লকডাউনেও বাড়ছে বৈশ্বিক উষ্ণতা

নতুন করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট মহামারিতে সারা বিশ্ব যেভাবে থমকে দাঁড়িয়েছে, তাতে প্রকৃতি নিজের শুশ্রূষা কিছুটা হলেও করতে পেরেছে। বাধ্য হয়ে আরোপিত লকডাউনের কারণে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ আগের চেয়ে অনেক কমেছে, কমেছে বায়ুদূষণও। কিন্তু এত সবেও বৈশ্বিক উষ্ণায়ন কিন্তু থামানো যাচ্ছে না। সামগ্রিকভাবে লকডাউনের কারণে প্রাকৃতিক পরিবেশের লাভ হলেও, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ওপর এর প্রভাব নগণ্য।

বিজ্ঞানীদের বরাত দিয়ে বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে পৃথিবী নিজেই সেরে উঠছে। জলবায়ু পরিবর্তনের মতো ভয়াবহ বিষয় থেকে রক্ষা পাওয়ার একটা অতিকল্পনা অনেককেই পেয়ে বসেছে। কিন্তু সত্য হচ্ছে, পৃথিবীর উষ্ণায়নের প্রবণতার ওপর লকডাউনের প্রভাব একেবারেই কম। যতটুকু প্রভাব পড়েছে, তাতে ২০৩০ সাল নাগাদ বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়ার যে প্রাক্কলন করা হয়েছে, তাতে মাত্র শূন্য দশমিক ০১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের হেরফের হতে পারে। এই হেরফেরও একেবারে কম নয়। তবে শুরুতে যেমনটা ভাবা হয়েছিল, তার তুলনায় হতাশাজনকই বলতে হবে।

বিজ্ঞানীরা এই আপাতনিরাশার কথাটি বলার সঙ্গে সঙ্গে এ–ও বলছেন যে এই পরিস্থিতিতে প্রকৃতির ওপর যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, তা অব্যাহত রাখা গেলে দীর্ঘ মেয়াদে উল্লেখযোগ্য সুফল পাওয়া যাবে। এই শতকের মাঝামাঝি বৈশ্বিক তাপমাত্রা দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার যে প্রায় অসম্ভব লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, তা হয়তো অর্জন সম্ভব হবে।

এর আগে এ–সংক্রান্ত গবেষণায় বলা হয়েছে, বৈশ্বিক মহামারির কারণে সারা বিশ্বই কার্যত লকডাউন হয়ে যাওয়ায় পরিবহনব্যবস্থা প্রায় স্থবির হয়ে আছে। ফলে গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ হারে উল্লেখযোগ্য অবনমিত হয়েছে। এক হিসাবে দেখা গেছে, দিনে কার্বন ডাই–অক্সাইড নিঃসরণের পরিমাণ আগের চেয়ে ১৭ শতাংশ কমেছে। নতুন গবেষণাটিও এরই ধারাবাহিকতায় করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আগের বিভিন্ন গবেষণা এবং গুগল ও অ্যাপলের কাছ থেকে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। গবেষণাটিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন লিডস ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক পিয়ার্স ফরস্টার। এ কাজে তাঁকে সহায়তা করেন তাঁর মেয়ে হ্যারিয়েট ফরস্টার, মহামারির কারণে যাঁর এ–লেভেল পরীক্ষা বাতিল হয়েছিল। আর এ অবসরটি তিনি বাবার সঙ্গে গবেষণার কাজে ব্যয় করেন। এ–সম্পর্কিত গবেষণা নিবন্ধটি নেচার ক্লাইমেট চেঞ্জ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

পিয়ার্স, তাঁর মেয়ে অন্য গবেষকদের সঙ্গে একযোগে কাজ করেন। তাঁরা মূলত মহামারির এই সময়ে ১০ ধরনের গ্রিনহাউস গ্যাস ও বায়ুদূষক পদার্থের পরিমাণে কতটা পরিবর্তন এসেছে, তা নিরীক্ষণ করেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে গত জুন মাস পর্যন্ত সময়ে বিশ্বের ১২৩টি দেশকে পর্যবেক্ষণে রাখেন তাঁরা। এতে দেখা যায়, কার্বন ডাই–অক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইডসহ অন্য নিঃসরণগুলোর পরিমাণে সবচেয়ে বড় অবনমন হয় গত এপ্রিল মাসে। ওই সময় এ ধরনের গ্যাস নিঃসরণের পরিমাণ ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে। কিন্তু দেখা যায় যে এই নিঃসরণ হ্রাস একযোগে ঘটায় তা তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার কমানোয় তেমন প্রভাব ফেলতে পারছে না। কারণ, কোনো একটি গ্যাসের পরিমাণ কমায় যদি উষ্ণায়ন কমে, তবে অন্য একটি উপাদানের পরিমাণ কমলে উষ্ণায়ন বাড়ে। করোনার সময়ে দেখা যাচ্ছে, এ দুই ধরনের উপাদনের নিঃসরণই কমছে। ফলে একটির প্রভাব অন্যটি খারিজ করে দিচ্ছে। আর এ কারণেই সামগ্রিকভাবে বৈশ্বিক উষ্ণায়নে বড়সড় অবনমন হওয়ার তেমন আশঙ্কা নেই।

উদাহরণ হিসেবে গবেষকেরা বলেন, যানবাহন থেকে সাধারণত নাইট্রোজেন অক্সাইড নির্গত হয়, যা তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। আবার কয়লা পোড়ালে সেখান থেকে সালফার ডাই–অক্সাইড নির্গত হয়। এই সালফার ডাই–অক্সাইড আবার বায়ুমণ্ডলে একটি আবরণ তৈরিতে সহায়তা করে, যা সূর্যালোক প্রতিফলিত করে পৃথিবীকে ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করে। ফলে একধরনের ভারসাম্য সৃষ্টি হয়। এখন লকডাউনের মধ্যে এই দুই–ই কমে যাওয়ায় নাইট্রোজেন অক্সাইডের কারণে বাড়তি উষ্ণায়ন না হলেও সালফার ডাই–অক্সাইডের ইতিবাচক প্রভাবটি আর পাওয়া যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে পিয়ার্স ফরস্টার বিবিসিকে বলেন, ‘আমাদের গবেষণা বলছে, জলবায়ুর ওপর লকডাউনের প্রকৃত প্রভাব আদতে বেশ কম। তবে এর মাধ্যমে একটি সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। এই সময়ের অভিজ্ঞতা ও সুযোগ কাজে লাগিয়ে আমরা আমাদের অর্থনীতিকে সবুজ অর্থনীতির দিকে পরিচালিত করতে পারি। পরিবেশবান্ধব শিল্পে বিনিয়োগ করতে পারি। আর এটি আমাদের ভবিষ্যৎ পৃথিবীর জলবায়ুর ওপর অনেক বড় প্রভাব রাখবে।’

তথ্য সুত্রঃ প্রথম আলো

বর্ষাতেও ঢাকার বাতাসের মান ‘অস্বাস্থ্যকর’

বর্ষা মৌসুম চললেও রাজধানী ঢাকার বাতাসের মান এখনও অস্বাস্থ্যকর রয়ে গেছে। মঙ্গলবার সকালে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সে (একিউআই) বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে উঠে আসে এ মহানগরী।

সকাল ৮টা ১০ মিনিটে একিউআই স্কোর ১৫২ নিয়ে রাজধানী ঢাকার বাতাস অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়।

সাধারণত, মধ্য জুন থেকে বৃষ্টিপাত শুরুর পর ঢাকার বাতাস পরিষ্কার হতে আরম্ভ করে। আর জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বর্ষার মৌসুমে বাতাসের মান মোটামুটি গ্রহণযোগ্য থাকে।

এছাড়া, এ বছর কোভিড-১৯ মহামারির কারণে সরকারি বিধিনিষেধের ফলে মানুষ ও যানবাহনের চলাচল কমে গেছে। সেই সাথে ঢাকায় বন্ধ রয়েছে সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তারপরও বর্ষার মাঝে বাতাসের মান অস্বাস্থ্যকর থেকে গেছে।

একিউআই সূচকে ১৫১ থেকে ২০০ এর মাঝে স্কোর থাকার অর্থ হলো বাতাসের মান অস্বাস্থ্যকর। এ সময় প্রত্যেকের স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। আর সংবেদনশীল মানুষদের ঝুঁকির মাত্রা থাকে গুরুতর।

আজ পাকিস্তানের লাহোর ও ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা যথাক্রমে ১৬৩ ও ১৫৫ স্কোর নিয়ে দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় প্রথম দুটি স্থানে রয়েছে।

প্রতিদিনের বাতাসের মান নিয়ে তৈরি করা একিউআই সূচক একটি নির্দিষ্ট শহরের বাতাস কতটুকু নির্মল বা দূষিত সে সম্পর্কে মানুষকে তথ্য দেয় এবং তাদের জন্য কোন ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে তা জানায়।

একিউআই সূচকে ৫০ এর নিচে স্কোর থাকার অর্থ হলো বাতাসের মান ভালো। এ সূচকে ৫১ থেকে ১০০ স্কোরের মধ্যে থাকলে বাতাসের মান গ্রহণযোগ্য বলে ধরে নেয়া হয়। তবে একিউআই স্কোর ১০১ থেকে ১৫০ হলে নগরবাসী বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

এছাড়া একিউআই মান ২০১ থেকে ৩০০ হলে স্বাস্থ্য সতর্কতাসহ তা জরুরি অবস্থা হিসেবে বিবেচিত হয়। এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে এবং অন্যদের বাড়ির বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে। একিউআই স্কোর ৩০১ থেকে ৫০০ বা তারও বেশি হলে বাতাসের মান ঝুঁকিপূর্ণ মনে করা হয়। এসময় স্বাস্থ্য সতর্কতাসহ প্রত্যেক নগরবাসীর জন্য জরুরি অবস্থা হিসেবে বিবেচিত হয়।

বাংলাদেশে একিউআই নির্ধারণ করা হয় দূষণের পাঁচটি ধরনকে ভিত্তি করে- বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ এবং ওজোন (ও৩)।

গ্রীষ্মমণ্ডলীয় মৌসুমি জলবায়ুর কারণে বাংলাদেশে ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে বৃষ্টিপাত, উচ্চ তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতায় বৈচিত্র্য দেখা যায়।

 

ঢাকায় বাতাসের মানের উন্নতি

দূষিত বাতাসের সাথে লড়াই করা রাজধানী ঢাকার বাতাসের মানের উল্লেখযোগ্য উন্নতি অব্যাহত রয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৮ মিনিটে ৭৩ স্কোর নিয়ে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সে (একিউআই) ১৪তম খারাপ অবস্থানে উঠে এসেছে জনবহুল এ শহর। যা বাতাসের মানকে ‘গ্রহণযোগ্য’ নির্দেশ করে।

একিউআই সূচকে ৫০ এর নিচে স্কোর থাকার অর্থ হলো বাতাসের মান ভালো। স্কোর ৫১ থেকে ১০০ হলে বাতাসের মান গ্রহণযোগ্য বলে ধরে নেয়া হয়। তবে এ অবস্থায় শিশু, বয়স্ক ও যাদের শ্বাসকষ্ট আছে তাদের বাইরে বেশি সময় না থাকার পরামর্শ দেয়া হয়।

পাকিস্তানের লাহোর, চীনের চেংদু এবং ভারতের দিল্লি যথাক্রমে ১৬৮, ১৩৯ এবং ১৩৫ স্কোর নিয়ে তালিকার প্রথম তিনটি স্থান দখল করেছে।

সূচকে ১৫১ থেকে ২০০ এর মধ্যে স্কোর থাকার অর্থ হলো সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে। সংবেদনশীল গোষ্ঠীর স্বাস্থ্যের ওপর আরও বেশি প্রভাব পড়তে পারে।

জনবহুল ঢাকা দীর্ঘদিন ধরেই দূষিত বাতাস নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। মূলত নির্মাণ কাজের নিয়ন্ত্রণহীন ধুলা, যানবাহনের ধোঁয়া, ইটভাটা প্রভৃতি কারণে রাজধানীতে দূষণের মাত্রা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে বর্ষা মৌসুমে দূষণ কিছুটা কমে।

বিশ্বব্যাংক ও পরিবেশ অধিদপ্তরের এক প্রতিবেদনে ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান কারণ হিসেবে এ শহরের চারপাশে অবস্থিত ইটভাটাকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তথ্যসূত্রঃ এবিএন

লকডাউন পিরিয়ডে সূর্য, ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের শঙ্কা

কিছুদিন আগেই জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা দাবি করেন যে, ক্রমশ কমছে সূর্যের তেজ আর উজ্জ্বলতা! এ বার বিজ্ঞানীদের দাবি, সূর্যপৃষ্ঠের উপরে ঘটে চলা ক্রিয়াকলাপ ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। অর্থাৎ, সূর্যেও নাকি ‘লকডাউন পর্ব’ শুরু হয়েছে।জ্যোতির্বিজ্ঞানী ডঃ টনি ফিলিপস জানান, ‘সোলার মিনিমাম’ পর্ব শুরু হয়েছে। সূর্যের শরীরে সৌর কলঙ্কের চিহ্ন ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। একই সঙ্গে সূর্যের চুম্বকীয় ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। ফলে মহাজাগতিক রশ্মি অতিরিক্ত মাত্রায় সৌরজগতে প্রবেশ করছে।

সৌর বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, এমনই এর ‘সোলার মিনিমাম’-এর প্রভাবে ১৮১৫ সালের ১০ এপ্রিলে ইন্দোনেশিয়ার মাউন্ট টাম্বোরাতে হওয়া ভয়ঙ্কর অগ্ন্যুৎপাতে প্রাণ হারিয়েছিলেন ৭১ হাজার মানুষ। এর ঠিক পরের বছরই (১৮১৬ সাল) ‘বিনা গ্রীষ্মের বছর’ দেখেছিল পৃথিবী। সে বছর জুলাই মাসে বিশ্বের বহু জায়গায় বরফ পড়েছিল। এই ঘটনা বিজ্ঞানীদের কাছে ‘ডালটন মিনিমাম’ নামে পরিচিত।

নাসার বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, এই ‘সোলার মিনিমাম’-এর প্রভাবে ১৭৯০ থেকে ১৮৩০ সালের মধ্যে হওয়া ‘ডালটন মিনিমাম’ ফিরে আসতে পারে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানী ডঃ ফিলিপস উদ্বেগের সঙ্গে জানান, এই ‘সোলার মিনিমাম’-এর প্রভাব পড়তে পারে পৃথিবীতেও। খরা, তীব্র শীত, অগ্ন্যুত্পাত বা ভয়ঙ্কর ভূমিকম্পের ঘটনা বেড়ে যেতে পারে পৃথিবীতে। পৃথিবী ফের সম্মুখীন হতে পারে ‘ডালটন মিনিমাম’-এর মতো ভয়ঙ্কর পর্বের।

তথ্যসূত্রঃ এবিএন

ঢাকায় বাতাসের দূষণ কমেছে ৩০ শতাংশ

মাত্র দুই মাসের লকডাউনে বদলে গেছে ঢাকার বাতাস। দূষণের মহানগরে এখন সবুজ আর সতেজ হাওয়া। প্রাণভরে শ্বাস নেয়ার বড় সুযোগ করে দিয়েছে প্রাণঘাতী করোনা। এরই মধ্যে বাতাসের ৩০ শতাংশ দূষণ কমেছে, যা বিশ্বের দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় ৩০-৪০ ধাপ নিচে নামিয়ে এনেছে ঢাকাকে। পরিবেশবিদরা বলছেন, চাইলেই যে দূষণ রোধের ব্যবস্থা করা যায় এটি তারই প্রমাণ।এমন নীল আকাশ ঠিক কতদিন আগে দেখেছে ঢাকাবাসী? এর সঠিক জবাব হয়তো কারো কাছে নেই। মাত্র দুই মাসের লকডাউনে বদলে গেছে অনেক কিছুই। নাভিশ্বাস তোলা গাড়ির কালো ধোয়ার জায়গা করে নিয়েছে মৃদু বাতাস আর নির্মল প্রকৃতি।

২০১৯ সালে বিশ্বের দূষিত শহরের শীর্ষে থাকা ঢাকায় এখন সবুজ সতেজ প্রকৃতি। ফুলে ফুলে ছেয়ে আছে চারপাশ। এ এক অন্যরকম স্নিগ্ধতা। যেখানে নীল আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে প্রাণ ভরে নিঃশ্বাস নিচ্ছে নগরবাসী।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা এয়ার ভিজ্যুয়ালের দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় গত মার্চ ও এপ্রিলে ঢাকার অবস্থান ছিল ৩০ থেকে ৪০ নম্বরে।

করোনা লকডাউনের জেরে দূষণের মাত্রা চোখে পড়ার মতো কমেছে। পরিবেশবিদরা বলছেন, এটি প্রকৃতির বিদ্রোহ। এর থেকে পাঠ নিয়ে দূষণ নিয়ন্ত্রণে এখনই কড়া পদক্ষেপ নিতে না পারলে, মানব সভ্যতা আরও দুর্গতিতে পড়বে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন মুগ্ধতা ধরে রাখতে মেয়াদহীন যানবাহন বন্ধের পাশাপাশি কলকারখানার দূষণ বন্ধেও শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে সরকারকে।

সূত্রঃ এবিএন

তাপমাত্রার তুলনায় যে কারণে গরম বেশি

একদিকে বঙ্গোপসাগর থেকে উপকূলের দিকে ধাবমান ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’-এর কারণে আতঙ্ক, অন্যদিকে তাপদাহে নাভিশ্বাস উঠেছে মানুষের। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বাতাসের জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি, একারণে দৃশ্যমান তাপমাত্রার তুলনায় বেশি তাপ অনুভূত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদফতর।আবহাওয়ার ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়- ঢাকা, মাদারীপুর, রাঙ্গামাটি, নোয়াখালী, রাজশাহী, পাবনা, বরিশাল ও পটুয়াখালী অঞ্চল এবং খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টি না হলে এটি অব্যাহত থাকতে পারে।

জানা যায়, রবিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা যশোরে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া ঢাকায় ৩৬, ময়মনসিংহে ৩৪, চট্টগ্রামে ৩৪ দশমিক ৭, সিলেটে ৩৪ দশমিক ১, রংপুরে ৩৪, রাজশাহীতে ৩৮, খুলনায় ৩৭.৮ এবং বরিশালে ৩৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, একদিকে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাব, অন্যদিকে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি হওয়ার কারণে আর্দ্রতা বেশি। এ কারণে তাপমাত্রার তুলনায় গরম বেশি অনুভূত হচ্ছে। তবে ঝড় যত এগিয়ে আসবে, ততই বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে।

এবিএন/শংকর রায়/জসিম/পিংকি

করোনাভাইরাস: ব্যবহৃত মাস্ক-গ্লাভস বর্জ্য থেকে গণসংক্রমণের ঝুঁকি

দেশে করোনাভাইরাস উপসর্গ ধরা পড়ার পরে শুধুমাত্র একমাসে মাস্ক, হ্যান্ডগ্লাভসসহ সংশ্লিষ্ট প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ টন। শুধু ঢাকায় উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৭৬ টন। যার বড় একটি অংশ যত্রতত্র ফেলার কারণে মাটি ও পানিতে মিশছে। এতে মাটি ও পানিতে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যার কারণে ভয়াবহভাবে গণসংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

[button link=”https://www.channelionline.com/%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%ac%e0%a6%b9/.” type=”big” newwindow=”yes”] বিস্তারিত[/button]

শাহজাদপুরের হুরাসাগর নদী এখন মরা খাল

হুরাসাগর নদী

এম,এ, জাফর লিটন, শাহজাদপুর সংবাদদাতাঃ ভারত কর্তৃক পানির প্রবাহ একতরফাভাবে নিয়ন্ত্রণ করায় উত্তরাঞ্চলের অন্যান্য নদীর ন্যায়  সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার প্রাচীন নদী  হুরাসাগরের পানি শুকিয়ে ধু ধু বালু চরে পরিণত হয়েছে। সেই সাথে জলাবায়ূর বিরূপ প্রভাব, অবৈধ নদী দখল আর ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে দিন দিন মরে যাচ্ছে এ উপজেলার যমুনা, করতোয়া, বড়াল, ধলাইসহ  আরও ৪টি নদী।

১৯৭৫ সালের ১২ এপ্রিল ভারত কর্তৃক ফারাক্কা ব্যারেজ চালুর পর থেকেই ক্রমে ক্রমে শাহজাদপুরের নদীগুলোর মরণদশা শুরু হয়। নদী আছে পানি নাই। প্রতি বছর বন্যা মৌসুমে বালুর আস্তরণ জমতে জমতে  হুরাসাগর নদী হারাচ্ছে তার নির্দিষ্ট প্রবাহ। আর সেই সাথে নদী তীর ভরাট করে গড়ে উঠছে অবৈধ বসতবাড়ী এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। নদী গর্ভে বালু জমে বিশাল বিশাল চর সৃষ্টি হয়েছে। বিগত বছরগুলোর তুলনায় এ বছরের পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ।

গত বছরে হুরাসাগর নদীতে গ্রীষ্ম মৌসুমে ক্ষীণ স্রোতধারা থাকলেও এ বছর তার আগেই নদীতে কোন পানি নেই। ফলে এ অঞ্চলের কৃষক, জেলেদের জীবন জীবিকায় নেমে এসেছে ভয়াবহ বিপর্যয়। এই নদী ৪টির শাখা প্রশাখাসহ এ অঞ্চলের অসংখ্য খাল-বিল শুকিয়ে যাওয়ায় ভূ উপরস্থ পানির স্তর বা উৎস হারিয়ে যাচ্ছে। এতে করে সেচ সঙ্কটেরও আশঙ্কা করা হচ্ছে ব্যাপকভাবে। খোদ সিরাজগঞ্জ জেলায় সেচ নির্ভর ১ লাখ  হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করতে পানির স্তর নীচে নামার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই নদীর নাব্যতা সঙ্কটের ফলে নৌ-চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, হুরাসাগর নদীর রতনকান্দী বটতলা,কুঠিবাড়ী, চর পোরজনা, বাচড়া, ডায়া, রুপবাটি, কৈজুরী অংশে চর জেগে উঠায় সেখানে হচ্ছে ধান,সরিষা ও বিভিন্ন সব্জি চাষাবাদ।

এ ব্যাপারে হাবিবুল্লাহনগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ জানান, এক সময়ের খড়¯্রােতা হুরাসাগর নদী দেখেই মনে হচ্ছে না নদীর প্রবাহ। নদী সংলগ্ন আমার বাড়ীর নীচ দিয়ে বারো মাস পানি থাকত। গুণটানা নৌকা চলত। সেসব এখন শুধুই স্মৃতি।

নদীর রতনকান্দী বটতলা অংশে বালু আর ধান ক্ষেত। ফলে হুরাসাগর নদীর অবস্থা স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ। এই নদীর সবটুকুই এখন ধু ধু বালুচর। মাঝে মাঝে দুএকটা জায়গায় পানির দেখা মিললেও তা যৎসামান্য। তাই হুরাসাগর নদীর প্রবাহ কমে এখন মৃত নদীতে পরিণত হয়েছে।

এনায়েতপুরে ৪টি ডাহুক পাখি উদ্ধার

এনায়েতপুরে ৪টি ডাহুক পাখি উদ্ধার

রফিক মোল্লা: সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার আজগরা গ্রামে শিকারির কাজে ব্যবহৃত মুল ডাহুক সহ চারটি ডাহুক পাখি উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে পরিবেশবাদি সংগঠন দি বার্ড সেফটি হাউজের সদস্যরা ডাহুক পাখিগুলো উদ্ধার করে প্রকৃতিতে অবমুক্ত করেছে।

স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘ দিন ধরে ফাঁদ বানিয়ে আজগরা এলাকায় একটি চক্র শিকারি ডাহুক দিয়ে নতুন ডাহুক শিকার করে আসছে। এজন্য ডাহুকের সামনে এক ধরনের শিস বাজানো হয়। শিস শুনে শুনে ডাহুক নিজেই ডাকাডাকি শুরু করে। এসময় অন্য ডাহুক খাঁচায় চলে আসে। পরে বিভিন্ন জায়গায় উচ্চ মুল্যে ডাহুক পাখি বিক্রি করা হয়। খবর পেয়ে এলাকার পরিবেশবাদি সংগঠনের কয়েকজন সদস্য আজগরা গ্রামে এসে চারটি ডাহুক পাখি উদ্ধার করা হয়। এসময় স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে পাখি গুলোকে অবমুক্ত করা হয়।

এ বিষয়ে পরিবেশবাদি সংগঠন দি বার্ড সেফটি হাউজ চেয়ারম্যান মামুন বিশ্বাস জানান, পাখি শিকারি সেলিম ডাহুক পাখিটাকে ৮ হাজার টাকা দিয়ে অনেক আগে কিনেছেন। খবর পেয়ে ৪টি ডাহুক পাখি উদ্ধার ও অবমুক্ত করা হয়। এছাড়া পাখির খাঁচা ও নেট ধ্বংস করে ফেলা হয়। তবে আর কোন দিন পাখি শিকার করবেন না শর্তে মুচলেকা দিয়ে পাখি শিকারি সেলিম হোসেনকে ছেড়ে দেয় স্থানীরা।

এ ব্যাপারে এনায়েতপুর থানার ওসি মোল্লা মাসুদ পারভেজ জানান, শুনেছি পরিবেশবাদি একটি সংগঠনের উদ্যোগে ৪টি ডাহুক পাখি উদ্ধার করে অবমুক্ত করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে থানায় কেউ আসেনি।

কৃষি, মৎস্য খাতসহ প্রকৃতি নীর্ভর বহুমূখী খাতে পড়ছে বিরূপ প্রভাব


উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীর বুকে ধুঁ-ধুঁ বালুচর!

শামছুর রহমান শিশির : এক সময়ের প্রবলা, প্রমত্তা, প্রগলভা, উত্তাল, রাক্ষুসী, স্রোতস্বিনী যমুনা, করতোয়া, বড়াল, হুরাসাগর, নন্দকুজা, বেশানী, আত্রাই, গুমানী, গুর, ফকিরনী, শিববারনই, নাগর, ছোট যমুনা, মুসাখান, নারদ ও গদাইসহ উত্তরাঞ্চলের নদীগুলো শুকিয়ে নদী বক্ষে মাইলের পর মাইল ধুঁ-ধুঁ বালুচর বিরাজ করছে। ভারতের মেরুকরণের কু-প্রভাবে উত্তরাঞ্চলের নদ-নদী গুলোতে বর্তমানে পর্যাপ্ত পানি নেই। আর শাখা নদীগুলোর অবস্থা আরও করুণ। ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক নীচে নেমে গেছে। ফলে এ অঞ্চলের বিভিন্ন ফসলের আবাদের সেঁচ কার্যক্রম বিঘিœত হচ্ছে। বিজ্ঞ মহলের মতে, ‘ভারতের সাথে পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে বছরের পর বছর শুধু সময়ই অতিবাহিত হচ্ছে। কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না। বঙ্গপসাগরের সমুদ্র সীমায় যেভাবে ন্যাটিক্যাল মাইল যোগ হয়েছে ঠিক সেভাবেই আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে পানি প্রাপ্তির ন্যায্য হিস্যার বিষয়টি সমাধান করা যেতে পারে। এর ব্যাত্যয় হলে বর্তমানের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন নদী বক্ষ পরিণত হবে মরুভূমিতে।’
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯৫৪ ও ১৯৫৫ সালের ভয়াবহ বন্যার পর খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে ১৯৫৭ সালে জাতিসংঘের অধীনে ক্রুগ মিশন এর সুপারিশক্রমে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নের লক্ষে ১৯৫৯ সালে পূর্ব পাকিস্থান পানি ও বিদ্যূৎ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (ইপিওয়াপদা) গঠন করা হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) ইপিওয়াপদা এর পানি উইং হিসাবে দেশের বন্যা নিয়ন্ত্রন, পানি নিষ্কাষন ও সেঁচ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে কৃষি ও মৎস সম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে দেশের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় প্রধান সংস্থা হিসাবে কার্যক্রম শুরু করে। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশ নং-৫৯ মোতাবেক ইপিওয়াপদা এর পানি অংশ একই ম্যান্ডেট নিয়ে বাংলাদেশ বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাইবো) সম্পূর্ণ স্বায়ত্বশাসিত সংস্থা হিসাবে আতœপ্রকাশ করে। এরপর পর্যায়ক্রমে সংস্কার ও পুনর্গঠনের ধারাবাহিকতায় জাতীয় পানি নীতি-১৯৯৯ ও জাতীয় পানি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা-২০০৪ এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে বাপাউবো আইন-২০০০ প্রণয়ন করা হয়। এ আইনের আওতায় মন্ত্রী, পানি সম্পদ মন্ত্রনালয় এর নেতৃত্বে ১৩ সদস্য বিশিষ্ট পানি পরিষদের মাধ্যমে বোর্ডের শীর্ষ নীতি নির্ধারণ ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।
সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞমহলের মতে, ‘উত্তরাঞ্চলের নদ-নদী, খাল-বীল শুকিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ ভারতের মরুকরণ প্রক্রিয়া। দেশের পানি হিস্যা আদায়ে বহুমুখী পরিকল্পনা ও কর্মপন্থার কথা বলা হলেও ভারত সরকারের পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য সাড়া মেলেনি আজও। আগামীতেও যে ভারত তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকবে সে বিষয়টিও ভাবা মোটেই অমূলক নয়। তাই আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা দায়ের করে যদি ২০০ ন্যাটিক্যাল মাইল সমুদ্রসীমা অর্জন করতে পারি, তাহলে কৃষিপ্রধান এ দেশকে রক্ষায় কেন আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে মামলা দায়ের করে দেশের নদ-নদীগুলোতে নদী বক্ষে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে পারবো না? এ অঞ্চল ও কৃষিপ্রধান দেশকে রক্ষায় পানির ন্যায্য হিস্যা আদয়ে আন্তর্জাতিক আদালতের হস্তক্ষেপ ছাড়া আর কোন যৌক্তিক উপায় আছে বলেও পরিলক্ষিত হয় না।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নদী ভারতের মরুকরণ প্রক্রিয়ার ফলে শুষ্ক মৌসুমে যৌবন হারিয়ে যমুনা, পদ্মা, করতোয়া, বড়াল, হুরাসাগর, নন্দকুজা, বেশানী, আত্রাই, গুমানী, গুর, ফকিরনী, শিববারনই, নাগর, ছোট যমুনা, মুসাখান, নারদ ও গদাইসহ উত্তরাঞ্চলের নদীগুলো পানিশূন্য প্রায় হয়ে পড়েছে। ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর অতীতের তুলনায় উদ্বেগজনক হারে নীচে নেমে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি শাখা নদী, খাল-বিল শুকিয়ে পর্যাপ্ত পানি প্রাপ্তি ব্যাহত হচ্ছে। নদী তীরবর্তী অঞ্চলের গভীর-অগভীর নলকূপ থেকে পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে দেশের কৃষি অর্থনীতিতে মারাত্বক বিরূপ নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশংকা তৈরি হয়েছে। নদী নীর্ভর এ অঞ্চলে ভ-ূগর্ভস্থ পানির অপরিকল্পিত ও অতিমাত্রায় ব্যবহার এবং সেঁচ কাজে পানির অপচয় রোধ করা না গেলে বাংলাদেশ এক মহাসংকটের মুখোমুখি হবে বলে বিশেষজ্ঞরা হুশিয়ারী উচ্চরণ করেছেন। এ অঞ্চলের এক সময়ের ভয়াল, উত্তাল অনেক নদী ও শাখানদী বক্ষে বর্তমানে পর্যাপ্ত পানি আর দেখা যাচ্ছে না। করতোয়ার পরিণতিও বর্তমানে একই পথে! নাব্যতা সংকট, বাস যোগ্য পানি ও প্রতিকূল পরিবেশ বিরাজ করায় উত্তরাঞ্চলের নদী থেকে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ নিঃশ্চিহ্নের পথে! এসব কারণে এ অঞ্চলের নদী নীর্ভর কৃষক ও এলাকাবাসীর বুকভরা আশা ক্রমশঃ হতাশায় নিমজ্জিত হচ্ছে। এছাড়া এসব নদীগুলোতে প্রয়োজনীয় পানি না থাকায় একদিকে যেমন নৌ-চলাচল মারাত্বকভাবে বিঘিœত হচ্ছে, অন্যদিকে ভবিষ্যতে জাতীয় অর্থনীতিতেও এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়ার শংকা বিরাজ করছে।
যমুনা নদী তীরবর্তী শাহজাদপুর এলাকার বেশ কয়েকজন বয়োবৃদ্ধর মতে, ‘ছোট বেলায় তারা ভয়াল-উত্তাল যমুনা, পদ্মা, করতোয়া, বড়াল, হুরাসাগর, নন্দকুজা, বেশানী, আত্রাই, গুমানী, গুর, ফকিরনী, শিববারনই, নাগর, ছোট যমুনা, মুসাখান, নারদ ও গদাইসহ উত্তরাঞ্চলের নদীগুলোর এপাড় (পশ্চিম) থেকে ওপারে (পূর্ব) তাকালে চোখে পড়তো দিগন্তছোঁয়া পানি আর পানি আর এখন চোখে পড়ে ধুঁ-ধুঁ বালু চর। বিজলী বাতি জ্বলা জাহাজ তো দুরের কথা! পানির অভাবে পালতোলা নৌকাও খুব একটা দেখা যায় না। এসব নদীগুলো আগে ভূখন্ড থেকে ৫ মানুষ সমান (দীর্ঘ) বা ৩০ ফুট গভীরে শুষ্ক মৌসুমে পানির স্তর পাওয়া গেলেও তদস্থলে ১২/১৩ মানুষ সমান (দীর্ঘ) বা ৬০/৬৫ ফুট গভীরেরও অনেক নীচে পানির স্তর নেমে গেছে। ফলে উত্তরাঞ্চলের নদীগুলোর বিস্তুৃর্ণ জলসীমা ক্রমেই সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে ও বালির চরের প্রশস্ততা বাড়ছে। মরুকরণের কু-প্রভাবে উত্তরাঞ্চলের জীব বৈচিত্র হুমকির সন্মুখীন হয়ে পড়েছে। মারাত্বকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে এ অঞ্চলের কৃষক।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, এ অঞ্চলের স্রোতস্বিনী যমুনা, পদ্মা, করতোয়া, বড়াল, হুরাসাগর, নন্দকুজা, বেশানী, আত্রাই, গুমানী, গুর, ফকিরনী, শিববারনই, নাগর, ছোট যমুনা, মুসাখান, নারদ ও গদাইসহ উত্তরাঞ্চলের নদীগুলো ও এর বেশক’টি শাখানদীসহ খাল-বিল শুকিয়ে গেছে। ফলে নদ-নদী বিধৌত উত্তরাঞ্চলবাসীর শুরু হয়েছে দুঃখ দুর্দশার পালা। প্রকৃতি নীর্ভর কৃষিপ্রধান এ অঞ্চলের বিস্তৃর্ণ এলাকা হয়ে যাচ্ছে মিনি মরুভূমি। দ’ুচোখ যেদিকে যায় সেদিকেই দেখা যায় ধূঁ-ধূঁ বালুচর। প্রতিবেশী দেশ ভারত নদ-নদীগুলোর স্বাভাবিক গতিপথ রূদ্ধ করে দেওয়ায় সুজলা-সুফলা, শষ্য-শ্যামলা বাংলাদেশ ক্রমান্বয়ে মরু অঞ্চলে পরিণত হতে চলেছে। উত্তরাঞ্চলের বিস্তৃত এলাকা জুড়ে নদীগুলো অবস্থান করায় মরুকরণের কু-প্রভাব এ অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশকে করছে ভারসাম্যহীন। এসব কারণে এ অঞ্চলের নদীগুলোর গতি প্রকৃতির পরিবর্তন ঘটছে। আমরা হারাতে বসেছি আমাদের অনেক গ্রামীন ঐহিত্য। আবহমান কাল থেকে গ্রামীন জনপদের মানুষের প্রিয় সুস্বাদু দেশী মাছ এখন সোনার হরিণের মতো। এখন আর দেখা যায়না গ্রামীন ঐহিত্যের অনুসঙ্গ নৌকা বাইচ, খরা জাল, সূতি ফাঁদ, সেঁচের মাধ্যম দাঁড়। মৎসভান্ডার সংকুচিত বা শুকানোর ফলে অনেক মৎসজীবী বর্তমানে বেকার। আবার অনেকেই পেশার পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছে।
পানিসম্পদ বিষয়ক গবেষকদের মতে, ভারতের মরুকরণ প্রক্রিয়ার যমুনা, করতোয়া, বরাল, হুরাসাগর, নন্দকুজা, বেশানী, আত্রাই, গুমানী, গুর, ফকিরনী, শিববারনই, নাগর, ছোট যমুনা, মুসাখান, নারদ ও গদাইসহ উত্তরাঞ্চলের নদীগুলো নদীর পানির স্তর ভূগর্ভস্থ পানির স্তরেরও নীচে নেমে গেছে। সরাসরি এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে অসংখ্য শাখা নদী ও নালা গুলোতে। এ দুরবস্থার আরও একটি কারণ হচ্ছে যমুনা নদী অববাহিকায় অপরিকল্পিত ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে অতিমাত্রায় অগভীর নলকূপের ব্যবহার। এতে মরা খালে পরিনত হচ্ছে উত্তরাঞ্চলের নদ-নদী, চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে কৃষি, মৎসসহ প্রকৃতি নীর্ভর বহুমূখী খাতগুলো যার নেতিবাচক সরাসরি প্রভাব পড়ার আশংকা সৃষ্টি হয়েছে জাতীয় অর্থনীতিতে।
বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, ‘ভারতের সাথে পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে কৃষিপ্রধান এ দেশের পানির সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে, যার উৎকৃষ্ট নজির হতে পারে বিশাল সমুদ্রসীমা বিজয়ের ঘটনা’।