উল্লাপাড়ায় এইচ টি ইমামের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত

এইচ টি ইমাম | ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের প্রথম জানাজা সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে হেলিকপ্টারে করে তাঁর মরদেহ উল্লাপাড়ার সোনাতলা গ্রামে নেওয়া হয়। সেখান থেকে প্রথম জানাজার জন্য তাঁর মরদেহ নেওয়া হয় উল্লাপাড়া সরকারি আকবর আলী কলেজ মাঠে। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে তাঁর প্রথম জানাজা হয়।

আজ সকালে এইচ টি ইমামের ছেলে সাংসদ তানভীর ইমাম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, সিরাজগঞ্জে তাঁর বাবার জানাজা শেষে মরদেহ ঢাকায় জাতীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হবে। সেখানে বিকেল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত সবার শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। বিকেলে বাদ আসর গুলশান আজাদ মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

গতকাল বুধবার দিবাগত রাত সোয়া একটার দিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) এইচ টি ইমামের মৃত্যু হয় (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি ফুসফুস, কিডনি, হৃদ্‌রোগসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতা নিয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। দেশের প্রথম মন্ত্রিপরিষদ সচিব এইচ টি ইমামের বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। প্রথমে জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নিযুক্ত হন।

এইচ টি ইমামের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সূত্রঃ প্রথমআলো

সিরাজগঞ্জে ২ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ

সিরাজগঞ্জে ২ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১ মার্চ) এই আদেশ দেয় জেলা ও দায়ড়া জজ আদালত।

মামলার সূত্রে জানা গেছে, জেলার শাহজাদপুর উপজেলার আগনুকালি গ্রামের মৃত হাফেজ শেখের ছেলে আবদুল শুকুর সেখ ও বেলকুচি উপজেলার ধুলঘাগড়াখালী গ্রামের মৃত গফুর সরকারের ছেলে আজাহার আলী নিজেদের মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিয়ে আসছিলেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁদের বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় ২০১৪ সালের ৬ নভেম্বর পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে।

গতকাল সোমবার (১মার্চ) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করে সরকার পক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) আবদুর রহমান। তিনি বলেন যে, শুকর ও আজাহার আদালতে হাজির হয়ে জামিন চান। শুনানি শেষে বিচারক জামিনের আবেদন বাতিল করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, সোমবার (১মার্চ) দুপুরে এ আদেশ দেন জেলা ও দায়ড়া জজ আদালতের বিচারক ফজলে খোদা মোহাম্মদ নাজির।

এনায়েতপুর থানা ইয়ূথ ফোরামের সংবর্ধণা ও পরিচিতি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

জমকালো আয়োজনের মধ্যে দিয়ে আজ এনায়েতপুর থানা ইয়ূথ ফোরামের সংবর্ধণা ও পরিচিতি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। নানা আয়োজনে পরিপূর্ণ ছিল এদিন। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ও পতাকা উত্তোলনের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানের কার্য্যক্রম শুরু হয়।

টি শার্ট বিতরণ ও খেলা-ধুলাসহ নানা প্রকার আয়োজন ছিল দিনের প্রথম ভাগে। পরে উপদেষ্টা ও সম্পাদক মন্ডলদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রধান করা হয়।

বিশিষ্ট শিল্পপতি ও টেক্সজেন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ্ব সেখ আব্দুল সালাম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, আলহাজ্ব আব্দুল মমিন মন্ডল, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সদস্য সিরাজগঞ্জ ৫।

বক্তারা এনায়েতপুর থানার বিভিন্ন দাবি তুলে ধরাসহ এনায়েতপুর থানাকে উপজেলায় রুপান্তর করার লক্ষে সকলকে সম্মিলিত ভাবে কাজ করার জন্য আহবান করেন।

এছাড়াও যমুনা নদীর তীব্র ভাঙ্গনরোধে সরকারের দৃষ্টি গোচর করার লক্ষে নানা রকম কর্মসুচি হাতে নেওয়া হয়।

বক্তারা আরও বলেন, এই সংগঠনের মধ্যে দিয়ে এনায়েতপুরের মানুষের দাবি উপলব্ধি হবে বলে আশা ব্যাক্ত করেন। মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন এনায়েতপুর থানা ইয়ূথ ফোরামের সভাপতি জাকারিয়া তৌহিদ তমাল । অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন, এনায়েতপুর থানা ইয়ূথ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ।

সিরাজগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি হেলাল সম্পাদক জাকিরুল

সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাব কার্য নির্বাহী পরিষদের সভাপতি হেলাল আহমেদ সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম নির্বাচিত

সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন আনন্দমুখর পরিবেশের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বিদায়ী সভাপতি হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস রবিনের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা আ.লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. কেএম হোসেন আলী হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন- সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট ও জেলা আ. লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু ইউসুফ সূর্য্য, সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসহাক আলী, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ তালুকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম আহমেদ, যুব বিষয়ক সম্পাদক বদরুল আলম, জেলা আইনজীবি সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আব্দুর রউফ পান্না, শহর আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক দানিউল হক মোল্লা, যুবলীগের সভাপতি রাশেদ ইউসুফ জুয়েল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আব্দুল হাকিম, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক জিহাদ আল ইসলাম।

প্রথম অধিবেশনে প্রেস ক্লাবের সদস্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- সিনিয়র সদস্য নূরুল ইসলাম বাবু, হেলাল আহমেদ, জাকিরুল ইসলাম সান্টু, খান হাসান, এসএম তফিজ উদ্দিন, ইসমাইল হোসেন, আব্দুল মজিদ সরকার, হীরক গুন, ইসরাইল হোসেন বাবু, দিলীপ গৌর প্রমুখ।

বিকেলে দ্বিতীয় অধিবেশনে ক্লাবের রিপোর্ট পর্যালচনার পর ২০২১-২০২২ বর্ষের জন্য ১৩সদস্যের নতুন কার্য্য নির্বাহী পরিষদ কমিটি ঘোষণা করেন ক্লাবের বিদায়ী সভাপতি হেলাল উদ্দিন। সদস্যরা হলেন- সভাপতি হেলাল আহম্মেদ (দৈনিক করতোয়া), সহ-সভাপতি ইসরাইল হোসেন বাবু (বিডি নিউজ২৪ ডটকম), সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম সান্টু (প্রধান সম্পাদক দৈনিক আজকের সিরাজগঞ্জ), সহ-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ (নির্বাহী সম্পাদক যমুনা প্রবাহ), সাংগঠনিক সম্পাদক হীরক গুন (চানেল ২৪), অর্থ সম্পাদক দিলীপ গৌর (ইনডিপেন্ডেন্ট টিভি), প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক গাজী এস এইচ ফিরোজী (বিটিভি), দপ্তর সম্পাদক আমিনুল ইসলাম (জি টিভি), ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক রিংকু কুন্ডু (সময় টিভি), সাহিত্য ও পাঠাগার সম্পাদক আইয়ুব আলী (বাংলাদেশের সময়)। কার্যকরি পরিষদের সদস্যরা হলেন- নূরুল ইসলাম বাবু (জনকন্ঠ), ফেরদৌস রবিন (চ্যানেল আই) ও মাসুদ রানা (ইউএনবি)।

যমুনার দুর্গম চরে আলোর ছোয়া

যেখানে মানুষের চলাচলের জন্য নেই ভাল যাতায়াত ব্যবস্তা, নেই চিকিৎসা ব্যবস্তা, সেখানে সোলার বিদ্যুৎ এর আলোয় আলোকিত হয়েছে যমুনা চরবাসী। এই অসাধ্য সাধন করেছে রহিম আফরোজ রিনিউএবল এনার্জি লিমিটেড। তাদের এই মহৎ উদ্দেগের কারনে চরবাসী আজ আলোকিত হতে পেরেছে। অন্ধকার আচ্ছন্ন চরবাসী পেয়েছে আলোর দেখা।

রাতের অন্ধকার কাটাতে এক সময় কুপি কিংবা হারিকেনের আলোই ছিল চরবাসীর মূল ভরসা। কিন্তু এখন তা অতীত হয়েছে। কারণ, দুর্গম চরে পৌঁছে গেছে সোলার প্যানেল বিদ্যুৎ সংযোগ। আর সেই সংযোগে ঘরে ঘরে জ্বলছে আলো। ছাত্র-ছাত্রীতাছারা লেখা পড়া করতে আরো বেশি উৎসাহ পাচ্ছে। চর বাসী ডাকাতের ভয়ে থাকত এখন সোলার বিদ্যুৎ এর কারণে গ্রামে গ্রামে বাতি হওয়ায় আলোকিত চরে পরিণত হয়েছে ফলে চোর ডাকাতের উপদ্রুপ অনেকটাই কমেছে।

এ বিষয়ে প্রজেক্টট ইনচার্জ মুজাম্মেল হক জানান আমাদের এই প্রজেক্টটি ৮০ কিলো ওয়াট পিক বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম।এখানে ২৫০ টি প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় এবং তিনটি ফেজের মাধ্যমে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। ৬ কিলো মিটার বিস্তৃত ২২০ টি পরিবার এই সেবার আওতায় রয়েছে এবং ২৫ বছরের প্রজেক্ট নিয়ে কোম্পানিটি কাজ করছে।সেবার আওতার গ্রাম গুলো হলো বাইনতিয়ার চর,গোরজান,নওহাটা।গ্রাহকদের প্রিপেইড কার্ডের মাধ্যমে বিল পরিশোধ করতে হয় এবং প্রিপেইড মিটারের আওতাদিন সকল সংযোগ।

নওহাটার গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তফা মোল্লা বলেন এই বিদ্যুৎ আমাদের এলাকার মানুষের জীবন যাত্রার মান আমুল পরিবর্তন এনেছে। আগে আমরা মোবাইল ফোন চার্জ দিতে পারতাম না,চার্জের জন্য নদীপার দিয়ে মোবাইল চার্জ দিতে হতো।এখন মোবাইল চার্জ টিভি,ফ্রিজ সব চালাতে পারি কোন সমস্যা হয় না।আমাদের অনেক উপকার হয়েছে এবং এলাকার মানুষ খুবই আনন্দিত।

সরকারিভাবে সহজশর্তে ঋণ দেয়ার দাবী


এনায়েতপুরের তাঁতি ও শ্রমিকদের মানবেতর দিনযাপন

করোনাে ক্রান্তিকালে ভালো নেই এনায়েতপুরে থানার অন্তর্গত এনায়েতপুর, খুকনি, শিবপুর, গোপীনাথপুর, রুপসীসহ আশপাশের তাঁতি ও  শ্রমিকেরা।

ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পে মন্দাভাব বিরাজ করায় পুঁজি সংকটসহ বহুমূখী সমস্যায় জর্জরিত হয়ে বর্তমানে মানবেতর জীবন যাপন করছে তারা। তাঁত নির্ভর জেলা সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরের মানুষের প্রধান কর্মই হল তাঁত । অর্থাভাবে তাঁত বন্ধ থাকায় ও অন্য কোন কাজ না জানায় তারা দিনে দিনে কর্মহীন হয়ে পড়েছে। ফলে তাদের সংসার চালানোর কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়েছে। কাজের কোন পথ খোলা না থাকায় তারা রাজধানীর বুকে পাড়ি দিচ্ছে। এতে করে তাঁত শিল্প ধ্বংসের মুখে পড়েছে।

তাঁত মালিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি শাড়ি কাপর তৈরি করতে আগে খরচ হতো ৪০০টাকা সেই শাড়ি বর্তমানে ৫০০/৫৫০ টাকা উৎপাদন খরচ হচ্ছে।খরচ বৃদ্ধি পেলেও ন্যায্য দামে উৎপাদিত বস্ত্র বিক্রি করতে পারছে না তারা। তাছাড়া চাহিদা হ্রাস পাওয়ায় ক্রেতা সংকট পড়েছে তাঁত মালিকরা।  এমতবস্থায় কাপড় উৎপাদন করতে আগ্রহ হারাচ্ছে সাধারণ তাঁত মালিক ও মহাজনেরা।

স্থানীয়  তাঁত শ্রমিক কুরবান সেখ বলেন, ‘তাঁতের কাজ না থাকায় স্বপরিবারে কাজের সন্ধানে নারায়ণগঞ্জ চলে যাচ্ছি। এখানে থাকলে না খেয়ে মরতে হবে। তিনি আরো বলেন আমার মতন অনেক তাঁত শ্রমিক এলাকা ছাড়া হয়েছে।’

এলাকার বেশ কয়েকজন কাপড় ব্যবসায়ী বলেন, বাইরের ক্রেতা না আসার কারণে কাপড় বিক্রি করতে পারছিনা, ফলে মহাজনদের নিকট থেকে কাপড় নিতে পারছিনা, বিক্রি না থাকার ফলে তারা কাপড় উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে।

স্থানীয় তাঁতী মহাজন  আজাহার বলেন, কাপড় বিক্রি করতে না পারলে উৎপাদন করে কি করব। তা ছাড়া সুতার দাম অস্বাভাবিক মাত্রায় বৃদ্ধি পাবার কারণে খরচের মাত্রা বেড়ে গেছে, আমরা এখন কি করবো ভেবে পাচ্ছি না । এমতাবস্থায় তাঁত বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছি।

তাঁতীরা আরও জানান, করোনাকালীন সময়ে দেশের তাঁতসমৃদ্ধ বিভিন্ন এলাকায় প্রান্তিক তাঁতিদের পুঁজি সংকট লাঘবে সরকারিভাবে সহজশর্তে ঋণ দেয়া হলেও অজ্ঞাত কারণে আমাদের তা না দেয়ায় পুঁজি সংকটে পড়ে বর্তমানে আমরা চোখেমুখে সর্ষের ফুল দেখছি।

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন; বিভিন্ন মহলের শোক প্রকাশ


এনায়েতপুরে মুক্তিযোদ্ধা গাজী সরাফ উদ্দিন আহম্মেদের ইন্তেকাল

মোঃ আসাদুর রহমান, এনায়েতপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি :সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার জালালপুর ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী সরাফ উদ্দিন আহমেদ ইন্তেকাল করেছেন । ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তিনি এনায়েতপুর থানা আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। সোমবার ভোর ৪টা ২০ মিনিটে নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন ।মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। অনেকদিন যাবত তিনি ডায়াবেটিস সহ নানা রকম রোগব্যাধিতে আক্রন্ত ছিলেন। মৃত্যুকালে স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়ে সহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

সোমবার বাদ আছর রাষ্ট্রীয় মর্যাদা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

তার মৃত্যুতে সিরাজগঞ্জ -৬ (শাহজাদপুর)আসনের এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসিবুর রহমান স্বপন, থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা বজলুর রশিদ, ইউপি চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ সহ মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীরা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে শোকার্ত পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর শোক প্রকাশ


মন্ডল গ্রুপের চেয়ারম্যান সাবেক এমপি আবদুল মজিদ মন্ডল আর নেই

সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবদুল মজিদ মন্ডল (৭২) আর নেই। বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে স্বাসকষ্ট জনিত কারণে ঢাকার উত্তরার বাসা থেকে স্কয়ার হাসপাতালে নেয়ার পথে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি মন্ডল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এনায়েতপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন।

তার বড় ছেলে বর্তমান সংসদ সদস্য আবদুল মমিন মন্ডলের এপিএস তাজ উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, আবদুল মজিদ মন্ডল মৃত্যুকালে স্ত্রী, ২ ছেলে ও ২ মেয়ে সহ আত্মীয়-স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী ও গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আ’লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, জেলা-থানা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ, শাহজাদপুরের এমপি আলহাজ্ব হাসিবুর রহমান স্বপন, এনায়েতপুর প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন মহল।

পারিবার ও রাজনৈতিক সুত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ জেলার এনায়েতপুর থানাধীন রুপনাই গ্রামের মৃত হাজী জহুরুল ইসলামের বড় ছেলে শিল্পোদ্যক্তা আলহাজ্ব আবদুল মজিদ মন্ডল ব্যবসায়ী জগতে এক উজ্জল নক্ষত্র হয়ে দেশের বিখ্যাত গার্মেন্ট শিল্প প্রতিষ্ঠান মন্ডল গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এছাড়া বেশ কয়েকটি শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠা এবং সমাজ হিতৈশী ব্যক্তিত্ব হিসেবে এলাকায় যথেষ্ট সুনাম রয়েছে।

এছাড়া রাজনৈতিক নেতা হিসেবে আবদুল মজিদ মন্ডল তার নির্বাচনী এলাকায় একজন মানবিক সংসদ সদস্য হিসেবে নেতাকর্মীদের অন্তরে জায়গা করে নিয়েছিলেন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নৌকা প্রতীকে বিজয়ী হন। এর আগে তিনি সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মজিদ মন্ডল সরকারী সহায়তার পাশাপাশি হাজী আবদুল মজিদ মন্ডল ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে শীতের সময় কম্বল, বন্যা ও নানা দুর্যোগে আর্থিক, ইফতার ও খাদ্য সামগ্রীসহায়তা করেছেন। নির্লোভ এই শিল্পপতি ও সাবেক সাংসদ এলাকার উন্নয়নে রেখেছেন স্বরণীয় ভুমিকা।

এদিকে আবদুল মজিদ মন্ডলের ইন্তেকালের খবরে তার নির্বাচনী এলাকার সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সহ সর্বস্তরের জনসাধারনে মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শুক্রবার বাদ জুমা রুপনাই ঈদগাহ ময়দানে নামাজে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন সম্পন্ন হবে।

তার বিদেহী আত্মার রুহের মাগফিরাত কামনার পরিবারের পক্ষ থেকে সকলের নিকট দোয়া চেয়েছেন বড় ছেলে বর্তমান সংসদ সদস্য ও মন্ডল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল মমিন মন্ডল।

সিরাজগঞ্জে তিনটিতে আ.লীগ একটিতে বিদ্রোহী প্রার্থী জয়ী

শনিবার ১৬ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জের চারটি পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে তিনটিতে আওয়ামী লীগ ও একটিতে স্বতন্ত্র (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) প্রার্থী বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

শনিবার সকাল থেকে ভোটগ্রহন শুরু হয়ে বিকাল ৪টা পর্য়ন্ত চলে, ভোট গণনা শেষে রাতে স্ব স্ব এলাকার রিটার্নিং কর্মকর্তা বিজয়ী প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন।

সিরাজগঞ্জ সদরে সৈয়দ আব্দুর রউফ মুক্তা, উল্লাপাড়ায় এস. এম নজরুল ইসলাম ও রায়গঞ্জে আব্দুল্লাহ আল পাঠান দ্বিতীয়বারের মতো বিজয়ী হয়েছেন। তারা সবাই নৌকার দলীয় প্রার্থী। শুধুমাত্র বেলকুচিতে প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাজ্জাদুল হক রেজা নির্বাচিত হয়েছেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও জেলা রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত প্রেস নোটিশে মেয়র পদে বেসরকারীভাবে নির্বাচনের সর্বশেষ ফলাফল ঘোষণা করা হয়। মোট ৫৭টি ভোট কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফল থেকে জানা যায়, আওয়ামীলীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীকে সৈয়দ আব্দুর রউফ মুক্তা ৬৮,৩৪৮টি ভোট পেয়ে বেসরকারীভাবে দ্বিতীয়বারের মত মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। অপরদিকে বিএনপি সমর্থিত ধানের শীষ প্রতীকে সাইদুর রহমান বাচ্চু পেয়েছেন ১০,৬৮৯ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী মোবাইল প্রতীকে টি আর এম নূর-ই-আলম হেলাল পেয়েছেন  ১,৪৮৮ ভোট।

উল্লাপাড়ার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, উল্লাপাড়া পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এস. এম নজরুল ইসলাম ২৪ হাজার ৫০৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আজাদ হোসেন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ১৩৩ ভোট।

রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান জানান, রায়গঞ্জ পৌরসভায় বেসরকারি ফলাফলে আওয়ামী লীগের আব্দুল্লাহ আল পাঠান বিজয়ী হয়েছেন। নৌকা প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৮ হাজার ৯২০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম পেয়েছেন ৫৭৫ ভোট।

বেলকুচির নির্বাচন কর্মকর্তা আশরাফুল হক জানান, বেলকুচি পৌরসভায় স্বতন্ত্র প্রার্থী সাজ্জাদুল হক রেজা নারিকেল গাছ প্রতীকে ১৮ হাজার ৩৮৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আশানুর বিশ্বাস নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ১২ হাজার ৭৮৪ ভোট। এছাড়া ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপি প্রার্থী হাজী আলতাফ হোসেন পেয়েছেন ৩ হাজার ৮৪০ ভোট।

উল্লেখ্য, কাজিপুর পৌরসভায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় আব্দুল হান্নান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন।

সিরাজগঞ্জ পৌর নির্বাচন


নির্বাচনে বিজয়ী হয়েই খুন কাউন্সিলর

পৌরসভা নির্বাচনে সিরাজগঞ্জে পরাজিত কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের ছুরিকাঘাতে বিজয়ী কাউন্সিলর তারিকুল ইসলাম (৪৫) নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৬ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহাউদ্দিন ফারুকী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সিরাজগঞ্জ সদরের নতুন ভাংগাবাড়ী, শাহেদনগর বেপারী পাড়া, শহীদগঞ্জ ও রতনগঞ্জ গ্রাম নিয়ে গঠিত ৬নং ওয়ার্ড। কাউন্সিলর পদপার্থী তরিকুল ইসলাম খানের প্রতিদ্বন্ধী ছিলেন শাহেদ নগর বেপারী পাড়ার মোঃ শাহাদৎ হোসেন বুদ্দিন এবং একই গ্রামের অন্য প্রার্থী সাইফুল ইসলাম। সন্ধ্যার পর কে বা কারা ছুড়িকাঘাত করে পালিয়ে যায়। দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসারত ডাঃ তাকে মৃত ঘোষনা করেন। এমতাবস্থায়, দুই গ্রামের মাঝে সংঘর্ষ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

তরিকুল ইসলাম খান দুই বারের নির্বাচিত সাবেক কাউন্সিলর মরহুম আঃ কুদ্দুস খানের ছেলে। ডালিম মার্কা নিয়ে কাউন্সিলর পদে লড়ছিলেন মরহুম তরিকুল ইসলাম খান। পুলিশের পক্ষ থেকে আসামী গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।