শাহজাদপুরে ১ সপ্তাহে ২ শতাধিক ঘরবাড়ি যমুনায় বিলীন; হুমকির সম্মুখীন এলাকার অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা


‘এই জায়গায় বাঁধ কইর‌্যা না দিলে এই ভিট্যায়ই জীবন শ্যাষ কইর‌্যা দিমু; আর যামুনা কোথাও!’

গত ১ সপ্তাহে উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ঘাটাবাড়ি, পাকুড়তলাসহ পাশর্^বর্তী গ্রামগুলোর প্রায় ২ শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে। যমুনায় পানির প্রবল ¯্রােতে ভাঙনের তীব্রতা ক্রমশ বাড়ছে। একদিকে, ৮ বার ১০ বার যমুনা ভাঙনের কবলে পড়ে ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পথে বসেছে যমুনা তীরবর্তী অসংখ্য জনমানুষ। অন্যদিকে, ভাঙনের তান্ডবলীলায় চোখের সামনে একের পর এক ঘরবাড়ি, জমিজমাসহ বিভিন্ন স্থাপনা যমুনা গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার পরেও ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়ার যমুনা তীরবর্তী এলাকাবাসী অনশনে নেমেছে। গতকাল সোমবার উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ঘাটাবাড়ি এলাকার মৃত এনায়েত উল্লাহ মুন্সীর ছেলে বৃদ্ধ ইয়াছিন প্রামাণিক (৮০) ও রহম আলী মোল্লা (৭২) গত দু’দিন ধরে বাঁধ নিমাণের দাবীতে যমুনার তীরে অনশন করে যাচ্ছেন। এ দু’বয়োবৃদ্ধর কান্নাজড়িত কন্ঠের ভাষ্য,‘ ৭/৮ বার বাড়ি ভাঙছে। জমিজমা সব ভাঙনে গেছে। এখন এই ভিটাই আছে। সরকার এই জায়গায় বাঁধ কইর‌্যা না দিলে এই ভিট্যায়ই জীবন শ্যাষ কইর‌্যা দিমু; আর যামুনা কোথাও!’
গতকাল সোমবার দুপুরে সরেজমিন পরিদর্শনকালে উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ঘাটাবাড়ি এলাকার মৃত এনায়েত উল্লাহ মুন্সীর ছেলে বৃদ্ধ ইয়াছিন প্রামাণিক (৮০), মৃত রিয়াজ উদ্দিন সরকারের ছেলে শফিউল্লাহ মুন্সী (৮০),নকির উদ্দিন ফকিরের ছেলে তয়জাল ফকির (৬৫), মৃত শমসের আলীর ছেলে শামসুল মোল্লা (৭২), জমুর আলীর ছেলে নুরু ফকির (৭২), রহম আলী মোল্লা (৭২)সহ বেশ কয়েকজন এলাকাবাসী আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, ‘ব্রাক্ষণগ্রাম থেকে হাটপ্রাচীল পর্যন্ত মাত্র সাড়ে ৬ কিলোমিটার এলাকা যমুনার ভাঙন মুক্ত না করায় চোখের সামনে একের পর এক তাদের জমিজমা ঘরবাড়ি সব যমুনা গিলে খাচ্ছে। ৭ বার ৮ বার ৯ বার বা তার চেয়েও বেশী বার যমুনার ভাঙনে তারা ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। শেষ সম্বল তাদের ভিটা টুকু আর যমুনাকে দিতে তারা চায়না। প্রয়োজনে জীবন দিয়ে দেবেন তবুও ভিটা দেবেন না। আর এ জন্য তারা গত ২ দিন ধরে অনশনে নেমেছেন। সেইসাথে অবিলম্বে তারা ভাঙন রোধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, গত এক যুগ ধরে জালালপুর ইউনিয়নসহ পাশর্^বর্তী এলাকায় ভয়াবহ নদী ভাঙন চলছে। যমুনার কড়াল গ্রাসে একের পর এক বিলীন হয়েছে ব্রাক্ষ্মণগ্রাম, আড়কান্দি, ঘাটাবাড়ি, পাকুরতলা, কুঠিপাড়া, ভেকা ও পাচিল গ্রামের প্রায় ১১ হাজার ঘরবাড়ি। যমুনা তীরবর্তী হাট বয়ড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বসন্তপুর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ কমপক্ষে ৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ১৪ টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, কবরস্থান, ঈদগাহ মাঠ, তাঁত কারখানাসহ বিস্তৃর্ণ ফসলি জমিজমা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাজী সুলতান মাহমুদ জানিয়েছেন, ‘গত ১ সপ্তাহে ব্রাক্ষ্মণগ্রাম, আড়কান্দি, ঘাটাবাড়ি, পাকুরতলা, কুঠিপাড়া, ভেকা ও পাচিল গ্রামের ২ শতাধিক ঘরবাড়ি ও বিস্তৃর্ণ ফসলি জমি যমুনা গর্ভে বিলীন হয়েছে। ভয়াবহ ভাঙনের কারণে নদীর অদূরে এনায়েতপুর-সিরাজগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক, খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ এন্ড হসপিটাল ও বিশ্ববিদ্যালয়, নার্সিং ইন্সটিটিউট ও দেশের সর্ববৃহৎ এনায়েতপুর কাপড়ের হাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা হুমকির সন্মুখীন হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে দ্রুত ভাঙন রোধে উদ্যোগ নেয়ার জোর দাবি উঠেছে।’
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘অনশনকারীদের সঙ্গে আমরা সমব্যথী। তবে সাড়ে ৬ কিলোমিটার এলাকা স্থায়ী রক্ষায় সাড়ে ৬’শ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন পেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।’

শাহজাদপুরে বন্যার্তদের পাশে মিল্কভিটার ভাইস চেয়ারম্যান

আজ শুক্রবার সকালে সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলা পৌরজনা ইউনিয়ন এর পুঠিয়া গ্রামের ১’শ ৪০ টি বন্যার্ত পরিবারের মাঝে চাউল ও নগদ অর্থ, মাস্ক, চিনি, উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বন্যাত্যদের মাঝে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন মিল্কভিটার ভাইস চেয়ারম্যান, স্পেশাল পিপি (নারী ও শিশু), শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী এ্যাডঃ শেখ মোঃ আব্দুল হামিদ লাবলু। এ কাজে অন্যান্যের মধ্যে শাহজাদপুর উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহব্বায়ক মোঃ রাজীব শেখ, পোরজনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ আমজাদ হোসেন, সাধারন সম্পাদক অনিল ঘোষ, হাবিবুল্লাহ নগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেনসহ দলীয় নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
এ বিষয়ে মিল্কভিটার ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাডঃ শেখ আব্দুল হামিদ লাবলু ও যুবলীগের সাবেক আহবায়ক রাজীব শেখ বলেন,‌‌ বিপদে আপদে, সুখে-দুঃখে এলাকাবাসীর সাথে পাশে এভাবেই যেন দাঁড়াতে পারি, মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে পারি, আল্লাহপাকের কাছে সে প্রার্থনাই করি।

প্রধানমন্ত্রীর উপহার নিয়ে হাজির কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য প্রফেসর মেরিনা জাহান কবিতা


শাহজাদপুরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তরা পেলেন প্রধানমন্ত্রীর উপহার

জহুরুল ইসলাম , শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) : উত্তরবঙ্গের অন্যতম জনপদ সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার নদনদী থেকে পনি কমলেও জেগে উঠতে শুরু করেছে বন্যার ক্ষত। মহামারি করোনা ভাইরাসে যখন পর্যদস্তু মানুষ তার মধ্যেই ভয়াবহ আতঙ্ক হয়ে দেখা দিয়েছে বন্যা। একদিকে করোনা অপরদিকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে রীতিমত সংসার চালাতে হিমসিম খাাচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষ। এমনই এক ভয়াবহ দুঃসময়ে দুস্থ ও বন্যার্ত মানুষের মাঝে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার নিয়ে হাজির হলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য প্রফেসর মেরিনা জাহান কবিতা। গতকাল শনিবার বিকেলে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার শক্তিপুরস্থ নুরজাহান ভবনে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য প্রফেসর মেরিনা জাহান কবিতার আয়োজনে ও শাহজাদপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মুস্তাক আহমেদের সঞ্চালনায় দুস্থ ও বন্যার্তদের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক মন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল লতিফ বিশ্বাস, সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও সিরাজগঞ্জ সদর আসনের এমপি ডাঃ মোঃ হাবিবে মিল্লাত মুন্না, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা এ্যাডভোকেট কে.এম হোসেন আলী হাসান, এ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল, সিরাজগঞ্জ পৌরসভার প্যানের মেয়র মোঃ হেলাল উদ্দিন, বেলকুচি পৌরসভার মেয়র আশানূর বিশ্বাস, সিরাজগঞ্জ জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ একরামুল হক প্রমুখ।
উপহার সামগ্রী বিতরণ শেষে অতিথিবৃন্দ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

ছাত্রলীগ সম্পাদক শেখ মোঃ রাসেলের মহতী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে এলাকাবাসী


শাহজাদপুরে তিন’শ বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিরতণ করলেন এমপি হাসিবুর রহমান স্বপন

শাহজাদপুর প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের কাকিলামারি গ্রামে উপজেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ তিন’শ পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ মোঃ রাসেল শেখ এর আয়োজনে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হাসিবুর রহমান স্বপন। ত্রাণ বিতরণকালে অন্যান্যের মধ্যে অংশ নেন, শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আব্দুস সালাম বেপারি, উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক তরু লোদী, পোতাজিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী বেপারি, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম , আওয়ামী লীগ নেতা কেএম হাবিবুল হক সাব্বির ও আল মাহমুদ প্রামাণিক প্রমূখ।
ত্রাণ বিতরণকালে স্থানীয় এমপি আলহাজ্ব হাসিবুর রহমান স্বপন বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার দেশ ও জনগণের উন্নয়নে সবসময় কাজ করে যাচ্ছে। কাকিলামারি গ্রাম থেকে পোতাজিয়া পর্যন্ত সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে।’
এদিকে, শাহজাদপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ মোঃ রাসেল কর্তৃক অসহায় বানভাসী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মহতী উদ্যোগ নেয়ায় ঘটনায়  এলাকাবাসী সাধুবাদ জানিয়েছে।

এলাকাবাসীর সাধুবাদ- বন্যার্তদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ


শাহজাদপুরে বন্যার্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ালো র‌্যাব-১২

রোববার (২৩ অাগষ্ট) দুপুরে র‌্যাপিড এ্যাকশান ব্যাটেলিয়ান (র‌্যাব)-১২ এর উদ্যোগে শাহজাদপুরে দেড়শ বন্যার্ত পরিবারের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। র‌্যাব-১২ এর অধিনায়ক লেফটেনেন্ট কর্নেল খায়রুল ইসলামের সার্বিক তত্তাবধানে শাহজাদপুর উপজেলার ভাটপাড়াসহ যমুনা তীরবর্তী দেড়শ বন্যার্ত পরিবারের মাঝে চাল, ডাল, তেলসহ অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী বিতরন করা হয়। এতে গুরুত্ব পায় এলাকার নানা বয়সী প্রতিবন্ধীরা। তাদের হাতে র‌্যাবের পক্ষ থেকে এসব খাদ্য সামগ্রী তুলে দেন এলিট ফোর্স র‌্যাব-১২ এর সদস্যরা।
ভাটপাড়া এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত বৃদ্ধ আব্দুল জলিল এই খাদ্য সামগ্রী উপহার পেয়ে র‌্যাবের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এবারের বন্যায় খুব কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। বাধের উপর আশ্রয় নিয়েছিলাম। কোন সহায়তা পাইনি। র‌্যাব ভাইয়েরা আমাদের ডেকে নিয়ে অনেক কিছু দিলেন। তারা যেমন দেশকে নিরাপদ রাখতে ভুমিকা পালন করছে। আবার বিপদে আমাদের মত মহা অসহায়দের পাশে দাঁড়াছে। তারা এভাবেই যেন ভালবাসা দিয়ে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেয় ও দেশসেবায় নিয়োজিত থাকতে পারে।

উল্লেখ্য, চলতি বন্যায় গত কয়েক মাসে র‌্যাব-১২ এর অধিনায়ক লেফটেনেন্ট কর্নেল খায়রুল ইসলামের উদ্যোগে বন্যা দুর্গত বেলকুচি, সিরাজগঞ্জ, কাজিপুর, এনায়েতপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিপুল পরিমান খাদ্য সামগ্রী বন্যা দুর্গত অসহায় কয়েক সহ¯্রাদিক পরিবারের মাঝে বিতরন করা হয়েছে। অপরাধ দমনের পাশাপাশি এমন মানবিক উদ্যোগ নেয়ায় র‌্যাব-১২ সদস্যদের সাধুবাদ জানিয়েছে এলাকাবাসী ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছে বন্যার্তরা।

পুঁজির যোগান দিতে না পারায় শতকরা ৭০ ভাগ তাঁত বন্ধ


করোনা ও বন্যায় শাহজাদপুরে লক্ষাধিক তাঁতী ও শ্রমিকের মানবেতর দিনযাপন

করোনা ও বন্যায় দেশের তাঁতশিল্পের কেন্দ্রবিন্দু সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার প্রায় লক্ষাধিক তাঁত মহাজন ও শ্রমিকেরা মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। করোনা ও বন্যা ছাড়াও বৃষ্টিপাতজণিত কারণে পুঁজি সংকটে কারখানায় তাঁতবস্ত্র উৎপাদন বন্ধ, তাঁতবস্ত্র উৎপাদনের সকল কাঁচামাল ও উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি, চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ শাহজাদপুর কাপড়ের হাটে বেঁচাকেনায় চরম মন্দাভাব, বিভিন্ন এনজিও, সুদখেকো সুদ ব্যবসায়ী, সমিতি ও ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের বোঝা বহন, ক্রয়-ক্ষমতা হ্রাস, তাঁতবস্ত্র উৎপাদনের নায্য মজুরি প্রাপ্তিতে বঞ্চিতসহ নানাবিধ কারণে শাহজাদপুর উপজেলার চির অবহেলিত, চির পতিত, চির অপাংক্তেয় প্রায় লক্ষাধিক তাঁত মহাজন ও শ্রমিকের বুক ফাঁটলেও মুখ ফোঁটেনা। এসব তাঁতী ও শমিকের বিচারের বাণী নিরবে নিভৃতে কাঁদছে। দেখার কেউ নেই। নেই পাশে কেউ।
জানা গেছে, শাহজাদপুর উপজেলার পৌর এলাকাসহ ১৩টি ইউনিয়নে প্রায় দেড় লাখ তাঁত রয়েছে। তন্মদ্ধে প্রায় ১ লাখ পাওয়ারলুম ও প্রায় ৫০ হাজার হ্যান্ডলুম ও প্রায় ১ লাখ শ্রমিক রয়েছে। লকডাউন ঘোষিত সময়কালে শাহজাদপুরের সকল তাঁত কারখানা বন্ধ ছিলো। এ দীর্ঘ সময়ে এলাকার তাঁতীরা কোনরূপ তাঁতবস্ত্র উৎপাদন বা উৎপাদিত বস্ত্র হাট বাজারে বিক্রি করতে পারেনি। এ সময় বাধ্য হয়ে তাঁত মালিকেরা অনেকেই পুঁজি ভেঙ্গে ফেলেছেন আবার অনেকেই ঋণপানে জর্জরিত হয়েছেন। লকডাউন তুলে নেয়ার পর তাঁত মালিকেরা তাদের তাঁত কারখানা চালু করার অনুমতি পেলেও পরবর্তীতে পুঁজি না থাকায় তা চালু করা সম্ভব হয়নি। কেউ কেউ ধারদেনা করে তাঁত কারখানায় বস্ত্র উৎপাদনের চেষ্টা করলেও উৎপাদিত তাঁতবস্ত্র হাটে বিক্রি করতে না পেরে পুনরায় তাঁত বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। গত কয়েক মাস ধরে বিরাজমান করোনা ভাইরাসের প্রভাবে তীব্র পুঁজি সংকটে পড়ে এলাকার প্রায় ৬০ ভাগ তাঁত বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে তাঁতী মহাজন। বন্ধ হয়ে যাওয়া তাঁত কারখানার হাজার হাজার তাঁত শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে তারা খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। তার পরেও ‘মরার ওপর খারার ঘা’ এর মতোই চলমান করোনা সংকটের সাথে ভয়াবহ বন্যায় এলাকার অসংখ্য তাঁত কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এসব কারখানার তাঁত শ্রমিকদের জীবনজীবীকার প্রশ্নে তারা চরম অনিশ্চয়তা, উদ্বেগ আর উৎকন্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন।
শাহজাদপুর পৌর এলাকার রূপপুর নতুনপাড়া মহল্লার রাকিব উইভিং ফ্যাক্টরির মালিক হাজী ওমর, আজাদ উইভিং ফ্যাক্টরির মালিক আজাদ জানান,‘লকডাউনের পর থেকে হাজী ওমরের তাঁত কারখানার মোট ১৪টি পাওয়ারলুম ও ৪টি হ্যান্ডলুম এবং তার ভাই আব্দুস সালামের তাঁত কারখানার মোট ১০টি পাওয়ারলুম ও ৪টি হ্যান্ডলুম ও তাঁতী আজাদের আজাদ উইভিং ফ্যাক্টরির ৯টি পাওয়ারলুম ও ৩৭টি হ্যান্ডলুমে তাঁতবস্ত্র উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ থাকে। পরবর্তীতে লকডাউন তুলে নেয়া হলেও পুঁজি না থাকায় এ ৩ কারখানার সবগুলো তাঁতই বন্ধ রয়েছে।’ তারা আরও বলেন,‘শ্রমিকেরা কারখানায় কাজ করতে আসলেও লকডাউনের আগে মজুদকৃত তাঁতবস্ত্র হাটে বিক্রি করতে না পারায় শ্রমিকদের মজুরী দেয়া সম্ভব নয় বলে উৎপাদনে যেতে পারছি ন।’
শাহজাদপুর কাপড়ের হাট তাঁত মালিক সমিতির সভাপতি আলমাছ আনসারী বলেন, ‘দীর্ঘ সময় উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ শাহজাপদুর কাপড়ের হাটে লেনদেন বন্ধ থাকার পর লকডাউন তুলে নেয়ার পরও স্বাভাবিক মাত্রায় ব্যাপারী পাইকার হাটে না আসায় তাঁতীরা তাদের তাঁতবস্ত্র বিক্রি করতে পারছে না। এতে তাঁতীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। ফলে ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প ভয়াবহ বিপর্যয়ে পড়েছে।’
শাহজাদপুর তাঁত শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি তাঁতী ওমর ফারুক ও সাধারন সম্পাদক আল-মাহমুদ জানান, ‘করোনার সাথে বৃষ্টি-বন্যাসহ নানাবিধ প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন উর্ধ্বগতিতে তাঁত শ্রমিকদের জীবনযাত্রার সার্বিক ব্যায় বৃদ্ধি, নায্য মজুরি পাওয়া থেকে বঞ্চিত, ঋনের কিস্তির ঘানি টানাসহ বহুবিধ কারণে শাহজাদপুর উপজেলায় কর্মরত প্রায় ১ লাখ তাঁত শ্রমিকের সিংহভাগই অতিকষ্টে দিনযাপন করছে। ইতিমধ্যেই করোনা ও বন্যার প্রভাবে তীব্র পুঁজি সংকট সৃষ্টি হওয়ায় সিংহভাগ তাঁত কারখানার মালিকেরা চোখে মুখে রীতিমতো সর্ষের ফুল দেখায় তাঁত বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। সইসাথে বেকার তাঁত মহাজন ও শ্রমিকদের সংখ্যাও উদ্বেগজনকহারে বেড়েছে।’
বাংলাদেশ স্পেশালাইজ টেক্সটাইল মিলস এন্ড হ্যান্ডলুম ওনার্স এসোসিয়েশনের পরিচালক ও সিরাজগঞ্জ জেলা তাঁত মালিক সমিতির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হায়দার আলী জানান, ‘অতীতে দেশীয় তাঁতে তৈরি ঢাকাই মসলিন জগৎজোড়া খ্যাতি অর্জন করেছিলো। বৃট্রিশ বোনিয়ারা মসলিন তৈরির পথকে চিরতরে রূদ্ধ করতে তাঁতীদের বৃদ্ধাঙ্গুল কেটে দিয়ে নীল চাষে বাধ্য করে। এরপর থেকে তাঁতশিল্পের গৌরব ও ঐতিহ্য ম্লান হতে থাকে। স্বাধীনতার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পৃষ্ঠপোষকতায় তাঁতশিল্প নতুন করে ঘুড়ে দাঁড়াতে শুরু করে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে তাঁতীদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প বেশ সম্ভাবনাময় শিল্পে উপনীত হয়। সারাদেশে তাঁতবস্ত্রের চাহিদা মিটিয়ে ভারত, ইংল্যাড, ইটালীসহ বর্হিঃবিশে^র বিভিন্ন দেশে তাঁতবস্ত্র রফতানীর মাধ্যমে প্রতি বছর প্রচুর পরিমান বৈদশিক মুদ্রা অর্জিত হতে থাকে। কিন্তু করোনা ভাইরাসের ক্রান্তিকালে ও ভয়াবহ বন্যার প্রভাবে এলাকার অসংখ্য তাঁতকারখানা বন্ধ থাকায় তাঁতীরা তীব্র পুঁজি সংকটে পড়ে। লকডাউন উঠে গেলেন পুঁজির যোগান দিতে না পারায় শাহজাদপুরের শতকরা ৭০ ভাগ তাঁত পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দেড় লাখ তাঁত মালিক ও শ্রমিকদের ভাগ্যাকাশে দেখা দেয় কালো মেঘের ঘণঘটা।’
এ বিষয়ে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড শাহজাদপুর বিসিক শাখার টিএফসি ব্যবস্থাপক মোঃ শরীফ আল মাহমুদ বলেন,‘করোনার প্রভাবে পূঁজি হারানো ২’শ ৭৯ জন প্রান্তিক তাঁতীর আবেদনের প্রেক্ষিতে তাঁতী প্রতি দেড় লাখ থেকে দুই লাখ টাকা ৫% সরল সুদে ৩ বছর মেয়াদে ঋণ প্রদানের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে, লক্ষাধিক প্রান্তিক তাঁতীর মধ্যে মাত্র ২’শ ৭৯ জন প্রান্তিক তাঁতীকে পুঁজির যোগান দেয়া হলে ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পে চলমান সংকট কতটুকু লাঘব হবে, তা নিয়ে এলাকার তাঁত মহাজন ও শ্রমিকেরা সংশয়ে পড়েছে।

২০ হাজার বাড়িঘরে বন্যার পানি; বিভিন্ন স্থানে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন


শাহজাদপুরে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ, দুর্ভোগ চরমে

শাহজাদপুর উপজেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে । তৃতীয় দফা বন্যার পানি বৃদ্ধিতে উপজেলার পৌর এলাকাসহ ১৩টি ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার বাড়িঘরে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। ডুবে যাওয়া বাড়িঘরের অনেক মানুষ তাদের সহায় সম্বল নিয়ে বিভিন্ন উচু বাঁধ ও সড়কে আশ্রয় নিয়ে অতিকষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। অনেক স্থানে নলকূপ ডুবে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। ভয়াবহ বন্যায় এলাকায় বিশুদ্ধ পানির পাশাপাশি জ্বালানি, শুকনো খাবার, পয়ঃনিষ্কাশন, শিশু খাদ্য, ওষুধের অভাব ও গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। লাখ লাখ গবাদীপশু নিয়ে মহাবিপাকে পড়েছে পানিবন্দী মানুষ। সেইসাথে দেশের তাঁতশিল্পের কেন্দ্রবিন্দু শাহজাদপুরের অসংখ্য তাঁত কারখানায় বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় বেকার হয়ে হাজার হাজার তাঁতী ও শ্রমিক মানবেতর দিনাতিপাত করছে। এছাড়া পৌর এলাকার সাথে বিভিন্ন ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, তৃতীয় দফায় বন্যার পানিতে শাহজাদপুর পৌর এলাকার রূপপুর উরির চর, শান্তিপুরসহ যমুনা নদী তীরবর্তী জালালপুর ইউনিয়নের পাকুরতলা, জালালপুর, ঘাটাবাড়ি, বাঐখোলা, কুঠিপাড়া, ভেকা ও চরমনপুর, কৈজুরী ইউনিয়নের ঠুটিয়া, টেকোপ্রাচীল, ভাটদিঘুলিয়া, জোতপাড়া ও জগতলা, সোনাতনী ইউনিয়নের শ্রীপুর, সোনাতনী, ছোট চামতারা, বড় চামতারা ও বানতিয়ার, রূপবাটি, পোতাজিয়া, গালা, নরিনা, কায়েমপুরসহ ১৩ ইউনিয়নে প্রায় ২০ হাজার ঘরবাড়ি বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পানিবন্দী হয়ে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ-দুর্গতি পোহাচ্ছে বানভাসী মানুষ। ইতিমধ্যেই শাহজাদপুর পৌর এলাকার ভেরুয়াদহ-রূপপুর সড়ক, পারকোলা-নরিনা সড়ক, এনায়েতপুর- শাহজাদপুর সড়ক, শাহজাদপুর-কায়েমপুর সড়ক, শাহজাদপুর-পোতাজিয়া সড়কের বিভিন্ন স্থান বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পৌর এলাকার সাথে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে সার্বিকভাবে এলাকাবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

আইজিপির খাদ্য-ঈদসামগ্রী পেল যমুনার চরের বানভাসিরা

আইজিপির খাদ্য-ঈদসামগ্রী পেল যমুনার চরের বানভাসিরা

সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার যমুনা চরের বানভাসি মানুষের মধ্যে পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) পক্ষ থেকে খাদ্য ও ঈদসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার সকালে এনায়েতপুর যমুনা স্পার বাঁধ ও জালালপুরে ট্রলার নিয়ে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে বানভাসিদের হাতে শাড়ি, লুঙ্গি, তেল, চাল, ডাল, সাবান ও আলু তুলে দেন থানার ওসি মোল্লা মাসুদ পারভেজ।

এ সময় ওসি জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে পুলিশ সব সময় থাকবে। এছাড়া ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

সহায়তা বিতরণের সময় এনায়েতপুর থানার এসআই আবদুস ছাত্তার, থানার এসআই আনন্দ কুমার মোহন্ত, চলচ্চিত্র ও নাট্য পরিচালক তাজু কামরুল, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রফিক মোল্লা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বন্যার্তদের জন্য দেড় হাজার টন চাল ও ৮৭ লাখ টাকা বরাদ্দ

এক হাজার ৫৫০ টন চাল, ৮৭ লাখ টাকা ও ১৪ হাজার খাবারের প্যাকেট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। 

অতি বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মানবিক সহায়তায় ২৭ জেলার জন্য এক হাজার ৫৫০ টন চাল, ৮৭ লাখ টাকা ও ১৪ হাজার খাবারের প্যাকেট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। 

বুধ ও বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের অনুকূলে এ বরাদ্দ দিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মহাপরিচালকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ, ঢাকা, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, মুন্সীগঞ্জ, রাজবাড়ী, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, জামালপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, নাটোর, বগুড়া, রংপুর, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জে এ সহায়তা দেয়া হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, বরাদ্দ ত্রাণ (চাল ও নগদ টাকা) শুধু আপৎকালীন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণ করতে হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়া অন্য কোনো কাজে এ বরাদ্দ বিতরণ করা যাবে না। মানবিক সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন নির্দেশনা অনুসরণ করে এ বরাদ্দ বিতরণ করতে হবে। নিরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় হিসাব সংরক্ষণ করতে হবে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের জাতীয় দুর্যোগ সাড়াদান ও সমন্বয় কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় ৭ লাখ ৩১ হাজার ৯৫৮টি পরিবারের ৩০ লাখ ৪০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সিরাজগঞ্জে ভয়ংকর ভাঙনে গৃহহীন হয়ে পড়ছে নদীপাড়ের অসহায় মানুষ

ছবিঃ সংগৃহীত

এক মাসের অধিক সময়ের মধ্যেই তৃতীয় দফায় একটানা চতুর্থ দিনেও যমুনা নদীর পানি বেড়েই চলেছে। বইছে বিপদসীমার ৯৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভয়ংকর ভাঙনে গৃহহীন হয়ে পড়েছে যমুনাপাড়ের মানুষ।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল থেকে সদর উপজেলার সিমলা – পাঁচ ঠাকুরী এলাকায় ভয়াবহ নদী ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। আজ শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল পর্যন্ত প্রায় ২ শতাধিক বাড়িঘর, মসজিদ, আবাদি জমি, গাছ পালা নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। গৃহহারা মানুষ সহায়, সম্পদ হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

এদিকে যমুনানদীর পানি অব্যাহতভাবে বেড়ে বিপদসীমার অনেক ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। জেলার বন্যা কবলিত ৬টি উপজেলা কাজিপুর, সিরাজগঞ্জ সদর, বেলকুচি, চৌহালী, শাহজাদপুর ও উল্লাপাড়ার বানভাসি পানিবন্দি ৩ লাখ ৪০ হাজার মানুষ বিশুদ্ধ পানি, জ্বালানি, শুকনো খাবার, শিশু খাদ্য, ওষুধপাতির অভাব ও গো খাদ্যের সংকটে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে।

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ডক্টর ফারুক আহম্মদ জানান, বন্যাকবলিত মানুষের জন্য ৪০০ টন জিআর চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে ১৪২ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে মজুদ আছে ২৫৮ টন চাল। শিশুখাদ্য ও গো-খাদ্যের জন্য চার লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে ৩ হাজার ৯৫০টি প্যাকেট।

সূত্রঃ আরটিভিঅনলাইন