যমুনার আগ্রাসনে বিলীন হলো মসজিদ

শত চেষ্টা করেও মসজিদটি রক্ষা করা গেল না। যমুনার তীব্র স্রোতে শনিবার সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ছোনগাছা ইউনিয়নের পাঁচঠাকুরী গ্রামের মসজিদটি নদীতে বিলীন হয়ে যায়।

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুর বস্তা ফেলে মসজিদটি রক্ষার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আবারও নতুন করে ভাঙন আতঙ্ক বিরাজ করছে।


সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত জুলাই মাসে মসজিদটি ভাঙনের কবলে পড়ে। সে সময় বালুর বস্তা ফেলে মসজিদটি রক্ষায় চেষ্টা করা হয়েছিল। এদিকে, তিন দিন ধরে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। কাজীপুর পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে যমুনার তীব্র স্রোতে মসজিদটি নদীতে বিলীন হয়ে যায়।’


গত জুলাইয়ে বন্যায় সদর উপজেলার ছোনগাছা ইউনিয়নের ১৫০ মিটার শিমলা স্পার বাঁধ নদীতে বিলীন হয়ে যায়। একই সঙ্গে শতাধিক ঘরবাড়ি, বসতভিটা ও গাছপালা মুহূর্তের মধ্যে নদীতে বিলীন হয়। সে সময়ই ভাঙনের মুখে পড়ে মসজিদটি।

একদিনে ৫স্কুলছাত্রীকে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা করলেন বেলকুচির ইউএনও

সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলায় একই দিনে পাচ স্কুলছাত্রীকে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা করেছেন বেলকুচি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আনিসুর রহমান। শুক্রবার দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে এ বাল্যবিবাহগুলো বন্ধ করা হয়।

প্রথমে বিকাল ৪ টায় সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের সমেশপুর গ্রামে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী (১৩), বিকাল ৫ টায় পৌরসভার সোহাগপুর গোহাটা এলাকায় অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী(১৩), সন্ধ্যা ৬ টায় দৌলতপুর ইউনিয়নের শোলাকুড়া গ্রামে নবম শ্রেনীর ছাত্রী (১৪), রাত ৮ টায় দৌলতপুর ইউনিয়নের ক্ষিদ্রগোপরেখী গ্রামে একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী (১৭) এবং রাত ৯ টায় ধুকুরিয়া বেড়া ইউনিয়নের ধুকুরিয়া বেড়া গ্রামে দশম শ্রেনীর ছাত্রী (১৬) এর বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে হতে গভীর রাত পর্যন্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বাল্যবিবাহ গুলো বন্ধ করা হয়। পাচটি বাল্যবিবাহেই কনের অপ্রাপ্তবয়স্ক।বাল্যবিবাহগুলো বন্ধ করে সর্বমোট ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। প্রত্যেক প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কনের বাবার কাছ থেকে কনে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিবাহ দিবেন না বলে মুচলেকা নেয়া হয়।

বাল্যবিবাহগুলো বন্ধে সহযোগিতা করেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোছাঃ কাশ্মীর সুলতানা, পেশকার মোঃ হাফিজ উদ্দিন, বেলকুচি থানা পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যবৃন্দ।

প্রতারক জেমি খাতুন আটকে সিরাজগঞ্জে স্বস্তি

প্রতারনা করে নিজেকে কখনো প্রধানমন্ত্রীর কথিত মেয়ে, কখনো আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বন্ধু, আবার কখনো বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছের মানুষ পরিচয় দিয়ে মানুষকে নানাভাবে হয়রানি ও প্রতারিত করে আসছিলেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার মেয়ে জেমি পারভীন।

দেশের বিশিষ্ট মানুষদের সাথে ছবি উঠে তা ফেসবুকে আপলোড দিয়ে নিজেকে তাদের আপনজন হিসেবে দাবি করত সে। কৌশলে এসব পরিচয় ব্যবহার করে সে অনেক প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জিম্মি করে রেখেছিল। আর ফেসবুকের নিজস্ব ওয়ালে বিভিন্ন মানুষ সম্পর্কে কটূক্তিসহ নানা ধমক-ধামক লেখা থাকতো।

জেমির ইচ্ছেমতো না চললে এলাকার সাধারণ মানুষকে পড়তে হতো নানা ঝামেলায়। তার অপছন্দের লোকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণ, হত্যাচেষ্টা, ও অপহরণের মামলা করা হতো। তারপর এই মামলা মেটাতে অভিযুক্ত এসব লোকদের গুনতে হতো মোটা অংকের টাকা। মাঝে মাঝে তিনি নানা তদবিরের নামে অনেকের কাছ থেকেই নিয়েছেন মোটা অংকের টাকা। সেইসব টাকাতে জেমি ঢাকাসহ উল্লাপাড়া, শাহজাদপুরের গড়ে তুলেছেন অন্তত চারটি বাড়ি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে নিজের তোলা ছবি দেখিয়ে থানার কর্মকর্তাদের তিনি প্রভাবিত করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছেন স্থানীয়দের।কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে নিজে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন এমন ভাবেই নিজেকে জাহির করে তার ফেসবুক ওয়ালে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের নামে নানা কটুক্তি প্রচার করেছেন। কখনো কখনো অপছন্দের লোককে মেরে ফেলার হুমকিও দিয়েছেন তার ফেসবুক ওয়ালে।
ঢাকার তেজগাঁও থানায় করা প্রতারণা মামলায় গত ৬ই সেপ্টেম্বর ঢাকার সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল বিভাগ তাকে গ্রেফতার করার পর তার নিজ এলাকার ভুক্তভোগী অনেকেই এখন মুখ খুলতে শুরু করেছেন ।

তবে তার মা সোনাভান বেগমের দাবি, তার মেয়ে নিরাপরাধ। মিথ্য অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে। স্থানীয় গাাদড়হ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম জানালেন বিগত সময়ে জেমির জন্য বেশ কয়েকটি সালিশ বৈঠক হয়েছে। তবে জেমির অধিকাংশ অভিযোগ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়েছে । থানায় দায়ের করা মামলাগুলো মিথ্যে বলে তিনি জানান।

সিরাজগঞ্জের জেলা পুলিশ সুপার হাসিবুল আলম জানান জেমি পারভীনের বিগত সময়ের রেকর্ড যাচাই-বাছাই চলছে। তবে এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে জেমি পারভীনের আটকের খবরে স্বস্তির মিলেছে শাহজাদপুর এবং উল্লাপাড়া উপজেলার ভুক্তভোগিদের। ইতিমধ্যেই তার বিচারের দাবিতে এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছেন। ভুক্তভোগী এইসব মানুষেরা সঠিক তদন্ত করে তার বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার তালগাছি এলাকার মানুষেরা এখনো জেমি পারভিনকে জানে সন্দেশ ওয়ালার মেয়ে নাবিয়া খাতুন নামে। তার ছোট বেলার সময় কেটেছে তালগাছি স্কুলের সামনে তার বাবার সাথে সন্দেশ বিক্রির করে। মাঝে মাঝে নাবিয়া গান গাইতো। বয়স বাড়ার সাথে সাথে নাবিয়া হয়ে ওঠে জেমি পারভীন।

ইতিমধ্যেই জেমি বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন চার বার। সবশেষ তিনি আস্তানা গাড়েন ঢাকায়। নিজের গাওয়া গান নিয়ে হাজির হন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে। চাতুরতার সাথে সখ্য বাড়ান আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের সাথে। তাদের সাথে ছবি তুলে তা ফেসবুকে আপলোড করে নিজেকে প্রচার করেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের একজন নারী নেত্রী হিসেবে।

বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি ! উল্লাপাড়ায় ১০ ব্যবসায়ীকে জরিমানা

বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রির দায়ে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ১০ ব্যবসায়ীকে মোট ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-১২ সিরাজগঞ্জ ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার ও মিডিয়া অফিসার মো. এরশাদুর রহমান।

অর্থদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন কমল আহম্মেদ, মজনু মিয়া, মো. আলম, মো. শাখাওয়াত, রওশন, মো. মজিবুর, মানিক মিয়া, রিপন সাহা, রাধা রামন ও কামরুল উদ্দিন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উল্লাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাজারে অভিযান চালায় র‌্যাব। অভিযানে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মাসুদ আহম্মেদ অংশ নেন। বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি এবং মজুদ করার দায়ে এ সময় ১০ দোকান মালিককে জরিমানা করা হয়।

সিরাজগঞ্জে ভুয়া চিকিৎসকের জরিমানা

কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া চিকিৎসা চালানোর অপরাধে সিরাজগঞ্জে ফেরদৌস (৪৫) নামে এক ভুয়া চিকিৎসককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সোমবার (০৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ এ রায় দেন।

এর আগে সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার রহমতগঞ্জ কাঠেরপুল মহল্লায় অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত।

অর্থদণ্ডপ্রাপ্ত ফেরদৌস সয়াধানগড়া মহল্লার মজিবুর রহমানের ছেলে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ বাংলানিউজকে জানান, কোনো ধরনের সনদ ও কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই নিজ ফার্মেসিতে আহত এক ব্যক্তির মাথায় সেলাই ও ব্যান্ডেজ করেছিলেন ফেরদৌস। খবর পেয়ে ফার্মেসিতে অভিযান চালিয়ে তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করায় তাকে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এসময় ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. সৌমিত্র বসাক উপস্থিত ছিলেন।

তথ্য সুত্রঃ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

দীর্ঘদিন পর চলনবিলে দেশি মাছের বাহার

শস্য ও মৎস্যভাণ্ডার খ্যাত চলনবিল। এ বিলের উদারতায় কখনো সোনালী ধানে ভরে যায় কৃষকের গোলা, উঠোন জুড়ে শোভা পায় সরিষা, গম, ভুট্টাসহ হরেক শস্যদানা।আবার কখনো জাল ভরা মাছে প্রাণ জড়িয়ে যায় জেলেদের।

দেশের মিঠাপানির সবচেয়ে বড় এ জলাভূমিতে এবার ধরা পড়ছে প্রচুর দেশি মাছ। নানা প্রতিকূলতায় আগের মতো দেশি মাছের দেখা না মিললেও এবার ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে। জেলেদের জালে ধরা পড়ছে টেংরা, পাঁতাসি, চেলা, মোয়া, চাটা খইলসা ও চাপিলার মতো সুস্বাদু দেশি মাছ।

সম্প্রতি সরেজমিন চলনবিলাঞ্চলের হাটবাজারে গিয়ে চোখে পড়ে বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছ। তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ, কুন্দইল, সগুণা, নাদৌ সৈয়দপুর, উল্লাপাড়া উপজেলার বাঙলাসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায় ঝাঁকিজাল, খড়াজাল, বাদাই জাল, কারেন্ট জাল ও মইয়াজাল ছাড়াও চাঁই, খাদল, ধিয়াল ইত্যাদি ফাঁদ পেতে জেলেরা মাছ ধরতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। পেশাদার জেলে ছাড়াও সৌখিন মাছ শিকারিরাও বিভিন্ন ফাঁদ নিয়ে ছুটছেন চলনবিলে।

তাদের ফাঁদে ধরা পড়ছে চেলা, মোয়া, টেংরা, পুঁটি, রায়েক, খলিসা, কই, শিং, মাগুর, টাকি, বেলে, চিংড়ি, বোয়াল, ষোল, গুচি, বাইম, রুই, কাতলা ও মৃগেলসহ দেশি প্রজাতির বিভিন্ন মাছ। অল্পসল্প পাওয়া যাচ্ছে মিঠাপানির সবচেয়ে সুস্বাদু রানি মাছ। তবে খুব একটা মিলছে না ভেদা, বাইটকা, নন্দই, গরপই, গজার ও শিলনসহ বিলুপ্তপ্রায় অন্তত ৩০ প্রজাতির মাছ।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ, তাড়াশ ও উল্লাপাড়া, পাবনা জেলার চাটমোহর, ভাঙ্গুরা ও ফরিদপুর, নাটোরের গুরুদাসপুর, সিংড়া ও বড়াইগ্রাম এবং নওগাঁর আত্রাই এ ১০টি উপজেলার সীমান্তবর্তী নিম্নাঞ্চলই হচ্ছে চলনবিল। প্রায় দুই হাজার গ্রামের এ বিলটিতে ৩৯টি বিভিন্ন আকৃতির ছোট-বড় বিল, ১৬টি নদী ও ২২টি খাল রয়েছে। নদীগুলোর মধ্যে করতোয়া, আত্রাই, বড়াল, গুড়, হিজলী, তুলশী, ইছামতি, নন্দকুজা, গুমানী, চৈচুয়া, ভাদাই, চিকনাই, বানগঙ্গা, কুমারডাঙ্গা, মরা আত্রাই ও করতোয়া উল্লেখযোগ্য। এ বিলটিকে ঘিরে বেঁচে আছে উত্তরাঞ্চলের চারটি জেলার ১০টি উপজেলার প্রায় ২৫ লাখ মানুষ।

এক সময় এ বিলটিতে শতাধিক প্রজাতির দেশি মাছ উৎপাদিত হতো। জমিতে অধিক পরিমাণ সার ও কীটনাশক প্রয়োগ, যত্রতত্র পুকুর খনন ও স্থাপনা নির্মাণসহ নানা কারণে হারিয়ে যেতে বসেছে দেশি মাছ। এরই মধ্যে অনেক প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

উল্লাপাড়া উপজেলার ধরইল গ্রামের আবু বক্কার সিদ্দিক, মনজিল হোসেন, তাড়াশের নওগাঁ এলাকার দেলোয়ার, আব্দুল গফুরসহ একাধিক মৎস্যজীবীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ বছর বেশি সময় বন্যা থাকায় তারা বিভিন্ন ধরনের দেশি মাছ পাচ্ছেন। অনেকেই বলেন, ধর্মজাল কিংবা খড়াজালে প্রতি ঘণ্টায় দুই/তিন কেজি মাছ উঠছে। আবার কারেন্টজালে ঝাঁকে ঝাঁকে দেশি মাছ ধরা পড়ছে। এছাড়া বাঁশের তৈরি ফাঁদে সৌখিন মৎস্য শিকারিরা প্রচুর মাছ ধরছেন।

তাড়াশ ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক এএইচ খোকন বাংলানিউজকে বলেন, বিস্তীর্ণ চলনবিল অঞ্চলে শতাধিক দেশি প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত। বর্তমানে নদীর তীর ও খাল দখল, বিলের মধ্য দিয়ে অপরিকল্পিত রাস্তাঘাট নির্মাণ, যেখানে সেখানে পুকুর খনন, বাড়িঘর নির্মাণ, জমিতে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক প্রয়োগসহ নানা কারণে হারিয়ে যাচ্ছে দেশি প্রজাতির স্বাদু পানির মাছ। এরই মধ্যে প্রায় ৩০ প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

সেগুলো পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি সব অব্যবস্থানা দূর করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তাড়াশ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মশগুল আজাদ বলেন, প্রশাসনের কঠোর ভূমিকা রাখার কারণে মা ও পোনা মাছ রক্ষা পেয়েছে। এ কারণে চলনবিলে প্রচুর দেশি মাছ উৎপাদিত হয়েছে। বন্যার পানি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেখা মিলছে প্রচুর দেশি মাছের।

সিরাজগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সাহেদ আলী বাংলানিউজকে জানান, এবার দীর্ঘসময় বন্যা থাকার কারণে মাছগুলো বেশি সময় ধরে বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে চলাচল করতে পেরেছে। এতে করে মাছের প্রজনন বেড়েছে। পাশাপাশি মা ও পোনা মাছ নিধনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় দেশি মাছের উৎপাদন অনেক বেশি হয়েছে।

দু-এক সপ্তাহ পর প্রচুর দেশি মাছ ধরা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, গত অর্থবছরে জেলায় ৬৭ হাজার মেট্রিক টন মাছ উৎপাদিত হয়েছে। আশা করি, এ বছর এর পরিমাণ অনেক বাড়বে।

সূত্রঃ বিডিনিউজ২৪ডটকম

সিরাজগঞ্জে বিস্ফোরক মামলায় ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান শুক্কুরকে বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

সিরাজগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার এএসপি মুহাম্মদ মহিউদ্দিন মিরাজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার এ তথ্য জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার রাতে শহরের রেলওয়ে কলোনি থেকে শুক্কুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্কুর সদর থানায় দায়ের হওয়া একটি বিস্ফোরক মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। বুধবার সকালে তাকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

শুক্কুর জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল হকের স্ত্রী মুক্তা বেগমের দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি বলে জানিয়েছেন সদর থানার পরিদর্শক নূরুল ইসলাম।

জেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক এনামুল হক বিজয় হত্যার পর ছাত্রলীগ আয়োজিত মিলাদ মাহফিলকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই দলের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল হক আহত হলে তার স্ত্রী মুক্তা বেগম এ মামলাটি দায়ের করেন।

 

বেলকুচিতে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত তাঁত শ্রমিকদের অর্থ সহায়তা

জেলার বেলকুচি উপজেলায় কোভিড-১৯ মহামারির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্রতাঁতী ও তাঁত শ্রমিকদের মাঝে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত প্রণোদনার অর্থ প্রদান করা হয়।

বুধবার বেলকুচি উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রণোদনার নগদ অর্থ তুলে দেন সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন- বেলকুচি উপজেলা পরিষদের মো. চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম (সাজেদুল), বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান, বেলকুচি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস. এম. রবিন শীষ, তাঁতবোর্ড বেলকুচি উপজেলার লিয়াজো কর্মকর্তা মোছা. তন্বীসহ অন্যান্য।

উল্লেখ্য কোভিড-১৯ মহামারি ও সাম্প্রতিক বন্যায় সিরাজগঞ্জের তাঁতশিল্পের অন্যতম প্রসিদ্ধ অঞ্চল বেলকুচির তাঁতিরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

টানা বর্ষণে ফের বাড়ছে যমুনার পানি

টানা বর্ষণের কারণে যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ ও কাজিপুর পয়েন্টে আবারও বাড়তে শুরু করেছে। এবার এ নিয়ে পঞ্চম দফায় যমুনায় পানি বাড়া শুরু হলো।

তবে এবার আশঙ্কার কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিরাজগঞ্জ।

বৃহস্পতিবার (০৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৩৯ মিটার। যা বিপৎসীমার ৯৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ১০ সেন্টিমিটার।

অপরদিকে, কাজিপুর পয়েন্টে সকালে রেকর্ড করা হয়েছে ১৪ দশমিক ৪০ মিটার। যা বিপৎসীমার ৮৫ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ৬ সেন্টিমিটার।

পাউবো সিরাজগঞ্জের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী একেএম রফিকুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, টানা দেড় সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে যমুনার পানি কমছিল। তবে অতিমাত্রায় বৃষ্টির কারণে আবারও পানি বাড়ছে। এ নিয়ে আশঙ্কার কোনো কারণ নেই। সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় ১০ সেন্টিমিটার বাড়লেও শেষ ১২ ঘণ্টায় বেড়েছে মাত্র ১ সেন্টিমিটার। বৃষ্টিপাত কমলেই পানি কমবে।

পাউবোর তথ্যমতে, চলতি বছরের জুনের শুরু থেকে যমুনার পানি সিরাজগঞ্জ ও কাজিপুর পয়েন্টে বাড়তে শুরু করে। ২৮ জুন উভয় পয়েন্টেই বিপৎসীমা অতিক্রম করে। এরপর ৪ জুলাই থেকে আবার কমতে শুরু করে এবং ৬ জুলাই বিপৎসীমার নিচে নেমে যায়। ৯ জুলাইয়ের পর দ্রুত বাড়তে থাকে এবং ১৩ জুলাই যমুনার পানি দ্বিতীয় দফায় বিপৎসীমা অতিক্রম করে কাজিপুর ও সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে। টানা ২৫ দিন পর ৭ আগস্ট যমুনার পানি উভয় পয়েন্টেই বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে। ১১ আগস্ট পর্যন্ত কমতে থাকলেও ১২ আগস্ট থেকে আবারও পানি বাড়তে শুরু করে এখন পর্যন্তও অব্যাহত রয়েছে। ২০ আগস্ট পর্যন্ত বাড়তে থাকে এবং এক পর্যায়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি চলে আসে। তবে ২১ আগস্ট থেকে আবারও পানি কমতে শুরু করে। টানা ১২ দিন ধরে কমার পর ০২ সেপ্টেম্বর আবারও বাড়তে শুরু করেছে।

তথ্য সুত্রঃ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

আ. লীগের মনোনয়ন লড়াইয়ে ক্যাপ্টেন মনসুর আলীর দুই নাতি, মাঠে আছে বিএনপি

আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া সিরাজগঞ্জ-১ আসনের উপনির্বাচনে শাসক দলে প্রার্থিতার লড়াই জমে উঠেছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শহীদ ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলীর দুই নাতি এই আসনে প্রার্থী হতে আগ্রহ প্রকাশ করে মাঠে নেমেছেন। ইতোমধ্যে মনোনয়নপত্র তুলে কেন্দ্রের দিকে চেয়ে আছেন তারা।

এদের একজন আসনটির সাবেক সংসদ সদস্য তানভীর শাকিল জয়। তিনি প্রয়াত সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাসিমের ছেলে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে মোহাম্মদ নাসিম প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা হারালে ডামি প্রার্থী থেকে আওয়ামী লীগের মূল প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি এবং বিপুল ভোটে জয়ীও হয়েছিলেন। পরে বাবার সম্মানে ২০১৪ সালের নির্বাচনে আসনটি ছেড়ে দেন তিনি। তবে তাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন প্রয়াত নাসিমের বড় ভাই ড. মোহাম্মদ সেলিমের পুত্র ব্যারিস্টার শেহেরিন সেলিম রিপন। তিনিও উচ্চ শিক্ষিত এবং তার বাবাও এলাকার পরিচিত মুখ। এম মনসুর আলীর এই দুই নাতির প্রার্থিতার যুদ্ধে ঢুকে গেছেন ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অমিত দেবও। তিনিও দলীয় মনোনয়ন তুলেছেন।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার গণভবনে আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠকে পাবনা-৪ আসনের প্রার্থিতা চূড়ান্ত হলেও সিরাজগঞ্জ-১ আসনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার ওপর দায়িত্ব অর্পণ করেন সভার সদস্যরা।

বিবিধ রোগে আক্রান্ত হয়ে গত জুনে হঠাৎই শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম। হাসপাতালে ভর্তির পর তার করোনা ধরা পড়ে। করোনা মুক্ত হলেও কোমায় চলে যান তিনি। সেখান থেকে আর ফিরতে পারেননি। গত ১৩ জুন তার মৃত্যু হয়। এ কারণে আসনটি শূন্য হলে এ মাসেই এ আসনেও উপনির্বাচনের তারিখ ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে।

আসনটিতে আওয়ামী লীগের টিকিটের অন্যতম দাবিদার প্রকৌশলী তানভীর শাকিল জয় বলেন, ‘সিরাজগঞ্জ-১ আসন শহীদ ক্যাপ্টেন মনসুর আলীর পুণ্যভূমি। আওয়ামী লীগের দুর্গখ্যাত এ আসনে আমার দাদা, পরে আমার পিতা এবং আমি নিজেও এমপি ছিলাম। বাবা আমৃত্যু কাজিপুর তথা সিরাজগঞ্জবাসীর পাশে থেকেছেন। বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো করোনাকালের শুরুতেও কাজিপুরে ছুটে গেছেন বাবা। অসহায় ও দুস্থদের ত্রাণ ও বিনামূল্যে ওষুধপত্র সরবরাহ করেছেন। শেষ পর্যন্ত করোনায় মারা গেছেন তিনি। বাবার পাশাপাশি আমিও সব সময় ছুটে গিয়েছি কাজিপুরে। সেই আসনে উপনির্বাচনে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের চাহিদা অনুযায়ী আমি একজন প্রার্থী। দল যদি আমাকে যোগ্য মনে করে, আর ইনশাআল্লাহ আমি যদি নির্বাচিত হই দাদা-বাবার মতোই মানুষের সেবায় সর্বদা কাজ করে যাবো।’

অন্যদিকে, শেহেরিন সেলিম রিপন সাংবাদিকদের বলেন, ‘কাজিপুরের মানুষ পরিবর্তন চায়। দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয়, তবে অবশ্যই আমি নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবো।’

এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী অমিত দেবের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, নির্বাচনে আওয়ামী লীগের যেমন প্রস্তুতি রয়েছে তেমনি বিএনপিও এই আসনে প্রার্থী দিচ্ছে তৃণমূলে এমন আভাস রয়েছে। মাঠে বিএনপির বিভিন্ন প্রার্থীর নামও শোনা যাচ্ছে। যদিও দলটির মাঠের রাজনীতির অবস্থা বেশ ভঙ্গুর, প্রার্থীদেরও মাঠে দেখা যাচ্ছে না। এ আসনে বিএনপি থেকে গত জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতা কণ্ঠশিল্পী রোমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা। কেন্দ্র থেকে সবুজ সংকেত পেলে আবারও প্রার্থী হতে পারেন তিনি। এছাড়া প্রার্থী হিসেবে নাম শোনা যাচ্ছে জেলা বিএনপির সহসভাপতি নাজমুল হাসান রানা, কাজিপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপি’র উপদেষ্টা টিএম তহযিবুল এনাম তুষার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সেলিম রেজা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক নেতা এস এম শামীর আকতার তামিমের নাম।

তবে বাস্তবতা হচ্ছে কাজিপুরে বিএনপির অস্তিত্ব সংকট এখনও কাটেনি। নির্বাচনকে সামনে রেখে দল গোছানোর কোনও কার্যক্রম এখনও দৃশ্যমান নয় এখানে। মেয়াদোত্তীর্ণ উপজেলা কমিটি ভেঙে দিয়ে ২১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছে দলটি। তবে এখনও করতে পারেনি হালনাগাদ কোনও ইউনিয়ন কমিটি। তাই প্রার্থী দেওয়ার পাশাপাশি দলটিকে এসব দিকও সামলাতে হবে।

সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা সব সময়ই গণতন্ত্রে বিশ্বাসী এবং নির্বাচনমুখী। নির্বাচন ও গণতন্ত্র চর্চার মাধ্যমেই আমরা সবসময় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছি। চলমান বন্যা ও করোনার কারণে বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপনির্বাচনে আমরা অংশ নিতে না পারলেও কাজিপুরের উপনির্বাচনে অংশগ্রহণের ইচ্ছে আমাদের আছে। একাধিক যোগ্য প্রার্থীও প্রস্তুত রয়েছে। এখনও কেন্দ্রীয় নির্দেশনা আমাদের হাতে আসেনি।

অন্যদিকে, নির্বাচনে অংশ নিতে পারে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)-ও। জাসদ ঢাকা উত্তরের সভাপতি আলমগীর হোসেন এখানে প্রার্থী হতে পারেন এমন গুঞ্জন দলটির নেতাদের কাছে শোনা যায়। তবে এ বিষয়ে প্রার্থীর পক্ষ থেকে কোনও প্রচারণা চোখে পড়েনি।

এদিকে, কাজিপুরে জাতীয় পার্টির কার্যক্রম নেই। নেতাকর্মীকেও খুঁজে পাওয়া যায়নি। অপরদিকে, আসন্ন উপনির্বাচন উপলক্ষে এখনও খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ হয়নি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাজিপুরে ভোটার সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৬৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ৭৩ হাজার ২০১ ও মহিলা ভোটার ১ লাখ ৭৪ হাজার ৯৬৫ জন।