কক্সবাজারে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ইউপি সদস্যসহ ২ মাদক বিক্রেতা নিহত

বখতিয়ার মেম্বার

কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে উখিয়া কুতুপালংয়ের বখতিয়ার মেম্বারসহ দুই মাদক কারবারী নিহত হয়েছেন। এসময় দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ চার সদস্য আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে ২০ হাজার ইয়াবা, দেশীয় তৈরি পাঁচটি এলজি, ১৭ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ১৩ রাউন্ড কার্তুজের খালি খোসা উদ্ধার করা হয়।

শুক্রবার ভোররাতে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের ওয়াব্রাং প্রবাসী নুর হোসেনের আকাশী গাছের বাগানে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, উখিয়া কুতুপালং এলাকার মৃত কালা মিয়ার ছেলে বর্তমান উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মৌলভী বখতিয়ার উদ্দিন(৫৫) বখতিয়ার মেম্বার ও একই এলাকার কুতুপালং রোহিঙ্গা শরনার্থী শিবিরের ব্লক- ই এর বাসিন্দা ইউসুফ আলীর ছেলে মোঃ তাহের (২৭)।

আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন, এএসআই ফকরুজ্জামান, এএসআই মাজহারুল ইসলাম, কনেসটেবল শহিদুল ইসলাম, মোঃ হাবিব ও আবু হানিফ।

এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাতে থানা পুলিশের একটি টিম কুতুপালং এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদক মামলার পলাতক আসামি বখতিয়ার মেম্বার ও তাহেরকে গ্রেফতার করে থানায় আনা হয়।

ব্যাপক জিজ্ঞেসাবাদে তাদের স্বীকারোক্তিতে ভোররাতে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের ওয়াব্রাং সৌদি প্রবাসী নুর হোসেনের আকাশী গাছের বাগান এলাকায় মজুদ রাখা ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধারে গেলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের অপরাপর সহযোগিরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে পুলিশের চার সদস্য আহত হন। আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালানো হয়। দু’দলের গোলাগুলির মাঝখানে পড়ে বখতিয়ার মেম্বার ও তাহের গুলিবিদ্ধ হয়। পরে হামলাকারীরা পালিয়ে গেলে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে ২০ হাজার ইয়াবা, ৫টি এলজি, ১৭রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১৩ রাউন্ড কার্তুজের খালি খোসাসহ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুইজনকে উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। মৃতদেহগুলো কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলার প্রক্রিয়া প্রস্তুতি চলছে।

বিডি-প্রতিদিন

‘গোপনে’ মেয়ের লাশ দাফনের চেষ্টা বাবা-সৎ মায়ের

চট্টগ্রামে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীর লাশ গোপনে দাফন করার সময় উদ্ধার করেছে পুলিশ। ৯ জুলাই, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নগরীর ডবলমুরিং থানার ডিটি রোডের ১ নম্বর সুপারিওয়ালা পাড়ার রফিক সওদাগরের বাড়ি থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

মৃত ও ছাত্রীর নাম আকিলা ওসমান ইকরা (১৩)। তিনি ওসমান ফারুক বিপলুর মেয়ে। ইকরা পোস্তারপাড় আসমা খাতুন সিটি করপোরেশন বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী। ডবলমুরিং থানার উপ পরিদর্শক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

মেয়েটির বাবা ও সৎ মায়ের দাবি, ইকরা জানলার গ্রিলের সঙ্গে ওড়না দিয়ে দোলনা বানিয়ে খেলতে গিয়ে ফাঁস লেগে মৃত্যু হয়েছে। তবে এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেন মেয়েটির নানা। এমনকি মেয়েটিকে তার বাবা ও সৎ মা মেয়েটিকে বিভিন্ন সময় নির্যাতন করতেন বলেও জানান তিনি।

উপ পরিদর্শক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার রাতে এক কিশোরীর মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। গিয়ে দেখেন মেয়েটিকে দাফনের জন্য কাফন পড়ানো হয়েছে। মেয়েটির বাবা ও সৎ মা পুলিশকে জানায়, গ্রিলের সঙ্গে সিল্কের একটি ওড়না দিয়ে দোলনা বানিয়ে খেলতে গিয়ে ফাঁস লেগে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে মেয়েটি। তাকে তারা উদ্ধার করে আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরো জানান, মেয়েটির বাবা ও সৎ মার কথা বিশ্বাসযোগ্য না হওয়ায় রাত ২টার দিকে ওই লাশ উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে লাশটি পরিবারকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে থানার পরিদর্শক জহির হোসেন বলেন, ‘আপাতত অপমৃত্যু মামলা নেয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে হত্যার আলামত পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

মেয়েটির নানা নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘আমার ভাগ্নির সঙ্গে ওসমান ফারুকের বিয়ে হয়। মেয়েটির জন্মের পর ওসমান ফারুকের সঙ্গে ভাগ্নির বিচ্ছেদ হয়ে যায়। পরে ওসমান আরেকটি বিয়ে করে। আমার ভাগ্নিরও অন্যত্র বিয়ে হয়। সে এখন তার স্বামীর সঙ্গে সৌদি আরবে থাকে। মেয়েটি তার বাবার কাছে ছিলো।’

তিনি আরো বলেন, ‘অনেক সময় তার মা সৌদি থেকে তাকে ফোন করতো। এ সময় সৎ মা ও বাবার শারীরিক নির্যাতনের কথা জানাতো ইকরা। মেয়েটিকে তার সৎ মা ও বাবা মিলে মেরে ফেলেছে। আমি থানায় মামলা করতে গিয়েছিলাম। ওসি শুক্রবার রাতে থানায় যেতে বলেছেন। আমরা সৎ মা ও তার বাবার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করবো।’

সুত্র: বাংলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি ডিউটি ফেলে বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসক! 

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে সম্মুখ যোদ্ধা চিকিৎসকরা। চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে ইতিমধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন দেশের অনেক চিকিৎসক। তারপরও ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসকরা। অধিকাংশ সরকারি চিকিৎসকই নিয়ম মেনে হাসপাতালগুলোতে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

সরকারি হাসপাতালে নামে মাত্র খরচে চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করেছেন সরকার। কিন্তু কিছু চিকিৎসক আছেন, যারা সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা না দিয়ে সরকারি ডিউটির সময় বেসরকারি হাসপাতালে ছুটে বেড়ান। এর সত্যতা পাওয়া গেল ২৫০শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে।

গত তিনদিন সরকারি ডিউটির সময় হাসপাতালের দুতলায় ২১২নং কক্ষে গিয়ে পাওয়া যায়নি নবজাতক ও শিশু রোগ চিকিৎসক আক্তার হোসাইনকে। দুপুর পৌনে একটার দিকে কক্ষে থাকা তার সহযোগী টিপু জানান, ডা. আক্তার হোসেইন শিশু ওয়ার্ড রাউন্ডে গেছেন এক ঘন্টা আগে। সহযোগীর দেওয়া তথ্য মতে হাসপাতালের ৩য় তলায় শিশু ওয়ার্ডে গিয়েও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। ওই ওয়ার্ডের নার্স ও রোগীর স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চিকিৎসক আক্তার হোসেইন বেলা ১১টার দিকে ওয়ার্ড পরিদর্শন করে চলে গেছেন।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে বহিঃবিভাগের দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধেও। হাসপাতালের বহিঃবিভাগের ১০৯/এ কক্ষের দুই অর্থোপেডিক্স চিকিৎসক ডাঃ খান রিয়াজ মামহমুদ জিকো ও ডাঃ মোঃ সোলাইমানের বিরুদ্ধে রোগীদের রয়েছে একাধিক অভিযোগ। একজন দালালের মাধ্যমে রোগী প্রাইভেট ক্লিনিকে পাঠান। অন্যজন নিজের ভিজিটিং কার্ড দিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে পাঠিয়ে দেন৷ একজন দালালের মাধ্যমে সরকারি হাসপাতালের সামনে প্রাইভেট ক্লিনিকে ও অন্যজন কুমারশীল মোড় নিজের প্রাইভেট ক্লিনিকে রোগী পাঠিয়ে থাকেন। তা নিয়ে দুই চিকিৎসকের মধ্যে একাধিকবার কথা-কাটাকাটি হয়েছে।

এর আগে বেলা ১২টার দিকে শিশু চিকিৎসক ডাঃ আক্তার হোসেইনকে সরকারি হাসপাতালে ডিউটি ফেলে হাসপাতালের সামনে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ঢুকতে দেখা যায়। এদিকে রোগীকে ভিজিটিং কার্ড দিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে ব্যবস্থাপনা দিবে বলে ও পরিক্ষা-নিরিক্ষা জন্য দালাল দিয়ে রোগীকে ব্যক্তিগত ক্লিনিকে পাঠায়ে দিচ্ছে ডাঃ মোঃ সোলাইমান। ইতিমধ্যে প্রাইভেট ক্লিনিকে ডাঃ খান রিয়াজ মাহমুদ জিকোর ভুল চিকিৎসার কারনে রোগীর ক্ষতি হয়েছে দাবি জানিয়ে ওই রোগীর অভিভাবক। ওই ব্যক্তি সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে ৩ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।

ডাঃ আখতার হোসেন আধা ঘন্টা পর ওই হাসপাতাল থেকে বেড়িয়ে তিনি কুমারশীল মোড়ে আরও একটি হাসপাতালে ঢুকে রোগী দেখা শুরু করেন। অথচ এই সময় সরকারি হাসপাতালে গিয়ে ২১২নং কক্ষের সামনে চিকিৎসকের জন্য সাধারণ রোগীদের অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।

একই চিত্র দেখা যায় মঙ্গলবার (৭জুন) দুপুরেও। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মুঠোফোনে এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে চিকিৎসক আক্তার হোসেইন বলেন, আমি ওয়ার্ড রাউন্ড দিয়ে এই মাত্র বের হয়েছি। আছি হাসপাতালের আশেপাশেই আছি। আবার হাসপাতালে আসব, আমার একটা কাজ আছে। তিনি বলেন, গতকাল (সোমবার, ৬জুন) একটি সিরিয়াস রোগী ছিল তাই বের হয়েছিলাম। মাঠে আমি একাই আছি। অনেক চিকিৎসক নেই, সদরে ও বাইরে আমিই দেখছি রোগী। এটা অনেকে সাধুবাদ জানিয়েছে। তবে অফিস টাইমে বাইরে যাওয়া উচিৎ না।

২৫০শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক শওকত হোসেন বলেন, আমরা সরকারি অফিস সময়ে চিকিৎসকদের হাসপাতালে বাইরে চিকিৎসা দিতে নিষেধ করেছি। যদি কেউ ডিউটি ফেলে বাইরে রোগী দেখেন, নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরোও বলেন, ডাঃ খান রিয়াজ মাহমুদ জিকো ও ডাঃ মোঃ সোলাইমান এর ব্যাপারটি আমরা দেখবো।

বান্দরবানে গোলাগুলিতে ছয় জন নিহত

বান্দরবান সদর উপজেলার বাগমারায় গোলাগুলিতে জনসংহতি সমিতি সংস্কারপন্থি গ্রুপের জেলা সভাপতিসহ ছয় জন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও তিন জন।
মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম পরিচয় জানা যায়নি।
বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম গোলাগুলির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুই গ্রুপের গোলাগুলির খবর শুনেছি। তবে এ ঘটনায় কত জন মারা গেছেন সেটা এখনও আমরা নিশ্চিত না।

সূত্রঃ বিডি-প্রতিদিন

আনোয়ার খান মডার্ণে চমৎকার চিকিৎসা পেয়েছি : বদি

করোনামুক্ত হয়ে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছেন কক্সবাজার উখিয়া ও টেকনাফ আসনের সাবেক এমপি আব্দুর রহমান বদি। তিনি রাজধানীর আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।এ প্রসঙ্গে আব্দুর রহমান বদি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, এখন আমি করোনামুক্ত, সম্পূর্ণ সুস্থ। আমি আনোয়ার খান মডার্ণ হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম এবং সেখান থেকে আজকে রিলিজ নিয়ে আসলাম।’

তিনি বলেন, ‘আমি আনোয়ার হোসেন খান এমপিকে ধন্যবাদ জানাই। কারণ উনার ওখানে থেকে আমি খুবই চমৎকার চিকিৎসা সেবা পেয়েছি।’

এর আগে করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৯ জুন তিনি রাজধানীর আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হোন।

ফটিকছড়ি কোভিড-১৯ হাসপাতাল গড়তে অনুদান দিয়েছে বারমাসিয়া

ফটিকছড়ি কোভিড-১৯ হাসপাতাল গড়তে অনুদান দিয়েছে বারমাসিয়া আব্দুল করিম উচ্চ বিদ্যালয় সাবেক ছাত্র-ছাত্রী পরিষদ।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সায়েদুল আরেফিনের হাতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা অনুদান তুলে দেওয়া হয়।

এসময় ইউএনও বলেন, হাসপাতালটির প্রতি সকলের ভালোবাসা দেখে আমি অভিভূত। এই হাসপাতাল গড়তে যে যার অবস্থান থেকে হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।

সাবেক ছাত্র-ছাত্রী পরিষদের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক আবু তাহের, মোহাম্মদ শাহজাহান, এজাহার আলম, মো. আরমান, মো. সোহাগ, মো. রবিউল, মো. মানিক, মো. মঞ্জু, রনী, জয় সাহা প্রমুখ।

সূত্রঃ বিডি-প্রতিদিন

মৃত্যুর আগে ৭ মাসের গর্ভবতী ৯ ঘণ্টা ঘুরলেন হাসপাতালের দুয়ারে দুয়ারে

পেটে ৭ মাসের বাচ্চা। টনসিলের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ার পর চিকিৎসা চাইতে গিয়ে বিপদে পড়ে যান ওই নারী। কোনো কারণ ছাড়াই অহেতুক করোনারোগী সন্দেহ করে দুই দুটি হাসপাতাল টানা নয় ঘণ্টা ধরে গর্ভবতী ওই নারীকে ঘোরালো। কিন্তু চিকিৎসাটা দেওয়া তো দূরের কথা- পাশেও গেল না কোনো ডাক্তার, এমনকি একজন নার্সও। উপায় না দেখে অন্তত সিজার করে বাচ্চাটা বের করে নেওয়ার জন্য স্বজনরা আকুতি জানালেও সবাই তাড়িয়ে দিল দূর দূর করে। শেষ পর্যন্ত টানা ৯ ঘণ্টার লড়াই শেষে গর্ভবতী ওই নারী বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

জানা গেছে, কক্সবাজারের চকরিয়ার বেতুয়াবাজার এলাকার রাবেয়া (৩২) সাত মাসের গর্ভবতী ছিলেন। বেশ কিছুদিন আগে চকরিয়ায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তার ঘরে পানি উঠে যায়। ওই সময় পানি সরানোসহ ঘরের অন্যান্য কাজ করতে গিয়ে ঠাণ্ডা লেগে যায় তার। এতে টনসিলের সমস্যায় ভুগতে শুরু করেন তিনি। ২৬ জুন সকালে হঠাৎ তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে চকরিয়ার জমজম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

ওইদিন সকাল ৯টার দিকে জমজম হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয় মেডিসিন ওয়ার্ডে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে গাইনি ওয়ার্ডে রেফার করেন। কিন্তু করোনারোগী সন্দেহে গাইনি ওয়ার্ডে থাকা ডা. নাসিমা ও ডা. ফয়েজ রোগীকে গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি নিতে রাজি হননি। পরে সেখান থেকে রাবেয়াকে নিয়ে যাওয়া হয় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে। জমজম থেকে তাকে গাইনি ওয়ার্ডে রেফার করা হলেও কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রাবেয়াকে ভর্তি করে রাখা হয় করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডে। এখানে এসে রাবেয়ার অবস্থার আরও অবনতি হয়। তাকে গাইনি ওয়ার্ডে স্থানান্তর করতে চাইলে হাসপাতাল থেকে পরিবারের সদস্যদের বলা হয়, এখানে চিকিৎসা হবে না, রোগীকে চট্টগ্রাম নিয়ে যান।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালেও চিকিৎসা না পেয়ে রাবেয়ার পরিবারের সদস্যরা ডুলাহাজারা মালুমঘাট খ্রিস্টান মিশনারি হাসপাতালে যোগাযোগ করেন। তারা রাবেয়াকে গাইনি চিকিৎসা দিতে রাজি হয়। কিন্তু সেই চিকিৎসা পাওয়ার আগেই কক্সবাজার সদর হাসপাতাল থেকে মালুমঘাট নেওয়ার পথে সন্ধ্যা ৬টার দিকে পেটে সাত মাসের অনাগত বাচ্চা নিয়ে রাবেয়ার মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

রাবেয়ার ভাই দন্ত চিকিৎসক ডা. মিজান জানান, বন্যার সময় ঘরে উঠা পানি সরাতে গিয়ে সে টনসিলে আক্রান্ত হয়। একপর্যায়ে তার খাওয়াদাওয়া বন্ধ হয়ে যায় টনসিলের কারণে। এসব কারণে সে দুর্বল হয়ে পড়ে। শ্বাসকষ্টও দেখা দেয়। সিজার করে বাচ্চাটা বের করে নিতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচানো যেত। একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ তাকে দেখে গাইনি ওয়ার্ডে রেফার করার পরেও তাকে গাইনি চিকিৎসা দেওয়া যায়নি। কেউ চেকআপ পর্যন্ত করেনি।
এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মহিউদ্দীন জানান, আমি এই বিষয়ে কিছুই জানি না। এমন হওয়ার কথা না। রোগীর পরিবারের সদস্যরা যোগাযোগ করলে আমি এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেবো।

সূত্র: চট্টগ্রাম প্রতিদিন

আখাউড়ায় সাংবাদিকের উপর হামলা ও ক্যামেরা ছিনতাইয়ের অভিযোগে আটক ৪

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় সংবাদ সংগ্রহের সময় ৩ সাংবাদিকের উপর হামলা ও ক্যামেরা ছিনতাইয়ের ঘটানায় ৪ জন আসামীকে আটক করেছেন আখাউড়া থানা পুলিশ।

শনিবার ২৭ জুন দিবাগত রাতে উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের মোগড়া গ্রামে পুলিশের একটি দল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাদেরকে আটক করেন।

আটককৃতরা হলেন আখাউড়ার মোগড়া ইউনিয়নের মোগড়া গ্রামের বাকের খন্দকার(৪০),আব্দুল কাদের (৩৫),আবুল কাশেম(৩০)ও জবিউল্লাহ(২০)। এই সময় আবু সায়েদ(৫৫),সুমন মিয়া(৩২),গোলাম মোস্তফা(৫০),নাঈম(১৮),রহিমা খাতুন(২৪) নামে আসামীর পলাতক রয়েছে বলে জানা যায়।

উল্লেখ্য গত ২১ শে মার্চ মোগড়া ইউনিয়নের মোগড়া গ্রামের মৃত আব্দুল ওহাব এর ছেলে শফিকুর রহমান(৫৫) এর বাড়িতে সংবাদ সংগ্রহ করতে যায় এশিয়ান টেলিভিশনের আখাউড়া উপজেলা প্রতিনিধি মোঃ অমিত হাসান আবির, দৈনিক ডোনেট বাংলাদেশের আখাউড়া প্রতিনিধি মোঃজুয়েল মিয়া এবং দৈনিক আমাদের বাংলার আখাউড়া প্রতিনিধি মোঃ ইসমাইল হোসেন।

সংবাদ সংগ্রহের সময় স্থানীয় ভূমিদস্যুরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।হামলার সময় হামলাকারীরা সাংবাদিক আবিরের ক্যামেরা ও তাদের পকেটে থাকা নগদ টাকাসহ মানিব্যাগ জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায়।হামলায় গুরুতর আহত সাংবাদিকদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে।পরবর্তীতে খবর পেয়ে আখাউড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ক্যামেরাটি উদ্ধার করে। উক্ত ঘটনায় সাংবাদিক অমিত হাসান আবির বাদী হয়ে আখাউড়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

ভুক্তভোগী শফিকুর রহমান বলেন,সাংবাদিকদের উপর হামলাকারীরা দাঙ্গাবাজ,উশৃংখল, ভূমিদস্যু ও মাদক ব্যবসায়ী।তারা দীর্ঘদিন যাবৎ ক্ষমতার অপব্যবহার করে আসছে।কাগজে পত্রে আমি জমির বৈধ মালিক হওয়া সত্ত্বেও আমার বসত বাড়ির জায়গা অবৈধভাবে দখল করিয়া রাখিয়াছে।তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে আমি আমার জায়গায় দেয়াল নির্মাণ করতে গেলে তারা আমাদের উপর হামলা করে দেয়াল নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়।সাংবাদিকদের উপর হামলার সময় বিবাদীদের ফিরানোর চেষ্টা করিলে তারা আমার বসত ঘরের দরজা,জানালা, বেড়া, বিভিন্ন গাছপালা ইত্যাদি কুপাইয়া ভাঙচুর করিয়া আনুমানিক ৪০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করে। আমাদের প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেয়।

স্থানীয়রা বলেন,শফিকুর রহমান নীরিহ প্রকৃতির লোক।স্থানীয় প্রভাবশালী আবু সায়েদ ও সুমন মিয়া তাদের দলবল নিয়ে শফিকুর রহমান ও তার পরিবারের উপর দীর্ঘদিন যাবৎ জায়গা দখলসহ অন্যায়ভাবে অত্যাচার করে আসছে।

এ বিষয়ে আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ রসুল আহমেদ নিজামী বলেন,সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় ৪ জন আসামীকে গ্রেফতার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

২২০ টাকার স্যাভলন ৬৮০ টাকা

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে ওষুধের মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগে বিভিন্ন ফর্মেসিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়েছে। আজ শনিবার দুপুরে বোয়ালখালীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এ অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় তিনি ডেটল, স্যাভলন মজুদ করে রেখে ২২০ টাকার স্যাভলন ৬৮০-৭০০ টাকা বিক্রি করার দায়ে ওষুধ ব্যবসায়ী মো. জাহাঙ্গিও আলম ও মো. নাছির উদ্দিনকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন।
সেই সঙ্গে ওষুধ বিক্রিতে ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র, ক্রয়-বিক্রয়ের রশিদসহ যাবতীয় কাগজপত্র সংরক্ষণ করতে বিভিন্ন ফার্মেসিকে দুই দিনের সময় বেঁধে দেন তিনি। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও উচ্চমূল্যে ওষুধ বিক্রয়কারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেন এসিল্যান্ড।
বোয়ালখালীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ক্রেতাদের অভিযোগের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ভোক্তা অধিকার আইনে দুই ফার্মেসি মালিককে ২০ টাকা জরিমানা করা হয় এবং বাকি ব্যবসায়ীদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করে দেওয়া হয়।

সূত্রঃ কালের কন্ঠ

মুরাদনগরে ৭ পুলিশ সদস্যসহ নতুন করে ১৮ জন করোনা

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় নতুন করে আরো ১৮জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত
হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে মুরাদনগর থানার ৭ পুলিশ সদস্য রয়েছে। অপর ১১জন হলেন
উপজেলার কোম্পানীগঞ্জ বাজারের প্রাইম ব্যাংকের কর্মকর্তা ১জন, উপজেলা
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের ১জন, কামাল্লা গ্রামের গ্রাম পুলিশ ১জন,
উপজেলা সদর এলাকায় ভাড়াটিয়া ১জন, বাবুটিপাড়া ইউনিয়নের লাজৈর গ্রামের
১জন, রহিমপুর গ্রামের ১জন, স্বাস্থ্য কর্মী ৪জন ও গত বৃহস্পতিবার করোনার
উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করা ভবানীপুর গ্রামের ১জন মহিলা।
বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার
ড. সিরাজুল ইসলাম মানিক বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এনিয়ে পুরো উপজেলায়
এখন পর্যন্ত সর্বমোট করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২০৩জন। এদের মধ্যে
১জন চিৎসক, ২৩জন স্বাস্থ্যকর্মী ও ১জন স্বেচ্ছা সেবক ল্যাব টেকনেশিয়ান
রয়েছে। অপরদিকে এ উপজেলা সর্বমোট করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ্য
হয়েছে ১২০জন।