দেশ ও জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানের নামে সড়কের নামকরণের দাবী


‘৭১ এর রণাঙ্গনের বীর যোদ্ধা সূর্য্যকান্ত এফএফ-৫০৮৪; মোদের গোরব মোদের অহংকার!

শামছুর রহমান শিশির : ‘৭১ এ মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকহানাদার বাহিনীকে পরাস্ত করতে নানা রণকৌশল গ্রহণ করতেন মুক্তিবাহিনী । তন্মদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকৃত নামের অন্তরালে ছদ্মনামের বিশেষ ব্যবহার লক্ষনীয় । পাকবাহিনী ও রাজাকারের দল যাতে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ঠিকানা খুঁজে বের করতে না পারে বা মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মীয় স্বজনদের চিহ্নিত করে তাদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন করে মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক অবস্থান জানতে না পারে, সেজন্য অনেক মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকৃত নামের অন্তরালে ছদ্মনামে ডাকা হতো। যেমন, পলাশডাঙ্গা যুব শিবিরের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত আব্দুল লতিফ মির্জাকে ‘স্বপন কুমার’ ছদ্মনামে ডাকা হতো। ছদ্মনামধারী মুক্তিযোদ্ধাদের আসল নামে অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধারাও চিনতেন না। চিনতেন, ডাকতেন তাঁদের ছদ্মনাম ধরেই। ’৭১ এর রণাঙ্গণে ভারত থেকে স্পেশাল গেরিলা  ট্রেনিং নিয়ে যারা দেশে ফিরে জীবন বাজি রেখে অসংখ্য সন্মুখ যুদ্ধে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করে বীরত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছেন তাদেরই অকুতোভয় এক বীর সৈনিকের নাম ‘সূর্য্যকান্ত চক্রবর্তী’ ( ফ্রিডম ফাইটার নং-৫০৮৪)!

সূর্য্যকান্ত চক্রবর্তী (ছদ্মনাম) নিঃখাদ দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে তীক্ষ্ণ মেধা, যোগ্যতা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করে স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে তাঁর নাম লেখাতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁর গৌরবোজ্জ্বল অমর অবদানে দেশ ও জাতি ধন্য হয়েছে। কিন্তু, দেশ স্বাধীনের পরপরই মহান স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যার পর তিনি মনে চরম ক্ষোভ আর বুকভরা ব্যথা নিয়ে দেশ ত্যাগ করে সুইডেনে পারি জমিয়েছিলেন।
সুইডেনে অবস্থানকালে যারাই জানতে পারতেন ‘সূর্য্যকান্ত চক্রবর্তী’র বাড়ি বাংলাদেশে,  তারাই তাঁর কাছে জানতে চাইতেন, ‘তোমরা বিশ্ব প্রতিভা শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করলে কেন ? তিনি তো শুধু বাংলাদেশের সম্পদ ছিলেন না, তিনি ছিলেন বিশ্বের সম্পদ ! নিশ্চই তোমরা বাঙালিরা ভালো লোক নও!’ সুইডিশদের এ ধরনের প্রশ্নের কোন সদুত্তর দিতে পারতেন না ’৭১ এর রণাঙ্গণের সাহসী বীর যোদ্ধা সূর্য্যকান্ত চক্রবর্তী।
দেশ ও জাতির গর্বিত সন্তান সূর্য্যকান্ত চক্রবর্তীর সাথে আলাপকালে উদ্বেগ প্রকাশ করে আক্ষেপের সাথে বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সক্রিয় মুক্তিযোদ্ধাদের শতকরা প্রায় ৮০ ভাগই বর্তমানে আর বেঁচে নেই। অবশিষ্ট ২০ ভাগ হারে যেসব মুক্তিযোদ্ধা এখনও জীবিত রয়েছেন, তারাও বয়সের ভারে নুব্জ  হয়ে পড়েছেন। আগামী ১৫/২০ বছরের মধ্যে হয়তো তারাও  বার্ধক্যজণিত কারণে মারা যাবেন। দেশ স্বাধীনের পর দেশে অপ্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় ওইসব অপ্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সিংহভাগেরই বয়স ছিল ‘আন্ডার এজ’ বা শিশু-কিশোর! মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সরকারিভাবে বিভিন্ন ভাতা ও সুযোগ সুবিধা চালুর পর থেকেই অপ্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা শংকাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে যা মহান মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাথা ইতিহাসকে কলুষিত করে চলেছে।’
বীর যোদ্ধা সূর্য্যকান্ত চক্রবর্তী ছোট বেলা থেকেই ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। ছোট বেলা থেকেই দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি তাঁর ছিলো গভীর মমত্ববোধ। দেশ মাতৃকার প্রতি ভালোবাসা মমত্ববোধ আর বঙ্গবন্ধু’র ৭ই মার্চের ভাষণে উজ্জীবিত হয়ে তিনি আত্মীয় স্বজন, ঘর-বাড়ি, সহায়-সম্বল সবকিছু ফেলে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই স্পেশাল ট্রেনিং নিতে সূর্য্যকান্ত ভারতে চলে যান।  ভারতের বিহার প্রদেশের চাকুলিয়া এলাকায় প্রথম ব্যাচেই তিনি স্পেশাল ট্র্রেনিং নিতে শুরু করেন। সেখানে তিনি নির্দিষ্ট টার্গেটে নিখুতভাবে দুরপাল্লার মর্টারশেল নিক্ষেপের ট্রেনিং সফলতার সাথে করায়াত্ব করেন। তাঁর তীক্ষ্ণ মেধা আর দক্ষতায় অতি অল্প সময়েই তিনি দূরপাল্লার মর্টারশেল নিক্ষেপের ওপর স্পেশাল ট্রেনিং সফলতার সাথে সম্পন্ন করেন। ট্রেনিং শেষ করে দূরপাল্লার মর্টারশেল নিক্ষেপকারী স্পেশালিষ্ট হিসেবে তিনি রণাঙ্গণে যোগ দিয়ে নিজ দক্ষতায় ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
‘সূর্য্যকান্ত চক্রবর্তী’ রণাঙ্গণের ৭ নং সেক্টরের কমান্ডার কর্ণেল গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী বীর বীক্রমের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। সেক্টর কমান্ডারের নির্দেশ মোতাবেক ৭ নং সেক্টরের যেখানেই দূরপাল্লার মর্টারশেল নিক্ষেপের প্রয়োজন হতো, সেখানেই চলে যেতেন সূর্য্যকান্ত । সেখানে গিয়ে নিখুতভাবে টার্গেটকে লক্ষ্য করে দূরপাল্লার মর্টারশেল নিক্ষেপ করতেন। এভাবে পাকহানাদার ও তাদের দোসরদের বিধ্বস্তে বিশেষ অবদান রাখতেন তিনি। ৭ নং সেক্টরে মুুক্তিযোদ্ধাদের সার্বিক অবস্থা তখন বেশ ভালো, এমন সময় ৬ নং সেক্টর থেকে খবর আসলো, পাকহানাদারদের হামলায় ৬ নং সেক্টরের বীর যোদ্ধারা ক্রমেই কোনঠাঁসা হয়ে পড়ছে। ওই সময় ৬নং সেক্টরে প্রয়োজনীয় যুদ্ধাস্ত্র, রসদ ও গোলাবারুদসহ সামরিক সরঞ্জাম থাকলেও দূরপাল্লার মর্টারশেল নিক্ষেপকারী স্পেশালিষ্টের স্বল্পতাসহ কিছু কারণে পাকহানাদার বাহিনীর আক্রমন হামলা ক্রমাগত সফল হচ্ছিল। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছিল মুক্তিবাহিনী। এমতবস্থায় ৭নং সেক্টর কমান্ডারের নির্দেশে সূর্য্যকান্ত চক্রবর্তীকে ৬ নং সেক্টরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে গিয়েও সূর্য্যকান্ত অদম্য মনোবল নিয়ে সাহসীকতার সাথে পাকহানাদারদের লক্ষ্য করে মর্টারশেল নিক্ষেপে অভাবনীয় সাফল্যের পরিচয় দেন। সেক্টর পরিবর্তন করলেও ৬নং সেক্টর কমান্ডারের নির্দেশ মোতাবেক একই রণকৌশলে তিনি শত্রুদের হামলা ও পাল্টা হামলার সমুচিত জবাব দিতে থাকেন। একই সাথে তিনি ৬নং সেক্টরের বেশ কয়েকজন সহযোদ্ধাকে নিখুতভাবে দূরপাল্লার মর্টারশেল নিপেক্ষের কলাকৌশলে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ করে তোলেন। ফলে, অল্প সময়ের ব্যবধানে মুক্তিবাহিনী ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয় ও কোনঠাঁসা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটায় পাকবাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়।
এমতবস্থায়, ‘৭১ এর রণাঙ্গনের বীর যোদ্ধা সূর্য্যকান্ত চক্রবর্তী প্রচুর গোলাবারুদ, রসদ, যুদ্ধাস্ত্র, সামরিক সরঞ্জামসহ শতাধিক সহযোদ্ধাদের নিয়ে রংপুর এলাকা থেকে যমুনার নৌপথ ধরে সিরাজগঞ্জের দিকে রওয়ানা দেন। পথিমধ্যে, পলাশডাঙ্গা যুব শিবিরের প্রতিষ্ঠাতা স্বপন কুমার ওরফে আব্দুল লতিফ মির্জার সাথে তাদের সাক্ষাত হয়। পরে একত্রিত হয়ে তারা এ অঞ্চলের বিভিন্ন পাকবাহিনীর ঘাঁটিতে হামলা চালাতে শুরু করেন। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পাকবাহিনীর ঘাঁটিগুলো একে একে বিধ্বস্ত হতে থাকে ও পাকহানাদারেরা পরাস্ত ও পিছু হটতে বাধ্য হয়। মুক্তিযুদ্ধের প্রায় শেষের দিকে চলনবিলের হান্ডিয়াল নামক স্থানে তাদের সাথে পাকবাহিনীর ভয়াবহ ও লোমহর্ষক এক সন্মুখ যুদ্ধ বেঁধে যায়। বর্ষাকালে সংগঠিত ওই সন্মুখ যুদ্ধের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা সূর্য্যকান্ত চক্রবর্তী আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
হান্ডিয়ালে সংগঠিত সন্মুখ যুদ্ধ’র স্মৃতিচারণে সূর্য্যকান্ত বলেন,’পলাশডাঙ্গা যুব শিবিরের প্রতিষ্ঠাতা স্বপন কুমার ওরফে আব্দুল লতিফ মির্জার বহরে জনৈক এক কোরআনের হাফেজ ছিলেন। স্বপন কুমার ওরফে আব্দুল লতিফ মির্জা সূর্য্যকান্তকে বলেছিলেন যে জনৈক ওই কোরআনের হাফেজ আধ্মাতিক ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। কোরআনের ওই হাফেজ শত্রুদের নিয়ে আগের দিন যে ভবিষ্যতবাণী করতেন, পরদিন তা বাস্তবে ফলে যেতো। একদিন, স্বপন কুমার ও সূর্য্যকান্ত চক্রবর্তীর সম্মিলিত দু’বহরের প্রায় আড়াই’শ মুক্তিযোদ্ধার দল চলনবিলের ভেতর দিয়ে নৌপথে যাচ্ছিলেন। তখন তাদের অবস্থান ছিলো হান্ডিয়াল এলাকায়।
এমন সময় ওই কোরআনের হাফেজ চিৎকার দিয়ে বহরের সকল নৌকা থামাতে বলেছিলেন। এর কারণ জানতে চাইলে হাফেজ সাহেব বলেছিলেন, ‘মুক্তিবাহিনীর পুরো বহরটি তীব্র ঝূঁকির মধ্যে পড়েছে।’ হাফেজের কথামতো থামানো হয়েছিলো পুরো নৌকার বহর। এ সময় মুক্তিযোদ্ধারা নৌকা থেকে বুক পরিমান পানির মধ্যে নেমে কচুরিপানা দিয়ে মাথা ঢেকে অতি গোপনে আশপাশে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারলেন, তাদের পুরো বহরটাই পাকবাহিনী ঘিরে ফেলেছে। মুক্তিবাহিনীর বহরে প্রচুর রসদ, গোলাবারুদ, যুদ্ধস্ত্র থাকলেও পাকবাহিনীর অবস্থান জানতে পেরে মুক্তিযোদ্ধারা দুঃশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় মুক্তিবাহিনী তাদের রণকৌশল পরিবর্তন করে পাকহানকদারদের চোখে ধুলো দিয়ে নৌপথ থেকে স্থলভাগে অবস্থান নিলেন। স্থলভাগে খোঁড়া হলো অসংখ্য বাংকার। তার মধ্যে সশস্ত্র অবস্থান নিলেন মুক্তিবাহিনী। বাংকারে অবস্থানরত মুক্তিবাহিনীর বীর যোদ্ধারা সুযোগ বুঝেই পাকবাহিনীকে লক্ষ্য করে অতর্কিত  হামলা চালালেন। মুক্তিযোদ্ধারা পাকবাহিনীকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন রাইফেল থেকে মুহুঃমুহু গুলিবর্ষণ, দূরপাল্লার মর্টার শেল নিক্ষেপ ও গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটাতে থাকলেন। বেঁধে গেলো ভয়াবহ সন্মুখ যুদ্ধ। পাকবাহিনীও পাল্টা জবাব দিতে ব্যাপক গুলিবর্ষণ করতে থাকলো। ব্যাপক গোলাগুলি, দূরপাল্লার মর্টার শেল নিক্ষেপ, গ্রেনেড ও বোমা বিস্ফোরণের শব্দে চারিদিক প্রকম্পিত হতে থাকলো । নৌপথ ছেড়ে স্থলভাগে অবস্থানের রণকৌশল গ্রহণ করে কিছু বুঝে ওঠার আগেই পাকবাহিনীকে লক্ষ্য করে মুক্তিবাহিনী হামলা চালানোয় অপ্রস্তুত পাকবাহিনী আতংকগ্রস্থ হয়ে এলোমেলোভাবে এদিক ওদিক লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলি ছুঁড়তে লাগলো।
অবশেষে, পলাশডাঙ্গা যুব শিবিরের প্রতিষ্ঠাতা স্বপন কুমার (আব্দুল লতিফ মির্জা) ও সূর্য্যকান্ত চক্রবর্তীর ২ বহরের আড়াই’শ বীর বাঙালি যোদ্ধার দল জীবন বাজী রেখে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করে পাক-হানাদারের পরাস্ত করে বিজয় ছিনিয়ে আনলেন। শেষ হলো হান্ডিয়াল যুদ্ধ।
স্বাধীন বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান, ‘৭১ এর রণাঙ্গনে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের সূর্যসন্তান, আমাদের গর্ব, আমাদের অহংকার বীরমুক্তিযোদ্ধা সূর্য্যকান্ত চক্রবর্তী নামটি মুক্তিযুদ্ধকালীন ছদ্মনাম হলেও তাঁর প্রকৃত নাম গোলজার মিয়া (সুইডেন প্রবাসী)। তিনি সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর পৌর এলাকার রূপপুর পুরাতনপাড়া মহল্লার প্রয়াত নূরুল হকের জ্বৈষ্ঠ্য সন্তান।
‘৭১ এর রণাঙ্গনের এই বীর যোদ্ধার স্মৃতি চির অম্লান রাখতে সম্প্রতি তাঁর নিজ মহল্লার পাঁকা সড়কটি ‘বীরমুক্তিযোদ্ধা গোলজার মিয়া সড়ক’ নামকরণের জোরালো দাবী উঠেছে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে। এ যৌক্তিক দাবী পূরণ করে বীরমুক্তিযোদ্ধা গোলজার মিয়ার মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বগাথা অবদানের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন ও যথাযথ মূল্যায়ণ করবেন সংশ্লিষ্টরা-এমনটাই বিশ্বাস এলাকাবাসীর।

লেখক : সাংবাদিক।

নভেল করোনাভাইরাস আমার কাছে নতুন না : ড. বিজন

ড. বিজন কুমার শীল বাংলাদেশের বিজ্ঞানী-গবেষক, পরিচিতি পৃথিবীব্যাপী। ছাগলের রোগ প্রতিরোধক ভ্যাকসিন আবিষ্কার করে আলোচনায় এসেছিলেন। তবে, পৃথিবীতে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন ২০০৩ সালে যখন তিনি সিঙ্গাপুরে সার্স ভাইরাস শনাক্তের কিট উদ্ভাবন করেন। এখন তিনি আলোচনার কেন্দ্রে অবস্থান করছেন করোনাভাইরাস শনাক্তের কিট উদ্ভাবন করে। কিট এখনো অনুমোদন পায়নি, তবে ড. বিজন পেয়েছেন মানুষের ভালোবাসা।

নাটোরের কৃষক পরিবারের সন্তান সিঙ্গাপুর, আমেরিকা, ভারতের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে কাজ করে ফিরে এসেছেন বাংলাদেশে। যোগ দিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে। ল্যাবরেটরিতে গবেষণায় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, ক্যামেরার সামনে আসায় ব্যাপক অনীহা।  তবুও দৈনিক পত্রিকা দ্য ডেইলি স্টারের মুখোমুখি হয়েছিলেন গত ৩০ মে রাত ১০টায়।  ড. বিজন কথা বলেছেন সাংবাদিক গোলাম মোর্তোজার সঙ্গে। তার কর্ম-গবেষণা ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বলেছেন অনেক কথা।  সেই সাক্ষাৎকার এবার লিখিত আকারে পাঠকের সামনে তুলে ধরা হল।

আপনাদের উদ্ভাবিত করোনাভাইরাস শনাক্তের কিট ‘জি র‍্যাপিড ডট ব্লট’ বর্তমানে কী অবস্থায় আছে?

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) কিটের ট্রায়াল চলছে। আশা করছি আগামী সপ্তাহে এই ট্রায়াল শেষ করে তারা রিপোর্ট দেবেন অনুমোদনের জন্য।

গত সপ্তাহে যখন আপনার সঙ্গে কথা হয়, তখনো আপনার আশা ছিল ‘আগামী সপ্তাহে’ ফলাফল পাবেন। সেই সময় পার হয়ে গেছে। এখনো আপনি আশাবাদী। এই আশার সময়টা কি বেশি হয়ে যাচ্ছে? আপনার কী মনে হয়?

একটু তো বেশি হচ্ছে। প্রথমে আমরা প্রস্তাব দিয়েছিলাম করোনাভাইরাসের অ্যান্টিবডি ও অ্যান্টিজেন রক্ত থেকে শনাক্ত করার জন্য। কিন্তু, ইতোমধ্যে আমরা স্যালাইভা থেকে এটি শনাক্ত করতে পেরেছি। এর মাধ্যমে অতি দ্রুত আমরা শনাক্ত করতে পারছি। দেখা গেছে রোগীর উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগেই তার স্যালাইভাতে ভাইরাস পাওয়া গেছে। যার কারণে আমরা বঙ্গবন্ধু মেডিকেলকে অনুরোধ করেছি, স্যালাইভা পদ্ধতিতে পরীক্ষার কিট ট্রায়ালের জন্য নিতে। এটা করতে গিয়ে আবার তাদের মিটিং করতে হয়েছে এবং অনুমোদন নিতে হয়েছে। এরপর আমরা তাদের কিট দিয়েছি এবং স্যালাইভা সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় কন্টেইনার, যেটা তাদের কাছে ছিল না, সরবরাহ করেছি। এ কারণে হয়তো একটু বেশি সময় লাগছে। তবে, তা সত্ত্বেও বলবো, সময় বেশি লেগে যাচ্ছে।

আপনারা হয়তো জানেন বিশ্বে দুইটি দেশে অ্যান্টিজেন কিট অনুমোদন পেয়েছে। একটি যুক্তরাষ্ট্রে এবং অপরটি জাপানে। জাপানের বিশেষজ্ঞরা বলেছেন তারা ভবিষ্যতে স্যালাইভার বিষয়ে ভাববেন। কিন্তু, তার আগেই আমরা স্যালাইভা পরীক্ষা করে ফেললাম। এর মাধ্যমে বেশ ভালো ফলাফল আমরা পেয়েছি।

আপনারা জানেন যে আমাদের কিট দিয়ে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর করোনা আমি শনাক্ত করেছি। আমাদের কিট দিয়ে গত ২৬ মে আমরা পরীক্ষা করি। ২৭ মে তিনি পিসিআর পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে।

আপনারা অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডি কিট উদ্ভাবনের ঘোষণা পৃথিবীতে প্রথম দিয়েছিলেন। কিন্তু, যুক্তরাষ্ট্র পরে ঘোষণা দিলেও আগে বাজারে নিয়ে এসেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডি পরীক্ষার কিটের অনুমোদন দিয়েছে। জাপানের আগে আপনারা স্যালাইভা পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পেরেছেন। আগের মতো এই ক্ষেত্রে আবারও কি আপনারা পিছিয়ে পড়বেন?

সেই সম্ভাবনা নেই। কারণ, আমরা এর জন্য পেটেন্ট ফাইল করেছি। যদি অন্য কেউ এটা করতে চায়, তাহলে তার জন্য আমাদের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে।

কিন্তু, আপনাদের কিট নিয়ে তো বহু সমালোচনা। দেশের অনেক বিশেষজ্ঞ-চিকিৎসকদের অনেকে বলেন, এই ধরনের কিট দিয়ে পরীক্ষা করলে সঠিক ফল পাওয়া যায় না।

নভেল করোনাভাইরাস আমার কাছে নতুন না। কারণ, ২০০৩ সালে আমি সার্স করোনাভাইরাস নিয়ে কাজ করেছি। এটা সার্সেরই খুব ঘনিষ্ঠ ভ্রাতা। এটা অনেকটা সার্সের মতোই। যারা এসব বলছেন, ফলাফল ঠিক মতো আসে না বা সঠিক ফলাফল পাওয়া যায় না, তারা সবাই অনেক অভিজ্ঞ, আমি তাদের মতো পণ্ডিত ব্যক্তি নই। আমি যা বলছি, যা করছি, তা নিজের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে। ২০০৩ সালে সার্স শনাক্ত করতে আমি চারটি পদ্ধতি নিয়ে কাজ করেছিলাম। যার প্রথম এবং দ্বিতীয়টি বর্তমানে বাংলাদেশে করা যাচ্ছে না। কারণ, সেই ক্যাটাগরির ল্যাবরেটরি আমাদের নেই।

এরপর আছে পিসিআর পদ্ধতি, সেটা আমরা সেই সময় (২০০৩ সালে) সিঙ্গাপুরে ডিজাইন করেছিলাম। সর্বশেষ পদ্ধতি ছিল ডট ব্লট। ডট ব্লট পদ্ধতিটা সবচেয়ে দ্রুত শনাক্ত করার পদ্ধতি। পিসিআরে তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা লাগে এবং সেল কালচারে তারও বেশি সময় লাগে। ডট ব্লটে সময় লাগে ১৫ মিনিট। যেটাতে এখন সময় লাগছে তিন থেকে পাঁচ মিনিট। আমরা গবেষণা-উদ্ভাবন-পরীক্ষার ভিত্তিতে বলছি যে, সঠিক ফলাফল পেয়েছি। যারা বলছেন (কিটে সঠিক ফল পাওয়া যায় না), তারা কিসের ভিত্তিতে বলছেন আমরা জানি না।

এটা সঠিক ফল দেয় না, এই প্রচারণার কারণ কী?

যারা বলছেন তারা কিছু জানেন না, তা আমি বলব না। তারাও জানেন। কিন্তু, এই বিষয়ে আমার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা বেশি রয়েছে। অ্যান্টিবডি পরীক্ষা দরকার আছে, অ্যান্টিজেন পরীক্ষাও দরকার আছে। গত ২০ বছরে মলিকুলার টেকনোলজির বিশাল সম্প্রসারণ হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিভিন্ন সময় জানা গেছে যে, পিসিআর পরীক্ষার ফলাফলে ভুল আসছে। সবচেয়ে বড় কথা পিসিআর পদ্ধতিতে পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ একটি বড় ব্যাপার। যদি আপনি সঠিক জায়গা থেকে নমুনা সংগ্রহ না করেন বা করতে না পারেন, তাহলে পরীক্ষায় সঠিক ফল পাবেন না। দক্ষ টেকনিশিয়ান দরকার, সেই সঙ্গে এটি সংরক্ষণও জরুরি। এগুলোর অভাবে দেখা যায় পিসিআর পরীক্ষায় সাধারণত ৩০ শতাংশ ভুল ফলাফল আসতে পারে। আর পিসিআর মেশিনের দামও অনেক বেশি। সেই সব চিন্তা থেকেই এই র‌্যাপিড ব্লট কিট তৈরি করা। তিন থেকে পাঁচ মিনিটের মধ্যেই এটা দিয়ে আপনি পরীক্ষার ফল জানতে পারবেন। সমালোচনাকে আমি শ্রদ্ধা করি, তা গঠনমূলক হলে আরও বেশি শ্রদ্ধা করব।

যখনই আপনার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করি, শুনি যে আপনি ল্যাবে। ল্যাবে এখন ব্যস্ত কী নিয়ে?

লকডাউনের কারণে আমাদের প্রত্যেকটি রিএজেন্ট আমদানি করতে হয়েছে। সেগুলোও এসেছে অনেকগুলো দেশ ঘুরে। সময় বেশি লাগার কারণে সেগুলো নিয়েও কিছু চ্যালেঞ্জে পড়তে হয়েছে। কিন্তু, আমরা পরাজিত হইনি। সেই সঙ্গে যেহেতু অনেক সমালোচনা মাথায় নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে, তাই আমরা এটিকে আরও রিফাইন করার কাজ করছি। আপনারা হয়তো বিশ্বাস করবেন না, এখন যে ল্যাবে আমরা কাজ করছি এটি তৈরি করেছিলাম মাত্র সাত দিনের মধ্যে। আমরা যা আজ ভাবছি, পশ্চিমা বিশ্ব তা আগামীকাল ভাবছে। এজন্যে আমাদের অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়েছে, যাতে কোনো ভুল না হয়।

সিঙ্গাপুরের মতো উন্নত দেশের ল্যাবে কাজ করে এসেছেন আপনি। সেখান থেকে ফিরে বাংলাদেশে এসে গরিবের জন্যে কাজ করা একটি প্রতিষ্ঠান গণস্বাস্থ্যে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন?

আমাদের টিমে গবেষক যারা আছেন, তারা সবাই খুবই মেধাবী। সিঙ্গাপুরে কাজের সময় যখন যেটা চাইতাম খুব দ্রুতই তা চলে আসত। তখন কোনো লকডাউন ছিল না। সেখানে অ্যান্টিজেন আমরা নিজেরাই তৈরি করেছি। কিন্তু, এখন এই অ্যান্টিজেন পেতে আমাদের খুব বেগ পেতে হয়েছে। আমাদের অনেক কিছুতেই সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কোনো কিছুই আমাদের দেশে তৈরি হয় না, সবই বাইরে থেকে আনতে হয়েছে। অনেকেরই সহযোগিতা আমরা পেয়েছি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদের সাহায্য করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আমাদের সাহায্য করেছে। কাস্টমস আমাদের সাহায্য করেছে। সবার সহযোগিতা নিয়েই আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। সামনের বাধাও আশা করি অতিক্রম করতে পারব।

সিঙ্গাপুরে সার্স ভাইরাসের কিট উদ্ভাবনের পর তার অনুমোদন পেতে আপনাদের কতদিন লেগেছিল?

তখন ছিল সার্স ভাইরাস সংক্রমণের জরুরি পর্যায়। যে কারণে আমাদের কিটের অনুমোদনের জন্যে বাড়তি কোনো সময় লাগেনি। আমি সিঙ্গাপুর সিভিল সার্ভিসে যোগ দিয়েছিলাম। সেটি সরকারি প্রতিষ্ঠান হওয়ায় সেখানে কাজ করে আমরা যে কিট তৈরি করেছি, সেটাই সরকার অনুমোদিত বলে ধরা হয়েছে। সরাসরি শনাক্তের কাজ শুরু হয়েছে সেই কিট দিয়ে।

সার্সের তুলনায় করোনাভাইরাস অনেক বেশি জরুরি অবস্থা তৈরি করেছে সারাবিশ্বে। এমন সময়ে কিট অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে পৃথিবীর উন্নত দেশগুলো কেমন সময় নিচ্ছে?

যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ’র (ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) অনুমোদন পেতে আপনাকে কমপক্ষে তিন বছর অপেক্ষা করতে হবে। সেই সঙ্গে কয়েক হাজার পৃষ্ঠা লিখে, কয়েক মিলিয়ন ডলার খরচ করে তারপর অনুমোদন পেতে হয়। সেই এফডিএ অ্যান্টিজেন কিট তিন দিনের মধ্যে অনুমোদন দিয়েছে। সুতরাং বুঝতেই পারছেন কেমন সময় নিচ্ছে। তিন বছরকে তিন দিনে নামিয়ে এনেছে।

জানা যায় বিশ্বব্যাপী পিসিআর পরীক্ষায় কমবেশি ৩০ শতাংশ ক্ষেত্রে ভুল ফলাফল আসে। আপনাদের কিটে ভুল ফলাফল আসার সম্ভাবনা কতটা?

কোনো পরীক্ষায়ই শতভাগ সঠিক ফল পাওয়া সম্ভব না। কেউ যদি এমনটা বলে, তাহলে ভুল বলবে। অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডি পরীক্ষার কারণে আমাদের পরীক্ষায় ফাঁকফোকর কম। আমাদের কিটের পরীক্ষার সাফল্যের হার ৯০ শতাংশের বেশি হবে।

অল্প সময়ে করোনা মোকাবিলায় সফল হয়েছে ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ কোরিয়া। একজন বিজ্ঞানী হিসেবে তাদের সাফল্যের কারণ কী বলে আপনার মনে হয়?

আমরা পরীক্ষার সময়ে উপসর্গহীন মানুষের স্যালাইভাতে করোনা পেয়েছি এবং অনেক বেশি পরিমাণে পেয়েছি। কোরিয়ার দিকে লক্ষ্য করলে দেখবেন তারা ম্যাসিভ পরিমাণে পরীক্ষা করেছে। তারা র‌্যাপিড কিট ব্যবহার করেছে এবং করছে। তারা ভাইরাসটি ছড়াতে দেয়নি। আমাদের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। সরকার চেষ্টা করার পরেও মানুষ চলাচল করছে। ফলে ভাইরাস ছড়াচ্ছে।

ঘূর্ণিঝড় যখন আসে তখন সে সব গাছের ওপরেই প্রভাব ফেলে। দুর্বল গাছ ভেঙে যায়, শক্তিশালীগুলো টিকে থাকে। করোনাভাইরাসও আমাদের কাউকেই ছাড়বে না, আমরা যতই পালিয়ে থাকি না কেন। তবে, আমরা বেশিরভাগই সুস্থ হয়ে যাব। যারা অন্য রোগে ভুগছেন, তাদের জন্য এটি বেশি ক্ষতির কারণ হবে।

বিভিন্ন জায়গা থেকেই এখন শোনা যাচ্ছে, আমার আত্মীয় করোনায় আক্রান্ত, তার প্লাজমা থেরাপি দরকার। এটা সম্ভবত বেশি প্রচারণা পেয়েছে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্লাজমা থেরাপি নিয়ে সুস্থ বোধ করছেন সেটা জানার পর। বাংলাদেশে এই প্লাজমা থেরাপির সুযোগ কতটা আছে বা এর কোনো খারাপ দিক আছে কিনা?

আমি গত ফেব্রুয়ারিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করে ফেসবুকে লিখেছিলাম, করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় এখন একটাই পথ খোলা, আর তা হলো— ‘হাইপার-ইমিউন থেরাপি’ বা ‘প্লাজমা থেরাপি’। এর মাধ্যমে অনেক সংবেদনশীল রোগীদেরও সুস্থ করা যেতে পারে। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর শরীরে প্লাজমা থেরাপি দেওয়ার পর এখন যথেষ্ট পরিমাণে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। যা ভাইরাসটিকে প্রতিহত করতে সমর্থ।

এর থেকেও ভালো একটি পদ্ধতি আছে। করোনা রোগীর শরীরে যদি করোনা থেকে সুস্থ হওয়া কারো রক্ত দেওয়া যায়, তাহলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যাবে। সেক্ষেত্রে দুই জনের রক্ত ম্যাচ করতে হবে। রক্ত দিলে ভালো হবে। কারণ, রক্তের অ্যান্টিবডি  ‘ভাইরাস যাতে বাড়তে না পারে’ তা নিয়ন্ত্রণ করে। রক্তের প্লাজমা সেল অ্যান্টিবডি তৈরি করে। প্রতি সেকেন্ডে তা দুই হাজার অ্যান্টিবডি তৈরি করে। সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর শরীরে আরেকটি সেল থাকে, তা হলো মেমরি সেল। এটি খুব দ্রুত প্লাজমা সেল তৈরি করে। যার কারণে প্লাজমা থেরাপি ভালো হলেও তার চেয়েও ভালো সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর রক্ত দেওয়া। এর ফলে ত্রিমুখী আক্রমণের মাধ্যমে ভাইরাসকে প্রতিহত করা যাবে।

এই রোগ মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে মনোবল। মনোবল শক্ত থাকলে তা শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।

ব্যক্তি বিজন কুমার শীল সম্পর্কে জানতে চাই। জন্ম, বেড়ে ওঠা কোথায়?

আমার জন্ম নাটোরে একটি কৃষক পরিবারে। উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র থাকাকালীন আমি বাবার সঙ্গে মাঠে কৃষিকাজ করেছি। বনপাড়া সেন্ট জোসেফ হাইস্কুলে পড়াশোনা করেছি। পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেছি। গ্র্যাজুয়েশন করেছি ডক্টর অব ভেটেনারি অ্যান্ড মেডিসিনে ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। সেখান থেকেই মাস্টার্স করে পিএইচডি করি লন্ডনে মলিকুলার ভাইরোলজি নিয়ে।

কর্মজীবন শুরু হয় ১৯৮৭ সালে। তখন ছাগলের ভ্যাকসিন আবিষ্কার করি। যেটা এখন বাংলাদেশে উৎপাদন হচ্ছে। সেখানে আমি কাজ করেছিলাম ১০ বছরের মতো। এরপর আমি কাজ শুরু করেছিলাম অধ্যাপক নূরুল ইসলাম স্যারের সঙ্গে, ডেঙ্গু নিয়ে। ২০০০ সালে যখন বাংলাদেশে ডেঙ্গু শনাক্ত করা হলো তখন নূরুল ইসলাম স্যার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি উপাচার্য হন। ওই কাজটি করতে গিয়ে আমি সিঙ্গাপুর সরকারের নজরে পড়ি। তারা তখন ডেঙ্গুর ওপর ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার ব্যাপারে ভাবছিল। আমার একটি আর্টিকেল প্রকাশিত হয়েছিল ফ্রান্সে। পরবর্তীতে সিঙ্গাপুর সরকার আমাকে আমন্ত্রণ জানায় তাদের সঙ্গে যোগ দিয়ে কাজ করার জন্যে। সিঙ্গাপুরে গিয়ে ২০০৩ সালে সার্স ভাইরাস নিয়ে কাজ শুরু করলাম।

সার্স মোকাবিলা শেষ করার পরেই আমি যে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করেছিলাম তা হলো— স্যালাইভা থেকে ডেঙ্গু শনাক্তের পদ্ধতি বের করা। এটা নিয়ে পৃথিবীতে ব্যাপক সংগ্রাম করতে হয়েছে। আপনারা হয়তো জানেন বায়ো র‌্যাক নামের একটি প্রতিষ্ঠান ডেঙ্গুর র‌্যাপিড টেস্ট কিট তৈরি করেছে। এই পর্যায়ে র‌্যাপিড টেস্ট কিটে একাধিক পরীক্ষার পরিকল্পনা করি। অর্থাৎ, একটা কিটে অনেকগুলো পরীক্ষা করা যায়, সেই ব্যবস্থা। পরবর্তীতে সিঙ্গাপুরেই আমি যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করি। সেখানেই আমি র‌্যাপিড টেস্ট কিট ডেভেলপের কাজ করি।

আপনি সিঙ্গাপুরে কাজ করছিলেন। সেখানে থেকে দেশে ফিরে আসলেন কেন?

আমি যে সমস্ত পণ্য উদ্ভাবন করেছি তার মধ্যে পাঁচটি এখন বাজারে আছে, যা ইউরোপিয়ান কমিশন অনুমোদিত। এই সবগুলোরই ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা আমি বাংলাদেশে করেছি। দেশের ঋণ কখনো শোধ হয় না। মা ও মাতৃভূমির ঋণ শোধ করা যায় না। আমি এমন একটি সময় দেশে ফিরে এসেছি যখন আমার আসা উচিত ছিল।

দেশে অনেক স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান থাকতে গরিবের প্রতিষ্ঠান গণস্বাস্থ্যে কেন যোগ দিলেন?

আমি গরিব মানুষেরই বন্ধু। সবসময় গরিবের জন্যই কাজ করি। আর আমার কেন যেন মনে হয়, আমরা যে কিট উদ্ভাবন করেছি, তা ডা. জাফরুল্লাহ স্যার ছাড়া সম্ভব হতো না। এর জন্য যে মানসিক শক্তি প্রয়োজন হয়েছে, তা আর কারও পক্ষে দেওয়া সম্ভব ছিল না।

আপনি একজন বিজ্ঞানী-গবেষক। চিকিৎসা ক্ষেত্রে বাংলাদেশে কি প্রকৃত অর্থে কোনো গবেষণা হচ্ছে?

বাংলাদেশে মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল থেকে বঙ্গমাতা মেডিকেল রিসার্চ সেন্টার তৈরি করছে। আমি সেখানে উপদেষ্টা হিসেবে আছি। করোনা কিট তৈরি করতে গিয়ে আমরা বুঝতে পেরেছি, এটি যদি আরও ১০ বছর আগে তৈরি হতো, তাহলে বাংলাদেশ আজ পিসিআর কিট তৈরি করতে পারত, আমাদের কিটের সকল রিএজেন্ট তৈরি করতে পারত। লকডাউনের মধ্যে বিদেশ থেকে তা আমদানি করতে হতো না। আমাদের গবেষণা, গবেষণার সুযোগ, প্রতিষ্ঠানের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে। তা ছাড়া তো চিকিৎসা ক্ষেত্রে উন্নতি সম্ভব না। আগামী দিনগুলোতে তা নিশ্চয়ই হবে।

কিন্তু আমরা কি এই পদ্ধতিতে বিশ্বাসী? আমরা তো চিকিৎসা নেওয়ার জন্য আপনি যেখানে গবেষণা করেছেন সেই সিঙ্গাপুর চলে যাই, ব্যাংকক চলে যাই।

এবারের সমস্যার ব্যাপকতার কারণে সবাই বুঝতে পেরেছে। কর্তৃপক্ষের কাছে আমার আবেদন, এই মেডিকেল রিসার্চ সেন্টারটি হোক। আমাদের দেশে অনেক বিজ্ঞানী আছেন। আমার সঙ্গে যে চারজন বিজ্ঞানী আছেন তারা খুবই দক্ষ-মেধাবী-পরিশ্রমী। কিন্তু, আগে তারা কাজ করার সুযোগ পাননি।

করোনাভাইরাসে বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের তুলনায় বাংলাদেশে মৃত্যুর হার কম। এমনকি যদি সরকারি হিসাবের বাইরে বেসরকারি হিসাব মেলালেও মৃতের সংখ্যা তুলনামূলক বিচারে কম। আপনার পর্যবেক্ষণ কী?

আমার ধারণা বাংলাদেশে ইতোমধ্যেই ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ মানুষ হয়তো আক্রান্ত হয়েছেন। অনেকে আক্রান্ত হয়ে ভালো হয়ে গেছেন, নিজেও হয়তো জানেন না। আমাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা সব সময় বাড়াতে হয়। এটা তখনই বাড়ে যখন বাইরে থেকে কোনো ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া আমাদের দেহে প্রবেশ করে। আমাদের দেশে বাতাসের মাধ্যমে আমরা প্রতিনিয়ত নানা ধরনের ভাইরাস গ্রহণ করছি। যে কারণে আমাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা খুবই অ্যাকটিভ। আমার মনে হয়, ইউরোপের মানুষের মধ্যে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাটি এভাবে অ্যাকটিভ ছিল না। যার কারণে ভাইরাস তাদের বেশি আক্রমণ করতে পেরেছে। আমাদের দেশে তাপমাত্রাসহ বিভিন্ন কারণে আমরা করোনাভাইরাসের অত বেশি প্রকোপ অনুভব করছি না। আগামী ১৫ দিন থেকে এক মাস বাংলাদেশে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়বে। তবে, আক্রান্ত হলেও তার খুব খারাপ প্রভাব পড়বে না।

চীন, ইউরোপ ও বাংলাদেশে এই ভাইরাসের শক্তির কি তারতম্য আছে?

চীন ও ইউরোপে এই ভাইরাস ছড়িয়েছে শীতকালে। আমাদের সৌভাগ্য আমাদের দেশে ভাইরাসটি এসেছে গরমে। মার্চের শেষ দিকে হওয়ায় আমরা অনেকাংশেই প্রাকৃতিক সুবিধা পেয়েছি। শীতকালে ঘরের জানালা-দরজা সব বন্ধ থাকে। ভাইরাস মানুষকে চেপে ধরতে পারে। গরমে জানালা-দরজা খোলা থাকায় বাইরের বাতাস পাওয়া যায়। ভাইরাস বন্ধ ঘরে আটকে থাকার মতো সুবিধা গরমকালে পায় না।

বাংলাদেশে আর ছুটি বাড়ানো হচ্ছে না। সেক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের এই ভাইরাস থেকে বাঁচতে করণীয় কী? বিজ্ঞানী হিসেবে আপনার পরামর্শ কী থাকবে?

স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। ভাইরাসটি যেহেতু মুখে বাড়ে, আপনি যদি গরম চা পান করেন, চা দিয়ে গার্গল করেন, তাহলে ভাইরাসটি খুব সহজে বাড়তে পারবে না। চা একটি অ্যান্টিবায়োটিক। আর এটি গরম হওয়ার কারণে মুখের ভেতরে রক্তের প্রবাহ বাড়বে। যা রোগপ্রতিরোধী সেল বাড়ায়। আর সবচেয়ে বড় বিষয় ভিটামিন সি। ভিটামিন সি এক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এটি আমাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে সক্রিয় ও সতেজ করে। আমাদের দেশে ভিটামিন সি এবং জিংকের সমন্বয়ে কোনো সাপ্লিমেন্ট ছিল না। গণস্বাস্থ্য এটা তৈরি করছে।

বাজারে ভিটামিন সি’র যেসব প্রাকৃতিক উপাদান (লেবু, মাল্টা বা ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল) পাওয়া যায়, তার পাশাপাশি সকালে দুটো এবং রাতে দুটো সাপ্লিমেন্ট নিলে আমার মনে হয় ভাইরাসের প্রকোপ অনেকাংশে কমবে। এই ভাইরাস আপনাকে সংক্রমিত করবেই। এর থেকে মুক্তি নেই। কিন্তু, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আপনাকে এর মোকাবিলা করতে হবে।

করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন কোন পর্যায়ে আছে বলে আপনার মনে হয়?

মানুষের জন্য ভ্যাকসিন তৈরি খুব সহজ জিনিস না। এটা দু-চার দিনের মধ্যে আসবে— এমন কিছু আশা করি না। কমপক্ষে দুই বছর সময় লাগবে। একটি ভ্যাকসিন তৈরি করে এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই তা প্রমাণ করতে সময় লাগবে। ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন নিয়েও কাজ চলছে। কিন্তু, ম্যাসিভ আকারে তা আসেনি। এটা অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যাপার।

করোনার কিটের পাশাপাশি আর কী করছেন?

আমার একটি কিট বাজারে আসার পথে। ২০১৫ সালে বেঙ্গালুরোতে ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট তৈরি করেছিলাম। সেটা ভারত সরকার অনুমোদন দিয়েছে। এটা এখন বাংলাদেশে তৈরি করার পরিকল্পনা করছি। হয়তো ডেঙ্গুর এই মৌসুমেই তা বাংলাদেশের মানুষ পেতে পারে।

আরেকটি ভালো কিট আমি তৈরি করেছি রক্ত পরীক্ষা করার। রক্ত দেওয়ার সময় পাঁচটি পরীক্ষা করতে হয়। এই পরীক্ষাগুলোর জন্য পাঁচটি আলাদা ডিভাইস লাগে। আমি এগুলোকে একটি ডিভাইসে নিয়ে আসছি। তবে, স্যালাইভা থেকে করোনা শনাক্তের কিট আবিষ্কার করতে পেরে আমার টিমের সবাই খুব সন্তুষ্ট। বিশ্বাস করতে পারবেন না, আমার টিমের বিজ্ঞানীরা দিনে ২২ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করেছেন।

২২ ঘণ্টা কাজ করা বিজ্ঞানীদের অন্তরে দুঃখ জমা হচ্ছে বলে আমাদের কাছে মনে হচ্ছে।

তাদের মধ্যে হতাশা কাজ করছে মাঝেমধ্যে। তারা যে স্যাক্রিফাইস করেছে, তার তুলনা হয় না। এত অল্প সময়ে একটি কিট তৈরি করা হয়েছে। তাও বাংলাদেশের মতো জায়গায় বসে, যেখানে সব রিএজেন্ট আনতে হয়েছে বাইরে থেকে। আজ যে পর্যায়ে এসেছি, সেখান থেকে এই কিট যদি ব্যবহার করতে না পারি, তাহলে বিশাল দুঃখ থাকবে। বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষই দুঃখ পাবেন। এই কিটটা বাংলাদেশের মাধ্যমে সারা পৃথিবীতেই যেতে পারে। এটা এক বিশাল বিনিয়োগ। যুক্তরাষ্ট্র, জাপানের মতো দেশ যা চিন্তা করতে পারছে না, তা আমরা করে ফেলেছি। এটা দেশের জন্য এক বিরাট সুনাম। এটা যেন আমরা নষ্ট না করি।

আগামী দিনে কি বাংলাদেশে থেকেই গবেষণা করবেন, নাকি উন্নত কোনো দেশে যাওয়ার ডাক পেলে সেখানে চলে যাবেন?

আমি দেশেই কাজ করতে চাই। অন্য কোথাও যাব না, যেতে চাই না। দেশে থেকেই আমার দেশের বিজ্ঞানকে আমি বাইরে রপ্তানি করব। বাইরে থেকে কিছু আনব না, আমরা নিজেরাই তৈরি করব।

ডেঙ্গুর মৌসুমে করোনার আক্রমণ। বাংলাদেশের কেউ যদি একইসঙ্গে ডেঙ্গু ও করোনায় আক্রান্ত হন, তাহলে করণীয় কী?

অতি দ্রুত শনাক্ত করতে হবে আগে। এরপর লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা।

শেষ প্রশ্ন। বাংলাদেশের অল্পকিছু ব্যতিক্রম ছাড়া চিকিৎসকদের কাজের সুনাম আছে। কিন্তু, দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার ব্যবস্থাপনার দিকে তাকালে দুর্নীতি আর অব্যবস্থাপনার আলোচনাই সামনে আসে। সিঙ্গাপুরের মতো উন্নত চিকিৎসাব্যবস্থার দেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা যেমন আপনার হয়েছে, তেমনি হয়েছে বাংলাদেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা। বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থা নিয়ে আপনার ধারণা এবং পরামর্শ কী?

কঠিন প্রশ্ন। আমার মতো ক্ষুদ্র মানুষ এর উত্তর দিতে পারে না। সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্যব্যবস্থা খুবই উন্নত। একবার রাত একটার দিকে আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। ফোন করার ১০ মিনিটের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্স এসে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

আমাদের (বাংলাদেশের) চিকিৎসকরা খুব ভালো এবং অভিজ্ঞ। আমি বিশ্বাস করি, আমরা যদি আরেকটু সচেতন হই, তাহলে আমাদের দেশেও সেটা সম্ভব। আমরা চাইলেই পারব। আমরা কী করতে চাই, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। আমাদের কর্তাব্যক্তিরা অবশ্যই অনেক কিছু ভাবছেন। আমার বিশ্বাস, করোনা থেকে তারা অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন এবং আমরা সবাই মিলে দেশের স্বাস্থ্যখাতে উন্নতি করতে পারব।

দেশের মানুষের উদ্দেশে কিছু বলতে চান কী?

সবাইকে শুধু এটাই বলব, করোনা নিয়ে ভয় পাবেন না। সারা পৃথিবীর মতোই এটি বাংলাদেশে এসেছে। আমার কাছে মনে হয় এর তীব্রতা অনেকাংশেই কমে আসছে। আমি যতটা বলেছি, নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলেছি। আগেই বলেছি, আমি মহাপণ্ডিত নই। যদি কোনো ভুল হয়ে থাকে, কারও মনে আঘাত লেগে থাকে, তাহলে আপনারা আমাকে ক্ষমা করবেন। আমি এবং আমার টিম একেবারে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করেছি। তার সাফল্য এই যে, আমরা আজ যা ভেবেছি, বহির্বিশ্ব আগামীকাল তা ভাববে। এটাই আমার সবচেয়ে বড় সাফল্য।

অনেক ধন্যবাদ আপনাকে এবং আপনাদেরকে। আপনাদের মাধ্যমে আমরা সফল বাংলাদেশের চিত্র দেখছি। গরিব মানুষের জন্য কাজ করার যে ব্রত নিয়ে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী কাজ করছেন, সেই প্রতিষ্ঠানের একটি হাসপাতালে সাত দিনের মধ্যে ল্যাব তৈরি করে করোনা পরীক্ষার কিট উদ্ভাবন করেছেন আপনারা। আপনার মাধ্যমে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সকল কর্মী, আপনার ল্যাবের সকল বিজ্ঞানী ও কর্মীদের আমাদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। অভিনন্দন আপনাদের।

তথ্যসূত্রঃ -দ্য ডেইলি স্টার

‘করোনা মোকাবেলায় জোনভিত্তিক ব্যবস্থা নিতে হবে’

ডা. মোজাহেরুল হক। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে পড়াশোনার পাট চুকিয়ে সরকারি চাকরিতে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে অধ্যাপনা করেছেন। সেন্টার ফর মেডিকেল এডুকেশন ও জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ছিলেন তিনি। ২০১১ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিজিওনাল অ্যাডভাইজার হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান থেকে প্রথম স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। পড়াশোনা করেন লন্ডন হসপিটাল মেডিকেল কলেজ এবং পরবর্তী সময় যুক্তরাজ্যের ড্যান্ডি বিশ্ববিদ্যালয়ে। বর্তমানে ইউনেস্কোর মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে ইথিকস বিষয়ে পড়াচ্ছেন ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেডিকেল এডুকেশনের সিনিয়র অ্যাডভাইজার হিসেবে কর্মরত। এটি বিশ্বে চিকিৎসাশিক্ষার মান নির্ধারণ ও মান তদারকি সংস্থা। দেশের করোনা পরিস্থিতিতে করণীয় বিষয়ে জনপ্রিয় একটি দৈনিকের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তা হুবহু তুলে ধরা হলো-

করোনা মোকাবেলায় আমাদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?

দেশে প্রথম করোনা শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। এর পর থেকে আমাদের টেকনিক্যাল পারসন, বিশেষজ্ঞ, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, ভাইরোলজিস্টরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ সরকারকে দিয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে প্রথম থেকে আমারও কিছু পরামর্শ ছিল। এসব পরামর্শের মধ্যে একটি বিশেষ দিক ছিল—জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে, জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে এবং সম্পৃক্ত করতে হবে। সরকার ভালোভাবেই জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে পেরেছিল। কিন্তু জনগণ যতটা উদ্বুদ্ধ হয়ে করোনা মোকাবেলায় যোগ দেয়ার কথা ছিল, আমরা তা তেমনভাবে লক্ষ করিনি। এর দুটো কারণ থাকতে পারে।

আমরা প্রথম থেকে বলে আসছিলাম যে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এ বার্তাটি জনগণের কাছে কীভাবে গেছে, সেটি এখন আমাদের ভাবনার বিষয়। কারণ জনগণ এটাকে ভয় পায়নি। ফলে করোনা সংক্রমণ যেভাবে মানুষ থেকে মানুষে হতে পারে, সেটি জনগণ উপলব্ধি করতে পারেনি এবং সরকারও তাদের সেভাবে সম্পৃক্ত করতে পারেনি। যে কারণে সরকার পরবর্তী পর্যায়ে অন্যান্য পদক্ষেপ নিলে তাতে জনগণের মাঝে যথেষ্ট শিথিলতা আমরা দেখতে পেয়েছি।

এরপর আসুন যেসব নির্দেশনা সরকার দিয়েছে সেগুলোর ব্যাপারে। নির্দেশনাগুলোর দুটো দিক আছে। একটি মানার বিষয় এবং আরেকটি মানানোর বিষয়। কেউ কেউ মানবে, কেউ কেউ মানবে না, সেটি হতেই পারে। তবে আমাদের দেশে বেশির ভাগ লোকই যেসব নির্দেশনা এসেছে, সেগুলো মেনেছে এবং ঘরে থেকেছেও। কিন্তু প্রশ্ন রয়ে গেছে মানানোর বিষয়ে। কিছুসংখ্যক লোক অবশ্যই মানেনি। মানতে চায়নি। তাদের জন্য মানানোর বিষয়টি থাকে। এটি সরকারের সম্পূর্ণ দায়িত্ব। মানাতে গিয়ে সরকার পুলিশ বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে, এমনকি সেনাবাহিনীকেও নামিয়েছে। কিন্তু মানানোর পর্যায়ে আমরা দেখেছি সরকার মোটামুটি ব্যর্থ হয়েছে। মানুষকে মানাতে পারেনি, যার লক্ষণ আমরা দেখতে পাচ্ছি। ফলে আমাদের দক্ষিণবঙ্গ, পশ্চিমাংশ ও উত্তরবঙ্গ থেকে প্রচুর লোক আসছে ঢাকার দিকে। জনসে াতের মতো। এটা আমরা আশা করিনি। আমি বলতে চাইছি, জনসচেতনতার জন্য যথেষ্ট কার্যক্রম সরকার নিয়েছে কিন্তু জনগণকে তারা উদ্বুদ্ধ করতে পারেনি। আর তারা ব্যর্থ হয়েছে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে।

এখনকার পরিস্থিতিতে করণীয় কী হওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন?

সরকারের জনসচেতনতার ব্যাপারটি ছিল বিশেষ করে স্বাস্থ্যবিধি মানা। যাতে জনগণ হাত না ধুয়ে চোখ, মুখ ও নাকে হাত না দেয়। জনগণ যাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখে। জনগণ যাতে মাস্ক পরে ঘর থেকে বের হয়। এসব বিষয় আমি বলব, জনগণ কিছুটা মেনেছে। বলব, এ জায়গায় সরকারও সফল। কিন্তু পরবর্তীতে যখন লকডাউনের বিষয়টি এল, তখন কিন্তু জনগণ দ্বিধান্বিত (কনফিউজড)। কারণ সরকার লকডাউন কথাটি উচ্চারণ করেনি। তারা বলেছে সাধারণ ছুটি। আর গত ৮ মার্চ যখন প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে, বাংলাদেশে আমরা প্রায় ১৮ দিন সময় নিয়েছি কঠোর হতে। ২৬ মার্চের দিকে এসে আমরা সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছি। এ ছুটির ঘোষণাটি নিয়ে একটি মিশ্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে। সেটা হলো, জনগণ এমনকি দলবেঁধে সমুদ্রসৈকতেও গেছে। ছুটি কাটাতে দেশের বাড়িতে গেছে, বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে গেছে। ফলে সরকারের সচেতনতার মধ্যে যে বিরাট অংশ ছিল ঘরে থাকার বিষয় এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়, তা দারুণভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। এর ফলে সংক্রমণটা ছড়িয়েছে। এতে সামাজিক সংক্রমণ ঘটে গেছে। যখন সামাজিক বিস্তার ঘটে, তখন সেটি রোধ করা আর সম্ভব নয়। কারণ আমরা সবাই জানি, একজন সংক্রমিত ব্যক্তি তিনজনকে সংক্রমিত করে। আবার তার সংস্পর্শে যারা আসবে, তারাও সংক্রমণ ঘটাতে পারে। সুতরাং এটি বহুগুণ বাড়তে (মাল্টিপ্লাই) থাকে এবং আমাদের দেশে ঠিক সে বিষয়টিই ঘটেছে।

সরকার লকডাউন দেয়নি সত্য, টোলারবাগের মতো জায়গায় একটি বিল্ডিং, মোহাম্মদপুরের একটি জায়গা ও মিরপুর লকডাউন করেছে। আমরা আবার জেলা প্রশাসককে জেলায় লকডাউন ঘোষণা করতে দেখেছি। আবার থানার ওসিকে দেখেছি বাড়ি লকডাউন থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায়ে লকডাউন দিতে। লকডাউনের মতো একটি কঠোর বিষয়, যেটি সংক্রমণ রোধে সবচেয়ে বেশি সহায়ক এবং একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ এ পদ্ধতির সফল ব্যবহার করেছে সংক্রমণ কমানোর জন্য, সেটি বাংলাদেশে খুব শিথিলভাবে পালন করেছে জনগণ। একই সঙ্গে সরকারও লকডাউনের নিয়মনীতিগুলো সেভাবে আইনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করেনি। পরবর্তীতে একটা পর্যায়ে সরকার অর্থনৈতিক দিক বিবেচনা করে কলকারখানা খোলার প্রস্তুতি নিয়েছে এবং পোশাক শ্রমিকদের কারখানায় যোগ দিতে মালিকরা আহ্বান জানিয়েছেন। যাতে পোশাক কারখানাগুলো চালু হতে পারে। এ ব্যাপারে শ্রমিকদের চেয়ে মালিকদের বেশি প্রচেষ্টা ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসেছে, শ্রমিকদের বলা হয়েছে না এলে তাদের চাকরি পর্যন্ত চলে যাবে। এর মানে হলো, সংক্রমণ দমন করার আগেই লকডাউন খুলে দিলাম। এতে সামাজিক বিস্তার বাড়ার আরো একটা সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। পরবর্তীতে সরকার পাটকল খুলে দিয়েছে, রেস্টুরেন্ট খুলে দিয়েছে। এই খুলে দেয়াটা এমন সময়ে করা হয়েছে, যখন সামাজিক বিস্তার ঘটছে। কিন্তু এই জায়গায় সরকারের কাছে আমাদের পরামর্শ ছিল, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ যেন আমরা মেনে চলি। তারা ছয়টি শর্ত দিয়েছিল। সেগুলো পূরণ করলেই আমরা কলকারখানা খুলে দিতে পারি। তার একটি পদ্ধতি আছে। সেটিকে আমরা বলি এক্সিট প্ল্যান। কীভাবে কীভাবে কারখানা খুলব।

বিভিন্ন দেশে আমরা দেখছি এক্সিট প্ল্যান তৈরি করে ধীরে ধীরে সবকিছু খুলছে। এখনো কিন্তু তারা সেটি করছে। অথচ আমরা তা না করে তাত্ক্ষণিকভাবে খুলে দেয়ায় সামাজিক সংক্রমণ থামছে না, বরং এটি বাড়ছে। লক্ষ করলে দেখব, যত পরীক্ষা বাড়াচ্ছি তত সংক্রমণ বাড়ছে। আমরা সরকারকে পরামর্শ দিয়ে আসছি, যতক্ষণ সংক্রমণ কমে না আসছে, ততক্ষণ যেন লকডাউন শিথিল বা তুলে না নেয়া হয়। কিন্তু সরকার সেটি বিবেচনায় আনেনি।

কখন সংক্রমণ দমন হবে?

এটি ততক্ষণ পর্যন্ত বলতে পারব না, যতক্ষণ না আমরা পরীক্ষার আওতা বাড়াতে পারব। পরীক্ষার আওতা বাড়লেই আমরা বলতে পারব কী পরিমাণ সংক্রমণ হচ্ছে এখন এবং সংক্রমণটা কোথাও গিয়ে থামছে কিনা। এটাকে ডিজিজ কার্ভ বলে। এটা এখন বাড়ছে, একসময় চূড়ায় পৌঁছবে এবং একসময় আর বাড়বে না। যতক্ষণ তা না হচ্ছে, আগে থেকে অনুমান করা যাবে না যে এটি আমাদের দেশে কবে থামবে।

এর থেকে উদ্ধারের কোনো উপায় আছে কিনা?

অবশ্যই আছে। এখনকার পরিস্থিতিতে সংক্রমণ সারা দেশে ছড়িয়েছে এবং সুখের বিষয় হলো, সব জায়গায় এক রকম ছড়ায়নি। জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যান নিতে হবে। দেখতে হবে সুনির্দিষ্ট জেলায় পরীক্ষা কত হয়েছে এবং সংক্রমণ কত হয়েছে। এটা লক্ষ করে জেলাগুলোকে যদি আমরা গ্রিন জোন, ইয়োলো জোন ও রেড জোন তিন ভাগে ভাগ করি, তাহলে সংক্রমণ দমন সহজ হবে। রেড জোন হবে এখনকার হটস্পট যেমন ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর। যেখানে ৩০০-এর উপরে সংক্রমণ থাকবে, সেসব জেলাকে বলব হটস্পট বা আমরা সেগুলোকে একটা লাল জোনের মধ্যে নিয়ে যাব। লাল জোনের জেলাগুলোকে সম্পূর্ণভাবে লকডাউন করে দিতে হবে। এটাকে কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং অন্য বাহিনীকে প্রয়োজনে সরকার ব্যবহার করবে। জনগণকে ঘরে রাখতে হবে। ঘর থেকে বের হতে দেয়া যাবে না জরুরি প্রয়োজন ছাড়া।

যেসব জেলা ইয়োলো জোনে (১০০-৩০০ শনাক্ত) থাকবে, সেখানকার উপজেলাগুলোয় কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। এর মূল দায়িত্বে থাকবেন জেলা সিভিল সার্জন। সংক্রমণের ওপর ভিত্তি করে তিনি প্রতিটি উপজেলার জন্য কৌশল ঠিক করবেন। এখানে কোনো কোনো জায়গায় কঠোর লকডাউন দিতে হবে, কোনো কোনো জায়গায় একেবারেই শিথিল হবে। কোনো কোনো জায়গায় কেবল আক্রান্তদের আইসোলেশনে নিতে, তাদের সংস্পর্শে যারা আসবে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে হবে। আমি অবশ্যই জোর দেব উপজেলা পর্যায় থেকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করার ওপর। আইসোলেশন অবশ্যই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করতে হবে, কোনো বাড়িতে বা ঘরে সেটি করা যাবে না।

যেসব জেলায় ১০০-এর কম সংক্রমণ আছে, সেগুলো গ্রিন জোনের আওতায় পড়বে। সেখানকার সিভিল সার্জন পরিস্থিতি অনুযায়ী কৌশল ঠিক করবেন। সব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ওই জেলাগুলোয় চালু থাকবে। আক্রান্ত যেখানে থাকবেন, সেখানে কঠোরভাবে আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা করতে হবে। কিন্তু অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পুরোপুরি চলবে। কোনো কোনো এলাকা গ্রিন জোন আর ইয়োলো জোনে মিক্সড থাকবে। কোনো উপজেলায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল থাকবে এবং কোনো কোনো জায়গায় লকডাউন পরিপালন করতে হবে। আর রেড জোনে কঠোরভাবে লকডাউন বাস্তবায়ন করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। এটা করতে পারলে আমরা সংক্রমণ দমনের একটি ভালো পদক্ষেপ নিতে পারব। সফলতা নির্ভর করবে মনিটরিংয়ের ওপর এবং ওই এলাকার সিভিল সার্জন, ডিসি, এসপি সমন্বয় করে বিষয়টি তারা কীভাবে কঠোরতার সঙ্গে বজায় রাখতে পারছেন, তার ওপর।

আপনার কি মনে হয়, সমন্বয়হীনতা দূর না করলে পরামর্শ কাজে লাগবে?

আমি আগেই বলেছি সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে। সমন্বয়টা হতে হবে জেলা পর্যায়ে, জাতীয় পর্যায়ে নয়। যতক্ষণ না পর্যন্ত এর দায়িত্ব সিভিল সার্জনের ওপর দেয়া হচ্ছে এবং ডিসি ও এসপি যতক্ষণ না তাকে সহযোগিতা করছেন, ততক্ষণ এটি বজায় রাখা ঠিকমতো সম্ভব হবে না। এজন্য জাতীয় পর্যায়ে ঘটে যাওয়া সমন্বয়হীনতাকে সমন্বয়ে আনতে হলে একমাত্র এভাবেই সম্ভব।

এখানে তো ডিসিই সর্বেসর্বা। সিভিল সার্জনের ভূমিকা তেমন নেই।

এটা একটা স্বাস্থ্য সমস্যা। এটি ডিসি-এসপির কাজ নয়। সংক্রমণের দমনের কাজটি সিভিল সার্জনের। আইনটি যদি আমরা লক্ষ করি, তাহলে দেখব এটি স্বাস্থ্য সমস্যা। আইনে স্বাস্থ্য মহাপরিচালককে দায়িত্ব দেয়া আছে এবং তিনি এই দায়িত্ব সিভিল সার্জনের মাধ্যমে প্রতি জেলায় বাস্তবায়ন করতে পারেন।

ঢাকা শহরে রোগী বাড়ায় বলা হচ্ছে, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। রোগীর সংখ্যা আরো বাড়লে পরিস্থিতি কী হবে?

পৃথিবীর কোনো দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা করোনা সংক্রমণের জন্য প্রস্তুত ছিল না, প্রথম কথা। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রও না। এটি দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন। সেই জায়গায় আমরাও প্রস্তুত ছিলাম না। তবে আমরা যথেষ্ট সময় পেয়েছি। উহানে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছিল গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে। আমরা লক্ষ করেছি চীন কীভাবে সংক্রমণ সীমিত রেখেছে এবং নিয়ন্ত্রণ করেছে। দেখেছি যখন সংক্রমণ বেড়েছে, তখন তারা পরীক্ষার আওতা বাড়িয়েছে। সংক্রমিত লোকদের হাসপাতালে আইসোলেশনের ব্যবস্থা করেছে। সেই হাসপাতালগুলো কিন্তু আগের প্রস্তুত হাসপাতাল নয়। ফিল্ড হাসপাতালের মতো ক্ষণস্থায়ী মেইকশিফট হাসপাতাল তারা করেছে। যাতে প্রয়োজন মতো তারা সেগুলো ব্যবহার করতে পারে। তারা সেগুলো করে জনগণকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছে, পাশাপাশি আইসোলেশনে নিতে পেরেছে যথেষ্টসংখ্যক জনগোষ্ঠীকে। কিন্তু আমরা এতদিন এ কাজটি করিনি। আমাদের দরকার ছিল ব্যাপকমাত্রায় আইসোলেশন নিশ্চিত করা।

আমাদের প্রথম ভুল হলো, বিদেশ থেকে বিশেষ করে ইতালি থেকে যারা এসেছেন, তাদের একটি মেইকশিফট কোয়ারেন্টিনে নিয়ে যাওয়া উচিত ছিল। ওই প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন আমাদের আগে থেকে প্রস্তুত রাখা উচিত ছিল। আমরা তা করিনি। আমরা সীমিত আকারে আশকোনার মতো জায়গায় তা করার চেষ্টা করেছি। যেটি আসলে তেমনভাবে প্রস্তুত ছিল না। স্বাভাবিকভাবে যেভাবে লোকজন এসেছে, তাদের সেভাবে রাখতে পারিনি এবং বাড়িতে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছি। এটিই আমাদের সামাজিক সংক্রমণ শুরুর প্রথম ধাপ।

পরিষ্কার একটি বিষয় হলো, সংক্রমিত লোককে আইসোলেশনে নিতে হবে এবং সেখান থেকেই হাসপাতালে সেবা শুরু। আইসোলেশনের জন্য, পরবর্তীতে চিকিৎসার জন্য ভেন্টিলেশন, অক্সিজেনসহ যেসব সরঞ্জাম লাগবে, তার প্রস্তুতি আমাদের ছিল না। এখনো নেই। আইসিইউ শয্যা এখনো সীমিত। যে হারে সংক্রমিত হচ্ছে, সেই হারে কিন্তু আমাদের প্রস্তুতি নেই। সরকার বলছে প্রস্তুতি নিচ্ছে, এগুলোর আগাম প্রস্তুতি নেয়ার দরকার ছিল। এখন ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। রোগী বাড়ার সঙ্গে শয্যা বাড়াব, এমন নয়। আগে থেকে পরিকল্পিতভাবে সার্বিক অর্থে প্রস্তুতি নিতে হবে, যাতে রোগী এলেই সেবাটা দেয়া যায়। নইলে মৃত্যুর হার কমাতে পারব না।

বর্তমান অবস্থায় আমাদের কতগুলো বিষয় নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি উপজেলায় আইসোলেশন বেড স্থাপন করতে হবে। সেখানে পর্যাপ্ত অক্সিজেনের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতিসহ। এটি প্রথম পর্যায়। পরবর্তী পর্যায়ে আমাদের ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালকে জরুরি অবস্থার প্রেক্ষাপটে সমন্বয় করতে হবে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে সবাইকে কভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করতে পারি। সেটি করতে হলে সরকারকে ট্রিয়াজ করতে হবে। মানে একটি ত্রিমাত্রিক ব্যবস্থা করতে হবে। সেখানে থাকবে কভিড হাসপাতাল, নন-কভিড হাসপাতাল এবং সন্দেহভাজন রোগীদের জন্য ফ্লো কর্নারের মতো কিছু একটা। এটা করে রোগী দেখার ব্যবস্থা করতে হবে। সেখান থেকে যে রোগী পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত হবে কভিড আক্রান্ত নয়, সে নন-কভিড হাসপাতালে যাবে এবং যার পজিটিভ আসবে সে কভিড হাসপাতালে যাবে। এখন সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে কভিড আক্রান্ত নয়, এ ধরনের একটি সনদ ছাড়া কোনো হাসপাতালই ভর্তি করতে চাইছে না। যদিও সরকার একটি নির্দেশনা দিয়েছে ভর্তি করানো বা চিকিৎসা দেয়ার জন্য। কভিড বা নন-কভিড প্রতিটি হাসপাতালে পর্যবেক্ষণ ও আইসোলেশনের জন্য একটি কর্নার রাখতে হবে। বিশেষ করে নন-কভিড হাসপাতালে এটি নিশ্চিত করতে হবে।

তারপর পুরো দেশে যত কভিড হাসপাতাল আছে, গুরুত্বসহকারে সেখানে শিগগিরই অক্সিজেন সরবরাহ, ভেন্টিলেটর ও আইসিইউ শয্যা প্রস্তুত করতে হবে। এজন্য যন্ত্রপাতি থেকে শুরু করে জনবল জোগানদাতার দায়িত্ব পালন করতে হবে সরকারকেই। বেসরকারি হাসপাতালের যে জনবল আছে, পরীক্ষা থেকে শুরু আইসিইউ পর্যন্ত, তাদের ব্যবহারে এখনই উদ্যোগ নিতে হবে। নইলে বেড়ে চলা সংক্রমিত রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা দেয়া অত্যন্ত দুষ্কর হয়ে পড়বে। ষাটোর্ধ্ব বয়সীদের ঘরে থাকা নিশ্চিত করতে হবে, এটি আইন প্রয়োগের মাধ্যমে হলেও। কারণ তারা কো-মরবিটিতে (বিভিন্ন রোগে) ভোগেন। আর সংক্রমিত হলেও যাতে ত্বরিত ব্যবস্থা নিতে পারি, তার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। এ জায়গায় ন্যূনতম গাফিলতিও মৃত্যুর সংখ্যাটা বাড়িয়ে দেবে।

আরেকটি বিষয় ঘন ঘন সরকারকে জনগণকে জানাতে হবে। তা হলো, ৮৫-৯০ শতাংশ লোক বিনা চিকিৎসা বা ঘরের চিকিৎসায় ভালো হতে পারবে চিকিৎসকের পরামর্শে। সুতরাং যাদের উপসর্গ আছে মনে হচ্ছে, তারা যেন সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরার্শ নেয়। পরামর্শ অনুযায়ী ঘরে থেকে চিকিৎসা নেবে। তবে তাদের আলাদা ঘরে নিয়ম অনুযায়ী আইসোলেশনে থাকতে হবে। পারিবারিক সংস্পর্শ বাদ দিতে হবে এবং এটিকে এলাকাভিত্তিক মনিটরও করতে হবে। এটি আমরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জনবলের মাধ্যমে করতে পারি।

সীমিত পরীক্ষার বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?

নিয়ম হলো সারা দেশের সব লোককে পরীক্ষা করা। এটা হলো সর্বোত্তম উপায়। এর কোনো বিকল্প নেই। নইলে আমরা বুঝতে পারব না কে সংক্রমিত, কে নয়। সে জায়গায় সীমিত পরীক্ষা দিয়ে আমরা ওই লোকদের বাছাই করতে পারছি না। যতক্ষণ চিহ্নিত করতে না পারছি, ততক্ষণ সংক্রমণের সুযোগ ও ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে। সুতরাং পরীক্ষা সারা দেশে ব্যাপৃত করতে হবে, পাশাপাশি সবাই যেন পরীক্ষার সুযোগ পায়, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। আমার পরামর্শ হলো, অবশ্যই আমাদের জনবলের ঘাটতি আছে, এটা ঠিক। জনবলের চাহিদা মেটানো সম্ভব যদি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিকের জনবলকে সম্পৃক্ত করে কাজে লাগাই। আরটি পিসিআরে সম্পৃক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে দ্রুত টোকনোলজিস্ট নিয়োগ দিয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করে কাজে লাগাতে হবে।

এখন দেখতে হবে কত টেস্ট করতে আমরা সক্ষম এবং কত টেস্ট করা দরকার। আরটি পিসিআর যন্ত্রটি উপজেলা পর্যায়ে যতক্ষণ নিতে না পারছি, ততক্ষণ সেটি বলা যাবে না। আমাদের ৪৯২টি উপজেলায় পিসিআর পরীক্ষার সুযোগ থাকতে হবে। সেভাবে আমাদের পরিকল্পনা করে এগোতে হবে। এখন যা পরীক্ষা করছি, তা অতিসামান্য। আমরা প্রতি লাখে ৮৮ জনের মতো টেস্ট করছি। পৃথিবীর অন্য দেশ আমাদের চেয়ে প্রতি লাখে বেশি করছে। নেপালও বেশি করছে। ভুটান প্রায় প্রতি লাখে দুই হাজারের ওপর টেস্ট করছে। এমনকি পাকিস্তান, ভারত, শ্রীলংকা বেশি করছে। সার্কভুক্ত দেশের মধ্যে আফিগানিস্তান ছাড়া প্রতি লাখে বাংলাদেশ সবচেয়ে কম পরীক্ষা করছে। এটা আমাদের বাড়াতে হবে। অনেক দেশ এক লাখও টেস্ট করছে। প্রতি লাখে এক হাজার টেস্ট করলেও সমাজে কেমন সংক্রমণ হচ্ছে, তা কিছুটা আঁচ করতে পারব। কিন্তু সঠিক বলতে পারব না।

বড় কয়েকটি কোম্পানি রেমডেসিভির তৈরি করছে। বিষয়টিকে কীভাবে দেখেন?

আমি সোজাসুজি বলব, রেমডেসিভির করোনার ওষুধ নয়। এখন পর্যন্ত কোনো ওষুধই করোনার চিকিৎসায় ব্যবহারের উপযোগী নয়। রেমডেসিভিরের কার্যকারিতা করোনা মৃদু ও মডারেট আক্রান্তদের মধ্যে কিছুটা দেখা গেছে। ৩১ শতাংশ কেসে দেখা গেছে, যেখানে ১৫ দিন হাসপাতালে থাকতে হতো, সেখানে তারা চার দিন আগে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে। এটা কোনো কনক্লুসিভ স্টাডি নয় যে এর ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া যায়।

অনেক দেশ অ্যান্টিবডি টেস্টের অনুমোদন দিয়েছে। গণস্বাস্থ্য এ ধরনের কিট তৈরি করলেও অনুমোদন পেতে ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে। এটিকে কী বলবেন?

গণস্বাস্থ্য যে কিট ব্যবহার করে অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করতে চেয়েছিল, সেটি দুঃখজনকভাবে আমরা এখনো বাংলাদেশে ব্যবহার করছি না। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ র‌্যাপিড অ্যান্টিবডি কিট ব্যবহার করেছে। জার্মানি ব্যবহার করেছে, ভারত করেছে। আরো অনেকেই ব্যবহার করবে। এর অনেক ভালো দিক আছে। একটি হলো, আক্রান্ত হওয়ার সাত দিন হয়ে গেছে এমন রোগীদের রোগ নির্ণয় করতে পারছে। এটা একটা ভালো দিক। আমরা সাধারণত অনেকেই উপসর্গকে অবহেলা করি। উপসর্গহীনও অনেকেই থাকে। এটা দিয়ে আমরা সুন্দরভাবে স্ক্রিনিং করতে পারতাম যাদের সাতদিন হয়ে গেছে বা উপসর্গবিহীন রোগীদের। যেহেতু সস্তা এবং আমাদের হাতের কাছেই আছে, সেহেতু এটাকে ব্যবহার করা উচিত।

সংক্রমণ রোধে আমরা কোন দেশকে অনুসরণ করতে পারি?

আমাদের সামনে অনেক উদাহরণ আছে। চীনারা কী করেছে আমরা জানি। আমাদের প্রতিযোগী শ্রীলংকা কী করেছে তাও জানি। দেশটি এক মাস কারফিউ দিয়ে পরে সবকিছু খুলে দিয়েছে। ফলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে। ভিয়েতনাম তাও করেনি। তারা একটি কাজ করেছে তা হলো, বাইরে থেকে যারা এসেছে, তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করেছে। কোরিয়া দিনে ২০ হাজার টেস্ট করে আইসোলেশনে, কোয়ারেন্টিনে নিয়েছে এবং চিকিৎসা দিয়েছে। প্রত্যেকেই একটি কৌশল ঠিক করে নিয়েছে। বাংলাদেশ কোনো কৌশলই গ্রহণ করেনি। এখনো কোনো কৌশল নেই। (দৈনিক বণিক বার্তা থেকে সংগৃহীত)

ধৈর্য ধারণ করে শান্তিপ্রিয় শাহজাদপুরবাসীর প্রতি ক্রান্তিকাল মোকাবেলার আহবান


‘করোনা প্রতিরোধে শাহজাদপুরবাসী সরকারি নির্দেশনা মেনে চলবে বলে বিশ্বাস করি!’ – হাসিবুর রহমান স্বপন এমপি

ছবিঃ বিমল কুন্ডু

শামছুর রহমান শিশির, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) থেকে : ‘অতীতেও আমরা শাহজাদপুরের শান্তিপ্রিয় জনগণকে সাথে নিয়ে নানা বিপদ-আপদ, সংকট, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ধৈর্যের সাথে মোকাবেলা করেছি। এলাকার গরিব, দুঃখী খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষদের পাশে সাধ্যমতো দাঁড়িয়ে তাদের মুখে হাঁসি ফোঁটানোর চেষ্টা করেছি। ঠিক তেমনি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নিদের্শে শাহজাদপুরে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে এলাকাবাসীকে সচেতন করার পাশাপাশি করোনার সংক্রমন এড়াতে বহুমুখী কার্যক্রম আমরা চালিয়ে যাচ্ছি। দেশের এই ক্রান্তিকালেও করোনা ভাইরাসকে ভয় না পেয়ে শান্তিপ্রিয় শাহজাদপুরবাসী সচেতন হয়ে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এড়িয়ে সুখে শান্তিতে বসবাস করতে পারেন- সেজন্য শাহজাদপুর উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ বাহিনী, জনপ্রতিনিধিসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সে মোতাবেক তারা দিনরাত পরিশ্রম করছেন। শাহজাদপুরবাসী অতীতের মতোই ধৈর্য ধারণ করে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকারি সব ধরনের নির্দেশনা মেনে চলবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।’
আজ রোববার বিকেলে একান্ত এক সাক্ষাতকারে শাহজাদপুরবাসীর উদ্দেশ্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেছেন স্থানীয় এমপি, সাবেক শিল্প-উপমন্ত্রী, শাহজাদপুরের মাটি ও মানুষের নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধ আলহাজ্ব হাসিবুর রহমান স্বপন। এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘ দেশের সকল সংসদীয় আসনের মধ্যে সর্বপ্রথম শাহজাদপুরে আমরাই দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে এলাকায় ৩ হাজার সচেতনতামূলক লিফলেট, ৩ হাজার মাস্ক ও ৩ হাজার সাবান বিতরণ করি এবং পরবর্তীতে ধারাবাহিকভাবে অধিক হারে এলাকায় লিফলেট, মাস্ক, সাবান বিতরণ করা হচ্ছে যা চলমান রয়েছে। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সহায়তায় আ.লীগ দলীয় নেতাকর্মীরা শাহজাদপুরের বিভিন্ন সড়কে ও উপজেলার বিভিন্ন মসজিদের ওজু খানায় জীবাণুনাষক স্প্রে করছেন ও সাবান বিতরণ করছেন। এই সংকটময় মুহূর্তে শাহজাদপুরের খেটে খাওয়া অভাবী কর্মহীন মানুষের কষ্ট লাঘবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের খুঁজে বের করে একটি স্বচ্ছ তালিকা তৈরি করে অভাবী ওইসব মানুষের হাতে দ্রæত গতিতে ৫ কেজি চাল, ২ কেজি ডাল, ২ কেজি আলু, ১ লিটার সয়াবিন তেল, করোলা, বেগুণ, পটলসহ পুষ্টিযুক্ত নানা সবজি পৌঁছে দিতে পৌর এলাকাসহ ১৩ টি ইউনিয়নের সকল জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সে মোতাবেক খাবারের প্যাকেট প্রস্তুত কার্যক্রমও দ্রæততার সাথে সম্পন্ন হচ্ছে এবং এলাকার গরীব দুঃখীদের ঘরে ঘরে গিয়ে একটি স্বচ্ছ তালিকা তৈরি করে তাদের হাতে খাবার প্যাকেট তুলে দেয়ার কাজও ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। সেইসাথে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সরকারি অনুদানের পাশাপাশি ব্যক্তিগত অর্থায়নে যেনো এলাকার গরীব দুঃখী মেহনতী মানুষের পাশে দাঁড়ায়- সে নির্দেশনাও প্রদান করা হয়েছে। গরীব দুঃখী মানুষের মাঝে সুষ্ঠু খাবার বন্টনে প্রস্তুতকৃত তালিকা আমি নিজেই নিয়মিত তদারকি করছি। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে আ.লীগ দলীয় নেতাকর্মীরা উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ও নিত্য প্রয়োজনীয় দোকানপাটের সামনে একেক জনের অবস্থানের স্থল বক্স আকারে অংকন করে সামাজিক দুরত্ব (১ জন থেকে অন্য জনের দুরত্ব কমপক্ষে ৩ ফুট) বজায় রেখে চলাচল নিশ্চিত করতেও নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। করোনা ভাইরাসকে পুঁজি করে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য যেনো কেউ বৃদ্ধি করতে না পারে সেজন্য নিয়মিত বাজার তদারকি করতে এবং বিদেশ ও ঢাকা থেকে যারা শাহজাদপুরে এসেছেন তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখতে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসনকেও কড়া নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া, করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত যে কোন খবর, অনিয়ম আমাকে জানাতে তাৎক্ষণিক আমার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) গোকূল কুমার বিশ্বাস ( ফোন নং-০১৭১৩-৯১২০৬৪), উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রফেসর আজাদ রহমান (ফোন নং-০১৯১৮-৩৪৯৯৩০), ইউএনও শাহ মোঃ শামসুজ্জোহা (ফোন নং-০১৭৩৩-৩৩৫০৪২), থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আতাউর রহমান ( ফোন নং- ০১৭১৩-৩৭৪০৩৯), উপজেলা আ.লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও কৈজুরী ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম ( ফোন নং-০১৮২৪-১৮৯৩১০), উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক আশিকুল হক দিনার ( ফোন নং-০১৭১৭-৬৭৩০৬৭), যুগ্ম-আহবায়ক কামরুল হাসান হিরোক ( ফোন নং-০১৭১৬-৪৩৩৫২৩), উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন হোসেন ( ফোন নং-০১৭১১-০৪৭৯২১) ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ রাসেল ( ফোন নং- ০১৭৬০-৮৬১৫৩১) এর ফোন নাম্বারে জানাতে সর্বসাধারণকে জানানো যাচ্ছে।
পরিশেষে, এ ক্রান্তিকালে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলে যার যার অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ সতর্ক থেকে শাহজাদপুরের শাস্তিপ্রিয় জনগণ করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ করবে বলে শাহজাদপুরের গণমানুষের নেতা আলহাজ¦ হাসিবুর রহমান স্বপন এমপি এ সময় আশাবাদ ব্যক্ত করেন ।

থানা পুলিশকে শাহজাদপুরবাসীর অভিনন্দন


শাহজাদপুরে গুলি, রিভলবার, অস্ত্রসহ ৯ ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ

শামছুর রহমান শিশির : ডাকাতি করার প্রস্তুতিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বগুড়া- নগরবাড়ি মহাসড়ক সংলগ্ন শাহজাদপুর উপজেলার পৌর এলাকার দ্বাবাড়িয়া গ্রামের হাইওয়ে রোড সংলগ্ন বাইপাস রাস্তা থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কার ও ২ রাউন্ড গুলিসহ ১টি অত্যাধুনিক সচল বিদেশী রিভলবার, ২টি চাইনিজ কুড়াল, ডাকাতি করার সরঞ্জাম, বেশ কিছু ডাকাতি করা মালামালসহ ৯ ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে শাহাজদপুর থানা পুলিশ।
গত শনিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ খাজা গোলাম কিবরিয়ার নেতৃত্বে থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কেএম রাকিবুল হুদাসহ থানা পুলিশের বিশেষ একটি দল জীবন বাঁজি রেখে ওই স্থানে অভিযান চালিয়ে দেশি, বিদেশি অস্ত্র, ডাকাতিকৃত মালামালসহ ৯ ডাকাতকে গ্রেফতার করে । গ্রেফতারকৃত অান্তঃজেলা দলের ডাকাত সদস্যরা হলো শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতুনী ইউনিয়নের কুরসি গ্রামের সোনাউল্লাহ ছেলে সবুজ উল্লা (৩৫), ছোট চাঁমতারা গ্রামের মোহাম্মাদ আলীর ছেলে পাষান (৩০), চৌহালী উপজেলার চরসাধা গ্রামের আব্দুল হাই এর ছেলে নুর ইসলাম (৪৫), শৈলজানা গ্রামের হাতেম আলীর ছেলে মোহাম্মদ আলী (৪৫), টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার থানার সানবাড়ী গ্রামের ফিরোজ মিয়ার ছেলে আরিফুল ইসলাম (৩০), মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর থানার খলিশাডহরা গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে এমারত আলী ওরফে চুক্কা (৩৮), উয়াইল গ্রামের আঞ্জু শেখের ছেলে এলাহী (৪০), একই গ্রামের আঃ আজিজের ছেলে শহীদ মিয়া (৪০) ও হাটাইল গ্রামের কুদ্দুস আলীর ছেলে রোস্তম (৪৫)। এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত ৯ ডাকাতসহ অজ্ঞাত আরও কয়েক জনকে আসামফ করে শাহাজদপুর থানায় ৩৯৯/৪০২ ধারা ও ১৮৭৮ সালের আর্মস এ্যাক্ট এর ১৯ এ ধারায় দুটি পৃথক মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
আজ রবিবার দুপুরে গ্রেফতারকৃত ডাকাতদের সিরাজগঞ্জ কোর্টে চালান করেছে শাহজাদপুর থানা পুলিশ।
এ ব্যাপারে শাহজাদপুর থানা অফিসার ইনচার্জ মো: খাজা গোলাম কিবরিয়া জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এসব কুখ্যাত ডাকাত চক্রকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। গ্রেফতারকৃত ৯ ডাকাতের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানের বিভিন্ন থানায় অসংখ্য ডাকাতি ও অপহরনের মামলা রয়েছে।’
এদিকে, জীবন বাঁজি রেখে দেশি বিদেশি অস্ত্রসহ আন্তজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় ৯ সদস্যকে ডাকাতি করার পূর্বেই গ্রেফতারে সক্ষম হওয়ায় শাহজাদপুর থানা পুলিশকে সাধুবাদ জানিয়েছে শাহজাদপুরবাসী।

ভেঙ্গে পড়া নেতৃত্ব ও ধানের শীষের নতুন প্রার্থীতায় এক সময়ে বিএনপির দূর্গ হিসেবে পরিচিত শাহজাদপুর বর্তমানে নৌকার ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে- রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতামত


শাহজাদপুরে নৌকার প্রার্থী হাসিবুর রহমান স্বপন এমপি’র পক্ষে গণজোয়ার!

বিশেষ প্রতিবেদক : পরশু দিন রোববার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সিরাজগঞ্জ -৬ শাহজাদপুর সংসদীয় আসনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করতে সকল প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে ও উৎসবমূখর পরিবেশের মধ্যে রোববার শাহজাদপুরের সকল ভোটকেন্দ্রে ভোটারগণ যেনো নির্বিঘেœ ভোট দিতে পারেন সেজন্য আইন শৃংখ্যলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বিক নিরাপত্বা ব্যবস্থা জোরদার ও পুরো নির্বাচনী এলাকা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন বলে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ খাজা গোলাম কিবরিয়া জানিয়েছেন। আজ শুক্রবার সকাল ৮ টা থেকে সকল রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা বন্ধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য, আ’লীগের সাবেক শিল্প-উপমন্ত্রী, উপজেলা আ.লীগের সভাপতি, শাহজাদপুরের মাটি ও মানুষের প্রিয় নেতা, জননেতা আলহাজ্ব হাসিবুর রহমান স্বপন । অন্যদিকে, নৌকা প্রতীকের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হলেন সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী প্রয়াড ড. এমএ মতিনের ছেলে প্রফেসর ড. এমএ মুহিত। ভোট গ্রহণের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে, শাহজাদপুর নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের মধ্যে ততই উৎসাহ উদ্দীপনা ও হিসাব নিকাশ জোরালো হচ্ছে।
‘আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ্ব হাসিবুর রহমান স্বপন এমপি, বাঙালি সাংস্কৃতিক জোট ও স্বাধীনতা সাংস্কৃতিক পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি, সাবেক এমপি জননেতা চয়ন ইসলাম, মিল্কভিটার ভাইস চেয়ারম্যান, স্পেশাল পিপি (নারী ও শিশু), জেলা ও উপজেলা আ.লীগ নেতা জননেতা এ্যাড. শেখ মোঃ আব্দুল হামিদ লাবলু ও বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ ডেইরি কাউন্সিলের মেম্বর, বাংলাদেশ শান্তি পরিষদের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড কাউন্সিলের প্রধান উপদেষ্টা , রাশিয়া-বাংলাদেশ মৈত্রী সমিতির সেক্রেটারি তরুণ জননেতা ড. সাজ্জাদ হায়দার লিটন এ ৪ হেভিওয়েট নেতা নৌকা প্রতীকের বিজয়ের প্রশ্নে মুক্তিযুদ্ধে পক্ষের শক্তিসহ দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়ায় এবং শাহজাদপুর নির্বাচনী এলাকার সর্বস্তরের জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র, ১৩ টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ দলীয় হওয়ায় এবং বিশেষত শাহজাদপুর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি, সাবেক পৌরমেয়র নজরুল ইসলাম, পৌর বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কেএম হাবিবুল হক সাব্বিরসহ শত শত হাজার হাজার বিএনপি’র সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা আওয়ামী লীগে যোগদান করায় শাহজাদপুরে নৌকার পালে জোরালো হাওয়া লেগেছে। অপরদিকে, উপজেলা বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতা আওয়ামী লীগে যোগদান করায় ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন হিরু, সহ-সভাপতি আরিফুজ্জামান আরিফ কারাবন্দী থাকায় ও শাহজাদপুরে বিএনপির সাবেক এমপি কামরুদ্দিন এহিয়া খান মজলিস সারোয়ার ও শাহজাদপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি হুসেইন শহীদ মাহমুদ গ্যাদনের কর্মী সমর্থকদের নির্বাচনী এলাকা শাহজাদপুরে নির্বাচনকালীন সময়ে উল্লেখযোগ্য উপস্থিতির অভাবে এবারের নির্বাচনে চরম বেকায়দায় পড়েছেন ধানের শীষের প্রার্থীসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা। এছাড়া, ধানের শীষ প্রতীকের নতুন প্রার্থী প্রফেসর ড. এমএ মুহিতের এলাকায় গণসম্পৃক্ততা একেবারেই কম থাকায় নির্বাচনে ধানের শীষ একেবাইে সুবিধা নাও পেতে পারেন । ফলে সবদিক বিবেচনায় শাহজাদপুরে নৌকার পালে জোরেশোরে হাওয়া লেগেছে ও নৌকার প্রার্থী আলহাজ্ব হাসিবুর রহমান স্বপন এমপির পক্ষে গণজোয়ারের সৃষ্টি হয়েছে বলে বিজ্ঞ রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা অভিমত ব্যাক্ত করেছেন।’
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে শাহজাদপুরের ঘরে ঘরে দূর্ভেদ্য মুজিবীয় প্রাচীর তৈরি করেছেন ও নৌকার ভোট ব্যাংক বৃদ্ধি করেছেন, নৌকার প্রার্থী জননেতা আলহাজ্ব হাসিবুর রহমান স্বপন এমপি, সাবেক এমপি জননেতা চয়ন ইসলাম, মিল্কভিটার ভাইস চেয়ারম্যান, জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা, বিশেষ পিপি (নারী ও শিশু) জননেতা এ্যাড. শেখ মোঃ আব্দুল হামিদ লাবলু ও বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জননেতা ড. সাজ্জাদ হায়দার লিটন। তারা বিভিন্ন সময়ে প্রান্তিক পর্যায়ের জনগণের দ্বোর গোড়ায় গিয়ে প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারের আমলে সারাদেশসহ শাহজাদপুরে পদ্মা সেতু নির্মাণ, বঙ্গবন্ধু -১ স্যাটেলাইট স্থাপন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার বিচার, যুদ্ধাপরাধী ও রাজাকারদের বিচারকার্য সম্পন্ন, বিশ্বে পোশাক রফতানীতে ২য় স্থান অর্জন, বছরের প্রথম দিনে বিনামূল্যে ১ কোটি শিক্ষার্থীর হাতে বই বিতরণ, কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করে গ্রামীণ পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, জঙ্গি দমন, বয়ষ্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতাসহ বহু ধরণের ভাতা চালু, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দান ও পূর্ণবাসন, শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়,বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা, ৩টি কোর্ট চালু, অনার্স কোর্স চালু, জেলার একমাত্র টেকনিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা, যমুনা নদী ভাঙ্গণ স্থায়ীভাবে রোধে ১ হাজার কোটি টাকা ব্যায়ে চলমান বাঁধ, সড়ক, স্লুইচগেট নির্মাণ কাজ, নির্বাচনী এলাকায় ঘরে ঘরে বিদ্যুত পৌঁছানো, বাঘাবাড়ী নৌ-বন্দরকে ২য় শ্রেণি থেকে ১ম শ্রেণিতে উন্নীতকরণ, ৪ নং নৌ-বন্দর ফায়ার স্টেশান স্থাপন, কৃষি, শাহজাদপুর- এনায়েতপুর, শাহজাদপুর- কৈজুরী, শাহজাদপুর- জামিরতা, শাহজাদপুর- রূপবাটি – করশালিকা পর্যন্ত গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন, স্কুল কলেজ ও মাদরাসার ভৌত ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যোগাযোগসহ বিভিন্ন খাতের বহুমূখী উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরতে সক্ষম হওয়ায় এক সময়ের বিএনপির ঘাাঁটি হিসেবে পরিচিত শাহজাদপুর আসন নৌকার ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে।
এসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ্ব হাসিবুর রহমান স্বপন এমপি বলেন, ‘স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের চাইতেও গত ১০ বছরে জননেত্রী শেখ হাসিনার শাষণামলে শাহজাদপুরে বড় ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে ও চলমান রয়েছে। আমরা শাহজাদপুরের সকল পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, সরকার ও প্রশাসনকে সাথে নিয়ে আওয়ামী লীগ দলীয় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরমেয়র, ১৩ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ দলীয় নেতাকর্মীদের ইস্পাত দৃঢ় ঐক্যবদ্ধতায় সম্মিলিতভাবে আগামীতেও নৌকার বিজয় নিশ্চিত করে সোনার শাহজাদপুর গড়তে বদ্ধপরিকর। সারাদেশ তথা শাহজাদপুরে সরকার কর্তৃক গৃহিত বিভিন্ন মেগা প্রকল্প কাজ চলমান রাখতে ও শাহজাদপুরকে সোনার শাহজাদপুর হিসেবে গড়তে তুলতে শাহজাদপুরের আপামর জনগণ ৩০ তারিখের নির্বাচনে সারাদিন আবারও নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে নৌকার অভূতপূর্ব বিজয় আনবেন বলে আমি আশাবাদী।’

‘শাহজাদপুরে উন্নয়ণের ছোঁয়া ধরে রাখতে স্বপন ভাইকে নৌকায় ভোট দিন’- এসএ হামিদ লাবলু


‘ক্ষেত পরিচর্যা করেছি, আগাছা তুলে ফসল বুঁনেছি; ৩০ তারিখে ঘরে তুলবো’- জননেতা এসএ হামিদ লাবলু

শামছুর রহমান শিশির, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, শুক্রবার, ২৮ ডিসেম্বর -২০১৮ খ্রিষ্টাব্দ : নির্বাচনী প্রচারণার সময়সীমা আজ শুক্রবার সকালে অতিক্রান্ত হয়েছে। সিরাজগঞ্জ-৬ শাহজাদপুর আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী, সাবেক শিল্প-উপমন্ত্রী, বীরমুক্তিযোদ্ধা, জননেতা আলহাজ্ব হাসিবুর রহমান স্বপন এমপিকে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী করতে, জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে, শাহজাদপুরে চলমান অভূতপূর্ব উন্নয়নের ছোঁয়া ধরে রাখতে গত কয়েক দিন ধরে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সাথে নিয়ে দিন-রাত শাহজাদপুর পৌর এলাকাসহ ১৩ টি ইউনিয়ন ও প্রায় ৩ শতাধিক গ্রামে, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে, অলিতে গলিতে, শাহজাদপুরের এ প্রান্ত থেকে ওই প্রান্তে, তৃণমূলের ঘরে ঘরে ছুঁটে নৌকার ভোট চেয়েছেন শাহজাদপুরের তৈজদীপ্ত জননন্দিত, ত্যাগী রাজনীতিবিদ, বরেণ্য আইনজীবী, জাতীয়ভাবে পুরষ্কারপ্রাপ্ত দেশ সেরা সমবায়ী, সফল সংগঠক, বাংলাদেশ মিল্কভিটার ভাইস চেয়ারম্যান, সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম সদস্য ও শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক, স্পেশাল পিপি (নারী ও শিশু), আওয়ামী লীগের চরম দুর্দিনের কান্ডারি, শাহজাদপুরের গণমানুষের নেতা এ্যাড. শেখ মোঃ আব্দুল হামিদ লাবলু। কুয়াশাচ্ছন্ন ভোর বেলা থেকে গভীর রাত অবধি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভা, পথসভা, হাটে বাজারে ছুঁটে চলে, ডোর- টু- ডোর নীতিতে তৃণমূলের ভোটারদের কাছে গিয়ে নৌকার ভোট চেয়েছেন তিনি। নৌকায় কেনো ভোট দিতে হবে ?- এ প্রশ্নের উত্তরে জননেতা এ্যাড. শেখ আব্দুল হামিদ লাবলু ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করার লক্ষ্যে, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ‘সোনার বাংলা’ গড়তে, দেশ ও বাঙালি জাতিকে বিশ্ব দরবারে মাথা উচু করে দাঁড় করাতে, প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার বহুমূখী মেগা প্রকল্প ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করছে। নৌকায় ভোট দিলে দেশের উন্নয়ন হয়, মানুষের কল্যাণ হয়, শাহজাদপুরের উন্নয়ন হয়। জননেত্রী শেখ হাসিনা’র সুনজরে শাহজাদপুরে বিশ্বমানের ‘রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়,বাংলাদেশ’ চালু, টেকনিক্যাল কলেজ স্থাপন, উপজেলা পর্যায়ে যুগ্ম- জেলা দায়রা জজ আদালতসহ ৩ টি কোর্ট চালু, ৩টি হাসপাতাল, ১০ বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু, পাইলট হাইস্কুল সরকারি, স্কুল, কলেজ, মাদরাসার ভৌত ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শাহজাদপুর পৌর এলাকার সাথে ১৩টি ইউনিয়নের গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সাব-মার্সিবল ও পাকা সড়ক নির্মাণ, বিনে পয়সায় শত শত যুবকের কর্মসংস্থান, যমুনা নদী তীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়ন, যমুনার ভাঙ্গণ স্থায়ী রোধে ১ হাজার কোটি টাকা ব্যায়ে চলমান বাঁধ, সড়ক, স্লুইচগেট নির্মাণ, ৪র্থ নদীবন্দর ফায়ার স্টেশান চালুসহ মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ, অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ি নির্মাণ, ৩ টি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবণ নির্মাণ, শতাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণ, সেতু নির্মাণ, প্রায় অর্ধশত নতুন সড়ক নির্মাণ, বিদ্যুৎ খাতে আবাসিক-অনাবাসিক, বাণিজ্যিক, সেঁচ, ক্ষুদ্র শিল্প, বৃহৎ শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে হাজার হাজার বৈদ্যুতিক নতুন সংযোগ প্রদান করে শাহজাদপুরে শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওয়াভূক্তকরণ, শত শত কিলোমিটার নতুন লাইন নির্মাণ, ৩৩/১১ কেভি ১০ এমভিএ নতুন বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র স্থাপনসহ কৃষি, বস্ত্র, আবাসন, শিক্ষা, চিকিৎসা, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ খাতে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। জননেত্রী ১০ বছরে শাহজাদপুরের মানুষকে যা দিয়েছেন, স্বাধীনতার দীর্ঘ সময়েও আমরা তা পাইনি। এ জন্য আমরা শাহজাদপুরবাসী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে ঋণী ও চিরকৃতজ্ঞ। এ ঋণের দায়বদ্ধতায় ও সারাদেশসহ শাহজাদপুরের অভূতপূর্ব উন্নয়নের ছোঁয়া ধরে রাখতে ৩০ ডিসেম্বর স্থানীয় এমপি, বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হাসিবুর রহমান স্বপন ভাইকে বিজয়ী করতে আমরা নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন প্রত্যাশী সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে, সম্মিলিতভাবে নৌকার বিজয় নিশ্চিতে দিনরাত অবিরাম কাছ করেছি। নৌকার ভোট ব্যাংক বৃদ্ধিতে বছরের পর বছর শাহজাদপুর যুবলীগের বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর, সৎ আদর্শ চরিত্রের অধিকারী রাজীব শেখসহ এলাকার এক ঝাঁক তরুণ যুবসমাজকে সাথে নিয়ে শাহজাদপুরের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে ছুঁটে বেড়িয়েছি, ক্ষেতের পরিচর্যা করেছি, আগাছা তুলেছি, ফসল বুঁনেছিঁ, সার দিয়েছি। বাকি ছিলো শুধু নিড়ানি দেয়া, সেটাও দিলাম। ৩০ তারিখে ক্ষেতের ফসল কেটে ঘরে তুলবো ইনশাল্লাহ।’

শাহজাদপুরে নৌকায় মনোনয়ন প্রত্যাশী ড. সাজ্জাদ হায়দার লিটনের মনোনয়ন ফরম জমাদান

নিজস্ব প্রতিনিধি : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-৬ শাহজাদপুর আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ শান্তি পরিষদের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড কাউন্সিলের প্রধান উপদেষ্টা , রাশিয়া-বাংলাদেশ মৈত্রী সমিতির সেক্রেটারি, বাংলাদেশ- ভারত মৈত্রী সমিতির নির্বাহী সদস্য, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির ভাইস চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ডেইরি ডেভোলোপমেন্ট কাউন্সিলের মেম্বার ও মিল্কভিটা’র সাবেক পরিচালক, তরুণ জননেতা ড. সাজ্জাদ হায়দার লিটন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে শুক্রবার মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় জমা দিয়েছেন। এ সময় তার সঙ্গে বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। আজ সোমবার সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একান্ত আলাপচারিতায় ড. সাজ্জাদ হায়দার লিটন এ প্রতিবেদককে জানান, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ বুকে ধারণ ও লালন করে সফল রাষ্ট্রনায়ক, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র নির্দেশে কাজ করছি। ইতিমধ্যেই আমি আমার নির্বাচনী এলাকা শাহজাদপুর উপজেলায় বিভিন্ন সময়ে উঠোন বৈঠক, গণসংযোগ, লিফলেট, পোস্টার ও নানা রকম বিলবোর্ডের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়নের বার্তা জনগণের দোরগোঁড়ায় পৌঁছে দিয়ে আসছি। আমার নির্বাচনী এলাকার জনসাধারণও আমাকে নতুন মুখ হিসেবে ব্যাপক সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। আশাকরি সবকিছু বিবেচনা করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী, সফল রাষ্ট্রনায়ক, দেশরত্ন শেখ হাসিনা আমাকে অবশ্যই এ আসনে নৌকা প্রতীকে দলীয় মনোনয়ন দেবেন। আমি ইতিমধ্যেই এলাকায় আমার মরহুম পিতা বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন মোহনের নামে একাধিক সড়ক নির্মাণ, স্কুল, কলেজ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করেছি এবং যুবসমাজের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে যাচ্ছি। আমি যদি মনোনয়ন পাই তাহলে অবশ্যই জয়লাভ করব এবং আরও অধিক বেকারের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব। আমার পিতা বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন মোহন তার জীবদ্দশায় টানা ২৫ বছর পোতাজিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ২ মেয়াদে শাহজাদপুর উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পদসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে দেশ ও জাতির কল্যাণে আমৃত্যু কাজ করে গেছেন। মুজিব সৈনিক হিসেবে বাবার সেই আদর্শ বুকে নিয়ে আমৃত্যু আমিও শাহজাদপুরসহ দেশবাসীর কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই। এ জন্য সকলের দোয়া , ভালোবাসা, সহযোগীতাসহ সর্বাপরি নৌকা প্রতীকে ভোট চাই!’

আধুনিক, গতিশীল, যুগোপযোগী স্বেচ্ছাসেবক লীগ প্রতিষ্ঠায় সকলের দোয়া, ভালোবাসা ও সহযোগীতা কামনা করেছেন শিমুল


শাহজাদপুরে স্বেচ্ছাসেবক লীগে নেতৃত্ব দিতে চান সাবেক ছাত্রনেতা শিমুল

শাহজাদপুর সংবাদ ডটকম, নিজস্ব প্রতিবেদক, শনিবার, ৪ আগষ্ট- ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দ : সফল রাষ্ট্রনায়ক, প্রধানমন্ত্রী, দেশরত্ন শেখ হাসিনা’র হাতকে শক্তিশালী করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যাক্ত করে শাহজাদপুর স্বেচ্ছাসেবক লীগে নেতৃত্ব প্রদানের মাধ্যমে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক ভিত্তি সুদৃঢ়, গতিশীল ও যুগোপযোগী করতে চান আসন্ন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ সন্মেলনের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মোঃ আজিজুল হক (শিমুল)। মুজিবীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ও শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সফল সভাপতি, বীরমুক্তিযোদ্ধা মরহুম রহমত উল্লাহ সরকারের অাদর্শে অণুপ্রাণিত হয়ে গত ১৯৯৩ সালে শাহজাদপুর পৌরসদরের ১নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হবার মাধ্যমে শিমুলের ছাত্র রাজনীতির শুভ সূচনা ঘটে। ওই বছরেই তিনি শাহজাদপুর পৌর ছাত্রলীগের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন। গত ১৯৯৪ সালে এসএসসি পরীক্ষায় পাশ করে শিমুল শাহজাদপুর সরকারি কলেজে ভর্তি হয়ে সক্রিয় ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে ছাত্র রাজনীতি অাত্মনিয়োগ করেন। গত ১৯৯৬/৯৭ শিক্ষাবর্ষে শাহজাদপুর সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগ মনোনীত রহিম- পলাশ পূর্ণ প্যানেলকে জয়ী করতে বিশেষ সাহসী ভূমিকা পালন করায় স্থানীয় ছাত্র রাজনীতিতে তার ব্যাপক সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে তিনি ধাপে ধাপে শাহজাদপুর সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের ১নং সদস্য, উপজেলা ছাত্রলীগের সন্মানিত সদস্য, উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহবায়ক, সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে তার অপর অর্পিত দায়িত্ব সফলতার সাথে পালন করে ছাত্র রাজনীতিতে সফল ছাত্রনেতা হিসেবে সবার নিকট পরিচিত হয়ে ওঠেন। বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের শাষনামলে রাজপথে আওয়ামী লীগ দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচীতে প্রতিবাদী, লড়াকু ভূমিকা পালন করায় বার বার শিমুল রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হন। বিএনপি জামায়াত জোটের স্থানীয় নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে শিমুলের কন্ঠ রোধ করতে তার বিরুদ্ধে ডজন ডজন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। তার পরেও ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সুসময়ে, চরম দুঃসময়ে দলীয় বিভিন্ন কর্মকান্ডে আদর্শ এক মুজিব সৈনিক হিসেবে রাজপথে সরব অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন সাহসী, ত্যাগী, নির্যাতিত, নিঃষ্পেষিত সাবেক ওই সফল ছাত্রনেতা।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আসন্ন সন্মেলনের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী, সাবেক সফল ছাত্রনেতা মোঃ আজিজুল হক শিমুল জানান, “শাহজাদপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আসন্ন সন্মেলনে তিনি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলে চলমান বাংলাদেশের উন্নয়ন ধারা অব্যাহত রাখতে, জননেত্রী শেখ হাসিনা’র হাতকে আরও শক্তিশালী করতে এবং আধুনিক, গতিশীল, যুগোপযোগী স্বেচ্ছাসেবক লীগ প্রতিষ্ঠায় আত্মনিবেদিত মুজিব সৈনিক হিসেবে তিনি কাজ করে যাবেন। এ জন্য তিনি দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থকসহ সকলের দোয়া, ভালোবাসা ও সহযোগীতা কামনা করেছেন।

দুঃসময়ে আইনি সহায়তা দিয়ে শাহজাদপুরে আ.লীগ নেতাকর্মীদের রক্ষা করেছেন এ্যাড. এসএ হামিদ লাবলু

শামছুর রহমান শিশির, বিশেষ প্রতিবেদক : স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন ও ২য় মেয়াদে বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের ১০ বছরের শাষণামলে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের ত্যাগী, নির্যাতিত, বলিষ্ঠ প্রতিবাদী নন্দিত নেতা হলেন মিল্কভিটার ভাইস চেয়ারম্যান, সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম সদস্য, শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ও স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটির (নারী ও শিশু) নন্দিত নেতা এ্যাড. শেখ মোঃ আব্দুল হামিদ লাবলু। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন আর বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের ২ টার্ম শাষণামলে একের ওপর এক খড়গ নেমে এসেছে তার ও তার পরিবারের ওপর। শাহজাদপুর পৌরসদরের শেরখালী মহল্লাস্থ তার বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও বোমা মেরে পুরো পরিবারের সদস্যদের হত্যা করারও অপচেষ্টা করা হয়েছে। তার পরেও তিনি মুজিবীয় আদর্শ থেকে এক চুলও বিচ্যুত হননি। সর্বশেষ মিল্কভিটার বাঘাবাড়ী কারখানায় আরেক দফা তাকে হত্যার অপচেষ্টা করা হয়। এ্যাড. এসএ হামিদ লাবলু স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, বিএনপি জামায়াতের ১৯৯১-১৯৯৬ এবং ২০০১-২০০৬ সালের শাষণামলে শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্যাগী প্রতিবাদী নেতাকর্মীদের ওপর ডজন ডজন মামলা দিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ভিত্তিকে দুর্বল করার অপচেষ্টাও সফল হতে দেননি ত্যাগী ওই নেতা। এ্যাড. এস এ হামিদ লাবলু আওয়ামী লীগের ওই দীর্ঘ সময়ের চরম দুঃসময়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে যাদের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করা হয়েছে এ্যাড. শেখ মোঃ আব্দুল হামিদ লাবলু ওইসব মামলার দলীয় আসামীদের বিনামূল্যে আইনী সহায়তা দিয়ে তাদের রক্ষা করেছেন বছরের পর বছর। শুধু তাই নয়, যেসব নেতাকর্মীদের মামলায় হাজিরা দেয়ারও পয়সা ছিলোনা পকেটে, শেখ আব্দুল হামিদ লাবলু নিজের কষ্টার্জিত পকেটের টাকা দিয়েও তাদের বছরের পর বছর সহায়তা করে গেছেন এবং অধ্যবধি করে চলেছেন। শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মুখে এসব কথা উঠে এসেছে।
আওয়ামী লীগের চরম দুঃসময়ে যারা শাহজাদপুরে আওয়ামী লীগকে টিকিয়ে রেখেছিলেন তাদের মধ্যে রহমতুল্লাহ সরকার, ড. মযহারুল ইসলাম, এ্যাড. আব্দুর রহমান সাবেক এমসিএ, আব্দুল মতিন মোহন, মজিবর রহমান, নিহার নন্দী, সূতা হাকিম, আয়নুল হক, আলতাব হোসেন, আবু জাহিদ শাহু, মোজাফফর হোসেনসহ অনেকেই মারা গেছেন। আর যারা এখনও বেঁচে রয়েছেন,দলের সুসময়ে তাদের সিংহভাগ নেতাকর্মীর অবস্থা দেশে প্রচলিত প্রবাদ ‘কেউ মরে বিল সেঁচে’ এর মতোই। শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের চরম দুঃসময়ে যারা দলকে টিকিয়ে রেখেছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড. শেখ মোঃ আব্দুল হামিদ লাবলু, মহাদেব সাহা, কাংলাকান্দির আব্দুল জব্বার, কাকীলামারির আব্দুল কাদের, সাইদুল ইসলাম, পাড়কোলার উৎপল নন্দী ও তানু আজমল, দ্বারিয়াপুরের নারায়ন সূত্রধর, চেনি, রেজাউল করিম রেজা, চাইনিজ লতিফ, আব্দুল লতিফ, তরু লোদী, রিপন, চন্দন, পলাশ, রাজীব শেখ, দিলরুবার শামীম (চেয়ারম্যান শামীম), সাবেক ভিপি আব্দুর রহিম, আসাদ কমিশনার, কোরবান কমিশনার, মণিরামপুরের রোকনুজ্জামান রোকন, হাবিব, ইয়ামিন, আলম, নিল, চন্দন, দরগাহপাড়ার জামিল, রূপপুরের হায়দার হাজী, আবু সাত্তার ওরফে শেখ সাত্তার, শেরখালীর ইউনুস আলী, নিজাম উদ্দিন, মুস্তাক আহমেদ, আলতাব সরকার, টেন্নু সরকার, শক্তিপুরের কোরবান আলী (বিআরডিবির চেয়ারম্যান),  মনি, খবির, আফছার, পুকুরপাড়ের নূর ইসলাম, ইসলামপুর রামবাড়ীর হোসেন, হায়দার, এজাজ, সোহেল, কৈজুরীর এ্যাড. মশিউর রহমান। ওইসব নেতাকর্মীদের বেশ কয়েকজন জানিয়েছেন,‘স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন ও বিএনপি জাময়াত জোট সরকারের ২ টার্মের শাষণামলে ত্যাগী নেতাকর্মীদের বিএনপি পার্টি অফিস ভাংচুর, টিন বক্কারের দোকান ভাংচুর, মিছিলে হামলা, চাঁদাবাজী, হত্যা মামলাসহ ত্যাগী নেতাকর্মীদের ডজন, ডজন এমনকি প্রতিটি নেতাকর্মীদের ৫০/৫৫ টি পর্যন্তও মামলায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আসামী করা হয়। লাবলু ভাই পার্টি অফিসে এসে তাদের খুঁজে খুঁজে বের করে নাম লিখে নিতেন ও বিনা পয়সায় নিজেই আইনজীবী হয়ে আওয়ামী লীগের স্বার্থে নেতাকর্মীদের বাঁচাতে মামলা পরিচালনা করতেন। এমনকি সিরাজগঞ্জ কোর্টে হাজিরা দেয়ার জন্য যাদের যাতায়াত ভাড়া ছিলোনা তাদের ভাড়াও দিয়ে দিতেন। এভাবেই আইনী সহায়তা ও অর্থ সহায়তা দিয়ে দলের সেবা করেছেন লাবলু ভাই।
শাহজাদপুর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা, রুপপুরের আব্দুস সামাদসহ বেশ কয়েকজন ত্যাগী নেতা জানান,‘স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন ও বিএনপি জামায়াত হটাও আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী শাহজাদপুরের প্রায় ৫’শ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে নানা ষড়যন্ত্রমূলক মামলার আসামী করা হয়। বিনা পয়সায় সেইসব মামলার দায়িত্বভার গ্রহণ করে নেতাকর্মীদের পক্ষের আইনজীবী হয়ে তাদের রক্ষা করেন এ্যাড. এসএ হামিদ লাবলু। তিনি আরও জানান,‘শুধুমাত্র রেজাসহ দিলরুবার শামীম, রিপন, সাইদুল, আশরাফুল, শাহীনসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে গঙ্গাপ্রসাদে যাত্রাপ্যান্ডেলে বোমাঘাতে ১ জন নিহত হবার মামলা, দ্বারিয়াপুরে বোমা বানাতে গিয়ে নিহত আলমাছ ও হালিম হত্যা মামলাসহ প্রায় ৫০/৫২ টি মামলায় তাদের আসামী করা হয়। এসব মামলা চালাতে গিয়ে নেতাকর্মীরা দিশেহারা হয়ে পড়েন। সেখানেও নন্দিত নেতা শেখ মোঃ আব্দুল হামিদ লাবলু তাদের পাশে দাঁড়িয়ে বিনা পয়সায় মামলাগুলো পরিচালনা করে তাদেরসহ দলীয় নেতাকর্মীদের ওইসব মামলা থেকে নির্দোষ প্রমাণ করে তাদের রক্ষা করেন। এখনও সেভাবেই এক খাঁটি মুজিব সৈনিক হিসেবে লাবলু ভাই দলীয় নেতাকর্মীদের নিঃস্বার্থভাবে আইনী সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন এবং সাধ্যমতো অর্থ সহায়তাও দিয়ে যাচ্ছেন।’