বায়ান্নর ২১ ফেব্রুয়ারি স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে ১৪৪ ধারা ভঙ্গকারী প্রথম ১০ জনের একজন হলেন ডা. আলী


ভাষা সৈনিক ডা. আলী আজমলের ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শাহজাদপুর সংবাদ ডটকম পরিবারের পক্ষ থেকে বিনম্র শ্রদ্ধা

বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের এক লড়াকু সৈনিক ডা. আলী আজমল বুলবুল। মায়ের ভাষার মর্যাদা রক্ষার দাবীতে ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে যাঁরা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে উদ্দীপ্ত হয়ে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করেন, তাঁদের প্রথম দশজনের একজন ডা. আলী আজমল বুলবুল। ১৯২৮ সালের ২৮ শে সেপ্টেম্বর সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলাধীন পাড়কোলা গ্রামে এক সম্ভান্ত পরিবারে জন্মগ্রহন করেন আলী আজমল। তাঁর পিতা মুহম্মদ সোলায়মান এবং মাতা জোবেদা খাতুন। ২০০২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ দিন অচেতন থাকার পর ৩ অক্টোবর তিনি মারা যান। আজ শনিবার ছিল তাঁর ১৮ তম মৃত্যুবার্ষিকী। মহান এই ভাষা সৈনিকের মৃত্যুবার্ষিকীতে শাহজাদপুর সংবাদ ডটকমের প্রধান সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার, প্রকাশক ও ব্যবস্থাপনা সম্পাদক শরীফ সরকার এবং বার্তা সম্পাদক শামছুর রহমান শিশিরসহ শাহজাদপুর সংবাদ ডটকম পরিবারের পক্ষ থেকে বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।
জানা গেছে, পিতার চাকুরী সুত্রে আজমলের লেখাপড়া শুরু হয় রাজশাহীতেই। রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন এবং ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে তিনি ইন্টারমিডিয়েট পাশ করেন। এই উভয় পরীক্ষাতেই তিনি অভিভক্ত বাংলায় কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সম্মিলিত মেধা তালিকায় যথাক্রমে ১৩তম এবং ১১ তম স্থান লাভের অসাধারণ গৌরব অর্জন করেন। অতঃপর ভর্তি পরীক্ষায় মেধাতালিকায় স্থান লাভ করে কোলকাতা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর মাইগ্রেশন সার্টিফিকেট নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে চলে আসেন তিনি। তিনি যেমন ছিলেন মেধাবী, তেমনি নেতৃত্ব দানের ছিল অসাধারণ যোগ্যতা। ভাষা আন্দোলনের সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্র-সংসদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসাবে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদে তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন।
বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রশ্নে ১৯৪৮ সালে ছাত্র সমাজ ছিল বিক্ষুদ্ধ। সে বছর হরতাল চলাকালে ঢাকা সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিং এবং ২ নং গেটে পিকেটিং করার সময় প্রথম পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন আজমল। সেই থেকে ৫২ এর ২১ শে ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত মোট ১১ বার কারাবরণ করেন এবং ১৭ বার পুলিশের তালিকায় মোষ্ট ওয়ান্টেড তালিকায় আসামি হিসাবে নাম ওঠে তাঁর। এসব কারনে কর্তৃপক্ষ তাঁকে মেডিকেল কলেজ থেকে বহিস্কার করেন। ফলে তাঁর আর এম.বি.বি.এস পাশ করা হয়নি।
১৯৫৪ সালে আলী আজমল নিজ গ্রামে ফিরে আসেন। গ্রামে ফিরে এসে তিনি শাহজাদপুর উপজেলা সদরে মণিরামপুরে পিতার ক্রয়কৃত বাড়িতে সর্বসাধারনের চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত হন। আমৃত্যু পর্যন্ত তিনি এই অত্যন্ত সাধারণ একটি টিনের বাড়ীতে একভাবে নামমাত্র ফি গ্রহন করে চিকিৎসার মাধ্যমে হৎদরিদ্রদের চিকিৎসায় নিরত থাকেন। সর্বসাধারণের কাছে তিনি ‘বুলবুল ডাক্তার’ নামেই পরিচিত ছিলেন। চিকিৎসা ক্ষেত্রে তাঁর যে অসাধারণ সাফল্য এবং সুনাম-সুখ্যাতি ছিল তাতে তিনি রীতিমত অর্থ-বিত্তের মালিক হতে পারতেন। কিন্তু চিকিৎসাকে তিনি মানুষের সেবা হিসাবে গ্রহন করেছিলেন, অর্থ উপার্জনের পন্থা হিসাবে নয়। তিনি খুব সহজ সরল জীবন যাপন করতেন।
বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর ১৯৫২ সালে ক্ষতিগ্রস্থ অনেকেই এম.বি.বি.এস ডিগ্রি গ্রহন করেন। কিন্তু ডা. আজমল তাঁর চারপাশের মানুষ এবং রোগীদের ছেড়ে আর কখনোও ডিগ্রি লাভের পেছনে ছোটেন নি।
আজমল সব ধরনের বই এবং পত্রিকার নিষ্ঠাবান পাঠক ছিলেন। তিনি যা কিছু পড়তেন, তার মধ্যে নিমগ্ন হয়ে যেতেন। বাংলা, ইংরেজি, অংক, অর্থনীতি, রাজনীতি এবং সমকালীন বিশ্ব পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান ছিল বিষ্ময়কর। জনাব আজমলের কাছে দেশ ও দেশের মানুষ ছিল নিজের চেয়ে বড়। তাইতো ছাত্র জীবন থেকে শুরু করে আমৃত্যু তিনি দেশের মানুষের অধিকার ও দাবী আদায়ে ছিলেন সোচ্চার। নিজের আরাম-আয়েশ ও স্বার্থ ত্যাগ করে সমাজের মানুষের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করেছেন।
এভাবেই একদিন ডা. আজমল জীবন সায়াহ্নে চলে আসেন। তাঁর জীবনের সমস্ত কাজ কর্মের সাথে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে জড়িয়ে ছিলেন তাঁর স্ত্রী খুরশিদা আজমল পুতুল। সেই স্ত্রীর মৃত্যুতে তিনি অনেকটা চুপচাপ হয়ে যান। ক্রমশ বেশ অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। শ্বাস কষ্টের সাথে অন্যান্য উপসর্গ দেখা দেয়। ২০০২ সালে ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে একটানা ৫ দিন অচেতন থাকার পর ৩ অক্টোবর পরলোক গমন করেন। তাঁর মৃত্যুর পর শাহজাদপুরবাসীর দাবীর প্রেক্ষিতে হযরত মখদুম শাহদৌলা শহীদ ইয়ামেনী (রহ.)’র মসজিদ ও মাজার সংলগ্ন দক্ষিণ পাশের কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।প্রতি বছর ২১ শে ফেব্রুয়ারী যথাযোগ্য মর্যাদায় তাঁর কবরে পুষ্পার্পণসহ তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।
তিন ভাই ছয় বোনের মধ্যে ডা. আলী আজমল ছিলেন সবার বড়। মেঝ ভাই আহম্মদ আলী আজমল এম,কম বিসিআইসি’র অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। ছোট ভাই ব্যাবসায়ী আক্তার আলী আজমল বি,এ পৈত্রিক বাড়ীতেই আছেন। জীবিত তিন বোনের মধ্যে ছোট দুই বোন মাধ্যমিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষিকা। আজমলের একমাত্র ছেলে এডভোকেট কবির আজমল বিপুল বি.এ (অনার্স) এম.এ (ইংরেজি) এবং পুত্রবধূ নাছিমা জামান কলেজের অধ্যাপিকা। বড় মেয়ে ঢাকা শাহীন কলেজের শিক্ষক রওনক আজমল বন্যা বি.এ (অনার্স) এম.এ। তাঁর স্বামী জনাব আবু করিম সাবেক সচিব এবং দেশের একজন প্রতিষ্ঠিত কবি। মেঝ মেয়ে ডা. ফেরদৌসী আজমল মেঘনা এবং তাঁর স্বামী ডা. আব্দুর রহমান স্বাস্থ্য বিভাগের পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ৷

আসন্ন শাহজাদপুর পৌরসভা নির্বাচন


বারবার নির্বাচিত সাবেক মেয়র নজরুল ইসলাম নৌকার হাল ধরতে চান

আসন্ন শাহজাদপুর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে শাহজাদপুর পৌরসভার দুইবার নির্বাচিত স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত সাবেক মেয়র, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ১ নং যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক, মটর শ্রমিক ইউনিয়নের টানা ২ যুগের সাবেক সাধারন সম্পাদক, আ.লীগের দুঃসময়ের ত্যাগী নেতা মোঃ নজরুল ইসলাম নৌকা প্রতীকে দলীয় মনোনয়ন পেতে হাইকমান্ড থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সমর্থন আদায়ে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
জানা গেছে, ১৯৮৯ সালে শাহজাদপুর পৌরসভা গঠিত হবার পর ১ম সাধারন নির্বাচনে বর্তমান এমপি ও উপজেলা আ.লীগ সভাপতি আলহাজ¦ হাসিবুর রহমান স্বপন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৯৯ সালে ২য় সাধারন নির্বাচন ও ২০১১ সালে ৪র্থ সাধারন নির্বাচনে মোঃ নজরুল ইসলাম বিপুল ভোটে ২য় বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯৯৩ সালে শাহজাদপুরে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছারিবাড়ির বকুলতলায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের প্রয়াত সাধারন সম্পাদক আব্দুল জলিলের জনসভায় ১০ সহ¯্রাধিক শ্রমিক নেতা ও সমর্থক নিয়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন আপোষহীন শ্রমিক নেতা মোঃ নজরুল ইসলাম। এরপর শাহজাদপুর উপজেলা আ.লীগের ১নং যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়ে তার নেতৃত্বে দলীয় কার্যালয় নির্মাণ ও অগোছালো উপজেলা আ.লীগকে সংগঠিত ও শক্তিশালী করে তোলেন। এ সময় নজরুল ইসলামের জনপ্রিয়তায় ইর্ষান্বিত হয়ে তাকে প্রধান আসামী করে ১৯ টি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মামলা দেয় বিএনপি ও জাতীয় পার্টি । এসব মামলায় উপজেলা আ.লীগের ৪০/৫০ জন নেতাকর্মীকেও আসামী করা হলে নজরুল ইসলাম ওইসব অসহায় নেতাকর্মীদের নিয়ে ঢাকায় যান। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস নিজস্ব নেতৃত্বে ও অর্থ ব্যয় করে নেতাকর্মীদের মামলা থেকে রক্ষা করে শাহজাদপুর ফিরিয়ে নিয়ে আসেন এবং উপজেলা আ.লীগের ভীতকে অতীতের তুলনায় বহুগুণে শক্তিশালী করে তোলেন। শুধু তাই নয়, ১৯৯৬ সালে বিএনপি ক্যাডারদের হামলায় গুরুতর আহত আ.লীগ নেতা আরিফুল ইসলাম পলাশ, নিজাম উদ্দিন, ইউনুস আলী ও শিমুলসহ বেশ কয়েকজন আ.লীগ নেতাকে হাসপাতালে খাবার দিতে গিয়ে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন নজরুল ইসলামের জৈ¦্যষ্ঠ ছেলে রাসেল। ছেলে হারানোর শোকে সইতে না পেরে এর ৩৭ দিন পরে নজরুল ইসলামের সহধর্মীনি তহুরা বেগম মারা যান। সেইসাথে মারা যায় ৩ মাস বয়সী মাতৃহারা তাদের এক শিশুকন্যা। পরিবারের ৩ সদস্যকে হারালেও নজরুল ইসলাম পরিবারের সদস্যদের মতোই বুকে টেনে নেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের।
জানা গেছে, ১৯৮৯ সালে ১০ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে শাহজাদপুর পৌরসভা গঠিত হবার পর এ পর্যন্ত ৫ টি সাধারন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ডিসেম্বরে প্রথম শ্রেণির শাহজাদপুর পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে। তবে নির্বাচনী দিনক্ষণ এখনও ঠিক না হলেও মুখে মুখে দিন গুণতে শুরু করেছেন পৌরবাসী। সেইসাথে আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে সাম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর পদপ্রার্থীরা নিজেদের প্রার্থীতা ঘোষণা করে নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রচারণা শুরু করেছেন।
এসব বিষয়ে নৌকা প্রতীকে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী, ২ বার নির্বাচিত সাবেক সফল মেয়র, উপজেলা আ.লীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মেয়র হিসেবে দায়িত্বপালনকালে পৌর এলাকার উন্নয়নে ইউজিআইআইপি প্রকল্প আনতে সক্ষম হই যার ১ম ফেজে প্রায় ১৯ কোটি ও ২য় ফেজে প্রায় ৯০ কোটি টাকা টাকা বরাদ্দ পায় পৌরসভা। আসন্ন পৌর নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে দলীয় মনোনয়ন পেলে বিজয় সুনিশ্চিত করে আধুনিক পৌরসভা বিনির্মাণে, পৌরবাসীর কল্যাণে ও সফল রাষ্ট্রনায়ক জননেত্রী শেখ হাসিনা’র হাতকে আরও শক্তিশালী করতে আমৃত্যু কাজ করে যাবে। এজন্য সকলের দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন প্রত্যাশা করছি।’

শাহজাদপুরে ১ সপ্তাহে ২ শতাধিক ঘরবাড়ি যমুনায় বিলীন; হুমকির সম্মুখীন এলাকার অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা


‘এই জায়গায় বাঁধ কইর‌্যা না দিলে এই ভিট্যায়ই জীবন শ্যাষ কইর‌্যা দিমু; আর যামুনা কোথাও!’

গত ১ সপ্তাহে উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ঘাটাবাড়ি, পাকুড়তলাসহ পাশর্^বর্তী গ্রামগুলোর প্রায় ২ শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে। যমুনায় পানির প্রবল ¯্রােতে ভাঙনের তীব্রতা ক্রমশ বাড়ছে। একদিকে, ৮ বার ১০ বার যমুনা ভাঙনের কবলে পড়ে ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পথে বসেছে যমুনা তীরবর্তী অসংখ্য জনমানুষ। অন্যদিকে, ভাঙনের তান্ডবলীলায় চোখের সামনে একের পর এক ঘরবাড়ি, জমিজমাসহ বিভিন্ন স্থাপনা যমুনা গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার পরেও ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়ার যমুনা তীরবর্তী এলাকাবাসী অনশনে নেমেছে। গতকাল সোমবার উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ঘাটাবাড়ি এলাকার মৃত এনায়েত উল্লাহ মুন্সীর ছেলে বৃদ্ধ ইয়াছিন প্রামাণিক (৮০) ও রহম আলী মোল্লা (৭২) গত দু’দিন ধরে বাঁধ নিমাণের দাবীতে যমুনার তীরে অনশন করে যাচ্ছেন। এ দু’বয়োবৃদ্ধর কান্নাজড়িত কন্ঠের ভাষ্য,‘ ৭/৮ বার বাড়ি ভাঙছে। জমিজমা সব ভাঙনে গেছে। এখন এই ভিটাই আছে। সরকার এই জায়গায় বাঁধ কইর‌্যা না দিলে এই ভিট্যায়ই জীবন শ্যাষ কইর‌্যা দিমু; আর যামুনা কোথাও!’
গতকাল সোমবার দুপুরে সরেজমিন পরিদর্শনকালে উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ঘাটাবাড়ি এলাকার মৃত এনায়েত উল্লাহ মুন্সীর ছেলে বৃদ্ধ ইয়াছিন প্রামাণিক (৮০), মৃত রিয়াজ উদ্দিন সরকারের ছেলে শফিউল্লাহ মুন্সী (৮০),নকির উদ্দিন ফকিরের ছেলে তয়জাল ফকির (৬৫), মৃত শমসের আলীর ছেলে শামসুল মোল্লা (৭২), জমুর আলীর ছেলে নুরু ফকির (৭২), রহম আলী মোল্লা (৭২)সহ বেশ কয়েকজন এলাকাবাসী আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, ‘ব্রাক্ষণগ্রাম থেকে হাটপ্রাচীল পর্যন্ত মাত্র সাড়ে ৬ কিলোমিটার এলাকা যমুনার ভাঙন মুক্ত না করায় চোখের সামনে একের পর এক তাদের জমিজমা ঘরবাড়ি সব যমুনা গিলে খাচ্ছে। ৭ বার ৮ বার ৯ বার বা তার চেয়েও বেশী বার যমুনার ভাঙনে তারা ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। শেষ সম্বল তাদের ভিটা টুকু আর যমুনাকে দিতে তারা চায়না। প্রয়োজনে জীবন দিয়ে দেবেন তবুও ভিটা দেবেন না। আর এ জন্য তারা গত ২ দিন ধরে অনশনে নেমেছেন। সেইসাথে অবিলম্বে তারা ভাঙন রোধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, গত এক যুগ ধরে জালালপুর ইউনিয়নসহ পাশর্^বর্তী এলাকায় ভয়াবহ নদী ভাঙন চলছে। যমুনার কড়াল গ্রাসে একের পর এক বিলীন হয়েছে ব্রাক্ষ্মণগ্রাম, আড়কান্দি, ঘাটাবাড়ি, পাকুরতলা, কুঠিপাড়া, ভেকা ও পাচিল গ্রামের প্রায় ১১ হাজার ঘরবাড়ি। যমুনা তীরবর্তী হাট বয়ড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বসন্তপুর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ কমপক্ষে ৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ১৪ টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, কবরস্থান, ঈদগাহ মাঠ, তাঁত কারখানাসহ বিস্তৃর্ণ ফসলি জমিজমা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাজী সুলতান মাহমুদ জানিয়েছেন, ‘গত ১ সপ্তাহে ব্রাক্ষ্মণগ্রাম, আড়কান্দি, ঘাটাবাড়ি, পাকুরতলা, কুঠিপাড়া, ভেকা ও পাচিল গ্রামের ২ শতাধিক ঘরবাড়ি ও বিস্তৃর্ণ ফসলি জমি যমুনা গর্ভে বিলীন হয়েছে। ভয়াবহ ভাঙনের কারণে নদীর অদূরে এনায়েতপুর-সিরাজগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক, খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ এন্ড হসপিটাল ও বিশ্ববিদ্যালয়, নার্সিং ইন্সটিটিউট ও দেশের সর্ববৃহৎ এনায়েতপুর কাপড়ের হাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা হুমকির সন্মুখীন হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে দ্রুত ভাঙন রোধে উদ্যোগ নেয়ার জোর দাবি উঠেছে।’
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘অনশনকারীদের সঙ্গে আমরা সমব্যথী। তবে সাড়ে ৬ কিলোমিটার এলাকা স্থায়ী রক্ষায় সাড়ে ৬’শ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন পেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।’

গ্রাম্য সালিশের ৮ লাখ টাকা এখনও ফেরত পায়নি ভুক্তভোগী আল আমিন


শাহজাদপুরে তথাকথিত হালিম বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ নিরীহ মানুষ

সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার রূপবাটি ইউনিয়নের দুর্গম এক পল্লীর নাম সন্তোষা। শাহজাদপুর পৌর এলাকা থেকে গ্রামটির অবস্থানগত দুরত্ব খুব বেশি না হলেও নাজুক যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে আজও আধুনিক সভ্যতার ছোঁয়া লাগেনি এ গ্রামটিতে। এ সুযোগে হত্যার চেষ্টা, হামলা, ভাংচুর, লুটপাট, বড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, অপহরণসহ একাধিক মামলার আসামি তথাকথিত হালিম বাহিনী’র প্রধান সন্তোষা গ্রামের হযরত আলী মন্ডলের ছেলে রাকিবুল ইসলাম ওরফে হালিম দিনে দিনে সন্তোষা গ্রামকে অপরাধের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করে চলেছে। হালিম বাহিনীর অত্যাচার, নির্যাতন, নিপীড়নে এ গ্রামের অনেকেই অতিষ্ঠ হয়ে পড়লেও প্রাণভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। তারা হালিম বাহিনীর হাত থেকে মুক্তি চায়।
সরেজমিন পরিদর্শনে উপজেলার সন্তোষা গ্রামের ভীত সন্ত্রস্ত্র নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অসংখ্য অসহায় মানুষের অভিযোগ, ‘রূপবাটি ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক তথাকথিত হালিম বাহিনীর রাকিবুল ইসলাম হালিম গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সন্তোষা গ্রামে ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্ট ছিলেন। নির্বাচনের পরে আসন্ন রূপবাটি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ও পরে ইউনিয়ন যুবলীগের স্বঘোষিত সভাপতি প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালালে এলাকায় চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তথাকথিত হালিম বাহিনীর প্রধান হালিম ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা এতে থেকে না থেকে ভিলেজ পলিটিক্সের নামে সন্তোষাসহ পাশর্^বর্তী গ্রামের খেটে খাওয়া অসহায়দের ফাঁসিয়ে জোর করে লাখ লাখ টাকা আদায় করছে। দুর্গম এ পল্লীতে হালিমের নেতৃত্বে সন্তোষা খেয়াঘাট সংলগ্ন স্থানে ও নৌকায় প্রকাশ্যে চলছে মিনি ক্যাসিনো ও জুয়া, উচ্চ সুদের রমরমা ব্যবসা, মাদকের প্রসার, নারী নির্যাতন, বৈদ্যুতিক মিটার ও খেয়াঘাটের ইজারা এনে দেয়ার কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আদায়সহ নানা অপরাধ কর্মকান্ড দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। হালিমের প্রতারণা থেকেও বাদ পড়েনি এলাকার বয়ষ্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতাসহ বিভিন্ন ভাতার কার্ড প্রত্যাশী অসহায় দুস্থ মানুষ। গ্রামের নিরীহ মানুষকে জিম্মি করে মোটা অর্থ আদায়সহ পাশর্^বর্তী গ্রামের সাথে বিবাদ দাঙ্গা-হাঙ্গামা বাঁধিয়ে দিয়ে পুরো সন্তোষা গ্রামবাসীকে তীব্র ঝূঁকির মধ্যে ঠেলে দিয়েছে তথাকথিত এ বাহিনী প্রধান হালিম। এদের অন্যায়, অত্যাচার, জুলুম, নির্যাতন, প্রতারণা ও অপকর্মের বিরুদ্ধে কেউ টু-শব্দ করতে সাহস পায়না। করলেই তার ওপর নেমে আসে এদের নানা জুলুম, অত্যাচার আর নির্যাতন। সম্প্রতি একই ইউনিয়নের চর আন্দারমানিক গ্রামের আল আমিন নামের এক সরকারি চাকরিজীবীকে গ্রাম্য শালিসের মাধ্যমে ফাঁসিয়ে জোর করে ৮ লাখ টাকা আদায় করলে প্রথমবারের মতো হালিম ও তার সহযোগীদের কু-কর্মের বিরুদ্ধে আইজিপি অফিসে লিখিত অভিযোগে মুখ খোলেন আল আমিন নামের ওই চাকরিজীবী। এ খবর জানতে পেরে হালিম বাহিনী বাদী আল আমিনের বড় ভাই মোহাম্মদ আলীকে রাতের আঁধারে বেড়ী বাঁধে ডেকে নিয়ে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে অভিযোগ তুলে নিতে বলেন। অন্যথায় আব্দুর রাজ্জাক ও পেশকার মোল্লার মতো তাকেও এলাকাছাড়া করার ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
আইজিপি অফিসে দাখিলকৃত অভিযোগ সূত্রে প্রকাশ, কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার পদে কর্মরত বাদী মোঃ আল আমিনের ওপর মিথ্যা দোষ চাপিয়ে বে-আইনী ভাবে ৩ দফায় ৮ লাখ টাকা আদায় করে তথাকথিত হালিম বাহিনীর প্রধান রাকিবুল ইসলাম ওরফে হালিম ও তার দলবল। তথাকথিত হালিম বাহিনী কর্তৃক বে-আইনীভাবে আদায় করা ওই ৮ লাখ টাকা ফেরত, ন্যায় বিচার ও পরিবারের সদস্যদের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ভুক্তভোগী আল আমিন অভিযোগটি করলে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শাহজাদপুর সার্কেল) ফাহমিদা হক শেলী’র তত্বাবধানে এসব অভিযোগের বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এখনও ওই ৮ লাখ টাকা ফেরত পায়নি ভুক্তভোগী আল আমিন।
এ বিষয়ে রাকিবুল ইসলাম ওরফে হালিমের মুঠোফোনে জানান, ‘তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগসমূহ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও মিথ্যা। তিনি কাউকে ভয়ভীতি দেখানটি বা কারও ওপর অত্যাচার নির্যাতন করেন নি।’
অপরদিকে, এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শাহজাদপুর সার্কেল) ফাহমিদা হক শেলী বলেন,‘এ বিষয়ে পুলিশী তদন্ত চলছে।

ড. মযহারুল ইসলামের ৯২তম জন্মদিন আজ

জহুরুল ইসলাম : দেশবরেণ্য লেখক, শিক্ষাবিদ, গবেষক, আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ফোকলোরবিদ, সংস্কৃতিকর্মী, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও আরও বহুগুণে গুণান্নিত প্রফেসর ড. মযহারুল ইসলামের ৯২ তম জন্মদিন পালন হলো শ্রদ্ধা ও ভালবাসায়। দেশবরেণ্য এই মহান ব্যক্তির জন্মদিন উপলক্ষে গতকাল সন্ধ্যায় শাহজাদপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের উদ্যোগে স্মরণ সভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মাহবুবে ওয়াহিদ শেখ কাজলের উদ্যোগে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পৌর সদরের মণিরামপুর বাজারে নিরালা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দ্বিতীয় তলায় আয়োজিত এ স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন শাহজাদপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক আহ্বায়ক ফারুক সরকার, যুবলীগ নেতা আব্দুল আওয়াল, সাবেক ছাত্রনেতা নেসারুল হক, আহাদ খান রাসেল, মোঃ আব্দুল্লাহ আল নোমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দ।

উল্লেখ্য দেশবরেণ্য এই মহান লেখক ১৯২৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার চরনবীপুর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।

উপজেলার তালগাছী আবু ইসহাক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৪৫ সালে এসএসসি পাশ করেন। সিরাজগঞ্জ কলেজ থেকে ১৯৪৭ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে এইচ এস সি পাশ করেন। এরপর রাজশাহী সরকারি কলেজে বাংলা বিষয়ে অনার্স নিয়ে বিএ ক্লাশে ভর্তি হন। ১৯৪৯ সালে অনার্স পরীক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৫০ সালে অনুষ্ঠিত বাংলা এম এ প্রিভিয়াস পরীক্ষায় এবং ১৯৫১ সালে অনুষ্ঠিত এম এ ফাইনাল পরীক্ষায় তিনি প্রথম বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেন। একই সঙ্গে তিনি গোল্ড মেডেলিষ্ট এবং কালীনারায়ণ স্কলারের গৌরব অর্জন করেন।

১৯৫২ সালের প্রথম দিকে তিনি ঢাকা কলেজে বাংলা বিভাগে লেকচারার পদে যোগদান করেন। ১৯৫৩ সালে মেধার ভিত্তিতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে সিনিয়র লেকচারার হিসেবে যোগদানের সুযোগ লাভ করেন। ১৯৫৬ সালের গোড়ার দিকে মযহারুল ইসলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে সিনিয়র লেকচারার পদে যোগদান করেন। ১৯৫৮ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর তত্ত্বাবধানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬৩ সালে মযহারুল ইসলাম তাঁর দ্বিতীয় পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন আমেকিার ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ডিগ্রি অর্জনের পর এক বছর তিনি আমেরিকার শিকাগো ইউনিভার্সিটিতে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে অধ্যাপনা করেন।

১৯৬৪ সালে দেশে ফিরে এসে বাংলা বিভাগের প্রফেসর এবং বিভাগীয় সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৬৫ সালে প্রফেসর ইসলাম কলা অনুষদের ডীন নির্বাচিত হন। ১৯৬৬ সালে তিনি আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং প্রফেসর পদে আমন্ত্রিত হন। হার্ভার্ডের মেয়াদ শেষ হবার পর তিনি ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটি এ্যাট বার্কলীতে কিছুদিন ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৬ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত প্রফেসর মযহারুল ইসলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালযের বাংলা বিভাগের অধ্যাপনা এবং সভাপতির দায়িত্ব পালনের পাশপাশি দেশে বিদেশে অসংখ্য সেমিনা সিম্পোজিয়ামে অংশ গ্রহণ করেন।

ডঃ মযহারুল ইসলাম তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে স্বাধীন বাংলাদেশে বাংলা একাডেমীর প্রথম মহাপরিচালক এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেন। এছারাও পৃথিবীর বিভিন্ন বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রাজনৈতিক সচেতন প্রফেসর মযহারুল ইসলাম মহান ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণ করেন।

দেশবরেণ্য এই মহান কবি, শিক্ষাবিদ, পন্ডিত, গবেষক আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ফোকলোরবিদ, সংস্কৃতিকর্মী, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক প্রফেসর মযহারুল ইসলাম ২০০৩ সালের ১৫ নভেম্বর সকালে ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন।

বেপরোয়া ইন্টার্ন চিকিৎসকরা

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসদের হাতে গত ১০ বছরে রোগী ও তার স্বজনদের লাঞ্ছিত হওয়ার শতাধিক ঘটনা ঘটেছে। গত বুধবার স্ত্রীর মরদেহ ওয়ার্ডে রেখে মারধর করা হয়েছে এক মুক্তিযোদ্ধাকে। এরপর তার ছেলেকে তুলে দেওয়া হয় পুলিশের হাতে। এটিকে চরম অমানবিক বলছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। আর এ নিয়ে আন্দোলনে নেমেছেন মুক্তিযোদ্ধারা। মুক্তিযোদ্ধা ইসাহাক আলী গত বুধবার স্ত্রীকে নিয়ে গিয়েছিলেন। তার অভিযোগ, ওয়ার্ডে কোনো সিনিয়র চিকিৎসক ছিলেন না। ইন্টার্নদের ডেকেও পাননি। কয়েক দফায় ইন্টার্নদের ডাকাডাকি করা হয়। কাউকে পাওয়া যায়নি। ওয়ার্ডে বিনা চিকিৎসায় মারা যান তার স্ত্রী। এরপর মরদেহ হাসপাতালের ওয়ার্ডে রেখে তাকে ও তার ছেলেকে মারধর করে ইন্টার্নরা। গত বুধবারের ঘটনায় আবারও আলোচনায় ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। ইন্টার্ন চিকিৎসদের এমন আচরণকে চরম অমানবিক বলছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। সুশাসন বিশ্লেষক সুব্রত পাল জানান, যেভাবে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা বার বার এমন ঘটনা ঘটাচ্ছে, তাতে আগামীতে অবস্থা আরও খারাপের দিকে যাবে। এখনই এর লাগাম টেনে ধরতে হবে। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সভাপতি আহমদ শফি উদ্দিন বলেন, গত ১০ বছর ধরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের রুদ্রমূর্তি দেখছি, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এই ঘটনার অবসান হওয়া দরকার। রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০ বছর ধরে চলছে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দৌরাত্ম্য। কথায় কথায় রোগী ও স্বজনদের মারধর, হুমকি আর চলে কর্মবিরতি। প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না গণমাধ্যমকর্মীদের। রীতিমতো হাসপাতালে ত্রাসের রাজত্ব ইন্টার্নদের।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মুক্তিযোদ্ধাকে আটকে মারধরের ঘটনা তদন্তে কমিটি করেছে কর্তৃপক্ষ। যদিও সেই কমিটি প্রত্যাখ্যান করেছেন মুক্তিযোদ্ধারা। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে বিনা চিকিৎসায় মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীর মৃত্যু এবং মুক্তিযোদ্ধা ও তার সন্তানের ওপর ইন্টার্ন চিকিৎসকদের হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন হয়েছে।

গতকাল সকালে নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে মানববন্ধনের আয়োজন করে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের রাজশাহী জেলা ও মহানগর ইউনিট কমান্ড। মানববন্ধনে মুক্তিযোদ্ধারা বলেছেন, রামেক হাসপাতালে চিকিৎসা অবহেলায় মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীর মৃত্যু এবং মুক্তিযোদ্ধা ও তার সন্তানের ওপর হামলার ঘটনাটি ঘটিয়েছেন ইন্টার্ন নামের কিছু চিকিৎসক। এ হামলার ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। আর বিচার না হলে মুক্তিযোদ্ধারা শরীরে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করবেন। আগুন জ¦লবে পুরো রাজশাহীতে।
মুক্তিযোদ্ধা সংসদের মহানগর শাখার সাবেক কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা ডা. আবদুল মান্নানের সভাপতিত্বে এবং সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম মুক্তিযুদ্ধ ৭১ রাজশাহী মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান উজ্জ্বলের সঞ্চালনায় মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, চিকিৎসা অবহেলায় মৃত্যু এবং মুক্তিযোদ্ধা ও তার সন্তানের ওপর হামলার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। বক্তারা বলেন, রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনা তদন্তে যে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছে এটি নিরপেক্ষ না। তদন্ত কমিটির সদস্যরা সবাই চিকিৎসক।

এ কারণে তারা ইন্টার্ন চিকিৎসকদের রক্ষা করবেন, সেটাই স্বাভাবিক। অচিরেই বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা না হলে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধারা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন। যেসব ইন্টার্ন চিকিৎসকরা হামলার সঙ্গে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। আর এটি না হলে আমরাই তাদের বিচার করব।

মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, ভালো চিকিৎসক হওয়ার আগে ভালো মানুষ হতে হবে। কিন্তু চিকিৎসকরা চিকিৎসাসেবা দেন না। শুধু মুক্তিযোদ্ধারাই নন, দেশের সাধারণ মানুষও চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত। কিছু চিকিৎসককে মনে হয়, এরা মাফিয়া গ্যাংয়ের সদস্য। আর হাসপাতালের পরিচালক মাফিয়া সর্দার। ইন্টার্ন চিকিৎসকরা তার সহযোগী।

তারা বলেন, রামেক হাসপাতালে বর্তমানে দুর্নীতি চরমে পৌঁছেছে। আর এ দুর্নীতি আড়াল করতেই হাসপাতালে সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে দেন না পরিচালক। আমরা অবিলম্বে রামেক হাসপাতালে সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চাই। হাসপাতালের দুর্নীতি সাংবাদিকরা প্রকাশ করেন। জাতি জানতে চায়, চিকিৎসক নামধারী স্বাস্থ্য প্রশাসকরা দেশের অর্থ কীভাবে লুট করছে।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- মুক্তিযুদ্ধকালীন গেরিলা কমান্ডার শফিকুর রহমান রাজা, কবিকুঞ্জের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক রুহুল আমিন প্রামাণিক, মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান, রবিউল ইসলাম, সাইদুল ইসলাম, হাকিম আতাউর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড রাজশাহীর সাধারণ সম্পাদক আলমগীর মোর্শেদ রঞ্জু, মুক্তিযোদ্ধা ইয়াসিন মোল্লা, নাজিম উদ্দিন প্রমুখ।

পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণার জন্য সোমবার বেলা ১১টায় রাজশাহী মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে সংবাদ সম্মেলন করা হবে বলেও মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে ঘোষণা করা হয়। মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, মুক্তিযোদ্ধাকে মারধরের বিচার নিশ্চিত করেই তারা ঘরে ফিরবেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

তথ্য সুত্রঃ বিডি প্রতিদিন

শাহজাদপুরের ২৪ জন অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা পাবেন বাড়ি


‘অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।’ – হাসিবুর রহমান স্বপন এমপি

`জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমস্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা’র সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। অতীতে অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ৯’শ টাকার পরিবর্তে বর্তমান সরকার মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা (মাসিক) ১২ হাজার টাকায় উন্নীত করেছে। সেইসাথে বৈশাখী ভাতা বাবদ ২ হাজার টাকা ও বছরের ২ ঈদে বোনাস বাবদ ২০ হাজার টাকাও মুক্তিযোদ্ধাদের দিচ্ছে জননেত্রী শেখ হাসিনা’র সরকার। এছাড়া অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় ১৬ লাখ টাকা (বাড়ি প্রতি) ব্যায়ে শাহজাদপুরের ২৪ জন অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ি নির্মাণ করবে সরকার।’ রোববার ( 30 আগষ্ট) সকালে সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ শাহজাদপুর উপজেলা কমান্ডের আয়োজনে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে হলরূমে স্থানীয় ৫০ জন অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে শাহজাদপুরের মাটি ও মানুষের নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হাসিবুর রহমান স্বপন এমপি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বিনয় পালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মোঃ শামসুজ্জোহা ও থানার অফিসার ইনচার্জ আতাউর রহমান। এতে বক্তব্য রাখেন, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ডের চেয়ারম্যান উপাধ্যাক্ষ রফিকুল ইসলাম বাবলা, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম শাহু প্রমূখ। উক্ত অনুষ্ঠানে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

করোনা ও বন্যায় অস্তিত্ব সংকটে তাঁতশিল্প; ১ হাজার কোটি টাকা ঋণ প্রদান জরুরী


শাহজাদপুরে তাঁতীদের ৫’শ কোটি টাকার ক্ষতি !

করোনা ভাইরাস ও সাম্প্রতিক বন্যায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে দেশের তাঁতশিল্পের কেন্দ্রবিন্দু শাহজাদপুরের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে তাঁতীরা হারিয়েছে তাদের পুঁজি। আর বন্যায় তাঁত কারখানার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পোকামাকড় কেটেছে কাপড়, তেনাসহ সরঞ্জমাদি। এসব কারণে শাহজাদপুরের তাঁতশিল্পে প্রায় ৫’শ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। গত ৫ মাস ধরে বন্ধ থাকা তাঁত পুঁজি ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে চালু করতে না পারায় ১ লাখেরও বেশী তাঁতী ও শ্রমিকের লোকসান দিনদিন বেড়েই চলেছে।

জানা গেছে, তাঁতসমৃদ্ধ শাহজাদপুরে ১ লাখেরও বেশি পাওয়ারলুম ও ৫০ হাজারের বেশি হ্যান্ডলুম (চিত্তরঞ্জন) রয়েছে। করোনা ও বন্যার কু-প্রভাবে গত ৫ মাসে এলাকার প্রায় ৮০/৯০ হাজার তাঁতই বন্ধ রয়েছে। এতে ১ লাখেরও বেশি তাঁতী ও শ্রমিক বেকায় হয়ে মানবেতরভাবে দিন কাটাচ্ছে। এ মন্দাবস্থার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শাহজাদপুরের অন্য সকল ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীদের ওপর। শাহজাদপুরের তাঁতপল্লীতে তৈরি উন্নতমানের বাহারি ডিজাইনে শাড়ি, লুঙ্গি, ধুতি, থ্র্রি-পিছ এবং গামছা দেশে তাঁতবস্ত্রের চাহিদার সিংহভাগ পূরণ করে আসছে। ভারতসহ বহির্ঃবিশে^র বেশ কয়েকটি দেশেও বছরে হাজার হাজার কোটি টাকার তাঁতবস্ত্র রফতানি হয়ে আসছে। উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ শাহজাদপুর কাপড়ের হাটে তাঁতবস্ত্রের আমদানিকারক, দেশি ক্রেতা, ব্যাপারী ও পাইকারের আগমন শুণ্যপ্রায় হওয়ায় করোনার ক্রান্তিকালের পূর্বে উৎপাদিত তাঁতবস্ত্রের মজুদ অবিক্রিত অবস্থায় রয়েছে। নিরূপায় হয়ে অনেক তাঁতী মজুদকৃত তাঁতবস্ত্র সোহাগপুর, এনায়েতপুর, আতাইকুলা, পোড়াদহ, করটিয়া, বাবুর হাট ও গাউসিয়া হাটে বিক্রির জন্য নিয়ে গিয়েও ক্রেতার অভাবে তা বিক্রি করতে পারছে না। ফলে তারা পুঁজিশূণ্য হয়ে প্রতিনিয়ত হাঁ-হুতাশ করছে। নতুন করে কাঁচামাল ক্রয়, বন্ধ হয়ে যাওয়া তাঁত ও তাঁতকারখানা মেরামত, তাঁতী ও শ্রমিক পরিবারে জীবিকা নির্বাহ, ঋণের কিস্তি ও সুদের ঘানি টানতে গিয়ে দিনে দিনে অথৈ ঋণের মরণ জালে তাঁতীরা আটকা পড়ছে। ফলে দেশের সর্ববৃহৎ কুঁটির শিল্প ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পে অস্তিত্ব সংকটাবস্থা পরিলক্ষিত হচ্ছে।

সরেজমিন পরিদর্শকালে শাহজাদপুর পৌর এলাকার তাঁতপল্লী রূপপুর নতুন পাড়া ও উরির চর মহল্লার মৃত বছির উদ্দিনের ছেলে প্রান্তিক তাঁতী বৃদ্ধ রহমত আলী (৭০) কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বলেন, ‘২টি তাঁত বন্ধ থাকায় ৪ সদস্যের পরিবারের জীবন থমকে দাঁড়িয়েছে। ছেলের উচ্চশিক্ষাও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। ৫ মাসে তার ১ লাখ টাকা লোকসান হওয়ায় পুঁজিশুণ্য ও ঋণগ্রস্থাবস্থায় অবর্ণনীয় কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।’ একইভাবে গত ৫ মাসে এ মহল্লার মৃত আমান মুন্সীর ছেলে শফিকুল ইসলামের ১৬টি তাঁত বন্ধ থাকায় ১০ লাখ টাকা, রূহুল আমিনের ১২টি তাঁত বন্ধ থাকায় ৫ লাখ টাকা, নুরু মিয়ার ছেলে শাহান আলীর ১৪টি তাঁত বন্ধ থাকায় আড়াই লাখ টাকা, আলম কাজীর ১০টি হ্যান্ডলুম ও ৮টি পাওয়ারলুম বন্ধ থাকায় ৬ লাখ টাকা, আব্দুর রহিমের ২টি পাওয়ারলুম বন্ধ থাকায় ১ লাখ টাকা লোকসান গুণতে হয়েছে। হাতে টাকা না থাকায় এসব তাঁতী তাদের বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানা ও তাঁত মেরামত ও কাঁচামাল কিনে তাঁত চালু করতে পারছেন না। এ করুণাবস্থা শুধু এসব তাঁতীদের নয়, শাহজাদপুরের সকল তাঁতীই অর্থ সংকটে পড়েছে। ফলে তাদেরও লোকসানের হার উদ্বেগজনকহারে বাড়ছে।

এসব বিষয়ে গতকাল বুধবার দুপুরে শাহজাদপুর হ্যান্ডলুম ও পাওয়ারলুম এসোসিয়েশনের আহবায়ক তাঁতী নেতা হাজী নজরুল ইসলাম চরম উদ্বেগ আর উৎকন্ঠা প্রকাশ করে জানান, ‘ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প ও তাঁতীদের এমন করুণ দশা জীবদ্দশায় কখনও দেখিনি। এ দুরবস্থা চলতে থাকলে অচিরেই শিল্পটি বিলুপ্ত হয়ে যাবে ও সর্বশান্ত হয়ে যাবে এলাকার লাখ লাখ তাঁতী।’

এদিকে, বাংলাদেশ স্পেশালাইজ টেক্সটাইল এন্ড পাওয়ারলুম ইড্রাষ্ট্রিজ এসোসিয়েশসের উত্তরাঞ্চলের পরিচালক ও সিরাজগঞ্জ জেলা তাঁত মালিক সমিতির সভাপতি কেন্দ্রীয় তাঁতী নেতা বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হায়দার আলী আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, এক সময়ে দেশিয় তাঁতে তৈরি মসলিন জগৎ জুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছিলো। মসলিন তৈরির পথকে চিরতরে রূদ্ধ করতে বৃট্রিশ বোনিয়ারা তাঁতীদের বৃদ্ধাঙ্গুল কেটে দিয়ে নীল চাষে বাধ্য করলেও ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প তখনও টিকে ছিলো। কিন্তু করোনা ভাইরাসের প্রভাব ও এবারের বন্যায় এলাকার তাঁতীদের ক্ষতি সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। গত ৫ মাসে শাহজাদপুরের তাঁতীদের কমপক্ষে ৫’শ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। বিলুপ্তির হাত থেকে তাঁতশিল্পকে রক্ষায় প্রান্তিক তাঁতীদের মাঝে সরকারিভাবে কমপক্ষে ১ হাজার কোটি টাকা সহজ শর্তে ঋণ প্রদান অতীব জরুরী হয়ে পড়েছে।’

শতাধিক দুস্থ্যদের হাতে প্রধানমন্ত্রীর উপহার প্রদান


রেল সচিব বেড়ায় ঢালারচর রেল স্টেশন পরিদর্শনে

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম রেজা শুক্রবার (২১ আগষ্ট) সকাল সাড়ে ৯ টায় বেড়া উপজেলার ঢালারচর রেল স্টেশন পরিদর্শন করেন এবং ওই ইউনিয়নের এক’শ দুঃস্থ অসহায় পরিবারের মাঝে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর কর্তৃক প্রদত্ত প্রধানমস্ত্রী’র উপহার বিতরণ করেন।
এ সময় ঢালারচর রেল স্টেশনে উত্তরবঙ্গের রেল মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন। মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, বেড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসিফ আনাম সিদ্দিকী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সচিব সেলিম রেজা মহামারী করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে সাধারন মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি রেল লাইনের যন্ত্রাংশ নিজেদের সম্পদ মনে করে নিজেদের দায়িত্বে দেখে রাখার কথা বলেন।

পরে তিনি উপজেলার পুরান ভারেঙ্গা ইউপিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর কর্তৃক প্রদত্ত টিআর প্রকল্পের আওতায় দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ প্রকল্পের উপকারভোগীদের কয়েকটি ঘর ও নগরবাড়িতে স্থাপিত মেরিন একাডেমিসহ বেড়া উপজেলায় বাস্তবায়ীত সরকারের কয়েকটি উন্নয়নমুলক প্রকল্প পরিদর্শন করেন।

এ সময় রেল সচিবের সাথে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বেড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসিফ আনাম সিদ্দিকী, সুজানগর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ফরহাদ হোসেন, আমিনপুর থানার ভারপাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মোজাম্মেল হক, বেড়া উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম, উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ শহিদুল্লাহ, ঢালারচর ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম (আমিন) প্রমুখ।

জনমনে প্রশ্ন, লম্পট নাজমুলের খুঁটির জোর কোথায় ?


শাহজাদপুরে মেডিকেল এসিষ্ট্যান্ট নাজমুলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টাসহ নারীর শ্লীলতাহানীর অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার খুকনী ইউনিয়নের খোকশাবাড়ী মন্ডলপাড়ার জনতা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টার-২ এর মেডিকেল এসিষ্ট্যান্ট লম্পট নাজমুলের একের পর ধর্ষন চেষ্টাসহ নারীদের শ্লীলতাহানীর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একের পর এক ঘটে যাওয়া এসব ন্যাক্কারজনক ঘটনায় এলাকায় নিন্দার ঝড় বইছে। সবশেষ ওই ক্লিনিকের যুবতী এক আয়াকে জোরপূর্বক ধর্ষন চেষ্টার ঘটনায় এলাকাবাসী ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে। এ ঘটনাও ধামাচাপা দিতে একটি প্রভাবশালী মহল উঠেপড়ে লেগেছে।

এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জনতা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টার-২ এ গত ২০১৮ তাড়াশ উপজেলার মথুরাপুর গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে নাজমুল ইসলামকে মেডিকেল এ্যাসিষ্টেন্ট পদে দায়িত্ব দেয়া হয়। এরপর থেকেই নাজমুল নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে রোগীদের সাথে চিকিৎসাসেবা প্রদানের নামে প্রতারণা চালিয়ে আসছে ও বিভিন্ন সময়ে নারীদের নানাভাবে যৌন হয়রানী করে আসছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, আড়াই বছর আগে জনতা ক্লিনিকে কর্মরত বাক্ষ্মণগ্রামের এক আয়াকে মেডিকেল এসিষ্ট্যান্ট নাজমুল ধর্ষনের চেষ্টা করে। ভুক্তভোগী আয়া এ ঘটনা পরিবারের সদস্যদের জানালে সালিসী বৈঠকে হাত-পা ধরে সেবারের মতো পার পান লম্পট নাজমুল। একই ভাবে বছর খানেক আগে খোকশাবাড়ি গ্রামের জনৈক প্রবাসীর স্ত্রী চিকিৎসাসেবা নিতে আসলে তার শ্লীলতাহানীর চেষ্টা চালায় লম্পট নাজমুল। বিষয়টি ভুক্তভোগীর অভিভাবকেরা জানতে পেরে বিচার চাইলে গ্রাম্য সালিশে মোটা অর্থের বিনিময়ে আবারও ধামাচাপা পড়ে যায় নাজমুলের এ কুকর্ম। সর্বশেষ গত ১৮ আগষ্ট রাতে জনতা ক্লিনিক-২ এর এক আয়াকে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করে নাজমুল। নির্যাতনের শিকার ওই আয়া এর বিচার চাইলে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে মোটা টাকার বিনিময়ে এবারও ন্যাক্কারজনক ওই ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে অনৈতিকভাবে সমঝোতার মাধ্যমে রক্ষা পায় নাজমুল।

এ বিষয়ে হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক ডাঃ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘ভুক্তভোগী আয়া আমার কাছে অভিযোগ করে প্রায়শই নাজমুল তাকে কু-প্রস্তাব দেয়। এতে সাড়া না দেয়ায় নাজমুল তাকে ধর্ষনের চেষ্টা করে। নাজমুলের নানা কু-কর্ম বরাবরই অজ্ঞাত খুঁটির জোরে ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে । তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।’

এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ওই ক্লিনিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম আহমেদ বলেন, ‘মেডিকেল এসিষ্ট্যান্ট নাজমুল কর্তৃক হাসপাতালে কর্মরত ও চিকিৎসাসেবা নিতে নারীদের ধর্ষণ চেষ্টা ও শ্লীলতহানীর অসংখ্য ঘটনায় হাসপাতালের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। লম্পট নাজমুলের নানা অপকর্মের ঘটনা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার আশ^াস দিয়েছেন সিভিল সার্জন।’

এ বিষয়ে এনায়েতপুর থানার ওসি মোল্লা মাসুদ পারভেজ জানান, ‘অভিযোগ পেলে মেডিকেল এসিষ্ট্যান্ট নাজমুলের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

শনিবার দুপুরে মুঠোফোনে এসব বিষয়ে সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডাঃ জাহিদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

মেডিকেল এসিষ্ট্যান্ট নাজমুল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘সাধারন ঘটনা নিয়ে আয়ার সাথে সৃষ্ট মনমালিন্য মিমাংসা করে নেয়া হয়েছে।’

এদিকে, বহু নারী কেলেংকারির হোতা লম্পট নাজমুল একের পর এক নানা অপকর্ম ঘটিয়ে প্রতিবারই বেচে যাওয়ায় জনমনে প্রশ্ন জেগেছে তার খুঁটির জোর কোথায় ? সেইসাথে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন এলাকাবাসী।