নগরবাড়ী-নটাখোলা ও কাজীরহাট আমদানি-রপ্তানি ঘাট দুটির রাজস্বের টাকা্ উপজেলায় ফেরতের দাবি


বেড়ার বরখাস্ত মেয়র আব্দুল বাতেন সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার ব্যাখ্যা দিলেন

পাবনার বেড়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) লাঞ্ছিত করার অভিযোগে বেড়া পৌরসভার মেয়র পদ থেকে বরখাস্ত হওয়া আব্দুল বাতেন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন।  বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় বেড়া পৌরসভার মিলনায়তনে তিনি এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও জনপ্রতিনিধিসহ তাঁর দেড়শতাধিক সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে মেয়র (সাময়িক বরখাস্তকৃত) বলেন, বেড়া উপজেলার নগরবাড়ী-নটাখোলা ও কাজীরহাট আমদানি-রপ্তানি ঘাট দুটি বিধি মোতাবেক উপজেলা পরিষদের আওতাভূক্ত। উপজেলা পরিষদেরই ঘাট দুটির রাজস্ব আদায়ের কথা। কিন্তু সম্প্রতি পাবনা জেলা প্রশাসন তা উপেক্ষা করে ঘাট দুটি থেকে রাজস্ব আদায়ের (খাস আদায়) উদ্যোগ নেয়। এ বিষয়টি বেড়াবাসীর স্বার্থসংশ্লিষ্ট উল্লেখ করে তিনি বলেন বিষয়টি ২২ সেপ্টেম্বরের উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। পরবর্তী সভায়ও এটি অন্তর্ভূক্ত করার কথা। অথচ ঘটনার দিন অর্থাৎ গত সোমবার (১২ অক্টোবর) উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় এ বিষয়টি আলোচনা থেকে কৌশলে বাদ দেওয়া হয়। এতে তিনি বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করেছেন ও আলোচনায় অন্তর্ভূক্ত করার কথা বলেছেন মাত্র। এ ছাড়া সেখানে কোনো ধাক্কাধাক্কি বা ইউএনওকে লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটেনি। আব্দুল বাতেন দাবি করেন ইউএনওর সঙ্গে তাঁর ভালো সম্পর্ক উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন তাঁর বিরুদ্ধে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে তা সম্পূর্ণভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য ষড়যন্ত্র করে ওইদিন ঘটনাটির ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল বাতেন বলেন, তিনি চান ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত হোক। তদন্ত হলেই সঠিক বিষয়টি বের হয়ে আসবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করার বিষয়টিকে তিনি স্বাগত জানান বলে দাবি করেন। কারণ বরখাস্ত করায় বিষয়টি নিয়ে এখন সঠিক তদন্ত হবে বলে তিনি মনে করেন। উল্লেখ্য, গত সোমবার (১২ অক্টোবর) উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে মাসিক সভাকালে মেয়র আব্দুল বাতেনের বিরুদ্ধে ইউএনও আসিফ আনাম সিদ্দিকীকে লাঞ্ছিত এবং অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ ওঠে। এরই ভিত্তিতে স্থানীয় সরকার বিভাগ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) তাঁকে মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে।

আইনজীবী তালিকাভুক্তি: ১৩ হাজার পরীক্ষার্থীকে ‘অটোপাস’ দেয়া হবে?

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে চলতি বছরের পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষার পর আজ (বুধবার) দুপুরে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাও বাতিল করার সিদ্ধান্ত এসেছে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে। শিক্ষামন্ত্রী দিপু মনি এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, এবার প্রচলিত পদ্ধতিতে মূল্যায়ন না করে জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফলের গড় করে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে। গতবার অংশগ্রহণ করে যারা অকৃতকার্য হয়েছিল তাদেরও জেএসসি ও এসএসসির ফলের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে।

মূলত, এইচএসসির পরীক্ষার পরই উচ্চশিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত হয়। তাই করোনাকাল চললেও অন্যসব পরীক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতির সঙ্গে এইচএসসি পরীক্ষাকে মেলাতে চাচ্ছিল না সরকার। ফলে, পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষা নিয়ে বেশ আগে ভাগে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলেও এইচএসসি পরীক্ষা নিতে সরকার বদ্ধপরিকর ছিল বলেই খবর পেয়েছি।

তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় পরীক্ষা না নিয়ে অটো পাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করার যে সিদ্ধান্ত সরকার তরফ থেকে আসল, সেটাকে সময়োচিত বলেই বোধ করছি। কারণ, পরীক্ষা দিতে এসে কোনো শিক্ষার্থী ভাইরাসে আক্রান্ত হলে কিংবা মৃত্যুবরণ করলে তার দায় শেষ পর্যন্ত সরকারের ঘাড়েই যেত। তাই, পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ছোটখাটো কিছু সমস্যার সৃষ্টি হলেও করোনাকাল বিবেচনায় এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে সরকারের এই সিদ্ধান্ত সাধুবাদ পাওয়ারই যোগ্য।

এতো গেলো পরিস্থিতি বিবেচনায় পরীক্ষা বাতিল করে অটোপাসের মাধ্যমে সাধুবাদ পাওয়ার দৃষ্টান্ত। অন্যদিকে, পরীক্ষা গ্রহণ করতে অনমনীয় অবস্থানে থেকে উল্টো দৃষ্টান্ত স্থাপনের নমুনাও আছে এদেশে। এ দৃষ্টান্তটি আইনজীবীদের অভিভাবক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের।

সাম্প্রতিক অতীত বিবেচনায় নিলে যেখানে তাদের পরীক্ষা গ্রহণ করা নিয়ে অনীহা রয়েছে বলেই জানা যায়; সেখানে করোনাকালে প্রিলিমিনারি উত্তীর্ণ ১৩ হাজার পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা নিতে কিছুদিন আগেও তারা অনড় অবস্থানে ছিল। যদিও বিধি অনুসারে প্রতি ছয় মাস পর পর বার কাউন্সিলের
তালিকাভুক্তিকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা থাকলেও বিগত ৭-৮ বছরে তারা কখনোই তা পারেনি।

সর্বশেষ প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রায় তিন বছর পর এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে তারা আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তিকরণের সর্বশেষ প্রিলিমিনারি পরীক্ষা নেয়। এ অবস্থায় সরকার যেখানে ভাইরাসের সংক্রমণ না কমা পর্যন্ত সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা ও প্রচলিত পদ্ধতিতে পরীক্ষা গ্রহণ না করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেখানে বার কাউন্সিল খুব দ্রুতই প্রিলিমিনারি উত্তীর্ণ শিক্ষানবিস আইনজীবীদের লিখিত পরীক্ষা নিতে পারবে বলে মনে হয় না।

তাছাড়া, মাত্র কিছুদিন আগে ভাইরাসের দ্বিতীয় ওয়েভ আঘাতের বিষয়ে আশঙ্কা ব্যক্ত করে সতর্ক করছে সংক্রমণ মোকাবিলায় গঠিত কারিগরি পরামর্শক কমিটি।

এ অবস্থায় পাবলিক পরীক্ষা নিতে যাওয়া আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হতে পারে। এ অবস্থায় বার কাউন্সিলও সরকারের দেখানো পথেই হাঁটতে পারে বলে মনে করি।

কারণ, করোনাকালে যতই পরীক্ষাকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়িয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা নেওয়া হোক না কেন, এই পরিস্থিতেতে পরীক্ষা নিলে ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকবেই।

তাছাড়া, সংক্রমণ না কমার আগে লিখিত পরীক্ষা হলে এই ১৩ হাজার পরীক্ষার্থীকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে ঢাকায় আসতে হবে। ঢাকায় আসতে নিশ্চয়ই তারা বিভিন্ন গণপরিবহন ব্যবহার করবেন।

পরীক্ষার্থীদের অনেকের সঙ্গেই আসবেন অভিভাবকরাও। তাদের বড় একটি অংশ যে হোটেল গুলোতে উঠবেন সেখান থেকে ভাইরাসে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি থাকবে। গণপরিবহন থেকেও ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়াবে।

তাছাড়া এসব অভিভাবকরা পরীক্ষার দিন কেন্দ্রের বাইরে অবস্থান করবেন। পরীক্ষার্থী, অভিভাবক, পরীক্ষা কেন্দ্রের নিরাপত্তার জন্য নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, কেন্দ্রের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা কর্মচারীমিলে সংখ্যাটা আরও অনেক বড় হয়ে দাঁড়াবে।

এই সংখ্যক পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্র থেকে একই সঙ্গে বের হতে হবে। তাতেও ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়ানোর একটা ঝুঁকি থেকে যাবে। কারণ, কে করোনায় আক্রান্ত, কে আক্রান্ত নয় এটা কেউ জানে না। আর বার কাউন্সিল অনড় অবস্থানে থাকলে ভাইরাসে আক্রান্ত অনেক পরীক্ষার্থীই অসুস্থতা আড়াল করে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন। তাতে একজন থেকে বহুজনের মাঝে ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকবে।

তাছাড়া অনেকেই আছেন যারা দীর্ঘসময় মাস্ক পরে থাকতে পারেন না। তারা কীভাবে পরীক্ষা দিবেন এ নিয়েও ভাবতে হবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হল, করেনার প্রাদুর্ভাব না কমা পর্যন্ত যখনই পরীক্ষা হোক, কিছু না কিছু পরীক্ষার্থী করোনায় আক্রান্ত থাকবেই। তাদের ক্ষেত্রে কি পদক্ষেপ নেওয়া হবে সেটাও বার কাউন্সিলকে স্পষ্ট করতে হবে।

তাই সবদিক বিবেচনা করে এ বছর লিখিত পরীক্ষার আয়োজন না করে সেটার বিকল্প নিয়ে বার কাউন্সিলকে এখনই চিন্তা ভাবনা করা উচিত। কারণ, করোনা পরিস্থিতির প্রত্যাশিত উন্নতি ঘটতে বছরখানেক বা তার বেশি সময়ও লেগে যেতে পারে। বার কাউন্সিল কি এতদিন প্রিলিমিনারি উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের অপেক্ষায় রাখবে?

সেটা মোটেই সমীচিন কোনো কাজ হবে না। আবার এ পরিস্থিতে পরীক্ষা নেওয়াও ঠিক হবে না। তাহলে বিকল্প কী? করোনা পরিস্থিতিকে বিবেচনায় নিয়ে সরকার এবার মেধা যাচাইয়ের সব ধরনের পরীক্ষা পদ্ধতি বাতিল করে পরবর্তী শ্রেণিতে অটো প্রমোশন দিচ্ছে; এমনকি গতবার এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য ৩ লাখ শিক্ষার্থীকেও অটোপাসের মাধ্যমে উত্তীর্ণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেখানে বেশ কঠিন একটি প্রিলিমিনারি পরীক্ষার মাধ্যমে উত্তীর্ণ শিক্ষানবিস আইনজীবীদের দ্রুতই সনদ প্রদানের ব্যাপারে বার কাউন্সিল পজিটিভ হতেই পারে।

কারণ, মহামারীকালে তালিকাভুক্তি পরীক্ষার ধাপকে আরও কঠিন করার পাশাপাশি সনদ প্রত্যাশীদের বার কাউন্সিল বছরের পর বছর অপেক্ষায় রাখবে এটা যুক্তিসঙ্গত এবং মানবিক সিদ্ধান্ত হতে পারে না।

তাই, এইচএসসিতে যেভাবে বিকল্পভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে তালিকাভুক্তিকরণ পরীক্ষায়ও সেরকম বা তার কাছাকাছি কোনো পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে।

মূল্যায়নের পদ্ধতিটা কেমন হতে পারে সেটা নিয়ে তালিকাভুক্তিকরণ কমিটির সদস্যরা প্রয়োজনে বার কাউন্সিলের নির্বাচিত সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে একটা সিদ্ধান্তে আসতে পারেন।

সেটা এমনও হতে কেবল এ বছরের জন্য প্রিলিমিনারি উত্তীর্ণ শিক্ষানবিস আইনজীবীদের গেজেটের মাধ্যমে সনদ প্রদান করা অথবা ভাইরাসের সংক্রমণ কিছুটা কমে এলে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে মেধা যাচাই করে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা।

তাছাড়া, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল অর্ডার ১৯৭২ এর ৪০(১) এবং ৪০(২) অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রিলিমিনারি উত্তীর্ণ পরিক্ষার্থীদের মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে মেধা যাচাই করে আইনজীবী হিসেবে নিবন্ধিত করতেও তেমন কোনো বাঁধা আছে বলে মনে হয় না।

কারণ, বিভিন্ন গণমাধ্যম মারফতে খবর নিয়ে জেনেছি, মাত্র কিছুদিন আগে বার কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ আইনজীবী তালিকাভুক্তিকরণ পরীক্ষায় বার বার অকৃতকার্য হওয়া একজনকে এভাবে গেজেট প্রকাশ করে উচ্চ আদালতে পেশা পরিচালনার সুযোগ করে দিয়েছিল।

এক্ষেত্রে প্রয়োজন কেবল প্রস্তাবটি রেজ্যুলেশন আকারে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে প্রচলিত আইনে পরিবর্তন এনে গেজেট প্রকাশ করা। বিশেষ বিবেচনায় বিসিএসের মতো পরীক্ষাও পিএসসি একাধিকবার দুই ধাপে সম্পন্ন করেছে নিকট অতীতে। বার কাউন্সিল এ নজিরটিই বিবেচনায় নিতে পারে।

বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন কমিটির চেয়ারম্যান ও নির্বাচিত সদস্যদের আমরা অত্যন্ত বিজ্ঞ বলেই জানি, তারা যে কেবল আইন অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন তা কিন্তু নয়, অনেকেই দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করছেন। গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা বেশিরভাগ আইনজীবীই জাতিরপিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের প্রকৃত ধারক এবং বাহক। তাদের সময়কালে এমন কোনো ঘটনা যেন না ঘটে, যেটা পরবর্তীতে বাজে দৃষ্টান্ত হিসেবে হয়ে থাকে।

সূত্রঃ যুগান্তর

অপপ্রচারের প্রতিবাদে


শাহজাদপুরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আল মামুন রানার সংবাদ সম্মেলন

আবুল কাশেম, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ): শাহজাদপুর পৌর এলাকার ইসলামপুর (রামবাড়ী) মহল্লার বিশিষ্ট পরিবহন ব্যবসায়ী মোঃ আল মামুন রানা একাধিক গণমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার করানোর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় শাহজাদপুর প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ব্যবসায়ী আল মামুন রানা জানান, পৌর এলাকার খঞ্জনদিয়ার মহল্লার একটি সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে তার মামা শেখ মোঃ শাহাজাদা গং এবং খালাতো ভাই এনামুল হক গংদের মধ্যে বিবাদ চলে আসছে। বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষই পূর্বেই আদালতে মামলা দায়ের করেছেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। মামলা চলাবস্থায় আমার খালাতো ভাই এনামুল হক গং আমার শরণাপন্ন হলে আমি উভয় পক্ষকে ডেকে নিয়ে বিষয়টি মিমাংসার চেষ্টা করি। সে চেষ্টা ব্যর্থ হলে এনামুল হক গং আমার শ্বশুর স্থানীয় এমপি আলহাজ্ব হাসিবুর রহমান স্বপনের ঢাকার বাসায় যান। এমপি মহোদয় বিষয়টি অবগত হয়ে আদালতের আদেশ মোতাবেক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য শাহজাদপুর থানাকে নির্দেশ দেন। অপরদিকে, উভয় পক্ষই আমার নিকট আত্মীয় হওয়ায় এবং উভয় পক্ষের দায়ের করা মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে এই বিবেচনায় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আমি নিজেকেও নিরপেক্ষ রাখি। তাছাড়াও দায়ের করা মামলায় আমি কোন পক্ষও নই। কিন্তু এনামুল গং আমাকে মিথ্যা দোষারোপ করলেও আমি উভয় পক্ষকে আদালতের মাধ্যমে বিষয়টি মিমাংসা করে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছি। লিখিত বক্তব্যে আল মামুন রানা আরো জানান, স্থানীয় এমপি‘র জামাতার পরিচয় দিয়ে বা প্রভাব খাটিয়ে আমি কখনও কারো পক্ষে কোন তদবির করি নাই। অথচ এনামুল হক গং ষড়যন্ত্রমূলক ও উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে আমাকে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ উল্লেখ করে একাধিক গণমাধ্যমে নানা বিভ্রান্তিকর, মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রচার করিয়ে আমাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করছে ছাড়াও আমার ব্যবসায়ীক সুনাম নষ্ট করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। আমি অদ্যকার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এনামুল হক গংদের এরূপ হীনচক্রান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ ও প্রচার করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। এ ব্যাপারে এনামুল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্বেও আল মামুন রানা তার মামা শেখ মোঃ শাহাজাদা গংদের পক্ষে কাজ করছে। অন্যদিকে শেখ মোঃ শাহাজাদা জানান, নালিশী জমি আমার পৈতৃক সম্পত্তি। এ নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এ ব্যাপারে আমার ভাগ্নে আল মামুন রানা কোন পক্ষপাতিত্ব করে নাই। সংবাদ সম্মেলনে শাহজাদপুরে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শাহজাদপুর হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক দ্বারকানাথ সেনের ঐতিহাসিক একটি ঘটনা

১৮৯০ সালের জানুয়ারির শেষে অথবা ফেব্রুয়ারির প্রথমদিকের ঘটনা। শাহজাদপুরে সে সময় ঠাকুর পরিবারের পাশাপাশি ঢাকা জেলার মুড়াপাড়ার ব্যানার্জীবাবুদেরও জমিদারি ছিল। শাহজাদপুরে তাঁদেরও বেশ বড় কাছারি ছিল। একদিন ব্যানার্জীবাবুরা তাঁদের কাছারি বাড়ির প্রাঙ্গণে বাইরে থেকে যাত্রাদল এনে যাত্রাভিনয়ের ব্যবস্থা করেছিলেন।

এই যাত্রাভিনয় দেখতে এলাকার বিভিন্ন গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের পাশাপাশি শাহজাদপুর হাই স্কুলের ছাত্ররাও গিয়েছিলেন। যাত্রা চলাকালে শাহজাদপুর হাই স্কুলের অল্প বয়সী ছাত্রদের মধ্যে একটু গোলমাল বেধেছিল। সে সময় ব্যানার্জীবাবুদের কাছারির ম্যানেজার রমাপতিবাবু ওই গোলমাল দেখে একজন ছাত্রের কান ধরে যাত্রা মণ্ডপ থেকে তাকে বের করে দেন।

শাহজাদপুর স্কুলের সে সময় ছাত্রদের নেতা ছিলেন, আজিজ মেছের। তিনি সে সময় উঁচু ক্লাসে পড়তেন। ছাত্রদের অপমান করা হয়েছে বলে আজিজ মেছের সব ছাত্রকে যাত্রা মণ্ডপ থেকে বের করে বাইরে চলে আসেন। বাইরে আসার সময় ছাত্ররা কেউ-ই যাত্রাভিনয়ের কোনো বাধার সৃষ্টি করল না। বাইরে এসে সকলে মিলে স্থির করল- পরে এর শোধ নিতেই হবে।

এই ঘটনার কয়েকদিন পরে রমাপতিবাবু দুপুরের দিকে পালকিতে চড়ে শাহজাদপুর স্কুলের সামনে দিয়ে কোথাও যাচ্ছিলেন। রমাপতিবাবুকে দেখেই স্কুলের ছাত্ররা একত্রিত হয়ে আজিজ মেছেরের নেতৃত্বে পালকির সামনে গিয়ে দাড়িয়ে রমাপতিবাবুকে পালকি থেকে নামিয়ে বেশ করে উত্তম-মধ্যম দেয়।

রমাপতিবাবু মার খেয়ে সোজা থানায় গেলেন। তাঁর ব্যক্তিগত প্রভাবে থানা থেকে সঙ্গে সঙ্গেই স্কুলে পুলিশ এল, আজিজ মেছেরকে ধরতে। কিন্তু স্কুলের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক দ্বারকানাথ সেন পুলিশকে কিছুতেই ঢুকতে দিলেন না স্কুলে। তিনি বললেন- স্কুলের প্রেসিডেন্ট হলেন সিরাজগঞ্জ মহকুমার এসডিও। তাঁর অনুমতি ছাড়া আমি কিছুতেই পুলিশকে স্কুলে ঢুকতে দিতে পারি না। পুলিশ অগত্যা ফিরে গেল।

শাহজাদপুর হাই স্কুল রবীন্দ্রনাথের অর্থে প্রতিষ্ঠিত । জমিদার রবীন্দ্রনাথ তখন কাছারিতেই ছিলেন। প্রধান শিক্ষক ঘটনার দিনই রবীন্দ্রনাথের কাছে গিয়ে বিষয়টি তাঁকে জানালেন।

ঘটনাটি এসডিও সাহেবের কানে গেল। তিনি এলেন শাহজাদপুর হাই স্কুলে। রবীন্দ্রনাথকেও এসডিও সাহেব বিচার সভায় ডেকে আনলেন। বিচারের সময় প্রধান শিক্ষক বিচার প্রাঙ্গণে ছাত্রদের একসঙ্গে দাঁড় করে দিলে বাদী রমাপতিবাবু এবং তাঁর সঙ্গী দুজন পাইক কেউ-ই ছাত্রদের মধ্যে কারা রমাপতিবাবুকে মেরেছিল, সঠিকভাবে তাদের সনাক্ত করতে পারল না। বাদীপক্ষের তিনজনই একমত না হয়ে প্রত্যেকে উল্টোপাল্টাভাবে ভিন্ন ভিন্ন ছাত্রদের দেখাতে লাগল। ফলে আজিজ মেছেরসহ সকল ছাত্রই তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেল।

তথ্যসত্র : গোপালচন্দ্র রায়, রবীন্দ্রনাথের ছিন্নপত্রাবলী, পৃষ্ঠা : ৭৫-৭৬, দে’জ পাবলিশিং, কলকাতা ৭০০০৭৩।

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

গতকাল ১৫ জুলাই ২০২০ খ্রিষ্টাব্দ বুধবার সিরাজগঞ্জ থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক যুগের কথা’ পত্রিকায়, ‘দৈনিক যমুনা প্রবাহ’ পত্রিকায় ও আজ (বৃহস্পতিবার) সিরাজগঞ্জ থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক কলম সৈনিক’ পত্রিকায় ‘শাহজাদপুরে বিধবার সম্পত্তি দখল নিল এমপি’র জামাতা’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটির প্রতিবাদ করেছেন সিরাজগঞ্জ জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ আল মামুন রানা। প্রতিবাদ পত্রে তিনি জানিয়েছেন সংবাদটি সম্পূর্ণ মিথা, ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও চরম মানহানীকর। প্রকাশিত সংবাদে তাকে ও স্থানীয় এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ হাসিবুর রহমান স্বপন মহোদয়কে জড়িয়ে তাদের বক্তব্য ছাড়াই একটি মহল সাংবাদিককে ভূল তথ্য দিয়ে একপেশে সংবাদ প্রকাশ করিয়েছে মর্মে প্রতিবাদ পত্রে উল্লেখ করেছেন।
প্রতিবাদ পত্রে তিনি আরও উল্লেখ করেছেন,‘ উল্লেখিত নালিশী সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে বিজ্ঞ আদালতে উভয় পক্ষের মধ্যেই একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। বিজ্ঞ আদালত মালিকানার বিষয়ে ফয়সালা না দেওয়া পর্যন্ত নালিশী সম্পত্তির প্রকৃত মালিক আসলে কে? সে বিষয়টি কোন পক্ষেরই দাবী করা যুক্তিযুক্ত ও সমীচীন নয় বলে মনে করি। আমি উক্ত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জ্ঞাপন করছি।’

প্রতিবাদকারী,
মোঃ আল মামুন রানা
সভাপতি
সিরাজগঞ্জ জেলা ট্রাক মালিক সমিতি
শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ।

করোনার ভয়াল থাবায় নিম্নবিত্তদের নাভিশ্বাস

আমার বাসা থেকে বাজারের দুরত্ব খুব বেশি নয় তাই সবসময় বাজার শেষে ব্যাগ হাতে হেঁটে হেঁটে বাসায় ফিরি, শারিরিক কার্যকলাপ বৃদ্ধির জন্য আমি সবসময় রিক্সা এড়িয়ে চলি। আজকে বাজার থেকে বাজারের ব্যাগ নিয়ে বাসায় ফিরছিলাম সবসময়ের মত – এই সময় একজন রিক্সাচালক ডাকলেন বাবা কই যাবেন, আসেন নিয়ে যাই, আমি তার উত্তরে বললাম যে, লাগবে না, একটু সামনে এসেই মনে হলো আজকে তার রিক্সায় যাই, বয়স্ক মানুষটা এভাবে আমাকে ডাকল, তারপর ব্যাগ হাতে তার রিক্সার কাছে যেয়ে উঠে পরলাম, তার রিক্সা চালানের ধরন দেখে বুঝলাম সে এই পেশায় একেবারেই নতুন তাই আমি খু্বই কৌতুহল বশতঃ প্রশ্ন করলাম- চাচা: আপনি কতদিন হলো রিক্সা চালাচ্ছেন? উনি উত্তর দিলেন ২মাস, আমি বললাম আপনি কি আগে কোন পেশায় ছিলেন? উনি বললেন যে এটা খুবই করুন এবং দীর্ঘ ইতিহাস, আমি আরও উৎসাহিত হয়ে তাকে তার ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলাম, বললাম সংক্ষিপ্তভাবে যদি আপনার অভিজ্ঞতা আমাদের সাথে শেয়ার করেন তাহলে আমরা কিছু শিখতে পারব এবং সেই শিক্ষা নিজেদের জীবনে কাজে লাগাতে চেষ্টা করব। উনি বললেন আপনি একজন রিক্সাচালকের কাছ থেকে শিখতে চাচ্ছেন? আমি বললাম ব্যর্থতার গল্পগুলো থেকেই আমি সমসময় শেখার চেষ্টা করি। বাসার কাছে চলে আসলাম, রিক্সা থেকে নেমে নির্ধারিত ভাড়ার কয়েকগুন বেশি ভাড়া দিলে সে সেটা নিতে অপারগতা প্রকাশ করে।আমি বললাম অন্য যায়গায় রিক্সা না চালিয়ে আপনি আমার সাথে ১০মিনিট সময় গল্প করেন তাহলে নিশ্চয়্ই এই বাড়তি টাকা নিতে আপনার কোন সমস্যা হবে না। উনি রাজি হলেন-
অতপর বলা শুরু করলেন, আমার নাম ওয়াজেদ আলী, বাড়ী নীলফামারি, একছেলে এবং তিন মেয়ে, ছেলে বিয়ে করেছে, মেয়েদেরও বিয়ে দিয়েছি, ধানের ষ্টক ব্যবসা ছিল তার, খুব সুখের সংসার ছিল তার, মেয়েদের বিয়ে দিতে যেয়ে অনেক টাকার যৌতুক দিতে হয়েছিল তাকে, তারপরও তার সংসারে অভাব ছিল না, সে তার ব্যবসায় বাকীতে ধান বিক্রি করে তাদের কাছ থেকে বকেয়া টাকা পায় না, সে যে সব কৃষকের ধান কিনেছিল তারা তার বাড়িতে এসে প্রতিনিয়ত তাদের পাওনা টাকা দিতে চাপ দেয়, এমতাবস্থায় সে তার সকল কৃষিজমি বিক্রি করতে বাধ্য হয়। জমি বিক্রি করার ফলে তার ছেলে তাদের সাথে ঝগড়া করে আলাদা হয়ে যায়, সে কোন খোজখবর রাখে না এবং টাকা পয়সা দেয় না। এরপর শুরু হয় করোনার তান্ডব, পেটের দায়ে ঢাকা চলে আসে, ঢাকা এসে রিক্সাভাড়া যা পায় তা দিয়ে নিজে চলে এবং তার স্ত্রীর জন্য টাকা পাঠায়, পরিশেষে বলে আল্লাহর রহমতে ভালআছি, সুস্থ আছি।মহান স্রষ্টার উপর ভরসাই তাদের বেচে থাকার শক্তি।

বাসায় ফেরার কিছুক্ষন পর কলিংবেলের শব্দ, দরজা খুলতেই দেখি আমার স্ত্রীর কাজের সহকারী রুমা, তাকে দেখেই বুঝলাম যে সে তার মাসিক বেতন নিতে এসেছে, করোনার সময়ে অনেকের মতই আমরাও তাকে বিনা কাজে বেতন দিয়ে যাচ্ছি।তার বিধস্ত চেহারা দেখেই বাসার ভিতরে প্রবেশের অনুমতি দিলাম , বাসায় এসে আমার উপস্থিতিতে তার বস মানে আমার স্ত্রীর কাছে বলতে শুরু করল যে , আপা এই করোনায় আমাদের অবস্থা একেবারেই খারাপ, আমি ৪টা বাসায় কাজ করে প্রায় ৬-৮ হাজার টাকা আয় করতাম, আমার স্বামী মালবাহী ভ্যান চালিয়ে এবং বিভিন্ন যায়গায় রান্নাবান্নার কাজ করে ৮-১০হাজার টাকা আয় করত। দুজনেই আয় দিয়ে আমাদের একটা ছেলে হাসান এবং একটা মেয়ে লাবনী কে নিয়ে সংসার ভালই চলছিল। করোনার মধ্যে সবাইতো আমাকে বিনাকাজে বেতন দিচ্ছে না এবং কাজও করাচ্ছে না, এদিকে আমার স্বামীর কোন কাজ নেই, বাসাভাড়া দিতে হয় ৬হাজার টাকা এবং খাওয়া দাওয়া সবমিলেয়ে ১২-১৩হাজার টাকা লাগে ঢাকা শহর থাকার জন্য কিন্তু যে টাকা পাচ্ছি তার সাথ জমানো টাকা মিলিয়ে কোনরকম বেঁচে আছি। টাকা পয়সার অভাব অনটনের কারনে আমার স্বামী সারাক্ষন শুধু ঝগড়া করে, মাইর দেয়, এই বলে কান্নাশুরু করে দিল, চোখেঁ মুখেঁ আঘাতের দাগ স্পষ্ট। ফেসবুকে খুব ভাল কনটেন্ট লেখক মিস ফারহানা আশা করোনা শুরু হওয়ার পর তার ফেসবুকে লিখেছিলেন ” করোনা বুয়াকে বানাইয়াছ কারিনা এবং আমারে বানাইয়াছো জরিনা’ সেদিন ভালই লেগেছিল এইভেবে যে, করোনার কারনে বুয়ারা অন্তত কিছুদিনের জন্য হলেও কারিনার মত চলাফেরা করতে পারবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে তারা আগের জরিনার থেকেও খারাপ সময় কাটাচ্ছে। রুমা জানাল যে সে আর ঢাকা থাকবে না, কালকে বাড়ি চলে যাবে। তাকে কিছু সান্তনা দিল তার বস এবং স্বাধ্যমত সহযোগিত করল। পরিশেষে সে বলল যে স্বামী যদি মারধোর না করত তাহলে সে অল্প খেয়ে ঢাকাতেই টিকে থাকার চেষ্টা করত।

ওয়াজেদ আলী, রুমার মত লক্ষ লক্ষ মানুষ আজ হতাশাগ্রস্থ, স্বল্প আয়ে কোনরকম টিকে আছে, এভাবে চলতে থাকলে তারা সামনের দিনগুলোতে টিকে থাকতে পারবে কি না জানিনা তবে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর উপর ভরসাই যেন তাদের বেচে থাকার একমাত্র আশা ভরসা।

লেখকঃ মোঃ তারিকুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক
তাসিনকো নিউজ ২৪ ডটকম

বাংলাদেশ করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেছে!!


আমরাও গর্বের সাথে বলতে পারবো, ” ওরা পারলে, আমরাও পারি” – রকীব আহমেদ

রকীব আহমেদ

বাংলাদেশ করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেছে!!

ড. আসিফ মাহমুদ পরিচিতিঃ তিনি এসএসসিতে আইডিয়াল স্কুল থেকে ৭ম স্থান অধিকার করেন পরবর্তীতে নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে (বিএসসি) মাইক্রোবায়োলজিতে প্রথম শ্রেণীতে তৃতীয় স্থান এবং এমএসসিতে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হন। পরবর্তীতে গিফু ইউনিভার্সিটি, জাপান থেকে পিএইচডি লাভ করে কিছুদিন সহকারী অধ্যক্ষ হিসেবেও কর্মরত ছিলেন।

হ্যাঁ স্বপ্নে পাওয়া কোনো ফর্মুলা থেকে ভ্যাকসিন আবিষ্কার নয়! রীতিমতো বিজ্ঞান সম্মতভাবে ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ করছেন আমাদের দেশের বিজ্ঞানী। আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও অনেক কৃতীমান তৈরি হন, যারা মেধামননে উন্নত দেশগুলোর বিজ্ঞানীদের চেয়ে কোন অংশে কম নয়। ওনার /ওনাদের বিজ্ঞানকে সমৃদ্ধ করার সেই কোয়ালিটি এবং ক্যাপাবিলিটি আছে। কিন্তু দুক্ষজনক হলো আমাদের এই সকল কৃতী সন্তানেরা দেশে সু্যোগের অভাবে বাইরে পাড়ি জমান আর উন্নত দেশগুলো তাদের মেধার ফায়দা নেয়, আর আমাদের দেশের জ্ঞান -বিজ্ঞান অবহেলিত থেকে যায়।

যাহোক, ড. আসিফ মাহমুদ যদি চাইতেন ইউরোপ-আমোরিকার কোনো দেশে রাজকীয় হালে থাকতে পারতেন। কিন্তু সৌভাগ্যবশত তিনি অন্যদের মত বিদেশ পাড়ি জমান নি।

“ওরা যদি পারে, আমরাও পারবো।” -এই ব্রত নিয়ে দেশে কাজ করছেন। আসিফ মাহমুদ গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড এ ইনচার্জ হিসেবে কাজ করছেন। তাঁর সাক্ষাৎকারে “We cannot afford to lose people” বলতেই চোখ ছলছল করে উঠাটা হয়তো অনেকেরই নজর এড়িয়ে গিয়েছে, কিন্তু এর মধ্যে দেশের মানুষের জন্য কতোটা ভালোবাসা ছিলো তা সহজেই অনুৃমান করা যায়।

“বাংলাদেশ করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কার করার দাবী করেছে” – শুনতেই আমাদের দেশের অনেকেই হাসতে হাসতে অজ্ঞান হওয়ার উপক্রম হয়েছেন, ফেসবুকে ট্রল করছেন(!), মজা নিচ্ছেন(!), কিন্তু কেন? অথচ দফায় দফায় ট্রায়াল দিয়ে ব্যর্থ হওয়া বিভিন্ন দেশের ভ্যাকসিন আবিষ্কার এর খবর শেয়ার দিতে দিতে সবার টাইমলাইন ভরে ফেলেছেন।

নিজ দেশের প্রতি এতো অবিশ্বাস আমাদের? আমাদের দেশের হাজার হাজার মেধাবী তরুণরা বর্হিবিশ্বের বিভিন্ন টপ ক্লাস পজিশন দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন এ খবরটা কি হয়তো আমাদের অনেকেরই অজানা? আজ যদি ড.আসিফ মাহমুদ অন্য কোনো দেশে বসে ভ্যাকসিন আবিষ্কার এর দাবী জানাতেন তাহলে কিন্তু আমরা মাথায় তুলে নাচতাম, কিন্তু এখন কি করছি?
যাইহোক সুখবর হলো

ইতিমধ্যেই খরগোশ এর দেহে এই ভ্যাকসিন প্রয়োগে এন্টিবডি উৎপাদনের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। অন্যান্য কাজ এগিয়ে চলছে, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই আমরা সুখবর শুনতে পাব।আসুন প্রার্থনা করি যেন ক্লিনিক্যাল টেস্টে আমাদের আবিষ্কৃত ভ্যাকসিন সফলতা লাভ করে। সত্যি বলতে এরকম কিছু হলে পুরো বিশ্বে বাংলাদেশ হইচই ফেলে দিতে পারবে।

আমরাও গর্বের সাথে বলতে পারবো, ” ওরা পারলে, আমরাও পারি”

লেখকঃ রকীব আহমেদ
চেয়ারম্যান- বায়োভিস্তা বাংলাদেশ লিমিটেড

মতামত


“কমছে এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়সংখ্যা ও সময়:” শিক্ষামন্ত্রী

শাহজাদপুর সংবাদ ডটকমে “কমছে এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়সংখ্যা ও সময়:” শিক্ষামন্ত্রী  শিরোনামে একটি সংবাদ অনলাইনে প্রদর্শিত হওয়ার পর সাতক্ষীরা শ্যামনগর নওয়াবেঁকী মহাবিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক মুহাঃ হাবিবুর রহমান সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তার মতামত তুলে ধরেছেন। শাহজাদপুর সংবাদ ডটকমে তার মতামতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে তা হুবহু প্রকাশ করা হলো। এ বিষয়ে আপনাদের আরো যদি কারো কোন মতামত থাকে তবে দ্রুত শাহজাদপুর সংবাদ ডটকমের মেইলে পাঠান।

মতামত

জনাব সম্পাদক,
সালাম ও শুভেচ্ছা জানবেন।
জুন 28-20 তারিখে আপনার পত্রিকার রিপোর্ট “কমছে এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়সংখ্যা ও সময়:” শিক্ষামন্ত্রী

বিষয়ে মতামত প্রদান করছি, সম্ভব হলে মতামতটি আপনার পত্রিকায় প্রকাশ করার বিনিত অনুরোধ করছি।
এবারের এইচএসসি পরীক্ষাটি করোনার কারনে অনুষ্ঠিত করা না যায় বা সীমিত আকারে গ্রহন করার প্রশ্ন আসে তাহলে সরকার একটা কাজ করতে পারে, তা হলো পরীক্ষা একবারে না নিয়ে এখনই ঘোষনা দেওয়া যায় যে, পরীক্ষা নেওয়া হবেনা তোমরা যারা পরীক্ষার্থী  আছো তোমাদের বিগত এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট বহাল করে দেওয়া হবে। তোমরা বরং এখনই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য প্রস্তুতি গ্রহন শুরু করো।

বিষয়টি যদি এভাবে ভাবা হয় তাহলে করোনার মধ্যে হতাশাগ্রস্ত লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী চিন্তামুক্ত হয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহন করতে পারবে। এব্যাপারে আপনার মতামত সম্পাদকীয় কলামে আমার প্রস্তাবনার আলোকে লিখলে ভালো হবে বলে আমি মনে করছি। আপনার সুস্থতা কামনা করে শেষ করছি।

মুহাঃ হাবিবুর রহমান
প্রভাষক
ইসলামের ইতিহাস বিভাগ
নওয়াবেঁকী মহাবিদ্যালয়
নওয়াবেঁকী, শ্যামনগর, সাতক্ষীরা।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়-কে বলি, কেন এমন হচ্ছে ??

করোনার ভয়ানক গ্যাঁড়াকলে পড়ে দিশেহারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। বহুদিনের নানা অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত ও দিকভ্রান্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নাকাল হয়ে পড়েছে। বেহাল অবস্থা থেকে উত্তোরণের জন্য প্রয়োজন আশু সুদূরপ্রসারী সিদ্বান্ত গ্রহন ও তার যথাযথ বাস্তবায়ন। এখনই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সতর্ক না হলে ভবিষ্যতে জাতিকে চড়া মূল্য গুনতে হবে। দুঃখজনক হলেও সত্যি এখনো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনেক সিদ্বান্তই যথাযথ হচ্ছে না। এ বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের আশু দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

এটা সর্বজনবিদিত যে, আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা বলতে ল্যাবে রোগ নির্ণয় ( টেস্ট ) ও রোগের চিকিৎসাকে বুঝায়। সঠিক রোগ নির্ণয় ( টেস্ট ) ব্যতিরেকে সঠিক ভাবে রোগের চিকিৎসা সম্ভব নয়। সঠিক চিকিৎসার পূর্ব শর্তই হলো সঠিক রোগ নির্ণয় ( টেস্ট ), তাই সহজেই অনুমান করা যায় রোগ নির্ণয় ( টেস্ট ) কতটা জরুরি।

এখন প্রশ্ন হলো রোগ নির্ণয় ( টেস্ট ) ও তার চিকিৎসার সাথে জড়িত থাকবেন কে বা কারা। দুনিয়াজুড়ে যে রীতি তা হলো :
১) রোগের চিকিৎসা ও তার ব্যবস্থাপনায় থাকেন চিৎিসক ও নার্স।
২) ল্যাবে রোগ নির্ণয় ( টেস্ট ) এর ক্ষেত্রে তত্ত্ব ও এর ব্যবহারিক বিশেষজ্ঞ থাকেন বায়োকেমিস্ট ও মলিকুলার বায়োলজিস্ট ও অণুজীব বিজ্ঞানের সাথে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ এবং বিরিচালনায় ও নির্দেশনায় থাকেন মেডিক্যাল টেকনেশিয়ান বা মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট- যারা টেস্ট স্যাম্পল ও মেশিন ব্যবস্থাপনা করে থাকেন।

উল্লেখ্য, রোগের চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনায় যেমন চিৎিসক ও নার্সের বিকল্প নাই, তদ্রুপ ল্যাবে রোগ নির্ণয় ( টেস্ট ) এর ক্ষেত্রে তত্ত্ব ও এর ব্যবহারিক বিশেষজ্ঞ বায়োকেমিস্ট ও মলিকুলার বায়োলজিস্ট ও অণুজীব বিজ্ঞানের সাথে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের বিকল্প নাই। কিন্তু আমাদের দেশে ল্যাবে রোগ নির্ণয় ( টেস্ট ) এর ক্ষেত্রে অনেকটা অযাচিতভাবে কিছু প্যাথোলজি ও ভাইরোলজি চিকিৎসক তাঁদের ক্ষেত্র রোগের চিকিৎসায় না থেকে রোগ নির্ণয়ে তাঁদের পারঙ্গমতা জাহির করতে চান।

টেস্ট ল্যাবে (রোগ নির্ণয়) তাঁদের অযাচিত সংশ্লিষ্টতার ভয়াবহ ফলাফল আমরা দেখেছি/দেখছি করোনার দুঃসময়ে। করোনার দুঃসময়ের প্রথমদিকে তাঁরা স্যাম্পল কালেকশন থেকে শুরু করে বিভিন্ন ল্যাবে ভুল ভাবে স্যাম্পল সংরক্ষন/ প্রসেস ও ডাটা এনালাইসিস করেছেন। ফলস্বরূপ, অনেকের ক্ষেত্রেই ভুল রেজাল্ট দিয়েছিলেন। আমরা জানি না, তাঁরা তাঁদের ভুল বুঝতে পেরেছেন কিনা?

আশার কথা, শেষ অবধি Graduate Biochemists Association এর তত্ত্বাবধানে বায়োকেমিস্ট ও মলিকুলার বায়োলজিস্টরা বসে না থেকে দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে এবং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে করোনা টেস্ট ল্যাবগুলোতে কাজ শুরু করেছেন। স্বেচ্ছাসেবক মলিকুলার বায়োলজিস্টরা বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে চিকিৎসক ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের ট্রেনিং দিয়ে যাচ্ছে, ফলে টেস্টের মান ও গতিই দুই’ই বেড়েছে। বর্তমানে ভুল রেজাল্টের পরিমাণ অনেক কমে এসেছে।

বলে রাখি, এত কম সময়ে মানে এক দুই সপ্তাহ ট্রেনিং দিয়ে কাউকেই ল্যাব সেট আপ, ল্যাবের বায়োসেফটি, সঠিক নিয়ম মেনে নমুনা সংগ্রহ, নমুনা সংরক্ষণ এবং পরিবহন পদ্ধতি,মলিকুলার টেস্ট ( আরটি-পিসিআর) সম্পর্কে পুরোটা শেখানো যায় না। অগত্যা হয়তো চলে।

 

প্রথমতঃ
অবহেলিত স্বাস্থ্যখাতে গতি আনতে দক্ষ চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ জরুরী। ইতোমধ্যেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগের ব্যবস্থা করেছে, ধন্যবাদ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে।

দ্বিতীয়তঃ
দুঃখজনক এবং প্রহসনের বিষয় হলো :
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় করোনাভাইরাস মোকাবিলায় বিশেষ বিবেচনায় দ্রুত সময়ের মধ্যে ৩ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়ার কথা চূড়ান্ত করেছে ( ৭ জুন,প্রথম আলো), যা ইতিবাচক।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে ল্যাবের জন্য মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট, মেডিক্যাল টেকনেশিয়ান নিয়োগের কথা বলা হলেও যাঁরা রোগ নির্ণয়ে ( টেস্ট ) তত্ত্ব ও এর ব্যবহারিক বিষেশজ্ঞ হিসেবে দুনিয়াজুড়ে কাজ করেন, সেই বায়োকেমিস্ট ও মলিকুলার বায়োলজিস্ট ও অণুজীব বিজ্ঞানের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষেশজ্ঞদের কোনো কথা নাই !

এখানে প্রশ্ন থেকে যায়, বিষেশজ্ঞদের পরিচালনা ও নির্দেশনা ছাড়া কিভাবে মেডিক্যাল টেকনেশিয়ান বা মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টরা টেস্ট স্যাম্পল, মেশিন ও ল্যাব ব্যবস্থাপনা করবেন ? তবে কি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট, মেডিক্যাল টেকনেশিয়ান নিয়োগ দিয়েই গুনগত মানের রোগ নির্ণয় ( টেস্ট ) নিশ্চিত করতে চায় ? এবং তা কি আদৌ সম্ভব ? আমাদের চিকিৎসকরা কি চান না যে, ল্যাবে সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় ( টেস্ট ) হোক ?- যা রোগীকে সঠিক চিকিৎসা দেয়ার পূর্ব শর্ত এবং ভুল চিকিৎসা এড়ানোর একমাত্র উপায়।

আমার জিজ্ঞাসা, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আর কত হটকারী সিদ্ধান্ত নিবে? আর কত অজ্ঞ ও অন্ধ হয়ে দেশের মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলবে?

রকীব আহমেদ
সাবেক সাধারণ সম্পাদকঃ গ্রাজুয়েট বায়োকেমিস্টস এসোসিয়েশন।
চেয়ারম্যানঃ বায়োভিস্তা বাংলাদেশ লিমিটেড, বাধঁন ফাউন্ডেশন এবং লিবার্টি ফাউন্ডেশন।

ছয় দফা বাঙালির ‘স্বাধীনতার সনদ’

আমরা ৭ জুন ছয় দফা দিবস হিসেবে পালন করি। ২০২০ সাল বাঙালির জীবনে এক অনন্য বছর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আমাদের অর্থাৎ বাংলাদেশের জনগণের জন্য এ বছরটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্‌যাপনে ব্যাপক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বব্যাপী প্রবাসী বাঙালিরাও প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। ইউনেসকো এ দিবসটি উদ্‌যাপনের সিদ্ধান্ত নেয় এবং জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত দেশগুলোও প্রস্তুতি নিয়েছিল। জাতিসংঘ ইতিমধ্যে একটি স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করেছে।

যখন এমন ব্যাপক আয়োজন চলছে, তখনই বিশ্বব্যাপী এক মহামারি দেখা দিল। করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ নামক এক সংক্রামক ব্যাধি বিশ্ববাসীকে এমনভাবে সংক্রমিত করছে যে বিশ্বের প্রায় সব দেশই এর দ্বারা আক্রান্ত এবং অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক—সকল কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশও এ ভাইরাস থেকে মুক্ত নয়। এমতাবস্থায়, আমরা জনস্বার্থে সকল কার্যক্রম বিশেষ করে যেখানে জনসমাগম হতে পারে, সে ধরনের কর্মসূচি বাতিল করে দিয়ে কেবল রেডিও, টেলিভিশন বা ডিজিটাল মাধ্যমে কর্মসূচি পালন করছি।

১৯৬৬ সালে বাঙালির মুক্তি সনদ ছয় দফা ঘোষণা দিয়েছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আমি পরম শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, শ্রদ্ধা জানাই আমার মা বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছাকে। ৭ জুনের কর্মসূচি সফল করতে তিনি অনন্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। স্মরণ করি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে শাহাদতবরণকারী আমার পরিবারের সদস্যদের। শ্রদ্ধা জানাই জাতীয় চার নেতাকে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদ ও নির্যাতিত মা-বোনকে।

ছয় দফা দাবির আত্মপ্রকাশ

১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে চৌধুরী মোহাম্মদ আলীর বাসভবনে কাউন্সিল মুসলিম লীগের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ আফজালের সভাপতিত্বে বিরোধী দলের সম্মেলন শুরু হয়। সাবজেক্ট কমিটির এই সভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফা দাবি পেশ করেন। প্রস্তাব গৃহীত হয় না। পূর্ব বাংলার ফরিদ আহমদও প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন।

৬ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম পাকিস্তানের কয়েকটি পত্রিকা এ দাবি সম্পর্কে উল্লেখ করে বলে যে পাকিস্তানের দুটি অংশ বিচ্ছিন্ন করার জন্যই ছয় দফা দাবি আনা হয়েছে। ১০ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সংবাদ সম্মেলন করে এর জবাব দেন। ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি ঢাকায় ফিরে আসেন। বিমানবন্দরেই তিনি সাংবাদিকদের সামনে ছয় দফা সংক্ষিপ্তাকারে তুলে ধরেন।

ছয় দফা দাবিতে পাকিস্তানের প্রতিটি প্রদেশকে স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার প্রস্তাব ছিল। কিন্তু পাকিস্তানের অন্যান্য রাজনৈতিক দল এ দাবি গ্রহণ বা আলোচনা করতেও রাজি হয়নি। বঙ্গবন্ধু ফিরে আসেন ঢাকায়।

আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটিতে ছয় দফা দাবি পাস করা হয়। আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে এ দাবি গ্রহণ করা হয়। ব্যাপকভাবে এ দাবি প্রচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত হয় দলের নেতৃবৃন্দ পুরো পূর্ব পাকিস্তান সফর করে জনগণের কাছে এ দাবি তুলে ধরবেন। ছয় দফা দাবির ওপর বঙ্গবন্ধুর লেখা একটি পুস্তিকা দলের সাধারণ সম্পাদকের নামে প্রকাশ করা হয়। লিফলেট, প্যাম্ফলেট, পোস্টার ইত্যাদির মাধ্যমেও এ দাবিনামা জনগণের কাছে তুলে ধরা হয়।

কেন ছয় দফা দাবি

১৯৬৫ সালে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে যে যুদ্ধ হয়েছিল, সে যুদ্ধের সময় পূর্ববঙ্গ বা তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ ছিল সম্পূর্ণ অরক্ষিত। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে এই অঞ্চলের সুরক্ষার কোনো গুরুত্বই ছিল না। ভারতের দয়ার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল পূর্ব বাংলাকে। ভারত সে সময় যদি পূর্ববঙ্গে ব্যাপক আক্রমণ চালাত, তাহলে ১ হাজার ২০০ মাইল দূর থেকে পাকিস্তান কোনোভাবেই এই অঞ্চলকে রক্ষা করতে পারত না। অন্যদিকে তখনকার যুদ্ধের চিত্র যদি পর্যালোচনা করি, তাহলে আমরা দেখি পাকিস্তানের লাহোর পর্যন্ত ভারত দখল করে নিত যদি না বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সৈনিকেরা সাহসের সঙ্গে ভারতের সামরিক আক্রমণের মোকাবিলা করত।

পূর্ব পাকিস্তানে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর কোনো শক্তিশালী ঘাঁটি কখনো গড়ে তোলা হয়নি। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ১৪ ডিভিশনের একটা হেডকোয়ার্টার ছিল খুবই দুর্বল অবস্থায়। আর সামরিক বাহিনীতে বাঙালির অস্তিত্ব ছিল খুবই সীমিত। ১৯৫৬ সালে দৈনিক ডন পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বাঙালিদের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছিল।

পদবি                         পশ্চিম পাকিস্তান                   পূর্ববঙ্গ

জেনারেল                           ৩ জন                             ০

মেজর জেনারেল                 ২০ জন                             ০

ব্রিগেডিয়ার                        ৩৪ জন                            ০

কর্নেল                              ৪৯ জন            ১ জন (বাংলা বলতেন না)

লে. কর্নেল                       ১৯৮ জন                         ২ জন

মেজর                             ৫৯০ জন                       ১০ জন

নৌবাহিনী অফিসার              ৫৯৩ জন                        ৭ জন

বিমানবাহিনী অফিসার           ৬৪০ জন                      ৪০ জন

অর্থাৎ, পাকিস্তান সামরিক বাহিনীতে সর্বোচ্চ পদে তা-ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে মাত্র ২ জন বাঙালি অফিসার ছিলেন। অথচ যুদ্ধের সময় বাঙালি সৈনিকেরাই সবচেয়ে সাহসের পরিচয় দিয়েছিলেন।

ওই যুদ্ধের পর তাসখন্দে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে একটা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা তাসখন্দ চুক্তি নামে পরিচিত। সেখানেও পূর্ববঙ্গের স্বার্থের বা নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষিত হয়।

একটু পেছন ফিরে তাকালে আমরা দেখি যে বাঙালির বিরুদ্ধে সব সময় পাকিস্তানের শাসক চক্র বৈমাত্রেয়সুলভ আচরণ করেছে।

প্রথম আঘাত হানে বাংলা ভাষা বা আমাদের মাতৃভাষার ওপর। তারা আমাদের মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত শুরু করে। রক্ত দিয়ে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা করে বাঙালিরা। সে ভাষা আন্দোলন শুরু করেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ছাত্র শেখ মুজিবুর রহমান, ১৯৪৮ সালে। মূলত তখন থেকেই তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, পশ্চিম পাকিস্তানিদের শাসন-শোষণ ও বঞ্চনা থেকে মুক্তি পেতে হবে।

বাঙালিরা সব সময়ই পশ্চিমাদের থেকে শিক্ষা-দীক্ষা, সাংস্কৃতিক চর্চায় সমৃদ্ধ ছিল। পাকিস্তান সৃষ্টির আন্দোলনেও অগ্রণী ভূমিকা ছিল এই অঞ্চলের মানুষের। জনসংখ্যার দিক থেকেও সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি। ৫৬ শতাংশ মানুষের বসবাস ছিল পূর্ববঙ্গে।

পূর্ববঙ্গের উপার্জিত অর্থ কেড়ে নিয়ে তারা গড়ে তোলে পশ্চিম পাকিস্তান। বাঙালিদের ওপর অত্যাচার করাই ছিল শাসকদের একমাত্র কাজ। ১৯৫৪ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে অন্যান্য দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে নির্বাচনে জয়লাভ করে। মুসলিম লীগ শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। কিন্তু ৯২–ক ধারা অর্থাৎ ইমার্জেন্সি জারি করে তারা নির্বাচিত সরকার বাতিল করে দেয়। পূর্ববঙ্গে চালু করে কেন্দ্রীয় শাসন। অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে যখন ১৯৫৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে, তখনো ষড়যন্ত্র থেমে থাকে না। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান মার্শাল ল জারি করে। এভাবেই বারবার আঘাত আসে বাঙালিদের ওপর।

ছয় দফার প্রতি জনসমর্থন

আইয়ুব খানের নির্যাতন-নিপীড়নের পটভূমিতে যখন ছয় দফা পেশ করা হয়, অতি দ্রুত এর প্রতি জনসমর্থন বৃদ্ধি পেতে থাকে। আমার মনে হয়, পৃথিবীতে এ এক বিরল ঘটনা। কোনো দাবির প্রতি এত দ্রুত জনসমর্থন পাওয়ার ইতিহাস আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সমগ্র পূর্ব বাংলা সফর শুরু করেন। তিনি যে জেলায় জনসভা করতেন, সেখানেই তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হতো, গ্রেপ্তার করা হতো। জামিন পেয়ে তিনি আবার অন্য জেলায় সভা করতেন। এভাবে পরপর তিনি আটবার গ্রেপ্তার হন মাত্র দুই মাসের মধ্যে। এরপর ১৯৬৬ সালের ৮ মে নারায়ণগঞ্জে জনসভা শেষে ঢাকায় ফিরে আসার পর ধানমন্ডির বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। ৯ মে তাঁকে কারাগারে প্রেরণ করে। তৎকালীন সরকার একের পর এক মামলা দিতে থাকে।

একই সঙ্গে দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা শুরু হয়। সমগ্র বাংলাদেশ থেকে ছাত্রনেতা, শ্রমিকনেতাসহ অগণিত নেতা–কর্মীকে গ্রেপ্তার করে মামলা দায়ের করা হয়।

১৯৬৬ সালের ১৩ মে আওয়ামী লীগ প্রতিবাদ দিবস পালন উপলক্ষে জনসভা করে। জনসভায় জনতা ছয় দফার প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেন। ৩০ মে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির (ওয়ার্কিং কমিটি) সভা হয় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে। ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরী। ৭ জুন প্রদেশব্যাপী হরতাল ডাকা হয় এবং হরতাল সফল করার সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এ সময় আওয়ামী লীগের অনেক সভা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ধানমন্ডির বাড়িতে অনুষ্ঠিত হতো।

৭ জুনের হরতালকে সফল করতে আমার মা বেগম ফজিলাতুন্নেছা বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। ছাত্রনেতাদের সঙ্গে গোপন বৈঠক করে তিনি দিকনির্দেশনা দেন। শ্রমিকনেতা ও আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনি সব ধরনের সহযোগিতা করেছিলেন।

পাকিস্তানি শাসকদের দমন–পীড়ন-গ্রেপ্তার সমানতালে বাড়তে থাকে। এর প্রতিবাদে সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হন। ছয় দফা আন্দোলনের সঙ্গে পূর্ব বাংলার সর্বস্তরের মানুষ—রিকশাওয়ালা, স্কুটারওয়ালা, কলকারখানার শ্রমিক, বাস-ট্রাক-বেবিট্যাক্সিচালক, ভ্যানচালক, খুদে দোকানদার, মুটে-মজুর, দিনমজুর—সবাই এই আন্দোলনে শরিক হয়েছিলেন।

পাকিস্তানের সামরিক জান্তা ও প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান যেকোনো উপায়ে এই আন্দোলন দমন করার সম্পূর্ণ দায়িত্ব দেন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খানকে। কিন্তু তাঁদের শত নির্যাতন উপেক্ষা করে বাংলাদেশের মানুষ ৭ জুনের হরতাল পালন করে ছয় দফার প্রতি তাঁদের সমর্থন জানিয়ে দেন। পাকিস্তান সরকার উপযুক্ত জবাব পায়। দুঃখের বিষয় হলো, বিনা উসকানিতে জনতার ওপর পুলিশ গুলি চালায়। শ্রমিকনেতা মনু মিয়াসহ ১১ জন নিহত হন। আন্দোলন দমন করতে নির্যাতনের মাত্রা যত বাড়তে থাকে, সাধারণ মানুষ তত বেশি আন্দোলনে শামিল হতে থাকেন।

৭ জুন হরতাল সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ডায়েরিতে লিখেছেন, ‘১২টার পরে খবর পাকাপাকি পাওয়া গেল যে, হরতাল হয়েছে। জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে হরতাল পালন করেছে। তারা ছয় দফা সমর্থন করে আর মুক্তি চায়। বাঁচতে চায়, খেতে চায়, ব্যক্তিস্বাধীনতা চায়, শ্রমিকের ন্যায্য দাবি, কৃষকদের বাঁচার দাবি তারা চায়, এর প্রমাণ এই হরতালের মধ্যে হয়েই গেল।’ (কারাগারের রোজনামচা, পৃ: ৬৯)

১৯৬৬ সালের ১০ ও ১১ জুন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সভায় হরতাল পালনের মাধ্যমে ছয় দফার প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করায় ছাত্র-শ্রমিক ও সাধারণ জনগণকে ধন্যবাদ জানানো হয়। পূর্ববঙ্গের মানুষ যে স্বায়ত্তশাসন চায়, তারই প্রমাণ এই হরতালের সফলতা। এ জন্য সভায় সন্তোষ প্রকাশ করা হয়।

১৭, ১৮ ও ১৯ জুন নির্যাতন-নিপীড়ন প্রতিরোধ দিবস পালন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আওয়ামী লীগের সব নেতা–কর্মীর বাড়িতে বাড়িতে কালো পতাকা উত্তোলন এবং তিন দিন সবাই কালো ব্যাজ পরবেন বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। হরতালে নিহতদের পরিবারগুলোকে আর্থিক সাহায্য এবং আহতদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য একটা তহবিল গঠন এবং মামলা পরিচালনা ও জামিনের জন্য আওয়ামী লীগের আইনজীবীদের সমন্বয়ে একটি আইনগত সহায়তা কমিটি গঠন করা হয়। দলের তহবিল থেকে সব ধরনের খরচ বহন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। আন্দোলনের সব কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালন করারও নির্দেশনা দেওয়া হয়।

ছয় দফা দাবির ভিত্তিতে স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলন আরও ব্যাপকভাবে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সভা, সমাবেশ, প্রতিবাদ মিছিল, প্রচারপত্র বিলিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। এই দাবির প্রতি ব্যাপক জনমত গড়ে তোলার কার্যক্রম শুরু হয়।

এদিকে সরকারি নির্যাতনও বৃদ্ধি পেতে থাকে। তবে যত বেশি নির্যাতন আইয়ুব-মোনায়েম গং চালাতে থাকেন, জনগণ তত বেশি তাঁদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং সব নিপীড়ন উপেক্ষা করে আরও সংগঠিত হতে থাকেন।

১৯৬৬ সালের ২৩ ও ২৪ জুলাই আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং আন্দোলন দ্বিতীয় ধাপে এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এই আন্দোলন কেন্দ্র থেকে জেলা, মহকুমা ও ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে, তীব্রতর হতে থাকে।

সরকারও নির্যাতনের মাত্রা বাড়াতে থাকে। ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বপ্রাপ্তদের একের পর এক গ্রেপ্তার করতে থাকে। অবশেষে একমাত্র মহিলা সম্পাদিকা অবশিষ্ট ছিলেন। আমার মা সিদ্ধান্ত দিলেন, তাঁকেই ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক করা হোক। আওয়ামী লীগ সে পদক্ষেপ নেয়।

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা

পাকিস্তান সরকার নতুন চক্রান্ত শুরু করল। ১৯৬৮ সালের ১৮ জানুয়ারি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ঢাকার কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টে বন্দী করে নিয়ে যায়। অত্যন্ত গোপনে রাতের অন্ধকারে সেনাবাহিনীর দ্বারা এ কাজ করানো হয়। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দেওয়া হয়, যা আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা হিসেবে অধিক পরিচিতি পায়।

এই মামলায় ১ নম্বর আসামি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর সঙ্গে আরও ৩৪ জন সামরিক ও অসামরিক অফিসার ও ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।

অন্যদিকে ছয় দফা দাবি নস্যাৎ করতে পশ্চিম পাকিস্তানের কিছু নেতাকে দিয়ে আট দফা নামে আরেকটি দাবি উত্থাপন করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়। তবে এতে তেমন কাজ হয় না। উঁচু স্তরের কিছু নেতা বিভ্রান্ত হলেও ছাত্র-জনতা বঙ্গবন্ধুর ছয় দফার প্রতিই ঐক্যবদ্ধ থাকেন।

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা অর্থাৎ রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান মামলার মূল অভিযোগ ছিল যে আসামিরা সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে অভ্যুত্থান ঘটিয়ে পূর্ব পাকিস্তানকে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এ কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দেওয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের বক্তব্য ছিল—‘আমরা পূর্ব পাকিস্তানের জনসংখ্যার ৫৬ শতাংশ, সংখ্যাগুরু। আমরা বিচ্ছিন্ন হব কেন? আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার চাই, স্বাধীনভাবে বাঁচতে চাই। যারা সংখ্যালগিষ্ঠ, তারা বিচ্ছিন্ন হতে পারে, সংখ্যাগরিষ্ঠরা নয়।’

এই মামলা দেওয়ার ফলে আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করে। বাংলার মানুষের মনে স্বাধীনতা অর্জনের আকাঙ্ক্ষা ও চেতনা শাণিত হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোলা হয়। ছাত্ররা ছয় দফাসহ এগারো দফা দাবি উত্থাপন করে আন্দোলনকে আরও বেগবান করে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জেলা, মহকুমায় আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।

ক্যান্টনমেন্টের ভেতরেই কোর্ট বসিয়ে মামলার কার্যক্রম পরিচালনা করা শুরু হয়। অন্যদিকে জেল, জুলুম, গুলি, ছাত্র হত্যা, শিক্ষক হত্যাসহ নানা নিপীড়ন ও দমন চালাতে থাকে আইয়ুব সরকার।

পাকিস্তানি সরকারের পুলিশি নির্যাতন, নিপীড়ন ও দমনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে শুরু করে। তারা রাস্তায় নেমে আসে। সরকারপন্থী সংবাদপত্র থেকে শুরু করে থানা, ব্যাংক, সরকারের প্রশাসনিক দপ্তরে পর্যন্ত হামলা চালাতে শুরু করে। সমগ্র বাংলাদেশ তখন অগ্নিগর্ভে পরিণত হয়।

‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করো, জেলের তালা ভাঙবো শেখ মুজিবকে আনবো, শেখ মুজিবের মুক্তি চাই’ —এ ধরনের স্লোগানে স্লোগানে স্কুলের ছাত্ররাও রাস্তায় নেমে আসে। এরই একপর্যায়ে ১৯৬৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি এই মামলার অন্যতম আসামি সার্জেন্ট জহুরুল হককে বন্দীখানায় হত্যা করা হয়। মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়ে। তাদের আশঙ্কা হয়, এভাবে শেখ মুজিবকেও হত্যা করবে। সাধারণ মানুষ ক্যান্টনমেন্ট আক্রমণ করতে অগ্রসর হয়। জনতা মামলার বিচারক প্রধান বিচারপতির বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। তিনি পশ্চিম পাকিস্তানে পালিয়ে যান।

প্রচণ্ড গণ–আন্দোলনের মুখে ২১ ফেব্রুয়ারি আইয়ুব খান আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হন। ২২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে একটা সামরিক জিপে করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ধানমন্ডির বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয় অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে। অন্য বন্দীদেরও মুক্তি দেওয়া হয়।

ভাষা আন্দোলন—স্বায়ত্তশাসন থেকে স্বাধীনতা: ছয় দফার সফলতা

গণ–আন্দোলনে আইয়ুব সরকারের পতন ঘটে। ক্ষমতা দখল করেন সেনাপ্রধান ইয়াহিয়া খান। ছয় দফার ভিত্তিতে ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সমগ্র পাকিস্তানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।

১৯৭০ সালের ৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ঘোষণা দেন, পূর্ব পাকিস্তানের নাম হবে ‘বাংলাদেশ’।

কিন্তু বাঙালিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় পাকিস্তানি সামরিক জান্তা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন বঙ্গবন্ধু। বাংলাদেশের মানুষ তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেন।

অসহযোগ আন্দোলন থেকে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বিজয় অর্জন করে বাঙালি জাতি। ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সামরিক জান্তা গণহত্যা শুরু করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। ৯ মাসের যুদ্ধ শেষে ১৬ ডিসেম্বর বাঙালি চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। বাঙালিরা একটি জাতি হিসেবে বিশ্বে মর্যাদা পায়, পায় জাতিরাষ্ট্র—স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশ।

লেখকঃ প্রধানমন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার