৩০ জনের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল করলো সরকার

মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের স্বপক্ষে প্রমাণ না পাওয়ায় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকার) সুপারিশের ভিত্তিতে আরো ৩০ জনের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল করেছে সরকার। সনদ বাতিল করে ১৮ অক্টোবর গেজেট জারি করা হয়েছে। জামুকার ৬৮তম সভায় এ সুপারিশ করা হয়েছিল।

যাঁদের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল হয়েছে তাঁরা হলেন কুমিল্লার মরহুম সাদেক আলী, আব্দুল গফুর আজাদ এবং চাঁদপুরের মো. শফিকুর রহমান হাওলাদার, মো. ফয়েজ উল্লা খাঁন, মো. নজরুল ইসলাম, মো. খলিলুর রহমান, মৃণাল কান্তি সাহা।

নারায়ণগঞ্জের মো. তারা মিয়া, মো. নুরুল ইসলাম, মৃত মো. আ. জলিল এবং মো. আ. হাকিম।

এছাড়া যশোরের মৃত অমূল্য রতন বিশ্বাস, মৌলভীবাজারের উত্তম দাস, মাগুরার মো. ফুল মিয়া, নীলফামারীর মো. জি এম জুলফিকার, জামালপুরের এ কে এম ফজলুল হক, নরসিংদীর আ. হাই, চাঁপাইনবাবগঞ্জের মরহুম মো. ইসাহাক মিয়া, নওগাঁর মো. আনিছুর রহমান, মো. আনিসুর রহমান খান ও মো. খোরশেদ আলী, কুড়িগ্রামের মো. রমজান আলী ও মৃত অহিদ আলি মণ্ডল, পাবনার মো. হোসেন আলী, মো. আজিজুল হক, মো. মুক্তার হোসেন এবং মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন, নাটোরের মো. শমসের আলী এবং মো. মমতাজ আলীর সনদ বাতিল হয়েছে।

এর আগে গত জুলাই মাসে ১৩৪ জনের মুক্তিযোদ্ধা গেজেট বাতিল করা হয়। তারও আগে আগে গত ৭ জুন বিমান বাহিনী ও বিজিবিতে যোগ দেওয়ার সময় গেজেটভুক্ত হয়েছিলেন এমন এক হাজার ১৮১ জনের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল করা হয়।

শাহজাদপুরের ২৪ জন অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা পাবেন বাড়ি


‘অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।’ – হাসিবুর রহমান স্বপন এমপি

`জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমস্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা’র সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। অতীতে অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ৯’শ টাকার পরিবর্তে বর্তমান সরকার মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা (মাসিক) ১২ হাজার টাকায় উন্নীত করেছে। সেইসাথে বৈশাখী ভাতা বাবদ ২ হাজার টাকা ও বছরের ২ ঈদে বোনাস বাবদ ২০ হাজার টাকাও মুক্তিযোদ্ধাদের দিচ্ছে জননেত্রী শেখ হাসিনা’র সরকার। এছাড়া অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় ১৬ লাখ টাকা (বাড়ি প্রতি) ব্যায়ে শাহজাদপুরের ২৪ জন অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ি নির্মাণ করবে সরকার।’ রোববার ( 30 আগষ্ট) সকালে সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ শাহজাদপুর উপজেলা কমান্ডের আয়োজনে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে হলরূমে স্থানীয় ৫০ জন অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে শাহজাদপুরের মাটি ও মানুষের নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হাসিবুর রহমান স্বপন এমপি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বিনয় পালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মোঃ শামসুজ্জোহা ও থানার অফিসার ইনচার্জ আতাউর রহমান। এতে বক্তব্য রাখেন, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ডের চেয়ারম্যান উপাধ্যাক্ষ রফিকুল ইসলাম বাবলা, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম শাহু প্রমূখ। উক্ত অনুষ্ঠানে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

শাজাহান খানের নেতৃত্বে কমিটি গঠন রাজাকারের তালিকা তৈরী করতে

স্বাধীনতা বিরোধী পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের সহযোগী রাজাকার, আলবদর, আলশামসদের তালিকা প্রস্তুত ও প্রকাশের জন্য শাজাহান খানকে আহ্বায়ক করে ৬ সদস্য বিশিষ্ট একটি সাব কমিটি গঠন করা হয়েছে।

রবিবার (৯ আগস্ট) সংসদ ভবনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ১২তম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠকের শুরুতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবসহ শহীদ হওয়া তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানানো হয়।

এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর সহধর্মিণী সম্প্রতি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করায় কমিটি গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করে।

এ সময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থার মোট ২৪টি মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে এটর্নি জেনারেল এবং আইন মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করার বিষয়ে সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে কমিটির সদস্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক, রাজি উদ্দিন আহমেদ, মেজর (অব:) রফিকুল ইসলাম, বীর উত্তম, এবি তাজুল ইসলাম এবং মোছলেম উদ্দিন আহম্মদ অংশগ্রহণ করেন।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিভিন্ন সংস্থা প্রধানগণসহ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণও উপস্থিত ছিলেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল আহমেদ অনেকটাই সুস্থ

Kamal Ahmed

একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা’র সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল আহমেদ এখন অনেকটাই সুস্থ। তাঁকে হাসপাতাল থেকে বাসায় আনা হয়েছে।

তাঁর ছোট ছেলে ব্যরিষ্টার রাজিন আহমেদ জানায়, এখনো তাঁর যথেষ্ট শারীরিক দূর্বলতা রয়েছে। স্বাভাবিক চলা ফেরা করতে পারছেন না। দূবর্লতার কারনে কথাও ভালো করে বলতে পারছেন না। তবে মাস খানেকের মধ্যে এমন অবস্থা কেটে যাবে বলে ডাক্তাররা বলেছেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল আহমেদ এর সহধর্মীনিও অসুস্থ হয়েছিলেন। তিনিও এখন সুস্থ। দুজনকেই হাসপাতাল থেকে বাসায় আনা হয়েছে। তাঁর পরিবারে পক্ষথেকে দেশবাসীর কাছে পুরোপুরি সুস্থতার জন্য দোয়া চাওয়া হয়েছে।

স্ত্রী,সচিবসহ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী করোনা আক্রান্ত

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি এবং মন্ত্রীর স্ত্রী লায়লা আরজুমান্দ বানুর কভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া মন্ত্রীর একান্ত সচিব হাবিবুর রহমানও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

করোনা উপসর্গ নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার তাদের টেস্ট করা হলে আজ শুক্রবার তাদের দেহে কভিড-১৯ পজিটিভ ফলাফল পাওয়া যায়।

আজ শুক্রবার মুক্তিযু্দ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

মন্ত্রী, মন্ত্রীর স্ত্রী এবং একান্ত সচিব চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। মন্ত্রী নিজের এবং আক্রান্তদের দ্রুত আরোগ্য লাভের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আর নেই

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্নেহধন্য ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল আমীন খসরু আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নালিল্লাহি রাজিউন)। সোমবার (৮ জুন) বিকেলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। গত শুক্রবার (৫ জুন) স্ট্রোক করলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

৭৪ বছর বয়সী শফিকুল আমীন খসরু মৃত্যুকালে স্ত্রী, ৩ ছেলে, এক মেয়ে, ভাই, আত্মীয়স্বজনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।

১৯৬৪ সালে ময়মনসিংহ ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী পরিষদ সদস্য হিসেবে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে আলফা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে যান এই নেতা। পরে ১৯৬৫ সালেও ৩২ ধানমন্ডিতে দেখা হয় বঙ্গবন্ধুর সাথে। সেখানেই প্রথম তার নাম জিজ্ঞেস করেন বঙ্গবন্ধু। তিনি ওই একবার নাম বলেছিলেন, পরে আর কোনদিন বলতে হয়নি। দূর থেকে দেখে তাকে দেখলেই বঙ্গবন্ধু বলে ওঠতেন, ‘এ্যাই তোরা সরে যা, আমার গফরগাঁওয়ের খসরু এসেছে, খসরু ভিতরে আয়।’

৬ দফা ও ১৯৭০ সালের নির্বাচনের সময় ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজের জনসভায় যাচ্ছিলেন জাতির পিতা। পথে মশাখালি স্টেশনে নেমে স্থানীয় জনতার উদ্দেশে কথা বলার অনুরোধ করলে তারই কাঁধে ভর দিয়ে ট্রেন থেকে নামেন ব্ঙ্গবন্ধু। এসময় নেতাকে মঞ্চে রেখে তার সামনে দু’একটা কথা বলার সাহস দেখাতে গিয়েছিলেন তিনি। তখন সার্কিট হাউজে জনসভায় যাওয়ার বিলম্ব হয় কিনা ভেবে পেছন থেকে বঙ্গবন্ধু কাছে এসে গালে চড় দিয়ে তাকে থামিয়ে নিজে বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন। জনসভা শেষে আবার তিনি  কাছে ডাকেন ও গালে হাত বুলিয়ে জিজ্ঞেস করেন, ‘খসরু তোর কি খুব লেগেছে?’ তখন ‘হ্যাঁ’ বলে আমি বললাম, ‘লেগেছে তবে আদরে এখন ভুলে গেছি’। ওই ট্রেনে চেপেই তিনি বঙ্গবন্ধুর সাথে জনসভায় গিয়েছিলেন।

খসরুর ছোট ভাই গফরগাঁও চাকরিজীবী কল্যাণ ফোরাম সভাপতি অধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলাম মজনু বলেন, মঙ্গলবার (৯ জুন) গফরগাঁওয়ের মশাখালীর বীরখারুয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে তাকে। জানাজায় উপস্থিত থাকার জন্য তিনি সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্নেহভাজন ছিলেন শফিকুল আমিন খসরু। ঊনসত্তরের গণঅভুত্থানে অংশ নিয়েছেন সক্রিয়ভাবে। মুক্তিযুদ্ধের সময় ময়মনসিংহ এলাকায় সংগঠক হিসেবে কাজ করেছেন খসরু। ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ময়মনসিংহে গফরগাঁও সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। মশাখালী ইউনিয়ন, গফরগাঁও থানা ও ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বহু সামাজিক সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

১১৮১ জন মুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিল করে প্রজ্ঞাপন

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় রবিবার ১,১৮১ জন মুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন-২০০২ এর ৭ (ঝ) ধারা অনুযায়ী ২০১৯ সালের ১০ ডিসেম্বর তারিখে অনুষ্ঠিত জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের ৬৬তম সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক এ  প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা সুফি আব্দুল্লাহিল মারুফের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গেজেট বাতিল করা প্রজ্ঞাপন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে  (www.molwa.gov.bd) পাওয়া যাবে।

এরআগে, প্রায় দেড় লাখ আবেদন হতে তিন ধাপে দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় যাচাই-বাছাই  শেষে গত মঙ্গলবার নতুন ১২৫৬ জনকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দিয়ে গেজেট প্রকাশ করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটি ও বিভাগীয় কমিটির যাচাই-বাছাই শেষে  জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল সভায়  এ তালিকা অনুমোদন হয়। নতুন তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধারা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে  রাষ্ট্রের প্রদত্ত সকল সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

চিতলমারীতে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ওপর হামলা, নারী ও শিশুসহ আহত ৫

বাগেরহাটের চিতলমারীতে এক পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রভাবশালীরা হামলায় শিকার ওই পরিবারের আহত সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রেখেছে। ফলে দু’দিন পার হতে চললেও আহতরা চিকিৎসা সেবা নিতে পারছেন না।গতকাল শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে এমটাই জানিয়েছেন নির্যাতনের শিকার ওই পরিবারের সদস্যরা।

পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা হরবিলাস পোদ্দার কান্নাজড়িত কন্ঠে সাংবাদিকদের জানান, উপজেলার চরবানিয়ারী ইউনিয়নের উত্তর খলিশাখালি মৌজায় ১নং খতিয়ানে এসএ ১৭২নং দাগে বাবুগঞ্জ বাজারে তার ১৮ শতক জমি রয়েছে। সেখানে তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন।

সম্প্রতি গায়ের জোরে স্থানীয় প্রভাবশালী ইলিয়াস শেখ রাতারাতি একটি ঘর তুলে দখল নেয়। এরপর থেকে সে আরও জাগয়া দখল নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে।

বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে তিনি ওসিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন।

ওসি থানার এসআই সঞ্জয় দেকে ঘটনাস্থলে পাঠান। এসআই সঞ্জয় দে একটি সমাধান দেন। এর জের ধরে ক্ষিপ্ত হয়ে গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল ৮টার দিকে প্রভাবশালী ইলিয়াস শেখ ও বেল্লাল শেখের নেতেৃত্বে আড়–য়াবর্নী গ্রামের ১৫/২০ লোক তাদের পরিবারের উপরে বর্বরোচিত হামলা চালায়।

হামলায় তার স্ত্রী সবিতা পোদ্দার, মেয়ে আখি স্বর্ণকার, ছেলে উজ্বল পোদ্দার, নাতি রাহুল স্বর্ণকার ও ঠেকাতে এসে প্রতিবেশী ও কলেজ শিক্ষক প্রদীপ মন্ডল আহত হন।

আহতর পর ওই প্রভাবশালীরা অবরুদ্ধ করে রাখায় তারা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ও থানায় অভিযোগ দিতে পারছে না।
প্রতিবেশী ও শিক্ষক প্রদীপ মন্ডল বলেন, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের উপর নির্যাতন দেখে সইতে না পেরে মানবিক কারনে আমি ঠেকাতে যাই। দখলবাজ ওই সন্ত্রাসীরা আমাকে পিটিয়েও আহত করেছে।

ইলিয়াস শেখ হামলার ঘটনা অস্বীকার করে জানান, ওই মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সাথে তাদের ঝগড়াঝাটি হয়েছে। তাছাড়া ও জায়গা তিনি হাশেম নামে এক ব্যাক্তির কাছ থেকে ক্রয় করেছেন।

এ ব্যাপারে চিতলমারী থানার এসআই সঞ্জয় দে জানান, মুক্তিযোদ্ধা ওই পরিবারের উপর হামলার খবর শুনে ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আহত ওই পরিবারটি লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তবে চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মারুফুল আলম সাংবাদিকদের জানান, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ওপর হামলার কথা শুনে তাৎক্ষণিত পুলিশ পাঠানো হয়।

বিষয়টি স্থায়ীভাবে সমাধানের জন্য ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

১২৫৬ জনকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দিয়ে গেজেট প্রকাশ

নতুন এক হাজার ২৫৬ জনকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দিয়ে গেজেট প্রকাশ করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। আজ মঙ্গলবার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন ২০০২ এর ৭ (ঝ) ধারা অনুযায়ী জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের ৬৬তম সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক আজ এ গেজেট প্রকাশ করা হয়।

মুক্তিযোদ্ধাদের এ গেজেট বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় (বিজি প্রেস) এর ওয়েবসাইটে (www.bgpress.gov.bd)  পাওয়া যাবে।

প্রায় দেড় লাখ আবেদন হতে তিন ধাপে দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় যাচাই-বাছাই শেষে এ গেজেট প্রকাশ করা হলো।

উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটি ও বিভাগীয় কমিটির যাচাই-বাছাই শেষে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল এর সভায় এ তালিকা অনুমোদন হয়।

নতুন তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাগণ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রের প্রদত্ত সকল সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্য হবেন।

♦। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বাজেট নিয়ে আমার ব্যক্তিগত মন্তব্য।।♦

বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নিজের উপলোব্ধি বোধ থেকে যা দেখছি, আমাদের দেশের বাজেট হলো উন্নয়ন ও সেবার নামে বিভিন্ন খাতে বাৎসরিক অর্থ বরাদ্দগুলো নানা পকেটে স্থানান্তর। পরে পকেট কেটে মুষ্টিমেও ব্যক্তির পকেটে ঢোকানো। এতে জনগণ কতটুকু সেবা পেল কিম্বা দেশে কোন ধরনের কতটুক উন্নয়ন ঘটলো,সে উন্নয়নগুলো ভবিষ্যতের জন্য কতটুকু স্থিতিশীল কিম্বা জনগনের জন্য আদৌ মঙ্গলজনক কিনা? এগুলো ভাববার কোন অবকাশ নেই। ধারাবাহিক ভাবে ক্ষমতায় আসীন ব্যক্তিদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের উন্নয়নের সাথে জনগনের স্বপ্নের আদৌও কি কোন মিল ছিল? এখনও আছে কি? প্রশ্ন আছে উত্তর নেই।

মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার
প্রধান সম্পাদক, শাহজাদপুর সংবাদ ডটকম
তারিখ-১৬ জুন,২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ,
রবিবার, ২ আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ।