আলোর জন্য বই, বইয়ের জন্য আমরা" এই শ্লোগানকে সামনে রেখে


শাহজাদপুরে অনলাইন বুক শপ ‘ দরিদ্র তারকা’র উদ্বোধন

“আলোর জন্য বই, বইয়ের জন্য আমরা” এই শ্লোগানকে সামনে রেখে ‘দরিদ্র তারকা’ নামে অনলাইন বুক যাত্রা শুরু করেছে।

বই মানুষের পরম বন্ধু আর এই বন্ধুকে কাছে পাবার সহজলভ্য উপায় হিসাবে রবিবার রাতে জানাক আয়োজনের মধ্য দিয়ে ‘ দরিদ্র তারকা’ নামের অনলাইন বুক শপ এর উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সত্ত্বাধিকারী মাকসুদ রহমানের সঞ্চালনায় উদ্বোধনি অনুষ্ঠানে দৈনিক আমার সংবাদের শাহজাদপুর উপজেলা প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম, মাই টিভির উপজেলা প্রতিনিধি জাকারিয়া মাহমুদ, সময়ের আলো প্রতিনিধি নয়ন আলী, সাংবাদিক আসাদুর রহমানসহ বিভিন্ন সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এসময় ‘দরিদ্র তারকা’ বুক শপ এর উদ্যোগক্তা মাকসুদ রহমান বলেন এই অনলাইন বুক শপের মাধ্যমে সকল প্রকার বই খুবই সহজে এবং ন্যায্য দামে পাওয়া যাবে। তিনি আরো বলেন এই বইয়ের লাভ্যংশের কিছু অংশ হত দরিদ্র ছাত্র-ছাত্রী দের জন্য নির্ধারিত থাকবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন মাইটিভির শাহজাদপুর উপজেলা প্রতিনিধি জাকারিয়া মাহমুদ,দৈনিক আমার সংবাদ শাহজাদপুর উপজেলা প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম, দৈনিক আমার সংবাদ এর এনায়েতপুর থানা প্রতিনিধি আসাদুর রহমান।

ফের বাড়ল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি

করোনা মহামারির কারণে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (কওমি ছাড়া) চলমান ছুটি আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

আজ শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি সংশ্লিষ্ট সকলপক্ষের সাথে আলোচনা করে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ ২০২০ প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর গত ১৭ মার্চ ২০২০ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। কয়েক ধাপে বাড়ানোর পর ৩০ জানুয়ারি ২০২১ পর্যন্ত ছুটি ছিল, সেই ছুটি এবার ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১ পর্যন্ত বাড়ল।

ছুটি চলাকালে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চলমান থাকবে।

শাহজাদপুরের সরকারি হাই স্কুলে লটারির মাধ্যমে ভর্তি

শাহজাদপুর সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে লটারির মাধ্যমে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি বাছাই সম্পন্ন হয়েছে।

সোমবার সকালে বিদ্যালয় চত্বরে এ লটারি অনুষ্টিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, ভর্তি কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ্ মোঃ শামসুজ্জোহা।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, প্রধান শিক্ষক এস.এম সাইফুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডাক্তার আমিনুল ইসলাম খান, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এস.এম শাহাদৎ হোসেন, সহকারি মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শফিউল ইসলাম, সহকারি প্রধান শিক্ষক শামীমা নাহার প্রমুখ।

লাটারি বাছাইকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ্ মোঃ শামসুজ্জোহা বলেন, সবার উপস্থিতিতে লাটারির মাধ্যমে স্বচ্ছভাবে বাছাই করেই ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি কার্যক্রম শেষ করা হলো। যাদের ভাগ্যে ভর্তির সুযোগ এসেছে তাদেরকে জানাই অভিনন্দন এবং যারা সুযোগ পায় নি, তাদেরকেও ধন্যবাদ জানিয়ে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে ভালোভাবে লেখাপড়া করার জন্য আহবান করছি। উল্লেখ্য, মোট ৭ শ’ ৪৯ জন ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির আবেদন করেন, তার মধ্যে লটারির মাধ্যমে ১ শ’ ১০ জন এবং ১০ জনকে মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্দ্বী, সরকারি কর্মচারী কোটায় ভর্তি করা হয়েছে।

ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি


এসএসসি পরীক্ষা জুনে এইচএসসি জুলাইয়ে

ডেস্ক রিপোর্ট : শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানিয়েছেন, সার্বিক পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে ২০২১ সালের জুন মাসে এসএসসি ও জুলাই থেকে আগস্টের মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেয়া হবে। এ ছাড়াও জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে এইচএসসি’র ফল প্রকাশ করা হবে।

বই উৎসবসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলতে মঙ্গলবার অনলাইনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এইচএসসি’র ফল নিয়ে কেউ অসন্তুষ্ট হবে না। করোনার কারণে এবার বিশেষ পরিস্থিতিতে ফলাফল দেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ২০২১ সালের এসএসসি এবং এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে নেয়া হবে। সংক্ষিপ্ত সিলেবাস তৈরি করা হচ্ছে। কাজ শেষ হলে সেই সিলেবাস অনুযায়ী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ফলাফল নিয়ে যদি কোনো শিক্ষার্থী ক্ষুব্ধ হন তাহলে তিনি নিজ শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করতে পারবেন। তবে আশা করছি রেজাল্ট নিয়ে কেউ অসন্তুষ্ট হবেন না। এইচএসসি’র ফল তৈরি রয়েছে। আশা করছি জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে অধ্যাদেশ জারি করা হবে। অধ্যাদেশ জারির সঙ্গে সঙ্গেই ফল প্রকাশ করা হবে। জেএসসি বা জেডিসি’তে কোনো মার্কিং করা হবে না। শুধুমাত্র সার্টিফিকেট দেয়া হবে।

২০২১ সালে শ্রেণিতে কোনো রোল নম্বর থাকবে না উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি নম্বর দেয়া হবে। শিক্ষার্থীদের বৈষম্য দূরীকরণে এ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। আমাদের শ্রেণিকক্ষে সহযোগিতামূলক আচরণ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে রোল নম্বরের কারণে।

তাই ২০২১ সাল থেকে শ্রেণিকক্ষে থাকছে না কোনো রোল নম্বর। একজন শিক্ষার্থীর জন্য এই ইউনিক আইডি সারাজীবন থাকবে। এই আইডি সে সারাজীবন ব্যবহার করবে। এরমাধ্যমে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করা যাবে।

করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, গত ১৬ই মার্চ থেকে প্রত্যক্ষ শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ। এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল এই সময়কালে ক্লাসরুমে পড়ানোর উদ্যোগ নেবো, সেই চেষ্টা করছি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও স্বল্প পরিসরে খুলে দেয়ার চেষ্টা করা হবে। তবে অনলাইনে শিক্ষাকার্যক্রম চলমান থাকবে।

বই উৎসবের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ১লা জানুয়ারি দেশের সব শিক্ষার্থী নতুন বই পাবে না। ধারাবাহিকভাবে ১২ দিনে সব ক্লাসে বই বিতরণ করা হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের বই নিতে হবে।

গত ১০ বছর থেকে বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেয়া হয়। এটি আমাদের একটি উৎসবে পরিণত হয়েছে। করোনা হানা দিয়েছে বলে এবার সেই উৎসব আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে আগামী ৩১শে ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চ্যুয়ালি পাঠ্যবই বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন।

এরপর থেকে স্কুলে বই বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হবে। প্রতিটি ক্লাসের শিক্ষার্থীদের তিনটি ভাগে তিনদিন বই বিতরণ করা হবে। মোট ১২ দিনে সব শিক্ষার্থীর হাতে নতুন বই তুলে দেয়া হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে ডা. দীপু মনি বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বর্তমান প্রশাসনের দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। আমরা দেখবো তারা সেটি পালন করে কিনা।

ভার্চ্যুয়াল এ সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহাসহ বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।

[ তথ্যসূত্র : যোগাযোগ বিডি ডটকম ]

বিদ্যালয়ে অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে ফি না নেয়ার নির্দেশ

ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শিখনফল মূল্যায়নে অ্যাসাইনমেন্ট নিতে বলা হয়েছে। এ জন্য কোনো ফি আদায় করা যাবে না বলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি)।

রোববার (৮ নভেম্বর) এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে মাউশি।

করোনাভাইরাসের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে প্রায় ৭-৮ মাস। এ অবস্থায় শিক্ষা কার্যক্রমের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট করানোর নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতর।

সে অনুযায়ী, সপ্তাহে একদিন প্রতিষ্ঠান থেকে অ্যাসাইনমেন্টের কাজ সংগ্রহ ও জমা দেবে শিক্ষার্থীরা।

কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, এটিকেই সুযোগ হিসেবে নিয়ে বাড়তি অর্থ আয় করছেন কিছু শিক্ষক। আবার স্কুলে যেতেও বাধ্য করা হচ্ছে কোথাও কোথাও।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অ্যাসাইনমেন্ট চলাকালীন পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত কোনো অর্থ বা ফি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে না নেয়ার বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। প্রতি সপ্তাহে তিনটি বিষয়ের ওপর শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট দিতে হবে। সপ্তাহে একদিন তা গ্রহণ করতে হবে। এ জন্য কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন করা যাবে না।

করোনার কারণে এবার বার্ষিক পরীক্ষা না নিয়েই মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের উপরের শ্রেণিতে তোলা হবে। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ঘাটতি পূরণের জন্য ৩০ কর্মদিবসে শেষ করা যায় এমন একটি সিলেবাস প্রণয়ন করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্য পুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। সিলেবাসের আলোকে শিক্ষার্থীদের প্রতি সপ্তাহে তিনটি করে অ্যাসাইনমেন্ট দেয়া হচ্ছে, যার উত্তর শিক্ষার্থীদের পাঠ্যপুস্তক অনুসরণ করে লিখতে হবে।

মাউশির মহাপরিচালক সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক জানান, শিক্ষার্থীদের শিখনফল মূল্যায়ন করতে যে অ্যাসাইনমেন্ট নেয়া হচ্ছে সেজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি নেয়া যাবে না। আর টিউশন ফি আদায় করা নিয়ে শিগগিরই একটি নির্দেশনা দেয়া হবে বলে জানান মহাপরিচালক।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কীভাবে টিউশন ফি আদায় করবে, সে বিষয়ে শিগগিরই নির্দেশনা দেয়া হবে বলে জানান তিনি।

সূত্র – জাগো নিউজ

শাহজাদপুরের দুই মেধাবী শিক্ষার্থীকে নগদ অর্থ দিলেন প্রফেসর মেরিনা জাহান কবিতা

ফারুক হাসান কাহার, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে এবছর এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত দরিদ্র পরিবারের দুইজন মেধাবী শিক্ষার্থীকে নগদ অর্থ উপহার দিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য প্রফেসর মেরিনা জাহান কবিতা।

শনিবার দুপুরে উপজেলার পৌর সদরের শক্তিপুর মহল্লার নূরজাহান ভবনে শিক্ষার্থীদের হাতে এ অর্থ তুলে দেন প্রফেসর মেরিনা জাহান কবিতা। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুস্তাক আহমেদ, মানবাধিকার কর্মী মনিরুল গনি চৌধুরী শুভ্র, সাংবাদিক ফারুক হাসান কাহার প্রমুখ।

জানা যায় উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের চরকাদাই গ্রামের ধানকাটা শ্রমিক নাসির উদ্দিনের ছেলে মো. মামুম হোসেন (১৬) বাবার সাথে ধানকাটা শ্রমিকের কাজ করেও এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে। অপরদিকে উপজেলার কৈজুরি ইউনিয়নের পূর্বচরকৈজুরি গ্রামের মৃত কাঠমিস্ত্রী মোশারফ ব্যাপারীর মেয়ে সাঞ্জিদা আক্তার সম্পা (১৬) মায়ের সাথে অন্যের বাড়িতে ধান সিদ্ধ-শুকানোর কাজ ও টিউশনি করে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে। মেধাবী এই দুজন শিক্ষার্থীই ভালো রেজাল্ট করার পরেও দরিদ্র পরিবারের হওয়ায় তাদের পড়াশোনা অনিশ্চিত হয়ে গেছে দারিদ্র্যের কারনে। তাঁদের এই সংকটের কথা জানতে পেরে মানবিক নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আস্থাভাজন প্রফেসর মেরিনা জাহান কবিতা তাদের এ সহায়তা প্রদান করেন। সেই সাথে তাদের ভবিষ্যতে লেখাপড়ার জন্য সামগ্রিক সহযোগিতারও আশ্বাস দেন।

একাদশে ভর্তির ফি নির্ধারণ, বেশি নিলে এমপিও বাতিল

একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তিতে সর্বোচ্চ ফি নির্ধারণ করে দিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটি। ফি নির্ধারণ করে দিয়ে বেসরকারি কলেজের ভর্তি ফিসহ মাসিক বেতন ও যাবতীয় খরচের বিষয়ে অবহিত করে সংশ্লিষ্ট কলেজে ভর্তির নির্দেশনা দিয়েছে।

গত ৯ আগস্ট থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে শুরু হয়েছে একাদশে ভর্তি কার্যক্রম। ভর্তি প্রক্রিয়ার সবগুলো ধাপ শেষ হওয়ার পর আগামী ১৩ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শিক্ষার্থীদের কলেজে ভর্তি হতে এর আগেই নির্দেশনা জারি করেছে সরকার।

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার ১৬ লাখ ৯০ হাজার ৫২৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন, তারা অনলাইনে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হতে আবেদন করছে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ভর্তিযোগ্য শিক্ষার্থীদের তালিকা কলেজগুলোকে তাদের নোটিশ বোর্ড ও ওয়েবসাইটে প্রকাশের ব্যবস্থা করতে হবে। কোটার শিক্ষার্থীদের উপযুক্ত সনদ দেখে ভর্তি করাতে হবে।

ফি নির্ধারণ
এবারও মফস্বল, পৌর ও মেট্রোপলিটন এলাকার বেসরকারি কলেজগুলোর ভর্তিতে সর্বোচ্চ ফি নির্ধারণ করে দিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটি।

এমপিওভুক্ত মফস্বল বা পৌর (উপজেলা) এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তিতে সেশন ফিসহ ভর্তি ফি সর্বসাকুল্যে এক হাজার টাকা, পৌর (জেলা সদর) এলাকায় দুই হাজার টাকা এবং ঢাকা মহানগর ছাড়া অন্য মেট্রোপলিটন এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো তিন হাজার টাকার বেশি আদায় করতে পারবে না।

মেট্রোপলিটন এলাকায় অবস্থিত এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তিতে পাঁচ হাজার টাকার বেশি অর্থ আদায় করতে পারবে না।

ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার আংশিক এমপিওভুক্ত বা এমপিও বহির্ভূত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উন্নয়ন ও এমপিও বহির্ভূত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা দেওয়ার জন্য শিক্ষার্থী ভর্তির সময় ভর্তি ফি, সেশন চার্জ ও উন্নয়ন ফিসহ বাংলা মাধ্যমে সর্বোচ্চ সাড়ে সাত হাজার টাকা এবং ইংরেজি ভার্সনে সর্বোচ্চ সাড়ে আট হাজার টাকা নিতে পারবে।

উন্নয়ন খাতে কোনো প্রতিষ্ঠান এবার দেড় হাজার টাকার বেশি আদায় করতে পারবে না।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে রেড ক্রিসেস্ট ফি বাবদ ১২ টাকা নিতে পারবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

কোনো শিক্ষার্থীর পাঠ বিরতি থাকলে ও বিলম্বে ভর্তি হলে তাকে ১৫০ টাকা পাঠ বিলম্ব ফি এবং ১০০ টাকা বিলম্ব ভর্তি দিতে হবে।

সরকারি কলেজগুলোকে সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী ফি সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অনুমোদিত ফি’র বেশি না দেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে সব ফি রশিদের মাধ্যমে নিতেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

‘বর্তমান কোভিড-১৯ এবং অভিভাবকদের আর্থিক অসচ্ছলতার বিষয় বিবেচনা করে দরিদ্র, মেধাবী ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ভর্তিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠাগুলোকে উল্লিখিত ফিগুলো যতদূর সম্ভব মওকুফ করতে হবে। ’

ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর বোর্ডের বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা বোর্ডের অনুমতি নিয়ে প্রয়োজনীয় ফি জমা দিয়ে কলেজ, গ্রুপ ও বিষয় পরিবর্তন করতে পারবে।

তবে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে গ্রুপ পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। বিজ্ঞান গ্রুপ থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী অন্য গ্রুপে একবার ভর্তি হওয়ার পর পরবর্তীসময়ে বিজ্ঞান বিভাগে প্রত্যাবর্তনের কোনো সুযোগ নেই।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভর্তি নীতিমালা না মেনে শিক্ষার্থী ভর্তি করালে সেই কলেজের পাঠদানের অনুমতি বা স্বীকৃতি বাতিলসহ কলেজের এমপিওভুক্তি বাতিল করা হবে।

আর সরকারি কলেজ ও সমমানের প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর ব্যত্যয় ঘটলে সব দায়-দায়িত্ব কলেজ কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

তথ্য সুত্রঃ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

নভেম্বরে স্কুল না খুললে প্রাথমিকে ‘অটো পাস’?

রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, অক্টোবর বা নভেম্বরে যদি স্কুল খোলা যায়, তাহলে আলাদা দুটি পরিকল্পনা করা আছে।

কেজি স্কুল বন্ধ হলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির নির্দেশ

কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে আর্থিক কারণে কিন্ডার গার্টেন (কেজি) স্কুল বন্ধ হয়ে গেলে ক্যাচমেন্ট এলাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সেই সব স্কুলের শিক্ষার্থীদের ভর্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আকরাম-আল- হোসেন।

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ জানান সিনিয়র সচিব।

করোনা পরিস্থিতির কারণে অনেক কেজি স্কুল বন্ধ রয়েছে, আর্থিক সঙ্কটের কারণে স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং ঝরে পড়ার হারও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা বিশেজ্ঞদের।

এ নিয়ে গণশিক্ষা সচিব বলেন, অনেকগুলো কিন্ডার গার্টেন আছে, সে সব কিন্ডার গার্টেন আর্থিক কারণে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আমরা এরই মধ্যে নির্দেশনা দিয়েছি সব ডিপিওকে (জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস)। যদি কেজি স্কুল বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে সেই স্কুলের শিক্ষার্থীরা ক্যাচমেন্ট এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করায়। কোনো স্টুডেন্ট বাদ যাবে না।

সচিব বলেন, প্রত্যেক স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের দায়িত্ব দিয়েছি কোভিডের পর যখন স্কুল খুলবে তার আগেই নিজেদের স্কুলের জন্য পরিকল্পনা তৈরি করবে। সেই পরিকল্পনায় সবকিছু থাকবে, নিরাপত্তা, ঝরে পড়া। সঠিকভাবে সব মেইনটেন করতে পারলে আশা করি, আমাদের যে আশঙ্কা যে ঝরে পড়া, সেটা হয়তো অনেকটাই রোধ করতে পারবো।

সূত্রঃ বিডিনিউজ২৪ডটকম

স্কুল খোলা না গেলে পরীক্ষা হবে না

কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে স্কুল খোলা না গেলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা হবে না বলে জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন এবং মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন।

করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে সারাদেশে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত আপাতত বন্ধ ঘোষণা রয়েছে। এ অবস্থায় সংসদ টিভি, বেতার ও অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়ার কার্যক্রম যথা শিগগিরই শুরু হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, আমাদের সরকার, স্বাস্থ্য বিভাগের মতামত নিয়ে করোনা পরিস্থিতি শেষ না হলে বাচ্চাদের স্কুলে নিয়ে যেতে চাই না।

‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত, বাচ্চাদের নিরাপত্তা যতক্ষণ না পর্যন্ত সুরক্ষিত না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত স্কুলগুলো খুলবো না। ’

সিনিয়র সচিব আকরাম বলেন, আমরা দু’টি পরিকল্পনা মাথায় রেখেছি। অক্টোবরে একটা, আর যদি নভেম্বরে খোলা যায় তার জন্য একটা পরিকল্পনা করা আছে।

‘যদি খোলা যায় তবে মূল্যায়নের বিষয়ে একটা ব্যবস্থা নিতে পারবো। আর না হলে তো আপনারা বোঝেন…। ’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সচিব বলেন, স্কুল খোলা না গেলে তো (বার্ষিক) পরীক্ষা হবে না। প্রধানমন্ত্রী তো বলেছেন স্কুল যদি খোলা না যায় তাহলে তো পরীক্ষা হবে না। আমরাও তাই বলছি। স্কুল খোলা না গেলে অবশ্যই পরীক্ষা হবে না।

মূল্যায়ন কীভাবে হবে- প্রশ্নে সচিব বলেন, সেটা আপনারা বোঝেন। স্কুল না খোলা গেলে আমরা কী মূল্যায়ন করবো।

আকরাম বলেন, ১৯৭১ সালে আমি ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ি। তখন বই পেতে মার্চ মাস হয়ে যেত। মার্চে বঙ্গবন্ধু তার ভাষণে স্কুল, কলেজ, আদালত সব বন্ধ করে দিলেন। মার্চ থেকে তো বই নেই। আমরা ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে স্কুলে গেছি, সেভেনে আমাকে উঠিয়ে দিয়েছে, সমস্যা নেই। স্কুল খোলা না গেলে কোনো মূল্যায়ন হবে না।

সূত্রঃ বিডিনিউজ২৪ডটকম