রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ এর জনসংযোগ দপ্তরের পাবলিক রিলেশন অফিসার মোঃ শাহ্ আলী এসব তথ্য নিশ্চিত করেন


ইউজিসি’র সাথে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি

উচ্চ শিক্ষায় সুশাসন ও সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে মঙ্গলবার বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সাথে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ’র বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। উক্ত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ’র রেজিস্ট্রার মোঃ সোহরাব আলী এবং বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তির ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালক মোঃ গোলাম সরোয়ার। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ইউজিসি অডিটরিয়ামে চলতি অর্থবছরের চুক্তি সম্পাদন এবং ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের এপিএ’র মূল্যায়ন সভা অনুষ্ঠিত হয়। ২০২০-২০২১ অর্থবছরের জন্য গত দুইদিন ১ম ও ২য় পর্র্যায়ে ইউজিসি’র সঙ্গে ২৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সরকারি কর্মকান্ডে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি, সম্পদের সুষম ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উন্নয়নের লক্ষ্যে এপিএ প্রবর্তন করা হয়। কমিশনের সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. ফেরদৌস জামান এর সভাপতিত্বে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ। অনুষ্ঠানে ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. দিল আফরোজা বেগম, অধ্যাপক ড. মোঃ সাজ্জাদ হোসেন, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর, অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ এবং অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। কমিশনের সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর রেজিস্ট্রারবৃন্দ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে প্রধান অতিথির ভাষণে অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, নিয়ম-শৃঙ্খলা ও মানসম্পন্ন প্রশাসন উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। উচ্চশিক্ষাকে এগিয়ে নিতে সুশাসন অবশ্যই প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারও নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের কষ্টের টাকা কোনক্রমেই অপচয় করা যাবে না। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে আইন শৃঙ্খলা মেনে দক্ষ ভূমিকা রাখতে হবে। আইনের ব্যত্যয় হলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তির সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে। উক্ত অনুষ্ঠানে ১৯ টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, এপিএ’র ফোকাল পয়েন্ট এবং ইউজিসি’র কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ এর জনসংযোগ দপ্তরের পাবলিক রিলেশন অফিসার মোঃ শাহ্ আলী এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
উল্লেখ্য, ২০১৬-২০১৭ অর্থবছর থেকে ইউজিসি প্রতিবছর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এ চুক্তি স্বাক্ষর করে আসছে।

বন্যার্তদের পাশে দাড়ালেন ডিইউজে’র সাংগঠনিক সম্পাদক জিহাদুর রহমান জিহাদ

মুকসুদপুরে বন্যাকবলিত এলাকায় ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক এ জিহাদুর রহমান জিহাদের উদ্যোগে বন্যার্ত মানুষের মাঝে মঙ্গলবার ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক বন্যায় দেশের বেশ কিছু জেলার চরাঞ্চল ও নিচু এলাকাসহ বিস্তীর্ণ এলাকার বহু ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে লাখ লাখ মানুষ। বন্যার এ ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা পায়নি মুকসুদপুর উপজেলাও। অসহায় পরিবারগুলো এখন মানবেতর জীবন যাপন করছে।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক এ জিহাদুর রহমান জিহাদের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে এলাকার বন্যার্ত ক্ষতিগ্রস্ত ও করোনাকালিন সময়ে দুস্থ পরিবারের মধ্যে চাল, ডাল, আলুসহ নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও তিনি চলমান করোনা কালীন সময়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাক্স, হ্যান্ড গ্লাভস, পিপিইসহ সুরক্ষা সামগ্রীও বিতরণ করেন।

পশু কোরবানিতে ব্যস্ত নগরবাসী

ছবি: ইন্টারনেট

আজ পবিত্র ঈদুল আজহা। মহামারি করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মাঝে সকালে মসজিদে মসজিদে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় শেষে পশু কোরবানিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন নগরবাসী। কাকডাকা ভোরে ঘুম ভেঙে পশুকে কোরবানি করার জন্য গোসল করিয়ে প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে।

এছাড়া নিজেরাও গোসল করে জামা কাপড় পরিধান করে এবং আঁতর সুগন্ধি মেখে নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদের ছুটে চলেছেন। স্বাস্থ্যবিধি বজায় রেখে নির্দিষ্ট দূরত্বে বসে এবং মাস্ক পরিধান করে মুসল্লিরা নামাজের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। মসজিদের ইমাম এ সময় খুতবা পাঠ করেন।

খুতবা পড়ার সময় কিভাবে কোরবানি করতে হবে, কোরবানির মাংস কিভাবে বিলিবণ্ঠন করতে হবে ইত্যাদি সম্পর্কে বয়ান করেন। এছাড়াও বয়ানে মহামারি করোনাভাইরাস ও চলমান বন্যা থেকে দেশবাসীকে রক্ষার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ জানান। নামাজ আদায় শেষে আল্লাহর কাছে দেশের মঙ্গল কামনায় মোনাজাত করা হয়।

অন্যান্য বছরের মতো এবার ঈদের নামাজ আদায় শেষে প্রচলিত রেওয়াজ অনুযায়ী কোলাকুলি করেননি। নামাজ আদায় শেষে মুসল্লিরা কুরবানির পশু জবাইয়ের ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

জাতীয় বায়তুল মোকাররম মসজিদের আজ সর্বমোট সাতটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। অন্যান্য বছর পশু জবাই করা পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি পরিবারের শিশুরা উপস্থিত থাকলেও এবার ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় শিশুরা উপস্থিত ছিল না।

ঢাকার চারপাশের নদ-নদীর পানি বাড়ছে

ঢাকার চারপাশের নদ-নদীর পানি বাড়ছে

দেশের উত্তরাঞ্চলের পর গত কয়েকদিন ধরে মধ্যাঞ্চলের নদীগুলোতে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে উজানের ঢলে আসা বন্যার পানি। বানের পানিতে তলিয়ে গেছে ফসলের ক্ষেত, বাড়ির আঙ্গিনা। বহুস্থানে বিলীন হয়েছে মানুষের বসত ভিটা। উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের পর এবার বন্যার পানির এই ঢলে প্লাবিত রাজধানীর নিম্নাঞ্চলও। ফলে বালু ও শীতলক্ষ্যা নদী তীরবর্তী মানুষের নিত্য দিনের ভোগান্তি বেড়েছে। সড়ক পথ পানি নিচে থাকায় এই এলাকার মানুষের এখন একমাত্র বাহন হয়েছে নৌকা।

সরকারি হিসেবে দেশের উত্তর ও উত্তরপূর্বাঞ্চলের ২৫ জেলায় এখন চলছে বন্যা। কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, সিলেট ও সুনামগঞ্জসহ ১৮টি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। অতি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দেশের নদ-নদীর ধারণ ক্ষমতার অতিরক্ত এই পানির ঢল এসে এখন ধাক্কা দিচ্ছে রাজধানীর নিন্মাঞ্চলেও। ঢাকার চারপাশের ফসলের মাঠ বহু আগেই তলিয়েছে। এখন ঘরে মেঝেতে ঢেউ তুলছে বন্যার পানি। জীবন যাত্রা হয়ে ওঠেছে দুর্বিসহ।

নদী তীরবর্তী কেরানীগঞ্জ, সাভার, টঙ্গী ও নারায়ণগঞ্জের নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় চলাচলের একমাত্র বাহন হয়েছে নৌকা। শ্রাবনের টানা বৃষ্টি আর নদীর পানি বাড়ার কারণে রাজধানীর শহরতলী খ্যাত নন্দীপড়া, সাতারকুল, ডেমরা ও মেরাদিয়াসহ বেড়িবাধের বাইরে থাকা বেশিরভাগ এলাকা এখন পানির নিচে। ফসলের মাঠে শুধুই জলরাশির ঢেউ।

নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সিটি করপোরেশনের ভিতের ঢাকা ওয়াসা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের খালের পানি উল্টো শহরের ভেতরে আসায় স্লুইস গেইটগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। নগরের ভেতরের পাঁচটি পাম্পস্টেশন দিয়ে সেচ করে পানি ফালাচ্ছে নদীতে। বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বালু ও শীতালক্ষ্যা নদীর পানি।

আবহাওয়া পূর্বাভাস বলছে, আগামী সপ্তাহ জুড়েই থেমে থেমে বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে দেশের উত্তর ও উত্তর পূর্বাঞ্চলসহ মধ্যাঞ্চলেও। সে কারনে সব নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। বিপদসীমার ওপরে প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কার কথা জানান বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র। ঢাকার আশপাশের নিম্নাঞ্চলের প্লাবিত এলাকার মানুষের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দিয়েছে বিশেষজ্ঞরা।

মুগদা হাসপাতালে বাংলাদেশ প্রতিদিনের ফটো সাংবাদিকের ওপর হামলা

আবারও পেশাগত কাজে গিয়ে হামলার শিকার হলেন সাংবাদিকরা। মুগদা হাসপাতালে ছবি তুলতে যাওয়ায় বাংলাদেশ প্রতিদিনের ফটো সাংবাদিক জয়ীতা রায় ও দেশ রূপান্তরের ফটো সাংবাদিক রুবেল রশীদের ওপর হামলা চালেয়েছে সেখানকার আনসার সদস্যরা।

আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতাল চত্বরে করোনা পরীক্ষার নমুনা দিতে লাইনে দাঁড়ানো রোগীকে মারধরের ছবি তুলতে গেলে সেখানকার আনসার সদস্যরা এ হামলা চালায়। তারা ফটো সাংবাদিকের ক্যামেরাও ভেঙে ফেলে।

হামলার শিকার জয়ীতা রায় জানান, হাসপাতালে রোগী সিরিয়ালের অনিয়মের ছবি তুলছিলাম। এসময় সিরিয়াল ব্রেক করায় এক রোগীর সঙ্গে আনসার সদস্যের কথা কাটাকাটি হয়। এর এক পর্যায়ে এক আনসার রোগীর আত্মীয়র জামার কলার ধরে হাসপাতালে ভেতরে নিয়ে যাচ্ছিল, আমি তখন ছবি তুললে সেই আনসার হামলা চালায়। এসময় রুবেলের ক্যামেরার লেন্সের ফিল্টার ভেঙে যায়।

আনসারদের হামলার শিকার আরেক ফটো সাংবাদিক রুবেল রশীদ বলেন, হাসপাতালে কভিড-১৯ টেস্টের জন্য আজ ৪০ জনকে টিকিট দেওয়া হয়। কিন্তু ৩৪ জনের পরীক্ষা করেই আনসার সদস্যরা বলেন আজ পরীক্ষা শেষ। তখন ৩৬ নম্বর সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে থাকা শাওন হোসেন নামের এক যুবকের সঙ্গে আনসার সদস্যদের তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে আনসাররা তার গায়ে হাত তোলেন।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার ছবি তুলতে যান বাংলাদেশ প্রতিদিনের আলোকচিত্রী জয়িতা রায়। এসময় আনসার সদস্যরা তাকে থাপ্পড় দিতে এলে জয়িতা সরে পড়েন। এরপর ঘটনার ছবি তুলতে আমি এগিয়ে যাই। তখন আনসার সদস্যরা থাপ্পড় মেরে আমার ক্যামেরার ফিল্টার ভেঙে ফেলে।
এসময় আনসার সদস্যরা সাংবাদিকদের গালাগাল করতে থাকেন এবং বেঁধে রাখার হুমকি দেন। একপর্যায়ে তারা বলেন- এখানে সাংবাদিকদের রংবাজি চলবে না। আমাদের রংবাজি চলবে বলেও রুবেল রশীদ ওই আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।

সূত্রঃ বিডি-প্রতিদিন

বুড়িগঙ্গা সেতুতে এখনও ভারি যান চলাচল বন্ধ

বুড়িগঙ্গা সেতুর ফাটল পরীক্ষার যন্ত্র এখনো আসেনি। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী শুক্রবার ওই যন্ত্র ঢাকায় পৌঁছবে। তারপর সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে।

পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি সংস্কার করতে অন্তত ১৫ দিন সময় লাগবে। এ সময় পর্যন্ত কোনো ভারী যানবাহন সেতুর ওপর দিয়ে চলবে না। বিকল্প পথ হিসেবে বাবুবাজার সেতু ব্যবহার করা হবে।

সদরঘাটের কাছে বুড়িগঙ্গায় ডুবে যাওয়া মর্নিং বার্ড লঞ্চটি উদ্ধার করতে গত সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ থেকে আসার পথে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘প্রত্যয়’-এর ধাক্কায় পোস্তগোলার বুড়িগঙ্গা সেতুর গার্ডারের একটি অংশে ফাটল দেখা দেয়।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ঢাকা অঞ্চল) সবুজ উদ্দিন খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ফাটলের ক্ষতি নিরূপণ করতে যে যন্ত্রটি প্রয়োজন সেটি এখনো আসেনি। আমরা আশা করছি আগামী শুক্রবার ঢাকায় পৌঁছবে।’

সবুজ উদ্দিন আরো বলেন, ‘এ সময় পর্যন্ত যেকোনো ভারী যানবাহন (ছয় চাকা ও দশ চাকার মালবাহী ট্রাক) চলাচল নিষেধ করা হয়েছে।’

যেভাবে ১২ ঘণ্টা বেঁচে থাকলেন সুমন

রাজধানীর শ্যামবাজার এলাকা সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদীতে লঞ্চডুবির ১২ ঘণ্টার পর সুমন বেপারি নামে এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ডুবুরিরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে লাইফ জ্যাকেটে ঢেকে এবং শরীর মেসেজ করে তার শরীর গরম করার চেষ্টা করেন।
বর্তমানে তিনি পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি পেশায় একজন ফল ব্যবসায়ী এবং তার বাড়ি মুন্সিগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর। সুমন বেপারি কীভাবে বেঁচে থাকলেন এমন প্রশ্নের জবাবে ফায়ার সার্ভিস মহাপরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ময়ূর-২ লঞ্চের ধাক্কায় মর্নিং বার্ড নামক ছোট্ট লঞ্চটি কয়েক সেকেন্ড সময়ের মধ্যে পানিতে তলিয়ে যায়। লঞ্চটি পানির নিচে উল্টে যাওয়ায় বাতাস আটকে থাকে অর্থাৎ এয়ার পকেট তৈরি হয়। সম্ভবত সুমন বেপারি যেখানে অবস্থান করছিলেন সেখানে পানি প্রবেশ করেনি এবং সুমণ বেপারি এয়ার পকেট থেকে অক্সিজেন নিয়েই বেঁচে ছিলেন। এটাই একমাত্র কারণ, এ ছাড়া দ্বিতীয় কোনো কারণ নেই। প্রসঙ্গত, সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, লঞ্চডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪ জন শিশু ৮ মহিলা ও ২০ পুরুষ।

সূত্রঃ বাংলাদেশ জার্নাল

বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবির ১৩ ঘণ্টা পর একজনকে জীবিত উদ্ধার

রাজধানীর শ্যামবাজার এলাকা সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদীতে লঞ্চডুবির ১৩ ঘণ্টার পর এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টায় এ লঞ্চডুবির ঘটনা ঘটে।
রাত ১০টার দিকে লঞ্চটি উদ্ধারের সময় এই লোককে ভেসে উঠতে দেখে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। এরপর দ্রুত তাকে উদ্ধার করে পাশের একটি নৌকায় তোলা হয়। এবং লাইফ জ্যাকেট পরিয়ে তার দেহের তাপমাত্রা স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হয়। তার ঠোঁঠের কোনে হালকা রক্তের আভা দেখা গেছে।
উদ্ধার ব্যক্তিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম পরিচয় জানা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ১০টার দিকে লঞ্চটি উদ্ধারের সময় এই লোকটি ভেসে উঠে। লঞ্চের এককোনা ভেসে উঠলেই তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন। কিন্তু লঞ্চের টিউবটি ফেটে যাওয়ায় লঞ্চটি আবার তলিয়ে গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। ডুবুরিরা তাকে লাইফ জ্যাকেটে ঢেকে এবং শরীর মেসেজ করে তার শরীর গরম করার চেষ্টা করেন। এরপর ওই ব্যক্তি চোখ মেলে তাকান।
কোস্টগার্ড ও নেভির কর্মকর্তারা জানান, তারা যখন উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিটিকে বিভিন্ন প্রশ্ন জিজ্ঞেস করছিলেন তিনি চোখের ইশারায় কথার জবাব দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তবে দীর্ঘ সময় পানির নিচে আটকে থাকায় তার শরীরের তাপমাত্রা নেমে গিয়েছিল। পানির নিচে তলিয়ে গেলেও এ ব্যক্তি কীভাবে বেঁচে গেলেন তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি যেখানে আটকা পড়েছিলেন সেখানে হয়তো সেভাবে পানি প্রবেশ করেনি। আজ যখন টিউবের মাধ্যমে বিশেষ প্রক্রিয়ায় লঞ্চটি তোলার চেষ্টা করা হচ্ছিল তখন লঞ্চটি সামান্য ভেসে ওঠার পর ওই ব্যক্তি নিজের প্রচেষ্টায় বেরিয়ে আসেন এবং উদ্ধার কর্মীরা তাকে দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে নৌকায় তুলেন।
এদিকে সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, লঞ্চডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪ জন শিশু ৮ নারী ও ২০ পুরুষ। বেলা সোয়া ১২টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসাইন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান গোলাম সাদেক জানান, ময়ূর–২ নামের একটি লঞ্চ সদরঘাট লালপট্টি থেকে চাঁদপুরের দিকে যাচ্ছিল। ওই লঞ্চটি মর্নিং বার্ডকে ধাক্কা দেয়। এতে মর্নিং বার্ড নামের লঞ্চটি ডুবে যায়।
বিআইডব্লিউটিএর ঢাকা নদীবন্দরের যুগ্ম পরিচালক এ কে এম আরিফউদ্দিন জানান, ধাক্কা দেওয়া লঞ্চ ময়ূর–২ জব্দ করা হয়েছে। তবে লঞ্চের চালক পালিয়ে গেছেন।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি মো. শাহ জামাল জানান, উদ্ধার করা লাশের মধ্যে পুরুষ ২০ জন। নারী ৮ জন ও শিশু ৪টি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-চাঁদপুর রুটের ময়ূর-২ নামের একটি লঞ্চের ধাক্কায় কমপক্ষে ৫০ যাত্রী নিয়ে ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ রুটের মর্নিং বার্ড লঞ্চটি ডুবে যায়। লঞ্চটি থেকে কয়েকজন যাত্রী সাঁতরে পাড়ে উঠলেও বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন।

সূত্রঃ কালের কন্ঠ

মিনিটে মিনিটে তোলা হচ্ছে লাশ

এইতো কিছুক্ষণ আগেই লাশের সংখ্যা ছিল ১৪। এর পর আরো একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই বেড়ে হলো ২৫। তোলা হলো আরও ৯টি লাশ। এর কিছুক্ষণ পর জানা গেলো মোট ৩০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

রাজধানীর শ্যামবাজার এলাকা সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদীতে এক লঞ্চের ধাক্কায় আরেকটি ছোট লঞ্চ ডুবে যাওয়ার পর এখন পর্যন্ত ৩০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া আরও বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধারে তৎপরতা চালাচ্ছেন নৌবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।

কোস্ট গার্ডের জনসংযোগ কর্মকর্তা লেঃ কমান্ডার হায়াৎ ইবনে সিদ্দিক গণমাধ্যমকে বলেন, যে ৩০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, এদের ২ জন শিশু, ৫ জন মহিলা ও ২৩ জন পুরুষ। অভিযুক্ত লঞ্চটিকে আটক করা হয়েছে। তবে চালক পলাতক রয়েছেন। অন্যদিকে ডুবে যাওয়া লঞ্চটি শনাক্ত করা হয়েছে। সেটি উদ্ধার করতে নারায়ণগঞ্জ থেকে যাচ্ছে বিআইডাব্লিউটিএর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘প্রত্যয়’।

ফায়ার সার্ভিস, নৌ পুলিশ ও বিআইডাব্লিউটিএর সঙ্গে কোস্টগার্ড উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক হাফিজুর রহমান জানান, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদর দপ্তরের ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার জানান, কুমিল্লা ডক এরিয়ার পাশে লঞ্চটি ডুবেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ময়ূর ২ নামের একটি লঞ্চের ধাক্কায় কমপক্ষে ৭০ যাত্রী নিয়ে মর্নিং বার্ড লঞ্চটি ডুবে যায়।

এদিকে উদ্ধার কাজে অংশ নিতে নারায়ণগঞ্জ থেকে বিআইডব্লিউটিএর উদ্ধারকারী জাহাজ রওনা দিয়েছে।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ জামান বলেন, ধারণা করা হচ্ছে প্রায় ৭০/৮০ জন যাত্রী ছিলেন ওই লঞ্চে। এর মধ্যে নিখোঁজ হয়ে যান প্রায় ৭০ জন।

বুড়িগঙ্গায় লঞ্চ ডুবি, ১৪ জনের মৃতদেহ উদ্ধার

রাজধানীর বুড়িগঙ্গায় অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে ডুবে যাওয়া লঞ্চ উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১৪ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদর দফতরের ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কুমিল্লা ডক এরিয়ার পাশে লঞ্চটি ডুবেছে। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছে।

লঞ্চটি থেকে কয়েকজন যাত্রী সাঁতরে পাড়ে উঠলেও বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন।