৩০ জনের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল করলো সরকার

মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের স্বপক্ষে প্রমাণ না পাওয়ায় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকার) সুপারিশের ভিত্তিতে আরো ৩০ জনের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল করেছে সরকার। সনদ বাতিল করে ১৮ অক্টোবর গেজেট জারি করা হয়েছে। জামুকার ৬৮তম সভায় এ সুপারিশ করা হয়েছিল।

যাঁদের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল হয়েছে তাঁরা হলেন কুমিল্লার মরহুম সাদেক আলী, আব্দুল গফুর আজাদ এবং চাঁদপুরের মো. শফিকুর রহমান হাওলাদার, মো. ফয়েজ উল্লা খাঁন, মো. নজরুল ইসলাম, মো. খলিলুর রহমান, মৃণাল কান্তি সাহা।

নারায়ণগঞ্জের মো. তারা মিয়া, মো. নুরুল ইসলাম, মৃত মো. আ. জলিল এবং মো. আ. হাকিম।

এছাড়া যশোরের মৃত অমূল্য রতন বিশ্বাস, মৌলভীবাজারের উত্তম দাস, মাগুরার মো. ফুল মিয়া, নীলফামারীর মো. জি এম জুলফিকার, জামালপুরের এ কে এম ফজলুল হক, নরসিংদীর আ. হাই, চাঁপাইনবাবগঞ্জের মরহুম মো. ইসাহাক মিয়া, নওগাঁর মো. আনিছুর রহমান, মো. আনিসুর রহমান খান ও মো. খোরশেদ আলী, কুড়িগ্রামের মো. রমজান আলী ও মৃত অহিদ আলি মণ্ডল, পাবনার মো. হোসেন আলী, মো. আজিজুল হক, মো. মুক্তার হোসেন এবং মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন, নাটোরের মো. শমসের আলী এবং মো. মমতাজ আলীর সনদ বাতিল হয়েছে।

এর আগে গত জুলাই মাসে ১৩৪ জনের মুক্তিযোদ্ধা গেজেট বাতিল করা হয়। তারও আগে আগে গত ৭ জুন বিমান বাহিনী ও বিজিবিতে যোগ দেওয়ার সময় গেজেটভুক্ত হয়েছিলেন এমন এক হাজার ১৮১ জনের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল করা হয়।

টাঙ্গাইলের ভুঞাপুরে মাদরাসা ছাত্রী ধর্ষণে ৫ হিন্দু যুবকের মৃত্যুদণ্ড

টাঙ্গাইলের ভুঞাপুরে ছাব্বিশা গ্রামে এক মাদরাসাছাত্রীকে অপহরণ করে দলবেঁধে ধর্ষণ মামলায় পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ট্রাইব্যুনালের বিচারক খালেদা ইয়াসমিন এই রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণাকালে দুইজন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এরা হলেন- মধুপুর উপজেলার চারালজানী গ্রামের বদন চন্দ্র মণি ঋষির ছেলে সঞ্জিত (২৮), একই উপজেলার গোলাবাড়ি গ্রামের শ্রি দিগেন চন্দ্র শীলের ছেলে গোপি চন্দ্র শীল (৩০)।

পলাতক আসামিরা হলেন একই এলাকার সুনীল চন্দ্র শীলের ছেলে সাগর চন্দ্র শীল (৩৩), সুনীল মণি ঋষির ছেলে সুজন মণি ঋষি (২৮) ও মণিন্দ্র চন্দ্রের ছেলে রাজন চন্দ্র (২৬)।

ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করে অধ্যাদেশ জারির পর এটিই প্রথম ফাঁসির রায়।

রাষ্ট্রপক্ষে এই মামলা পরিচালনা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি নাছিমুল আকতার। আর মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান আজাদ মামলার শুরু করে শেষ পর্যন্ত ভিকটিমকে আইনি সহায়তা দেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি নাছিমুল আকতার জানান, ২০১২ সালে দণ্ডিত আসামিদের মধ্যে সাগর চন্দ্র শীলের সঙ্গে মোবাইলে পরিচয় হয় ভূঞাপুর উপজেলার ছাব্বিশা গ্রামের ওই মাদরাসাছাত্রীর। একই বছরের ১৫ জানুয়ারি ওই ছাত্রী সকালে বাড়ি থেকে মাদরাসায় যাওয়ার পথে শালদাইর ব্রিজের কাছে পৌঁছলে সাগর কৌশলে একটি সিএনজিতে তাকে এলেঙ্গা নিয়ে যায়।

সেখান থেকে মধুপুরে চারাল জানী গ্রামে তার বন্ধু রাজনের বাড়িতে উঠে। সেখানে তার চার বন্ধু ছাত্রীকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। সাগর হিন্দু বলে তার প্রস্তাব প্রত্যাখান করে মেয়েটি। এ কারণে ওই রাতে সাগর রাজনের বাড়িতে আটক রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

পরে ১৭ জানুয়ারি রাতে তাকে বংশাই নদীর তীরে নিয়ে সেখানে তারা পাঁচজনে মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করে ফেলে যায়।

পরদিন ভোরবেলা স্থানীয়দের সহায়তায় মেয়েটিকে স্বজনরা এসে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ওই ছাত্রী বাদী হয়ে ভুঞাপুর থানায় ১৮ জানুয়ারি দণ্ডিতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ সুজন মণি ঋষিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়।

১৯ জানুয়ারি আসামি সুজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সুজন তার জবানবন্দিতে সাগর, রাজন, সনজিত ও গবি চন্দ্র জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।

পুলিশ তদন্ত শেষে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০১৫ সালের ২৯ অক্টোবর আসামীদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। আজ এ মামলার রায়ে পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড দিলো আদালত।

সূত্রঃ ঘাটাইল ডটকম

নগরবাড়ী-নটাখোলা ও কাজীরহাট আমদানি-রপ্তানি ঘাট দুটির রাজস্বের টাকা্ উপজেলায় ফেরতের দাবি


বেড়ার বরখাস্ত মেয়র আব্দুল বাতেন সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার ব্যাখ্যা দিলেন

পাবনার বেড়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) লাঞ্ছিত করার অভিযোগে বেড়া পৌরসভার মেয়র পদ থেকে বরখাস্ত হওয়া আব্দুল বাতেন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন।  বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় বেড়া পৌরসভার মিলনায়তনে তিনি এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও জনপ্রতিনিধিসহ তাঁর দেড়শতাধিক সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে মেয়র (সাময়িক বরখাস্তকৃত) বলেন, বেড়া উপজেলার নগরবাড়ী-নটাখোলা ও কাজীরহাট আমদানি-রপ্তানি ঘাট দুটি বিধি মোতাবেক উপজেলা পরিষদের আওতাভূক্ত। উপজেলা পরিষদেরই ঘাট দুটির রাজস্ব আদায়ের কথা। কিন্তু সম্প্রতি পাবনা জেলা প্রশাসন তা উপেক্ষা করে ঘাট দুটি থেকে রাজস্ব আদায়ের (খাস আদায়) উদ্যোগ নেয়। এ বিষয়টি বেড়াবাসীর স্বার্থসংশ্লিষ্ট উল্লেখ করে তিনি বলেন বিষয়টি ২২ সেপ্টেম্বরের উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। পরবর্তী সভায়ও এটি অন্তর্ভূক্ত করার কথা। অথচ ঘটনার দিন অর্থাৎ গত সোমবার (১২ অক্টোবর) উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় এ বিষয়টি আলোচনা থেকে কৌশলে বাদ দেওয়া হয়। এতে তিনি বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করেছেন ও আলোচনায় অন্তর্ভূক্ত করার কথা বলেছেন মাত্র। এ ছাড়া সেখানে কোনো ধাক্কাধাক্কি বা ইউএনওকে লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটেনি। আব্দুল বাতেন দাবি করেন ইউএনওর সঙ্গে তাঁর ভালো সম্পর্ক উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন তাঁর বিরুদ্ধে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে তা সম্পূর্ণভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য ষড়যন্ত্র করে ওইদিন ঘটনাটির ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল বাতেন বলেন, তিনি চান ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত হোক। তদন্ত হলেই সঠিক বিষয়টি বের হয়ে আসবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করার বিষয়টিকে তিনি স্বাগত জানান বলে দাবি করেন। কারণ বরখাস্ত করায় বিষয়টি নিয়ে এখন সঠিক তদন্ত হবে বলে তিনি মনে করেন। উল্লেখ্য, গত সোমবার (১২ অক্টোবর) উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে মাসিক সভাকালে মেয়র আব্দুল বাতেনের বিরুদ্ধে ইউএনও আসিফ আনাম সিদ্দিকীকে লাঞ্ছিত এবং অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ ওঠে। এরই ভিত্তিতে স্থানীয় সরকার বিভাগ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) তাঁকে মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে।

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ এর জনসংযোগ দপ্তরের পাবলিক রিলেশন অফিসার মোঃ শাহ্ আলী এসব তথ্য নিশ্চিত করেন


ইউজিসি’র সাথে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি

উচ্চ শিক্ষায় সুশাসন ও সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে মঙ্গলবার বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সাথে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ’র বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। উক্ত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ’র রেজিস্ট্রার মোঃ সোহরাব আলী এবং বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তির ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালক মোঃ গোলাম সরোয়ার। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ইউজিসি অডিটরিয়ামে চলতি অর্থবছরের চুক্তি সম্পাদন এবং ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের এপিএ’র মূল্যায়ন সভা অনুষ্ঠিত হয়। ২০২০-২০২১ অর্থবছরের জন্য গত দুইদিন ১ম ও ২য় পর্র্যায়ে ইউজিসি’র সঙ্গে ২৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সরকারি কর্মকান্ডে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি, সম্পদের সুষম ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উন্নয়নের লক্ষ্যে এপিএ প্রবর্তন করা হয়। কমিশনের সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. ফেরদৌস জামান এর সভাপতিত্বে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ। অনুষ্ঠানে ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. দিল আফরোজা বেগম, অধ্যাপক ড. মোঃ সাজ্জাদ হোসেন, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর, অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ এবং অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। কমিশনের সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর রেজিস্ট্রারবৃন্দ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে প্রধান অতিথির ভাষণে অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, নিয়ম-শৃঙ্খলা ও মানসম্পন্ন প্রশাসন উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। উচ্চশিক্ষাকে এগিয়ে নিতে সুশাসন অবশ্যই প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারও নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের কষ্টের টাকা কোনক্রমেই অপচয় করা যাবে না। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে আইন শৃঙ্খলা মেনে দক্ষ ভূমিকা রাখতে হবে। আইনের ব্যত্যয় হলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তির সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে। উক্ত অনুষ্ঠানে ১৯ টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, এপিএ’র ফোকাল পয়েন্ট এবং ইউজিসি’র কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ এর জনসংযোগ দপ্তরের পাবলিক রিলেশন অফিসার মোঃ শাহ্ আলী এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
উল্লেখ্য, ২০১৬-২০১৭ অর্থবছর থেকে ইউজিসি প্রতিবছর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এ চুক্তি স্বাক্ষর করে আসছে।

শাহজাদপুরের ২৪ জন অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা পাবেন বাড়ি


‘অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।’ – হাসিবুর রহমান স্বপন এমপি

`জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমস্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা’র সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। অতীতে অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ৯’শ টাকার পরিবর্তে বর্তমান সরকার মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা (মাসিক) ১২ হাজার টাকায় উন্নীত করেছে। সেইসাথে বৈশাখী ভাতা বাবদ ২ হাজার টাকা ও বছরের ২ ঈদে বোনাস বাবদ ২০ হাজার টাকাও মুক্তিযোদ্ধাদের দিচ্ছে জননেত্রী শেখ হাসিনা’র সরকার। এছাড়া অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় ১৬ লাখ টাকা (বাড়ি প্রতি) ব্যায়ে শাহজাদপুরের ২৪ জন অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ি নির্মাণ করবে সরকার।’ রোববার ( 30 আগষ্ট) সকালে সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ শাহজাদপুর উপজেলা কমান্ডের আয়োজনে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে হলরূমে স্থানীয় ৫০ জন অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে শাহজাদপুরের মাটি ও মানুষের নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হাসিবুর রহমান স্বপন এমপি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বিনয় পালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মোঃ শামসুজ্জোহা ও থানার অফিসার ইনচার্জ আতাউর রহমান। এতে বক্তব্য রাখেন, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ডের চেয়ারম্যান উপাধ্যাক্ষ রফিকুল ইসলাম বাবলা, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম শাহু প্রমূখ। উক্ত অনুষ্ঠানে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

বাস্তবায়ন হচ্ছে মেয়র আনিসুল হকের সেই ‘ইউটার্ন” প্রকল্প

তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা মোড় থেকে আবদুল্লাহপুর পর্যন্ত সড়কের ১১টি স্থানে ইউটার্ন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক। কিন্তু নানা বাধার কারণে এই প্রকল্পটি আর এগোতে পারেনি সেই সময়। পরবর্তীতে যানজট কমাতে ফের সেই প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।

শুরুতে ১১টি ইউটার্ন নির্মাণের জন্য ২৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছিল। সংশোধিত প্রকল্পে একটি ইউটার্ন কমিয়ে আনা হয়। ফলে ১০টির জন্য ব্যয় বাড়িয়ে সংশোধিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩১ কোটি ৮০ লাখ ৯৭ হাজার টাকা।

ডিএনসিসি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ৪ নভেম্বর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসএম কনস্ট্রাকশন ইউটার্ন নির্মাণের কাজ শুরু করে। কিন্তু শুরুতে কিছু জটিলতা দেখা দেয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কিছু স্থাপনা ভাঙতে গেলে বাধা দেয় তারা। সংশোধিত প্রকল্পে সওজের স্থাপনার জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করায় সমস্যা কেটে গেছে।

প্রকল্প এলাকায় এখন মোট ১০টি ইউটার্ন নির্মাণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে, উত্তরা রাজলক্ষ্মী, উত্তরা র‌্যাব-১ অফিসের সামনে, কাওলা, বনানী ওভারপাসের নিচে, বনানী কবরস্থান ও কাকলী মোড়ের মাঝখানে, বনানী চেয়ারম্যানবাড়ি, মহাখালী মোড়, মহাখালী বাস টার্মিনাল, নাবিস্কো মোড় এবং বিজি প্রেসের সামনে ইউটার্নগুলো নির্মাণ করা হবে। এগুলোর মধ্যে উত্তরায় দুটি ইউটার্ন নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। বাকিগুলোর কাজ চলমান রয়েছে।

ইউটার্নগুলো নির্মাণ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে উত্তরা থেকে তেজগাঁও পর্যন্ত ১০টি ইউটার্ন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হবে। আমরা দেখেছি, উত্তরায় রাজলক্ষ্মীর সামনে এবং জসীমউদ্দীন মোড়ে কী রকম জ্যাম হতো। এই কাজটির পরিকল্পনা ২০১৬ সালে নেয়া হয়েছিল। মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুতে কাজটি থমকে গিয়েছিল। আমি ৯ মাসের জন্য নির্বাচিত হওয়ার পরে আমার একটা কমিটমেন্ট ছিল যে, আনিসুল হকের এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা হবে। তার স্বপ্নগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম ছিল। পরবর্তীতে দেখা গেল, এখানে সড়ক ও জনপদের জমি আছে। এছাড়া আরও অনেকগুলো বাধা ছিল। আমরা মিটিং করে সবগুলো বাধা নিষ্পন্ন করি। রোডস অ্যান্ড হাইওয়েজের জায়গা আমাদেরকে কিনে নিতে হয়েছে, ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে সময় অতিবাহিত হয়েছে।

মেয়র আরও বলেন, এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরা থেকে তেজগাঁও নাবিস্কো পর্যন্ত যেতে এখন যে সময় ব্যয় হয় তার শতকরা ৭০ ভাগ সময় কমে যাবে। এই কাজটি শেষ করতে পারলে জনগণ অনেক উপকৃত হবে। এর প্রমাণ আমরা পেয়েছি উত্তরায় রাজলক্ষ্মী এবং জসিম উদ্দিন মোড়ে। ভালো কাজগুলো কোনোভাবেই বন্ধ রাখা যাবে না। এই শহরকে সুন্দর করতেই হবে।

জানা গেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট এলাকায় সড়ক উন্নয়নসহ ইউটার্ন নির্মাণের মাধ্যমে ইন্টারসেকশনকে সিগন্যাল যুক্তকরণ ও সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় ভ্রমণের সময় হ্রাস করে যানজট হ্রাস করা সম্ভব হবে। এছাড়া পথচারীদের হাঁটার সুবিধাও প্রদান করা হবে।

জাগোনিউজ থেকে সংগ্রহীত

যানযট নিরসনে সব ৪ রাস্তা মোড় বন্ধ করে সোজা করে ইউটার্ন আর ইউলুপ বানাতে হবে তাহলেই যানযট কমবে।

শতাধিক দুস্থ্যদের হাতে প্রধানমন্ত্রীর উপহার প্রদান


রেল সচিব বেড়ায় ঢালারচর রেল স্টেশন পরিদর্শনে

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম রেজা শুক্রবার (২১ আগষ্ট) সকাল সাড়ে ৯ টায় বেড়া উপজেলার ঢালারচর রেল স্টেশন পরিদর্শন করেন এবং ওই ইউনিয়নের এক’শ দুঃস্থ অসহায় পরিবারের মাঝে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর কর্তৃক প্রদত্ত প্রধানমস্ত্রী’র উপহার বিতরণ করেন।
এ সময় ঢালারচর রেল স্টেশনে উত্তরবঙ্গের রেল মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন। মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, বেড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসিফ আনাম সিদ্দিকী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সচিব সেলিম রেজা মহামারী করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে সাধারন মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি রেল লাইনের যন্ত্রাংশ নিজেদের সম্পদ মনে করে নিজেদের দায়িত্বে দেখে রাখার কথা বলেন।

পরে তিনি উপজেলার পুরান ভারেঙ্গা ইউপিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর কর্তৃক প্রদত্ত টিআর প্রকল্পের আওতায় দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ প্রকল্পের উপকারভোগীদের কয়েকটি ঘর ও নগরবাড়িতে স্থাপিত মেরিন একাডেমিসহ বেড়া উপজেলায় বাস্তবায়ীত সরকারের কয়েকটি উন্নয়নমুলক প্রকল্প পরিদর্শন করেন।

এ সময় রেল সচিবের সাথে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বেড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসিফ আনাম সিদ্দিকী, সুজানগর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ফরহাদ হোসেন, আমিনপুর থানার ভারপাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মোজাম্মেল হক, বেড়া উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম, উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ শহিদুল্লাহ, ঢালারচর ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম (আমিন) প্রমুখ।

দুই মন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্ব শেষে জানা গেলো ওসি করোনা আক্রান্ত

সিলেটে পররাষ্ট্র ও তথ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্ব শেষ করার পর জানা যায় কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-ওসি সেলিম মিয়া করোনা আক্রান্ত।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন (১৮ আগস্ট) মঙ্গলবার রাতে সিলেট আসেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরদিন বুধবার সকালে জেলা প্রশাসন চত্বরে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালের উদ্বোধন করেন। আর তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ সিলেট আসেন বৃহস্পতিবার। তিনি জেলা পরিষদের অনুষ্ঠানসহ সার্কিট হাউসে কিছু সময় অবস্থান করেন। তিনি রাতে সিলেট ত্যাগ করেন।

এ দুই মন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মিয়া। তিনি উপসর্গ নিয়ে বুধবার নমুনা দিলে বৃহস্পতিবার রাতে জানতে পারেন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত তিনি।

বৃহস্পতিবার সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় তার করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে। যা শুক্রবার সকালের রিপোর্টে নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

করোনা উপসর্গ নিয়ে বুধবার নমুনা জমা দিলেও বুধ ও বৃহস্পতিবার দুই মন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকায় জনমনে নানা প্রশ্ন ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল উদ্বোধনের সময় ওসি সেলিমকে দেখা গেছে মন্ত্রীর পেছনে। এসময় মন্ত্রীকে ঘিরে ছিলেন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা। সেখানে গণমাধ্যমকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) জ্যোতির্ময় সরকার সময় সংবাদকে বলেন, ওসি সেলিম মিয়ার করোনা আক্রান্তের বিষয়টি আমরা জেনেছি। তবে, তার নমুনা দিয়ে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি জানা ছিল না। তবে, এ নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

প্রদীপ-লিয়াকতের বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন ভুক্তভোগীরা

একের পর এক অভিযোগে কখনো দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহৃত হয়েছেন, আবার কখনো সাময়িক বরখাস্ত। হয়েছে বিভাগীয় মামলাও। কখনো মামলার বাদীকে রাজি করিয়ে, আবার কখনো তদবির করে রেহাই পেয়েছেন কিছু অভিযোগ ও মামলা থেকে।

তিনি টেকনাফ থানার দায়িত্ব থেকে সম্প্রতি সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ। চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় প্রায় ১৩ বছর দায়িত্ব পালনকালে অর্থের বিনিময়ে নিরীহ মানুষকে মামলায় জড়ানো, আইনজীবীকে অপহরণ, জায়গা দখল, মিথ্যা অভিযোগে মামলা করে শিল্পপতিকে হয়রানিসহ নানা অভিযোগ ছিল প্রদীপের বিরুদ্ধে।

সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার আসামি হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর প্রদীপের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের বিষয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগীরা অনেকেই বলছেন, প্রদীপকে আগেই শাস্তির আওতায় আনা হলে হয়তো সিনহা হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধের ঘটনা এড়ানো যেত।

এ ছাড়া পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলীর বিরুদ্ধে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগে বৃহস্পতিবার পুলিশ কমিশনার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন চট্টগ্রামের এক ব্যবসায়ী। সিনহা হত্যা মামলার আসামি লিয়াকতও দীর্ঘ সময় চট্টগ্রামে দায়িত্বরত ছিলেন।

পুলিশ সদস্যদের অনেকে অপরাধ করেও কেন শাস্তির আওতায় আসেন না, জানতে চাইলে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশের বিরুদ্ধে অপরাধের ঘটনায় সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায় না বলে রেহাই পেয়ে যান তাঁরা। তিনি বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা সাক্ষ্যপ্রমাণ না পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করতে পারেন না। এ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা যাতে সঠিক তথ্য দিতে পারেন, তার ব্যবস্থা করা উচিত।

টাকা নিয়ে আসামি

ডেকোরেশন ব্যবসায়ী আবু নাছেরের বিরুদ্ধে পুলিশের খাতায় কোনো মামলা ছিল না। ২০১৬ সালের ৫ জুন সাবেক এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রামের বাড়ি হাটহাজারী থেকে গ্রেপ্তার করেন চট্টগ্রাম গোয়েন্দা পুলিশের তৎকালীন পরিদর্শক প্রদীপ দাশ। নাছেরের দাবি, এলাকায় মাজার নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা নিয়ে
এজাহারে নাম না থাকলেও তাঁকে এই মামলায় জড়ানো হয়।

নাছেরকে গ্রেপ্তারের ২০ দিন পর তৎকালীন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার সংবাদ সম্মেলন করে জানান, মাহমুদা হত্যায় নাছেরের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। পাঁচ মাস কারাভোগের পর তিনি এই মামলায় জামিনে মুক্তি পান। অপরাধী না হয়েও এখনো ধার্য দিনে আদালতে হাজিরা দিয়ে যাচ্ছেন নাছের। আবু নাছের মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রতিপক্ষ থেকে ৩০ লাখ টাকা নিয়ে প্রদীপ এই মামলায় আমাকে জড়ান। কারাগারে হারিয়ে যাওয়া পাঁচটি মাস, হারানো সম্মান কি ফিরিয়ে দিতে পারবেন প্রদীপ?’

চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় দায়িত্ব পালনকালে নানা অভিযোগ ওঠে প্রদীপের বিরুদ্ধে
লিয়াকতের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীর অভিযোগ

নাছেরের স্ত্রী পারভীন আক্তার বলেন, ‘ওই সময় প্রদীপের বিরুদ্ধে শাস্তি চেয়ে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছিলাম। সেই দিন তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে নিরীহ কেউ আর হয়রানির শিকার হতো না।’

নাছেরের মামলাটি পিবিআই চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মঈন উদ্দীন তদন্ত করছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, প্রকৃত আসামিরা ধরা পড়ায় নিরীহ আসামিকে অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে।

অপহরণ করেন আইনজীবীকেও
২০১৩ সালে আরিফ নামের এক আসামির রিমান্ডের আবেদন করেছিল পুলিশ। চট্টগ্রামে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী নুরুল আলম তাঁর মক্কেলের রিমান্ডের আবেদনের বিরোধিতা করেছিলেন।

নুরুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশ আরিফকে রিমান্ডে নিয়ে পকেটে তাঁর ভিজিটিং কার্ড পেয়েছিল। এরপর ওই বছরের ২৩ জানুয়ারি আদালত থেকে বাসায় ফেরার পথে নগরের সিনেমা প্যালেস এলাকা থেকে সাদাপোশাকে পাঁচলাইশ থানা-পুলিশের একটি দল তাঁকে তুলে নিয়ে যায়। সারা রাত নির্যাতন করে তাঁকে মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

মামলা থেকে রেহাই দেওয়ার নামে প্রদীপ ৭০ হাজার টাকাও আদায় করেন বলে জানান নুরুল আলম। তিনি বলেন, নির্যাতনের কারণে তাঁকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছিল। এই ঘটনায় ওসি প্রদীপসহ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে অপহরণের মামলা করেন। আদালত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আইনজীবী নেতাদের সমঝোতা বৈঠকের পর মামলাটি প্রত্যাহার করে নেন।

আইনজীবী নুরুল আলম রোববার প্রথম আলোকে বলেন, ‘চাপে পড়ে সেদিন মামলাটি প্রত্যাহার করেছিলাম। এখন মনে হয় ভুল করেছি। মামলাটি চালিয়ে গেলে প্রদীপসহ জড়িত পুলিশ সদস্যদের শাস্তি হতো। এতটা বেপরোয়া হতে পারতেন না তাঁরা।’

বাদ যায়নি বোনের জায়গাও
বোনের জায়গাও বাদ যায়নি প্রদীপের হাত থেকে। তাঁর বড় বোনের ছেলে সুমন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, প্রদীপ তাঁর মায়ের সৎভাই। নগরের মুরাদপুর এলাকায় তাঁর মায়ের সূত্রে পাওয়া ৩২ শতাংশ জায়গা অর্পিত সম্পত্তি আইনে চলে যায়। জায়গাগুলো উদ্ধার করে দিলে তাঁর মামাকে (প্রদীপ) ছয় গন্ডা জায়গা দেওয়া হবে। কিন্তু উদ্ধারের পর জায়গা রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। একপর্যায়ে প্রদীপ নিজে ২৪ শতাংশ এবং অন্য এক ব্যক্তির মাধ্যমে আরও ৬ শতাংশ জমি দখল করেন বলে অভিযোগ সুমনের। ঘটনার সময় প্রদীপ চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পুলিশের অভিবাসন শাখায় পরিদর্শক ছিলেন।

২০১৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বরে ওই ঘটনায় প্রদীপের বিরুদ্ধে পাঁচলাইশ থানার তৎকালীন ওসি মহিউদ্দিন মাহমুদ থানায় জিডি করেন। সেখানে বলা হয়,‘বহিরাগতদের নিয়ে একজন পুলিশ পরিদর্শক (প্রদীপ) জায়গা দখল করায় পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।’ পরে এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছেও প্রতিবেদন দেন ওসি।

বৃহস্পতিবার নগরের পশ্চিম ষোলশহর এলাকায় এই জায়গায় গিয়ে দেখা যায়, টিনশেডের সেমি পাকা ঘর রয়েছে ছয়টি। ভাড়াটেরা জানান, ওসি প্রদীপ তাঁদের বাসার মালিক।

সুমনের অভিযোগ, জায়গাটি আত্মসাতের জন্য প্রদীপ এক নারীকে দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন মামলা করিয়েছেন। এই মামলায় তাঁকে ১৬ দিন কারাবাস করতে হয়েছে এবং এখনো আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে। ওই নারীকে তিনি চেনেন না। নির্দোষ প্রমাণিত হলে ওই নারী ও প্রদীপের বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলে জানান সুমন।

শিল্পপতির নামে মিথ্যা অভিযোগে মামলা
বায়েজিদ বোস্তামী থানায় ওসি থাকাকালে একটি পরিশোধনাগারের তেল আটক করে সাময়িক বরখাস্ত হন প্রদীপ। ২০১৫ সালের ৪ আগস্ট সন্ধ্যায় নগরের টেক্সটাইল গেট এলাকায় বেসরকারি তেল শোধনাগার সুপার রিফাইনারির সাড়ে ৯ হাজার লিটার কেরোসিনসহ একটি লরি আটক করে পুলিশ। এই জ্বালানি কারখানা থেকে মিরসরাই যাচ্ছিল।

এরপর সুপার রিফাইনারির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে বায়েজিদ থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়। পুলিশের মহাপরিদর্শকের কাছে হয়রানির অভিযোগ করেন সুপার রিফাইনারি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আহমেদ।

ওই অভিযোগের পর তদন্ত কমিটি বায়েজিদ থানার ওসি প্রদীপকে সাময়িক বরখাস্ত করে। পরে এ ঘটনায় প্রদীপকে সিলেট রেঞ্জে বদলি করা হলেও সেখানে না গিয়ে কক্সবাজারের মহেশখালী থানায় যোগদান করেন।

অবৈধ সম্পদের খোঁজে দুদক
অভিযোগ আছে, প্রদীপের নিজের ও স্ত্রী চুমকি কারনের নামে জমি, ফ্ল্যাট রয়েছে, যা দুদকে দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়নি। দুদক এখন অবৈধ এসব সম্পদের খোঁজে নেমেছে। দুদক চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক রিয়াজ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, প্রদীপ ও তাঁর স্ত্রীর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের যাচাই-বাছাই চলছে।

দুদক সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের জুনের মাঝামাঝি এ বিষয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। ওই বছরের ১৮ নভেম্বর দুদক চট্টগ্রাম কার্যালয়ে প্রদীপ ও তাঁর স্ত্রীর সম্পদ বিবরণী জমা দেন। এরপর থেমে থাকে সব কার্যক্রম। টেকনাফে গুলিতে সিনহা খুনের পর সচল হয় ফাইলটি।

‘ক্রসফায়ারের’ হুমকিতে দুই লাখ টাকা নেন লিয়াকত
২০১০ সালে এসআই হিসেবে পুলিশে যোগদান করা লিয়াকত চট্টগ্রাম নগর ডিবি পুলিশ ও কাউন্টার টেররিজমে কর্মরত ছিলেন। ডিবিতে থাকাকালীন তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে।

ক্রসফায়ারের হুমকি দিয়ে দুই লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগে লিয়াকতের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার নগর পুলিশ কমিশনার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন পতেঙ্গার ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, ২০১৪ সালে ব্যবসায়িক প্রতিপক্ষের করা মামলার প্রতিবেদন থেকে রেহাই দেওয়ার কথা বলে পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ চেয়েছিলেন লিয়াকত। টাকা দিতে অস্বীকার করলে আসামির খালাতো বোনকে বাদী সাজিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা দেন। ওই মামলায় জামিন পেলে লিয়াকত তাঁকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে দুই লাখ টাকা নেন। তাঁর বিরুদ্ধে ১৩টি মিথ্যা মামলা হয় লিয়াকতের সাহায্যে। ১০টিতে খালাস পান। বাকি তিনটি চলছে।

ব্যবসায়ী জসিমের দেওয়া অভিযোগটি একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে দিয়ে তদন্ত করাবেন বলে জানিয়েছেন নগর পুলিশ কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান। রোববার তিনি প্রথম আলোকে বলেন, অভিযোগটি হাতে এখনো পৌঁছায়নি। পেলে অবশ্যই তদন্ত করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগে কেন তদন্ত কিংবা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তিনি জানেন না।

জসিম উদ্দিন বলেন, মামলার পেছনে ছুটতে ছুটতে জীবন শেষ। এত দিন ভয়ে মুখ খোলেননি। এখন বিচার চান।

তথ্য সুত্রঃ বিডি প্রতিদিন

করোনা পজিটিভ শুধাংশু প্রধানমন্ত্রীর সামনে

করোনা টেস্টে পজিটিভ হওয়ার পরও গণভবনে গিয়ে হাজির হয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়েছেন ডাক বিভাগের মহাপরিচালক সুধাংশু শেখর ভদ্র (এসএস ভদ্র)।

গত ১৪ আগস্টে বঙ্গবন্ধুর ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট, ডেটা কার্ড উন্মোচন ও বিশেষ খামের উদ্বোধনী কাজে গণভবনে যান তিনি।

ছবিতে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টেবিলে বসে উদ্বোধনী খাম, স্মারক ডাকটিকিট এবং ডেটা কার্ড উন্মোচন কাজে স্বাক্ষর করছেন আর নীল শার্ট পরা সুধাংশু শেখর ভদ্র পাশে দাঁড়িয়ে আছেন।

অথচ নিয়ম অনুযায়ী তখন তার আইসোলেশনে থাকার কথা। সেটা না করে তিনি গণভবনে গিয়েছেন।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) করা সুধাংশু শেখর ভদ্রের করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।

তাতে তিনি কোভিড পজিটিভ বলে উল্লেখ করা আছে।

সেখানে দেখা গেছে, তার নমুনা নেওয়া হয়েছে ১২ আগস্ট, রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে ১৩ আগস্ট। সেখানে তার নাম লেখা রয়েছে এস এস ভদ্র। এই নামেই তিনি পরিচিত বলেও জানা গেছে ডাক বিভাগ সূত্রে।

রিপোর্টের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য এ প্রতিবেদক নিজেও সুধাংশু শেখর ভদ্রের রিপোর্টের আইডি নম্বর নিয়ে আইইডিসিআরে যোগাযোগ করলে সেখান থেকেও তিনি পজিটিভ বলে জানানো হয়।

১৪ আগস্টের ছবিতে দেখা গেছে, সাধারণ একটি সার্জিক্যাল মাস্ক মুখে এবং একটি ক্যাপ মাথায় দিয়ে অন্যদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছেন সুধাংশু।

তবে কথা বলার সুবিধার জন্য প্রধানমন্ত্রীর মুখের মাস্কটি ছিল নামানো।

এ বিষয়ে কথা বলতে সুধাংশু শেখর ভদ্রের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল এবং খুদেবার্তা পাঠিয়েও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি, তিনি রেসপন্স করেননি।

পরে আরেকটি নম্বর থেকে তার পার্সোনাল সেক্রেটারি পরিচয় দিয়ে জসিম নামের একজন কল করেন।

ডিজি স্যারকে কেন ফোন করা হচ্ছে জানতে চাইলে সুধাংশু শেখর ভদ্র করোনা পজিটিভ কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আইইডিসিআরের পাশাপাশি স্যার বেসরকারি আরও দুটি জায়গায় পরীক্ষা করিয়েছেন, সেখানে নেগেটিভ এসেছে।

কিন্তু সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে পজিটিভ আসা মানে তাকে পজিটিভই ধরতে হবে এবং সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে জানালে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘আপনি কি এ বিষয়ে কথা বলতে চাচ্ছেন?’

এ বিষয়ে কথা বলতে চাচ্ছি বলে জানালে তিনি বলেন, ‘ঠিক আছে স্যারকে আমি অবহিত করি, স্যার যদি কথা বলেন তাহলে আপনাকে জানাচ্ছি।’

একাধিক প্রতিষ্ঠানে করোনার নমুনা পরীক্ষা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে পজিটিভ আসার পরও কেউ নেগেটিভ ধরে তার স্বাভাবিক কাজ চালাতে পারেন কিনা, এমনকি প্রধানমন্ত্রীর সামনে যেতে পারেন কিনা প্রশ্নে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় পরামর্শক কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, অবশ্যই আইইডিসিআরের রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য এবং নির্ভরযোগ্য।

আইইডিসিআরের রিপোর্ট যদি পজিটিভ হয় এবং অন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের রিপোর্ট যদি নেগেটিভ হয় তাহলে কোনটা ধরা উচিত প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, একটা নমুনার যদি একাধিক পরীক্ষা হয়, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যদি একাধিক নেগেটিভ হয়ে কোন একটাতেও যদি পজিটিভ রিপোর্ট হয় তাহলে পজিটিভ রিপোর্টই গ্রহণযোগ্য।

সেটা আইইডিসিআর না হলেও, সেটাই ভ্যালিড বলে ধরতে হবে এবং এটাই নিয়ম।