বিদেশফেরত ৭০ শতাংশ বাংলাদেশি জীবিকা সংকটে : আইওএম

দেশে আসার পর বিদেশফেরতরা বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন। সেগুলো হলো-চাকরির অনিশ্চয়তা, আর্থিক সমস্যা (আয়ের স্বল্পতা ও ঋণ পেতে সমস্যা) এবং স্বাস্থ্যগত সমস্যা।
চলতি বছর ফেব্রুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে বিদেশফেরত বাংলাদেশিদের প্রায় ৭০ ভাগ জীবিকা সংকটে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।
পদশের ১২টি জেলার বিদেশফেরতদের নিয়ে আইওএম এর ‘র‌্যাপিড অ্যাসেসমেন্ট অব নিডস অ্যান্ড ভালনারেবিলিটিস অব ইন্টার্নাল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল রিটার্ন মাইগ্র্যান্টস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সমীক্ষা থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
ইউরোপিয় ইউনিয়ন এর অর্থায়নে ‘রিজিওনাল এভিডেন্স ফর মাইগ্রেশন অ্যানালাইসিস অ্যান্ড পলিসি (আরইএমএপি)’ প্রকল্পের আওতায় এ সমীক্ষা চালানো হয়।
সমীক্ষার ফল অনুযায়ী, দেশে আসার পর বিদেশফেরতরা বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন। সেগুলো হলো-চাকরির অনিশ্চয়তা, আর্থিক সমস্যা (আয়ের স্বল্পতা ও ঋণ পেতে সমস্যা) এবং স্বাস্থ্যগত সমস্যা।
আইওএম এর প্রতিবেদনে বলা হয়, গড়ে প্রত্যেক অভিবাসীর আয়ের ওপর তার পরিবারের তিন জন সদস্য নির্ভর করেন। হঠাৎ করে বৃহৎ সংখ্যক প্রবাসী দেশে ফিরে বেকার হয়ে যাওয়ায়, দেশব্যাপী বিদেশফেরতদের পরিবার এবং রেমিট্যান্স-নির্ভর জনগোষ্ঠীর ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
এ বছর মে এবং জুলাই মাসে দেশের ১২টি উচ্চ অভিবাসন-প্রবণ জেলাগুলোতে জরিপ চালানো হয়, যার মধ্যে সাতটি ভারত সীমান্তে অবস্থিত।
বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে ১,৪৮৬ জন বিদেশফেরত প্রবাসী ও ১,২৭৯ জন অভ্যন্তরীণ-প্রত্যাবাসনকারীসহ মোট ২,৭৬৫ জনের সাক্ষাৎকারের ওপর সমীক্ষা চালিয়ে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
কোভিড-১৯ সংকটের কারণে আয়, উৎপাদন, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সেবা সীমিত হয়ে যাওয়ায়, এ বছর মার্চ থেকে কয়েক লাখ প্রবাসী দেশে ফিরে আসেন।
সাক্ষাতকার নিয়ে দেখা যায়, বিদেশফেরত উত্তরদাতাদের ৫৫ শতাংশের ঋণ রয়েছে।
আইওএম এর বাংলাদেশ মিশনের চিফ গিওর্গি গিগৌরি বলেন, ‘কোভিড-১৯ মহামারীতে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকাদের মধ্যে অভিবাসী শ্রমিকরা অন্যতম। বৈশ্বিক চলাচলের ওপর আরোপিত নতুন নিষেধাজ্ঞা এবং কোভিড-১৯ মহামারি সৃষ্ট মন্দার ফলে বিরূপ প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের অভিবাসী কর্মী এবং রেমিট্যান্স নির্ভর জনগোষ্ঠীর উপর।’
তিনি বলেন, ‘এই গবেষণা প্রত্যাবাসনকারীদের পুনরায় কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে সরকারের কৌশল তৈরি করতে সহায়তা করবে। মহামারী চলাকালীন ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসীদের সহযোগিতা ও সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে গবেষণাটি সাহায্য করবে। অভিবাসীদের তাদের পরিবেশের সঙ্গে নতুন করে খাপ খাওয়াতে আমাদের এক সঙ্গে কাজ করা উচিত।’ [ তথ্যসূত্র- যোগাযোগ বিডি]

ফাহিম হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে একজন আটক, রবিবার দাফন

মেধাবি উদ্যোক্তা, পরিশ্রমী এবং স্বপ্নবাজ প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ফাহিম সালেহ (৩৩) হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় এক ব্যক্তিকে নিউইয়র্কের পুলিশ গ্রেফতার করেছে। সিটি থেকে গ্রেফতারের পর ঐ ব্যক্তিটি এমন আচরণ করে যে, সে মানসিকভাবে অসুস্থ। এজন্য তাকে মানসিক হাসপাতালে নেয়া হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় এ সংবাদ লেখার সময় জানা গেছে।

চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার তদন্তকারিদের পক্ষ থেকে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিটির নাম, বয়স এবং বিস্তারিত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করা হয়েছে তদন্তের স্বার্থে। তবে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে পুলিশ হেফাজতে আনা হবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে।

নিউইয়র্ক সিটির লোয়ার ম্যানহাটানে অভিজাত শ্রেণির একটি ভবনের সপ্তম তলায় ২.২৫ মিলিয়ন ডলারে কেনা এপার্টমেন্টে ১৩ জুলাই বেলা একটা ৪০ মিনিট থেকে ১৪ জুলাই মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার মধ্যে খুন হন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফাহিম। তারপরই পুলিশ বাহিনী মাঠে নামে এ খুনের মোটিভ উদঘাটনের পাশাপাশি ঘাতককে গ্রেফতারের জন্যে।
ঐ ভবনের সিসিটিভিতে দেখা গেছে যে, জগিং শেষে ভবনের নিচ তলা থেকে ইলেভেটরে সপ্তম তলায় উঠার সময় ফাহিমের পেছনেই কালো পোষাক (নিনজা স্টাইল) পরিহিত এক ব্যক্তি স্যুটকেস হাতে ছিলেন। এমনভাবে সে ভবনে ঢুকে এবং ইলেভেটরে উঠেছে, নিরাপত্তা রক্ষী অথবা রিসিপশনিস্ট হয়তো মনে করেছেন যে, লোকটি ফাহিমের সাথেই যাচ্ছে। এমন ধারণা পোষণ করেছেন কেউ কেউ।

এদিকে, মেডিকেল এক্সামিনার অফিস থেকে বৃহস্পতিবার বলা হয়েছে যে, ফাহিমের বুকে, গলা ও ঘাড়ে বেশ কয়েকবার ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এভাবেই তাকে হত্যার পর বৈদ্যুতিক করাত দিয়ে দেহকে খণ্ড খণ্ড করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ফাহিমের পালিত কুকুর ছিল এপার্টমেন্টে। তবে তাকে আলাদা রুমে আটক করা অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানায়।

ফাহিমের বাবা সালেহ আহমেদ পকিস্পী থেকে নিউইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কসে এসেছেন স্ত্রীসহ। ফাহিমের বড়বোন এঞ্জেলা দুবাই থেকে ছুটে এসেছেন ছোট ভাইয়ের এই দু:সংবাদ জেনেই। আর তদন্ত প্রক্রিয়ায় বিস্তারিত সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছেন ছোট বোন রিফায়েত রিপি। পুত্র এবং ভাইয়ের শোকে কাতর এই পরিবারের পক্ষ থেকে ১৬ জুলাই গণমাধ্যমে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে শুধু বলা হয়েছে, ‘ঘাতক গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পেলেই ফাহিমের আত্মা শান্তি পাবে এবং আমরাও স্বস্তি পাবো।’ ‘আমরা প্রয়োজনবোধ করছি এবং এনওয়াইপিডিসহ অন্যান্য সংস্থার প্রতি আহবান রাখছি, যেন খুব দ্রুত এই হত্যাকাণ্ডের মোটিভ উদঘাটিত হয়। নৃশংসভাবে ফাহিমকে হত্যার সাথে জড়িতরা বিচারে সোপর্দ হয়’-উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে।

আরো বলা হয়েছে, ফাহিম সম্পর্কে গণমাধ্যমে যা বলা হচ্ছে, তার চেয়ে অনেক বেশী গুণে গুনান্বিত ছিলেন তিনি। কারণ, নিজের চেয়ে অন্যের কল্যাণের কথাই বেশী ভাবতেন। ২০১৩ সালে বাংলাদেশে যাবার পর ফাহিমের সাথে পরিবারের সদস্যদের বাক-বিতণ্ডা হয় মামুলি একটি ইস্যুতে। মা-বাবা বলেছিলেন যে, বাংলাদেশের আবহাওয়া এতটাই গরম এবং সামাজিক পরিবেশ এতটাই জটিল যে, ফাহিম হয়তো তার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারবে না। এমন কথার প্রতিবাদ জানিয়ে ফাহিম বলেছিলেন, ‘শুধু শুধু তোমরা নিজের দেশ সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করছো। আমার কিন্তু সবকিছুই ভালো লাগে। কারণ, আমি চাই বাংলাদেশের উদ্যমী যুবসমাজকে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে।’

ফাহিমের হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ব্যবসায়িক হিংসা বড় রকমের ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, উন্নয়নশীল বিশ্বের যুব সমাজকে কর্মসংস্থানের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশসহ দারিদ্রের কষাঘাতে জর্জরিত বিভিন্ন দেশের রাজধানীতে বিকল্প যানবাহন হিসেবে মোটর সাইকেলে রাইড শেয়ারিং এর প্রচলন ঘটানোয় ট্যাক্সি শিল্পের মাফিয়ারা হিংসায় জলছিলেন। তেমন প্রতিহিংসারই হয়তো বলি হলেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ফাহিম। হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নিয়োজিত এনওয়াইপিডির হোমিসাইড বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, ফাহিমের হত্যাকারীর মোটিভ আর্থিক প্রকৃতির বলে দৃশ্যমান হচ্ছে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেছেন, কোনও খারাপ বাণিজ্যিক চুক্তির ফলে এই হত্যাকাণ্ড হয়ে থাকতে পারে।

এদিকে, রাইড শেয়ারিং জগতে খ্যাতি অর্জনকারি ‘পাঠাও’ এবং ‘গোকাডা’র জনক ফাহিমের আত্মার শান্তি কামনায় যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন সিটিতে ফাহিমের ভক্ত-অনুরক্ত এবং সালেহ আহমেদের ঘনিষ্ঠজনেরা ভার্চুয়াল দোয়া-মাহফিলে মিলিত হচ্ছেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ফাহিমের লাশ শনিবারের মধ্যে পাওয়া গেলে রবিবার পকিস্পীতে মুসলিম কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। করোনা পরিস্থিতির কারণে লোক-সমাগম এড়িয়ে চলার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানা যায়।

ঘাতক গ্রেফতার হওয়ায় এখন সকলে অপেক্ষা করছেন হত্যার মোটিভ এবং নেপথ্যের কাহিনী জানতে।

বিডি-প্রতিদিন

ইতালিতে বাংলাদেশিদের বাঁকা চোখে দেখা হচ্ছে

ইতালির সংবাদমাধ্যম এখন বাংলাদেশ নিয়ে গত দুদিন ধরে বেশ সরগরম। বাংলাদেশ এর আগে কখনো এতোটা গুরুত্ব পায়নি।কয়েকদিন আগে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া ৩৬ জনের মধ্যে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছিল।

এরপর বাংলাদেশিদের ইতালিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়।

গতকাল রোমের ফিউমিসিনো বিমানবন্দরে কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইট থেকে ১২৫ জন বাংলাদেশিকে নামতেই দেয়া হয়নি। তাদের আবারো ফেরত পাঠানো হয়েছে।

ইতালির বহুল প্রচারিত ইল মেসেজ্জারো পত্রিকায় বাংলাদেশে করোনাভাইরাস পরীক্ষায় দুর্নীতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়। সে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বাংলাদেশে টাকার বিনিময়ে করোনাভাইরাস নেগেটিভ সনদ বিক্রি হয়।

সে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশে কোভিড-১৯ নিয়ে মিথ্যে নেগেটিভ সনদের কারণে ইতালি ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। বাংলাদেশে ভুয়া কোভিড-১৯ সনদের পেছনে প্রতিটি স্তরে দুর্নীতি রয়েছে।

বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে ইল মেসেজ্জারো পত্রিকায় বলা হয়েছে, ৩৫০০টাকা থেকে ৫০০০ হাজার টাকার মধ্যে কোভিড-১৯ এর ভুয়া সনদ পাওয়া যায়।

ইতালির আরেকটি বহুল প্রচারিত লা রিপাবলিকা পত্রিকায় বলা হয়েছে, ল্যাজিও শহরে ১৪টি নতুন সংক্রমণের কেস শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে নয়টি কেস দেশের বাইরে থেকে এসেছে। এ নয়জনের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশ থেকে এসেছে বলে লা রিপাবলিকা পত্রিকায় বলা হয়েছে।

রোম এয়ারপোর্ট থেকে ১২৫ জন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে আরেকটি প্রতিবেদন করেছে লা রিপাবলিকা পত্রিকা।

ইতালির সংবাদ মাধ্যমে বলা হচ্ছে গত ৬ জুন বাংলাদেশ থেকে ২৭৬ যাত্রী নিয়ে যে বিমানটি রোমে অবতরণ করেছিল সেখানে ৩৬ জনের মধ্যে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এরপর বাংলাদেশ থেকে ফ্লাইটের উপর নিষেধাজ্ঞা দেয় ইতালি।

ইতালিতে বসবাসরত একাধিক বাংলাদেশির সাথে কথা বলে জানা যায়, এসব বিষয় নিয়ে ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশিরা এক ধরণের অস্বস্তিতে রয়েছেন।

এদিকে বাংলাদেশিদের করোনাভাইরাস পরীক্ষা করার জন্য রোম শহরে তিনটি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। এসব বুথে ২৪ জন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হয়েছে।

ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী ইউসুফ আলী জানান, ১লা জুন থেকে যেসব বাংলাদেশি ইতালিতে প্রবেশ করেছে তাদের সবাইকে কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য আহবান জানানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে রোমে বসবাসরত সব বাংলাদেশিকে পরীক্ষা করা হবে বলে জানান ইউসুফ আলী।

মি: আলী বলেন, বাংলাদেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে সংক্রমণের হার বেশি থাকায় ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের নিয়ে অনেকের মনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

“এটা একটা বিব্রতকর পরিস্থিতি। ইতালিতে বাংলাদেশিদের বাঁকা চোখে দেখা হচ্ছে,” বলেন মি: আলী

অবেশেষে নিউ ইয়র্কেই ফিরে গেলেন ডা. ফেরদৌস

অবশেষে নিউ ইয়র্কে ফিরে গেলেন ডা. ফেরদৌস খন্দকার। যুক্তরাষ্ট্রে করোনা রোগীদের চিকিৎসাসেবায় নিযুক্ত হয়ে বেশ সুনাম অর্জন করেন ডা. ফেরদৌস। এক সময় প্রবাসীদের নিকট আস্থার নাম হয়ে ওঠে ডা. ফেরদৌস। নিউ ইয়র্কে করোনার প্রকোপ কমে গেলে তিনি মাতৃভূমির জন্য কাজ করতে উদ্যোগী হন। নিজ আগ্রহে করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশে আসেন।

ডা. ফেরদৌস খন্দকার নিউ ইয়র্ক থেকে উড়াল দেওয়ার পূর্বেই দেশে তার নামে নানা রটনা ছড়িয়ে পড়ে। তারপরেও তিনি চলে আসেন। তবে দেশের মাটিতে পা দিতেই তাঁকে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়। ১৪ দিন কোয়ারেন্টিন শেষ করে তিনি দেশের করোনা রোগীদের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেন। ‘অজ্ঞাত’ কারণে বাধাপ্রাপ্ত হন।

মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে অন্তত এক সপ্তাহ দেশে থাকার কথা জানালেও অজ্ঞাত কারণে বুধবার রাতেই তিনি একটি বিশেষ বিমানে ঢাকা ত্যাগ করেন।

নিউ ইয়র্কের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ফেরদৌস কোভিড-১৯ মহামারী শুরুর পর জ্যাকসন হাইটসে সাধারণ মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে তিনি আলোচিত হন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও বার্তা দিয়ে দেশের মানুষকে সচেতন করার উদ্যোগ নিয়েও সাড়া ফেলেন।

সম্প্রতি তিনি দেশে এসে একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র গড়ে তোলার পাশাপাশি মানুষের পাশে থেকে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তারপর শুরু হয় নানান জটিলতা।

তাকে ‘বঙ্গবন্ধুর খুনির আত্মীয়’ হিসেবে বর্ণনা করে, অথবা ‘জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার’ অভিযোগ তুলে এক ধরনের প্রচার শুরু হয় ফেইসবুকে, যা তিনি বরাবরই অস্বীকার করে এসেছেন।

এরমধ্যেই গত ৭ জুন কাতার এয়ারওয়েজের একটি বিশেষ ফ্লাইটে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ঢাকায় পৌছান ডা. ফেরদৌস। ওই ফ্লাইটের ১২৯ জন যাত্রীর মধ্যে ১২৮ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠিয়ে ফেরদৌসকে পাঠানো হয় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে।

ফেরদৌস জানান, এবার তিনি দেশে এসেছিলেন তিন সপ্তাহের সময় নিয়ে। উদ্দেশ্য ছিল কোভিড-১৯ রোগীদের সেবা দেওয়া এবং বনানীতে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য কাজ শুরু করা। কিন্তু এর মধ্যে দুই সপ্তাহ প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকতে বাধ্য হওয়ায় তার সেই পরিকল্পনা ধাক্কা খেয়েছে।

ডা. ফেরদৌস জানান, যুক্তরাষ্ট্রের মাউন্ট সিনাই কুইন্স হসপিটাল এবং প্রেসবাইটেরিয়ান কুইন্স হসপিটালে চিকিৎসক হিসেবে তিনি ‘অ্যাফিলিয়েটেড’। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে তার তিনটি ক্লিনিক আছে, সাতজন ডাক্তার তার সাথে কাজ করেন। যুক্তরাষ্ট্রে ডাক্তারির পাশাপাশি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথেও সম্পৃক্ত ডা. ফেরদৌস। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শেখ রাসেল ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট তিনি।

 

করোনাভাইরাসে প্রবাসে ১২৩৮ বাংলাদেশির মৃত্যু

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিদেশেও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মৃত্যুর মিছিল থেমে নেই। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের দূতাবাস, প্রবাসে কমিউনিটি ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী আজ বুধবার (২৪ জুন) পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিদেশে অন্তত ১ হাজার ২৩৮ বাংলাদেশি নাগরিক মৃত্যুবরণ করেছেন।জানা গেছে, বিশ্বের মধ্যে সৌদি আরবে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি নাগরিক মৃত্যুবরণ করেছেন। বুধবার পর্যন্ত শুধু সৌদি আরবেই করোনায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৪১৫ বাংলাদেশির। বিদেশে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি করোনা ভাইরাসের ঝুঁকির মুখে রয়েছেন সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এ ছাড়া সেখানে আরও কয়েকশ বাংলাদেশি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

সৌদি আরবের পর সবচেয়ে বেশি প্রবাসী নাগরিক মারা গেছেন যুক্তরাজ্যে। সেখানে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন অন্তত ৩০৬ বাংলাদেশি। সৌদি আরব ও যুক্তরাজ্যে করোনায় সবচেয়ে বেশি প্রকোপ বেশি সংখ্যক বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ২৭২ বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১০৪, কুয়েতে ৪৫, ওমানে ২০ জন, কাতারে ১৮, ইতালিতে ১৪, কানাডায় ৯ জন, বাহরাইনে ৯ জন, সুইডেনে ৮, ফ্রান্সে ৭, স্পেনে ৫,  লিবিয়ায় ১, পর্তুগালে ১, গাম্বিয়ায় ১, দক্ষিণ আফ্রিকায় ১, মালদ্বীপে ১ ও কেনিয়ায় ১ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে।

২৬ বাংলাদেশি হত্যার বিচার হবে: লিবিয়া

লিবিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় মিজদাহ শহরে ২৬ বাংলাদেশির ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কঠোর নিন্দা জানিয়েছে লিবিয়ার সরকার। সোমবার (১ জুন) লিবিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক শোক বার্তায় এ নিন্দা জানানো হয়।

এ হত্যাকাণ্ডকে কাপুরুষোচিত কাজ উল্লেখ করে হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনারও অঙ্গীকার করা হয়েছে এ শোক বার্তায়। এতে নিহতদের পরিবার ও বাংলাদেশ সরকারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে।

এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচারের বিষয়ে লিবিয়ার সরকার গৃহীত পদক্ষেপসমূহ নিহতদের পরিবার ও বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হবে বলে শোকবার্তায় উল্লেখ করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাত ৯টার দিকে লিবিয়ার মিজদা শহরে ২৬ বাংলাদেশিসহ মোট ৩০ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। হত্যার শিকার বাকিরা আফ্রিকান। প্রাণে বেঁচে যাওয়া এক বাংলাদেশির সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগে সক্ষম হয় লিবিয়ায় বাংলাদেশি দূতাবাস।

বাংলাদেশি দূতাবাসের পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তিনি কোনো প্রকারে প্রাণে বেঁচে বর্তমানে একজন লিবিয়ানের আশ্রয়ে আত্মগোপন করে আছেন। তিনি দূতাবাসকে জানান, ১৫ দিন আগে বেনগাজী থেকে মরুভূমি পাড়ি দিয়ে কাজের সন্ধানে মানবপাচারকারীরা তাদের লিবিয়ার ত্রিপোলি শহরে নিয়ে আসার পথে তিনিসহ মোট ৩৮ জন বাংলাদেশি মিজদাহ শহরে দুষ্কৃতিকারীদের হাতে জিম্মি হন।

জিম্মি অবস্থায় তাদের অত্যাচার, নির্যাতন করার এক পর্যায়ে অপহৃত আফ্রিকানরা মূল অপহরণকারী লিবিয়ান ব্যক্তিকে হত্যা করে এবং এর জেরে অন্যান্য দুষ্কৃতিকারীরা আকস্মিকভাবে অপহৃতদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে। এতে আনুমানিক ২৬ জন বাংলাদেশি নিহত হন। অবশিষ্ট বাংলাদেশিরা হাতে-পায়ে, বুকে-পিঠে গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

মর্গের অভাবে পচল বাংলাদেশিদের মৃতদেহ, বাধ্য হয়ে লিবিয়াতেই দাফন

হাসপাতাল মর্গে জায়গা না হওয়ায় এসি রুমে রাখা হয়েছিল লিবিয়ায় মানবপাচারকারী ও মিলিশিয়াদের গুলিতে নির্মমভাবে নিহত ২৬ বাংলাদেশিদের মৃতদেহ। গলে যাচ্ছিল এসব মরদেহ। বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃপক্ষ সেখানে পৌঁছাতে পারেনি। আবার মিলিশিয়াদের চাপ ছিল লাশগুলো যাতে ওই শহরের বাইরে নিয়ে না যাওয়া হয়। ফলে বাধ্য হয়েই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন মরদেহগুলো ওই শহরেই দাফন করে ফেলে।

শুক্রবারেই (২৯ মে) ২৬ বাংলাদেশির লাশ লিবিয়ার মিজদাহ শহরের কবরস্থানে দাফন করা হয়। বাংলাদেশ দূতাবাস ও স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটি এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, লিবিয়ার যে শহরে ২৬ বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করা হয়, সেই যুদ্ধবিধ্বস্ত মিজদাহ শহরে ভালো কোনো হাসপাতাল নেই। আহত ১১ জনকে স্থানীয়দের সহায়তায় অন্য শহরে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে বাংলাদেশ দূতাবাস। কিন্তু লাশগুলো পড়ে থাকে সেখানে।

হাসপাতালের মর্গে মাত্র চারটি লাশ রাখার জায়গা ছিল। ফলে ২৬টি লাশ রাখার কোনো ব্যবস্থায়ই সেখানে ছিল না। ফলে বাধ্য হয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের একটি এসি রুমে ২৬টি লাশ রেখে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের অপেক্ষা করতে থাকে। কিন্তু পরিস্থিতির কারণে সেখানে পৌঁছাতে পারেনি বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা।

এদিকে লাশগুলো পচে-গলে যেতে থাকলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন সেগুলো ওই শহরেই দাফন করে ফেলে।

দূতাবাসের শ্রমবিষয়ক কাউন্সিলর অশরাফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘‌হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের সহায়তায় লাশগুলো দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।’

লিবিয়ায় অবস্থানরত কয়েকজন বাংলাদেশি জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অপেক্ষা করলেও সেখানে দূতাবাসের কোনো কর্মকর্তা পৌঁছাতে পারেননি। এদিকে এতগুলো লাশ নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিল ওই হাসপাতাল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাংলাদেশি বলেন, ‌‘লাশ রাখতে হয় মর্গে। সেখানে স্থান সঙ্কুলান না হওয়ায় তারা হাসপাতালের একটি এসিকক্ষ যতটা সম্ভব ঠান্ডা করে সেখানে লাশগুলো রাখে। কিন্তু তাতে কি লাশের পচন ঠেকানো যায়? বাধ্য হয়ে তারা দাফনের ব্যবস্থা করেছে।’

এ বিষয়ে আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‌আসলে লাশগুলো মিজদাহ শহরে দাফন করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। মিজদাহ খুবই ছোট অনুন্নত শহর। সেখানে লাশগুলো সংরক্ষণের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থাও নেই। এছাড়া যুদ্ধ-কবলিত এলাকা হওয়ায় এবং লিবিয়ার জাতিসংঘ-সমর্থিত সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরের এলাকা হওয়ায় রাজধানী ত্রিপোলির সঙ্গে মিজদাহ শহরের যোগাযোগের ব্যবস্থাও বেশ খারাপ। এ কারণেই সেখানে যাওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দূতাবাস নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছে বলে জানান দূতাবাসের শ্রমবিষয়ক কাউন্সিলর অশরাফুল ইসলাম।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকালে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি থেকে ১৮০ কিলোমিটার দক্ষিণের মিজদাহ অঞ্চলে অপহরণকারীদের গুলিতে ২৬ জন বাংলাদেশি নিহত হন। আহত হন আরও ১১ জন বাংলাদেশি। তারা সবাই অবৈধভাবে লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর পারি দিয়ে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

লিবিয়া: নিহত ২৬ জন বাংলাদেশির মরদেহ দেশে আনা হচ্ছে না

লিবিয়ায় অপহরণকারীদের গুলিতে মারা যাওয়া বাংলাদেশিদের মরদেহ মিজদাতেই দাফন করা হবে বলে নিশ্চিত করেছে লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা।

দূতাবাসের শ্রম বিষয়ক কাউন্সিলর অশরাফুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে জানান, নিহতদের পরিবারের সাথে আলোচনার মাধ্যমে মিজদা শহরেই মরদেহগুলো দাফনের প্রক্রিয়া চলছে।

আশরাফুল ইসলাম বলেন, “লাশগুলো সেখানে (মিজদায়) দাফন করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। কাজেই এটা মেনে নিতেই হবে।”

তিনি জানান ঘটনাস্থল মিজদার একটি হাসপাতালে বর্তমানে লাশগুলো রয়েছে। “মিজদা খুবই ছোট একটি অনুন্নত শহর, সেখানে লাশগুলো সংরক্ষণের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নেই।”

এছাড়া যুদ্ধকবলিত এলাকা হওয়ায় এবং লিবিয়ার জাতিসংঘ সমর্থিত সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরের এলাকা হওয়ায় রাজধানী ত্রিপোলির সাথে মিজদা শহরের যোগাযোগের ব্যবস্থাও বেশ খারাপ বলে জানান আশরাফুল ইসলাম।

আর করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে সব ধরণের আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় লাশগুলো মিজদা শহর থেকে সরিয়ে নেয়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

“এসব কারণে লাশ হস্তান্তর করার বা লাশ বাংলাদেশে পাঠানোর কোনো সুযোগ আমরা দেখছি না। তাই আমরা লাশগুলো দাফন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং তাদের পরিবারের সাথে কথাবার্তা বলছি।”

আশরাফুল ইসলাম আশা প্রকাশ করেন যে আজ থেকেই লাশগুলো দাফনের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

বৃহস্পতিবার সকালে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপলি থেকে ১৮০ কিলোমিটার দক্ষিণের মিজদা অঞ্চলে অপহরণকারীদের গুলিতে ২৬ জন বাংলাদেশি নিহত হন। আহত হন আরো ১১ জন বাংলাদেশি।

তারা সবাই অবৈধভাবে লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর পারি দিয়ে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

অবৈধভাবে লিবিয়ার বেনগাজি বন্দরে পৌঁছে কয়েকমাস গোপনে ছিলেন এই অভিবাসন প্রত্যাশীরা।

এই মাসের মাঝামাঝি সময়ে বেনগাজি থেকে উপকূলবর্তী যুওয়ারা অঞ্চলে যাওয়ার পথে অপহরণকারীদের কবলে পড়েন তারা।

এরপর ২৮শে মে সকালে অপহরণকারীদের গুলিতে ২৬ জন বাংলাদেশিসহ মোট ৩০ জন মারা যায় বলে জানায় লিবিয়ার জাতিসংঘ সমর্থিত সরকার।

মালদ্বীপ থেকে দেশে ফিরলেন ১২০০ বাংলাদেশি

মালদ্বীপ থেকে প্রায় ১২০০ বাংলাদেশি যারা অনিয়মিত হিসেবে সম্প্রতি চিহ্নিত হয়েছেন তারা দেশে ফিরেছেন।

জরুরি নোটিশে মালেতে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। ৫ জুনের মধ্যে আরও ৩-৪টি ফ্লাইটে করে অনেক শ্রমিক দেশে ফিরবেন।

পাশাপাশি নিয়মিত ফ্লাইট চলাচল পুনরায় শুরু হলে বৈধ এবং অবৈধ বাংলাদেশি শ্রমিকদের দেশে ফেরার অনুমতি দেয়া হবে।

এর আগে মালদ্বীপে কর্মক্ষেত্রে যোগ দিতে না পারা ৭০ বাংলাদেশিকে গত ১৭ মে দেশে ফিরিয়ে আনে বিমানবাহিনীর একটি সি-১৩০বি পরিবহন উড়োজাহাজ।

ঈদের দিন যুক্তরাষ্ট্রে আরও দুই বাংলাদেশির মৃত্যু

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ঈদের দিন নিউইয়র্কে আরও দু’জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া শনিবার নিউইয়র্কে মারা গেছেন আরেক প্রবাসী। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে মোট ২৩১ বাংলাদেশির প্রাণ ঝরলো করোনা মহামারিতে।

হাসপাতাল এবং স্বজনের উদ্ধৃতি দিয়ে বাংলাদেশ সোসাইটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর রহিম হাওলাদার সোমবার রাতে জানান, ঈদের দিন রবিবার জ্যাকসন হাইটস সংলগ্ন এলমহার্স্ট এলাকার মো. আবু আহসান (৭৪) এবং বাফেলোতে ইব্রাহিম হোসেন বাসিত (৫৬) মারা গেছেন। এর আগেরদিন শনিবার ফ্লাশিং হাসপাতালে মারা যান হাজী মজিবর রহমান (৭১)।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে যে, নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, পেনসিলভেনিয়া, ভার্জিনিয়া, ম্যারিল্যান্ড, মিশিগান, জর্জিয়া, ফ্লোরিডা, টেক্সাস, ক্যালিফোর্নিয়া প্রভৃতি স্টেটে এখনও দুই হাজারের অধিক প্রবাসী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের বড় একটি অংশ রয়েছেন আইসিইউতে, যাদের বয়স ৬৫ বছরের অধিক। করোনা ছাড়াও নানা জটিল রোগে তারা ভুগছিলেন আগে থেকেই।

নিউইয়র্ক অঞ্চলের সবর্বহৎ সামাজিক সংগঠন ‘বাংলাদেশ সোসাইটি’র পক্ষ থেকে করোনায় মারা যাওয়া অসহায় প্রবাসীদের দাফনে শতাধিক কবরের জায়গা প্রদান করা হয়েছে বলেও জানান রহিম হাওলাদার। এছাড়া অনেক দুস্থ পরিবারের পাশেও দাঁড়িয়েছে এই সংগঠন। এছাড়া চট্টগ্রাম সমিতি, সন্দ্বীপ সোসাইটি, জালালাবাদ সমিতি, বিয়ানিবাজার সমিতিসহ বেশ কটি আঞ্চলিক সংগঠনের পক্ষ্য থেকেও লাশ দাফনের জন্যে কবরের জায়গা দেয়া হয়। উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক এবং নিউজার্সিতে এসব কবরের জায়গা কয়েক বছর আগেই ক্রয় করা হয়।

এদিকে, ২৫ মে সোমবার রাত ১১টা পর্যন্ত নিউইয়র্ক সিটিতে মোট ১৬৪১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর নিউইয়র্ক স্টেটে প্রাণহানীর সংখ্যা নিউইয়র্ক সিটিসহ মোট ২৩২৮২ জনের। অপরদিকে, সারা আমেরিকায় ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী মারা গেছে ৯৯৪৪৮ জন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৬৯৩১৫৭ এবং এরমধ্যে আরোগ্য লাভ করেছেন ৪৫৩৯৪৬ জন।

তথ্যসূত্রঃ এবিএন