পাবনা-সিরাজগঞ্জে ভেজাল দুধ প্রস্তুতকারি অসাধু চক্র ফের সক্রিয়

শামছুর রহমান শিশির, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : দেশের নিউজিল্যান্ড খ্যাত জনপদ শাহজাদপুরসহ পাবনা-সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন দুগ্ধসমৃদ্ধ এলাকায় অসংখ্য ভেজালকারী দুগ্ধ ব্যবসায়ী ও অসাধু ঘোষের দল দৈনিক হাজার হাজর লিটার তরল দুধে মানবদেহের জন্য মারাত্বক ক্ষতিকারক বিভিন্ন কেমিক্যাল মিশিয়ে নকল দুধ তৈরি করে সড়ক পথে ঢাকাসহ সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে আসছে। তারা বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় দুধের রং,সুবাস ও সোয়াবিন তেল মিশ্রণ করে ফ্যাট সৃষ্টির মাধ্যমে বেসরকারী বিভিন্ন ডেইরি প্রজেক্টের কুলিং সেন্টারে সরবরাহ করছে। ভেজাল ওই দুধ প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে দেশের নামীদামী ব্রান্ডের নামে মোড়কীকরণ করে দেশের দুধের ভোক্তাদের হাতে পৌছানো হচ্ছে। আজ (বুধবার) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আরিফুজ্জামানের নেতৃত্ব পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালতে নকল দুধ তৈরী, ক্রয়, বিক্রয়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দুধ সংগ্রহ, মিষ্টিজাত খাদ্যসামগ্রী প্রস্তুত ও সরবরাহের অভিযোগে মোহনপুরস্থ আকিজ ডেইরি প্রজেক্টের কুলিং সেন্টারকে ১০ হাজার, প্রাণের ডেইরী প্রজেক্টের কুলিং সেন্টারকে ৫ হাজার, আড়ং ডেইরী প্রজেক্টের কুলিং সেন্টারকে ৫ হাজার, বিক্রমপুর মিষ্টান্ন ভান্ডারকে ৫ হাজার, এবং অপর ২ মিষ্টি ব্যবসায়ীকে ২ হাজার টাকা করে সর্বমোট ২৭ হাজার টাকা জরিমান আদায় এবং গবাদিপশু মোটাতাজাকরণের ভেজাল ঔষধ কারখানায় অভিযান চালিয়ে মোহনপুরের দীকেন্দ্রনাথ চন্দ্রের ছেলে কারখানা মালিক অমরেশ চন্দ্র (৫৭) কে ১ মাসের কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। ভ্রাম্যমান আদালতে অভিযান চলাকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উল্লাপাড়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু সুফিয়ান, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, মডেল থানার পুলিশ পুরিদর্শক (তদন্ত) গোলাম মোস্তফা, সেনেটারি ইন্সপেক্টও শহীদুল ইসলাম প্রমূখ। এদিকে গতকাল মঙ্গলবার পাবনার ডেমরায়ও দুধ ক্রয় কেন্দ্রগুলোতে অভিযান হয়েছে বলে জানা যায়। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে কাপড় কাঁচা ডিটারজেন্ট পাউডার, সয়াবিন তেল, সোডা, স্যালাইন, চিনি, গুঁড়োদুধসহ মানবদেহের জন্য মারাত্বক ক্ষতিকর বিভিন্ন কেমিকেল দিয়ে ভেজাল ও নকল শিশুখাদ্য (দুধ) তৈরী করে আকর্ষনীয় মোড়কে মোড়কজাত করে ঢাকাসহ সারাদেশে সরবরাহ করে আসছে শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে,‘কেমিক্যেল মিশ্রিত তরল দুধ পান করে শিশুসহ আমজনতার কিডনি, লিভারসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হবার ঝূঁকি অত্যন্ত বেশী থাকে। এজন্য এ অঞ্চলে ভেজাল দুধ তৈরিকারীদের প্রতিরোধে ‘গুরু পাপে লঘু দন্ড’ এর পরিবর্তে ‘গুরু পাপে গুরু দন্ড’র আইন প্রচলন অতীব জরুরী হয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, শাহজাদপুর, উল্লাপাড়ার মোহনপুর, পাবনার জেলার ফরিদপুর থানার ডেমরা ইউনিয়নের পালপাড়া সংলগ্ন এলাকায় ভেজালকারীরা প্রথমে দুধ থেকে ক্রিম তুলে ঘি তৈরি, এরপর টানা দুধ দিয়ে ছানা তৈরি ও তারও পরে ছানার পানির সাথে ফরমালিন, কাটিং ওয়েলসহ বিভিন্ন ধরনের কেমিকেল ও দুধের সুবাস তৈরির জন্য এ্যাসেন্স মিশিয়ে ভেজাল দুধ বিক্রি করে তিন ভাবে লাভবান হচ্ছে। এ ব্যাপারে বিশুদ্ধ খাদ্য অধ্যাদেশের দেশে প্রচলিত আইনের ফাঁকফোঁকর থাকায় ওই আইন প্রয়োগের ফলে এবং প্রসাশনের নিয়মিত নজরদারীর অভাবে দুগ্ধসমৃদ্ধ এ জনপদের বিভিন্ন বেসরকারী কোম্পানীর ডেইরি প্রজেক্টের কুলিং সেন্টার স্থাপনের পর থেকে বছরের পর বছর এ অপকর্ম চলে আসছে। যাদের মাত্র কয়েক বছর আগে যাদের নুন আনতে পান্তা ফুরাতো তারাই এ ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। এদের প্রতিরোধে গোয়েন্দা বিভাগেরও কোন তৎপরতা পরিলক্ষিত না হওয়ায় দিনে দিনে ভেজাল দুধের উৎপাদন আকংকাজনকহারে বেড়েই চলছে। বিশুদ্ধ খাদ্য অধ্যাদেশ আইনের ধারা মোতাবেক বিষাক্ত দুধ প্রস্তুত ও সরবরাহকারী বা তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান না থাকায় বছরের পর বছর ধরে চলে আসা এ বে-আইনী কাজ কোন ভাবেই রোধ করা যাচ্ছে না। এলাকার সিংহভাগ হিন্দু ঘোষ সম্প্রদায়রাই অতীব জরুরী শিশুখাদ্য ও জনস্বাস্থ্যের জন্য পুষ্টিকর তরল দুধ তৈরির জন্য অতিরিক্ত সরঞ্জাম আনছে এবং আগেভাবেই কোমড় বেঁধে মাঠে নেমেছে। স্থানীয় বিভিন্ন ডেইরি প্রজেক্টের কুলিং সেন্টারের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তারা জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা না করে লিটার ভিত্তিতে কমিশন নিয়ে সংগ্রহকৃত ওই ভেজাল দুধের সাধে কিছু খাটি দুধের সংমিশ্রণ ঘটিয়ে ওই দুগ্ধ শীতলীকরণের মাধ্যমে দেশের তরল দুধের ভোক্তদের সাথে এ প্রতারণা ও অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, মারাত্বক ক্ষতিকারক কেমিক্যেল মিশ্রিত ওই বিষাক্ত তরলদুধ পান করে শিশুসহ আমজনতা আক্রান্ত হচ্ছে নান জটিল রোগে। শিশুদের জীবন ও ভবিষ্যত বিপন্ন হতে চলেছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, গবাদিপশুসমৃদ্ধ পাবনা-সিরাজগঞ্জের পাবনা জেলার বেড়া, সাঁথিয়া, সুজানগর,ফরিদপুর, ডেমরা, ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর ও সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ, তাড়াশ এলাকাসহ বাঘাবাড়ী মিল্কশেড এরিয়া (পাবনা, সিরাজগঞ্জ, নাটোর) থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪ লাখ লিটার টাটকা তরল দুধ সংগৃহিত হয়। সংগৃহীত ওই দুধের একাংশ দেশের সর্ববৃহৎ সমবায়ী প্রতিষ্ঠান ‘মিল্কভিটা’য় চলে যায়। দিনে লাখ লাখ লিটার দুধ উৎপন্ন হওয়ায় শাহজাদপুরে ‘মিল্কভিটা’ পাশাপাশি ব্যাঙ্গের ছাতার মতো ১৪টি œ বেসরকারী ডেইরি প্রজেক্টের দুগ্ধ শীতলীকরন কেন্দ্র গড়ে ওঠে। আর ওই কেন্দ্রগুলি স্থাপিত হবার পর থেকে ভেজালকারী ওই চক্রটি বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় কেমিকেল মিশ্রণ করে ভেজাল দুধ উৎপাদন করে কেন্দ্রগুলিতে সরবরাহ করতে শুরু করে। প্রথমে এ ভেজাল দুধের ব্যাপারে ওইসব কুলিং সেন্টারের অনেক কর্মকর্তারাও অজ্ঞ ছিলেন। পরবর্তীতে বিষয়টি অপেন সিক্রেট হবার পর থেকে বিপুল অর্থের লোভ সামলাতে না পেরে তারাও শিশুসহ দেশবাসীর জনস্বাস্থ্যেকে জিম্মি করে ভেজাল দুধ সরবরাহে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভূমিকা রাখছেন।
স্থানীয় দুগ্ধ ব্যবসায়ীরা জানান,বর্তমানে লিটার প্রতি দুধের দাম ও এক কেজি গো-খাদ্যের দামের মধ্যে উল্লেখযোগ্য তারতম্য না থাকায় শাহজাদপুরসহ পাবনা জেলা ও সিরাজগঞ্জ জেলাসহ দুগ্ধসমৃদ্ধ এলাকা বেড়া, সাঁথিয়া, সুজানগর, ফরিদপুর, ডেমরা, ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর, তাড়াশ ও রায়গঞ্জের তরল দুধ ব্যবসায়ীদের অনেকেই খাবার পানির সাথে, ছানার পানির সাথে ময়দা ও চিনি জ্বালিয়ে তাতে ফরমালিন, কাটিং ওয়েল, পার অক্সাইড, খাইসোডা ও দুধের ননী মিশিয়ে নকল ভেজাল দুধ তৈরী করছে। তারা প্রতি ৩৭ লিটার খাবার পানিতে ৩ লিটার দুধের ননী, ৫০ গ্রাম খাইসোডা, কয়েক চামচ পার অক্সাইড, ফরমালিন ও কাটিং ওয়েল মিশিয়ে ১ ক্যান (৪০লিটার) নকল ভেজাল দুধ তৈরি করছে। দুধ সাধারনত ৬ থেকে ৭ ঘন্টার বেশী সতেজ না থাকায় এতে ফরমালিন ও ৪০ লিটার ক্যানে ৩ থেকে ৫ লিটার পানি মেশানো হচ্ছে। এতে ৪৮ ঘন্টাতেও তৈরীকৃত ভেজাল দুধ নষ্ট হচ্ছে না। ফলে ঢাক, বগুড়া, টাঙ্গাইলসহ দেশের দুরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় তরল দুধ পৌছানোর কাজে কোন বেগ পেতে হচ্ছে না। পাবনা-সিরাজগঞ্জে বর্তমানে ফের ভেজাল দুধ তৈরির মহোৎসবে মেতে উঠেছে একটি অসাধু চক্র।
অভিজ্ঞ মহলের মতে,‘শাহজাদপুরসহ পাবনা-সিরাজগঞ্জের গুটিকয়েক অসাধু দুগ্ধ ব্যবসায়ীর হাতে দেশবাসী জিম্মি হোক এটা কোনভাবেই কাম্য নয়। এ অপকর্ম প্রতিরোধে অবিলম্বে প্রশাসন কর্তৃক ঝটিকা অভিযানের পাশাপাশি কঠোর আইন প্রনয়ণ অতীব জরুরী হয়ে পড়েছে। আর এর ব্যাত্যয় ঘটলে শিশুসহ দেশের আমজনতার স্বাস্থ্যঝূঁকি কোনভাবেই হ্রাস করা সম্ভব হবে না বলেও তারা মতামত ব্যক্ত করেছেন।

রেসকোর্সে বঙ্গবন্ধু জাতীয় মঞ্চ, ভাস্কর্য, যাদুঘর নির্মাণের দাবিতে স্মারকলিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক : গতকাল ( সোমবার ) রাতে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ীস্থ মিল্কভিটা কারখানার ভিআইপি রেষ্ট হাউজে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানের যে স্থানে দাঁড়িয়ে ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন, সেই স্থানকে ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় মঞ্চ’ হিসেবে ঘোষণা ও সেখানে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ও বঙ্গবন্ধুর নামে যাদুঘর নির্মাণের দাবিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বরাবর প্রধানমন্ত্রীর চাচা, মিল্কভিটার চেয়ারম্যান শেখ নাদির হোসেন লিপুর হাতে স্মারকলিপি তুলে দিয়েছেন জাতীয় রেসকোর্স সংরক্ষণ ও বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি, সবুজ বিপ্লবের উদ্যোক্তা কামরুল হাসান হিরোক ও সাধারণ সম্পাদক, সাবেক জিএস আরিফুল ইসলাম পলাশ।
তারা যৌথভাবে এ সময় জানান, ‌‌‌বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা। তিনি স্বাধীনতার ঘোষক। তিনি স্বাধীনতা ঘোষণা না করলে দেশ স্বাধীন হতো না। তাই রেসকোর্স ময়দনের যে স্থানে দাঁড়িয়ে তিনি ৭ মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন, সেই স্থানকে ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় মঞ্চ’ হিসেবে ঘোষণা ও সেখানে বঙ্গবন্ধুর স্বর্ণখচিত ভাস্কর্য নির্মাণ করা হোক। এগুলো নির্মাণ হলে বাঙালি জাতি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আজীবন মুক্তিযুদ্ধের রেসকোর্স মায়দানের ঐতিহাসিক ঘটনা সর্ম্পকে জানতে পারবে, মুজিবীয় জেতনায় উজ্জীবিত হতে পারবে। ইতিমধ্যেই দাবিটি বাস্তবায়নে ইতিপূর্বে যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, সাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ও স্থানীয় সংসদ সদস্য হাসিবুর রহমান স্বপনসহ আ.লীগের উচ্চ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর স্মারকলিপি প্রেরণ করা হয়েছে বলেও জানান ।’

বাঘাবাড়ী মিল্কভিটা কারখানায় সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : গতকাল (সোমবার) রাতে বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতি লিমিটেড (মিল্কভিটা) এর বাঘাবাড়ী কারখানার অভ্যন্তরে কারখানার কর্মকর্তাবৃন্দের আয়োজনে মনোজ্ঞ এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যমণি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মিল্কভিটার চেয়ারম্যান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চাচা শেখ নাদির হোসেন লিপু ও তার সহধর্মিনী মিসেস ছাবেরা সুলতানা এবং মিল্কভিটার ভাইস চেয়ারম্যান, স্পেশাল পিপি (নারী ও শিশু), স্থানীয় আ.লীগ নেতা এ্যাড. শেখ মোঃ আব্দুল হামিদ লাবলু। বিশেষ অতিথি ছিলেন, মিল্ক ইউনিয়নের পরিচালক জাকির হোসন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাহার আলী, পরিচালক খালেকুজ্জামান, পরিচালক আব্দুস সামাদ ফকির, শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেহেলী লায়লা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ হাসিব সরকার, মিল্কভিটার বাঘাবাড়ী কারখানার ব্যবস্থাপক ডা. এএফএম ইদ্রিস, শাহজাদপুর উপজেলা যুবলীগের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক রাজীব শেখ, রূপবাটি ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম শিকদার প্রমূখ। সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত সংগীত পরিবেশন করেন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত শিল্পীবৃন্দ। ওই মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মী, মিল্কভিটার কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, সমবায়ী নেতা ও সমবায়ী গো-খামারীরা উপস্থিত ছিলেন।

স্বস্ত্রীক মিল্কভিটার চেয়ারম্যানকে বনশাই বৃক্ষ দিলেন সবুজ বিপ্লবের উদ্যোক্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক, শাহজাদপুর : গতকাল (সোমবার) রাতে বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতি লিমিটেড (মিল্কভিটা) এর বাঘাবাড়ী কারখানায় অনুষ্ঠিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠানের মধ্যমণি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচা, মিল্কভিটার চেয়ারম্যান শেখ নাদির হোসেন লিপু ও তার সহধর্মিনী মিসেস ছাবেরা সুলতানার হাতে বিরল দুটি বনশাই বটবৃক্ষ তুলে দেন সবুজ বিপ্লবের উদ্যোক্তা, জাতীয় রেসকোর্স ময়দান সংরক্ষণ ও বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি কামরুল হাসান হিরোক ও সাধারণ সম্পাদক সাবেক জিএস আরিফুল ইসলাম পলাশ। অতিথিদ্বয়ের হাতে বৃক্ষ প্রদানের সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, অনুষ্ঠানের আরেক মধ্যমণি, মিল্কভিটার ভাইস চেয়ারম্যান, স্পেশাল পিপি (নারী ও শিশু), স্থানীয় আ.লীগ নেতা এ্যাড. শেখ মোঃ আব্দুল হামিদ লাবলু, শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেহেলী লায়লা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ হাসিব সরকার, শাহজাদপুর উপজেলা যুবলীগের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক রাজীব শেখ, রূপবাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম শিকদার, ব্যাবসায়ী নেতা রবিন আকন্দ প্রমূখ। উপহার হিসেবে বৃক্ষ পেয়ে মিল্কভিটার চেয়ারম্যান শেখ নাদির হোসেন লিপু বলেন,‘ প্রিয় বৃক্ষ উপহার হিসেবে পেয়ে আনন্দিত। সকলেরই উচিত বৃক্ষ রোপণ করা। ছোটবেলা থেকেই বৃক্ষরোপণের ওপর বিশেষ দুর্বলতা রয়েছে।পরিবেশের ভারসাম্যতা রক্ষা, জীববৈচিত্র রক্ষায় সকলেরই বৃক্ষরোপণে এগিয়ে আসা উচিত যেমনটি সবুজ বিপ্লবের উদ্যোক্তা করছেন।’

মিল্কভিটা’র চেয়ারম্যানের শাহজাদপুর বাথান পরিদর্শণ; কোর্ডায়াল রিসিপশান

শামছুর রহমান শিশির,বিশেষ প্রদিবেদক, শাহজাদপুর : আজ (সোমবার) বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতি লিমিটেড (মিল্কভিটা) এর চেয়ারম্যান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা’র চাচা শেখ নাদির হোসেন লিপু স্বস্ত্রীক দেশের দুগ্ধশিল্পের রাজধানী ও কেন্দ্রবিন্দু সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের রেশমবাড়ী বাথান এলাকা পরিদর্শণ করেছেন। সকালে মিল্কভিটা’র চেয়ারম্যান শেখ নাদির হোসেন লিপু স্বস্ত্রীক শাহজাদপুর এসে পৌঁছালে মিল্কভিটা’র ভাইস চেয়ারম্যান, জননেতা এ্যাড. শেখ মোঃ আব্দুল হামিদ লাবলু ও তারুণ্যদীপ্ত যুবলীগ নেতা রাজীব শেখ শত শত মোটর সাইকেল শোভাযাত্রা ও সহস্রাধিক দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও সমবায়ীদের নিয়ে মিল্কভিটা’র বাঘাবাড়ী কারখানায় চেয়ারম্যানকে স্বস্ত্রীক নিয়ে যান এবং কোর্ডায়াল রিসিপশান প্রদান করেন। দুপুরে স্বস্ত্রীক মিল্কভিটা’র চেয়ারম্যান শেখ নাদির হোসেন লিপু রেশমবাড়ী বাথান এলাকা পরিদর্শণ গেলে সেখানে ধলাই কেন্দ্রীয় সমিতির পক্ষ থেকে মিল্কভিটা’র চেয়ারম্যান শেখ নাদির হোসেন লিপু ও তার সহধর্মিনী মিসেস ছাবেরা সুলতানাকে উষ্ণ সংবর্ধণা প্রদান করা হয়। ধলাই কেন্দ্রীয় সমিতির সভাপতি ও মিল্কভিটা’র পরিচালক আব্দুস সামাদ ফকিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সংবর্ধণা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, মিল্কভিটা’র চেয়ারম্যান শেখ নাদির হোসেন লিপু। বিশেষ অতিথি ছিলেন, মিল্কভিটা’র চেয়ারম্যানের সহধর্মিনী মিসেস ছাবেরা সুলতানা, মিল্কভিটা’র ভাইস চেয়ারম্যান, শাহজাদপুর চৌকি আদালতের যুগ্ম-জেলা ও দায়রা জজ মোঃ তসলিম আরিফ, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট হাসিবুল হক, সিনিয়র সহকারী জজ তোফাজ্জ্বল হক মৃধা, স্পেশাল পিপি (নারী ও শিশু) ও স্থানীয় আ.লীগ নেতা এ্যাড. শেখ মোঃ আব্দুল হামিদ লাবলু, শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেহেলী লায়লা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ হাসিব সরকার, উপজেলা যুবলীগ সভাপতি ইউনুস আলী, সাধারণ সম্পাদক মামুনর রশীদ লিয়াকত, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, তারুণ্যদীপ্ত যুবলীগ নেতা রাজীব শেখ প্রমূখ। সংবর্ধণা অনুষ্ঠান শেষে অতিথিবৃন্দের অংশগ্রহনে ক্রীড়া প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়। বাথান এলাকা পরিদর্শনকালে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান সমবায়ীদের খোঁজ খবর নেন। এক প্রশ্নের জবাবে মিল্কভিটা’র চেয়ারম্যান শেখ নাদির হোসেন লিপু এ প্রতিনিধিকে বলেন,”জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতেগড়া দেশের সর্ববৃহৎ সমবায় প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটাকে ইতিমধ্যেই আমরা লাভজনক প্রতিষ্ঠানে উপনীত করতে সক্ষম হয়েছি। মিল্কভিটার পণ্য বাজারের সেরা ব্রান্ডের স্বীকৃতি লাভ করেছে।দেশের দুগ্ধশিল্পের উন্নয়নে ও সমবায়ী গো-খামারীদের ভাগ্যোন্নয়ণে বহুমূখী পরিকল্পনা গ্রহন ও পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আর শাহজাদপুরবাসী অভূতপূর্ব যে সংবর্ধনা দিলেন তা আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ”

শাহজাদপুরে গোহালা নদীর বালুমহল ইজারা বন্ধের দাবীতে স্মারকলিপি প্রদানঃ বাথানের গরুর পানি খাওয়া বন্ধ ও শত শত বিঘা ফসলী জমি বিলীন

মোঃ মুমীদুজ্জামান জাহান,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের রামকান্তপুর মৌজার গোহালা নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গণ রোধে ক্ষতিগ্রস্তরা সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে। গতকাল রোববার সকালে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেহেলী লায়লা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাসিব সরকারের মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কাছে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, গো-খামারি ও মৎস্যজীবিরা জানান, গত ১০/১২ বছর ধরে চরাচিথুলিয়া গ্রামের কতিপয় অসাধু বালু ব্যবসায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে উৎকোচের বিনিময়ে ম্যানেজ করে নামকে অস্তে ইজারা নিয়ে সরকারি নিয়ম সম্পূর্ণ অমান্য করে ড্রেজার দিয়ে অবৈধ ভাবে অতিমাত্রায় বালু উত্তোলনের ফলে গোহালা নদীতে ব্যাপক ভাঙ্গণ শুরু হয়েছে। এ ভাঙ্গণের তান্ডবে ইতিমধ্যেই এ এলাকার শত শত বিঘা ফসলি জমি ও গো-চারণ ভূমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ ছাড়া রবীন্দ্র বিশ^বিদ্যালয় নির্মাণের নির্ধারিত স্থান ও ২৫টি গরুর বাথান হুমকির মুখে পড়েছে । নদীরপাড় ভেঙ্গে যাওয়ায় বাথান এলাকার শত শত গরু নদীতে নেমে পানি খেতে পারছেনা। পানি খেতে গিয়ে অনেক গরুর পা ও কোমর ভেঙ্গে যাচ্ছে। অনেক গরু পানিতে পড়ে মারাও যাচ্ছে। ভাঙ্গণের তান্ডবে নদীর গভীরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় শতাধিক মৎস্যজীবি এ নদী থেকে মাছ ধরতে না পারায় তারা পরিবার পরিজন নিয়ে না খেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
ফলে এ সব ক্ষতিগ্রস্তরা গোহালা নদী থেকে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধের জন্য আগমী ১৪ মার্চের বালু মহল ইজারার টেন্ডর স্থগিতের আবেদন জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে এ স্মারকলিপি প্রদান করেছে। এ ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও গো-বাথান মালিক আলহাজ¦ আব্দুস সালাম ব্যাপারী, আলহাজ¦ কালাম চৌধুরী,নূরুল ইসলাম,শামছুল ইসলাম,হাজী আজাদ,নওশাদ আলী,উজ্জল প্রাং,জমারত আলী ও মাহমুদ আলী জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ১০ ফুটের অধিক গভীর করে, নদীর পাড় ও ফসলী জমি কিংবা বাড়িঘর বা কোন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এমন ভাবে বালু উত্তোলন করা যাবে না। অথচ ওই প্রভাবশালী ইজারাদারগণ সরকারের এ নিয়ম অমান্য করে কমপক্ষে ১২০ ফুট গভির করে বালু উত্তোলন করা হয়েছে। ফলে ওই নদীর দু‘পাড়ে ভয়াবহ ভাঙ্গণের তান্ডব শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই তাদের ফসলী জমি,গো-চারণ ভূমি,বাথান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তারা আরো জানান,রামকান্তপুর এলাকা দেশের সর্ববৃহৎ গো-চারণ ভূমি। এখানকার উৎপাদিত গরুর দুধ মিল্কভিটা সহ প্রায় ২০টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বাজারজাতের মাধ্যমে দেশের ৭০ ভাগ শিশুর পুষ্টি চাহিদা পূরণ করে। অথচ একটি স্বার্থান্বেষী প্রভাবশালী মহল দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ বাথান এলাকা ধ্বংসের হীন চক্রান্তে লিপ্ত হয়ে গোহালা নদী থেকে অতিমাত্রায় বালু উত্তোলনের ফলে এই ভাঙ্গণ তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফলে এখানকার গোহালা নদীর পাড় ২৫/৩০ ফুট খাড়া হয়ে ভেঙ্গে গেছে। এতে বাথানের গরু পানি খেতে গিয়ে নিচে পড়ে মারা যায় অথবা পা-কোমর ভেঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অপর দিকে আবাদী জমি এ ভাঙ্গণের কবলে পড়ে বিলীন হয়ে যাওয়ায় কৃষকেরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ভাঙ্গণ দ্রুত রোধ করা না গেলে শত শত বিঘা ফসলী জমি,রবীন্দ্র বিশ^বিদ্যালয় স্থাপনের নির্ধারিত স্থান ও ২৫টি বাথান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। এই ক্ষতির হাত থেকে কৃষকদের রক্ষার জন্যই তারা বালুমহলের ইজারা বন্ধের দাবীতে স্মারকলিপি প্রদান করেছে। অপর দিকে রাউতারা বড়পাড়া মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুল আজিম শেখ ও সাবেক সভাপতি আমীর আলী শেখ জানান,নিয়ম অমান্য করে ১০ ফুটের স্থলে ১২০ ফুট গভীর করে গোহালা নদী থেকে বালু উত্তোলন করায় তাদের সমিতি ভুক্ত শতাধিক মৎস্যজীবি মাছ আহরণ করতে না পাড়ায় অর্ধাহারে অনাহারে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। তারা আরো জানান,তাদের মাছ ধরার জালের ব্যাস সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৭/৮ ফুটের বেশি নয়। মাত্রাতিরিক্ত বালু উত্তোলনের ফলে এ নদীর গভীরতা ১০/১২ গুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা এ নদী থেকে মাছ আহরণ করতে না পারায় তাদের এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তারা বরেন অথচ তারা তাদের সমিতির নামে বৈধ উপায়ে সারা বছর মৎস্য আহরণের জন্য ইজারা নিয়েছেন। তার পরেও ওই একই যায়গায় বালু উত্তোলনের জন্য অপর পক্ষকে ইজারা দেয়া হয়েছে। তারা দাবী করেন,একই স্থানের দুইবার ইজারা দেয়ার কোন নিয়ম না থাকলেও সিরাগগঞ্জের ডিসি অফিসের অসাধু কর্মকর্তারা উৎকোচের বিনিময়ে ম্যানেজ হয়ে এ নদীর একই জায়গার দু‘টি ইজারা প্রদান করায় এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তারা আরো বলেন, এ বছর শত নিষেধ করা শত্বেও ওই অসাধু কর্মকর্তারা নতুন করে বালুমহলের টেন্ডার আহব্বান করেছে। এ বছর এই ইজারা প্রদান করা হলে এখানে রক্তের বন্যা বয়ে যাবে। এ পরিস্থিতির জন্য তারাই দায়ী থাকবে। তাই এ ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে এলাকাবাসির যান-মাল রক্ষার্থে জেলা প্রশাসকের কাছে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। এ ব্যাপারে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেহলী লায়লা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাসিব সরকার বলেন,তাদের এ আবেদনের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দ্রুত সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবহিত করা হবে।

দুধে পানি মেশানোর অপরাধে শাহজাদপুরে জরিমানা

দুধে পানি মেশানোর অপরাধে শাহজাদপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুগ্ধ সমিতির এক ম্যানেজারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আলীমুন রাজীব জানান, পাবনা জেলার সাথিয়া উপজেলার বড় নারিন্দা সরদারপাড়া প্রাথমিক দুগ্ধ সমিতির ম্যানেজার বাবু সরদার ২৮০ লিটার দুধ নিয়ে গত মঙ্গলবার শাহজাদপুরের বাঘাবাড়ি মিল্কভিটা দুগ্ধ কারখানায় নিয়ে আসে। এখানেই দুধ পরীক্ষা করে দুধে পানি মেশানোর প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে ঐদিনই দুধ জব্দ করে সমিতির ম্যানেজার বাবু সরদারকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

বুধবার (১১ জুলাই) বাবু সরদারকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আলীমুন রাজীব তাকে উল্লেখিত জরিমানা করেন। এরপর জরিমানা দিয়ে বাবুকে ছাড়িয়ে নেয়া হয়।

দেশে দুধের চাহিদা পূরণ করছে মিল্কভিটা। বিশ্বের সর্বাধুনিক এনালাইজারে দুধ পরীক্ষা : ভেজালের কোন সুযোগ নেই – ভাইস চেয়ারম্যান, মিল্কভিটা

বিশেষ প্রতিবেদক : দেশের নিউজিল্যান্ডখ্যাত জনপদ ও দুগ্ধশিল্পের কেন্দ্রবিন্দু শাহজাদপুরসহ বাঘাবাড়ী মিল্কশেড এরিয়ায় প্রতিদিন উৎপন্ন হয় লাখ লাখ লিটার গরুর খাঁটি তরল দুধ। উৎপন্ন ওই খাঁটি দুধের সিংহভাগই সমবায়ী খামারীদের কাছ থেকে মিল্কভিটার বাঘাবাড়ী কারখানাসহ অন্যান্য কারখানায় সংগ্রহ করা হয়। ভোক্তাদের অধিকার সংরক্ষণে মিল্কভিটায় সমবায়ীদের কাছ থেকে প্রতিদিন সংগৃহিত ওই বিপুল পরিমান দুধ বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন সুইডেনের তৈরি ‘মিসির ডেইরি মিল্ক এ্যানালাইজার’-এর মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে শতভাগ খাঁটি দুধ মিল্কভিটার কারখানার প্লাটফর্মে গ্রহণ করা হয়। প্রতিদিন সংগৃহিত ওই লক্ষাধিক লিটার টাটকা গরুর দুধ মিল্কভিটার কারখানায় শীতলীকরণ করে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে খাঁটি তরল দুধসহ দুগ্ধজাত সামগ্রী প্রস্তুত করা হয়। প্রস্তুতকৃত ওই তরলদুধ, গুঁড়োদুধ, ঘি, মাখন, কনডেন্সড্ মিল্ক ও আইসক্রিমসহ মিল্কভিটায় তৈরি দুগ্ধজাত সামগ্রী ঢাকাসহ সারাদেশে অনুমোদিত পরিবেশকদের মাধ্যমে ভোক্তাদের নিকট সরবরাহ করা হচ্ছে।
গতকাল বুধবার মিল্কভিটার বাঘাবাড়ী কারখানা পরিদর্শনকালে মান নিয়ন্ত্রণ বিভাগের (কিউ.সি) সিনিয়র অফিসার এনামুল হকের সাথে এ প্রতিবেদকের আলাপ হয়। আলাপকালে তিনি জানান, ‘মিল্কভিটা কারখানায় সুইডেনে তৈরি বিশ্বের সর্বাধুনিক দুধ পরীক্ষার মেশিনের মধ্যে অন্যতম ‘মিড ইনফ্রেড টেকনোলোজি’র ‘মিরিস’ মিল্ক এ্যানালাইজারের মাধ্যমে দুধের গুণগত মান শতভাগ নিশ্চিতের মাধ্যমেই কেবল সমবায়ী গো-খামারীদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহ করা হয়। অত্যাধুনিক ওই মিল্কএনালাইজারের মাধ্যমে দুধে পানি মিশ্রণ, অর্গানোলেপ্টিক, কেমিক্যেলস্ এবং ফিজিকো কেমিক্যেল টেষ্টের মাধ্যমে দুধের গুণগত মান উত্তীর্ণের মাধ্যমে দুধ সংগ্রহ করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষিত হচ্ছে তেমনি অন্যদিকে সমবায়ী গো-খামারীদের খামারের সার্বিক অবস্থা নিরূপনপূর্বক খামার ব্যাবস্থাপনায় সঠিক পরামর্শ প্রদান করে আরও বেশী বেশী খাঁটি দুধ উৎপাদনে গো-খামারীদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। ফলে হাজার হাজার সমবায়ী গো-খামারীরা প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হচ্ছেন। শুধু তাই নয়,সর্বাধুনিক ওই মিল্কএ্যানালাইজারের মাধ্যমে গো-খামারীদের খামারে উৎপন্ন খাঁটি দুধের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিতে ফ্যাট পরীক্ষা ছাড়াও প্রোটিন, ল্যাকটোজ, মিনারেল, ডেলসিটি (ঘনত্ব), পিএইচ, ফ্রিজিং পয়েন্ট, কনডাক্টিডিটি, এসএনএফ ও টিএস (টোটাল সলিড) পরীক্ষা করা হচ্ছে। ‘মিরিস’ মিল্ক এ্যানালাইজারের মাধ্যমে দুধের সকল উপাদানের তারতম্যের ওপর ভিত্তি করে দুধের নরমাল কমপোজিশান আছে কী না ? তা নির্ধারণপূকক ভেজাল দুধ সনাক্ত করা হচ্ছে। কেউ মিল্কভিটায় ভেজাল দুধ সরবরাহ করলে তাৎক্ষণিক ওই এ্যানালাইজার তা ধরে ফেলায় মিল্কভিটায় ভেজাল দুধ সরবরাহের কোনরূপই সুযোগ থাকছে না। ফলে দেশে দুধের ভোক্তারা মিল্কভিটার ভেজালমুক্ত টাটকা, খাঁটি দুধ নিঃসন্দেহে খেতে পারছেন।’ জানা গেছে, শাহজাদপুরসহ পার্শ্ববর্তী দুগ্ধসমৃদ্ধ এলাকায় বিভিন্ন ডেইরি প্রজেক্টের কুলিং সেন্টারগুলোতে ‘গার্ভার সেন্টিফিজ’ মেশিনে শুধু দুধের ফ্যাট পরীক্ষার ব্যবস্থা ছাড়া অন্যান্য উপাদান পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় ওইসব কুলিং সেন্টারগুলোতে অবাধে ভেজাল দুধ সরবরাহ করছে অসাধু দুগ্ধ ব্যবসায়ীরা। এতে ওইসব অসাধু দুগ্ধ ব্যবসায়ীরা ও কুলিং সেন্টারগুলোর ম্যানেজাররা ‘আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ’ বনে গেলেও দেশের সাধারণ ভোক্তারা টাটকা দুধ প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কিন্তু মিল্কভিটায় দুধের সকল উপাদান পরীক্ষা করার ফলে দেশে মিল্কভিটার দুগ্ধজাত সামগ্রীর ভোক্তারা খাঁটি ও টাটকা তরল দুধসহ দুগ্ধজাত সামগ্রী খেতে পারছেন। এক্ষেত্রে ভোক্তাদের অধিকার যেমন সংরক্ষিত হচ্ছে,অন্যদিকে তারা ভেজালমুক্ত খাঁটি টাটকা, পুষ্টিকর মিল্কভিটার দুধ পান করে শারীরিকভাবে উপকৃত হচ্ছেন । বেসরকারী বিভিন্ন দুগ্ধ শীতলীকরণ কারখানায় ‘গার্ভার সেন্টিফিজ’ মেশিনে দুধের প্রতিটি নমুনার ফ্যাট পরীক্ষায় ৫ মিনিট সময় লাগলেও মিল্কভিটা কারখানায় ‘মিড ইনফ্রেড টেকনোলোজি’র মিরিস মিল্ক এ্যানালাইজারের মাধ্যমে দুধের প্রতিটি নমুনা পরীক্ষা করতে সময় লাগছে মাত্র ৪৫ সেকেন্ড। অথচ দুধে বিদ্যমান সকল উপাদান অন্যান্য ল্যাবে পরীক্ষা করতে ২৪ থেকে ৩৬ ঘন্টা সময় লাগলেও মিল্কভিটায় ‘মিরিস’ মিল্কএ্যানালাইজারের মাধ্যমে দুধের সকল উপাদানের মাত্রা পরীক্ষায় সময় লাগছে মাত্র ৪৫ সেকেন্ড ।
মিল্কভিটার ভাইস চেয়ারম্যান এড. এমএ হামিদ লাভলু জানান, ‘দেশে দুধের ভোক্তাদের অধিকার সংরক্ষণ নিশ্চিতে মিল্কভিটা কর্তৃপক্ষ সদাসচেষ্ট ও সর্বোচ্চ সচেতন। ভোক্তাদের দোরগোড়ায় শতভাগ খাঁটি ও টাটকা দুধ সরবরাহের জন্য বিশ্বের সর্বাধুনিক পদ্ধতির মধ্যে অন্যতম ‘মিরিস’ মিল্কএ্যনালাইজারের মাধ্যমে সম্পূর্ণ ভেজালমুক্ত ও শতভাগ খাঁটি দুধ সমবায়ী খামারীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে আমরা ভোক্তাদের দোড়গোড়ায় পৌছে দেয়া হচ্ছে। কেউ ভেজাল দুধ সরবরাহ করলে আমরা ওই সমিতির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করছি। ভেজাল দুধ সরবরাহের অভিযোগে ইতিপূর্বে আমরা শাহজাদপুর উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের হরিনাথপুর প্রাথমিক দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতির দুধ সংগ্রহ বন্ধ করে ওই সমিতির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করি। ভোক্তা অধিকার রক্ষার্থে ও দুধের মানের ব্যাপারে মিল্কভিটা কর্তৃপক্ষ আপোষহীন। ’
শাহজাদপুর উপজেলা পশুসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, কাগজে কলমে এলাকার গরুর সংখ্যা ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৭শ’ ৮৫ টি হলেও বাস্তবে ওই সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশী বলে খামারীরা জানিয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক গো-সম্পদ থেকে প্রতিদিন সকাল ও বিকাল এ দুই বেলায় লাখ লাখ লিটার তরল খাঁটি দুধ উৎপন্ন হচ্ছে যার সিংহভাগ সমবায়ী গো-খামারীরা মিল্কভিটায় সরবরাহ করছে।
জানা গেছে, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এ অঞ্চলের গো -সম্পদের ওপর ভিত্তি করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ক্যান্টেন এম মনসুর আলী কর্তৃক শাহজাদপুরের বাঘাবাড়ীতে গড়ে তোলা হয় মিল্কভিটার বিশাল কারখানা। মিল্কভিটা কর্তৃপক্ষের সহায়তায় অষ্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ষাঁড়ের সঙ্গে স্থানীয় বিভিন্ন জাতের গাভীর প্রজননের মাধ্যমে উন্নত সংকরজাতের গাভীর জন্ম দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া দেশের বৃহত্তর ২২ টি জেলার সমবায়ী খামারীদের বিনামূলে বিপুল পরিমান উন্নতজাতের সিমেন (বীজ) সরবরাহ করায় মিল্কভিটা দুগ্ধশিল্পে বিপ্লব ঘটিয়েছে। বিনামূলে উন্নজাতের সিমেন সরবরাহের ফলে শাহজাদপুর, বাঘাবাড়ী মিল্কশেড এরিয়াসহ সারাদেশে অষ্ট্রেলিয়ান, শাহীওয়াল , জার্সি, ফ্রিজিয়ান, এফ এস ও সিন্ধিসহ বিভিন্নজাতের সংকর গরুর সংখ্যা দিন দিন ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। শাহজাদপুরের সবচেয়ে বেশী দুধ উৎপন্ন হয় জনবিচ্ছিন্ন বিস্তৃর্ণ বাথান ও পোতাজিয়া, রেশমবাড়ী, আঙ্গারু, টেপরি, পুরান টেপরি, বাড়াবিল, রূপবাটি, রাউতারা, পোরজনা, পুঠিয়া, ডায়া, নগর ডালা, কাকুরিয়া, কাদাইবাদলা, চিথুলিয়া, কাশিনাথপুর, বনগ্রাম, সরিষাকোল, মশিপুর, নুকালী, শেলাচাপড়ী, চরা-চিথুলিয়া, ভাইমারা, টিয়ারবন্দ, বহলবাড়ী, আহম্মদপুর, বিন্নাদায়ের, মাদলা, শাকতোলা, বিলকলমীসহ এলাকার বিভিন্ন বসতবাড়ীর গো-খামারে। বানিজ্যিক ভিত্তিতে এসব এলাকায় সবচেয়ে বেশী দুধ উৎপন্ন হচ্ছে। হাজার হাজার ক্যানে করে প্রতিদিন বিপুল পরিমান দুধ ভ্যান,ট্রলি,নৌকা ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে পৌছানো হচ্ছে বাঘাবাড়ীর মিল্কভিটা কারখানাসহ অন্যান্য কারখানায়। গবাদীপশু সমৃদ্ধ শাহজাদপুরে ছিটিয়ে আছে প্রায় সাড়ে তিন লক্ষাধিক গো-সম্পদ।অনেকে শখে, অনেকে পারিবারিক দুধের চাহিদা মেটাতে আবার সিংহভাগ গো-খামারীরা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উন্নত জাতের গাভী লালন পালন করছেন। শাহজাদপুর উপজেলার বিভিন্ন বসতবাড়ীর খামার ও বাথানে বিভিন্ন ধরনের উন্নতজাতের জাতের গাভী রয়েছে। তন্মদ্ধে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, অষ্ট্রেলিয়া, শাহীওয়াল, কোরিয়ান, ফিজিয়ান, দেশী জাতসহ বিভিন্ন উন্নতজাতের শংকর গাভী। খামারীরা জানান, একটি অষ্ট্রেলিয়ান গাভী প্রতিদিন ১৫ থেকে ২৫ লিটার দুধ দেয়। সেইসাথে জীবদ্দশায় প্রতিটি গাভী ১২ থেকে ১৫ টি বাছুর জন্ম দিতে পারে। একটি ফ্রিজিয়ান জাতের গাভী ১২ লিটার থেকে ২৩ লিটার দুধ দেয়। গো-খামারীরা প্রাথমিকভাবে দুধ সংগ্রহ করে সেই দুধ তারা মিল্কভিটার আওতাভূক্ত বিভিন্ন প্রাথমিক দুধ সমিতির মাধ্যমে মিল্কভিটার বাঘাবাড়ীসহ বিভিন্ন কারখানায় সরবরাহ করে। মিল্কভিটায় মিল্ক এ্যানালাইজারের মাধ্যমে প্রথমে দুধের গুণাগুণ নিরূপণ করা হয় । তারপরে ওই দুধ কারখানায় অভ্যাস্তরের পাইপলাইনে খাঁটি তরল দুধ ঢোকানো হয়। সেই খাঁটি টাটকা দুধ মিল্কভিটার কারখানায় শীতলীকরণসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে তরলদুধ, গুঁড়োদুধ, ঘি, মাখন, কনডেন্সড্ মিল্ক ও আইসক্রিম তৈরি করে পরিবেশকের মাধ্যমে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পৌছে দেওয়া হচ্ছে । ওইসব খুচরা বিক্রেতার মাধ্যমে দেশের সর্বসাধারণ ভোক্তদের হাতে গিয়ে পৌছাচ্ছে মিল্কভিটার খাঁটি দুধের তৈরি বিভিন্ন দুগ্ধজাত সামগী যা দেশে দুধের ভোক্তাদের খাঁটি, টাটকা, পুষ্টিকর দুধের চাহিদা পূরণ করছে।

দুধ নিয়ে বিপাকে শাহজাদপুরসহ বাঘাবাড়ি মিল্কশেড এরিয়ার খামারিরা

নিজস্ব প্রতিনিধি : মিল্কভিটা কর্তৃপক্ষ খামারী পর্যায়ে দুধের দাম কমিয়ে এবং কোঠা পদ্ধতি চালু করে দুধ সংগ্রহ করছে। খামারীদের উৎপাদিত দুধ সংগ্রহে করছেন নানা তাল বাহানা। কোঠা পদ্ধতিতে দুধ সংগ্রহ করায় দুগ্ধ খামারীদের উৎপাদিত দুধ নিয়ে দুগ্ধ শিল্প অঞ্চল খ্যাত শাহজাদপুরসহ বাঘাবাড়ি মিল্কশেড এরিয়ার হাজার হাজার খামারী বিপাকে পড়েছেন। শীত মৌসুমে দুধ উৎপাদন বেশি হওয়ায় বাইরের বেসরকারি কোম্পানী এবং স্থানীয় ঘোষেরাও দুধের দাম কমিয়েছে। এতে ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছে খামারীরা। মিল্কভিটা কতৃপক্ষের এ রকম সিদ্ধান্তের কারণে এ অঞ্চলের খামারীদের মাঝে ব্যাপক অসন্তোষ বিরাজ করছে। এমনকি মিল্কভিটার এ ধরনের হটকারী সিদ্ধান্তের কারণে অনেকেই এই পেশায় নিয়োজিত ব্যাপক বিরাট একটি জনগোষ্ঠি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অবিলম্বে কোঠা পদ্ধতি বাতিল এবং দুধের দাম বাড়ানোর জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও খামারীদের অভিযোগ থেকে জানা গেছে, গত ১২ই জানুয়ারি মিল্কভিটার ব্যাবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মোঃ জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে ননিভেদে সমিতি এবং সদস্যদের নিকট থেকে (ষ্ট্যান্ডার্ড ৪.০০) কাচা তরল দুধ লিটার প্রতি ১ টাকা কমিয়ে যথাক্রমে ৩৮.৫০ টাকা এবং ৩৬.৪৫ টাকা নির্ধারণ করে পত্রজারি করে দুধ কেনার জন্য বলা হয়েছে। ওই পত্রে আরও বলা হয়েছে ১৭ই জানুয়ারি থেকে উক্ত আদেশ কার্যকর হবে।
শাহজাদপুর উপজেলার কাকিলামাড়ি দুধ সমিতির সভাপতি মহির উদ্দিন, পোতাজিয়া দুগ্ধ সমিতির সভাপতি শহীদ আলী, মাদলা দুধ সমিতির সভাপতি আজাদ, কায়েমপুর ইউনিয়নের খারুয়া জংলা গ্রামের খামারী খোকা বিশ্বাস, উল্লাপাড়া উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের উধুনিয়া গ্রামের আবুবক্কার, বেড়া উপজেলার পেচাকোলা গ্রামের আমানত, সাঁথিয়া উপজেলার বাউশগাড়ী গ্রামের ফরিদ আলী ও ফরিদপুর উপজেলার কালিয়ানি গ্রামের শামস উদ্দিনসহ বাঘাবাড়ী মিল্কশেড এরিয়ার বিভিন্ন দুগ্ধ সমিতির সভাপতি, ম্যানেজার এবং প্রায় শতাধিক খামারি এ প্রতিনিধিকে অভিযোগ করে জানায়, দফায় দফায় গো-খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধিতে খামারীরা দুধের দাম বাড়ানোর দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছে। খামারীদের সেই দাবি পূরণ না করে উল্টো মিল্কভিটা কর্তৃপক্ষ গত ১ সপ্তাহের ব্যবধানে কোঠা পদ্ধতি চালু এবং দুধের দাম কমিয়েছে। এতে খামারীরা ব্যপক লোকশানের মুখে পড়েছে। এ ছাড়াও এর আগে অতিরিক্ত ধারণ ক্ষমতার অযুহাতে মিল্কভিটা কর্তৃপক্ষ খামারীদের কাছ থেকে ২ দিন দুধ সংগ্রহ বন্ধ রাখে। কোঠা পদ্ধতি চালু করায় খামারীরা তাদের উৎপাদিত সম্পূর্ণ দুধ মিল্কভিটায় বিক্রি করতে পারছেনা। অবশিষ্ট দুধ বেসরকারি কোম্পানী এবং স্থানীয় ঘোষদের কাছে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। এ সুযোগে বেসরকারি কোম্পানী ও ঘোষেরাও দুধের দাম কমিয়ে দিয়েছে। এতে খামারীদের ব্যাপক লোকশান হচ্ছে। মিল্কভিটা কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ প্রয়োগের উপায় খুঁজছে তারা।
কোন ব্যক্তি বা দলের অনুগত্য প্রকাশ না করে দল মত নির্বিশেষে দুগ্ধ শিল্পকে বাঁচানোর জন্য ঐক্যাবদ্ধ হচ্ছে এ অঞ্চলের খামারিরা। তারা আরও জানান, তাদের উৎপাদিত দুধের টাকায় মিল্কভিটা আজ বাংলাদেশের সরকারি পর্যায়ের একমাত্র লাভজনক শিল্প ও সুশৃঙ্খল সমবায় সমিতি হিসেবে পরিচিত। এ কারণে তাদের উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। এ ধরণের একটা নৈতিক মনোবল নিয়ে তারা (দুগ্ধ খামারী) মাঠে নামার প্রস্তুতিও নিচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুস সামাদ জানান, মিল্কভিটার দুধের দাম কমানো এবং কোঠা পদ্ধতি চালুর বিষয়ে তাদের কিছু করণীয় নেই। তবে এ বিষয়ে এরই মধ্যে খামারীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে ঘি, ছানা ও দই সহ বিভিন্ন উপকরণ তৈরির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যা থেকে দুগ্ধ খামারীরা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারে।
প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, বেলকুচি, চৌহালী, উল্লাপাড়া, পাবনার বেড়া, সাঁথিয়া, ফরিদপুর ও চাটমোহর উপজেলা নিয়ে গড়ে উঠেছে বাঘাবাড়ি মিল্কশেড এরিয়া। এ অঞ্চলে প্রায় ১২’শ প্রাথমিক দুগ্ধ সমিতি এবং প্রায় ২০ হাজার গো-খামার রয়েছে। এছাড়া এ অঞ্চলের প্রতিটি কৃষক পরিবারেই গরু পালন করে দুধ উৎপাদন করে থাকে। আগের তুলনায় দুধের উৎপাদন বেড়েছে। বর্তমানে এ অঞ্চলে প্রতিদিন প্রায় ৫ লাখ লিটার দুধ উৎপাদন হয়। এর সিংহভাগ দুধ মিল্কভিটা ক্রয় করে থাকে। মিল্কভিটার পাশাপাশি প্রাণ ডেইরি, আকিজ ডেইরি, আফতাব ডেইরি, ব্র্যাক ডেইরি ফুড (আড়ং) ও অ্যামো ফ্রেশ মিল্কসহ বেশকিছু বে-সরকারি দুগ্ধজাতকারী প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় ঘোষেরা খামারি ও প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে দুধ ক্রয় করে। এ ব্যাপরে মিল্কভিটা কর্তৃপক্ষের মতামতের জন্য মিল্কভিটা ব্যবস্থাপনা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ লাভলুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘শীতের এই মৌসুমে খামারীদের দুধ উৎপাদনের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় মিল্কভিটার ধারণ ক্ষমতার বাইরে চলে যায়। তাই পূর্ববর্তী ব্যবস্থাপনা কমিটিগুলো এই সিদ্ধান্ত করে যা এখনো এবারও বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এটি অস্থায়ী একটি নির্দেশনা। আগামী ব্যবস্থাপনা কমিটিতে এই ধরণের সিদ্ধান্ত যাতে আর বাস্তবায়িত না হয় সে ব্যাপারে একটি প্রস্তাবনা রাখা হবে, খামারীদের উৎপাদিত দুধ দিয়ে কোনো সময়ই যেন মিল্কভিটা বিপাকে না পড়ে সেজন্য নতুন করে বিক্রয় কেন্দ্র বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ঢাকায় ১শ’টি এবং উত্তরবঙ্গসহ সাড়া দেশে আরও ১শ’টি বিক্রয় কেন্দ্র শুরু করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গের প্রতিটি দুগ্ধ সংগ্রহ ও শীতলিকরণ কেন্দ্রে আমাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রির ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ। আশা করি এতে মিল্কভিটার এই দৈন্য দশা দূর হয়ে যাবে। ’

গোবরে পদ্মফুল-৪ : জৈবসার ব্যবহারে উদ্যোগী না হলে ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদন বিঘ্নিত হবে

শামছুর রহমান শিশির : অতীতে যখন রাসায়নিক সার ছিল না তখন দেশের কৃষকেরা জৈব সার ফসলী জমিতে প্রয়োগ করতেন। ফলে জমিতে উৎপাদিত ফসলের গুনগত পুষ্টিমানও ছিল মানসম্পন্ন। আর এ কারণে অতীতে দেশের আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা অপেক্ষাকৃত কম মাত্রায় রোগাক্রান্ত হতেন। কিন্তু বর্তমানে অল্প ফসলী জমিতে হাইব্রিড জাতীয় অধিক ফসল ফলনের আশায় জমিতে নানা রাসায়নিক সার ও কীটনাষক নিয়মানুসারে প্রয়োগ না করে অতিমাত্রায় প্রয়োগ করায় জমির উর্বরা শক্তি হ্রাস ও উৎপাদিত ফসলের পুষ্টিমান কমেছে বহুগুণে। নান ধরনের রাসায়নিক সারের যথেচ্ছ ব্যবহার ও যথাযথ পদ্ধতিতে প্রয়োগ না করায় দেশের শষ্যভান্ডার খ্যাত উত্তরাঞ্চলসহ দেশের সর্বত্র ফসলী জমিতে প্রয়োগকৃত রাসায়নিক সার অনেক সময়ই কোন কাজে আসছে না। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, ফসলী জমিতে জৈব সার প্রয়োগের ফলে জমিতে কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় না। কিন্তু অতিমাত্রায় রাসায়নিক সার প্রয়োগে জমিতে এর বিরূপ প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া পড়ছে। জৈব সার প্রয়োগ না করায় ও নিয়ম বহির্ভূত ভাবে রাসায়নিক সার অতিমাত্রায় প্রয়োগ করায় ফসলী জমিতে এ্যাসিডিটি বৃদ্ধি ও উর্বরা শক্তি হ্রাস পাচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ফসলী জমির উর্বরতা শক্তি,পরিবেশের ভারসাম্যতা হ্রাস ও কৃষি প্রধান দেশের কৃষি উৎপাদন মারাত্বকভাবে বিঘ্নিত হবে যা ভবিষত্যে তীব্র খাদ্য সংকট সৃষ্টির একটি বৃহত ফ্যাক্টর হয়ে দাড়াবে।
শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের রাউতারা গ্রামের এলিজা খান মডেল ডেইরি ফার্ম ও বায়োগ্যাস প্লান্ট পরিদর্শণকালে জাতীয় সমবায় ইউনিয়নের ভাইস চেয়ারম্যান ও মিল্কভিটার সবেক চেয়ারম্যান হাসিব খান তরুনের সহধর্মীনি শাহজাদপুর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এলিজা খান তরুন বলেন, ‘তার ডেইরি ফার্ম থেকে দৈনিক প্রাপ্ত গোবর তিনি বিনষ্ট না করে পুরোপুরিই ওই গোবরের সদ্ব্যবহার করছেন। তার ওই বায়োগ্যাস প্লান্টের মাধ্যমে তিনি তার ডেইরি ফার্ম ও পরিবারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানীর চাহিদা পূরণের পরও বায়োগ্যাস প্লান্ট থেকে প্রাপ্ত বাড়তি গ্যাস বিক্রি করছেন। এত কিছুর পরও তার ওই বায়োগ্যাস প্লান্ট থেকে প্রাপ্ত গন্ধবিহীন উৎকৃষ্ট মানের জৈবসার হিসাবে বিবেচিত গোবর বিক্রি করে ‘গোবর’ নামীয় অতি মূল্যবান গবাদীপশুর মলের সর্বোচ্চো আউটপুট পেয়ে দেশের গো-খামারীদের রাতারাতি ভাগ্যোন্নয়নে এক অনুমপ মডেল স্থাপন করেছেন যা কৃষিপ্রধান দেশের কৃষিখাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’
জানা গেছে,উন্নত বিশ্বের ফসলী জমিতে রাসায়নিক সারের পরিবর্তে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াহীন জৈব সারের অধিক ব্যবহারের ওপর অধিক গুরুত্ব দিয়ে আসছেন বিশেষজ্ঞ কৃষিবিদগণ। আমাদের দেশের ফসলী জমিতে বিভিন্ন ধরনের সুষম রাসায়নিক সার অতি মাত্রায় ব্যবহারে জমিতে পিএইচ-এর মাত্রা নিউট্রালে না থেকে স্থানভেদে কম বা বেশী হচ্ছে যা ফসলী জমির জন্য মারাত্বক ক্ষতিকর। ফলে দেশের ফসলী জমিতে উর্বরা শক্তি অতীতের তুলনায় দিনে দিনে বহুলাংশে কমে যাচ্ছে। উত্তরাঞ্চলে খাদ্যশষ্যের যোগানে উচ্চ ফলনশীল ফসল ফলনের আশায় অজ্ঞ কৃষকেরা ফসলী জমিতে মাত্রাতিরিক্ত হারে রাসায়নিক সার প্রয়োগ করছেন। এতে বিভিন্ন ধরনের ফসলের উৎপাদন ব্যয় বহুলাংশে বৃদ্ধি পেলেও জমিতে রোপিত ফসল মাটি থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুন নিতে পারছে না। ফলশ্রুতিতে কৃষকেরা আশানুরূপ ফসল ফলাতে ব্যার্থ হচ্ছেন । ইরি-বোরো ধান চাষের সময় এক বিঘা জমিতে দুই দফায় ৩০-৩৬ কেজি ইউরিয়া সার প্রয়োগের নিয়ম থাকলেও কৃষকেরা অধিক ফলনের আশায় ৫০ থেকে ৬০ কেজি ইউরিয়া সার প্রয়োগ করছে । ফলে সরকারি হিসাবে ইউরিয়া সারের চাহিদার পরিমান যোগানের তুলনায় বেশী লাগছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে,স্থানীয়ভাবে ইউরিয়া সারের উৎপাদন খরচ পড়ে ১৭’শ ৫০ টাকা। আমদানীকৃত ইউরিয়া সারের খরচও প্রায় ১৭’শ ৫০ টাকা থেকে ১৮’শ টাকা পড়ে যায়। কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমাতে সরকার তা বিক্রি করছে বস্তা প্রতি প্রায় ১ হাজার টাকায়। প্রতি বস্তা ইউরিয়া সারে সরকার প্রায় ৭৫০ টাকা অর্থ ভর্তুকি দিয়ে কৃষকের মধ্যে সার বিক্রি করছে। কিন্তু সরকার কর্তৃক ভর্তুকি মূল্যে কৃষকের কাছে বিক্রয়কৃত সার যথাযথ পদ্ধতিতে প্রয়োগ না করায় জমিতে ব্যবহৃত সারের অপচয় দিন দিন বাড়ছে। পর্যাপ্ত পরিমান সার কৃষকের মধ্যে সরবরাহ করা হলেও তার সঠিক ব্যবহার না হওয়ায় সরকার ও কৃষক উভয়ই আর্থিক দিক বিবেচনায় চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। দেশের নিউজিল্যান্ড খ্যাত জনপদ শুধুমাত্র শাহজাদপুর উপজেলাই রয়েছে প্রায় সাড়ে তিন লক্ষাধিক গো-সম্পদ (সরকারি শুমারি অনুসারে,বাস্তবে এ সম্পদের সংখ্যা আরও বেশী)। ওই বিশাল গো-সম্পদ থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ লাখ কেজি গোবর পাওয়া যাচ্ছে যার মাসিক মূল্যমান প্রায় ৫৫ কোটি টাকা। সেই হিসাবে সারাদেশে প্রতিদিনের গোবর প্রাপ্তির সঠিক পরিসংখ্যান এখনও পর্যন্ত পাওয়া না গেলেও একটি উপজেলাই যদি দিনে প্রায় ৪০ লাখ কেজি গোবর পাওয়া যায় তাহলে সারাদেশে কি পরিমান গোবর পাওয়া যাচ্ছে তা একটু খতিয়ে দেখলেই বোধগম্য হবে। ওই গোবর ৪ থেকে ৫ মাস মাটির নীচে পুঁতে রেখে পুরোপুরি পঁচিয়ে উন্নতমানের জৈব সার হিসাবে ফসলী জমিতে ব্যবহৃত না হয়ে জ্বালানী হিসাবে (স্থানীয় ভাষায় ঘষি) ব্যবহৃত হচ্ছে। ‘গোবর’ নামীয় অতি সহজলভ্য, পরিবেশবান্ধব ও জমির উর্বরা শক্তি, ফসলের উৎপাদন ও পুষ্টিগুণমান বৃদ্ধিকারী ওই জৈব সার হিসাবে ফসলী জমিতে অঠিক ব্যবহার করা হলে একদিকে যেমন কৃষকের ফসলের উৎপাদন ব্যায় কমবে, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্যতা বজায় থাকার পাশাপাশি জমির উর্বরা শক্তি বৃদ্ধি পাবে ও ফসল উৎপাদন বেড়ে যাবে। পাশাপাশি উৎপাদিত ফসলের পুষ্টিগ্রহনের ক্ষমতাও বেড়ে যাবে ও রোগবালাই অনেক কমে যাবে বলে বিশেষজ্ঞ কৃষিবিদগণ অভিমত ব্যক্ত করেছেন। বিশেষজ্ঞ কৃষিবিদগণ কৃষকদের রাসায়নিক সারের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে জৈব সার হিসাবে ফসলী জমিতে গোবর প্রয়োগের পরামর্শ দিলেও এখোনো অনেক কৃষকের সচেতনতার অভাব ও যথাযথ জ্ঞান না থাকায় ফসলী জমিতে জৈব সার হিসাবে গোবর প্রয়োগে উল্লেখযোগ্য উৎসাহ উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। ফলে জমিতে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার প্রয়োগে খরচ বৃদ্ধি ও পরিবেশের ক্ষতির পাশাপাশি জমির উর্বরা শক্তি হ্রাস, মাটি থেকে ফসলের পুষ্টিগ্রহন ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। অপরদিকে মিসেস এলিজা খান মডেল ডেইরি ফার্ম ও বায়োগ্যাস প্লান্টের মতো দেশের প্রতিটি গো-খামারে এরূপ একটি বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনের মাধ্যমে গোবর থেকে উৎপন্ন জৈব সার ফসলী জমিতে প্রয়োগ করা হলে সব দিক বিবেচনায় দেশ ও কৃষকেরা উপকৃত হবে বলে সচেতন মহল অভিমত ব্যাক্ত করেছেন।