করোনা ও বন্যায় অস্তিত্ব সংকটে তাঁতশিল্প; ১ হাজার কোটি টাকা ঋণ প্রদান জরুরী


শাহজাদপুরে তাঁতীদের ৫’শ কোটি টাকার ক্ষতি !

করোনা ভাইরাস ও সাম্প্রতিক বন্যায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে দেশের তাঁতশিল্পের কেন্দ্রবিন্দু শাহজাদপুরের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে তাঁতীরা হারিয়েছে তাদের পুঁজি। আর বন্যায় তাঁত কারখানার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পোকামাকড় কেটেছে কাপড়, তেনাসহ সরঞ্জমাদি। এসব কারণে শাহজাদপুরের তাঁতশিল্পে প্রায় ৫’শ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। গত ৫ মাস ধরে বন্ধ থাকা তাঁত পুঁজি ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে চালু করতে না পারায় ১ লাখেরও বেশী তাঁতী ও শ্রমিকের লোকসান দিনদিন বেড়েই চলেছে।

জানা গেছে, তাঁতসমৃদ্ধ শাহজাদপুরে ১ লাখেরও বেশি পাওয়ারলুম ও ৫০ হাজারের বেশি হ্যান্ডলুম (চিত্তরঞ্জন) রয়েছে। করোনা ও বন্যার কু-প্রভাবে গত ৫ মাসে এলাকার প্রায় ৮০/৯০ হাজার তাঁতই বন্ধ রয়েছে। এতে ১ লাখেরও বেশি তাঁতী ও শ্রমিক বেকায় হয়ে মানবেতরভাবে দিন কাটাচ্ছে। এ মন্দাবস্থার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শাহজাদপুরের অন্য সকল ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীদের ওপর। শাহজাদপুরের তাঁতপল্লীতে তৈরি উন্নতমানের বাহারি ডিজাইনে শাড়ি, লুঙ্গি, ধুতি, থ্র্রি-পিছ এবং গামছা দেশে তাঁতবস্ত্রের চাহিদার সিংহভাগ পূরণ করে আসছে। ভারতসহ বহির্ঃবিশে^র বেশ কয়েকটি দেশেও বছরে হাজার হাজার কোটি টাকার তাঁতবস্ত্র রফতানি হয়ে আসছে। উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ শাহজাদপুর কাপড়ের হাটে তাঁতবস্ত্রের আমদানিকারক, দেশি ক্রেতা, ব্যাপারী ও পাইকারের আগমন শুণ্যপ্রায় হওয়ায় করোনার ক্রান্তিকালের পূর্বে উৎপাদিত তাঁতবস্ত্রের মজুদ অবিক্রিত অবস্থায় রয়েছে। নিরূপায় হয়ে অনেক তাঁতী মজুদকৃত তাঁতবস্ত্র সোহাগপুর, এনায়েতপুর, আতাইকুলা, পোড়াদহ, করটিয়া, বাবুর হাট ও গাউসিয়া হাটে বিক্রির জন্য নিয়ে গিয়েও ক্রেতার অভাবে তা বিক্রি করতে পারছে না। ফলে তারা পুঁজিশূণ্য হয়ে প্রতিনিয়ত হাঁ-হুতাশ করছে। নতুন করে কাঁচামাল ক্রয়, বন্ধ হয়ে যাওয়া তাঁত ও তাঁতকারখানা মেরামত, তাঁতী ও শ্রমিক পরিবারে জীবিকা নির্বাহ, ঋণের কিস্তি ও সুদের ঘানি টানতে গিয়ে দিনে দিনে অথৈ ঋণের মরণ জালে তাঁতীরা আটকা পড়ছে। ফলে দেশের সর্ববৃহৎ কুঁটির শিল্প ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পে অস্তিত্ব সংকটাবস্থা পরিলক্ষিত হচ্ছে।

সরেজমিন পরিদর্শকালে শাহজাদপুর পৌর এলাকার তাঁতপল্লী রূপপুর নতুন পাড়া ও উরির চর মহল্লার মৃত বছির উদ্দিনের ছেলে প্রান্তিক তাঁতী বৃদ্ধ রহমত আলী (৭০) কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বলেন, ‘২টি তাঁত বন্ধ থাকায় ৪ সদস্যের পরিবারের জীবন থমকে দাঁড়িয়েছে। ছেলের উচ্চশিক্ষাও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। ৫ মাসে তার ১ লাখ টাকা লোকসান হওয়ায় পুঁজিশুণ্য ও ঋণগ্রস্থাবস্থায় অবর্ণনীয় কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।’ একইভাবে গত ৫ মাসে এ মহল্লার মৃত আমান মুন্সীর ছেলে শফিকুল ইসলামের ১৬টি তাঁত বন্ধ থাকায় ১০ লাখ টাকা, রূহুল আমিনের ১২টি তাঁত বন্ধ থাকায় ৫ লাখ টাকা, নুরু মিয়ার ছেলে শাহান আলীর ১৪টি তাঁত বন্ধ থাকায় আড়াই লাখ টাকা, আলম কাজীর ১০টি হ্যান্ডলুম ও ৮টি পাওয়ারলুম বন্ধ থাকায় ৬ লাখ টাকা, আব্দুর রহিমের ২টি পাওয়ারলুম বন্ধ থাকায় ১ লাখ টাকা লোকসান গুণতে হয়েছে। হাতে টাকা না থাকায় এসব তাঁতী তাদের বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানা ও তাঁত মেরামত ও কাঁচামাল কিনে তাঁত চালু করতে পারছেন না। এ করুণাবস্থা শুধু এসব তাঁতীদের নয়, শাহজাদপুরের সকল তাঁতীই অর্থ সংকটে পড়েছে। ফলে তাদেরও লোকসানের হার উদ্বেগজনকহারে বাড়ছে।

এসব বিষয়ে গতকাল বুধবার দুপুরে শাহজাদপুর হ্যান্ডলুম ও পাওয়ারলুম এসোসিয়েশনের আহবায়ক তাঁতী নেতা হাজী নজরুল ইসলাম চরম উদ্বেগ আর উৎকন্ঠা প্রকাশ করে জানান, ‘ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প ও তাঁতীদের এমন করুণ দশা জীবদ্দশায় কখনও দেখিনি। এ দুরবস্থা চলতে থাকলে অচিরেই শিল্পটি বিলুপ্ত হয়ে যাবে ও সর্বশান্ত হয়ে যাবে এলাকার লাখ লাখ তাঁতী।’

এদিকে, বাংলাদেশ স্পেশালাইজ টেক্সটাইল এন্ড পাওয়ারলুম ইড্রাষ্ট্রিজ এসোসিয়েশসের উত্তরাঞ্চলের পরিচালক ও সিরাজগঞ্জ জেলা তাঁত মালিক সমিতির সভাপতি কেন্দ্রীয় তাঁতী নেতা বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হায়দার আলী আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, এক সময়ে দেশিয় তাঁতে তৈরি মসলিন জগৎ জুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছিলো। মসলিন তৈরির পথকে চিরতরে রূদ্ধ করতে বৃট্রিশ বোনিয়ারা তাঁতীদের বৃদ্ধাঙ্গুল কেটে দিয়ে নীল চাষে বাধ্য করলেও ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প তখনও টিকে ছিলো। কিন্তু করোনা ভাইরাসের প্রভাব ও এবারের বন্যায় এলাকার তাঁতীদের ক্ষতি সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। গত ৫ মাসে শাহজাদপুরের তাঁতীদের কমপক্ষে ৫’শ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। বিলুপ্তির হাত থেকে তাঁতশিল্পকে রক্ষায় প্রান্তিক তাঁতীদের মাঝে সরকারিভাবে কমপক্ষে ১ হাজার কোটি টাকা সহজ শর্তে ঋণ প্রদান অতীব জরুরী হয়ে পড়েছে।’

চলে গেলেন ভাস্কর মৃণাল হক

দেশের খ্যাতিমান ভাস্কর মৃণাল হক আর নেই। শুক্রবার রাত ২টার দিকে তিনি তার গুলশানের বাসায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬২ বছর।

মৃণাল হকের গ্রাফিক্স ডিজাইনার আলমগীর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মৃণাল হক ডায়াবেটিসসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। শুক্রবার রাতে তার সুগার লেভেল কমে যাওয়ার পাশাপাশি অক্সিজেনের মাত্রাও কমে গিয়েছিল। পরে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ভাস্কর মৃণাল হক ১৯৫৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইন্সটিটিউটে ভর্তি হন। ১৯৮৪ সালে সেখান থেকে তিনি মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।

মৃণাল হক ১৯৯৫ সালে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে এবং সেখানে প্রথম ভাস্কর্যের কাজ শুরু করেন। ২০০২ সালে দেশে ফিরে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। দেশে আসার পর নিজ উদ্যোগে নির্মাণ করেন মতিঝিলের ‘বক’ ভাস্কর্যটি।

২০০৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে নির্মিত গোল্ডেন জুবিলি টাওয়ার তারই শিল্পকর্ম। এ ছাড়া সারা দেশে অনেকগুলো ভাস্কর্যের কাজ করেছেন।

রাজধানীতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ‘রত্নদ্বীপ’,হোটেল শেরাটনের সামনে ‘রাজসিক’,পরীবাগ মোড়ে ‘জননী ও গর্বিত বর্ণমালা’,ইস্কাটনে ‘কোতোয়াল’,সাতরাস্তায় ‘ময়ূর’, এয়ারপোর্ট গোলচত্বরের ভাস্কর্য, নৌ সদর দপ্তরের সামনে ‘অতলান্তিকে বসতি’, সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ের ভাস্কর্য, বঙ্গবাজারে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্যসহ বিভিন্ন শিল্পকর্মের নির্মাতাও তিনি।

ফাইবার গ্লাসের আশ্রয়ে বিশ্ববিখ্যাত কবি, রাষ্ট্রনায়ক থেকে নায়ক-নায়িকা, গায়ক-গায়িকা ও ফুটবলারের প্রতিকৃতি নির্মাণও করেছেন তিনি।

খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী মুর্তজা বশীর আর নেই

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ শনিবার (১৫ আগস্ট) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর৷ শিল্পীর পারিবারিক বন্ধু আলোকচিত্রী মোহাম্মদ আসাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের মেডিক্যাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (এমআইসিইউ) ভর্তি করা হয় মুর্তজা বশীরকে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় এভারকেয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, মুর্তজা বশীরের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া তিনি হৃদরোগ, ফুসফুস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন।

ভাষাবিদ ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর ছেলে চিত্রশিল্পী মুর্তজা বশীর ১৯৩২ সালের ১৭ আগস্ট ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। চিত্রকলায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ১৯৮০ সালে একুশে পদক পান তিনি। একই কাজে স্বাধীনতা পুরস্কার পান ২০১৯ সালে। কর্মজীবনে তিনি দীর্ঘদিন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

বাংলাদেশে বিমূর্ত ধারার চিত্রকলার অন্যতম পথিকৃৎ মুর্তজা বশীরের ‘দেয়াল’, ‘শহীদ শিরোনাম’, ‘পাখা’, ‘রক্তাক্ত ২১শে’ শিরোনামের চিত্রকর্মগুলো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পেইন্টিং ছাড়াও ম্যুরাল, ছাপচিত্রসহ চিত্রকলার বিভিন্ন মাধ্যমে কাজ করেছেন মুর্তজা বশীর। মুদ্রা ও শিলালিপি নিয়ে গবেষণা করেছেন, বইও লিখেছেন ৮৮ বছর বয়সী এ বরেণ্য চিত্রশিল্পী।

শাহজাদপুরে বঙ্গবন্ধু’র শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫ তম শাহাদৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে । বৃহস্পতিবার (১৩ আগষ্ট) সকাল ১১ টায় শাহজাদপুর উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে স্থানীয় নজরুল সাংস্কৃতিক পরিষদ কার্যালয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে আবৃত্তি, সংগীত, চিত্রাংকন ও বঙ্গবন্ধু’র ভাষণ বিষয়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় । উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা আবৃত্তি, সংগীত, চিত্রাংকন এবং বঙ্গবন্ধুর ভাষণ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে । শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মোঃ শামসুজ্জোহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব কাজী শওকত, এ এ শহীদুল্লাহ বাবলু, বায়েজীদ হোসেন ও কোরবান আলী লাভলু । বর্ণমালা আবৃত্তি সংগঠন, উচ্চারণ আবৃত্তি সংগঠন, অক্ষর আবৃত্তি শিক্ষা একাডেমি, শাহজাদপুর থিয়েটার ও নজরুল সাংস্কৃতিক পরিষদের সার্বিক সহযোগিতায় এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় ।

চলচ্চিত্রে রবীন্দ্রনাথ

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মের ৩৪ বছর পর চলচ্চিত্রের উদ্ভাবন হয়। এরপর গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের জন্য রবীন্দ্রনাথের নোবেল বিজয়ে আন্তর্জাতিকভাবে সবার দৃষ্টি কাড়ে বাংলা সাহিত্য। তার সৃষ্টি নিয়ে নাটক, সিনেমা তৈরি করা হয়েছে অনেক। যার অধিকাংশই বিখ্যাত।

মিলন: বিখ্যাত পরিচালক নিতিন বোষ ১৯৪৫-৪৬ সালে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘নৌকা ডুবি’ উপন্যাসের কাহিনী অবলম্বনে মিলন সিনেমাটি নির্মাণ করেন। সিনেমাটিতে অভিনেতা হিসেবে ছিলেন দিলীপ কুমার। আর এটিই ছিল দিলীপ কুমারের প্রথম সার্থক সিনেমা।

কাবুলিওয়ালা: কবির চমৎকার সৃষ্টি ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পের উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ ভারত দুই দেশেই ‘কাবুলিওয়ালা’ নামেই সিনেমা নির্মিত হয়েছে। ১৯৬১ সালে বিমল রায় কাবুলিওয়ালা সিনেমা তৈরি করেন। সিনেমাটি খুবই বিখ্যাত হয়। এতে কাবুলিওয়ালার ছোট বাচ্চাকে স্মরণ করতে দেখা গেছে। এতে অভিনয় করেছিলেন বলরাজ সহানী। আমাদের দেশে ২০০৬ সালে কাজী হায়াৎ নির্মিত সিনেমায় চমৎকার অভিনয় করেছিলেন আমার প্রিয় নায়ক প্রয়াত মান্না।

উপহার: রবীন্দ্রনাথের ছোট গল্প ‘সমাপ্তি’ এর উপর ভিত্তি করে রচিত হয় ‘উপহার’ নামক সিনেমাটি। ১৯৭১ সালে সুধেন্দু’র নির্দেশনায় এটি নির্মিত হয়েছিল। প্রধান অভিনেত্রী ছিলেন জয়া বচ্চন। রবীন্দ্রনাথের এই কাজের মাঝে সৌন্দর্য ও সম্পর্কের গভীরতার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা হয়।

চার অধ্যায়: উপন্যাস ‘চার অধ্যায়’ অবলম্বনে ১৯৯৭ সালে নির্মিত হয় চার অধ্যায় সিনেমাটি। এতে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহের চিত্র ফুঁটে উঠেছিল। নন্দিনী ঘোষাল ও সুমন্ত চট্টপাধ্যায় অভিনীত এই সিনেমাটির পরিচালনায় ছিলেন কুমার সাহনী।

ঘরে বাইরে: উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এই ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৮৪ সালে। এই ছবিতে অভিনয় করেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, ভিক্টর বন্দ্যোপাধ্যায়, জেনিফার কাপুর ও স্বাতীলেখা সেনগুপ্ত। এই ছবির বিষয়বস্তু নারীমুক্তি, যা সত্যজিতের বহু ছবিতে বহু ভাবে উঠে এসেছে। নারীর মুক্তিকামনার তার ভালবাসার পাত্রকে কিভাবে স্পর্শ করে, তা এই ছবিতে বিশেষভাবে পরিস্ফুট।

চারুলতা: সত্যজিৎ রায় পরিচালিত কবির নষ্টনীড় অবলম্বনে এর চিত্রনাট্য রচিত হয়েছে। ১৯৬৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই চলচ্চিত্রটি ইংরেজিভাষী বিশ্বে The Lonely Wife নামে পরিচিত। ১৮৭৯ সালের উচ্চবিত্ত এক বাঙালি পরিবারকে কেন্দ্র করে এর কাহিনী রচিত হয়েছে। এতে অভিনয় করেছেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, মাধবী মুখোপাধ্যায়, শৈলেন মুখোপাধ্যায়, শ্যামল ঘোষাল।

চোখের বালি: উপন্যাসের বিষয় সমাজ ও যুগযুগান্তরাগত সংস্কারের সঙ্গে ব্যক্তিজীবনের বিরোধ। আখ্যানভাগ সংসারের সর্বময় কর্ত্রী মা, এক অনভিজ্ঞা বালিকাবধূ, এক বাল্যবিধবা ও তার প্রতি আকৃষ্ট দুই পুরুষকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। ১৯০৪ সালে অমরেন্দ্রনাথ দত্ত এই উপন্যাসের নাট্যরূপ দেন। ১৯৩৮ সালে অ্যাসোসিয়েট পিকচার্সের প্রযোজনায় চোখের বালি অবলম্বনে নির্মিত হয় চলচ্চিত্রটি। ২০০৩ সালে সে বিশিষ্ট পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষও চোখের বালি উপন্যাস অবলম্বনে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন। চোখের বালি ইংরেজি (২ বার), হিন্দি ও জার্মান ভাষায় অনূদিত হয়।

নৌকা ডুবি: চলচ্চিত্রটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর একই নামের উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি করা হয়েছে। এটি একটি সামাজিক এবং গভীর আবেগপ্রবণ একটি চলচ্চিত্র। ঋতুপর্ণ ঘোষ পরিচালিত বাংলা চলচ্চিত্র নৌকাডুবি জানুয়ারি ২০১১-তে মুক্তি পায়। এতে প্রধান চরিত্রে রাইমা ও রিয়া সেন অভিনয় করেন।

ছবি ও তথ্য – ইন্টারনেট

কবিগুরুর ৭৯তম প্রয়াণ দিবস আজ

আজ বাইশে শ্রাবণ। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৯তম প্রয়ান দিবস। কর্মের বিপুলতায় তিনি হয়ে রয়েছেন মৃত্যুঞ্জয়ী। তার বহুমুখী সৃষ্টিশীলতায় বাঙালি পেয়েছে আত্মপরিচয়ের সন্ধান। আনন্দ, বেদনা, প্রেরনা, উৎসব, সংকট আর উত্তরণের উৎসও তিনি। সমকালে এবং সকল সংকটে রবীন্দ্রনাথ এখনো প্রাসঙ্গিক।

নৈবেদ্য কাব্যগ্রন্থে ‘মৃত্যু’ কবিতায় কবিগুরু বলেছেন, মৃত্যু অঞ্জাত মোর, আজি তার তরে ক্ষণে ক্ষণে শিহরিয়া কাঁপিতেছি ডরে, এতো ভালোবাসি বলে হয়েছে প্রত্যয় মৃত্যুরে আমি ভালোবাসিব নিশ্চয়….

মৃত্যু নিয়ে অনেক ভেবেছেন কবিগুরু। তার অধিকাংশ কবিতা এবং গানে পরমাত্মায় নিবিষ্ট হওয়ার গভীর আকুতি দেখা যায়। মৃত্যুচিন্তার ভেতর থেকেও মৃত্যুর নান্দনিক দিকটির উন্মোচন ঘটিয়েছেন তিনি। তাই তো আশি বছর বয়সে চলে গেলেও মৃত্যু তার দেহান্তর হয়ে রয়েছে মাত্র।

রবীন্দ্রনাথ বিশ্বতানকে জীবনের গানে মেলাবার চেষ্টা করেছেন। রচনা করেছেন দু:খের গান যা শুনলে মন অনন্তের পানে ধেয়ে যায়..

বিচিত্র বিষয়ে চিন্তায় অবগাহন রবীন্দ্রনাথের নিত্যকর্মেরই অংশ। বাংলা সাহিত্যের অনেক কিছুরই প্রথম রীপকার তিনি। বাংলা গদ্যের আধুনিকায়নের পথিকৃৎ রবিঠাকুর ছোট গল্পেরও স্রষ্টা। শুধু সাহিত্য-সংস্কৃতি নয়, রাজনীতি ও সমাজনীতির ছন্দও তার সৃষ্টিকর্মে উঠে এসেছে নান্দনিকতা নিয়ে। বাঙালির নিত্যদিনে এখনও সমান প্রসঙ্গিক রবীন্দ্রনাথ।

মৃত্যু বাঙালির কাছ থেকে দূরে নিয়ে যেতে পারেনি এই মহাপ্রাণকে। অর্ন্তগত উপলব্ধি দিয়ে তিনি ছাড়িয়ে গেছেন মৃত্যু ও নশ্বরতার সীমানা।

পুঁজির যোগান দিতে না পারায় শতকরা ৭০ ভাগ তাঁত বন্ধ


করোনা ও বন্যায় শাহজাদপুরে লক্ষাধিক তাঁতী ও শ্রমিকের মানবেতর দিনযাপন

করোনা ও বন্যায় দেশের তাঁতশিল্পের কেন্দ্রবিন্দু সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার প্রায় লক্ষাধিক তাঁত মহাজন ও শ্রমিকেরা মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। করোনা ও বন্যা ছাড়াও বৃষ্টিপাতজণিত কারণে পুঁজি সংকটে কারখানায় তাঁতবস্ত্র উৎপাদন বন্ধ, তাঁতবস্ত্র উৎপাদনের সকল কাঁচামাল ও উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি, চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ শাহজাদপুর কাপড়ের হাটে বেঁচাকেনায় চরম মন্দাভাব, বিভিন্ন এনজিও, সুদখেকো সুদ ব্যবসায়ী, সমিতি ও ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের বোঝা বহন, ক্রয়-ক্ষমতা হ্রাস, তাঁতবস্ত্র উৎপাদনের নায্য মজুরি প্রাপ্তিতে বঞ্চিতসহ নানাবিধ কারণে শাহজাদপুর উপজেলার চির অবহেলিত, চির পতিত, চির অপাংক্তেয় প্রায় লক্ষাধিক তাঁত মহাজন ও শ্রমিকের বুক ফাঁটলেও মুখ ফোঁটেনা। এসব তাঁতী ও শমিকের বিচারের বাণী নিরবে নিভৃতে কাঁদছে। দেখার কেউ নেই। নেই পাশে কেউ।
জানা গেছে, শাহজাদপুর উপজেলার পৌর এলাকাসহ ১৩টি ইউনিয়নে প্রায় দেড় লাখ তাঁত রয়েছে। তন্মদ্ধে প্রায় ১ লাখ পাওয়ারলুম ও প্রায় ৫০ হাজার হ্যান্ডলুম ও প্রায় ১ লাখ শ্রমিক রয়েছে। লকডাউন ঘোষিত সময়কালে শাহজাদপুরের সকল তাঁত কারখানা বন্ধ ছিলো। এ দীর্ঘ সময়ে এলাকার তাঁতীরা কোনরূপ তাঁতবস্ত্র উৎপাদন বা উৎপাদিত বস্ত্র হাট বাজারে বিক্রি করতে পারেনি। এ সময় বাধ্য হয়ে তাঁত মালিকেরা অনেকেই পুঁজি ভেঙ্গে ফেলেছেন আবার অনেকেই ঋণপানে জর্জরিত হয়েছেন। লকডাউন তুলে নেয়ার পর তাঁত মালিকেরা তাদের তাঁত কারখানা চালু করার অনুমতি পেলেও পরবর্তীতে পুঁজি না থাকায় তা চালু করা সম্ভব হয়নি। কেউ কেউ ধারদেনা করে তাঁত কারখানায় বস্ত্র উৎপাদনের চেষ্টা করলেও উৎপাদিত তাঁতবস্ত্র হাটে বিক্রি করতে না পেরে পুনরায় তাঁত বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। গত কয়েক মাস ধরে বিরাজমান করোনা ভাইরাসের প্রভাবে তীব্র পুঁজি সংকটে পড়ে এলাকার প্রায় ৬০ ভাগ তাঁত বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে তাঁতী মহাজন। বন্ধ হয়ে যাওয়া তাঁত কারখানার হাজার হাজার তাঁত শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে তারা খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। তার পরেও ‘মরার ওপর খারার ঘা’ এর মতোই চলমান করোনা সংকটের সাথে ভয়াবহ বন্যায় এলাকার অসংখ্য তাঁত কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এসব কারখানার তাঁত শ্রমিকদের জীবনজীবীকার প্রশ্নে তারা চরম অনিশ্চয়তা, উদ্বেগ আর উৎকন্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন।
শাহজাদপুর পৌর এলাকার রূপপুর নতুনপাড়া মহল্লার রাকিব উইভিং ফ্যাক্টরির মালিক হাজী ওমর, আজাদ উইভিং ফ্যাক্টরির মালিক আজাদ জানান,‘লকডাউনের পর থেকে হাজী ওমরের তাঁত কারখানার মোট ১৪টি পাওয়ারলুম ও ৪টি হ্যান্ডলুম এবং তার ভাই আব্দুস সালামের তাঁত কারখানার মোট ১০টি পাওয়ারলুম ও ৪টি হ্যান্ডলুম ও তাঁতী আজাদের আজাদ উইভিং ফ্যাক্টরির ৯টি পাওয়ারলুম ও ৩৭টি হ্যান্ডলুমে তাঁতবস্ত্র উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ থাকে। পরবর্তীতে লকডাউন তুলে নেয়া হলেও পুঁজি না থাকায় এ ৩ কারখানার সবগুলো তাঁতই বন্ধ রয়েছে।’ তারা আরও বলেন,‘শ্রমিকেরা কারখানায় কাজ করতে আসলেও লকডাউনের আগে মজুদকৃত তাঁতবস্ত্র হাটে বিক্রি করতে না পারায় শ্রমিকদের মজুরী দেয়া সম্ভব নয় বলে উৎপাদনে যেতে পারছি ন।’
শাহজাদপুর কাপড়ের হাট তাঁত মালিক সমিতির সভাপতি আলমাছ আনসারী বলেন, ‘দীর্ঘ সময় উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ শাহজাপদুর কাপড়ের হাটে লেনদেন বন্ধ থাকার পর লকডাউন তুলে নেয়ার পরও স্বাভাবিক মাত্রায় ব্যাপারী পাইকার হাটে না আসায় তাঁতীরা তাদের তাঁতবস্ত্র বিক্রি করতে পারছে না। এতে তাঁতীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। ফলে ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প ভয়াবহ বিপর্যয়ে পড়েছে।’
শাহজাদপুর তাঁত শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি তাঁতী ওমর ফারুক ও সাধারন সম্পাদক আল-মাহমুদ জানান, ‘করোনার সাথে বৃষ্টি-বন্যাসহ নানাবিধ প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন উর্ধ্বগতিতে তাঁত শ্রমিকদের জীবনযাত্রার সার্বিক ব্যায় বৃদ্ধি, নায্য মজুরি পাওয়া থেকে বঞ্চিত, ঋনের কিস্তির ঘানি টানাসহ বহুবিধ কারণে শাহজাদপুর উপজেলায় কর্মরত প্রায় ১ লাখ তাঁত শ্রমিকের সিংহভাগই অতিকষ্টে দিনযাপন করছে। ইতিমধ্যেই করোনা ও বন্যার প্রভাবে তীব্র পুঁজি সংকট সৃষ্টি হওয়ায় সিংহভাগ তাঁত কারখানার মালিকেরা চোখে মুখে রীতিমতো সর্ষের ফুল দেখায় তাঁত বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। সইসাথে বেকার তাঁত মহাজন ও শ্রমিকদের সংখ্যাও উদ্বেগজনকহারে বেড়েছে।’
বাংলাদেশ স্পেশালাইজ টেক্সটাইল মিলস এন্ড হ্যান্ডলুম ওনার্স এসোসিয়েশনের পরিচালক ও সিরাজগঞ্জ জেলা তাঁত মালিক সমিতির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হায়দার আলী জানান, ‘অতীতে দেশীয় তাঁতে তৈরি ঢাকাই মসলিন জগৎজোড়া খ্যাতি অর্জন করেছিলো। বৃট্রিশ বোনিয়ারা মসলিন তৈরির পথকে চিরতরে রূদ্ধ করতে তাঁতীদের বৃদ্ধাঙ্গুল কেটে দিয়ে নীল চাষে বাধ্য করে। এরপর থেকে তাঁতশিল্পের গৌরব ও ঐতিহ্য ম্লান হতে থাকে। স্বাধীনতার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পৃষ্ঠপোষকতায় তাঁতশিল্প নতুন করে ঘুড়ে দাঁড়াতে শুরু করে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে তাঁতীদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প বেশ সম্ভাবনাময় শিল্পে উপনীত হয়। সারাদেশে তাঁতবস্ত্রের চাহিদা মিটিয়ে ভারত, ইংল্যাড, ইটালীসহ বর্হিঃবিশে^র বিভিন্ন দেশে তাঁতবস্ত্র রফতানীর মাধ্যমে প্রতি বছর প্রচুর পরিমান বৈদশিক মুদ্রা অর্জিত হতে থাকে। কিন্তু করোনা ভাইরাসের ক্রান্তিকালে ও ভয়াবহ বন্যার প্রভাবে এলাকার অসংখ্য তাঁতকারখানা বন্ধ থাকায় তাঁতীরা তীব্র পুঁজি সংকটে পড়ে। লকডাউন উঠে গেলেন পুঁজির যোগান দিতে না পারায় শাহজাদপুরের শতকরা ৭০ ভাগ তাঁত পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দেড় লাখ তাঁত মালিক ও শ্রমিকদের ভাগ্যাকাশে দেখা দেয় কালো মেঘের ঘণঘটা।’
এ বিষয়ে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড শাহজাদপুর বিসিক শাখার টিএফসি ব্যবস্থাপক মোঃ শরীফ আল মাহমুদ বলেন,‘করোনার প্রভাবে পূঁজি হারানো ২’শ ৭৯ জন প্রান্তিক তাঁতীর আবেদনের প্রেক্ষিতে তাঁতী প্রতি দেড় লাখ থেকে দুই লাখ টাকা ৫% সরল সুদে ৩ বছর মেয়াদে ঋণ প্রদানের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে, লক্ষাধিক প্রান্তিক তাঁতীর মধ্যে মাত্র ২’শ ৭৯ জন প্রান্তিক তাঁতীকে পুঁজির যোগান দেয়া হলে ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পে চলমান সংকট কতটুকু লাঘব হবে, তা নিয়ে এলাকার তাঁত মহাজন ও শ্রমিকেরা সংশয়ে পড়েছে।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বিংশ শতাব্দীর একজন বিশিষ্ট বাঙালি সাহিত্যিক ছিলেন। বাংলা ভাষার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কথাসাহিত্যিক, ঔপন্যাসিক ও গল্পলেখক। ১৮৯৮ সালের ২৪ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

তার সামগ্রিক সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে ৬৫টি উপন্যাস, ৫৩টি গল্পগ্রন্থ, ১২টি নাটক, ৪টি প্রবন্ধের বই, ৪টি আত্মজীবনী এবং ২টি ভ্রমণ কাহিনী। এই বিশিষ্ট সাহিত্যিক রবীন্দ্র পুরস্কার, সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার, জ্ঞানপীঠ পুরস্কার এবং পদ্মভূষণ পুরস্কারে পুরস্কৃত হন।

তারাশঙ্করের রচনার আর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য-তিনি পরম যত্নের সঙ্গে মানুষের মহত্ত্বকে তুলে ধরেছেন। শরৎচন্দ্রের পরে কথাসাহিত্যে যাঁরা সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছেন, তারাশঙ্কর ছিলেন তাঁদের একজন। বিশেষ করে তার রচিত ছোট গল্পগুলো একেকটি হীরকখন্ডতুল। তিনি বাংলা ছোটগল্পের অন্যতম প্রধান কারিগর ও নির্মাতা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছোটগল্প রচনায় হাত না দিলে হয়তো তারাশঙ্করই হতেন বাংলা ছোটগল্পের জনক।

তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়ের ‘দুই পুরুষ’, ‘কালিন্দী’, ‘আরোগ্য নিকেতন’, ‘জলসাঘর’, ‘অভিযান’ ও ‘বেদেনি’ অবলম্বনে চলচ্চিত্রও নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে ‘জলসাঘর’ ও ‘অভিযান’ ছবিটি পরিচালনা করেছেন প্রখ্যাত চলচিত্রকার সত্যজিৎ রায়।

তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায় তাঁর কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ বেশ কিছু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ‘শরৎস্মৃতি পুরস্কার’ (কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৪৭), ‘জগত্তারিণী স্বর্ণপদক’ (কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৫৬), আরোগ্য নিকেতনের জন্য ‘রবীন্দ্র পুরস্কার’ (পশ্চিমবঙ্গ সরকার, ১৯৫৫), একই উপন্যাসের জন্য ‘সাহিত্য একাডেমী পুরস্কার’ (১৯৫৬), ‘জ্ঞানপীঠ পুরস্কার’ (১৯৬৭) এবং ভারত সরকার কর্তৃক ‘পদ্মশ্রী’ (১৯৬২) ও ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৬৮) উপাধি লাভ করেন।

করোনায় আক্রান্ত সিরাজগঞ্জের সংস্কৃতিমনা ব্যাক্তিত্ব প্রদীপ সাহা

সংস্কৃতিমনা ব্যাক্তিত্ব প্রদীপ সাহা

ফারাজ আইয়াজ স্মৃতি পরিষদ সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি প্রদীপ সাহা করোনা পজিটিভ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, তিনি করোনা পজিটিভ হয়েছেন। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়া হয়েছে।

উল্লেখ, প্রদীপ সাহা কালেরকন্ঠ শুভসংঘ সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার উপদেষ্টা হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি অন্যান্য সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে তিনি যুক্ত রয়েছে।

এ বিষয়ে কালেরকন্ঠ শুভসংঘ সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ডা. নিত্য রঞ্জন পাল ও সাধারণ সম্পাদক হোসেন আলী ছট্রু সকলের কাছে দোয়া চেয়েছে।

মুঠোফোনে কালেরকন্ঠ শুভসংঘ বেলকুচি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শাকিল আহমেদ শুভ বলেন, প্রদীপ দাদা আত্নমানবতার প্রতি নিবেদিত প্রাণ। তিনি করোনা মহামারিতে জনসাধারণকে সচেতন সহ সুরক্ষা সামগ্রী ও হোমিওপ্যাথিক আর্সেনিক ৩০ বিতরণ করেছে। আমি তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। আশাকরি তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে ফিরে আসবেন আমাদের মাঝে।

বাংলা একাডেমির নতুন সভাপতি শামসুজ্জামান খান

বাংলা একাডেমির সভাপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক মহাপরিচালক খ্যাতিসম্পন্ন ফোকলোরবিদ ও গবেষক শামসুজ্জামান খান।আজ রোববার সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় শামসুজ্জামান খানকে তিন বছরের জন্য একাডেমির সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়ে আদেশ জারি করেছে। সভাপতির দায়িত্ব এবং অন্যান্য কার্যাবলি ‘বাংলা একাডেমি আইন-২০১৩’ অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত হবে।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১৩ ডিসেম্বর থেকে বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। গত ১৪ মে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এদিকে সভাপতি হিসেবে নিয়োগের বিষয়টি জেনেছেন তবে আদেশের চিঠি হাতে পাননি বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন শামসুজ্জামান খান।

শামসুজ্জামান খান টানা ১০ বছর বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার জন্ম মানিকগঞ্জ জেলায় ১৯৪০ সালে। রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ স্বাধীনতা পদক এবং একুশে পদক পেয়েছেন তিনি।

বাংলা একাডেমি ছাড়াও তিনি ১৯৯৭ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন।