দৈনিক উৎপন্ন সাড়ে ৩ লাখ লিটার দুধ বিক্রিতে হিমশিম


করোনায় শাহজাদপুরের গো-খামারিরা মহাবিপাকে

দুগ্ধশিল্পের রাজধানী ও দেশের নিউজিল্যান্ড খ্যাত জনপদ শাহজাদপুর উপজেলাসহ বাঘাবাড়ী মিল্কশেড এরিয়ায় দৈনিক উৎপন্ন হচ্ছে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ লিটার গরুর দুধ। এ অঞ্চলে দৈনিক উৎপন্ন বিপুল পরিমান গরুর দুধ দেশে দুধের চাহিদা পূরণ করে আসছে। কিন্তু করোনার ক্রান্তিকালে শাহজাদপুরসহ বাঘাবাড়ী মিল্কশেড এরিয়ায় দৈনিক উৎপন্ন প্রায় সাড়ে ৩ লাখ লিটার দুধের বিপনন নিয়ে গো-খামারিরা মহাবিপাকে পড়েছে।

মিল্কভিটাসহ বেসরকারি ১৪টি ডেইরি প্রজেক্টের কুলিং সেন্টারের মাধ্যমে উৎপন্ন এসব দুধ সংগ্রহ করা হলেও সারাদেশে দুধের ভোক্তাদের চাহিদা বহুলাংশে কমে যাওয়ায় বাজারে প্রক্রিয়াজাতকরণ নানা দুগ্ধজাত পন্যসামগ্রীর বেচাবিক্রিও কমে গেছে। ফলে মিল্কভিটা কোটা পদ্ধতিতে ও অন্যান্য বেসরকারি ডেইরি প্রজেক্ট তুলনামূলক কম পরিমান দুধ খামারিদের কাছ থেকে সংগ্রহ করছে। ফলে শাহজাদপুরসহ বাঘাবাড়ী মিল্কশেড এরিয়ার হাজার হাজার গো-খামারিরা তাদের উৎপন্ন দুধের বিপনন নিয়ে প্রতিটি মুহুর্ত চরম উদ্বেগ আর উৎকন্ঠায় কাটাচ্ছে।

তার পরেও ‘মরার ওপর খাড়ার ঘাঁ’ এর মতোই বন্যার পানিতে বিস্তুর্ণ গো-চারণ ভূমি তলিয়ে যাওয়ায় এলাকায় কাঁচা ঘাসের তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে। ফলে দুগ্ধ উৎপাদনে খামারিদের বাধ্য হয়ে অপেক্ষাকৃত বেশী খরচে দানাদার খাদ্য ক্রয় করে গবাদীপশুকে খাওয়াতে হচ্ছে। এতে তাদের দুধের উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পেলেও দুধের দাম ও চাহিদা বৃদ্ধি না পাওয়ায় খামারিরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

গো-খামারিরা জানিয়েছে, শাহজাদপুরসহ বাঘাবাড়ী মিল্কশেড এরিয়ায় দৈনিক উৎপন্ন প্রায় সাড়ে ৩ লাখ লিটার দুধ প্রতিদিন খামারিরা মিল্কভিটার আওতাভূক্ত বিভিন্ন প্রাথমিক দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতি লিঃ এর মাধ্যমে মিল্কভিটার বিভিন্ন কারখানায়, স্থানীয় ঘোষ সম্প্রদায় ও মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াও প্রাণ, আফতাব, এমোমিল্ক, কোলালিটি, আড়ং, আকিজসহ বিভিন্ন ডেইরি প্রজেক্টের কুলিং সেন্টারে সরবরাহ করছে।

পরে কারখানায় শীতলীকরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে তা ঢাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে। ঢাকাসহ সারাদেশে দুধের ভোক্তাদের চাহিদা ক্রমশ হ্রাস পাওয়ায় বাজারে সরবরাহকৃত দুধ অতীতের তুলনায় কম পরিমানে বিক্রি হচ্ছে। এতে বাধ্য হয়ে মিল্কভিটা কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন বেসরকারি ডেইরি প্রজেক্ট কর্তৃপক্ষও খামারিদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহের পরিমান কমিয়ে দিয়েছেন।

শাহজাদপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, ‘আপটুডেট রিপোর্ট অনুযায়ী শাহজাদপুর উপজেলায় মোট ২ লাখ ৮৭ হাজার গাভী, ষাঁড় ও বাছুর রয়েছে। কাগজে কলমে গো-সম্পদের এ পরিসংখ্যান থাকলেও বাস্তবে তা সংখ্যায় প্রায় দ্বিগুণ হবে বলে খামারিরা জানিয়েছে। সকাল-বিকাল দু’বেলায় এ অঞ্চলের খামারিরা দৈনিক প্রায় সাড়ে ৩ লাখ লিটার দুধ সংগ্রহ করছে।

ঢাকায় সরবরাহকৃত দুধ প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে তরলদুধ, গুঁড়োদুধ, ঘি, মাখন, কনডেন্সড মিল্ক, আইসক্রিমসহ নানা দুগ্ধজাত পন্যসামগ্রী প্রস্তুত করে ঢাকাসহ সারাদেশে সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু করোনা ভাইরাসের ক্রান্তিকালে ঢাকাসহ সারাদেশে এসব দুগ্ধজাত পন্যসামগ্রীর ভোক্তার সংখ্যা কমে যাওয়ায় প্রক্রিয়াজাত নানা দুগ্ধজাত পন্যসামগ্রী নিয়ে বিপনন ও সরবরাহকারী নানা প্রতিষ্ঠানও পড়েছে বিপাকে। আর এ জন্যই তারা খামারিদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহের হার কমিয়ে দিয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে এ বিষয়ে বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতি লিঃ (মিল্কভিটা) এর ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাড. শেখ মোঃ আব্দুল হামিদ লাবলু মুঠোফোনে বলেন, ‘ঢাকাসহ সারাদেশে মিল্কভিটার দুগ্ধজাত খাদ্যদ্রব্যের ভোক্তাদের সংখ্যা কমে যাওয়ায় কোটা পদ্ধতিতে সমবায়ী গো-খামারিদের কাছ থেকে তারা দুধ সংগ্রহ করছেন। ভোক্তা চাহিদা স্বাভাবিক হলে কোটা পদ্ধতি তুলে নেয়া হবে।

করোনায় বাঘাবাড়ির দুগ্ধশিল্পে বিপর্যয়

ফাইল ছবি

শফিউল আযম বেড়া (পাবনা): করোনার প্রকোপে তরল দুধের চাহিদা কমে যাওয়ায় বাঘাবাড়ির প্রায় ২০টি বেসরকারি দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান দুধ সংগ্রহ কমিয়ে দেয়ায় পাবনা-সিরাজগঞ্জ অঞ্চলের প্রায় দেড় লাখ গো-খামারি ব্যাপক লোকসানে পড়েছেন। গত রমজানে দুধের চাহিদা ও দাম বেড়ে যাওয়ায় একটু আশার আলো দেখেছিলেন খামারিরা। ওই সময় দুগ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন খামারিদের কাছ থেকে আগ্রহের সাথে যেমন দুধ কিনেছেন, তেমনি খোলাবাজারেও মিলেছে ভালো দাম। এমন অবস্থা ছিল ঈদুল ফিতরের পরের প্রায় সাত দিন পর্যন্ত। কিন্তু এখন আবার খামারিদের আগের দুঃসময় ফিরে এসেছে। চাহিদা কমে যাওয়ার কথা বলে প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দুধ নেয়া একেবারেই কমিয়ে দিয়েছে। বাধ্য হয়ে খোলাবাজারে খামারিদের লোকসান দিয়ে দুধ বিক্রি করতে হচ্ছে। এ দিকে হঠাৎ করেই গো-খাদ্যের দাম ব্যাপক বেড়ে যাওয়ায় সেটা খামারিদের জন্য ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দেখা দিয়েছে। অব্যাহত লোকসানে এ অঞ্চলের অনেক গো-খামার বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৭৩ সালের দিকে পাবনা জেলার বেড়া, সাঁথিয়া, ফরিদপুর, ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর এবং সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর ও উল্লাপাড়া উপজেলা নিয়ে দেশের সর্ববৃহৎ দুগ্ধ অঞ্চল গড়ে ওঠে। পাবনা ও সিরাজগঞ্জ অঞ্চলে প্রায় দেড় লাখের বেশি গো-খামার রয়েছে। এ ছাড়া গ্রামগুলোর প্রায় প্রতিটি বাড়িতে গরু পালন করে দুধ উৎপাদন করা হয়। এ অঞ্চলে প্রতিদিন ১৫ থেকে সাড়ে ১৬ লাখ লিটার দুধ উৎপাদন হয়। এর মধ্যে দেড় লাখ লিটার নেয় বাঘাবাড়ির মিল্কভিটা, সাড়ে চার লাখ লিটার নেয় আফতাব, আকিজ, ব্র্যাকসহ বিভিন্ন বেসরকারি দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান এবং এক লাখ লিটার নেয় প্রাণ কোম্পানি। এ সব প্রতিষ্ঠানের দুধ সংগ্রহের পরিমাণ প্রতিদিন প্রায় সাত থেকে আট লাখ লিটার। এ ছাড়া ঘোষেরা ৬০ থেকে ৭০ হাজার লিটার দুধ কিনে থাকে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অবশিষ্ট দুধ প্রক্রিয়াজাত করে বগুড়া, রংপুর, নাটোর, নওগাঁসহ বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করে থাকেন।

এই দুগ্ধ অঞ্চলকে টার্গেট করে প্রাণ, আকিজ, আফতাব, ব্র্যাক ফুড (আড়ং), অ্যামোফ্রেস মিল্ক, আড়ং দুধ (ব্র্যাক), মিল্কভিটা, ফার্মফ্রেস, রংপুর ডেইরি, ইছামতি ডেইরি, সেফ মিল্ক কোয়ালিটি, বিক্রমপুরসহ প্রায় ২০টি বেসরকারি দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান এ অঞ্চলে তাদের আঞ্চলিক ও শাখা দুগ্ধ সংগ্রহশালা স্থাপন করেছে। সম্ভাবনাময় এই শিল্পকে কেন্দ্র করে পাবনা ও সিরাজগঞ্জ অঞ্চলের হাজার হাজার পরিবার তাদের জীবিকার পথ হিসেবে গাভী পালন ও দুধের ব্যবসাকে বেছে নিয়েছেন। ফলে এ অঞ্চলে গড়ে উঠেছে হাজার হাজার গোখামার। দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দুধ সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করে সারা দেশে বাজারজাত করে থাকে। কিন্তু করোনার প্রকোপে তরল দুধের চাহিদা কমে যাওয়ায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো দুধ কেনা কমিয়ে দিয়েছে। মিষ্টি ও চায়ের দোকানদাররাও এখন আগের তুলনায় চার ভাগের এক ভাগ কম দুধ কিনছেন। ফলে উৎপাদিত দুধ নিয়ে খামারিরা বিপাকে পড়েছেন। অনেক খামারি গ্রামে গ্রামে ফেরি করে দুধ বিক্রি করছেন।

গত রমজানে দুধের চাহিদা কিছুটা বাড়ায় প্রতিষ্ঠানগুলো খামারিদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহ বাড়িয়ে দেয়। এমনকি দুধের সংগ্রহমূল্যও বাড়ানো হয়। এমনিতে প্রতিষ্ঠানগুলো ৪০ থেকে ৪২ টাকা লিটার দরে দুধ সংগ্রহ করলেও রমজানে বেসরকারি কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান ৪৫ থেকে ৫০ টাকা লিটার দরে দুধ সংগ্রহ করে। এ ছাড়া খামারিরা খোলাবাজারে ও ছানার কারখানায় এর চেয়ে বেশি দামে দুধ বিক্রি করেন। এতে করে খামারিরা আশার আলো দেখতে থাকেন। অনেকেই মনে করেন দুঃসময় কেটে গিয়ে খামারিদের সুসময় ফিরে এসেছে। কিন্তু আবার দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দুধ সংগ্রহ কমিয়ে দিলে এ অঞ্চলের দুগ্ধশিল্পে নেমে আসে বিপর্যয়। করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে গত মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে খামারিরা উৎপাদিত দুধ নিয়ে মহাবিপাকে পড়েন। প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দুধ সংগ্রহ কমিয়ে দেয়ায় স্থানীয় বাজারে খামারিরা পানির দরে মাত্র ১৫ থেকে ২০ টাকা লিটার দরে দুধ বিক্রি করেন।

দুগ্ধ প্রধান এলাকা সাঁথিয়া, ফরিদপুর ও শাহজাদপুর উপজেলার কয়েকজন খামারি জানান, ঈদুল ফিতরের পর দুধের দাম কমতে থাকলেও গো-খাদ্যের দাম উল্টো বেড়ে চলেছে। এক হাজার ২৫০ টাকা দামের ৩৭ কেজি ওজনের প্রতিবস্তা ভুসির দাম ঈদুল ফিতরের পরে বেড়ে হয়েছে এক হাজার ৪২০ টাকা। ৩০০ টাকা মণের খড়ের দাম হয়েছে ৪০০ টাকা। খৈল, চিটাগুড়সহ সব ধরনের গো-খাদ্যের দামই এ ভাবে বেড়েছে বলে খামারিরা জানিয়েছেন।
বেড়া পৌর এলাকার বনগ্রাম মহল্লার জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত খামারি মাহফুজা মীনা বলেন, আমার খামারে প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ লিটার দুধ হয়। এক মাস ভালো দামে বিক্রি করার পর আবারো উৎপাদিত দুধ নিয়ে বিপাকে পড়েছি।

সাঁথিয়ার আমাইকোলা গ্রামের দুধ সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠান সেফ মিল্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ শেখ জানিয়েছেন, করোনা দেখা দেয়ার পর তাদের প্রতিদিন দুধ সংগ্রহ নেমে আসে ৫০০ থেকে এক হাজার লিটারে। কিন্তু রমজানে তারা প্রতিদিন পাঁচ হাজার লিটার দুধ সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠিয়েছেন। তখন তারা প্রতি লিটারের সংগ্রহ মূল্য ৫০ টাকার কাছাকাছি করেছিলেন। অথচ এখন ৩৫ থেকে ৪০ টাকা দামেও খামারিরা তাদের কাছে দুধ বিক্রির জন্য ধরনা দিচ্ছেন। কিন্তু চাহিদা কমে যাওয়ায় এখন প্রতিদিন এক থেকে দেড় হাজার লিটারের বেশি দুধ তারা নিতে পারছেন না।

আব্দুল হামিদ লাবলুর ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালীন সময়েই মিল্কভিটার দুধ দেশসেরা দুধের শীর্ষ ব্রান্ডের সম্মান অর্জনে সক্ষম হয়েছে


৩য় বারের মতো মিল্কভিটার ভাইস চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল হামিদ লাবলুর দায়িত্বগ্রহণ

শামছুর রহমান শিশির, বুধবার, ১৫ মে- ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ : আজ বুধবার শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ প্রাথমিক দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতি লিঃ (মিল্কভিটা) এর ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচন- ২০১৯ এ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান, শাহজাদপুরের গর্বিত সন্তান, সততা, আদর্শ ও পরোপকারের মূর্ত প্রতীক, জাতীয় পুরষ্কারপ্রাপ্ত শ্রেষ্ঠ সমবায়ী, সিরাজগঞ্জ জেলা ও শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা, শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের আসন্ন কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী, শাহজাদপুরের যমুনা কেন্দ্রীয় দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতি লিমিটেড এর সভাপতি, সিরাজগঞ্জ নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি, শাহজাদপুরের মাটি ও মানুষের নেতা এ্যাড. শেখ মোঃ আব্দুল হামিদ লাবলু ৩য় বারের মতো মিল্কভিটার ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এছাড়া উক্ত নির্বাচনে মিল্কভিটার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত টুঙ্গীপাড়া কেন্দ্রীয় দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতি লিমিটেড এর সভাপতি শেখ নাদির হোসেন লিপু এবং ৫ পরিচালক পদে ময়মনসিংহের দেওয়ানগঞ্জ বকশীগঞ্জ কেন্দ্রীয় দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতি লিমিটেড এর সভাপতি ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি হোসনে আরা, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী কেন্দ্রীয় দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতি লিমিটেড এর সভাপতি মোঃ নাজিম উদ্দিন হায়দার, সাতক্ষীরার শাহাপুর কেন্দ্রীয় দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতি লিমিটেড এর সভাপতি তপন কুমার ঘোষ, রংপুরের তিস্তা কেন্দ্রীয় দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতি লিমিটেড এর সভাপতি আব্দুল্লা আল হাদী এবং শাহজাদপুরের ধলাই কেন্দ্রীয় দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতি লিমিটেড এর সভাপতি আব্দুস সামাদ ফকিরও শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে স্ব-স্ব পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এদিকে, ৩য় বারের মতো দেশের সর্ববৃহৎ সমবায়ী প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটার ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় শাহজাদপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সমবায়ী গো-খামারীসহ বিভিন্ন মহল থেকে দেশসেরা সমবায়ী, শাহজাদপুরের জননন্দিন আওয়ামী লীগ নেতা এ্যাড. শেখ মো: আব্দুল হামিদ লাবলুকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
দেশের দুগ্ধশিল্পের কেন্দ্রবিন্দু শাহজাদপুর উপজেলার বেশ কয়েকজন সমবায়ী গো-খামারীরা জানান, ‘এ্যাড. শেখ মো: আব্দুল হামিদ লাবলু মিল্কভিটার ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে ১ম বার দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকে ২য় বার ও আজ অবধি মিল্কভিটা থেকে কোন বেতন, ভাতা, সুযোগ, সুবিধা না নিয়েই মিল্কভিটার উন্নয়নে ও দেশের সমবায়ী গো-খামারীদের ভাগ্যোন্নয়নে এক আত্মনিবেদিত প্রাণ হিসেবে সততা ও আদর্শের সাথে কাজ করায় মিল্কভিটা লোকসানী প্রতিষ্ঠান থেকে বর্তমানে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে উন্নীত হয়েছে। সেইসাথে, শেখ মো: আব্দুল হামিদ লাবলুর ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালীন সময়েই মিল্কভিটার দুধ দেশের সকল দুধের ব্রান্ড কে পেছনে ফেলে দেশসেরা দুধের শীর্ষ ব্রান্ডের সম্মান অর্জনে সক্ষম হয়েছে এবং মিল্কভিটা সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।’
অপরদিকে, ৩য় বারের মতো নির্বাচিত মিল্কভিটার সফল ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাড. শেখ মোঃ আব্দুল হামিদ লাবলু এ প্রতিনিধিকে বলেন,‘ গ্রামের কৃষকেরা যাতে গাভী লালন পালন করে আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারেন এবং শহরের শিশুরা যাতে পুষ্টিকর দুধের অভাবে পুষ্টিহীনতায় না ভোগে সেই লক্ষ্যে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মিল্কভিটা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। জাতিরজনকের সেই লক্ষ্য পূরণে ও দেশের সকল প্রত্যন্ত অঞ্চলে মিল্কভিটার সব ধরনের দুগ্ধজাত সামগ্রী সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে মিল্কভিটার সফল ও দক্ষ চেয়ারম্যান শেখ নাদির হোসেন লিপু’র বলিষ্ঠ ও যুগোপযোগী নেতৃত্বে মিল্কভিটার ব্যবস্থাপনা পরিষদ ইতিপূর্বেও কাজ করেছেন ভবিষ্যতেও কাজ করে যাবেন। বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্ন সেই লক্ষ্য পূরণে মিল্কভিটার আওতাভুক্ত সকল সমবায়ী গো-খামারিসহ সংশ্লিষ্টদের সর্বোপরি আপামর দেশবাসীর সহযোগীতাও তিনি কামনা করেন।

শেখ নাদির হোসেন লিপু চেয়ারম্যান ও এসএ হামিদ লাবলু ভাইস চেয়ারম্যান পুনঃনির্বাচিত


মিল্কভিটার ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন

শামছুর রহমান শিশির : বাংলাদেশ প্রাথমিক দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতি লিঃ (মিল্কভিটা) এর ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচন- ২০১৯ এর যাচাই বাছাই শেষে চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী হিসেবে বর্তমান চেয়ারম্যান শেখ নাদির হোসেন লিপু, ভাইস চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী হিসেবে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় পুরষ্কারপ্রাপ্ত শ্রেষ্ঠ সমবায়ী শাহজাদপুরের গণমানুষের নেতা এ্যাড. শেখ মোঃ আব্দুল হামিদ লাবলু এবং পরিচালক পদে হোসনে আরা এমপি (সংরক্ষিত মহিলা আসন), নাজিম উদ্দিন হায়দার, তপন কুমার ঘোষ, আব্দুল্লা আল হাদী ও শাহজাদপুরের আরেক গর্বিত সন্তান জাতীয়ভাবে পুরষ্কারপ্রাপ্ত শ্রেষ্ঠ সমবায়ী (সমিতি) আব্দুস সামাদ ফকিরের একক প্রার্থীতা নির্বাচন কমিটি কর্তৃক বৈধ ঘোষিত হওয়ায় প্রার্থীগণ বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কমিটি বাংলাদেশ মিল্ক ইউনিয়ন ব্যবস্থাপনা পরিষদ নির্বাচন-২০১৯ এ ১ জন চেয়ারম্যান, ১ জন ভাইস চেয়ারম্যান ও ৫ পরিচালক পদে উপরোক্ত প্রার্থীদের মনোনয়ন যাচাই বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করে। এসব পদে কোন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় নির্বাচন কমিটি কর্তৃক ঘোষিত প্রার্থীগণ বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বেসরকারিভাবে নির্বাচিত সকল প্রার্থীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন মিল্কভিটার আওতাভুক্ত দেশের সকল সমবায়ী গো-খামারিরা।
গত ২৫ এপ্রিল বাংলাদেশ মিল্ক ইউনিয়ন ব্যবস্থাপনা পরিষদ -২০১৯ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সমবায় অধিদপ্তরের যুগ্ম- নিবন্ধক ( প্রশাসন, মাসউ ও ফাইন্যান্স) মোঃ রুহুল আমিন, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ও সমবায় অধিদপ্তরের যুগ্ম- নিবন্ধক ( সেবা শিল্প) মোঃ আনিছুর রহমান এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ও সমবায় অধিদপ্তরের উপ- নিবন্ধক ( প্রশাসন) মুহাম্মাদ গালীব খান প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র যাচাই বাছাই শেষে চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী হিসেবে টুঙ্গীপাড়া কেন্দ্রীয় দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতি লিমিটেড এর সভাপতি শেখ নাদির হোসেন লিপু, ভাইস চেয়ারম্যান পদে শাহজাদপুরের যমুনা কেন্দ্রীয় দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতি লিমিটেড এর সভাপতি, সিরাজগঞ্জ নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি, সিরাজগঞ্জ জেলা ও শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা এ্যাড. শেখ মোঃ আব্দুল হামিদ লাবলু এবং ৫ পরিচালক পদে ময়মনসিংহের দেওয়ানগঞ্জ বকশীগঞ্জ কেন্দ্রীয় দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতি লিমিটেড এর সভাপতি ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি হোসনে আরা, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী কেন্দ্রীয় দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতি লিমিটেড এর সভাপতি মোঃ নাজিম উদ্দিন হায়দার, সাতক্ষীরার শাহাপুর কেন্দ্রীয় দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতি লিমিটেড এর সভাপতি তপন কুমার ঘোষ, রংপুরের তিস্তা কেন্দ্রীয় দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতি লিমিটেড এর সভাপতি আব্দুল্লা আল হাদী এবং শাহজাদপুরের ধলাই কেন্দ্রীয় দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতি লিমিটেড এর সভাপতি আব্দুস সামাদ ফকিরের প্রার্থীতা বৈধ ঘোষণা করায় তারা বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হলেন। আগামী ১৪ মে বাংলাদেশ মিল্ক ইউনিয়নের ব্যাবস্থাপনা কমিটির নির্বাচন- ২০১৯ অনুষ্ঠিত হবার কথা থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় নির্ধারিত তারিখের পূর্বেই বাংলাদেশ মিল্ক ইউনিয়নের ব্যাবস্থাপনা কমিটির নির্বাচন বেসরকারিভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
আজ শনিবার বেসরকারিভাবে নির্বাচিত মিল্কভিটার ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাড. শেখ মোঃ আব্দুল হামিদ লাবলু বলেন, ‘ গ্রামের কৃষকেরা যাতে গাভী লালন পালন করে আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারেন এবং শহরের শিশুরা যাতে পুষ্টিকর দুধের অভাবে পুষ্টিহীনতায় না ভোগে সেই লক্ষ্যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মিল্কভিটা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। জাতির জনকের সেই লক্ষ্য পূরণে ও দেশের সকল প্রত্যন্ত অঞ্চলে মিল্কভিটার সব ধরনের দুগ্ধজাত সামগ্রী সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে মিল্কভিটার চেয়ারম্যান শেখ নাদির হোসেন লিপু’র দক্ষ ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে মিল্কভিটার ব্যবস্থাপনা পরিষদ ইতিপূর্বেও কাজ করেছেন ভবিষ্যতেও একই অভিলক্ষ্য অর্জনে কাজ করে যাবেন। এজন্য মিল্কভিটার আওতাভুক্ত সকল সমবায়ী গো-খামারিসহ সংশ্লিষ্টদের সর্বোপরি আপামর দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করছি।’

বঙ্গবন্ধু যে লক্ষ্য নিয়ে মিল্কভিটা স্থাপন করেছিলেন, সেই লক্ষ্য অর্জনে আমরা কাজ করে যাচ্ছি- এ্যাড. শেখ আব্দুল হামিদ লাবলু


দুগ্ধশিল্প জাতীয় অর্থনীতিতে ঘটাতে পারে বিপ্লব!

শামছুর রহমান শিশির, শাহজাদপুর থেকে : স্বাধীনতার স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান, দেশের সর্ববৃহৎ সমবায় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতি লিমিটেড (মিল্কভিটা) কর্তৃক দেশের বৃহত্তর ২২ টি জেলায় বিনামূল্যে উন্নতজাতের সিমেন (বীজ) সরবরাহের পর থেকে দুগ্ধশিল্পের কেন্দবিন্দু শাহজাদপুরসহ পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও নাটোরের বিভিন্ন গ্রামের বতসবাড়ি ও বাথান এলাকায় লক্ষাধিক উন্নতজাতের গাভী পালনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটেছে। দুগ্ধ সমৃদ্ধ এ অঞ্চলে উন্নতজাতের গাভী পালন করে করে হাজার হাজার গো-চাষী স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে। অনেকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আবার অনেকে শখের বশে গো-খামারে গবাদী পশু লালন পালনের মাধ্যমে আবার অনেকে বাথানে উন্নতজাতের গাভী পালন করে তাদের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন। বিজ্ঞমহলের মতে, ‘দেশের গো-খামারীদের মধ্যে অধিকহারে সহজশর্তে ঋণদান কর্মসূচির উদ্যোগ গ্রহণ, স্বল্পমূল্যে অধিকহারে উন্নতমানের গো-খাদ্য সরবরাহ অধিকতর বৃদ্ধিকরণ ও সমবায়ীদের সুষম গো-খাদ্য ক্রয়, গাভীকে সুষম দানাদার খাদ্য খাওয়ানোর মাত্রা বৃদ্ধিতে উদ্বুদ্ধকরণ, বিদেশী গুঁড়োদুধের আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি ও দেশের প্রাপ্তিক পর্যায়ে মিল্কভিটার গুঁড়োদুধসহ সকল প্রকার দুগ্ধজাত সামগ্রীর অধিকতর ভোক্তা নিশ্চিতে সরকারিভাবে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং সরকারি উদ্যোগে প্রতিটি গো-খামারেই বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে লক্ষ্য নিয়ে মিল্কভিটা স্থাপন করেছিলেন, সেই লক্ষ্য অর্জিত হবে এবং দুগ্ধশিল্প জাতীয় অর্থনীতিতে বিপ্লব ঘটাতে সক্ষম হবে।’
জনশ্রুতি রয়েছে, উনিশ শতকের গোড়ার দিকে প্রথমে এক ইংরেজী শাষক লর্ড লিন লিথদো ও পরবর্তী সময়ে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এ অঞ্চলে গবাদী পশু প্রতিপালনের সম্ভাবনা আঁচ করেন। সর্বপ্রথম লর্ড লিন লিথদো উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে উন্নতজাতের বেশকিছু গাভী এখানে নিয়ে আসেন। পরবর্তী সময়ে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শাহজাদপুরের জমিদারী তদারকি করতে এসে এ অঞ্চলে গাভী পালনের সম্ভাবনা আঁচ করতে পেরে উপ-মহাদেশের হরিয়ানা ও মুলতান থেকে বেশকিছু উন্নতজাতের ষাঁড় ও গাভী শাহজাদপুরে নিয়ে আসেন। মূলতঃ সেই সময় থেকেই শাহজাদপুরের বিভিন্ন বসতবাড়ি ও বাথানে দেশি উন্নতজাতের গরুর মধ্যে শংকরায়ন (ক্রস) ঘটানো শুরু হয়। পরে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এ অঞ্চলের গো -সম্পদের ওপর ভিত্তি করে বাঘাবাড়ীতে গড়ে ওঠে মিল্কভিটার বিশাল কারখানা।
১৮৯৭ খৃষ্টাব্দে ঠাকুর পরিবারের যৌথ জমিদারী বিভক্ত হওয়ায় শাহজাদপুর অংশ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মেঝ কাকা গিরীন্দ্রনাথের বংশধরদের হাতে চলে গেলে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শাহজাদপুরে আসা ছেড়ে দেন। ফলে কৃষক সমবায় সমিতিগুলি এবং খাদি প্রতিষ্ঠান অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে খাদি প্রতিষ্ঠানর নিকট থেকে খাদির ভিটায় পরিচালিত দুগ্ধ ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানটি কোলকাতার প্রবর্তক নামক এক কোম্পানী কিনে নেয়। প্রবর্তক কোম্পানী ব্যাবসা পরিচালনা করা অবস্থায় ভারত বিভাগ পূর্ব প্রতিষ্ঠানটি কিনে নেন জনৈক মোখলেছুর রহমান। পরবর্তীতে তিনি দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরন যন্ত্রপাতি আধুনিকরনের মাধ্যমে ১৯৪৬ খৃষ্টাব্দে তৎকালীন অবিভক্ত ভারতবর্ষে লাহিড়ী মোহনপুর (বর্তমানে উল্লাপাড়া উপজেলার অন্তর্র্ভূক্ত) রেল ষ্টেশনের পাশে ‘অষ্ট্রমিল্ক’ নামে কারখানাটি স্থাপন করেন। যার উৎপাদিত পন্য ‘অষ্টার মিল্ক’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিল। ভারতবিভক্ত পরবর্তী ১৯৬৫ খৃষ্টাব্দে কারখানাটির দুগ্ধ উৎপাদন ও পরিচালন প্রক্রিয়ায় ইষ্টার্ন মিল্ক প্রডিউসার্স কোপারেটিভ ইউনিয়ন লিঃ প্রতিষ্ঠাকরনের মাধ্যমে দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরন ও উৎপাদনে সমবায় অঙ্গন প্রতিস্থাপন করা হয়। পাকিস্থান শাসনামলে পূর্ব-পাকিস্থানের গভর্নর আজমখান এলাকার গবাদি পশু পরিদর্শনে এসে গো-সম্পদের জাত উন্নয়নে সরকারের তরফ থেকে এলাকার কৃষকদের মাঝে শাহিওয়াল ও মন্টোকুমারী নামের উন্নতজাতের ষাঢ় বিতরন করেন। প্রত্যেকটি ষাঢ়ের জন্য বাৎসরিক ১৫ টাকা হারে সরকারী ভাতা প্রদানের মাধ্যমে কেয়ারটেকার নির্বাচন করে ষাঢ়গুলো বিতরন করা হয়েছিল। বিতরনের শর্তছিল ষাঢ়গুলো বিভিন্ন এলাকার গো-চারন ভূমিতে সার্বক্ষনিক ছেড়ে দেয়া থাকবে । তারা গো-পালের সাথে স্বাধীনভাবে মিলে মিশে স্বাভাবিক প্রজনন ও জাত বিকাশে কাজ করে যাবে। বিভিন্ন সময়ে আনীত উন্নতজাতের গরু হারিয়ানা, মুলতানী, সিন্ধি, শাহিওয়াল, মন্টোকুমারী দীর্ঘকাল ধরে স্থানীয় জাতের গাভীর সাথে স্বাভাবিক প্রজননের মাধ্যমে এ দেশের আবহাওয়ার সাথে তাল মিলিযে একটি নতুন জাত সৃষ্টি হয়।এ অঞ্চলে ওই জাতটি পাবনা ব্রীড-পাবনা ক্রস হিসেবে পরিচিতি বহন করছে। এ জাতের গাভীর দুধ উৎকৃষ্ট মানের। পৃথিবীর যে কোন অঞ্চলের গাভীর চেয়ে এ জাতের গাভীর দুধে ফ্যাট সর্বাধিক লক্ষ করা যেতো। কারখানাটি কো-অপারেটিভভুক্ত করার পর থেকে ওই কারখানায় ক্রমাগত লোকসান হতে থাকে । এক পর্যায়ে ১৯৬৯-৭০ সালে কারখানাটিকে লে-আউট ঘোষনা করা হয়। ১৯৭১ সালে মহান মক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭২ সালে সদ্য স্বাধীন দেশে মোখলেছুর রহমান বন্ধ কারখানাটি পুনরায় চালু করার উদ্যোগ গ্রহন করেন। সে সময় ৫ সদস্য বিশিষ্ট পরিচালক নির্বাচনের মাধ্যমে পরিচালক মেনহাজ মির্জাকে সভাপতি ও সাবেক গণপরিষদ সদস্য মরহুম আব্দুর রহমানকে পরিচালক সদস্য সচিব করে কো-অপারেটিভ ব্যাংকের আর্থিক সহযোগিতায় কারখানাটি পুনরায় চালু করা হয়। ওই কারখানার ব্যাবস্থাপকের দায়িত্ব দেয়া হয় জনাব আবু সায়েমকে। কারখানা চালু হওয়ার কিছুদিন পরেই মোখলেছুর রহমান মৃত্যুবরণ করেন। এর পর থেকে প্রতি মাসেই করাখানাটিতে লোকসান হতে থাকে। পরে কারখানা লে-আউট ঘোষনা করা হয়। এরপর সরকার দেশের গো-সম্পদ ও দুগ্ধজাত প্রকল্প প্রস্তাবনার জন্য ডেনমার্কের একটি টিমকে গবেষনার দায়িত্ব দেয়। গবেষনাটিম দীর্ঘদিন গবেষনার পর বৃহত্তর পাবনা এলাকাকে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ গো-সম্পদ এলাকা এবং এলাকার গাভীর দুধে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তূলনায় সর্বাধিক ফ্যাটযুক্ত বলে গবেষনা রিপোর্টে উল্লেখ করে তারা ৬ কোটি ক্রোনার ব্যয়ে টার্ন-কি ব্যাসিসে একটি দুগ্ধ কারখানা স্থাপন করে দেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের নিকট প্রকল্প প্রস্তাব দেয় ডেনমার্ক। তৎকালীন সময়ে ফাও এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ভারতীয় নাগরিক ডাঃএস কে সাহার সহযোগিতায় সরকার প্রস্তাবটি সাদরে গ্রহন করে এবং অনুমোদন দেয়। পরবর্তীতে পোতাজিয়ার রাউতারার পাশে বগুড়া-নগড়বাড়ী মহাসড়ক সংলগ্ন বড়াল নদীর তীরে অবস্থিত বাঘাবাড়ীতে মূল কারখানা স্থাপনের স্থান নির্ধারন করা হয়। এরপর লাহিড়ী মোহনপুরে স্থাপিত কারখানাটি বাঘাবাড়ীতে স্থানান্তর করা হয়। নির্ধারিত ওই স্থানে ১৯৭৩ সালে স্বাধীনতার স্বপতি, জতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে কারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রয়াত প্রধান মন্ত্রী ক্যাপটেন মনছুর আলী। সে সময় উপ-সচিব সাহেদ লতিফকে জেনারেল ম্যানেজারের দায়িত্ব দেয়া হয়। পরে প্রস্তাবিত স্থানে ডেনমার্ক কর্তৃপক্ষ কারখানা স্থাপন করে বাংলাদেশ সরকারকে বুঝে দেয়। পরবর্তীতে ১৯৭৭ খৃষ্টাব্দে এ সমবায় প্রতিষ্ঠানটিকে বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেড (মিল্কভিটা) নামে নামকরণ করা হয়। এরপর থেকে ওই প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পন্যসূমহ মিল্কভিটা ব্রান্ড নামে বাজারজাতকরন শুরু করে।
১৯৮৭ সালে মিল্কভিটার বাঘাবাড়ী কারখানায় দেশের এক মাত্র বুল ষ্টেশন স্থাপন করা হয়। মিল্কভিটা কর্তৃপক্ষের সহায়তায় অষ্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উন্নতজাতের ষাঁঢ়ের সঙ্গে স্থানীয় জাতের গাভীর শংকরায়ন ঘটিয়ে উন্নত সংকর জাতের গাভীর জন্ম দেয়া হয়। দেশের সর্ববৃহৎ সমবায়ী প্রতিষ্ঠান ‘মিল্কভিটা’র বাঘাবাড়ীস্থ বুল ষ্টেশনে উন্নত জাতের হলিফ্রিজিয়ান ও জার্সি ষাঢ় থেকে প্রতি সপ্তাহে একবার ২ হাজার থেকে ৩ হাজার ডোজ সিমেন (বীজ) সংগ্রহ করা হয়। লিকুইড নাইট্রোজেন গ্যাসের মধ্যে ওই বিপুল পরিমান ডোজ সিমেন (বীজ) জীবিতভাবে সংরক্ষণ করা হয়। ওই বিপুল পরিমান সিমেন (বীজ) দেশের বৃহত্তর ২২ জেলার সমবায়ী গো-খামারীদের মধ্যে বিনামূল্যে সরবরাহ করায় দেশে উন্নতজাতের শংকর গাভীর সংখ্যা দিনে দিনে বৃদ্ধি পায় যা দেশে দুগ্ধ উৎপন্নের হারও আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি করে। সেইসাথে গো-খামারীদের মধ্যে উন্নতমানের গো-খাদ্য সরবরাহের লক্ষে উল্লাপাড়ার লাহিড়ী মোহনপুর এলাকায় সরকারি ২৭ কোটি টাকা অর্থ সহায়তা ও মিল্কভিটার অর্থায়নে একটি গো-খাদ্য প্লান্ট চালু হয়েছে। ফলে এ অঞ্চলের সমবায়ী গো-খামারীরা ন্যায্য মূল্যে সুষম গো-খাদ্য ক্রয় করে সার্বিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। মিল্কভিটা চালুর পর থেকে র্দীঘ সময় বছরের পর বছর লোকসানে থাকলেও বঙ্গবন্ধুর চাচাতো ভাই শেখ নাদির হোসেন লিপু চেয়ারম্যান হিসেবে ও এ্যাড. শেখ মো: আব্দুল হামিদ লাবলু ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার দায়িত্বগ্রহণের পর থেকে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
দেশের দুগ্ধশিল্পের কেন্দবিন্দু সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের রাউতারা গ্রামে ‘মিসেস এলিজা খান মডেল গো-খামার ও বায়োগ্যাস প্লান্ট’ স্থাপনের পর থেকেই গবাদী পশু লালন পালনে আর্থিকভাবে অধিকহারে লাভবান হওয়ার আরেক নবদিগন্তের সম্ভাবনাময়ী দ্বার উম্মোচিত হয়। একটি গো-খামারে দৈনিক উৎপন্ন দুধের চেয়েও গবাদীপশুর মল (গোবর) থেকে বহুগুণ বেশী অর্থ আয় করা সম্ভব। ওই গো-খামার ও বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনের পর থেকে সেখানে আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে উৎপন্ন হচ্ছে বায়োগ্যাস (মিথাইল গ্যাস)। উৎপন্ন ওই বায়োগ্যাসকে কাজে লাগিয়ে গ্যাসচালিত জেনারেটরের মাধ্যমে ৫ হাজার ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। বায়োগ্যাস প্লান্টে উৎপন্ন মিথাইল বায়োগ্যাসে চলছে পারিবারিক রান্নার কাজ। তদপুরি, উৎপন্ন বাড়তি বায়োগ্যাসের রিজার্ভার থেকে প্রতি সপ্তাহে এক ট্যাংকার বায়োগ্যাস বিক্রি করা হয়। বায়োগ্যাসচালিত একটি ৫ কে:ভি: জেনারেটর থেকে ৫ হাজার ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে সেই বিদ্যুৎ দিয়ে পুরো গো-খামারের যাবতীয় বৈদ্যুতিক প্রয়োজন মিটিয়েও বাড়তি হিসাবে মিসেস এলিজা খানের বাড়ির টেলিভিশন, ফ্রিজ, শক্তিশালী একটি সাবমেরিন বৈদ্যুতিক মোটর, বৈদ্যুতিক ভাল্ব জ্বানানোসহ বাড়ির বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ চালনায় প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো হচ্ছে।
এসব বিষয়ে মিল্কভিটার ভাইস চেয়ারম্যান, সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) সংসদীয় আসনে নৌকা প্রতীকে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা এ্যাড. শেখ মো: আব্দুল হামিদ লাবলু বলেন, ‘ গাভী লালন পালন করে গ্রামীণ কৃষকেরা যেনো আর্থিকভাবে অধিকতর লাভবান হতে পারেন এবং শহরের শিশুরা যেনো পুষ্টিকর দুধের অভাবে পুষ্টিহীনতায় না ভোগে সেই লক্ষ্যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মিল্কভিটা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর সেই লক্ষ্য পূরণে ও দেশের সকল স্থানে মিল্কভিটার সব ধরনের দুগ্ধজাত সামগ্রী সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে মিল্কভিটার সুযোগ্য চেয়ারম্যান শেখ নাদির হোসেন লিপু দক্ষ ও বলিষ্ঠ হাতে মিল্কভিটা পরিচালনা করছেন। বঙ্গবন্ধু যে লক্ষ্য নিয়ে মিল্কভিটা স্থাপন করেছিলেন, সেই লক্ষ্য অর্জনে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

মিল্কভিটার চেয়ারম্যান শেখ নাদির হোসেন লিপু বলেন,‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চেয়েছিলেন, গ্রামীণ কৃষকেরা যাতে গাভী লালন পালন করে আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারেন এবং শিশুরা যাতে পুষ্টিকর দুধের অভাবে পুষ্টিহীনতায় না ভোগে সেই লক্ষ্যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মিল্কভিটা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন


‘গ্রামীণ কৃষকের ভাগ্যবদল ও শিশুদের পুষ্টিহীনতা রোধে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি’ -চেয়ারম্যান মিল্কভিটা

শামছুর রহমান শিশির : গতকাল শনিবার দুপুৃরে বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেড (মিল্কভিটা) এর শাহজাদপুর পূর্বাঞ্চল দুগ্ধ কারখানার নতুন ভবনের নির্মাণকাজ পরিদর্শন ও সমবায়ীদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শাহজাদপুর উপজেলার পুঠিয়াস্থ মিল্কভিটার পূর্বাঞ্চল দুগ্ধ কারখানা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, মিল্কভিটার চেয়ারমান শেখ নাদির হোসেন লিপু। মিল্কভিটার পরিচালক খালেকুজ্জামান খানের সভাপতিত্বে ও জাহাঙ্গীর হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ওই মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, মিল্কভিটার ভাইস চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মোঃ আব্দুল হামিদ লাবলু, মিল্কভিটার পরিচালক আব্দুস সামাদ ফকির, উপজেলা যুবলীগের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক রাজীব শেখ প্রমূখ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিল্কভিটার চেয়ারম্যান শেখ নাদির হোসেন লিপু বলেন,‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চেয়েছিলেন, গ্রামীণ কৃষকেরা যাতে গাভী লালন পালন করে আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারেন এবং শিশুরা যাতে পুষ্টিকর দুধের অভাবে পুষ্টিহীনতায় না ভোগে সেই লক্ষ্যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মিল্কভিটা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। জাতির জনকের সেই লক্ষ্যপূরণে ও দেশের সকল শহর ও গ্রামাঞ্চলে মিল্কভিটার সব ধরনের দুগ্ধজাত সামগ্রী সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’ অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি মিল্কভিটা’র ভাইস চেয়ারমান, স্থানীয় আ’লীগ নেতা এ্যাড. শেখ আব্দুল হামিদ লাবলু বলেন, ‘ধারণক্ষমতা না থাকায় মিল্কভিটা’র আওতাভূক্ত শাহজাদপুর পূর্বাঞ্চলের প্রায় আড়াই’শ সমবায় গো-খামারে দৈনিক উৎপন্ন দুধের অর্ধেক এখানে ও বাকি অর্ধেক দুধ মিল্কভিটা’র বাঘাবাড়ী কারখানায় সংগ্রহ করা হতো। এ অঞ্চলের সমবায়ী ওইসব গো-খামারিদের দীর্ঘদিনের দাবীর প্রেক্ষিতে শাহজাদপুর পূর্বাঞ্চল দুগ্ধ সংগ্রহ কেন্দ্রে দৈনিক ১০ হাজার লিটার ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন শীতলীকরণ কেন্দ্র স্থাপনকাজ শুরু করা হলো। এটি চালু হলে স্থানীয় সমবায়ীরা স্বল্প সময়ে খুব সহজেই তাদের খামারে উৎপন্ন দুধের পুরোটাই এখানে সরবরাহ করতে পারবেন।” শেষে মিল্কভিটার চেয়ারম্যান প্রতি লিটার দুধে ২ টাকা সম্পূরক মূল্য বৃদ্ধির ঘোষণা দেন। উক্ত মতবিনিময় সভায় মিল্কভিটার কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ স্থানীয় সমবায়ী গো-খামারিরা উপস্থিত ছিলেন।

এখানে আমার লেখার যে ভাব আসে, তা অন্য কোথাও না -- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর


কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিধন্য ‘সাজাদপুর’

শামছুর রহমান শিশির : ঊণবিংশ শতাব্দির বাংলা সাহিত্য গগণে ও বিশ্বের জ্ঞান পরিমন্ডলে ভারস্যাটাইল জিনিয়াস খ্যাত (বহুমূখী প্রতিভাসম্পন্ন) নোবেল জয়ী বিশ্ব কবি, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জমিদারী দেখাশোনার কাজে সাময়িকভাবে শাহজাদপুরের কাছাড়িবাড়িতে বসবাস করতেন। তিনি স্থায়ীভাবে কুষ্টিয়ার শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে থাকতেন। শাহজাদপুরে বসবাসকালে তিনি অসংখ্য দুর্লভ সাহিত্যকর্ম রচনা করেন। কবিগুরু তাঁর স্বহস্তে লেখা একটি ছিন্নপত্রে উল্লেখ করেছিলেন, “এখানে (সাজাদপুরে) আমার লেখার যে ভাব আসে, অন্য কোথাও তা না।” এতেই শাহজাদপুরের মাটি মানুষ ও প্রকৃতির প্রতি কবিগুরুর নিঃখাদ ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ অনুমান করা যায় । শাহজাদপুরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে কবিগুরুর অনেক অম্লান স্মৃতিচিহ্ন! তারই একাংশ-
১). কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত শাহজাদপুরের কাছাড়িবাড়ি। এটি ইন্দো ইউরোপীয় স্থাপত্য শৈলিতে নির্মিত দ্বিতল ভবন। ভবনটি নির্মাণ করেছিলেন নীলকর সাহেবরা। বর্তমানে ভবনটির নীচতলায় কবিগুরুর স্বহস্তে অঙ্কিত ও দেশি বিদেশি গুণীজনদের সাথে ওঠা চিত্রকর্ম সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। আর দ্বো-তলায় কবিগুরুর ব্যবহার সামগ্রী, তৈজসপত্র, আসবাবপত্রসহ নানা সামগ্রীর সমাহারে ‘রবীন্দ্র স্মৃতি যাদুঘর’ এ রূপদানের চেষ্টা করা হয়েছে।
২). কবিগুরুর জন্মজয়ন্তী, মৃত্যুবার্ষিকী পালনসহ নানা অসুষ্ঠান পালনের জন্য কাছারিবাড়ির অভ্যন্তরে সুবিশাল ‘রবীন্দ্র মিলনায়তন’ ।
৩). ‘তাল গাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে, সব গাছ ছাড়িয়ে, উঁকি মারে আকাশে’- কাছারিবাড়ি প্রাঙ্গণে কবিগুরুর স্মৃতিধন্য তাল গাছ আজও কালের স্কাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
৪). কবিগুরুর স্মৃতিধন্য ছোটনদী স্থানীয়ভাবে খোনতারের জোলা হিসেবে পরিচিত। বর্ষাকালে এ জোলা ব্যবহার করে কবিগুরু নৌপথে চলাচল করতেন। অযত্ন অবহেলায় জোলাটির প্রাণ রূদ্ধ হয়েছে বহু আগেই প্রভাবশালীদের দখলে।
৫). কাছারিবাড়ি অভ্যন্তরে নীলকরদের পরিত্যাক্ত নীলকুঠি। ইংরেজ শাসনামলে নীরিহ কৃষকদের নীল চাষে বাধ্য করতে এখানেই ধরে এনে অমামনবিক নির্যাতন করা হতো যা কালের বিবর্তনে সময়ের পরিধিতে ভঙ্গুর অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে।
৬). কবিগুরুর কালজয়ী সৃষ্টি ‘রতন’ চরিত্রের রতনদের উত্তরসূরী পালকি বাহক শাহজাদপুরের আদিবাসী বাগদিরা।
৭). কবিগুরুর ব্যবহৃত কুঁপিবাতি ও সিলমোহর।
৮). কবিগুরুর স্বহস্তে অংকিত অসাধারণ তৈলচিত্রের একাংশ!
সাজাদপুরে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জমিদারী তদারকিকালে এ অঞ্চলে গবাদী পশু লালন পালনের উজ্জ্বল সম্ভাবনা অাঁচ করতে পেরে সুলতান ও হরিয়ানা থেকে বেশ কিছু উন্নতজাতের ষাঁঢ় সাজাদপুরে এনে স্থানীয় জাতের গাভীর সাথে ক্রস ঘটান। এরপর থেকেই এ অঞ্চলে উন্নতজাতের সংকর গাভীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। গবাদিপশু লালন পালনের জন্য তিনি তার জমিদারী এলাকার ইটাখোলা, ভুরভুরা, কাওয়াক, হারনিসহ বিস্তৃর্ণ বাথান এলাকায় কয়েক হাজার বিঘা জমি স্থানীয় গো-খামারিদের কল্যাণে পাট্টার মাধ্যমে লিখে দেন (রবীন্দ্র স্বাক্ষরিত অর্ডার বুক)। পরবর্তীতে, জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ অঞ্চলের বিশাল গো-সম্পদের ওপর ভিত্তি করে বাঘাবাড়ীতে মিল্কভিটা কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন।

কেন্দ্রটি চালু হলে পূর্বাঞ্চলের সমবায়ীরা বহুভাবে উপকৃত হবেন


শাহজাদপুর পূর্বাঞ্চলে মিল্কভিটা’র দুগ্ধ শীতলীকরণ কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন


শামছুর রহমান শিশির : আজ (সোমবার) সকালে দেশের দুগ্ধশিল্পের কেন্দ্রবিন্দু শাহজাদপুরের পুঠিয়াস্থ মিল্কভিটা’র দুগ্ধ সংগ্রহ কেন্দ্রে দৈনিক ১০ হাজার লিটার দুধ শীতলীকরণ ক্ষমতাসম্পন্ন কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও কেন্দ্রটির ভবন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। মিল্কভিটা’র ভাইস চেয়ারম্যান, স্পেশাল পিপি (নারী ও শিশু), আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শাহজাদপুর থেকে নৌকা প্রতীকে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা এ্যাড. শেখ মোঃ আব্দুল হামিদ লাবলু প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কেন্দ্রটিতে নতুন একটি শীতলীকরণ কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও ভবন নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন করেন। এ উপলক্ষে
পুঠিয়াস্থ মিল্কভিটার শাহজাদপুর পূর্বাঞ্চল দুগ্ধ সংগ্রহ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক ডাঃ শরীফুল ইসলামের সভাপতিত্বে ওই কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিল্ক ইউনিয়ন ব্যবস্থাপনা কমিটির পরিচালক বীরমুক্তিযোদ্ধা খালেকুজ্জামান খান, পরিচালক আব্দুস সামাদ ফকির, বাঘাবাড়ী কারখানা ব্যবস্থাপক ডাঃ এএফএম ইদ্রিস, সমিতি বিভাগের ব্যবস্থাপক অমিয় কুমার মন্ডল প্রমূখ।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিল্কভিটা’র ভাইস চেয়ারমান, স্থানীয় আ’লীগ নেতা এ্যাড. শেখ আব্দুল হামিদ লাবলু বলেন, ‘ধারণক্ষমতা না থাকায় মিল্কভিটা’র আওতাভূক্ত শাহজাদপুর পূর্বাঞ্চলের প্রায় আড়াই’শ সমবায় গো-খামারে দৈনিক উৎপন্ন দুধের অর্ধেক এখানে ও বাকি অর্ধেক দুধ মিল্কভিটা’র বাঘাবাড়ী কারখানায় সংগ্রহ করা হতো। এ অঞ্চলের সমবায়ী ওইসব গো-খামারিদের দীর্ঘদিনের দাবীর প্রেক্ষিতে শাহজাদপুর পূর্বাঞ্চল দুগ্ধ সংগ্রহ কেন্দ্রে দৈনিক ১০ হাজার লিটার ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন শীতলীকরণ কেন্দ্র স্থাপনকাজ শুরু করা হলো। এটি চালু হলে স্থানীয় সমবায়ীরা স্বল্প সময়ে খুব সহজেই তাদের খামারে উৎপন্ন দুধের পুরোটাই এখানে সরবরাহ করতে পারবেন।” ওই কেন্দ্রটির সোসাইটি অর্গানাইজার (এসও) এসএম সামিউল হক লাইজু জানান,”যমুনা অধ্যুষিত দুর্গম পূর্বাঞ্চলের আড়াই’শ সমবায়ী গো-খামারিদের খামারে দৈনিক উৎপন্ন প্রায় ১৫ হাজার লিটার দুধের অর্ধাংশ অপেক্ষাকৃত দূরবর্তী মিল্কভিটার প্রধান কারখানা বাঘাবাড়ী সরবরাহ করতে হতো। পূর্বাঞ্চলের নতুন শীতলীকরণ কেন্দ্রটি চালু হলে এ অঞ্চলে দৈনিক উৎপন্ন প্রায় ১৫ হাজার লিটার দুধের পুরোটাই সমবায়ী গো-খামারিরা এখানে সরবরাহ করতে পারবেন। এতে সমবায়ীদের পরিবহন ব্যয়, ভোগান্তি কমবে ও অার্থিকভাবে তারা আরও বেশী লাভবান হবেন।’ উক্ত সভায় মিল্কভিটার কর্মকর্তা- কর্মচারীবৃন্দসহ পূর্বাঞ্চলের সমবায়ী গো-খামারিগণ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, উক্ত অনুষ্ঠানেনমিল্কভিটা’র চেয়ারম্যান শেখ নাদির হোসেন লিপু’র প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও বিশেষ কারণে তিনি উপস্থিত হতে না পারায় তার পক্ষ থেকে মিল্কভিটা’র ভাইস চেয়ারম্যান জননেতা শেখ মোঃ আব্দুল হামিদ লাবলু প্রধান অতিথি হিসেবে কেন্দ্রটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও ভবন নির্মান কাজের উদ্বোধন করেন।

প্রধান অতিথি বাংলাদেশ মিল্ক ইউনিয়নের ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাড. শেখ মোঃ আব্দুল হামিদ লাবলু পোতাজিয়া প্রাথমিক দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতি লিমিটেডের ২’শ ৯৬ জন সমবায়ী গো-খামারিদের মধ্যে দুধের সম্পূরক মূল্য বাবদ ২ লাখ ৪৮ হাজার টাকার চেক বিতরণ করেন


শাহজাদপুরে সমবায়ী গো-খামারিদের মধ্যে আড়াই লাখ টাকার সম্পূরক মূল্য প্রদান

নিজস্ব প্রতিবেদক, শাহজাদপুর : গতকাল (বুধবার) সন্ধ্যায় দেশের দুগ্ধশিল্পের কেন্দ্রবিন্দু সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতি লিমিটেড (মিল্কভিটা)’র আওতাভূক্ত দেশের সর্ববৃহৎ পোতাজিয়া প্রাথমিক দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতি লিমিটেডের অন্তর্ভূক্ত সমবায়ী গো-খামারিদের মধ্যে সম্পূরক মূল্য প্রদান, মৃত সমবায়ী গো-খামারিদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় ও সমবায়ীদের মঙ্গলার্থে আলোচনা সভা, ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। পোতাজিয়া দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতি এডহক কমিটির সভাপতি মোঃ আবু সিদ্দিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই আলোচনা সভা, ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মিল্ক ইউনিয়নের ভাইস চেয়ারম্যান, স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (নারী ও শিশু), সিরাজগঞ্জ জেলা আ’লীগের অন্যতম সদস্য ও শাহজাদপুর উপজেলা আ’লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড. শেখ মোঃ আব্দুল হামিদ লাবলু। উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশ মিল্ক ইউনিয়নের পরিচালক আব্দুস সামাদ ফকির, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান, পোতাজিয়া দাখিল মাদরাসার ব্যাবস্থাপনা পর্ষদের সভাপতি আলহাজ্ব মোজাম্মেল হক, পোতজিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি, আ’লীগ নেতা আলহাজ্ব মোঃ আলমগীর জাহান বাচ্চু, সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ মনজের আলী, প্রধান শিক্ষক মোঃ শামীম আহমেদ, উপজেলা যুবলীগের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক মোঃ রাজীব শেখ, পৌর যুবলীগের আহবায়ক, সাবেক কাউন্সিলর আবু শামীম সূর্য্য, পোতাজিয়া দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতির ব্যবস্থাপক মোঃ শাহাদৎ হোসেন তালুকদার, সাবেক পরিচালক আলহাজ্ব মোঃ আব্দুল গফুর, আলহাজ্ব মোঃ আব্দুল আলিম, আলহাজ্ব মোঃ রইচ উদ্দিন, মোহাম্মদ দীন আহম্মদ, পোতাজিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মোঃ রাশিদুল হায়দার রাশেদ প্রমূখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পোতাজিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শহীদুল ইসলাম রতন তালুকদার। আলোচনা সভায় বক্তরা বলেন,‘ইতিপূর্বে পোতাজিয়ায় ২ জন কৃত্রিম প্রজননকারী কর্মকর্তা (এলইআইএফ) থাকলেও তন্মদ্ধে ১ জনকে অন্যত্র বদলী করায় সমবায়ী গো-খামারিদের গবাদীপশুর প্রজনন কাজে নানা সমস্যা পোহাতে হচ্ছে। এজন্য, অবিলম্বে প্রয়োজন অনুসারে সেখানে কৃত্রিম প্রজননকারী কর্মকর্তা নিয়োগের জোর দাবী জানান তারা। এছাড়া বক্তারা চলতি বছরের ২২ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য পোতাজিয়া দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতি লিমিটেডের নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ও ইতিপূর্বে ওই সমিতির পরিচালনা পর্ষদের কোটি টাকা দুর্নীতি অনুসন্ধানপূর্বক তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মিল্কভিটা’র ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাড. শেখ আব্দুল হামিদ লাবলুর কাছে জোরালো দাবী জানান। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মিল্কভিটা’র ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাড. শেখ মোঃ আব্দুল হামিদ লাবলু প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারী প্রদানপূর্বক সমবায়ী গো-খামারিদের এ সকল দাবির প্রেক্ষিতে ও সমবায়ী গো-খামারিদের সমৃদ্ধিকল্পে সব ধরনের সহযোগীতার আশ্বাস দেন এবং ওই সমিতির কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে প্রয়োজনে দুর্নীতি দমন কমিশনকে সম্পৃৃক্ত করার আশাবাদ ব্যাক্ত করেন। পরে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পোতাজিয়া প্রাথমিক দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতি লিমিটেডের ২’শ ৯৬ জন সমবায়ী গো-খামারিদের মধ্যে দুধের সম্পূরক মূল্য বাবদ ২ লাখ ৪৮ হাজার টাকার চেক বিতরণ করেন। ইফতারপূর্ব দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন পোতাজিয়া দাখিল মাদরাসার সহকারী শিক্ষক মৌলভী মোঃ ফজলুল হক। উক্ত অনুষ্ঠান ও ইফতার মাহফিলে স্থানীয় অসংখ্য সমবায়ী গো-খামারিসহ এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।

নেত্রী যাকেই মনোনয়ন দেবেন জয়ী তাকেই করবো- আব্দুল হামিদ লাবলু

নিজস্ব প্রতিবেদক, শাহজাদপুর : গতকাল সন্ধ্যায় শাহজাদপুর উপজেলা আইনজীবী সমিতি কার্যালয়ে ‘সরকারের উন্নয়ন প্রান্তিক পর্যায়ে তুলে ধরার প্রয়াসে আয়োজিত এক সভায় মিল্কভিটা’র ভাইস চেয়ারম্যান, স্পেশাল পিপি (নারী ও শিশু), স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা এ্যাড. শেখ মোঃ আব্দুল হামিদ লাবলু বলেছেন,‘সফল রাষ্ট্রনায়ক, দেশরতœ শেখ হাসিনা’র সরকার দেশকে সমৃদ্ধশালী করতে অভূতপূর্ব উন্নয়ন করেছে এবং দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের মাধ্যমে তাদের আর্থ-সামাজিক পট পরিবর্তনেও বহুমুখী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের দেশ উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি লাভ করেছে। দেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে উন্নীত করতে ও বর্তমান সরকারের উন্নয়নের অগ্রযাত্রার ধারাবাহিকতাকে আরও গতিশীল করতে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে আবারও প্রধানমন্ত্রী’র হিসেবে জননেত্রী শেখ হাসিনা’কে রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসাতে হবে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-০৬ (শাহজাদপুর) সংসদীয় আসনে সাম্ভাব্য এমপি প্রার্থীদের মধ্যে পার্টির সভাপতি, বর্তমান এমপি হাসিবুর রহমান স্বপন ভাই, সাবেক এমপি চয়ন ইসলাম ভাই বা আমাকে, যাকেই নেত্রী দলীয় মনোনয়ন দেবেন, নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন দেবেন, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে তাকেই জয়ী করে এ আসনটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’কে উপহার দেবো।’ এ সময় তিনি আরও বলেন,‘আপনারা সর্বক্ষেত্রে শিক্ষিত নেতা নির্বাচিত করুন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা গড়তে ও দেশকে সমৃদ্ধশালী করতে শিক্ষিত জাতির কোনো বিকল্প নাই। শিক্ষিত জাতি ও শিক্ষিত নেতৃত্ব দেশকে আরও সমৃদ্ধশালী করতে, মধ্যম আয়ের দেশ ও উন্নত রাষ্ট্রে অতিদ্রুত পরিণত করতে নিঃসন্দেহে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।’ এ সময় সরকারের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, শাহজাদপুর উপজেলা শাখার প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক, আসন্ন উপজেলা যুবলীগের ত্রি-বার্ষিক সন্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মোঃ রাজীব শেখ, পৌর যুবলীগের আহবায়ক, সাবেক কাউন্সিলর আবু শামীম সুর্য্য, সাবেক ছাত্রনেতা আশীষ সরকার, জেলা পরিবহন শ্রমিক নেতা আব্দুস সালাম, যুবলীগ নেতা মণিরুজ্জামান মনি প্রমূখ। উক্ত সভায় পৌরসদরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন।