৭দিন ২৪ ঘন্টা প্রসব সেবা দেওয়া হয় লেখাটি সাইনবোর্ডেই সিমাবদ্ধ


নরিনা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি যেন অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার আখড়া

অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, নিরাপত্তা ও চিকিৎসা-এ পাঁচটি মৌলিক চাহিদা সরকারের কাছে সেবা হিসেবে পাওয়া মানুষের রাষ্ট্রীয় অধিকার। এর মধ্যে অন্যতম একটি সেবা হচ্ছে চিকিৎসা সেবা। মানুষের জন্মগত এ অধিকার প্রতিষ্ঠায় এবং সেবা প্রদানের জন্য স্বাধীনতার পক্ষের বর্তমান সরকার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করছেন সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাধ্যমে। কিন্তু, কিছু অর্থলোভী ও অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর কারণে জনসাধারণ সরকারের এ ধরনের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিনামূল্যে সরকারের দেয়া স্বাস্থ্যসেবা নিতে এসে সেবা পাওয়ার পরিবর্তে পদে পদে চরম ভোগান্তিসহ দূর্ব্যাবহার ও কাংখিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার নরিনা ইউনিয়নের একমাত্র ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীরা। ছোট একটি সাইবোর্ডে ৭দিন ২৪ ঘন্টা প্রসব সেবা দেওয়া হয় লেখা থাকলেও তা ঐ সাইনবোর্ডেই সিমাবদ্ধ আছে।

এমন হাজারো অনিয়মের আখড়ায় পরিণত হয়েছে শাহজাদপুর উপজেলার নরিনা ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি। হেন কোন অনিয়ম নেই যা এখানে হয়না। ২৪ ঘন্টা প্রসূতী রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ইউনিয়ের সাধারণ জনগন। হাসপাতাল শুরু থেকেই ৭দিন ২৪ ঘন্টা প্রসূতী রোগীদের সেবা সাইনবোর্ডেই সিমাবদ্ধ আছে। ৭দিন ২৪ ঘন্টা প্রসূতী রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ হাসপাতালটির দোতালা ভবনে আবাসিক কোয়াটারের ব্যবস্থা করলেও আজ পর্যন্ত কেউ থাকনি ঐ কোয়াটারে। কিন্তু প্রতি বছর কোয়াটারটি রং ও মেরামত করার জন্য সরকারের ক্ষতি হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কোয়াটার গুলো স্টোর হিসাবে ব্যবহার হচ্ছে।

কর্মক্ষেত্রে উপস্থিত থাকার জন্য সরকারের কঠোর নির্দেশনা থাকার পরও তোয়াক্কা করছেন না এ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের কর্মকর্তারা। সঠিক সময়ে খোলা হচ্ছে না স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি। উপজেলা ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাব ও অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নেয়ায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি অনিয়মের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। এর ফলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি থাকতেও কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, পাইভেট ক্লিনিক এর মার্কেটিং অফিসারদের নিয়মিত আনাগোনা আছে হাসপাতালটিতে। এতে ক্ষতি গ্রস্থ হচ্ছে ইউনিয়নের সেবা নিতে আসা দরিদ্র রোগীরা। এখানে কাঙ্খিত সেবা না পেয়ে তাদের কথা মত দৌরাচ্ছে পাইভেট ক্লিনিক গুলোতে এতে যেমন আর্থিক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে তেমন কাঙ্খিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা মোছাঃ খাদিজা খাতুন বলেন, এই চড়ার মধ্যে আমি কি ভাবে থাকবো। আমি ভুতের ভয় খাই। আমার একটা ছোট বাচ্চা আছে তাই আমি এখানে থাকি না। আপনি আপনার বাচ্চার চিন্তা করছেন অথচ সরকার আপনাকে যে অসংখ্য মায়ের অনাগত বাচ্চারা স্বাভাবিক সুস্থ্য ভাবে যেন পৃথীবিতে আসতে পারে সে ব্যপারে সহযোগীতা করার জন্যই সরকার আপনাকে মাসিক বেতনসহ নানাবিধ সুবিধা দিয়ে এখানে থাকার ব্যবস্থা করেছেন আর এই জায়গাকে আপনি কেন চড়া বলছেন আশেপাশে তো অনেক বাড়ী ঘর আছে প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোন উত্তর দেননি।

কিন্তু খাদিজা খাতুনের বিষয়ে এলাকাবাসীর মুখে শোনা যায় ভিন্ন কথা সেখানে থেকে সেবা দেওয়া তো দূরের কথা তিনি তাহার মনমর্জি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটিতে আসেন এবং তিনি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি ত্যাগ করেনও তাহার ইচ্ছা অনুযায়ী। এ যেন তাহার ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান।

অপরদিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রেটির সভাপতি ও নরিনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ ফজলুল হক (মন্ত্রী)‘র সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমাকে কোন বিষয়ে কিছু জানানো হয় না, এমনকি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রেটির বরাব্দকৃত ঔষধ খোলার সময় আমাকে অবগত করার নিয়ম থাকলেও তা আমাকে আজ অব্দি কোন দিন জানানো হয়নি।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটির ফার্মাসিস্ট রুহুল আমিন এর কাছে এ ব্যপারে জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, এমন কোন নিয়ম নাই। তাই আমি কাওকে অবগত করি না।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা(ভারপ্রাপ্ত) মোঃ ছাইফুল ইসলাম এর কাছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রেটির এমন অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রেটির বরাব্দকৃত ঔষধ খোলার সময় অবশ্যই জনপ্রতিনিধিকে অবগত করতে হবে এবং ৭দিন ২৪ ঘন্টাই যেন প্রসব সেবা ইউনিয়ন বাসী পায় তার জন্য অতিদ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

সিরাজগঞ্জের চড়িয়া গণহত্যা দিবস আজ

সিরাজগঞ্জের চড়িয়া গণহত্যা দিবস আজ

আজ ২৫ শে এপ্রিল, সিরাজগঞ্জের চড়িয়া গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে জেলার উল্লাপড়া উপজেলার চড়িয়াশিকা গ্রামে পাকিস্থানি বাহিনী ২৫৪জন গ্রামবাসীকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও সেদিনের গণ হত্যায় নিহত কারোরই মেলেনি শহীদের স্বীকৃতি। সংরক্ষণ করা হয়নি গণকবরগুলোও।

সিরাজগঞ্জ জেলার চড়িয়াশিকা গ্রামের ৬৫ বছরের কাঙ্গাল মন্ডল। একাত্তরের ২৫শে এপ্রিল পাকিস্থানী বাহিনীর গণহত্যার শিকার হওয়ার হাত থেকে বেঁচে যাওয়া একজন। তবে সেদিনের কথা মনে হলে এখনো শিউরে উঠেন তিনি। পাকিস্থানী বাহিনীর নারকীয় হত্যাযজ্ঞের সময় শরীরে ৪টি গুলি খেলেও লাশের ভীড়ে পড়ে থেকে ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান।

চড়িয়াশিকা গ্রামের অধিকাংশ পরিবারের কেউ না কেউ সেদিন পাক হানাদার বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছেন। কিন্তু স্বাধীনতার এতো বছর পরও তারা পাননি শহীদের মর্যাদা সংরক্ষণ করা হয়নি তাদের কবরগুলো। তবে প্রতি বছর এই দিনে শহীদদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরন করেন স্বজন ও গ্রামবাসীরা ।

সেদিনের গণহত্যায় শহীদদের নাম লিখে গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করেছে স্থানীয় একটি সংগঠন ।গণহত্যার স্থানগুলো চিহ্নিত করে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণসহ সকল শহীদদের সরকারি স্বীকৃতি আদায়ে কাজ করছে স্থানীয় গণহত্যা অনুসন্ধান কমিটির সদস্যরা। গণহত্যার স্থানটি সরকারিভাবে সংরক্ষণের দাবি জানালেন শহীদ পরিবারের সদস্য ও স্থানয়ীরা।

জনদুর্ভোগ চরমে


এনায়েতপুরে ১০ বছরেও সংস্কার হয়নি সড়কের

আসাদুর রহমান, এনায়েতপুর প্রতিনিধি : এনায়েতপুর থানার আওতাধীন খুকনি ইউনিয়নের এনায়েতপুর-শাহজাদপুর সংযোগ সড়কের খুকনি থেকে কালিপুর যাওয়ার একমাত্র রাস্তাটি সংস্কার না হওয়ায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে । প্রায় ২ কিলোমিটার দীর্ঘ এ রাস্তাটি গত ১০ বছরের মধ্যে কোন প্রকার সংস্কারের কাজ হয়নি। ফলে এলাকার মানুষের চলাচলে জনভোগান্তি চরম রুপ ধারণ করেছে। এ রাস্তা দিয়ে কালিপুর, গয়নাকাদি, ধুকুরিয়াবেড়া, নুকালি, সাতবাড়িয়া গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ নিয়মিত চলাচল করে। বিকল্প রাস্তা না থাকায় প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়েই এ বেহাল রাস্তা দিয়ে এলাকাবাসীকে ও বিভিন্ন যানবাহনকে চলাচল করতে হচ্ছে।
সরজমিন পরিদর্শনে জানা গেছে, এ রাস্তার বিভিন্ন স্থানে পিচ পাথর উঠে গেছে ও কিছু কিছু স্থানে সৃষ্ট খানা-খন্দ মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে।

এ রাস্তায় চলাচলকারী যানবাহন চালকদের ভাষ্য, প্রায়ই এই রাস্তায় দূর্ঘটনা ঘটছে এবং এ রাস্তায় গাড়ি চালাতে গিয়ে প্রতিনিয়ন নানা দুর্ভোগ দুর্গতি পোহাতে হচ্ছে। যানবাহনেরও ক্ষতি সাধিত হচ্ছে।
স্থানীয় কলেজ শিক্ষক জাহাঙ্গীর হােসেন জানান, এই রাস্তাটি তৈরি হবার পর থেকে আজ অবধি কোনো প্রকার সংস্কার কাজ করা হয়নি। ফলে রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে ।
এ বিষয়ে খুকনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুল্লুক চাঁন বলেন,’স্থানীয় এমপি বীরমুক্তিযোদ্ধা
আলহাজ্ব হাসিবুর রহমান স্বপন মহোদয়কে জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কের এ বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। অচিরেই সড়কটি সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।’

আলহাজ্ব হাসিবুর রহমান স্বপন এমপি'র নির্দেশনায় ভবিষ্যতেও জনকল্যাণে এভাবেই কাজ করবে যুবলীগ


শাহজাদপুরে যুবলীগের উদ্যোগে ১০ হাজার মাস্ক বিতরণ

নতুন করে করোনার সংক্রমন বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমাতে যুবলীগের উদ্যোগে শাহজাদপুরে ১০ হাজার মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (৩১ মার্চ) বিকেলে শাহজাদপুর পৌর এলাকার প্রাণকেন্দ্র দ্বারিয়াপুর বাজারে সর্বসাধারনের মাঝে ১০ হাজার মাস্ক বিতরণ করেন উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক আশিকুল হক দিনার ও যুগ্ম-আহবায়ক কামরুল হাসান হিরোক। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে পৌর যুবলীগের যুগ্ম-আহবায়ক মোঃ সোহেল রানা, যুগ্ম-আহবায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ স্থানীয় যুবলীগ নেতৃবৃন্দ।

এ বিষয়ে উপজেলা যুবলীগ আহবায়ক আশিকুল হক দিনার ও যুগ্ম-আহবায়ক কামরুল হাসান হিরোক বলেন, ‘শাহজাদপুরের গণমানুষের নেতা বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হাসিবুর রহমান স্বপন এমপি মহোদয়ের দিকনির্দেশনায় করোনার ক্রান্তিকালের শুরু থেকেই জনকল্যাণে এলাকাবাসীর মধ্যে লিফলেট, মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, খাবারসহ নানা স্বাস্থ্য উপকরন বিতরণ ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচী পালন করে আসছে শাহজাদপুর উপজেলা যুবলীগ। এরই ধারাবাহিকতায় ৩০ হাজার মাস্ক বিতরণ কর্মসূচীর প্রথম দিনে সর্বসাধারণের মধ্যে এদিন ১০ হাজার মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া করোনার সংক্রমন হ্রাসে ভবিষ্যতেও সাধারন জনমানুষের পাশে এভাবেই থাকবে যুবলীগ।’

উল্লেখ্য, উক্ত মাস্ক বিতরণকালে শাহজাদপুর উপজেলা ও পৌর যুবলীগের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

শাহজাদপুরে অসহায় জাহিদুলকে অটোভ্যান দিলেন মামুন বিশ্বাস

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার শুকুর আলীর ছেলে অটোভ্যান চালক জাহিদুল ইসলাম। বৃদ্ধ পিতা-মাতা, স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে ৬ জনের সংসার তাঁর। অটোভ্যান চালিয়ে একাই চালান ৬ জনের সংসার । একমাত্র সম্বল এই অটোভ্যানটিও ৪৮ হাজার টাকা দাম ধরে কিনেছেন কিস্তিতে। ৬ মাসে ২৪ হাজার টাকা কিস্তি পরিশোধ করেছেন কেবল। এরমধ্যেই হঠাৎ ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তার শেষ সম্বল গাড়িটি চুরি হয়ে যায়। একদিকে কিস্তি অন্যদিকে উপার্জনের একমাত্র সম্বল গাড়িটিও চুরি হয়ে যাওয়ায় দিশাহারা অবস্থা জাহিদুলের। এমন সময় অসহায় জাহিদুলের এমন দূরাবস্থার কথা জানতে পেরে পাশে দাড়ান মানবতার ফেরিওয়ালা মামুন বিশ্বাস।

জাহিদুলের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করে সহযোগিতা কামনা করেন মামুন বিশ্বাস। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ফেসবুক বন্ধুদের মাধ্যমে সংগ্রহ করেন অটোভ্যান ক্রয়ের অর্থ। সর্বমোট ৪৮ হাজার টাকা সংগ্রহ করে একটি নতুন অটোভ্যান কিনে তুলে দেন জাহিদুলের হাতে। রবিবার সকালে শাহজাদপুর উপজেলা পরিষদ থেকে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা শাহ মোঃ শামসুজ্জোহার মাধ্যমে জাহিদুলের কাছে অটোভ্যানটি হস্তান্তর করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী মামুন বিশ্বাস, সাংবাদিক সাগর বসাক প্রমুখ।

তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতার বৃদ্ধির আহবান


শাহজাদপুরে জীববৈচিত্র সংরক্ষণে সচেতনতামূলক সভা

শাহজাদপুর পরিযায়ী পাখি/জীববৈচিত্র সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকালে সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার আগনুকালী গ্রামে দি বার্ড সেফটি হাউজ সংগঠনের নিজ কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় সংগঠনের চেয়ারম্যান মামুন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী বিভাগের বন পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবির।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ওয়ার্ল্ড লাইফ রেঞ্জার হেলিম রায়হান, গোলাম ছরোয়ার, ইয়াকুব আলী প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, সেচ্ছাসেবী ও অত্র এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা পরিবেশ ও বন্যা প্রাণী সংরক্ষণে সচেতনতার জন্য প্রতিটি মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতার বৃদ্ধির আহবান জানান।

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ-এ যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন

শুক্রবার ২৬শে মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকাল ৯:০০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী প্রশাসনিক ভবন এবং একাডেমিক ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচির শুভ সূচনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ। সকাল ৯:৩০ ঘটিকায় অস্থায়ী একাডেমিক ভবন-১ প্রাঙ্গণে জাতীয় স্মৃতিসৌধের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়, পরবর্তীতে অস্থায়ী একাডেমিক ভবন প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ। অনুষ্ঠান শেষে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ-এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ, ট্রেজারার প্রফেসর মোঃ আব্দুল লতিফ, রেজিস্ট্রার মোঃ সোহরাব আলী, অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালক মোঃ গোলাম সরোয়ার, সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান মোঃ রওশন আলম, অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান বরুণ চন্দ্র রায়।পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের উপ-পরিচালক (চলতি দ্বায়িত্ব) শিবলী মাহবুবসহ
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।
দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে সন্ধ্যা ৭.০০টায় রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কর্তৃক ভার্চুয়াল আলোচনা সভা (ফেসবুক লাইভে) আয়োজন করা হবে। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ, সভায় প্রধান বক্তা হিসাবে আলোচনা করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর মোঃ আব্দুল লতিফ, স্বাগত বক্তা হিসাবে আলোচনা করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্মানিত রেজিস্ট্রার মোঃ সোহরাব আলী। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করবেন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের প্রভাষক ড. মোহাম্মদ তানভীর আহমেদ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শাহ আলী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

শাহজাদপুরের মানুষ আজীবন শ্রদ্ধাচিত্তে তাঁকে স্মরণ করবে


শাহজাদপুরে বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন মোহন স্মরণে স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত

‘শাহজাদপুরের পোতাজিয়া ইউনিয়ন পরিষদের টানা ৫ বার নির্বাচিত সাবেক চেয়ারম্যান, শাহজাদপুর বণিক সমিতির সাবেক সভাপতি, শাহজাদপুর থানা উন্নয়ন কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা পরিষদের ২ বারের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি বিশিষ্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সমাজ সেবক আব্দুল মতিন মোহন দেশ ও দশের কল্যাণে ছিলেন আত্মনিবেদিত মহৎ প্রাণ। তিনি আ.লীগের দূর্দিনে যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে থানা আ.লীগ ও পোতাজিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করে গেছেন। তাঁকে বহুবার রাজনৈতিকভাবে পথভ্রষ্ট করার অপচেষ্টা করা হলেও মুজিবীয় আদর্শের মূর্ত প্রতীক প্রয়াত আব্দুল মতিন মোহন জীবদ্দশায় আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করার পথ থেকে বিন্দুমাত্রও বিচ্যুতি হননি। তাঁর অবদান কখনও ভোলার নয়! শাহজাদপুরের মানুষ তাঁকে শ্রদ্ধা চিত্তে আজীবন স্মরণ করবে।’

বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) বিকেলে শাহজাদপুরের পোতাজিয়া দ্বি-পার্শ্বিক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিশিষ্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন মোহনের ১৬ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত স্মরণসভার অতিথি ও বক্তারা উপরোক্ত কথাগুলো বলেছেন। শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও পোতাজিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী ব্যাপারীর সভাপতিত্বে এবং পোতাজিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মোঃ আনছার আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ স্মরণ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ্যাড. কেএম হোসেন আলী হাসান। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক মোঃ আব্দুস সামাদ তালুকদার। স্মরণ সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন মোহনের বড় ছেলে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য ড. সাজ্জাদ হায়দার লিটন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রফেসর আজাদ রহমান, মিল্কভিটা’র ভাইস চেয়ারম্যান শেখ মোঃ আব্দুল হামিদ লাবলু, জেলা যুবলীগ সভাপতি রাশেদ ইউসুফ জুয়েল, আব্দুল মতিন মোহন স্মৃতি পরিষদের সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ মোজাম্মেল হক, সেক্রেটারি ডাঃ মিজানূর রহমান প্রমূখ।

উক্ত স্মরণ সভায় প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন মোহনের স্মৃতিচারণ করে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মুস্তাক আহমেদ, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মির্জা আলী আশরাফ বাচ্চু, মিল্কভিটার পরিচালক আব্দুস সামাদ ফকির, আলমগীর জাহান বাচ্চু, প্রধান শিক্ষক শামীম হোসেন, উপজেলা যুবলীগ আহবায়ক আশিকুল হক দিনার, যুগ্ম-আহবায়ক কামরুল হাসান হিরোক, যুগ্ম- আহবায়ক রাশেদুল হায়দার রাশেদ, কায়েমপুর ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা মো: রাশেদুল হাসান রুবেল, পোতাজিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি দীনু প্রমুখ। বক্তারা মরহুমের সফল কর্মময় জীবনের ওপর আলোকপাত করে বক্তব্য রাখেন।

পরে, বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন মোহনের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস।উক্ত স্মরণ সভায় সিরাজগঞ্জ জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ কয়েক হাজার জনগণ উপস্থিত ছিলেন।

পয়োবর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে নীলফামারীর সৈয়দপুর; পয়োবর্জ্য থেকে উৎপাদিত হচ্ছে সার

জনসংখ্যা তো বাড়ছেই, বাড়ছে পয়োবর্জ্যও। এর ব্যবস্থাপনায় এখনই নজর না দিলে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে নাগরিক স্বাস্থ্য। প্রয়োজন আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার। এতে পরিবেশের তো একটা সুরাহা হবেই, উল্টো এই বর্জ্যই সম্ভাবনা দেখাবে কর্মসংস্থান ও আয়ের। উদাহরণ দেখতে যেতে হবে নীলফামারীর সৈয়দপুরে।

পয়োবর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভা। সেখানে মানুষের বর্জ্য থেকে সরাসরি তৈরি হচ্ছে সয়েল কন্ডিশনার ওরফে উন্নতমানের জৈব সারযুক্ত মাটি। এ কাজে স্থাপন করা হয়েছে কো-কম্পোস্ট প্লান্ট। প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে ওয়াটার এইড বাংলাদেশ ও সমাজ কল্যাণ সংস্থা (এসকেএস) ফাউন্ডেশন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মোট তিনটি ট্যাংক পরিবহনে (ভেকুট্যাক) প্রায় ২৮ হাজার বাড়ির পয়োবর্জ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এরপর সেগুলো চলে যাচ্ছে স্থানীয় কো-কম্পোস্ট প্লান্টে। সেখানে আছে ডায়িং বেড। বেডে রয়েছে হরেক রকম পাথর। পয়োবর্জ্যের ছাঁকনি হিসেবে কাজ করে ওগুলো। এতে আটকে যায় অজৈব বর্জ্য।

পাথরের তিন স্তর পার হয়ে তরল অংশ নিচে নেমে যায়। তারপর সেটা যায় অন্য আরেক বেডে। তিনদিন পর কালো রঙের তরল বিভিন্ন বেড ঘুরে মোটামুটি স্বচ্ছ ও দুর্গন্ধমুক্ত হয়। ওই তরলেই মিশে আছে গাছের জন্য দরকারি পুষ্টি উপাদান। সেটাকেই কী করে সুচারুভাবে সার হিসেবে কাজে লাগানো যায় তা নিয়ে চলছে গবেষণা।

আরও দেখা গেছে, পয়োবর্জ্য থেকে পানি বের হয়ে যাওয়ার পর পচনশীল উপাদানগুলোর সঙ্গে আনুপাতিক হারে মিশিয়ে নেওয়া হয় কাঁঠের গুড়ি। ওটা থেকে তৈরি হয় সয়েল কন্ডিশনার, তথা উর্বর মাটি।
গবেষকরা বলছেন, আদিকাল থেকেই পয়োবর্জ্য নাইটসয়েল (পয়োবর্জ্য মিশ্রিত মাটি) হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। সেক্ষেত্রে পয়োবর্জ্যের মাধ্যমে বর্তমানে যে সয়েল কন্ডিশনার তৈরি হচ্ছে তা মূলত ওই নাইটসয়েলেরই আধুনিক সংস্করণ। এই মাটিতে কোনও জীবাণু বা দুর্গন্ধ থাকে না। কিন্তু সার হিসেবে বাকিদের চেয়ে কোনও অংশে কম নয়।

পয়োবর্জ্য থেকে উৎপাদিত সার ব্যবহার নিয়ে কৃষকদের মাঝে যাতে কোনও দ্বিধা কাজ না করে সেজন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রমও হাতে নিয়েছে সংস্থা দুটো।

ওয়াটার এইড বাংলাদেশের প্রকল্প কর্মকর্তা সুমন কুমার সাহা বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের একটি প্লান্ট থেকে বছরে ১০০ মেট্রিক টনের বেশি সার উৎপাদিত হবে। এই সার ব্যবহারে জমিতে পানি, রাসায়নিক সার ও কীটনাশক খরচ কমে আসে। সাধারণ সারের তুলনায় দ্বিগুণ উৎপাদন পাওয়া সম্ভব এতে।’

এদিকে পয়োবর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করার কথা ভাবছে সরকারও। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, পয়োবর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উন্নত বিশ্বের মতো আমাদের দেশেও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং পরিচ্ছন্ন দেশ গড়তে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আনা হবে। পয়োবর্জ্যের পাশাপাশি কঠিন বর্জ্যসহ অন্য সব বর্জ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত করা হবে।

প্রাথমিকভাবে সিটি করপোরেশন এবং পৌরসভাগুলোতে পয়োবর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং পরবর্তীতে এই সুবিধা গ্রাম পর্যায়েও পৌঁছে দেওয়া হবে জানিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, দেশকে সমৃদ্ধ করতে শুধু অর্থনৈতিক সূচক পূরণ করলেই হবে না, স্বাস্থ্য, পরিবেশসহ অন্য যত প্যারামিটার আছে সেগুলোতেও গুরুত্ব দিতে হবে।

সৈয়দপুর পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র মো. জিয়াউল হক বলেন, ‘২০১৬ সাল থেকে এখানে এই প্রকল্প শুরু। মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য এসকেএস ফাউন্ডেশন আমাদের এখানে কাজ করতে আসে। এরপর তারা ওয়াটার এইড বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্লান্ট বানায়। সেটা দিয়ে আমাদের পৌরসভায় সার উৎপাদন হয়। ঢাকার মানুষ টয়লেট ফ্লাশ করার পর হয়তো জানে না যে তাদের পয়োবর্জ্য কোথায় যাচ্ছে। কিন্তু সৈয়দপুরের মানুষ জানে তাদের পয়োবর্জ্য ট্যাংক থেকে প্লান্টে গিয়ে সার হয়ে যাচ্ছে।’

সাবিত্রী সাহার পথের পাঠাগার

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বেতকান্দি গ্রামের সাবিত্রী সাহা। মাস্টার্স শেষ করে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন শিক্ষকতা। উপজেলার বেলতৈল ইউনিয়নের মালতিদাঙ্গা পশ্চিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তিনি। ছোটবেলা থেকেই বই পাগল সাবিত্রী সাহা। আর এই বইয়ের প্রতি ভালবাসা থেকেই পথের মধ্যে গড়ে তুলেছেন পাঠাগার। পথচারী এবং সাধারণ মানুষের আত্মিক তৃষ্ণা মেটাতেই তাঁর এ উদ্যোগ। তাঁর মতে, অনেক মানুষ আছেন, যাঁরা বই পড়তে ভালোবাসেন, তবে নিয়মিত বই কিনে পড়ার সামর্থ্য রাখেন না। আবার সামর্থ্য থাকলেও ঘটা করে পাঠাগারে যাওয়া, পাঠাগারের সদস্য হওয়া, নিয়মিত চাঁদা দেওয়া—এসব প্রক্রিয়া অনেকের কাছেই জটিল মনে হয়। তাই ঝামেলা এড়িয়ে সহজে আর বিনা মূল্যে মানুষকে বই পড়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্যই তাঁর এই প্রচেষ্টা। বিভিন্ন মাধ্যম থেকে পাওয়া স্ট্রিট লাইব্রেরির ধারণা নিয়েই মূলত সাবিত্রী সাহা শাহজাদপুরে পথের মধ্যে গড়ে তুলেছেন ‘ পথেই বই পড়ি’ নামের পাঠাগার।

চলতি বছরের ভাষার মাস ফেব্রুয়ারিতে নিজের সংগ্রহে থাকা অল্প কিছু বই দিয়ে উপজেলার বেলতৈল ইউনিয়নের বেতকান্দি গ্রামে পাঠাগারটি চালু করেছেন সাবিত্রী সাহা। অনেকেই সাবিত্রীকে নিরুৎসাহিত করলেও তিনি তাঁর লক্ষ্যে অটুট থেকে পিপাসার্ত পাঠকের তৃষ্ণা মেটাতে বদ্ধপরিকর।

মূলত সাবিত্রী সাহা নিজের সংগ্রহে থাকা কিছু বই দিয়ে পাঠাগারটি চালু করলেও অনেকেই নিজেদের সংগ্রহের বই দিয়ে পথের পাঠাগারটি সমৃদ্ধ করতে সহযোগিতা করছেন। ইতোমধ্যেই পথের পাঠাগার সম্পর্কে জানতে পেরে ‘ দরিদ্র তারকা বইয়ের সঞ্চালক’ নামের একটি অনলাইন বুক শপের পক্ষ থেকে বেশ কিছু বই দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার মাকসুদ রহমান।
সাবিত্রী সাহার এমন অভিনব প্রচেষ্টার প্রশংসা করে রবীন্দ্র পাঠকেন্দ্রের কর্ণধার অধ্যাপক শাহ আলম বলেন, উদ্যোগটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আশাকরি প্রতিষ্ঠানটি পিপাসার্ত পাঠকের তৃষ্ণা মিটিয়ে মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সবিত্রী সাহা বলেন, পাঠাগারটি চালুর পর মানুষ খুব ভালোভাবে এটি গ্রহণ করেছে। এত দ্রুত যে মানুষের মাঝে পাঠাগারটি সাড়া ফেলেছে তা সত্যি অভাবনীয়। তিনি আরও জানান, পাঠাগারটি যেন টেকসই হয় এবং মানুষের উপকারে আসে সেদিকে লক্ষ্য রেখে কাজ করা হচ্ছে। সেইসাথে পরিকল্পনা আছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এরকম পাঠাগার গড়ে তোলার।