বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, শাহজাদপুর এর ইফতার পার্টি অনুষ্ঠিত

আজ রবিবার (৯ এপ্রিল) বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, শাহজাদপুর এর ইফতার পার্টি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, শাহজাদপুর এর সংগঠক সুজিত বসাক, শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুস্তাক আহমেদ, শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক শওকত হোসেন, যুগান্তর পত্রিকার সাংবাদিক  মুমিদুজ্জামান জাহান, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের কর্মী শাহীন, প্রিন্স, আলাউদ্দিন, চঞ্চল, ফাতিন সহ আরো অনেকে।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, শাহজাদপুর এর কর্মী সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী মনিরুল গনি চৌধুরী শুভ্র।

কবিগুরুর জন্মদিনে নীরব শাহজাদপুরের কাচারিবাড়ী

শনিবার (৮ মে) ২৫ বৈশাখ। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬০তম জন্মবার্ষিকী।

গত বছরের মতো এছরও এইদিনে নীরব-নিস্তব্ধ কবিগুরুর প্রিয় ভূমি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের কাচারিবাড়ী।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণরোধে ‘লকডাউন’ বলবত থাকায় এ বছরও পঁচিশে বৈশাখে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬০তম জন্মবার্ষিকীতে কোনো কর্মসূচি নেয়নি জেলা ও উপজেলা প্রশাসন।

জানা যায়, প্রতি বছর কবিগুরুর জন্মদিনে রবীন্দ্র কাচারি বাড়িতে ৩ থেকে ৭ দিনব্যাপী উৎসব কর্মসূচি পালন করতো জেলা প্রশাসন, জেলা শিল্পকলা একাডেমী ও রবীন্দ্র সঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ। এই সময়টা সরগরম থাকতো কাচারিবাড়ী। রবীন্দ্রভক্তদের মিলনমেলায় পরিণত হতো কাচারিবাড়ী প্রাঙ্গণ। কিন্তু করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে গত বছর কবিগুরুর ১৫৯তম জন্মবার্ষিকীতে ও কোনো কর্মসূচি পালিত হয়নি। এ বছরও কাচারি বাড়ি প্রাঙ্গণে নেই কোনো উৎসব।

শাহজাদপুরের কবি ও সাংবাদিক কবির আজমল বিপুল জানান, রবীন্দ্রনাথ আমাদের প্রাণের কবি। রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী আসলেই কবি, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়া। কিন্তু এবার এই করোনাকালে রবীন্দ্র কাচারি বাড়ি প্রাঙ্গণ যেন উৎসবহীনতায় মৃতপ্রায়। এ উৎসব না হওয়ায় সারাদেশের সাংস্কৃতিক কর্মী ও রবীন্দ্র ভক্তরাও বঞ্চিত হলো রবীন্দ্র উৎসবের ক্লান্তিহীন আনন্দ থেকে।

শাহজাদপুর উপজেলা সাবেক আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও বাসদ সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন জানান, জাতীয়ভাবে বরাবর কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তী পালন করা হয়ে আসছে। করোনার ভয়াবহতার কারণে ‘লকডাউন’কে কেন্দ্র করে সীমিত আকারে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ভার্চ্যুয়ালভাবে হলেও শাহজাদপুরে বিশ্বকবির জন্মজয়ন্তী পালন করা উচিত ছিল। যেহেতু দেশে সব কর্মসূচি ভার্চ্যুয়ালভাবে পালন করা হচ্ছে।

শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ মো. শামসুজ্জোহা জানান, ২৫, ২৬, ২৭ শে বৈশাখ তিন দিনব্যাপি কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরে জন্ম জয়ন্তী নানা আয়োজনে পালন করা হলেও এ বছর প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো অনুষ্ঠানমালার চিঠি না আসার কারণে তাই ২৫শে বৈশাখ কবিগুরুর জন্মজয়ন্তী পালন করা সম্ভব হচ্ছে না।

সিরাজগঞ্জ জেলা কালচারাল অফিসার মাহমুদুল হাসান লালন বাংলানিউজকে বলেন, করোনার সংক্রমণরোধে সব অনুষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এ কারণেই এ বছর রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তীতে কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়নি। তবে খুব শিগগিরই ভার্চ্যুয়াল অনুষ্ঠান করা হবে।

 

সূত্রঃ বাংলানিউজ ২৪

শাহজাদপুরে রবীন্দ্রনাথ

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ১৮৯০ সালের জানুয়ারী মাসে শাহজাদপুরে প্রথম এসেছিলেন। একই বছরের ২০ জানুয়ারী শাহজাদপুরের ইংরেজী উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছিলেন তিনি। বিদ্যালয়ের পরিদর্শন বইয়ে কবির সহস্তে লেখা সন্তব্য এবং রবীন্দ্রনাথের অর্ডার বুক এ ঐতিহাসিক সাক্ষ্য বহন করছে। নদীপথে বোটে চেপে কুঠিবাড়ির পূর্ব দিক ও দক্ষিণ দিক দিয়ে বয়ে যাওয়া বড়াল ও ফুলঝোর নদীর সংযোগ খাল (ছোট নদী) দিয়ে তিনি কুঠিবাড়ীতে আসতেন। রবীন্দ্রনাথের কবিতার সেই ছোট নদীর এখন আর কোন অস্তীত্ব নেই। সেটি নানা পন্থায় এখন ভূমি দস্যুদের দখলে চলে গেছে। খালের পূর্বাংশে ভিড়তো কবিকে বহনকৃত বোট। খালের পাড়েই ছিল হলদে রঙের দোতালা বিরাট অট্টালিকা (নীলকরদের কুঠিবাড়ী-যা পরবর্তীতে রবীন্দ্রনাথের আবাশস্থল ছিল)।

শাহজাদপুরে এসেই চার কামরা বিশিষ্ট ঐ দোতালায় কবি তাঁর সাময়িক আস্তানা গড়ে তুলতেন। ঐ খালের পাড়েই ছিল বিড়াট অশ্বত্থ গাছ ও খেয়া ঘাট। কবিগুরু খেয়াঘাট কবিতায় উল্লেখ করেছেন-‘খেয়া নৌকা পারাপার করে কত নদী স্রোত। কেহ যায় ঘরে কেহ আসে ঘর হতে’। বর্তমানে ঐ খেয়াঘাট ও অশ্বত্থ গছের কোন চিহ্ন নেই। কুঠি বাড়ির উত্তর ও দক্ষিণে দুটি বাগান ছিল। ঐ বাগানে কৃত্রিমভাবে তৈরী হ্রদের মধ্যে ১২ মাস পদ্ম ফুল ফুটে থাকতো। পাকা পিলারের সাথে লোহাড় শিক দিয়ে বেড়া ঘেড়া উত্তরের বাগানে বড় বড় ঝাউ, লিচু, আম,দারুচিনি দক্ষিনে কামিনি ফুলের গাছসহ অন্যান্য দুস্প্রাপ্য গাছের অবস্থান ছিল।

ঐ বাগানের কথাই রবীন্দ্রনাথ ‘ছিন্নপত্র’ কবিতায় লিখে গেছেন-“দক্ষিণের বারান্দায় কেবল মাত্র কামিনী ফুলের গন্ধে মস্তিস্কের রন্ধ্র পূর্ণ হয়ে ওঠে”। এখন একমাত্র দুটি লিচু গাছ ছারা এর আর কোন গাছের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না। বাগান পেড়িয়ে কুঠিবাড়ির উত্তর দিকের দরজা দিয়ে বারান্দায় উঠে ডানে দোতালায় উঠবার সিঁড়ি। উপরে উঠেই উত্তর পূর্বকোনে রবীন্দ্রনাথের স্নানের ঘড়। স্নান ঘড়ে স্নান করতে করতে তিনি অনেক গানের সুর দিয়েছেন। এর সামনের দরজা দিয়ে আরেকটি ঘড়ে প্রবেশ করা যায়।

রবীন্দ্রনাথ ‘ছিন্নপত্রে’ কুঠিবাড়ি সম্পর্কে লিখেছিলেন-‘আমি চারটি বড় বড় ঘড়ের মালিক’- তার মধ্যে এই কক্ষটিই বৃহত্তম। ঐটিই ছিল জমিদার রবীন্দ্রনাথের দরবার কক্ষ। ০৫-০৯-১৮৯৪ শাহজাদপুরে বসে চিঠিতে রবীন্দ্রনাথ লিখছেন,‘অনেককাল বোটের মধ্যে বাস করে হঠাৎ শাহজাদপুরের বাড়িতে এসে উত্তীর্ণ হলে বড় ভালো লাগে।

বড় বড় জানালা,দরজা,চারিদিক থেকে অবারিত আলো এবং বাতাস আসতে থাকে। যেদিকে চেয়ে দেখি সেই দিকেই গাছের সবুজ ডাল চোখে পড়ে এবং পাখির গান শুনতে পাই। দক্ষিণের বারান্দায় বেরোবা-মাত্র কামিনী ফুলের গন্ধে মস্তিস্কের রন্ধ্রগুলি পূর্ণ হয়ে ওঠে। হঠাৎ বুঝতে পারি এতদিন বৃহৎ আকাশের জন্য ভিতরে ভিতরে একটা ক্ষুধা ছিল, সেটা এখানে এসে পেট ভরে পূর্ণ করে নেয়া গেল। আমি চারটি বৃহত ঘরের একলা মালিক- সমস্ত দরজাগুলি খুলে বসে থাকি। এখানে যেমন আমার মনে লেখবার ভাব এবং লেখবার ইচ্ছা আসে, এমন আর কোথাও না। রবীন্দ্রনাথ শাহজাদপুরে বসেই পোষ্টমাষ্টার গল্প লিখেছিলেন।

শাহজাদপুর থেকে ভ্রাতুস্পুত্রী ইন্দ্রিরা দেবীকে পোষ্টমাষ্টার সম্পর্কে একাধিক চিঠি লিখেছিলেন। ফেব্রুয়ারি, ১৮৯১ সালে লিখেছিলেন,‘আমাদের কুঠিবাড়ির একতলাতেই পোষ্ট অফিস। বেশ সুবিধা চিঠি আসবামাত্রই পাওয়া যায়। পোষ্টমাষ্টারের গল্প শুনতে আমার বেশ লাগে। বিস্তর অসম্ভব কথা বেশ গম্ভীরভাবে বলে যায়। পরে ২৯-০৬-১৮৯২ সালে লেখা অন্য এক চিঠিতে রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন,‘বাতিটা জ্বালিয়ে টেবিলের কাছে কেদারিটি টেনে যখন বেশ প্রস্তুত হয়ে বসেছি,হেনকালে কবি কালিদাসের পরিবর্তে এখানকার পোস্টমাস্টার এসে উপস্থিত।

মৃত কবির চেয়ে একজন জীবিত পোষ্টমাষ্টারের দাবি ঢের বেশি। অতএব পোষ্টমাষ্টারকে চৌকিটি ছেরে দিয়ে কালিদাসকে আস্তে আস্তে বিদেয় নিতে হল। এই লোকটির সাথে আমার একটু বিশেষ যোগ আছে। যখন আমাদের কুঠিবাড়ির এক তলাতেই পোষ্ট অফিস ছিল এবং আমি প্রতিদিন এঁকে দেখতে পেতুম, তখনি আমি একদিন দুপুর বেলায় এই দোতালায় বসে পোস্টমাস্টারের গল্পটি লিখেছিলুম। সে গল্পটি যখন হিতবাদীতে বেরোল,তখন আমাদের পোষ্টমাষ্টার বাবু তার উল্লেখ করে বিস্তর লজ্জামিশ্রিত হাস্য বিস্তার করেছিলেন।

যাই হোক, এই লোকটিকে আমার বেশ লাগে। নানা রকম গল্প করে যায়, আমি চুপ করে শুনি । পোষ্টমাষ্টার গল্পের শেষটা অনেকটা বেদনা বিধুর।‘পোষ্টমাষ্টার’ চলে যাচ্ছেন, বেদনাভারাতুর রতন আর বিষন্ন পোষ্টমাষ্টারের মনোভঙ্গি ও মনোবেদনা বোঝানোর জন্য রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন- “যখন নৌকায় উঠিলেন এবং নৌকা ছাঁড়িয়া দিল, বর্ষাবিস্ফোরিত নদী ধরণীর উচ্ছলিত অশ্রুরাশির মতো চারিদিকে ছলছল করিতে লাগিল, তখন হৃদয়ের মধ্যে অত্যন্ত একটা বেদনা অনুভব করিতে লাগিলেন- একটি সামান্য গ্রাম্য বালিকার করুণ মুখচ্ছবি যেন এক বিশ্বব্যাপী বৃহৎ অব্যক্ত মর্মব্যথা প্রকাশ করিতে লাগিল।

একবার নিতান্ত ইচ্ছা হইল,‘ফিরিয়া যাই,জগতের ক্রোড়বিচ্যুত সেই অনাথিনীকে সঙ্গে করিয়া লইয়া আসি’-কিন্তু তখন পালে বাতাশ পাইয়াছে,বর্ষার স্রোত খরতর বেগে বহিতেছে, গ্রাম অতিক্রম করিয়া নদীকূলের শ্মশান দেখা দিয়াছে। নদীপ্রবাহে ভাসমান পথিকের উদাস হৃদয়ে এই তত্ত্বের উদয় হইল, জীবনে এমন কত বিচ্ছেদ,কত মৃত্যু আছে, ফিরিয়া ফল কি ! পৃথিবীতে কে কাহার। কিন্তু রতনের মনে কোনো তত্ত্বের উদয় হইল না।

সে সেই পোষ্ট অফিসের গৃহের চারিদিকে কেবল অশ্রুজলে ভাসিয়া ঘুরিয় ঘুরিয়া বেড়াইতেছিল। বোধ করি তাহার মনে ক্ষীণ আশা জাগিতেছিল, দাদাবাবু যদি ফিরিয়া আসে। রবীন্দ্র নাথের অর্ডার বুক/হুকুমনামার স্বাক্ষর অনুযায়ী তার শেষ হুকুম নামা স্বাক্ষর করেছিলেন বাঙলা ১৩০৩ সালের ১১ ফাল্গুন অর্থাৎ ১৮৯৭ সালের ২১ ফেবরুয়ারি। এ থেকে বলাযায়, ১৮৯০ এর জানুয়ারী থেকে ১৮৯৭ ফেবরুয়ারী পর্যন্ত রবীন্দ্র শাহজাদপুরে এসেছেন।

১৮৯৭ সালে রবীন্দ্রনাথদের যৌথ জমিদারি ভাগ হয়ে শাহজাদপুরের অংশ রবীন্দ্রনাথের মেঝকাকা গিরীন্দ্রনাথের বংশধরদের হাতে গেলে তখন থেকে কবি শাহজাদপুরে আসা ছেরে দেন। শাহজাদপুরের অংশ গিরীন্দ্রনাথদের হাতে চলে যাওয়ার কয়েকমাস পরে ১৩০৪ সালের ৮ আশ্বিন রবীন্দ্রনাথ পতিসর যাওয়ার পথে তাঁর প্রিয় শাহজাদপুরে আর একবার এসেছিলেন। সেদিন তাঁর শাহজাদপুরের বিচ্ছেদ স্মরণ করে এখানে বসেই বৈষ্ণম কবিদের বিরহ-বিচ্ছেদের গানের অনুসরণে তাঁর বিখ্যাত সেই ‘যাচনা’ কবিতাটি বা গানটি লিখেছিলেন-‘ভালোবেসে সখী নিভৃতে যতনে-আমার নামটি লিখিয়ো- তোমার মনের মন্দিরে।

পোষ্টমাষ্টার গল্পে পোষ্টমাষ্টারের বিদেয় রতনের মনে যে অনুভূতির সৃষ্টি হয়েছিল। রবীন্দ্রনাথের বিদেয় বেলাতেও রবীন্দ্রনাথ এবং রবীন্দ্রভক্তদের অনুভূতি কেমনতর ছিল সেটি যুক্তিশাস্ত্রের বিবেচনায় অনুধাবন করা যেতে পারে।

 

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার
মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, কলামিস্ট ও গবেষক
প্রধান সম্পাদক, শাহজাদপুর সংবাদ ডটকম
শনিবার, ২৫শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৮ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

সিরাজগঞ্জে তাঁত কারখানা বন্ধে হাজারো শ্রমিক বেকার

একদিকে রং, সুতাসহ তাঁতশিল্পের সরঞ্জামের মূল্যবৃদ্ধি, অন্যদিকে দেশের কাপড়ের বাজার ভারতীয় শাড়ির দখলে চলে যাওয়ায় উৎপাদিত কাপড় নিয়ে চরম বিপাকে সিরাজগঞ্জের তাঁত মালিকরা। লোকসানের মুখে অনেক তাঁত কারখানা বন্ধ করায় বেকার হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার শ্রমিক। তবে জেলার তাঁতশিল্পের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছে চেম্বার ও প্রশাসন।

একসময় দিনের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, বেলকুচি, এনায়েতপুর ও উল্লাপাড়া তাঁতপল্লীগুলোতে শুরু হতো তাঁত বুননের খটখট শব্দ। একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলত পাওয়ার লুমও। কিন্তু দফায় দফায় সুতা, রংসহ তাঁতশিল্পে ব্যবহৃত সরঞ্জামের দাম বৃদ্ধিতে এখন লোকসান গুনতে হচ্ছে তাঁত মালিকদের। পাশাপাশি বেড়েছে শ্রমিকের মজুরিও। সেই সঙ্গে দেশের কাপড়ের বাজারগুলোতে ভারতীয় শাড়িতে সয়লাব হওয়ায় তাঁতশিল্পে উৎপাদিত কাপড়ের চাহিদা কমে গেছে। ফলে অনেক মালিক লোকসানের মুখে বন্ধ করে দিচ্ছেন তাঁত কারখানা। এতে হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ছেন।

তাঁতশিল্পকে লোকসানের হাত থেকে রক্ষায় সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি ভারতীয় শাড়ি আসা বন্ধ করতে কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন মাধবী শাড়ি বিতানের স্বত্বাধিকারী উত্তম সাহসহ অন্যান্য মালিকরা।

জেলার তাঁতশিল্পের হারানো ঐতিহ্য ধরে রাখতে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দেন সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবু ইউসুফ সূর্য্য।

তাঁতশিল্পে ব্যবহৃত রং ও সুতার বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবসায়ীদের লোকসান কমাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানান বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনিছুর রহমান।

জেলায় তাঁত, পাওয়ারলুম ও হ্যান্ডলুম রয়েছে প্রায় ৫ লাখ। আর এর সঙ্গে জড়িত ১৫ লাখ শ্রমিক।

সুত্রঃ সময় নিউজ

বিশ্ববাজারে তাঁতবস্ত্রের প্রসারে অবদানের স্বীকৃতি


শাহজাদপুরে নারী উদ্যোক্তাকে ৬ তাঁতী সংগঠনের সংবর্ধনা

ঐহিত্যবাহী তাঁতশিল্পের কেন্দ্র সিরাজগঞ্জ ও বিন্দু শাহজাদপুরে উৎপাদিত তাঁতবস্ত্র অনলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশসহ বিশ্ববাজারে প্রসারে বিশেষ অবদান রাখায় নারী উদ্যোক্তা সোনার তরী’র স্বত্বাধিকারী জান্নাত লোপাকে সিরাজগঞ্জ জেলা তাঁত মালিক সমিতিসহ ৬ তাঁতী সংগঠনের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা ও সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে শাহজাদপুর উপজেলা পরিষদের শহিদ স্মৃতি সম্মেলন কক্ষে লোপাকে এ সম্মাননা ও সংবর্ধনা দেয়া হয়।

জানা গেছে, তাঁতবস্ত্র উৎপাদন ও বিপননকারী প্রতিষ্ঠান ‘সোনার তরী’র স্বত্বাধিকারী ও নারী উদ্যোক্তা জান্নাত লোপা তার নিজের ডিজাইন ও প্রস্তুতকৃত গামছা, থ্রি-পিছ, শাড়িসহ সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পকে পুনরুজ্জীবিতকরণে তাঁতে তৈরি শাড়ি, লুঙ্গি ও গামছার দেশে ও বিদেশে বাণিজ্যিকভাবে বাজার সৃষ্টিতে দীর্ঘদিন করে কাজ করে যাচ্ছেন । women and e-commerce forum (WE) এর সহযোগীতায় জান্নাত লোপা নিজস্ব ডিজাইনের তাঁতের থ্রি-পিছ, গামছা, শাড়িসহ শাহজাদপুর ও সিরাজগঞ্জের তাঁতপল্লীতে উৎপাদিত তাঁতবস্ত্র সরবরাহ ও রফতানি করছেন। সেইসাথে তিনি ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প নিয়ে কাজ করা নারী উদ্যোক্তাদের অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছেন এবং করোনাকালীন সময়ে সংকটে পতিত তাঁতশিল্পের প্রসার ও পুনরুজ্জীবিত করতে বিশেষ ভুমিকা পালন করে যাচ্ছেন। এসব অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ নারী উদ্যোক্তা জান্নাত লোপাকে সিরাজগঞ্জ জেলা তাঁত মালিক সমিতি, উপজেলা তাঁতবস্ত্র ব্যবসায় সমিতি, শাহজাদপুর কাপড় হাট কাপড় ব্যবসায়ী সমিতি, তাঁত শ্রমিক ইউনিয়ন, উপজেলা তাঁতী লীগ ও তাঁত বোর্ডের ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ড মাধ্যমিক তাঁতী সমিতির নেতৃবৃন্দ সংবর্ধনা ও বিশেষ সম্মাননা প্রদান করেন।

এদিন সকালে শাহজাদপুরে উপজেলা শহিদ স্মৃতি সম্মেলন কক্ষে জেলা তাঁত মালিক সমিতির সভাপতি ও বাংলাদেশ স্পেশালাইজড টেক্সটাইল মিলস এন্ড পাওয়ারলুম এসোসিয়েশনের পরিচালক বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হায়দার আলীর সভাপতিত্বে ও সাংবাদিক কোরবান আলী লাভলুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সংবর্ধনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রফেসর আজাদ রহমান। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ভাইস চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী, ওসি শাহিদ মাহমুদ খান, শাহজাদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি বিমল কুন্ডু, প্রেস ক্লাব, শাহজাদপুরের সাধারন সম্পাদক ওমর ফারুক, প্রধান শিক্ষক কামরুন্নাহার লাকি, তাঁতী ও শ্রমিক সংগঠনের নেতা আল মাহমুদ, আলমাছ আনছারী, টিপু সুলতান, আবু শামীম সূর্য্য, হায়দার আলী, খসরুজ্জামান খসরু প্রমুখ। বক্তারা বলেন, ‘জান্নাত লোপা দেশে বিদেশে তাঁতবস্ত্রের বাজার সৃষ্টিতে যে ভূমিকা পালন করছেন যা ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পের চরম সংকটময় মুহুর্তে প্রসংশার দাবী রাখে। তার এ কর্মপ্রচেষ্টা শাহজাদপুরসহ সিরাজগঞ্জের তাঁতশিল্পকে আরও সমৃদ্ধশালী করতে বিশেষ ভুমিকা রাখবে।’

এ বিষয়ে women and e-commerce forum (WE) এর মেম্বার ও সাবসক্রাইবার সোনার তরী’র স্বত্বাধিকারী নারী উদ্যোক্তা জান্নাত লোপা বলেন,‘ WEএর সহযোগীতা ও তার স্বামী সবুজ বিপ্লবের উদ্যোক্তা কামরুল হাসান হিরোকের অণুপ্রেরণায় ঐতিহ্যবাহী তাঁতবস্ত্র বিশ্বদরবারে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে তিনি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ কাজে তিনি সকলের দোয়া, ভালোবাসা ও সহযোগীতা কামনা করেন।’

পরে ৬ তাঁতী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও অতিথিবৃন্দ স্ব-স্ব সংগঠনের পক্ষ থেকে নারী উদ্যোক্তা জান্নাত লোপার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।

শাহজাদপুরে নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের ১৪তম প্রয়াণ দিবস পালিত

নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পৌর এলাকার দ্বারিয়াপুর লোদীপাড়ায় বৃহস্পতিবার সকালে দেশ বরেণ্য নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের ১৪ তম প্রয়ান দিবস পালিত হয়েছে। দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল, নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ,আলোচনাসভা,দোয়া মাহফিল ও কবিতা পাঠ। শাহজাদপুরের পূরবী থিয়েটার ও ভোরহোল এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন,শাহজাদপুর পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র মনির আক্তার খান তরু লোদী। বিশেষ অতিথি ছিলেন,শাহজাদপুরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ আনু লোদী,শাহজাদপুর পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত কাউন্সিলর তৌহিদুর রহমান এ্যাপোল। বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী শাহবাজ খান সানির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন,কবি মমতাজ উদ্দিন শেখ,কবি ম.জাহান, সহযোগী অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান মিলন, অধ্যক্ষ জাকারিয়া ইসলাম ঠান্ডু প্রমুখ। এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, মুরাদ লোদী, রফিকুল ইসলাম, সাজ্জাদ হোসেন, সুমন লোদী, স্বাধীন, বায়জিদ, আপন,দীপ্ত প্রমুখ।

সবশেষে প্রয়াত নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। কবিতা পাঠের আসরে কবিতা পাঠ করেন, কবি মমতাজ উদ্দিন শেখ,কবি ম.জাহান, মাহবুবুর রহমান মিলন, জাকারিয়া ইসলাম ঠান্ডু,স্বাধীন প্রমুখ।

করোনা ও বন্যায় অস্তিত্ব সংকটে তাঁতশিল্প; ১ হাজার কোটি টাকা ঋণ প্রদান জরুরী


শাহজাদপুরে তাঁতীদের ৫’শ কোটি টাকার ক্ষতি !

করোনা ভাইরাস ও সাম্প্রতিক বন্যায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে দেশের তাঁতশিল্পের কেন্দ্রবিন্দু শাহজাদপুরের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে তাঁতীরা হারিয়েছে তাদের পুঁজি। আর বন্যায় তাঁত কারখানার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পোকামাকড় কেটেছে কাপড়, তেনাসহ সরঞ্জমাদি। এসব কারণে শাহজাদপুরের তাঁতশিল্পে প্রায় ৫’শ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। গত ৫ মাস ধরে বন্ধ থাকা তাঁত পুঁজি ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে চালু করতে না পারায় ১ লাখেরও বেশী তাঁতী ও শ্রমিকের লোকসান দিনদিন বেড়েই চলেছে।

জানা গেছে, তাঁতসমৃদ্ধ শাহজাদপুরে ১ লাখেরও বেশি পাওয়ারলুম ও ৫০ হাজারের বেশি হ্যান্ডলুম (চিত্তরঞ্জন) রয়েছে। করোনা ও বন্যার কু-প্রভাবে গত ৫ মাসে এলাকার প্রায় ৮০/৯০ হাজার তাঁতই বন্ধ রয়েছে। এতে ১ লাখেরও বেশি তাঁতী ও শ্রমিক বেকায় হয়ে মানবেতরভাবে দিন কাটাচ্ছে। এ মন্দাবস্থার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শাহজাদপুরের অন্য সকল ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীদের ওপর। শাহজাদপুরের তাঁতপল্লীতে তৈরি উন্নতমানের বাহারি ডিজাইনে শাড়ি, লুঙ্গি, ধুতি, থ্র্রি-পিছ এবং গামছা দেশে তাঁতবস্ত্রের চাহিদার সিংহভাগ পূরণ করে আসছে। ভারতসহ বহির্ঃবিশে^র বেশ কয়েকটি দেশেও বছরে হাজার হাজার কোটি টাকার তাঁতবস্ত্র রফতানি হয়ে আসছে। উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ শাহজাদপুর কাপড়ের হাটে তাঁতবস্ত্রের আমদানিকারক, দেশি ক্রেতা, ব্যাপারী ও পাইকারের আগমন শুণ্যপ্রায় হওয়ায় করোনার ক্রান্তিকালের পূর্বে উৎপাদিত তাঁতবস্ত্রের মজুদ অবিক্রিত অবস্থায় রয়েছে। নিরূপায় হয়ে অনেক তাঁতী মজুদকৃত তাঁতবস্ত্র সোহাগপুর, এনায়েতপুর, আতাইকুলা, পোড়াদহ, করটিয়া, বাবুর হাট ও গাউসিয়া হাটে বিক্রির জন্য নিয়ে গিয়েও ক্রেতার অভাবে তা বিক্রি করতে পারছে না। ফলে তারা পুঁজিশূণ্য হয়ে প্রতিনিয়ত হাঁ-হুতাশ করছে। নতুন করে কাঁচামাল ক্রয়, বন্ধ হয়ে যাওয়া তাঁত ও তাঁতকারখানা মেরামত, তাঁতী ও শ্রমিক পরিবারে জীবিকা নির্বাহ, ঋণের কিস্তি ও সুদের ঘানি টানতে গিয়ে দিনে দিনে অথৈ ঋণের মরণ জালে তাঁতীরা আটকা পড়ছে। ফলে দেশের সর্ববৃহৎ কুঁটির শিল্প ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পে অস্তিত্ব সংকটাবস্থা পরিলক্ষিত হচ্ছে।

সরেজমিন পরিদর্শকালে শাহজাদপুর পৌর এলাকার তাঁতপল্লী রূপপুর নতুন পাড়া ও উরির চর মহল্লার মৃত বছির উদ্দিনের ছেলে প্রান্তিক তাঁতী বৃদ্ধ রহমত আলী (৭০) কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বলেন, ‘২টি তাঁত বন্ধ থাকায় ৪ সদস্যের পরিবারের জীবন থমকে দাঁড়িয়েছে। ছেলের উচ্চশিক্ষাও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। ৫ মাসে তার ১ লাখ টাকা লোকসান হওয়ায় পুঁজিশুণ্য ও ঋণগ্রস্থাবস্থায় অবর্ণনীয় কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।’ একইভাবে গত ৫ মাসে এ মহল্লার মৃত আমান মুন্সীর ছেলে শফিকুল ইসলামের ১৬টি তাঁত বন্ধ থাকায় ১০ লাখ টাকা, রূহুল আমিনের ১২টি তাঁত বন্ধ থাকায় ৫ লাখ টাকা, নুরু মিয়ার ছেলে শাহান আলীর ১৪টি তাঁত বন্ধ থাকায় আড়াই লাখ টাকা, আলম কাজীর ১০টি হ্যান্ডলুম ও ৮টি পাওয়ারলুম বন্ধ থাকায় ৬ লাখ টাকা, আব্দুর রহিমের ২টি পাওয়ারলুম বন্ধ থাকায় ১ লাখ টাকা লোকসান গুণতে হয়েছে। হাতে টাকা না থাকায় এসব তাঁতী তাদের বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানা ও তাঁত মেরামত ও কাঁচামাল কিনে তাঁত চালু করতে পারছেন না। এ করুণাবস্থা শুধু এসব তাঁতীদের নয়, শাহজাদপুরের সকল তাঁতীই অর্থ সংকটে পড়েছে। ফলে তাদেরও লোকসানের হার উদ্বেগজনকহারে বাড়ছে।

এসব বিষয়ে গতকাল বুধবার দুপুরে শাহজাদপুর হ্যান্ডলুম ও পাওয়ারলুম এসোসিয়েশনের আহবায়ক তাঁতী নেতা হাজী নজরুল ইসলাম চরম উদ্বেগ আর উৎকন্ঠা প্রকাশ করে জানান, ‘ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প ও তাঁতীদের এমন করুণ দশা জীবদ্দশায় কখনও দেখিনি। এ দুরবস্থা চলতে থাকলে অচিরেই শিল্পটি বিলুপ্ত হয়ে যাবে ও সর্বশান্ত হয়ে যাবে এলাকার লাখ লাখ তাঁতী।’

এদিকে, বাংলাদেশ স্পেশালাইজ টেক্সটাইল এন্ড পাওয়ারলুম ইড্রাষ্ট্রিজ এসোসিয়েশসের উত্তরাঞ্চলের পরিচালক ও সিরাজগঞ্জ জেলা তাঁত মালিক সমিতির সভাপতি কেন্দ্রীয় তাঁতী নেতা বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হায়দার আলী আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, এক সময়ে দেশিয় তাঁতে তৈরি মসলিন জগৎ জুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছিলো। মসলিন তৈরির পথকে চিরতরে রূদ্ধ করতে বৃট্রিশ বোনিয়ারা তাঁতীদের বৃদ্ধাঙ্গুল কেটে দিয়ে নীল চাষে বাধ্য করলেও ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প তখনও টিকে ছিলো। কিন্তু করোনা ভাইরাসের প্রভাব ও এবারের বন্যায় এলাকার তাঁতীদের ক্ষতি সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। গত ৫ মাসে শাহজাদপুরের তাঁতীদের কমপক্ষে ৫’শ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। বিলুপ্তির হাত থেকে তাঁতশিল্পকে রক্ষায় প্রান্তিক তাঁতীদের মাঝে সরকারিভাবে কমপক্ষে ১ হাজার কোটি টাকা সহজ শর্তে ঋণ প্রদান অতীব জরুরী হয়ে পড়েছে।’

চলে গেলেন ভাস্কর মৃণাল হক

দেশের খ্যাতিমান ভাস্কর মৃণাল হক আর নেই। শুক্রবার রাত ২টার দিকে তিনি তার গুলশানের বাসায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬২ বছর।

মৃণাল হকের গ্রাফিক্স ডিজাইনার আলমগীর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মৃণাল হক ডায়াবেটিসসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। শুক্রবার রাতে তার সুগার লেভেল কমে যাওয়ার পাশাপাশি অক্সিজেনের মাত্রাও কমে গিয়েছিল। পরে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ভাস্কর মৃণাল হক ১৯৫৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইন্সটিটিউটে ভর্তি হন। ১৯৮৪ সালে সেখান থেকে তিনি মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।

মৃণাল হক ১৯৯৫ সালে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে এবং সেখানে প্রথম ভাস্কর্যের কাজ শুরু করেন। ২০০২ সালে দেশে ফিরে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। দেশে আসার পর নিজ উদ্যোগে নির্মাণ করেন মতিঝিলের ‘বক’ ভাস্কর্যটি।

২০০৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে নির্মিত গোল্ডেন জুবিলি টাওয়ার তারই শিল্পকর্ম। এ ছাড়া সারা দেশে অনেকগুলো ভাস্কর্যের কাজ করেছেন।

রাজধানীতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ‘রত্নদ্বীপ’,হোটেল শেরাটনের সামনে ‘রাজসিক’,পরীবাগ মোড়ে ‘জননী ও গর্বিত বর্ণমালা’,ইস্কাটনে ‘কোতোয়াল’,সাতরাস্তায় ‘ময়ূর’, এয়ারপোর্ট গোলচত্বরের ভাস্কর্য, নৌ সদর দপ্তরের সামনে ‘অতলান্তিকে বসতি’, সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ের ভাস্কর্য, বঙ্গবাজারে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্যসহ বিভিন্ন শিল্পকর্মের নির্মাতাও তিনি।

ফাইবার গ্লাসের আশ্রয়ে বিশ্ববিখ্যাত কবি, রাষ্ট্রনায়ক থেকে নায়ক-নায়িকা, গায়ক-গায়িকা ও ফুটবলারের প্রতিকৃতি নির্মাণও করেছেন তিনি।

খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী মুর্তজা বশীর আর নেই

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ শনিবার (১৫ আগস্ট) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর৷ শিল্পীর পারিবারিক বন্ধু আলোকচিত্রী মোহাম্মদ আসাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের মেডিক্যাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (এমআইসিইউ) ভর্তি করা হয় মুর্তজা বশীরকে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় এভারকেয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, মুর্তজা বশীরের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া তিনি হৃদরোগ, ফুসফুস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন।

ভাষাবিদ ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর ছেলে চিত্রশিল্পী মুর্তজা বশীর ১৯৩২ সালের ১৭ আগস্ট ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। চিত্রকলায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ১৯৮০ সালে একুশে পদক পান তিনি। একই কাজে স্বাধীনতা পুরস্কার পান ২০১৯ সালে। কর্মজীবনে তিনি দীর্ঘদিন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

বাংলাদেশে বিমূর্ত ধারার চিত্রকলার অন্যতম পথিকৃৎ মুর্তজা বশীরের ‘দেয়াল’, ‘শহীদ শিরোনাম’, ‘পাখা’, ‘রক্তাক্ত ২১শে’ শিরোনামের চিত্রকর্মগুলো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পেইন্টিং ছাড়াও ম্যুরাল, ছাপচিত্রসহ চিত্রকলার বিভিন্ন মাধ্যমে কাজ করেছেন মুর্তজা বশীর। মুদ্রা ও শিলালিপি নিয়ে গবেষণা করেছেন, বইও লিখেছেন ৮৮ বছর বয়সী এ বরেণ্য চিত্রশিল্পী।