রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ’র সিনেট সদস্য মনোনীত হলেন ৫ শিক্ষক

সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুরে স্থাপিত রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ’র সিনেট সদস্য মনোনীত হলেন ৫ শিক্ষক। এরা হলেন, রবীন্দ্র অধ্যায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান লায়লা ফেরদৌস হিমেল, ম্যানেজমেন্ট অধ্যায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান শারমিন আক্তার, সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান মো. রওশন আলম, অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক মোঃ নজরুল ইসলাম এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যায়ন বিভাগের শিক্ষক জান্নাতুল মাওয়া মুন। মঙ্গলবার রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ এর রেজিস্টার মোঃ সোহরাব আলী স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত পত্র মনোনীত ওই ৫ শিক্ষক হাতে পেয়ে উপাচার্য ড. বিশ্বজিৎ ঘোষসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন মনোনীত শিক্ষকেরা। রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৮ (১) ঝ ধারা মোতাবেক এ ৫ শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী সিনেট সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে বলে জনসংযোগ কর্মকর্তা শাহ আলী জানিয়েছেন।

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ এর জনসংযোগ দপ্তরের পাবলিক রিলেশন অফিসার মোঃ শাহ্ আলী এসব তথ্য নিশ্চিত করেন


ইউজিসি’র সাথে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি

উচ্চ শিক্ষায় সুশাসন ও সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে মঙ্গলবার বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সাথে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ’র বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। উক্ত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ’র রেজিস্ট্রার মোঃ সোহরাব আলী এবং বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তির ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালক মোঃ গোলাম সরোয়ার। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ইউজিসি অডিটরিয়ামে চলতি অর্থবছরের চুক্তি সম্পাদন এবং ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের এপিএ’র মূল্যায়ন সভা অনুষ্ঠিত হয়। ২০২০-২০২১ অর্থবছরের জন্য গত দুইদিন ১ম ও ২য় পর্র্যায়ে ইউজিসি’র সঙ্গে ২৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সরকারি কর্মকান্ডে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি, সম্পদের সুষম ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উন্নয়নের লক্ষ্যে এপিএ প্রবর্তন করা হয়। কমিশনের সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. ফেরদৌস জামান এর সভাপতিত্বে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ। অনুষ্ঠানে ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. দিল আফরোজা বেগম, অধ্যাপক ড. মোঃ সাজ্জাদ হোসেন, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর, অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ এবং অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। কমিশনের সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর রেজিস্ট্রারবৃন্দ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে প্রধান অতিথির ভাষণে অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, নিয়ম-শৃঙ্খলা ও মানসম্পন্ন প্রশাসন উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। উচ্চশিক্ষাকে এগিয়ে নিতে সুশাসন অবশ্যই প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারও নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের কষ্টের টাকা কোনক্রমেই অপচয় করা যাবে না। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে আইন শৃঙ্খলা মেনে দক্ষ ভূমিকা রাখতে হবে। আইনের ব্যত্যয় হলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তির সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে। উক্ত অনুষ্ঠানে ১৯ টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, এপিএ’র ফোকাল পয়েন্ট এবং ইউজিসি’র কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ এর জনসংযোগ দপ্তরের পাবলিক রিলেশন অফিসার মোঃ শাহ্ আলী এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
উল্লেখ্য, ২০১৬-২০১৭ অর্থবছর থেকে ইউজিসি প্রতিবছর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এ চুক্তি স্বাক্ষর করে আসছে।

ঢাবিতে ‘র‍্যাগ ডে’ নিষিদ্ধ করলো প্রশাসন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষা সমাপনীতে ‘র‌্যাগ ডে’ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের এক সভায় একে ‘অমানবিক, নিষ্ঠুর ও নীতিবহির্ভুত উৎসব’ আখ্যা দিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে প্রশাসনিক ভবনস্থ অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে ভার্চুয়াল প্লাটফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে একাডেমিক কাউন্সিলের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সভায় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যানবৃন্দ, ইন্সটিটিউটের পরিচালকবৃন্দসহ একাডেমিক পরিষদের তিন শতাধিক সদস্য সংযুক্ত ছিলেন।
এছাড়া, সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি অনুষদে ’ইথিক্যাল রিভিউ কমিটি’ গঠন করার সুপারিশ করা হয়। সভায় অনুষদ, বিভাগ, ইন্সটিটিউটকে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে সমন্বিত ভাবে অসমাপ্ত পরীক্ষাসমূহ গ্রহণ ও চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের অনুমোদন দেয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তি ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে মৌলিক গবেষণা প্রকল্প গ্রহণ ও গবেষণাধর্মী প্রকাশনার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

উল্লেখ্য, নিজেদের স্নাতক বা স্নাতকোত্তর শ্রেণির পাঠ্য কার্যক্রম শেষে শিক্ষার্থীরা একটি দিনে নেচে গেয়ে, রঙ মেখে আনন্দ-উল্লাসের মাধ্যমে তা উদযাপন করেন। অনেক সময় এতে উচ্চ শব্দে গান বাজানো হয়। ফলে অনেক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, এতে ক্যাম্পাসের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হয়।

বিডি প্রতিদিন

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার মতো পরিবেশ এখনো হয়নি : শিক্ষামন্ত্রী

করোনা পরিস্থিতির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার মতো অনুকূল পরিবেশ এখনো হয়নি বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডাক্তার দীপু মনি।

বৃহস্পতিবার বিকালে, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইন্সটিটিউটে জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। এ সময় বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল জানিয়ে দীপু মনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কখনই মুছে ফেলা যায়নি।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডক্টর হারুন অর রশীদ। বঙ্গবন্ধুর ঘাতকদের বিচারের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা খন্দকার মোশতাক ও জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচারের দাবি করেন বক্তারা।

করোনায় স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. লতিফের মৃত্যু

করোনায় মারা গেলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অল্টারনেটিভ মেডিসিন কেয়ার (এএমসি) পরিচালক ডা. এফ বি এম আবদুল লতিফ।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) দুপুর সোয়া ১২টায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।

আবদুল লতিফ রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের ২২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও ৩৮তম বিসিএস (স্বাস্থ্য ক্যাডার) কর্মকর্তা।

তার মৃত্যুতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা/কর্মচারীরা তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং তার শোক-সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন ও তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেছেন।

এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজ নিজস্ব জায়গায় স্থানান্তরের নির্দেশ

ফাইল ছবিঃ ডাঃ দীপু মনি

দেশের যেসব এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভাড়াবাড়িতে স্থাপিত সেগুলো নিজস্ব জায়গায় স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। ৪ আগস্ট, মঙ্গলবার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিও নীতিমালা (সংশোধিত) ২০২০-এর ওপর এক ভার্চুয়াল সভায় এই নির্দেশনা দেন তিনি।

এ বিষয়ে ডা. দীপু মনি বলেন, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব জমি নেই সেসব প্রতিষ্ঠানকে ভবিষ্যতে আর এমপিও প্রদান করা হবে না। ভাড়াবাড়িতে এমপিওভুক্ত সব প্রতিষ্ঠানকে পাঁচ বছরের মধ্যে নিজস্ব জায়গায় স্থানান্তর হতে হবে।

তিনি আরো বলেন, কোনো ট্রাস্ট বা সংস্থা দ্বারা পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ট্রাস্ট বা সংস্থার সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে এমপিওভুক্ত করা হবে। এ ধরণের যেসব প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে এমপিওভুক্ত হয়েছে, ট্রাস্ট যদি না চায় তাহলে সেসব প্রতিষ্ঠানের এমপিও বাতিল করা হবে। ওইসব প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা চাইলে অন্য এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে পারবেন। অথবা আগের প্রতিষ্ঠানে থেকে যেতে পারবেন।

শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, ভবিষ্যতে ট্রাস্টের কোনো প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করলে ট্রাস্টের পূর্বানুমোদন নিতে হবে।

শিক্ষামন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই ভার্চুয়াল সভায় শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এমপি, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেনসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যুক্ত ছিলেন।

রোববার একাদশে ভর্তির আবেদন শুরু

ফাইল ছবি

আগামী রোববার (৯ আগস্ট) থেকে শুরু হচ্ছে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে অনলাইন ভর্তির কার্যক্রম।

ভর্তিচ্ছুদের জন্য সাধারণ নির্দেশনা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটি।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতি ও ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মু. জিয়াউল হক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেয়া হয়।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগামী ৯-২০ আগস্টের মধ্যে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য ইন্টারনেটের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে; তবে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে অনলাইন সার্ভিস ও কল সেন্টার বন্ধ থাকবে।

নগদ/সোনালী ব্যাংক/টেলিটক/বিকাশ/শিওর ক্যাশ/রকেট এর মাধ্যমে সার্ভিস চার্জসহ আবেদন ফি ১৫০ টাকা প্রদান করতে হবে। একজন শিক্ষার্থী সর্বনিম্ন পাঁচটি কলেজে এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজে আবেদন করতে পারবে। তবে একই প্রতিষ্ঠানের একাধিক শিফট/ভার্সন/গ্রুপে আবেদন করা যাবে।

আবেদন ফি পরিশোধের সময় এবং প্রথমবার আবেদনের সময় শিক্ষার্থীকে একটি মোবাইল নম্বর (নিজের/অভিভাবকের) দিতে হবে, যেটি শিক্ষার্থীর যোগাযোগ নম্বর হিসেবে বিবেচিত হবে। যোগাযোগ নম্বরটি শিক্ষার্থীর জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ কেননা পরে শিক্ষার্থীর সব যোগাযোগ ও আবেদনের জন্য এটির প্রয়োজন হবে। আবেদনের সময় কলেজের পছন্দক্রম বিশেষ বিবেচনা-পূর্বক সাবধানে পূরণ করতে হবে।

এসএসসি/সমমান পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপির ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে। সমান জিপিএপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে ধারাবাহিক মূল্যায়ন ব্যতীত মোটপ্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে।

ভর্তির ফলাফল তিনটি পর্যায়ে প্রক্রিয়াকরণ করা হবে। একজন শিক্ষার্থীকে তার মেধা, কোটা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) ও পছন্দক্রম অনুযায়ী একটি মাত্র কলেজের জন্য নির্বাচন করা হবে। নির্বাচিত শিক্ষার্থী নিজেই অনলাইনে বোর্ডের রেজিস্ট্রেশন ও অন্যান্য ফি বাবদ ২০০ টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক ভর্তি নিশ্চায়ন করবে। একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ দুবার স্বয়ংক্রিয়ভাবে মাইগ্রেশনের জন্য বিবেচিত হবে। এক্ষেত্রে মাইগ্রেশন সর্বদাই শিক্ষার্থীর পছন্দ ক্রমানুসারে উপরের দিকে যাবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললেই এইচএসসি পরীক্ষা

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললেই এইচএসসি পরীক্ষা

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সিলেবাস বা বিষয় কমানোর কোনো সুযোগ নেই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পরপরই এই পরীক্ষা নেয়া হবে, বলছে শিক্ষাবোর্ড। প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী সমমানের পরীক্ষা হবে সিলেবাসের বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ পাঠ্যসূচির উপর। সেই সাথে ছুটি আরো বাড়লে শিক্ষাবর্ষ বাড়ানোর চিন্তাভাবনা করছে মন্ত্রণালয়।

করোনার কারণে গত ১৮ মার্চ থেকে সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। সেই সাথে স্থগিত হয়ে আছে এইচএসসসি পরীক্ষা। এদিকে শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী নভেম্বর মাসে জেএসসি, পিইসি পরীক্ষা হওয়ার কথা।

এই বোর্ড পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তায় অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীরা। শিক্ষা বোর্ড বলছে, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সব প্রস্তুতি নেয়া আছে। পুরো সিলেবাসে সবগুলো বিষয়ের পরীক্ষা নেয়া হবে। তবে রুটিনে ছুটি কমিয়ে দেয়া হবে। জেএসসি পরীক্ষাও হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে দেরি হলে শিক্ষাবর্ষ বাড়ানোর চিন্তাও চলছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বলছে, ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের পিইসি পরীক্ষা হবে। সেক্ষেত্রে স্কুল খুললে যতটুকু পড়ানো সম্ভব হবে তার উপরেই পরীক্ষা হবে। অন্যান্য শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা কিভাবে নেয়া হবে সেগুলো নিয়েও কাজ করছে মন্ত্রণালয়।

সিএমএইচে ভর্তি করোনা আক্রান্ত চবি উপাচার্য

নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতারকে চট্টগ্রামের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) রাত ১১টার দিকে উপাচার্য ছাড়াও তার স্বামী সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. লতিফুল আলম চৌধুরী ও মেয়ে রিফাত মোস্তফা সিএমএইচে ভর্তি হন।

এর আগে ১১ জুলাই নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে তার মেয়ে এবং তিন নাতনিসহ পরিবারের ৭ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এসএম মনিরুল হাসান বলেন, সোমবার রাত ১১টার দিকে উপাচার্য ম্যাডাম, তার স্বামী ও মেয়ে সোমবার সিএমএইচে ভর্তি হন। বর্তমানে তাদের শারীরিক অবস্থা ভালো আছে। সবার কাছে উপাচার্য ম্যাডাম দোয়া চেয়েছেন।

শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে কাজিপুর উপজেলা সদর প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়

যমুনা বেষ্টিত কাজিপুরের শিক্ষার হার ক্রমান্বয়ে বেড়ে চলেছে। সাধারণ শিক্ষার সাথে কারিগরি ও প্রতিবন্ধীদের শিক্ষার পথ সুগম হওয়ায় চরবিড়া মিলে এখন শিক্ষার শুভযাত্রার ট্রেন সামনের দিকে এগিয়ে চলছে। এই সামনে চলার পথকে আরও বেগবান করতেই প্রতিবন্ধীদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে কাজিপুর উপজেলা সদর প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়।

জন্মসূত্রে আলাদা বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে ইতোপূর্বে তেমন করে কাজিপুরের কেউ ভাবেননি। বিশেষ করে উপজেলা সদরে এরকম একটি বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয়তা কারো চিন্তায় ধরা পড়েনি। অবশেষে কাজিপুরের মাটি ও মানুষের নেতা সদ্য প্রয়াত এমপি মোহাম্মদ নাসিম বিষয়টি আমলে নেন। একদিন সচিবালয়ে একই গাড়িতে যেতে যেতে এ বিষয়ে কথা বলছিলেন কাজিপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র গোলাম মোস্তফা মধু তালুকদারের সাথে। এক পর্যায়ে তিনি জিএম তালুকদারকে উপজেলা সদরে প্রতিবন্ধীদের জন্যে একটি বিদ্যালয় স্থাপনের নির্দেশ দেন।

অবশেষে মোহাম্মদ নাসিমের নির্দেশনা মোতাবেক ২০০৮ সালে আলমপুর চৌরাস্তায় প্রতিষ্ঠিত হয় প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়। নামকরণও মোহাম্মদ নাসিমই করলেন‘ কাজিপুর উপজেলা সদর প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়।’ এমন কথাই জানালেন কাজিপুর উপজেলা সদর প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি গোলাম মোস্তফা তালুকদার ওরফে জিএম তালুকদার। গতকাল ওই বিদ্যালয়ে সরেজমিন গিয়ে কথা হয় তার সাথে।

তিনি জানান, যেসব শিশু জন্মগতভাবেই অদ্ভুত অঙ্গ প্রত্যঙ্গ নিয়ে বেড়ে ওঠে, অস্বাভাবিক আচরণ করে, অন্যসবার সাথে মিশতে পারে না তাদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াতেই এই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।’

আলমপুর পৌরসভাসহ পাশের চালিতাডাঙ্গা, সোনামুখী, গান্ধাইল, মাইজবাড়ি, কাজিপুর সদর ও শুভগাছা ইউনিয়নের প্রতিব›ধী শিশুরা এই বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ পাচ্ছে। কুড়ি শতক জমির ওপর অত্যন্ত মনোরম পরিবেশে বিদ্যালয়টির অবস্থান। কাজিপুর পৌরসভার মধ্যে অবস্থিত বিদ্যালয়টি কাজিপুর-সিরাজগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে অবস্থিত।

বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে (ননএনডিডি ১২ ধরণের প্রতিবন্ধী) শিক্ষার্থী রয়েছে মোট ২৮৭ জন। এদের মধ্যে ছেলে ১৬৯ জন এবং মেয়ে ১১৮ জন। শিক্ষক সংখ্যা ২৬ জন, অফিস স্টাফ রয়েছে ১৪ জন, ভ্যানচালক ৫ জন।
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক নূর নবী জানান, ‘প্রতিদিন আমাদের ভ্যানগাড়ি প্রায় পনের কিলোমিটার দূর থেকে শিক্ষাথী ও তাদের অভিভাবকদের আনা নেয়া করে।’

প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার পদ্ধতি প্রচলিত শিক্ষার চেয়ে আলাদা। এ লক্ষ্যে এখানকার শিক্ষকেরাও ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেন। প্রথম থেকে পঞ্চশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা ব্যবস্থার জন্যে রয়েছে বিশেষ বিনোদন। রয়েছে হারমোনিয়াম, তবলা, সাউন্ডবক্স, ফুটবল, লুডু, কেরামবোর্ড।
প্রতিবন্ধীতায় প্রশিক্ষিত শিক্ষকমন্ডলী অত্যন্ত যতেœর সাথে এসব সহায়ক উপকরণের মাধ্যমে পাঠদান করে থাকেন। শিক্ষার্থীদের বিশেষ খাবার সরবরাহ করা হয়। দূরের শিক্ষার্থীদের আনা নেয়ার জন্যে রয়েছে ছয়টি অটোভ্যান। ছয়টি হুইল চেয়ারও শিক্ষার্থীদের কাজে ব্যবহৃত হয়।

করোনাকালিন সময়ে বিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নেন বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জিএম তালুকদার। এরইমধ্যে তিনি শিক্ষার্থীদের মাঝে অর্থ সহায়তা দিয়েছেন। তাছাড়া সারা বছরের খাতা কলম সব বিনামূল্যে স্কুল থেকে সরবরাহ করা হয়।

পুরো বিদ্যালয় ভবনটি টিনশেড বিল্ডিং। ছয়টি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হয়। শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেয়া হয় দুই শিফটে। রয়েছে বিশেষ কম্পিউটার সুবিধা। শিক্ষার্থী অভিভাবকদের বসার জন্যে রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। আছে তিনটি পাকা টয়লেট, দুইটি টিউবওয়েল।

কাজিপুর উপজেলা সদর প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় এর পরিদর্শন প্রতিবেদন প্রেরণ করেন মোসাঃ উম্মে কুলসুম, উপ-পরিচালক, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, সিরাজগঞ্জ। সহযেগিতার হাত বাড়িয়েছেন রান ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি, ধনবাড়ি টাঙ্গাইল। নিবন্ধনের তারিখ ৫-৮-২০১৮ নবায়নের তারিখ- ৪-৮- ২০২০।

স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার খাতিরে সম্পূর্ণ সরকারি নিময় মেনে প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে যাবতীয় লেনদেন সম্পন্ন হয়। হিসাব নং- ৪২০৭৭০১০১৮০৫৪। বর্তমান স্থিতি দুইলক্ষ ২৬ হাজার একশ টাকা।

প্রতি বছর স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, ১ লা বৈশাখ উপলক্ষ্যে উপজেলা সদরে অনুষ্ঠিত র‌্যালি এবং র‌্যালি পরবর্তী ডিসপ্লেসহ নানা কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করে পুরস্কারও জিতে নেয় এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকদের তত্বাবধানে শিক্ষার্থীরা নানা সময়ে বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানে অংশ নেয়।

সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রি ও কাজিপুরের সদ্য প্রয়াত এমপি মোহাম্মদ নাসিম গত ৫ -৯-২০১৯ তারিখে বিদ্যালয়টি সরেজমিন পরিদর্শন করেন এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাপোকরণ বিতরণ করেন। এরপর কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদ হাসান সিদ্দিকী ও সেইসময়ের উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এলিজা সুলতানা এ বছরের ১ জানুয়ারি বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে পড়ালেখার মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন।

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি গোলাম মোস্তফা তালুকতার ওরফে মধু তালুকদার জানান,‘ যে নেতার কথায় প্রতিষ্ঠানটি গড়া তোলা হয়েছে তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই। তার স্বপ্ন ও সম্মান ধরে রাখতে আমরা সচেষ্ট থাকবো। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত অত্যন্ত সুনামের সাথে চলছে এর পাঠদান কার্যক্রম। এখন দরকার সরকারি সহায়তা। এ লক্ষ্যে যাবতীয় শর্তই পূরণ করা হয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যালয়টি এমপিওভূক্তিকরণের জন্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন রাখছি।’