শতাধিক দুস্থ্যদের হাতে প্রধানমন্ত্রীর উপহার প্রদান


রেল সচিব বেড়ায় ঢালারচর রেল স্টেশন পরিদর্শনে

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম রেজা শুক্রবার (২১ আগষ্ট) সকাল সাড়ে ৯ টায় বেড়া উপজেলার ঢালারচর রেল স্টেশন পরিদর্শন করেন এবং ওই ইউনিয়নের এক’শ দুঃস্থ অসহায় পরিবারের মাঝে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর কর্তৃক প্রদত্ত প্রধানমস্ত্রী’র উপহার বিতরণ করেন।
এ সময় ঢালারচর রেল স্টেশনে উত্তরবঙ্গের রেল মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন। মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, বেড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসিফ আনাম সিদ্দিকী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সচিব সেলিম রেজা মহামারী করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে সাধারন মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি রেল লাইনের যন্ত্রাংশ নিজেদের সম্পদ মনে করে নিজেদের দায়িত্বে দেখে রাখার কথা বলেন।

পরে তিনি উপজেলার পুরান ভারেঙ্গা ইউপিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর কর্তৃক প্রদত্ত টিআর প্রকল্পের আওতায় দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ প্রকল্পের উপকারভোগীদের কয়েকটি ঘর ও নগরবাড়িতে স্থাপিত মেরিন একাডেমিসহ বেড়া উপজেলায় বাস্তবায়ীত সরকারের কয়েকটি উন্নয়নমুলক প্রকল্প পরিদর্শন করেন।

এ সময় রেল সচিবের সাথে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বেড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসিফ আনাম সিদ্দিকী, সুজানগর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ফরহাদ হোসেন, আমিনপুর থানার ভারপাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মোজাম্মেল হক, বেড়া উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম, উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ শহিদুল্লাহ, ঢালারচর ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম (আমিন) প্রমুখ।

পাবনা-সিরাজগঞ্জের ৭৫ হাজার গরু অবিক্রিত

পাবনা-সিরাজগঞ্জ অঞ্চলের গো-খামারী, চাষি, মওসুমি ব্যবসায়ী ও ব্যাপারিদের মহামারি করোনাভাইরাস ও বন্যার কারণে কোরবানির ঈদে গরু বিক্রি কম হওয়ায় ব্যাপক লোকসান হয়েছে। এছাড়া ক্রস হাইব্রিড ও দেশি মাঝারি জাতের প্রায় ৭৫ হাজার অবিক্রিত গরু নিয়ে তারা চরম বিপাকে পড়েছেন। অনেক ব্যাপারি খামারি ও চাষিদের পাওনা টাকা পরিশোধ না করতে পেরে পালিয়ে বেড়াচ্ছে বলে জানা গেছে।

এ অঞ্চলের বেড়া, সাঁথিয়া, সুজানগর, আটঘড়িয়া, ঈশ্বরদী, ফরিদপুর, ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর, শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, তাড়াশ. চৌহালী, কামারখন্দ উপজেলার খামারি, চাষিরা ও মওসুমি ব্যবসায়ীরা ক্রস জাতের পাবনা ব্রিড, অস্ট্রেলিয়ান-ফ্রিজিয়ান ব্রিড, ইন্ডিয়ান হরিয়ান ব্রিড, পাকিস্তানি সাহিয়াল ব্রিড ও দেশি জাতের গরু পালন করেন। সারা দেশে এ অঞ্চরের গরুর খ্যাতি ও চাহিদা রয়েছে। কিন্তু এবার দেশে মহামারি করোনাভাইরাস ও বন্যার কারণে কোরবানির পশুর হাটগুলোতে ক্রস হাইব্রিড ও দেশি মাঝারি জাতের গরু চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি থাকায় গরুর দরপতনে এ অঞ্চলের প্রায় ৩০ হাজার গরুর ব্যাপারি ও খামারি মূলধন হারিয়ে পথে বসেছেন। তবে মওসুমি গরু ব্যবসায়ীরা এবার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন।

গবাদিপশু সমৃদ্ধ পাবনা-সিরাজগঞ্জ অঞ্চলের খামারি ও চাষিরা জেলার চাহিদা মিটিয়ে প্রায় আড়াই লাখ কোরবানির পশু দেশের বিভিন্ন হাটে সরবরাহ করেছিলেন। গরু ব্যবসায়ীরা খামারি ও চাষিদের কাছ থেকে নগদ ও বাকিতে গরু কিনে বিক্রির জন্য সড়ক ও নৌপথে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলার পশুরহাটে নিয়ে যায়। চাহিদার তুলনায় গরুর সরবরাহ বেশি থাকায় ঈদের দুই দিন আগে দেশের বিভিন্ন পশুরহাটে গরুর দাম কমে যায়। এতে অনেক ব্যবসায়ী ও খামারি বাধ্য হয়ে লোকসান দিয়ে গরু বিক্রি করেছেন।

এদিকে ঈদের তিনদিন আগে ঢাকার পশুরহাটগুলোতে গরুর সঙ্কট দেখা দেয়। এ খবরে ব্যাপারিরা রাতারাতি অনেক গুরু কিনে ট্রাকে সড়ক পথে ঢাকায় গরু পাঠান। জ্যামে ট্রাক আটকা পড়ায় ঈদের দিন সকালে ট্রাক ঢাকা পৌঁছায়। কিছু কিছু গরু বিক্রি হলেও অনেকেই বিক্রি করতে না পেরে গরু ফেরত নিয়ে এসেছেন।

একাধিক গরু ব্যবসায়ী ও খামারির সাথে কথা বলে জানা যায়, একদিকে মহামারি করোনাভাইরাস ও বন্যা অন্যদিকে হাটে চাহিদার চেয়ে সরবরাহ বেশি হওয়ায় ঈদের দেড় মাস আগে থেকেই গরুর দাম ব্যাপকভাবে কমে যায়। ট্রাক ও নৌকার ভাড়াসহ পথ খরচ উঠানোর জন্য ব্যবসায়ী ও খামারিরা লোকসান দিয়ে গরু বিক্রি করেছেন।

বেড়ার নতুনপাড়া গ্রামের হায়দার আলী ঢাকার গাবতলী পশুরহাটে ৭০টি গরু তুলেছিলেন। এরমধ্যে ৩৫টি গরু ১৫ লাখ টাকা লোকসান দিয়ে বিক্রি করেছেন। অবিক্রিত অবশিষ্ট ৩৫টি গরু ফেরত নিয়ে এসেছেন। একই গ্রামের মন্টু ব্যাপারির ৪৩টি গরুর ২১টি বিক্রি হয়েছে, ২২টি ফেরত নিয়ে এসেছেন। তার লোকসান হয়েছে প্রায় ৭ লাখ টাকা। নদী পাড়ের সোলেমান ব্যাপারির ১০৫টি গরুর মধ্যে ৫৫টি বিক্রি হয়েছে। অবিক্রিত ৫০টি গরু ফেরত নিয়ে এসেছেন। তার লোকসান হয়েছে প্রায় ১৩ থেকে ১৪ লাখ টাকা।

বেড়ার রাকশা গ্রামের কালা ব্যবসায়ী ৮টি গরু বিক্রি করে এক লাখ টাকা, হাতিগাড়া গ্রামের আকরাম ও আলতাফ ব্যবসায়ী লোকসান দিয়ে গরু বিক্রি করেছেন।

সাঁথিয়া উপজেলার সেলন্দা গ্রামের খামারি রজব আলী হাইব্রিড জাতের ২০টি গরু চট্রগ্রাম হালিশহর হাটে নিয়েছিলেন। তার ৮টি গরু বিক্রি হয়েছে। অবিক্রিত ১২টি অনেক কষ্ট করে ফেরত নিয়ে এসেছেন। তার লোকসান হয়েছে প্রায় ৫ লাখ টাকা।

পাবনা জেলার দুই সহস্রাধিক গরু ব্যবসায়ী ও খামারি প্রত্যেকের ৫০ হাজার থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত লোকসান হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

এদিকে অনেক খামারি বাকি টাকা না পাওয়ার আশঙ্কায় ব্যাপারিদের কাছ থেকে গরু ফেরত নিয়ে যাচ্ছেন। আবার অনেক ব্যাপারি খামারি ও চাষিদের পাওনা টাকা পরিশোধ করতে না পেরে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে তাদের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। সূত্রঃ নয়া দিগন্ত

করোনা আতঙ্ক : লোকসানের আশঙ্কায় খামারিরা

গবাদি-পশু সমৃদ্ধ পাবনা-সিরাজগঞ্জ অঞ্চলে প্রায় সাড়ে তিন লাখ গরু-মহিষ কোরবানির বাজার ধরার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। গরু খামারি, চাষি, মৌসুমি ব্যবসায়ীরা প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে গবাদিপশু মোটাতাজা করে এখন করোনা আতঙ্কে ভুগছেন। তাদের দুশ্চিন্তা করোনা পরিস্থিতি যদি ঈদুল আজহা পর্যন্ত স্থায়ী হয়, তাহলে গবাদি-পশু বেচাকেনা হবে অনেক কম। সেক্ষেত্রে তাদের বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে।

খামারিরা বলছেন, করোনার এই ক্রান্তিকালে তারা গবাদি-পশু নিয়ে বড় দুশ্চিন্তায় আছেন। সারাবছর গরু মোটাতাজাকরণ করে অনেকে বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করেছেন। তবে ঈদে গরু বিক্রি করতে পারবেন কি-না, তা নিয়ে চিন্তা যাচ্ছে না তাদের। কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে গ্রামের বিধবা, বেকার যুবক এবং কৃষক থেকে শুরু করে হাজারো মানুষ গরু-মহিষ, ছাগল, ভেড়া পালন করে। এখন অনেক শিক্ষিত যুবক গরু মোটা তাজাকরণকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। যে কারণে পাবনা-সিরাজগঞ্জ প্রত্যন্ত অঞ্চলে বড় বড় গরু ছাগলের খামার গড়ে উঠেছে। সারাবছর কসাইদের কাছে বিক্রির পাশাপাশি কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে স্পেশাল গরু-মহিষ তৈরি করেন খামারিরা।

পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাণী সম্পদ অফিসের পরিসংখ্যান অনুয়ায়ী, জেলা দুটিতে তালিকাভুক্ত প্রায় ৪২ হাজার গরুর খামার রয়েছে। এছাড়া জেলার গ্রামগুলোর প্রায় প্রতিটি বাড়িতে গবাদি-পশু পালন কার হয়। এ অঞ্চলে গরুর খামারের পাশাপাশি প্রায় ৪০ হাজার মৌসুমি ব্যবসায়ী ও কৃষকের গোয়ালে প্রায় এক হাজার সাত শ’ কোটি টাকা মূল্যের প্রায় সাড়ে তিন লাখ গরু-মহিষ, ছাগল ও ভেড়া প্রাকৃতিক উপায়ে মোটাতাজা করা হয়েছে। কোরবানির ঈদ বাজারে পাবনা, সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া, মুন্সিগঞ্জ থেকে বেশি গরু সরবরাহ হয়ে থাকে।

পাবনার ও সিরাজগঞ্জ অঞ্চলের একাধিক খামারীরা ও চাষিরা জানিয়েছেন, প্রকৃতিক নিয়মে মোটাতাজা গরুর মধ্যে রয়েছে, হাই ব্রিড জাতীয় পাবনা ব্রিড, অষ্ট্রেলিয়ান-ফ্রিজিয়ান ব্রিড, ইন্ডিয়ান হরিয়ান ব্রিড, পাকিস্তানি সাহিয়াল ব্রিড। তবে এর পাশাপাশি রয়েছে স্থানীয় ব্রিডিং পদ্ধতি যা লোকাল ক্রস ব্রিড নামে পরিচিত গরু। এসব ব্রান্ডের সব গরুই মোটা তাজাকরণ প্রক্রিয়ায় বড় করে বাজারে তোলা হয়। গরু মোটা তাজাকরণ একটি নিয়মিত ও প্রচলিত পদ্ধতি। বিশেষ পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াজাত ইউরিয়া, লালিগুড় ও খড়ের একটি বিশেষ মিকচার আট দিন কোনো পাত্রে বন্ধ করে রেখে তা রোদে শুকিয়ে গরুকে খাওয়াতে হয়। তিন মাস এটা খাওয়ালে গরু খুব দ্রুত মোটাতাজা হয়ে ওঠে। এই গরুর মাংস মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়।

সাঁথিয়া উপজেলার মনমথপুর গ্রামের খামারি আব্দুল জব্বার বলেছেন, প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে খড়, লালিগুর, ভাতের মার, তাজা ঘাস, খৈল, গম, ছোলা, খোসারী, মাসকালাই ও মটরেরভূসিসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার খাইয়ে ২৫টি গরু লালন-পালন করে মোটাতাজা করেছেন। এখন করোনা নিয়ে খুব আতঙ্কের মধ্যে আছেন। বর্ষায় গোচারণ ভূমি ডুবে যাওয়ায় গোখাদ্যের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। এ কারণে গরু লালন-পালনে খরচ অনেক বেড়ে গেছে।

আরেক খামারি আব্দুল জব্বার মিয়া জানালেন, গরু মোটা তাজাকরণ করে আতঙ্কে আছেন।

বললেন, সারাবছর গরু মোটা তাজাকরণ করে কোরবানির ঈদের অপেক্ষায় থাকেন। যদি গরুগুলো কোরবানিতে বিক্রি না হয় তাহলে আমাদের প্রচুর লোকসান দিতে হবে।

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের রাউতারা গ্রামের খামারি সাইফুল ইসলাম বললেন, করোনা কতদিন থাকবে সেটা কেউ পরিষ্কার করে বলতে পারছে না। যদি কোরবানির ঈদ পর্যন্ত থাকে, তাহলে দুঃখের সীমা থাকবে না। গরু পালন করতে গিয়ে অনেকেই ধার-দেনা করেছেন। ঈদে গরু বিক্রি করতে না পারলে কি-ভাবে ধার-দেনা শোধ করবেন এ নিয়ে তারাদুশ্চিন্তায় আছেন।

পোঁতাজিয়া গ্রামের আফাজ উদ্দিন জানালেন, প্রতি বছর কোরবানির ঈদেও এক দেড় মাস আগে থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকার গরুর ব্যাপারীরা এ অঞ্চলে এসে বাড়ি বাড়ি ঘুরে গরু কেনা শুরু করেন। পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলার পশুর হাটগুলো থেকেও তারা গরু কিনে দেশের বিভিন্ন জেলার হাটে বিক্রি করে থাকেন। এবার তাদের অনুপস্থিতির কারণে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন খামারি ও সাধারন কৃষকরা।

পাবনার ফরিদপুর উপজেলার খামারি নান্নু মিয়া জানিয়েছেন, করোনার কারণে এবার গরু কেনায় বেপারীদের কোনো আগ্রহ নেই। আগে ব্যাপারীরা গরু কেনার জন্য বারবার ফোন করত। আর এবার তাদের ফোন করছি। কিন্তু তারা ফোনই ধরছে না। আমার মতো বহু খামারিই দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছি।

খামারিরা আশঙ্কা করছেন, করোনার কারণে এবারের কোরবানির হাটে ক্রেতার অভাবে কম দামে গরু বিক্রি হতে পারে। এ আশঙ্কা থেকে তারা চেষ্টা করছেন এখনই গরু বিক্রি করে দেয়ার।

পাবনার সবচেয়ে রড় গরুর ব্যাপারী বেড়া পৌর এলাকা পায়না গ্রামের আসাদুল্লা জানালেন, অন্যান্য বছর গরুর ব্যাপারীরা কোরবানির মাসখানেক আগে থেকেই ঢাকা ও চট্রগ্রামের কোরবানির হাটকে সামনে রেখে এই এলাকার খামারিদের কাছ থেকে গরু কিনতে থাকেন। কিন্তু এবার বেশির ভাগ ব্যাপারীই সতর্কতার সাথে পরিস্থিতি খেয়াল করছেন। গত বছর এ সময় তিনি ৮০টি গরু কিনে ফেলেছিলেন। কিন্তু এবার এখনও কোনো গরু কেনেননি।

তিনি বলেন, করোনার কারণে হাটে গরুর দাম ও চাহিদা কেমন হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণেই তিনি গরু কিনছেন না।

উত্তরাঞ্চলের প্রধান পশুরহাট বেড়া সিঅ্যান্ডবি চতুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রচুর খামারি ও কৃষক গরু বিক্রির জন্য হাটে নিয়ে এসেছেন। কিন্তু ক্রেতা নেই বললেই চলে।

হাটে গরু বিক্রি করতে আসা সেলন্দা গ্রামের আব্বাস আলী বললেন, সকাল ৭টার দিকে বিক্রির জন্য পাঁচটা গরু আনছি। এহন বাজে ১২টা, কোনো ব্যাপারী দামই কয় নাই। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে গরু কিনেছি। ভুসির দোকানে বাকি করে গরু পালন করেছি। এহন গরু বিক্রি না হলি বিপদে পড়ে যাবো।

সিঅ্যান্ডবি চতুর হাটের ইজারাদার মিজানুর রহমান উকিল জানালেন, হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাসহ সর্ব সাধারণের জন্য মাস্ক ছাড়া প্রবেশ নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু বেচাকেনা একেবারেই নেই। অন্য বছরের মতো ঢাকা, মানিকগঞ্জ, সিলেট, চিটাগংয়ের ব্যাপারীরাও আসছে না, কমবেশি যা বিক্রি হচ্ছে তা স্থানীয় ব্যাপারী ও কৃষকদের কাছে।

পাবনায় ইয়াবাসহ ০১ জন গ্রেফতার

পাবনা র‌্যাব-১২, সিপিসি-২ র‌্যাবের একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভারপ্রাপ্ত কোম্পানী কমান্ডার মোঃ আমিনুল কবীর তরফদার এর নেতৃত্বে মোঃ বজলু খাঁ নামে একজন মাদক ব্যবসায়ী কে গ্রেফতার করেছে।

বুধবার বেলা ১টার দিকে পাবনা বেড়া উপজেলা জগন্নাথপুর রোয়ারবাড়ী বটতলার এলাকা হতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

এসময় তার নিকট হতে ১৯৭০ (একহাজার নয়শত সত্তর) পিচ্ অবৈধ নেশাজাতীয় মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

পাবনা র‌্যাব-১২, সিপিসি-২ কোম্পানী কমান্ডার মোঃ আমিনুল কবীর তরফদার জানান, সে দীর্ঘদিন যাবত অবৈধ নেশাজাতীয় মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট নিজ হেফাজতে রেখে নিজ এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় ক্রয়-বিক্রয় করে আসছিল।

ধৃত আসামীর বিরুদ্ধে পাবনা জেলার বেড়া থানায় এজাহার দায়ের করা হচ্ছে।

পাবনায় কোচিং সেন্টার চালানোর অপরাধে শিক্ষককে অর্থদণ্ড

পাবনার বেড়া উপজেলায় করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন ও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোচিং করানোর অপরাধে রবিউল ইসলাম নামের এক শিক্ষককে ছয় হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রোববার উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসিফ আনাম সিদ্দিকী উপজেলার কাজিরহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে কোচিং করানোর সময়ে তাকে হাতেনাতে আটক করে এ দণ্ডাদেশ দেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সুত্রে জানা যায়, বেড়া উপজেলার বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে করোনাকালে সরকারের নিষেধাজ্ঞা ও স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করেই কয়েকজন শিক্ষক কোচিং সেন্টার চালিয়ে যাচ্ছে। এই নিয়ে কয়েকটি প্রত্রিকায় প্রতিবেদনও প্রকাশ হয়। সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার গত (২৪ জুন) উপজেলার চাকলা, হাটুরিয়া-নাকালিয়ার বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় ও কোচিং সেন্টারে অভিযান পরিচালনা করেন।

রোববার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে কাজিরহাট বাসষ্ট্যান্ড সংলগ্ন রবিউল ইসলাম নামের এক শিক্ষকের কোচিং সেন্টারে অভিযান চালানো হয়। এসময় স্বাস্থ্যবিধি না মেনে প্রইভেটের নামে কোচিং বাণিজ্য চালানোর সময় তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শিক্ষক রবিউল ইসলামকে ছয় হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন।

এর আগে সকাল সাতটার সময় কাশিনাথপুরের কয়েকটি শিক্ষকের বাসায় অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতি টের পেয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সটকে পড়ে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসিফ আনাম সিদ্দিকী জানান, সরকারি প্রজ্ঞাপন না মেনে শিক্ষার্থীদের কোচিং করানোর অপরাধে শিক্ষক রবিউল ইসলামকে করোনা সংক্রমণ রোধ নিয়ন্ত্রণ নির্মুল ও প্রতিরোধ আইনে ছয় হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। নীতিমালা লঙ্ঘন করে প্রাইভেট-কোচিং পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে এ অভিযান চলমান থাকবে বলেও তিনি জানান।

 

চাটমোহর হাইস্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক মো. ফসি উদ্দিন আহমেদ স্বপরিবারে করোনা আক্রান্ত

পাবনা জেলার প্রাচীনতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চাটমোহর সরকারী রাজা চন্দ্র নাথ ও বাবু শম্ভুনাথ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের জাতীয় স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত প্রবীণ শিক্ষাবিদ সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. ফসি উদ্দিন আহমেদ ও তার স্ত্রীসহ পরিবারের ৬ জন সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।
তাহার ভাতিজা সহকারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (অব) মো. শহিদুল ইসলাম এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি ঢাকার মিরপুর এলাকায় ছেলের বাড়িতে অবস্থান কালে স্বস্ত্রীক করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। একই সাথে ছেলে, পুত্রবধূ, নাতি সহ ওই পরিবারের মোট ৬ জন সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তবে তাদের শরীরে উল্লেখযোগ্য উপসর্গ না থাকায় প্রায় গত ১০দিন যাবৎ সকলেই ‘হোম আইসোলেশন’-এ রয়েছেন। তাদের শরীরের অবস্থা অনেকটা স্থিতিশীল রয়েছেন বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন। পরিবারের অন্যদের তেমন কোন শারীরিক সমস্যা না হলেও মো. ফসি উদ্দিনকে হসপিটালাইজড করা হতে পারে।

এদিকে একাধিক সমর্থিত সূত্র জানিয়েছে, ঢাকায় অবস্থানকারী চাটমোহরের অন্ততঃ শতাধিক ব্যক্তি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা গ্রহন করছেন।

করোনায় বাঘাবাড়ির দুগ্ধশিল্পে বিপর্যয়

ফাইল ছবি

শফিউল আযম বেড়া (পাবনা): করোনার প্রকোপে তরল দুধের চাহিদা কমে যাওয়ায় বাঘাবাড়ির প্রায় ২০টি বেসরকারি দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান দুধ সংগ্রহ কমিয়ে দেয়ায় পাবনা-সিরাজগঞ্জ অঞ্চলের প্রায় দেড় লাখ গো-খামারি ব্যাপক লোকসানে পড়েছেন। গত রমজানে দুধের চাহিদা ও দাম বেড়ে যাওয়ায় একটু আশার আলো দেখেছিলেন খামারিরা। ওই সময় দুগ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন খামারিদের কাছ থেকে আগ্রহের সাথে যেমন দুধ কিনেছেন, তেমনি খোলাবাজারেও মিলেছে ভালো দাম। এমন অবস্থা ছিল ঈদুল ফিতরের পরের প্রায় সাত দিন পর্যন্ত। কিন্তু এখন আবার খামারিদের আগের দুঃসময় ফিরে এসেছে। চাহিদা কমে যাওয়ার কথা বলে প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দুধ নেয়া একেবারেই কমিয়ে দিয়েছে। বাধ্য হয়ে খোলাবাজারে খামারিদের লোকসান দিয়ে দুধ বিক্রি করতে হচ্ছে। এ দিকে হঠাৎ করেই গো-খাদ্যের দাম ব্যাপক বেড়ে যাওয়ায় সেটা খামারিদের জন্য ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দেখা দিয়েছে। অব্যাহত লোকসানে এ অঞ্চলের অনেক গো-খামার বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৭৩ সালের দিকে পাবনা জেলার বেড়া, সাঁথিয়া, ফরিদপুর, ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর এবং সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর ও উল্লাপাড়া উপজেলা নিয়ে দেশের সর্ববৃহৎ দুগ্ধ অঞ্চল গড়ে ওঠে। পাবনা ও সিরাজগঞ্জ অঞ্চলে প্রায় দেড় লাখের বেশি গো-খামার রয়েছে। এ ছাড়া গ্রামগুলোর প্রায় প্রতিটি বাড়িতে গরু পালন করে দুধ উৎপাদন করা হয়। এ অঞ্চলে প্রতিদিন ১৫ থেকে সাড়ে ১৬ লাখ লিটার দুধ উৎপাদন হয়। এর মধ্যে দেড় লাখ লিটার নেয় বাঘাবাড়ির মিল্কভিটা, সাড়ে চার লাখ লিটার নেয় আফতাব, আকিজ, ব্র্যাকসহ বিভিন্ন বেসরকারি দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান এবং এক লাখ লিটার নেয় প্রাণ কোম্পানি। এ সব প্রতিষ্ঠানের দুধ সংগ্রহের পরিমাণ প্রতিদিন প্রায় সাত থেকে আট লাখ লিটার। এ ছাড়া ঘোষেরা ৬০ থেকে ৭০ হাজার লিটার দুধ কিনে থাকে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অবশিষ্ট দুধ প্রক্রিয়াজাত করে বগুড়া, রংপুর, নাটোর, নওগাঁসহ বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করে থাকেন।

এই দুগ্ধ অঞ্চলকে টার্গেট করে প্রাণ, আকিজ, আফতাব, ব্র্যাক ফুড (আড়ং), অ্যামোফ্রেস মিল্ক, আড়ং দুধ (ব্র্যাক), মিল্কভিটা, ফার্মফ্রেস, রংপুর ডেইরি, ইছামতি ডেইরি, সেফ মিল্ক কোয়ালিটি, বিক্রমপুরসহ প্রায় ২০টি বেসরকারি দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান এ অঞ্চলে তাদের আঞ্চলিক ও শাখা দুগ্ধ সংগ্রহশালা স্থাপন করেছে। সম্ভাবনাময় এই শিল্পকে কেন্দ্র করে পাবনা ও সিরাজগঞ্জ অঞ্চলের হাজার হাজার পরিবার তাদের জীবিকার পথ হিসেবে গাভী পালন ও দুধের ব্যবসাকে বেছে নিয়েছেন। ফলে এ অঞ্চলে গড়ে উঠেছে হাজার হাজার গোখামার। দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দুধ সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করে সারা দেশে বাজারজাত করে থাকে। কিন্তু করোনার প্রকোপে তরল দুধের চাহিদা কমে যাওয়ায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো দুধ কেনা কমিয়ে দিয়েছে। মিষ্টি ও চায়ের দোকানদাররাও এখন আগের তুলনায় চার ভাগের এক ভাগ কম দুধ কিনছেন। ফলে উৎপাদিত দুধ নিয়ে খামারিরা বিপাকে পড়েছেন। অনেক খামারি গ্রামে গ্রামে ফেরি করে দুধ বিক্রি করছেন।

গত রমজানে দুধের চাহিদা কিছুটা বাড়ায় প্রতিষ্ঠানগুলো খামারিদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহ বাড়িয়ে দেয়। এমনকি দুধের সংগ্রহমূল্যও বাড়ানো হয়। এমনিতে প্রতিষ্ঠানগুলো ৪০ থেকে ৪২ টাকা লিটার দরে দুধ সংগ্রহ করলেও রমজানে বেসরকারি কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান ৪৫ থেকে ৫০ টাকা লিটার দরে দুধ সংগ্রহ করে। এ ছাড়া খামারিরা খোলাবাজারে ও ছানার কারখানায় এর চেয়ে বেশি দামে দুধ বিক্রি করেন। এতে করে খামারিরা আশার আলো দেখতে থাকেন। অনেকেই মনে করেন দুঃসময় কেটে গিয়ে খামারিদের সুসময় ফিরে এসেছে। কিন্তু আবার দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দুধ সংগ্রহ কমিয়ে দিলে এ অঞ্চলের দুগ্ধশিল্পে নেমে আসে বিপর্যয়। করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে গত মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে খামারিরা উৎপাদিত দুধ নিয়ে মহাবিপাকে পড়েন। প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দুধ সংগ্রহ কমিয়ে দেয়ায় স্থানীয় বাজারে খামারিরা পানির দরে মাত্র ১৫ থেকে ২০ টাকা লিটার দরে দুধ বিক্রি করেন।

দুগ্ধ প্রধান এলাকা সাঁথিয়া, ফরিদপুর ও শাহজাদপুর উপজেলার কয়েকজন খামারি জানান, ঈদুল ফিতরের পর দুধের দাম কমতে থাকলেও গো-খাদ্যের দাম উল্টো বেড়ে চলেছে। এক হাজার ২৫০ টাকা দামের ৩৭ কেজি ওজনের প্রতিবস্তা ভুসির দাম ঈদুল ফিতরের পরে বেড়ে হয়েছে এক হাজার ৪২০ টাকা। ৩০০ টাকা মণের খড়ের দাম হয়েছে ৪০০ টাকা। খৈল, চিটাগুড়সহ সব ধরনের গো-খাদ্যের দামই এ ভাবে বেড়েছে বলে খামারিরা জানিয়েছেন।
বেড়া পৌর এলাকার বনগ্রাম মহল্লার জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত খামারি মাহফুজা মীনা বলেন, আমার খামারে প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ লিটার দুধ হয়। এক মাস ভালো দামে বিক্রি করার পর আবারো উৎপাদিত দুধ নিয়ে বিপাকে পড়েছি।

সাঁথিয়ার আমাইকোলা গ্রামের দুধ সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠান সেফ মিল্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ শেখ জানিয়েছেন, করোনা দেখা দেয়ার পর তাদের প্রতিদিন দুধ সংগ্রহ নেমে আসে ৫০০ থেকে এক হাজার লিটারে। কিন্তু রমজানে তারা প্রতিদিন পাঁচ হাজার লিটার দুধ সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠিয়েছেন। তখন তারা প্রতি লিটারের সংগ্রহ মূল্য ৫০ টাকার কাছাকাছি করেছিলেন। অথচ এখন ৩৫ থেকে ৪০ টাকা দামেও খামারিরা তাদের কাছে দুধ বিক্রির জন্য ধরনা দিচ্ছেন। কিন্তু চাহিদা কমে যাওয়ায় এখন প্রতিদিন এক থেকে দেড় হাজার লিটারের বেশি দুধ তারা নিতে পারছেন না।

কৃষক দলের সদস্য সচিব তুহিন ও বিএনপি নেতা ডা. নোমান’র মায়ের ইন্তেকাল

জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সদস্য সচিব কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন এবং ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) পাবনা জেলা শাখা ও পাবনা পৌর বিএনপির সদস্য সচিব ডা. আহমেদ মোস্তফা নোমান এর মাতা হামিদা বেগম আজ সকাল সাড়ে ৮টায় বার্ধক্যজনিত কারণে পাবনা শহরের নিজ বাসায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। মৃত্যুকালে তিনি ৬ ছেলে ও ২ মেয়ে, নাতী-নাতনী আত্মীয় স্বজনসহ অসংখ্যা গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

বাদ মাগরিব নতুন বাঁশ বাজার (শিবরামপুর) জামে মসজিদে জানাজা শেষে পাবনা আরিফপুর কবরস্থানে মরহুমাকে দাফন করা হয়।

হামিদা বেগম এর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ এক শোকবার্তায় বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, “হামিদা বেগম এর মৃত্যুতে তার পরিবার-পরিজনদের প্রতি আমি গভীর সহমর্মিতা জ্ঞাপন করছি। একজন সহনশীল মাতা হিসেবে তিনি গভীর মাতৃস্নেহ ও কঠোর পরিশ্রম দিয়ে তার সন্তানদের সুশিক্ষিত ও যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। পরহেজগার ও দানশীল নারী হিসেবেও তিনি এলাকার সকলের নিকট ছিলেন অত্যন্ত শ্রদ্ধেয়। মহান রাব্বুল আলামীন এর দরবারে দোয়া করি তিনি যেন মরহুমার শোকাহত পরিবারবর্গকে এই মৃত্যুশোক সহ্য করার ক্ষমতা দান করেন। আমি মরহুমা হামিদা বেগম এর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গ, আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি জানাচ্ছি গভীর সমবেদনা।”

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘দোয়া করি-মহান রাব্বুল আলামীন যেন মরহুমাকে বেহেস্ত নসীব এবং শোকে ম্রিয়মান পরিবারের সদস্যদেরকে ধৈর্য ধারণের ক্ষমতা দান করেন। আমি মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যবর্গ, আত্মীয়স্বজন, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি জানাচ্ছি গভীর সমবেদনা।’

এছাড়াও মরহুমা হামিদা বেগম এর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাড. রুহুল কবির রিজভী, জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মাদ মামুনুর রশিদ খান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী অ্যাড. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, পাবনা জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, সদস্য সচিব সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক, ইঞ্জিনিয়ার হাবিবুর রহমান তোতা, সাইফুল ইসলাম বাদশা, মাহমুদন্নবী স্বপন, অ্যাড. মাসুদ খন্দকার, পাবনা পৌর মেয়র কামরুল হাসান মিন্টু, দৈনিক খবর বাংলার সম্পাদক ডা. আব্দুস সালাম, স্বেচ্ছাসেবক দল পাবনা জেলা শাখার সভাপতি আরিফ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা, ইনট্রা ফুড এন্ড বেভারেজ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ আজাদ খান চিশতী, ব্যাণিজ্যিক কর্মকর্তা ফারুক হোসেন, খালেদ হোসেন, এশিয়ান টিভির পাবনা জেলা প্রতিনিধি ও হৃদয়ে পাবনার আহ্বায়ক আর কে আকাশ, আকাশ নিউজ ২৪ ডটকম’র বার্তা সম্পাদক তামান্না তানজিন জান্নাতী, পথ সাহিত্য সংসদ’র আসাদুল ইসলাম শফিক, দৈনিক খবর বাংলার পরিবার, জালাল মেমোরিয়াল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’র কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, ছাত্রদল নেতা কমল, জনি, নাদিমসহ পাবনা জেলা বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন ও ইউনিটের নেতৃবৃন্দ।

বিবৃতিতে তারা মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

মোহাম্মদ নাসিম এর মৃত্যুতে সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ অধ্যক্ষ’র শোক জ্ঞাপন

সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. হুমায়ুন কবির মজুমদার।

শোক বার্তায় তিনি বলেন, তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ একজন নিবেদিত প্রাণ রাজনীতিবীদকে হারাল।

তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

পাবনায় একই পরিবারের ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার

পাবনা শহরের বিলালপুর মহল্লার একটি বাসা থেকে একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।আজ শুক্রবার (৫ জুন) দুপুর আড়াইটায় তাদের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস এ তথ‌্য নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে আছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।’