কুড়িগ্রামে কবর খুড়তেই ভেসে উঠলো আরবি হরফ

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে মৃত ব্যক্তির জন্য কবর খুড়তে গিয়ে ঘটেছে এক অলৌকিক ঘটনা। কবর খোড়ার সময় কবরের গায়ে ভেসে ওঠেছে আরবি হরফ যা দেখতে ভিড় জমিয়েছেন উৎসুক জনতা।

বৃহস্পতিবার ৭ জানুয়ারি সকালে ফুলবাড়ী উপজেলার পশ্চিম পানিমাছ কুটি গ্রামে একটি কবর খুড়তে গিয়ে এই অলৌকিক ঘটনা ঘটে।মৃত ওই ব্যক্তির নাম ইসরাইল আলী(৪২) তিনি ওই গ্রামের মৃত জব্বার আলীর ছেলে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ইসরাইল আলী বুধবার ঢাকায় ব্র্যাকের মহাখালী শাখায় কর্মরত অবস্থায় হার্ট অ্যাটাকে গুরুতর অসুস্থ হন। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য মগবাজার হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।বৃহস্পতিবার সকালে তার কবর খুড়তে গিয়ে কবর খননকারীরা প্রথমে কবরের গায়ে আরবি হরফ দেখতে পান।

কবর খননকারী সাহেব আলী, আমির আলী ও আব্দুল মালেক বলেন,কবরের মাটি কাটার সময় কবরের গায়ে আরবী হরফ ভেসে উঠে।বহুবার মাটি সরিয়ে নেয়া হলেও লেখা গুলি অক্ষত অবস্থায় রয়েছে।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার সাথে সাথেই দূরদূরান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক উৎসুক জনতা কবরটি একনজর দেখার জন্য ভিড় জমান।

কবরে আরবি হরফের বিষয়ে ফুলবাড়ী কাছারি বাজার জামে মসজিদের খতিব আব্দুল মালেক জানান, কবরের পশ্চিম দেয়ালে আরবি হরফে ইয়াসিন লেখাসহ অনেকগুলো আরবি হরফ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হারুনর রশীদ হারুন জানান, এটি একটি অলৌকিক ঘটনা কবরের গায়ে আরবি হরফ দেখার জন্য বিপুলসংখ্যক উৎসুক জনতার ভিড় ঠেকাতে ফুলবাড়ী থানা পুলিশের সহায়তা নেওয়া হয়েছে এবং বেলা ২ টায় ওই কবরে মৃত ব্যক্তিকে দাফন করা হবে বলেও জানান তিনি।

প্রেমিকার রক্তনালী কেটে দিলো প্রেমিকের মা

প্রেমিকের মায়ের সাথে দেখা করতে গিতে মারাত্মক জখম হয়ে ফিরেছে কলেজ পড়ুয়া এক প্রেমিকা। ওই যুবতীর বামহাতের টেন্ডন ও রক্তনালী কাটা অবস্থায় চিলমারী হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার জুম্মাপাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে।

জানাগেছে, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার মাচাবান্দা এলাকার আনিছুর রহমানের মেয়ে আশুরা আক্তার প্রিয়া (১৯)’র সাথে জুম্মাপাড়া (কাউয়াপাড়া) এলাকার আমিনুল ইসলামের পুত্র আল মাহমুদ মানিক (২৩) এর প্রেমের সম্পর্ক চলছিলো।

বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রিয়া মানিকের মায়ের সাথে দেখা করতে যায়। সেখান থেকে জনৈক রিক্সা চালক সঙ্গাহীন অবস্থায় প্রিয়াকে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে ভর্তি করায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করেন।

আশুরা আক্তার প্রিয়া জানায়, আল মাহমুদ মানিকের সাথে ১বছর ৫মাস ধরে তার প্রেমের সম্পর্ক চলছিলো। বর্তমানে মানিক তাকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করায় সে মানিকের মায়ের সাথে দেখা করতে যায়। বাড়ীতে পৌঁছার আগেই বাড়ীর পাশ্বের চাতালে মানিকের মা তাকে বাঁধা দেয় এবং গাল-মন্দ করতে থাকে। এক পর্যায়ে মানিকের মা প্রিয়ার হাত কেটে দিলে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে বলে জানায়।

প্রেমিক আল মাহমুদ মানিকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ফাতেমাতুজ জোহরা জানান, প্রিয়ার বাম হাতের টেন্ডন ও রক্তনালী দুটোই কেটে গেছে। টেন্ডন মেরামতসহ উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করা হয়েছে।

জখম হয়ে ফিরেছে কলেজ পড়ুয়া এক প্রেমিকা। ওই যুবতীর বামহাতের টেন্ডন ও রক্তনালী কাটা অবস্থায় চিলমারী হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার জুম্মাপাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে।

জানাগেছে, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার মাচাবান্দা এলাকার আনিছুর রহমানের মেয়ে আশুরা আক্তার প্রিয়া (১৯)’র সাথে জুম্মাপাড়া (কাউয়াপাড়া) এলাকার আমিনুল ইসলামের পুত্র আল মাহমুদ মানিক (২৩) এর প্রেমের সম্পর্ক চলছিলো।

বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রিয়া মানিকের মায়ের সাথে দেখা করতে যায়। সেখান থেকে জনৈক রিক্সা চালক সঙ্গাহীন অবস্থায় প্রিয়াকে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে ভর্তি করায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করেন।

আশুরা আক্তার প্রিয়া জানায়, আল মাহমুদ মানিকের সাথে ১বছর ৫মাস ধরে তার প্রেমের সম্পর্ক চলছিলো। বর্তমানে মানিক তাকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করায় সে মানিকের মায়ের সাথে দেখা করতে যায়। বাড়ীতে পৌঁছার আগেই বাড়ীর পাশ্বের চাতালে মানিকের মা তাকে বাঁধা দেয় এবং গাল-মন্দ করতে থাকে। এক পর্যায়ে মানিকের মা প্রিয়ার হাত কেটে দিলে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে বলে জানায়।

প্রেমিক আল মাহমুদ মানিকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ফাতেমাতুজ জোহরা জানান, প্রিয়ার বাম হাতের টেন্ডন ও রক্তনালী দুটোই কেটে গেছে। টেন্ডন মেরামতসহ উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করা হয়েছে।

কার্জনেক্স’৯১ এর উদ্যোগে শীতার্তদের মাঝে মানবিক সহায়তা হিসেবে কম্বল বিতরণ

কার্জনেক্স’৯১ (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৯১-১৯৯২ সেশনের কার্জন হল ও এনেক্স ভবনের সাবেক শিক্ষার্থীদের সংগঠন) এর উদ্যোগে গতকাল ২৩ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে শীতার্তদের মাঝে মানবিক সহায়তা হিসেবে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। রংপুর জেলার শ্যামপুর উপজেলাতে উক্ত মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। গত ১৯ ডিসেম্বর’২০ইং তারিখে কার্জনেক্স’৯১ সংগঠনটি জুম বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় ঢাকার হাতিরঝিলে ‍জুম বাংলার শিক্ষার্থীদের মাঝে শীতবস্ত্র ও খাবার বিতরণ করেছে।

কার্জনেক্স’৯১ এর সদস্য ও অগ্রণী ব্যাংক রংপুর শাখার ম্যানেজার জনাব আহসান হাবিব বাদশাহ‘র  সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও উপস্থিতিতে বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। শ্যামপুর মহাবিদ্যালয়ের প্রশাসন ও শিক্ষার্থীগন কম্বল বিতরণে সার্বিক সহযোগিতা করেন।

কার্জনেক্স’৯১ সংগঠনটি প্রতিনিয়ত মানবিক সহায়তা করে যাচ্ছে, মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়িয়েছে, ভবিষ্যতেও এমন মানবিক কাজ অব্যাহত থাকবে বলে কার্জনেক্স’৯১ সংগঠনটির সভাপতি রকীব আহমেদ আশা ব্যক্ত করেন ।

তিনি আরো জানান, আগামী ২৬ ডিসেম্বর তারিখে লালমনিরহাট সদরে শীতার্তদের মাঝে মানবিক সহায়তা হিসেবে কম্বল বিতরণ করা হবে। কার্জনেক্স’৯১ বন্ধু ডঃ হাফিজুর রহমানএর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও উপস্থিতিতে বিতরণ কাজ সম্পন্ন হবে বলে জানান। ইতোমধ্যেই প্রায় সকল প্রস্তুতি শেষ হয়েছে।

কার্জনেক্স’৯১ সংগঠনটির মানবিক ফান্ডে আর্থিক সহায়তা করেছে তাদের সকলকে সভাপতি রকীব আহমেদ অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ।

কবে মিলবে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ ব্যবস্থা

উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামের সদরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালসহ কুড়িগ্রাম জেলায় সরকারি কিংবা বেসরকারি পর্যায়ে কোনও হাসপাতালে ইনসেনটিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) বা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের সুবিধা নেই। স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, জেলা হাসপাতালের নতুন ভবন নির্মাণ শেষ না হওয়া, সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থার অভাব এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসকসহ অ্যানেসথেসিস্ট না থাকায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরও সহসাই আইসিইউ সুবিধা পাচ্ছেন না কুড়িগ্রামের রোগীরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেখানে জেলার জেনারেল হাসপাতালেই আইসিইউ সুবিধা নেই সেখানে জেলার অন্যান্য হাসপাতালে এই সুবিধা প্রত্যাশা করা অবাস্তব। গুরুতর অসুস্থ কোনও রোগীর উন্নত চিকিৎসা সেবার জন্য ৫৫ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে যেতে হয় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ফলে চলতি শীত মৌসুমে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে গেলেও রোগীদের নিবিড় পরিচর্যা সুবিধা নিয়ে সংকট থেকে যাচ্ছে।

কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এ হাসপাতালে আইসিইউ সুবিধা নেই। পরবর্তীতে এটির শয্যা সংখ্যা বাড়িয়ে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও চিকিৎসক আর স্বাস্থ্যসেবার সংকটে ধুঁকে ধুঁকে চলছে হাসপাতালটি। চিকিৎসকের ৪২টি পদের বিপরীতে বর্তমানে ২১টি পদই শূন্য রয়েছে। রোগীদের জন্য নিবিড় পরিচর্যা সুবিধা দূরের কথা, এই ইউনিটের জন্য অন্তত চার জন অ্যানেসথেসিস্ট থাকা প্রয়োজন হলেও পুরো হাসপাতালে রয়েছেন মাত্র একজন অ্যানেসথেসিস্ট। এছাড়াও নেই সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা।

সূত্র আরও জানায়, ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ৫০ শয্যার কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালটিকে পরবর্তীতে ২শ’ ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণের লক্ষ্যে ২০১৩ সালের নভেম্বর থেকে ৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হলেও কয়েক দফা সময় বাড়িয়ে ৭ বছরেরও নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি। ফলে আধুনিক চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন জেলাবাসী। তাদের ভরসার এই হাসপাতালটি নানা সমস্যার কারণে নিজেই নিবিড় পরিচর্যার অভাবে ধুকছে।

জেনারেল হাসপাতালের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে আইসিইউ সংক্রান্ত সুবিধা আছে কিনা তা জানতে চাওয়া হলেও আইসিইউ সুবিধা বাড়াতে ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে কোনও নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। ফলে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরও সহসাই এই হাসপাতালে আইসিইউ সুবিধা প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. নবীউর রহমান বলেন, ‘আমাদের কাছে শুধু জানতে চাওয়া হয়েছে আইসিইউ সুবিধা আছে কিনা, থাকলে কত বেডের। আমরা জানিয়েছি যে কুড়িগ্রাম হাসপাতালে আইসিইউ সুবিধাই নেই।’

জেলায় অন্তত ২০ বেডের আইসিইউ ইউনিট থাকা প্রয়োজন জানিয়ে এই চিকিৎসা কর্মকর্তা বলেন, ‘আইসিইউ সুবিধার জন্য প্রথম জরুরি অ্যানেসথেসিস্ট। কিন্তু আমাদের হাসপাতালে মাত্র একজন অ্যানেসথেসিস্ট রয়েছেন। এ অবস্থায় আইসিইউ স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিসহ অ্যানেসথেসিস্টও নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।’

জানতে চাইলে সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান জানান, ‘জেলার কোনও হাসপাতালেই আইসিইউ সুবিধা নেই। জেনারেল হাসপাতালে এখনও সেন্ট্রাল অক্সিজেন সাপ্লাই সিস্টেম চালু করা সম্ভব হয়নি। সেটি হলে আমরা রোগীদের অন্তত হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা দিতে পারবো।’

এক প্রশ্নের জবাবে সিভিল সার্জন বলেন, ‘আইসিইউ সুবিধা চালু করার জন্য আমরা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। কর্তৃপক্ষ চাইলে সে সুবিধা চালু হতে পারে।’

তবে চিকিৎসকসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির সংকট থাকায় ঠিক কত দিনে জেলার হাসপাতালে আইসিইউসহ উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হবে তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
জনমনে প্রশ্ন কুড়িগ্রামবাসীর প্রানের দাবী পুরন হবে কবে?

 

অনন্য দৃষ্টান্ত : বিদ্যালয়ের কাজ শেষে ফেরত দিলেন টাকা

অনলাইন ডেস্কঃ জয়পুরহাট জেলার ক্ষেতলাল উপজেলার হিন্দা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাহবুবুর রহমান। এবছর উপজেলার পাঁচটি বিদ্যালয়ে উন্নায়ন বাবদ দেড় লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিলো। বিদ্যালয়ের কাজ করতে গিয়ে অনন্য নজির স্থাপন করেন শিক্ষক মাহবুবুর রহমান।

নির্দিষ্ট কাজ শেষে তিনি ৭৪ হাজার ৩৭৪ টাকা ফেরত দেন। দেড় লাখ টাকার কাজ মাত্র ৪৯ হাজার টাকায় শেষ করেন তিনি।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে শিক্ষক মাহবুবুর রহমান বলেন, কাজের ক্ষেত্রে গাড়ি ভাড়া বাচিয়ে পায়ে হেটে গিয়েছি। বিদ্যালয়ের দারোয়ানকে কাজে লাগিয়েছি। নিজের পকেটের টাকায় খেয়েছি তবুও বিদ্যালয়ের টাকায় হাত দেই নি।

এই প্রসঙ্গে বিদ্যালয়টির প্রধানশিক্ষক আফরোজ আরা বানু বলেন, আমরা কাজের জন্য সরকার থেকে পেয়ে ছিলাম ১ লাখ ২৪ হাজার টাকা। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহবুবুর রহমান কাজটি মাত্র ৪৯ হাজার টাকায় করে ফেলেন।

বাকী টাকা কি করবেন জানতে চাইলে প্রধানশিক্ষক বলেন, স্কুলের আরো দুইটি রুমের ফ্লোর টাইলস করার চিন্তা আছে।

নীলফামারীতে “লাম্পি স্কিন” রোগে আক্রান্ত গরু, দুশ্চিন্তায় খামারীরা

ক্যাপরি পক্স ভাইরাস সংক্রমণে নীলফামারীর ছয় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও গ্রামে গবাদী পশু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এদিকে কোরবানীর ঈদের আগেই এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় বিপাকে পড়েছেন খামারিরা।

জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মোনাক্কা আলী জানান, প্রায় একমাস ধরে এ ক্যাপরি পক্স ভাইরাসটি গ্রাম অঞ্চলে গরুর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। এই অসুখটিকে ‘ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ বলে জানিয়েছেন বিষেষজ্ঞরা। এই রোগে আক্রান্ত পশুর চামড়া ফুলে গোটা গোটা হচ্ছে। পরে তা ঘায়ে পরিণত হয়ে ফেটে রস বের হয়। এমনকি পশুর গায়ে জ্বর হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, রোগ প্রতিরোধে মশা, মাছি থেকে পশুকে দুরে রাখতে মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এছাড়াও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

জানা গেছে সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর গ্রামে ৫টি, জেলা সদরের বাহালিপাড়া গ্রামে ২টি ও কিশোরীগঞ্জ উপজেলার নিতাই গ্রামে ২টিসহ মোট ৯টি গরু এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।

সদর উপজেলা জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা জানান, ক্যাপরি পক্স ভাইরাসের মাধ্যমে ‘লাম্পি স্কিন’ নামের রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। এর সুনির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। লক্ষণ দেখে (সিড্রোমেটিক ট্রিটমেন্ট) আক্রান্ত পশুকে পেনিসিলিন, অ্যান্টি হিস্টামিন ও জ্বর হলে প্যারাসিটামল দিয়ে ভাল ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে। অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে খাবার সোডা পরিমাণ মত পানিতে মিশিয়ে আক্রান্ত পশুর শরীর পরিস্কার রাখার পরামর্শ দেয়া হয়েছে খামারীদের।

জেলা সদরের রামনগর ইউনিয়নের বাহালী পাড়ার সরকার পাড়া গ্রামের কৃষক সেকেন্দার আলী জানান, আমার তিনটি গরু ওই রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এ ছাড়াও গ্রামের প্রত্যেক বাড়িতে এই ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছে প্রায় শতাধিক গরু। গরু তিনটির পেছনে ১০ হাজার টাকা খরচ করেও এখন সুস্থ করতে পারিনি।

হিলিতে ফেনসিডিল ও ইয়াবাসহ আটক ২

দিনাজপুরের হাকিমপুরে হিলিতে পৃথক ৩টি মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে স্বামী স্ত্রী সহ ৫ মাদক চোরাকারবারীকে আটক করেছে থানা পুলিশ।
আজ শনিবার সকালে উপজেলার নওয়াপাড়া, বৈগ্রাম ও ধরন্দা গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন, দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার বৈগ্রাম গ্রামের রাহানুর ইসলাম (৩২), ধাওয়া নশিপুর গ্রামের মনিরুল ইসলাম মোহন (৩০), নওয়াপাড়া গ্রামের হান্নান আলী (৪০), ও তার স্ত্রীজান্নাতি বেগম (২৩) এবং পাশ্ববর্তী জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার রামভদ্রপুর গ্রামের আলম হোসেন (৩০)।
হাকিমপুর থানা ওসি আব্দুর রাজ্জাক আকন্দ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সঙ্গীও ফোর্স নিয়ে উপজেলা নওপাড়া গ্রামে ৫শ পিচ ইয়াবা সহ স্বামী স্ত্রী ও মনিরুল ইসলাম মোহনকে, বৈগ্রাম গ্রামে অভিযান চালিয়ে রাহানুরকে ২০ বোতল ফেনসিডিল ও অপরদিকে ধরন্দায় অভিযান চালিয়ে আলমকে ২৫৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আটক করা হয়। নিয়মিত মামলা দায়ের পূর্বক তাদের দিনাজপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়।

একজন মানবিক পুলিশ অফিসারের গল্প

পুলিশ জনতা, জনতাই পুলিশ। বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর অর্জনের পাল্লা, সুনামের খাতা প্রতিনিয়ত বেড়ে যাচ্ছে। একজন নেতা যেমন কর্মীদের অনুপ্রেরণা দিয়ে নেতৃত্ব প্রদান করে সংগঠনকে এগিয়ে নিয়ে যান, একজন কোচ যেভাবে কনফিডেন্স লেভেল তৈরি করে শিষ্যের কাছ থেকে সেরাটুকু বের করে নিয়ে আসেন একই ভাবে তিনি অফিসারদের কনফিডেন্স লেভেল তৈরি করে কাজ করিয়ে নেন।
শত বিপদে, প্রতিকূলতার মধ্যে যিনি বট গাছের ন্যায় আগলে রাখেন অধীনস্থ পুলিশ কর্মকর্তা, সদস্যদের। বাংলাদেশ পুলিশের কিংবদন্তী হাকিমপুর -হিলি সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আখিউল ইসলাম।
দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর ও ঘোড়াঘাট উপজেলার পরিবর্তনের হাওয়া, কাজের গতিশীলতা, সফলতা সবকিছুর পেছনে এই মানুষটার অংশগ্রহন। নাগরিক সেবা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিনিয়ত তার নির্দেশে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি অধিনস্ত পুলিশ সদস্যরা।
চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি করে অনেকেরই অনেক কিছু হারিয়ে ফেলেন। অনেকের মোবাইল ফোন চুরি হয়। থানায় জিডি করার পর চুরি হওয়ার মোবাইল কিছু দিন পর তিনি নিজেই উদ্ধার করে মালিকের বাড়িতে গিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছেন।
একজন মানবিক অফিসার, নিষ্ঠাবান অফিসার ও অসাধারণ ভালো মানুষ আখিউল ইসলাম। এমন অসংখ্য নির্দেশনা তিনি তৈরি করে অধীনস্থ অফিসারদের নিয়ে বাস্তবায়ন করে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাওয়া তিনি এখন হাকিমপুর ও ঘোড়াঘাট বাসীর কাছে সুপার হিরো। কিন্তু হাকিমপুর ও ঘোড়াঘাট বাসীকে কাঁদিয়ে অল্প দিনের মধ্যেই তিনি পদোন্নতি নিয়ে চলে যাবেন অন্য স্থানে।
সকাল বেলা বারান্দায় গ্রামের একজন বয়স্ক ভদ্রলোক এবং ভদ্রমহিলা থানায় এসেছে, তারা এএসপির সাথে কথা বলতে চায়। এএসপি আখিউল ইসলাম তাদের ভিতরে আসার জন্য বললেন। তারা অফিসে ঢোকার সময় ইতস্থত বোধ করছিল। তাদের পায়ে চটি জুতা পরা ছিল। তারা সে জুতা খুলবে কি খুলবে না সেটা নিয়ে দ্বিধায় ছিল। আমি তাদের দিকে লক্ষ্য রাখছিলাম এবং বিষয়টা খেয়াল করলাম। এএসপি তাদের বললো আপনারা জুতা পায়ে দিয়ে অফিসে চলে আসেন। তাদের মুখে দেখলাম প্রশান্তির হাসি। তাদেরকে চেয়ারে বসতে বললেন। তারা অনেক স্বস্থি পেলেন। বয়স্ক দম্পতি গ্রামের একেবারেই সহজ সরল খাঁটি মানুষ। ব্যক্তিগত একটি সমস্যায় পড়েছে এবং তার সমাধানের আশায় এসেছেন সার্কেল এএসপির কাছে। বয়স্ক মানুষটি কথা তিনি ধৈর্য সহকারে শুনলেন এবং সমাধানের চেষ্টা করলেন। এই ঘটনার আগেও আমি লক্ষ্য করেছি মানুষ অফিসে এসে পায়ের জুতা খোলা নিয়ে বিরম্বনায় থাকে। পায়ে জুতা পড়ে এসে মন খুলে কথা বলতে পারলে মানুষ স্বস্থি বোধ করে বলে তিনি অফিস রুমের দরজার দুই পাশে নোটিস লাগায়ে দেন এটা জনগণের অফিস এটা আপনার অফিস। আপনি জুতা পায়ে দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করুন। সেই থেকে অবধি অফিসটা জনগণের অফিস হয়ে গেল।

হিলিতে বৃক্ষরোপন কর্মসূচীর উদ্বোধন

দিনাজপুরের হিলিতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশীত তিনটি করে গাছ রোপনের নির্দেশনা মোতাবেক বৃক্ষরোপন কর্মসূচীর উদ্বোধন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টায় হিলি পৌরসভা প্রাঙ্গনে ফলদ বৃক্ষ রোপনের মাধ্যমে পৌরমেয়র জামিল হোসেন চলন্ত এই কর্মসূচীর শুভ উদ্বোধন করেন। পর্যায়ক্রমে পৌরসভার বিভিন্ন স্কুলকলেজ, বাসাবাড়িসহ বিভিন্ন উন্মুক্ত স্থানে ফলদ, বনজ, ওষধি গাছ রোপন করা হবে। এসময় সেখানে পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক, পৌরকর্মকর্তা কর্মচারী এসোসিয়েশনের সভাপতি সাইফুল আলম ও সাধারন আরশাদ আলী উপস্থিত ছিলেন।
হিলি পৌরসভার মেয়র জামিল হোসেন চলন্ত বলেন, সারাদেশে সবুজ বেষ্টনি গড়ে তুলতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল দলের নেতাকর্মীসহ সকল দেশবাসীকে ফলজ,বনজ, ওষধিগাছসহ তিনটি করে গাছ রোপনের আহবান জানিয়েছেন। সেই নির্দেশনা মোতাবেক আজ ফলজ বৃক্ষরোপনের মাধ্যমে এই কর্মসূচীর উদ্বোধন করা হলো।

ভারী বর্ষণের প্রভাবে তিস্তার পানি বৃদ্ধি, বন্যার আশঙ্কা

ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর ক্রমেই বৃদ্ধি পেয়ে লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার তিস্তা চর অঞ্চল গুলোতে আগাম বন্যা ও জলাবন্ধতা দেখা দিয়েছে। এদিকে তিস্তার পারের মানুষ বন্যার আশঙ্কা করছেন।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেল ৫টায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা দোয়ানী তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদ সীমার ১০ সেন্টিমিটর নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা ব্যারেজ দোয়ানী পয়েন্টে তিস্তা পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ৫২ সেন্টিমিটর।
ব্যারাজ রক্ষার্থে ৪৪টি জলকপাট খুলে পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করছেন পানি উন্নায়ন বোর্ড। জানা গেছে, গত দুই দিন ধরে ভারী বর্ষণের কারণে তিস্তা নদীর চর এলাকা গুলোতে লোকজন পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। পানি বৃদ্ধিতে চরের কৃষকরা ভুট্টা নিয়ে বিপাকে আছেন। উজানের পানি ও ভারী বর্ষণের কারণে বন্যা ও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।
এ দিকে পাটগ্রাম উপজেলায় বুড়িমারী ৭ নং ওয়ার্ডে ৩ শত পরিবার পানি বন্দী খবর পেয়ে পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার মশিউর রহমান ঘটনা স্থালে গিয়ে একটি কালভার্টের মুখ কেটে দিলে ৩ শতটি পরিবারের জলাবন্ধতা নিয়ন্ত্রন করেন।
হাতীবান্ধা উপজেলা গড্ডিমারী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান জানান, আমার ইউনিয়নের ৫ ও ৬ ওয়ার্ডের লোক জন পানি বন্দি হয়ে পড়েছে।
গড্ডিমারী ইউনিয়নের ছয়আনী গ্রামের আমিনুর মিয়া জানান, গড্ডিমারীর ১,২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের পরিবারগুলো নদীর পানি বৃদ্ধিতে প্রতিনিয়তেই দুর্ভোগে পরেন। নতুন করে দেখা দিয়েছে নদী ভাঙ্গন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)’র দোয়ানী ডালিয়া’র নির্বাহী প্রকোশীলী রবিউল ইসলাম জানান, অতি বৃষ্টির কারণে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চর এলাকার কিছু পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়েছে।
সংবাদটি ভালো লাগলে অথবা গুরুত্ত্বপূর্ণ মনে হলে লাইক দিন।