সমুদ্রের পানি পরিশোধনের ফিল্টার তৈরি করলেন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী

একবার ভাবুন তো, পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে সমুদ্রের পানি থেকে নিরাপদ খাবার পানি তৈরি করা হচ্ছে! কথাটি শুনতে যতটুকু মজার মনে হচ্ছে, কাজটি করা ঠিক ততটুকু কঠিন। কঠিন কাজটি সফলভাবে শেষ করেছেন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. রাসেল দাশ, তার সহযোগী সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার ড. গুরং-শো এবং গবেষকদল।

এ বিষয়ে ড. রাসেল দাশ জানান, বিশ্বজুড়ে প্লাস্টিকের দূষণ অপসারণ একবিংশ শতাব্দির জন্য অনেক বড় একটি চ্যালেঞ্জ। তার থেকেও বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, সমুদ্রের লবণাক্ত পানি থেকে নিরাপদ খাবারের পানি তৈরি করা। বাংলাদেশে অলিগলি, রাস্তা থেকে শুরু করে বঙ্গোপসাগরের উপকূল পর্যন্ত সব জায়গায় প্লাস্টিকের পরিত্যক্ত বোতল দেখা যায়।

গবেষকদলটি এ ধরনের পরিত্যক্ত বোতল থেকে ইলেক্ট্রো-স্পুন প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে এমন একধরনের ন্যানোফাইব্রাস ফিল্টার তৈরি করেছে, যা দিয়ে ৯৯.৯% সমুদ্রের পানি পাতন প্রকিয়ায় নির্লবণীকরণ করা সম্ভব। সাধারণত এ প্রযুক্তিতে পানি পরিশোধন করা খুব ব্যয়বহুল। কারণ এ ধরনের ফিল্টার তৈরির জন্য অনেক মূল্যবান আর্টিফিশিয়াল পলিমার ব্যবহার করতে হয়।

গবেষকদলটি এ ধরনের মূল্যবান পলিমার ব্যবহার না করে প্লাস্টিকের পরিত্যক্ত বোতল থেকে এমন একধরনের পলিমার ব্যবহার করেছেন। যা অনেক সাশ্রয়ী এবং এতে পানির মোট পরিশোধন ব্যয় অনেকাংশে কমে যাবে। তাদের তৈরি ফিল্টারটি প্রতি স্কয়ার মিটারে প্রতিঘণ্টায় সমুদ্রের পানি থেকে প্রায় ২৫ লিটার নিরাপদ খাবারের পানি তৈরি করতে সক্ষম।

পানি দূষিত হওয়ার কারণে একবিংশ শতাব্দিতে পৃথিবীর ৭০০ মিলিয়ন লোক নিরাপদ পানির সুবিধা থেকে বঞ্চিত। জাতিসংঘের মতে, ২০২৫ সালের মধ্যে সারা বিশ্বের ১.৮ বিলিয়ন মানুষ নিরাপদ পানির সুবিধা পাবে না। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৪ মিলিয়ন মানুষ নিরাপদ পানির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

ড. রাসেল দাশ গত আট বছর ধরে মালয়েশিয়া, আমেরিকা এবং জার্মানিতে ন্যানো প্রযুক্তি ব্যবহার করে সমুদ্রের পানি পরিশোধন করার লক্ষ্যে কাজ করছে। এ ধরনের কাজের জন্য ২০১৫ সালে তিনি ‘এলসেভিয়ার-এটলাস অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন। এখন তিনি জাপানের কিউশু বিশ্ববিদ্যালয়ে জাপান সরকারের অধীনে পোস্ট-ডক্টরাল জেএসপিএস ফেলো হিসেবে কর্মরত আছেন।

ড. রাসেল দাশ বলেন, ‘সমুদ্রের পানি নির্লবণীকরণের এ প্রক্রিয়া বাংলাদেশে ব্যবহার করে সুপেয় পানির চাহিদা অনেকাংশে মেটানো সম্ভব। বিশ্বের অনেক দেশ যেমন সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, ইসরাইল, সুইডেন, ইউনাইটেড কিংডম, নেদারল্যান্ডস এবং ফ্রান্স সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধ করে সেচ, কৃষি, শিল্প ও গার্হস্থ্য খাতে ব্যবহার করে চাহিদা পূরণ করছে।’

তিনি জানান, তাদের কাজটি জার্নাল অব ওয়াটার প্রোসেস ইঞ্জিনিয়ারিং নামে একটি বৈজ্ঞানিক সাময়িকীতে গত ৭ মে প্রকাশিত হয়।

বাংলাদেশীজম

মোবাইল কিনতে ‘ঋণ’ দিচ্ছে রবি

স্মার্টফোন কেনার জন্যে মাসিক কিস্তিতে ‘ফোন লোন’ নামে একটি স্মার্টফোন ফিন্যান্সিং ক্যাম্পেইন চালু করেছে মোবাইলফোন অপারেটর রবি। সোমবার (১৭ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে রবি।

ক্যাম্পেইনের আওতায় ব্লকচেইন ও বিগ ডেটা অ্যানালাইটিক্স প্রযুক্তির মাধ্যমে অলটারনেটিভ ক্রেডিট স্কোরিং (এসিএস) সলিউশন ব্যবহার করে স্মার্টফোন কেনার জন্য জামানত মুক্ত ঋণ প্রয়োজন- এমন ব্যবহারকারীদের খুঁজে বের করছে অপারেটরটি।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘ফোন লোন’ ক্যাম্পেইনটির মাধ্যমে উপযুক্ত রবি ও এয়ারটেল গ্রাহকদের সুবিধা মতো ইএমআইসহ ফোন লোন দেয়া হচ্ছে। তথ্যের গোপনীয়তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করে রেড আইটি ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের সহায়তায় গ্রাহকদের টেলকো ডাটা ব্যবহারের মাধ্যমে ক্রেডিট কার্ড নেই— এমন গ্রাহকদের শনাক্ত করছে একটি ক্রেডিট স্কোরিং কোম্পানি।

একটি মানসম্পন্ন স্মার্টফোন কিনতে যে অর্থ প্রয়োজন গ্রামের স্বল্প আয়ের মানুষের পক্ষে একবারে তা জোগাড় করা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সম্ভব হয় না। আবার ক্রেডিড কার্ডের মাধ্যমে ইএমআই সুবিধা থেকেও তারা বঞ্চিত।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, হ্যান্ডসেট কেনার জন্য ঋণ পেতে পারেন এমন সম্ভাব্য গ্রাহকদের এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হবে। এরপর ওই গ্রাহকরা ফোন লোন অ্যাপ বা রবি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তাদের উপযুক্ততা যাচাই করতে পারবেন।

এরপর রবির ওয়াক-ইন-সেন্টার (ডব্লিউআইসি), আর স্টোর, ফোন লোন অ্যাপ ও ওয়েবসাইট থেকে এককালীন ডাউন পেমেন্টেরর মাধ্যমে তাদের পছন্দের হ্যান্ডসেটটি কিনতে পারবেন যোগ্য গ্রাহকরা।

অবশিষ্ট টাকা গ্রাহকদের সুবিধা অনুযায়ী ছয় থেকে ১২ মাসের সমান মাসিক কিস্তিতে পরিশোধ করা যাবে।

অনুদান দিচ্ছে ফেসবুক

অনুদান দিচ্ছে ফেসবুক

করোনাভাইরাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সারাবিশ্ব। এমন পরিস্থিতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অর্থ সহায়তা দিচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক। তবে এই অর্থসহায়তা পাওয়ার জন্য রয়েছে কিছু শর্ত রয়েছে।

এই সহায়তা পাওয়ার আবেদন করতে হবে ৫টি ধাপে কিছু প্রশ্নের উত্তর দেয়া ও ডকুমেন্টস প্রদানের মাধ্যমে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয় হচ্ছে:

১. অন্তত ২ থেকে ৫০ জন কর্মী থাকতে হবে।

২. ব্যবসায়ের বয়স হতে হবে কমপক্ষে এক বছর।

৩. করোনাকালে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এমন প্রমাণ থাকতে হবে।

৪. আপনার ব্যবসায় সম্পর্কে ফেসবুক খোঁজ খবর রাখতে পারবে এমন যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকতে হবে।

৫. আবেদনের জন্য ফেসবুকে বিজনেস পেজ একটি ভেরিফাইড ই-মেইল থাকতে হবে।

৬. থাকতে হবে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট কার্যালয়।

৭. শুধুমাত্র অনলাইনে কার্যক্রম থাকলে আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।

৮. থাকতে হবে ব্যবসায়ের লাইসেন্স।

৯. অফিসিয়াল রেজিস্ট্রেশান।

১০. অংশিদারি ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে পার্টনারশিপ লাইসেন্স।

জুডিথা’র বাংলাদেশ ‘ব্র্যান্ডিং’ এগিয়ে নিতে ভোট দিন

ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টসের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য জুডিথা ওলমাখার। বাংলাদেশি না হয়েও কাজ করছেন বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের পরিচিতি ভিন্নরূপে প্রতিষ্ঠা করতে। বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিংকে এগিয়ে নিয়ে যেতেই তিনি তৈরি করছেন সংসদ ভবনের লেগো। আন্তর্জাতিক পরিসরে সেই লেগো গৃহীত হতে হলে প্রয়োজন ভোটের।

জুডিথা জানান, দেশের বিশিষ্ট স্থাপনার লেগো মডেল তৈরি করাকেই নিজের ব্র্যান্ডিং মিশন বানিয়ে ফেলেছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘স্ট্যাচু অব লিবার্টি, আইফেল টাইফেল টাওয়ারের মতো বিশ্বের বড় বড় স্থাপত্যগুলোর লেগো মডেল আমরা সারাবিশ্বেই দেখতে পাই। একদিন আমার মাথায় এলো আধুনিক স্থাপত্যবিদ্যার একটি মাস্টারপিস তো বাংলাদেশেই রয়েছে। কেন আমরা আমাদের সংসদের ভবনের একটি লেগো মডেল তৈরি করবো না।’

জুডিথা বলেন, এই ভবনের বিষয়ে বাংলাদেশের মানুষের গভীর অনুভূতি রয়েছে। এই ভবনের জন্য সবার মধ্যে গর্ব রয়েছে। এটা সংসদ ভবনের চেয়েও বেশি কিছু। দেশের স্থিতিশীলতা, সম্মান ও মহত্বের প্রতীক এই ভবন। তাই তিনি সংসদের লেগো মডেল তৈরিতে নেমে পড়েন।

ওয়ার্ল্ড লেগো ওয়েবসাইটে এই মডেল গৃহীত হতে হলে প্রয়োজন ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজাইনের। জুডিথা ডিজাইন তৈরি করে জমা দিয়েছেন ওয়ার্ল্ড লেগো ওয়েবসাইটে। জাতীয় সংসদ ভবনের একটি পূর্ণাঙ্গ মডেলটি গৃহীত হতে লেগো ওয়েবসাইটে ১০ হাজার ভোট লাগবে। খুব শিগগিরই এই ভোট শেষ হবে।
তাই জুডিথার ব্র্যান্ডিং বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যে হলে ভোট দিন নিচের লিংকে ক্লিক করে।
https://ideas.lego.com/projects/bf4be568-06c6-4608-83d0-b2d10ea4f3f3

যেভাবে ভোট দেবেন- এই লিংকের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ডান সাইডে সাপোর্টে ক্লিক করুন। সাপোর্টে ক্রিয়েট অ্যাকাউন্ট অপশন ও ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে ভোট দেওয়ার অপশন আসবে। ফেসবুক আইডি ব্যবহার করলে অপেক্ষাকৃত সহজ হবে ভোট দেওয়া। কন্টিনিউ উইথ ফেসবুক অপশনের মাধ্যমে লগইন করে ভোট দিন জুডিথার প্রকল্পকে। আর মাত্র ৫১ দিন আছে ভোট দেওয়ার।

ফেসবুকে বিজ্ঞাপন বাতিল, ৭২০ কোটি ডলার লোকসানে জাকারবার্গ

যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডের পর শুরু হওয়ার বর্ণাবাদবিরোদী বিক্ষোভ থেকে অভিযোগ ওঠে বর্ণবাদী প্রচারণা সংক্রান্ত পোস্টে লাগামহীন স্বাধীনতা দেয় ফেসবুক। এরপর ইউনিলিভারের মতো বহুজাতিক কোম্পানিসহ শতাধিক কোম্পানি ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেওয়া বন্ধ করায় বিপুল ক্ষতির মুখে মার্ক জাকারবার্গ।বড় অংকের বিজ্ঞাপনদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো একযোগে বিজ্ঞাপন প্রদান বন্ধ করায় এক ধাক্কায় ৭২০ কোটি ডলার সম্পদমূল্য হারিয়েছেন ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ। ইউনিলিভারের পক্ষ থেকে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন বন্ধের খবর প্রকাশ্যে আনতেই শুক্রবার (২৬ জুন) ফেসবুকের শেয়ার ৮.৩ শতাংশ দরপতন হয়।

শেয়ারের মূল্য পতনের কারণেই ফেসবুক মোট ৫ হাজার ৬শ কোটি ডলারের বাজারমূল্য হারায়। গত তিন মাসের মধ্যে জনপ্রিয় এই সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্টটির এটাই ছিল সর্বোচ্চ দরপতনের ঘটনা। শুধু বিজ্ঞাপন বন্ধ নয় ফেসবুকের সম্পদেও নিজেদের বিনিয়োগ বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে ইউনিলিভার।

কোম্পানির শেয়ারের এই দরপতনের ধাক্কা এসে পড়েছে মার্ক জুকারবার্গের মোট সম্পত্তির পরিমাণেও। ব্লুমবার্গ বিলিওনিয়ার ইনডেক্সে এ মুহূর্তে বিশ্বের শীর্ষ দশজন ধনীর তালিকায় জাকারবার্গের অবস্থান চতুর্থ। দরপতনের কার লুই ভুঁটোর মালিক বার্নার্ড আরনল্ট জাকারর্বাগকে পেরিয়ে তালিকায় তিনে উঠে এসেছেন।

ফেসবুকের প্রধান নির্বাহীর মোট সম্পদ ৭ দশমিক ২১ বিলিয়ন কমে এখন ৮২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে শীর্ষ ধনীর তালিকায় প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানটি বরাবরের মতোই যথাক্রমে অ্যামাজনের জেফ বেজোস এবং মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের দখলেই আছে।

তবে গণহারে বিজ্ঞাপন দাতা কোম্পানিগুলোর এমন বয়কটের পর সংবাদ মূল্য বিবেচনায় এখন থেকে যে কোনো পোস্টে ‘সম্ভাব্য ক্ষতিকারক’ লেবেল সেঁটে দেওয়ার ঘোষণা দেয় ফেসবুক। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পোস্টসহ প্ল্যাটফর্মটিতে কীভাবে বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ করা তা নিয়েই মূলত চাপে পড়েছিল ফেসবুক।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজ জানিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্টটির বিরুদ্ধে বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নানান অভিযোগ ওঠার পর মোট ৯০টিরও বেশি বিজ্ঞাপনদাতা কোম্পানি তাদের বিজ্ঞাপন প্রদানের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ফেসবুক বয়কট করে। এরপর ফেসবুক কর্তৃপক্ষ চাপে পড়েই এমন সিদ্ধান্ত নিল।

শুক্রবার ফেসবুকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী জাকারবার্গ এক ফেসবুক লাইভে বলেন, রাজনীতিবিদদের যেসব পোস্ট সংবাদ যোগ্য তাতে এখন থেকে ‘সম্ভাব্য ক্ষতিকারক’ লেবেল সেঁটে দেওয়া হবে। ট্রাম্পের নাম না নিলেও সম্প্রতি ট্রাম্পের ফেসবুক পোস্ট নিয়ে শুরু হওয়া বিতর্ককে বড় কারণ হিসেবে ভাবা হচ্ছে।

টুইটার কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই ট্রাম্পের উসকানিমূলক টুইটে নিয়মিতই নানা লেবেল সেঁটে দেওয়া শুরু করেছে। বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ও বিদ্বেষ ছড়ানো ছাড়াও নানা কারণে টুইটার তাদের নীতি মেনে এমন কাজ করে থাকে। কিন্তু ফেসবুকের ক্ষেত্রে এমনটা না দেখা যাওয়ায় শুরু হয় বিতর্ক ও সমালোচনা।

ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডের পর বিতর্ক আরও জোরালো হয়। দেশটির নাগরিক সংগঠনগুলো ‘ঘৃণা ছড়ানোর বিনিময়ে মুনাফা বন্ধ করো’ এমন নানা স্লোগানে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়। এরপর থেকে বিজ্ঞাপনদাতা কোম্পানিগুলো একে একে বিজ্ঞাপন প্রদান বন্ধ করে দিলে চাপে পড়ে যায় ফেসবুক।

বিজ্ঞাপন প্রদান বয়কট করার এই তালিকায় শুক্রবার যুক্ত হয় বহুজাতিক ভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারী কোম্পানি এবং বিশ্বের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত বিজ্ঞাপনদাতা প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভার। যুক্তরাষ্ট্রে ‘মেরুকরণের এই নির্বাচনকালীন সময়কালের’ কথা বিবেচনায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করে কোম্পানিটি।

সূত্রঃ এবিএন

পেওনিয়ার কার্ডে লেনদেন বন্ধ

বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত পেওনিয়ার প্রিপেইড মাস্টারকার্ড বন্ধ করে রাখা হয়েছে। পেওনিয়ার কর্তৃপক্ষ নিজেদের ব্লগের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের বিষয়টি জানিয়েছে।

অনলাইনে কাজ বা ফ্রিল্যান্সারদের মধ্যে পেওনিয়ার বেশ জনপ্রিয়। এর মাধ্যমে কাজের অর্থ পরিশোধ করে থাকে বিভিন্ন জনপ্রিয় ওয়েবসাইট। যেমন- ফ্রিল্যান্সার ডটকম, ফাইভার, আপওয়ার্ক, ৯৯ ডিজাইন, গেটিইমেজেস, ইনভাটো, পিপল পার আওয়ার, টপকোডারসহ বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটপ্লেস।

পেওনিয়ারের এক ব্লগ পোস্টে বলা হয়েছে, এখন প্রিপেইড কার্ড ব্যবহারকারীরা সাময়িকভাবে অর্থ উত্তোলন বা নতুন কোনও পেমেন্ট নিতে পারবেন না। তবে পেওনিয়ারের কাছে থাকা অধিকাংশ অর্থের ওপর কোনও প্রভাব পড়বে না। পেওনিয়ার এ বিষয়ে অন্যান্য অপশন অন্তর্ভুক্তির জন্য কাজ করছে। আপাতত সব কার্ডকে ‘ফ্রিজ’ করে রাখা হয়েছে বলেও জানানো হয়।

যুক্তরাজ্যের ওয়্যারকার্ড সল্যুশন লিমিটেডকে দেশটির ফাইন্যান্সিয়াল কনডাক্ট অথরিটি (এফসিএ) সব ধরনের আর্থিক কর্মকাণ্ড বন্ধসহ অন্যান্য বিধিনিষেধ দেওয়ার পরই সমস্যার শুরু হয়। ওয়্যারকার্ড ইউকে থেকেই পেওনিয়ার প্রিপেইড মাস্টারকার্ড ব্যবহারকারীদের কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওয়্যারকার্ড এজির শাখা হিসেবে যুক্তরাজ্যের প্রতিষ্ঠানটি গত ২৫ জুন ফ্রাঙ্কফুর্ট স্টক এক্সচেঞ্জে নিজেদের দেউলিয়া দেখিয়ে আবেদন করে। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ২০০ কোটি ডলার কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির সাবেক প্রধান নির্বাহী মার্কার ব্রাউন গ্রেফতার হয়েছেন।

পেওনিয়ার প্রিপেইড কার্ডের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশ-বিদেশের ব্যবহারকারীরা বেকায়দায় পড়েছেন। তাদের মধ্যে আছেন বাংলাদেশের অনেক অনলাইন ফ্রিল্যান্সার। কারণ, বাংলাদেশের তারা কাজের অর্থ পেওনিয়ারের মাধ্যমে পেয়ে থাকেন। এখন লেনদেন বন্ধ হওয়ায় অনেকেই অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে বিপাকে পড়েছেন। এ নিয়ে ফেসবুকে বিভিন্ন গ্রুপে চলছে নানান আলোচনা।

তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা বাংলাদেশের সফটওয়্যার প্রকৌশলী হাসিন হায়দার বিষয়টি নিয়ে নিজের ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘পেওনিয়ারের ইস্যুটা সত্যিই দুঃখজনক। দেশের লাখ লাখ ফ্রিল্যান্সারের জন্য বাইরের সাবস্ক্রিপশন, কোর্স, হোস্টিং ফি, অ্যাড ফি, অনলাইন কেনাকাটা করার জন্য এটাই প্রাইমারি বা একমাত্র মাধ্যম। কতোগুলো মানুষ একরাতের মধ্যে কী বিশাল একটা ঝামেলায় পড়লো! টাকা আটকে থাকার চেয়ে বেশি কষ্টের বিষয় এটাই।’

অনেকেই এই কার্ড ব্যবহার করে সার্ভার, হোস্টিংসহ নানান সাবস্ক্রিপশন নিয়ে থাকেন। তাদের জন্য বেশকিছু পরামর্শ দিয়েছেন সফটওয়্যার প্রকৌশলী হাসিন হায়দার। আরেকটি ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘পেওনিয়ারের ইস্যুটা আশঙ্কাজনক। প্রথমে যে কাজটা আপাতত করতেই হবে তা হলো- যত সাবস্ক্রিপশন কেনা আছে সেগুলো নবায়নের তারিখ দেখা এবং সেগুলোর জন্য ব্যাকআপ পেমেন্ট পদ্ধতি যুক্ত করা। কারণ সাবস্ক্রিপশনের সময় লেনদেন যদি বাউন্স করে তাহলে দ্রুত সাবস্ক্রিপশন বন্ধ হয়ে যাবে।’

যারা গান-বাজনার সাবস্ক্রিপশন কিনে রেখেছেন তাদের ক্ষেত্রে হয়তো সমস্যা হবে না। কিন্তু হোস্টিং/সার্ভার সম্পর্কিতগুলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
সফটওয়্যার প্রকৌশলীর পরামর্শ, এরপরে যেটা করতে হবে- যদি ব্যাকআপ পেমেন্ট পদ্ধতি যুক্ত করতে পারেন বা নাও পারেন, এখনই আপনার হোস্টিং/সাইটের ফুল ব্যাকআপ নিয়ে নিন। এতে করে হোস্টিং বাতিল হয়ে গেলেও অন্তত পরে রিস্টোর করতে পারবেন। এটা খুবই জরুরি। টাকা গেলে টাকা আবারও আসবে। কিন্তু তথ্যাদি হারিয়ে গেলে সেটা আর পাবেন না।’

যেসব ফ্রিল্যান্সারদের টাকা আটকে গেছে তাদের অনেকেই ইতোমধ্যে ফেসবুকে নিজেদের অসহায়ত্বের কথা জানিয়েছেন। শফিক আসাদ নামের একজন লিখেছেন, ‘এত মাসের পরিশ্রম, ব্যবসার আয়, চাকরির বেতন সব আটকে গেলো। এখন কীভাবে কী হবে, কবে হবে কিচ্ছু জানি না। গত দশ বছরে কখনও এতটা অসহায় লাগেনি। কোভিড-১৯ মহামারি পরিস্থিতিতে এমনিতেই করুণ অবস্থায় আছি, এখন মনে হচ্ছে কফিনে শেষ পেরেকটাও গেঁথে গেলো।’

সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন

প্রেম প্রতারনার নতুন ফাঁদ হয়ে উঠছে ফেইসবুক

বাংলাদেশের মিঠুন বিশ্বাসের সঙ্গে ২০১৫ সাল থেকে ফেসবুকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে মার্কিন তরুণী এলিজাবেথের। আর মাত্র ২ বৎসর পরেই ২০১৭ সালের প্রেমের টানে এলিজাবেথ চলে আসেন বাংলাদেশের ঝিনাইদহের এক গ্রামে। আসার সপ্তাহখানের মধ্যেই এলিজাবেথ বিয়ে করেন মিঠুন বিশ্বাসকে। বর্তমানে বেশ ভালো চলছে তাঁদের সংসার জীবন। গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে দুজনে সুন্দর জীবন গড়ার স্বপ্ন নিয়ে পাড়ি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে। আর মিলেমিশে বসবাস করছেন ভার্জিনিয়া শহরে। সেখানে দুজন দুটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন বলে জানা যায়। করোনা সংকটের আগে প্রেমের টানে ভিনদেশি তরুণীদের বাংলাদেশে ছুটে আসার গল্প ছিল মানুষের মুখে মুখে। অবশ্য করোনাও এমন প্রেমকে হার মানাতে পারেনি। এই কয়দিন আগেই প্রাণঘাতী করোনা সংকটের মধ্যে বাংলাদেশি এক মেয়ে ভিডিও কলের মাধ্যমে বিয়ে করেন পাকিস্তানি এক ছেলেকে। বেশ ভিন্ন রকম এক আবহে এমন বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। বিয়ে সম্পন্ন হলে কাজিকে বেশ খুশি দেখাল, এমন বিয়েতে উপস্থিত থাকতে পেরে তিনি বেশ আনন্দিত বলে জানালেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে ভার্চুয়াল প্রেম পরিণতি যেন অহরহই ঘটছে। বাংলাদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হল ফেইসবুক। তাই এখানে বেশিরভাগ ঘটনাই ঘটে ফেইসবুক কেন্দ্রিক। সাম্প্রতিক সময়গুলোতে ফেইবুক কেন্দ্রিক প্রেম কিংবা ভালোবাসা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রতারণাপূর্ণ বলে জানান অনেকেই। তাদের মতে, ফেইবুককে কাজে লাগিয়ে এখন অনেকেই সংঘবদ্ধ অপরাধ সংগঠিত করছে। আর এমন সংগঠিত অপরাধমূলক কাজের বেশিরভাগই হল প্রতারণা। বিশেষ করে প্রেমের সম্পর্ক তৈরির মাধ্যমে একটা সময় প্রতারণা করাই এদের কাজ। এরপর শুরু হয় ব্লাকমেইল করা। এর মাধ্যমে পরবর্তীতে মোটা অঙ্কের টাকাও হাতিয়ে নেয় বলে জানা যায়। তাছাড়া, অন্যরকম বিষয়ও আছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকের কারণেই অনেকেই এখন একাধিক রিলেশনে থাকে বলেও জানা যায়। একজনের সাথে ব্রেকআপ হলেও যেন আরেকজন পরবর্তী ডেটিং এর জন্য রেডি থাকে। এমনটাই ঘটছে বলে জানান অনেক তরুণ। অবশ্য বেশ কয়েকজন তরুণীও এমন অভিযোগ করে। ফলে বোঝাই যাচ্ছে, ছেলে কিংবা মেয়ে কারোই খুব একটা ভরসা নাই এমন ফেইসবুক কেন্দ্রিক সম্পর্কের উপর।

অবশ্য মনোবিজ্ঞানীদের মতে, প্রযুক্তির যেমন অনেক উপকারিতা রয়েছে। তেমনি বেশ কিছু অপকারিতাও রয়েছে। এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক কেন্দ্রিক কিংবা ভার্চুয়াল জগতে যে সমস্ত বিষয় চর্চিত বা অনুশীলন হচ্ছে এতে করে একসময় তা তরুণ তরুণীদের আচরণগত একটা পরিবর্তন চলে আসতে পারে। কারণ নেতিবাচক দিকগুলো ভার্চুয়ালি চর্চা করতে করতে একসময় ব্যক্তিগত জীবনেও এমন প্রভাব পড়তে পারে।

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা হয়েও অদম্য ইচ্ছা ফাহিম এখন ফ্রিল্যান্সিং দুনিয়ায়

অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সব ঠিকঠাকই ছিল। এর পর থেকে দুরারোগ্য এক ব্যাধিতে হাত-পায়ের পেশিগুলো শুকিয়ে যেতে থাকে। আর এখন তো অন্যের সাহায্য ছাড়া নড়াচড়াই করতে পারেন না। মাগুরার সেই ফাহিমুল করিম এখন টপ রেটেড ফ্রিল্যান্সার, পরিবারের ভরসার নাম।

ছোটবেলায় আর দশটা ছেলের মতো স্বাভাবিকই ছিলেন। স্কুলে যাওয়া, বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা, পুকুরজুড়ে সাঁতরানো আরো কত কী। পড়ালেখার পাশাপাশি দুষ্টুমিতেও সবাইকে ছাড়িয়ে যেতেন। এ জন্য মা-বাবার কাছে নালিশও কম আসেনি। কিন্তু মায়ের বকুনি, বাবার পিটুনি কোনো কিছুই ফাহিমকে আটকে রাখতে পারত না। স্কুল থেকে ফিরে টেবিলে বইগুলো রেখেই দে ছুট। ফাহিমকে আর পায় কে। এভাবেই চলছিল।

তখন চতুর্থ শ্রেণিতে পড়েন ফাহিম। কয়েক দিন পর বার্ষিক পরীক্ষা। তার আগেই হঠাৎ অচেনা এক অসুখ হানা দেয় তাঁর শরীরে। এ-হাসপাতাল থেকে ও-হাসপাতালে ঘুরে ঘুরে ফাহিমের বাবা একসময় জানতে পারেন জটিল এক অসুখে আক্রান্ত তাঁর ছেলে। ফিকে হয়ে আসে ফাহিমের স্বপ্ন। দিনভর পাড়া মাতিয়ে রাখা ছেলেটাকে পা টেনে টেনে হাঁটতে হয়। শরীরও দুর্বল হতে থাকে। একসময় সঙ্গী হয় বিছানা। ধীরে ধীরে শুকিয়ে যেতে থাকে ফাহিমের হাত-পায়ের পেশি। এ অবস্থায়ও পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। কিন্তু ২০১২ সালে বলতে গেলে অকেজো হয়ে পড়ে পুরো শরীর। হাতের আঙুলগুলো শুধু সচল। মাগুরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের এই মেধাবী শিক্ষার্থীর লেখাপড়ার ইতি ঘটে ওই অষ্টমেই।

মাগুরা শহরের একটি নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে ফাহিম। বাবা রেজাউল করিম একটি বেসরকারি কম্পানির বিপণন বিভাগে কাজ করেন। মা হাজেরা খাতুন গৃহিণী। একমাত্র বোন স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে পড়ে। রেজাউল করিম জানান, ফাহিমের সমস্যা প্রথম ধরা পড়ে ২০০৬ সালে। বাংলাদেশে বেশ কয়েক দফা চিকিৎসার পর ২০০৮ সালে নিয়ে যান কলকাতায়। সেখানে চিকিৎসকরা জানান, তাঁর ছেলে ডুচেনেমাসকিউলার ডিস্ট্রফিতে আক্রান্ত। ধীরে ধীরে পেশি দুর্বল হয়ে যাবে। বংশগত রোগটির কোনো স্থায়ী চিকিৎসা নেই। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সমস্যা জটিল হতে পারে। চিকিৎসকরা ফিজিওথেরাপির পরামর্শ দেন। পাশাপাশি ফলোআপের জন্য কয়েক মাস পর আবারও যেতে বলেন। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে আর চিকিৎসা করাতে পারেননি রেজাউল করিম। ২০১২ সাল থেকে একেবারে বিছানায় ফাহিম।

তবে তিনি থেমে থাকেননি। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে জগত্খ্যাত হওয়া বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংয়ের কথা জানা ছিল তাঁর। হকিংয়ের জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে মনের শক্তিকে কাজে লাগাতে থাকেন ফাহিম। কম্পিউটার শেখা শুরু করেন। কম্পিউটার চালানো পুরোপুরি আয়ত্তে এলে একসময় নিজেকে সঁপে দেন ফ্রিল্যান্সিং দুনিয়ায়। অদম্য ইচ্ছা ও অধ্যবসায়ের কাছে হার মানে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা। ফাহিম এখন ফ্রিল্যান্সিংয়ে আপওয়ার্কের অন্যতম টপ রেটেড ফ্রিল্যান্সার। তাঁর প্রতি ঘণ্টার রেট আট ডলার।

মাগুরা শহরের মোল্যাপাড়ায় ফাহিমদের বাড়ি। একদিন সেখানে গিয়ে দেখা গেল, বিছানায় বসে আছেন। সামনে ল্যাপটপ। শীর্ণ হাতের আঙুল মাউসে রেখে কাজ করছেন। কথায় কথায় ফাহিম জানালেন, জেএসসি পরীক্ষার দুই-তিন দিন আগে থেকে হাঁটাচলা বন্ধ হয়ে যায়। অসুস্থ শরীর নিয়েই পরীক্ষা দিয়েছিলেন। পরীক্ষার ফলও ভালো হয়েছিল। কিন্তু শরীর আর সায় দিচ্ছিল না। ফলে ক্লাস নাইনে আর ভর্তি হননি। বাসায় থাকতে থাকতে সময়গুলো বিরক্তিকর ঠেকছিল। একসময় হতাশা এসে ভর করে। শুরুর দিকে হতাশা কাটাতে বাসার পাশের দুটি ছেলেকে প্রাইভেট পড়াতেন। এভাবে চলে বছরখানেক। প্রাইভেট পড়ানোর টাকা দিয়ে প্রথমে একটি স্মার্টফোন কেনেন। তারপর ফেসবুকের মাধ্যমে একদিন জানতে পারেন ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে আয় করার নানা উপায়। প্রথমে মোবাইল দিয়েই কাজ শেখার চেষ্টা করেন। কিন্তু ওভাবে বেশি দূর এগোনো যাচ্ছিল না। দরকার ল্যাপটপের। মায়ের কাঁথা সেলাইয়ের জমানো টাকা ও ব্যাংক লোন নিয়ে ল্যাপটপ কেনেন ফাহিম।

২০১৬ সালের শেষ দিকে শুরু হয় ফাহিমের গ্রাফিকস ডিজাইনার হয়ে ওঠার লড়াই। গুগল থেকে এবং ইউটিউবে ভিডিও দেখে দেখে কাজ শিখতে থাকেন ফাহিম। শুরুর দিকে মাগুরাসহ বিভিন্ন জেলার অভিজ্ঞদের সহায়তা নেন অনলাইনে-অফলাইনে। ২০১৭ সালে প্রথমে আউটসোর্সিংয়ের ওয়েবসাইট অনলাইন ফাইবারে যোগ দেন। প্রথম দিনেই কাজ পান। পাঁচ ডলারের কাজ। কিন্তু ক্লায়েন্ট খুশি হয়ে বোনাস দেন ১০ ডলার। তারপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। এখন ফাইবারে লেবেল টু সেলার আর আপওয়ার্কে টপ রেটেড ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করছেন ফাহিম। গত তিন বছরে পাঁচ শতাধিক প্রকল্পে কাজ করেছেন। এ পর্যন্ত তাঁর সব মিলিয়ে আয় ১০ হাজার ডলারের বেশি। করোনার কারণে বর্তমানে অবশ্য কাজ কমে গেছে। তবু দক্ষতার কারণে একবারে বেকার হয়ে পড়েননি। মাসে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার কাজ করছেন। পাশাপাশি বাসায় ও অনলাইনে কাজ শেখাচ্ছেন অনেককে।

হাতের আঙুলগুলো যার ঠিকমতো কাজ করে না, কিভাবে তিনি এত দূর এলেন? ফাহিমকে দেখলে যে কারো মনে জাগবে এমন প্রশ্ন। এ বিষয়ে ফাহিম বলেন, ‘স্টিফেন হকিং আমার মতো ডিজেবল ছিলেন। আমার মতো মানুষদের জন্য তাঁর একটা কথা ছিল যে ফিজিক্যালি ডিজেবল হও; কিন্তু মানসিকভাবে ডিজেবল হয়ো না। কারণ শারীরিক অক্ষমতা ভালো কিছু করা থেকে আটকে রাখতে পারে না। এ কথাটি সব সময় মনে রেখেছি।’

মাগুরাসহ দেশের অনেকেই তাঁর কাছে পরামর্শ চায়। ফাহিম জানান, ফ্রিল্যান্সার হতে হলে অনেক ধৈর্যের প্রয়োজন। অধৈর্যের কারণে অনেক তরুণ কাজ শুরু করেন ঠিকই; কিন্তু টিকে থাকতে পারেন না। ধৈর্য ধরে টিকে থাকলে এটি আত্মনির্ভরতা ও উন্নত কর্মসংস্থানের অনন্য এক উপায়।

তবে দীর্ঘদিন হয়তো এই কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন না। তাই পরিকল্পনা আছে টাকা জমিয়ে কোনো ব্যবসা শুরু করার, যেখানে আরো বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হয়। বর্তমানে পরিবারের খরচের বড় একটি অংশের জোগান আসে তাঁর আয় থেকে। আগে ভাড়া বাসায় থাকতে হতো ফাহিমের পরিবারকে। এখন ফাহিমের জমানো টাকায় শহরের মোল্যাপাড়ায় কেনা চার শতক জমিতে বাড়ি করে সেখানে উঠেছেন তাঁরা। তথ্য-প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহেমদ পলক গত বছর মাগুরায় সরকারি এক অনুষ্ঠানে এসে ফাহিমের বিষয়টি জেনে তাঁকে একটি ল্যাপটপ দিয়েছেন। হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ দিয়েছে এক লাখ টাকার অনুুদান।

মায়ের সাহায্য ছাড়া নড়তে পারেন না ফাহিম। মা হাজেরা খাতুন জানান, রাত জেগে ফাহিম কাজ করে। সেই সঙ্গে তিনি জেগে থাকেন ফাহিমকে সহযোগিতা করার জন্য। নিজের শরীরের কোনো অংশই এতটুকু সরানোর ক্ষমতা নেই। খাওয়াদাওয়া, গোসল থেকে শুরু করে সব কাজেই ফাহিমকে সহযোগিতা করেন তিনি।

ছেলের চিকিৎসা বিষয়ে রেজাউল করিম জানান, ২০০৮ সালে ভারতে ডাক্তার দেখানোর পর বড় পর্যায়ে আর কোনো চিকিৎসা হয়নি ফাহিমের। এত দিন অর্থাভাবে বিষয়টি চিন্তা করতে পারিনি। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের বেঙ্গালুরে নেওয়ার ইচ্ছা আছে।

সূত্রঃ কালের কন্ঠ