শাহজাদপুরে মুক্তিযোদ্ধা তালিকা ও গেজেট থেকে বজলুর রশিদকে বাদ দেয়ার দাবীতে সংবাদ সম্মেলন

শাহজাদপুর উপজেলা জালালপুর ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের পিস কমিটির সদস্য দলিল লেখক জয়নাল আবেদীনের ছেলে বজলুর রশিদের বিরুদ্ধে ভূয়া কাগজপত্র দেখিয়ে মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উক্ত বজলুর রশিদকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা ও গেজেট থেকে বাদ দেয়ার দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এলাকাবাসী। বুধবার (৬ ডিসেম্বর) সকাল ১১ টায় উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের মুলকান্দি বাজারের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এলাকবাসীর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী সুলতান মাহমুদ।

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ১৯৭১ সনে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বজলুর রশিদের পিতা জয়নাল আবেদীন জালালপুর ইউনিয়নের শান্তি কমিটির ৪ নং সদস্য ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন জয়নাল আবেদীন পাকবাহিনীর ও রাজাকারদের সহযোগিতায় এলাকায় মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের ব্যক্তিদের উপরে নানা অত্যাচার ও নির্যাতন চালিয়েছিলো। এ কাজে বজলুর রশিদও তার বাবাকে সহযোগিতা করেছে। অথচ মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ না করেও ভূয়া তথ্য ও কাগজপত্র দেখিয়ে বজলুর রশিদ ২০০৪ সালে মুক্তিযোদ্ধা গেজেট ভুক্ত হন। যার গেজেট নং- ১৭৯৪, ক্রমিক নং- ১৫৫, সনদ নং- ম-৭৬২৩, ভাতা বই নং- ৩২৮। সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, বজলুর রশিদের ভারতে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত এফএফ সনদ নেই। এমনকি বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রধান তালিকা মুক্তিবার্তা (লাল বই) তেও তার নাম নেই। শুধু তাই নয়, মহান মুক্তিযুদ্ধাকালীন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ মির্জার নেতৃত্বে গঠিত বে-সরকারি বাহিনী পলাশ ডাঙ্গা যুব শিবির (পাবনা-সিরাজগঞ্জ অঞ্চল) এর তালিকায় তার নাম নেই।

লিখিত বক্তব্যে ইউপি চেয়ারম্যান আরও জানান, বজলুর রশিদ একজন অপ্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। তিনি অবৈধভাবে মুক্তিযোদ্ধার গেজেটভুক্ত হয়ে মাসিক ভাতাসহ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করে আসছেন। অথচ, বাস্তবে সে তার রাজাকার পিতার অন্যতম সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বজলুর রশিদের ক্লাসমেট মজিবর রহমান, ভাগ্নে গোলজার হোসেন, প্রবীণ প্রতিবেশী বন্দেজ আলী, আনছার আলী মোল্লা, গোপাল দাসসহ অনেকেই সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বলেন, বজলুর রশিদ কোনদিনই মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেন নি। বরং যুদ্ধের সময় নিজ এলাকায় থেকে সে তার রাজাকার বাবাকে সহযোগিতা করেছেন। সংবাদ সম্মেলনের মধ্যেমে এলাকাবাসী বজলুর রশিদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য তদন্তপূর্বক মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইকালে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা ও গেজেট থেকে তার নাম বাদ দেয়ার দাবীসহ সরকারি সকল সুযোগ-সুবিধা বাতিলের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ ব্যাপারে বজলুর রশিদের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা।’

নগরবাড়ী-নটাখোলা ও কাজীরহাট আমদানি-রপ্তানি ঘাট দুটির রাজস্বের টাকা্ উপজেলায় ফেরতের দাবি


বেড়ার বরখাস্ত মেয়র আব্দুল বাতেন সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার ব্যাখ্যা দিলেন

পাবনার বেড়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) লাঞ্ছিত করার অভিযোগে বেড়া পৌরসভার মেয়র পদ থেকে বরখাস্ত হওয়া আব্দুল বাতেন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন।  বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় বেড়া পৌরসভার মিলনায়তনে তিনি এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও জনপ্রতিনিধিসহ তাঁর দেড়শতাধিক সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে মেয়র (সাময়িক বরখাস্তকৃত) বলেন, বেড়া উপজেলার নগরবাড়ী-নটাখোলা ও কাজীরহাট আমদানি-রপ্তানি ঘাট দুটি বিধি মোতাবেক উপজেলা পরিষদের আওতাভূক্ত। উপজেলা পরিষদেরই ঘাট দুটির রাজস্ব আদায়ের কথা। কিন্তু সম্প্রতি পাবনা জেলা প্রশাসন তা উপেক্ষা করে ঘাট দুটি থেকে রাজস্ব আদায়ের (খাস আদায়) উদ্যোগ নেয়। এ বিষয়টি বেড়াবাসীর স্বার্থসংশ্লিষ্ট উল্লেখ করে তিনি বলেন বিষয়টি ২২ সেপ্টেম্বরের উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। পরবর্তী সভায়ও এটি অন্তর্ভূক্ত করার কথা। অথচ ঘটনার দিন অর্থাৎ গত সোমবার (১২ অক্টোবর) উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় এ বিষয়টি আলোচনা থেকে কৌশলে বাদ দেওয়া হয়। এতে তিনি বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করেছেন ও আলোচনায় অন্তর্ভূক্ত করার কথা বলেছেন মাত্র। এ ছাড়া সেখানে কোনো ধাক্কাধাক্কি বা ইউএনওকে লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটেনি। আব্দুল বাতেন দাবি করেন ইউএনওর সঙ্গে তাঁর ভালো সম্পর্ক উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন তাঁর বিরুদ্ধে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে তা সম্পূর্ণভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য ষড়যন্ত্র করে ওইদিন ঘটনাটির ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল বাতেন বলেন, তিনি চান ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত হোক। তদন্ত হলেই সঠিক বিষয়টি বের হয়ে আসবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করার বিষয়টিকে তিনি স্বাগত জানান বলে দাবি করেন। কারণ বরখাস্ত করায় বিষয়টি নিয়ে এখন সঠিক তদন্ত হবে বলে তিনি মনে করেন। উল্লেখ্য, গত সোমবার (১২ অক্টোবর) উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে মাসিক সভাকালে মেয়র আব্দুল বাতেনের বিরুদ্ধে ইউএনও আসিফ আনাম সিদ্দিকীকে লাঞ্ছিত এবং অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ ওঠে। এরই ভিত্তিতে স্থানীয় সরকার বিভাগ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) তাঁকে মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে।

আইনজীবী তালিকাভুক্তি: ১৩ হাজার পরীক্ষার্থীকে ‘অটোপাস’ দেয়া হবে?

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে চলতি বছরের পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষার পর আজ (বুধবার) দুপুরে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাও বাতিল করার সিদ্ধান্ত এসেছে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে। শিক্ষামন্ত্রী দিপু মনি এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, এবার প্রচলিত পদ্ধতিতে মূল্যায়ন না করে জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফলের গড় করে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে। গতবার অংশগ্রহণ করে যারা অকৃতকার্য হয়েছিল তাদেরও জেএসসি ও এসএসসির ফলের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে।

মূলত, এইচএসসির পরীক্ষার পরই উচ্চশিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত হয়। তাই করোনাকাল চললেও অন্যসব পরীক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতির সঙ্গে এইচএসসি পরীক্ষাকে মেলাতে চাচ্ছিল না সরকার। ফলে, পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষা নিয়ে বেশ আগে ভাগে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলেও এইচএসসি পরীক্ষা নিতে সরকার বদ্ধপরিকর ছিল বলেই খবর পেয়েছি।

তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় পরীক্ষা না নিয়ে অটো পাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করার যে সিদ্ধান্ত সরকার তরফ থেকে আসল, সেটাকে সময়োচিত বলেই বোধ করছি। কারণ, পরীক্ষা দিতে এসে কোনো শিক্ষার্থী ভাইরাসে আক্রান্ত হলে কিংবা মৃত্যুবরণ করলে তার দায় শেষ পর্যন্ত সরকারের ঘাড়েই যেত। তাই, পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ছোটখাটো কিছু সমস্যার সৃষ্টি হলেও করোনাকাল বিবেচনায় এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে সরকারের এই সিদ্ধান্ত সাধুবাদ পাওয়ারই যোগ্য।

এতো গেলো পরিস্থিতি বিবেচনায় পরীক্ষা বাতিল করে অটোপাসের মাধ্যমে সাধুবাদ পাওয়ার দৃষ্টান্ত। অন্যদিকে, পরীক্ষা গ্রহণ করতে অনমনীয় অবস্থানে থেকে উল্টো দৃষ্টান্ত স্থাপনের নমুনাও আছে এদেশে। এ দৃষ্টান্তটি আইনজীবীদের অভিভাবক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের।

সাম্প্রতিক অতীত বিবেচনায় নিলে যেখানে তাদের পরীক্ষা গ্রহণ করা নিয়ে অনীহা রয়েছে বলেই জানা যায়; সেখানে করোনাকালে প্রিলিমিনারি উত্তীর্ণ ১৩ হাজার পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা নিতে কিছুদিন আগেও তারা অনড় অবস্থানে ছিল। যদিও বিধি অনুসারে প্রতি ছয় মাস পর পর বার কাউন্সিলের
তালিকাভুক্তিকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা থাকলেও বিগত ৭-৮ বছরে তারা কখনোই তা পারেনি।

সর্বশেষ প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রায় তিন বছর পর এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে তারা আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তিকরণের সর্বশেষ প্রিলিমিনারি পরীক্ষা নেয়। এ অবস্থায় সরকার যেখানে ভাইরাসের সংক্রমণ না কমা পর্যন্ত সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা ও প্রচলিত পদ্ধতিতে পরীক্ষা গ্রহণ না করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেখানে বার কাউন্সিল খুব দ্রুতই প্রিলিমিনারি উত্তীর্ণ শিক্ষানবিস আইনজীবীদের লিখিত পরীক্ষা নিতে পারবে বলে মনে হয় না।

তাছাড়া, মাত্র কিছুদিন আগে ভাইরাসের দ্বিতীয় ওয়েভ আঘাতের বিষয়ে আশঙ্কা ব্যক্ত করে সতর্ক করছে সংক্রমণ মোকাবিলায় গঠিত কারিগরি পরামর্শক কমিটি।

এ অবস্থায় পাবলিক পরীক্ষা নিতে যাওয়া আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হতে পারে। এ অবস্থায় বার কাউন্সিলও সরকারের দেখানো পথেই হাঁটতে পারে বলে মনে করি।

কারণ, করোনাকালে যতই পরীক্ষাকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়িয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা নেওয়া হোক না কেন, এই পরিস্থিতেতে পরীক্ষা নিলে ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকবেই।

তাছাড়া, সংক্রমণ না কমার আগে লিখিত পরীক্ষা হলে এই ১৩ হাজার পরীক্ষার্থীকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে ঢাকায় আসতে হবে। ঢাকায় আসতে নিশ্চয়ই তারা বিভিন্ন গণপরিবহন ব্যবহার করবেন।

পরীক্ষার্থীদের অনেকের সঙ্গেই আসবেন অভিভাবকরাও। তাদের বড় একটি অংশ যে হোটেল গুলোতে উঠবেন সেখান থেকে ভাইরাসে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি থাকবে। গণপরিবহন থেকেও ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়াবে।

তাছাড়া এসব অভিভাবকরা পরীক্ষার দিন কেন্দ্রের বাইরে অবস্থান করবেন। পরীক্ষার্থী, অভিভাবক, পরীক্ষা কেন্দ্রের নিরাপত্তার জন্য নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, কেন্দ্রের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা কর্মচারীমিলে সংখ্যাটা আরও অনেক বড় হয়ে দাঁড়াবে।

এই সংখ্যক পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্র থেকে একই সঙ্গে বের হতে হবে। তাতেও ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়ানোর একটা ঝুঁকি থেকে যাবে। কারণ, কে করোনায় আক্রান্ত, কে আক্রান্ত নয় এটা কেউ জানে না। আর বার কাউন্সিল অনড় অবস্থানে থাকলে ভাইরাসে আক্রান্ত অনেক পরীক্ষার্থীই অসুস্থতা আড়াল করে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন। তাতে একজন থেকে বহুজনের মাঝে ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকবে।

তাছাড়া অনেকেই আছেন যারা দীর্ঘসময় মাস্ক পরে থাকতে পারেন না। তারা কীভাবে পরীক্ষা দিবেন এ নিয়েও ভাবতে হবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হল, করেনার প্রাদুর্ভাব না কমা পর্যন্ত যখনই পরীক্ষা হোক, কিছু না কিছু পরীক্ষার্থী করোনায় আক্রান্ত থাকবেই। তাদের ক্ষেত্রে কি পদক্ষেপ নেওয়া হবে সেটাও বার কাউন্সিলকে স্পষ্ট করতে হবে।

তাই সবদিক বিবেচনা করে এ বছর লিখিত পরীক্ষার আয়োজন না করে সেটার বিকল্প নিয়ে বার কাউন্সিলকে এখনই চিন্তা ভাবনা করা উচিত। কারণ, করোনা পরিস্থিতির প্রত্যাশিত উন্নতি ঘটতে বছরখানেক বা তার বেশি সময়ও লেগে যেতে পারে। বার কাউন্সিল কি এতদিন প্রিলিমিনারি উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের অপেক্ষায় রাখবে?

সেটা মোটেই সমীচিন কোনো কাজ হবে না। আবার এ পরিস্থিতে পরীক্ষা নেওয়াও ঠিক হবে না। তাহলে বিকল্প কী? করোনা পরিস্থিতিকে বিবেচনায় নিয়ে সরকার এবার মেধা যাচাইয়ের সব ধরনের পরীক্ষা পদ্ধতি বাতিল করে পরবর্তী শ্রেণিতে অটো প্রমোশন দিচ্ছে; এমনকি গতবার এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য ৩ লাখ শিক্ষার্থীকেও অটোপাসের মাধ্যমে উত্তীর্ণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেখানে বেশ কঠিন একটি প্রিলিমিনারি পরীক্ষার মাধ্যমে উত্তীর্ণ শিক্ষানবিস আইনজীবীদের দ্রুতই সনদ প্রদানের ব্যাপারে বার কাউন্সিল পজিটিভ হতেই পারে।

কারণ, মহামারীকালে তালিকাভুক্তি পরীক্ষার ধাপকে আরও কঠিন করার পাশাপাশি সনদ প্রত্যাশীদের বার কাউন্সিল বছরের পর বছর অপেক্ষায় রাখবে এটা যুক্তিসঙ্গত এবং মানবিক সিদ্ধান্ত হতে পারে না।

তাই, এইচএসসিতে যেভাবে বিকল্পভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে তালিকাভুক্তিকরণ পরীক্ষায়ও সেরকম বা তার কাছাকাছি কোনো পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে।

মূল্যায়নের পদ্ধতিটা কেমন হতে পারে সেটা নিয়ে তালিকাভুক্তিকরণ কমিটির সদস্যরা প্রয়োজনে বার কাউন্সিলের নির্বাচিত সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে একটা সিদ্ধান্তে আসতে পারেন।

সেটা এমনও হতে কেবল এ বছরের জন্য প্রিলিমিনারি উত্তীর্ণ শিক্ষানবিস আইনজীবীদের গেজেটের মাধ্যমে সনদ প্রদান করা অথবা ভাইরাসের সংক্রমণ কিছুটা কমে এলে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে মেধা যাচাই করে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা।

তাছাড়া, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল অর্ডার ১৯৭২ এর ৪০(১) এবং ৪০(২) অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রিলিমিনারি উত্তীর্ণ পরিক্ষার্থীদের মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে মেধা যাচাই করে আইনজীবী হিসেবে নিবন্ধিত করতেও তেমন কোনো বাঁধা আছে বলে মনে হয় না।

কারণ, বিভিন্ন গণমাধ্যম মারফতে খবর নিয়ে জেনেছি, মাত্র কিছুদিন আগে বার কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ আইনজীবী তালিকাভুক্তিকরণ পরীক্ষায় বার বার অকৃতকার্য হওয়া একজনকে এভাবে গেজেট প্রকাশ করে উচ্চ আদালতে পেশা পরিচালনার সুযোগ করে দিয়েছিল।

এক্ষেত্রে প্রয়োজন কেবল প্রস্তাবটি রেজ্যুলেশন আকারে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে প্রচলিত আইনে পরিবর্তন এনে গেজেট প্রকাশ করা। বিশেষ বিবেচনায় বিসিএসের মতো পরীক্ষাও পিএসসি একাধিকবার দুই ধাপে সম্পন্ন করেছে নিকট অতীতে। বার কাউন্সিল এ নজিরটিই বিবেচনায় নিতে পারে।

বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন কমিটির চেয়ারম্যান ও নির্বাচিত সদস্যদের আমরা অত্যন্ত বিজ্ঞ বলেই জানি, তারা যে কেবল আইন অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন তা কিন্তু নয়, অনেকেই দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করছেন। গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা বেশিরভাগ আইনজীবীই জাতিরপিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের প্রকৃত ধারক এবং বাহক। তাদের সময়কালে এমন কোনো ঘটনা যেন না ঘটে, যেটা পরবর্তীতে বাজে দৃষ্টান্ত হিসেবে হয়ে থাকে।

সূত্রঃ যুগান্তর

অপপ্রচারের প্রতিবাদে


শাহজাদপুরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আল মামুন রানার সংবাদ সম্মেলন

আবুল কাশেম, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ): শাহজাদপুর পৌর এলাকার ইসলামপুর (রামবাড়ী) মহল্লার বিশিষ্ট পরিবহন ব্যবসায়ী মোঃ আল মামুন রানা একাধিক গণমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার করানোর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় শাহজাদপুর প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ব্যবসায়ী আল মামুন রানা জানান, পৌর এলাকার খঞ্জনদিয়ার মহল্লার একটি সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে তার মামা শেখ মোঃ শাহাজাদা গং এবং খালাতো ভাই এনামুল হক গংদের মধ্যে বিবাদ চলে আসছে। বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষই পূর্বেই আদালতে মামলা দায়ের করেছেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। মামলা চলাবস্থায় আমার খালাতো ভাই এনামুল হক গং আমার শরণাপন্ন হলে আমি উভয় পক্ষকে ডেকে নিয়ে বিষয়টি মিমাংসার চেষ্টা করি। সে চেষ্টা ব্যর্থ হলে এনামুল হক গং আমার শ্বশুর স্থানীয় এমপি আলহাজ্ব হাসিবুর রহমান স্বপনের ঢাকার বাসায় যান। এমপি মহোদয় বিষয়টি অবগত হয়ে আদালতের আদেশ মোতাবেক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য শাহজাদপুর থানাকে নির্দেশ দেন। অপরদিকে, উভয় পক্ষই আমার নিকট আত্মীয় হওয়ায় এবং উভয় পক্ষের দায়ের করা মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে এই বিবেচনায় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আমি নিজেকেও নিরপেক্ষ রাখি। তাছাড়াও দায়ের করা মামলায় আমি কোন পক্ষও নই। কিন্তু এনামুল গং আমাকে মিথ্যা দোষারোপ করলেও আমি উভয় পক্ষকে আদালতের মাধ্যমে বিষয়টি মিমাংসা করে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছি। লিখিত বক্তব্যে আল মামুন রানা আরো জানান, স্থানীয় এমপি‘র জামাতার পরিচয় দিয়ে বা প্রভাব খাটিয়ে আমি কখনও কারো পক্ষে কোন তদবির করি নাই। অথচ এনামুল হক গং ষড়যন্ত্রমূলক ও উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে আমাকে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ উল্লেখ করে একাধিক গণমাধ্যমে নানা বিভ্রান্তিকর, মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রচার করিয়ে আমাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করছে ছাড়াও আমার ব্যবসায়ীক সুনাম নষ্ট করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। আমি অদ্যকার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এনামুল হক গংদের এরূপ হীনচক্রান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ ও প্রচার করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। এ ব্যাপারে এনামুল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্বেও আল মামুন রানা তার মামা শেখ মোঃ শাহাজাদা গংদের পক্ষে কাজ করছে। অন্যদিকে শেখ মোঃ শাহাজাদা জানান, নালিশী জমি আমার পৈতৃক সম্পত্তি। এ নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এ ব্যাপারে আমার ভাগ্নে আল মামুন রানা কোন পক্ষপাতিত্ব করে নাই। সংবাদ সম্মেলনে শাহজাদপুরে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শাহজাদপুর হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক দ্বারকানাথ সেনের ঐতিহাসিক একটি ঘটনা

১৮৯০ সালের জানুয়ারির শেষে অথবা ফেব্রুয়ারির প্রথমদিকের ঘটনা। শাহজাদপুরে সে সময় ঠাকুর পরিবারের পাশাপাশি ঢাকা জেলার মুড়াপাড়ার ব্যানার্জীবাবুদেরও জমিদারি ছিল। শাহজাদপুরে তাঁদেরও বেশ বড় কাছারি ছিল। একদিন ব্যানার্জীবাবুরা তাঁদের কাছারি বাড়ির প্রাঙ্গণে বাইরে থেকে যাত্রাদল এনে যাত্রাভিনয়ের ব্যবস্থা করেছিলেন।

এই যাত্রাভিনয় দেখতে এলাকার বিভিন্ন গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের পাশাপাশি শাহজাদপুর হাই স্কুলের ছাত্ররাও গিয়েছিলেন। যাত্রা চলাকালে শাহজাদপুর হাই স্কুলের অল্প বয়সী ছাত্রদের মধ্যে একটু গোলমাল বেধেছিল। সে সময় ব্যানার্জীবাবুদের কাছারির ম্যানেজার রমাপতিবাবু ওই গোলমাল দেখে একজন ছাত্রের কান ধরে যাত্রা মণ্ডপ থেকে তাকে বের করে দেন।

শাহজাদপুর স্কুলের সে সময় ছাত্রদের নেতা ছিলেন, আজিজ মেছের। তিনি সে সময় উঁচু ক্লাসে পড়তেন। ছাত্রদের অপমান করা হয়েছে বলে আজিজ মেছের সব ছাত্রকে যাত্রা মণ্ডপ থেকে বের করে বাইরে চলে আসেন। বাইরে আসার সময় ছাত্ররা কেউ-ই যাত্রাভিনয়ের কোনো বাধার সৃষ্টি করল না। বাইরে এসে সকলে মিলে স্থির করল- পরে এর শোধ নিতেই হবে।

এই ঘটনার কয়েকদিন পরে রমাপতিবাবু দুপুরের দিকে পালকিতে চড়ে শাহজাদপুর স্কুলের সামনে দিয়ে কোথাও যাচ্ছিলেন। রমাপতিবাবুকে দেখেই স্কুলের ছাত্ররা একত্রিত হয়ে আজিজ মেছেরের নেতৃত্বে পালকির সামনে গিয়ে দাড়িয়ে রমাপতিবাবুকে পালকি থেকে নামিয়ে বেশ করে উত্তম-মধ্যম দেয়।

রমাপতিবাবু মার খেয়ে সোজা থানায় গেলেন। তাঁর ব্যক্তিগত প্রভাবে থানা থেকে সঙ্গে সঙ্গেই স্কুলে পুলিশ এল, আজিজ মেছেরকে ধরতে। কিন্তু স্কুলের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক দ্বারকানাথ সেন পুলিশকে কিছুতেই ঢুকতে দিলেন না স্কুলে। তিনি বললেন- স্কুলের প্রেসিডেন্ট হলেন সিরাজগঞ্জ মহকুমার এসডিও। তাঁর অনুমতি ছাড়া আমি কিছুতেই পুলিশকে স্কুলে ঢুকতে দিতে পারি না। পুলিশ অগত্যা ফিরে গেল।

শাহজাদপুর হাই স্কুল রবীন্দ্রনাথের অর্থে প্রতিষ্ঠিত । জমিদার রবীন্দ্রনাথ তখন কাছারিতেই ছিলেন। প্রধান শিক্ষক ঘটনার দিনই রবীন্দ্রনাথের কাছে গিয়ে বিষয়টি তাঁকে জানালেন।

ঘটনাটি এসডিও সাহেবের কানে গেল। তিনি এলেন শাহজাদপুর হাই স্কুলে। রবীন্দ্রনাথকেও এসডিও সাহেব বিচার সভায় ডেকে আনলেন। বিচারের সময় প্রধান শিক্ষক বিচার প্রাঙ্গণে ছাত্রদের একসঙ্গে দাঁড় করে দিলে বাদী রমাপতিবাবু এবং তাঁর সঙ্গী দুজন পাইক কেউ-ই ছাত্রদের মধ্যে কারা রমাপতিবাবুকে মেরেছিল, সঠিকভাবে তাদের সনাক্ত করতে পারল না। বাদীপক্ষের তিনজনই একমত না হয়ে প্রত্যেকে উল্টোপাল্টাভাবে ভিন্ন ভিন্ন ছাত্রদের দেখাতে লাগল। ফলে আজিজ মেছেরসহ সকল ছাত্রই তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেল।

তথ্যসত্র : গোপালচন্দ্র রায়, রবীন্দ্রনাথের ছিন্নপত্রাবলী, পৃষ্ঠা : ৭৫-৭৬, দে’জ পাবলিশিং, কলকাতা ৭০০০৭৩।

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

গতকাল ১৫ জুলাই ২০২০ খ্রিষ্টাব্দ বুধবার সিরাজগঞ্জ থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক যুগের কথা’ পত্রিকায়, ‘দৈনিক যমুনা প্রবাহ’ পত্রিকায় ও আজ (বৃহস্পতিবার) সিরাজগঞ্জ থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক কলম সৈনিক’ পত্রিকায় ‘শাহজাদপুরে বিধবার সম্পত্তি দখল নিল এমপি’র জামাতা’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটির প্রতিবাদ করেছেন সিরাজগঞ্জ জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ আল মামুন রানা। প্রতিবাদ পত্রে তিনি জানিয়েছেন সংবাদটি সম্পূর্ণ মিথা, ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও চরম মানহানীকর। প্রকাশিত সংবাদে তাকে ও স্থানীয় এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ হাসিবুর রহমান স্বপন মহোদয়কে জড়িয়ে তাদের বক্তব্য ছাড়াই একটি মহল সাংবাদিককে ভূল তথ্য দিয়ে একপেশে সংবাদ প্রকাশ করিয়েছে মর্মে প্রতিবাদ পত্রে উল্লেখ করেছেন।
প্রতিবাদ পত্রে তিনি আরও উল্লেখ করেছেন,‘ উল্লেখিত নালিশী সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে বিজ্ঞ আদালতে উভয় পক্ষের মধ্যেই একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। বিজ্ঞ আদালত মালিকানার বিষয়ে ফয়সালা না দেওয়া পর্যন্ত নালিশী সম্পত্তির প্রকৃত মালিক আসলে কে? সে বিষয়টি কোন পক্ষেরই দাবী করা যুক্তিযুক্ত ও সমীচীন নয় বলে মনে করি। আমি উক্ত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জ্ঞাপন করছি।’

প্রতিবাদকারী,
মোঃ আল মামুন রানা
সভাপতি
সিরাজগঞ্জ জেলা ট্রাক মালিক সমিতি
শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ।

করোনার ভয়াল থাবায় নিম্নবিত্তদের নাভিশ্বাস

আমার বাসা থেকে বাজারের দুরত্ব খুব বেশি নয় তাই সবসময় বাজার শেষে ব্যাগ হাতে হেঁটে হেঁটে বাসায় ফিরি, শারিরিক কার্যকলাপ বৃদ্ধির জন্য আমি সবসময় রিক্সা এড়িয়ে চলি। আজকে বাজার থেকে বাজারের ব্যাগ নিয়ে বাসায় ফিরছিলাম সবসময়ের মত – এই সময় একজন রিক্সাচালক ডাকলেন বাবা কই যাবেন, আসেন নিয়ে যাই, আমি তার উত্তরে বললাম যে, লাগবে না, একটু সামনে এসেই মনে হলো আজকে তার রিক্সায় যাই, বয়স্ক মানুষটা এভাবে আমাকে ডাকল, তারপর ব্যাগ হাতে তার রিক্সার কাছে যেয়ে উঠে পরলাম, তার রিক্সা চালানের ধরন দেখে বুঝলাম সে এই পেশায় একেবারেই নতুন তাই আমি খু্বই কৌতুহল বশতঃ প্রশ্ন করলাম- চাচা: আপনি কতদিন হলো রিক্সা চালাচ্ছেন? উনি উত্তর দিলেন ২মাস, আমি বললাম আপনি কি আগে কোন পেশায় ছিলেন? উনি বললেন যে এটা খুবই করুন এবং দীর্ঘ ইতিহাস, আমি আরও উৎসাহিত হয়ে তাকে তার ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলাম, বললাম সংক্ষিপ্তভাবে যদি আপনার অভিজ্ঞতা আমাদের সাথে শেয়ার করেন তাহলে আমরা কিছু শিখতে পারব এবং সেই শিক্ষা নিজেদের জীবনে কাজে লাগাতে চেষ্টা করব। উনি বললেন আপনি একজন রিক্সাচালকের কাছ থেকে শিখতে চাচ্ছেন? আমি বললাম ব্যর্থতার গল্পগুলো থেকেই আমি সমসময় শেখার চেষ্টা করি। বাসার কাছে চলে আসলাম, রিক্সা থেকে নেমে নির্ধারিত ভাড়ার কয়েকগুন বেশি ভাড়া দিলে সে সেটা নিতে অপারগতা প্রকাশ করে।আমি বললাম অন্য যায়গায় রিক্সা না চালিয়ে আপনি আমার সাথে ১০মিনিট সময় গল্প করেন তাহলে নিশ্চয়্ই এই বাড়তি টাকা নিতে আপনার কোন সমস্যা হবে না। উনি রাজি হলেন-
অতপর বলা শুরু করলেন, আমার নাম ওয়াজেদ আলী, বাড়ী নীলফামারি, একছেলে এবং তিন মেয়ে, ছেলে বিয়ে করেছে, মেয়েদেরও বিয়ে দিয়েছি, ধানের ষ্টক ব্যবসা ছিল তার, খুব সুখের সংসার ছিল তার, মেয়েদের বিয়ে দিতে যেয়ে অনেক টাকার যৌতুক দিতে হয়েছিল তাকে, তারপরও তার সংসারে অভাব ছিল না, সে তার ব্যবসায় বাকীতে ধান বিক্রি করে তাদের কাছ থেকে বকেয়া টাকা পায় না, সে যে সব কৃষকের ধান কিনেছিল তারা তার বাড়িতে এসে প্রতিনিয়ত তাদের পাওনা টাকা দিতে চাপ দেয়, এমতাবস্থায় সে তার সকল কৃষিজমি বিক্রি করতে বাধ্য হয়। জমি বিক্রি করার ফলে তার ছেলে তাদের সাথে ঝগড়া করে আলাদা হয়ে যায়, সে কোন খোজখবর রাখে না এবং টাকা পয়সা দেয় না। এরপর শুরু হয় করোনার তান্ডব, পেটের দায়ে ঢাকা চলে আসে, ঢাকা এসে রিক্সাভাড়া যা পায় তা দিয়ে নিজে চলে এবং তার স্ত্রীর জন্য টাকা পাঠায়, পরিশেষে বলে আল্লাহর রহমতে ভালআছি, সুস্থ আছি।মহান স্রষ্টার উপর ভরসাই তাদের বেচে থাকার শক্তি।

বাসায় ফেরার কিছুক্ষন পর কলিংবেলের শব্দ, দরজা খুলতেই দেখি আমার স্ত্রীর কাজের সহকারী রুমা, তাকে দেখেই বুঝলাম যে সে তার মাসিক বেতন নিতে এসেছে, করোনার সময়ে অনেকের মতই আমরাও তাকে বিনা কাজে বেতন দিয়ে যাচ্ছি।তার বিধস্ত চেহারা দেখেই বাসার ভিতরে প্রবেশের অনুমতি দিলাম , বাসায় এসে আমার উপস্থিতিতে তার বস মানে আমার স্ত্রীর কাছে বলতে শুরু করল যে , আপা এই করোনায় আমাদের অবস্থা একেবারেই খারাপ, আমি ৪টা বাসায় কাজ করে প্রায় ৬-৮ হাজার টাকা আয় করতাম, আমার স্বামী মালবাহী ভ্যান চালিয়ে এবং বিভিন্ন যায়গায় রান্নাবান্নার কাজ করে ৮-১০হাজার টাকা আয় করত। দুজনেই আয় দিয়ে আমাদের একটা ছেলে হাসান এবং একটা মেয়ে লাবনী কে নিয়ে সংসার ভালই চলছিল। করোনার মধ্যে সবাইতো আমাকে বিনাকাজে বেতন দিচ্ছে না এবং কাজও করাচ্ছে না, এদিকে আমার স্বামীর কোন কাজ নেই, বাসাভাড়া দিতে হয় ৬হাজার টাকা এবং খাওয়া দাওয়া সবমিলেয়ে ১২-১৩হাজার টাকা লাগে ঢাকা শহর থাকার জন্য কিন্তু যে টাকা পাচ্ছি তার সাথ জমানো টাকা মিলিয়ে কোনরকম বেঁচে আছি। টাকা পয়সার অভাব অনটনের কারনে আমার স্বামী সারাক্ষন শুধু ঝগড়া করে, মাইর দেয়, এই বলে কান্নাশুরু করে দিল, চোখেঁ মুখেঁ আঘাতের দাগ স্পষ্ট। ফেসবুকে খুব ভাল কনটেন্ট লেখক মিস ফারহানা আশা করোনা শুরু হওয়ার পর তার ফেসবুকে লিখেছিলেন ” করোনা বুয়াকে বানাইয়াছ কারিনা এবং আমারে বানাইয়াছো জরিনা’ সেদিন ভালই লেগেছিল এইভেবে যে, করোনার কারনে বুয়ারা অন্তত কিছুদিনের জন্য হলেও কারিনার মত চলাফেরা করতে পারবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে তারা আগের জরিনার থেকেও খারাপ সময় কাটাচ্ছে। রুমা জানাল যে সে আর ঢাকা থাকবে না, কালকে বাড়ি চলে যাবে। তাকে কিছু সান্তনা দিল তার বস এবং স্বাধ্যমত সহযোগিত করল। পরিশেষে সে বলল যে স্বামী যদি মারধোর না করত তাহলে সে অল্প খেয়ে ঢাকাতেই টিকে থাকার চেষ্টা করত।

ওয়াজেদ আলী, রুমার মত লক্ষ লক্ষ মানুষ আজ হতাশাগ্রস্থ, স্বল্প আয়ে কোনরকম টিকে আছে, এভাবে চলতে থাকলে তারা সামনের দিনগুলোতে টিকে থাকতে পারবে কি না জানিনা তবে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর উপর ভরসাই যেন তাদের বেচে থাকার একমাত্র আশা ভরসা।

লেখকঃ মোঃ তারিকুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক
তাসিনকো নিউজ ২৪ ডটকম

বাংলাদেশ করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেছে!!


আমরাও গর্বের সাথে বলতে পারবো, ” ওরা পারলে, আমরাও পারি” – রকীব আহমেদ

রকীব আহমেদ

বাংলাদেশ করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেছে!!

ড. আসিফ মাহমুদ পরিচিতিঃ তিনি এসএসসিতে আইডিয়াল স্কুল থেকে ৭ম স্থান অধিকার করেন পরবর্তীতে নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে (বিএসসি) মাইক্রোবায়োলজিতে প্রথম শ্রেণীতে তৃতীয় স্থান এবং এমএসসিতে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হন। পরবর্তীতে গিফু ইউনিভার্সিটি, জাপান থেকে পিএইচডি লাভ করে কিছুদিন সহকারী অধ্যক্ষ হিসেবেও কর্মরত ছিলেন।

হ্যাঁ স্বপ্নে পাওয়া কোনো ফর্মুলা থেকে ভ্যাকসিন আবিষ্কার নয়! রীতিমতো বিজ্ঞান সম্মতভাবে ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ করছেন আমাদের দেশের বিজ্ঞানী। আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও অনেক কৃতীমান তৈরি হন, যারা মেধামননে উন্নত দেশগুলোর বিজ্ঞানীদের চেয়ে কোন অংশে কম নয়। ওনার /ওনাদের বিজ্ঞানকে সমৃদ্ধ করার সেই কোয়ালিটি এবং ক্যাপাবিলিটি আছে। কিন্তু দুক্ষজনক হলো আমাদের এই সকল কৃতী সন্তানেরা দেশে সু্যোগের অভাবে বাইরে পাড়ি জমান আর উন্নত দেশগুলো তাদের মেধার ফায়দা নেয়, আর আমাদের দেশের জ্ঞান -বিজ্ঞান অবহেলিত থেকে যায়।

যাহোক, ড. আসিফ মাহমুদ যদি চাইতেন ইউরোপ-আমোরিকার কোনো দেশে রাজকীয় হালে থাকতে পারতেন। কিন্তু সৌভাগ্যবশত তিনি অন্যদের মত বিদেশ পাড়ি জমান নি।

“ওরা যদি পারে, আমরাও পারবো।” -এই ব্রত নিয়ে দেশে কাজ করছেন। আসিফ মাহমুদ গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড এ ইনচার্জ হিসেবে কাজ করছেন। তাঁর সাক্ষাৎকারে “We cannot afford to lose people” বলতেই চোখ ছলছল করে উঠাটা হয়তো অনেকেরই নজর এড়িয়ে গিয়েছে, কিন্তু এর মধ্যে দেশের মানুষের জন্য কতোটা ভালোবাসা ছিলো তা সহজেই অনুৃমান করা যায়।

“বাংলাদেশ করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কার করার দাবী করেছে” – শুনতেই আমাদের দেশের অনেকেই হাসতে হাসতে অজ্ঞান হওয়ার উপক্রম হয়েছেন, ফেসবুকে ট্রল করছেন(!), মজা নিচ্ছেন(!), কিন্তু কেন? অথচ দফায় দফায় ট্রায়াল দিয়ে ব্যর্থ হওয়া বিভিন্ন দেশের ভ্যাকসিন আবিষ্কার এর খবর শেয়ার দিতে দিতে সবার টাইমলাইন ভরে ফেলেছেন।

নিজ দেশের প্রতি এতো অবিশ্বাস আমাদের? আমাদের দেশের হাজার হাজার মেধাবী তরুণরা বর্হিবিশ্বের বিভিন্ন টপ ক্লাস পজিশন দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন এ খবরটা কি হয়তো আমাদের অনেকেরই অজানা? আজ যদি ড.আসিফ মাহমুদ অন্য কোনো দেশে বসে ভ্যাকসিন আবিষ্কার এর দাবী জানাতেন তাহলে কিন্তু আমরা মাথায় তুলে নাচতাম, কিন্তু এখন কি করছি?
যাইহোক সুখবর হলো

ইতিমধ্যেই খরগোশ এর দেহে এই ভ্যাকসিন প্রয়োগে এন্টিবডি উৎপাদনের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। অন্যান্য কাজ এগিয়ে চলছে, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই আমরা সুখবর শুনতে পাব।আসুন প্রার্থনা করি যেন ক্লিনিক্যাল টেস্টে আমাদের আবিষ্কৃত ভ্যাকসিন সফলতা লাভ করে। সত্যি বলতে এরকম কিছু হলে পুরো বিশ্বে বাংলাদেশ হইচই ফেলে দিতে পারবে।

আমরাও গর্বের সাথে বলতে পারবো, ” ওরা পারলে, আমরাও পারি”

লেখকঃ রকীব আহমেদ
চেয়ারম্যান- বায়োভিস্তা বাংলাদেশ লিমিটেড

মতামত


“কমছে এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়সংখ্যা ও সময়:” শিক্ষামন্ত্রী

শাহজাদপুর সংবাদ ডটকমে “কমছে এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়সংখ্যা ও সময়:” শিক্ষামন্ত্রী  শিরোনামে একটি সংবাদ অনলাইনে প্রদর্শিত হওয়ার পর সাতক্ষীরা শ্যামনগর নওয়াবেঁকী মহাবিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক মুহাঃ হাবিবুর রহমান সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তার মতামত তুলে ধরেছেন। শাহজাদপুর সংবাদ ডটকমে তার মতামতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে তা হুবহু প্রকাশ করা হলো। এ বিষয়ে আপনাদের আরো যদি কারো কোন মতামত থাকে তবে দ্রুত শাহজাদপুর সংবাদ ডটকমের মেইলে পাঠান।

মতামত

জনাব সম্পাদক,
সালাম ও শুভেচ্ছা জানবেন।
জুন 28-20 তারিখে আপনার পত্রিকার রিপোর্ট “কমছে এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়সংখ্যা ও সময়:” শিক্ষামন্ত্রী

বিষয়ে মতামত প্রদান করছি, সম্ভব হলে মতামতটি আপনার পত্রিকায় প্রকাশ করার বিনিত অনুরোধ করছি।
এবারের এইচএসসি পরীক্ষাটি করোনার কারনে অনুষ্ঠিত করা না যায় বা সীমিত আকারে গ্রহন করার প্রশ্ন আসে তাহলে সরকার একটা কাজ করতে পারে, তা হলো পরীক্ষা একবারে না নিয়ে এখনই ঘোষনা দেওয়া যায় যে, পরীক্ষা নেওয়া হবেনা তোমরা যারা পরীক্ষার্থী  আছো তোমাদের বিগত এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট বহাল করে দেওয়া হবে। তোমরা বরং এখনই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য প্রস্তুতি গ্রহন শুরু করো।

বিষয়টি যদি এভাবে ভাবা হয় তাহলে করোনার মধ্যে হতাশাগ্রস্ত লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী চিন্তামুক্ত হয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহন করতে পারবে। এব্যাপারে আপনার মতামত সম্পাদকীয় কলামে আমার প্রস্তাবনার আলোকে লিখলে ভালো হবে বলে আমি মনে করছি। আপনার সুস্থতা কামনা করে শেষ করছি।

মুহাঃ হাবিবুর রহমান
প্রভাষক
ইসলামের ইতিহাস বিভাগ
নওয়াবেঁকী মহাবিদ্যালয়
নওয়াবেঁকী, শ্যামনগর, সাতক্ষীরা।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়-কে বলি, কেন এমন হচ্ছে ??

করোনার ভয়ানক গ্যাঁড়াকলে পড়ে দিশেহারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। বহুদিনের নানা অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত ও দিকভ্রান্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নাকাল হয়ে পড়েছে। বেহাল অবস্থা থেকে উত্তোরণের জন্য প্রয়োজন আশু সুদূরপ্রসারী সিদ্বান্ত গ্রহন ও তার যথাযথ বাস্তবায়ন। এখনই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সতর্ক না হলে ভবিষ্যতে জাতিকে চড়া মূল্য গুনতে হবে। দুঃখজনক হলেও সত্যি এখনো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনেক সিদ্বান্তই যথাযথ হচ্ছে না। এ বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের আশু দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

এটা সর্বজনবিদিত যে, আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা বলতে ল্যাবে রোগ নির্ণয় ( টেস্ট ) ও রোগের চিকিৎসাকে বুঝায়। সঠিক রোগ নির্ণয় ( টেস্ট ) ব্যতিরেকে সঠিক ভাবে রোগের চিকিৎসা সম্ভব নয়। সঠিক চিকিৎসার পূর্ব শর্তই হলো সঠিক রোগ নির্ণয় ( টেস্ট ), তাই সহজেই অনুমান করা যায় রোগ নির্ণয় ( টেস্ট ) কতটা জরুরি।

এখন প্রশ্ন হলো রোগ নির্ণয় ( টেস্ট ) ও তার চিকিৎসার সাথে জড়িত থাকবেন কে বা কারা। দুনিয়াজুড়ে যে রীতি তা হলো :
১) রোগের চিকিৎসা ও তার ব্যবস্থাপনায় থাকেন চিৎিসক ও নার্স।
২) ল্যাবে রোগ নির্ণয় ( টেস্ট ) এর ক্ষেত্রে তত্ত্ব ও এর ব্যবহারিক বিশেষজ্ঞ থাকেন বায়োকেমিস্ট ও মলিকুলার বায়োলজিস্ট ও অণুজীব বিজ্ঞানের সাথে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ এবং বিরিচালনায় ও নির্দেশনায় থাকেন মেডিক্যাল টেকনেশিয়ান বা মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট- যারা টেস্ট স্যাম্পল ও মেশিন ব্যবস্থাপনা করে থাকেন।

উল্লেখ্য, রোগের চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনায় যেমন চিৎিসক ও নার্সের বিকল্প নাই, তদ্রুপ ল্যাবে রোগ নির্ণয় ( টেস্ট ) এর ক্ষেত্রে তত্ত্ব ও এর ব্যবহারিক বিশেষজ্ঞ বায়োকেমিস্ট ও মলিকুলার বায়োলজিস্ট ও অণুজীব বিজ্ঞানের সাথে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের বিকল্প নাই। কিন্তু আমাদের দেশে ল্যাবে রোগ নির্ণয় ( টেস্ট ) এর ক্ষেত্রে অনেকটা অযাচিতভাবে কিছু প্যাথোলজি ও ভাইরোলজি চিকিৎসক তাঁদের ক্ষেত্র রোগের চিকিৎসায় না থেকে রোগ নির্ণয়ে তাঁদের পারঙ্গমতা জাহির করতে চান।

টেস্ট ল্যাবে (রোগ নির্ণয়) তাঁদের অযাচিত সংশ্লিষ্টতার ভয়াবহ ফলাফল আমরা দেখেছি/দেখছি করোনার দুঃসময়ে। করোনার দুঃসময়ের প্রথমদিকে তাঁরা স্যাম্পল কালেকশন থেকে শুরু করে বিভিন্ন ল্যাবে ভুল ভাবে স্যাম্পল সংরক্ষন/ প্রসেস ও ডাটা এনালাইসিস করেছেন। ফলস্বরূপ, অনেকের ক্ষেত্রেই ভুল রেজাল্ট দিয়েছিলেন। আমরা জানি না, তাঁরা তাঁদের ভুল বুঝতে পেরেছেন কিনা?

আশার কথা, শেষ অবধি Graduate Biochemists Association এর তত্ত্বাবধানে বায়োকেমিস্ট ও মলিকুলার বায়োলজিস্টরা বসে না থেকে দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে এবং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে করোনা টেস্ট ল্যাবগুলোতে কাজ শুরু করেছেন। স্বেচ্ছাসেবক মলিকুলার বায়োলজিস্টরা বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে চিকিৎসক ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের ট্রেনিং দিয়ে যাচ্ছে, ফলে টেস্টের মান ও গতিই দুই’ই বেড়েছে। বর্তমানে ভুল রেজাল্টের পরিমাণ অনেক কমে এসেছে।

বলে রাখি, এত কম সময়ে মানে এক দুই সপ্তাহ ট্রেনিং দিয়ে কাউকেই ল্যাব সেট আপ, ল্যাবের বায়োসেফটি, সঠিক নিয়ম মেনে নমুনা সংগ্রহ, নমুনা সংরক্ষণ এবং পরিবহন পদ্ধতি,মলিকুলার টেস্ট ( আরটি-পিসিআর) সম্পর্কে পুরোটা শেখানো যায় না। অগত্যা হয়তো চলে।

 

প্রথমতঃ
অবহেলিত স্বাস্থ্যখাতে গতি আনতে দক্ষ চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ জরুরী। ইতোমধ্যেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগের ব্যবস্থা করেছে, ধন্যবাদ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে।

দ্বিতীয়তঃ
দুঃখজনক এবং প্রহসনের বিষয় হলো :
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় করোনাভাইরাস মোকাবিলায় বিশেষ বিবেচনায় দ্রুত সময়ের মধ্যে ৩ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়ার কথা চূড়ান্ত করেছে ( ৭ জুন,প্রথম আলো), যা ইতিবাচক।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে ল্যাবের জন্য মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট, মেডিক্যাল টেকনেশিয়ান নিয়োগের কথা বলা হলেও যাঁরা রোগ নির্ণয়ে ( টেস্ট ) তত্ত্ব ও এর ব্যবহারিক বিষেশজ্ঞ হিসেবে দুনিয়াজুড়ে কাজ করেন, সেই বায়োকেমিস্ট ও মলিকুলার বায়োলজিস্ট ও অণুজীব বিজ্ঞানের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষেশজ্ঞদের কোনো কথা নাই !

এখানে প্রশ্ন থেকে যায়, বিষেশজ্ঞদের পরিচালনা ও নির্দেশনা ছাড়া কিভাবে মেডিক্যাল টেকনেশিয়ান বা মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টরা টেস্ট স্যাম্পল, মেশিন ও ল্যাব ব্যবস্থাপনা করবেন ? তবে কি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট, মেডিক্যাল টেকনেশিয়ান নিয়োগ দিয়েই গুনগত মানের রোগ নির্ণয় ( টেস্ট ) নিশ্চিত করতে চায় ? এবং তা কি আদৌ সম্ভব ? আমাদের চিকিৎসকরা কি চান না যে, ল্যাবে সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় ( টেস্ট ) হোক ?- যা রোগীকে সঠিক চিকিৎসা দেয়ার পূর্ব শর্ত এবং ভুল চিকিৎসা এড়ানোর একমাত্র উপায়।

আমার জিজ্ঞাসা, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আর কত হটকারী সিদ্ধান্ত নিবে? আর কত অজ্ঞ ও অন্ধ হয়ে দেশের মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলবে?

রকীব আহমেদ
সাবেক সাধারণ সম্পাদকঃ গ্রাজুয়েট বায়োকেমিস্টস এসোসিয়েশন।
চেয়ারম্যানঃ বায়োভিস্তা বাংলাদেশ লিমিটেড, বাধঁন ফাউন্ডেশন এবং লিবার্টি ফাউন্ডেশন।