শাহজাদপুরবাসীর পক্ষ থেকে অভিনন্দন


‘রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ’র সংগীত বিভাগে শাহজাদপুরের কৃতী শিক্ষার্থী অন্তরা ও আল আমিনের স্থান লাভ

শামছুর রহমান শিশির : সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুরে ‘রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়,বাংলাদেশ’ এ চলতি সেশনে ২০ আসন বিশিষ্ট সংগীত বিভাগের অনার্স ১ম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কৃতীত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়েছে শাহজাদপুরের মেধাবি শিক্ষার্থী অন্তরা কুন্ডু ও আল আমিন হোসেন । ২০ আসন বিশিষ্ট সংগীত বিভাগের ওই ভর্তি পরীক্ষায় শাহজাদপুর থেকে ২ জন ভর্তিযুদ্ধে অন্যান্য সকল পরীক্ষার্থীকে টপকে মেধা তালিকায় স্থান লাভ করে।
অন্তরা কুন্ডু শাহজাদপুর পৌর এলাকার দ্বারিয়াপুর মহল্লার বিশিষ্ট সংগীত শিক্ষক ওস্তাদ বিধান কুন্ডুর মেয়ে বলে জানা গেছে। অন্তরা ছোট বেলা থেকেই তার বাবার কাছে সংগীতে তালিম নিয়েছে। সে এবার শাহজাদপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের বিএম শাখা থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কৃতীত্বের সাথে পাশ করে ‘রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ’ এর সংগীত বিভাগের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়।
এদিকে, ‘রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ’র সংগীত বিভাগের ভর্তি পরীক্ষায় দেশের বিভিন্ন স্থানের সকল শিক্ষার্থীর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে শাহজাদপুরের ২ কৃতী শিক্ষার্থী অন্তরা ও আল আমিন মেধা তালিকায় স্থান লাভ করায় শাহজাদপুরবাসী তাদের অভিনন্দন জানিয়েছে।

উপাচার্য ড. প্রফেসর বিশ্বজিৎ ঘোষ


রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় স্থানান্তর ও ঢাকায় জমি কেনার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও গুজব

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. প্রফেসর বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেছেন, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকায় স্থানান্তরের বিষয়টি সম্পূর্ণ গুজব। এ ছাড়া একশ কোটি টাকা ব্যায়ে ঢাকায় জায়গা কেনার বিষয়টিও সম্পূর্ণ মিথ্যা। একটি স্বার্থান্বেষী মহল বিভ্রান্ত ছড়াতে এ ধরণের প্রপাগান্ড ছড়াচ্ছে। তিনি আরো বলেন, রবীন্দ্র বিশ^বিদ্যালয় শাহজাদপুরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটি শাহজাদপুরেই থাকবে। রোববার সকালে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির অভিষেক ও নবনির্বাচিত কমিটির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তেব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বিসিক বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসের একাডেমিক ভবন-১ এর হলরুমে এ অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড.বিশ্বজিৎ ঘোষ। তিনি আরো বলেন,রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন অনিয়ম দূর্ণীতি হয়নি। আদালতে যে মামলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র অধ্যায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও নবনির্বাচিত শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড.ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অভিষেক অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র অধ্যায়ন বিভাগের প্রভাষক লায়লা ফেরদৌস হিমেল, প্রভাষক জাবেদ ইকবাল, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যায়ন বিভাগের প্রভাষক ফারহান ইয়াসমিন, প্রভাষক মোঃ আজিম উদ্দিন প্রমুখ। উল্লেখ্য, নবনির্বাচিত শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. ফখরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ফারহান ইয়াসমিন, কোষাধক্ষ্য লায়লা ফেরদৌস হিমেল ও কার্যহির্বাহী সদস্য মোঃ রিফাত-উর-রহমান, আরিফুল ইসলাম, বরুণ চন্দ্ররায় ও শারমিন সুলতানাকে অভিষেক অনুষ্ঠানে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ ছাড়া এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২জন নবীব শিক্ষককে এ অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেয়া হয়।
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র অধ্যায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও নবনির্বাচিত শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড.ফখরুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড.প্রফেসর বিশ্বজিৎ ঘোষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রতিবাদে ও এ মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবীতে শাহজাদপুরে অচিরেই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদেও পক্ষ থেকে মানববন্ধন ও সমাবেশ করা হবে।

বক্তারা বলেন, জেলখানা নিরাপদ স্থান হলেও ইতিহাসের জঘন্যতম অধ্যায় জাতীয় চার নেতাকে হত্যার ঘটনা। জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ জাতীয় চার নেতার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করছি ও আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি


‘রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ’ এ জেলহত্যা দিবস পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, স্বাধীন কথা ডটকম, শনিবার, ৩ নভেম্বর- ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দ : শনিবার সকালে জাতীয় চার নেতার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদনসহ যথাযথ মর্যাদায় সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের উদ্যোগে জেলহত্যা দিবস-২০১৮ পালিত হয়েছে। এদিন সকালে ‘রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ’ ,ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় চার নেতা পরিষদ ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী একাডেমিক ভবনে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, ‘রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ’ এর সহকারী প্রক্টর ড. ফকরুল ইসলাম। এ সময় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মার মাগফেরাত কামনাসহ জাতীয় চার নেতার আত্মার মাগফেরাত কামনা ও বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রার সোহরাব হোসেন, শিক্ষার্থী সোহাগ হোসেন, সজিব আলমগীর, রাসেল, নীরব, ওয়াকিল, আদনান, মালেক প্রমূখ। বক্তব্যে বক্তারা বলেন, জেলখানা নিরাপদ স্থান হলেও ইতিহাসের জঘন্যতম অধ্যায় জাতীয় চার নেতাকে হত্যার ঘটনা। জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ জাতীয় চার নেতার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করছি ও আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। সভাটি পরিচালনা করেন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের গণসংযোগ কর্মকর্তা রওশন আলী। এ সময় রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ এর শিক্ষকমন্ডলীসহ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়,বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালিত

শাহজাদপুর সংবাদ ডটকম, শামছুর রহমান শিশির, শুক্রবার, ২৮ সেপ্টেম্বর -২০১৮ খ্রিষ্টাব্দ : জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কণ্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭২ তম জন্মদিন উপলক্ষে আজ শুক্রবার শাহজাদপুর রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়,বাংলাদেশ হল রুমে ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে কেক কাটা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, রবীন্দ্র অধ্যায়ন বিভাগ এর চেয়ারম্যান ড. ফখরুল আলম, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মারুফ হাসান সুনাম, আলমগীর হোসেন, সজীব, রাসেল, ওয়াকিল, বিপ্লব, সোহাগ হোসেন, সজীব হাসান বাধন, আলমগীর কবীর, অশোক ইসলাম, তরিকুল ইসলাম, জয়নুল আবেদীন, অনিক দাস প্রমুখ।

ঈদান্তে কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত কাছাড়িবাড়িতে দর্শনার্থীরা এসে ভীড় করছেন এবং কবিগুরুর স্মৃতিধন্য কাছাড়িবাড়ি পরিদর্শণ করে তৃপ্তি নিয়ে ফিরছেন


ঈদের ছুটিতে ঘুরে আসুন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শাহজাদপুরের কাছারিবাড়িতে

ঈদের ছুটিতে ঘুরে আসুন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শাহজাদপুরের কাছারিবাড়িতে

শাহজাদপুর সংবাদ ডটকম, শামছুর রহমান শিশির, বৃহস্পতিবার, ২৩ আগস্ট ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দ : ঈদ-উল-আজহা’র পরবর্তীতে সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলা সদরের প্রাণকেন্দ্র দ্বারিয়াপুর বাজারে অবস্থিত কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছাড়িবাড়ি প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীদের ঢল নেমেছে। তাদের পদচারনায় ও মিলনমেলায় মুখরিত ও প্রাঞ্জলিত হয়ে উঠেছে কাছাড়িবাড়ি প্রাঙ্গণ। বিশ্বকবির স্মৃতি বিজড়িত শাহজাদপুরের কাছাড়িবাড়ি দর্শণে এসে তারা কবিগুরুর ব্যবহৃত আসবাবপত্র ও বিভিন্ন সরঞ্জামাদি দেখে তৃপ্তির ঢেঁকুর ফেলে বাড়ি ফিরছেন। ঈদ পরবর্তীতে দেশ বিদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শত শত পর্যটক ও রবীন্দ্র অনুরাগীরা কাছারিবাড়ি পরিদর্শনে শাহজাদপুরে আসছেন। শাহজাদপুরসহ পার্শ্ববর্তী এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হওয়ায় বিনোদন পিয়াসুদেরও ঢল নেমেছে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শাহজাদপুরের কাছাড়িবাড়ি প্রাঙ্গণে।
জানা গেছে, শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক স্থান ও পর্যটন কেন্দ্র। ইতিহাস থেকে জানা যায়, তিন তৌজির অন্তর্গত ডিহি শাহজাদপুরের জমিদারী একদা নাটোরের রানী ভবানীর জমিদারীর অংশ ছিল। ১৮৪০ সালে শাহজাদপুরের জমিদারী নিলামে উঠলে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর মাত্র তের টাকা দশ আনায় এই জমিদারী কিনে নেন। জমিদারীর সাথে সাথে ওই কাছারিবাড়িটি ঠাকুর পরিবারের হস্তগত হয়েছিল বলে ধারনা করা হয়। আগে এই কাছারিবাড়ির মালিক ছিল নীলকর সাহেবরা। ১৮৯০ সাল থেকে ১৮৯৬ সাল পর্যন্ত কবি রবীন্দ্রনাঠ ঠাকুর জমিদারী দেখাশোনার কাজে শাহজাদপুরে সাময়িকভাবে বসবাস করতেন। তিনি স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন কুষ্টিয়ার শিলাইদহে। সম্ভবত এই কারণেই শিলাইদহে তাঁর বাসগৃহ কুঠিবাড়ী নামে এবং শাহজাদপুরের বাড়িটি কাছারিবাড়ি নামে পরিচিত। শাহজাদপুরে কবিগুরু ঘুরে বেড়িয়েছেন পালকিতে, নৌকায় ও পায়ে হেটে। শাহজাদপুর শহরের প্রানকেন্দ্র দ্বারিয়াপুর বাজারে অবস্থিত উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহত কাপড়ের হাটের দক্ষিণ পাশে এক সবুজ শ্যমল পরিবেশে কবিগুরুর কাছারিবাড়ি অবস্থিত। শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি ইন্দো-ইউরোপীয় স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত একটি দ্বিতল ভবন। ভবনটির দৈর্ঘ্য ২৬.৮৫ মিটার, প্রস্থ ১০.২০ মিটার এবং উচ্চতা ৮.৭৪ মিটার। ভবনটির দ্বোতলার সিড়ি ব্যতিত মোট সাতটি কক্ষ রয়েছে। ভবনটির উত্তর দক্ষিনে একই মাপের প্রশস্ত বাড়ান্দা,বাড়ান্দার গোলাকৃতির জোরামাপের খাম,উপরাংশে আছে অলংকরণ করা বড় মাপের দরজা,জানালা ও ছাদের ওপরে প্যারাপেট দেয়ালে পোড়ামাটির শিল্পকর্ম দর্শনাথীদের বিশেষভাবে দৃষ্টি কাড়ে। ভবনটির জানালা দিয়ে চারপাশের মনোরম, মনোমুগ্ধকর পরিবেশ কবি উপলব্ধি করতেন। কাছারিবাড়িতে বসেই কবি প্রাণভরে ছোট নদী দেখতেন ও শুনতেন ছোটনদীর স্রোতধারার মিশ্রিত সুর।
শাহজাদপুরে এসে মানুষ ও প্রকৃতিকে কবি গভীরভাবে ভালবেসেছিলেন। এখানে তিনি খুজে পেয়েছিলেন সাহিত্য সৃষ্টির নানা উপাদান। এখানে অবস্থানকালে তিনি রচনা করেন, সোনারতরী, বৈষ্ণব কবিতা, দুটি পাখি, আকাশের চাঁদ, পুরস্কার ,যমুনা, হৃদয়, ভরা ভাদরে, প্রত্যাক্ষান ও লজ্জা, চিত্রা, শীত ও বসন্তে, নগর সংগীত, নদীযাত্রা, মৃত্যুমাধুরী, স্মৃতি বিলয়, প্রথম চুম্বন, শেষ চুম্বন, যাত্রী, তৃণ, ঐশ্বর্য, স্বার্থ,প্রেয়সী, শান্তিময়, কালিদাসের প্রতি, কুমার, মানষলোক, কাব্যপ্রার্থনা, ইছামতী নদী, সুশ্রুসা, অশিক্ষাগ্রহন, বিদায়, নববিবাহ, রজ্জিতা, বিদায়, হতভাগ্যের গান, গতোনিক, বঞ্চনা, সংকোচ, মানষপ্রতিভা, রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা, ব্যবধান, তারাপ্রসন্নের কীর্তি, ছুটি, সম্পত্তি, ক্ষুধিত পাষাণ, অতিথি,ইত্যাদি। এছাড়া কবিগুরু এখানে অবস্থান করে ৩৮ টি বিভিন্ন ছিন্ন পত্রাবলী লিভেছেন, রচনা করেছেন পঞ্চভূতের অংশবিশেষ ও নাটক বিসর্জন ।
শাহজাদপুর কাছারিবাড়ির দ্বোতলার উত্তর পাশে লিচুগাছ ও শোভা বর্ধনের জন্য নানা ফুলের গাছে ঘেরা কবিগুরুর অপরূপ কাছারিবাড়িটি বহুদুরের পথিকেরও দৃষ্টি আকর্ষন করে। কাছারিবাড়ির চারদিক প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। প্রাচীরের আশেপাশে রয়েছে নানা দৃষ্টিনন্দন বৃক্ষের বাগান। কাছারিবাড়ির ভিতরে একটি বকুলগাছ ছিল। কবি ওই গাছের নীচে বসে কবিতা লিখতেন। ১৯৬৯ সালে প্রতœতত্ব্ অধিদপ্তর কর্তৃক অত্যন্ত জরাজীর্ণ অবস্থায় কাছাড়িবাড়িকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসাবে ঘোষণা করা হয়। ওই কাছাড়িবাড়ির মূল ভবনটির নান সংস্কার কাজ সমাপ্ত করে ভবনটিতে রবীন্দ্রভিত্তিক আলোকচিত্র ও এ বাড়িতে কবির ব্যবহৃত প্রাপ্ত আসবাপত্র নিয়ে একটি স্মৃতি যাদুঘরের রূপ দেয়া হয়েছে। দক্ষিণ দিকের দরজা দিয়ে ওই যাদুঘরে প্রবেশ করতে হয়। নিচতলা ও দ্বোতলার বিশাল হলরুমসহ যাদুঘরের সকল কক্ষ সর্বসাধারনের জন্য উন্মুক্ত । চারদিকে পাঁকা দেয়ালে বেষ্ঠিত কাছারিবাড়ির আঙ্গিনাটিও বেশ বড়।
এখানে রয়েছে রবীন্দ্র মিলনায়তন,কবির ব্যবহৃত সামগ্রীর মধে চৌকি, লেখার জন্য ডেস্ক, সোফাসেট, আরাম কেদারা, আলনা, আলমারী, সিন্দুক, ঘাস কাটার যন্ত্র, ওয়াটার ফিল্টার, ল্যাম্প, কবির স্বহস্তে আঁকা ছবি, দেশী বিদেশী রাষ্ট্রনায়ক, বিজ্ঞানীসহ গুণিজনদের সাথে কবির অগনিত ছবি।
ঈদান্তে কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত কাছাড়িবাড়িতে দর্শনার্থীরা এসে ভীড় করছেন এবং কবিগুরুর স্মৃতিধন্য কাছাড়িবাড়ি পরিদর্শণ করে তৃপ্তি নিয়ে ফিরছেন। ঈদের ছুটির সদ্ব্যবহারে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি ঘুরে আসুন।

শাহজাদপুরে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৭ তম মহা প্রয়ান দিবস পালিত

শাহজাদপুর সংবাদ ডটকম, নিজস্ব প্রতিবেদক, সোমবার, ৬ আগষ্ট ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দ : আজ ২২ শ্রাবণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মহা প্রয়ান দিবস। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৭ তম মহা প্রয়ান দিবস উপলক্ষে আজ সোমবার সন্ধ্যায় শাহজাদপুর রবীন্দ্র কাছারিবাড়ি অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আজ থেকে ৭৪ বছর আগে বাংলা ১৩৩৮ সনে কোলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পরলোকগমন করেন। অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হুসেইন খাঁনের সভাপতিত্বে প্রয়ান দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শাহজাদপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রফেসর আজাদ রহমান।  আলোচনা সভায় প্রবন্ধ পাঠ করেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়,বাংলাদেশ এর সহকারি অধ্যক্ষ ড. ফখরুল ইসলাম। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শাহজাদপুর পৌরসভার মেয়র নাসির উদ্দিন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মুস্তাক আহমেদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ হাসিব সরকার।

এখানে আমার লেখার যে ভাব আসে, তা অন্য কোথাও না -- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর


কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিধন্য ‘সাজাদপুর’

শামছুর রহমান শিশির : ঊণবিংশ শতাব্দির বাংলা সাহিত্য গগণে ও বিশ্বের জ্ঞান পরিমন্ডলে ভারস্যাটাইল জিনিয়াস খ্যাত (বহুমূখী প্রতিভাসম্পন্ন) নোবেল জয়ী বিশ্ব কবি, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জমিদারী দেখাশোনার কাজে সাময়িকভাবে শাহজাদপুরের কাছাড়িবাড়িতে বসবাস করতেন। তিনি স্থায়ীভাবে কুষ্টিয়ার শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে থাকতেন। শাহজাদপুরে বসবাসকালে তিনি অসংখ্য দুর্লভ সাহিত্যকর্ম রচনা করেন। কবিগুরু তাঁর স্বহস্তে লেখা একটি ছিন্নপত্রে উল্লেখ করেছিলেন, “এখানে (সাজাদপুরে) আমার লেখার যে ভাব আসে, অন্য কোথাও তা না।” এতেই শাহজাদপুরের মাটি মানুষ ও প্রকৃতির প্রতি কবিগুরুর নিঃখাদ ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ অনুমান করা যায় । শাহজাদপুরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে কবিগুরুর অনেক অম্লান স্মৃতিচিহ্ন! তারই একাংশ-
১). কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত শাহজাদপুরের কাছাড়িবাড়ি। এটি ইন্দো ইউরোপীয় স্থাপত্য শৈলিতে নির্মিত দ্বিতল ভবন। ভবনটি নির্মাণ করেছিলেন নীলকর সাহেবরা। বর্তমানে ভবনটির নীচতলায় কবিগুরুর স্বহস্তে অঙ্কিত ও দেশি বিদেশি গুণীজনদের সাথে ওঠা চিত্রকর্ম সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। আর দ্বো-তলায় কবিগুরুর ব্যবহার সামগ্রী, তৈজসপত্র, আসবাবপত্রসহ নানা সামগ্রীর সমাহারে ‘রবীন্দ্র স্মৃতি যাদুঘর’ এ রূপদানের চেষ্টা করা হয়েছে।
২). কবিগুরুর জন্মজয়ন্তী, মৃত্যুবার্ষিকী পালনসহ নানা অসুষ্ঠান পালনের জন্য কাছারিবাড়ির অভ্যন্তরে সুবিশাল ‘রবীন্দ্র মিলনায়তন’ ।
৩). ‘তাল গাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে, সব গাছ ছাড়িয়ে, উঁকি মারে আকাশে’- কাছারিবাড়ি প্রাঙ্গণে কবিগুরুর স্মৃতিধন্য তাল গাছ আজও কালের স্কাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
৪). কবিগুরুর স্মৃতিধন্য ছোটনদী স্থানীয়ভাবে খোনতারের জোলা হিসেবে পরিচিত। বর্ষাকালে এ জোলা ব্যবহার করে কবিগুরু নৌপথে চলাচল করতেন। অযত্ন অবহেলায় জোলাটির প্রাণ রূদ্ধ হয়েছে বহু আগেই প্রভাবশালীদের দখলে।
৫). কাছারিবাড়ি অভ্যন্তরে নীলকরদের পরিত্যাক্ত নীলকুঠি। ইংরেজ শাসনামলে নীরিহ কৃষকদের নীল চাষে বাধ্য করতে এখানেই ধরে এনে অমামনবিক নির্যাতন করা হতো যা কালের বিবর্তনে সময়ের পরিধিতে ভঙ্গুর অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে।
৬). কবিগুরুর কালজয়ী সৃষ্টি ‘রতন’ চরিত্রের রতনদের উত্তরসূরী পালকি বাহক শাহজাদপুরের আদিবাসী বাগদিরা।
৭). কবিগুরুর ব্যবহৃত কুঁপিবাতি ও সিলমোহর।
৮). কবিগুরুর স্বহস্তে অংকিত অসাধারণ তৈলচিত্রের একাংশ!
সাজাদপুরে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জমিদারী তদারকিকালে এ অঞ্চলে গবাদী পশু লালন পালনের উজ্জ্বল সম্ভাবনা অাঁচ করতে পেরে সুলতান ও হরিয়ানা থেকে বেশ কিছু উন্নতজাতের ষাঁঢ় সাজাদপুরে এনে স্থানীয় জাতের গাভীর সাথে ক্রস ঘটান। এরপর থেকেই এ অঞ্চলে উন্নতজাতের সংকর গাভীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। গবাদিপশু লালন পালনের জন্য তিনি তার জমিদারী এলাকার ইটাখোলা, ভুরভুরা, কাওয়াক, হারনিসহ বিস্তৃর্ণ বাথান এলাকায় কয়েক হাজার বিঘা জমি স্থানীয় গো-খামারিদের কল্যাণে পাট্টার মাধ্যমে লিখে দেন (রবীন্দ্র স্বাক্ষরিত অর্ডার বুক)। পরবর্তীতে, জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ অঞ্চলের বিশাল গো-সম্পদের ওপর ভিত্তি করে বাঘাবাড়ীতে মিল্কভিটা কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৭তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষ


রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ এর উদ্যোগে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৭তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে  শুক্রবার শাহজাদপুর রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ এর অস্থায়ী একাডেমিক ভবনে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথকে জানতে ও শিখতে হবে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শাহজাদপুরে বসবাস করেছেন। তিনি শাহজাদপুরে অনেক কবিতা ও গল্প লিখেছেন। তার গানে বাঙালির প্রেম, সৌন্দর্য ও বেদনার অনেকান্ত রূপ শিল্পিতা পেয়েছে। তিনি শাহজাদপুরে বুড়ি পোতাজিয়া ও রামকান্তপুর মৌজায় প্রায় ১২শ’ একর জমি গো-চারণের জন্য লাখেরাজ দান করেছেন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দ্যেশে বলেন, সৃষ্টিশীল ও মননশীল হতে হবে শিক্ষার্থীদের। এ জন্য পড়াশোনা করতে হবে। আইনের বাইরে গিয়ে এমন কিছু করবে না যা অন্যের ক্ষতির  কারণ হতে পারে । তিনি আরও বলেন, সমাজে বেঁচে থাকতে হলে ন্যায় নিষ্ঠার বিকল্প নাই। অন্তরের চোখ দিয়ে দেখে বিচার করো বাহিরের চোখ দিয়ে নয়। জাতির স্বার্থে পরিবর্তন হতে হবে। আমাদের দেখে যেনো সবাই শিখতে পারে। ভিসি এ সময় আরও বলেন, ২২ শে শ্রাবণ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা থাকায় আমরা কবিগুরুর প্রয়াণ দিবস আগেই করলাম। রবীন্দ্র অধ্যায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ট্রেজারার প্রফেসর মোঃ আব্দুল লতিফ।  ‘রাজা’ নাটকে রাষ্ট্র ধারণা অনুষ্ঠানে মূল আলোচক ছিলেন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. তানভীর আহমেদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শিক্ষার্থী মোছাঃ নূর মাহফুজা এবং এ, কে, এম নাজমুল হাসান। অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন সোহাগ হোসেন, অনিক ঘোষ, জারিফ হোসেন, হাসিবুর রহমান, সোয়েব হাসান, আবিদ ও আলমগীর হোসেন প্রমুখ। শেষে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন।

শাহজাদপুরে বন্যার পানিতে ভেঙ্গে গেছে নির্মাণাধীন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাতায়াত সড়ক

মোঃ মুমীদুজ্জামান জাহানঃ সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে বন্যার পানি বৃদ্ধি অব্যহত রয়েছে। ফলে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ স্থান রামকান্তপুর মৌজার বাথান এলাকার বুড়ির ভিটায় যাওয়ার জন্য সিসি ব্লক দিয়ে নির্মানাধীন পোতাজিয়া গ্রামের শিমুল বিশ্বাসের বাড়ি হতে রেশমবাড়ি পাঁকা সড়ক পর্যন্ত নির্মানাধীন ১ কিলোমিটার সড়কটি বন্যার পানির চাপে ভেঙ্গে গেছে। পোতাজিয়া ইউনিয়নের ৮নং মেম্বার নজরুল ইসলাম জানান, গতকাল সোমবার ভোরে এ সড়কটি ভেঙ্গে যাওয়ায় শাহজাদপুর এলজিইডি অফিসের প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকা জলে চলে গেছে। এ ছাড়া উপজেলার পোতাজিয়া, কায়েমপুর, গাড়াদহ ও রূপবাটি ইউনিয়নের ২০টি গ্রামে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। এ গ্রাম গুলি হল, আহাম্মদপুর, করশালিকা, ছোটবায়রা, শাকতোলা, নুকালি, রাউতারা, পোতাজিয়া, ভাইমারা, রেশমবাড়ি, চিথুলিয়া, কাশিনাথপুর, সড়াতৈল, বনগ্রাম, কাকিলামারী, মাদলা, বাড়াবিল, নলুয়া, বৃ-আঙ্গারু, চর আঙ্গারু ও চুলধরি।
এ সব গ্রামের অধিকাংশ রাস্তা-ঘাট বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ায় শাহজাদপুর উপজেলা সদরের সাথে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে এ সব গ্রামের মানুষের সরাসরি সড়ক পথে যাতায়াত করতে পারছে না। এ ছাড়া এ সব গ্রামের মাঠ-ঘাট বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ায় কাঁচা ঘাসের অভাবে কৃষকরা তাদের শত শত গবাদি পশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে। ফলে বাজারে দানাদার গো-খাদ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সুযোগে খইল,ভুষি ও দানাদান প্যাকেট খাদ্য বিক্রেতারা বস্তা প্রতি ২/৩‘শ টাকা করে বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে উপজেলার গো-খামার মালিক ও কৃষকেরা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। অপর দিকে পোতাজিয়া-রেশমবাড়ি,বাড়াবিল-চুলধরি ও বৃ-আঙ্গারু লো-হাইড পাকা সড়ক বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ায় এ সব সড়কে অটো রিক্সা-ভ্যান,ভটভটি,মটর সাইকেল,নছিমন-করিমন,বাস,ট্রাক সহ সকল প্রকার যানবহণ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে এ সব গ্রামের মানুষের যাতায়াত ও মালামাল পরিবহণে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

অপরদিকে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যহত থাকায় শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরি,সোনাতুনি,খুকনি ও জালালপুর ইউনিয়নের কমপক্ষে ১৭টি গ্রামে যমুনা নদীর ভাঙ্গণ তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভাঙ্গণ কবলিত গ্রাম গুলি হল, উপজেলার কৈজুরি ইউনিয়নের ভাটপাড়া,গুদিবাড়ি,জগতলা,ঠুটিয়া ও হাটপাচিল,জালালপুর ইউনিয়নের পাকুরতলা,ভেকা,বাঐখোলা,খুকনি ইউনিয়নের আরকান্দি ও ব্রাহ্মণগ্রাম,সোনাতুনি ইউনিয়নের ধীতপুর,শ্রীপুর,মাকড়া,সোনাতুনি,বড় চানতারা,বারপাখিয়া ও বানতিয়ার। ইতিমধ্যেই এ সব গ্রামের অন্তত ২ শতাধিক ঘরবাড়ি, দোকানপাট, মসজিদ,৫‘শ বিঘা আবাদি জমি ও ২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে এলাকাবাসির মধ্যে চরম ভাঙ্গণ আতংক বিরাজ মধ্যে করছে।

এলাকাবাসি জানায়,বর্ষা মৌসুম শুরুর সাথে সাথে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি শুরু হয়েছে। আর এই পানি বৃদ্ধির সাথে পাল্লা দিয়ে উপজেলার এ সব গ্রামে এ ভাঙ্গণ শুরু হয়েছে। গত ১ সপ্তাহে ভাটপাড়া এলাকার যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধের ৫টি স্থানের অন্তত ১ হাজার ফুট এলাকার সিসি ব্লক ও জিও টেক্সপেপার নদীগর্ভে ধসে গিয়ে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙ্গণ কবলিত এলাকাবাসির অভিযোগ,সিরাজগঞ্জ পানিউন্নয়ন বোর্ড গত বছরের ভাঙ্গণ এলাকা মেরামত না করায় এবং এ বছর এখনো ভাঙ্গণ রোধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়ায় এই ভাঙ্গণ আরো তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফলে বাড়িঘর ভিটেমাটি হারিয়ে অনেকেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। ভাঙ্গণ আতঙ্কে এখানকার মানুষেরা প্রতিদিন নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। এদের মধ্যে কেউ কেউ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন এখন মানবেতর জীবন যাপন করছেন। যমুনার ভাঙ্গণে ভিটেমাটি ও আবাদি জমি হারিয়ে পগল প্রায় আলমাস হোসেন জানান, ভাঙ্গণের চিন্তায় রাতে ঘুমাতে পারি না। ৮ বার বাড়ি ভেঙ্গেছে। প্রতিবারই সব কিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছি। আবারও যদি বাড়িঘর যমুনার পেটে চলে যায়,তবে আর ঘুরে দাড়াতে পারব না।
এ ব্যাপারে কৈজুরি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম,জালালপুর ইউনিয়নের সুলতান মাহমুদ ও সোনাতুনি ইউনিয়নের লুৎফর রহমান জানান, নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যহত থাকায় স্রোত তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফলে শাহজাদপুরের যমুনা নদীর তীর এলাকায় ব্যাপক ভাঙ্গণ শুরু হয়েছে। এ ভাঙ্গণের কবল থেকে রেহাই পাচ্ছে না তীরসংরক্ষণ বাঁধ। এলাকাবাসি নিজেদের টাকায় বাঁশ-চাটাই কিনে ভাঙ্গণ রোধের চেষ্টা করছেন। কিন্তু তাতে কোন কাজ হচ্ছে না। এ ভাঙ্গণ রোধে অতিদ্রুত পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ব্যবস্থা নিতে তারা অনুরোধ করেন।
এলাকাবাসি জানায়, সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড কোন প্রকার কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় তারা এবারও ভাঙ্গণের কবলে পড়েছে। এখনও এ ভাঙ্গণ রোধে কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় তারা চরম আতংকে দিন কাটাচ্ছে।
এলাকাবাসি আরো জানায়,এ ভাঙ্গন রোধে গত ৬ বছর আগে ১১০ কোটি টাকা ব্যয়ে শাহজাদপুরের কৈজুরী থেকে বেনুটিয়া পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার এলাকায় তীরসংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ করা হয়। গত ৪ বছর ধরে এ বাঁধে কোন সংস্কার কাজ না করায় বাঁধের বিভিন্ন স্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে। ওই সব দুর্বল স্থানে লিকেজ সৃষ্টি হওয়ায় সেখানে নতুন করে ধস দেখা দিয়েছে। এ ধসে মুহুর্তের মধ্যেই নদীগর্ভে বিলীন হয় যাচ্ছে পাথরের ব্লক ও জিও টেক্স পেপার। এ জন্য তীরবর্তী হাজারো মানুষের মাঝে দেখা দিয়েছে আতংক।
এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানান, টাকার সংকুলান না থাকায় আপাতত বাঁধ রক্ষায় কাজ করা যাচ্ছেনা। তবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি ভাঙ্গণ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে।

শ্রেষ্ঠ সন্তান হিসেবে নিজেদের গড়তে হবে- রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ

শামছুর রহমান শিশির  : বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৭ তম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ’র উদ্যোগে রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী পালিত হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৩ টায় শাহজাদপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের নব নির্মিত ভবনের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে এ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ‘তোমায় নতুন করে পাবো বলে’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হাসিবুর রহমান স্বপন। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ’র উপাচার্য প্রফেসর ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া আজিজুল হক বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের বাংলা বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক নাছিম উদ্দিন মালিথা। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহজাদপুর সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আজাদ রহমান এবং সাবেক অধ্যক্ষ এ, এম, আব্দুল আজীজ। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সোহরাব আলী । বক্তারা বলেন, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমাদের পথ প্রদর্শক ও আলোকবর্তিকা। রবীন্দ্রনাথ আমাদের সকল সাফল্যের প্রেরণা। তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বড় কারিগর ও বৈজ্ঞানিক। তিনি আধুনিক গদ্য ভাষার ¯্রষ্টা। রবীন্দ্রনাথকে না জানলে অনেকে কিছুই অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। বক্তারা রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের রবীন্দ্রনাথ ও তার সাহিত্য সম্পর্কে প্রকৃত শিক্ষা অর্জন করে নিজেদেরকে শ্রেষ্ঠ সন্তান হিসেবে গড়ে তোলার আহবান জানান। দ্বিতীয় পর্বে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নৃত্য, আবৃত্তি ও সংগীত পরিবেশন করেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠান উপাস্থাপনা করেন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. তানভীর আহামদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গণসংযোগ কর্মকর্তা রওশন আলম। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক ও গণ্যমান্যব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি শাহজাদপুর সংবাদ ডটকমের উদ্যোগে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।