করোনার ঝুকি উপেক্ষা করে শাহজাদপুরে তাঁতীদের বিক্ষোভ (ভিডিও)

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের দ্বাড়িয়াপুরে অবস্থিত কাপড়ের হাট পুর্বের ন্যায় সপ্তাহে দু দিন কাপড়ের হাট করার দাবিতে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল করেছে এ এলাকার তাঁতীরা।

শনিবার (৪জুন) দুপুরে শত শত তাঁতীদের অংশগ্রহনে এ বিক্ষোভ মিছিল হয়। সামাজিক দুরুত্ব বজায় না রেখে দুপুরে পৌর শহরের দ্বাড়িয়াপুর থেকে শুরু করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিস পরিষদের সামনে যায়। সরকারি ছুটির দিন থাকায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে না পেয়ে পুনরায় বিক্ষোভটি দ্বাড়িয়ারপুর কাপড়ের হাটে এসে শেষ হয়।

তাঁতীদের অভিযোগ ঐতিহ্যবাহী শাহজাদপুর কাপড়ের হাট সপ্তাহে রবি ও বুধবার হাট বসতো। এক শ্রেণীর প্রভাবশালী মহল সপ্তাহে চারদিন করে হাট বসাতে শুরু করেছে। সেই থেকেই শাহজাদপুরে শনি-রবি ও মঙ্গল-বুধ তাঁত কাপড়ের হাট বসতে শুরু করে। হাটের ইজারদারদের খাজনাও দ্বিগুণ বেড়ে যায়। আগে দু দিনে যে পরিমান কাপড় ক্রয় বিক্রয় হতে এখন চার দিনে সমপরিমান ক্রয় বিক্রয় হয় শুধু খরচ ও শ্রম হয় দ্বিগুন। এতে করে লোকসানের মুখে পড়েছে এ এলাকার তাঁতীরা।

বিভিন্ন সময় কর্তৃপক্ষের নিকট সমাধান চেয়েও এর প্রতীকার পাননি। করোনাকালে ইতিমধ্যে অনেকের ব্যবসা বন্ধ হয়েছে তাই ঝুকি থাকা স্বত্তেও সামাজিক দুরত্ব বজায় না রেখে তাঁতীদের আজকের এ বিক্ষোভ। সপ্তাহের দু দিন সরকারি বিধি অনুযায়ী তাঁতীরা হাটের খাজনা দেওয়ার কথা জানান।

এসময় তাঁতীরা খাজনার তালিকা হাটে জনসম্মুখে ঝুলিয়ে দেওয়ার দাবিও জানান। তাতীদের নানাবিধ সমস্যা সমাধানের জন্য এসময় স্থানীয় এমপি আলহাজ হাসিবুর রহমান স্বপনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

বুড়িগঙ্গা নদীতে লঞ্চ দুর্ঘটনার সেই ভয়াবহ মুহূর্তটি (ভিডিও)

রাজধানীর বুড়িগঙ্গা নদীতে লঞ্চডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এরমধ্যে আটজন নারী, তিনজন শিশু এবং ১৯ জন পুরুষ রয়েছেন। নিখোঁজদের সন্ধানে এখনও উদ্ধার কাজ অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।
মুন্সিগঞ্জ কাঠপট্টি থেকে প্রায় ১০০ জন যাত্রী নিয়ে লঞ্চটি ঢাকায় আসছিল। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ফরাশগঞ্জ ঘাট সংলগ্ন কুমিল্লা ডক এরিয়ায় ময়ূরী-২ লঞ্চ পেছনের দিকে ধাক্কা দিলে মর্নিং বার্ড লঞ্চটি ডুবে যায়।

এদিকে লঞ্চডুবির সেই ভয়াবহ মুহূর্তটি নদী তীরে স্থাপন করা একটি সিসি ক্যামেরায় উঠে এসেছে। সেই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে ময়ূরী-২ নামের একটি বড় লঞ্চ মর্নিং বার্ড নামের ওই ছোট লঞ্চটিকে ধাক্কা দিলে মুহূর্তেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে লঞ্চটি নদীতে ডুবে যায়। দেখুন সেই সিসিটিভির ভিডিওটি-

 

বঙ্গবন্ধু প্রতিদিন – ০২ জুন | আজকের এই দিনে বঙ্গবন্ধু।

via IFTTT

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের বাঁধ পরিদর্শন (৩১ মে ২০২০ইং)

via IFTTT

ভিডিও


অচেনা শাহজাদপুর

অচেনা শাহজাদপুর......! Rebel Iqbal

পুরা শাহজাদপুর শহর যেন নিস্তব্ধ, অচেনা মনে হয়, শহরের অলিতে গলিতে, আর সেই আগের মতো কোলাহল নাই, লকডাউন থাকার জন্য, রাস্তাঘাট সব যেন ফাকা। ঘর থেকে বের হলেই এ যেন এক অদৃশ্য আতংক। আল্লাহ আমাদের সবাইকে করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা করো, আমাদের প্রিয় শাহজাদপুর শহর যেন আগের মতো আবার প্রান ফিরে পায়……….. ।

সূত্রঃ Rebel Dv394

টেকনাফে পঙ্গপাল সদৃশ পোকার হানা

‘পঙ্গপাল’ সদৃশ পোকা

কক্সবাজারের টেকনাফ সদর ইউনিয়নের লম্বরী গ্রামের একাটি বাড়ির বাগানে পঙ্গপালের মতো ছোট পোকা গাছপালা খেয়ে ফেলছে। শত শত পোকা দল বেঁধে গাছের পাতা ও শাখায় বসে একের পর এক গাছের পাতা খেয়ে নষ্ট করছে।

এ ঘটনায় বাড়ির মালিক সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। আর পোকার এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে জেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে ছবি তুলে কৃষি গবেষণাগারে পাঠানো হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিন দেখা গেছে, লতা পাতা, আগাছা থেকে শুরু করে শুকনো পাতা, কাঁচা পাতা ও গাছের শাখা-প্রশাখায় সারি সারি পোকা। কোথাও গাছের শাখা আছে পাতা নেই। আবার কোথাও পাতা ঝলসে গেছে। কোথাও পাতায় পোকায় খাওয়ার মত ছিদ্রযুক্ত। একটি গাছের নিচে রয়েছে কিছু ছাই। যা কিনা আগুন জ্বালিয়ে পোকা দমনের চেষ্টা করেও সরানো যায়নি।

টেকনাফ সদর ইউনিয়নের লম্বরী গ্রামের সোহেল সিকদার জানান, গত কয়েকদিন ধরে ভিটের আম গাছের অবস্থা দেখতে গিয়ে তিনি দেখেন শত শত পোকা। আম গাছ, তেরশল গাছসহ অন্য বেশকটি গাছের পাতা নষ্ট হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও শাখা ছাড়া কোনো পাতা নেই।আবার কোথাও কোথাও পাতা ঝলসে গেছে।

তবে দিন দিন পোকার সংখ্যা যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে তেমনি পোকাগুলোর মধ্যে পাখাও দেখা যাচ্ছে। একটা আম গাছের নিচে ঝোপঝাড়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষার চেষ্টা করেও কাজ হয়নি। দিন দিন পোকার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব পোকা দেখতে পঙ্গপালের মতো। তিনি উপায় না দেখে পোকার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন, পোকার ছবি দেখার পর কক্সবাজার জেলা অফিসে পাঠানো হয়েছিল। এটি দেখতে পঙ্গপালের মতো। পঙ্গপালের পাখা থাকে এবং সহজে উড়তে পারে। এটির তেমন পাখা দেখা যায়নি এবং এদিক ওদিক লাফাতে পারে। তবে যেহেতু কাঁচা পাতা খেয়ে ফেলছে তাই এটি ক্ষতিকর পোকা।

এ প্রসঙ্গে টেকনাফ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. হাদিউর রহমান  বলেন, এ পোকার নমুনা সংগ্রহ করে গবেষণাগারের পাঠানো হয়েছে। এখন পযন্ত সেখান থেকে কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। এসব পোকা যাতে অন্য কোথাও ছড়িয়ে না পড়ে সে জন্য গতকালসহ কয়েকবার কিটনাশক স্প্রে করা হয়েছে।

এটি শুধু গল্প নয়। নিরব ঘাতক ব্যাধি সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক করার দায়িত্ববোধ থেকেই এ গল্পের অবতারণা মাত্র


জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে ফিরে আসার গল্প (পর্ব-৩)

♦।।এ্যাপোলো হাসপাতালের পথে যাত্রা।।♦

# ২৮ আগষ্ট মঙ্গলবার সকাল ৭ টা ৩০ মিনিটে ঢাকার উত্তরা ৬ নং সেক্টর থেকে বসুন্ধরা এলাকার এ্যাপোলো হাসপাতালের উদ্দ্যেশে আমাদের যাত্রা শুরু হলো। এর আগে ৪ জন মিলে আমাকে ধরে তিন তলা থেকে নীচে নামিয়ে গাড়ীতে উঠানো হয়েছিল। তখন হাত পায়ে কোন শক্তি না থাকলেও ধরাধরি করে গাড়ীতে বসিয়ে দিলে কিছু সময়ের জন্য বসে থাকার মত অবস্থা ছিল। যথা সময়ে হাসপাতালে পৌঁছে গেলাম। গাড়ী থেকে নামিয়ে হুইল চেয়ারে বসিয়ে আমাকে ৪ তলায় ডাক্তারের সামনে নিয়ে বসিয়ে রাখা হলো। বসে থাকা অবস্থায় আমাকে দেখতে আসলেন সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়া এলাকার মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদ তালুকদার। তিনি পার্শবর্তী গুলশান এলাকায় থাকেন। তাঁকে দেখে অনেকটাই উদ্দীপ্ত হলাম। মনোবলটা ধরে রাখার চেষ্টা শুরু করলাম।

প্রায় আধাঘন্টা পরে আমাকে ডাক্তারের চেম্বারে নেয়া হলো। ডাক্তার সাহেব নানা পরীক্ষা নিরীক্ষা পর প্রাথমিকভাবে GBS (Guillain Barr’e Syndorme) রোগ সনাক্ত করলেন। এর জন্য পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পরামর্শ দিলেন। বড় ছেলে এ্যাপোলো হাসপাতপালে ভর্ত্তী করার জন্য অনুরোধ করলে তিনি বললেন, রোগীর নানা মুখী রোগের কারনে নানা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এবং আইসিইউ ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে। সেক্ষেত্রে আমি লিখে দিলে রোগী ভর্ত্তী করে নেবে কিন্তু সব সাপোর্ট এখান থেকে পাওয়া যাবেনা। পাওয়া গেলেও সেটি হবে অত্যান্ত ব্যায়বহুল লক্ষ লক্ষ টাকা চলে যাবে পরবর্তীতে এর হিসেব মেলাতে পারবেন না। তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ অথবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে জরুরীভাবে ভর্ত্তী করে চিকিৎসা শুরু করার পরামর্শ দিলেন। বললেন, এমনিতেই বেশকটা দিন দেরী হয়ে গেছে। ইলেকট্রনিক মিডিয়ার একজন সাংবাদিক বন্ধুর রেফারেন্স থাকায় ডাক্তার সাহেব কোন ফি নিলেন না। ডাক্তারের পরামর্শ মোতাবেক আমাকে আবার গাড়ীতে তোলা হলো। যাত্রা শুরু হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্বিবদ্যালয়ের উদ্দ্যেশে।

অনেক যানজট পেড়িয়ে সকাল ১১ টা ২৫ মিনিটে। গাড়ী নিয়ে এই গেট সেই গেট করতেই বেশ কিছুটা সময় পার হয়ে গেল। শত শত রোগী এবং তাদের পরিবার পরিজনের পদযাত্রায় মুখোরিত হাসপাতাল। মনে হলো যেন রোগীর হাট বাজার। কারো মুখে হাঁসি নেই। সবারই উদাস নয়ন। কেউ ফিরে যাচ্ছে, কেউ অপেক্ষমান। নানা ধরনের রোগীর কাঁতরানী দেখে মনটা দূর্বল হয়ে গেল। দুই ছেলে ছুটাছুটি করছে। প্রায় দুই ঘন্টা দৌড়াদৌড়ির পর যে খবরটি পাওয়া গেল, সেটি অত্যান্ত হতাশা ব্যঞ্জক। অনেক চেষ্টা করেও আমাকে নামানোর জন্য হাসপাতালের একটি হুইল চেয়ার পাওয়া যায়নি। পাওয়া যায়নি হুইল চেয়ারে রোগী বহনকারী কোন ব্যক্তিকে। এক যায়গায় হুইল চেয়ার থাকলেও তা ছিল তালা মারা। হতাশ হয়ে ছেলেরা বিক্ষুব্ধ হয়ে বললো এখানে সময় ব্যায় করা অনর্থক।

সিন্ধান্ত হলো ধানমন্ডির আনোয়ার খান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্ত্তী করার। এরপর যে গাড়ীতে ছিলাম ঐ গাড়ীতেই আবার ধানমন্ডির উদ্দ্যেশে যাত্রা শুরু হলো। এবার খুব বেশী একটা যানজটে পরতে হয়নি। দ্রুতই হাসপাতালে পৌঁছে গেলাম। হাসপাতালের রোগী বহনকারীরা আমাকে ধরাধরি করে গাড়ী থেকে নামিয়ে হুইল চেয়ারে বসিয়ে ইমারজেন্সীতে নিয়ে গেল। সেখানে প্রাথমিক পরীক্ষা নিরীক্ষা সম্পন্ন হলো। এর পর ভর্ত্তীর প্রস্তুতি পর্ব শেষে আমাকে নেয়া হলো হাসপতালের এ ব্লকের ৪ তলার ৭ নং কেবিনে। গত তিন দিন আমার পায়খানা প্রশ্রাব একদম বন্ধ। স্ত্রী বেড প্যানে প্রশ্রাব করানোর চেষ্টা চাললো কিন্তু কোন লাভ হলোনা। কিছুক্ষণ পরে এলেন, নিউরো সার্জন ফিরোজ আহমেদ কোরেশী। তিনি নানা বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলেন। তাঁর কথা বলার ভাষা দেখে ছেলে জিজ্ঞাসা করলো আপনার বাড়ী বোধহয় রাজশাহীর দিকে। তিনি বললেন হ্যা। আলাপ চারিতায় জানাগেল তিনি পূর্ব পরিচিত। পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে ডাক্তার সাহেব সবাই ডেকে বলে দিলেন, আমার আত্মীয় লিখে দেয়া নির্দেশমত দ্রুত রোগীর সকল টেষ্ট সম্পন্ন করে সন্ধ্যার মধ্যে তাঁকে জানাতে। একের পর এক টেষ্ট শুরু হলো। পরে রাতে রোগ সনাক্ত হলো। ছেলেরা কেমন যেন গোপনীয়তা রক্ষা করে চললো। রাতে আমার পাশে রইলো ছোট ছেলে ও স্ত্রী। অন্যরা বাসায় ফিরে গেল।

চলবে…..

বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার
প্রধান সম্পাদক
শাহজাদপুর সংবাদ ডট কম

তাং- ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ,
০৭ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ।

জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে ফিরে আসার গল্প (পর্ব-১)

জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে ফিরে আসার গল্প (পর্ব-২)

এটি শুধু গল্প নয়। নিরব ঘাতক ব্যাধি সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক করার দায়িত্ববোধ থেকেই এ গল্পের অবতারণা মাত্র


জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে ফিরে আসার গল্প (পর্ব-২)

♦।।শুরু হলো পর নির্ভর জীবন যাত্রা।।♦

# ২৫ আগষ্ট শনিবার। শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি হতে থাকলো। সকালে ধরে নিয়ে কমোটে বসিয়ে দেয়া হলো। এরপর স্ত্রীর সহযোগিতায় প্রাতক্রিয়া সম্পন্ন শেষে ধরে নিয়ে আবার বিছানায় শোয়ানো হলো। এরপর থেকে পানি পানসহ সকালের নাস্তা দুপুরের রাতের খাবার স্ত্রীর হাতে চলতে থাকলো। বাসার সবাই চিন্তিত। আমার নাতনি অর্শা শুধু বিছানার পাশে এসে ঘুর ঘুর করে। সে গল্প করতে চায়, শুনতে চায়। সব সময় হাসিখুশী মুখ। মনের কষ্টটা মনে চেপে রেখেই ওর সাথে হাসতে গল্প করতে চেষ্টা করি। ছেলেরা তৎপর। কি করা যায় এ নিয়ে সবাই চিন্তিত।

অসুস্থ হওয়ার খবর পেয়ে ধানমন্ডি থেকে ছুটে এলো মুক্তিযোদ্ধার এক সন্তান ঢাকা হাইকোর্ট বারের এ্যডভোকেট সাইফুল আলম। ৯০’র দশক থেকে আজকের কাগজ নামক পত্রিকার সাথে আমরা যুক্ত ছিলাম। আজকের কাগজ বন্ধ হয়ে গেলে আমরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পরি। কিন্তু আপদে বিপদে যোগাযোগের সূত্রটা কখনো ছিন্ন হয়নি।

বিকেলের দিকে এলেন পুরান ঢাকা এলাকার মুক্তিযোদ্ধা আজিজউদ্দিন আহমদ। আমরা “একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা” সংগঠনের সহযোদ্ধা সহকর্মী। সবার জন্য সব ক্ষেত্রে আজিজ ভাইয়ের সহমর্মিতা মনে রাখার মত। সবাই চিন্তিত কি করা যায়। ছেলেরা রোগ নির্ণয়ের জন্য বিভিন্ন হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞজনদের সাথে পরামর্শ করতে থাকে। পরিশেষে এ ধরনের রোগ নির্ণয়ের জন্য দুইজন নিউরো সার্জনের কাছে যাবার পরামর্শ পাওয়া যায়।

তাঁদের একজন হলেন এ্যাপোলো হাসপতালের সাথে সংশ্লিষ্ট নিউরো সার্জন ডাক্তার উত্তম কুমার সাহা, অপরজন হলেন আনোয়ার খান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিউরো সার্জন ডাঃ ফিরোজ আহমেদ কোরেশী। তাদের এপয়েন্মেন্ট এর জন্য প্রস্তুতি চলতে থাকে। পাশাপাশি দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতিও চলতে থাকে। এভাবেই নানা দুঃশ্চিন্তার মাঝেই কেটে যায় ২৬ ও ২৭ আগষ্ট রোববার-সোমবার দু’দিন। আমার শারীরিক অবস্থার অারো অবনতি ঘটে। দেশের বাইরে নেবার চিন্তা বাদ হয়ে যায়। ২৭ আগষ্ট রাতে এ্যাপোলো হাসপাতালের নিওরো সার্জন ডাক্তার উত্তম কুমার সাহার সাথে রোগী দেখানোর সময় মেলে ২৮ আগষ্ট সকাল ৮ টা ৩০ মিনিটে।

চলবে…..

বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার
প্রধান সম্পাদক
শাহজাদপুর সংবাদ ডট কম

তাং- ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ,
০৬ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ।

 

জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে ফিরে আসার গল্প (পর্ব-১)

এটি শুধু গল্প নয়। নিরব ঘাতক ব্যাধি সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক করার দায়িত্ববোধ থেকেই এ গল্পের অবতারণা মাত্র


জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে ফিরে আসার গল্প (পর্ব-১)

২৩ আগষ্ট বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পেড়িয়ে ২৪ আগষ্ট শুক্রবার সকালে প্রতিদিনের অভ্যাসমত সূর্যোদয়ের আগেই আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়। প্রাতক্রিয়া সম্পাদনের জন্য উঠতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হই। বোধদয় হলো দেহের সমস্ত অঙ্গ প্রত্যঙ্গ কেমন যেন অচল হয়ে গেছে। অনুভব করছি অসাড় দেহের সাথে মস্তিস্কের সম্পর্কটা যেন অনেকটাই ছিন্ন।

হঠাৎ করেই মস্তিস্কের মাঝে কেমন একটা ঝড় শুরু হয়েছে। ভাবছি এই বোধ হয় আমার জীবনের শেষ যাত্রা শুরু হলো। চোখ বন্ধ করে পরে আছি। দু’চোখ বেয়ে গড়িয়ে পরছে শুধু পানি। কি করবো ভেবে পাচ্ছিনা। আমার ৬৭ বছর বয়সের যাপিত জীবনরাজ্যের হাজারো অতীত কর্মের সকল স্মৃতিকথা মনের পর্দায় একের পর এক ভেসে উঠছে। শৈশব, কৈশর, যৌবন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে হানাদার বাহিনীর সাথে সন্মুখ যুদ্ধে আহত, শহীদ, সহযোদ্ধাসহ, নদীর পানিতে ভেসে থাকা হাজারো বাঙালি নারী পুরুষ ও শিশুর লাশ (যা সে সময়ে ব্রহ্মপুত্র, যমুনাসহ দেশের অন্যান্য নদীতে ভাসতে দেখে ছিলাম) এবং মৃত বাবা-মা আত্মীয় স্বজন বন্ধু-বান্ধবের ছবিগুলো বন্ধ চোখের পর্দায় এক নিমিশে ধারাবাহিকভাবে ফুটে উঠলো।

জীবন্ত মৃত স্বপ্নের ঘোর কেটে যখন সম্বিত ফিরে পেলাম। নিজের ঘাড়টি কাঁত করে বিছানায় স্ত্রীকে একবার দেখবার চেষ্টা করলাম। কিন্তু ঘাড়টিকেও নাড়াতে ব্যর্থ হলাম। অবশেষ জোরে চিৎকার করে সবাইকে ডাকতে শুরু করলাম। দেখতে পাচ্ছি ছেলেমেয়ে স্ত্রী সবাই পাশে দাঁড়িয়ে আছে। সবার প্রশ্ন কি হয়েছে? আমি নিরব, বোবা। চোখের কোন দিয়ে গড়িয়ে পরছে শুধু পানি। বোবা কান্নাটাই যেন ছিল আমার সে সময়ের ভাষা। অবশেষে অতি কষ্টে বললাম তোমরা আমাকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা করো। সবাই বলাবলি করছে ঘুমের মাঝে আমার নাকি মাইনর ষ্ট্রোক হয়ে গেছে। সে কারনে হাত-পা অচল। এমন প্রেক্ষাপটে সেটা ভাবাই স্বাভাবিক। কারন আমার হৃদপিন্ডের একটি নালার ৮০ ভাগ ব্লক হওয়ার কারনে ২০০৮ সালের মার্চ মাসে (১০ বছর আগে) ন্যাশনাল হার্ড ফাউন্ডেশন মিরপুর-২, হৃদপিন্ডে রিং পরানো হয়েছিল। এর পর থেকে প্রতিবছরই চলছিলো নিয়মিত চেকআপ, ঔষধ সেবন। এর পাঁচ বছর পর হই ডায়বেটিক্স আক্রান্ত। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ি হার্ট এবং ডায়বেটিক্স এর ঔষধ সেবন চলমান ছিল।

আমার অবস্থান ঢাকা মিরপুর-১ চিড়িয়াখানা রোড এলাকায়। মেঝো ছেলে আমার সাথে থাকে। সে মিরপুরের ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডশনে নেয়ার জন্য উদ্যোগী হলো। কারন হাসপাতালটি আমাদের বাসার কাছাকাছি। আমি মানষিকভাবে প্রস্তুত। হঠাৎ মনে হলো যাবার আগে গোছলটা সেরে নেই। জীবন্ত অবস্থায় এটাই হয়তোবা শেষ গোছল হতে পারে। এদিকে গাড়ীর প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হলো। আমাকে ধরাধরি করে বাথরুমে ঢুকিয়ে গোছল সম্পন্ন করে গাড়ীতে উঠানো হলো হাসপাতালে নেয়ার জন্য। আমি মত পরিবর্তন করে বললাম ঢাকার উত্তরায় অবস্থানরত আমার বড় ছেলের বাসায় আমাকে নিয়ে যেতে। সেখানে সবাই মিলে বসে চিকিৎসার বিষয়ে সিন্ধান্ত নিতে হবে। সেটাই করা হলো। সকাল ১০ টার দিকে উত্তরায় পৌঁছালাম। তখন পর্যন্ত হাতপায়ের কিছুটা অনুভূতি ছিল।

বিকেলে উত্তরা ৬ নং সেক্টরে অবস্থিত ল্যাব এইডের ডাক্তার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওলোজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক খোরশেদ আহমেদ সাহেবের এর চেম্বারে আমাকে নেয়া হলো। তিনি আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও পরীক্ষা নিরীক্ষা করার জন্য দু’মিনিট সময় ব্যয় করলেন। বললেন, কার্ডিয়াক সমস্যা নয়। (১) ভিটামিন ট্যাবলেট “নিউরো-বি” দুই মাস এবং (২) ঘুমের ঔষধ ট্যাবলেট রিভোট্রিল ০.৫০ মিলিগ্রাম, অর্ধেক ট্যাবলেট ১ মাস খাবার পরামর্শ দিয়ে নিজ প্যাডে ব্যবস্থাপত্র লিখে দিলেন। ফি নিলেন ৮০০ টাকা। গুরুত্বহীন রোগীদেখার বিষয়টি আমাকে অত্যন্ত পীড়া দিল। রাত ১০ টায় একই হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ডাক্তারের কাছে আমাকে নেয়ার জন্য সিরিয়াল দেয়া ছিল। ছেলেরা সেখানে নিয়ে যাওয়ার জন্য উদ্যোগি হলে আমি অনিহা প্রকাশ করলাম। ছেলেরা তখন আমাকে দেশের বাইরে চিকিৎসার জন্য নেয়ার প্রস্তুতি হিসেবে আমার পাসপোর্ট নিয়ে ভিসা লাগানোর প্রক্রিয়া শুরু করে দিল। ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের এপোয়েন্টমেন্ট ও চিকিৎসা ব্যায় জানার জন্য ব্যাঙ্ককের বামরুডগ্রান্ড ও ভারতের টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালে ম্যাসেস পাঠালো বড় ছেলে।

চলবে…..

বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার
প্রধান সম্পাদক
শাহজাদপুর সংবাদ ডট কম

তাং- ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ,
০৫ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

সবার কাছে অনুরোধ করছি ভিডিও টা দেখার জন্য