সিরাজগঞ্জ জেলা আ.লীগে কেএম হোসেন আলী হাসান ও আব্দুস সামাদ তালুকদারকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি-সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়ায় শাহজাদপুরে মিষ্টি বিতরন

সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল লতিফ বিশ্বাস ও ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক জেলা আওয়ামী লীগের অতন্ত্র প্রহরী ডাঃ হাবিবে মিল্লাত মুন্না এমপিকে দায়িত্ব থেকে অব্যহতি প্রদান এবং সেইসাথে জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে এড. কে এম হোসেন আলী হাসানকে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক হিসেবে আব্দুস সামাদ তালুকদারকে দায়িত্ব প্রদান করায় শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা মিষ্টি বিতরন ও আনন্দ উল্লাস করেছে।
রোববার রাতে শাহজাদপুর পৌর এলাকার দ্বারিয়াপুর কাপড়ের হাট এলাকায় শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম সদস্য কেএম নাছির উদ্দিন, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহবায়ক ও সবুজ বিপ্লবের উদ্যোক্তা কামরুল হাসান হিরোক, জাতীয় চার নেতা পরিষদ উপজেলা কমিটির সভাপতি আমিরুল ইসলাম সাগর, পৌর যুবলীগের সাবেক আহবায়ক ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর আবু শামীম সূর্য, সাবেক দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র নাসির উদ্দিন, যুবলীগ নেতা তৈয়ব আহমেদ, আব্দুস সালাম, সাবেক পৌর কাউন্সিলর হাবিবুল্লাহ, আশরাফ আলীসহ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ আনন্দ প্রকাশ করে একে অপরকে এ মিষ্টিমুখ করান। সেইসাথে, সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এড. কে এম হোসেন আলী হাসান ও ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক আব্দুস সামাদ তালুকদার নতুনভাবে দায়িত্ব প্রদান করায় তাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, রোববার আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়–য়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হলে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা আনন্দ উল্লাস ও মিষ্টি বিতরণ করেন।

বেলকুচিতে ট্রাকের ধাক্কায় নিহত ১

সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদ-এনায়েতপুর আঞ্চলিক সড়কে ট্রাকের ধাক্কায় নজরুল ইসলাম (৬০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোরে বেলকুচি উপজেলার সমেশপুর আঞ্চলিক সড়কে হাটতে বের হলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নজরুল ইসলাম সমেশপুর গ্রামের মৃত আজগর আলী সরকারের ছেলে। স্থানীয় ইউপি সদস্য জুয়েল আহম্মেদ স্থানীয়রা জানান,ভোরে সমেশপুর আঞ্চলিক সড়কে মর্নিং ওয়ার্কে গেলে অপর প্রান্ত থেকে আসা একটি মিনি ট্রাক চাপায় সে মারা যায়।

বেলকুচি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম মোস্তফা জানান,খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরন করা হবে। ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে এবং চালক পালাতক রয়েছে।

সিরাজগঞ্জে ১ হাজার পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

সিরাজগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি পুলিশ) এর অভিযানে ১ হাজার পিস ইয়াবাসহ মো. শাহ্ জাহান (২২) নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে।

আটককৃত মো. শাহ্ জাহান কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানার ঝিমং খালী গ্রামের মো. আবুর কাশেমের পুত্র।

বুধবার বিকাল ৩টার সময় এই তথ্য নিশ্চিত করে সিরাজগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি পুলিশ ওসি) মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, পুলিশ সুপার হাসিবুর আলম বিপিএম এর দিকনিদের্শনায় এসআই মো. নাজমুল হকসহ সঙ্গীয় অফিসার-ফোর্স এর সহায়তায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) গভীর রাতে সদর উপজেলার বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানাধীন কড্ডার মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ মো. শাহ্ জাহান (২২) নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়।

এই বিষয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সলঙ্গায় ২ নারীসহ ৪ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

সিরাজগঞ্জ জেলার সলঙ্গা থানা এলাকায় এক মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ৮১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মোছাঃ সানজিদা খাতুন(২২), মোঃ শাহাদত ইসলাম খায়রুল(১৯), মোঃ রাজু অহম্মেদ(২২) এবং মোছাঃ জেসমিন খাতুন(৩০) নামের চারজন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার করেছে স্পেশাল কোম্পানী, র‌্যাব-১২ এর সদস্যগন।

এ সময় তাদের নিকট হইতে ৮১ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট, ০৩ টি মোবাইলসেট, ০৬ টি সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়।

শনিবার সকালে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্পেশাল কোম্পানী কমান্ডার এএসপি মহিউদ্দিন মিরাজ।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত শুক্রবার (০২ অক্টোবর) ৭ টা ১০ মিনিটে লঙ্গা-নিমগাছী আঞ্চলিক সড়কের নতুন পাড়া সলঙ্গা গ্রামস্থ কবরস্থানের পূর্ব পাশে অভিযান পরিচালনা করে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তাদেরকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।

পরবর্তীতে উদ্ধারকৃত আলামত ও গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জ জেলার সলঙ্গা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।

মাদ্রাসা ছাত্রীকে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা করলেন ইউএনও

সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলার ধুকুরিয়া বেড়া ইউনিয়নের কল্যাণপুর মধ্যপাড়া গ্রামে বাল্যবিবাহ বন্ধ করেন বেলকুচি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আনিসুর রহমান। তিনি দশম শ্রেনীর ছাত্রীকে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা করেন।

রবিবার রাতে কল্যাণপুর মধ্যপাড়া গ্রামে কনের বাড়ীতে সংগীয় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত উপস্থিত হন। তখন কনের বাড়ীতে কল্যাণপুর মধ্যপাড়া গ্রামের দশম শ্রেণীর মাদ্রাসা ছাত্রী (১৫) এর সাথে সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুর উপজেলার রুপনাই গ্রামের তাত শ্রমিক (২৪) এর বিয়ের আয়োজন চলছিল। কনে স্থানীয় মাদ্রাসার দশম শ্রেনীর ছাত্রী। কনে অপ্রাপ্তবয়স্ক। ভ্রাম্যমাণ আদালত বাল্যবিবাহ বন্ধ করে বর ও কনের মামা প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন এবং কনের পিতাকে বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে বুঝালে তিনি তার ভুল বুঝতে পারেন এবং তার মেয়েকে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিবাহ দিবেন না বলে মুচলেকা দেন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বেলকুচি থানার এএসআই মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, পেশকার মোঃ হাফিজ উদ্দিন ও আনসার বাহিনীর সদস্যবৃন্দ।

বেলকুচিতে ৮ স্কুলছাত্রীকে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা করলেন ইউএনও

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলায় এক দিনে ৮জন স্কুলছাত্রীকে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা করেছেন বেলকুচি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আনিসুর রহমান।

শুক্রবার দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে এ বাল্যবিবাহগুলো বন্ধ করা হয়।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আনিসুর রহমান জানান, শুক্রবার বিকাল ৪ টার দিকে বেলকুচি পৌরসভার চরচালা এলাকার অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী (১৪), বিকাল ৫ টায় উপজেলার গাড়ামাসী এলাকার সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী (১২), সন্ধ্যা ৬ টায় সূবর্ণসাড়া এলাকায় দশম শ্রেনীর ছাত্রী (১৫), রাত ৮ টায় দৌলতপুর ইউনিয়নের দৌলতপুর পেস্তকপাড়া গ্রামের সালাম মার্কেট এলাকায় দশম শ্রেণীর ছাত্রী (১৪), রাত ৯ টায় চন্দনগাতী দক্ষিণপাড়া এলাকায় ৬ষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্রী (১৩), রাত ৯ টায় চন্দনগাতী দক্ষিণপাড়া এলাকায় একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী (১৭), রাত ১০ টায় ধুকুরিয়া বেড়া ইউনিয়নের কল্যাণপুর গ্রামে সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী (১২) এবং দৌলতপুর ইউনিয়নের দৌলতপুর পেস্তকপাড়া গ্রামের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী (১৫) এর বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়।

তিনি আরো জানান, শুক্রবার দুপুরে হতে গভীর রাত পর্যন্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বাল্যবিবাহগুলো বন্ধ করা হয়। আটটি বাল্যবিবাহের ছয়টিতে কনে অপ্রাপ্তবয়স্ক ও দুইটিতে বর ও কনে উভয়ই অপ্রাপ্তবয়স্ক। বাল্যবিবাহগুলো বন্ধ করে সর্বমোট ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। প্রত্যেক প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বর ও কনের বাবার কাছ থেকে বর ও কনে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিবাহ দিবেন না বলে মুচলেকা নেয়া হয়।

এসময় বাল্যবিবাহগুলো বন্ধে সহযোগিতা করেন বেলকুচি থানার উপপরিদর্শক রবিউল, সহকারী উপপরিদর্শক জহুরুল ইসলাম, এ এসআই মোস্তাফিজ, পেশকার মোঃ হাফিজ উদ্দিন, বেলকুচি থানা পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যবৃন্দ।

উল্লেখ্য যে, বেলকুচি উপজেলার বর্তমান ইউএনও মোঃ আনিসুর রহমান সিরাজগঞ্জ সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে ও ইউএনও বেলকুচি হিসেবে কর্মকালীন সময়ে ইতোপূর্বে আরও তিনবার একদিনে ৭ টি বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

যমুনার আগ্রাসনে বিলীন হলো মসজিদ

শত চেষ্টা করেও মসজিদটি রক্ষা করা গেল না। যমুনার তীব্র স্রোতে শনিবার সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ছোনগাছা ইউনিয়নের পাঁচঠাকুরী গ্রামের মসজিদটি নদীতে বিলীন হয়ে যায়।

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুর বস্তা ফেলে মসজিদটি রক্ষার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আবারও নতুন করে ভাঙন আতঙ্ক বিরাজ করছে।


সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত জুলাই মাসে মসজিদটি ভাঙনের কবলে পড়ে। সে সময় বালুর বস্তা ফেলে মসজিদটি রক্ষায় চেষ্টা করা হয়েছিল। এদিকে, তিন দিন ধরে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। কাজীপুর পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে যমুনার তীব্র স্রোতে মসজিদটি নদীতে বিলীন হয়ে যায়।’


গত জুলাইয়ে বন্যায় সদর উপজেলার ছোনগাছা ইউনিয়নের ১৫০ মিটার শিমলা স্পার বাঁধ নদীতে বিলীন হয়ে যায়। একই সঙ্গে শতাধিক ঘরবাড়ি, বসতভিটা ও গাছপালা মুহূর্তের মধ্যে নদীতে বিলীন হয়। সে সময়ই ভাঙনের মুখে পড়ে মসজিদটি।

একদিনে ৫স্কুলছাত্রীকে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা করলেন বেলকুচির ইউএনও

সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলায় একই দিনে পাচ স্কুলছাত্রীকে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা করেছেন বেলকুচি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আনিসুর রহমান। শুক্রবার দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে এ বাল্যবিবাহগুলো বন্ধ করা হয়।

প্রথমে বিকাল ৪ টায় সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের সমেশপুর গ্রামে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী (১৩), বিকাল ৫ টায় পৌরসভার সোহাগপুর গোহাটা এলাকায় অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী(১৩), সন্ধ্যা ৬ টায় দৌলতপুর ইউনিয়নের শোলাকুড়া গ্রামে নবম শ্রেনীর ছাত্রী (১৪), রাত ৮ টায় দৌলতপুর ইউনিয়নের ক্ষিদ্রগোপরেখী গ্রামে একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী (১৭) এবং রাত ৯ টায় ধুকুরিয়া বেড়া ইউনিয়নের ধুকুরিয়া বেড়া গ্রামে দশম শ্রেনীর ছাত্রী (১৬) এর বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে হতে গভীর রাত পর্যন্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বাল্যবিবাহ গুলো বন্ধ করা হয়। পাচটি বাল্যবিবাহেই কনের অপ্রাপ্তবয়স্ক।বাল্যবিবাহগুলো বন্ধ করে সর্বমোট ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। প্রত্যেক প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কনের বাবার কাছ থেকে কনে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিবাহ দিবেন না বলে মুচলেকা নেয়া হয়।

বাল্যবিবাহগুলো বন্ধে সহযোগিতা করেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোছাঃ কাশ্মীর সুলতানা, পেশকার মোঃ হাফিজ উদ্দিন, বেলকুচি থানা পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যবৃন্দ।

প্রতারক জেমি খাতুন আটকে সিরাজগঞ্জে স্বস্তি

প্রতারনা করে নিজেকে কখনো প্রধানমন্ত্রীর কথিত মেয়ে, কখনো আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বন্ধু, আবার কখনো বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছের মানুষ পরিচয় দিয়ে মানুষকে নানাভাবে হয়রানি ও প্রতারিত করে আসছিলেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার মেয়ে জেমি পারভীন।

দেশের বিশিষ্ট মানুষদের সাথে ছবি উঠে তা ফেসবুকে আপলোড দিয়ে নিজেকে তাদের আপনজন হিসেবে দাবি করত সে। কৌশলে এসব পরিচয় ব্যবহার করে সে অনেক প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জিম্মি করে রেখেছিল। আর ফেসবুকের নিজস্ব ওয়ালে বিভিন্ন মানুষ সম্পর্কে কটূক্তিসহ নানা ধমক-ধামক লেখা থাকতো।

জেমির ইচ্ছেমতো না চললে এলাকার সাধারণ মানুষকে পড়তে হতো নানা ঝামেলায়। তার অপছন্দের লোকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণ, হত্যাচেষ্টা, ও অপহরণের মামলা করা হতো। তারপর এই মামলা মেটাতে অভিযুক্ত এসব লোকদের গুনতে হতো মোটা অংকের টাকা। মাঝে মাঝে তিনি নানা তদবিরের নামে অনেকের কাছ থেকেই নিয়েছেন মোটা অংকের টাকা। সেইসব টাকাতে জেমি ঢাকাসহ উল্লাপাড়া, শাহজাদপুরের গড়ে তুলেছেন অন্তত চারটি বাড়ি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে নিজের তোলা ছবি দেখিয়ে থানার কর্মকর্তাদের তিনি প্রভাবিত করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছেন স্থানীয়দের।কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে নিজে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন এমন ভাবেই নিজেকে জাহির করে তার ফেসবুক ওয়ালে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের নামে নানা কটুক্তি প্রচার করেছেন। কখনো কখনো অপছন্দের লোককে মেরে ফেলার হুমকিও দিয়েছেন তার ফেসবুক ওয়ালে।
ঢাকার তেজগাঁও থানায় করা প্রতারণা মামলায় গত ৬ই সেপ্টেম্বর ঢাকার সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল বিভাগ তাকে গ্রেফতার করার পর তার নিজ এলাকার ভুক্তভোগী অনেকেই এখন মুখ খুলতে শুরু করেছেন ।

তবে তার মা সোনাভান বেগমের দাবি, তার মেয়ে নিরাপরাধ। মিথ্য অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে। স্থানীয় গাাদড়হ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম জানালেন বিগত সময়ে জেমির জন্য বেশ কয়েকটি সালিশ বৈঠক হয়েছে। তবে জেমির অধিকাংশ অভিযোগ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়েছে । থানায় দায়ের করা মামলাগুলো মিথ্যে বলে তিনি জানান।

সিরাজগঞ্জের জেলা পুলিশ সুপার হাসিবুল আলম জানান জেমি পারভীনের বিগত সময়ের রেকর্ড যাচাই-বাছাই চলছে। তবে এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে জেমি পারভীনের আটকের খবরে স্বস্তির মিলেছে শাহজাদপুর এবং উল্লাপাড়া উপজেলার ভুক্তভোগিদের। ইতিমধ্যেই তার বিচারের দাবিতে এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছেন। ভুক্তভোগী এইসব মানুষেরা সঠিক তদন্ত করে তার বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার তালগাছি এলাকার মানুষেরা এখনো জেমি পারভিনকে জানে সন্দেশ ওয়ালার মেয়ে নাবিয়া খাতুন নামে। তার ছোট বেলার সময় কেটেছে তালগাছি স্কুলের সামনে তার বাবার সাথে সন্দেশ বিক্রির করে। মাঝে মাঝে নাবিয়া গান গাইতো। বয়স বাড়ার সাথে সাথে নাবিয়া হয়ে ওঠে জেমি পারভীন।

ইতিমধ্যেই জেমি বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন চার বার। সবশেষ তিনি আস্তানা গাড়েন ঢাকায়। নিজের গাওয়া গান নিয়ে হাজির হন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে। চাতুরতার সাথে সখ্য বাড়ান আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের সাথে। তাদের সাথে ছবি তুলে তা ফেসবুকে আপলোড করে নিজেকে প্রচার করেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের একজন নারী নেত্রী হিসেবে।

বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি ! উল্লাপাড়ায় ১০ ব্যবসায়ীকে জরিমানা

বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রির দায়ে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ১০ ব্যবসায়ীকে মোট ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-১২ সিরাজগঞ্জ ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার ও মিডিয়া অফিসার মো. এরশাদুর রহমান।

অর্থদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন কমল আহম্মেদ, মজনু মিয়া, মো. আলম, মো. শাখাওয়াত, রওশন, মো. মজিবুর, মানিক মিয়া, রিপন সাহা, রাধা রামন ও কামরুল উদ্দিন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উল্লাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাজারে অভিযান চালায় র‌্যাব। অভিযানে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মাসুদ আহম্মেদ অংশ নেন। বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি এবং মজুদ করার দায়ে এ সময় ১০ দোকান মালিককে জরিমানা করা হয়।