট্রাকের দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুইজন।নিহতরা হলেন- সলঙ্গা থানার রঘুনাথপুর গ্রামের দবির উদ্দিনের ছেলে কায়সার (২০) ও একই গ্রামের ইউনুছ আলীর ছেলে ছানোয়ার হোসেন (১৯)। আহতরা হলেন- একই এলাকার ইয়াকুব ও সানোয়ার। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আজ বুধবার (২৪ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের উপজেলার পাঁচলিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরন্নবী প্রধান এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানান, সকালে উপজেলার পাঁচলিয়া এলাকায় চলন্ত পাথরবোঝাই একটি ট্রাককে পেছন থেকে ধাক্কা দেয় ইটবোঝাই আরেকটি ট্রাক। এতে ঘটনাস্থলেই ইটবোঝাই ট্রাকে থাকা দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়। আহত হন আরও দুই শ্রমিক।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক দুটিকে জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছেন।

কামাল লোহানী আর নেই

কামাল লোহানী

সিরাজগঞ্জের কৃতিসন্তান, বরেণ্য সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

শনিবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে রাজধানীর মহাখালীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

কামাল লোহানীর পরিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুস ও কিডনির জটিলতা ছাড়াও হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন ৮৬ বছর বয়সী প্রবীণ এ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব।

গত ১৮ মে ফুসফুস ও কিডনির জটিলতা নিয়ে কামাল লোহানীকে রাজধানীর পান্থপথের হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ১৭ জুন সকালে তাকে একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

দৈনিক মিল্লাত পত্রিকা দিয়ে সাংবাদিকতার হাতেখড়ি কামাল লোহানীর। এর পর আজাদ, সংবাদ, পূর্বদেশ, দৈনিক বার্তায় গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি পদে ছিলেন তিনি।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে দুবার মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন এই বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব।

উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি হিসেবে এবং ছায়ানটের সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। কামাল লোহানী উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটেরও উপদেষ্টা।